Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তোমাকে আমি ছুঁতে পারিনি – সন্মাত্রানন্দ

    সন্মাত্রানন্দ এক পাতা গল্প173 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. সিদ্ধার্থ

    ১৫. সিদ্ধার্থ

    রাত শেষ হইয়া ভোর আসিবার পূর্বেই অন্ধকার গাঢ়তম হইয়া উঠে। প্রভাতের অস্ফুট আলোক সেই অন্ধকারের সহিত মিশিয়া দুর্ভেদ্য প্রহেলিকায় দৃষ্টি আচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়াছিল। শেষরাত্রে অশ্বত্থ বৃক্ষের নিম্নে অর্ন্তমুখ হইয়া আমি সিদ্ধার্থ অবস্থান করিতে ছিলাম। চারিদিক নিঃশব্দ, পত্রপতনেরও শব্দ হইতেছে না। সেই শিলীভূত নৈঃশব্দ্যের ভিতর, স্তব্ধ চরাচরের ভিতর প্রাণবায়ু সংরুদ্ধ করিয়া আমি বসিয়াছিলাম।

    সহসা কাহাদের পদশব্দে এ উরুবিল্ব বনের নিস্তব্ধতা ভাঙিল। চক্ষুরুন্মীলন করিয়া সহজাবস্থায় ফিরিতে আমার সামান্য বিলম্ব হইল। ক্ষণপরে অস্পষ্ট লক্ষ করিলাম, একজন রমণী, একটি বালিকা ও অপর একটি কিশোর এইদিকেই আসিতেছে। কিশোরটির হস্তে একটি প্রদীপ। সেই প্রদীপের আলোকে পথ দেখিয়া তাহারা চলিতেছে। বালিকার শিরোদেশে একটি পাত্র, এক হস্তে মস্তকোপরি সেই পাত্র ধরিয়া, অন্য হস্ত দেহের পার্শ্বে সঞ্চালনপূর্বক ভাররক্ষা করিয়া বালিকা নৃত্যছন্দে হাঁটিতেছে। আর ইহাদের নেত্রী সেই নারী—বক্ষে একটি শিশুপুত্র লইয়া অগ্রসর হইতেছে। দেখিতে দেখিতে তাহারা সম্মুখে আসিয়া পড়িল।

    প্রদীপ ধরিয়া তাহারা আমাকে অবলোকন করিল। দেখিতে দেখিতে নারী ভাববিহ্বল হইয়া পড়িল, বুঝিলাম। তাহার পর বালিকাটির মস্তক হইতে পাত্রখানি নামাইয়া আমার সম্মুখে যত্নসহকারে রাখিল। শিশুটিকে বালিকার ক্রোড়ে ন্যস্ত করিয়া গলবস্ত্র হইয়া নারী ভূমির উপর তাহার শিরোদেশ স্পর্শ করিয়া আমাকে প্রণাম করিল। বালক বালিকা দুইটিও তাহার দেখাদেখি প্রণাম নিবেদন করিল। প্রণাম নিবেদনের পর সেই নারী কৃতাঞ্জলিপুটে কহিল, ‘হে বৃক্ষদেবতা।…’ এইরূপ সম্বোধন করিয়া সে তাহার স্বামী, পুত্র ও অন্যান্য সকলের জন্য প্রার্থনা করিল।

    আমি বৃক্ষদেবতা নহি, আমি মনুষ্য, আমি সিদ্ধার্থ। নিখিল জীবের দুঃখে ব্যথিত হইয়া গৃহত্যাগ করিয়া সন্ন্যাসী হইয়াছি। তাহারই সমাধান অন্বেষণ করিতেছি। দেবতারা সর্বক্ষমতাসম্পন্ন, আমি ইহা স্বীকার করি না। মানুষের দুঃখ ঘুচাইবার শক্তি মানুষের ভিতরেই নিহিত আছে। কিন্তু এসকল কহিয়া এই গ্রাম্য ললনার সহজ বিশ্বাসকে আমার আঘাত দিতে ইচ্ছা হইল না। আমার সকল তপস্যার শক্তিতে এই নারীর বাঞ্ছা পরিপূর্ণ হউক, এই শুভেচ্ছায় সহসা আমার হৃদয় ভরিয়া উঠিল। কহিলাম, ‘স্বস্তি!’

    তাহারা পুনরায় নমস্কার করিয়া যে পথ ধরিয়া আসিয়াছিল, সেই পথ দিয়া চলিয়া গেল। প্রভাত হইতেছে। নবোদিত সূর্যের প্রথম কিরণ অন্ধকারের স্তর ভেদ করিয়া ধরিত্রী, নদী, অরণ্যের উপর ছড়াইয়া পড়িতেছে। ধীরে ধীরে আঁধার কাটিয়া গেল। নদীর কল্লোলধ্বনি আসিয়া কর্ণে প্রবেশ করিল। জীবজগৎ ও উদ্ভিদজগৎ ক্রমে জাগিয়া উঠিতেছে।

    অরণ্যের বিহগকুল তাহাদের কলতানে প্রভাতী আকাশ ভরিয়া দিল। দিবাভাগের শুভসূচনা হইতেছে। আমি নারীপ্রদত্ত সেই পাত্রটির অভ্যন্তরে দৃষ্টিপাত করিলাম। পায়সান্ন দিয়া গিয়াছে। কে এই নারী, কোথা হইতে আসিল? নদীর পরপারের গ্রাম হইতে আসিয়াছে, বোধহয়। হয়তো নূতন জননী হইয়াছে, শিশুসন্তানের কল্যাণকামনায় বুঝি বা এই পায়সান্ন নিবেদন করিয়া গেল! তিন দিন আমি ভিক্ষার্থে বহির্গত হই নাই। একাসনে বসিয়াছিলাম। অনুভব করিলাম, আমি ক্ষুধার্ত হইয়াছি। পাত্র হইতে পায়সান্ন লইয়া আহার করিলাম। প্রাণ যেন জুড়াইয়া গেল।

    নদীজলে হস্ত মুখ প্রক্ষালন করিয়া বেলাভূমির উপর ধীরে ধীরে হাঁটিতেছিলাম। আজ আমার নিজেকে বড়ো সহজ মনে হইতেছে। বাতাস মধুময় বোধ হইতেছে। আকাশ নীলাজকুসুমের ন্যায় প্রতিভাত হইতেছে। আজ যেন কোথাও কোনো বাধা নাই। সকলই অবাধ, অগাধ হইয়া প্রকৃতির ক্রোড়োপরি মাথা রাখিয়া শুইয়া আছে।

    নদীর এই পারে বেলাভূমির ধার দিয়া দিয়া উরুবিল্ব বনের প্রান্তনীলিমা বিথারিত হইয়া রহিয়াছে। বনপথ দিয়া হাঁটিতেছিলাম। মাথার উপর সুশীতল বনচ্ছায়া। নদীর বাতাসে তরুশাখায় নবীন পত্রগুলি মাথা নাড়িতেছে। মধ্যে মধ্যে দুই একটা বিবর্ণ প্রবীণ পত্র বাতাসের ভিতর ঘুরিয়া ঘুরিয়া মাটির উপর নামিয়া আসিতেছে। পত্রান্তরালে বিহগকুল নীড় বাঁধিতেছে। কাঠবিড়ালি ভীতমনে এক শাখা হইতে অন্য শাখায় লম্ফ দিয়া উঠিতেছে। দুই বৃক্ষের মধ্যস্থলে ঊর্ণনাভ জাল বুনিতেছে

    সহসা মনে হইল, আজ হইতে সহস্র সহস্র বৎসর কাটিয়া যাইবে। এই অরণ্য কি এইস্থলেই রহিবে? এই গহন অটবিমধ্যে আমি যে-সকল চিন্তার তরঙ্গ রাখিয়া যাইতেছি, তাহা কি ভবিষ্যতের মনুষ্যের হৃদয়কে স্পর্শ করিবে? অতলান্ত সময়সমুদ্রে যে দুই অঞ্জলি চিন্তাবারি দিয়া আমি আকাশের তলে সত্যের উপাসনা করিয়া গেলাম, তাহার সন্ধান কে পাইবে?

    ভাবিতে ভাবিতে মনস্থির হইল। চক্ষুদ্বয় নিমীলিত হইয়া আসিল। ইন্দ্রিয়গুলি স্ব স্ব গোলকে অবস্থান করিতে লাগিল। অতীতের চিন্তা হইতে মন ফিরিয়া আসিতে লাগিল। ভাবীকালের চিন্তা হইতেও ফিরিয়া আসিল। অনুভব হইল, কাল বর্তমানে বদ্ধ হইয়া রহিয়াছে। যাহা একবার মন হইতে ত্যাগ করিয়াছি, তাহার দিকে চিত্ত আর ধাবিত হইতেছে না। আমি যেন প্রস্তরের ন্যায় নিশ্চল হইয়া উঠিতেছি। শত আঘাতেও আর যাহা ভাঙিবে না। আমি—আমিই এই জগজ্জাল ছিঁড়িয়া মুক্ত সিংহের ন্যায় বাহির হইয়া আসিব, এইরূপ স্থির প্রত্যয় ও আত্মশ্রদ্ধা জাগরিত হইল। সমাহিত চিত্তে সেই অশ্বত্থ বৃক্ষতলে আসিয়া বসিলাম।

    মন সাক্ষী হইয়া প্রতিটি চিন্তাকে পরীক্ষা করিতেছে। প্রতিটি বস্তু ও ব্যক্তির ছায়ার ভিতর অনিত্যতার দুরপনেয় ছাপ লাগিয়া আছে। বিশ্বজগতে এমন কিছুই নাই, যাহা আমাকে আর প্রলোভিত করিতে পারে। এ পুনরাবর্তনের কূটনীতি হইতে বাহির হইয়া যাইবার জন্য প্রাণ ব্যাকুল হইয়া উঠিল।

    তথাপি, কে আমাকে জন্মজন্মান্তর ব্যাপিয়া এই জগৎকারাগারের ভিতর বন্দি করিয়া রাখিয়াছে? কে সে?

    ভাবিয়া তৎক্ষণাৎ এ সমস্যার সমাধান পাইলাম না। রৌদ্র উঠিল। বেলা হইতেছে। স্থির করিলাম, বৃক্ষতল হইতে উঠিয়া নৈরঞ্জনায় স্নান সারিয়া আসিব। ধীর পদক্ষেপে নদীর পাড় বাহিয়া নামিলাম। প্রভাতে সেই নারী যে পাত্রে পায়সান্ন দিয়া গিয়াছিল, উহা ধৌত করিব, ভাবিলাম। নদীতে স্রোত প্রচুর। জলের ভিতর কিছুদূর অগ্রসর হইয়া কী খেয়াল গেল, কৈশোরকালের ন্যায় সন্তরণ করিতে ইচ্ছা হইল। আজ আমার মন বালকের ন্যায় প্রফুল্ল। তাহার উপর দিয়া কী যেন ভার নামিয়া গিয়াছে। লঘুছন্দে সাঁতার দিতেছিলাম। নদীর তরঙ্গমুখর ঊর্মিমালারাশি আমার সহিত প্রগল্ভা বালিকার ন্যায় খেলা করিতেছিল।

    নদীর ঘাটের নিকটে যেখানে স্বল্প জল আছে, সেইখানে পায়সান্নের পাত্রটি ভাসাইয়া রাখিয়াছিলাম। সহসা দেখিলাম, স্রোতোবেগে তাহা ভাসিয়া যাইতেছে। আমি হস্ত প্রসারিত করিয়া উহা ধরিতে গেলাম। কী আশ্চর্য! পাত্রটি স্রোতের বিপরীত অভিমুখে ভাসিতেছে! ইহা কি কোনোমতে হইতে পারে? অথচ সেই অসম্ভব ঘটনাটিই আমার চক্ষুর সম্মুখে অনুষ্ঠিত হইতেছে, দেখিতেছি। পাত্রটি ফিরিয়া পাইবার সকল চেষ্টা পরিত্যাগ করিতে হইল। জলের ভিতর অর্ধনিমগ্ন হইয়া দেখিলাম, পাত্রটি তিরবেগে স্রোতের বিপরীতে ভাসিয়া গিয়া একটি প্রস্তরখণ্ডে বাধাপ্রাপ্ত হইয়া চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া গেল। পাত্রখণ্ডগুলির সলিলসমাধি হইল। আর তাহাদের জলের উপরে দেখা গেল না।

    বুঝিলাম, প্রকৃতি এক আশ্চর্য গূঢ় ইঙ্গিত দিতেছে। স্রোত যেদিকে বহিতেছে, প্রকৃতি জীবকে যেদিকে ঠেলিয়া লইয়া যাইতেছে, তাহার বিপরীত দিকেই— অর্থাৎ স্রোতের বিরুদ্ধেই যাত্রা করিতে হইবে। প্রকৃতি মানুষকে প্রবৃত্তির স্রোতে ভাসাইয়া লইয়া যায়। তাহাকে কাম, ক্রোধ, লোভের দিকে ভাসাইয়া লয়। কিন্তু যদি ইহাদের জয় করিতে হয়, তবে প্রকৃতিরই বিরুদ্ধাচরণ করিতে হইবে। তাহা হইলেই ঘটটি যেরূপ চূর্ণবিচূর্ণ হইয়াছে, আমার বাসনাসংস্কারও সেই রূপেই বিনাশপ্রাপ্ত হইবে। তখনই নির্বাণসলিলে চিরনিমগ্ন হইতে পারিব।

    জল হইতে উঠিয়া আসিলাম। এক অপূর্ব আলোকে আমার হৃদয়কন্দর উদ্ভাসিত হইয়া আছে। মন দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় সুস্থির হইয়াছে।

    অরণ্যের ভিতর একটি বিশ্বফল পাইলাম। উহা আহার করিলাম। আহার করিতে করিতে অনেক পুরানো কথা মনে উঠিল।

    একদিন ছিল, যখন কঠোর তপ অবলম্বন করিয়া আমি ক্ষয়প্রাপ্ত হইয়াছিলাম। দেহের দিকে কিছুমাত্র ভ্রূক্ষেপ করিতাম না। যোগাসনে উপবিষ্ট হইয়া নির্বাণলাভের জন্য দেহ ও মনকে পীড়ন করিতাম। আহারের মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হইতে হইতে সারাদিনে একটি তণ্ডুলকণায় আসিয়া ঠেকিয়াছিল! এক দিন নহে, দুই দিন নহে, এক মাস নহে, দুই মাস নহে, সুদীর্ঘ ছয় বৎসর কাল এইপ্রকার কঠোর সাধনা করিয়াছিলাম। কত রৌদ্র, কত বৃষ্টি, কত শীত, কত গ্রীষ্ম আমার মাথার উপর দিয়া চলিয়া গিয়াছিল, আমি তাহা জানিতেও পারি নাই। আমার দেহের দিব্যকান্তি বিলুপ্ত হইয়াছিল, দৃঢ় বলিষ্ঠ বিশালবপু কঙ্কালে পরিণত হইয়াছিল।

    কিন্তু তাহাতে কিছু হইল না। শরীর দুর্বল হইল মাত্র। দুর্বল দেহ নির্বাণপথের অন্তরায়। তাই পুনরায় পরিমিত আহার-বিহারের দ্বারা দেহকে দৃঢ় ও মনকে আশাবান করিলাম। উহা আমার অনুসারী সেই পঞ্চ ভিক্ষুর ভালো লাগিল না। উহারা কৃচ্ছ্রসাধনের অনুপন্থী। তাই উহারা আমাকে ছাড়িয়া গিয়াছে। ভালোই হইয়াছে। জীবনসমস্যা সমাধানের জন্য একাকী হওয়া বড়ো প্রয়োজন।

    আহার সমাধা করিয়া পুনরায় ধ্যাননিবিষ্ট হইলাম। চিত্তকে নিবাত নিষ্কম্প প্রদীপশিখাবৎ করিতে হইবে। প্রহরের পর প্রহর প্রাণ নীরব হইয়া কথা-না-বলা পাখিটির ন্যায় চুপ করিয়া পড়িয়া রহিল। ধ্যান হইতে যখন উঠিলাম, দেখিলাম, রৌদ্র ঘুরিয়া গিয়াছে। দিনান্তে আলোকের তেজ কমিয়া আসিয়া সন্ধ্যার তরল ছায়া পৃথিবীর বক্ষে নামিয়া আসিতেছে।

    নৈরঞ্জনা হইতে সন্ধ্যাস্নান করিয়া ফিরিতেছিলাম। আজ বোধ হয় পূর্ণিমা। নদীতীর ঝিল্লিরবে মুখরিত। আকাশে স্বর্ণস্থালিকার ন্যায় সুবতুল চন্দ্রোদয় হইতেছে। সন্ধ্যার আলোআঁধারির ভিতর মনুষ্যপদশব্দে চমকিত হইয়া ফিরিয়া দেখিলাম, কে একজন আসিতেছে। নিকটে আসিলে চিনিতে পারিলাম, সে সেই প্রভাতবেলার কিশোর।

    সে শান্ত কণ্ঠে কহিল, ‘ভগবন! আমার নাম সোয়াস্তি! গোচারণ করিয়া থাকি। প্রভাতে আপনাকে কিছু উপহার দিতে পারি নাই। সমস্ত দিন ধরিয়া এই ঘাসের আসন বুনিয়াছি। আপনি এই তৃণাসনটি স্বীকার করিয়া আমাকে ধন্য করুন!

    আমি তাহার হস্ত হইতে আসনটি গ্রহণ করিয়া বৃক্ষতলে বিছাইয়া দিলাম। তাহার উপর বসিয়া আমার মন বড়ো স্নিগ্ধ হইল। আর্দ্র কুশঘাসের সদ্যোনির্মিত আসনের সুঘ্রাণ! কিশোরটিকে আশীর্বাদ করিলাম। সে প্রণামনিবেদনান্তর চাঁদের আলোকে পথ দেখিয়া গৃহে ফিরিয়া গেল।

    প্রকৃতি নীরব হইয়া আছে। বনভূমি শশীপ্রভায় হাসিতেছে। আমার মাথার উপর কিন্তু অশ্বত্থবৃক্ষটি ছায়া ধরিয়াছে। আমি কায়-শির-গ্রীব সমান করিয়া দৃঢ় হইয়া বসিয়া নির্ভয়ে ঘোষণা করিলাম:

    ইহাসনে শুষ্যতু মে শরীরং
    ত্বগস্থিমাংসং প্রলয়ঞ্চ যাতু।
    অপ্রাপ্য বোধিং বহুকল্পদুর্লভাং
    নৈবাসনাৎ কায়মতশ্চলিষ্যতে।।

    এই আসনে আমার শরীর শুকাইয়া যায়, যাক। ত্বক, অস্থি, মাংস ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, তো হউক। তথাপি, বহুকল্পদুর্লভ বোধিলাভ না করিয়া আমার দেহ এই আসন ত্যাগ করিয়া উঠিবে না।

    এই কথা উচ্চারণ করা মাত্র আমার ভিতর হইতে যেন একটা কালো ছায়া আর্তনাদ করিয়া বলিয়া উঠিল: ‘না, না, না!’ ইহা তো বড়ো অদ্ভুত হইল! কে আমাকে ভিতর হইতে বাধা দিতেছে?

    আমি সেই নিষেধবাক্য অগ্রাহ্য করিলাম। মনের ভিতর অমন কত কী শুনা যায়!

    আমি সব দেবতারে ছাড়িয়া আমার প্রাণের কাছে সরিয়া আসিলাম। হৃদয় হইতে একটি শুভেচ্ছার ভাব, যাহাতে ত্রিজগতের সকল জীব সুখী হয়, শান্ত হয়, আনন্দময় হয়, পরিপূর্ণতা লাভ করে—এই প্রার্থনা দশদিকে বহাইয়া দিলাম। তাহার পর অতন্দ্র চিত্তে প্রাণ-দেহ-মনের ক্রিয়াবিক্রিয়া লক্ষ করিতে লাগিলাম। এই প্রাণ, এই কায়া, এই মন, যে যেদিকে পারে গমন করুক। আমি কেবল উহাদের দেখিয়া চলিব। কীভাবে উহারা উদিত হইতেছে, বাস করিতেছে, তিরোহিত হইতেছে—ইহা জানিব।

    প্রাণবায়ু নাসারন্ধ্রপথে দেহে প্রবেশ করিতেছে, আবার বিপরীতমুখে বাহির হইয়া যাইতেছে। কখনও প্রাণবায়ু হ্রস্ব, কখনও দীর্ঘ হইতেছে। আমি উহাদের দেখিয়া চলিতেছি। মন শান্ত ও পূর্ণভাবে জাগিয়া উঠিল।

    দেহের ভিতর ও বাহিরে নানাবিধ ক্রিয়া চলিতেছে। চর্মের উপর প্রতিটি সংবেদনা জাগিয়া উঠিতেছে। কোনোটি সুখদ, কোনাটি দুঃখদ। দেহের ভিতর রক্তসঞ্চালন, স্নায়বিক ক্রিয়াবিক্রিয়া, পরিপাক ক্রিয়া, রেচন ক্রিয়া চলিতেছে। দেহ—অর্থাৎ এই নিত্যগতিশীল যন্ত্রটার আমি সাক্ষী হইয়া বসিয়া আছি। শুধু উহাদের দেখিয়া চলিতেছি। আমার বিকার নাই।

    মনে নানারূপ চিন্তা উঠিতেছে, বসবাস করিতেছে, মিলাইয়া যাইতেছে। সুখ, দুঃখ, নিরপেক্ষতা, সংশয়, প্রত্যয়, জিজ্ঞাসা, ভয়, লজ্জা, বিস্ময়, ক্রোধ, কাম, লোভ, মোহ, মাৎসর্য, অহমিকা, দ্বিধা, ঘৃণা, প্রেম, ভ্রান্তি, স্মৃতি, কল্পনা ইত্যাদি সর্ববিধ চিন্তার তরঙ্গ মনের সরোবরে ঊর্মিমালার ন্যায় উঠিতেছে, ভসিতেছে, লীন হইতেছে। আমি শুধু উহাদের জানিতেছি। আমি নির্বিকার, অসঙ্গ, নিৰ্ভয়।

    মন নিজের ভিতর ডুব দিল। অতল হইতে মণিমুকুতা তুলিয়া আনিতেছে। আমার এই পার্থিব অস্তিত্ব পাঁচটা জিনিসের সমবায় দেখিতেছি। রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার, বিজ্ঞান।

    এই রক্ত-মাংস-শিরা-শোণিতপূর্ণ দেহ—ইহাই ‘রূপ’।

    রূপময় দেহের পশ্চাতে মন বা অন্তঃকরণ। বহিরিন্দ্রিয়ের সহিত বাহিরের বিষয়ের সংযোগ হইল, অমনি মনের ভিতর সুখদুঃখের অনুভূতি জন্মিল। ইহাই ‘বেদনা’।

    তাহার পর বাহিরের বস্তুনিচয় সম্বন্ধে আমার ভিতরে ‘ইহা ঘট’, ‘উহা মঠ’, ‘ইহা বৃক্ষ’, ‘উহা স্তম্ভ’ ইত্যাকার যে নিশ্চয়-জ্ঞান হইতেছে—ইহাই ‘সংজ্ঞা’।

    বস্তুটিকে অনুভব করিবার পর বস্তুটিকে ‘গ্রহণ করিব’ অথবা উহাকে ‘ত্যাগ করিব’ কিংবা উহার সম্পর্কে ‘উদাসীন থাকিব’ ইত্যাকার যেসব ইচ্ছা হয়, তাহাই সামগ্রিকভাবে ‘সংস্কার’। যেমন, পুষ্প দেখিয়া উহা তুলিয়া লইব, কিংবা উহা ত্যাগ করিব কিংবা উদাসীন থাকিব এইপ্রকার ইচ্ছাসমূহের সামগ্রিকতাই সংস্কার। অতঃপর এই রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কারের পশ্চাতে যে অহং-অভিমানী আত্মচেতনা—উহাই ‘বিজ্ঞান’।

    আমার পার্থিব সত্তা এই পাঁচটি আবরণে ঢাকা। ঠিক যেন পলাণ্ডুর পাঁচটি কন্দ বা খোসা। ছাড়াইলে কিছুই থাকে না। সেইরূপ এই পঞ্চস্কন্দ—রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার, বিজ্ঞানের পশ্চাতে জ্ঞেয়বস্তু কিছুই আর অবশিষ্ট দেখিতেছি না।

    এ তো বেশ হইল! ইহাদের জড়াইয়া লইয়াই আমার ‘আমিত্ব’, ছাড়াইয়া লইলে ‘আমিত্ব’ কোথাও আর দেখা যাইতেছে না! অথচ এই ‘আমিত্ব’ লইয়াই যত অভিমান, যত দুঃখের উৎপত্তি।

    কিন্তু এইরূপে জড়াইয়া ভাবিতেছি কেন? কতদিন ধরিয়া ভাবিতেছি? বিচার করিলে সবই উবিয়া যায়, বিচার ছাড়িয়া দিলে আবার যেমন-ছিল-তেমন ফিরিয়া আসে। এ তো কী এক ঐন্দ্রজালিকের মায়া!

    কিন্তু ইন্দ্রজাল বলিলেই তো আর চলিবে না। ইহার মূল কী, ধরিতে হইবে। বিশ্লেষণ করিয়া যাহাই হউক, দুঃখ আমাদের অনুভূত সত্য। এই দুঃখ অহেতুক হইতে পারে না। দুঃখের নিশ্চয় কারণ থাকিবে। সেই কারণকে উৎপাটিত করিলে কার্যরূপ দুঃখেরও অন্ত হইবে। আর সেই উৎপাটনের নির্ঘাত কোনো প্রক্রিয়া থাকিবে। দুঃখ আছে। দুঃখের কারণ আছে। দুঃখের নিরোধ আছে। নিরোধের উপায় আছে।

    ইহা তো মহাসত্য। মহাজ্ঞান। যাহার এই জ্ঞান নাই, সে অবশ্যই ‘অবিদ্যা’র কবলে পড়িয়াছে।

    কিন্তু সেই অবিদ্যাটি কীরূপ? কীরূপে তাহা আমার ভিতর লুকাইয়া আছে? এই কথা ভাবিতে ভাবিতে আমি আরও গভীরে ডুব দিলাম।

    দেখিতে লাগিলাম। এই অবিদ্যা হইতেই পাপ, পুণ্য, বৈরাগ্যের ‘সংস্কার’ জন্মিয়াছে।

    সংস্কার আছে বলিয়াই ‘বিজ্ঞান’-এর আবির্ভাব হইয়াছে। বিজ্ঞান সেই অহমিকার দীপশিখা, যাহাকে অবলম্বন করিয়া জানিবার সাধ হইয়াছে।

    ওই সাধ ছিল বলিয়াই আমি বারংবার মাতৃগর্ভে জাত হইয়াছি। কিন্তু তখন তো আমি ভ্রূণাকারে আসিয়াছি। উহাই ‘নামরূপ’।

    ভ্রূণ পরিণত হইয়াছে। পঞ্চ ইন্দ্রিয় ও মনের উদ্ভব হইয়াছে। পঞ্চ ইন্দ্রিয় আর মন—এই লইয়া ‘ষড়ায়তন’।

    তাহার পর আমি মাতৃগর্ভ হইতে জাত হইয়াছি। বারংবার। পঞ্চেন্দ্রিয় আর মনের সহিত বিষয়ের সংযোগ হইল। উহাকে ‘স্পর্শ’ বলা যাইতে পারে। স্পর্শে স্পর্শে সুখবেদন, শোকবেদন, অনুবেদন হইয়াছে। ইহাই ‘বেদনা’।

    এইভাবে জন্মে জন্মে আমি বিষয় আস্বাদ করিয়াছি। আর বিষয় আস্বাদ করিয়াছি বলিয়াই আবার পাইবার ইচ্ছা হইয়াছে। অহো! ইহাই ‘তৃষ্ণা’ বা বাসনা। ইহাই তো আমাকে সর্পিণীর ন্যায় জড়াইয়া আছে।

    ‘তৃষ্ণা’ আছে, তাই তৃষ্ণার ‘উপাদান’ও আছে।

    আর ‘উপাদান’ আছে বলিয়াই আবার ফিরিয়া আসিবার ইচ্ছা—আবার আসিব, আবার পৃথিবীতে ফিরিয়া আসিয়া ভোগ করিব, ইত্যাকার বোধ রহিয়া গিয়াছে। ইহাই সেই ‘ভব’বোধ, যাহা জন্ম হইতে মৃত্যুর দিকে আমাকে টানিয়া লইয়া যাইতেছে। ইহার প্রভাবেই পুনরায় ‘জাতি’ বা পুনর্জন্ম হইবে। আবার ‘দুঃখ’, দৌর্মনস্য, হাহুতাশ ফিরিয়া আসিবে।

    ইহাই তো আমার জন্মে জন্মে চলিতেছে। ইহা তো পূর্বে লক্ষ করি নাই! চক্রাকারে ঘুরিতেছে। চক্রাকারে ফিরিয়া আসিতেছে। হায়! কত জন্ম ধরিয়া ইহার খেলা চলিতেছে?

    দেখিতে পাইলাম, অনন্ত অনন্তবার আমি জন্মিয়াছি। সেই সব জন্মগুলি চিত্রশালিকার চিত্রের ন্যায় দেখিতে পাইলাম। সেই সুদূর অতীতে ধূলাবালির ভিতর প্রাণহীনের ন্যায় পড়িয়া থাকিতাম। অঙ্গ প্রতঙ্গ হস্ত পদ কিছুই ছিল না। তাহার পর কখনও উদ্ভিদ, কখনও পন্নগ, কখনও ভয়ংকর সরীসৃপ, কখনও ক্ষুদ্ৰ মৎস্য, কখনও বৃহৎ মৎস্য, কখনও বিচিত্র পক্ষী, কখনও অণ্ডজ, কখনও স্বেদজ, কখনও জরায়ুজ হইয়াছি। কখনও পশু হইয়াছি, সিংহ, বানর বা হরিণ। কখনও মানুষ হইয়াছি—কখনও নারী, কখনও বা পুরুষ। ভৃত্য, তস্কর, রাজা, দৌবারিক, শ্রেষ্ঠী, সৈনিক! কত অগণ্য জন্ম যে কাটিয়া গিয়াছে! অশুভ সংস্কার কাটিয়া কখনও শুভ সংস্কারের উদয় হইয়াছে। এসব কী দেখিতেছি? বারবার অন্যের কল্যাণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করিয়াছি। কখনও স্বাভাবিক মৃত্যু হইয়াছে, কখনও ছিন্নভিন্ন হইয়া গিয়াছি! তাহার পর একবার শুদ্ধ সংস্কার লইয়া এক ব্রাহ্মণের গৃহে জন্মলাভ করিয়াছি। সে কোটি কোটি কল্পপূর্বে। তখন আমার নাম হইয়াছে ‘মেঘ-মানব’

    দরিদ্র ব্রাহ্মণের পুত্র। বিদ্যালাভের উদ্দেশ্যে হিমবন্তপ্রদেশে গমন করিলাম। শিক্ষালাভান্তে গুরুদক্ষিণাদানের সামর্থ্য হইল না। সেই হেতু হিমগিরি সন্নিহিত রাজ্যে পরিভ্রমণ করিয়া পাঁচশত মুদ্রা সংগ্রহ করিলাম… ফিরিবার পথে এক রাজ্যে প্রবেশ করিয়া দেখিলাম, ঘর-দ্বার-দেহলীসমূহ পত্রে পুষ্পে শোভিত।

    সে এক বিচিত্র দেশ। জিজ্ঞাসা করিয়া জানিলাম, সেখানে সেই কল্পের বুদ্ধ আসিবেন। তাঁহার নাম দীপংকর বুদ্ধ। কিছুদূর অগ্রসর হইয়া এক সুকুমারী পুষ্পলাবী কন্যার সাক্ষাৎ পাইলাম। তাহার হস্তে সাতটি কমলকলিকা। কহিলাম, ‘বুদ্ধ-পূজার নিমিত্ত পাঁচশত মুদ্রার বিনিময়ে আমি তোমার নিকট হইতে পাঁচটি কমলকলিকা কিনিতে চাই। বিক্রয় করিবে?’

    সে কহিল, ‘পাঁচ কেন? সাতটি কমলকলিকাই লইয়া যান। মুদ্ৰা লাগিবে না। বিনামূল্যে দিব। কিন্তু আমার একটি শর্ত আছে।’

    আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘কী শর্ত?’

    কন্যা উত্তর দিল, ‘আমাকে বিবাহ করিতে হইবে!’

    কী বিপদ! একদিকে বুদ্ধপূজা করিবার আগ্রহ, অন্যদিকে এ কন্যার প্রণয়প্ৰাৰ্থনা উপায়ান্তর না দেখিয়া কহিলাম, ‘বেশ। বিবাহ করিব। কিন্তু আমারও শর্ত থাকিবে।’

    সে কহিল, ‘কী শর্ত, শুনি।’

    বলিলাম, ‘তুমি কখনও আমার ধর্মাচরণের পথে বাধা হইবে না, কথা দাও।’ সে সানন্দে সম্মত হইয়া গেল। তাহার সহিত আমার বিবাহ হইল। সে আমাকে সাতটি কমলকলিকা দিল। তাহা লইয়া আমি বুদ্ধপূজায় গেলাম।

    দীপংকর বুদ্ধের অনিন্দ্যসুন্দর দর্শন পাইলাম। তাঁহার চরণে সপ্ত কমলকলিকার পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করিলাম। আমার আস্কন্ধলম্বিত কেশপাশ দ্বারা তাঁহার চরণকমল মুছিয়া দিলাম। তিনি আমার সেবায় প্রসন্ন হইয়া বলিলেন, ‘তোমাকে অহত্ত্ব প্ৰদান করিতেছি। তুমি এখনই নিখিল দুঃখ হইতে মুক্ত হইয়া যাও।’

    আমি কহিলাম, ‘না, না। আমি ব্যক্তিগত মুক্তি চাহি না। আপনার প্রভাব যতদিন এ জগতে থাকিবে ততদিন বারংবার জন্মগ্রহণ করিয়া অন্যের সত্তাপ দূর করিবার প্রয়াসে ব্রতী হইতে চাই। তাহার পর আপনার প্রভাব যখন এ জগতে ক্ষীণ হইয়া আসিবে, তখন পৃথিবীতে আসিয়া সমস্ত জীবের দুঃখমুক্তির উপায় আবিষ্কার করিয়া বুদ্ধ হইতে চাই।’

    দীপংকর বুদ্ধ অত্যন্ত প্রীত হইয়া কহিলেন, ‘তথাস্তু!’

    সেই মেঘ-মানবই আমি—এই জন্মে সিদ্ধার্থ গৌতম হইয়াছি। আর সেই পুষ্পলাবী কন্যাটি এই জন্মে গোপা যশোধরা হইয়াছে। কী আশ্চর্য! ইহা আমি এতদিন জানিতাম না!

    তবে তো এইবার দুঃখের শেষ কোথা, তাহা দেখিতে হইবে। এইমাত্র বুঝিয়াছি, তৃষ্ণা থাকিলেই দুঃখ আসিবে। লবঙ্গ খাইলেই যেমন ঝাল লাগে, ইহাও সেইরূপ একটি থাকিলেই অন্যটি আসিবে।

    অবিদ্যা থাকিলেই সংস্কার, সংস্কার থাকিলেই বিজ্ঞান, বিজ্ঞান থাকিলেই নামরূপ, নামরূপ থাকিলেই ষড়ায়তন, ষড়ায়তন থাকিলেই স্পর্শ, স্পর্শ থাকিলেই বেদনা, বেদনা থাকিলেই তৃষ্ণা, তৃষ্ণা থাকিলেই উপাদান, উপাদান থাকিলেই ভব, ভব থাকিলেই জাতি, জাতি থাকিলেই দুঃখ—একটি থাকিলেই অন্যটি থাকে।

    ইহা হইতে তো নিষ্কৃতির উপায় দেখিতেছি না। নিষ্কৃতির কি কোনো উপায় নাই?

    আচ্ছা, একটি থাকিলেই যদি অন্যটি থাকে, তবে একটি না থাকিলে তো অন্যটিও থাকিবে না। ইহা তো বেশ যুক্তিসিদ্ধ মনে হইতেছে।

    অবিদ্যা না থাকিলে সংস্কার থাকিবে না, সংস্কার না থাকিলে বিজ্ঞান থাকিবে না, বিজ্ঞান না থাকিলে নামরূপ আসিবে না, নামরূপ না আসিলে ষড়ায়তন গঠিত হইবে না, ষড়ায়তন গঠিত না হইলে স্পর্শ হইবে না, স্পর্শ না হইলে বেদনা জন্মিবে না, বেদনা না জন্মিলে তৃষ্ণা নিভিয়া যাইবে, তৃষ্ণা নিভিয়া গেলে উপাদান জাগিবে না, উপাদান ঘুমাইয়া পড়িলে ভব উদিত হইবে না, ভব অস্ত গেলে জন্ম বা জাতি নিরুদ্ধ হইবে। জন্ম না হইলে দুঃখ নিভিয়া যাইবে।

    এইতো উপায় পাইয়াছি! কিন্তু এ চক্রের ঠিক কোথায় আঘাত করিলে ইহা ভাঙিয়া পড়িবে? তৃষ্ণা! তৃষ্ণা! তৃষ্ণাকে উৎপাটন করিতে হইবে। তৃষ্ণা উৎপাটিত করিতে পারিলেই দুঃখের চিরন্তন অবসান হইবে।

    এইভাবে ধ্যান করিতে করিতে তৃষ্ণা জয়ের একটি পথ যেন আমার চক্ষের সম্মুখে খুলিয়া গেল। সে-পথ যেন আলোক দ্বারা নির্মিত। আটটি অঙ্গ সেই পথে দীপ্যমান। সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প। সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক জীবিকা সম্যক প্রযত্ন, সম্যক স্মৃতি, সম্যক সমাধি। যাহাতে বাসনা নাশ হইয়া সর্বজীবের প্রতি করুণা বিথারিত হয়, তাহাই সম্যক।

    আমি একটি একটি লইয়া নিজেকে পরীক্ষা করিতে লাগিলাম। দেখিলাম, আমার প্রজ্ঞা, শীল ও সমাধি সম্যক হইবার পথে একমাত্র বাধা হইয়া রহিয়াছে বাসনা বা তৃষ্ণা। উহা যেন অন্ধকার সমুদ্রের ভিতর রহস্যময় প্রবালদ্বীপের ন্যায় আপনাতে আপনি জ্বলিতেছে।

    এইবার সমস্ত শক্তি একত্রিত করিয়া আমি ওই বাসনার প্রবালদ্বীপকে উৎপাটিত করিতে উদ্যত হইলাম। ভিতর হইতে ঘোর আর্তনাদ উঠিল। প্রচণ্ড নিনাদে অশনিসম্পাত হইল। আকাশটা যেন বিদ্যুতের লেলিহান জিহ্বায় দ্বিধাবিভক্ত হইয়া গেল। আমি চমকিয়া উঠিলাম। মেরুদণ্ডের ভিতর কে যেন ফাল চালাইয়া দিতেছে। অসহ্য যন্ত্রণা হইতে লাগিল। তথাপি, আমি দত্তে দত্ত চাপিয়া প্রবলবেগে বাসনার মূলে আঘাত করিলাম।

    মুহূর্তে কী এক ভয়ংকর মূর্তি আমার ভিতর হইতে লাফ দিয়া বাহিরে আসিল। সেই জ্যোৎস্নারাত্রি কখন নিভিয়া গিয়াছে। গগনমণ্ডল নিশ্ছিদ্র কৃষ্ণমেঘে ঢাকিয়া গিয়াছে। প্রচণ্ড ঝড় উঠিয়াছে। আর সেই মসিকৃষ্ণ অন্ধকারের ভিতর রক্তাম্বর পরিহিত জ্বলন্ত দেহ এক পাপপুরুষ রোষষায়িত নেত্রে আমাকে যেন গ্রাস করিয়া লইবার জন্য মুখামুখি ঘুরিয়া দাঁড়াইয়াছে।

    আমি অবাক হইয়া দেখিলাম, ‘সে আর কেহ নহে, যে আমাকে সর্বদা বন্ধু বলিয়া পরিচয় দিত, অহোরাত্র পরামর্শ দিত, সে সেই মার!’

    .

    এই পর্যন্ত বলে সিদ্ধার্থ নীরব হলেন। এতক্ষণ যেন আমার চোখের সামনে সেই অমোঘ নিশাকালের সমস্ত ঘটনা পুনরভিনীত হচ্ছিল। আমি অপেক্ষা করছিলাম, সিদ্ধার্থ আরও কী বলেন, তা শুনবার জন্য। কিন্তু সিদ্ধার্থ আমার উদ্দেশে আর একটিও কথা উচ্চারণ করলেন না।

    সহসা অলিন্দের নিস্তব্ধতা ভেঙে প্রবল ঝটিকা ও অশান্ত জলকল্লোলের শব্দ হতে লাগল। আমার মনের মধ্যে কী যেন একটা অজানা ত্রাস দারুণভাবে উত্থিত হচ্ছিল। আমি শঙ্কিত চিত্তে অলিন্দের গাত্রে প্রলম্বিত বৃহদাকার আলেখ্যটির দিকে তাকালাম।

    দেখলাম, ধ্যাননিমগ্ন সিদ্ধার্থের চতুর্দিকে মারসেনানী জেগে উঠেছে। বিষাক্ত নাগদানবগুলি ভয়াবহভাবে আলেখ্য দংশন করে বিষনিশ্বাস ফেলছে। দন্তুর শ্বাপদকুল মহা হুহুংকারে যেন সিদ্ধার্থকে আক্রমণ করছে। প্রমত্তা রমণী দুটি সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে হাস্যে লাস্যে নৃত্যে সিদ্ধার্থকে নির্লজ্জভাবে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে। কী একটা ঝড় উঠছে, ধুলায় ধোঁয়ায় ছবিটি আর দেখা যাচ্ছে না। তার মধ্য থেকেই একটা কর্কশ কণ্ঠস্বর উঠে এসে যেন এক মুহর্তে আমার কর্ণপটহ ভেদ করে ফেলতে লাগল। সে কী ভীষণ আক্রোশ! কী ভয়ানক গর্জন! আমার বুঝতে আর এতটুকু বিলম্ব হল না, জগতের সমস্ত পাপ মহামারের মূর্তি ধরে এইবার সেই ভীষণ রাত্রিটিতে সিদ্ধার্থের উদ্দেশেই এই ভীতিপ্রদ শব্দগুলি উচ্চারণ করে চলেছে…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী
    Next Article গাত্রহরিদ্রা – সমীরণ গুহ

    Related Articles

    সন্মাত্রানন্দ

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }