Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তোমাকে আমি ছুঁতে পারিনি – সন্মাত্রানন্দ

    সন্মাত্রানন্দ এক পাতা গল্প173 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৩. ময়ূখলেখন

    ১৩. ময়ূখলেখন

    মজা পুকুরের জলে হলুদ পাতা ঝরিয়া পড়িয়াছে। জলের ভিতর মেঘমুক্ত নীলাকাশ প্রতিবিম্বিত হইয়া রহিয়াছে। আকাশ মহৎ হইলেও, ক্ষুদ্র ডোবা পুকুরেও তাহার ছায়া পড়ে। সুদূর সিদ্ধার্থের ছায়াও আমার মতো মানুষের মনে ভাসিয়া উঠিতেছে।

    কাল বা সময় বস্তুত কোনো ব্যবধান নহে। মানুষের মন বিচিত্র উঠাপড়ার ভিতর গঠিত হয়। মানবের ইতিহাস বস্তুত এই মনেরই ইতিহাস। যে-প্রক্রিয়ায় এই মন জন্মজন্মান্তর ধরিয়া বিবর্তিত হইতে হইতে আজিকার রূপ ধরিয়াছে, তাহারই বিপরীত প্রক্রিয়ায় মনের গ্রন্থি বা গিঁট খুলিতে থাকিলে অতীত পৃথিবীর ঘটনাবলি ক্রমে ক্রমে উদ্‌ঘাটিত হইয়া যায়। লাটাইতে লাল, নীল সুতা যে অনুক্রমে জড়ানো হইয়াছে, তাহার বিপরীত অনুক্রমে সুতা ছাড়িতে থাকিলে নীল, লাল রঙের সুতা খুলিয়া বাহির হইয়া আসে। মনের বিপরীতমুখী গতিই অতীতের উন্মোচক। ইহা ব্যতীত টাইম মেশিন বলিয়া আর কিছু নাই।

    কয়দিন হইল, সুজাতা-সৌদাস-সিদ্ধার্থ মনের ভিতর উঠিতেছে পড়িতেছে। উহা আমার স্বভাব বা ব্যাধি—কিছু একটা হইবে। এই অতীত লইয়া নাড়াচাড়া করিবার অভ্যাস। কখনও মনে হয়, আমিই সৌদাস। কখনও মনে হয়, আমি সে নহে। এই লইয়া চলিয়া যাইতেছে।

    বর্ষা শেষ হইয়া শরৎ আসিয়া পড়িল। পূজার ছুটি আসিতেছে। ভাবিলাম, এই ছুটিতে একবার বাহির হইব। কোথায় যাই? একবার মনে উঠিল, সারনাথ যাইব। উহা আমার অতি প্রিয় স্থান। বেশ কয়েকবার গিয়াছি। তবু আবার যাইতে ইচ্ছা হইতেছে।

    ছুটি হইতেই বাহির হইয়া গেলাম। হাওড়া স্টেশন হইতে রাজধানী এক্সপ্রেসে আসন সংরক্ষিত ছিল। ট্রেনের ছন্দে দুলিতে দুলিতে একটা বই চোখের কাছে খুলিয়া পড়িতে পড়িতে রাস্তাটুকু পার হইয়া গেল। কাশী পৌঁছাইলাম যখন, তখন বেলা দুপুর।

    হোটেলে উঠিয়াছি। বৈকালে বিশ্বনাথ-অন্নপূর্ণা দর্শনে চলিলাম। তাহার পর গরম গরম জিলাপি ও কচুরি খাইয়া হরিশচন্দ্র ঘাটে বসিয়া আছি। নিকটেই চিতাগ্নি জ্বলিতেছে। কাহারা পৃথিবী হইতে বিদায় লইয়াছে। তাহাদের শেষকৃত্য উদাস হইতেছে। সমস্ত পরিবেশ সূর্যাস্তের মায়াময় আলোয় যেন বৈরাগ্যের সুরে হইয়া আছে।

    একটা নৌকা ভাড়া করিয়া সন্ধ্যাকালে গঙ্গা-আরতি দেখিলাম। শত সহস্ৰ পুণ্যার্থী পাতার ঠোঙায় জলে প্রদীপ ভাসাইতেছে। তাহাদের কত কী যে মনস্কামনা! আমার সেরূপ কিছু চাহিবার নাই। একটা জীবন—যে কোনোভাবে কাটিয়া যাইলেই হইল। কাহারও উপর যেন নির্ভর না করিতে হয়। বিশেষত অন্তিম বয়সে।

    নৌকায় বসিয়া বসিয়া ভাবিতেছিলাম, সুজাতার কথা আমি লিখিয়াছি। কিন্তু ইহা কি সত্যই সুজাতার কথা? ইহা তো আমি যেমনভাবে সুজাতাকে বুঝিয়াছি, তাহারই ছবি। সত্যই সুজাতা কেমন ছিল, কী ভাবিত, সে-সকল কথা আমি জানিব কীরূপে? আমি তো সুজাতা নহি, আমি সৌদাস।

    আমরা কেহ কি অন্যকে জানিতে পারি? কখনও পারিয়াছি? মনে তো হয় না। অন্যের ব্যবহার, আচার-আচরণ হইতে অন্যের সম্পর্কে ধারণা করিয়া লই। ওই ধারণা তো আমাদেরই মনের অন্যপ্রকার ছবি। অন্যের কথা লিখিতে গিয়া আমরা আমাদের কথাই লিখি। ইহা হইতে নিস্তার নাই। যে যাহা কিছু লিখে, নিজের আত্মজীবনীই লিখে। কখনও ‘আমি’, ‘আমি’ করিয়া লিখে, কখনও অন্য কোনো চরিত্র খাড়া করিয়া তাহারই মুখ দিয়া নিজেই কথা বলে। সেই যে একপ্রকার বিলাইতি জাদু আছে, যাহাকে ভেন্ট্রিলোকুইজ্‌জ্ম বলে। জাদুকরের হস্তে একটা পুতুল থাকে। তাহাকে প্রশ্ন করিলে পুতুলটা কথার উত্তর দেয়। বস্তুত, জাদুকর নিজেই কিন্তু স্বরপরিবর্তন করিয়া কথা কয়। বাহিরের লোক দেখিলে ভাবে, পুতুলটাই যেন কত কথা বলিতেছে। আমাদের রচিত কাহিনিগুলাও ওই ভেন্ট্রিলোকুইজমেরই ন্যায়। চরিত্রগুলা লেখকের হাতের পুতুল। তাহাদিগের মুখ দিয়া লেখক নিজেই নিজের কথা বলিতে থাকে। পাঠক মনে করে, চরিত্রগুলা কথা বলিতেছে।

    পরদিন প্রভাতবেলায় গোধূলিয়ার মোড় হইতে অটো ধরিয়া সারনাথের উদ্দেশে যাত্রা করিলাম।

    পৌঁছাইলাম যখন, তখন সকাল নয়টা। মূল মন্দিরে প্রবেশ করিলাম। ইহা নূতন মন্দির। অনাগরিক ধর্মপাল ইহার প্রতিষ্ঠা করেন গত শতাব্দীতে। বুদ্ধের ধ্যানস্থ মূর্তি সমস্ত স্থানটিকে গম্ভীর করিয়া রাখিয়াছে। কিছুক্ষণ এই স্থলে বসিলাম। বাহির হইবার সময় দেখিলাম, দেশি বিদেশি বহু ভ্রামণিকে স্থানটি ভরিয়া উঠিয়াছে। এক স্থলে বুদ্ধ-বিষয়ক বহু গ্রন্থ, জপের মালা, জপযন্ত্র ইত্যাদি বিক্রয় হইতেছে।

    বাহির হইয়া আসিয়া মন্দিরের বামদিকে সেই স্থানটিতে গেলাম, যেখানে তথাগত ও তাঁহার পাঁচজন শিষ্যের মূর্তি রহিয়াছে। পাঁচজন তথাগতকে ঘিরিয়া বসিয়াছেন। ইহারাই সেই পাঁচজন ভিক্ষু যাঁহারা বুদ্ধের মধ্যপন্থা-আশ্রিত আচরণে বিরক্ত হইয়া উরুবিল্ব বন পরিত্যাগ করিয়া চলিয়া আসিয়াছিলেন।

    বোধিলাভের পর তথাগতর ইঁহাদের কথা মনে পড়িয়াছিল। তিনি জ্ঞানলাভের আনন্দে বিভোর হইয়া পথ চলিতে চলিতে এস্থানে, এই সারনাথে আসিয়াছিলেন। যোগবলে তিনি জানিতে পারিয়াছিলেন, পাঁচজন ভিক্ষু তখন এখানেই অবস্থান করিতেছিলেন। কৌণ্ডিন্য, মহানামা, ভদ্র, বাষ্প ও অশ্বজিৎ।

    দূর হইতে পাঁচজন ভিক্ষু তথাগতকে দেখিতে পাইয়াছিলেন। তাঁহাকে দেখিয়াই কৌণ্ডিন্য বলিয়াছিলেন, ‘দ্যাখো, দ্যাখো! সেই ভণ্ড সিদ্ধার্থ আসিতেছে, যে তপস্যা পরিত্যাগ করিয়াছিল। সে এইখানে আসিলে আমরা উঠিয়া দাঁড়াইয়া তাহাকে অভিবাদন জানাইব না।’

    মহানামা বলিলেন, ‘উহাকে আমরা পা ধুইবার জল বা বসিবার আসন পর্যন্ত প্রদান করিব না।’

    ভদ্র বলিলেন, ‘আমরা কেহ তাহাকে কুশলপ্রশ্নও করিব না।’

    এইরূপে প্রত্যেকেই তথাগতকে অভ্যর্থনা করিতে অসম্মতি প্রকাশ করিলেন। তাহার পর তথাগত তাঁহাদের সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইলেন। তাঁহার মুখমণ্ডলে এমন তেজোপ্রভ বিভা বিচ্ছুরিত হইতেছিল, ব্যক্তিত্বের এমন অপূর্ব জ্যোতিতে তাঁহার অবয়ব অর্চিষ্মান হইয়াছিল যে, সকলেই নিজেদের অজ্ঞাতসারে উঠিয়া দাঁড়াইলেন।

    মহানামা করিলেন, ‘হে সিদ্ধার্থ! সুস্বাগতম্! এই চরণ ধৌত করিবার জল বা পাদ্য গ্রহণ করুন। এই আসনে আসিয়া উপবেশন করুন।’

    ভদ্র বলিয়া উঠিল, ‘হে সিদ্ধার্থ! আপনার সকলই কুশল তো?’

    তথাগত একটু হাসিলেন। তাহার পর গম্ভীর স্বরে বলিলেন, ‘আমাকে এখন আর সিদ্ধার্থ বলিয়া সম্বোধন করিয়ো না। আমি বোধিলাভ করিয়াছি। আমি বুদ্ধ হইয়াছি। তোমাদিগকে সেই উন্নত বোধি লাভ করিবার উপায় উপদেশ করিব। সাবধানে শ্রবণ করো।’

    ইহারই পর তথাগত তাঁহার বিখ্যাত ধর্মপ্রবর্তনসূত্র উপদেশ করিয়াছিলেন। শুনিতে শুনিতেই কৌণ্ডিন্য বোধিজ্ঞান লাভ করেন। তাই কৌণ্ডিন্যের নাম হইয়াছিল ‘কৌণ্ডিন্য জ্ঞাতা’।

    এসকল সিদ্ধার্থের বোধিলাভের পরের কথা। কিন্তু আমি তো বুদ্ধকে চিনি না। আমি সিদ্ধার্থকে চিনি, যিনি এই জ্ঞানলাভ করিবার জন্য প্রাণপাত পরিশ্রম করিয়াছিলেন।

    এই স্থানটি ঘুরিয়া আমি মূল মন্দিরের পশ্চাতে গেলাম। ধামেক স্তূপ, ধর্মরাজিকা স্তূপের নিকট ঘুরিয়া বেড়াইলাম। এসব স্তূপ উৎখনন করিয়া বাহির করা হইয়াছে। আরকিয়োলজিকাল সারভে অব ইন্ডিয়া ইহাদের রক্ষণাবেক্ষণ করিতেছেন।

    প্রথম যেবার আসিয়াছিলাম, গাইড একটি স্থান নির্দেশ করিয়া বলিয়াছিল, এইখানে বুদ্ধ আসিয়া বসিতেন। তাঁহার চারিদিকে দেশনাপ্রার্থী ভিক্ষুর দল ঘিরিয়া বসিত। ইহার পর যতবার গিয়াছি, আর গাইড লই নাই, কারণ তাহার আর প্রয়োজন ছিল না। প্রতিবারই এই স্থানটির নিকটে এক স্থানে কিছুক্ষণ বসিয়া থাকি। চক্ষু মুদ্রিত করিলে মনে হয়, কাহার মন্দ্রস্বরে স্থানটি ভরিয়া উঠিতেছে। আড়াই হাজার বৎসর পূর্বের মহামানবের কণ্ঠস্বর যেন এখনও শুনিতে পাই। মনে হয়, চোখ খুলিলেই তাঁহাকে দেখিতে পাইব।

    অশোকস্তম্ভের নিম্নে শিলালিপিটি দেখিয়া কুমারদেবী-প্রতিষ্ঠিত সঙ্ঘারামের সম্মুখে গেলাম। ইহা অনেক পরবর্তীকালের নির্মাণ। বর্তমানে ইহা বন্ধ করিয়া দেওয়া হইয়াছে। পূর্বে এখানে মাটির তলা দিয়া যাইবার একটা সুড়ঙ্গ ছিল। ওই পথ দিয়া আমিও পূর্বে নামিয়াছি। ক্ষুদ্রাকার প্রকোষ্ঠ, ভিক্ষুগণ এইসব প্রকোষ্ঠে থাকিয়া ধ্যান-চিন্তা, স্মরণ-মনন করিতেন। কেন জানি মনে হইয়াছিল, এখানেও আমি ছিলাম। কখনও যেন আসিয়াছি। সবই হয়তো মনের ভুল।

    সেই সঙ্ঘারাম পার হইয়া সারনাথের শেষ প্রান্তে আসিয়া পৌঁছাইলাম। লোহার তার দিয়া স্থানটি ঘেরা রহিয়াছে। তারের ওপাশে অগণ্য হরিণ খেলিয়া বেড়ায়। ইহা হরিণের মুক্তাঞ্চল। আমি একটা শ্যাম পর্ণে পূর্ণ গাছের ডাল লইয়া জালের নিকটে দাঁড়াইলাম। তারের জালের ফাঁক দিয়া সবুজ পাতা খাইবার লোভে হরিণ সব সার সার দিয়া দাঁড়াইল। আমি উহাদের পাতা খাওয়াইতেছিলাম। এমন সময় এক অদ্ভুত ব্যাপার হইল।

    আমার বাম দিক দিয়া একটা হরিণী আমার গা ঘেঁষিয়া আসিয়া দাঁড়াইল। আমি তাহার দিকে তাকাইয়া অবাক হইয়া গেলাম। অমন সজীব মনুষ্যোচিত দৃষ্টি হরিণীর চক্ষে আমি কখনও দেখি নাই। সে যেন বড়ো বড়ো আর্দ্র চক্ষু তুলিয়া কী কথা আমাকে বলিতে চাহিতেছে। তাহার চক্ষুর সহিত আমার চক্ষু সংযুক্ত হইল।

    যেন চোখ দিয়া আমার প্রাণকে টানিতেছে। আমি মুগ্ধ, অভিভূতের ন্যায় দাঁড়াইয়া আছি। দেখিতে দেখিতে মনে হইল, আমার প্রাণবায়ু তাহার অক্ষিজালের ভিতর দিয়া অন্তর্মুখী স্নায়ুপথ দিয়া গড়াইয়া পড়িতেছে। আমি যেন শ্যাম ধূসর কী একটা সান্দ্র পদার্থের উপর গড়াইয়া পড়িয়া জ্ঞান হারাইলাম…

    একটি প্রাচীন সঙ্ঘারামের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আমি দাঁড়াইয়া আছি… মাথার উপর একটা তিন্তিড়ি বৃক্ষ সহস্র শীর্ণ শ্যাম ডালপালা মেলিয়া রাখিয়াছে। নিজের দিকে তাকাইলাম। আমার পরনে ভিক্ষুজনোচিত গৈরিক কাষায়, গাত্রে একই বর্ণের একটি উত্তরীয়। আমার মনের অবস্থা উদ্ভ্রান্ত হইয়া আছে।

    কে যেন আসিল… আর-একজন ভিক্ষু। আমার নিকটে সরিয়া আসিয়া সে বলিল, ‘ভিক্ষু উদাত্ত! কী করিবে স্থির করিলে?’

    আমি উত্তর দিলাম, ‘কী আর? এখন আমাকে পথেই বাহির হইয়া যাইতে হইবে। আজ হইতে পথই আমার আলয় হইল।’

    ‘তুমি তো তোমার দোষ স্বীকার করিয়া প্রতিমোক্ষ পাঠ করিতে পারিতে! করিলে না কেন?’

    ‘কারণ, ইহা আমি কোনো দোষাবহ বলিয়া মনেই করি না। কোন শাস্ত্রে লিখিত আছে, ভিক্ষু কাব্যরচনা করিতে পারিবে না?’

    ‘কাব্যরচনায় দোষ নাই, বন্ধু। কিন্তু তুমি যে শ্রেষ্ঠীকন্যা মল্লিকাকে লইয়া প্রণয়কাব্য রচিয়াছিলে!’

    ‘ইহা আমি অস্বীকার করি না, মল্লিকাকে আমি ভালোবাসি। কিন্তু ভালোবাসা কি পাপ? আমি তো তাহাকে লইয়া কেবল কাব্য রচনা করিয়াছি।’

    ‘এই মাত্র? তুমি কি অস্বীকার করিতে পারো, তুমি তাহার সহিত মাঘীপূর্ণিমায় দীর্ঘক্ষণ কথা বলিয়াছিলে? ভিক্ষুর পক্ষে নারীসম্বোধন বিহিত নহে।

    ‘এই বিধিনিষেধ ভগবান বুদ্ধের অনেক পরবর্তীকালের। আমি এসকল মানি না।’

    আমি তোমার অভিমান বুঝিতে পারিতেছি। কিন্তু আমি তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু। তোমার সখা। আমার নিকট তুমি স্বীকার করো। কেন শ্রেষ্ঠীকন্যা মল্লিকার প্রতি আকৃষ্ট হইলে?’

    ‘স্থবির মিত্রবাকের কথা তোমার মনে আছে, সুনন্দ?’

    ‘আছে বই-কি। সেই যে আমরা দুইজন তাঁহার নিকট বসিয়াছিলাম। তিনি তোমার সম্পর্কে কতগুলি অদ্ভুত কথা বলিয়াছিলেন, উদাত্ত!’

    ‘কী কথা মনে আছে?’

    ‘আছে। তিনি বলিয়াছিলেন, তোমার ভিতর জন্মান্তরীণ স্মৃতি জাগরিত হইবে। তুমি জাতিস্মর!’

    ‘তাঁহার সে-কথায় তোমার আস্থা হয়?’

    ‘হয়। পূর্বজন্মের কোন রহস্য তোমার পরিজ্ঞাত হইয়াছে, আমাকে বলিবে কি?’

    ‘দ্যাখো, সুনন্দ। আজ তোমাকে বড়ো গোপন কথা বলিব।’

    ‘বলো, শুনিতেছি।’

    ‘আমি পূর্বজন্মে সৌদাস নামে এক কবি ছিলাম। তথাগতর বোধিলাভের পূর্বে যে-নারী তাঁহাকে পায়সান্ন নিবেদন করিয়াছিল, সেই সুজাতাই ছিল আমার স্ত্রী। আর সেই সুজাতাই এই জন্মে শ্রেষ্ঠীকন্যা মল্লিকা।’

    ‘কী বলিলে?’

    ‘ঠিকই বলিলাম। এই কথা আমি জানিতাম না। কিন্তু মাঘীপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে বিহারের বহির্দেশে মেলা বসিয়াছিল। সেই মেলায় শ্রেষ্ঠীকন্যা মল্লিকাকে আমি প্রথম দেখিলাম। আর দেখামাত্রই আমার পূর্বজনমের স্মৃতি জাগরুক হইল…’

    ‘তাহাকে তুমি এ কথা বলিয়াছিলে?’

    ‘স্পষ্ট করিয়া বলিবার সুযোগ পাই নাই। অস্পষ্ট আভাষ দিয়াছিলাম। সে বুঝিতে পারে নাই। তাহার পূর্বজন্মের কথা কিছুই মনে নাই।’

    ‘সে কি তোমাকে ভালোবাসে?’

    ‘জানি না। এত অল্প সময় কথাবার্তা, কেমন করিয়া জানিব?… হয়তো বাসে, কিন্তু চেনে না…’

    ‘এখন কি তাহার নিকট যাইবে?’

    ‘কোথায় আর যাইব? শুনিতেছি, শ্রেষ্ঠী তাহার কন্যাকে লইয়া পারাদ্বীপ না কোথায় গিয়াছেন।’

    ‘কবে ফিরিবেন?’

    ‘ঠিক নাই। কেহ বলিতে পারিতেছে না।’

    ‘তুমি কি তাহাকে খুঁজিবে না?’

    ‘খুঁজিব। কিন্তু তাহার মানবী রূপের ভিতর আর নয়। অনল-অনিলে, লতায়পাতায় উদ্ভিজ্জে, আকাশের গাত্রে, শিলালেখে শিলালেখে তাহাকে—সেই প্রত্নমানবীকে—খুঁজিয়া ফিরিব। সে আমার সর্বময় হইয়া গিয়াছে যে!’

    ‘দুঃখ হয়, সঙ্ঘ তোমাকে বুঝিল না।’

    ‘সঙ্ঘ সঙ্ঘের নিয়মে চলিবে। তাহার নিয়মনিগড়ের ভিতর দিয়া সঙ্ঘ ভিক্ষুদিগকে নিরাপত্তা দিয়াছে, কাড়িয়া লইয়াছে স্বাতন্ত্র্য। ধর্মাচরণের স্তূপের নিম্নে কত যে অপরিপূরিত বাসনা… কত অশ্রুপাত! আমি আর নিজেকে ইহার ভিতর আবদ্ধ করিয়া রাখিতে পারি না।’

    ‘ইচ্ছা হইতেছে, আমিও তোমার অনুসরণ করি।’

    ‘তুমি কেন আমাকে অনুসরণ করিবে? আমাকে আমার কর্মবিপাকে সঙ্ঘত্যাগ করিতে হইতেছে। তোমার কর্মানুসারে তোমাকে সঙ্ঘেই থাকিতে হইবে। আর আমাদের দেখা হইবে না। … বিদায় …!’

    .

    সহসা যেন কী এক আঘাতে ঘোর ভাঙিয়া গেল। যেন কোন সুদূর পৃথিবীর স্বপ্ন হইতে জাগিয়া উঠিলাম। দেখিলাম, হরিণীর সহিত চোখের সংযোগ ছিন্ন হইয়া গিয়াছে। সে সরিয়া গিয়া হরিণের দলের সহিত মিশিয়া যাইতেছে। আর তাহাকে অন্য হরিণ হইতে পৃথক করিতে পারিলাম না।

    কবেকার কথা এসব! কোন সে প্রাচীন মঠ, কে সেই ভিক্ষু উদাত্ত, শ্রেষ্ঠীকন্যা মল্লিকা, ভিক্ষু সুনন্দ! কোথায় যে হারাইয়া গিয়াছিলাম!

    তাহাকে যেন আচম্বিতে চিনিতে পারিলাম। সে এইবার অন্যরূপে আসিয়াছে। মৃগীরূপে জন্ম লইয়াছে। সেই সুজাতা!

    মন বড়ো বিষণ্ণ হইয়া গেল। মধ্যাহ্ন ঢলিয়া পড়িল। অপরাহ্ণ আসিতেছে। ছায়া দীর্ঘতর হইতেছে।

    হোটেলে ফিরিয়া আসিলাম। সমস্ত দিনের ভ্রমণক্লান্ত শরীর বাথরুমে শাওয়ারের নীচে পাতিয়া দিলাম। শীতল বারিকণা শাস্তি বিছাইয়া দিল।

    আজ আর বাহিরে যাইব না। হোটেলে রুম সার্ভিস বলিয়া দিলাম। ঘরে খাবার দিয়া গেল। খাবার সারিয়া বিছানায় গা ঢালিয়া দিলাম। দুই চোখের পাতায় রাজ্যের ঘুম নামিয়া আসিল।

    কী এক বিচিত্র স্বপ্নের মধ্য দিয়া যাইতেছি। কাহারা যেন কথা বলিতেছে। মহৎ প্রাণের কণ্ঠস্বর। কত শত শত বৎসর পূর্বের সব কথা।

    অন্ধকারে অস্ফুট চিত্র স্ফুটতর হইয়া উঠিতেছে…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী
    Next Article গাত্রহরিদ্রা – সমীরণ গুহ

    Related Articles

    সন্মাত্রানন্দ

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }