Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Ek Pata Golpo সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প178 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিরুদ্দেশের দেশে – ১০

    ১০

    নদীর ধারে আজ বেশ জনসমাগম হয়েছে। গরম পড়ে গেছে যথেষ্ট। আমরা একটা নির্জন জায়গা খুঁজতে লাগলাম। মাঝে মাঝে বড় বড় পাথরের চাঁইতে নদীটা অনেক জায়গায় আড়াল হয়ে আছে। সেরকম একটা পাথরে হেলান দিয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল জয়দীপ।

    ডান দিক ধরে খানিকটা হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ল একটা ঝুপসি গাছতলায় আজও ক্যানভাস সাজিয়ে এক মনে ছবি এঁকে চলেছে বসন্ত রাও।

    ওর সঙ্গে রোহিলার আলাপ করিয়ে দেব বলেছিলাম।

    আমরা আস্তে আস্তে গিয়ে দাঁড়ালাম বসন্ত রাও–এর পেছনে। ভ্যান গগের সাইপ্রেস গাছের ছবির মতন কয়েকটি দেবদারু গাছের অবয়ব ফুটে উঠেছে ক্যানভাসে। তার ওপরে কি গ্রহণ–লাগা সূর্য?

    বেশ কয়েক মিনিট আমাদের উপস্থিতি টেরই পেল না বসন্ত রাও। শিল্পচর্চাও গভীর ধ্যানের মতন, চার–চারজন মানুষের নিঃশ্বাস ওর গায়ে লাগছে, তবু হুঁশ নেই

    বন্দনাদি চোখের ইশারায় আমাকে বলল, এখন ডাকিস না!

    মুনি–ঋষিদের ধ্যানভঙ্গ করালে তাঁরা অভিশাপ দিতেন। শিল্পীদের কাছে সে ভয় নেই। তাছাড়া আমি শিল্পীদের একটু একটু চিনি, দুটি রূপসী যুবতীকে দেখলে যে–কোনো শিল্পীই খুশি মনে কাজ বন্ধ করতে পারে!

    ঠিক যা ভেবেছি তাই, ওর নাম ধরে ডাকতেই মুখ ফেরাল, আমাদের চারজনের মধ্যে বেছে বেছে ও বন্দনাদি ও রোহিলাকে দ্রুত দেখে নিল, রোহিলার মুখে একটু বেশি কৌতূহলী দৃষ্টি ফেলল, তারপর হাসি মুখে বলল, কী ব্যাপার, পুরো একটা ডেলিগেশান! আমার ছবি দেখতে নাকি? আমি কৃতাৰ্থ

    বন্দনাদি বলল, বসন্ত রাও, তুমি নীহারদার খবর শুনেছ?

    হাত থেকে তুলিটা নামিয়ে রেখে সে বলল, আমি কাল রাত্রে মাদলের ডাক শুনে জ্যোৎস্নার বাড়িতে গিয়েছিলাম। জীবন কী মধুময়, বলো, বন্দনা? জ্যোৎস্না মেয়েটি ধন্য, তার জন্য একজন মানুষ মৃত্যুকে অস্বীকার করেছে!

    আমি বললুম, আমরা এই মাত্র দেখে আসছি, নীহারদা ভালো আছেন। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন!

    বসন্ত রাও বলল, নীহারদা এখন মরে গেলেও ক্ষতি নেই। একটি চুম্বনের জন্য সে মৃত্যুশয্যা থেকে উঠে এসেছিল, এইটুকুই যথেষ্ট। দুঃখের বিষয় আমাদের এখানে একজনও কবি নেই, তা হলে এই কাহিনীটা লিখে অমর করে রাখতে পারত! নীললোহিত, তুমি কি কবি?

    আমি দু’দিকে মাথা নেড়ে বললুম, নাঃ!

    বন্দনাদি বলল, বসন্ত রাও, তুমি তো এই ঘটনা নিয়ে একটা ছবি আঁকতে পার! আমরা সেই ছবি গির্জার গায়ে টাঙিয়ে রাখব!

    বসন্ত রাও বলল, তোমার অনুরোধ আমি অবশ্যই মান্য করতাম, বন্দনা, যদি আমার সে ক্ষমতা থাকত। কিন্তু আমি তো মনুষ্য–মুখ আঁকি না, কোনো গল্প আঁকতে পারি না, আমি শুধু ল্যাণ্ডস্কেপ করি।

    বন্দনাদি বলল, হ্যাঁ, তা তো ঠিক। তোমার যত ছবিই আমি দেখেছি, সবই গাছপালা আর পাহাড়–পর্বত নিয়ে।

    বসন্ত রাও বলল, আমি কবিতা লিখতে পারি না, কিন্তু কাল রাতে আকাশ– প্রিয়া জ্যোৎস্নার বাড়িতে মহাকাশের মতন নীহারদাকে দেখে আমার চেনা একটি কবিতার কয়েকটি লাইন মনে পড়ছিল!

    হে প্ৰিয় নিঃশ্বাস তুমি জাহাজের পতাকা ওড়াও
    হে প্ৰিয় নিঃশ্বাস তুমি পুষ্পবৃষ্টি আনো
    আকাশ এসেছে কাছে, আরো কাছে এসো
    জলের দর্পণ থেকে তুলে দাও নক্ষত্রের মালা
    হিরণ্য গর্ভের দ্যুতি রাখো এই হাতে
    আমি চলে যাবো, তাকে এই সমস্ত মহিমা
    আমি দিয়ে যেতে চাই…

    একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে আবার বলল, আমরা সবাই একা, তবু যাবার আগে কোনো একজনকে সব কিছু দিয়ে যেতে ইচ্ছে হয়। তোমরা দাঁড়িয়ে রইলে কেন, বসো! বন্দনা, তোমাকে অনেকদিন দেখিনি!

    বন্দনাদি বলল, আমরা নদীতে স্নান করতে যাচ্ছি, তুমি আসবে আমাদের সঙ্গে?

    —আমাকে যে আগে ছবিটা শেষ করতে হবে। তোমরা বসো না একটু!

    আমি রোহিলাকে দেখিয়ে বললাম, বসন্ত রাও, এই মেয়েটিকে চিনতে পারছ?

    –না, দেখিনি তো আগে।

    —হ্যাঁ দেখেছ। কাল আমরা যে ঘন কালো শাড়ি পরা মহিলাকে দেখেছিলাম …

    —সেই কৃষ্ণবসনা? এই সে নাকি?

    —হ্যাঁ। এখন জিনস্ পরেছে তাই চেনা যাচ্ছে না!

    -ওরে বাবা! সত্যি চেনবার উপায় নেই! আগে তো দেখে মনে হতো…

    রোহিলা ব্যগ্রভাবে জিজ্ঞেস করল, কী মনে হতো? কী মনে হতো বলো।

    বসন্ত রাও লাজুক হেসে বলল, সত্যি কথা বলব? তোমাকে দেখে একটু ভয় ভয় করত। মনে হতো তুমি কৃষ্ণ–ক্ষ্যাপা। ঐ কালো পোশাক তোমাকে মানায় না, তুমি আর পরো না!

    –এই নীললোহিতও আমাকে সেই কথা বলেছে। আচ্ছা ওটা আর পরব না!

    আমি বললুম, বসন্ত রাও, এই মেয়েটির বয়স তিন বছর। তিন বছর আগে থেকে ছবি আঁকতে শুরু করেছে। কিন্তু নিজের ছবি নিজেই পুড়িয়ে ফেলে। তুমি একটু দেখে দিও তো, ওর সত্যিই ছবি আঁকার হাত আছে কি না!

    বসন্ত রাও হালকা সুরে বলল, তুমি ছবি আঁকো? তুমি নিজেই তো একটা ছবি।

    এই কথায় রোহিলার মুখে একটা ম্লান ছায়া পড়ল। সে কাতর গলায় বলল, ও কথা বলো না! আমি ছবি নই, আমি মাংসের পুতুল নই। আমি মানুষ। তুমি, বন্দনাদি, নীললোহিত, জয়দীপ এদের মতন আমিও একজন মানুষ। যদি এখনো পুরোপুরি মানুষ না হয়ে থাকি, তোমরা আমাকে মানুষ করে দাও!

    বন্দনাদি বলল, ঠিকই বলেছে রোহিলা। শিল্পীরা আমাদের বড্ড মেয়ে মেয়ে ভাবে, সব সময় কল্পনার রং মেখে দেখতে চায়। যেন আমরা স্বাভাবিক মানুষ নই!

    বসন্ত রাও এ কথায় তেমন গুরুত্ব না দিয়ে রোহিলাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি ওকে বন্দনাদি বললে কেন? ওকে আগে চিনতে?

    বন্দনাদি বলল, না। ঐ নীলু আমাকে বন্দনাদি বলে, রোহিলাও তাই শুনে শুনে…

    আমি বললুম, ও তো বাচ্চা মেয়ে। শুনে শুনেই সব শিখবে!

    বসন্ত রাও বলল, তোমার বয়েস তিন বছর—হাউ ইন্টারেস্টিং! তোমার মুখে খানিকটা রোদ এসে পড়েছে, তাতে সত্যিই যেন একটা শৈশবের ছায়া দেখতে পাচ্ছি।

    বসন্ত রাও এমনভাবে কয়েক মুহূর্ত রোহিলার দিকে তাকিয়ে রইল যে আমার মনে হলো, এতকাল সে শুধু ল্যাণ্ডস্কেপ এঁকে এলেও এবার রোহিলাকে মডেল করে ও বোধহয় হিউম্যান ফিগারও আঁকতে শুরু করবে।

    এতক্ষণ জয়দীপ একটাও কথা বলেনি, এক পাশে সরে দাঁড়িয়ে গভীর মনোযোগের সঙ্গে একটা গাছের কয়েকটি পাতা দেখছিল, এবারে সে খানিকটা অধৈর্যভাবে বলল, তোমরা কি স্নান করতে যাবে না? সূর্য যে মাথার ওপর চলে এলো।

    বন্দনাদি বলল, হ্যাঁ চলো, চলো! বসন্ত রাও, তুমি পারলে চলে এসো পরে!

    বসন্ত রাও উঠে দাঁড়িয়ে বলল, এমন লোভনীয় ব্যাপার, আমি আর ছবিতে মন বসাতে পারব না। চলো, আমিও যাব তোমাদের সঙ্গে।

    বন্দনাদি জয়দীপের পিঠে একটা চাপড় মেরে বলল, এই ছেলেটা কী অদ্ভুত না? এতক্ষণ একটা গাছের মতন ঠায় দাঁড়িয়েছিল, আমরা যে কত কথা বললাম, বসন্ত রাও একটা অপূর্ব কবিতা শোনাল, তাতে ভ্রূক্ষেপ নেই। কিছুতেই ওর এই স্বভাবটা ছাড়াতে পারছি না!

    বসন্ত রাও বলল, তুমি চিন্তা করো না বন্দনা। জয়দীপ ঠিক আছে। শুধু মাঝে মাঝে ওর মনটা উধাও হয়ে যায়।

    জয়দীপ একথার প্রতিবাদ করে বলল, না, আমার মন উধাও হয় না। আমি এক এক সময় আমার মনটা দুই ভুরুর মাঝখানে, কপালের এই জায়গাটায় স্থির করে রাখি। তখন অন্যদের কোনো কথা শুনতে পাই না।

    বসন্ত রাও বলল, তাহলে তুমি তো দেখছি হঠযোগী!

    জয়দীপ থমকে দাঁড়িয়ে বলল, আমি যাব না!

    বন্দনাদি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, কেন, কী হলো?

    জয়দীপ বলল, তোমরা যাও, আমি এখন স্নান করতে যাব না। আমার ইচ্ছে করছে না!

    বসন্ত রাও জয়দীপকে জড়িয়ে ধরে বলল, তুমি আমার ওপর রাগ করলে? হঠযোগী বলেছি বলে? সীতা রাম, সীতা রাম! আমি একটা বেহুদা লোক, যখন যা মনে আসে তাই বলি, আমার কথার কি কোনো মূল্য ধরতে আছে!

    কাঠের পুতুলের মতন সে জয়দীপকে টানতে টানতে নদীর ধারে নিয়ে চলল।

    বন্দনাদি হাসছে। আমি তাকে বললুম, এখানে শুধু রোহিলার বয়েসই তিন বছর নয়, আরো অনেক বাচ্চা আছে!

    বন্দনাদি বলল, যা বলেছিস! এই সব বাচ্চাদের জেদ সামলাতে এক এক সময় সত্যি বেশ মুশকিল হয়।

    পর পর দু’দিনের বৃষ্টিতে নদীর জল বেশ বেড়েছে। রীতিমতন স্রোত দেখা যাচ্ছে। আমি আসবার সময় কোমর জলের বেশি ছিল না। এখন মাঝখানে নিশ্চয়ই ডুবজল।

    বন্দনাদি বলল, যে–যা পরে আছ তাই পরেই নেমে যাও। ভিজে গায়ে বাড়ি ফিরলেই হবে।

    রোহিলারই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল নদীতে স্নান করার, কিন্তু এখন তার মুখখানি আড়ষ্ট হয়ে গেছে।

    সে অস্ফুট স্বরে বলল, এত জল! আমি নামব কী করে? আমি যে সাঁতার জানি না!

    বন্দনাদি বলল, তাতে কী হয়েছে। আমরা তো আছি।

    –না বন্দনাদি। আমার জলকে বড় ভয়। আমি একবার ডুবে গিয়েছিলাম।

    —এখানে কোনো ভয় নেই। আমরা তোমাকে সাঁতার শিখিয়ে দেব। আজ থেকেই শুরু হয়ে যাক।

    –আমার দ্বারা সাঁতার শেখা হবে না কখনো। আমি যে ভয় পাই!

    —এখানে যখন এসেছ, তখন সব শিখে যাবে। এখানে সবাই সাঁতার জানে। আমি আগে জাম গাছ আর জামরুল গাছের তফাৎ জানতুম না। শহরের মেয়ে, গাছপালা কি ভালো করে দেখেছি কখনো? অথচ এখন আমি কলমের চারা বানাতে পারি। আমার বাগানে দেখেছ তো কত বড় বড় বেগুন হয়েছে! তুমিও সব পারবে।

    –তোমরা দুজনে আমার হাত ধরে থাকো, বন্দনাদি!

    —ঠিক আছে, নীলু ধর তো একটা হাত!

    আমরা দুজনে দুদিক থেকে ধরে ধরে জলে নামালুম ওকে। জল বেশ ঠাণ্ডা। শিশুর চোখের মতন টলটলে। এত মাদকতা লাগছে যেন এর আগে আমি কোনোদিন নদীতে স্নান করিনি।

    রোহিলা নানারকম উঃ, আঃ, ভয় করছে, আর যাব না ইত্যাদি বলতে থাকলেও আমরা প্রায় জোর করেই ওকে নিয়ে এলাম বুকজল পর্যন্ত। তারপর বন্দনাদি বলল, তুই এবার ছেড়ে দে, নীলু!

    সঙ্গে সঙ্গে বন্দনাদিও ছেড়ে দিয়ে একটু দূরে সরে গিয়ে হাঁটতে লাগল।

    রোহিলার প্রায় কেঁদে ফেলবার জোগাড়।

    বন্দনাদি বলল, শোনো, এইটুকু জলে কেউ ডুবে যায় না। তাছাড়া, আমরা তো আছিই। আজ তোমার প্রথম দিনের ট্রেনিং হলো এখান থেকে তোমার একা একা পাড়ে ফিরে যাওয়া।

    রোহিলা চেঁচিয়ে উঠল, আমি পারব না, আমি পারব না!

    বন্দনাদি বলল, এক্ষুনি তো ফিরছ না। এখন দাঁড়াও। পায়ের তলা দিয়ে বালি সরে গেলে পা জোর করে চেপে রাখো!

    বন্দনাদির সাঁতারে ট্রেনিং ব্যাহত হলো। একটু দূরে দুজন লোক স্নান করছিল, তাদের একজন এগিয়ে এসে রোহিলার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, তুমি—তুমি সুলোচনা না?

    রোহিলার উচ্ছলতা থেমে গেল। লোকটির দিকে সোজাসুজি তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল, না, আমি রোহিলা!

    লোকটির মাথায় টাক, জোড়া ভুরু খুব ঘন, মুখখানা অভিমানী ধরনের। জল সরিয়ে আর একটু কাছে এসে সে বলল, তোমার চেহারা অনেক পাল্টে গেছে, মাথায় বড় চুল রেখেছ, ভুরু প্লাক করা নেই। কিন্তু তোমার কান্নার আওয়াজ শুনে চিনতে পারলুম। তুমি এখানে কবে এসেছ?

    রোহিলা লোকটির চোখ থেকে চোখ না সরিয়ে আবার বলল, আপনার ভুল হয়েছে। আমি রোহিলা!

    লোকটি জোর দিয়ে বলল, এখন তুমি যে–নামই নাও, তুমি সুলোচনা, আমি ঠিক চিনেছি। একদিন আমার ঘরে তুমি কত কেঁদেছিলে মনে নেই? তুমি এখানে কেন এসেছ?

    এই লোকটি দিকশূন্যপুরের অলিখিত নিয়ম গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। এখানে কেউ কারুর পুরোনো জীবনের পরিচিত হলেও প্রকাশ্যে এরকমভাবে জেরা করার প্রথা নেই। এখানে কেন এসেছ, সে প্রশ্ন তো করাই যায় না!

    বন্দনাদির নেত্রী হবার সহজাত ক্ষমতা আছে। আমরা কেউ কিছু বলবার আগেই বন্দনাদি রোহিলার সামনে দাঁড়িয়ে তাকে আড়াল করে বলল, নমস্কার, আমার নাম বন্দনা। আপনার সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়নি।

    লোকটি রুক্ষভাবে বলল, তুমি একটু সরে যাও। ওর সঙ্গে আমার কথা আছে।

    জয়দীপ আর বসন্ত রাও বেশ খানিকটা দূরে চলে গিয়েছিল, এখানে কিছু একটা ব্যাপার ঘটছে টের পেয়ে ওরা কাছে চলে এলো।

    রোহিলা বলল, বন্দনাদি, এই লোকটিকে আমি চিনি না। আমি কি এর প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য?

    বন্দনাদি বলল, না, ইচ্ছে না করলে তুমি একটাও কথা বলো না।

    তারপর বন্দনাদি লোকটির দিকে তাকিয়ে বলল, আপনি বোধহয় এখানে নতুন এসেছেন? আপনাকে আগে দেখেছি বলে মনে হচ্ছে না।

    লোকটি চেঁচিয়ে বলল, না আমি এখানে নতুন আসিনি! বললাম না, তুমি একটু সরে দাঁড়াও, সুলোচনার সঙ্গে আমি কথা বলব।

    আমি এখানকার মানুষ নই, আমার শরীরে রাগ আছে, হিংসে আছে। বন্দনাদির সঙ্গে এরকম ব্যবহার আমি সহ্য করতে পারি না। আমি বলে উঠলুম, আপনি কে মশাই? এরকম বিশ্রীভাবে কথা বলছেন?

    বন্দনাদি বলল, তুই চুপ কর, নীলু।

    তারপর আঙুল তুলে লোকটির প্রতি হুকুমের সুরে বলল, আপনি যেখানে স্নান করছিলেন সেখানে চলে যান। আপাতত আমরা ব্যস্ত আছি। আপনার যা কিছু কথা আছে পরে বলবেন।

    লোকটি আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল, তার আগে জয়দীপ এগিয়ে এসে তার কাঁধে হাত রাখল। গভীরভাবে লোকটির চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, আপনি একটু ওদিকে আসুন, আগে আমার সঙ্গে দু’একটি কথা বলে নিন।

    জয়দীপ লোকটিকে টেনে নিয়ে চলে গেল।

    বসন্ত রাও মুচকি হেসে কপালে হাত ছুঁইয়ে বলল, এখনো ঠিক ভাত সেদ্ধ হয়নি, তাই হাঁড়ির ঢাকনা ঢকঢকাচ্ছে।

    বন্দনাদি বলল, কিছু হয়নি। আয় আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে একটু ডুব দিই, তাতেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। রোহিলা, আমি তোমার হাত ধরছি।

    সবাই ডুব দিয়ে ওঠার পরই বসন্ত রাও একগাল হেসে বলল, নীলুসাহেব, তুমি হেমেন মজুমদারের ছবি দেখেছ? হায় আমি যদি ওরকম ছবি আঁকতে পারতুম!

    আমি বললুম, তুমি এবারে গাছপালা ছাড়ো, মানুষ আঁকতে শুরু করো।

    বসন্ত রাও রোহিলাকে জিজ্ঞেস করলো, তুমি ছবি আঁকো, তুমি কিসের ছবি আঁকো?

    রোহিলা বলল, সে কিছু না। সেসব এলেবেলে।

    আমি বললুম, রোহিলার উচিত পুরুষমানুষের ছবি আঁকা। যুগ যুগ ধরে তো পুরুষরা মেয়েদের কতরকম ছবি এঁকেছে, কত মূর্তি গড়েছে। এখন আমরা জানতে চাই, মেয়েরা কী চোখে পুরুষদের দেখে।

    বসন্ত রাও বলল, ঠিক বলেছ। ঠিক আমাদের মনের কথা বলেছ! বন্দনা, এই ছেলেটাকে ছেড়ে দিচ্ছ কেন? ও তো আমাদেরই লোক। ওকে এবার যেতে দিও না, ধরে রাখো!

    রোহিলা বলল, নীললোহিত এখান থেকে চলে যাবে বুঝি?

    বন্দনাদি সুর করে গেয়ে উঠল, ওকে ধরিলে তো ধরা দেবে না, ওকে দাও ছেড়ে, দাও ছেড়ে!

    গানের মাঝখানে ফিরে এলো জয়দীপ। টাক মাথা লোকটি সম্পর্কে সে একটি কথাও বলল না, কেউ কিছু জিজ্ঞেস করল না!

    বসন্ত রাও বলল, না–না, এবার ওকে ফিরে যেতে দেওয়া হবে না, ওকে ধরেই রাখতে হবে!

    এক আঁজলা জল তুলে সে আমার মাথায় ঢেলে দিয়ে বলল, এই জর্ডন নদীতে দাঁড়িয়ে আমি তোমাকে দীক্ষা দিলুম নীললোহিত, তুমি বিশুদ্ধ হও, পবিত্র হও, তুমি আমাদের হও।

    রোহিলা বলল, আমিও দেব। আমিও দেব। এই নাও নীললোহিত, তুমি ফিরে যাবার কথা ভুলে যাও।

    বসন্ত রাও বলল, জয়দীপ, বন্দনা, তোমরাও জল ঢালো ও বেটার মাথায়! ওকে মন্ত্র দিয়ে বেঁধে ফেলো।

    তারপর ওরা সবাই মিলে জল চাপড়াতে চাপড়াতে বলতে লাগল, নীললোহিত, তুমি থাকো থাকো, তুমি থাকো!

    আমি প্রথম প্রথম হাসছিলুম। হঠাৎ কী যেন হয়ে গেল, আমি অভিভূত হয়ে পড়লুম, সত্যি যেন একটা মন্ত্র দিয়ে আমাকে বাঁধা হলো। আমার গলা ধরে গেল, আমি কোনো ক্রমে বললুম, আচ্ছা, আমি থাকব, আমি আর ফিরে যাব না।

    জয়দীপ চেঁচিয়ে বলল, বাঃ চমৎকার। এই তো চাই।

    বসন্ত রাও চেঁচিয়ে বলল, দাঁড়াও, দাঁড়াও, বাকি আছে। ও বেটার মাথা এবারে জলে ঠেসে ধরো। পুরোনো সব ময়লা ধুয়ে যাক!

    ওরা ধরবার আগেই আমি ডুব দিলুম। বাল্যস্মৃতির মতন নীল জলের মধ্যে ডুব সাঁতারে চলে গেলুম অনেকটা দূরে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আকাশ পাতাল – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }