Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    কৌশিক সামন্ত এক পাতা গল্প135 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বাসন্তী আম্মা – কৌশিক সামন্ত

    ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানি সে যে আমার…’

    সুরেশের গানটা মাঝপথেই হোঁচট খেল, একটা অদ্ভুত আওয়াজ ভেসে আসছে দূর থেকে, ঠিক যেন কেউ সুর করে কাঁদছে।

    “ওটা কীসের ডাক? বার্কিং ডিয়ার নাকি?” গান থামিয়ে সুরেশ প্রশ্ন করল।

    “ধুর, হায়না মনে হচ্ছে,” আমি বললাম।

    “কিংবা শকুনের বাচ্চাও হতে পারে, ওরা নাকি খিদে পেলে মানুষের বাচ্চার মতন করে কাঁদে।” অরিত্র ফুট কাটল।

    আওয়াজটা টানা বেশ কিছু সময় ধরে চলার পর আপনা-আপনিই থেমে গেল, কিন্তু থামল না আমাদের তর্কটা।

    আমি, সুরেশ আর অরিত্র তিনজন সেই কলেজের সময় থেকে যাকে বলে একদম হরিহর আত্মা, কর্মসূত্রে তিনজন তিন প্রান্তে থাকলেও বছরে দুইবার করে সময় বের করে বেড়াতে যাবই, সেইসূত্রেই এবারে এই জয়ন্তীতে আসা। মোবাইলের টাওয়ার সেই বক্সা টাইগার রিজার্ভের মেইন গেট পেরোনোর সময় থেকেই নেই, তাই আধুনিকতার সমস্ত বন্ধন ছিন্ন হয়ে কটা দিন স্রেফ পাহাড় আর জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া এটাই ছিল উদ্দেশ্য।

    এই সন্ধ্যেটাও সেরকমই কাটছিল গেস্ট হাউসের দোতলার বারান্দায়। এখানকার বেশিরভাগ কটেজই লোকাল লোকেদের বাড়ি, ফলে অতিরিক্ত বিলাসব্যসন একদম নেই বললেই চলে, আর সেটা বিশেষ সুবিধা হিসেবে জুড়ে গেছে এই গোটা জংলা ব্যাপারটার সঙ্গে।

    তাই দূর থেকে ভেসে আসা ঝিঁঝি পোকার একটানা আওয়াজ, পাতার শিরশিরে শব্দ, আর নাম না-জানা পাখির ডাকের মাঝে সুরেশের হেঁড়ে গলায় আবেগতাড়িত গানটাও বেশ জমে গেছিল। কিন্তু বাধ সাধল ওই আওয়াজ, কেমন যেন কেঁপে কেঁপে ওঠা।

    “কী নিয়ে আবার ঝগড়া বাঁধল আপনাদের?”

    দেখলাম নবীন এসেছে, নবীনের গাড়িতেই প্রায় এই গোটা ট্যুরটা, সাইট সিন সব কিছুই। আজ সকালে লোকাল এরিয়ায় ঘুরছিলাম, গাড়ির দরকার ছিল না। এদিকে আমাদের পছন্দের ব্র্যান্ডের পানীয়ও প্রায় শেষের দিকে, তাই ওকে বলেছিলাম ও যদি শহরে যায় যেন নিয়ে আসে। নবীনকে দেখে সবাই বেশ আনন্দ পেলাম, শুধু পানীয়ের জোগানই নয়, শব্দটার উৎস সম্বন্ধে কিছু আলোকপাত পাব নিশ্চয়ই।

    “আরে দেখো না, একটা বেশ জোরালো আওয়াজ বুঝলে, দূর থেকে কীরকম কেঁপে কেঁপে উঠছে মাঝে মাঝে, অরিজিনটা আমারা ঠিক ধরতে পারছি না।”

    “ওহ ওটা, ও কিছু না, ও মাঝে মাঝেই হয়, আমাদের গা-সওয়া হয়ে গেছে, আপনাদের নতুন বলে কেমন একটা লাগছে।”

    “আরে তোমাদের না হয় গা-সওয়া হয়ে গেছে, আমাদের তো বলো কীসের শব্দ ওটা? কোনো পাখির, নাকি কোনো জন্তুর? কীসের?”

    “ওসব কিছুর নয়, ঝরনার।”

    “অ্যাঁ, ঝরনার? এরকম আবার হয় নাকি? তাহলে তো টানা হত, এটা তো মাঝে মাঝে হচ্ছে।”

    “হ্যাঁ মাঝে মাঝেই হয়, তবে পূর্ণিমাতেই হয়। কোথাও মনে হয় জলের গুপ্ত সোর্স আছে, জল জমতে জমতে ভরে গেলে মাঝেমধ্যে ওইভাবে ওপর থেকে ঝরে পড়ে যখন ওরকম বিকট প্রতিধ্বনি হয়।”

    “মনে হয় মানে? তুমিও সঠিক জানো না?”

    “দেখছেন তো কীরকম পাথুরে জঙ্গল, তারপর হাতি বাঘ-সাপের ভয়, একদম ভেতরের কোর এরিয়ার সব জায়গায় হয়তো মানুষের পা-ও পড়েনি এখনও, তবে হ্যাঁ আমাদের বাপ-দাদুর কাল থেকে ওরকমই শুনে আসছি, ঝর্না ছাড়া আর কী হবে।”

    “হুম, যাকগে, বেশ ইন্টারেস্টিং লাগল কিন্তু গোটা ব্যাপারটা।”

    “আরও লাগবে, এই গোটা ব্যাপারটা নিয়ে একবার আপনাদের গেস্ট হাউসের বুড়ো কেয়ারটেকারকে চাগিয়ে দেবেন, দেখবেন না কী হয়। যাকগে কাল সকাল দশটার মধ্যে রেডি থাকবেন কিন্তু, আমি গাড়ি নিয়ে চলে আসব।”

    “আরে তুমি এর মধ্যে উঠে পড়লে নাকি, দু পাত্তর মেরে যাও।”

    “ওরে বাবা সন্ধ্যে নেমে গেছে, এর পরে রাস্তায় নামলে শিওর হাতির পালের সামনে গিয়ে পড়ব, আর আপানদের সাথে কাল সকালে দেখা হবে না।” খ্যাঁকখ্যাঁক করে হাসতে হাসতে নবীন বেরিয়ে যায়।

    “সবে সাড়ে ৬টা বাজে, এর মধ্যেই চারপাশে যেন গভীর রাত, অদ্ভুত জায়গা কিন্তু।” সুরেশ বলল।

    “হুম, ভয়ংকর কিন্তু সুন্দর,” আমি মাথা নাড়লাম …

    .

    ।। দুই।।

    “রাতের খাবার নিয়ে এলাম, বেশি কিছু করতে পারিনি, এই পরোটা আর মাংস কষা আর একটু চিলি পনির আছে, আপনারা খেয়ে নিন, না হলে ঠান্ডা হয়ে যাবে।”

    মুনশিজি এলেন, আমাদের গেস্ট হাউসের সেই বুড়ো কেয়ারটেকার।

    “আরে করেছেন কী মুনশিজি, এটা তো বিশাল আয়োজন, বসুন বসুন আপনিও একটু হাত লাগান, বিকেলের মুড়ি পেঁয়াজি পেটে এখনও গজগজ করছে, এত খাবার আমাদের এখন নামবে না, নষ্ট হবে।”

    “আরে না না, আমি আবার কেন, আমার তো রান্না করা আছে।”

    “আরে বসুন তো মশাই, দুদিন পরে চলে যাব, একটু আলাপ-পত্র সেরে নি, আবার কবে দেখা হবে না হবে, এই দে না মুনশিজিকে একটা গ্লাস,” আমি বললাম।

    কিন্তু-কিন্তু করেও শেষপর্যন্ত মুনশিজি বসলেন আমাদের সঙ্গে, আসলে ওনাকে জোর করার একটা কারণও ছিল আমাদের।

    “আচ্ছা মুনশিজি আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি?”

    “হ্যাঁ, বলুন না।”

    “এই যে সন্ধ্যের দিকে মাঝে মাঝে দূর থেকে ওই শব্দটা ভেসে আসছে ওটা কী বলুন তো।”

    “হে হে ওই ছোকরা ড্রাইভার নিশ্চয়ই আপনাদের বলেছে এই বুড়োকে খেপিয়ে দিতে।”

    “আরে না না আসলে আমাদেরই জানার আগ্রহ ছিল ব্যাপারটা।”

    “না না ঠিক আছে, আসলে এখনকার ছেলে-ছোকরাগুলো ঠিক পুরোনো ব্যাপারগুলো মানতে চায় না, প্রাচীনদের কথা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে।”

    “আপনি নিশ্চিন্তে আমাদের বলতে পারেন, আমরা কিন্তু খুব ভালো শ্রোতা।”

    আমরা গোল হয়ে বসলাম। মুনশিজি বলতে শুরু করলেন, “এটা আমার একদম ছোটোবেলার ঘটনা বুঝলেন, অল্প অল্প যা মনে আছে বলছি। আমাদের কয়েক ঘর নিয়ে এই গ্রাম ছিল বুঝলেন, তখন আরও গভীর জঙ্গল, যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে কিছুই ছিল না তেমন, ছোটো ছোটো কাঠের বাড়ি কয়েকটা, আপদে-বিপদে সবার পাশে সবাই থাকত। আর একজন অবশ্য ছিল, ঢাল হয়ে আমাদের সবাইকে আগলে রাখত এই জঙ্গলের সব বিপদ থেকে।”

    “কে?” আমি প্রশ্ন করলাম।

    “বাসন্তীআম্মা, বাচ্চা-বুড়ো সবাই ওই নামেই ওনাকে ডাকত। আপনারা সকালে পোখরিপাহাড় বলে যে জায়গাটা গেছলেন দেখতে, উনি সেখানে থাকতেন একা।”

    “একা? তা কী করে সম্ভব, মানে এখন যা দেখলাম জায়গাটা পাহাড়ের একদম মাথায়, একটা ন্যাড়া মতো জায়গা, শুধু একটা পুকুর আছে, ওরকম একটা জায়গায় মানুষ থাকবে কী করে?” প্রশ্ন করল অরিত্র।

    “ঠিক তাই, অন্যরা পারবে না, কিন্তু আম্মা পারতেন, ওই উঁচু জায়গায় একা একটা কুটির বেঁধে থাকতেন, বাঘ হাতি, এমনকি সাপ-খোপেরও কোনো ভয় ছিল না ওনার, বরং সবাই ওনাকে ভয় পেত।”

    “বলেন কী?”

    “হুম, ব্যাপারটা এখন অবিশ্বাস্য ঠেকলেও এসব কিন্তু আমার নিজের চোখে দেখা, উনি অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারতেন, এমনকি মড়াও বাঁচাতে পারতেন।”

    “অ্যাঁ বলেন কী মশাই? এ আবার সম্ভব নাকি?” অরিত্র নিজের স্বভাবজাত শহুরে খিল্লি শুরু করলে, বুড়ো মানুষটা যদি খচে গিয়ে গল্প বলা বন্ধ করে দেয়, তাই আমি অরিত্রকে হালকা করে খোঁচা দিয়ে চুপ করতে বললাম।

    “হয় মশাই হয়, যে-সময়ের কথা বলছি তখন আপানদের ওই হাতের যন্ত্রটা ছিল না, ছিল না জলপাই- রঙা-দের এত আনাগোনাও, এত সুন্দর পাকা রাস্তা তখন কোথায়, এখন আর কী জঙ্গল দেখছেন, সামনের পাঁচহাত দূরের মানুষকে তখন দেখা যেত না, এত গভীর ছিল এই জঙ্গল।”

    “কিন্তু আপনারা এইভাবে এখানে থাকতেন কীভাবে?”

    “ওইভাবেই প্রকৃতির সাথে কখনও লড়ে আর কখনও আপস করে। বাপ-দাদারা ওদেশ থেকে এসে নদীর ধারে কটা ঘর মিলে বাসা বেঁধেছিল, সেই থেকেই এই গ্রাম বুঝলেন কিনা, আমরাও আর ছেড়ে যেতে পারিনি, এখানেই কাল কেটে গেল।”

    “আর বাসন্তীআম্মা?”

    “ও হ্যাঁ যেটা বলছিলাম, আসলে বয়স হয়ে গেছে তো তাই কথার খেই হারিয়ে যায়, বাসন্তীআম্মাকে জন্মাবধি আমরা একইরকম দেখে আসছি। কত বয়স ছিল ওনার সেটা অবশ্য বলতে পারব না, তবে আমরা একইরকম দেখে আসছি, বাপ-দাদার কাছে শুনেছি, ওরাও নাকি আম্মাকে এরকমই দেখে আসছেন।”

    “মানে, ঠিক বুঝলাম না ব্যাপারটা।” আমি প্ৰশ্ন করলাম।

    “মানে কাঁচা-পাকা একরাশ চুল, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা, আর একফালি গেরুয়া কিংবা কালো কাপড় দিয়ে সারা গা ঢেকে রাখতেন, লোকে বলত ওনার নাকি বয়স বাড়ত না, উনি তন্ত্র-মন্ত্র করে আটকে রাখতেন।”

    “মানে বেসিক্যালি তান্ত্রিক বা ডাইনি-টাইনি গোছের ছিলেন, মন্ত্র-তন্ত্রের ভোজবাজি দেখাতেন, তাইতো?” আবার একবার অরিত্র হুল বিঁধিয়ে দিল, আমি বলতে বাধ্য হলাম, “আহ্ তুই থামলি, মুনশিজিকে ওনার মতো বলতে দে না।”

    “না না ঠিকই আছে, আপানাদের এখনকার ছেলে- ছোকরাদের কাছে এগুলো আজগুবি শোনাবে বই কি, কিন্তু ওই যে বললাম তখনকার অন্ধকারটা আরও বেশি গাঢ় ছিল, যাকগে যাক, হ্যাঁ ঠিকই বলেছেন বাসন্তীআম্মা ওরকমই কিছু একটা ছিলেন বটে, তবে উপকার ছাড়া অপকার কখনও কারও করেননি। তাই অসুখ-বিসুখ, বাঘের কামড় হোক কিংবা সাপের, দূরের শহুরে সরকারি হাসপাতাল নয়, বাসন্তীআম্মাই ছিল আমাদের প্রধান ভরসা।”

    “মানে কারও কিছু হলে আপনারা তাকে নিয়ে ওই পোখরি পাহাড় না কী বললেন যেন জায়গাটা সেখানে আম্মার কুটিরে নিয়ে চলে যেতেন?”

    “নাহ্, আসলে ব্যাপারটা ঠিক অতটা সোজা ছিল না, আম্মার ওখানে একটা কুটির ছিল বটে, কিন্তু সবসময় উনি ওখানে থাকতেন না, এই পুরো জঙ্গলটাই ওনার অবাধ বিচরণভূমি ছিল। কেউ কোথাও বিপদে পড়লে উনি ঠিক হাজির হয়ে যেতেন তার কাছে, অবশ্যই যদি ওনার ইচ্ছে হত। উনি কিন্তু লোভী, অসৎ লোকদের যত বড়ো বিপদই হোক, কিংবা তার বাড়ির লোক পোখরিপাহাড়ে গিয়ে হত্যে দিয়ে দিনের পড়ে দিন পড়ে থাকলেও আম্মা আসতেন না। ওহ্ একটা জিনিস বলতে ভুলে গেছি, আম্মার একটা পোষ্য ছিল বুঝলেন।”

    “কীরকম পোষ্য?”

    “একটা ইয়া বড়ো মোটাসোটা অজগর। আম্মার মতোই ওটার বয়স সম্পর্কেও জানা যেত না, চিরটাকাল ওরকম বিশাল শরীরই দেখে এসেছি, তবে কারও ক্ষতি করত না। গ্রামবাসীরা মাঝে-মধ্যে আম্মার কুটিরে ফলটা-মূলটা কিংবা দেশি মুরগি যে যেরকম পারত ভেট নিয়ে যেত, তখন দেখতে পেত, আম্মার কুটিরের আশেপাশে কোথাও গাছের ডালে কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে সাপটা, ও কিন্তু কুটির ছেড়ে একটুও নড়ত না।”

    “তা আম্মার অলৌকিক কাজকর্মের কিছু শোনান, আপনি নিজে কিছু দেখেছেন, নাকি সবটাই শোনা?”

    “শোনা কেন হতে যাবে স্যার, একবার ছোটোবেলায় আমি আর আমার কয়েক বন্ধু মিলে একটা ডিঙি নিয়ে বুঝলেন খাঁড়ি বেয়ে গভীর জঙ্গলে চলে গেছলাম, ছেলেমানুষি খেয়াল আর কী। ইচ্ছে ছিল সারাদিন তাড়াতাড়ি টুক করে ফলমূল তুলে নিয়ে এসে বনভোজন করব। কিন্তু বিধি বাম, একটা জায়গায় আমরা আটকে গেলাম। জায়গাটা পুরো চালতা গাছ দিয়ে ভরতি। থরে থরে সাজানো কাঁচাপাকা চালতা বুঝলেন কিনা, সে পাড়ছি ফেলেছি সে-ই নিয়ে বল খেলছি, সময় কখন কেটে গেছে বুঝতেই পারিনি। পরে যখন সম্বিৎ ফিরল চারপাশ থেকে শুনলাম পটপট করে আওয়াজ হচ্ছে, বুঝতে অসুবিধা হল না, আমরা চরম বিপদে পড়েছি, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল, দৌড়ে গিয়ে যে ডিঙিতে উঠে চম্পট দেব তারও উপায় নেই, চারিদিক থেকে তারা ঘিরে ফেলেছে।”

    “কারা? কারা ঘিরে ফেলেছে?”

    “আমাদের মনে ছিল না যে চালতা হাতিদের খুব পছন্দের একটা ফল, দল বেঁধে আসে খেতে, আর হাতির খাওয়া তো জানেনই, জায়গাটা পুরো তছনছ করে দিয়ে চলে যাবে। একটু একটু করে ওরা এগিয়ে আসতে লাগল আমাদের দিকে, আমরা স্থবির হয়ে দেখতে লাগলাম, মনে মনে শুধু বাসন্তীআম্মাকে ডেকে চলেছি। হঠাৎ দেখলাম কী জানেন, আপনারা বিশ্বাস করবেন না, কিন্তু এই দেখুন এখনও আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। দেখলাম বাসন্তীআম্মা হাতিদের মাঝখান দিয়ে হেঁটে আসছেন, হাতিরা কিছুই বলছে না ওনাকে, উনি এগিয়ে এসে আমার হাত ধরলেন, তারপর ইশারা করে সবাইকে ওনাকে অনুসরণ করতে বললেন। হাতিদের মাঝখান দিয়ে সবাইকে পার করে আবার ডিঙিতে তুলে দিলেন।”

    “বলেন কী? সাংঘাতিক ব্যাপার তো মশাই,” অরিত্র ফুট কাটতে ছাড়ল না।

    মুনশিজী কিন্তু গা করলেন না, তিনি বলে চললেন, “এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল বুঝলেন, কিন্তু একদিন ভয়ানক দুর্যোগ এসে উপস্থিত হল। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি গ্রামে প্রচুর বাইরের লোক। অতটা ভালো না বুঝলেও এটুকু বুঝেছিলাম যে এক বেশ রাশভারী মুসলিম জায়গিরদার তার একগাদা সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে গ্রামে এসেছেন, বাসন্তীআম্মার অনেক গল্প ওনারা শুনে এসেছেন, চাক্ষুষ দেখবেন ওনাকে।

    গ্রামের লোকেরা এত হাতি-ঘোড়া সেপাই-সান্ত্ৰী দেখে ভয়-টয় পেয়ে গিয়ে, পোখরি পাহাড় যাওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দিল। কিন্তু বাসন্তীআম্মা দেখা দিলে তো, উনি প্রথম থেকেই জায়গিরদারে অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছিলেন।”

    “কী উদ্দেশ্য?” আমি আর থাকতে না পেরে প্রশ্ন করলাম।

    “জায়গিরদার শুনেছিল বাসন্তীআম্মা অমরত্বের মন্ত্র জানেন, সেটা জায়গিরদারের চাই, তার জন্য যেকোনো মূল্য দিতে উনি প্রস্তুত। কিন্তু বাসন্তীআম্মাকে পেলে তো, দুদিন তাঁবু গেড়ে বসেও যখন কোনো হদিস পাওয়া গেল না তাঁর, তখন জায়গিরদারের নির্দেশে তাঁর লোকেরা সেই পোষ্য অজগরটাকে ধরে নিয়ে চলল, আর গ্রামপ্রধানকে বলে গেল যে এটা নিতে হলে বাসন্তীআম্মা যেন তাঁর সাথে দেখা করেন এবং অমরত্বের মন্ত্র দান করেন, তবেই তিনি তাঁর অজগর ফেরত পাবেন।”

    “তারপর?”

    “তারপর আর কী, পরের দিন সারা গ্রাম জুড়ে সে কী ভয়ানক অবস্থা, নদী ফুঁসে উঠছে, গাছপালা দুলছে, মাটি কেঁপে কেঁপে উঠছে, ঘন ঘন বাজ পড়ছে। শুনলাম গ্রামপধান নাকি সেই জায়গিরদারকে ডাকতে গেছে, আম্মা নাকি তাকে স্বপ্ন দিয়েছেন, উনি সেই মন্ত্র দিতে রাজি, সঙ্গে করে সে যেন সেই অজগরকে নিয়ে আসে। তারপরে কয়দিন ঠিক কী হয়েছিল আমরা জানতে পারিনি বুঝলেন, ছেলেমানুষ হিসেবে ওদিকে যাওয়া বারণ ছিল, তবে পোখরি পাহাড়ের ওপর কয়দিন যজ্ঞের আগুন দেখা গেছিল।

    “জায়গিরদারকে তাহলে উনি সে মন্ত্র দিয়েছিলেন?”

    “হ্যাঁ সেরকমই শুনেছিলাম, তা সে জায়গিরদার তো ফিরে গেল, সবাই ভাবলাম যাকগে সব আপদ বুঝি দূর হল। কিন্তু নাহ্ শেষ বিপর্যয় তখনও বাকি ছিল।

    এক সকালে ঘুম ভেঙে দেখি, সারা গ্রামে কান্নার রোল, দূরদূরান্ত থেকে লোক ভেঙে পড়েছে।”

    “কেন, আবার কী হল?”

    “পোখরি পাহাড়ে কয়েকজন মিলে গেছল বাসন্তী আম্মার কুটিরে কিছু ভেট দিতে, কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখে সর্বনাশ হয়ে গেছে। সারা কুটির কারা যেন তছনছ করে গেছে, চারিদিকে রক্ত আর রক্ত, ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে রয়েছে বিশাল অজগরটা, কিন্তু বাসন্তীআম্মার কোনো হদিস নেই। কারও বুঝতে বাকি রইল না এটা কার কাজ, কিন্তু গরিব মানুষ আমরা কীই বা করতে পারতাম।”

    “সে কী? জায়গিরদারের কথা মেনে তো আম্মা ওকে মন্ত্র দান করেছিলেন, তাহলে সে এরকম করতে যাবে কেন? আর তার কোনো শাস্তি হল না? আম্মা কিছু করলেন না?” অরিত্র প্রশ্ন করল।

    “ওইখানেই রহস্যটা থেকে গেছিল জানেন, এর পরে আম্মাকে আর কোনোদিন গ্রামে দেখা যায়নি, তবে জায়গিরদার তার প্রাপ্য শাস্তি পেয়ে গেছিল, শোনা যায় তার পুরো বংশ তথা সেপাই-সান্ত্রী নাকি কোনো অজানা রোগে নির্বংশ হয়ে যায়।”

    “কিন্তু মুনশিজি আপনি যে বলেছিলেন বাসন্তীআম্মা কোনোদিন মিথ্যে বলতেন না, যা বলতেন তাই ফলে ‘যেত, তাহলে জায়গিরদার মারা গেল কীভাবে, সে তো মন্ত্ৰ পেয়ে ছিল।” আমি প্রশ্ন করলাম।

    “ঠিক, একদম ঠিক বলেছেন আপনি, বাসন্তীআম্মা কোনোদিন মিথ্যা বলতেন না, তিনি সত্যিই জায়গিরদারকে সেই মন্ত্র দান করেছিলেন, কিন্তু অসৎ জায়গিরদারের হাতে সেই মন্ত্র যাওয়ার কী ভয়ানক ফল হতে পারে তিনি সেটা বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি পুরো কথাটা বলেননি জায়গিরদারকে, সেই মন্ত্রের নিয়ম ছিল, মারা যাবার পর তিনদিন শরীরকে রেখে দিতে হবে, তারপরে তার আবার পুনর্জন্ম হবে এবং সেই বয়সেই সে আটকে যাবে তার আর মৃত্যু হবে না কোনোদিনও।”

    “মানে?”

    “মানে আর কী, জায়গিরদারের বাড়ির লোকেরা এসব তো জানত না, পরিবারে ওরকম মহামারি লাগার পর বাসন্তী আম্মার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পোখরি পাহাড়েরই কোথাও তাকে সমাধিস্ত করা হয়। তিনদিন পর, একরাতে গ্রামের মধ্যে ওই কেঁপে কেঁপে ওঠা কান্না শোনা যায়, পরের দিন খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, জায়গিরদারের কবরে খোঁড়াখুঁড়ির দাগ, কে যেন ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল, পুরো ব্যাপারটা তখন বোঝা যায়।

    আপনারা যে আওয়াজের কথা বলছিলেন না, ওটা সেই জায়গিরদারের কান্না, সে মাঝেই মাঝেই কেঁদে কেঁদে ওঠে, বেরিয়ে আসতে চায় হয়তো জ্যান্ত কবর থেকে কিংবা বাসন্তীআম্মার কাছে ক্ষমা চাইতে কে জানে।”

    “কিন্তু মুনশিজি…” অরিত্র কিছু একটা বলতে ওঠে, আমি আটকে দিই।

    “অনেক রাত হয়ে গেল কথায় কথায়, আপনাদের সকালে ওঠা আছে, শুয়ে পড়ুন, আমি বাসনগুলো নিয়ে যাচ্ছি।” মুনশিজি চলে যান।

    আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে একটা চাদর জড়িয়ে বাইরে বারান্দায় চলে আসি, বাকিরা দেখলাম চুপচাপ শুয়ে পড়ল। চাঁদের আলোয় বহুদূর পর্যন্ত পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। অত্যধিক পানীয় সেবন কিংবা মুনশিজির গল্পটা, যে কোনো একটা হতে পারে, কিন্তু জঙ্গলের প্রান্তরে শুকনো নদীটার নুড়িপাথরে চাঁদের আলো লেগে এক অদ্ভুত দৃশ্য আমার চোখে ধরা পড়ল। ড্রাইভার নবীনের লজিকাল ব্যাখ্যাই হোক, কিংবা মুনশিজির দিল-লজিকাল স্মৃতিমন্থন যাই হোক না কেন, সেই চাঁদের আলোয় বহুদূরে একটা শ্বেতবসনা নারী শরীর যেন আমি দেখতে পাচ্ছি, তার বহুদিনের স্নান না করা অগোছালো চুল হাওয়ায় উড়ছে আর তার বহুকালের অভিমান ভরা চোখের জলে চাঁদের আলো লেগে চকচক করছে। নাহ্ বেশ ঠান্ডা লাগছে, শুয়ে পড়তে হবে, শব্দটা আবার শুরু হয়েছে…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত
    Next Article প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    Related Articles

    কৌশিক সামন্ত

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    কৌশিক সামন্ত

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Our Picks

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }