Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Ek Pata Golpo সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প178 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিরুদ্দেশের দেশে – ৩

    ৩

    শুধু ডিমসেদ্ধ আর ফ্যানা ভাতে আমার চমৎকার চলে যেত, কিন্তু অমন নধর বেগুন দেখে মনে হলো, বেগুন ভাজা খেতেই হবে।

    ক্ষেত থেকে একটা বড় বেগুন ছিঁড়ে এনে বন্দনাদি বলল, তুই ভাজতে পারবি। আমি তা হলে চট করে চানটা করে আসি!

    বেগুন ভাজতে ধৈর্য লাগে। এখানে আমার খিদে ছাড়া ব্যস্ততা কিছু নেই। অ্যালুমিনিয়ামের কড়াইতে তেল চড়িয়ে আমি বেগুনটা ধুয়ে চাকলা চাকলা করে কেটে ফেললুম। তারপর একটু হলুদ আর নুন মেখে অপেক্ষা। আনাড়ি রাঁধুনি হলে এক্ষুনি বেগুন ছেড়ে দিত তেলে। তেল গরম হয়ে চড়বড় শব্দ হচ্ছে, কিন্তু শেষ বুড়বুড়িটুকু মিলিয়ে না–যাওয়া পর্যন্ত ভাজার জিনিস ছাড়তে নেই। একটু পরে আঁচ কমিয়ে দিতে হয়। উল্টে দিতে হয় বারবার। বেশ লালচে অথচ নরম– নরম ভাজা হবে, পুড়ে কালো হয়ে যাবে না, এটাই তো আসল কৃতিত্ব।

    বন্দনাদি স্নান সেরে আসতে আসতে আমি প্লেট–গেলাস সাজিয়ে প্রস্তুত। মেঝেতে বসেই খাওয়া, আসনের বালাই নেই, এখানে খবরের কাগজও আসে না। বন্দনাদি এসে বসে পড়ে বললেন, তোর মতন একজন রাঁধুনি পাওয়া গেলে বেশ ভালো হতো। আমার নিজের জন্য রান্না করতে একদম ভালো লাগে না। রাখো না আমাকে। শুধু খোরাকি দিলেই চলবে। আমি দুর্দান্ত খিচুড়ি আর

    আলুর দম রাঁধতে পারি। আর চিংড়ি মাছ পোস্ত দিয়ে….

    –দূর, চিংড়ি মাছ এখানে পাওয়াই যায় না। কতদিন খাইনি!

    প্রথম গেরাসটি মুখে তুলতে গিয়েও থেমে গেল বন্দনাদি। আমার দিকে সরলরেখায় চেয়ে রইল, তারপর খুব লজ্জা লজ্জা কাতর গলায় জিজ্ঞেস করল, নীলু, তুই এর মধ্যে বেকবাগানে গিয়েছিলি?

    –কাল সকালেই গিয়েছিলুম। যেই মনে হলো এখানে আসব, অমনিই…

    —নীলু, তুই একশোটার মধ্যে একশো দশটা মিথ্যে কথা বলিস, আমি জানি।

    –তোমার কাছে অত নয়। ফিফটি ফিফটি। তার মধ্যে প্রথম পঞ্চাশটা নিখাদ সত্যি। কালকেই রূপসার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। খুব চমৎকার আছে।

    হাতের গেরাস হাতেই রইল, বন্দনাদি অন্যমনস্ক হয়ে গেল। তার মুখে ফুটে উঠল মাতৃত্বের ছায়া

    আমি আর খিদের দাপট সহ্য করতে পারছি না, খাওয়া শুরু করে দিলুম। বন্দনাদি বেশ শক্তিশালিনী রমণী। শুধু মনের জোর নয়, গায়ের জোরও যথেষ্ট। পাহাড়ী নারীদের মতন। দু’ ঘণ্টা একটানা মাটি কোপাতে দেখেছি বন্দনাদিকে এই বেগুন ক্ষেতটিতেও তো বন্দনাদির একার পরিচর্যাতেই এমন ফসল ফলেছে। সেই বন্দনাদিই ছোট্ট একটা মেয়ের জন্য একেবারে দুর্বল হয়ে যায়।

    —নীলু, তুই যখন ওকে দেখতে গেলি, ও কী করছিল?

    -ও তখন সেজেগুজে দুই দিদির সঙ্গে ইস্কুলে যাচ্ছিল।

    —কোন্ ইস্কুলে পড়ে?

    এর উত্তরটা আমি ঠিক জানি না। কিন্তু এখানে একটা সাদা মিথ্যে বললে মহাভারত অশুদ্ধ হবে না।

    —জানো তো আজকাল ছেলেমেয়েদের ভালো ইস্কুলে ভর্তি করা কত শক্ত। বিয়ের আগে নাম রেজিস্ট্রি করাতে হয়। কিন্তু তুমি খুব লাকি, তোমার মেয়ে মডার্নে চান্স পেয়েছে। বেস্ট স্কুল!

    –ওখানে তো বড্ড পড়ার চাপ শুনেছি?

    –কে বলেছে? তাহলে ওরকম হাসতে হাসতে স্কুলে যায়? রূপসা গানও শিখতে শুরু করেছে শুনলুম। আচ্ছা, তোমাদের এখানে ইস্কুল নেই?

    —ইস্কুল? তুই পাগল হয়েছিস? এখানে ইস্কুল থাকতে যাবে কেন?

    —এবারে তুমি খেয়ে নাও!

    —তুই এসে পড়েছিস, খুব ভালো হয়েছে। আজ দুপুরে নুন ভাঙতে যাব!

    খেয়ে ওঠবার পর আমি একটা সিগারেট ধরাতেই বন্দনাদি বলল, অ্যাই, এখানে সিগারেট খাওয়া নিষেধ, তুই জানিস না?

    —কিন্তু আমি তো বাইরের লোক।

    –তা হলেও চলবে না।

    —ভাত খাবার পরে শুধু একটা।

    –দে, ওটা আমাকে দে!

    বন্দনাদি আমার হাত থেকে সিগারেটটা কেড়ে নিয়ে প্রথমে নিজে একটা টান দিল বেশ জোরে, তারপর সেটা মাটিতে ফেলে খালি পায়েই চাপতে লাগল। পায়ের সেই ভঙ্গি দেখেই বোঝা যায় বন্দনাদি নাচত একসময়। কলামন্দিরের মঞ্চে আমি বন্দনাদিকে ‘শকুন্তলা’ নৃত্যনাট্যে শকুন্তলার ভূমিকায় নাচতে দেখেছি। তার রূপ ও গুণের দারুণ গ্ল্যামার ছিল তখন। সেই বহুজনবাঞ্ছিতা বন্দনা রায় এখন একটা টিলার ওপরে একলা থাকে। নাচের বদলে বেগুন ক্ষেতে কোদাল চালায়। রোদে পুড়ে ফর্সা মুখখানা অনেকটা তামাটে হয়ে গেছে।

    বন্দনাদি বলল, আমি তোর সিগারেটটা একবার টানলুম কেন জানিস? ওর মধ্যে যেন খানিকটা শহরের গন্ধ পেলুম। অনেকদিন বাদে।

    –তোমার মন কেমন করে বন্দনাদি?

    —মোটেই না! অনেকদিন পর আকাশ দিয়ে একটা বেলুন উড়ে যেতে দেখলে যেমন ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে। তা বলে কি ছেলেবেলার জন্য মন কেমন করে নাকি? চল, চল, বেরিয়ে পড়ি।

    বাইরের রোদ এখন আর তেমন মিষ্টি নয়, বরং বেশ ঝাঁঝাল। খেয়ে উঠেই এমন রোদের মধ্যে বেরুবার উৎসাহ এখানে আসার পরই অর্জন করেছে বন্দনাদি। কলকাতায় প্রায় সব সময়েই গাড়িতে ঘুরত।

    রবারের চটিটা আমি খুলে রাখলুম। এখানে সবাই খালি পয়ে হাঁটে। শুনেছি নুডিস্ট কলোনিতে জামাকাপড় পরা লোকদেরই অশ্লীল দেখায়।

    সরঞ্জামের মধ্যে বন্দনাদির হাতে একটা ভারি লোহার শাবল। টিলা থেকে নামতে শুরু করলুম আমরা দু’জনে। আসবার পথে যেখানে কুয়োটা দেখেছিলুম তার উল্টো দিক দিয়ে।

    –কুয়োর কাছে একজন রাগী বুড়ো থাকে, ও কে বন্দনাদি?

    – তুই ওর পাল্লায় পড়েছিলি বুঝি? তারপর কী হলো? তোকে মারতে তাড়া করেননি তো?

    —প্রায় সেই অবস্থা। কে উনি?

    —উনি একজন মস্ত বড় অঙ্কের পণ্ডিত। সবাইকে ডেকে ডেকে অঙ্ক শেখাতে চান।

    –ওরে বাবা, খুব জোর বেঁচে গেছি তাহলে। আমার মাথায় হাতুড়ি ঠুকলেও অঙ্ক ঢোকানো যাবে না।

    —তবে একবার যদি ঘণ্টা দু’এক ধৈর্য ধরে শুনতে পারিস তা হলে চিনতে পারবি আসল মানুষটকে। জানিস তো, বুড়োমানুষরা কক্ষনো একা থাকতে পারে না। কারুর সঙ্গে কথা বলতে না পারলে তাদের মুখ চুলকোয়। আসলে একা থাকলে অসহায় বোধ করে। সেই জন্য আমি মাঝে মাঝে যাই ওঁর কাছে। প্রত্যেকবারই টানা দু’ ঘণ্টা অঙ্ক বোঝানোর পর হঠাৎ হাত নেড়ে বলতে থাকেন, কিন্তু জীবনের কোনো অঙ্কই মেলে না! জীবনের কোনো অঙ্কই মেলে না! প্রকৃতি বেটী মহা ধুরন্ধরী! মহা ধুরন্ধরী!

    প্রকৃতি সম্পর্কে অ্যাডজেকটিভটা আমার ভালো লাগল। পরে কোথাও কাজে লাগিয়ে দিতে হবে! এই রকম আর একটা কোথায় যেন পড়েছিলুম, অঘটনঘটন পটিয়সী। এটা কার সম্পর্কে প্রযোজ্য, প্রকৃতি না নিয়তি? ঠিক মনে নেই। পটিয়সীর মতন একটা চমৎকার শব্দ আমি এখনো কোথাও ব্যবহার করতে পারিনি।

    টিলার নিচটায় এদিকে বেশ জংলা মতন জায়গা। তারপর ছোট ছোট ঢিবি ও জঙ্গল। হঠাৎ দেখলে মনে হয় এই জঙ্গলটা এমনই নিবিড় ও আদিম ধরনের যে এখানে কোনোদিন মানুষ প্রবেশ করেনি। তা অবশ্য ঠিক নয়। মানুষ নিয়মিতই আসে এখানে।

    একজন নারী ও পুরুষ একটু দূরে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে এমন ভাবে কথা বলছে, যাতে ওদের প্রেমিক–প্রেমিকা মনে হয় না, মনে হয় স্বামী–স্ত্রী। দু’জনেই মধ্যবয়েসী। আমি একটু অবাক হলুম। এখানে তো সাধারণত একসঙ্গে দু’জন থাকতে আসে না। স্বামী–স্ত্রীর তো প্রশ্নই নেই।

    —বন্দনাদি, এরা?

    –এরা তো অনেকদিন আছে। তুই আগে দেখিসনি বুঝি?

    —স্বামী–স্ত্রী?

    –না–না, তা কেন হবে। দু’জনে আলাদা আলাদা এসেছিল। এখানে বুঝি কারুর সঙ্গে কারুর ভাব হয় না? ভাব হলে তারা বিয়ে করতে পারে, কিংবা এমনিই একসঙ্গে থাকতে পারে।

    –বন্দনাদি, তোমার সঙ্গে কারুর ভাব হয়নি? তোমাকে কেউ বিয়ে করতে চায়নি?

    বন্দনাদি একগাল হেসে বলল, হ্যাঁ। একজন তো আমায় প্রায়ই বিয়ে করতে চায়। কে বল তো? ঐ কুয়োর ধারের অঙ্ক–পাগল বুড়ো!

    ওরে বাবা! বুড়ো লোকরা তো নাছোড়বান্দা হয়। তুমি ওকে ফেরাও কী করে?

    – আমি দু’হাত নাড়তে নাড়তে বলি, জীবনের এ অঙ্কটাও মিলবে না! মিলবে না!

    –বন্দনাদি, তোমার সুরঞ্জনের কথা মনে পড়ে না?

    বন্দনাদির হাসিখুশি ভাবটা সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে গেল, আমার দিকে খর চক্ষে তাকিয়ে বলল, সে কে?

    –আহা হা, বেশি বাড়াবাড়ি করছ। সুরঞ্জন একসময় তোমার প্রচণ্ড বয় ফ্রেণ্ড ছিল, তাকে তোমার একেবারেই মনে নেই বলতে চাও?

    আমার গালে একটা ধারালো চাঁটি কষিয়ে বন্দনাদি বলল, অসভ্য ছেলে, তোকে বলেছি না ওসব কথা এখানে কখনো উচ্চারণ করবি না? এখানকার টাটকা বাতাসে নিঃশ্বাস নিয়ে মনটাকে পরিষ্কার করতে পারিস না? তোদের ঐ পচা– গলা কলকাতার দূষিত চিন্তাগুলো এখানে এসেও ভুলতে পারিস না?

    আমি দু’দিকে মাথা নেড়ে বললুম, না, পারি না।

    সেই নারী ও পুরুষ যুগল এক জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ে তর্কাতর্কি করছে। আমরা তাদের পাশ কাটিয়ে অন্যদিক দিয়ে এগিয়ে গেলুম। আমার কানে এলো ওদের দু–একটি কথার টুকরো, তুমি কী চাও তা তুমি বোঝ না… আমি যা বুঝি তাই–ই আমি চাই…চাওয়া আর বোঝা এক কথা নয়…আমি জীবনটাকে এক কথায় বুঝতে চাই না…জীবন তো বোঝার জিনিস নয়, নিশ্বাস ফেলার নাম জীবন….এমন অনেক কিছুই আছে যার কোনো নাম নেই….

    এ কী অদ্ভুত তর্ক? একেই বলে বোধহয় সান্ধ্যভাষা!

    বন্দনাদি বেশ অন্যমনস্ক হয়ে গেছে। থুতনি উঁচু করে চেয়ে আছে সামনের দিকে। চোখ যা দেখছে এখন তা আসলে চোখের সামনে নেই।

    গতবারের তুলনায় বন্দনাদির স্বাস্থ্য অনেক নিটোল সুগোল হয়েছে। বুক দুটি পরিপূর্ণ। হায়, ঐ বুকে কোনো পুরুষ মাথা রাখে না, কোনো শিশু ওষ্ঠ ছোঁয়ায় না।

    আমার সেজবৌদির সঙ্গে একসঙ্গে কলেজে পড়ত বলে আমি ছোটবেলা থেকেই ওকে বন্দনাদি বলি। কিন্তু আমার সঙ্গে ওর বয়েসের তফাৎ দু–তিন বছরের বেশি নয়। ওকে দিদি বলার কোনো মানেই হয় না, কিন্তু ছোটবেলার সম্বোধন বদলানো বড় শক্ত। আর বন্দনাদিও আমার সঙ্গে এমন ব্যবহার করে যেন আমি একটা বাচ্চা। অবশ্য ততটা বাচ্চা নয়, যাতে আমি ওর বুকে ওষ্ঠ ছোঁয়াতে পারি।

    আমার কাছে এক লক্ষ টাকা থাকলে আমি সেটা বাজি ধরে বলতে পারতুম, বন্দনাদি এখন সুরঞ্জন নামে একটা উড়নচণ্ডীর কথাই ভাবছে। হয়তো প্রেমে নয়, পরিতাপে নয়, বিতৃষ্ণায়।

    একমাত্র রূপসা ছাড়া বন্দনাদি কলকাতার আর কারুর কথা কক্ষনো জিজ্ঞেস করে না। এমনকি নিজের দিদি–জামাইবাবুর কথাও না। তবু কি সবাইকে মন থেকে মুছে ফেলতে পেরেছে?

    এদিকে দু’একটা ছাড়া ছাড়া বাড়ি চোখে পড়ে। ভেতরে মানুষজন আছে কি না বোঝা যায় না। জঙ্গলের একেবারে কাছ ঘেঁষা একটা সাদা রঙের বাড়ির দিকে হাত দেখিয়ে বন্দনাদি বলল, দ্যাখ নীলু, এই বাড়িটা খুব সুন্দর না?

    –কে থাকে ঐ বাড়িতে?

    –একজন থাকত, সে আবার ফিরে গেছে। এখন খালি!

    —কেউ এখান থেকে ফিরে যায় তা হলে?

    —যারা বোকা, তারা আবার বোকামি করতে যায়। এখানে যে ছিল সে ফিরে গেল কেন জানিস? বক্তৃতা করার নেশা ছাড়তে পারেনি। এখানে তো মঞ্চও নেই, শ্রোতাও নেই।

    —আর যাদের গান বা নাচের নেশা?

    —তাদের জন্য তো এতবড় আকাশ রয়েছে।

    —দু’একজন জ্যান্ত শ্রোতা থাকলেও আপত্তি নেই নিশ্চয়ই। বন্দনাদি, আজ আমি তোমার একটা গান শুনব।

    —তুই ভালো দিনে এসে পড়েছিস। দেখিস আজ সন্ধেবেলা কত মজা হবে।

    এই জঙ্গলে হিংস্র জানোয়ার বিশেষ নেই। ক্বচিৎ কখনো দু’একটা ভাল্লুক দেখা গেছে। কিছু হরিণ আছে, অনেক খরগোশ আছে। নানারকম পাখির মধ্যে বিশেষ দ্রষ্টব্য হলো ধনেশ পাখি।

    ঝোপঝাড় লতাপাতার মধ্যে একটা বিশাল সাদা পাথরের চাঁই পড়ে আছে। ঐটাই নুন পাথর। পারিপার্শ্বিকের সঙ্গে জিনিসটা এমনই বেমানান যে মনে হয় আকাশ থেকে খসে পড়েছে। জন্তু জানোয়াররা জিনিসটাকে ঠিকই চিনতে পেরেছে, তারা এখানে নুন চাটতে আসে। এখন দিকশূন্যপুরের মানুষরাও আসছে।

    আমি এই জায়গাটা আগে দেখিনি, শুনেছিলুম। প্রথমে চাঁইটাকে মার্বেল পাথর মনে হয়, কাছে এসে দেখা যায় লালচে লালচে শিরা আছে। গতকালের বৃষ্টির জন্য এখানকার মাটি এখনো ভিজে ভিজে, তাতে অনেক ছাগলের পায়ের ছাপ। ও, ছাগল তো নয়, হরিণ। পায়ের ছাপ একইরকম। ছাগল আর হরিণের মধ্যে তফাৎ অতি সামান্য, তবু বেচারা ছাগলরা কী একটা অখাদ্য নাম পেয়েছে। আমি বন্দনাদির কাছে শাবলটা চাইতে সে বলল, না, তুই দ্যাখ আমি কী করে ভাঙি। যেখান সেখান থেকে ভাঙলে চলে না, পাথরটার গোল ভাবটা যেন

    বজায় থাকে।

    –সেরকম রেখে কী লাভ?

    –আর কোনো লাভ নেই, দেখতে সুন্দর থাকবে।

    তারপর ভাস্কররা যেমন পাথর কেটে মূর্তি বানায় সেইরকম ভাবে বন্দনাদি এক এক জায়গায় শাবল মেরে খানিকটা করে চাকলা ভাঙতে লাগল।

    তখন আমার মনে পড়ল নদীর ধারের ভাস্কর্যটার কথা। বসন্ত রাও–কে কোনো এক সময় জিজ্ঞেস করতে হবে।

    বেশ অনেকগুলো চাকলা ভেঙে পড়বার পর আমি বললুম, ব্যস, ব্যস, আর কী হবে? এত নুন তুমি সারা জীবনেও খেয়ে শেষ করতে পারবে না!

    – মানুষ বুঝি শুধু নিজের জন্যই সব কিছু করে?

    আমি লজ্জা পেয়ে গেলুম। এদের এখানে যে একটা চমৎকার সমবায় ব্যবস্থা আছে, সেটা মনে ছিল না।

    ঘাগরার পকেট থেকে বন্দনাদি একটা দড়ির থলি বার করল। তার মধ্যে নুনের চাকলাগুলো ভরে বলল, চল, তোকে আর একটা জিনিস দেখাই।

    আমার একটা কিছু করা উচিত বলে আমি বন্দনাদির হাত থেকে থলিটা নিয়ে নিলুম। বেশ ভারি, অন্তত সাত–আট কেজি হবে।

    বন্দনাদি আরো গাঢ় জঙ্গলের মধ্যে এগিয়ে চলল। গাছ–কাটা কন্ট্রাকটরদের এখনো এই বনের প্রতি নজর পড়েনি। তবে কতদিন আর এরকম থাকবে? খন্তা– কুড়ুল হাতে নিয়ে সভ্যতা এদিকে একদিন ধেয়ে আসবেই।

    খানিকটা হেঁটে আমরা একটা জলাশয়ের কিনারায় এসে পৌঁছলুম। দুটি খরগোশ সরসর করে ছুটে পালাল। ওরা এমনই হুবহু একরকম যে মনে হয় যমজ।

    জলাশয়টি গোল বা চৌকো নয়, এবড়ো খেবড়ো, অর্থাৎ প্রাকৃতিক। জলের রং কালো। এক পাঁতি বক উড়ে গেল ওপর দিয়ে। জায়গাটা অদ্ভুত শান্ত। এখানে শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করে।

    —এদিকে আয়, নীলু। খুব আস্তে আস্তে, শব্দ করিস না।

    ডানদিকে খানিকটা যেতেই চমকে উঠলুম। এই মাত্র এখানে আমার শুয়ে থাকার ইচ্ছে হয়েছিল। এখানে সত্যিই একজন মানুষ শুয়ে আছে। একটা উঁচু বেদিতে। খাঁকি রঙের প্যান্ট আর সাদা ফতুয়া পরা। মানুষটি বেশ লম্বা। মাথার চুল কাঁচা–পাকা।

    বন্দনাদি সন্তর্পণে হেঁটে মানুষটির মাথার কাছে দাঁড়াল। একটুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হাত রাখল তার কপালে। অমনি সে চোখ খুলে মাথা ফেরাল বন্দনাদির দিকে।

    বন্দনাদি জিজ্ঞেস করল, কেমন আছো, নীহারদা?

    লোকটি খুব আস্তে, প্রায় ফিসফিস করে বলল, ভালো আছি, আগের চেয়ে ভালো আছি! মনে হয় ভালো হয়ে যাব।

    —তুমি উঠবে? আমি তোমাকে ধরব?

    —না। আর একটা দিন শুয়ে থাকি।

    –তোমার কিছু লাগবে?

    লোকটি আমার দিকে তাকাল। বিন্দুমাত্র কৌতূহল প্রকাশ করল না। খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, এই যে তুমি আমার কপালে হাত রাখলে, মনে হলো যেন এটা আমার আগের জন্মে পাওনা ছিল।

    বন্দনাদি লোকটির বুকে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল।

    লোকটি আবার বলল, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছিলাম, আমার বাগানের চন্দ্রমল্লিকা গাছগুলো সব শুকিয়ে গেছে। তুমি আমার বাগানে একটু জল দিও, বন্দনা।

    –দেব।

    —যদি অনন্তর সঙ্গে দেখা হয়, বলো, আমি তাকে ক্ষমা করেছি।

    – অনন্ত তা জানে, নীহারদা।

    —কেউ আমার নাম ধরে এখনো ডাকছে, বড় ভালো লাগল শুনতে।

    —নীহারদা, একটা কথা জিজ্ঞেস করব? যদি আপনার কষ্ট না হয়…

    —বলো, বন্দনা।

    —নীহারদা, আপনি যে আগেকার জীবনের সব কিছু ছেড়ে দিকশূন্যপুরে চলে এসেছিলেন, সেজন্য কি এখন আপনার অনুতাপ হচ্ছে?

    –না–না, একটুও না। আগেকার কথা ভালো করে মনেও পড়ে না। মনেও পড়ে না।

    বলতে বলতে লোকটি চোখ বুজল। বন্দনাদি একটু দাঁড়িয়ে থেকে তারপর সরে এলো।

    —চল নীলু, এবার সন্ধে হয়ে আসছে, জঙ্গল থেকে বেরিয়ে যাই।

    —উনি এইখানেই শুয়ে থাকবেন?

    —উনি তো তাই–ই চাইছেন। আমাদের এখানে কারুর শক্ত অসুখ হলে বা খুব শরীর খারাপ হলে তো সেরকম কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। সেরকম রুগীকে এখানে এনে শুইয়ে দেয়া হয়। মরার পক্ষে এই জায়গাটা খুব সুন্দর না?

    —তা বলে এরকম একা? কাছে কেউ থাকবে না?

    -এসব তুই বুঝবি না। তবে এখানে শুইয়ে দেবার পরেও অনেকেই বেঁচে যায়। আবার ফিরে যায়। তোদের হাসপাতাল থেকে ক’জন ফেরে বল?

    –বন্দনাদি, আমারও মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে নাকি? এই জায়গাটা দেখেই আমার শুয়ে পড়তে ইচ্ছে করেছিল।

    –এক চাঁটি খাবি।

    জঙ্গলের মধ্যে যতটা অন্ধকার লাগছিল, বাইরে ততটা সন্ধে হয়নি। শেষ বিকেল বলা যায়। আকাশ বেশ রঙিন।

    কয়েক মিনিট আমরা চুপ করে হাঁটতে লাগলুম। মৃত্যুর চিন্তাটা মন থেকে তাড়িয়ে দেওয়া দরকার। একটা জলাশয়ের ধারে গাছতলায় ঐ লোকটি সারা রাত একা থাকবে… এমন নিঃসঙ্গতা…। নাঃ, একটা কিছু হালকা কথা বলা দরকার।

    –বন্দনাদি, এতটা রাস্তা খালি পায়ে হেঁটে এলে, অথচ তোমার পায়ে একটা কাঁটাও ফুটল না। তা হলে বেশ হতো!

    –আমার তো খালি পায়ে হাঁটা অভ্যেস হয়ে গেছে। তোর পায়েই বরং কাঁটা বেঁধার চান্স ছিল বেশি।

    – দূর, আমার পায়ে বিঁধলেই বা কী, না বিঁধলেই বা কী! তোমার পায়ে বিঁধলে আমি বেশ তোমার পা–খানা আমার কোলে নিয়ে কাঁটাটা তুলে দিতুম। হাত দিয়ে না উঠলে মুখ দিয়ে দিতুম। তাহলে তোমার পদচুম্বন করাও হয়ে যেত। এই রকম লালচে বিকেলে দৃশ্যটা কী অপূর্ব সুন্দর হতো বলো!

    –তোর সেই রোমান্টিকপনার অসুখ আর গেল না! কাঁটা কি ছেলের পা মেয়ের পা আলাদা করে চেনে? যে–কোনো পায়েই বিঁধতে পারে।

    –তবু কোনো পুরুষের সঙ্গিনী, যুবতী নারীর পায়ে ফুটলে ব্যাপারটা বেশ খাজুরাহোর শিল্পের মতন হয়।

    —তোরা পুরুষরা তাই ভাবিস। আমরা পায়ে কাঁটা ফুটলে কষ্ট পাই!

    —হ্যাঁ, আমরা পুরুষরা মেয়েদের অনেক সৌন্দর্যের প্রতীক বলে মনে করি এমনকি তোমাদের পায়ের পাতা, থুতনির ঘামও আমাদের চোখে সুন্দর লাগে। তোমরা মেয়েরা পুরুষদের কব্জি, কাঁধ, বুক আর ঊরুটুরুর সৌন্দর্য নিয়ে কবিতা বা গান বাঁধলেই পার

    —বয়ে গেছে আমাদের! আমি আসলে পুরুষমানুষদের বেশ অপছন্দই করি। কেমন যেন ক্লামজি ধরনের প্রাণী ওরা।

    –এ কী, বন্দনাদি, তা হলে আমি কী?

    –তুই…তোকে তো ঠিক পুরুষ বলে ভাবি না, তুই হচ্ছিস, তুই হচ্ছিস…

    –খবরদার, ছোট ভাইয়ের মতন বলবে না! ঐ ধরনের সম্পর্ক আমি পছন্দ করি না!

    –না, বন্ধু, বন্ধুদের তো কোনো জাত নেই, মেয়ে হোক বা পুরুষ হোক, বন্ধু হচ্ছে বন্ধু।

    –আমি অবশ্য তা মনে করি না। সে যাই হোক। তুমি সমস্ত পুরুষদের অপছন্দ করো না, তোমার রাগ শুধু বিশেষ একজনের ওপর, যার জন্য তুমি কলকাতা ছেড়ে চলে এসেছ। সে কে?

    –নীলু, আবার ঐ কথা?

    —তুমি ধমক দাও আর যাই–ই করো, শেষ পর্যন্ত আমি ঠিক জেনে যাব। বন্দনাদি থেমে গিয়ে আমার দিকে ঘুরে দাঁড়াল। ঠোটে ঠোট চেপে আছে এটা ওর রাগের লক্ষণ। সেকাল হলে ওর চোখ দিয়ে আগুন বেরিয়ে আমাকে এই মুহূর্তে ভস্ম করে দিত। নাক দিয়ে ঘন ঘন নিঃশ্বাস পড়ছে।

    আমার দিকে ডান হাতের তর্জনী তুলে বলল, শোন নীলু, কোনো বিশেষ পুরুষের ওপর রাগ করে আমি কলকাতা ছেড়ে চিরকালের জন্য চলে আসিনি। কেউ আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে তাকে অবহেলা করা কিংবা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার মতন মনের জোর আমার আছে। আমি চলে এসেছি অন্য কারণে, তা তুই, শুধু তুই কেন, কেউ কোনোদিন জানতে পারবে না।

    —রাগ না হোক অভিমান হতে পারে। রাগের চেয়ে অভিমান আরো বেশি জোরাল হয়।

    —আমি তোর ঐ কফি হাউসের বান্ধবীদের মতন ন্যাকা নই যে অভিমান করে বাড়িঘর ছেড়ে চলে আসব। আমি এসেছি ঠাণ্ডা মাথায় ভেবেচিন্তে 1

    —তুমি জঙ্গলের মধ্যে শুয়ে থাকা ঐ লোকটিকে জিজ্ঞেস করলে ওঁর অনুতাপ হচ্ছে কি না। কেন জিজ্ঞেস করলে ঐ কথা? তোমার নিজের বুঝি অনুতাপ হয় মাঝে মাঝে? নিছক অহমিকার জন্য আর ফিরে যেতে পারছ না।

    –না, আমার এক মুহূর্তের জন্যও অনুতাপ হয় না। এ জায়গাটা যে কত সুন্দর, তা তুই কল্পনাও করতে পারবি না।

    —বেশি সুন্দরের মধ্যে সর্বক্ষণ থাকায় একটা একঘেয়েমি আসে না?

    –নাঃ, তোকে বোঝানো যাবে না। তুই যে এখনও একটা মায়াবদ্ধ জীব। তখন তোকে একটা চমৎকার ফাঁকা বাড়ি দেখালুম, তাতে তোর কোনো রি– অ্যাকশানই হলো না। শহুরে বাতাসে নিঃশ্বাস না নিলে তোদের প্রাণ ছটফট করে!

    —কিন্তু ঐ লোকটিকে যখন তুমি অনুতাপের কথা জিজ্ঞেস করছিলে, তখন তোমার মুখের রেখাগুলো বিশ্বাসঘাতকতা করছিল। তুমি যে কোনো কারণে বেশ দূর্বল হয়ে পড়েছ, তা বোঝা যাচ্ছিল স্পষ্ট।

    —হ্যাঁ, আজ একটু দুর্বল হয়ে পড়েছি, স্বীকার করছি। তোকে দেখার পর থেকেই…

    –বাঃ, আমার সৌভাগ্য। এতক্ষণে একটা ভালো কথা শোনালে।

    –আরে বোকারাম, তোকে দেখে দুর্বল বোধ করেছি, কিন্তু তোর জন্য নয়। তুই আসার পর হঠাৎ মনে হলো, আমি একটা ভুল করেছি। দারুণ ভুল। রূপসাকে আমার ফেলে আসাটা উচিত হয়নি। একেবারেই উচিত হয়নি। রূপসাকে নিয়ে এলে…ওর তখন মাত্র তিন বছর বয়েস ছিল, ও কিছুই প্রশ্ন করত না, ও এইখানেই খুব চমৎকার ভাবে মানুষ হতে পারত। কিন্তু এখন তো আর উপায় নেই!

    –একবার ফিরে গেলেই পারো!

    –একবার গেলেই তো ধরা পড়ে যাব। না, না, না, তা আমি চাই না। তার চেয়ে এই–ই ভালো, সবাই ধরে নিয়েছে আমি নিশ্চয়ই মরে–টরে গেছি!

    –না, তা ভাবেনি, অনেকের ধারণা, তুমি বিলেত বা আমেরিকায় পালিয়ে গেছ। দু’একজন বলে, তুমি নাকি বম্বেতে নাম বদলিয়ে সিনেমার হিরোইন হয়েছ। কোনো একজন সাউথ ইণ্ডিয়ান অ্যাকট্রেসের সঙ্গে তোমার মুখের খুব মিল।

    —উঃ, এসব কথা শুনলেও গা জ্বলে যায়!

    –শোনো, বন্দনাদি, তুমি যদি খুব মনে করো, তা হলে আমি তোমার মেয়ে রূপসাকে চুরি করে এনে এখানে পৌঁছে দিতে পারি।

    -থাক, তুই অনেক কীর্তি করেছিস, এরপর আর মেয়ে চুরি করতে হবে না। রূপসা বড় হয়ে গেছে, সে এখন অনেক প্রশ্ন করবে।

    আবার খানিকটা হেঁটে আমরা এসে পৌঁছলাম একটা তিন রাস্তার মোড়ে। এখানকার রাস্তাগুলো লাল সুরকি ঢালা। গাড়ি–ঘোড়ার কোনো বালাই নেই।

    তিন রাস্তার মোড়ে একটা গোল বাঁধানো জায়গা। অন্যান্য শহরে এই রকম জায়গায় হয় কোনো বিকট পাথরের মূর্তি কিংবা বেখাপ্পা পোশাক পরা ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে। এখানে সেসব কিছু নেই। একজন পাজামা পাঞ্জাবি পরা প্রৌঢ় বসে আছেন সেখানে, পাশে একটা বেতের ঝুড়ি। ভদ্রলোকের নিশ্চয়ই এক সময় সিগারেট খাওয়ার খুব নেশা ছিল, দুটো আঙুল ঠোটে চেপে অদৃশ্য সিগারেট টানছেন।

    বন্দনাদির মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল সেই লোকটিকে দেখে। কাছে এগিয়ে বলল, কেমন আছ প্রভাসদা?

    মুখ থেকে হাত নামিয়ে প্রৌঢ়টি বললেন, আমি সব সময় ভালো থাকি। তোমায় তিনদিন দেখিনি কেন, বন্দনা?

    –তিনদিন, না? আমার মনে হচ্ছে আমি একমাস তোমাকে দেখিনি। তোমার নুন লাগবে, প্রভাসদা?

    —নুন ভাঙতে গিয়েছিলে বুঝি? দাও খানিকটা।

    –তোমার ঝুড়িতে কী, প্রভাসদা? বাঃ, ভালো আলু হয়েছে তো তোমার? আমার কিছুটা লাগবে। আমার ক্ষেতে অনেক বেগুন হয়েছে, তুমি নেবে?

    —বেগুন? আমার ক্ষেতেও বেগুন হয়েছে। আমার কিছুটা গুড় দরকার।

    —গুড় তো আমার নেই।

    —তাতে কী হয়েছে, তুমি আলু নাও। দেখি, অন্য কারুর কাছে গুড় পেয়ে যাব।

    এখানে টাকাপয়সার লেনদেন নেই, বিনিময় প্রথায় জিনিসপত্র আদান–প্ৰদান হয়। যার যেটা বেশি আছে তা নিয়ে সে এরকম এক একটা গোল চক্করে বসে। তবে, চা, তেল, জামাকাপড় কি এরা ঘরে বানায়? তা মনে হয় না। সেসব নিশ্চয়ই কোনো শহর থেকে আনতে হয়। কে আনে, কী ভাবে অন্যরা নেয় তা আমি এখনো জানি না। এখানে আমি কোনো দোকান দেখিনি।

    প্রভাসবাবু আমাকে দেখলেও একটিও কথা বললেন না, বন্দনাদির কাছে জানতেও চাইলেন না আমি কে। এখানকার মানুষের কৌতূহল সত্যিই কম। সেটা কি ভালো? কৌতূহলই তো জীবনযাপনের প্রধান মশলা।

    ঐ লোকটির সঙ্গে কথা বলতে বলতে বন্দনাদি এক সময় আমাকে বলল, তুই এগিয়ে যা, নীলু। প্রভাসদার সঙ্গে আমার কয়েকটা জরুরি কথা আছে।

    সেই মুহূর্তে প্রভাস নামের লোকটিকে আমি অপছন্দ করলুম। ঈর্ষাই এর কারণ, সেটাও জানি। জানলেও ঈর্ষার জ্বালা কমে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নীললোহিতের অন্তরঙ্গ – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আকাশ পাতাল – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }