Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার এক পাতা গল্প713 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিরুদ্দেশ প্রাপ্তি হারানো – সমরেশ মজুমদার

    চারদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর সেন বাড়ির আবহাওয়ায় টান লাগল। মাধুরী নীচুগলায় শাশুড়িকে জানাল, ‘মা, বাবাকে ওঁর খবর নিতে বলবেন?’

    ‘কেন ক-দিন হল?’ ফুল তুলতে তুলতে শোভনা প্রশ্ন করলেন।

    ‘চারদিন।’

    ‘সে কী! ও তো দু-দিনেই ফিরে আসে। তোমাকে কিছু বলে যায়নি?’

    নীরবে মাথা নাড়ল মাধুরী। শোভনা আড়চোখে পুত্রবধূর দিকে তাকালেন। অনেক খুঁজে খতিয়ে এই মেয়েকে এনেছিলেন তিনি বেআক্কেলে ছেলেটাকে বাঁধবার জন্য। এরকম সুন্দরী সচরাচর চোখে পড়ে না, ব্যবহারটিও ভারী মিষ্টি। কিন্তু কিছুই হয়নি। সেই মাঝরাতে টলতে টলতে বাড়ি ফেরা, চিৎকার-চেঁচামেচি, অবিরত শহরের মানুষের নালিশ এবং পুলিশের শাসানি একটুও বন্ধ হয়নি। না, ঠিক হল না। মাস ছয়েক হল, বিয়ের দু-মাস পর থেকেই, চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছে না। কখন বাড়িতে আসছে—কখন বের হচ্ছে, টের পাওয়া যাচ্ছে না।

    শোভনা বললেন, ‘ঠিক আছে যাও, আমি দেখছি।’ মাধুরী ফিরে গেল। মেয়েটার শরীরে ঈশ্বর সব দিয়েছেন। শোভনার নিজের যৌবনের দিনেও এত পাননি। অথচ ছেলেটা এসব চোখ মেলে দেখল না। ভাগ্যিস ওর বাপ নেই, মায়ের অবস্থা ভালো নয়। নইলে এই মেয়েকে একমাসও ধরে রাখা যেত না!

    ঠাকুরঘরে বসেও শোভনার অস্বস্তি হচ্ছিল। চারদিন উধাও হয়নি কখনও ছেলেটা। যখন পেটে কিছু থাকে না তখন খুব ভালো ব্যবহার, অমন ছেলে হয় না। স্বর্ণকমল অত্যন্ত সুদর্শন। দীর্ঘদেহ, গলা খুলে হাসতে জানে। কিন্তু কতক্ষণ? ঘুমের সময় বাদ দিলে বড়োজোর ঘন্টা চারেক। তবে ইদানীং একটা কালচে ছায়া পড়ছে শরীরে। তিরিশ বছরেই অত্যাচারের চিহ্নগুলো শরীরে ফুটছে। কোনও কিছুতেই পালটানো গেল না তাকে।

    যে নিজে সুন্দর তার কোনও সুন্দরই পছন্দ হয় না, বুঝতে পারেন না শোভনা। যা কিছু কুৎসিত, যা কিছু কুরুচির ছাপ, তাতেই তার দিকেই ঢলে ছেলেটা। ডাক্তার অনিল সেনের ছেলে দল বেঁধে মারপিট করছে, বাড়ির যুবতি কুশ্রী ঝিয়ের সঙ্গে রসিকতা করছে কী করে তার কোনও কারণ খুঁজে পান না শোভনা। সেই ছেলে চারদিন উধাও হয়ে আছে।

    পুজোর ঘর থেকে বেরিয়ে নীচে নামলেন শোভনা। এখন ডাক্তারবাবুর চেম্বারে যাওয়ার সময়। সকালে এই সময় যা কিছু সারতে হয়। শহরের সবচেয়ে দামি এবং ব্যস্ত ডাক্তার অনিল সেন। নীচে নেমে দেখলেন ডাক্তারবাবুর জামাকাপড় পরা হয়ে গেছে। চিরকালই সাহেব মানুষ, নিজের কাজ নিজে করতে ভালোবাসেন। স্ত্রীকে দেখে বললেন, ‘দাগটা কেমন আছে?’

    শোভনা মাথা নাড়লেন, ‘তোমার ওষুধে কমবে না।’

    ‘দেখি।’ হাত বাড়ালেন ডাক্তার। মাসখানেক হল শোভনার ডান বাজুতে একটা সাদা কালো মেশা দাগ জন্মেছে। প্রথমে ভেবেছিলেন শ্বেতি কিন্তু একটু একটু করে বোঝা গেল তা নয়। ডাক্তার ওষুধ দিচ্ছেন, অথচ কাজ হচ্ছে না তেমন।

    শোভনা হাত নাড়লেন, ‘ও এমন কিছু না। তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে।’

    ডাক্তার বললেন, ‘আবার কী হল?’

    শোভনার গলায় উদবেগ ‘তুমি খোকার খবর নাও।’

    ‘খোকা, কী হয়েছে তবে?’ ডাক্তারের গলায় বিস্ময়।

    ‘চারদিন বাড়ি ফেরেনি।’

    ‘কিছু বলে যায়নি?’

    ‘না। বলে গেলে তোমায় বিরক্ত করতাম না।’

    ‘বউমা কী বলছে?’

    ‘এ অবস্থায় একটা মেয়ে কী বলতে পারে?’

    ‘আমি বুঝি না, সত্যি বুঝতে পারি না। স্বামী মাতলামি করছে, ছোটোলোকদের সঙ্গে কী মিশছে, দিনরাত বেশ্যাবাড়িতে পড়ে থাকছে আর স্ত্রী হয়ে বউমা এসব সহ্য করছে কী করে? ওর তো ইতিমধ্যেই ডিভোর্স নিয়ে নেওয়া উচিত ছিল।’

    ‘আমরা কী করে সহ্য করছি।’ শোভনা স্বামীর মুখের দিকে তাকালেন।

    ‘তোমার জন্যে। নইলে আমি ওকে ত্যাজ্যপুত্র করতাম।’

    ‘করোনি যখন, তখন এটুকু করো।’

    ‘কী করব?’

    ‘ওর একটু খোঁজ নাও।’

    ‘চমৎকার!আমি যতো গুন্ডা বদমাশ মাতালদের কাছে গিয়ে বলব, ‘ও মশাই আমার পুত্ররত্নটিকে দেখেছেন? অসম্ভব!তোমার ছোটো ছেলেকে পাঠাও!’ অনিল সেনের এই কথাগুলো শোভনাকে হজম করতে হল। তিনি স্বামীর যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন। বেরিয়ে যাওয়ার আগে নিজেই যেন নিজেকে শোনালেন অনিল ডাক্তার, ‘চিন্তা করে কোনও লাভ নেই। ও ছেলের কোনও ক্ষতি হবে না। আরে বাবা যারা খুনখারাপি করে তারাই তো ওর বন্ধু। যাবে কোথায়, পেটে টান পড়লেই ফিরবে।’

    শোভনা দোতলায় কোণার ঘরে চলে এলেন। ছোটোছেলে অরুণদীপ্তি বিছানায় উপুড় হয়ে তার কলেজের পড়া করছিল। ফরসা, দাদার মতোনই লম্বা, অত্যন্ত রোগা শরীর। ছাত্র হিসেবে এই জেলার প্রথম সারির। শোভনার একমাত্র। শোভনার একমাত্র গর্বের কারণ। শোভনাকে দেখে অরুণদীপ্তি উঠে বসল, ‘কিছু বলবে মা?’

    ‘তোকে একটা কাজ করতে হবে বাবা। স্বর্ণ চারদিন বাড়ি ফেরেনি। এরকম কখনও করে না। তোর বাবাকে বললাম তিনি আমলই দিলেন না। তুই একটু খোঁজ নিবি?’

    ‘কোথায় খোঁজ নেব? দাদা কোথায় যায় আমি জানি না।’

    শোভনা এই নিরীহ ছেলেটির দিকে আদরের চোখে তাকালেন। বাড়ল কিন্তু বড়ো হল না। ওর দাদা এই বয়েসেই পেতল দিয়ে একটা দাঁত বাঁধিয়ে বাড়িতে অশান্তির ঝড় তুলেছিল। শোভনা বললেন, ‘ওর বন্ধুদের কাছে খোঁজ খবর নে। বড়ো হয়েছিস, নিজের বিচার বিবেচনা নেই? ছোট্ট একটা শহরে সে কোথায় থাকতে পারে খুঁজে দ্যাখ।’

    স্বর্ণকমলকে অরুণদীপ্তি ইদানীং এড়িয়ে চলে। তার দাদা গুন্ডা বদমাসদের বন্ধু, দিনরাত মদ খায়, এই তথ্যগুলো তাকে ভীষণ হেয় করে। স্বর্ণকমলের ভাই—এই পরিচয় তাকে পীড়িত করে। শোভনা চলে যাওয়ার পর সে খুব বিরক্ত মনে পোশাক পালটে বের হতেই মাধুরীকে দেখতে পেল। এই সুন্দরী সুশীলা বউদিটির প্রতি সে প্রতিনিয়ত আকর্ষণ বোধ করে। প্রায়শই নিজেকে অমল এবং মাধুরীকে চারুলতা হিসেবে কল্পনা করে। কিন্তু স্বর্ণকমল ভূপতি? কস্মিনকালেও নয়।

    অরুণদীপ্তি এগিয়ে গেল, ‘বউদি?’

    মাধুরী মুখ ফিরিয়ে হাসল, ‘ওমা, পড়া হয়ে গেল?’

    ‘হল কোথায়? মাতৃদেবীর আদেশ হয়েছে রামচন্দ্রকে খুঁজতে যেতে হবে!’

    অরুণদীপ্তি মাধুরীর সামনে এসে দাঁড়াল। এই শহরে এত সুন্দরী মেয়ে সে আর একটিও দেখতে পায়নি। তাকালেই মন নরম হয়ে যায়, বুকের ভেতরটা কেমন লাগে। মাধুরী মুখ নামিয়েছিল, অরুণদীপ্তি শুধাল, দাদা কোথায় যেতে পারে বলো তো? নীরবে মাথা নাড়ল মাধুরী, সে জানে না।

    ‘ঠিক আছে, তুমি চিন্তা করো না, আমি দাদাকে ধরে দিচ্ছি।’ বউদির জন্যে কাজ করার সুযোগ পেয়ে খুশি হল অরুণদীপ্তি। স্বর্ণকমলের ওপর তার যা কিছু রাগ মাধুরীকে দেখলেই উবে যায়।

    পাড়াতেই স্বর্ণকমলের এক বাল্যবন্ধু থাকে। স্থানীয় স্কুলের মাস্টার। অরুণদীপ্তির তার সঙ্গে পরিচয় ছিল। তাকে দেখে মাস্টারমশাই বললেন,

    ‘কী খবর অরুণ?’

    ‘আমার দাদাকে দেখেছেন?’

    ‘কে স্বর্ণ? না তো! কী হয়েছে ওর?

    ‘জানি না। চারদিন বাড়িতে ফেরেনি।’

    ‘ও। তা আমার সঙ্গে তো ইদানিং যোগাযোগ নেই। তুমি বরং থানায় খবর নাও।’

    ‘ও মেসোমশাই জানেন না বুঝি! তাহলে এক কাজ করো। রঞ্জিতকে চেনো?’

    ‘রঞ্জিত!’

    ‘ওই যে চৌমাথার যে লন্ডি˜টা আছে তার মালিক। তোমার দাদার এখন খুব বন্ধু। ওর কাছে চলে যাও, ও জানতে পারে।’

    সাইকেল চালিয়ে রঞ্জিতের লন্ডি˜তে চলে এল অরুণদীপ্তি। দোকানটা সবে খুলেছে। বড়ো গোঁফ মোটাসোটা লোকটাই রঞ্জিত। আসা-যাওয়ার পথে দেখেছে অরুণদীপ্তি। সে দোকানে ঢুকতেই জিজ্ঞাসা করল, ‘কী চাই?’

    ‘আমি স্বর্ণকমল সেনের ভাই।’

    সঙ্গে সঙ্গে রঞ্জিতের কপালে ভাঁজ পড়ল। মুখটা যেন কেমন হয়ে গেল, ‘ও।’

    ‘আমার দাদাকে আপনি দেখেছেন?’

    ‘আমি? না তো। কেন?’

    অরুণদীপ্তি হতাশ হল, ‘দাদা ক-দিন বাড়ি ফেরেনি তাই।’

    ‘না ভাই, আমার সঙ্গেও দেখা হয়নি।’

    ‘আচ্ছা, দাদা কোথায় যেতে পারে বলতে পারেন?’

    রঞ্জিত দু-মুহূর্ত চিন্তা করল। তারপর হেসে বলল, ‘তোমরা কিছু জানো না?’

    ‘না।’

    ‘তাহলে আমার মুখে নাই বা শুনলে। ঠিক আছে, দেখা পেলে পাঠিয়ে দেব।’

    অরুণদীপ্তি বুঝল এখানে দাদার খবর পাওয়া যাবে না। লোকটা যেন তাকে তাড়াতে পারলেই বাঁচে। সে মাথা নীচু করে রাস্তায় নেমে সাইকেলটা ধরে হাঁটতে লাগল। এবার কার কাছে যাওয়া যায়? কোনও সূত্র জোগাড় না-করে বাড়িতে ফিরলে খুব অসম্মানের ব্যাপার হবে। চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ও মানুষ দেখছিল। এখন অফিসের সময়। রিকশা এবং সাইকেলের মিছিল শুরু হয়ে গেছে। কী করা যায় বুঝতে পারছিল না অরুণদীপ্তি। এই সময় একটা রিকশাওয়ালা এসে সামনে দাঁড়াল। এক ভদ্রলোক ভাড়া মিটিয়ে চলে গেলে রিকশাওয়ালা ওর দিকে তাকিয়ে হাসল, ‘কী খোকাবাবু, এখানে?’

    বিরক্ত হল অরুণদীপ্তি, ‘এমনি।’

    রিকশাওয়ালাটা অনিল সেনের কাছে ওষুধ নিতে আসে প্রায়ই। সেইসূত্রে বোধহয় ওকে চেনে।

    হঠাৎ ওর মনে হল প্রায় রাতেই দাদা নেশা করে রিকশায় চেপে বাড়ি ফেরে। সে রিকশাওয়ালাকে ডাকল, ‘শোনো।’

    রিকশাওয়ালা রিকশাটা নিয়েই সামনে এগিয়ে এল। অরুণদীপ্তি একটু ইতস্তত করে জিজ্ঞাসা করল, ‘আচ্ছা কাল পরশু তুমি আমার দাদাকে দেখেছ?’

    ‘স্বর্ণবাবু! না ক-দিন তো দাদাকে দেখিনি।’

    ‘আচ্ছা, তুমি কি রাত্রে দাদাকে কখনও এনেছ?’

    রিকশাওয়ালা হাসল, ‘হ্যাঁ বাবু, অনেকবার।’

    ‘দাদা কোত্থেকে রিকশায় উঠল?’

    রিকশাওয়ালার মুখ কুঁকড়ে গেল। বোধহয় কী বলবে ভেবে পাচ্ছিল না সে। অরুণদীপ্তি সেটা লক্ষ করে আশ্বাস দিল, ‘তুমি নির্ভয়ে বলো। দাদাকে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথায় নেশা করত জানলে খোঁজ করতে পারি।’

    এবার রিকশাওয়ালা বলল, ‘সে বড়ো খারাপ জায়গা বাবু।’

    ‘আমাকে নিয়ে যেতে পারো?’

    ‘আপনি যাবেন! পাড়াটা ভালো না!’

    অরুণদীপ্তির রোখ চেপে গেল। সে দুগ্ধপোষ্য নাকি! কড়া গলায় বলল, ‘দিন-দুপুরে গেলে আমার কী হবে। তোমাকে বলছি দাদাকে দরকার। চলো, আমি যাব।’

    রিকশাওয়ালা তখনও কিন্তু কিন্তু করছিল, ‘ডাক্তারবাবু জানলে—!অবশ্য শহরের অনেকেই জানে স্বর্ণবাবুকে ওখানেই পাওয়া যায়। বেশ, চলুন তবে।’

    খালি রিকশার পেছনে পেছনে অরুণদীপ্তি সাইকেল চালিয়ে শহরের এক প্রান্তে চলে এল। এদিকে একটা বড়ো বাজার আছে। ভীষণ ঘিঞ্জি এলাকা। বাজার পেরিয়ে একটা গলির মুখে এসে রিকশাওয়ালা তার গাড়ি থামাল, ‘স্বর্ণবাবু এই গলি থেকে বের হয়।’

    অত্যন্ত নোংরা রাস্তা। পাশেই নর্দমা। সেখানে শুয়োরের পাল চরছে। দু-তিনজন মধ্যবয়সি স্ত্রীলোক এই বেলায় ব্যাগ হাতে বাজার যাচ্ছে। অরুণদীপ্তি বন্ধুদের মুখে এই গলির কথা শুনেছে। শহরের গণিকাদের বাস এখানে। তারা অত্যন্ত নিম্লমানের এবং এই অঞ্চলে কোনো ভদ্রসন্তান পথ ভুলেও পা দেয় না।

    ‘ওখানে মদের দোকান আছে?’ অরুণদীপ্তির অস্বস্তি হচ্ছিল।

    ‘হ্যাঁ খোকাবাবু, হরি শার দোকান আছে।’ তারপর কী ভেবে বলল, ‘এক কাজ করুন। আপনি আমার সঙ্গে চলুন। আমি খোঁজ নিচ্ছি, আপনি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবেন। আপনার একা যাওয়া ঠিক নয়। গলিটা খারাপ।’ রিকশাওয়ালার পেছন পেছন অরুণদীপ্তি গলিতে ঢুকল। দু-ধারে চাপা চাপা ঘর। তার বারান্দায় বসে বিভিন্ন বয়সের মেয়েরা গল্প করছে। অরুণদীপ্তির মনে হল এত কুৎসিত চেহারায় মেয়েকে সে একসঙ্গে কখনও দেখেনি। হঠাৎ একজন চেঁচিয়ে উঠল, ‘এই যে নাগর, মুখ তুলে চাও।’ আর একটি কণ্ঠ খিলখিলিয়ে উঠল, ‘কচি ছাগল।’

    রিকশাওয়ালা চাপা গলায় বলল, ‘এসব কথায় কান দেবেন না ছোটোবাবু, দিলেই পেয়ে বসবে।’

    অরুণদীপ্তির মুখে রক্ত জমেছে, খুব রাগ এবং ঘেন্না লাগছিল তার। দাদা এই জায়গায় মদ খেতে আসে? আশ্চর্য! ওরা নিশ্চয়ই দাদার সঙ্গেও এইসব কথা বলে।

    হরি শা-এর দোকান ঠিক মাঝখানে। তখন সবে দোকান খুলেছে। রিকশাওয়ালা তাকে দাঁড়াতে বলে ভিতরে চলে গেল। অরুণদীপ্তি দেখল চারপাশে খুব জোরে রেডিয়ো বাজছে, চিৎকার চেঁচামেচি চলছে এবং তারই মধ্যে একটি বালিকা অশ্লীল পোশাক পরে নেচে নিল কয়েক পাক।

    রিকশাওয়ালা বলল, ‘ছোটোবাবু, স্বর্ণবাবু কিন্তু চারদিন মাল কেনেনি এখান থেকে।’

    অরুণদীপ্তি হতাশ হয়ে পড়ল, ‘তাহলে!’

    রিকশাওয়ালা বলল, ‘এরা সব স্বর্ণবাবুকে খুব ভয় পায়। মিথ্যে কথা বলবে না। আপনি একজনকে জিজ্ঞাসা করলে সব জানতে পারবেন, হরি শা-র ছেলে তাই বলল।’

    ‘কাকে?’

    ‘এখানে পদ্মা বলে একটা মেয়েছেলে থাকে দুটো ঘর নিয়ে। একটা ঘরে নাকি স্বর্ণবাবু থাকত।’

    লোকে বলে, তুমি বুঝতেই পারছ ছোটোবাবু। আমি আর দাঁড়াতে পারছি না। আমার একটা মেয়েকে স্কুলে পৌঁছাতে হবে। তোমাকে ঘরটা চিনিয়ে দিচ্ছি চলো। রিকশাটা সেখানে সরিয়ে রেখে লোকটা তাকে নিয়ে একটা গলিতে ঢুকল। সরু ময়লা গলি। কোথাও খুব ঝগড়া বেধেছে। টিনের চাল আর কাঠের দেওয়াল দেওয়া দুটো ঘর দেখিয়ে রিকশাওয়ালা বলল, ‘এখানে পদ্মা থাকে। তুমি কথা সেরে চলে যাও। এসব জায়গায় বেশিক্ষণ থেকো না।’

    রিকশাওয়ালা চলে যেতে অরুণদীপ্তি নাকে রুমাল দিল। বিশ্রী পচা গন্ধ বের হচ্ছে। যা একটা বুড়ো মতন রোগা লোক দাওয়ায় বসেছিল, জিজ্ঞাসা করল, ‘কাকে চাই?’

    অরুণদীপ্তি রুমাল সরাল না, ‘এখানে পদ্মা বলে কেউ থাকে?’

    ‘থাকে। কিন্তু এখন ঘরে বসবে না।’ বুড়ো মুখ ফেরাল।

    ‘মানে?’

    ‘সাতসকালে বাচ্চা ছেলে ঘরে নেওয়ার মেয়ে পদ্মা নয়। তা ছাড়া ওর মেজাজ খুব খারাপ আছে, অন্য ঘর দ্যাখো।’

    এবার বুঝতে পারল অরুণদীপ্তি এবং বোঝামাত্র সে সংকুচিত হল। এবং সেটা এড়াতে বেশ রাগত গলায় বললে, ‘আমার ওঁর সঙ্গে দরকার আছে। ডাকুন ওঁকে।’

    বুড়ো একটু অবাক চোখে তাকে দেখল। তারপর বসে বসেই চিৎকার করল,

    ‘ও পদ্মা, পদ্মা তোকে ডাকে দ্যাখ।’

    একটু পরেই একটি থ্যাবড়ামুখো স্ত্রীলোক ভেতর থেকে বেরিয়ে এল। ত্রিশের নীচে নয় বয়স, মোটাসোটা কিন্তু বুক এবং পাছা অত্যন্ত ভারী, গায়ের রং বেশ কালো। প্রথম দেখায় খুবই বিরক্তিকর মনে হয় এবং একটু বোকা বোকা দেখায়।

    ‘কী চাই? ওমা, এ-যে দেখছি দুধের দাঁত পড়েনি। এই বুড়ো, তোকে বলিনি এখন আমাকে বিরক্ত করবি না।’ কোমরে হাত রেখে খেঁচিয়ে উঠল স্ত্রীলোকটি।

    ‘আপনি কি পদ্মা? সাহস করে বলল অরুণদীপ্ত।’

    ‘হ্যাঁ। নামও জানা আছে দেখছি।’

    ‘আপনি স্বর্ণকমল সেনকে চেনেন?’

    এবার দুটো চোখ যেন মাংসের আড়ালে চলে গেল, ‘চিনি।’

    ‘উনি আছেন?’

    ‘কে আপনি?’

    ‘আমি ওঁর ভাই।’

    সঙ্গে সঙ্গে আঁচলটা পিঠে জড়াল পদ্মা, ‘ও। কিছু মনে করবেন না ভাই, আমি মানে, আসুন আসুন।’

    ‘না দাদা আছে কিনা তাই বলুন।’

    ‘পাঁচ মিনিটের জন্যে আসুন। এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে লোকে খারাপ ভাববে।’

    ‘আপনি স্বর্ণবাবুর ঘরেই বসবেন। দয়া করে আসুন।’ পদ্মা এতবার অনুনয় করতে লাগল যে এড়াতে পারল না অরুণদীপ্তি, পাশের ঘরের দরজা খুলে একটা তক্তাপোশ পরিষ্কার করে পদ্মা বলল, ‘এখানে তো কোনও ছিরিছাঁদ নেই ভাই, কষ্ট করে বসতে হবে। আমার কী সৌভাগ্য।’

    অরুণদীপ্তি দেখল এই তক্তাপোষ এবং একটা বালিশ ছাড়া ঘরে কিছু নেই। নেই বললে ভুল হবে, অনেকগুলো খালি মদের বোতল পড়ে আছে। এইটে তার দাদার ঘর? দাদা এখানে ভাড়া নিয়েছিল? এই স্ত্রীলোকটি? অরুণদীপ্তির শরীর গুলিয়ে উঠল। বউদির শরীরের ছায়া এর থেকে ঢের সুন্দর। দাদা এই প্রায় কুৎসিত স্ত্রীলোকটির সঙ্গে থাকত? ঘিনঘিনে ভাবটা বেড়ে গেল তার। আর এই স্ত্রীলোকটি এমন ভাবে খাতির করছে যেন সে তার পরমাত্মীয়। অরুণদীপ্তি জিজ্ঞাসা করল, ‘দাদা আছেন?’

    মাথা নাড়ল পদ্মা। তারপর জিজ্ঞাসা করল, ‘বাড়িতে ফেরেনি, না?’

    ‘ফিরলে আমি এখানে আসব কেন? কোথায় গিয়েছেন জানেন?’

    হঠাৎ আঁচলের কোনা মুখে গুঁজে যেন কান্না চাপল, ‘আমার কথা শুনল না!’

    ‘কী কথা?’

    ‘ওরা ওকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। বর্ডার থেকে কী সব জিনিস আসবে, অনেক টাকার ব্যাপার। আমার খুব ভয় করছে।’ পদ্মার গলার স্বরে একটা কান্নার টোকা।

    ‘কারা ডাকতে এসেছিল?’ অরুণদীপ্তি অবাক হয়ে গেল।

    ‘চারজন। ওর পরিচিত। নাম বলতে পারব না। ওরা আমাকে কেটে ফেলবে। তবে স্বর্ণবাবুর যদি কিছু হয় তাহলে আমি ছেড়ে দেব না।’

    ‘দাদা এই ঘরে থাকত?’

    ‘হ্যাঁ। সারাদিন এখানে শুয়ে মদ খেত। আমার কাজে বাধা দিত না।’

    অরুণদীপ্তি ভেবে পাচ্ছিল না বাড়ি ফিরে দাদার এইসব ঘটনা বউদিকে বলতে পারব কিনা!সে উঠল, ‘দাদা যদি ফেরেন তাহলে বাড়িতে যেতে বলবেন।’

    পদ্মা বলল, ‘সে তো নিশ্চয়ই। আমিই তো জোর করে রোজ ওকে বাড়ি পাঠাতাম।’

    অরুণদীপ্তি বেরিয়ে আসছিল, পদ্মা বলল, ‘আপনি প্রথম এলেন, একটু মিষ্টি খেয়ে যাবেন না?’

    অরুণদীপ্তি জবাব দিল না। এখান থেকে যত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যেতে পারে তত ভালো।

    ফাঁকা রাস্তায় প্যাডেল ঘোরাতে ঘোরাতে অরুণদীপ্তি ব্যাপারটা আর একবার খতিয়ে দেখল। মাধুরীর মতো অমন সুন্দরী বউকে ছেড়ে দাদা ওই পাড়ায় ঘর নিয়ে মদ গিলত? আর পদ্মার বেঢপ স্বাস্থ্য ছাড়া আর সব যেকোনও ঝিয়ের চেয়েও অস্বস্তিকর। দাদা তাই নিয়ে পড়ে থাকত। মেয়েছেলেটা অবশ্য তার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করেছে, যেন স্বর্ণবাবুর আত্মীয় ওরও নিকটজন! এসব কথা বাড়িতে বলা চলবে না। কিন্তু দাদা কোথায় গিয়েছে? পদ্মা বলল চারজন লোক দাদাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছে। দাদা কি স্মাগলিংও করত? হয়তো। কারণ দাদার কোনও রোজগার ছিল না এবং বাড়ি থেকেও পয়সা নিত না। বিয়ের সময় দাদা ব্যাবসা করছিল কিন্তু বিয়ের পরেই সেটা তুলে দেয়। অন্যপথে টাকা না-এলে দাদার খরচ চলত কী করে? ওই পাড়ায় বাড়ি ভাড়া মদ খাওয়ার তো খরচ আছে।

    এলোমেলো কিছুক্ষণ সাইকেল চালিয়ে অরুণদীপ্তি হাসপাতালের সামনে এসে পড়ল। আচ্ছা, দাদার যদি কোনও অ্যাকসিডেন্ট হয়ে থাকে? উঁহু তাহলে ওরা খবর পেত। স্বর্ণ সেনকে এই শহরের প্রত্যেকটা মানুষ চেনে। তা ছাড়া বাবার তো বিরাট পরিচয়। অতবড়ো ডাক্তার এই শহরে দ্বিতীয়টি নেই। অরুণদীপ্তির মনে পড়ে ছেলেবেলায় সে দাদাকে অন্যরকম দেখেছে। খুব ভালো ফুটবল খেলত, হই হই করত সর্বক্ষণ। সেই দাদা বড়ো হয়ে যা কিছু সুন্দর তা থেকে এমন দূরে সরে গেল কী করে!

    বাড়ি ফিরে আসার সময় ওর মনে পড়ল পদ্মা সেই চারটে লোকের নাম বলেনি। বললে লোকগুলো নাকি পদ্মাকে মেরে ফেলবে!লোকগুলো কে? কথাটা বাবাকে বলা দরকার। কিন্তু বাবাকে সে সবসময় এড়িয়ে যায়। অত রাশভারী এবং রাগী মানুষ ছেলেবেলা থেকেই একটা দূরত্ব থেকে গেছে। কী করা যায়?

    শোভনা ছোটো ছেলের মুখে শুনলেন কোনও খবর পাওয়া যায়নি। মুখ ভার হয়ে গেল তাঁর। অরুণদীপ্তি আর বউদির সামনে গেল না। খেয়ে দেয়ে কলেজ যাওয়ার জন্যে তৈরি হচ্ছে এমন সময় অনিল সেন বাড়ি ফিরলেন, ‘দারোগাকে বলে এলাম খোঁজ খবর নিতে। আর বলতে গিয়ে যা শুনে এলাম তাতে আর এই শহরে থাকা যাবে না।’

    শোভনা চকিতে চারপাশে তাকিয়ে নিলেন, ‘আস্তে আস্তে বলো কী শুনলে?’

    ‘তোমার ছেলে বেশ্যাবাড়িতে বসে মদ খেত। এর আগেও এক-আধবার ওই ধরনের কথা কানে এসেছিল, বিশ্বাস করিনি। আজ খোদ দারোগার মুখে শুনলাম।’ চোখ বন্ধ করে চেয়ারে বসে রইলেন ডাক্তার অনিল সেন।

    ‘যা শুনেছ শুনেছ, এই নিয়ে চেঁচামেচি করো না। বউমার কানে না-যায়!’

    ‘কার ওপর চেঁচামেচি করব? ঘরের সুন্দরী বউদের চিরকালই বেশ্যারা হারিয়ে দেয়, না? ঠিক আছে, তোমরা সরে যাও, আমাকে একটু একা থাকতে দাও!অনিল সেন হাত নাড়লেন। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো শুনে অরুণদীপ্তির বুক থেকে যেন পাথর নেমে গেল। যাক, কোনও কথা তাকে মুখ ফুটে বলতে হবে না।

    বিকেলে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে অরুণদীপ্তি থানায় গেল। সারাটা দুপুর ওই চারটে লোকের কথা মাথার মধ্যে পাক খাচ্ছে। পুলিশ যদি পদ্মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাহলে নিশ্চয়ই একটা সূত্র পাওয়া যাবে। সে ঠিক করেছিল চুপিচুপি দারোগাবাবুকে খবরটা দিয়ে আসবে। এর আগে কখনও সে থানায় ঢোকেনি। চারধারে পুলিশ এবং বিচিত্র চেহারার লোকজন।

    স্লিপ পাঠিয়ে শুনল দারোগাবাবু খুব ব্যস্ত, এখনই বের হবেন। কিন্তু তার ডাক এল। ঘরে ঢুকে দেখল কয়েকজন অফিসারের সঙ্গে দারোগাবাবু কথা বলছেন। তাকে দেখে কথা থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি ডাক্তার সেনের ছেলে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘কী দরকার বলুন? আমি খুব ব্যস্ত। আপনার দাদার ব্যাপার তো? কিছু মনে করবেন না। উনি এই শহরে নেই জেনে আমরা নিশ্চিন্ত হয়েছি। শুধু ডাক্তার সেন খুব শ্রদ্ধেয় মানুষ তাই—’ দারোগাবাবু জানালেন।

    একজন অফিসার মনে করিয়ে দেওয়ার ভঙ্গিতে বললেন, ‘স্যার, ওই ডেডবডিগুলোর কথা বলবেন বলছিলেন ডাক্তারবাবুকে—।’

    ‘ও হ্যাঁ। গত তিনদিনে আমরা দুটো বেওয়ারিশ ডেডবডি পেয়েছি। আমার লোকে আইডেন্টিফাই করতে পারেনি। আপনারা দেখতে পারেন।’

    ‘ডেড বডি?’ অরুণদীপ্ত কেঁদে উঠল।

    ‘হ্যাঁ। একটা নেপালির। নিশ্চয়ই আপনার দাদা নন। অন্যটি মনে হচ্ছে বুড়ো মানুষের। তবে ডিসফিগারড। মাথার চুল সাদা।’

    অরুণদীপ্তি হাঁপ ছেড়ে বাঁচল, ‘আমার দাদা বুড়ো নয়।’

    ‘জানি। তাই গা করিনি। এটা আমাদের একটা রুটিন চেক।’ দারোগাবাবু বললেন।

    ‘আমি একবার দেখব দারোগাবাবু!’ মেয়েলি গলা শুনে চমকে উঠল অরুণদীপ্তি। সে দেখল ঘরের এক কোণায় বেঞ্চিতে বসে আছে পদ্মা। মাথায় ঘোমটা। ও যে এই ঘরে আছে তা সে লক্ষই করেনি এতক্ষণ।

    ‘আঃ, তখন থেকে নাকে কাঁদছে। ল্যাংটো ব্যাটাছেলে না-দেখলে নোলা শুকোচ্ছে না! স্বর্ণবাবু কোথায় গিয়েছে তুমি জানো না?’

    ‘না বাবু, আমি তো বারবার বলছি, আমায় কিছু বলে যায়নি সে।’

    ‘ওষুধ খাবে নাকি?’

    ‘আমি সত্যি কথা বলছি বাবু। উনি শুধু আমার ওখানে থাকতেন, আর কিছু না।’

    ‘নেকি! লীলা করতেন নীল মাখতেন না। ঠিক আছে যাও, কিন্তু ডাকলেই যেন পাই। আর মিথ্যে কথা বলেছ, জানলে চামড়া ছাড়িয়ে নেব।’ দারোগাবাবু টুপিটা তুলে নিয়ে বললেন, ‘আচ্ছা ভাই, আপনার বাবাকে বলবেন আমরা চেষ্টা করছি।’

    অরুণদীপ্তি বলতে গেল যে এই মেয়েছেলেটা চারটে লোকের খবর জানে, ওকে চাপ দিন। কিন্তু তার আগে পদ্মা হাউ হাউ করে কেঁদে উঠল, ‘দারোগাবাবু, আমাকে একবার মড়া দেখতে দেবেন?’

    দারোগা বললেন, ‘আশ্চর্য! ও দুটোর সঙ্গে স্বর্ণবাবুর কোনও মিল নেই তবু দেখতে চাইছ কেন? আর তোমার চেয়ে ওর ভাইকে দেখালে বেশি কাজ হবে!’

    ‘ওই যে আজ বললেন, পাহাড়ে পাওয়া গিয়েছে।’

    ‘হ্যাঁ, তাতে কী হয়েছে?’

    ‘পাহাড়ের কাছেই তো বর্ডার।’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘স্বর্ণবাবু কিছুদিন আগে বর্ডারের কথা বলছিলেন।’

    ‘আই সি। এতক্ষণ বলোনি কেন?’

    ‘অনেক কথাই তো বলত। সব মনে রাখা যায়?’

    দারোগাবাবু বললেন, ‘কিন্তু এই লোকটা তো বুড়ো! আপনি কি দেখবেন?’

    প্রশ্নটা অরুণদীপ্তিকে।

    অরুণদীপ্তি বলল, ‘যদি বুড়োমানুষ হয় তাহলে দেখে কী করব? তা ছাড়া আমার দাদার চুল সাদা ছিল না।’

    এই সময়ে বাইরে হইচই শুরু হল। দারোগাবাবু অফিসারদের নিয়ে বেরিয়ে যেতে অরুণদীপ্তি আর দাঁড়াল না। এই মুহূর্তে দারোগাকে ওসব কথা বলা যাবে না। পদ্মাকে যখন পুলিশ এখানে এনেছে তখন কাল সকালেই বললে চলবে। সে হন হন করে বারান্দা ডিঙিয়ে সাইকেলে উঠল। পদ্মার সঙ্গে কথা বলার প্রবৃত্তি তার ছিল না।

    অনিল সেনের বাড়ির পেছনে সুন্দর বাগান এবং পুকুরঘাট আছে। অপরাহ্ণের ম্লান ছায়ায় সেই ঘাটে বসে জলের শরীর দেখছিল মাধুরী। দু-দিন না-বলে কয়ে যে উধাও হয়ে গিয়েছে সে চারদিন হতে পারে। তবু চারদিন তাই সে শাশুড়িকে জানিয়েছিল। স্বর্ণকমল কখন আসে কখন যায় এবাড়ির কেউ খবর রাখে না। বেশিরভাগ দিন বাড়িতে খায় না, থাকলে ঘর ছেড়ে বের হয় না। অনেক কান্নাকাটি চেঁচামেচির পর এখন সম্পর্কটা থিতিয়ে রয়েছে। স্বর্ণকমল সেদিন নেশার ঘোরে বলেছিল, ‘কেন পড়ে আছ বুঝি না। চেহারা ভালো, স্বাস্থ্য ভালো। ডিভোর্স চাও দিয়ে দিচ্ছি।’

    ‘আমি কি দোষ করলাম?’ মাধুরী স্পষ্ট শুধিয়েছিল।

    ‘কিছু না। সুন্দরী মেয়ে আমার সহ্য হয় না। পুতুল পুতুল লাগে।’

    ‘তাহলে বিয়ে করলে কেন?’

    ‘এই কেনর উত্তর যদি জানতাম!ডাক্তার অনিল সেনকে জিজ্ঞাসা করো কেন আমি বিয়ে করেছি। তা ছাড়া, তোমাকে দেখলে আমার এটুকু উত্তেজনা আসে না।’

    মাধুরী কিছুই দেখছিল না। একটা অবশ-অনুভূতি সর্বাঙ্গে নিয়ে বসেছিল। আট মাস তো হয়ে গেল। এবার বাপের বাড়ি চলে গিয়ে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেললেই হয়। লোকটা তো তাই চাইছে। আর এখন যদি সে মুক্ত হয় তাহলে—! মাধুরী দু-হাতের বেড়ে চিবুক রাখল। না, পুরুষের অভাব হবে না তাকে স্বীকৃতি দেবার জন্যে। এই আটমাসে লোকটার ওপর একটু তার মায়া পড়েনি। নিজের কাছেই অবাক লাগে, সে এখনও কুমারী রয়ে গেল! মাধুরী সিদ্ধান্ত নিল। এবার লোকটা ফিরলে কথা বলে ছেদ টানতে হবে। তার বিয়ের আগে তো কৃপাপ্রার্থীর অভাব ছিল না, তাহলে নিজেকে সে বঞ্চিত করবে কেন? মাধুরী দেখল, কি একটা পুকুরে পড়ল। শব্দ হল, ঢেউ কাঁপুনি ছড়াল এবং একসময় মিলিয়ে গেল। বাঃ চমৎকার।’

    ‘কী ভাবছ বউদি?’

    মাধুরী চমকে মুখ তুলল। তারপর হেসে বলল ‘আমার ভাগ্যটার কথা।’

    ‘দূর!ওসব ভেবে কী হবে। ওঠো তো!’ অরুদীপ্তি তাগাদা দিল।

    ‘কেন?’

    ‘এক জায়গায় বসে থাকতে হবে না। দাদা দাদার মতো আছে। তুমি তোমার মতো থাকো না। চলো হাঁটি।’ অরুণদীপ্তি হাত বাড়াল।

    ‘কী নিয়ে থাকব অরুণ!’

    ‘কত কী আছে পৃথিবীতে!’

    ‘ছেড়ে দাও এসব কথা। কোনও খবর আসেনি না?’

    ‘না।’

    ‘খবর না-আসা পর্যন্ত আমি যেতেও পারছি না।’

    ‘যাবে, কোথায় যাবে?’

    ‘তোমাদের বাড়িতে আমার সংসার করা হল না অরুণ। তোমার দাদা আমাকে ডিভোর্স দিতে চাইছেন। এভাবে তো কোনও মানুষ থাকতে পারে না। ভাবছিলাম একবছর দেখব। কিন্তু না, ও ফিরে এলেই আমি চলে যাব।’

    এই সময় একটি চাকর বাগানে এসে দাঁড়াল, ‘ছোটোবাবু আপনাকে ডাকছে!’

    ‘কে?’

    ‘একটা মেয়েছেলে। নাম জানি না।’

    অরুণদীপ্তি অনুমান করতে পারছিল না। হন হন করে সে সামনের গেটে পৌঁছে হোঁচট খেল। পদ্মা দাঁড়িয়ে আছে, পেছনে সেই বুড়োটা। রাগে মাথায় আগুন জ্বলল। সে চকিতে পেছন ফিরল, না কেউ নেই। কর্কশ গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘কী চাই? এখানে কেন?’

    পদ্মা যেন সেসব গায়েই মাখাল না। তার গলা কাঁপছে, ‘আমি মড়া দেখে এলাম।’

    ‘তা আমাদের কী?’

    ‘আমার মনে হচ্ছে,’ ডুকরে উঠল পদ্মা, ‘মনে হচ্ছে ওটা স্বর্ণবাবুর শরীর।’

    ‘কী যা-তা বলছ?’ চিৎকার করল অরুণদীপ্তি, ‘দারোগা বলল লোকটা বুড়ো!’

    ঘনঘন মাথা নাড়ল পদ্মা। তার চোখ জলে বন্ধ, ঠোঁট টিপে রাখছে! অরুণদীপ্তি আবার আড়চোখে বাড়ির দিকে তাকাল। মা দোতলার বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছেন। ওখান থেকে যদিও কোনও কথা শুনতে পাওয়া যাবে না, কিন্তু নিশ্চয়ই স্ত্রীলোকটির পরিচয় জানতে চাইবেন। হঠাৎ পদ্মা বলল, ‘আপনারা একবার দেখুন। আমি প্রায় নিশ্চিত যে উনিই স্বার্ণবাবু। তবু মানুষের তো ভুল হয়।’

    দারোগা বলেছিল লোকটার চুল সাদা। দাদার তো কালো চুল।

    ‘উঁহু, উনি মাথায় রং মাখতেন। একটু পাকতে আরম্ভ করলেই রং মাখা শুরু করেছিলেন। আপনার মা বউদিকে জিজ্ঞাসা করুন।’ পদ্মা তখনও কেঁদে যাচ্ছিল। আর বুড়োটা মাঝে মাঝে বলেছিল, ‘কাঁদিস না পদ্মা, কাঁদিস না।’

    অরুণদীপ্তি ভেতরে ভেতরে খুব নার্ভাস হয়ে পড়েছিল। দাদার মাথার চুল সাদা ছিল? এক বাড়ির ছেলে হয়ে সে জানত না। হঠাৎ এই স্ত্রীলোকটিকে সে ঈর্ষা করতে আরম্ভ করল। এবং সেই কারণেই ক্রোধ প্রকাশ করতে পারল অরুণদীপ্তি, ‘কিন্তু তুমি কাঁদছ কেন? বড্ড বাড়াবাড়ি শুরু করছ তুমি?’

    ‘বাঃ আমি কাঁদব না? আমি তো কিছুই চাইনি, একটু কাঁদতে পারব না। আপনি আর দেরি করবেন না। আমি পুলিশকে বলে এসেছি। আপনি গিয়ে একবার দেখুন, আপনার বউদি যদি যায় খুব ভালো হয়। আপনারা যদি চিনতে পারেন তাহলে আমি ওই চারজনকে ছাড়ব না। একবার শুধু বলে দিন ওটা স্বর্ণবাবুর শরীর তাহলেই আমি বদলা নেব।’ হিস হিস করে শব্দ করল পদ্মা।

    এবার নাড়া খেল অরুণদীপ্তি। সেই চারজনের প্রসঙ্গ মনে পড়ল। সে জিজ্ঞাসা করল, ‘এদের কথা তুমি পুলিশকে বলেছ?’

    ‘মাথা খারাপ। সঙ্গে সঙ্গে ওরা পিছলে বেরিয়ে যাবে। আপনি আসুন, আমি ওখানেই যাচ্ছি।’ পদ্মা ফিরে গেল বুড়োকে নিয়ে।

    কিছুক্ষণ কী করবে বুঝতে পারল না অরুণদীপ্তি। পেছন ফিরলেই মা তাকে ইশারায় ডাকবেনই। না, নিজের চোখে দেখবে সে। নিজের দাদাকে সে ভালো চেনে। কে কী বলল আর সঙ্গে সঙ্গে মেনে নিতে হবে! বরং ফিরে এসে মাকে গল্পটা বলা যাবে। অরুণদীপ্তি গেট খুলে বেরিয়ে এল।

    নদীর পাশে মর্গ। অরুণদীপ্তি পৌঁছে দেখল পদ্মারা তার আগে এসে গিয়েছে। একজন পুলিশ সেখানে দাঁড়িয়েছিল। অরুণদীপ্তি তার সাহায্যে মৃতদেহের কাছে পৌঁছোল। উৎকট পচা গন্ধে মাথা ঝিম ঝিম করতে লাগল তার। তখন মর্গে মাত্র দুটো মৃতদেহ। নাকে রুমাল দিয়ে তাদের সামনে পৌঁছে অরুণদীপ্তি দেখল পদ্মাও তার সঙ্গ নিয়েছে। ডোমটা দেখাল। একটি নেপালির তা স্পষ্ট বোঝা যায়। দ্বিতীয়টির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠল সে। সমস্ত শরীর কুঁকড়ে উঠল যেন। উঃ কী ভয়ানক।

    লোকটার চোখ দুটো নেই। দুটো ঠোঁট কেটে নেওয়া হয়েছে। বুকের কাছে বিশাল ক্ষত। হাত এবং পা, কবজি এবং গোড়ালির ওপর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। থাই-এর কাছেও ক্ষত। সমস্ত শরীর বেঢপ ফুলে নীলচে কালো হয়ে রয়েছে। দু-বার তাকালেই চোখ বন্ধ হয়ে আসে। এবং চুল সাদা কিন্তু একটা কালচে ভাব আছে। অরুণদীপ্তি মাথা নাড়ল, না এ তার দাদা নয়। দাদার শরীরের আকৃতির সঙ্গে মিলছে না। নাক কান তো সব মানুষের একরকম হতে পারে। সে মাথা নাড়ল।

    সেটা দেখে পদ্মা বলল, ‘যাতে কেউ চিনতে না পারে তাই ওইরকম কেটে দিয়েছে। স্বর্ণবাবুর বুক আর থাইয়ে জরুল ছিল, সেখানটাই কেটেছে।’

    মাথা নাড়ল আবার অরুণদীপ্তি, ‘এ আমার দাদা নয়।’

    ‘দাঁত দেখুন, ভেতরের দাঁত, পেতলে বাঁধানো!’ চাপা গলায় বলল পদ্মা। ডোম হাঁ মুখ দেখার ব্যবস্থা করে দিলে অরুণদীপ্তি চমকে উঠল। হ্যাঁ পেতলের দাঁত এবং পেতলের ওপর এস লেখা, খুব সূক্ষ্মভাবে। তার মাথাটা ঘুরে গেল। কোনোরকমে সামলে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল। পুলিশটা জিজ্ঞাসা করল, ‘কী চিনতে পারলেন?’

    মাথা নাড়ল অরুণদীপ্তি। না। তারপর প্রায় দৌড়ে বড়ো রাস্তায় চলে এসে রিকশা নিল।

    মায়ের ঘরে ঢুকল অরুণদীপ্তি। তার শরীর টলছিল। চেহারা দেখে আঁতকে উঠলেন শোভনা। তারপর উঠে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলেন তিনি, ‘কী হয়েছে?’

    ‘দাদা!’

    ‘মর্গে। ওরা দাদাকে মেরে ফেলেছে!’

    ‘কোথায়?’ শোভনার মুখে উদবেগ। বুঝতে পারছিলেন খবরটা ভালো নয়। একটা আর্তনাদ ছিটকে এল শোভনার গলা থেকে, ‘কী বললি?’

    বিছানায় বসে দু-হাতে মুখ ঢাকল অরুণদীপ্তি। তার শরীর কাঁপছিল। ‘কী হয়েছে আবার খুলে বল।’ শোভনা ছেলের দুই কাঁধ আঁকড়ে ধরলেন। অরুণদীপ্তির সময় লাগল। স্থির হয়ে বসতে পারছিল না। তারপর এক এক করে সে সমস্ত ঘটনা উগরে গেল। শেষ হওয়ামাত্র শোভনা দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, ‘তুই দেখেছিস পেতলের ওপর এস লেখা?’

    মাথা নাড়ল অরুণদীপ্তি ‘হ্যাঁ।’

    ‘আর শরীর? হাত পা মুখ?’

    ‘চেনা যাচ্ছে না, কিচ্ছু চেনা যাচ্ছে না।’

    ‘পেতলে এস লিখে কেউ তো দাঁতে বসিয়ে দিতে পারে, পারে না?’

    অরুণদীপ্তি চমকে উঠল , ‘কেন বসাবে?’

    ‘যারা খুন করছে লোকটাকে তারা লুকোতে চাইবে। আবার এও তো হতে পারে, আর একটা লোকের পেতলের দাঁতে এস লেখা ছিল। একটা পেতল দিয়ে মানুষ চেনা যায়? না, আমি বিশ্বাস করি না। যে ছেলেকে আমি পেটে ধরেছি তার শরীর একবার দেখলেই আমি চিনতে পারব। আমি না-দেখা পর্যন্ত তুই কাউকে এসব কথা বলবি না।’ শোভনার কণ্ঠ কঠোর।

    পরদিন ভোরে দারোগাবাবু এলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি আপনাদের খুব কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখন উপায় নেই। যে লোকটিকে আইডেন্টিফাই করা যাচ্ছে না তার সম্পর্কে গতকাল একটি স্ত্রীলোক দাবি করেছিল স্বর্ণবাবু বলে। আমরা আমল দিইনি।’

    ‘স্ত্রীলোক?’ অনিল সেনের চোখে বিস্ময়।

    ‘হ্যাঁ। বাজারের মেয়ে। কিন্তু আজ সকালে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। খুনি তাকে বাঁচিয়ে রাখেনি।’

    ‘একটা বাজারের মেয়ের সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক?’

    ‘আপনার নয়! স্বর্ণবাবুর তো সুনাম ছিল না। বডি যদি স্বর্ণবাবুর হয়। তাহলে কেস খুব জটিল হয়ে যাবে। সমস্ত শহরের লোক জেনে গিয়েছে। এখন আপনারা একবার যদি আইডেন্টিফাই করে দেন তাহলে মেয়েটির খুনি সম্পর্কে আমরা একটা ধারণা করতে পারি।’ দারোগাবাবু জানালেন।

    অনিল সেনের চোয়াল ঝুলে পড়েছিল। তবু জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি তো স্বর্ণকে চেনেন। আপনি আইডেন্টিফাই করতে পারছেন না?’

    ‘না। কারণ ওর হাত পা চোখ ঠোঁট সব কেটে নেওয়া হয়েছে। শরীরের রং পালটে গেছে, চুল সাদা এবং অনেক ক্ষত।’

    ‘চুল সাদা? আমার ছেলের চুল সাদা ছিল না।’

    ‘আমরা তাই জানি। কিন্তু স্ত্রীলোকটি কাল বলছে স্বর্ণবাবু চুলে রং করত। আজ আমি সেটা দেখে প্রমাণ পেয়েছি। আমার মনে হয় একমাত্র আপনার স্ত্রী এবং বউমা ছাড়া আর কারও পক্ষে এই অবস্থায় ওকে চেনা মুশকিল।’ দারোগাবাবু বললেন।

    অনিল সেন এবার প্রতিবাদ করলেন, ‘আমার বাড়ির মেয়েরা যার তার মড়া দেখতে যাবে? অসম্ভব!’

    ঠিক তখনই শোভনা এলেন, ‘আমি যাব।’

    ‘তুমি যাবে?’ অনিল সেন চমকে উঠলেন।

    ‘হ্যাঁ। ভুল বোঝাবুঝির শেষ হওয়া উচিত। বউমাকে আমি বলেছি, সে-ও যাবে।’

    অনিল সেন হতাশ গলায় বললেন, ‘যা হয় করো, আমার আর মুখ দেখানোর উপায় রইল না। তবে ওটা যদি স্বর্ণ হয় তাহলে বউমা বেঁচে গেল, এটুকুই লাভ।’

    সমস্ত শহর মর্গের সামনে ভেঙে পড়েছে বললে খুব বেশি বলা হবে না। স্বর্ণকমল সেনের ডেডবডি পাওয়া গিয়েছে পাহাড়ে। এই শহরের এককালের টেরর স্বর্ণকে কেউ খুন করেছে কিন্তু চেনা যাচ্ছে না ভালো করে। শহরের এক বেশ্যা যে কিনা স্বর্ণর রক্ষিতা ছিল—সে চিনতে পেরেছে বলেই খুন হয়ে গেছে। রহস্যের গন্ধ এতটা প্রবল যে সবাই ভিড় করে এসেছে খবর পেয়ে। এই অবস্থায় পুলিশের সঙ্গে শোভনা বউমা আর ছোটো ছেলেকে নিয়ে মর্গের সামনে নামলেন। সাদা ফুলতোলা শাড়ি আর কাজকরা জামা, মাথায় ঘোমটা মাধুরীকে দেখছিল সবাই। শোভনার পোশাকেও রুচির ছাপ রয়েছে। চারপাশে গুঞ্জন শুরু হল। দারোগাবাবু ওঁদের নিয়ে দরজার সামনে এলেন!

    ‘আপনারা একটু শক্ত থাকবেন। বডি পচেছে। খুব দুর্গন্ধ। একসঙ্গে যাবেন?’ শোভনা বললেন, ‘আমি আগে যাব। আমি না-চিনতে পারলে বউমা যাবে।’

    দারোগা একটু ইতস্তত করে রাজি হলেন। ডোম নিয়ে গেল ঘরে। শিউরে উঠলেন শোভনা। ভগবান, মানুষ এত নির্দয় হয়? কিন্তু একী স্বর্ণ! শরীরের যেসব জায়গায় ক্ষত সেখানেই চিহ্নগুলো ছিল। ওর বাঁ-হাতের কড়ে আঙুলের নখ ভাঙা ছিল, সেটাও এখন প্রমাণ করা যাবে না। চিনতে না-পেরে সেই দুর্গন্ধটাকে সহ্য করে ফেললেন শোভনা। ডোমকে বললেন, ‘ওদের ডাকো।’

    মাধুরী এল। মুখে আঁচলে চেপে। ফ্যাল ফ্যাল করে দেহটাকে দেখল। এই প্রথম একটি নগ্ন পুরুষের দেহ দেখল সে। স্বর্ণকমল কখনও তার সামনে নগ্ন হয়নি। দারোগা জিজ্ঞেস করল, ‘চিনতে পারছেন? ওর চুল সাদা ছিল।’

    একদিন চুলের গোড়া দেখেছিল মাধুরী, পরদিনই কালো। বাইরে রং করে আসতেন। কিন্তু এত সাদা? সে জিজ্ঞাসা করল, ‘দাঁত দেখব? মনে হয় দাঁতটা বাঁধানো ছিল!’

    ‘ও হ্যাঁ। কাল স্ত্রীলোকটি তাই বলেছিল বটে। আমার খেয়াল ছিল না।’ দারোগার নির্দেশে ডোম দাঁত দেখাল। দুটো দাঁত নেই। কিন্তু কোনও পেতল দেখা গেল না। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে উঠলেন শোভনা, ‘না, এ আমার ছেলে নয়।’

    দারোগা ডোমের দিকে ফিরে প্রশ্ন করলেন, ‘পেতলের দাঁত কোথায়?’

    ডোম মাথা নাড়ল, ‘হামি জানেনা সাব।’

    দারোগা বিড়বিড় করলেন, ‘কী আশ্চর্য!স্ত্রীলোকটি বলল একটা পেতলের দাঁত আছে আর এখন দুটো দাঁত উধাও।’ তারপর আবার প্রশ্ন করলেন, ‘কাল রাত্রে কেউ এখানে ঢুকেছিল?’

    ডোম প্রতিবাদ করল, ‘নেহি সাব।’

    শোভনা পুত্রবধূকে নিয়ে দরজার দিয়ে এগোচ্ছিলেন। দারোগা তাঁকে আবার অনুরোধ করল, ‘মিসেস সেন, ভালো করে দেখুন আর কোনও চিহ্ন আছে কিনা!’

    শোভনা মাথা নাড়লেন, ‘কী আশ্চর্য! আমার ছেলেকে আমি চিনব না?’ দারোগা মাধুরীকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনার কি মনে হচ্ছে? ইনি আপনার স্বামী নন?’

    কী বলবে মাধুরী! স্বর্ণকমলকে যতটা সে দেখেছে তার সঙ্গে এর মিল কোথায়? সে নীচু গলায় বলল, ‘বুঝতে পারছি না।’

    ওরা যখন সবাই বাইরে বেরিয়ে এল তখনই খবরটা ছড়িয়ে পড়েছে। মা এবং স্ত্রী বলেছে স্বর্ণকমলের শরীর নয়। নাটকটা জমল না বলে ভিড় পাতলা হল। দারোগা বললেন, ‘ওই স্ত্রীলোকটির জন্য আপনাদের বিব্রত করলাম, উপায় ছিল না। তবে ভালোই হল, স্বর্ণবাবু বেঁচে আছেন জেনে নিশ্চিন্ত হওয়া গেল। কিন্তু এই স্ত্রীলোকটি কেন খুন হল বুঝতে পারছি না।’

    এই সময় স্ত্রীলোকটির মৃতদেহ নিয়ে আসা হল মর্গে। ক্ষতবিক্ষত চেহারা। কারা যেন কুপিয়ে মেরে গেছে। শোভনা সেদিকে না-তাকিয়ে পুত্রবধূকে নিয়ে রিকশার কাছে চলে এলেন। অরুণদীপ্তি রিকশার পাশে সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। বলল, ‘চিনতে পারলে না?’

    শোভনা মাথা নাড়লেন, ‘না তোর দাদা নয়। ওরা বলছিল পেতলের দাঁত ছিল, কিন্তু আমরা তো দেখতে পেলাম না। অত কুৎসিত শরীর তোর দাদার নয়।’ কথাটা শুনে আঁতকে উঠল অরুণদীপ্তি। সেই চারজন লোক! চকিতে পদ্মার কথা মনে পড়ল। ওর মুখ দেখে শোভনা ধমক দিলেন, ‘হাঁ করে কী দেখছিস? তাড়াতাড়ি বাবাকে খবর দে। এ স্বর্ণ নয়, আমাদের কিছুই হারায়নি, তিনি মাথা উঁচু করে প্র্যাকটিসে যেতে পারেন। যা।’

    বিহ্বল অরুণদীপ্তি বেরিয়ে গেলে শোভনা রিকশায় উঠলেন। হঠাৎ শোভনা আবিষ্কার করলেন মাধুরী ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনের দিকে তাকিয়ে আছে। অসহিষ্ণু গলায় তিনি ডাকলেন, ‘কী দেখছ ওদিকে উঠে এসো।’

    মাধুরী নিঃস্ব গলায় বলল, ‘ওই মেয়েটাকে ওরা এক ঘরে ঢোকাচ্ছে, মা।’ শোভনা বললেন, ‘তাতে তোমার কী?’

    মাধুরী ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল, ‘হ্যাঁ, আমার কী!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত
    Next Article নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Our Picks

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }