Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার এক পাতা গল্প713 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিকৃত ক্ষুধার ফাঁদ – প্রেমেন্দ্র মিত্র

    ঘরের দরজায় ধাক্কার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িউলীর কর্কশ গলা শোনা গেল, ‘ভরসন্ধেয় দরজা বন্ধ কেন লা, বেগুন? খোল না, কতক্ষণ দাঁড়াব!’

    প্রদীপের অস্পষ্ট আলোকে একটি বিগত-যৌবনা রোগা লম্বা স্ত্রীলোক সিল্কের একটা শাড়ী সেলাই করছিল। স্ত্রীলোকটির ঠিক বয়স আন্দাজ করা কঠিন হ’লেও সিল্কের শাড়ীটি যে সমস্ত উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্য খুইয়ে বীভৎস প্রৌঢ়ত্বে এসে পৌঁচেছে এটা সহজেই বোঝা যায়।

    দরজায় প্রথম আঘাত শুনে বেগুন কিসের আশায় একটু চঞ্চল হয়ে তাড়াতাড়ি শাড়ীটি বিছানার তলায় লুকোবার চেষ্টা করতে গেছল, কিন্তু তারপর বাড়িউলীর গলার স্বর শুনে সেটি আর না লুকিয়ে বিরক্ত স্বরে বললে, খোলাই আছে, জোরে ধাক্কা দাও।’ তারপর আবার সে সেলাই-এ মন দিলে।

    তার হারান-যৌবনের সমস্ত সম্পদের মধ্যে ঐ কণ্ঠস্বরটুকু বুঝি এখানো অবশিষ্ট ছিল। কণ্ঠস্বরটি ছেঁড়া জুতোর নতুন ফিতার মতো একেবারে বেখাপ্পা!

    বাড়িউলী তার বিপুল বাতগ্রস্থ দেহ নিয়ে অতি কষ্টে একপায়ের ওপর ভর দিয়ে বেঁকে আর একপা তুলে উঁচু চোকাঠটা ডিঙিয়ে ঘরে ঢুকে বললে, ‘সে ছোঁড়া ত আজও এলা না রে, বেগুন—সে এবার ভেগেছে।’

    বেগুন কোনো কথা না বলে নীরবে শাড়ীটা সেলাই করতে লাগল।

    বাড়িউলী তক্তপোষ কাঁপিয়ে বসে বললে, ‘বলছিলুম কি, এই বেলা তোর তাগা জোড়াটা বিক্রী করে ফেল , শশীর বাবু ত শশীকে এক জোড়া কিনে দেবে বলেছে, আমি বন্দোবস্ত করে তোর তাগা জোড়াই গছিয়ে দেব’খন।’

    শাড়ীটা সেলাই শেষ করে সেটা সন্তর্পণে পাট করতে করতে বেগুন বললে, ‘আমি তাগা বিক্রী করব না তোমায় কতবার বলেছি, তবু তুমি বিরক্ত করতে আস কেন বলো ত মাসী—? এখন যাও বাপু, আমার কাজ আছে।’

    অতিরিক্ত ক্রোধেও মাসীর স্থূলদেহ স্থূলতর হবার আর কোনো সম্ভাবনা ছিল না। মাসীর কর্কশ কণ্ঠস্বর কিন্তু সপ্তমে উঠল—

    ‘কেন যাব লা, কেন? দে আমার দু’মাসের ভাড়া দে, গাণ্ডে পিণ্ডে যে দু’মাস গিলেছিস সেই খোরাকি দে। আমি তোর কাছে ভিখিরী হয়ে এসেছি? আমার পাওনা চুকিয়ে দিয়ে বেরো আমার বাড়ি থেকে, কালই আমি খেঁদিকে এনে বসাব। ঘাটের মড়া! দু-দু’মাসে একটি মিনসে ওর চৌকাঠ মাড়াল না, ওর আবার রোখ! কিছু বলি না বলে , ভালোমানুষীর কালই নেই, ভালো কথা বলতে এলুম না আমি বিরক্ত করতে এলুম! তাগা বেচবি না ত ক’দিন তোকে অমনি-অমনি পুষব রে মড়া?

    দম ফুরিয়ে গেছল বলেই বোধ হয় বাধ্য হয়ে এবার চুপ করে মাসী হাঁপাতে লাগল।

    মাসীর কণ্ঠস্বরে বাড়িময় সাড়া পড়ে গিয়েছিল, দরজার কাছে যে কয়েকজন এসে জমেছিল তার মধ্যে শশীই সব চেয়ে মাসীর আদরের—মাসী তাকে ছেলেবেলা থেকে মানুষ করেছে। তার দেহে যৌবনের কমনীয়তা হয়ত ছিল না কিন্তু বাঁধুনী ছিল, উগ্রতাও ছিল। তার রোজগার বেশী ছিল বলে সে বাড়ির সমস্ত বাসিন্দার হিংসার ঈর্ষার ও মাসীর স্নেহের পাত্রী। একটা সোনার চিরুনি হাতে ঘরের ভেতর ঢুকে সে ন্যাকামি ভরা আদুরে নাকীসুরে বললে, ‘ও—মাসী, তুই এখানে কোঁদল কচ্ছিস আর আমি তোকে খুঁজে খুঁজে সারা! তুই চিরুনিটা ভালো করে গুঁজে দিবিনে ত—বেশ আমার খোঁপা খুলে যাক!’

    শশী আবার ঠোঁট উলটে মুখ ঘুরিয়ে দরজার কাছে ফিরে গেল।

    মাসী তখনও ভালো করে দম ফিরে পায়নি, হাঁপাতে হাঁপাতে ক্রোধ-কর্কশ গলাটাকে যথাসাধ্য মোলায়েম করে বললে, ‘আয় না লো দিই, রাগ করিস কেন?’

    মাসীর পাওনা সত্যি সত্যি বাকী থাকলেও অন্যদিন হলে বেগুন মাসীর মুখনাড়ার প্রতিশোধ দিতে কিছুতেই পিছপা হ’ত না। কিন্তু আজ সে চুপ করেই রইল। বুকের পুরোন ব্যাথাটা আজ আবার বেড়ে উঠেছিল। প্রতুত্তর দেবার লোভ সামলান শক্ত হ’লেও চেঁচামেচির পরিণাম শরীরের পক্ষে কখনই ভালো হবে না, হয়ত তার ফলে এই দুঃসময়ে ক’দিন অকর্মণ্য হয়ে শয্যাগত থাকতে হবে জেনে সে অতিকষ্টে সংযত হয়ে রইল।

    শশীর পায়ে জুতো লক্ষ্য করে মাসী বললে, ‘ও আবার কি ঢং লা, মেমসায়েব হলিনাকি!’

    শশী আগেকার মতনই কচি খুকির গলা নকল করবার চেষ্টায় নাকীসুরে উত্তর দিলে, ‘বা! আজ যে একজিবিশনে যাচ্ছি, জানিস না বুঝি?’

    ‘সে আবার কি’?

    ‘ওমা, একজিবিশন লো একজিবিশন , সায়েবদের মেলা, জানিস না?’

    ‘তা আমায় নে যাবি নে?’

    শশী মুখ বেঁকিয়ে বললে, ‘হ্যাঁ, তুই যে ধুমসি, তোকে আবার নে যাবে! নড়তে পারিস না, থপ থপ করে চলিস, তোকে নে’ গে’ মুস্কিলে পড়ি আর কি?’

    এ কথা শশী ছাড়া প্রায় আর কারুর মুখ থেকে বেরুলে মাসী সহ্য করত না, কিন্তু শশীর এখন রাজপাট , সুতরাং অতিকষ্টে কথাটা হজম করে মাসী বললে, ‘বেশ আমি না হয় ধুমসি, তুই না হয় রূপুসী, তা বলে তোর মাসী ত, তুই পারিস বলেই সাধছি নইলে আর কাউকে কি বলতে গেছি?’

    মনস্তত্ত্বে মাসীর অশিক্ষিত পটুত্ব ছিল। রূপসী বলায় ও ক্ষমতার উল্লেখে খুশি হয়ে শশী বললে, ‘আচ্ছা, চ’ দেখি বাবু গাড়ি আনতে গেছে।’

    ঝগড়া হঠাৎ থেমে যাওয়ায় দরজায় ভিড় হাল্কা হয়ে গিয়েছিল। বেগুন ইতিমধ্যে নীরবে টীনের ভাঙা পেঁটরা থেকে কাপড়-চোপড় বার করায় মন দিয়েছে।

    ‘সায়েবদের মেলায় যাবার আশায় আপাততঃ রাগটা কিছু ভুলে, মাসী শশীকে নিয়ে বেরিয়ে যাবার সময় বলে গেল, ‘খোরকি আর ভাড়া না পেলে বাছা, বলে যাচ্ছি কাল থেকে আমার বাড়িতে আর তোমার জায়গা হবে না।

    ‘আচ্ছা, আজই ভাড়া দেব।’ বলে বেগুন দরজাটা সশব্দে ভেজিয়ে দিলে। তারপর তাড়াতাড়ি সাজপোশাক করতে মন দিলে। আজকের এই একজিবিশনই তার একমাত্র আশা। সত্যই দু’মাস তার ঘরে কেউ আসেনি, দু’মাস ধরে মাসীর কাছে ধারে খাচ্ছে। প্রদীপের তেলটুকুও আজ ক্ষ্যান্তর অনুপস্থিতিতে তার ঘর থেকে না বলে নিয়ে এসেছে! মাসী যে পয়সা না পেলে এতদিনের বাসিন্দা বলে একটুও খাতির রাখবে না একথা ভালো রকমই জানে। আজ কোনো রকমে শিকার হাতড়ান চাই-ই। তাই মান্ধাতার আমলের সিল্কের শাড়ীটা এতক্ষণ ধরে সে সেলাই করেছে। আজ একজিবিশনে গেলে, রাত্রের মতো খাওয়া বন্ধ জানলেও এখন জলখাবারের জন্যে অপব্যয় করবার তার একটা পয়সাও নেই। তার শেষ পয়সা ক’টি টিকিট কেনবার জন্যে রাখতেই হবে। প্রদীপের স্তিমিত আলোর সামনে সে চুলটা বাঁধতে গেল।

    ডানদিকে কপালের ওপরেই চুল অত্যন্ত পাতলা হয়ে টাক পড়বার মতো হয়েছে, সেখানটা যথাসাধ্য অন্যদিকের চুল টেনে সে খোঁপা বাঁধলে। একটি মাত্র ভালো সেমিজ ছিল তা ধোপা বহুদিন থেকে পয়সা না পেয়ে আর ফেরৎ দিয়ে যায় না—সুতরাং পুরোন আধ-ময়লা সেমিজটা দিয়েই কাজ চালাতে হবে। পাউডারের কৌটো বহুদিন খালি! কেরোসিনের ডিবের আলোয় খড়ির গুঁড়ো ধরা পড়ে না কিন্তু একজিবিশনের উজ্জ্বল আলোতে খড়ির গুঁড়ো মেখে যেতে তার সাহস হল না। দুই চোখের কালিভরা কোটর, লুকোবার কোনো উপায় নেই। তাদের ব্যবসায়ে ভালো সাজপোশাকের মূল্য যে কত, তা সে জানে, বিশেষতঃ এই যৌবনের পারে এসে মানুষের চোখে ধাঁধা লাগাতে হ’লে সাজপোশাকের অন্তরালে আসন্ন-বার্ধক্যের কুশ্রীতা গোপন না করলে যে চলতেই পারে না। কিন্তু বেশভূষা দূরের কথা, কিছুদিন ধরে দু’বেলায় উপযুক্ত যৎকিঞ্চিৎ অন্নসংস্থান করাও তার পক্ষে বিশেষ কঠিন হয়ে উঠেছে। যে তাগা জোড়া বিক্রী করবার পরামর্শ দিতে এসে মাসী এইমাত্র ঝগড়া করে গেছে, সেই তাগা-জোড়াটা বার করে নিয়ে সে পরলে। কেন সে তাগা বিক্রী করতে চায় না, তা যদি মাসী জানত! তার শেষ অলঙ্কার যে বহুদিন আগে অভাবের তাড়নায় বিক্রী হয়ে গেছে, একথা জানিয়ে, তার তাগা-জোড়া এবং সমস্ত গহনাই যে গিল্টি এই সংবাদ দিয়ে, সে আর বাড়ির সবার কাছে ছোট হ’তে চায় না।

    শেষকালে কিন্তু শশীর কথা মনে করে সে তাগা-জোড়া খুলে রাখলে। বহুদিন আগে তার এক সৌখীন সাহেবী-ঘেঁষা প্রণয়ী জুটেছিল। সে তাকে জুতো পরিয়ে বিবি সাজিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াত। তারি দেওয়া এক জোড়া হিল-তোলা জুতো বহুদিন পেঁটরার এক কোণে অব্যবহৃত হয়ে পড়ে ছিল। আজ সেটিকে বার ক’রে, ভালো করে পরিষ্কার করে অনেক দিন বাদে পায়ে দিলে। জুতোর সঙ্গে তাগা মানাবে না ভেবে, সে তাগা-জোড়া খুলে রেখেছিল।

    সাজগোজ সমাপ্ত করে যখন সে পথে বেরুল তখন বেশ অন্ধকার হয়ে এসেছে। অনেকখানি পথ হেঁটে যেতে হবে। অনেকদিন বাদে জুতো পায়ে দিয়ে চলতে একটু অসুবিধা হচ্ছিল কিন্তু একেবারে অনভ্যস্ত নয় বলে তার চলন নিতান্ত অস্বাভাবিক দেখাচ্ছিল না।

    চৌরঙ্গীর চৌমাথা পার হবার সময়, দুজন লোক তার সম্বন্ধে একটা অভদ্র ইঙ্গিত করে হেসে উঠল। তার আকর্ষণী শক্তি একেবারে লোপ পায়নি মনে করে বেগুন একটু খুশিই হ’ল।

    টিকিট-বিক্রেতা মনস্তত্ববিদ নয় , তাদের সে অবসরও নেই, নইলে সেদিন দক্ষিণ তোরণের টিকিট-ঘরের কাউন্টারে টিকিট নেবার সময় একটি শিরওঠা কঠিন সৌষ্ঠবহীন হাতের কাঁপুনিতে তারা অনেক কিছু দেখতে পেত। এটি বেগুনের শেষ আধুলি।

    আলোকের উন্মত্ত উৎসব! অসংখ্য উৎসবমত্ত মানুষের কোলাহলের সঙ্গে দূরের ব্যাণ্ডের অপরিস্ফুট সুরধারার মাধুর্য ও সমস্ত আনন্দ-সমারোহের ওপর অতল গভীর আকাশের স্নিগ্ধ নক্ষত্র-খচিত রহস্যাবরণ,—সমস্তই বেগুনের কুটিল পথক্লান্ত জীবনের,—নিত্য অবহেলার মরচেপড়া মনের কাছে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে গেল।

    মেহেদি গাছের বেড়া দেওয়া বাঁদিকের অপেক্ষাকৃত নির্জন পথটা দিয়ে সে এগিয়ে চলল। দুর্বল শরীরে এতখানি হেঁটে এসে অত্যন্ত ক্লান্তি বোধ করছিল। বুকের ভেতর পুরোন বেদনাটা তাকে পরিহাস করবার জন্যই যেন মাঝে মাঝে চিড়িক দিয়ে উঠছিল। কিছুদূর গিয়েই অল্প অন্ধকারে একটা খালি বেঞ্চি দেখে কিছুটা জিরিয়ে নেবার জন্য সে বসে পড়ল। এ পথটা দিয়ে লোকজনের যাতায়াত অপেক্ষাকৃত কম। সামনেই একটা বৈদ্যুতিক বাতির পোস্ট, কিন্তু তাতে আলো ছিল না। বেগুন কতকটা নিজের অজ্ঞাতে ও কতকটা সজ্ঞানে আসন্ন সংগ্রামের জন্যে যেন শক্তি সংগ্রহ করছিল। কিছুক্ষণ অবসন্নভাবে বসে থাকবার পর হঠাৎ পাশে চোখ পড়াতে সে বিস্মিত ও আনন্দিত হয়ে উঠল। তার অলক্ষ্যে কে একজন বেঞ্চির অন্য পাশে এসে বসেছে! অন্ধকারে তার মুখ ও বেশভূষা ভালো করে দেখা না গেলেও, সে যে পুরুষ এবং বলিষ্ঠ পুরুষ তা বুঝতে বিশেষ কষ্ট হয় না। বেগুন সজাগ ও উদগ্রীব হয়ে ভালো ক’রে বসল। ডান পায়ের জুতো মাটিতে ঠুকে বারকয়েক শব্দ করলে এবং মাথার কাপড় ফেলে হঠাৎ খোঁপার কি ত্রুটি শোধরাতে বিশেষ করে মন দিলে।

    সামনের বাতিটা কোন কারণে নিশ্চয় খারাপ হয়েছিল। একজন মিস্ত্রী সেটা জ্বালাবার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ বাতিটা পলকের জন্যে জ্বলেই নিভে গেল। ঐ পলকটিতে লোকটাকে দেখে নেবার সুযোগ কিন্তু বেগুনের হয়নি। যাই হোক লোকটা তাকে দেখতে পেয়েছিল নিশ্চয়ই। অন্ততঃ সেও এবার তার দিকে একটু পাশ ফিরে একটা পায়ের ওপরে পা তুলে দিয়ে বসল। মাথায় খোঁপার কাল্পনিক ত্রুটি শুধরে বেগুন বেশ একটু জোরেই হাতটা নামালে। হাতের গিল্টির চুড়িগুলি বেজে উঠল—রিনঠিন রিনিঠিন।

    অন্ধকার হ’লেও বোঝা গেল লোকটা তার দিকেই চেয়ে আছে , কিন্তু কিছুক্ষণ চুপ করে থেকেও তার দিক থেকে অগ্রসর হবার কোনো লক্ষণ পাওয়া গেল না। বেগুন একটু অধীর হয়ে উঠল! তবে কি লোকটা এখনো বোঝেনি, না কোনো গোবেচারী গোছের চাষাভূষো হবে?

    আলোটা জ্বলে না কেন? কিন্তু এই বেশভূষা নিয়ে আলোর চেয়ে অন্ধকারই যে তার পক্ষে সুবিধার একথা সে জানত। কিরকম লোক না জেনে আরো অগ্রসর হওয়া উচিত হবে কিনা ভাবছিল, এমন সময় লোকটা একবার কাশলে। বেগুনও একবার কাশলে। লোকটা আবার কাশলে!

    বেগুনের বুকটা আশায় দুলে উঠল! এ যে জোর করে নকল কাশবার চেষ্টা, তা বোঝা আর কঠিন নয়। আঁচল থেকে ধীরে ধীরে চাবিটা খুলে বেগুন পায়ের কাছে ফেলে দিলে। তারপর খানিক খোঁজবার ভান করে লোকটার দিকে ফিরে বললে, ‘আপনার কাছে দেশলাই আছে? আমার চাবিটা একটু খুঁজে দেখব—’

    লোকটা চমকে উঠল। সত্যি সে কণ্ঠস্বর চমকাবার মত। এই কণ্ঠস্বরটিতে এখনও কৈশোরের অপরূপ কোমলতা ও যৌবনের অসীম মাধুর্য ও স্নিগ্ধ মাদকতা অটুট ছিল। আর সে স্বরে ছিল—নিখিলের সুষমাময় নারীত্বের প্রচ্ছন্ন বিস্ময়ের আভাষ!

    এই পতিতার জীর্ণ জীবনের জঞ্জালে এই সদ্য-স্ফুট শেফালির মতো সৌরভ-শুচি কণ্ঠস্বর কেমন করে থাকতে পারে এইটেই আশ্চর্য! লোকটা চমকে উঠেছিল কারণ সে এতটা আশা করেনি।

    নীরবে পকেট থেকে একটা দেশলাই বার করে বেগুনের প্রসারিত হাতে সে গুজে দিল।

    বেগুন নীচু হয়ে দেশলাই জ্বেলে চাবি খোঁজবার ছল করবার মধ্যেই টের পেলে লোকটা আর একটু সরে বসেছে।

    সামনে ইলেকট্রিক বাতিটা আর একবার জ্বলে উঠল কিন্তু বেগুন মুখ তুলে লোকটাকে দেখবার আগেই আবার নিভে গেল! বেগুন মনে মনে বাতির ও বাতিওয়ালার সপ্তম পুরুষ উদ্ধার ক’রে আবার আর একটা দেশলাই জ্বাললে। বাতিটা যেন ইচ্ছে করেই তার সঙ্গে তামাসা করছিল। এবার আর চাবি খুঁজে পেতে দেরী হ’ল না। দেশলাইটা ফিরিয়ে দেবার ছলে বেগুন লোকটার হাতে একটা আঙুল দিয়ে ধীরে ধীরে আঘাত করলে, তারপর আর একটু ঘেঁষে বসল। বললে, ‘ভাগ্যিস আপনি ছিলেন, নইলে এই অন্ধকারে চাবি খোঁজা কি সোজা!—’

    লোকটা কোনো উত্তর দিলে না, শুধু অন্ধকারে একটা হাত বেগুনের কোমরে এসে ঠেকল! বেগুন সে হাতটা মুঠোয় খপ করে ধরে ফেলে একটু চাপ দিলে। অন্ধকারের মধ্যে স্পর্শ করে বেগুন অনুভব করছিল, হাতটা অত্যন্ত লোমশ ও চামড়া অত্যন্ত কর্কশ—লোকটা দেখতে খুব সুশ্রী বোধহয় হবে না—তা না হোক।

    বারকয়েক মিট মিট করে সামনে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে উঠল।

    ঘৃণায় বিতৃষ্ণায় আতঙ্কে লোমশ হাতটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বেগুন লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল। লোকটার উপরের ঠোঁট একেবারে নেই—মাড়ি থেকে লম্বা অপরিষ্কার দাঁতের পাতি, ভয়ঙ্কর ক্ষত থেকে বেরিয়ে এসে সমস্ত মুখটাকে বীভৎস করে তুলেছে, আর বাঁ দিকের সমস্ত গাল কবে যেন আগুনে ঝলসে পুড়ে বিবর্ণ মাংসপিণ্ড হয়ে গেছে!

    লোকটা বেগুনের এই আতঙ্কে একটুও হতভম্ব হয়নি এমন নয়, কিন্তু সে যেমন বসে ছিল তেমনি বসে রইল। বেগুন তার দিকে আর না চেয়ে এগিয়ে চলল। অনেক সময় ও অনেক কলাকৌশল তার বৃথা নষ্ট হয়েছে সত্য কিন্তু তা বলে ঐ দুঃস্বপ্নের সঙ্গে সে স্ফূর্তি করতে পারে না! এর চেয়ে ভালো শিকার সে নিশ্চয় যোগাড় করতে পারবে।

    অনেক দিন বাদে জুতো পায়ে দিয়ে অতখানি হেঁটে পায়ে ফোস্কা পড়েছিল। একটানা চলার সময় তার বেদনা বিশেষ কিছু অনুভব না করলেও অনেক্ষণ জিরোবার পর এখন হাঁটা একটু কষ্টকর হয়ে দাঁড়াল। এখন জুতো খুলে ফেলাও অসম্ভব, খুঁড়িয়ে হাঁটলেও হাস্যাস্পদ হ’তে হয় সুতরাং যন্ত্রণা গোপন করে সে যথাসাধ্য স্বাভাবিক ভাবে হাঁটবার চেষ্টা করছিল। তাকে হাঁটতেই হবে যে। কিছু দূর গিয়ে একবার পেছন ফিরে তাকাল। লোকটা তখনও তার দিকে চেয়ে সেই বেঞ্চিতেই বসে ছিল।

    নির্মম জুতোর নিঃশব্দ পীড়ন সহ্য করা বিশেষ কঠিন হয়ে উঠলেও সে অনেকক্ষণ নানাদিকে ঘুরে বেড়াল। মেলার মজা ও আমোদ লক্ষ্য করবার মতো মনের অবস্থা তার ছিল না। চারিদিকে ক্ষুধিত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে শিকার অনুসন্ধান করাতেই সে একেবারে তন্ময় হয়ে ছিল। যত সময় যাচ্ছিল তার আশঙ্কা ও অস্থিরতা তত বেড়ে উঠছিল। এ পর্যন্ত কোনো সুবিধা সে করতে পারেনি। কয়েকজন নিঃসঙ্গ পুরুষের আশেপাশে ঘুরে বেড়িয়ে ও কয়েকজনকে দৃষ্টির ইঙ্গিতে আকর্ষণ করবার চেষ্টা করে কোনো ফল হয়নি।

    শাখায় শাখায় লালবাতি-দেওয়া ঝাঁকড়া একটা গাছের তলায় বেশী ভিড় জমে ছিল। সেটা জুয়ার আস্তানা। লোহার আলের ওপর ঘুরে ঘুরে একটা ছ’কোণা কাষ্ঠখণ্ড খেলোয়াড়দের ভাগ্য নিরূপণ করছিল। বেগুন যখন গিয়ে সেখানে দাঁড়াল তখন ভাগবাঁটরা হচ্ছে, একতরফা খেলা শেষ হয়ে গেছে।

    একটি বামনাকার স্থূলকায় লোক স্মিতবদনে একতাড়া নোট পকেটে রাখছিলেন। খুশিতে তার দু’ভাঁজ চিবুক তিন ভাঁজ হয়ে উঠেছে। বেগুন ঠেলেঠুলে তাঁর পাশে জায়গা করে নিলে। তার ঠিক বিপরীত দিকে একটি ফিরিঙ্গি মেয়ে একটি ফিরিঙ্গি যুবকের কাঁধে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে কি বলছিল। তাদের কথাবার্তা না বুঝলেও হাব-ভাবে বেগুন বুঝতে পারলে ছেলেটি সম্প্রতি অনেক লোকসান দিয়ে আর খেলতে না চাইলেও মেয়েটি তাকে ছাড়তে দিতে চায় না।

    ইতিমধ্যে মোটা ভদ্রলোক পাঁচ নম্বরে একটা দশ টাকার নোট ধরেছেন। আবার কাষ্ঠখণ্ড ঘুরলো! তারপর চারিদিক থেকে কোলাহল উঠল, ‘চার নম্বর মার দিয়া!’

    মোটা ভদ্রলোকটি রাগে টেবিল চাপড়ে আর একটা দশ টাকার নোট বার করলেন। ওদিকে ফিরিঙ্গি ছেলেটির সাথে মেয়েটির বচসা সুরু হয়েছে। ছেলেটি এবারও হেরেছে ও মেয়েটি আর একটি ফিরিঙ্গি বুড়োর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। খানিক বচসা করে ছেলেটি মুখ রাঙা করে চলে গেল। বেগুন মোটা লোকটির আরো কাছ ঘেঁষে একবার জুতো দিয়ে তার পাটা মাড়িয়ে দিলে! তৎক্ষণাৎ আবার ক্ষমা চেয়ে সে বলতে যাচ্ছিল, ‘মাফ করবেন, দেখতে পাইনি।’ কিন্তু লোকটির কোনো দিকে ভ্রূক্ষেপ নেই, তিনি তার জুতোর চাপ টেরই বোধ হয় পাননি!

    আবার খেলা শুরু হ’ল। এবার নম্বর উঠল ‘দুই’। মোটা লোকটির টাকা ছিল তিনে।

    পেছন থেকে একটা ধাক্কা এল। বেগুন সামলাতে না পেরে ভদ্রলোককে জড়িয়ে ধরলে।

    ‘এইও পাজী বদমাস!’ ভদ্রলোক এক ঝটকায় তার হাত দুটো ছাড়িয়ে তাকে অন্য পাশে ছিটকে দিলেন। বেগুন এবার সত্য সত্যই অতি কষ্টে পেছনে লম্বা-চওড়া এক শিখের গায়ে ভর দিয়ে টাল সামলাল।

    ‘আরে হিঁয়ে ত মর যাওগে’ বলে শিখ তাকে ভিড় থেকে ঠেলে বার করে দিলে। সে অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়াল। কিন্তু ভেতরে ঢুকতে আর তার সাহস হচ্ছিল না। ভিড়ের বাইরে সে এর পর কি করা যায় ভেবে পেল না।

    যে সব পথে সারি সারি আলোকজ্জ্বল সুসজ্জিত দোকানের সামনে দিয়ে অসংখ্য লোকজন যাতায়াত করছিল, সেখানে তার যাবার উপায় নেই। তার সাজসজ্জার অসংখ্য ত্রুটি, তার অস্তমিত যৌবনের কুশ্রীতা সেখানে আলোকের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ধরা পড়ে যাবে। নিশাচর শ্বাপদের মতো তার অন্ধকারের সঙ্গেই আত্মীয়তা। একটি বয়স্ক সুবেশ বলিষ্ঠকায় ভদ্রলোক পাশ দিয়ে যাবার সময় তার দিকে একবার চেয়ে গেলেন। খানিক দূর গিয়ে আর একবার ফিরে চাইলেন, তারপর ডানদিকের ঝিলের উপরকার ছোট সাঁকো পার হয়ে অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

    বেগুন সন্দিগ্ধ মনে তাঁর পিছু নিলে। সাঁকো পার হয়ে একটা ছবির ঘরে গিয়ে বেগুন আবার তাঁকে দেখতে পেলে। ভদ্রলোক ব্যস্ত ভাবে যেন কি খুঁজছিলেন। সে বিপরীত দিক দিয়ে ঘুরে গিয়ে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে একটা ছবির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিলে। ভদ্রলোক বোধ হয় তাকে লক্ষ্য করেননি। হঠাৎ বেগুন তাঁর দিকে ফিরে বললে, ‘আচ্ছা, তের বছরের মেয়ে এমন ছবি আঁকতে পারে?’

    ভদ্রলোক বোধ হয় শোনেননি, কোনো উত্তর দিলেন না। বাম পাশ থেকে কে মিহি গলায় বললে, ‘হ্যাঁ , তের বছরের মেয়ে আবার অমনি আঁকতে পারে! ও অমনি বাড়িয়ে লিখেছে।’

    পেছনে শশী, তার জিরাফ-গর্দান কাঠঠোকরা-মুখো বাবুও মাসীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল। বেগুন আশ্চর্য হয়ে ফিরে তাকাল। মাসী একবার তার বেশের দিকে চেয়ে নাক সিঁটকে মুখ ফেরালে। শশী একটু হাসলে। কিন্তু তখন শশীর সালঙ্কারা সৌভাগ্য-গর্বিত যৌবনের সঙ্গে নিজের তুলনা করে ঈর্ষান্বিত হবার সময় তার ছিল না। ভদ্রলোক বেরিয়ে গেলেন , বেগুন তাঁর পিছু নিলে। মাসী পেছন থেকে বলছে শুনতে পেলে, ‘ওই রূপের আর দেমাক দেখে বাঁচি না!—’

    ভদ্রলোক বেশ জোরে হাঁটছিলেন। হয়ত এ অনুসরণে কোনো লাভ হবে না ভেবেও এবং পায়ের যন্ত্রণা সত্ত্বেও বেগুন যথাসাধ্য জোরে হাঁটতে সুরু করলে। প্রকাণ্ড একটা নাগরদোলার সামনে গিয়ে তিনি বসলেন। বেগুন এবার মরিয়া হয়ে তাঁর কাছে গিয়ে হাতটা খপ ক’রে ধরে ফেলে বললে, ‘আসুন না, ঐ চেয়ারটা খালি আছে।’

    ভদ্রলোক বিস্মিত হয়ে বিমূঢ় দৃষ্টিতে তার দিকে ফিরে চাইলেন। ভদ্রলোক শুনতে পাননি ভেবে বেগুন কম্পিত বুকে, হাতে একটু টান দিয়ে বিবর্ণ-মুখে হাসি ফোটাবার চেষ্টা করে আবার বললে, ‘আসুন না, ওই দোলাটায় একবার চড়ে আসি।’ কিন্তু তৎক্ষণাৎ সভয়ে তাঁর হাত ছেড়ে দিলে। ভদ্রলোকের মুখে চোখে অসীম বিতৃষ্ণা ও ক্রোধ ফুটে উঠেছিল। এমন দুঃসাহস অবশ্যই তিনি আশা করেননি। ক্রোধকটুকণ্ঠে তিনি বললেন, ‘তোমার এই বেয়াদবির জন্যে তোমায় পুলিশে ধরিয়ে দিতে পারি জান?—নচ্ছার পাজী মেয়েমানুষ কোথাকার!—’

    বহুদিনের পুরাতন বেদনাটা আবার বুকের পাঁজরায় পেরেক ঠুকছিল। ভদ্রলোক বলছিলেন, ‘তোমার এতবড় আস্পর্ধা—’

    হঠাৎ পাশ থেকে একটি ছেলে ডাকলে ‘বাবা! ওমা, এই যে বাবা।’ আধা ঘোমটা দেওয়া একটি স্ত্রীলোক কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বেগুন ভদ্রলোকের ক্ষণিকের অন্যমনস্কতার সুযোগে সেখান থেকে সরে গেল। খানিক দূর গিয়ে একটা চেয়ারে সে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ল। মাথাটা ঘুরছিল, চোখেও যেন একটু ঝাপসা দেখছিল—এখন যদি একটু মদ পেত!

    কিন্তু ক্রমশঃ সময় যাচ্ছে। আজ যাহোক কিছু রোজগার করা চাই-ই। এখন মনে হচ্ছে, সেই প্রথম শিকার অবহেলা করা হয়ত উচিত হয়নি, কিন্তু সে যে ভাবতেও গা শিউরে ওঠে! কিছুক্ষণ পরে এক জড়ভরতকে কাঁধে ভর করিয়ে এনে একটি মেয়ে তার সামনের চেয়ারে বসিয়ে দিলে। মেয়েটি যে তারই সমশ্রেণীর এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু এই অষ্টাবক্র মূর্তিমান জরাকে কোথা থেকে সে পাকড়াও করলে!

    বুড়োকে চেয়ারে বসিয়ে মেয়েটা বললে, ‘খবরদার, এখান থেকে নড়িসনি বুড়ো, তা’হলে তোর হাড়মাস একজায়গায় রাখব না!’ বুড়ো সুরা-জড়িত কণ্ঠে অস্পষ্টভাবে কি বললে বোঝা গেল না। মেয়েটা বললে ‘দে টাকা, এক বোতল আনি।’ তারপর বুড়োর পকেটে হাত দিলে। কিন্তু এ বিষয়ে বুড়ো এখনও খুব সজাগ , সে আর্তকণ্ঠে বিকৃত স্বরে চিৎকার করে বললে, ‘ঐ নিলে, সব চুরি করে নিলে!’ মেয়েটা বিরক্ত হয়ে পকেট থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে বললে, দে তবে হতচ্ছাড়া, তুই নিজেই দে।’ বুড়ো পকেট থেকে একটা নোট কম্পিত হাতে বার করে দিলে, মেয়েটা চলে গেল।

    বেগুন নীরবে সমস্ত লক্ষ্য করছিল। বুড়োর যেমন রূপ তেমনি বেশ! তার দেহের গঠন দেখলে মনে হয়, মাত্র সম্প্রতি সে চতুষ্পদে চলা ত্যাগ করেছে। তার কুৎসিত মুখের লোল-মাংসে ও প্রতি রেখায় সারাজীবনের পৈশাচিক ইতিবৃত্ত লেখা। বেশ তার অদ্ভুত। শীর্ণ দেহে একটা ময়লা চাপকান এবং সে চাপকানের ওপর আবার এক দুর্গন্ধ নোংরা চাদর। গলার কম্ফর্টার জড়ান, পাঁকাটির মতো সরু ও ধনুকের মতো বাঁকা পায়ে লাল মোজা ও ক্যাম্বিশের ছেঁড়া জুতো। ঐ ধবংসাবশেষের মাঝে মৃত্যুর ভ্রুকুটির তলেও কদর্য কামনার বীভৎস উৎসবের লীলা আজও থামেনি। বেগুনের নিঃসাড় মনেও ঘৃণা ও বেদনা জাগছিল।

    কিন্তু বৃদ্ধের পকেট টাকায় ভরা ঐ মেয়েটার বদলে যদি সে নিজে আজ একে শিকার করতে পারত, কিছুদিনের দুর্ভাবনা অন্ততঃ ঘুচত। একবার ইচ্ছে হ’ল যে, মেয়েটার অনুপস্থিতিতে বুড়োকে ভুলিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে যায়। কিন্তু সাহস হ’ল না। মেয়েটা যদি আর না আসে, তাহ’লে হয়ত ভালো হয়, কিন্তু সে সম্ভাবনা খুব কম। মেয়েটার কিন্তু অনেক দেরি হচ্ছিল।

    অনেকক্ষণ পর্যন্ত মেয়েটিকে আর ফিরতে না দেখে বেগুন অবশেষে আর নিশ্চেষ্ট হয়ে থাকতে পারলে না। বৃদ্ধ বোধ হয় ঝিমোচ্ছিল। ধীরে ধীরে তার কাছে গিয়ে বসল। পকেট থেকে মনিব্যাগটা উঁকি মারছিল। একবার ইচ্ছে হ’ল এই অবসরে মনিব্যাগটা নিয়ে সরে পড়ে, কোনো হাঙ্গামা নেই, কেউ দেখতেও পাবে না। কিন্তু সে সাহস হ’ল না, বুড়ো সে সুযোগ দিলেও না, হঠাৎ চোখ চেয়ে বললে, কে, রূপো এলি? দে, বোতল দে।’

    বেগুন বললে, ‘আমি রূপো নই—’

    ‘আচ্ছা তুই সোনা, দে এখন, বোতল দে।’

    সে হাত বাড়ালে।

    ‘বাঃ, আমি বোতল কি জানি!’

    বুড়ো এবার চটে বললে, ‘আমার সঙ্গে ইয়ার্কি হচ্ছে? দে বলছি বোতল!’

    বেগুন বুড়োকে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বললে, ‘মর বুড়ো, আমি কি তোর রূপো, তোর রূপো চম্পট দিয়েছে।’

    বুড়ো এবার সচেতন হয়ে উঠল। বেগুনের দিকে চেয়ে বললে, ‘কোথায় গেল রূপো? তুই কে!’ তারপর দুর্বল পায়ে উঠবার চেষ্টা করলে। বেগুন তাকে নিরস্ত করতে গেল। বুড়ো চিৎকার করে বললে, ‘না না, আমার রূপোকে খুঁজব, ছাড় তুই মাগী।’ কিন্তু বুড়োর ওঠবার ক্ষমতা ছিল না, বেঞ্চিতে আবার টলে পড়ল। বেগুন বৃদ্ধের গলা বাহু দিয়ে বেষ্টন করে বললে, ‘রূপো থাকগে, আমি তোকে বোতল দেব, চ আমার সঙ্গে!’

    ‘না না, আমার রূপোকে চাই!’ বৃদ্ধ বেগুনের বাহুর বেষ্টন থেকে মুক্ত হবার দুর্বল চেষ্টা করতে লাগল। বৃদ্ধের বুকে মাথাটা রেখে ফুঁপিয়ে কান্নার অভিনয় করে এবার বেগুন বললে, ‘কে তোর রুপো? তোকে ফেলে সে পালিয়ে গেল, আর আমি তোকে সাধছি তবু আমায় পায়ে ঠেলছিস!’ অভিনয়ে চির-অভ্যস্ত এই পতিতার পঙ্কিল হৃদয়ও সে জঘন্য অভিনয়ে বিতৃষ্ণায় ভরে উঠেছিল—কিন্তু উপায় নেই।……..

    বুড়োকে রাজী করিয়ে অনেক কষ্টে তাকে গেটের কাছাকাছি এনে বেগুনের একটু আশা হ’ল। এই দুর্বল অসুস্থ শরীরে এই অথর্ব বৃদ্ধের ভার বয়ে আনা সহজ নয়। বেগুনের সমস্ত দেহ ভেঙে পড়তে চাইছিল কিন্তু গেটের কাছে পৌঁছোলেই কিছুদিনের মতো দুঃখের অবসান হবে ভেবে, আশায় সে প্রাণপণে এগিয়ে চলছিল। হঠাৎ পেছন থেকে কে হাঁকলে, ‘এইও, খাড়া হো যাও—’

    বেগুন তখনও এগিয়ে চলছিল। লালপাগড়ী-পরা পাহারাওয়ালা পেছন থেকে ছুটে এসে সামনে দাঁড়িয়ে কর্কশ কণ্ঠে বললে, ‘এত্তা চিল্লাতা, শুনতে নেহি?’

    সভয়ে বেগুন দাঁড়িয়ে পড়ল। বৃদ্ধের শিথিলপ্রায় দেহ তার কাঁধে ঝুলছিল।

    ‘ইতো মাতোয়ালা হ্যায়, ছোড়দে ইসকো—’

    বৃদ্ধ অস্পষ্ট স্বরে বললে, ‘হ্যাঁ বাবা, মাতাল হ্যায়।’ বেগুন হতাশ হয়ে শেষ চেষ্টা করে বললে, ‘আমার স্বামী যে, পাহারাওয়ালা সাহেব!’ দু’চারজন লোক মজা দেখতে জড় হয়েছিল, তারা হেসে উঠল।

    ‘চুপ বদমাস মাগী, দিললাগি করতা—’ পাহাড়াওয়ালা বৃদ্ধকে ধরে নিয়ে গেল! অনেকদিন বাদে বেগুনের চোখ সজল হয়ে উঠছিল বোধ হয়।

    লোকের ভিড় অনেক কমে গেছল। রাত্রি অনেক হয়ে এসেছে। যে পথে প্রথম একজিবিশনের ভেতর গিয়েছিল সেই পথেই আবার বেগুন চলতে আরম্ভ করলে। এখন তার মনে হচ্ছিল প্রথম সুযোগ ত্যাগ করা তার ভয়ানক বোকামি হয়েছে।—ভাগ্যহীনার আবার সুরূপ কুরূপ।

    বেঞ্চিটা দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল। তার ওপরে কে যেন শুয়ে আছে মনে হ’ল। ভাগ্যের এত পরিহাসের পর আর দুরাশা করবার তার সাহস ছিল না। কিন্তু নিজের সৌভাগ্য সে প্রথম বিশ্বাস করতেই পারল না। যাকে দেখে সে কিছু পূর্বে আতঙ্কে শিউরে উঠেছিল তার সেই বিভৎস মূর্তিই খানিক পরে তার এত আনন্দের কারণ হবে, এ কথাও সে কল্পনা করতে পারেনি। সেই মূর্তিমান দুঃস্বপ্নই বেঞ্চির উপর শুয়ে ঘুমোচ্ছিল। মনের অদ্ভুত বিতৃষ্ণা-ভরা আনন্দ দমন করে সে তাকে ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে বললে ‘রাত অনেক হয়ে গেছে—’ এই জাগানোর অধিকার নিয়ে কোনো সন্দেহ কোনো দ্বিধা তার মনে আর ছিল না।

    লোকটা হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে তার দিকে বিমূঢ় দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। লোকটার গায়ে খাকী ছেঁড়া কোট, পরণে আধ ময়লা কাপড় দেখে নিম্লশ্রেণীর মিস্ত্রী-টিস্ত্রী হবে বলে মনে হয়। লোকটার হাত ধরে তুলে বেগুন কিন্তু অবিচলিতভাবে বললে, ‘চলো, যাবে না?’

    প্রথমে ঘুমের ও বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে লোকটা দু’হাতে চোখ রগড়ে উঠে দাঁড়াল। মেলায় লোক আর ছিল না বললেই চলে। তারা দুজনে পাশাপাশি এগিয়ে চলল। ক্ষুধায় শ্রান্তিতে বেগুনের পা আর চলছিল না। খাবারের দোকানের সামনে এসে বেগুন তাকে থামিয়ে বললে, ‘দাঁড়াও কিছু খাবার আনি, কিছু রেস্ত বের করো দেখি।’

    লোকটা ধীরে ধীরে একে একে তিনটে পকেটের ভেতরকার কাপড় উল্টে দেখালে।

    কিছুক্ষণ নিঃসাড় হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে বেগুন তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলতে লাগল, ‘মিনি-পয়সায় ইয়ার্কি দিতে এসেছ হারামজাগা চোর।—’

    লোকটা নীরবে দাঁড়িয়ে রইল, তার অন্তরের কোনো ভাবই মুখের বিকৃত ভগ্ন আয়নায় প্রতিফলিত হবার সম্ভাবনা ছিল না। বেগুন হতাশ হয়ে একবার তার পকেট ও পয়সা লুকোবার সম্ভব-স্থান নিজে হাতড়ে দেখলে। একটি দেশলাই ও গুটিকতক বিড়ি ছাড়া তার কোনো সম্বল ছিল না।

    দাঁতে দাঁত চেপে অসীম অসহায় হতাশায় কপর্দকহীন সেই মূর্তিমান দুঃস্বপ্নের হাত ধরেই বেগুন বললে, ‘চলো—’

    এবার তাদের পথে কেউ বাধা দিলে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত
    Next Article নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Our Picks

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }