Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Ek Pata Golpo সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প178 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিরুদ্দেশের দেশে – ৮

    ৮

    সবচেয়ে আগে ঘুমিয়ে পড়ল জয়দীপ। তার একটু একটু নাক ডাকে।

    রোহিলা একেবারেই গান গাইতে পারে না, কিন্তু গান ভালোবাসে খুব। আমি ধরিয়ে দেবার পর বন্দনাদি পর পর গান গেয়ে যাচ্ছে, একটা শেষ হতেই রোহিলা বলছে, আর একটা, আর একটা, প্লিজ!

    কত গান বন্দনাদির এখনো মুখস্থ আছে। বই–টই কিছু লাগে না। বন্দনাদির গাইবার ধরন অনেকটা ঋতু গুহর মতন, সেই রকম একই সঙ্গে সুরেলা ও জোরাল এবং কথাগুলি স্পষ্ট। নাচ আর গান, দুটোতেই সমান প্রতিভা ছিল বন্দনাদির, কোন্ অভিমানে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠার পথ তুচ্ছ করে এখানে চলে এলো, তা জানবার জন্য আমার মনটা ছটফট করে।

    রোহিলা একবার উঠে দাঁড়াতেই আমি জিজ্ঞেস করলুম, তুমি নাচবে? নাচো না, এই গানের সঙ্গে!

    রোহিলা ঠোট উল্টে বলল, দূর, আমি তো ক্লাসিকাল নাচ একটুও জানি না। ইংরিজি বাজনার সঙ্গে শরীর দোলানো নাচ খানিকটা শিখেছিলুম বটে, কিন্তু তা তো এর সঙ্গে চলবে না।

    –বন্দনাদি কিন্তু খুব ভালো নাচতে পারে।

    –ওমা, সত্যি? তা হলে একটু নাচো, বন্দনাদি, একটু নাচ দেখাও!

    গান থামিয়ে বন্দনাদি বলল, যাঃ, নাচ আমি একেবারে ভুলে গেছি! নিয়মিত প্র্যাকটিস না করলে নাচা যায় না।

    আমি বন্দনাদির হাত ধরে টেনে বললুম, নাও, ওঠো, কী রকম ভুলে গেছ, সেটাই দেখি! সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা এগুলো একবার শিখলে আর কেউ জীবনে ভোলে না। নাচও সেই রকম।

    –তুই ছাই জানিস! নাচ হচ্ছে ফ্রেঞ্চ ভাষার মতন, দু–এক বছর প্র্যাকটিস না করলেই জিভে আর সেই উচ্চারণ আসে না!

    আমার মনে পড়ল, বন্দনাদি ফ্রেঞ্চ ভাষাও শিখেছিলেন বটে! আলিয়াঁস ফ্রাঁসেজে ক্লাস করার সময় স্বরূপ রায় নামে একটি যুবক বন্দনাদিকে বিয়ে করার জন্য একেবারে পাগল হয়ে উঠেছিল। সেই স্বরূপ রায় এখনো আধ–পাগল।

    –তুমি ফ্রেঞ্চ ভুলে গেছ? স্বরূপ রায়ের কথা তোমার মনে আছে?

    —না।

    –বন্দনাদি, একটু তবু নাচ দেখাও! নাচ ছেড়ে দিলে তো শুনেছি সবাই মোটা হয়ে যায়। কই, তুমি তো মোটা হওনি। নিশ্চয়ই প্র্যাকটিস রেখেছ।

    —আমি মোটা হবো কী করে, সারা দিন এখানে খাটাখাটনি করতে হয় না? রোহিলা এসে বন্দনাদির আর একটা হাত ধরল, আমরা জোর করে ওকে টেনে দাঁড় করালুম। রোহিলা বলল, একটু না দেখালে তোমাকে ছাড়বই না।

    বন্দনাদি চোখ বুজে প্রথমে একটু চিন্তা করে নিল। দুটো হাত ছড়িয়ে তুড়ি দিতে দিতে তাল ও লয় এলো। তারপর পদক্ষেপ। তারপর ঊরুর ভঙ্গিমা। তারপর কোমর। তারপর বুক। শরীরটা মোটা না হলেও বন্দনাদির বুক দুটি ভারি হয়েছে মনে হয়। কিংবা, এখানে তো ব্রা পরে না।

    একটা পাক দিয়ে ঘুরে যেতেই ঘাঘরাটা ছড়িয়ে প্যারাসুটের মতন হয়ে গেল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে থেমে গিয়ে বন্দনাদি বলল, দেখলি, দেখলি, স্টেপিং কত শ্লো হয়ে গেছে।

    দেখেও সেরকম আমি কিছু বুঝিনি। আমার তো মনে হলো, খুব সুন্দর, আগেরই মতন। রোহিলা বলল, চমৎকার, চমৎকার। আর একটু!

    বন্দনাদি ‘আর না’ বলে বসে পড়ল। আর জোর করে লাভ নেই। বেচারি জয়দীপটা দেখতে পেল না!

    আমি জিজ্ঞেস করলুম, বন্দনাদি, তুমি সেই যে এলাহাবাদে একটা নাচের টিমের সঙ্গে গেলে…তখনই ঠিক করে নিয়েছিলে যে আর কোনোদিন কলকাতায় ফিরবে না?

    বন্দনাদি বলল, গোয়েন্দা নীলুচরণ! দ্যাখো রোহিলা, ও এখন শখের ডিটেকটিভ হয়েছে, আমাদের পেটের কথা সব বার করে নেবে। হ্যাঁরে, নীলু, তোকে যে এত বকি, তাতেও বুঝি তোর শিক্ষা হয় না?

    আমি ঠিক একই সুরে বললুম, দ্যাখ্ বন্দনা, তুই আমার কাছে কী লুকোবি? তোর অনেক কথা আমি জানি! এলাহাবাদে একজনের সঙ্গে তোর দেখা হয়েছিল, যে অফিসের কাজের ছুতো করে ওখানে গিয়েছিল, কিন্তু আসলে তোরই সঙ্গে সে নিরালায় দেখা করে…

    —চুপ! তোর এত সাহস, তুই আমাকে তুই তুই করে কথা বলছিস? আর ঐ সব বস্তাপচা পুরোনো কথা,…এতক্ষণ বেশ সুন্দর মুড হয়েছিল, তুই সব নষ্ট করে দিলি!

    রোহিলা বলল, ঠিক বলেছ! এসব কথা কেউ শুনতে চায় না! আর গান হবে না, নাচ হবে না, তাহলে আমি ঘুমোতে যাচ্ছি।

    একটুখানি সরে গিয়ে বাইরের দিকে পা করে শুয়ে পড়ল রোহিলা। বিছানার কোনো বালাই নেই। বন্দনাদির একটি মাত্র বালিশ, সেটা মাথায় দিয়েছে জয়দীপ।

    বন্দনাদি বলল, আমারও ঘুম পাচ্ছে। শুয়ে পড়লুম।

    বন্দনাদি শুয়ে পড়ল আর একদিকে। ডান কাত হয়ে মুখের ওপর হাত চাপা দিয়ে।

    আমি বসেই রইলুম। চোখে ঘুমের নাম–গন্ধ নেই, শুধু শুধু শুয়ে কী হবে? অন্য যে–কোনো জায়গা হলে এই সময় একটা সিগারেট ধরাতুম। কিন্তু এখানে সাহস হচ্ছে না। এখানে সবাই স্বাধীন, কিন্তু সিগারেটের ওপর নিষেধাজ্ঞাটা বোধহয় স্বাধীনতা–হরণের পর্যায়ে পড়ে না। যেমন কুয়োর জলে বিষ মেশাবার স্বাধীনতা কারুর নেই। মাঝ রাতে একটি মেয়ের গলা টিপে ধরার স্বাধীনতাও কারুকে দেওয়া যায় না।

    আজ দ্বিতীয়বার কেন মাদল বাজল? স্বর্গলোকে সত্যিই দৈত্যের উপদ্রব শুরু হয়েছে? আজ রাতে কি কেউ জ্যোৎস্নার বাড়ির সামনে পাহারা দেবে?

    চুপচাপ সময় কেটে যেতে লাগল। বাইরে কোনো শব্দ নেই। এখানে কোনো কুকুর নেই। এটা একটা আশ্চর্য ব্যাপার। রাস্তায় কুকুরের ডাক শোনা যায় না। এমন জায়গাও রয়েছে ভারতবর্ষে! শুধু শোনা যাচ্ছে ঘুমন্তদের নিঃশ্বাস। জয়দীপের তো অদ্ভুত চরিত্র। এরকম নিশ্চিন্তভাবে কেউ ঘুমোতে পারছে? দু দিকে দুই সুস্বাস্থ্যবতী তরুণী, তার মাঝখানে ঘুমোনো যায়? আমার দ্বারা তো সম্ভব না কিছুতেই। সারা রাত গল্প করা যেতে পারে, কিন্তু পাশাপাশি শুয়ে থাকা…না, আমি শুকদেব নই।

    তার থেকে একটু হেঁটে এলে মন্দ হয় না। কিংবা সেই গির্জাটার মধ্যে একা একা ঘুমোবার চেষ্টা করলে কেমন হয়?

    আমি উঠে পড়লুম। বাগানটা পার হবার আগেই বন্দনাদি ডাকল, এই নীলু কোথায় যাচ্ছিস? এই নীলু!

    আমি কোনো উত্তর না দিয়ে হাত নেড়ে বোঝাবার চেষ্টা করলুম যে চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু বন্দনাদি তা বুঝল না, ধড়মড় করে উঠে প্রায় ছুটে চলে এলো। আমার হাত ধরে বলল, রাগ হয়েছে বুঝি বাবুর? আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়া হচ্ছে!

    আমি ফিরে দাঁড়িয়ে বললুম, তুমি ঘুমোওনি?

    –তুই শুয়ে পড়ছিস না দেখে আমারও ঘুমটা ঠিক আসছিল না!

    –বন্দনাদি, আজ তোমাকে ঐ কথাটা ঐরকমভাবে বলা আমার ঠিক হয়নি। আমার মাথাতেও বোধহয় মাঝে মাঝে পাগলামি চাপে। ভাবলুম, তোমাকে একটা আঘাত দিয়ে তোমার মুখ থেকে কথা বার করব।

    —তোরা সব সময় গল্প মেলাতে চাস, তাই না? কিন্তু সকলের জীবনে কি আর রোমহর্ষক গল্প থাকে? অনেকের জীবন সাদামাটাও হয়। মনের খেয়ালে এমনিই কেউ কেউ বাড়ি ছেড়ে চলে আসে। এর মধ্যে গল্পের কী আছে?

    –তোমার জীবন মোটেই সেরকম নয়। তোমার ব্যাপারটা এমনই রোমাঞ্চকর যে প্রায় অবিশ্বাস্য। সবটা জানি না, অনেকটাই রহস্যে ঢাকা, সেইজন্যই কৌতূহল এত বেশি।

    —জানতেই হবে, তার কি কোনো মানে আছে, চল, শুয়ে পড়বি চল।

    — আমার এখন ঘুম আসছে না। বড্ড গরম লাগছিল। বৃষ্টি তো থেমে গেছে, আমি একটু হেঁটে আসি।

    –তুই একা একা যাবি?

    –তুমি যাবে আমার সঙ্গে?

    —আমি? আমি গেলে তোর ভালো লাগবে? তুই বরং রোহিলাকে ডাক। ওকে নিয়ে বেড়াতে যা। ও মেয়েটা বড্ড প্রেম করতে চাইছিল। এখানে কিন্তু সত্যি ভয়ের কিছু নেই। জ্যোৎস্না নামের মেয়েটির কাল সত্যি কী হয়েছিল, পুরোটা তো জানা হলো না। হয়তো অন্য কোনো ব্যাপার আছে। নইলে এখানে কেউ গলা টিপে ধরবে, আমার সত্যি বিশ্বাস হয় না। তুই দাঁড়া, আমি রোহিলাকে ডেকে দিচ্ছি! আমি বন্দনাদির হাত চেপে ধরে কড়া গলায় বললুম, শোনো, আমি কলকাতা থেকে এখানে কোনো মেয়ের সঙ্গে প্রেম করতে আসিনি। কলকাতায় মেয়ের অভাব নেই। আমি এত দূরে আসি, শুধু তোমাকে দেখবার জন্য।

    বেশ কয়েক মুহূর্ত অপলক ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে রইল বন্দনাদি। তারপর অস্ফুট ভাবে বলল, তুই আমাকে সত্যিই ভালোবাসিস, নারে নীলু? আমারই বুঝতে ভুল হয়।

    একটু থেমে, আমার কাঁধে হাত রেখে আবার বলল, আমি ভেবেছিলুম রোহিলাকে তোর খুব পছন্দ হয়েছে।

    –অপছন্দের কোনো কারণ নেই। কিন্তু সেটা অন্য কথা!

    —ঠিক। চল, একটু হাঁটি।

    বাগান থেকে বেরিয়ে কিছুটা পথ পার হবার পর আবার থমকে দাঁড়িয়ে বন্দনাদি বলল, এর মধ্যে দু’বারই তুই আমাকে রূপসার খবর এনে দিয়েছিস। এক হিসেবে তোর জন্যই আমি এখানে থাকতে পারছি। এতদিন রূপসার কোনো খবর না পেলে আমি বোধহয় থাকতে পারতুম না। রূপসাকে দেখবার জন্য ছুটে যেতুম, আর ফেরা হতো না। পরশু রূপসাকে স্বপ্ন দেখলুম, তারপর কাল সারাদিন মনটা খুব খারাপ হয়ে ছিল, আজই তুই এসে পৌঁছে গেলি। কী আশ্চর্য না!

    –আমি শুধু রূপসার খবর আনিনি। ওর একটা ছবিও এনেছি।

    —অ্যাঁ? ছবি? এখনকার? কই? কোথায় সেই ছবি? এতক্ষণ বলিসনি কেন?

    —আমার ঝোলার মধ্যে আছে। ফিরে গিয়ে দেখাব! ছবিটা কী করে পেলাম জানো? তপেশদার বসবার ঘরের টেবিলে একটা ফ্রেমে বাঁধানো গ্রুপ ছবি ছিল। তপেশদা একবার ভেতরে যেতেই আমি সেটা টপ করে পকেটে ভরে নিয়েছি। পরে ওরা ছবিটা খোঁজাখুঁজি করবে নিশ্চয়ই, কিন্তু আমি সাধারণ একটা ফ্যামিলি গ্রুপ ছবি চুরি করতে পারি, এটা ওরা ঘুণাক্ষরেও সন্দেহ করবে না।

    —পাগল ছেলে একটা। তুই আমার জন্য এত সব করতে গেলি? কেন রে?

    –তোমাকে ভালোবাসি বলে।

    —তুই সেই ছোট বয়েস থেকেই আমায় খুব ভালোবাসিস, আমি জানি, কিন্তু আমারই মনে থাকে না। আমি তোকে বকুনি দিই!

    —আকাশের মতন ভালোবাসার রং–ও পাল্টায়। ছোটবেলায় আমি ছিলাম তোমার ভক্ত। তোমার হাসি, তোমার কথা বলা, সব কিছুই ছিল অন্য রকম। বড় হবার পর আমি ঠিক আর ভক্ত থাকিনি, অন্য কিছু, তবে তোমার কাছাকাছি যাইনি। দূর থেকে লক্ষ্য করতুম। তুমি যে হঠাৎ একদিন অদৃশ্য হয়ে যাবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। বন্দনাদি, সেদিন আমি কেঁদেছিলাম, খুব কেঁদেছিলাম, তোমার কাছে এখন স্বীকার করতে লজ্জা নেই। তোমার জন্যই আমি অনেক কষ্টে এই দিকশূন্যপুর খুঁজে বার করেছি।

    — নীলু?

    বন্দনাদি আর কিছু না বলে আমাকে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরল। আমার চুলে হাত ডুবিয়ে বলতে লাগল, নীলু, তুই এত ভালো…।

    এসবই স্নেহের অভিব্যক্তি। আমার ঠিক পছন্দ হলো না। না চাইতেই আমি জীবনে অনেক স্নেহ পেয়েছি বলেই বোধহয় আমি স্নেহের মর্ম বুঝি না। স্নেহের চেয়েও খানিকটা চড়া ধরনের কিছুর প্রতি আমার আকর্ষণ। আমার নিজের কোনো দিদি নেই, তাই পৃথিবীর কোনো রমণীকেই আমি দিদি ভাবে দেখি না।

    আমি বন্দনাদির আলিঙ্গন মুক্ত হয়ে মাথাটা সরিয়ে নিলাম। তারপর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তার কোমরে বাঁ–হাত রেখে ডান হাত রাখলুম তার বুকে। এটা আমার প্ৰতিবাদ।

    বন্দনাদি কোনো আপত্তি করল না, সরে গেল না, স্থির ভাবে তাকিয়ে রইল আমার দিকে। হু–হু করে পল–অনুপল কেটে যেতে লাগল। পৃথিবী যে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে তা এখন টের পাচ্ছি। অন্তরীক্ষে বেজে চলেছে নিস্তব্ধতার এক বিশ্বসঙ্গীত।

    বন্দনাদির বুকে আমি হাত রেখেছি বটে কিন্তু চাপ দিইনি। যেন একটা পায়রার গা। আমার হাত থেমে আছে, কিন্তু আমার শরীর দুলছে।

    এক সময় বললুম, বন্দনাদি, তোমায় একটু আদর করব? বলতে গিয়ে আমার গলা কেঁপে গেল।

    বন্দনাদি তার বুকের ওপর রাখা আমার হাতটা ধরে নিজের গালে ছোঁয়াল। আস্তে আস্তে বলল, আমায় এইখানে আদর কর, নীলু! হয়তো আমি তোকে ঠিক বোঝাতে পারব না।

    ––আমি বুঝেছি!

    বন্দনাদির গালে হাত বুলিয়ে দিতে গিয়ে দেখলুম তার চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে। সেই অশ্রু মুছে দিতে দিতে বললুম, আমি তোমায় দুঃখ দিয়েছি? তুমি এত সুন্দর, তাই তোমাকে না ছুঁয়ে পারা যায় না।

    —না–না, দুঃখ নয়। তুই এসেছিস, সে জন্য আমার যে কী অদ্ভুত আনন্দ হচ্ছে, তা ঠিক মুখে বলা যায় না।

    ঝট করে আমাকে আবার জড়িয়ে ধরে বন্দনাদি আমার ঠোঁট খুঁজল। তারপর একটা উষ্ণ, গভীর পরিপূর্ণ চুম্বন দিল।

    ফের নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ঝলমলে ভাবে হেসে বলল, এবারে পছন্দ হয়েছে?

    -এর চেয়ে বেশি কিছু পাবার কথা আমি কল্পনাই করিনি!

    —দ্যাখ মেঘ কেটে গেছে, সুন্দর জ্যোৎস্না ফুটেছে। ওরা ঘুমোচ্ছে ঘুমোক, আমরা একটু বেড়িয়ে আসি। ঘুম পাচ্ছে না একটুও।

    দু’জনে হাতে হাত ধরে, গা ঘেঁষাঘেঁষি করে হাঁটতে লাগলুম। টিলা থেকে খানিকটা নেমে একটা বেশ চওড়া পাথর চোখে পড়ল। এখানে বসলে সামনে একেবারে খোলা উপত্যকা দেখা যায়।

    সেই পাথরটার কাছে এসে বন্দনাদি বলল, এখানে আমি প্রায় রাত্তিরেই এসে একা একা বসে থাকি। এখানে এসেই কেন জানি না পুরোনো সব কথা মনে পড়ে। ওপরে নিজের বাড়িতে কিন্তু অতটা মনে পড়ে না।

    –এসো, এখানে একটু বসা যাক। তোমাদের এখানে বেশ মজা আছে, রাত জাগলেও ক্ষতি নেই, পরের দিন তো কাজে যেতে হবে না।

    —আসলে খুব বেশি ঘুমের দরকার হয় না। সারা দিনে–রাতে ভাগ ভাগ করে পাঁচ ছ’ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিলেই হয়। তুই এখানে কিছুদিন থাকলে বুঝতে পারবি, মানুষের প্রয়োজন কত কম। সিগারেট, মদ, পারফিউম, লিপস্টিক, সাবান, টুথপেস্ট এসব কোনোটারই দরকার হয় না। তাতেও অনেক আনন্দ পাওয়া যায়।

    —তা জানি। কিন্তু একবার এসবে অভ্যেস হয়ে গেলে ছাড়তে পারাটা যে খুব কঠিন।

    –সবচেয়ে পুরোনো অভ্যেস হচ্ছে নিজের বাড়ি। সেটা যে ছাড়তে পারে, তার পক্ষে অন্য কিছুই ছাড়া কঠিন নয়।

    -একটা কথা জিজ্ঞেস করব, বন্দনাদি? শরীরের কিছু কিছু দাবি থাকে, তাও কি তোমরা বাদ দিয়েছ?

    –না–না, তা বাদ দেব কেন? যার যা ইচ্ছে হবে, তা বাদ দেবার তো কোনো প্রশ্নই নেই। আমার ব্যাপারটা তোকে বলি, যে–কোনো কারুর সঙ্গে শারীরিক মিলন, আমার একদম পছন্দ হয় না। ও জিনিসটাকে আমি পবিত্র মনে করি, সত্যিকারের কারুর সঙ্গে মনের মিল হলেই তবে ওটা ভালো লাগে। তা বলে আমার কোনো শুচিবাই নেই। কেউ আমার গায়ে একটু হাত রাখলেই আমার গা ক্ষয়ে যায় না। কারুর কারুর এ রকম থাকে। এই জয়দীপের কথাই ধর না। ওর আগেকার জীবনে কী ছিল, আমি জানি না, কিন্তু ও মেয়েদের স্পর্শ সহ্য করতে পারে না। আমি একদিন এমনিই হালকা ভাবে ওকে একটু চুমু খেতে গিয়েছিলাম, ও মাথা সরিয়ে নিয়ে বলেছিল, না, না, না, না!

    –আমি ভুল ভেবেছিলাম। আমার ধারণা হয়েছিল, জয়দীপ তোমার প্ৰেমিক!

    —জয়দীপকে আমি প্রেমিক হিসেবে চিন্তাই করতে পারি না। তবে আমি বন্ধু হিসেবে ওকে সাহায্য করতে চাই।

    —অতবড় চেহারার মানুষটা, কিন্তু খুব অসহায় মনে হয়।

    —এখানে এসে অনেককে দেখছি তো? প্রথম প্রথম যাদের খুব অস্বাভাবিক মনে হয়, যাদের মন খুবই অস্থির কিংবা অসুস্থ, তারাও আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে আসে। এই জায়গাটার একটা গুণ আছে ঠিকই। মানুষের উন্নতি আর অবনতির মূল কারণ কিন্তু একটাই। প্রতিযোগিতা! এই প্রতিযোগিতায় দু’ একজনই তো মাত্র জেতে। আর যারা হেরে যায়? তাদের সংখ্যাই তো বেশি, তারা সবাই ওটা ঠিক মেনে নিতে পারে না। তাদের কারুর কারুর কেন্দ্র নড়ে যায়। আমাদের এখানে কোনো প্রতিযোগিতা নেই। তাই আমরা সবাই সুখী।

    –প্রতিযোগিতার বদলে এখানে সহযোগিতা।

    —ঠিক তাই। আচ্ছা নীলু, তুই যে তখন বললি, এলাহাবাদে আমার সঙ্গে একজনের দেখা হয়েছিল, সে অফিসের কাজের ছুতো করে এসেছিল, সে কে তা তুই জানিস?

    —হ্যাঁ জানি। দীপক নামে আমার এক বন্ধু বলেছে, সে তোমাদের দু’জনকেই এলাহাবাদে দেখেছিল।

    – আমি যেখানে যেখানে মিউজিক কনফারেন্সে যেতাম, সেখানেই সে যেত, তাও কি তুই জানিস?

    –আন্দাজ করতে পারি।

    –তোকে আমি এখন যা বলব, তুই পৃথিবীর আর কারুকে তা বলবি না, বল?

    —আমি কী প্রতিজ্ঞা করব বলো? তোমার পা ছুঁয়ে?

    –না, অত ভক্তির দরকার নেই। আমার হাত ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা কর।

    আমি বন্দনাদির দুটি হাত তুলে এনে আমার ঠোটে ছোঁয়ালুম। তারপর বললুম, গোপনীয়তা একটা বিরাট কঠিন বোঝা, সারা জীবন একা একা বহন করা যায় না।

    বন্দনাদি সামনের অন্ধকারের দিকে চেয়ে যেন ছায়াছবি দেখছে এইভাবে বলল, তোরা জানিস, আমার অনেক বন্ধু ছিল, আমি খোলামেলাভাবে মিশতাম। ফাস্ট লাইফের দিকে আমার ঝোঁক ছিল, গাড়ি করে হঠাৎ ডায়মণ্ডহারবার যাওয়া কিংবা কোনো ফাংশান শেষ হবার পর সারারাত এয়ারপোর্ট হোটেলে…অনেকে ভাবত আমি বুঝি ছেলেদের সঙ্গে যা–খুশি তাই–ই করি।

    – না, তা ভাবত না কেউ। বরং সবার ধারণা ছিল, তুমি সহজভাবে মিশলেও কিছুতেই ধরা দিতে চাও না।

    —তুই কী করে জানলি?

    -আমি তো তোমার প্রেমিক ছিলাম না, কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসতাম। এই ভালোবাসার তুমি যে নামই দাও! আমি দূর থেকে সব সময় লক্ষ করতাম তোমাকে।

    —আমি যখন বাইরে যেতাম, তখন তুই দেখতে পেতিস না আমাকে।

    —তা পেতাম না অবশ্য। স্বরূপ রায় তোমার সঙ্গে বাইরেও যাবার চেষ্টা করত অবশ্য।

    –না–না, স্বরূপ কেউ নয়, ও তো একটা পাগল। একবার বেঙ্গালোরে একটা অনুষ্ঠান করার সময় দেখি, দর্শকদের মধ্যে থার্ড রো–তে একজন বসে আছে। আমার খুব চেনা। তিনি অফিসের কাজে ওখানে গিয়েছিলেন, হঠাৎ আমার অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে দেখতে এসেছিলেন। আমি চমকে গেছিলাম, খুব ভালোও লেগেছিল।

    –তপেশদা!

    —তুই জানিস! বলিস না, প্লীজ, লক্ষ্মীটি, কারুকে বলিস না।

    – না, বলব না। তারপর?

    —তপেশদা সব সময় ভালো হোটেলে ওঠে। আমাকে ডেকে নিয়ে ডিনার খাওয়ালেন। পরের মাসে একটা অনুষ্ঠান ছিল জামশেদপুরে। সেখানেও দেখলুম তপেশদাকে। জোর দিয়ে বললেন, সেখানেও অফিসের কাজেই এসেছে। কিন্তু শান্তিনিকেতনে ওর অফিসের কী কাজ থাকতে পারে? সেখানে তপেশদাকে দেখে জিজ্ঞেস করেছিলুম, একী? তপেশদা বলল, আমার আসল কাজ ছিল দুর্গাপুরে, তোমার অনুষ্ঠানের একটা পোস্টার দেখে এই পর্যন্ত চলে এলাম। তোমার প্রত্যেকটা অনুষ্ঠানই আমার দেখতে ইচ্ছে করে।

    —অপর্ণাদিকে উনি জানিয়েছিলেন কী?

    —তখন আমি বাবা–মায়ের সঙ্গে থাকি। দিদির বাড়িতে তো আর রোজ যাই না। প্রথমবার বেঙ্গালোরে ষে তপেশদার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, সে কথা আমি নিজেই দিদিকে বলেছি। পরেরগুলো তপেশদা জানিয়েছিলেন কি না, তা তো আমি জানি না। তপেশদার সেলস–এর চাকরি, নানান জায়গায় যেতেই হয়। আমার জামাইবাবু আমার অনুষ্ঠান সম্পর্কে এত আগ্রহী তা জেনে আমার ভালো লাগবে না? তখন তো আমি মশগুল হয়ে ছিলাম। তপেশদা চমৎকার মানুষ, হৈ চৈ ভালোবাসেন, ওঁর চেনাশুনোর সংখ্যা অনেক, অচেনা জায়গায় ফাংশান করতে গেলে উনি অনেক হোমরা–চোমরা লোকদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিতেন। তপেশদার উৎসাহেই আমার প্রথম রেকর্ড বেরোয়। বাইরের শহরে তপেশদা আমাকে হোটেলে নিয়ে খাওয়াতেন, তখন আমি ড্রিংক করতাম, সিগারেট খেতাম, তুই তো জানিস তপেশদা আদর করে আমায় জড়িয়ে ধরতেন, গালে চুমু খেতেন, জামাইবাবু এরকম করতেই পারে। একদিন আমাদের দু’জনেরই একটু নেশা হয়ে গিয়েছিল, তপেশদা আমাকে বিছানায় শুইয়ে দিলেন, তারপর আদর করতে করতে—ঐ ব্যাপারটা হয়ে গেল।

    –সেই জায়গাটা কোথায়?

    —হ্যাঁ, জায়গাটি ইম্পর্ট্যান্ট। সেবারে ফাংশান করতে গিয়েছিলাম শিলং–এ। ফাংশন খুব ভালোভাবে হয়ে গেল, তপেশদা আমাকে নিয়ে বেড়ালেন খানিকক্ষণ, রেস কোর্সের দিকে গিয়েছিলাম, কী চমৎকার লাগছিল, শীত ছিল না বেশি, হাওয়া দিচ্ছিল, তারপর বৃষ্টি নামল, আমরা হোটেলে চলে এলাম। ব্র্যান্ডিতে চুমুক দিতে দিতে জানলা দিয়ে বৃষ্টি দেখা…

    দৃশ্যটা ভেসে উঠল আমার চোখের সামনে। নাচের অনুষ্ঠান থাকলে বন্দনাদি দারুণ সাজগোজ করত। অনুষ্ঠান ভালো হয়েছে,তাই মনটা খুশির চাঞ্চল্যে ভরা, তারপর তপেশদার সঙ্গে বেড়ানো, পটভূমিকায় শিলং–এর বিখ্যাত সৌন্দর্য, হোটেলে এসে ব্র্যাণ্ডি পান…এই রকম একটা সন্ধের জন্যই জীবনটা বদলে যেতে পারে।

    বন্দনাদি বলল, প্রথমে আমি ঘটনাটাকে গুরুত্ব দিইনি খুব বেশি। সকালে উঠে কান্নাকাটি করেছিলুম বটে কিন্তু এটাও বুঝেছিলুম, আগে থেকে ঠিকঠাক করে তো কিছু হয়নি। এমনিই এক রাত্রির মাদকতা! ছোড়দিকে আমি খুবই ভালোবাসি, ছোড়দি জানতে পারলে দুঃখ পাবে, তপেশদার ওপরেই বেশি রাগ করবে, তাই ঠিক করলুম, একেবারে কিছু না বলাই ভালো। কিন্তু তপেশদাই পাপ বোধে ভুগতে লাগল। ওর ধারণা হলো, আমার খুব ক্ষতি করে দিয়েছে, সেটা শোধরাবার দায়িত্বও ওর। যখন বোঝা গেল যে আমি প্রেগন্যান্ট তখন তপেশদা বলল, আমাকে বিলেতে পাঠিয়ে দেবে, সেখান থেকে কিউরেট করে…। তাতেই আমার জেদ চেপে গেল। আমি কি নিজের দায়িত্ব নিতে পারি না? যা হয়ে গেছে, তাতে আমারও তো সমান দায়িত্ব ছিল! আমি জীবনে একটা পিঁপড়ে পর্যন্ত মারিনি, আর একটা মনুষ্যপ্রাণ, আমার প্রথম সন্তান, তাকে মেরে ফেলব। কোনো আর্টিস্ট তা পারে?

    —তুমি তো বিলেতেই গিয়েছিলে?

    —বিলেতে নয়, ক্যানাডায়। সেখানে তপেশদা পাঠাননি, আমি নিজেই একটা কোর্স করতে গিয়েছিলাম। এক বছর বাদে আমি রূপসাকে কোলে নিয়ে ফিরলে সবচেয়ে বেশি চমকে গিয়েছিল তপেশদা। সবাই ভাবল, ক্যানাডায় আমার বিয়ে হয়েছে, সেখানে আমার স্বামী আছে। আমি মিথ্যে কথা বলি না, আমি জানিয়েছিলুম যে ক্যানাডায় আমার স্বামী নেই। তখন সবাই ভাবল, ওখানে আমার বিয়ের পরেই ডিভোর্স হয়ে গেছে।

    –তুমি ক্যানাডা থেকে ফিরে এলে কেন?

    —কারণ কলকাতাই ছিল আমার নিজস্ব জায়গা। আমার নাচ ও গানের জগৎ তো কলকাতাকে ঘিরেই। ক্যানাডায় থেকে কী করব!

    —তখন তুমি বাবা–মায়ের কাছ থেকে চলে এসে পার্ক সার্কাসে আলাদা ফ্ল্যাট নিয়ে থাকতে। তখনও তোমার অনেক অ্যাডমায়ারার ছিল। আচ্ছা বন্দনাদি, তুমি তো তারপরেও কারুকে বিয়ে করতে পারতে। আজকাল ডিভোর্সি মেয়েদের, একটি–দুটি বাচ্চা সমেত তো বিয়ে হয় দেখেছি।

    —সেটা ভেবে দেখা যেত। বিয়ে না করলেই বা ক্ষতি কী ছিল? তখন আমি নিজে রোজগার করছিলাম, ভেবেছিলাম রূপসা একটু বড় হলে ওকে হস্টেলে পাঠিয়ে আমি গান–বাজনা নিয়েই থাকব। ঐসবের দিকেই তো খুব ঝোঁক ছিল। কিন্তু, সব গণ্ডগোল করে দিল তপেশদা। ওঃ কী কষ্ট যে পেয়েছি তখন, তুই বুঝবি না, কেউ বুঝবে না। রূপসার যখন আড়াই বছর বয়েস, তখন আমি আবার একটা ফাংশান করতে গেলাম পাটনায়। মাঝখানে অনেক দিন যাইনি। সেই পাটনাতেও গিয়ে দেখি সেখানে তপেশদা উপস্থিত। আমার রাগও হলো, দুঃখও হলো। আমি বললুম, তুমি এ কী করছ, তপেশদা! আগে যা হয়ে গেছে তা হয়ে গেছে, কিন্তু এখন তুমি এরকম বাড়াবাড়ি করলে সব জানাজানি হয়ে যাবে! তপেশদা কিছুতেই শুনবে না। তার তখন ঠিক পাগলের মতন অবস্থা। নেশাও করছে খুব। আমার তখন কী করার ছিল বল তো? আমি কি আমার নিজের ছোড়দির সংসার ভাঙব? ছোড়দির সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল, কোনোদিন ঝগড়া হয়নি! আমি সেই ছোড়দির সর্বনাশ করতে পারি? তাছাড়া, তপেশদার সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে আসার বিন্দুমাত্র ইচ্ছেও আমার মনে জাগে নি। আর এটা এমনই ব্যাপার যে অন্য কারুর কাছে সাহায্যও চাওয়া যায় না। তপেশদা আমার বারণ শুনল না, বাইরের সব ফাংশানে আসতে লাগল। তখন আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হলো। এলাহাবাদে যাবার সময়েই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেই গিয়েছিলুম, সেখানেও যদি তপেশদাকে দেখি, তাহলে আমি আর ফিরব না। আমার মেয়ে ছোড়দির কাছে ভালোই থাকবে। ছোড়দি তাকে নিজের মেয়ের মতনই দেখবে, তপেশদাও অযত্ন করতে পারবে না। আমার যা হয় তা

    —এলাহাবাদ থেকে তুমি অদৃশ্য হয়ে গেলে। তারপর এখানে কী করে এলে? এই জায়গাটার কথা তুমি আগে জানতে?

    –না, জানতুম না। অনেক ঘুরতে ঘুরতে এখানে এসে পৌঁছেছি। এই জায়গাটায় তো সহজে আসা যায় না, দিকশূন্যপুরকে আবিষ্কার করতে হয়। তবে এখানে যারা আসে, তারা অনেক দুঃখে পুড়ে খাঁটি হয়ে আসে।

    —এখানে এলে সবারই পিছুটান চলে যায়?

    —সবার যায় কি না জানি না। কেউ কেউ তো ফিরেও যায় দেখেছি। কিন্তু আমার আর একটুও পিছুটান নেই। লোকে আমাকে ভালো বলবে, নাচ–গানের জন্য খ্যাতি হবে, এই মোহটা যে একদম চলে গেছে, এখন একলা জঙ্গলের গাছপালাকে গান গেয়ে শোনাই, তাতেও ভালো লাগে।

    —কিন্তু রূপসা, রূপসার জন্য টান নেই!

    ও হ্যাঁ, তোকে ভুল বলেছি, ঐ একটা পিছুটান এখনো আমার রয়ে গেছে এক এক সময় বুক টনটন করে, মনে হয় ছুটে যাই। রাত্তিরে ঘুম ভেঙে উঠে বসি, ফাকা বুকটার কাছে দু’হাত এনে ওকে আদর করি। রূপসা হয়তো একদিন– আমাকে ভুলে যাবে, কিন্তু আমি যে ওকে কিছুতেই ভুলতে পারব না!

    একটু থেমে বন্দনাদি আবার বলল, তপেশদার ওপর এখন আমার একটুও রাগ নেই। তপেশদার জন্যই তো আমি শেষ পর্যন্ত এখানে এসে পৌঁছেছি, আগেকার জীবনের চেয়ে এখানে অনেক বেশি সুখে আছি।

    –হয়তো তপেশদা এখনো কষ্ট পাচ্ছে। বাইরে থেকে দেখলে বোঝা যায় না, নিজেকে আজকাল সব সময় কাজেকর্মে ব্যস্ত রাখেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে কষ্ট আছে নিশ্চয়ই।

    – অনেক মানুষ কষ্ট পাবার জন্য কষ্ট তৈরি করে। এখানে ওসব বালাই নেই। কেউ অকারণে নিজেও কষ্ট পায় না, অন্যকেও কষ্ট দেয় না!

    —তা হলে জ্যোৎস্নার ব্যাপারটা?

    —ওটা শুনে আমি সত্যিই আশ্চর্য হয়েছি। ভালো করে জানতে হবে। ঠিক এ সময় একটা আর্তস্বর শুনতে পেলাম। নারী কণ্ঠ, বন্দনাদির বাড়ি থেকে। ওখানে জয়দীপ আর রোহিলা ‘শুয়ে আছে।

    শব্দটা একবার হয়েই থেমে গেল। বন্দনাদি তাকাল আমার চোখের দিকে। তারপর কেউ কিছু না বলে দ্রুত পা চালালুম।

    ওপরে এসে দেখলুম, জয়দীপ তখনও শুয়ে আছে পাশ ফিরে, একটু দূরে বসে আছে রোহিলা, দু’হাতে মুখ ঢাকা।

    আমরা কাছে যেতেই রোহিলা বলল, তোমরা কোথায় চলে গিয়েছিলে আমার ভয় করছিল খুব। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল…

    আমি জয়দীপের দিকে তাকাতেই রোহিলা আবার বলল, ওঃ, কী ঘুম ঘুমোতে পারে, আমি ডাকলুম, তাও উঠল না!

    বন্দনাদি জিজ্ঞেস করল, তুমি চেঁচিয়ে উঠলে কেন?

    —একটা খুব খারাপ স্বপ্ন দেখলুম। একটা মস্ত বড় দাঁড়িপাল্লা, তার একদিকে আমাকে বসানো হয়েছে, আমার গায়ে কোনো জামাকাপড় নেই, আর অন্যদিকে অনেক টাকা আর শিশি–বোতল। কয়েকজন লোক মিলে আমাকে ওজন করে বিক্রি করে দিচ্ছে। লোকগুলোকে আমি চিনি। ওরা আমাকে আগেও কয়েকবার বিক্রি করে দিয়েছে। কেন এই স্বপ্নটা দেখলুম? বন্দনাদি, ওরা আবার এখানে আসবে না তো? আমাকে ধরে নিয়ে যাবে না তো?

    রোহিলার মুখে সত্যিকারের ব্যাকুলতা দেখে বন্দনাদি এগিয়ে গিয়ে ওর মাথায় হাত রেখে বলল, যাঃ পাগল।! এখানে ওরা কেউ আসবে না। ঐসব খারাপ লোক দিকশূন্যপুরের সন্ধান কোনোদিনই পাবে না!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আকাশ পাতাল – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }