Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Ek Pata Golpo সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প178 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিরুদ্দেশের দেশে – ৫

    ৫

    বাইরে এসে মনে হলো, ঐ কৃষ্ণবসনাকে একবার বাজিয়ে দেখাই যাক না। কামড়ে তো দেবে না!

    মহিলাটি এখন বারান্দায় নেই। আমি কাছাকাছি গিয়ে দু’একবার গলা খাঁকারি দিলুম। যার নাম জানি না তাকে কী বলে ডাকব?

    এই বাড়িটাতে আগে কে ছিল? ঠিক মনে করতে পারি না। আমি অবশ্য এখানকার সবাইকে চিনি না। কেউ কেউ আজীবন থাকবে বলে আসে কিন্তু দু’এক বছর বাদে ফিরে যায়। এ বাড়ির আগের মালিক শৌখিন ছিলেন। তিনি বেগুন– আলু–পেঁয়াজ চাষ করার বদলে অনেকগুলি গোলাপ গাছ লাগিয়েছিলেন। সেই গাছগুলি এখন বিবৰ্ণ।

    আমি ইচ্ছে করে মোরাম ঢালা পথে পা ঘষার শব্দ করলুম। তাতেই বেরিয়ে এলো মহিলাটি। ঠাণ্ডা চোখে চেয়ে রইল সোজাসুজি।

    আমি দু’ হাত তুলে বললুম, নমস্কার।

    সে প্রতিনমস্কার করল না, কোনো উত্তরও দিল না। তাকিয়ে রইল একই ভাবে। ওর মুখের মধ্যে এমন একটা ভাব আছে যা চেনা চেনা, অথচ এই মহিলাকে আমি আগে কখনো দেখিনি, তা নিশ্চিত।

    আবার বললুম, আপনার সঙ্গে আলাপ করতে এসেছি। অবশ্য এখন যদি আপনার অসুবিধে থাকে পরে আসব।

    রমণীটি এবারে বলল, এসো, ভেতরে এসো।

    প্রথমেই তুমি সম্বোধনে একটু চমক লাগে। ওর বয়েস তেত্রিশ–চৌত্রিশের বেশি নয়। অন্ধকারের সঙ্গে ওর কালো শাড়িখানা মিশে গেছে, দেখা যাচ্ছে শুধু মুখখানা আর হাত দুটি।

    আমি বললুম, ঘরের মধ্যে তো বড্ড অন্ধকার, বাইরেই বসা যাক না।

    – না, তুমি ভেতরে এসো।

    ঘরে ঢুকে সে একটি মোটা লাল রঙের মোমবাতি জ্বালাল। সে ঘরে রয়েছে একটা খাট, একটি চেয়ার আর দেওয়ালে একটি আয়না।

    সে নিজে চেয়ারটায় বসে আমাকে খাটে বসতে ইঙ্গিত করল। আমিও পা ঝুলিয়ে বসে পড়লুম বিনা দ্বিধায়, দিকশূন্যপুরে কোনো কিছুই অস্বাভাবিক নয়।

    —আমার নাম রোহিলা। তুমি কে?

    – আমার নাম নীললোহিত। আমি এখানে থাকি না, বাইরে থেকে বেড়াতে এসেছি আজই।

    – আমি এসেছি বারোদিন আগে, কিংবা তেরোদিন, কিংবা সতেরো দিন, ঠিক জানি না, গুণতে ভুলে গেছি।

    দু’ হাতে মুখ চাপা দিয়ে হঠাৎ সে কেঁদে উঠল। এক পশলা বৃষ্টির মতন। যেরকম বৃষ্টিতে মানুষ ছুটে পালায় না, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভেজে, আমিও সেরকম ভাবে কোনো কথা না বলে দেখতে লাগলুম ওর কান্না

    একটু পরে হাত সরিয়ে সে জিজ্ঞেস করল, আমার চেহারায় বা মুখে কি এমন কিছু ছাপ আছে যাতে লোকে আমায় ঘৃণা করবে? এখানে সবাই আমাকে দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

    –না–না, তা কেন হবে, আপনি ভুল ভাবছেন।

    —আমাকে আপনি আজ্ঞে করতে হবে না। আমার বয়েস মাত্র তিন বছর। কিন্তু আমার সঙ্গে কেউ একটাও কথা বলে না কেন?

    এবারে শরীরে একটা শিহরণ হলো। বলে কী, ওর বয়েস মাত্র তিন বছর? মেয়েটা পাগল–টাগল না তো?

    —আপনি…মানে…তুমি ভাবছ কেউ তোমার সঙ্গে কথা বলে না। আর এখানকার লোক ভাবছে, তুমি তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছ না।

    –আমি নতুন এসেছি, আগে তো ওরাই এসে আমার সঙ্গে ভাব করবে, আমাকে সাহায্য করবে।

    —যারা নতুন আসে, সব কিছু ছেড়েছুড়ে, তারা প্রথম প্রথম খুব স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। অন্য কেউ সে রকম কারুর সম্পর্কে কৌতূহল দেখালে সে রেগে যায় বা পুরোনো দুঃখটা হুহু করে এসে পড়ে।

    —দুঃখ?

    —কোনো না কোনো দুঃখের পটভূমিকা নিয়েই তো মানুষ এখানে আসে।

    —ও হ্যাঁ। তা বোধহয় ঠিক। তাহলে তুমি, তোমার কী যে নাম বললে?

    —নীললোহিত।

    –এরকম নাম আগে শুনিনি। আমার নাম রোহিলা, এই নামটা কেমন?

    —নতুনত্ব আছে। আমিও এই নাম আগে শুনিনি।

    –আগে আমার অন্য নাম ছিল। অনেক দিন আগে, গত জন্মে।

    – তুমি সব সময় এরকম কালো শাড়ি পরে থাক কেন?

    –কেন, তাতে কী হয়েছে?

    —সত্যি কথা বলব? ঐ কালো শাড়ির জন্য তোমার মুখটা পাথরের মতন দেখায়। মনে হয়, তুমি মানুষ নও, একটা মূর্তি।

    রোহিলা মোমটা তুলে নিয়ে নিজের মুখের কাছে আনল। খুব কাছে। তারপর আলোর শিখার দিকে তাকিয়ে জোর দিয়ে বলল, আমার মুখে একটা ছ্যাঁকা দেব? তাহলে আমাকে মানুষ মানুষ মনে হবে না?

    এই মেয়েটা পাগল নিশ্চিত। তার ফর্সা মুখে তার চোখদুটো হীরেকুচির মতন জ্বলছে।

    আমি হাত বাড়িয়ে মোমবাতিটা সরিয়ে নিয়ে বললুম, ছিঃ, সুন্দরকে কখনো নষ্ট করতে নেই।

    রোহিলা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, কালো কাপড়ে শরীরটা ঢেকে রাখি, যাতে লোকেরা আমার শরীরের বদলে শুধু মুখের দিকে তাকায়। একবার একজন আমার একটা মূর্তি বানিয়েছিল, তাতে কোনো পোশাক ছিল না!

    আমার শ্রবণেন্দ্রিয় তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল। একটা গল্পের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখানে কেউ ফেলে আসা জীবনের কথা বলে না।

    —বম্বেতে আমি অনেকদিন মডেলের কাজ করেছি। তখন শুধু শরীর–দেখাতে হয়েছে। শুধু শরীর। মডেলের হৃদয় থাকতে নেই। হৃদয় নিয়ে কোনো বিজ্ঞাপন হয় না। সেই সময়কার কথা ভাবলেই আমার কান্না পায়।

    –তোমার কোনো বন্ধু ছিল না?

    —ছিল অনেক শরীরের বন্ধু। মনের সঙ্গী ছিল না কেউ। আমার যে মন বলে কিছু আছে তা বুঝতেই শিখিনি। আমার ছিল কতগুলো ইচ্ছে, এটা চাই, সেটা চাই, ওটা ভালো, ওটা পছন্দ নয়, এই রকম। এর নাম মন?

    –তারপর?

    —তুমি কেন বললে আমার মূর্তির মতন দেখায়? যে–জীবন আমি ফেলে এসেছি…

    –আমার ঠিক যা মনে হয়েছে, তাই বলেছি। এখন তোমার চোখে জল, এখন আর সেরকম দেখাচ্ছে না।

    —মডেলিং করতে করতে আমি ফিলমে চলে এলাম। যারা আমার ছবি তুলত, তারা বলল, তুমি এবারে মুভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াও।

    আমি সোল্লাসে বললুম, আহ্, এইবার বুঝতে পেরেছি। ঠিক ধরেছিলুম!

    রোহিলা অবাক চোখ তুলে বলল, কী?

    –তোমাকে আগে আমি কখনো দেখিনি, তবু তোমার রূপটা কেন চেনা চেনা লাগছিল! সিনেমায় নায়িকাদের মুখ এরকম হয়। যে–মুখে অনেক জোরাল আলো পড়ে, সেই মুখের ত্বক কেমন যেন বদলে যায়।

    –না, আমি নায়িকা হইনি কোনোদিন, প্রথমে ছোটখাটো পার্ট, তারপর মাঝারি। বেশির ভাগ সময়েই ভিলেনের সঙ্গিনী! মদ খাওয়ার দৃশ্য, ষড়যন্ত্র, জাঙ্গিয়া আর কাঁচুলি পরে নাচ, ঘোড়ার পিঠে, কখনো হাতে মশাল… আমি কতবার মরেছি জানো? উনিশবার!

    —বি–গ্রেড মুভি?

    —একটা বইতে দিলীপকুমার ছিল। শোনো, আমি তখন মানুষ ছিলাম না, মেয়ে ছিলাম না, ছিলাম একটা পুতুল, কিংবা পোষা জন্তুর মতন। আমাকে ওরা বলত, তুমি চেয়ারের ওপর এই ভাবে এক পা তুলে দাঁড়াও, তাতে তোমায় সেক্সি দেখাবে। এই ভাবে তুমি ভিলেনের গলা জড়িয়ে ধরো, এই ভাবে তুমি শোও, যাতে তোমার ব্রেস্ট আর হিল্স এক সঙ্গে দেখা যায়। এই ভাবে তুমি ঘাগরা উড়িয়ে ঊরু দেখিয়ে, নদীতে ঝাঁপ দাও! হ্যাঁ, বিশ্বাস করো, ওরা এই রকম বলে।

    –আন্দাজ করা শক্ত কিছু নয়।

    –তাহলে বলো, আমি ছিলাম ঐ পুরুষদের হাতের একটা খেলনা কিনা? আর কিছু না! কিংবা, তুমি বাঁদর নাচ দেখেছ?

    –তারপর তুমি বুঝি ফিল্ম ছেড়ে দিলে?

    –প্রায় সব ফিলমেই শেষ দিকে আমাকে মরে যেতে হয়। কত রকম ভাবে আমি মরেছি। গুলি খেয়ে, আগুনে জ্যান্ত পুড়ে গিয়ে, সাপের কামড়ে, নিজের হাতে বিষ খেয়ে—মরতে মরতে আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। সবাই বলত, আমার মরার সীনগুলো ভালো হয়। মফঃস্বলের দর্শকরা খুশি হয়ে হাততালি দেয়। সেই জন্য স্ক্রিপ্ট রাইটাররা আমার ডেথ সীন দেবেই দেবে। তিন বছর আগে রোহিলাখণ্ডে একটা শুটিং ছিল, পাঁচ দিনের কাজ, শেষ দিনে আমাকে ঘোড়ার পিঠ থেকে লাফিয়ে পড়ে মরতে হবে। আমি মরলুম। সেকেন্ড টেক–এই ও কে হলো, আমি পোশাকের ধুলো ঝেড়ে বেরিয়ে গেলুম সেট থেকে। তখনই ঠিক করলুম, এবারে আমি বাঁচব, নিজের মতন করে বাঁচব। সেট থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম রেল স্টেশানে। টিকিট না কেটেই প্রথম যে ট্রেন পেলাম চড়ে বসলাম তাতে। সেই দিন থেকেই রোহিলার জন্ম।

    —তুমি এই জায়গাটার খোঁজ পেলে কী করে?

    – প্রথম প্রথম ভুল করেছি অনেক। নিজের মতন করে কী ভাবে বাঁচতে হয়, সেটাই তো শিখিনি। হাতে টাকা ছিল, এ হোটেলে, সে হোটেলে থাকতাম। ড্রিংকের নেশা হয়ে গিয়েছিল, কাটাতে পারছিলাম না। তারপর ছবি আঁকতে শুরু করলাম। আঁকতে জানি না, বুঝলে, এমনিই হিজিবিজি ছবি, এখানে সেখানে ধ্যাবড়া রং দিই, তবু এঁকে যেতে লাগলাম, একটার পর একটা, মন আনন্দ পাচ্ছিলাম তাতে। ওমা, সেই ছবিই অনেকে ভালো বলতে লাগল। হোটেলের বাগানে বসে ছবি আঁকছিলাম একদিন, কৃষ্ণ আইয়ার বলে একটা লোক, আমার পেছনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে তা দেখছিল। সে হঠাৎ বলল, তোমার ছবি খুব দারুণ! একেবারে নতুন ধরনের। তুমি এক্সিবিশান করোনি? কী অন্যায় কথা!

    –তুমি তোমার আঁকা ছবি এনেছ এখানে?

    —তুমি ছবির কিছু বোঝ?

    –না, সেরকম বুঝি না। তবে ভালো ছবি দেখলে ভালো লাগে। খারাপ ছবি দেখলে আপনি আপনিই চোখটা অন্যমনস্ক হয়ে যায়।

    –না, আমার কোনো ছবি আনিনি। শোনো না, তারপর কী হলো! ঐ কৃষ্ণ আইয়ার আরো কয়েকটা লোক জুটিয়ে আনল, তারা সবাই মিলে এমন প্রশংসা করতে লাগল যে আমি একেবারে গলে গেলাম। বেশি প্রশংসা শুনলে অনেকেরই মাখা ঘুরে যায় কিনা বলো? বুঝলে, নীললোহিত, তার মানে আমি আবার পুরুষদের হাতের পুতুল হয়ে গেলাম। ঐ কৃষ্ণ আইয়ারই উদ্যোগ করে পুনেতে আমার ছবির একটা এক্সিবিশন করল। দু’তিনটে কাগজে খুব প্রশংসা বেরুল আমার ছবির। একজন ক্রিটিক লিখল, আমার মতন বোল্ড স্ট্রোক সে আগে কখনো দেখেনি। আমার কেমন যেন সন্দেহ হতে লাগল। এরকম কী হয়? ছবি আঁকা কোনোদিন শিখিনি। ভালো ভালো পেইন্টারদের আসল ছবিও দেখিনি বেশি… কিন্তু ওরা এরকম বাড়াবাড়ি করছে! একদিন সন্ধেবেলা ঐ কৃষ্ণ আইয়ার আর সেই ক্রিটিক মদের বোতল নিয়ে এলো আমার হোটেলের ঘরে। আমি ওদের মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিইনি। ওদের যত্ন করে বসালাম। গেলাস দিলাম, শুনতে লাগলাম ওদের কথা। তখন বুঝলাম, হ্যাঁ, যা সন্দেহ করেছিলাম, ঠিক তাই। ওরা এত আদিখ্যেতা করছে তার কারণ, আমি একজন মেয়ে। একা একা হোটেলে থাকি, আমার শরীরটা দেখতে খারাপ নয়…আমার শরীর বুঝলে? পরদিন আমি বিকেলবেলা আমার এক্সিবিশানে গিয়ে দেওয়াল থেকে সবকটা ছবি খুলে নিয়ে এক জায়গায় জড়ো করে দর্শকদের সামনেই তাতে আগুন ধরিয়ে দিলাম।

    —সত্যি–সত্যি?

    – আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না? গত তিন বছর আমি একটাও মিথ্যে কথা বলিনি। আগে অনেক বলেছি অবশ্য। কিন্তু সে তো গতজন্মের কথা।

    —তারপর এখানে কী করে এলে?

    —ছবিগুলোতে আগুন ধরাবার পর আমি হাপুস নয়নে কাঁদছিলাম, তখন আমারই বয়েসী একটি মেয়ে জোর করে আমাকে তার বাড়িতে ধরে নিয়ে গেল। সেই মেয়েটির নাম ভারতী পটবর্ধন। কী চমৎকার মেয়ে তোমাকে কী বলব। সে আমার বন্ধু হয়ে গেল। সে আমার সব কথা শুনে বলল, তুমি এরকম হোটেলে হোটেলে ঘুরে কী করে নিজের মতন করে বাঁচবে? হয় তুমি নিরুদ্দেশে চলে যাও কিংবা বিয়ে করে ঘর–সংসার পাতো। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলুম, নিরুদ্দেশে যারা যায় তারাও তো কোথাও না কোথাও থাকে। তারা কোথায় যায়? ভারতী তখন বলল, সবাই কোথায় যায় তা আমি জানি না। তবে কেউ কেউ যায় দিকশূন্যপুরে।

    —ঐ ভারতী কী করে জানল?

    —ভারতী নিজেও একবার নিরুদ্দেশ হয়েছিল। এখানে এসে ছিল টানা পাঁচ বছর। কিন্তু পিছুটান কাটাতে পারেনি। ফিরে গেছে। আমি ভারতীর কথা শুনে ভাবলাম, কোনো একটা জায়গায় পাঁচ বছর কাটিয়ে যদি ভারতীর মতন এরকম সুন্দর মন হয় তাহলে সেখানে আমি যাবই যাব!

    —বোধহয় তুমি ঠিক জায়গাতেই এসেছ। এখানে তোমার কোনো অসুবিধে হয়েছে এ পর্যন্ত?

    –না, সেরকম কোনো অসুবিধে হয়নি। এখানে কেউ আমার সঙ্গে কথা বলছে না বটে, কিন্তু কেউ ডিসটার্বও করে না। রাত্তিরে এসে কেউ দরজা ঠেলেনি। এরকম অভিজ্ঞতা আমার নতুন, একেবারে নতুন। এরকম জায়গা যে থাকতে পারে…তবে একটা ব্যাপারে খটকা লাগছে। বলব?

    —কী?

    —এখানে দেখছি, প্রায় সবাই সারাদিন খাবার–দাবারের চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। কেউ চাষ করছে, কেউ মুরগি কেউ হাঁস, গোরু…এইসব নিয়েই কেটে যায় দিন…কিন্তু এটা, এটার কী খুব দরকার? এটা অনেকটা প্রিমিটিভ ব্যাপার নয়? খাদ্যের চিন্তাতেই যদি দিন কেটে যায় …

    —এখানে তো অনেক লেখাপড়া জানা লোকও আছে। কিংবা এমন অনেকে, যাদের আগেকার জীবন খুব শৌখিন ছিল, তারা যখন স্বেচ্ছায় এটা করছে… হয়তো এর মধ্যে একটা অন্যরকম আনন্দ আছে। কয়েকদিন থেকে দ্যাখো।

    –তুমি গম্ভীর ভাবে এসব কথা বলছ কেন? তুমি তো এখানে থাক না বললে?

    —কী জানি, কোনোদিন হয়তো পাকাপাকি চলে আসব! তোমাকে আর একটা কথা বলতে চাই। হয়তো তোমার সত্যিই ছবি আঁকার প্রতিভা আছে। না শিখলেও ভালো ছবি আঁকা যায়। তুমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম শুনেছ?

    –কে না শুনেছে? তুমি আমাকে এত মূৰ্খ ভাবছ?

    – না, তুমি বম্বেতে থাকতে তো। সেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ছবি আঁকা কখনো শেখেননি, কিন্তু শেষ জীবনে তিনি যেসব এঁকেছেন তা অনেক বড় বড় শিল্পীর চেয়েও…

    —তিনি যে ছবিও এঁকেছেন সেটা জানতাম না।

    —এখানে বসন্ত রাও নামে একজন শিল্পী থাকে। তার কাছে তুমি একদিন কিছু ছবি এঁকে দেখাও না। সে তোমায় মিথ্যেমিথ্যি প্রশংসা করবে না।

    —আজ দুপুরে যে লোকটি ছবি আঁকছিল, তুমি যার সঙ্গে কথা বলছিলে? আমার খুব লোভ হচ্ছিল কাছে যেতে, কিন্তু সাহস হলো না, তোমরা কেউ আমার সঙ্গে কথা বললে না।

    —আমরা ভাবছিলুম, তুমিই কথা বলতে চাও না। এই রকম ভুল বোঝাবুঝিতে যে কত সময় নষ্ট হয়! যাকগে, আমি তোমার সঙ্গে বসন্ত রাও– এর আলাপ করিয়ে দেব!

    –দেবে? এখন দেবে? চলো না, যাই।

    —এখন? এখন এই অন্ধকারে তার বাড়ি চিনতে পারব না বোধহয়। কাল যাব নদীর ধারে। এখন, তুমি যদি চাও, তোমার সঙ্গে একজন ইন্টারেস্টিং মহিলার আলাপ করিয়ে দিতে পারি। তার নাম বন্দনা। তার বাড়িতেই আমি উঠেছি।

    —হ্যাঁ, তাই চলো। প্রথমে একজন মেয়ের সঙ্গে আলাপ হলেই আমার বেশি সুবিধে হবে। চলো—

    –তোমার ঐ কালো শাড়িটা বদলে নাও, প্লীজ! ওটা আমার পছন্দ হচ্ছে না। তোমার অন্য কোনো পোশাক নেই?

    —জিন্‌স আছে। এখানে ওসব পরলে কেউ কিছু মনে করবে?

    —এখানে কেউ কিছু মনে করে না!

    —তাহলে এক মিনিট সময় দাও, আমি চেঞ্জ করে নিই।

    —করে নাও, আমি বাইরে দাঁড়াচ্ছি।

    –তুমি বসে থাকলেও আমার কোনো অসুবিধে নেই। জানো তো, আমি আগে—

    —তাতে আমার অসুবিধে হতে পারে। তোমার আগের জীবনের কথা অন্যদের আর বলতে যেও না। এখানে কেউ শুনতে চায় না। তুমি তৈরি হয়ে এসো, আমি সামনের রাস্তায় আছি।

    বেরিয়ে, মনের ভুলে সিগারেট ধরাতে গিয়েও প্যাকেটটা আবার পকেটে রেখে, হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম বিজনের বাড়ির সামনে।

    অন্ধকারের মধ্যেই বিজন ওর বাড়ির চত্বরে একটা বাঁশের খুঁটি পুঁতছে। আমি কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই বিজন বলল, তুই তো অনেকক্ষণ কাটালি মহিলার সঙ্গে! কী বলল?

    আমি বললুম, উঁহুঃ, এখানকার মানুষদের তো কৌতূহল দেখাতে নেই। সেইজন্য আমি কিছুই বলব না। তবে যে–বিষয়ে তোর কোনো কৌতূহল নেই সেই বিষয়ে আমি তোকে কিছু বলতে চাই। এখানে আসবার আগে লীলা কাকিমার সঙ্গে আমার অনেকক্ষণ কথা হয়েছে। উনি তোর উধাও হয়ে যাবার ব্যাপারটা বেশ সুন্দর ভাবে মেনে নিয়েছেন। উনি বললেন, আজকাল কত ছেলে তো বিদেশে থাকে, পাঁচ বছর দশ বছরেও দেখা হয় না। তা নিয়ে কী দুঃখ করলে চলে?

    বিজন উঠে দাঁড়িয়ে হাত থেকে মাটি ঝাড়ল। চুপ করে রইল বেশ কয়েক মুহূর্ত।

    তারপর আমার বাহু ছুঁয়ে গাঢ় গলায় বলল, দ্যাখ নীলু, এখানে এসে প্রায় প্রত্যেকদিনই আমার মা–র কথা মনে পড়ে। কলকাতার আর বিশেষ কিছু আমি মনে রাখতে চাই না, মন থেকে ঝেড়ে ফেলেছি। কিন্তু মাকে প্রায় রোজই স্বপ্ন দেখি। নীলু, এখানে এসে আমি বুঝতে পারছি, ছেলেদের একটা বয়েস হলে মাকে আর তেমন প্রয়োজন হয় না, কাছাকাছি থাকলে মায়ের অস্তিত্বটাই অনেক সময় খেয়াল থাকে না। কিন্তু দূরে গেলেই মাতৃটান টের পাওয়া যায়!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আকাশ পাতাল – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }