Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তোমাকে আমি ছুঁতে পারিনি – সন্মাত্রানন্দ

    সন্মাত্রানন্দ এক পাতা গল্প173 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৮. মর্মরিল নদীসখী

    ৮. মর্মরিল নদীসখী

    যে-উৎস হতে আমি বাহির হয়ে এসেছি, চলার আনন্দে তা যেন কখন আমি ভুলেই গেছি। গতির আনন্দ আমার সমস্ত শরীরে; আর তাই কোনো আবিলতা আমাকে স্পর্শ করেনি। কত মাঠ-ঘাট-বন, কত জনপদ, কত গ্রাম, গ্রামপ্রান্তে ভগ্ন দেবদেউল কিংবা জনাকীর্ণ হাট দেখতে দেখতে আমি সম্মুখে, শুধুই সম্মুখে বহে চলেছি। আমার দু-পায়ে বেজে চলেছে গতির নূপুর, কোথাও বাঁধা পড়তে আমি জন্মাইনি, আমি চিরচঞ্চলা নৃত্যপটীয়সী। আমার অতীত নেই, স্মৃতিকাতরতা নেই, নেই ভাবীকালের জন্য কোনো উদ্‌বেগ। আমি শুধু মুহূর্তজীবী। আর এই মুহূর্তই শাশ্বত। প্রতি মুহূর্তই আমার কাছে নবীন। আমি তাই অন্তহীন আনন্দের উৎসার অঞ্জনহীনা আমি নৈরঞ্জনা—আমি ক্ষণশাশ্বতীর ঊর্মিমালা।

    চলতে চলতে শুধু একদিন আমি যেন এক নিমেষের জন্য থমকে দাঁড়ালাম এই উরুবিল্ব বনের ধারে। তীরভাগে দেখলাম এক তরুণ তাপসকে। তাঁর অঙ্গে উজ্জ্বল গৈরিক কাষায়; কিন্তু তাঁর দীপ্ত অঙ্গকান্তি না পরনের সেই গৈরিক চীবর— কে কাকে মহিমান্বিত করেছে, তা আমি স্থির করতে পারলাম না। তাঁর চরণ ধুলায় ধূসর, কিন্তু শ্রান্তির চিহ্নমাত্র তাঁর মুখমণ্ডলে নেই। তাঁর কেশগুচ্ছ চূড়া করে বাঁধা, অনেক রুদ্রাক্ষ একত্রে স্তূপাকৃতি করলে যেমন দেখায়—সে কেশকলাপ সেইরূপ। অধরোষ্ঠ কী যেন প্রতিজ্ঞায় দৃঢ়সংবদ্ধ, আননে ও কপালে প্রতিভার অমল দীপ্তি। আমি দু-চোখ ভরে তাঁকে দেখতে লাগলাম। মনে হল, আমার নদীজন্ম আজ বুঝি সফল হল। ওই উরুবিল্ব বনের ধারে বইতে বইতে সেসব মুহূর্তের মালা গেঁথে আমি তাঁকে দেখে চললাম দিনের পর দিন।

    নদী আসলে নারীর মতন। তার একটা অন্তঃস্পন্দন আছে। সেই স্পন্দন দিয়ে সে অনেক না-বলা-কথা এমনিতেই টের পায়। আমিও কেমন করে জানি টের পেলাম, ইনি সাধারণ তপস্বী নন। ইনি কোনো এক রাজ্যের রাজকুমার, জীবজগতের বেদনার্ত আকুল ক্রন্দন সহ্য করতে না পেরে তার প্রতিকারার্থে সন্ন্যাসী হয়েছেন। যৌবনের সুখভোগ, রাজ্যসম্ভোগ এঁর কাছে তুচ্ছ হয়ে গেছে। আমি কান পেতে তাঁর প্রতিটি অস্ফুট উচ্চারণ শুনতে লাগলাম।

    তাঁর বস্ত্রপ্রান্তে সামান্য চিপিটক ছিল, আমার জল দিয়ে ভিজিয়ে তিনি তা-ই আহার করলেন। তারপর কিছুক্ষণ আমার তীরে আনমনা হয়ে বসে রইলেন। আমি শুনতে পেলাম, তিনি নিজের মনে বলছেন, ‘আমি বহু আচার্যের নিকট সত্যের অন্বেষণ করেও কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাইনি। এখন আমি নিজেই এ সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করব। নিজ তপশ্চর্যার আলোকে আমি জানব, দুঃখের শেষ কোথায়। আমি সিদ্ধার্থ, এ জীবনের সিদ্ধ অর্থ আমি স্বয়ং লাভ করব।’ তাঁর উচ্চারণে দৃঢ় প্রত্যয় অভিব্যক্ত হচ্ছিল।

    তিনি আমার তীর হতে ধীরে ধীরে উত্থিত হলেন। উরুবিল্ব বনের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। তাঁর সম্মুখে বনের বহির্ভাগে একটি বৃহৎ বনস্পতি দণ্ডায়মান ছিল। অশ্বত্থ বৃক্ষ। তিনি ওই বৃক্ষটিকে আনন্দিত চিত্তে নিরীক্ষণ করলেন। তারপর বৃক্ষটির দিকে অগ্রসর হলেন।

    বৃক্ষের নিম্নভাগ পরিষ্কার করে তিনি কিছু পাতা আর খড় বিছিয়ে তাঁর আসন নির্মাণ করলেন। সেই আসনে তিনি উপবেশন করলেন। মনে হল তাঁর মন স্বস্তি পেয়েছে। গভীর শ্বাস গ্রহণ করে তিনি গভীর শ্বাস পরিত্যাগ করলেন। মনে মনে বললেন, আমার হৃদয় হতে প্রেমের তরঙ্গ উঠে পূর্বে, পশ্চিমে, উত্তরে, দক্ষিণে, ঊর্ধ্ব ও অধোদিকে প্রসারিত হোক। সমগ্র জীবজগতের কল্যাণ হোক। সকলে সুখী হোক, শান্ত হোক, আনন্দময় হোক, পরিপূর্ণ হোক। সর্বজীবের প্রতি সম্প্রীতিভাবনার পর তিনি আত্মগতভাবে বললেন, ‘আমি এমন তপস্যা করব, যে-তপস্যা এ ধরিত্রীতে কেউ কখনও করেনি। আমি বহু আচার্যের নিকট গমন করেছি। তাঁদের উপদেশ অনুসরণ করেও আমি কোনো ফললাভ করতে পারিনি। অর্থাৎ, আমার যা জিজ্ঞাসা, সেই জিজ্ঞাসার কোনো উত্তর আমি পাইনি। এখন আমাকে নিজেকেই অমানুষী তপস্যা করে দেখতে হবে, আমার প্রশ্নের কোনো উত্তর মেলে কিনা।’

    শুরু হল সিদ্ধার্থের কঠিন তপ। আমি নৈরঞ্জনা নদী; আমি সেই তপস্যার সাক্ষী হয়ে আছি। তিনি ভিক্ষার্থে বহির্গত হতেন না। দিনান্তে গাছের কোনো একটা ফল আহার করে জীবন ধারণ করতে লাগলেন। সে বড়ো কঠিন কৃচ্ছ্রসাধন। গ্রীষ্মের দাবদাহ, বর্ষার অশ্রান্ত বারিধারা, শরতের মেঘের ঔদাস্য, হেমন্তের ধূমল ধূসরতা, শীতের রুক্ষতা, বসন্তের নবপত্রের হিল্লোল—কোনোদিকেই তাঁর দৃষ্টিমাত্র ছিল না। তিনি অচঞ্চল চিত্তে তপস্যা করে চলেছেন। সেই কঠোরতায় তাঁর অঙ্গকান্তি মলিন হয়ে গেল, শরীর মরা গাছের মতো শুকিয়ে গেল, হনু উদ্যত, চক্ষু কোটরাগত হয়ে পড়ল। অস্থিচর্মসার দেহ, যেন একখানা কঙ্কালের উপর গাত্রচর্ম জড়ানো আছে। তাঁর উদরদেশ এতদূর সংকুচিত হয়ে পড়ল যে, উদরে হাত দিলে মেরুদণ্ড স্পর্শ করা যায়। তিনি শ্বাস নিলে কর্মকারের ভস্ত্রার মতো শব্দ হতে লাগল। আমার ভয় হল, মনে হল, এই তপস্যাতেই না সিদ্ধার্থের প্রাণবিয়োগ হয়।

    এই কালেই আমি আর-একটি আশ্চর্য ব্যাপার দেখে মহা বিস্মিত হয়েছিলাম। সিদ্ধার্থের ভিতর থেকে তাঁরই অনুরূপ আর-এক ব্যক্তি বাহির হয়ে আসত। সে প্রথমে বারংবার সিদ্ধার্থকে তপস্যা থেকে নিবৃত্ত হতে পরামর্শ দিচ্ছিল। সে বলছিল, ‘দ্যাখো সিদ্ধার্থ! এই বিজন প্রদেশে কঠোর তপস্যা করে তুমি নিজেকে ক্ষয়িত করে ফেলবে। তপস্যা ত্যাগ করো। ভিক্ষার্থে বহির্গত হও।’

    সিদ্ধার্থ বললেন, ‘হে মার! আমি তপস্যা করে আমার প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি। তুমি আমাকে বিরক্ত কোরো না।’

    সে-ব্যক্তি বলল, ‘তুমি রাজপুত্র! কী অপূর্ব তোমার রূপ ছিল! তুমি সেই রূপ হারালে। এখন তুমি যে কুশ্রী হয়ে গেছ!’

    ‘হে মার! এ দেহ ক্ষণিক। এর রূপসৌন্দর্যও ক্ষণিক। আমি আমার রাজকীয় রূপের অপেক্ষা করি না। আমি সর্বজীবের দুঃখের আত্যন্তিক নিবারণ শুধু কাঙ্ক্ষা করি।’

    ‘এমন কঠিন তপস্যা করলে উপবাসে অনশনে তোমার মস্তিষ্কবিকৃতি হতে পারে।’

    ‘বেশ, যদি তাই হবার হয়, তবে তাই হোক। একটা জীবন না হয় এভাবেই ব্যর্থ হবে। তবু আমার উদ্দেশ্য মহৎ।’

    সিদ্ধার্থ মারের কথায় কর্ণপাতও করলেন না। তখন, কী আশ্চর্য, কিছুদিন পর মার সম্পূর্ণ বিপরীত পরামর্শ দিতে লাগল। সে বলতে লাগল, ‘সিদ্ধার্থ! তুমি এখন সত্যই তপস্বী হয়েছ। আরও কঠোর তপস্যা করো, যাতে তোমার তপস্যার খ্যাতি দিগবিদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে!

    আমি নিঃসন্দেহ হলাম, সিদ্ধার্থকে তপস্যার ভিতর আরও ডুবিয়ে দিয়ে তাঁকে মেরে ফেলাই মারের চক্রান্ত। সিদ্ধার্থ কিন্তু মারের এই অভিসন্ধি প্রথমে বুঝতে পারেননি। তিনি একঝোঁকা হয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়িয়েই চললেন।

    মধ্যাহ্নবেলায় তিনি আমার স্রোতে স্নানে নামতেন। আমি তাঁর দুর্বল দেহ আমার বারিধারায় ধৌত করে দিতাম। এত দুর্বল, যে-কোনো সময়ে স্রোতোবেগে ভেসে যেতে পারেন। আমি তাই আমার চলার বেগ সামান্য স্তিমিত করে দিতাম। তিনি কোনোমতে আমার বক্ষের উপর প্রসারিত বেতসশাখা ধরে স্রোত থেকে উঠে যেতেন।

    কিছুদিন পর। এক নিদাঘ অপরাহ্ণে পাঁচজন ভিক্ষু সেখানে উপস্থিত হলেন। কৌণ্ডিন্য, মহানামা, অশ্বজিৎ, ভদ্র ও বাষ্প তাঁদের নাম। তাঁরাও সিদ্ধার্থের মতন দুঃখের অন্ত কোথায় তা খুঁজছেন। বহু আচার্যের নিকট গমন করেছেন, কিন্তু উত্তর কোথাও পাননি। তাঁরা উত্তরদেশ হতে এসেছিলেন। আমার জলে হস্ত-পদ প্রক্ষালিত করে তাঁরা বনের দিকে গেলেন। আর তখনই সিদ্ধার্থের তপোব্রত ধ্যানমূর্তি তাঁদের চোখে পড়ল।

    তাঁরা অবাক হয়ে গেলেন। কৌণ্ডিন্য বললেন, ‘কী আশ্চর্য! এমন তপস্যা কি মানুষ করতে পারে?’

    মহানামা বললেন, ‘সত্যই। ইনি নিশ্চয় কালক্রমে বুদ্ধ হবেন।’

    ভদ্র অগ্রসর হয়ে এসে বললেন, ‘আমার মনে হয়, অন্য কোথাও না গিয়ে আমরা এখানেই অবস্থান করি। ইনি জ্ঞানলাভ করলে নিশ্চয় আমাদের সেই জ্ঞান উপদেশ করবেন।’

    অশ্বজিৎ বললেন, ‘ঠিক কথা! আমরাও এই মহাপুরুষের কৃপায় জ্ঞানী হব। দুঃখের অন্ত কোথায়, তা জানব।’

    বাষ্প এদিক-ওদিক দেখে বললেন, ‘দেখুন, এই বৃক্ষের পাঁচ দিকে পাঁচটি বনস্পতি রয়েছে। আমরা এইসব বনস্পতির নিম্নে অবস্থান করি।’

    মহানামা বললেন, ‘এই মহাপুরুষের অনুসরণে আমরাও তপস্যায় রত হব। এ আমাদের মহা সৌভাগ্য!’

    সেই থেকে এই পাঁচজন ভিক্ষু উরুবিল্ব বনে সিদ্ধার্থের পাঁচ দিকে অবস্থান করতে লাগলেন। আমি সিদ্ধার্থের এই পাঁচজন অনুসারীকে ভালোভাবে লক্ষ করে চললাম। কিন্তু সিদ্ধার্থের মধ্যে যে-আলো আমি দেখেছিলাম, সেই আলো আমি এঁদের মধ্যে দেখতে পেলাম না।

    আমি নদী। চলাই আমার ধর্ম। চলতে চলতে আমি কথা বলি। কথা বলি

    আকাশের সঙ্গে, আকাশের মেঘেদের সঙ্গে। বনের তরুলতার সঙ্গে। তাদের জিজ্ঞাসা করি, ‘আচ্ছা, এই সিদ্ধার্থ যে এমন তপস্যা করে চলেছেন, কোনোদিন কি তিনি তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে উপনীত হতে পারবেন?’ আকাশ কথা কয় না, মেঘ উত্তর দেয় না, তরুলতা নিশ্চুপ হয়ে থাকে। কেউ যেন এ প্রশ্নের উত্তর জানে না।

    তবু আমার স্রোতোশব্দে মিশে থাকে এই প্রশ্ন, এই আশ্চর্য মর্মর!

    একদিন বৈকালবেলা। আলো কমে আসছে। ছায়া নিবিড় হয়ে আসছে। সিদ্ধার্থ ধ্যান থেকে উঠলেন। তাঁর ইচ্ছা হল, আমার স্রোতে একবার অবগাহন করবার। তপস্যার ফলে দেহে প্রচণ্ড তাপ অনুভূত হচ্ছে। জলের ভিতর গাত্র নিমজ্জিত করে কিয়ৎক্ষণ শান্তি পেতে চান। নিজেকে তিনি একবার প্রশ্ন করলেন, ‘এত তপস্যায় আমি পেলাম কী?’

    মনের ভিতর থেকে কে যেন হাহাকার করে বলে উঠল, ‘কিছুই না।’

    সিদ্ধার্থ আমার স্রোতে নামলেন। আমি তাঁর গা ধুইয়ে দিতে লাগলাম পরম যত্নে। স্নান সেরে তিনি ঘাট বেয়ে উঠতে গেলেন। শরীর এত দুর্বল, হস্ত-পদ ভীষণভাবে কম্পিত হচ্ছে। জলের উপর প্রসারিত বেতসশাখাটি ধরতে গেলেন। কিন্তু নাগাল পেলেন না। দুর্বল দেহ ঘাটের উপর লুটিয়ে পড়ল উৎপাটিত বনস্পতির মতন।

    এই দেখে সেই পাঁচজন ভিক্ষু ধরাধরি করে তাঁকে তরুতলে নিয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর সংজ্ঞা ফিরল। মহানামা নত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘প্রশ্নের কি কোনো উত্তর পেলেন, প্ৰভু?’

    সিদ্ধার্থ কম্পিত কণ্ঠে উত্তর দিলেন, ‘না, এখনও নয়।’

    সন্ধ্যা এসেছে। আকাশ ভরে গেছে নক্ষত্রদীপিকায়। শায়িতাবস্থায় সেই তারায় ভরা রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধার্থ শুনতে পেলেন, আকাশ বেয়ে কারা যেন গান গাইতে গাইতে চলেছে। সেই গান, আমি নৈরঞ্জনা নদী, আমিও শুনতে পেলাম। কারা যেন গাইছে:

    ‘আমার এই সাধের বীণা, একে আমি বাজাতে পারি না, যদি এর তার শিথিল থাকে। আর যদি বীণার তার খুব শক্ত করে বাঁধি, তাহলেও এ দিয়ে কোনো সুর বিনিঃসৃত হয় না। বীণাকে বাঁধতে হবে মধ্যম টানে, খুব শিথিলও নয়, খুব শক্তও নয়। তবেই তাতে বেজে উঠবে অনুপম সুর…’

    সিদ্ধার্থ নিজেকেই বললেন, ‘তাইতো। আমারই ভুল হয়েছিল। রাজপ্রাসাদে ভোগসর্বস্ব জীবনে আমি আমার ইন্দ্রিয়নিচয়কে শিথিল করে দিয়েছিলাম। তাই সেখানে আমি কোনো সমাধান পাইনি। আর এই অরণ্যে আমি নিজের দেহমনকে এত কঠিন তপস্যার বন্ধনে বেঁধেছি যে, আজ এই শরীর যাবার জোগাড় হয়েছে। আজ থেকে আমি আমার শরীরকে মনকে বিলাসিতাতেও ভাসাব না, কঠোরতাতেও শুষ্ক করে দেব না। মধ্যপন্থা—মাঝের পথই সঠিক।’

    এই ভেবে পরের দিন থেকে তিনি ভিক্ষার্থে নদীর পরপারের গ্রামে বহির্গত হতে লাগলেন। ভিক্ষায় যা পান, তাই তিনি আহার করেন। কেউ পরিধেয় বস্ত্র দিলে তাই তিনি পরিধান করেন। ভিক্ষাশেষে তিনি আবার সেই বনস্পতিনিে প্রত্যাবর্তন করে ধ্যানচিন্তায় ডুবে যান।

    উগ্র তপস্যার ভাব পরিত্যক্ত হয়ে তাঁর দেহে আবার তাঁর আগের সেই সতেজ সৌম্যকান্তি ফুটে উঠতে লাগল। মনের ভিতর জেগে উঠল সহজ প্রফুল্লতা।

    কিন্তু সিদ্ধার্থের আচরণগত এই পরিবর্তন পাঁচজন ভিক্ষুর পছন্দ হল না। অশ্বজিৎ বললেন, ‘এ কী হল? ইনি তো তপস্যা পরিত্যাগ করলেন!’

    কৌণ্ডিন্য হতাশ হয়ে মাথা নেড়ে বললেন, না, মনে হয়, এঁর আর বুদ্ধ হওয়া হল না।’

    বাষ্প বললেন, ‘আমরা তবে এখন কী করব?’

    মহানামা বললেন, ‘চলো, আমরা চলে যাই। এঁর কাছে কাছে থেকে আর কোনো লাভ নেই।’

    ভদ্র বললেন, ‘বেশ কথা। আমরা অন্য কোনো তপস্বীর অনুসন্ধান করি চলো।’

    এইভাবে সেই পাঁচজন ভিক্ষু সিদ্ধার্থকে পরিত্যাগ করে চলে গেলেন। আমি তাঁদের গমনপথের দিকে চেয়ে চেয়ে দেখলাম। মনে হল, হয়তো একদিন এঁদের সঙ্গে সিদ্ধার্থের দেখা হবে। সেদিন হয়তো এঁরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন। কিন্তু সেদিন কতদূর?

    সিদ্ধার্থ একেবারে নির্জন হয়ে গেলেন। যে একাকী, সেই নির্ভয়। সিদ্ধার্থ আরও গভীরভাবে তাঁর নিজের মনের ভিতর ডুব দিলেন। আরও অন্তর্মুর্খ, আরও একাগ্র, আরও তন্ময়।

    আর তাঁর সাধনের আসনখানির নিম্নে নিরন্তর গড়িয়ে চললাম আমি— সিদ্ধার্থবান্ধবী সাধনসাক্ষী নৈরঞ্জনা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী
    Next Article গাত্রহরিদ্রা – সমীরণ গুহ

    Related Articles

    সন্মাত্রানন্দ

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }