Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তোমাকে আমি ছুঁতে পারিনি – সন্মাত্রানন্দ

    সন্মাত্রানন্দ এক পাতা গল্প173 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. নগরী কহিল ধীরে

    ৩. নগরী কহিল ধীরে

    ধরিত্রীর প্রত্নধূসরা প্রাচীনতরা এক নগরী আমি; নাম—রাজগৃহ। সুদূর অতীতের গর্ভে কুয়াশা আর অন্ধকার মেখে আমি ছিলাম সুনিহিত; তখন আমার নাম ছিল ‘গিরিব্রজ’। সুপ্রাচীন মহাকাব্যে আমার উল্লেখ, মগধাধিপতি জরাসন্ধের রাজধানী ছিলাম আমি। আমি ‘রাজগৃহ’—প্রাকৃত পালিতে ‘রাজগেহ’ নামে আমার পরিচয়। আমার শরীর প্রহরীর মতো ঘিরে রেখেছে উত্তুঙ্গ পর্বতশ্রেণি। শ্যাম তৃণগুল্মে আচ্ছাদিত বৈভার আমার প্রথম মুকুট, বিপুল্ল শৈলশির আমাকে অবলোকন করছে দেহরক্ষীর মর্যাদায়, যার পাদদেশ ধৌত করে চলেছে সমুষ্ণ ঊর্মিমালায় মুখরিত স্নিগ্ধ স্রোতস্বিনী—তীরদেশে শান্ত ছায়ানিবিড় তপোবন—মধ্যে মধ্যে স্থিরবক্ষ হ্রদ প্রতিবিম্বিত করেছে কৃষ্ণপ্রস্তরময় অদ্রিমালাকে। দক্ষিণ-পূর্বে আমার শৈলগিরি, যার গৃধ্রকূট শিখর কথা বলে আকাশের নিবিড় নীলিমার সঙ্গে। আর পূর্বে রত্নগর্ভ রত্নগিরি, যার গাত্র বেয়ে গড়িয়ে নেমে এসেছে বিসর্পিল পন্থা, শত পদচিহ্নরেখাঙ্কিত উপলখণ্ড সে-পথে পথে ছড়ানো… এই পথ তোমাকে নিয়ে যাবে পুষ্পরাজি-আকীর্ণ বনভূমির দিকে, শস্যভরা কৃষিক্ষেত্রের পাশ দিয়ে বেনুবনের পথ ধরে, মধুমক্ষিকার গুঞ্জরণে মুখর আম ডুমুর খেজুরের সারি কাণ্ড নমিত করে তোমাকে অভিবাদন জানাবে।

    আরও যদি যেতে পারো, তবে এক মুখর জনপদ… গৃহ, সৌধ, প্রাসাদের শ্রেণি… মধ্যে মধ্যে অগণ্য বিতান… ব্যস্ত আপণিক আর ক্রেতাদের কলরোল… পদাতিক জনতার চলাচল আর রাজা কিংবা রাজন্যবর্গের রথের ঘর্ঘর… সুসজ্জিত শ্রেষ্ঠীদের গমনাগমন… মাদারির খেলা দেখায় ঐন্দ্রজালিক… নট, বিট, নাগরিক, পুরললনাদের বাক্যালাপ… পথিপার্শ্বে শৌণ্ড্রিকালয় পানশালা… একধারে গণিকাদের আবাস… এমনই শব্দময় কথাকাব্যের মতো আমি এক সুপ্রাচীনা নগরী—আমি রাজগৃহ—নৃপতি বিম্বিসারের করধৃত আমি প্রকৃতির সম্ভারে পরিবৃত এক ব্যস্ত জনপদ।

    সম্প্রতি আমার রাজকীয় পন্থায় আর গৃধ্রকূটের শিখরে এক তরুণ তাপসের আগমন ঘটেছে; গৈরিক চীরবাস অতিক্রম করে তাঁর দেহের রেখায় রেখায় ফুটে আছে রাজকীয় লক্ষণ। শুনেছি, তাঁর নাম ‘সিদ্ধার্থ’; শাক্যবংশের রাজপুত্র। এ দারুণ তারুণ্যে স্ত্রী-পুত্র-রাজ্য-বৈভব পরিত্যাগ করে তিনি প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেছেন। বিচিত্র তাঁর জিজ্ঞাসা—আত্মা, ব্রহ্ম বা ঈশ্বরকে তিনি জানতে চান না—নিখিল জীবের বেদনার স্বরূপকে তিনি বুঝতে চান, বেদনার অতিক্রম খুঁজে পেতে চান। গৃধ্রকূটের নির্জন এক গুহায় তিনি অবস্থান করেন, দিনের প্রথমভাগে সেই শিখর থেকে নেমে এসে নদীতে স্নান সেরে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে ফেরেন। আমি তাঁকে অনুসরণ করেছি, তাঁর পদচিহ্ন ধরে রেখেছি আমার বক্ষে।

    এরই সঙ্গে আরও একটি বিচিত্র ব্যাপার আমি লক্ষ করেছি, সাধারণ মানুষের সে-বিষয় নিরীক্ষণ করার সামর্থ্য নেই। সিদ্ধার্থের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরই মতন অবিকল আর-এক পুরুষ গমনাগমন করে। অন্য সেই পুরুষের গাত্রবর্ণ কৃষ্ণ, যদিও ইচ্ছামতো সে তার বর্ণ পরিবর্তন করতে পারে। কখনও নীলাভ, কখনও হরিৎ, কখনও বা আরক্তভীষণ। সিদ্ধার্থকে সে শুধু অনুসরণই করে না, তাঁর সঙ্গে কথাও বলে। মাঝে মাঝে মনে হয়, সে সিদ্ধার্থের সঙ্গে এক হয়ে আছে, কখনও আবার মনে হয়, সিদ্ধার্থের থেকে সে সম্পূর্ণ বিশ্লিষ্ট। আমি এই অন্য পুরুষটিকে চিনতে পেরেছি। সে মার—সে মন্মথ, সে এক মূর্তিমান সম্মোহন।

    প্রকৃত প্রস্তাবে, সে যে বাইরে কোথাও আছে, তা নয়। সে সিদ্ধার্থের ভিতরেই আছে। সে তাঁকে ক্রমাগত তপস্যা পরিত্যাগ করতে বলছে। কখনও অনুনয়ের ভাষায়, কখনও ভীতিপ্রদর্শনের ভঙ্গিমায়। জন্মজন্ম ধরে সে সিদ্ধার্থকে প্রলোভিত করে আসছে। সে পরামর্শ দিচ্ছে ধ্যান ছেড়ে সিদ্ধার্থ যেন স্বরাজ্যে ফিরে যান; যেন রাজসিক জীবনকে উপভোগ করে চলেন। সিদ্ধার্থের সঙ্গে তার অবিরত তর্ক চলছে। সিদ্ধার্থ কিন্তু সর্বদাই এই মারের পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করে চলেছেন। মাঝে মাঝে কোনো কোনো অপরাহুবেলায় এই রক্তাক্ত দ্বৈরথসমরে সিদ্ধার্থকে বড়ো ক্লান্ত দেখায়। ক্লান্ত তিনি, কিন্তু দমিত নন।

    দিনান্তে যখন সূর্য অস্ত যায়, গৃধ্রকূটের সেই গুহার সম্মুখে একটি প্রস্তরখণ্ডের উপর সিদ্ধার্থ এসে দাঁড়ান। ধ্যানচ্ছেদে এই সমস্ত জগৎটাকে তাঁর স্বপ্নবৎ প্রতীত হয়। মনে হয় বুঝি তাঁর, এই স্বপ্ন কেন যে সত্যের মতো দেখায়! আকাশের ছিন্নমেঘ অস্তরাগ মেখে নীল গগন বেয়ে উড়ে যায়, বাতাসের বেগে ছিন্নভিন্ন হয়ে দিগন্তের নীলাভায় মিলিয়ে যায় কোথায়… মনে হয়, তাঁর জীবনও কি ওই ছিন্ন মেঘেরই মতো ব্যর্থ হবে?… প্রতিকূল পবনে লীন হয়ে মিশে যাবে মহাশূন্যতায়? তারপর সেই অবসন্নতার অন্ধকারের ভিতর ধীরে ধীরে পর্বতের সানুদেশে দূরস্থ জনপদের গরাক্ষে গবাক্ষে জ্বলে ওঠা প্রদীপের প্রথম শিখার মতো স্থির এক প্রত্যয় জেগে ওঠে, তবু সে যেন ক্ষণিক আশার আলোক… সিদ্ধার্থের অন্তরস্থিত মার অস্ফুট স্বরে সেই আলোকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে সিদ্ধার্থকে নিষেধ করে… কিন্তু সিদ্ধার্থ মারের সে-নিষেধকে অগ্রাহ্য করে ধীর পদক্ষেপে গুহার ভিতরে চলে যান… সেখানে অটল শিলাসনে পুনরায় ধ্যান ধরে বসেন… বিনিদ্র শৃগাল আর ক্ষুৎকাম শার্দুলের উচ্চকিত রবে কুয়াশামাখা রাত্রি নেমে আসে গিরিশ্রেণির উপর।

    বস্তুত যে-সমস্যা নিয়ে সিদ্ধার্থ ভাবিত, আমিও তা নিয়ে ভেবেছি। কিন্তু সমাধান কিছু পাইনি। আমি রাজগৃহ নগরী, আমার বুকের উপর অগণ্য জীবকুল জন্মগ্রহণ করে, বেড়ে ওঠে, জরাগ্রস্ত হয়, মৃত্যুমুখে পতিত হয়। তাদের পরিত্যক্ত দেহ ভস্মীভূত হয়। সেই চিতাগ্নির অতীত কোনো সত্তা আছে কিনা, থাকলেও তার গতি কোনদিকে, আমি তা জানি না। আমি শুধু দেখি, বৃষ্টির ফোঁটার ভিতর প্রাণবিন্দু কোথা থেকে উড়ে এসে আমার বুকের ওপর পতিত হয়, শস্যের ভিতর প্রবেশ করে কেউ কেউ, সেই শস্য আহার করে জীব-জন্তু-প্রাণী-মানুষ। পুরুষের শরীরের ভিতর দিয়ে সেই প্রাণ শুক্রবীজ আশ্রয় করে, নারীর যোনিতে প্রবিষ্ট হয়, তারপর মাতৃকুক্ষিতে অবয়ব পায়। আবার জন্ম-জীবন-জরা-মরণের ঘর— সেই এক আবর্তন। এই আবর্তন থেকে মুক্তির উপায় কী? নির্বাণ কোন পথে? সিদ্ধার্থ আসলে কী খুঁজে চলেছেন? তাঁর অন্বেষণের আছে কি কোনো পরিসমাপ্তি, সমস্যাসমাধানের আছে কি কোনো অনিবার্য সূচিমুখ?

    আমি সিদ্ধার্থের অন্বেষণকে বুঝতে পারিনি, তবু সিদ্ধার্থকেই শুধু আমি অন্বেষণ করে ফিরি। প্রতিদিন সূর্যোদয়কালে তিনি গৃধ্রকূটের শিখরচূড়া থেকে পায়ে পায়ে নেমে আসেন। গিরিপদতলে স্বচ্ছতোয়া হ্রদে অবগাহন সেরে নেন। তারপর ভিক্ষাপাত্র হাতে আমার পথে পথে তিনি ভিক্ষার্থে যাত্রা করেন। মনে হয়, নবোদিত সূর্য প্রভাতের কিরণসম্পাতের ভিতর দিয়ে যেন নেমে এসেছেন পৃথিবীর উপর। অর্চিষ্মান তাঁর উপস্থিতি, যৌবনের সকল সৌন্দর্য বুঝি বা ঘনীভূত হয়ে তাঁর সস্মিত আননের চারিপাশে জ্যোতির্বলয় রচনা করেছে। তাঁর পদক্ষেপ ত্বরিত নয়, মন্থরও নয়। কোথাও এখনই তাঁকে পৌঁছোতে হবে এমন নয়, আবার জীবনের লক্ষ্যের প্রতি মৃদুতম ঔদাস্যও তাঁর পদবিক্ষেপে প্রতীত হয় না। অঙ্গের তরঙ্গায়িত চীরবস্ত্র বৈরাগ্যের উত্তাপে সমুজ্জ্বল, বিথারিত নয়নদ্বয় নিখিল জীবের প্রতি মহাকরুণায় ঢলোঢলো; যেন স্নেহলাবণ্যে পরিপূর্ণ সরসী। শিরোদেশে সদ্যোখিত কুন্তলগুচ্ছ চূড়াকৃত, অধরে মৃদুমঞ্জুল হাস্যরেখা যেন অন্তরের অস্তস্থলে লুক্কায়িত, ঈষৎ সাচীকৃত চিবুক, উন্নত ভ্ৰূযুগ, ললাট… দক্ষিণ করে ধৃত ভিক্ষাপাত্র… তিনি গৃহস্থের দ্বারপ্রান্তে নিঃশব্দে অপেক্ষা করেন।

    তাঁকে দর্শন করে বহু গৃহে গৃহবাসী স্বতই বাহিরে এসে তাঁর ভিক্ষাপাত্র ভরে দেন। কেউ বা তাঁর উদ্দেশে নমস্কার নিবেদন করেন, শিশু-যুবক-যুবতী-বৃদ্ধা সকলেই তাঁর ব্যক্তিত্বে অভিভূত হয়ে যান। কিশোরীরা মুগ্ধা হরিণীর ন্যায় তাঁকে দর্শন করে, বৃদ্ধারা বিলাপ করে বলেন, ‘কার গৃহ অন্ধকার করে এ মানুষ সন্ন্যাসী হয়েছে!’ প্রৌঢ় ব্যক্তিবর্গ পরস্পর পরামর্শ করেন, ‘এ ব্যক্তি কি মনুষ্য, নাকি দেবতা!’ তিনি কিন্তু সর্বত্র অবিচলিত চিত্তে ভিক্ষাগ্রহণান্তর ‘স্বস্তি’ উচ্চারণ করে পথে চলতে থাকেন। কোনো গৃহে কেউ তাঁকে অবহেলা বা উপেক্ষা করলেও তাঁর মঙ্গলপ্রদ মঞ্জুল বদনে তিলমাত্র মালিন্য পরিদৃষ্ট হয় না।

    সিদ্ধার্থ এইভাবে যখন ভিক্ষা করে থাকেন, তখন তাঁর ছায়াসঙ্গী মার কিন্তু এক মুহূর্তও নিশ্চুপ থাকে না। সে সিদ্ধার্থকে সর্বদাই অসৎ পরামর্শ দিতে থাকে। মার অস্ফুট স্বরে কী বলছে, আমি তা সব শুনতে পাই। শুনি, মার বলছে, ‘দ্যাখো সিদ্ধার্থ! কী বিপুল তোমার ব্যক্তিমায়া! তোমাকে এইসব প্রাকৃত জনতা চেনে না। তথাপি না চিনেই এরা তোমার পদপ্রান্তে লুটিয়ে পড়ছে। তাহলে ভিক্ষাপাত্র ধারণ না করে তুমি যদি রাজদণ্ড হাতে নিতে, তবে যে তুমি সসাগরা পৃথিবীর অধীশ্বর হতে পারতে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বৃথাই তোমার এই স্বেচ্ছাবৃত দুশ্চর তপস্যা, ব্যর্থ তোমার এই ভিক্ষান্ন গ্রহণ। মানুষের কাছে হাত পাততে তোমার লজ্জা করে না, শাক্য রাজকুমার? গৃহস্থের অন্নে তোমার কী অধিকার আছে?’ এমনই কত কথা মার সিদ্ধার্থের কর্ণকুহরে ঢেলে দেয়। সিদ্ধার্থ সে- সকল কথা শুনেও শোনেন না।

    একদিন এক রাজন্য সিদ্ধার্থের ভিক্ষারত মূর্তি দর্শন করে মুগ্ধ হয়ে রাজসকাশে সকল কথা নিবেদন করলেন। সম্রাট বিম্বিসার তাঁর কথায় উৎসুক হয়ে উঠলেন। কিছুদিন পর এক প্রভাতবেলায় তিনিও দেখলেন নগরপথে ভিক্ষানিরত সিংহপুরুষ সিদ্ধার্থকে। সেই দিনই স্থির করলেন, তিনি সিদ্ধার্থের সঙ্গে আলাপ করবেন। গুপ্তচরমুখে সম্রাট বিম্বিসার জানতে পারলেন, সিদ্ধার্থ এখন গৃধ্রকূট শিখরে অবস্থান করছেন।

    কিয়দ্দিবস পর এক অপরাহুবেলায় নৃপতি বিম্বিসার গোপনে শৈলগিরিশিরে উপস্থিত হলেন। অপরাহ্ন সায়াহ্নের ভিতর ঢলে পড়ছে… ছায়া গাঢ় হয়ে আসছে। গিরিচূড়ায় উপস্থিত হয়ে তিনি দেখলেন, সিদ্ধার্থ সেই প্রস্তরখণ্ডটির উপর দণ্ডায়মান। পশ্চাতে সূর্য অস্তাচলগামী।

    পরস্পর নমস্কার বিনিময়ের পর রাজা বললেন, ‘আপনার কথা অমাত্যমুখে আমি সম্যক অবগত আছি, শ্ৰমণ। ইদানীং আপনি আমার রাজ্যে পদার্পণ করেছেন। আমি আপনার ব্যাপারে সবিশেষ কৌতূহলী। কোথায় আপনার জন্ম? সম্প্রতি কোন দেশ হতে আগত?’

    সিদ্ধার্থ বললেন, ‘আমি শ্রমণ—সন্ন্যাসী। পূর্বাশ্রমীয় জীবনের অতীতস্মৃতিচারণে অনধিকৃত।

    রাজা সহাস্যে বললেন, ‘আপনার নিকট হতে এরূপ উত্তরই আশা করেছিলাম। যাই হোক, গুপ্তচরসূত্রে আমি জেনেছি, আপনি শাক্যবংশীয় রাজকুমার। আপনার মনোহর আকার, বলিষ্ঠ ও তেজোব্যঞ্জক মূর্তি সেই ক্ষাত্রশক্তিকেই স্মরণ করায়। আপনার হস্তদ্বয় রাজদণ্ড ধারণ করার উপযুক্ত, ভিক্ষাপাত্র ধারণের উপযোগী নয়। রাজ্যশাসন না করে আপনি ভিক্ষা করেন কেন?’

    সিদ্ধার্থ বললেন, ‘রাজ্যশাসনের দুর্বিনীত অহংকার দূর করার জন্যই আমি ভিক্ষা করি।’

    আহা! আমি কান পেতে যতি ও নৃপতির বাক্যালাপ শুনছিলাম। সন্ধ্যার অন্ধকারের মধ্যে দিনান্তের অস্তরাগ মিশে যাচ্ছিল।

    রাজা বললেন, ‘কিন্তু রাজ্যশাসনেই তো রাজার অধিকার! রাজ্যভোগ রাজার নিকট স্বতই উপস্থিত হয়। জন্মসূত্রে প্রাপ্ত সেই আরামের জীবন পরিত্যাগ করে এমন কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের জীবন আপনি বেছে নিলেন কেন?’

    ‘অরণ্যের তরুদল যতদিন আমাকে ফল, বল্কল প্রদান করে, পাহাড়ের ঝরনাধারা আর পর্বতপাদদেশের নদী যতদিন আমার স্নানপানের জল প্রদান করে, শ্যামলবর্ণা উর্বী যতদিন ভূতলে আমার জন্য কোমল লতাপাতার শয্যা রচনা করে, ততদিন আমার তাপসজীবনে প্রকৃতিদত্ত আরাম-উপকরণের অভাব হয় না। এমন সহজ আনন্দ যখন সর্বত্র সুলভ, তখন দুর্বিনীতের গর্ব সহ্য করে রাজদণ্ড ধারণ করার তাৎপর্য কী?

    বিম্বিসার খানিক চিন্তা করে ধীরে ধীরে বললেন, ‘কিন্তু এই জীবনদর্শন কতই না বিপজ্জনক, শ্রমণ! আজ যদি পৃথিবীর নৃপতিবর্গ আপনার এই ভাবনায় প্রাণিত হয়ে রাজ্য পরিত্যাগ করে সন্ন্যাসী হন, তবে যে ভূমণ্ডলে অরাজকতার সৃষ্টি হবে!’

    ‘সকলে এককালে একত্রে এই ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হবে না, রাজা। আপনি সকলের কথা কেন বলছেন? সকল রাজার কথা চিন্তা করে কি আপনি সিংহাসনে আসীন হয়েছেন?’

    রাজা সরাসরি এ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বললেন, ‘সে-কথা থাক। আমার মনে হয়, এটুকুই সব নয়। কোনো মনোবেদনা কি আপনাকে পীড়িত করেছে, শ্রমণ? সেই মনোবেদনাই কি আপনার গৃহত্যাগ তথা রাজ্যত্যাগের কারণ? আপনি আমাকে সব কথা খুলে বলুন।’

    সিদ্ধার্থ বললেন, ‘আমার বেদনা তুচ্ছ বৈষয়িক দুঃখ নয়। আমার বেদনা অস্তিত্বের দায়ভাগ।’

    ‘আপনার কথা সম্যক অনুধাবন করতে পারলাম না, শ্রমণ।’

    ‘আমাদের অস্তিত্বই বেদনাজর্জর। জন্ম দুঃখময়, জীবন দুঃখময়, যৌবন ক্ষণিকের, জরা অপেক্ষমাণ, মৃত্যু ধাবমান। অস্তিত্বই বেদনা। অস্তিত্বই দুঃখাবহ। আমি এই বেদনার উপশম অন্বেষণ করে ফিরছি।’

    ‘কিন্তু এই দুঃখের উচ্ছেদ কি সম্ভব? আপনি কোন দুরাশায় এই অনিবার্য বেদনার দায়ভার বহন করে বৃথাই সন্ন্যাসী হয়েছেন?’

    ‘বৃথা নয়। আমার সত্তার ভিতর এ সমস্যা সমাধানের পূর্বাভাষ আমি পেয়েছি। কিন্তু এখনও তাকে সম্যক উপলব্ধি করতে পারিনি। আর তাই আমি প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেছি। সন্ন্যাসীর জীবন সেই সমাধান অন্বেষণের সর্বথা অনুকূল।’

    সিদ্ধার্থ যখন এই কথা বলছেন, তখনই আমি লক্ষ করলাম, মার তার সম্মোহন রাজা বিম্বিসারের উপর প্রয়োগ করল। মারের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নৃপতি বিম্বিসার সহসা বলে উঠলেন, ‘আমি আপনার সমস্যা অবধারণ করতে পারছি না। আমি আপনার বন্ধুত্বের প্রত্যাশী। বন্ধু হিসাবেই আপনাকে আমি বলছি, আপনি কুশলী তার্কিক, রাজনীতি-অভিজ্ঞ ক্ষত্রিয় রাজপুরুষ। আমি বলি কী, আপনি আমার সঙ্গে যোগ দিন। আসুন, এই বিশাল মগধ সাম্রাজ্য আমরা উভয়ে পরিচালনা করি। যদি এতে আপনার রুচি না হয়, তবে আপনি আমার উপদেষ্টা হ’ন। আপনার পরামর্শ অনুযায়ী আমি রাজ্যশাসন করি।’

    বিম্বিসার এই কথা বলা মাত্রই মার সিদ্ধার্থের কর্ণে পরামর্শ দিতে লাগল, ‘সিদ্ধার্থ! এর থেকে বড়ো সুযোগ আর উপস্থিত হবে না। তুমি এখনই স্বীকৃত হও। বিম্বিসারের সঙ্গে একত্রে এই বিরাট সাম্রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করো। অথবা বিম্বিসারের প্রধান উপদেষ্টারূপে সমৃদ্ধি, খ্যাতি, যশ, বিত্ত প্রভূত পরিমাণে উপভোগ করো। বৃথা তপস্যায় দেহক্ষয় কোরো না।’

    সিদ্ধার্থ কিন্তু স্মিত হাস্যে অবিচলিত কণ্ঠে বললেন, ‘যে নিষ্ঠীবন আমি একবার পরিত্যাগ করেছি, তা কি পুনরায় গ্রহণ রুচিকর? জালে আবদ্ধ পাখি, একবার মুক্তি পেলে সে কি আর জালের ভিতর ফিরে যেতে কাঙ্ক্ষা করে? সাপের মুখ থেকে যে শশক একবার রক্ষিত হয়েছে, সে কি পুনরায় ভুক্ত হবার জন্য সমুখে ফিরে যেতে চায়? মশালের আগুনে যার হাত একবার পুড়েছে, মাটিতে ফেলে দেবার পরেও সে কি সেই মশাল হাতে তুলে নিতে চাইবে? আমি পার্থিব রাজ্যসম্পদ পরিত্যাগ করেছি, পুনরায় তা গ্রহণ করার ইচ্ছা করি না।’

    এই কথা বলতে বলতে সিদ্ধার্থ প্রস্তরখণ্ডের উপর হতে অবতরণ করতে লাগলেন। নৃপতি বিম্বিসারের সমীপস্থ হয়ে সিদ্ধার্থ মৃদুল অথচ গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, ‘হে রাজন! এই মগধ সাম্রাজ্যের থেকেও বিশালতর, সমগ্র জম্বুদ্বীপ কিংবা নিখিল ভূমণ্ডল অপেক্ষাও বিপুলতর এক সাম্রাজ্য আছে। আমি সেই সাম্রাজ্য কামনা করি। আমার ‘আমিই’ সেই অতুল সাম্রাজ্য। এই ‘আমি’ রূপ সাম্রাজ্য যদি আমি জয় করতে পারি, তবে এক লহমায় এই ত্রিভুবন আমার পদতলে বশীভূত হবে। আর তার জন্য যুদ্ধজয় বা রক্তপাতের কোনো প্রয়োজন হবে না। অসঙ্গ, অভয় ও মহাকরুণার মন্ত্রে এই সমুদ্রমেখলা পৃথিবী হবে আমার ভুবন, আমার দিক্‌চিহ্নহীন সাম্রাজ্য…’

    সিদ্ধার্থের কণ্ঠস্বরে কী এক বলিষ্ঠ আত্মপ্রত্যয় সন্ধ্যার বাতাসে বিম্বিসারের নিকট ভেসে এল। তিনি আবিষ্ট, অভিভূত হয়ে সিদ্ধার্থের চরণপ্রান্তে আনত হয়ে বললেন, ‘সেইদিন তবে আপনি আমাকে প্রেমের মন্ত্রে বশীভূত করবেন।’

    গিরিশিখরে অন্ধকার নেমে এল। সেই অবগুণ্ঠিত তমসার ভিতর আমি ধরিত্রীর ধূসরতরা রাজগৃহ নগরী—বহু চেষ্টা করেও আর কিছুই প্রত্যক্ষ করতে পারলাম না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী
    Next Article গাত্রহরিদ্রা – সমীরণ গুহ

    Related Articles

    সন্মাত্রানন্দ

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }