Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভৌতিক অলৌকিক – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী এক পাতা গল্প189 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সুবীর, কথা রাখবে তো! – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

    সুবীর, কথা রাখবে তো!

    বিপদ যখন হয়, তখন সব একসঙ্গেই হয়। সুবীর পুরী যাচ্ছিল কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে। সুবীর থাকে সুদূর আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায়। কলকাতায় ছুটিতে এসে কয়েকজন বন্ধু মিলে দু-দিনের জন্য পুরীতে বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান করেছিল।

    সবই ঠিকমতো এগিয়েছিল। ভুবনেশ্বরে পৌঁছোতে তখন মাত্র আধঘণ্টা, হঠাৎ ফোন এল, বড়মামা মারা গেছেন। বয়স হলেও শরীরস্বাস্থ্য ভালোই ছিল বড়মামার, তাই অনেকটাই অভাবিত খবর। এ অবস্থায় আর ফুর্তি করতে পুরী যাওয়া যায় না। সুতরাং, বন্ধুদের ছেড়ে ড্রাইভার কার্তিককে গাড়ি ঘোরাতে বলল সুবীর।

    ফেরার পথে তখন ঘণ্টা দুয়েক এসেছে। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে একটু চড়াই পথ, হঠাৎ গাড়িটা বেঁকে বসল। খাবি খাওয়ার মতো করে কয়েকবার ঝাঁকানি দিয়ে নাভিশ্বাস ছাড়ল। তেল আছে, ইঞ্জিনও গরম হয়নি। কী কারণ, কে জানে?

    কার্তিক গাড়ি ভালো চালায় বটে, কিন্তু গাড়ির কলকবজার প্রায় কিছুই বোঝে না। যতবারই স্টার্ট করতে যায়, গাড়ি চেরা গলায় ক্র্যা-ক্র্যা আওয়াজ করে জবাব দেয়। গাড়ি থেকে নেমে সুবীর আর কার্তিক বনেটটা খুলল। খানিকক্ষণ রিসার্চ করে হাল ছাড়ল। না:, সমস্যাটা খুব ছোটখাটো কিছু নয়। প্রাণ ফেরানো ওদের কর্ম নয়। ঠিক হল, কার্তিক গাড়ি নিয়ে ওখানেই অপেক্ষা করবে। গাড়ির কোম্পানি থেকে লোক এসে পরে গাড়ি নিয়ে যাবে। কিন্তু সুবীর তার জন্য অপেক্ষা না করে ট্রেনেই ওইদিন কলকাতা ফিরে যাবে বলে ঠিক করল। পাঁচ কিলোমিটার দূরেই একটা স্টেশন আছে। চড়াইচণ্ডী। কিছু লোকাল ট্রেন ওই স্টেশন ছুঁয়ে যায়। ওখান থেকেই কলকাতার ট্রেন ধরবে সুবীর।

    ভাগ্য ভালো, বেশিক্ষণ দাঁড়াতে হল না। খানিকক্ষণের মধ্যেই একটা ভ্যানগাড়িও পাওয়া গেল। তাতে করেই সুবীর চড়াইচণ্ডী স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হল।

    স্টেশনে যখন পৌঁছোল, তখন সন্ধে ছ’টা। শীতের সন্ধে। ঝুপ করে অন্ধকার নেমে গেছে। আর তার সঙ্গে ঘন কুয়াশা। একফালি চাঁদ মেঘের আড়ালে লুকোচুরি খেলতে খেলতে কুয়াশায় ছাওয়া সন্ধের রহস্য যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চার হাত দূরের লোককেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। স্টেশনচত্বর ফাঁকা।

    সুবীরের মনের মধ্যে যে আশঙ্কা ছিল, টিকিট কাটতে গিয়ে সেটাই সত্যি প্রমাণিত হল। কলকাতায় যাওয়ার এখন একটাই ট্রেন আছে—সেটা রাত সোয়া ন’টায়। অর্থাৎ, মাঝের প্রায় আড়াইঘণ্টা সময় এই জনশূন্য প্ল্যাটফর্মে মেঘ আর চাঁদ দেখে কাটানো ছাড়া কোনও উপায় নেই। ফোনেও নেটওয়ার্ক নেই যে কথা বলে সময় কাটাবে। সিমেন্টের বেদির ওপর বসে একটা সিগারেট ধরাল সুবীর। চারদিক থেকে ঘিরে ধরা কুয়াশার ওপরে সিগারেটের ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছেড়ে চারপাশটা দেখতে থাকল। চোখটা একটু ধাতস্থ হতে ও খেয়াল করল, প্ল্যাটফর্ম একদম জনশূন্য নয়।

    দূরে প্ল্যাটফর্মের শেষপ্রান্তে একটা ছোট দোকান আছে। তাতে টিমটিম করে আলো জ্বলছে। তবে সেখানে কেউ আছে কিনা তা দূর থেকে বোঝা যাচ্ছে না। আর একই প্ল্যাটফর্মে কুড়ি হাত দূরে আরেকটা সিমেন্টের বেদিতে একজন মোটাসোটা টাকমাথা বৃদ্ধ লোক বসে আছেন। প্ল্যাটফর্মের অস্পষ্ট হলদেটে আলোয় মুখ না দেখা গেলেও, হঠাৎই সুবীরের মনে হল লোকটার বসার ধরন, পোশাক—তার অত্যন্ত চেনা। সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি, কাঁধের ওপর ফেলা চাদর, ঋজু হয়ে বসার ধরন, পাশে দাঁড় করানো কালো ছাতা—এ সবই বড় চেনা।

    —বরেনবাবু না! উত্তেজনায় উঠে দাঁড়াল সুবীর। এই বিখ্যাত অঙ্কের শিক্ষকের কাছে সুবীর একসময় পড়েছে। বরেনবাবু কলকাতার এক বিখ্যাত স্কুলে প্রায় কুড়ি বছর ধরে পড়িয়েছেন। তা প্রায় তিনদশক আগের কথা। সুবীরের আজ সায়েন্টিস্ট হিসেবে বিশ্বজোড়া নাম। তার অনেকটা কৃতিত্বই অবশ্য এই শিক্ষকের। এনার কাছে পড়ার সুযোগ না পেলে অঙ্কের প্রতি ভালোবাসাই হয়তো তৈরি হত না কোনওদিন।

    কুয়াশার জালের মধ্যে দিয়ে সুবীর খেয়াল করার চেষ্টা করল—বরেনবাবুই তো? এখানে উনি কী করছেন? নিশ্চিত হওয়ার জন্য সঙ্গের ব্যাগটা নিয়ে বৃদ্ধ ভদ্রলোকের দু-হাত দূরে গিয়ে বসল সুবীর। আড়চোখে খেয়াল করার চেষ্টা করল। ঠিক সেই মোটা গোলগাল, ছোটখাটো চেহারা। বয়সের ভারে গোলমুখে অজস্র বলিরেখা দেখা দিয়েছে। চওড়া কপাল। চোখের দৃষ্টিতে সেই রাগী রাগী ভাবটা যেন অনেকটাই কমে গিয়েছে। হ্যাঁ, বরেনবাবুই।

    অসম্ভব রাশভারী এই শিক্ষকের সঙ্গে স্কুলে কখনোই কথা বলতে সাহস করত না সুবীর। ক্লাসে ঢুকলে মুহূর্তে পিনড্রপ সাইলেন্স নেমে আসত। ক্লাসের ভালো কয়েকজন ছাত্রকে বেছে নিয়ে টিউশন ফি ছাড়াই আলাদা ক্লাস নিতেন বরেনবাবু—যাতে তারা আরও ভালো রেজাল্ট করে। তাদের মধ্যে সুবীরও ছিল। তাই গৃহশিক্ষক হিসেবে বরেনবাবুকে পাওয়ার সুযোগ হয়েছিল।

    শুধু অঙ্ক নয়, সুবীর অনেক কিছুই শিখেছিল এই শিক্ষকের কাছে।—ডিসিপ্লিন, দায়িত্ববোধ, সততা। এমন একদিনও হয়নি, ওনার আসতে দেরি হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি যাই হোক না কেন, বরেনবাবু আসবেন—আর ঠিক সময়েই আসবেন।

    তা সেই মানুষটাই আজ সুবীরের থেকে মাত্র দু-হাত দূরে একই সিমেন্টের বেদির ওপর বসে। অবশেষে সুবীর সাহস করে বলেই ফেলল, স্যার! বরেনবাবু! কেমন আছেন?

    বৃদ্ধ ভদ্রলোক তবু নিশ্চুপ হয়ে রেললাইনের দিকেই তাকিয়ে বসে আছেন। শুনতে পেয়েছেন বলে মনে হল না।

    —স্যার! আমি সুবীর—আপনার ছাত্র! জোরে বলে উঠল সুবীর।

    এবার উনি ঘুরে তাকালেন। খানিকক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন সুবীরের দিকে। ঠোঁটের কোণে আস্তে-আস্তে সামান্য হাসি ফুটে উঠল। তারপর খুব স্বাভাবিকভাবেই বলে উঠলেন,—১৯৯২, উচ্চমাধ্যমিক, অঙ্কে ১৯৫—তাই তো?

    বলে একটু থেমে ফের বললেন,—তা এখানে বেড়াতে এসেছ?

    সুবীরের মুখে কোনও কথা এল না কয়েক সেকেন্ড। এতদিন বাদেও সবকিছু মনে রেখেছেন!

    —আপনার এখনও মনে আছে স্যার! অথচ রেজাল্ট বেরোবার পরে আমি যখন আপনাকে প্রণাম করতে গিয়েছিলাম, আপনি তেমন কিছুই বললেন না। আমার একটু অভিমানই হয়েছিল।

    সামান্য মুচকি হেসে মোটা ভারী গলায় বরেনবাবু বলে উঠলেন, পাঁচ নম্বর কম পাওয়াটা তো খুব খুশির খবর নয়। আর আমার প্রিয় ছাত্রের অঙ্কের নাম্বার—আর আমি তা ভুলে যাব! ওই নাম্বারগুলোই তো রয়ে যেত তোমাদের পরিচয় হিসেবে। তা, এখন কোথায় আছ? অঙ্ক কষার অভ্যেস রেখেছ তো?

    —আমেরিকায়। ওখানে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে রোবোটিক্স রিসার্চে যুক্ত আছি। এখানে ছুটিতে এসেছিলাম। গাড়ি বিভ্রাটে আটকে পড়েছি। ভাগ্যিস আটকে পড়েছিলাম! আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। কিন্তু, আপনি—এদিকে? কোথায়?

    —রিটায়ার করার পরে দেশের বাড়িতে চলে আসি। এখানেই আছি গত দশবছর।

    —পুরোপুরি অবসর জীবন?

    —না, না, তা কখনও হয়! খুঁজে-পেতে ভালো ছেলে পেলেই অঙ্ক করাই। জানোই তো, অঙ্কের দুর্বল ছাত্র হলে সে আমার পড়ানো বুঝবে না। তাই ভালো ছাত্র খুঁজে বেড়াই। এদিকে অবশ্য তা কমই জোটে।

    —তা এখন কোথায় যাচ্ছেন?

    —আমি যাচ্ছি না। কলকাতা থেকে ছেলে অরূপ আসবে। তার জন্য বসে আছি। সাড়ে আটটায় আসবে। ও ইংল্যান্ডে ছিল। ফিরে আসছে, বেশ কয়েকবছর বাদে।

    —বাহ, দারুণ খবর। তা একেবারে ফিরে আসবে? পাকাপাকি।

    —হ্যাঁ, বলেছিলাম—পড়তে যাচ্ছ যাও। ফিরে এসো দেশে। তোমার মতো ডাক্তার ওদেশে অনেক আছে। এদেশে—এসব গ্রামে-গঞ্জে নেই। তা একবার গেলে যা হয়। একবছর, দু-বছর করে অনেক বছর কাটিয়ে দিয়েছে। শেষে ফিরছে। আমাকে কথা দিয়েছিল তো! শেষ পর্যন্ত কথা রাখছে। আজই ফিরবে।

    —বাহ, খুব ভালো। তবে ওখানকার সুযোগসুবিধে ছেড়ে পারবে এখানে মন বসাতে? এরকম গণ্ডগ্রামে!

    —কেন পারবে না? আমরাও তো আছি। এখানে থাকলে বুঝতে পারতে ভালো ডাক্তারের, ভালো ওষুধের, ভালো চিকিৎসার বড় অভাব। একজনও যদি ভালো ডাক্তার থাকত!

    শেষ কথাটা খুব আস্তে আস্তে শেষ করে খানিকক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন বরেনবাবু। চাদরটা খুলে মাথার ওপর দিয়ে জড়িয়ে নিয়ে বলে উঠলেন,—বয়স হয়েছে বুঝতে পারি। ঠান্ডাটা যেন বহুগুণ বেড়ে গেছে। আগে এই ঠান্ডাতেও কত দূর দূর পড়াতে চলে যেতাম। এখন—নাহ—এখন আর পারি না।

    —এখানে স্যার কলকাতার তুলনায় অনেক বেশি ঠান্ডা। আমারও ঠান্ডা লাগছে।

    বরেনবাবু যেন কথাটা শুনেও শুনলেন না। একটু অন্যমনস্কভাবে বলে উঠলেন, মনে আছে তোমার পরীক্ষার রেজাল্টের পর তুমি আর তোমার মা আমাকে একটা শাল দিতে এসেছিলে। আমি নিইনি।

    —হ্যাঁ, স্যার—আপনার তো দেখছি সব ছোট ছোট কথাও মনে আছে।

    —আমি তখন কী বলেছিলাম মনে আছে?

    চুপ করে রইল সুবীর। কিছুই মনে পড়ল না। এত বছর আগের কথা।

    হাত বাড়িয়ে পাশে রাখা ছাতাটা আঁকড়ে ধরে বরেনবাবু বলে উঠলেন,—বলেছিলাম, আমার কাজই তো ওই। যে গাছে ভালো ফুল ফোটার সম্ভাবনা আছে, তার আরও যত্ন নেওয়া। যখন গাছগুলো বড় হবে, ওই ফুলের গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে—তাই না? কিন্তু—

    দীর্ঘশ্বাস ফেলে খানিকক্ষণ থেমে রইলেন বরেনবাবু।

    —বুঝলে সুবীর, তোমার মতো ছেলেরা যদি আমেরিকা-ইংল্যান্ড গিয়ে এ-সমাজটাকে ভুলে যায়, তবে আমরা এগোব কী করে বলো! গত বছর আন্ত্রিকে এখানে বহু বুড়ো-বুড়ি-বাচ্চা মারা গেল। ভাবো—এখনকার দিনেও! এই দু-বছর আগের কথা। সম্পায়ন বলে একটা ছেলে, ক্লাস এইটে পড়ত। সাংঘাতিক ব্রেন বুঝলে! চক্রবৃদ্ধি সুদের জটিল অঙ্কগুলো মুখে মুখে—তা সে হঠাৎ চলে গেল। দুদিনের জ্বরে। ভালো চিকিৎসা পেলে হয়তো…।

    একটু থেমে বরেনবাবু ফের বলে উঠলেন,—এখানে একটা হাসপাতাল হওয়ার কথা ছিল। মঙ্গল পাণ্ডে হাসপাতাল। এখানকার এমপি ছিলেন। গত হয়েছেন। পাওয়ারে অন্য দল এসেছে। ব্যস, মুখ থুবড়ে পড়েছে হাসপাতালের কাজ। তিনতলা ইটের কঙ্কাল। আকাশের দিকে মুখ তুলে রয়েছে লোহার শিকগুলো। আমি রোজ হাসপাতালের সামনে গিয়ে বসি। ভাবি, এই বুঝি কাজ ফের শুরু হল। আমার কাছে যা টাকা ছিল, সব দিয়েছিলাম। কিন্তু তবু কাজ শেষ হয়নি। আর শেষ না হলে কী হবে বুঝতে পারছ?

    —হ্যাঁ স্যার, গ্রামের লোকেদের ভালো চিকিৎসার বড় অভাব।

    —কিছুই বোঝোনি। আরে, আমি কি আর নেতাদের মতো সারা গ্রামের কথা চিন্তা করছি, আমি ভাবছি—আমার কথা। আবার হয়তো ওই সম্পায়নের মতোই অঙ্কের ভালো কোনও ছাত্র চিকিৎসা পাবে না। অত ভালো অ্যালজেব্রা—নাহ…। তারাজ্বলা আকাশের দিকে মুখ তুলে তাকালেন বরেনবাবু। গলাটা যেন কান্নায় বুজে এল।

    —আমি স্যার সাহায্য করব। দেখব যাতে হাসপাতালের কাজ শেষ হয়। আপনি চিন্তা করবেন না।

    —বাহ, খুব ভালো, খুব ভালো। তোমার কথা শুনে ভারী নিশ্চিন্ত হলাম। যাই, এবার ওদিকটায় যাই। ওর আসার সময় হয়ে গেল। এখানকার প্ল্যাটফর্ম এত নীচু! ওর তো আর অভ্যেস নেই তেমন। তারপর যেরকম আলো-আঁধার। আমাদেরই ভুল হয়।

    চঞ্চল হয়ে ওঠেন বরেনবাবু। উঠে দাঁড়ান। সুবীরও উঠতে যায়। বরেনবাবু বারণ করেন।

    —না, না। বাক্স ছেড়ে যেও না। এখানেই বসো। আমি একটু হাঁটাহাঁটি করি আর কি! মাঝে এখন তিনটে স্টেশন। ছ’মিনিট করে…—বিড়বিড় করে কথা বলতে বলতে প্ল্যাটফর্মের অন্য দিকে এগিয়ে যান বরেনবাবু। বাধ্য ছাত্রের মতো সুবীর বসে থাকে। বরেনবাবু ছাতাটা ডান হাতে নিয়ে প্ল্যাটফর্মে পায়চারি করতে থাকেন। এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত। কখনও কুয়াশার মধ্যে হারিয়ে যান—তো কখনও কুয়াশা থেকে বেরিয়ে হারিয়ে যান নিজের মধ্যেই।

    খানিকবাদে হঠাৎ সুবীরের দিকে ফের এগিয়ে আসেন।

    —বুঝলে! আসছে। শুনতে পাচ্ছ?

    —কী? ট্রেন? কই, আমি কোনও আওয়াজ পাচ্ছি না তো।

    —তোমার তো শহুরে কান—সারাক্ষণ অত আওয়াজে নষ্ট হয়ে গেছে। আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি। বেশ ঝিমঝিম আওয়াজ করে আসছে, বুঝেছ! পরে কথা হবে। এলেই ওকে নিয়ে চলে যাব। ক্লান্ত থাকবে তো। বহু-বহু বছর বাদে ও এখানে ফিরছে।

    —বলে বরেনবাবু প্ল্যাটফর্মের অন্য দিকে এগিয়ে যান। মাঝেমধ্যে রেল লাইনের ওপর গলা বাড়িয়ে উঁকি মেরে দেখতে থাকেন। খানিকটা বিপজ্জনকভাবেই।

    মিনিট পাঁচেক বাদে ট্রেনের আওয়াজ শোনা যায়। নিস্তব্ধতা ভেঙে ট্রেন হুইসল দিতে দিতে এগিয়ে আসছে। মিনিট খানেক বাদে স্টেশনে এসে ঢোকে। দু-চারজন প্যাসেঞ্জার নামে। দূর থেকে সুবীর দেখতে পায় কেউ একজন ট্রেনের পিছনদিকের একটা কম্পার্টমেন্ট থেকে নেমে বরেনবাবুকে প্রণাম করছে। আর তারপরে দুজনেই হাঁটতে থাকে। খানিকবাদে কুয়াশায় মিলিয়ে যায়।

    একবার উঠে দাঁড়িয়ে কাছে যাবে কি যাবে না ভেবে ফের বসে পড়ে সুবীর। এতদিন বাদে বাবা-ছেলের দেখা। ডিস্টার্ব করা উচিত নয়। সুবীরের ট্রেনেরও বেশি দেরি নেই। ও তাই প্ল্যাটফর্মের শেষের দিকে গিয়ে রেললাইন ক্রস করে উলটোদিকের প্ল্যাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ায়। শেষ কয়েক ঘণ্টায় কেন জানে না, মনটা আবার বেশ খুশি খুশি লাগছে। বরেনবাবুর সঙ্গে এরকম হঠাৎ করে দেখা হয়ে যাবে, ও কোনওদিনই ভাবেনি।

    রাত সোয়া দশটা নাগাদ ন’টার ট্রেনটার দেখা মিলল। হঠাৎ একটা আলো আর আওয়াজ যেন তেড়ে এল ফাঁকা প্ল্যাটফর্মটা লক্ষ্য করে। ট্রেনে উঠে স্বস্তি পেল সুবীর। যাক, কলকাতা ফেরা যাবে অবশেষে। সারারাত এই ফাঁকা প্ল্যাটফর্মে পড়ে থাকলে যে কী হত! ট্রেনে কিছু লোক আছে। প্ল্যাটফর্মের মতো জনশূন্য নয়। যেখানে বসেছে তার উলটোদিকে প্যাসেজের অন্য পাশে দুজন বসে আছে। ট্রেনটা খানিকক্ষণ চলার পরেই সুবীর খেয়াল করল ফোনে নেটওয়ার্ক ফিরে এসেছে। যাক, সভ্যজগতের সঙ্গে আবার যোগাযোগ সম্ভব। টিং, টিং করে ফোনে বেশ কয়েকটা মেসেজ আর মেল আসা শুরু করল। সেসব থেমে যাওয়ার পর ও ফোন করল তন্ময়কে, স্কুলের বন্ধু।

    যে ক’জন এখনও স্কুলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে, স্কুলের সব অনুষ্ঠানে থাকে, সেরকম একজন হল তন্ময়। আর তন্ময়ের স্মৃতিশক্তিও খুব তীক্ষ্ণ। সবকিছু মনে থাকে। বরেনবাবুর খবরটা ওকে ইমিডিয়েটলি দেওয়া দরকার। ফোনটা বেশ খানিকক্ষণ বেজে থেমে গেল।

    দু-মিনিট বাদেই সুবীরের ফোনটা বাজতে শুরু করল। তন্ময়?

    —হ্যাঁ, সুবীর বল—অনেকদিন বাদে!

    —বলিস না, একদম সময় পাই না।

    —তুই কি এখন এদেশে, না বিদেশে?

    —এখানে। দুদিন হল এসেছি। তা, যে জন্য ফোন করলাম। একটা জায়গায় এসেছিলাম—ছোট গ্রাম। চড়াইচণ্ডী। স্টেশনে কার সঙ্গে দেখা হল বল তো?

    —স্কুলের কেউ?

    —হ্যাঁ, বরেনবাবু, দ্য গ্রেট বরেনবাবু!

    —বলিস কী রে? অনেক বয়েস হয়েছে নিশ্চয়ই। বকাবকি করেননি তো আবার? দু-একটা অঙ্কও নির্ঘাত দিয়েছেন!

    —হেসে উঠল সুবীর।

    —না, সে সুযোগ পাননি। এখনও শক্তসমর্থই আছেন। তা দেখামাত্র চিনতে পারলেন। ওনার ছেলে আজ ফিরল ইংল্যান্ড থেকে—বহুবছর বাদে।

    —মানে? অরূপ ভট্টাচার্য! আর ইউ সিওর?

    —কেন? দেখলাম চোখের সামনে।

    —ভুল দেখেছিস। মল্লির কথা মনে পড়ে?

    —হ্যাঁ, তা মনে পড়বে না! ও তো ইংল্যান্ডে ছিল। ডাক্তার হিসেবে ওর তো বেশ নামডাক হয়েছে শুনেছি।

    —ছিল মানে, এখনও আছে। ও-ই বলছিল যে বরেনবাবুর ছেলে নাকি একবছর আগে কার অ্যাক্সিডেন্টে ওখানে মারা যায়। বরেনবাবুর খুব ইচ্ছে ছিল ওনার ছেলে ভারতে ফিরে আসুক। এখানকার জন্য কিছু করুক। গ্রামে একটা হাসপাতাল করে দিক। তা, ছেলে কি আর সে কথা শোনে? ফ্যামিলি নিয়ে ওখানে ওয়েল সেটলড। ওখানে বহুবছর ছিল। তারপর হঠাৎ এই দুর্ঘটনা।…তা…ওয়েট এ সেকেন্ড! মল্লি যেন বলেছিল, বরেনবাবুও আর নেই। তাই ছেলের মৃত্যুর খবরের শক উনি আর পাননি। তুই সিওর বরেনবাবুকে দেখেছিস?

    —সিওর মানে, হান্ড্রেড পার্সেন্ট। অতক্ষণ কথা হল পাশাপাশি বসে। আর আমি ভুল…

    বলতে গিয়ে বাধা এল। পাশ থেকে কার যেন একটা চেনা ভারী গলা ভেসে এল, অস্পষ্ট, কিন্তু গভীর স্বরে—সুবীর, কথা রাখবে তো? এখানে একটা হাসপাতাল বড় দরকার।

    শব্দের উৎসের দিকে মুখ ফেরাতে গিয়ে সুবীর দেখল যে প্যাসেজের উলটোদিকে যে দুজন বসেছিল, তারা আর নেই। ফাঁকা কামরাটা ছুটে চলেছে দুদিকের গাছগাছালিকে পিছনে ফেলে। শুধু শব্দগুলো যেন রয়ে গেছে। আর বারবার ফিরে আসছে—সুবীর, কথা রাখবে তো?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহাউ টু টক টু এ্যানিওয়ান – লেইল লোনডেস
    Next Article বিদ্বান বনাম বিদুষী – প্রীতম বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }