Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার এক পাতা গল্প713 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ছদ্মবেশিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    খানিকটা আগে এক পশলা জোর বৃষ্টি এসে পথ-ঘাট খালি করে দিয়ে গেছে। রাত প্রায় সওয়া দশটা। রাস্তায় গাড়ি খুব কম। কাছাকাছি কোথাও ট্যাক্সি দেখা যাচ্ছে না। চেম্বার থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ডাক্তার দত্ত চলে এলেন চৌরঙ্গিতে।

    দুটো একটা ট্যাক্সি আসছে, কিন্তু হাত তুললেও থামছে না। আবার বৃষ্টি আসতে পারে। ডাক্তার দত্ত ভুরু কুঁচকোলেন। তাঁর গাড়িটার এঞ্জিন বোর করার জন্য দেওয়া হয়েছে, এক মাসের আগে পাওয়া যাবে না। এই একটা মাস খুব দুর্ভোগ পোহাতে হবে। কলকাতা শহরে ট্যাক্সির ওপরে নির্ভর করা যায় না।

    একটা বাসে উঠতে পারলেও হত। বাসেরও দেখা নেই। ট্যাক্সি না পেলে বাসেই উঠবেন ঠিক করে তিনি রাস্তাটা পেরিয়ে দাঁড়ালেন ময়দানের দিকে। তাঁকে যেতে হবে উত্তরে।

    কাছেই ময়দানের অন্ধকারে একটা বড়ো গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি মেয়ে। তার পরনে একটা লাল শাড়ি তাই এই অন্ধকারের মধ্যেও দেখা যায় তাকে। কিন্তু ডাক্তার দত্ত তাকে দেখতে পেলেন না। যদিও তিনি অস্থির ভাবে এদিক ওদিক তাকাচ্ছিলেন।

    মেয়েটি তখন এগিয়ে এসে তাঁর কাছে দাঁড়াল। ডাক্তার এবার লক্ষ করলেন তাকে। ভাবলেন, মেয়েটিও বোধহয় বাসে উঠবে।

    কিন্তু বাস আসছে না। আবার বৃষ্টি নামল ঝিরঝির করে। মহা জ্বালাতন তো! ডাক্তারের সঙ্গে ছাতা নেই। তিনি দেখলেন, মেয়েটিও ভিজছে। মেয়েটির সঙ্গে তাঁর চোখাচোখি হল। সে সোজা তাকিয়ে আছে ডাক্তারের মুখের দিকে। সে মিটমিট হাসছে।

    একটা ট্যাক্সি উলটো দিকে আসতে আসতে গতি মন্দ করল। ডাক্তার সাগ্রহে এগিয়ে যেতেই ড্রাইভার জানলা দিয়ে মুখ বার করে জিজ্ঞেস করল, কোনদিকে?

    ডাক্তার বললেন, আমহার্স্ট স্ট্রিট।

    ড্রাইভার আর উচ্চবাচ্য না করে হুস করে জোরে বেরিয়ে গেল। ডাক্তার এত রেগে গেলেন যে সম্ভব হলে তিনি ছুটে গিয়ে গাড়ির দরজাটা খুলে ফেলতেন। কিন্তু সম্ভব হল না। তাকে পিছিয়ে এসে আবার বাস-স্টপেই দাঁড়াতে হল। সেই সময় মেয়েটি খুব আলতো গলায় জিজ্ঞেস করল, যাবেন?

    তিনি বললেন, আমি যাব আমহার্স্ট স্ট্রিট আর বিবেকানন্দ রোডের মোড়ে।

    আপনি কোথায় যাবেন?

    মেয়েটি মুচকি হেসে বলল, আপনি যেখানে নিয়ে যাবেন।

    ডাক্তার বিস্মিত হয়ে মেয়েটিকে দেখলেন ভালো করে। তার খোঁপায় ফুল গোঁজা। পায়ে সবুজ রঙের প্ল্যাস্টিকের চটি। এই চটিটাতেই মেয়েটির জাত চিনিয়ে দেয়। কিন্তু ডাক্তার সারাক্ষণ কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, অনেকদিন তিনি এরকমভাবে একা বেশি রাত্রে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেননি। ঠিক ব্যাপারটা তিনি তখনো বুঝলেন না। তিনি ভাবলেন, ওর মাথায় কিছু গোলমাল আছে?

    আপনি ছেড়ে তুমিতে নেমে এসে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এখানে একলা কী করছ?

    মেয়েটি বলল, এমনিই দাঁড়িয়ে আছি।

    এত রাত্রে? কেন?

    মেয়েটি একবার ইচ্ছে করে বুকের আঁচলটা ফেলে দিয়ে আবার সেটা গায়ে জড়িয়ে নিল। তারপর বলল, রোজই তো দাঁড়িয়ে থাকি! যাবেন তো চলুন। ঘর না থাকে, আমার চেনা ঘর আছে।

    এবার আর ডাক্তারের বুঝতে কোনো অসুবিধা হল না। তিনি স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। তাঁর মতন একজন ব্যস্ত সম্মানিত লোককেও রাস্তায় মেয়েরা এরকম কুপ্রস্তাব দিতে পারে? ডাক্তারের বয়েস পঁয়তাল্লিশ, কিন্তু সুন্দর স্বাস্থ্যের জন্য তাঁকে যুবকের মতন দেখায়। যদিও সব সময় তিনি মুখে একটা গাম্ভীর্যের মুখোশ পরে থাকেন। ব্যস্ত ডাক্তারদের যেমন থাকতে হয়।

    তিনি কড়া গলায় বললেন, তোমাকে আমার চেনা চেনা মনে হচ্ছে!

    মেয়েটি উত্তর না দিয়ে শব্দ করে হাসল। সে ডাক্তারের ব্যক্তিত্বকে কোনো গুরুত্বই দিচ্ছে না।

    তোমাকে আমি কোথাও দেখেছি আগে?

    দেখতে পারেন! আমি তো রোজ এখানেই দাঁড়াই।

    কিন্তু আমি তো এখানে আগে কোনোদিন দাঁড়াইনি।

    তাহলে কে জানে।

    ডাক্তার হঠাৎ একটু শিউরে উঠলেন। এবার মনে পড়েছে। মাস ছয়েক আগে তাঁর চেম্বারে এইরকম সময়ই একটা লোক ছুটতে ছুটতে এসে বলেছিল, ডাক্তারবাবু, শিগগির একবার চলুন।

    সেটা ছিল গায়ে আগুন লাগাবার কেস। অফিস পাড়ার মধ্যেই একটা ফ্ল্যাটে রাত্তিরবেলা একটা মেয়ে নিজেই আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল নিজের শাড়িতে। চিকিৎসার বিশেষ কিছু ছিল না, পাঠাতে হয়েছিল হাসপাতালে। সে মেয়েটি বাঁচেনি। সেই মেয়েটির মুখাখানা ছিল যেন ঠিক এই মেয়েটির মতন।

    ডাক্তারের পক্ষে মৃত রোগীদের মুখ মনে রাখালে চলে না। কিন্তু ডাক্তারের মনে আছে ওই মেয়েটির একটা কথা। মেয়েটি যন্ত্রণায় দারুণভাবে ছটফট করছিল। তাকে একটা সিডেটিভ দেবার আগে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনি এরকম করলেন কেন? শাড়িতে আগুন লাগিয়ে…

    মেয়েটি মুখ বিকৃত করে বলেছিল, ঘেন্না ধরে গেছে। পুরুষ জাতটার ওপর ঘেন্না ধরে গেছে।

    মৃত্যুপথযাত্রিনী সেই মেয়েটির মুখে ফুটে উঠেছিল তীব্র ঘৃণা। সেই কথাটাই ভোলা যায়নি।

    সেই মেয়েটিই যেন ফিরে এসে দাঁড়িয়ে আছে প্রতিশোধ নিতে। ডাক্তারের মনে হল, স্বয়ং মৃত্যুই যেন লাল রঙের শাড়ি পরে দাঁড়িয়েছে রাস্তার ওপরে।

    মেয়েটি বলল, দেরি হয়ে যাচ্ছে, যাবে কিনা বল।

    ডাক্তার খপ করে মেয়েটির একটা হাত চেপে ধরে বললেন, চল!

    মেয়েটি বলল, কতক্ষণ? একঘন্টা?

    ডাক্তার বললেন, ওসব জানি না, চল আমার সঙ্গে!

    অত জোরে হাত ধরেছেন কেন? যাচ্ছিই তো। কতদূরে যেতে হবে? সেই আমহার্স্ট স্ট্রিট পর্যন্ত যেতে পারব না!

    ডাক্তার কোনো উত্তর দিলেন না, হাতও ছাড়লেন না মেয়েটির। আবার রাস্তা পেরিয়ে হনহন করে হাঁটতে লাগলেন নিজের চেম্বারের দিকে।

    যে দু-একটা লোক চলছিল পথ দিয়ে, তারা অবাক হয়ে তাকাল।

    ডাক্তারের ভ্রূক্ষেপ নেই।

    চেম্বারে তাঁর সহকারী এবং কম্পাউন্ডার আগেই বাড়ি চলে গেছে। রয়েছে শুধু দারোয়ান, সে রুটি পাকাতে বসেছিল।

    হঠাৎ ডাক্তারকে একটি মেয়ের হাত ধরে টানতে টানতে ফিরে আসতে দেখে সে বিস্মিত এবং তটস্থ হয়ে উঠল।

    ডাক্তার বললেন, দরজার তালা খুলে দে।

    ভেতরে এসে সব ক-টা আলো জ্বেলে তিনি পেসেন্টের চেয়ারের দিকে আঙুল দেখিয়ে হুকুমের সুরে মেয়েটিকে বললেন, বসো।

    মেয়েটি আলগাভাবে বসে কনুইতে থুতনি ভর দিল।

    আলোতে তিনি মেয়েটিকে দেখতে লাগলেন ভালো করে। বছর তিরিশেক বয়েশ মেয়েটি, রোগা, মুখে সস্তা পাউডার। চোখের নীচে রাত্রি জাগরণের ক্লান্তির কালি।

    তিনি আবার হুকুম করলেন, উঠে দাঁড়াও।

    বিনা প্রতিবাদে সে উঠে দাঁড়াল। তিনি আঙুল দিয়ে তার থুতনি উঁচু করে দেখলেন গলা। দেখলেন হাত দুটো। তারপর মেয়েটিকে ঘুরিয়ে দিলেন। দেখতে লাগলেন পেছন দিকটা।

    মেয়েটির পিঠে, কোমর আর ব্লাউজের মাঝখানটায় একটা ক্ষত। বেশ পুরোনো! তিনি আঙুল দিয়ে তার ব্লাউজটা একটু উঁচু করে তুলে দেখলেন, ও-রকমে ক্ষত আরেকটা রয়েছে!

    কতদিন এ লাইনে এসেছ?

    এই তো সেদিন। একমাসও হয়নি। আমি এ লাইনে নতুন।

    মিথ্যে কথা বলো না।

    মাইরি বলছি, রাস্তায় দাঁড়িয়েছি বলে খাস্তা মাল নই।

    চুপ করো! পিঠের ওই ঘাগুলো কতদিনের?

    ওগুলো ঘা নয়। দেয়ালে পিঠ ছড়ে গিয়েছিল। এক মুখপোড়া নিয়ে গিয়েছিল এক ভাঙা বাড়িতে।

    কতদিন ধরে ওরকম হয়ে আছে?

    কে জানে। না, না, এই দু-তিন দিন।

    ফের বাজে কথা! কতজন পুরুষের সর্বনাশ করেছ এর মধ্যে?

    আ মরণ! সব সর্বনাশ তো আমারই! যাক এত কথা দিয়ে কী হবে? শুধু শুধু রাত হয়ে যাচ্ছে।

    রুগিদের পরীক্ষা করার জন্য যে উঁচু বেঞ্চের উপর বিছানা পাতা আছে, সেটা দেখিয়ে ডাক্তার বললেন, ওখানে শুয়ে পড়ো।

    মেয়েটি ছোট্ট একটা হাই তুলল। তারপর হাসল চওড়াভাবে। বুকের আঁচল ফেলে দিয়ে সে ব্রাউজের বোতাম খুলতে লাগল।

    ডাক্তার বললেন, জামা খুলতে হবে না। যেমন আছ, তেমনি শুয়ে পড়ো।

    মেয়েটির আঙুল থেমে গেল ব্লাউজের বোতামে। তারপরই ঝট করে খুলে ফেলল শাড়িটা। তার শায়াটার রং ক্যাটকেটে সবুজ।

    এ কী করলে?

    বাঃ, শাড়ি খুলে রাখব না? ভাঁজ নষ্ট হয়ে যাবে।

    ডাক্তারও হেসে ফেললেন এবার। গলার আওয়াজ নরম করে বললেন, আমি তোমায় পরীক্ষা করে দেখব। তোমার শরীরে অসুখ আছে। চিকিৎসার দরকার।

    তিনি শাড়িটা তুলে নিয়ে ছুঁড়ে দিলেন মেয়েটির গায়ে। মেয়েটি উঠে বসে বলল, আমার চিকিৎসার দরকার নেই। এত রাতে উনি আমার চিকিৎসা করতে এলেন! ভারী আমার ইয়ে!

    আমি ডাক্তার, রুগি দেখলে আমি চিকিৎসা না করে পারি না।

    কে বলেছে আমি রুগি? বাজে কথা বলবে না। বেশি ডাক্তারি ফলাতে এসেছে! তোমার মতন কত রকম ডাক্তার আমি পার করে দিয়েছি। আর ফষ্টি করতে হবে না, এবার আলো নিভিয়ে দাও।

    আমি সেজন্য তোমাকে এখানে ধরে আনিনি। তুমি রোজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকো…তুমি… মানে, তুমি রোজ ক-জন পুরুষ মানুষের সঙ্গে…

    তা জেনে তোমার লাভ? ওসব কথা বলে কি রাত কাবার করবে নাকি?

    জিজ্ঞেস করছি, কারণ আমার দরকার আছে।

    দু-জন তিনজন… কোনোদিন একজনও যেমন জোটে না। আজ যেমন তুমিই প্রথম।

    ডাক্তার মনে মনে আবার শিউরে উঠলেন। মেয়েটির খুব সম্ভব সিফিলিস আছে। প্রতিদিন দু-তিনজন পুরুষের মধ্যে সেই রোগের বীজাণু ছড়িয়ে চলেছে। এই কি প্রতিশোধ? সেই আগুনে পোড়া মেয়েটি যেমন তীব্র ঘৃণা দেখিয়েছিল পুরুষ জাতের ওপরে। যেন সেই মেয়েটির আত্মা এসে প্রতিশোধ নিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি আবার বললেন—শোনো, তুমি যে এই রোগ অন্যদের মধ্যে ছড়াচ্ছ তাই নয়, তোমার নিজেরও সাঙঘাতিক বিপদ হবে, শরীরটা পচে যাবে—

    এই কথাটা শুনেও হাসতে লাগল মেয়েটি। যেন একটা চমৎকার ঠাট্টা। সে ফুলে ফুলে হাসতে লাগল। তারপর শাড়িটা সরিয়ে ফেলে নিজের বুকের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল—আমায় দেখতে খারাপ? তোমার পছন্দ হচ্ছে না?

    তারপর হঠাৎ হাত বাড়িয়ে ডাক্তারের মুখটা ধরে ফেলে বলল—এসো না, বাবা! দেরি করছ কেন?

    ডাক্তার চমকে পিছু হটে ছাড়িয়ে নিলেন নিজেকে। তাঁর মায়া হল। মেয়েটি বড়ো সরল। ও জানে না, মৃত্যু কত ভয়াবহ। ওকে অন্তত আর একবার বাঁচবার সুযোগ দিতে হবে।

    তিনি বললেন—শুয়ে থাকো, আমি এক্ষুনি আসছি।

    চেম্বারের পাশেই আর একটি ঘরে ডাক্তারের নিজস্ব প্যাথোলজিক্যাল ইউনিট। সেখান থেকে তিনি সিরিঞ্জ আর টেস্টটিউব নিয়ে এলেন।

    মেয়েটি শুয়ে শুয়েই দেয়ালে ঝোলানো একটা ক্যালেন্ডারের ছবি দেখছিল পাতা উলটে উলটে। জার্মানির রাইন নদীর পাড়ের দৃশ্য। কালো অরণ্য। নীল রঙের তুষারের ওপর হলুদ স্কার্ট পরা এক দেবদূতীর মতন তরুণী।

    ডাক্তার বললেন—দেখি, তোমার হাতটা।

    মেয়েটি হাত বাড়িয়ে দিল।

    তোমার রক্ত নেবো একটু। ভয় পেয়ো না!

    মেয়েটি কোনো আপত্তি করল না এবার। চুপ করে রইল।

    ডাক্তার স্পিরিট ভেজানো তুলো দিয়ে হাত ঘষলেন মেয়েটির। তুলোটা ময়লা হয়ে গেল। মেয়েটি নিয়মিত সাবান মাখে না। যেখানে সেখানে শোয়। তার হাতে তো ময়লা থাকবেই।

    তারপর তিনি শিরাটা খুঁজে নিয়ে সিরিঞ্জের সুঁচটা ঢুকিয়ে দিলেন। মেয়েটি কোনো ব্যথার শব্দ উচ্চারণ করল না। বরং সে পাশ ফিরে ডাক্তারের চুলের মধ্যে অন্য হাতটা ডুবিয়ে দিয়ে বলল এত বড়ো চুল, তুমি অনেকদিন চুল কাটোনি বুঝি?

    ডাক্তার একটু হকচকিয়ে গেলেন। এরকম কথা তাঁকে কেউ বলে না কক্ষনো। তাঁর স্ত্রীও ডাক্তার, দু-জনেই সর্বক্ষণ ব্যস্ত। পয়সা রোজগারের মহোৎসবে দু-জনে মেতে আছেন, কথা বলারও সময় নেই।

    ডাক্তার বললেন—হাত সরাও।

    মেয়েটি তবু হাত সরাল না। খুকখুক করে হাসতে লাগল।

    সিরিঞ্জটায় রক্ত ভরে ডাক্তার সরে এলেন। চলে গেলেন পাশের ঘরে। একটা স্লাইডে কয়েক ফোঁটা রক্ত নিয়ে সলিউশান মিশিয়ে সেটা ধরলেন মাইক্রোসকোপের নীচে। তাঁর একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল।

    পরে ভালো করে ডব্লু আর দেখতে হবে। কিন্তু এখনই তিনি নিঃসন্দেহ হয়ে গেছেন যে মেয়েটির সিফিলিস আছে।

    চেম্বারে ফিরে এসে তিনি বললেন দিনে দুবার পাঁচ লাখ করে অন্তত দশ দিন পেনিসিলিন ইঞ্জেকশান নিতে হবে তোমাকে। সকালে, বিকেলে। ইচ্ছে করলে আমার এখানে এসে ইঞ্জেকশান নিয়ে যেতে পারো। আমার কম্পাউন্ডারকে বলে দেব।

    মেয়েটি চোখ বড়ো বড়ো করে শুনল। কোনো উত্তর দিল না।

    এবারে উঠে পড়ো, আর শুয়ে থাকার দরকার নেই।

    হয়ে গেল?

    মেয়েটি উঠে পা ঝুলিয়ে বসল। খোলা শাড়িটা সরিয়ে রাখল পাশে। অকারণেই একবার শায়ার দড়িটা খুলে আবার বাঁধল। ব্লাউজের একটা বোতাম খোলা ছিল, টিপে দিল সেটা।

    দু-হাত তুলে চুল ঠিক করল। তারপর মুচকি হেসে নেমে দাঁড়াল মাটিতে। শাড়িটা পরতে লাগল এবার।

    ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন—কোথায় থাকো তুমি?

    বেলেঘাটায়।

    এত রাত্রে সেখানে ফিরতে পারবে?

    কেন পারব না? রোজই তো ফিরি। আমার তো গাড়ি-ঘোড়া লাগে না, আমি হেঁটে যাই। দাও।

    কী দেব?

    বাঃ, আমার টাকা দেবে না?

    ডাক্তার আপাদমস্তক চমকে উঠলেন। এ মেয়েটা টাকা চাইছে? তাঁর কাছে কেউ কখনো টাকা চায় না। সবাই দেয়। এ মেয়েটা অকৃতজ্ঞ এমন? তিনি বিনা পয়সায় পরীক্ষা করলেন। অন্য রুগি হলে, অন্তত পঞ্চাশ টাকা চার্জ করতেন।

    তিনি বললেন—কীসের টাকা?

    বাঃ, আমার টাকা দেবে না? আমার সময়ের দাম নেই?

    ডাক্তার চটে গেলেন এবার। একটা সামান্য রাস্তার মেয়ে, সে বলে কিনা তার সময়ের দাম! সে জানে না, কত বড়ো ডাক্তারের সঙ্গে সে কথা বলছে। সন্ধ্যেবেলা লাইন দিয়ে রুগিরা বসে থাকে। এক একদিন রুগিরা ফিরেও যায়। তাঁকে এই মেয়েটা বলে কিনা সময়ের দাম!

    যাও, বাইরে যাও। আমি দরজা বন্ধ করব।

    আ-হা-হা, যাও মানে? আগে আমার টাকা দাও। এতক্ষণ ফূর্তি করলে!

    ফূর্তি?

    আলবাৎ! কেউ শুয়ে শুয়ে ফূর্তি করে, কারুর শুধু জড়াজড়ি আর চুমু খেয়েই ফূর্তি পুরো হয়ে যায়। তোমার ফূর্তি দেখাদেখিতে। তুমি ছুঁতো করে এতক্ষণ আমায় দেখলে। আরও কিছু দেখতে চাও তো বলো, দেখিয়ে দিচ্ছি।

    চুপ! এসব কথা আমি একদম শুনতে চাই না।

    চোখ রাঙিয়ো না। আমিও রোজগার করতে বেরিয়েছি। তুমি না ডাকলে আমি অন্য লোকের সঙ্গে যেতুম। দাও, আমার টাকা দাও।

    বেরিয়ে যাও এখান থেকে।

    মেয়েটি এবার অন্য মূর্তি ধরল। কোমরে হাত দিয়ে বেঁকে দাঁড়াল সাপের মতন। বিষাক্ত চোখে তাকিয়ে বলল—আমার টাকা দেবে না? আবার চোখ রাঙাচ্ছ? দেখবে আমি টাকা আদায় করতে পারি কিনা? আমার নায্য পাওনার টাকা। আমার একঘন্টার দাম! বাড়িতে কি আমি শুধু হাতে ফিরব? তোমার মতন লোক ঢের দেখেছি আমি। টাকা দেবে না, ফূর্তি করবে? এঃ! মামার বাড়ি!

    চুপ, চুপ!

    কেন চুপ করব! পকেটে নেই কানাকড়ি, দরজা খোল বিদ্যেধরী! কেন ডেকে এনেছিলে আমায়? আমার হক্কের টাকা না পেলে আমি পাড়া মাথায় করব।

    মেয়েটি ক্রমশ গলা চড়াচ্ছে। ডাক্তার সন্ত্রস্ত হলেন। দারোয়ান আছে বাইরে। এ ছাড়া পাশের বাড়ির লোকজন শুনে ফেলতে পারে। রাত দশটার পর ডাক্তার কোনোদিন চেম্বারে থাকেন না। এখন যদি লোকজন টের পায় যে তিনি এত রাত্রে একটা খারাপ মেয়েছেলের সঙ্গে খালি চেম্বারে রয়েছেন—

    পকেট থেকে মানিব্যাগ বার করে তিনি মাথা নীচু করে জিজ্ঞেস করলেন—কত?

    আমার একঘন্টার রেট পনেরো টাকা!

    থরে থরে সাজানো নোটগুলোর মধ্য থেকে দুখানা দশটাকার নোট আলগোছে তুলে নিয়ে তিনি মেয়েটির দিকে এগিয়ে দিলেন।

    মেয়েটি বলল—আমার কাছে খুচরো নেই।

    থাক!

    মেয়েটি খপ করে দশ টাকার নোট দুটি নিয়ে আট ভাঁজ করে ব্লাউজের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল। তারপর তার রাগ করা মুখেই ফিকে হাসি ফুটিয়ে বলল—চলি।

    ডাক্তার তার দিকে ফিরেও তাকালেন না।

    মেয়েটি বেরিয়ে যাবার পরও তিনি বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন চেম্বারের মধ্যে। তিনি আরও পরে বেরুবেন। যাতে মেয়েটির সঙ্গে তাঁর আর দেখা না হয়। রাগে তাঁর শরীর জ্বলছে। কুড়িটা টাকা এমন কিছু নয়। কিন্তু মেয়েটি বেইমানের মতন তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায় করে নিল।

    রক্ত নেবার সময় মেয়েটিকে স্পর্শ করতে হয়েছিল বলে তিনি ঘৃণা বোধ করলেন এখন। বেসিনে গিয়ে হাত ধুতে লাগলেন।

    হঠাৎ তাঁর মনে পড়ে গেল, সেই মেয়েটির কথা, যে নিজের কাপড়ে আগুন লাগিয়েছিল। তার ঝলসানো মুখেও ফুটে উঠেছিল তীব্র ঘৃণা। পুরুষদের সম্পর্কে। হাসপাতালে গিয়েও মেয়েটি বাঁচেনি। মেয়েটির স্বামী সেদিন তাঁকে ফি দিয়েছিল বত্রিশ টাকা। তিনি একটু আপত্তি করেছিলেন, ঠিক নিতে চাননি। তবু ওরা জোর করে দিল। রোগের চিকিৎসা করাই ডাক্তারের পেশা, জীবন-মৃত্যুর ভার তার হাতে নয়। তিনি এরকম ভেবেছিলেন।

    মৃত্যু আজ ছদ্মবেশে এসে তাঁকে একটু শিক্ষা দিয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত
    Next Article নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Our Picks

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }