Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার এক পাতা গল্প713 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বাগাল – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

    ধানু মোড়লের খড়কাটা কুঠুরিতে ওপরে খড় নীচে খড় মধ্যিখানে বছর আষ্টেক বয়সের এক মানুষ শীতের লম্বাটে রাতগুলোকে ভোর করে। একখানা চটও আছে। গুটিয়ে পড়ে থাকে একপাশে। মোড়ল বলে, ‘তু এত খ্যাদোড় ক্যানে রে হরিবুলা?’

    সেই খুদে মানুষ শুধু দাঁত বের করে।

    খ্যাদোড় মানে নোংরা। মোড়লগিন্নি সন্দিগ্ধভাবে খড়গুলোর দিকে তাকাতে আসে। মানুষের হিসিমাখা খড়। গোরুকে খেতে দেওয়া অধর্ম। বল সত্যি করে বিছানা লষ্ট করেছিস নিকি? মোড়লগিন্নি তর্জন গর্জন করেন।

    হরিবোলা নিজের কান ছুঁয়ে তিনসত্যি করলেও সন্দেহ ঘোচে না।

    ধানু মোড়ল বলে , ‘উই হুদমুসলোর তিনসত্যির কিছু মুইল্লো আছে? ছেড়ে দাও বরঞ্চ।

    হুদমুসলো মনে গোঁয়ার। এবার মোড়লগিন্নি তকে মোক্ষম আখ্যাটিতে ভূষিত করে, ‘হাসতে লজ্জা করে না রে ক্যালাগোবিন্দা?’

    অর্থাৎ নির্বোধ। হরিবোলার এই তিনি আখ্যা। খ্যাদোড় হুদমুসলো ক্যালাগোবিন্দা। আঞ্চলিক ভাষায় নিকৃষ্ট এই শব্দগুলি রোজ সকালে হরিবোলার উপহার লাভ। এরপর তার কাজ শুরু বাসিমুখে গোয়ালঘর থেকে গোরুগুলোকে বের করে বাইরে বেঁধে এসে ঘর পরিষ্কার। জমাট গোবর যাবে গোয়ালঘরের পেছনে—গোলাকার স্তূপ হয়ে থাকবে, চারদিকে ঘিরে বড়ো বড়ো ফুলন্ত মেথো ঘাস। সেই ঘাসের মাথায় একটা গাব্দামোটা ধানফড়িং দেখতে পেলে সে তার শালিখ ছানাটির জন্য ধরার চেষ্টা করবেই। এতে দু-দণ্ড সময় যাবে। তখন মোড়লগিন্নি খিড়কির দোরে উঁকি মেরে আবার খ্যাঁক করবে। হরিবোলা গোবরমাখা ভাঙা বালতি আর ফড়িংটাকে মুঠোয় ধরে আবার দাঁত বের করবে। যখন সে তরল গোময় আর মেঝের কাদার মিশ্রণে বালতি ভরছে, তখন ফড়িংটা তার হাফপেন্টুলের দড়ির খোপে ঢুকে গেছে।

    এরপর ডোবার ঘাটে হাত-পা ধোয়া। বাসনমাজার ছাই পড়ে থাকে সেখানেই। মোড়লগিন্নির ছায়া দেখলে সে ঝটপট সেই ছাই তুলে দাঁত ঘষতে থাকবে। গিন্নিমা নোংরা একেবারে সইতে পারে না। বলবে, ‘রগুড়ে মাজ দাঁতগুলান-নইলে আজ খাওয়াদাওয়া বন্ধ।’ কিন্তু গিন্নিমার নিজের দাঁতগুলো কালো কেন, সে কথা তুললেই রাক্ষুসি হয়ে তেড়ে আসবে।’

    একবোঝা খড় কেটে তবে খাওয়া। অর্থাৎ এককোঁচড় মুড়ি। একটুখানি গুড়ের ডেলা। নইলে আধখানা পেঁয়াজ।

    গোরুগুলো রোদ্দুরে তখনও ঘুমঘুম চোখে তাকিয়ে পৃথিবী দেখছে। একটু তফাতে বসে হরিবোলা মুড়ি চিবোচ্ছে। শালিখছানাটি তার কাঁধে। তারও ঘাসফড়িংটা খাওয়া হয়েছে। তার চোখদুটোও নিষ্পলক পৃথিবী দর্শন করছে।

    তারপর এল হেমা গয়লানি দুধ দুইতে। মোড়লগিন্নির কোমরে বাত বলে পা দুমড়ে বসতে পারে না ইদানিং। হেমা যতক্ষণ দুইবে, হরিবোলার কাজ বাছুরটিকে কান ধরে টেনে রাখা। বাছুরটি দু-পা ঠোকে। কান ছাড়িয়ে নিতে মাথা এদিকে-ওদিকে করে। হরিবোলা খিটখিট করে হাসে।

    কেন হাসে সেই জানে। হেমা ধমকায়, ‘অত হাসি কীসের রে ছোঁড়া সাতসকালে? তারপর দুধ দোহানো শেষ করে উঠে দাঁড়ায়। হাতে পেতলের চোঙায় দুধের ফেনা। কী মনে করে হরিবোলাকে দেখতে দেখতে বলে, তুর কি শীত-খরা বলতে নাইরে ড্যাকরা ছেঁড়া? এই শীতে মোষের শিং নড়ে যায়, আর খালি গায়ে দাঁত ক্যালাচ্ছিস কী করে বাপু?’

    পেছন থেকে মোড়লগিন্নির অভিমানে আহত কণ্ঠস্বর শোনা যায়, ‘উয়াকে কি জামাকাপুর দেওয়া হয়নি—জিগ্যেস করো না একবার! উটা কি মানুষ ভাবছ তুমি?’ মোড়ল গিন্নি ওর বিছানার শোয়ার বিবরণ দিতে থাকে। সেই চটখানির গুটিয়ে পড়ে থাকার বৃত্তান্ত। ভিজে খড়ের কুচ্ছো। লাল গেঞ্জি কিনে দিয়েছিল, দু-দিনেই ছিঁড়ে ফালাফালা। বড়োই হুদমুসলো। বেজায় খ্যাঁদোড়। একের নম্বর ক্যালাগোবিন্দা।

    হেম দুধের পাত্র সমর্পণ করে বলে, ‘তাই বটে বাপু! হ্যাঁ গো, আঙাদাসীর কুনো খবর নাই?

    আঙাদাসী মানে রাঙাদাসী। এই হরিবোলার মা। গতবছর হঠাৎ মোড়লবাড়ি থেকে চলে গেল তো গেলই। গিন্নির সঙ্গে নাকি ঝগড়াঝাঁটি হয়েছিল। গিন্নি বলেছিল, ‘রোজ চাল চুরি করে বেচে আসত। তার ওপর খানকির স্বভাব। কেমন সাজের ঘটা দেখতে না মাগির? বাজারি!বেউশ্যে!

    এমন মেয়ে রাঙাদাসীর খবর রাখার দায় পড়েছে কার? মোড়লগিন্নি চটে যায় হেমার কথায়। আবার সাতসকালে ওই অলুক্ষণে পাড়ামাতানির নাম? অত দরদ থাকলে তুমি লিয়ে এস খবর! দুধের পাত্রটি নিয়ে থম থম করে বাড়ির ভেতর যায়। ভেতরে গিয়েও রাঙাদাসীর খেউড়।

    হেমা বাঁকা মুখে গুম হয়ে থাকে। তারপর ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে চাপা গলায় বলে, ‘আর তু ছোঁড়ারও বলিহারি যাই রে! হাজার হলেও মা জননী!ধন্যি বাবা, উই পক্ষীটিও মা মা করে চ্যাঁচায়।’

    সেও চলে যায়। তখন হরিবোলার চোখ মাঠের দিকে। মাঠের ওপর কুয়াশা জমে আছে। ওই কুয়াশার ভেতর আছে এক নদী। নদীর পারে কাশফুলের বন, বিল-বাওড়, হিজল ভাঁড়ুলে বাবলা গাছের টুঙ্গি। কখন সেখানে যাবে, সেই প্রতীক্ষা শুধু। নদী পেরুলেই তো হরিবোলাটি আর এই হরিবোলাটি থাকে না। তখন যেন চিতে বাঘের বাচ্চা। চেরা গলায় গান জুড়ে দেয়,’দড়কা লধির উধারে/যৈবন পড়ে আছে হে…যৌবনের বৃত্তান্ত না-জেনেও।

    ধানু মোড়ল নদী পর্যন্ত সঙ্গে যায়। হরিবোলার তখন পান্তা খেয়ে পেটটি ঢোল। বাকি দিনটার খিদের জন্যে বরাদ্দ ফের এক কোঁচড় মুড়ি। কিন্তু হরিবোলা তার বদলে দু-মুঠো চালই পছন্দ করে। দুধসর নামে এক নালা আছে। তার ধারে ভাঁড়ুলগাছের নেমে-যাওয়া শেকড়বাকড়ে ন্যাকড়ার এদিকটা বেঁধে অন্যদিকে বাঁধা চালগুলো জলে ডুবিয়ে রাখে। দুপুর গড়িয়ে এলে সেই চাল তখন দুধের মতো সাদা ফুলো খই যেন আর কী স্বাদ! চড় মারলেও মুখ থেকে ছাড়ে না।

    নদীর ধারে বাঁধের বটতলায় দাঁড়িয়ে মোড়ল হরিবোলার নদী পেরুনো দেখে তারিয়ে-তারিয়ে।

    গমখেতের মুনিশকে শুনিয়ে বলে, ইঃ! যেন চিতাবাঘের বাচ্চা! যতক্ষণ লদির ইধারে, ততক্ষণে নিমুনমুখো ষষ্টি-যেন ক্যালাগোবিন্দাই বটে। যেই লদিটি পেরুল, আর উইরকম। চেহারাটিও বদলে যায়।’

    মুনিশ মুখ তুলে বলে, ‘কার কথা বুলছেন মুরোলমশাই?’

    ‘এই হরিবুলা হে!’

    ‘অ হরিবুলা!’

    হরিবোলার চেরা গলার গান ভেসে আসে ওপারের প্রান্তর থেকে, ‘দড়কা লধির উধারে/যৈবন পড়ে আছে হে…মোড়লমশাই প্রত্যঙ্গ চুলকোতে চুলকোতে খিকখিক করে হাসে। ‘অই শুনছ শালোব্যাটার রসের কথা? এখনও গুয়োর ডিম ভাঙেনি। যৈবন চিনেছে।

    মুনিশ বলে, ‘আচ্ছা মুরোলমশাই, হরিবুলার মায়ের খবর কী?’

    ‘শুনেছি টাউনে আছে—ওইটুকুনই।’

    ‘হরিবুলা মায়ের কথা কিছু বলে না মুরোলমশাই?’

    ‘নাঃ!’ধানু মোড়ল মুখ বাঁকা করে গম্ভীর হয়। ‘আমার কাছে কি কষ্টেতে আছে? থাউক না। টিকতে পারলে বিভা দুবো। বাড়ির পেছন জায়গা—থল দুবো। থাউক।’…

    রাঙাদাসী এক আশ্চর্য মেয়ে। আশ্চর্য—কারণ তার গায়ের রংটা ছিল বাবুবাড়ির মেয়ের মতো ফর্সা। চোখদুটো কয়রা—বিড়ালচোখী বলে যাদের। সাজতে গুজতে ভালোবাসত। ভালোমন্দ জিনিসটাতে ছিল প্রচণ্ড লোভ। গউরের মতো একটা লোক কেমন করে তাকে ভাগিয়ে এনেছিল, সেও এক আশ্চর্য। গউরও অবশ্য একটু শৌখিন এবং টাউনমুখো মানুষ ছিল। রিকশো চালিয়েছিল মাসকয়েক। তারপর হাঁপের অসুখ বাঁধিয়ে ঝটপট মরে গেল। রাঙাদাসী কোলের ছেলেটাকে নিয়ে সেই থেকে ধানু মোড়লের বাড়ি কাজকর্ম করত।

    ভিটেমাটি বেচে মোড়লবাড়িতে উঠেছিল শেষে। গিন্নির সঙ্গে কলহ করে টাউনে চলে গেল। গউর তাকে টাউন চিনিয়েছিল, নাকি সে গউরেকে, এও একটা আশ্চর্য।

    আরও কিছু আশ্চর্য আছে।

    রাঙাদাসীর নাকি আরেক নাম ছিল হরিমতি। গউর ডাকত হরিমতি বলে। সেই শুনে সদ্য মুখফোটা ছেলেটাও হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে ভিটেয় চলতে চলতে দুঃখকষ্ট পেলে চেঁচিয়ে ডাকত আধো-আধো ‘হয়ি’ বলে। রাঙাদাসী হাসতে হাসতে বলত, ‘আরে আমার হরিবুলা সোনা রে! হরি বলতে শিখেছে আমরা ময়না পাখি রে!’ সেই থেকে ছেলেটা হরিবোলা হয়ে গিয়েছিল।

    ক্রমে ক্রমে চাউর হয়, মেয়েটা ছিল মল্লারপুরের ঝুমুরদলের।—সেই যারা মেলার আসরে মাঝরাতে কোমর মুছড়ে নাচে এবং গায়, বঁধূ লাও বা না লাও/মুখ দেখে যাও/বাসি কাচের আয়না। বাসি ভাতের বাসি ফুলের মতো আয়নাও বুঝি বাসি হয়। নিঝুম দুপুরে মোড়লের ঢেঁকিতে পাড় দিতে দিতে আনমনে রাঙাদাসী বা হরিমতি গুনগুন করে গান গাইত। মোড়লগিন্নি কান করে শুনে বলতে, ‘গাইবি তো ঝেড়ে গা দিকিনি বাপু!’ রাঙাদাসী থতোমতো খেয়ে বলত, ‘উ কিছু লয় গিন্নীমা!’ সে বুঝত, গিন্নিমা বলছে বটে মুখে, পরে তাই নিয়ে খোঁটা দেবে। বাজারি গানউলি, ঝুমুরি-টুমুরি বলতেও বাধবে না।

    হরিমতি র্যাশংকাডে হয়েছিল রাঙাদাসী। সেই র্যাশংকাড ধানু মোড়লের জিম্মায় আছে। চিনিটা আর ক্যারাচতেলটার খুব আকাল পাড়াগেঁয়ে লেগেই আছে। লরেন্দ মাস্টের ডিলার। ঠাট্টা করে এখনও বলেন, ‘কী মোড়লমশাই, রাঙাদাসীর কোটা আর কতকাল নেবে? ছেড়ে দিলে আরেক গরিবগুবরোর বেনিফিট হয়।’ মোড়ল হ্যা হ্যা করে হাসে। ‘আঙাদাসী নাই। উয়ার ছেলেটা কি মিথ্যে মশায়? তার চিনিটা ত্যালটা লাগে না।

    লরেন্দ চোখের নৃত্যে বলেন, ‘তোমার বাগলকেও চিনি দাও বুঝি? কীসে দাও মোড়ল? সরবতে, না গুড়ে?

    ধানু মোড়ল মনে মনে চটে। বলে, ‘ক্যানে? চা। চা খায়।’

    ‘বলো কি! চা খায় তোমার বাগাল?

    লোকে হাসলেও রাখাল-বাগাল, মুনিশ-মহিন্দার আজকাল চা খায়, এও সত্যি। ধানু মোড়লের কথা অবশ্য আলাদা। কিন্তু রাঙাদাসীও চা খেত। তার ছেলে হরিবোলাও মায়ের বাটির তলানিটুকু চুকচুক করে টানত। পরে সেও মায়ের কাছে রোজ সক্কালবেলা বাটিভরা চায়ের দাবি তুলত। তবে ছেলেটা যখন দ্বারকা নদীর ওপারে যেতে শিখল, তখন তার কাছে চা তুচ্ছ হয়ে গেল। দিনে দিনে বদলে গেল সে। রাঙাদাসী অবাক হয়ে তার ছেলের বদলে যাওয়া দেখত।

    রাঙাদাসী গউরের কুঁড়েঘরের উঠোনে যে ছেলেকে পায়ের ওপর শুইয়ে তেলকাজল দিতে দিতে সুর করে বলত, ‘আমার ধোন ইশকুলে পড়বে রে! নেকাপড়া শিখে চাকুরি করে আমাকে খাওয়াবে রে!’ সেই ছেলে যায় দ্বারকা নদীর ওপারে গোরুর পাল নিয়ে। তার চুলে থাকে ট্যাঁসকোনা পাখির পালক। তার কাঁধে থাকে শালিখপাখির ছানা। নুড়ি দিয়ে ঘাসফড়িং খোঁজে। কতরকম নাম জানে ঘাস-ফড়িঙের-ঘরপোড়া, তল্লা বাজ। রুক্ষ কাঁকুরে ডাঙায় বেঁটে লালরঙের ফড়িংগুলো ঘরপোরা। কুপির আলোয় বাঁশের চোঙা থেকে সারাদিনের সংগ্রহ সে মাকে দেখাত। লম্বাটে সবুজ ফড়িং দেখিয়ে বলত, ‘ইগুলান তল্লা।’ বেঁটে, ধূসর ডানা, তলার দিকটা ফিকে সবুজ আর পেট জুড়ে ফুটকি ‘ই দ্যাখো মা, বাজ।’ তার পাখিটাও ছিল পেটুক। খাঁচা ছিল না বলে তাকে বেড়াল এসে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হরিবোলা দু-দিন পরে আবার একটা নিয়ে আসবেই। তার তখন পাখি-ঘাসফড়িংদের পৃথিবীতে চলাফেরা! ইশকুলের উলটোদিকে সেখানে যাওয়ার রাস্তা, সেই রাস্তায় রাঙাদাসীর চোখের সামনে হেঁটে গেল তার হরিবোলাটি। দেখতে দেখতে একটুকুন হয়ে মিলিয়ে গেল কাশকুশের বিশাল প্রান্তরে।

    আর প্রতিদিন ফিরে এসে সে মায়ের কাছে সেখানকার গল্প বলত। সিঙাকুড়ির জামগাছটার কাছে কী ঘটেছিল, বাঁওড়ের ধারে কত কুল পেকেছে। (সেই কুলের কিছু নমুনাসহ), আজ বলাই সিঙ্গির সঙ্গে মেছুনিদের ঝগড়া হয়েছিল কী নিয়ে—এই সব। সে বলত কাশবনের কথা। জ্বলে শাপলার ঝাঁকের কথা। একলা কোনও হিজলগাছের অন্ধ পেত্নীর কথা, বুড়ো যোগীবর আর একটা হট্টিটি পাখির কথা। দিনমান সে ট্টিট্টি করে ডেকে বেড়ায়। যোগীবরও জানে না তার বৃত্তান্ত। ‘ক্যানে বেড়ায় মা?’ রাঙাদাসী জানে না। চিমটি কেট বলত, মুখ ধরে যায় না তুর? ইবারে লোক করে ঘুমোদিকিনি!’

    হরিবোলা লোক (চুপ) করবে না। এরপর বলবে মাঠকুড়োনি মেয়েদের কথা। শেষে পরামর্শ দেবে।

    ‘তু ক্যানে যাস নে মা লধির উধারবাগে! বীণামাসিরা যায়। ভাদুর মা যায়। তু ক্যানে যাস নে মা?

    রাঙাদাসী রাগ করে বলবে, ‘আমার মরণ!’

    ‘কানে মা, মরণ ক্যানে?’

    রাঙাদাসী আস্তে বলবে, ‘আমি মাঠেঘাটে কখনও ঘুরিনি বাছা। ছরতে ওদাবাতাস সয় না। চেরটাকাল টাউনবাজারে মানুষ হইছি—পারি না।’

    প্রেম হরিমতিকে পাড়াগেঁয়ে ভাসিয়ে এনেছিল। সে রাঙাদাসী হয়েছিল। তার প্রেমের বয়স চলে যায়নি, কিন্তু প্রেমিকাটি মারা পড়েছিল। এই ছেলেটা না-থাকলে রাঙাদাসী আবার হরিমতি হওয়ার জন্য পা বাড়াত। কিন্তু কোলে ছেলে থাকলে হরিমতি হওয়া বড়ো সমস্যা। সে যেন হরিবোলার বড়ো হওয়ার দিন গুনছিল। বড়ো হতেই চলে গেল…

    মাঘে যখন দ্বারকা নদীর শিয়রে বুড়ো শিমুল গাছটা মাথায় লাল ফেট্টি জড়াল, ধানু মোড়লের আমের গাছে ফুটল লালহলুদ শিসালো মুকুল তখন একদিন লরেন্দ মাস্টারের ভাই মলিন্দ এসে বলল, ‘ও মোড়লমশাই, তোমার বাগাল কোথা?’

    ধানু মোড়ল মোড়ায় বসে শনের দড়ি পাকাচ্ছিল ঢ্যারা ঘুরিয়ে। অবাক হয়ে বলল, ‘ক্যানে বাবা মলিন্দ?’ মলিন্দ চোখে ঝিলিক তুলে বলে, রাঙাদাসীর সঙ্গে কাল দেখা হল মেদিগঞ্জের বাজারে।’

    মোড়ল শুধু বলে ‘অ’।

    মলিন্দ খিক খিক করে হাসে। সে রাঙাদাসী আর নাই মোড়লমশাই। এক্কেবারে ফিলিম ইস্টার।’

    ‘অ’।

    কী পরনের ডেরেস, কি জেকচার-পশ্চার! ঠোঁটে লিপিস্টিক!বুঝলে তো?

    ‘অ’।

    মলিন্দ আরও হেসে বলে ‘ধুত্তোরি!খালি অ অ করে। বুঝলে কিছু?

    ধানু মোড়ল একটু হাসে। ‘তা না-হয় রইলাম। কিন্তুক কি কথাবাত্তা হল তুমার সঙ্গেতে?

    ‘প্রথমে তো চিনতেই পারে না, এমন ন্যাকামি মাগির। তো আম্মো বাবা ছিনে জোঁক। শেষে নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল।’ মলিন্দ বারান্দায় চৌকিতে গিয়ে বসে। বিস্তারিত বলার ইচ্ছায় একটা সিগারেট ধরায় এবং মোড়লকেও দেয়।

    মোড়ল ফুকফুক করে টেনে বলে, ‘হরিবুলার কথা জিজ্ঞেস কল্লে না?

    ‘বলছি, শোনাই না।’ মলিন্দ লম্বা ধোঁয়া ছেড়ে বলে। ‘প্রথমে তো এ-কথা সে-কথা—গাঁয়ের কার কী খবর।

    তারপর বললে, হরিবোলা কেমন আছে, কী করছে এইসব। আমি বললাম, ‘মোড়লমশাইয়ের বাড়িতে আছে, ভালোই আছে। খারাপ থাকবার তো কথা না। তবে তুমি এখানে কী করছ, তাই বলো।’

    ‘জিগ্যেস কল্লে তুমি?’

    ‘হ্যাঁ-অ্যাঁ। আমি বাবা ছিনে জোঁক। না-শুনে ছাড়ব না। সেও কিলিয়ার করে বলবে না। শেষে বলল, এক বাবুর বাড়ি কাজ করছে। টাউনবাজারে আজকাল ঝিয়ের অভাব—ভালোই মাইনেকড়ি পাচ্ছে।’

    মোড়ল বলে, ‘মিথ্যে।’

    ‘মিথ্যে তো বটেই—সে কী আমি বুঝি না? ঠোঁটে লিপিস্টিক!’ মলিন্দ খ্যা খ্যা করে হাসে। শেষে বললাম ‘তা তুমি তো দেখেছি ভালোই আছ। ছেলেটাকে দেখে আসবে না একবার? চলো আমার সঙ্গে।’

    ‘ত্যাখন কী বল্লে?’

    ‘বললে সময় পাই না-এত কাজ। পেলেই যাব। নিয়ে আসব।’

    মোড়ল নড়ে উঠে সোজা হয়। ‘কী বল্লে, কী বল্লে?’

    মলিন্দ আশ্বস্ত করে বলে, ‘নিয়ে যাবে কোথা?’ ছেলে সঙ্গে থাকলে ও বিজনেস তো পন্ড। বুঝলে না? শেষে আমাকে করে জামাকাপড়ের দোকানে গেল। এই দেখো কী সব কিনে দিয়েছ হরিবোলার জন্য।’

    এতক্ষণে ধানু মোড়লের চোখ পড়ে প্যাকেটটাতে। তাচ্ছিল্য করে তাকিয়ে বলে, ‘কী আছে বলো দিকিনি?’

    ‘একটা পেন্টুল একটা জামা। বললে পায়ের মাপ জানা থাকলে জুতোও কিনে দিতাম। একবার সঙ্গে করে নিয়ে যেতেও বললে। বলে আবার কী মনে হল বললে, থাক। নিজেই যাব একদিন।’ মলিন্দ জামা আর হাফপেন্টুল মোড়লকে দেখিয়ে আবার ভাঁজ করে প্যাকেটস্থ করে। চাপা হেসে বলে, ‘ঠিকানা নির্ঘাত বাগানপাড়ার গলি—সে ঠিকানা দেবে কোন মুখে? তাই আসবে বলল।’…

    যাওয়ার সময় হঠাৎ ফিরে এসে একটা ছোট্ট ঠোঙাও দিয়ে যায় মলিন্দ। ভুলে গিয়েছিল, রাঙাদাসী তার ছেলের জন্য লজেন্স কিনে দিয়েছে। নগ্ন চৌকিতে সেগুলো পড়ে থাকে কতক্ষণ। ছুঁতে ইচ্ছে করছিল না ধানু মোড়লের। মোড়লগিন্নি জানতে পারলেও সমস্যা। তার বড্ড ছোঁয়াছুঁয়ির বাতিক।

    কিন্তু না-জানিয়েও থাকা যায় না। দড়ি পাকানো শেষ করে আস্তে সুস্থে উঠে দাঁড়ায় ধানু মোড়ল। কাঁচাপাকা চুল আর গোঁফে হাত বোলায়। তারপর প্যাকেট দুটো বাঁ-হাতে তুলে চালের বাতায় গুঁজে রাখে।

    নদীতে স্নান করে এসে খেতে বসার সময় মোড়ল ফিক করে হাসে। ‘একটা খবর শুনলে গো? আঙাদাসী মেদিগঞ্জেতে আছে। যা বলেছিলে তুমি, তাই। বেউশ্যোতে নাম নিকিয়ে বসে আছে। মলিন্দ বলে গেল।’

    নাক বাঁকা করে মোড়লগিন্নি বলে, ‘মরুক, বারোভাতারি। খাবার সুমায়ে উ কি কথা?

    ‘নাঃ—বলেছি কি হরিবুলার জন্যেতে জামাপেন্টুল আর লেবেনচুষ পাঠিয়ে দিয়েছে মলিন্দর হাতে।’

    মোড়লগিন্নির চোখ বড়ো হয়ে যায়। বিশ্বাস করতে পারে না। বলে, ‘সত্যি নাকিনি?’

    ‘সত্যি বইকি। বাইরেকার ছাঁচবতায় গুঁজে থুয়েছি। দ্যাখো গে—পেত্যয় না গেলে।’

    মোড়লগিন্নি থম থম করে উঠে যায়। মোড়ল কতক্ষণ তার ফেরার অপেক্ষা করে। ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে সন্দিগ্ধ দ্রুত পায়ে আহার শেষ করে নেয়। তারপর যখন উঠোনের কোণায় লেবুগাছটার কাছে ঘটি থেকে জল ঢেলে আঁচাচ্ছে, তখন মোড়লগিন্নি তেমনি থম থম করে ফিরে আসে। মুখখানা জ্বলছে দাউ দাউ করে। নাসারন্ধ্র স্ফীত।

    মোড়ল একটু হেসে বলে, ‘দেখলে?’

    প্রৌঢ়া জবাব দিল না। টিউকলে গিয়ে রগড়ে হাত ধুতে থাকল।…

    দিনকতক পরে সন্ধেবেলায় দ্বারকা নদীর ওপার থেকে গোরু চরিয়ে বাগাল হরিবোলা ফিরে এসেছে। চেরা গলায় বাইরে যথারীতি ‘গিন্নিমা আলো’ বলে চিক্কুরও ছেড়েছে। গিন্নিমা লণ্ঠন দেখিয়েছে এবং সে গোরুবাছুর গোয়ালে বেঁধে ফেলেছে। তারপর অন্ধকারে ডোবার জলে হাত পা মুখ, পা ধোয়াপাখলা করে সর্ষের তেলটুকুনও চেয়ে নিয়েছে। গায়ে গতরে মেখে উঠোনের কোনায় বসে তেমনি চিক্কুর ছেড়েছে, ‘গিন্নিমা! ভাত দ্যাও।’

    উঁচু দাওয়ায় লণ্ঠন জ্বলছে। নীচের উঠোনে সেই আলোর হলদে চকরাবকরা ছটা খানিকটা। একটু তফাতে বাড়ির কুকুরটার বিরাট ছায়া পাঁচিলের গায়ে, লেজটা নড়ছে, মুখটা হাঁ। হঠাৎ একমুঠো গিলেই হরিবোলা আরেক চিক্কুর ছাড়ে, ‘গিন্নিমা! আমার জামাপেন্টুল? আমার লেমুনচুষ!’

    মোড়লগিন্নি গুম হয়ে বলে, ‘খাবি তো খা দিকিনি বাপু! পরে উসব কথা।’

    হরিবোলা হুদমুসলো সে তো মিথ্যা নয়। দিনমান জানোয়ারের সঙ্গে বনেপ্রান্তরে বাস, বাগাল। বাগালের গোঁ। একটু পিছিয়ে গিয়ে চ্যাঁচায়, ‘আগে দ্যাও, তমে খাব।’

    মোড়লগিন্নি ফুঁসে ওঠে। ‘শুনছ শুনছ তোমার বাগালের কথা? কেমুনি বুলি ফুটছে শুনছ?’

    দাওয়ায় মোড়া থেকে ধনু মোড়ল খুক খুক করে হাসে। ‘অ হরিবোলা? কে তুকে বল্লে জামাপেন্টুলের কথা?’

    হরিবোলার দাঁত চকচক করে। মাস্টেরের ভাই মলিন্দবাবু বুললে, ‘তুর মা তুকে জামাপেন্টুল দিয়েছে। লেমুনচুষ দিয়েছে!’ সুর ধরে আওড়ে সে এঁটো হাতটাও ওপরে তুলে নাচতে থাকে।

    মোড়লগিন্নি বেগতিক দেখে চাপা গলায় বলে, ‘উ জিনিস ছুঁতে নাই, হরিবোলা। বয়েস হলে বুইতিস, ক্যানে ছুঁতে নাই। ভাতগুলান খা দিকিন দয়া করে। মুড়ুল তুকে লতুন জামাপেন্টুল কিনে দিবে।’

    মোড়ল ঘোষণা করে, ‘দুবো। ক-টা দিন অপিক্ষ কর! কবস্ত চাল বেচতে যাব অড়তে। তুকে লিয়ে যাব। এখন যা কচ্ছিস, তাই কর।’

    ক্যালোগোবিন্দ বাগাল অমনি শান্ত হয়ে বলে, ‘লিয়ে যাবা তো মুরোল?’

    ‘হুঁ হুঁ লিয়ে যাব। তুর মা-জীননীকেও দেখে আসবি।’

    ঝোঁকের বশে ধানু মোড়ল এ কথাও বলে ফেলে এবং তারপর ভাবে, বলেই যখন ফেলেছে, মুখের কথা বই নয়। কোথায় রাঙাদাসী থাকে, সঠিক জানা নেই-মলিন্দেরও। তবে জানা থাকলেও সাধুগিরি করে মায়েছেলেতে মিলিয়ে দিলে উলটে হয়তো নিজেরই বিপদ বাধবে। পেটভাতায় এমন খাঁটি বাগাল পাওয়া সহজ নয়। বছর সন মাইনেকড়ি আছে তার ওপর বাবা-মাকে ধান ধার দাও, এটা দাও, ওটা দাও সম্বচ্ছর ঝামেলা। হরিবোলার সে ঝামেলা নেই।

    রাতে বিছানায় শুয়ে মোড়ল বউকে চুপিচুপি বলে, ‘জিনিসগুলান আস্তাকুড়ে না-পুঁতলে পারতে। মেয়েটা বেউশ্যা হয়েছে, জিনিসগুলান তো হয়নি।’

    মোড়লগিন্নি গর্জন করে বলে, ‘থামো তুমি! বুইতে পাল্লে না ক্যানে দিয়েছে, এত যে মুড়লি মেরে বেড়াও গাঁয়ে।’

    মোড়ল কেঁচো হয়ে বলে, ‘ক্যানে দিয়েছে বলো দিকিনি?’

    ‘নোভ দেখাতে। ক্রিমে ক্রিমে নোভ বাড়াবে জামাপেন্টুল পরে। তখন আর তুমার বাগালি করবে ভেবেছ নাকিন?

    ‘টাউনবাগে দৌড়ুবে না?’

    মাথা নেড়ে মোড়ল বলে, ‘ঠিক, ঠিক।’

    ‘মাগি টোপ ফেলেছিল।’ শ্বাসপ্রশ্বাসের মধ্যে মোড়লগিন্নি পাশ ফিরে বলে, ‘তমে সত্যি যদি ই বাগে আসে, উয়ার চুল কেটে ন্যাড়া করে ফেরত পাঠাব। নখাই, যদু, মুকুন্দ সবাইকে বলে রেখেছি। ই মাটিতে পা দিয়ে একবার দেখুক না কলঙ্কিনী!’

    বিবেচক মোড়ল আস্তে বলে, ‘আহা, ছেলেটা তো উয়ার। চাইলে আইনত ধম্মত…’

    মোড়লগিন্নি বাঘিনির গর্জনে বলে, তুমি থামো! ভালোমানুষি কত্তে হয়, বারোয়ারিতলায় যাও।’

    ‘আহা, হরিবুল্লা যদি যেতে চায়?’

    ‘যাচে না।’ হঠাৎ শান্ত অথবা নিস্তেজ হয়ে যায় প্রৌঢ়া মেয়েটি। ‘লদির উধারে হরিবোলার মন বসে যেয়েছে। তুমি দেখো, উ কক্ষনো যাবে না।’

    যাবে না, কারণ দ্বারকা নদী পার হলেই সে এক অন্য হরবোলাটি। দিনমান তার চোখে ছবির মতো আঁকা হয় কাশকুসের ধূসর ব্যাপকতা, দাগড়া দাগড়া হলুদ সরষে ফুলের ছোপ কাছে এবং দূরে শালিক পাখির ডিম হয়ে থাকা চিত্রিত নীলাভ আকাশ, আর ওই একলা ওড়া হট্টিটি পাখিটার টি টি টি ডাকে। বিলের জলে আকাশ থেকে বাঁকা এক রেখা ঝপাং করে পড়তেই একঝাঁক জলহাঁস ফুটে ওঠে। কখনও বন্দুকের শব্দে বিশাল নৈঃশব্দ্য খান খান হয়ে যায়, এবং বাতাসে কিছুক্ষণ বারুদের কটু গন্ধ। তারপর আবার সব শান্ত, চুপচাপ। আবার ঘাসফড়িংয়ের কণ্ঠস্বর ছাপিয়ে বাগালছেলের চেরা গলায় চিৎকার, ‘বীণামাসি গো! নে-দে-ছেএ-এ!’ মোড়লের গোরু নাদলে বীণামাসি ছাড়া আর কাউকে দেবে না হরিবোলা। পা দিয়ে গোবরটা থুপথুপ করে গুছিয়ে রাখবে। মাঠকুড়োনি মেয়েটার আসতে দেরি হলেও ওটা আর কেউ ছোঁবে না। অলিখিত আইন এই মাঠের পৃথিবীতে।

    এর মধ্যে দিনটা কেটে যায় হরবোলার। তার ইচ্ছে করে একটা দলের সঙ্গে থাকবে। কিন্তু মোড়লের কড়া নিষেধ। পাঁচজন বাগাল দল বাঁধলেই খেলাতে মন দেবে। তখন গোরু গিয়ে কার ফসল খাচ্ছে, সেদিকে দৃষ্টি থাকে না। তাই হরিবোলা একলা হয়ে ঘোরে। বাঁওড়ের ধারে গিয়ে যোগীবরের কাছে নানারকম গল্প শোনে। গোরুগুলো আপন খেয়ালে চরে বেড়ায়। ক্রমশ গোচর মাটির সীমানা কমে যাচ্ছে। আবাদ বাড়ছে। বুড়ো যোগীবর বহুদূর দৃষ্টি চালিয়ে বলে ওঠে, ‘সব আবাদ হয়ে যাবে, বুইলি হরিবোলা। বাঁধ হবে-হবে শুনছি। হলে পরে উই উলেকাশের বোন, উই বিল ই বাঁওড়-সবখানে লাঙল পড়বে। ত্যাখন হরিবোলা, ত্যাখন গোরু চরাবি কতি রে, অ্যা?’

    খুব হাসে যোগীবর। হরিবোলা বলে যাঃ!

    ‘যাঃ লয়। দেখবি কী হয়’।

    হরিবোলা ওসব ভাবে না। কিন্তু বিলের জলে লাঙল পড়ার কথা শুনে সে ভারি অবাক হয়। বলে, ‘যুগীকাকা, ওগো যুগীকাকা! বিলের জলে লাঙল পড়বে কেমুন করে? বলদ ডুবে মরবে না?’ তার টানাটানা চোখ বিলের দিকে প্রসারিত হয়।

    ‘ওরে বাছা, ত্যাখন কি জল থাকবে? বাঁধ পড়লে বছরে বছরে শুকিয়ে যাবে।’

    হরিবোলা অত ভাবতে পারে না। সে যখন হবে তখন হবে। ‘অ যুগীকাকা হেজলতলার পেত্নিটার কথা বুলো না। আর দেখা হয়নি তুমার সঙ্গে?’

    যোগীবর হাসে! মাথা নেড়ে বলে, ‘হয়েছিল বই কী! তবে উই দ্যাখ বাপ, তুর ধলি গোরুটা বুঝি মুখ দিলে গমের চারায়।’

    হরিবোলা নড়ি তুলে চ্যাঁচাতে চ্যাঁচাতে দৌড়তে থাকে। মেহেদু কসাইয়ের নাম করে শাসায়। বলে, ‘মেহদুকে দুবো-হ্যাঁ!’

    গোরুগুলোকে সে ভালোবাসে। খুঁটিয়ে তাদের শরীর দেখে। ঘা থাকলে দুবেবা ঘাস মচলে ঘসে দেয় যোগীবরের পরামর্শ। গোঁদল পোকা ছড়িয়ে দেয় পেট থেকে। কমবয়সি বাছুর গোরুটাকে সে কোলে নিয়েই পার করে নালা খানাখন্দ। তখনও তার কাঁধে শালিকছানা। চুলে ট্যাঁসকোনা পাখির পর গোঁজা। কোথাও এই পর পেলে সঙ্গে সঙ্গে সে কুড়িয়ে নেয়। মোড়লের খড়কাটার কুঠুরির নীচু চালে অনেক পর গোঁজা আছে।

    এই জীবন হল বাগালের। তারও আছে অনেক রীতিনীতি, অনেক প্রথা, ইতিহাস। হরিবোলা তার অন্তর্গত। তার কপালে আঁকা আছে রাখালফোঁটা। নড়ির ডগায় ঘষে ঘা করে সেই শুকোলে ওই গোল ফোঁটা কালো হয়ে ফুটে থাকে দুই ভুরুর মধ্যিখানে। এই ফোঁটা দিয়ে দ্বারকার ওপারে রাখালের একদিন অভিষেক হয়। হরিবোলার হয়েছে। রাখালি ছেড়ে কোথাও যাবে না। গ্রাম থেকে বেরিয়ে এলেই সে নদীপারের এই ব্যাপকতায় উড়ে বেড়ায় পাখাপাখালির মতো। এখানে অবাধ স্বাধীনতা তাকে চিতাবাঘের বাচ্চা করে ফেলে। তার চলার ভঙ্গি যায় বদলে। চাহনিতে ফুটে ওঠে বন্যপ্রাণীর চাঞ্চল্য। সে গলা ছেড়ে গান গায়, ‘দড়াধির/যৈবন পড়ে আছে হে…যদিও তার যৌবন এখনও বহুদূরে। সেই যৌবন এলে কী ঘটবে, তাও সে ভাবে না। ফাঁড়িঘাসের বনে, হিজল-জারুবল-ভাঁড়ুল গাছের জঙ্গলে, কিংবা বাঁওড়ের ধারে সবুজ ঘাসে, ঢাকা মাটিতে হাঁটতে হাঁটতে তার মনেও হয় না যে একদিন এই বাগালিজীবনের পর তাকে মুনিষ হয়ে খেতে নামতে হবে এবং তার এই সিধে মেরুদণ্ড বেঁকে যাবে ফসলের শিসের দিকে। যে মাটিতে সে পা দিয়ে ছুঁয়েছে, সেই মাটি হাত দিয়ে তাকে ছুঁতে হবে এ কথাও বোঝে না সে।

    এখন হরিবোলা সে হরিবোলাটি নয়। তার আদুরে শরীরে এমন ঘাসের গন্ধ, বিলের জলের গন্ধ! খড়কুটোর ঘরে কুঁকড়ে শুয়ে নিজের বুকের ওইসব প্রাকৃতিক গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে সে ঘুমিয়ে পড়ে। তার অবচেতনায় সারা রাত দ্বারকা নদীর ওপারের বিস্তীর্ণ তৃণভূমি বুড়ো যোগীবরের মতো পাহারা দেয়।…

    চৈত্রে ধানু মোড়লের মেয়ে-জামাই এসেছে। জামাই খুব সিগারেট খায়। সকালে হরিবোলাকে ডেকে বলে, ‘অ্যাই ছোঁড়া, এক প্যাকেট সিগারেট এনে দে তো! শোন, এই প্যাকেটটা নিয়ে যা। বলবি এই সিগারেট দাও।’

    হরিবোলা টাকা নিয়ে দৌড়াতে থাকে। লরেন্দ মাস্টারের ভাই মলিন্দ সম্প্রতি মনোহারি দোকান দিয়েছে গ্রামে। সিগারেট সেই বেচে। হরিবোলাকে দেখে বলে ‘দাঁড়া হরিবুলা, কথা আছে।’

    হরিবোলা বলে, টক করে সেকরেট দ্যাও বাবু, গোচ্চারতে যাব।’

    মলিন্দ হাসে। ‘দাঁড়া না বাঞ্চোত! কথা আছে।’ সে হরিবোলার হাত থেকে টাকা নেয়। কিন্তু সিগারেট দেয় না। গলা চেপে বলে, ‘সেই যে তোর মা জামাপেন্টুল দিয়েছিল, পারিসনি?’

    হরিবোলা মাথা নাড়ে। নির্বিকার মুখে বলে, মুরোলগিন্নি দেয়নি। লেমুনচুষও দেয়নি।’

    ‘হুঁ। যাবি তোর মাকে দেখতে?’

    হরিবোলা নিষ্পলক তাকিয়ে থাকে।

    মলিন্দ চাপা ধমক দেয়। চোখে হাসি। ‘বল না, যাবি নাকি মাকে দেখতে? তোর মায়ের সঙ্গে প্রায়ই দেখা হয়। আমাকে বলে তোকে নিয়ে যেতে। যাবি?’

    হরিবোলা আস্তে বলে, ‘মুরোল বকবে।’

    ‘ধুর ব্যাটা! লুকিয়ে যাবি।’

    হরিবোলা একটু হাসে এবার। ‘গোরুগুলান কে চরাবে?’

    ‘আর কোনও বাগালকে গছিয়ে দিবি। তারটা একটা দিন চরিয়ে শোধ করবি।’

    এমন প্রথা অবশ্য আছে। তবু হরিবোলা ভাবে। শেষে হাত বাড়িয়ে বলে, ‘জামাইদাদার সেকরেট দ্যাও।’

    ‘তাহলে যাবি না? অ্যাই ছোঁড়া, মাকে দুঃখ দিবি? তুই তো বড্ড নেমকহারাম।’

    হরিবোলা মুখ নামিয়ে পায়ের বুড়ো-আঙুলে মাটিতে আঁচড় কাটে।

    মলিন্দ ফিসফিস করে বলে, ‘তোর মা খুব কান্নাকাটি করছিল। গাঁয়ে আসতে সাহস পায় না মোড়লগিন্নির ভয়ে। তা ছাড়া …ওসব তুই ছেলেমানুষ বুঝবি না। মোটকথা, তোর মায়ের আসা কঠিন। তুই আমার সঙ্গে যাবি, চলে আসবি দেখা করে। কেমন?’

    হরিবোলা অবশেষে আস্তে মাথাটা দোলায়। তারপর গলার ভেতর বলে, ‘কবে যাবা তুমি?’

    ‘কাল মাল আনতে যাব। খুব সকাল-সকাল যাব। নদীর ব্রিজে সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকব। তুই চলে আসবি।…’

    এদিন হরিবোলার কেমন ভাবুক চেহারা। গোরু নিয়ে গেল কেমন তুম্বো মুখে। মোড়লগিন্নির থাপ্পড় খেয়েও সে মুখ খোলেনি। কিন্তু নদীর ওপারে গিয়ে তার মনটা ভালো হয়ে গেল। যোগীবরের কাছে যেতে ইচ্ছে করছিল না। নিরিবিলি ঘুরে বেড়াল গোরুর পালটা নিয়ে। মায়ের কথা ভেবে খুশি হচ্ছিল হরিবোলা। মায়ের কথা বেশি করে মনে পড়ছিল। মায়ের সেই গানখানাও গেয়ে ফেলল সে ‘বঁধু লাও বা না লাও/মুখে দেখে নাও/বাসি কাচের আয়না…’

    তারপর গেল দুধসরের ধারে। বাগালদের জোট সেখানে ভাঁড়ুলে গাছে ঝাল-ঝুল্লা খেলছে। নালার জলে চিহ্নিত শেকড় থেকে ভিজে চালের ন্যাকড়াটা তুলল সে। তারপর দলটার দিকে তাকাল।

    পাতকুড়োকে খুঁজছিল সে। পাতকুড়োর সঙ্গেই তার যত বন্ধুত্ব। ছেলেটা খুব লক্ষ্মী। চোখে চোখে পড়তেই হরিবোলার চালের লোভে দৌড়ে এল খেলা ছেড়ে। দলপতি তাকে শাসাচ্ছিল, ‘শালোকে পাল থেকে বেংড়ে দুবো!’ কিন্তু গ্রাহ্য করল না সে।

    পাতাকুড়ো হাসিমুখে বলল, ‘ইদিক বাগে দেখেই বুঝেছি, হরিবোলার চাল ভিজুনো ছিল ন্যালায়। ইঃ জানলে পরে খেয়ে শ্যাষ করে দিতাম।’

    হরিবোলা মিঠে গলায় বলল, ‘দিতিস তো দিতিস! এই লে!’

    দুজনে কুড়মুড় করে চাল খায় নাটাকাঁটার ঝোপের আড়ালে। তারপর কথাটা তোলে হরিবোলা। যাবে আর বেলাবেলি ফিরে আসবে। মায়ের কাছে বাসমোটরের ভাড়া চেয়ে নেবে। সাঁকোর কাছে নেমে সোজা এখানে চলে আসবে। গোরুগুলো বুঝে নিয়ে বেলা যদি থাকে চড়বে-নইলে ডাকিয়ে নিয়ে ফিরে যাবে।

    পাতাকুড়ো রাজি। গেরস্থর চোখের আড়ালে বাগালে বাগালে এমন বোঝাপড়া চিরকালের।…

    পরদিন সকালে তর সইছিল না হরিবোলার। বাড়িতে জামাই বলে ধানু মোড়ল আজ আর নদী পর্যন্ত আসেনি। নদীর ওপারে পাতকুড়োকে পালটা বুঝিয়ে দিয়ে হরিবোলা দৌড়ুতে থাকে নদীর ধারে-ধারে।

    ব্রিজের মাথায় মলিন্দ সাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছিল। তার বড়ো গরজ। রাঙাদাসী এখন মেদিগঞ্জের বাগানপাড়ার গলিতে মধুবালা হয়েছে। মলিন্দ তার প্রেম পেয়েছে। যখন রাঙাদাসী গ্রামে ছিল, তখনও মলিন্দ ঘুরঘুর করত বটে, পাত্তা পায়নি। তা ছাড়া মেয়েটার মতিগতিও অন্যরকম ছিল।

    শুধু অবাক লাগে মলিন্দর, প্রস হয়েও ছেলের জন্য টান থাকে থাকে সে কল্পনাও করেনি। বাগানপাড়া গলিতে ঢোকার অভ্যাস তার অনেকদিনের। সেখানে গউরের বউকে দেখে সে চমকে উঠেছিল। কিন্তু মোড়লকে তো এসব কথা বলা যায় না।

    টাউনবাজারে এই প্রথম আসা হরিবোলার। সে একেবারে জড়োসড়ো এতটুকুনি। মলিন্দ সাইকেল থেকে নেমে তাঁর কাঁধ ধরে ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যায়। অনবরত বোঝায়, যেন গ্রামের কাকপক্ষীটিও টের না-পায়। বারবার বলে, ‘কাউকে বলবিনে তো হরিবোলা? বললে তোকে কেটে ফেলব কিন্তু।’

    বন্যপ্রাণীর চাউনিতে হরিবোল রংবেরঙের ঘরবাড়ি আর মানুষজন দেখে। ভেবে কূল পায় না এখানে তার মা থাকে!

    কতদূর হেঁটে একটা আড়তে সাইকেল জিম্মা দিয়ে মলিন্দ বলে, ‘আয় হরিবোলা!’

    এগলি ওগলি আরও কতদূর গিয়ে একটু দাঁড়ায় সে। আবার বলে, ‘আয়।’

    গলি দুধারে খোপবন্দি ঘর। টালি বা খাপরুলের ছাউনি। দরজায় বসে ও দাঁড়িয়ে আছে নানাবয়সি মেয়েরা। পিটির পিটির তাকিয়ে হাঁটে। একটা ঘরের দরজায় পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে চুল শুকোচ্ছিল এক মেয়ে, পরনে লালরঙের শাড়ি। মলিন্দ আস্তে মধুবালা বলে ডাকতেই সে ঘোরে।

    সেই কয়রা বেড়লচোখ। সেই রাঙা ছিপছিপে গড়ন। তবু হরিবোলা চিনতে পারে না। মলিন্দ বলে, ‘কি করে ছোঁড়া? মাকে চিনতে পারছিস না! এজন্যই মোড়ল বলে ক্যালাগোবিন্দা।’

    রাঙাদাসী খপ করে হরিবোলকে ধরে একটানে ঘরে ঢুকিয়ে ভেতর থেকে বলে, ‘মলিন্দবাবু তুমি এখন এসো।’

    মলিন্দ অবাক। খ্যা খ্যা করে হাসে। ‘বাঃ তোমার বেশ বিবেচনা মাইরি!’

    ‘না, না তুমি এখন এসো তো। জ্বালিও না।’

    ‘হরিবোলাকে মোড়লের কাছে পৌঁছে দিতে হবে না?’

    ‘না। আমি বাসে তুলে দেব। তুমি যাও।’

    ‘ঠিক আছে।’ মলিন্দ বেজার হয়ে পা বাড়ায়। দরজা বন্ধ করে দিয়েছে রাঙাদাসী। মনে মনে মলিন্দ অশ্লীল গাল দিতে দিতে কিছুটা এগিয়ে থমকে দাঁড়ায়। উদাস চাউনিতে তাকে দেখতে থাকা একটি মেয়েকে কাঁপা-কাঁপা গলায় বলে ‘রেট?’ মেয়েটি দু-হাতের দশটা আঙুল দেখায়।

    ‘গরজ!’ বলে মলিন্দ তার ঘরেই ঢুকে পড়ে।

    দরজা বন্ধ করে পেছনের একটা ছোটো জানলা খুলে দিয়েছে রাঙাদাসী। জানলার ওধারে খালে শুয়োর চরছে। ওপারে ঝোপঝাড়, তারপর একটা পুরোনো বিশাল বাড়ি। ঘরের ভেতরটা ক্রমশ স্পষ্ট হলে হরিবোলা দেখে, তবে মা তাকে জড়িয়ে মাথায় গাল রেখে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। মায়ের শরীর থেকে বা শাড়ি থেকে মিষ্টি গন্ধ মউ মউ করছে। গন্ধটা তার চেনা লাগে। কিন্তু সে নির্বিকার মুখে ঘরের ভেতরটা দেখতে থাকে।

    তক্তাপোশের ওপর পুরু বিছানা। এমন বিছানায় কখনও সে বসেনি। দেয়ালে অনেক ছবি ঝুলছে। মা কালীর ছবিটা সে চিনতে পারে। মোড়লের ঘরে এই ছবি আছে। মেঝের ওধারে কেরোসিনকুকার। এনামেলের হাঁড়িকুড়ি। একটা সাদা চওড়া থালা। কেটলি। অনায়াসে ইটের ওপর বসানো। সেই চেনা সুটকেস তার ওপরে একটা বড়ো কালোরঙের থলের মতো— হয়তো বাক্স। তাতে কী আছে, দেখতে ইচ্ছে করে হরিবোলার।

    দড়ির আলনায় শাড়ি সায়া ব্লাউজ এইসব ঝুলছে। তারপর কোণার দিকে দুটো ইট এবং নর্দমার ঘুলঘুলিতে চোখ পড়ে হরিবোলার। ঘরের ভেতর পেচ্ছাপ করে বুঝি? তার মা এমন ‘খ্যাদোড়’ তো ছিল না।

    ‘হরিবোলা!’

    ধরা গলার ডাক শুনে হরিবোলা এবার মুখ তোলে।

    ‘কী খেয়েছ সকালে?’

    ‘মুড়ি, গুড়। আর…’ একটু ভেবে হরিবোলা বলে, ‘মরোলের জামাই বতিচুরের নাড়ু এনেছিল। তাই আধখানা দিয়েছিল।’

    ‘ভাত খাওনি?’

    ‘হুঁ পান্তা খেয়ে গোচ্চরাতে গেলাম! তারপরে…’

    গালেগালে ঘষে রাঙাদাসী বলে, ‘আমাকে তুর ঘেন্না করছে, বাছা?’

    ‘উ?’ হরিবোলা বোঝে না।

    শ্বাস টেনে এবং ছেড়ে রাঙাদাসী বলে, ‘চাট্টি ভাত খা। মাছ আন্না করেছি। আজই তুকে আনবে, জানি না তো!’

    রাঙাদাসী মেঝেয়! একটুকরো আসন পেতে ছেলেকে ভাত বেড়ে দেয়। হরিবোলা প্রথমে একটু অনিচ্ছা করে, পরে খুশি হয়ে খায়। রাঙাদাসী তাকে খাওয়ায়। মুখে ভাত গুঁজে দেয়। জামাপ্যান্টের কথা জিজ্ঞেস করে। হরিবোলা মোড়লের দোষ ঢাকতে মিথ্যে করে বলে, দিয়েছিল।’

    ‘ই ছিঁড়া পেন্টুল খালি গা করে এলি যে?’

    হরিবোলা দুধের দাঁতে হাসে। ‘মাঠ থেকে এলাম বুলছি না?’

    ‘খেয়ে নে। অপরের লতুন জামাপ্যান্টজুতো কিনে দুবো।’

    সেই সময় দরজায় খটখট করে ডাক, মধু!অ মধুবালা!অসময়ে আবার কোনও নরকখোকোকে ঢোকালি লা? বিদেয় করে বেরো! বড়োমানুষ এনেছি।’

    রাঙাদাসী গর্জন করে বলে, ‘যাও তো মাসি। হবে না এখন!’

    ‘আচ্ছা লা, আচ্ছা! দেখব, গুমোর কদ্দিন থাকে।’

    হরিবোলা জিগ্যেস করে, ‘কে ঝগড়া করছিল মা?’

    ‘ওই এক মাগি।’ বলে ছেলের মুখে গেলাস ধরে। হরিবোলা ঢকঢক করে জল খায়, কিন্তু গেলাসের দু-পাশ দিয়ে দুটো বন্যচোখে মায়ের মুখখানা দেখতে থাকে। রাঙাদাসীর বুকটা ধক ধক করে ওঠে চাউনি দেখে। তারপর রাঙাদাসী ছেলের চুল আঁচড়ে দেয়। ভিজে তোয়ালেতে মুখ মুছিয়ে দেয়। আঙুলের ডগায় করে স্নো তুলে ঘষতে গেলে হরিবোলা মুখ সরায়। কিছুতেই মাখতে চায় না।

    ঘরে তালা এঁটে ছেলেকে নিয়ে সে বেরিয়ে পড়ে। হাঁটতে হাঁটতে বলে, ‘যখন মন খারাপ করবে, তক্ষুণি চলে আসবি। যেমন আচ মুরোলবাড়ি তেমুনি থাকো এখন। ভগবান যদি মুখ তুলে তাকায়, মা বাছা মিলে টাউনে দোকান দুবো।’

    এইসব কথা অনর্গল। হরিবোলা কিছু বোঝে না। টাউন বাজারের ভিড়ে হারিয়ে যাবার ভয়ে মাকে আঁকড়ে ধরে হাঁটে।…

    বাওড়ের কাছে খানিকটা উঁচু টুঙ্গির ওপর যুগীবরের কুঁড়েঘর। খড়-বাঁশের একটা ঝুপড়ি সামনে খানিকটা মাটি ঝকমক করছে। হিজলগাছের ডালে ঝুলছে দড়ির সিকে, তার মধ্যে দুটো হাঁড়িকুড়িতে তার খাদ্যদ্রব্য। গুঁড়িতে ঝুলছে তার হুঁকো। এই তার সংসার। বহুবছরের আগে সে গ্রাম থেকে এখানে এসে নিরিবিলিতে এই সংসার গড়েছে। একটুকরো খেত ছড়িয়ে আছে সামনে। এই তার সম্পত্তি। সারাবছর সে বিবিধ ফসল ফলায়। তাকে বেচতে যেতে হয় না, নিকিরিরা এখন থেকেই কিনে নিয়ে যায়। গ্রামে সে কখনও সখনও যায়, সেও নুন-তেল কিনতে হাটবারে একখানি কাপুড় কিনতে। সেও এক হুদমুসলো—গোঁয়ার মানুষ। কোমরে কোনওরকমে গামছা জড়ানো। শীতকালে বড়োজোর গেঞ্জির ওপর তুলোর কম্বল। মাথায় পুরোনো কাপড়ের টুকরো দিয়ে পাগুড়ির মতো একটা কিছু বানিয়ে নেয়। যখন তার খেতের শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন সে এক দাম্ভিক সম্রাট। বাগালরা তাকে খুব ভয় পায়। শুধু হরিবোলাকে সে পাত্তা দেয়, পছন্দ করে এবং হরিবোলা কাছে গেলেই তার মুখ খুলে যায়। হাঁটুদুমড়ে গমের চারার ভেতর বসে আগাছা ওপড়াতে ওপড়াতে সে মুখ তুলে বহুদূরে তাকিয়ে অন্বেষণ করে তাকে।

    এদিন ছেলেটাকে দেখতে না-পেয়ে ভাবছিল জ্বরজারি হয়েছে বুঝি। কিন্তু পড়ন্তবেলায় যখন সে হুঁকো হাতে পা ছড়িয়ে বাসে সুখটান দেবার উপক্রম করছে, তখন তার গায়ে একটা দীর্ঘছায়া। মুখ ঘুরিয়ে সে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। চোখে রোদের ছটাও বটে। চিনতে পারে না।

    হরিবোলার গায়ে রাঙা জামা, আনকোরা হাফপেন্টুল পায়ে সত্যিকার স্যান্ডল। ফিক করে হেসে বলে ‘যুগীকাকা, ইগুলান মা কিনে দিয়েছে। মেদগেঞ্জতে যেয়েছিলাম, বুইলা না যুগীকাকা?’ সে দৌড়ে এসে হাঁটু দুমড়ে সামনে বসে পড়ে। কলকল করে বৃতান্ত বলতে থাকে।

    যোগীবর খালি হুঁ দিয়ে যায়। তারপর হরিবোলা তার হাতে একটা লেমুনচুষ গুঁজে দিলে সে মুঠোয় ধরে রাখে জিনিসটা। একটু পরে বলে, ‘তুর মা মেদিগঞ্জতে থাকে?’

    হরিবোলা খিটখিট করে হাসে। ‘তমে তুমি এতক্ষুন শুনলা কী? বলে সে এদিক-ওদিক চেয়ে দেখার পর জামা খুলে ফেলে। স্যান্ডেল দুটো খোলে। পেন্টুলটা খুলতে যায় কুঁড়ের পেছন। ফিরে আসে আগেকার বাগাল হয়ে। পরনে ধানু মোড়লের ছেঁড়া পেন্টুলখানা মাত্র। চাপা গলায় বলে, ‘ইগুলান নুকিয়ে থোব তুমার কাছে। মুরোল জানলে মারবে, বুইলা না?’

    যোগীবর মাথা নেড়ে বলে, ‘বুইলাম।’

    হরিবোলা জামা-পেন্টুল-স্যান্ডেল গুটিয়ে যোগীবর হাতে গুঁজে দেয়। তারপর চিতেবাঘের বাচ্চার মতো দৌড়ুতে থাকে। তার চেরা ভেসে আসে কুয়াশামাখানো নরম রোদের ভেতর থেকে। ‘বঁধু লাও বা ন লাও/মুখ দেখে যাও/বাসি কাচের আয়না…’

    যোগীবর সাধুর মতো উদাসীন হেসে হরিবোলার জামা পেন্টুল-জুতো দেখতে থাকে। একবার শোঁকেও। নতুন কাপড়ের গন্ধটা বেশ। টাউনবাজারের কথা মনে পড়ে যায়। কতকাল সে টাউনবাজারে যায়নি। শিগগির একদিন যাবে।

    দুধসরের নালার কাছে পাতকুড়ো মুখ চুন করে দাঁড়িয়েছিল। হরিবোলা কাছে গেলেও সে কথা বলে না। গোরুবাছুরের পাল তখন ঘরমুখো হচ্ছিল। বাগালরা হাঁকিয়ে নিয়ে আসছিল নালার এধারে। বাগালদের দলপতি এসে হরিবোলাকে দেখেই নিষ্ঠুর হেসে ঘোষণা করে, ‘হরিবোলা, আজ তুর মরণ মুরোলের হাতে। তুর পাল ডাকিয়ে খোঁয়ারে লিয়ে যেয়েছে দ্যাখ গা যা! গম খেয়ে বিনেশ করেছে, যা তা কথা?’

    হরিবোলা চেঁচিয়ে ওঠে, ‘শালা পাতকুড়ো!’ তারপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাতকুড়োর ওপর। দুজনে পড়ে যায় ব্যানার ঝোপে। জড়াজড়ি খামচা খামচি চলতে থাকে। দলপতির বয়স বেশি। গায়ে জোর বেশি। সে দুজনকেই চাঁটি মেরে ছাড়িয়ে দেয়। দাঁত বের করে বলে, ‘মা-সোয়াগির ব্যাটা হয়েছে! যাও, এখন মাকে বুলে খোঁয়াড় থেকে ছাড়িয়ে লিয়ে এসো।’

    পাতকুড়ো কী বলতে যাচ্ছিল, দলপতির থাপ্পড় দেখে থেমে যায়। হরিবোলা কী বলবে ভেবে পায় না। সে শুধু চোখ কচলায়। বাগালদলের চোখে-চোখে ইশারা আর বাঁকা হাসি দেখে সে শুধু আঁচ করতে পারে, যেন ইচ্ছে করে তাকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে। পাতকুড়োকে তার গোরুগুলো চরাতে দেওয়া হয়নি হয়তো। তাই তারা গমখেতে ঢুকেছিল।

    যোগীবর হুঁকো টানা শেষ করে কাশতে কাশতে উঠে দাঁড়িয়েছে, হরিবোলা কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এল। যোগীবর বলে, কী রে বাছা? গেলি তো হাসতে হাসতে উঁ?

    তারপর সব শুনে সে অভ্যাসমতো বহুদূরে দৃষ্টিপাত করে। গোরুর পাল নিয়ে বাগালেরা ফিরে চলেছে। সূর্য লাল চাকা ডুবছে দোমোহানীর দিকে। দূরের ডহরে ধুলো কশবনের মাথায় কুয়াশা, বিল থেকে মেছুনিরা উঠে আসছে কাঁধে বিশাল প্রজাপতির ডানার মতো জল নিয়ে, মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে বুনো হাঁসের ঝাঁক—প্রতিদিন দিনশেষে একই ছবি। যোগীবর আস্তে আস্তে বলে, ‘মুরলকে যেয়ে বলগা যা, কী আর করবি?’

    হরিবোলা ভাঙা গলায় বলে, ‘মুরোল মারবে?’

    যোগীবর ঘড় ঘড় করে কেশে এবং হেসে বলে, ‘তাইলে মায়ের কাছে চলে যা বরঞ্চ।’

    ‘মা বুলেছে মুরোলের কাছে থাকতে।’ হরিবোলা আবার ফুঁফিয়ে ওঠে। মা বলছে, য্যাখন খবর দুবো, ত্যাখন আসবি—লৈলে আসবি না।’

    ‘তুর মা বুলেছে?’

    ‘হুঁ। বুলেছে য্যাখন-ত্যাখন কক্ষুনো আসবি না।’

    যোগীবর বুঝতে পারে না। রাগ করে বলে, ‘তাহলে যা ইচ্ছে কর গা বাছা!দেখি বাঁওড়ে জালখানা পেতে আসি-রেতে যদি দুটো মাছ-টাছ পড়ে।’ সে হিজলডালে টাঙানো খোপ জলখানা পেড়ে নিয়ে থপথপ করে চলে যায়। আর পিছু ফেরে না।

    হরিবোলা চুপচাপ দাঁড়িয়ে চোখ কচলায়।

    ধানুমোড়লের খবর পেতে দেরি হয়নি। দোহানীর লোকেরা তার পাল ডাকিয়ে খোঁয়ারে নিয়ে গেছে। ছাড়াতে পনেরো-ষোলো টাকার ধাক্কা। এদিকে বাড়িতে জামাই, সেও মোড়লের মেয়েকে টাকার জন্য লেলিয়ে দিয়েছে। ধানু মোড়ল যত, তত তার গিন্নিও টাকা-অন্ত প্রাণ। ধানু মোড়লের মাথার ভেতর আগুন জ্বলে গেছে! গিন্নির তো গলা শুকিয়ে গেছে গাল দিতে দিতে। ঘরে জামাই, তাতে কী? দোমোহানীর খোঁয়াড় থেকে গোরুগুলো ছাড়িয়ে আনতে মাঝরাত হয়ে গেল।

    মোড়ল গোয়ালে গোরু বেঁধে টিউকলে হাত-পা ধুতে ধুতে চোখের কোনা দিয়ে কি একটা দেখতে পেয়ারাগাছের লাগোয়া। ভিজে হাতে লন্ঠন তুলে দেবার চেষ্টা করে বলে, ‘উটা কী?’

    মোড়লগিন্নি বলে, ‘বেউশ্যের পুত থাউক বাঁধা।’

    পেয়ারাগাছের সঙ্গে গোরুবাঁধা দড়িতে খুদে বাগলটা আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা আছে দেখে মোড়লও গলার ভেতর বলে, ‘খানকির পুত থাউক বাঁধা।’

    কিন্তু রাতে আরও গভীর হলে সেই মোড়ল বিবেচনার পর লন্ঠনের দম বাড়িয়ে উঠোনে নামে। একটু বুক কাঁপে। মরে-টরে যায়নি তো? কাছে এসে দেখে বাগালের কঠিন প্রাণ মাঠেঘাটে জলজঙ্গলে রোদ-বৃষ্টি শীতের ধারাবাহিক প্রহারে কালক্রমে শামুকের খোলের চেয়ে বড়ো।

    তার লিকলিকে বাহু খামচে ধরে মোড়লমশাই তাকে খড়কাটার কুঠুরিতে ঠেলে দেয় এবং নিজের বিছানায় ওমে ফিরে যায়। ওপরে খড়, নীচে খড়, মধ্যিখানে কুঁকড়ে পড়ে থাকে হরিবোলা। আজ রাতে তার অবচেতনায় সেই বিশাল তৃণভূমি রাঙাদাসী হয়ে ফিসফিস করে কথা বলে। তার চিমসে ফাটা ঠোঁটদুটো কেঁপে ওঠে। ঘুমের ঘোরে সে মায়ের দেওয়া লেমনচুষ চুষতে থাকে। তার দুই ভুরুর মধ্যিখানে আঁকা রাখালফোঁটাটি এখন অন্ধকারে হারিয়ে গেছে। সে এখন প্রকৃতিই রাঙাদাসীর ছেলে হয়ে ঘুমোয়।…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত
    Next Article নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Our Picks

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }