Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভৌতিক অলৌকিক – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী এক পাতা গল্প189 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নীলকুঠিতে কিছুক্ষণ – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

    নীলকুঠিতে কিছুক্ষণ

    পারমাদান দেখেই বাড়ি ফেরার ইচ্ছে ছিল সুজিতের। পারমাদান রিজার্ভ ফরেস্ট। শীতের আমুদে রোদে বেশ ভালোই লাগছিল ঘুরতে। নানান ধরনের গাছ। অনেক গাছই অজানা। নাম হয়তো শুনেছে। কিন্তু দেখার সুযোগ কখনও হয়নি। গাছের উপর নাম লেখা আছে বলে চিনতে পারছিল। এ ছাড়া হরিণও আছে বেশ কয়েকশো। খানিক আগে হরিণদের খাবার খাওয়ানো হচ্ছিল। তখন একসঙ্গে প্রায় সবকটাকে দেখাও গেল।

    ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ ঘড়ির দিকে চোখ পড়ল সুজিতের। চারটে বাজে। এখান থেকে কলকাতা গাড়িতে প্রায় আড়াই ঘণ্টার পথ। এখনই না বেরোলে ফিরতে অনেক রাত হয়ে যাবে। শীতের বেলা। এর মধ্যেই ঠান্ডা হাওয়ায় ভর করে গাছের ছায়াগুলো লম্বা লম্বা হাত বাড়িয়েছে। কোণঠাসা রোদ্দুর গাছের কয়েকটা পাতার উপরে দাঁড়িয়ে কাঁপছে। ফেরার জন্য গাড়ির দিকে এগোচ্ছে হঠাৎ একটা রোগামতো বুড়ো লোক ওর দিকে এগিয়ে এল। লোকটার সঙ্গে আগেও দুবার চোখাচোখি হয়েছে, কিন্তু কোনও কথা হয়নি।

    —নীল কুঠিতে যাবেন কত্তা?

    —সে আবার কোথায়?

    —এই মিনিট দশেক লাগবে। সামনেই ডিঙি আছে। নদী পেরিয়ে উলটোদিকে।

    —আজ থাক। পরের বার এসে যাব। এখনই তো সন্ধে হয়ে এল। গিয়ে ফিরে আসতে আসতে অনেকক্ষণ লেগে যাবে।

    বলে আবার গাড়ির দিকে এগোল সুজিত। যেতে যে একেবারে ইচ্ছে করছিল না, তা নয়। নীলকুঠি এখন আর কটাই বা আছে! বেশিরভাগই ভেঙে গেছে। দুশো বছর আগের যে ক’টা আছে—তা হাতে গোনা যায়। তা ছাড়া অনেক প্রজন্ম আগে সুজিতের পরিবার নাকি এসব দিকে থাকত। বড় জমিদারি ছিল এদিকে। তা সে অনেকদিনের কথা।

    সুজিতের ইতস্তত ভাবটা বোধহয় টের পেয়েছিল লোকটা। বলে উঠল—চলেন কত্তা। আসা-যাওয়া আধঘণ্টা সময়। এখানে এসে ওটা না দেখলে বড় ফাঁক রয়ে যাবে। ক’দিনেরই বা জীবন—না দেখলে পরে—ওই কী যেন বলেন—মেস করে যাবেন!

    —ঠিক আছে, চলো। তা তোমার নৌকো ঠিকঠাক আছে তো? জলে ডুবে-টুবে যাবে না তো?

    —কী যে বলেন! এ নিয়ে কোনও চিন্তে করবেন না। এই তিরিশ বছর ধরে ইছামতীতে নাও চালাচ্ছি। কখনো মানবমাঝির নাওতে কিছু হয়নি।

    লোকটা ঘাটের দিকে এগোল। সুজিতও ওর পিছু নিল। মিনিট দুয়েক হেঁটে ঘাট। ঘাটের সামনেই মানবমাঝির ডিঙিনৌকো ছিল। সরু ডিঙি, মাঝে একটা কাঠ ফেলা। তার ওপর বসতে হবে। সাবধানে উঠে তাতে বসে পড়ল সুজিত। ভালো সাঁতার জানে সুজিত। অবশ্য ইছামতীর জলের যা গভীরতা, তাতে সাঁতার না জানলেও ডোবা শক্ত। নদী বেয়ে মানবমাঝি নিপুণ হাতে নৌকো চালাতে লাগল। কিছু কিছু জায়গায় কচুরিপানায় প্রায় পুরো নদীটাই ঢেকে গেছে। তবু তারই ফাঁক দিয়ে দিয়ে ডিঙি এগিয়ে চলল।

    মানবমাঝি অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে। ওর ছেলে দুবাইতে কাজ করে। সেখানকার চওড়া ঝকঝকে রাস্তা—আকাশছোঁয়া বাড়িঘর। তারপর দুবাই ছেড়ে এখানকার গল্প। ট্যুরিস্ট আসে শনি-রবিবার। কিন্তু সপ্তাহের দিনে প্রায় কেউই আসে না। অফ সিজনেও লোকজন প্রায় আসে না, তখন ও মাঝরাতে উঠে নদীতে মাছ ধরে, সে মাছ বাজারে বিক্রি করে, চাষবাস করে সে ফসল বিক্রি করে চালায়। সবমিলিয়ে বেশ আছে।

    —বোঝলেন কর্তা, সবই ভাগ্য। আমরা হলাম গিয়ে জলের পোকা, আর আমার মেয়ের ছোট খোকাটা এই জলে ডুবে মারা গেল গত আশ্বিনে। এই যে দ্যাখেন—আপনি এলেন—আমার নাও- তে চড়লেন—না-ও চড়তে পারতেন—আবার চরণ মিঞার ভাঙা নাওতেও চড়তে পারতেন—সবই ভাগ্য, তাই না?’

    এসব পাগলের প্রলাপ শুনতে শুনতে সুজিত আশপাশের দিকে তাকাচ্ছিল। পাশের বনে হরিণের দেখা না পেলেও বেশ কয়েকটা মাছরাঙা-ফিঙে-সারস-বকের দেখা মিলল। আরো বেশ কয়েকটা নাম না জানা পাখি।

    মিনিট দশেক পরে উলটোদিকের একটা ভাঙা ঘাটে ডিঙি ভিড়িয়ে মানবমাঝি বলে উঠল—উঠে যান কত্তা। ওই বনের মাঝ বরাবর রাস্তা আছে।

    —কোথায়? তেমন কোন রাস্তা তো দেখছি না!

    —এ কি কত্তা আপনার কলকেতার চওড়া রাস্তা পেয়েছেন! তাও যা ছিল গাছ-আগাছায় বুজে গেছে, আসলে এ কুঠির একটু দুর্নাম আছে তো। তাই লোকে আজকাল আসতে ভরসা পায় না। একটু এগোলেই আপনি টের পাবেন।

    সুজিত এমনিতে যথেষ্টই ডাকাবুকো। তবু একথা শুনেই বলল—আগে বলোনি তো! তা কীসের উৎপাত—চোর, ডাকাত না ভূতের?

    —কর্তা, লোকে তো কত কীই বলে! আমাকেও তো পাগল বলে! এখানে ভূতের উৎপাত আছে বলে। তা ভূত চেনা হল ভাগ্যির ব্যাপার। কে যে আসল ভূত, আর কে যে নকল ভূত—তা বোঝাই যায় না। কজনের আর ভূত দেখার সৌভাগ্য হয় বলেন! যান, যান —এগিয়ে যান। যাবেন আর চলে আসবেন।

    সুজিত আর দাঁড়াল না। চড়াই পথ বেয়ে ঝোপঝাড় সরিয়ে সরিয়ে উপরের দিকে খানিকটা উঠতেই গাছের ফাঁক থেকে দূরে একটা বড় বাড়ি উঁকি দিল। বাড়ির সামনে বড় একটা চাতাল। চাতালটা পেরিয়ে কাছে যেতেই বাড়ির বার্ধক্যের চেহারাটা ধরা পড়ল।

    মানবমাঝি যেরকম বলেছিল, জায়গাটা সেরকম কিছু নির্জন নয়। একটা ছাগলছানা ঘুরে বেড়াচ্ছে। মায়ের খোঁজে মাঝেমধ্যে উদ্বিগ্ন হয়ে চেঁচাচ্ছে। দুটো নেড়ি কুকুর চোখ বুঁজে শুয়ে আছে—আর সবথেকে বড় ব্যাপার হল একটা লোক বাড়ীটার থেকে খানিকটা দূরে চাতালের উপর বসে চপ বিক্রি করছে। ক্রেতা অবশ্য নেই।

    সুজিতকে দেখেই লোকটা বলে উঠল—কী চপ খাবেন কত্তা? আলু-বেগুন-লঙ্কার চপ? পেঁয়াজি?

    তেলটা কীরকম হবে কে জানে? তবু একটু রিস্কই নিল সুজিত। —দুটো আলুর চপ দেখি।

    ভালোই করেছে আলুর চপ। বেশ খেতে। প্রথমটা শেষ করে সবে মুখে দ্বিতীয়টা পুরেছে হঠাৎ লোকটা বলে উঠল—ভাগ্যে বিশ্বাস করেন কত্তা?

    —না, তা হঠাৎ করে?

    —এই যে আপনি আলুর চপ খেলেন। আপনি নাও খেতে পারতেন। খেলেও বেগুনি খেতে পারতেন—পেঁয়াজি খেতে পারতেন। কিন্তু আলুর চপই খেলেন। আমি না থাকলে কিছুই খেতেন না। তাই না?

    একটু অবাক হয়ে সুজিত বলে উঠল—কেন? আলুর চপে কিছু ছিল না কি?

    —আরে না, না। আলু আর ব্যাসন। আর লঙ্কা—একটু পেঁয়াজ।

    —তা তুমি অমনভাবে বললে! মনে হল…

    সুজিত একটু বিরক্ত হয়েই দ্বিতীয় চপটা তাড়াতাড়ি শেষ করে বাড়িটার দিকে এগোল।

    সরু সরু লাল ইটের তৈরি বাড়ি। ঘরগুলোর সামনে দিয়ে টানা লম্বা বারান্দা। বেশ কিছু জায়গায় উপরের ছাদ থেকে বড় বড় চাঙড় খসে পড়েছে। কিছু ঘরের দেওয়াল আধভাঙা। থামগুলোর কিছু কিছু অংশ বেশ বিপজ্জনক ভাবে ভেঙে পড়েছে। কী করে যে বাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে সেটাই রহস্য। সরকার যদি এগুলো একটু সংস্কার করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করত। কত লোকের মৃত্যুর কারণ যে এই নীলকুঠি! বাড়িটার ভেতর হাঁটতে হাঁটতে এসব ভাবতে ভাবতে শিহরিত হচ্ছিল সুজিত।

    —আপনি কি মানিক রায়চৌধুরীর কেউ হন? হঠাৎ প্রশ্নটা শুনে চমকে উঠল সুজিত। মুখ ঘুরিয়ে দেখল একটা কালো মোটা লোক ওর দিকে তাকিয়ে আছে। চওড়া মুখের অনুপাতে চোখদুটো ভারী ছোট—কুতকুতে। মোটা গোঁফ। মোটা নাক। ঠোঁট আর নাকের ফাঁক যৎসামান্য। লুঙ্গির উপরে ছিটের শার্ট। এখনও দিনের আলো আছে বলে বাঁচোয়া। সন্ধের পরে মুখোমুখি হলে সুজিত ঘাবড়ে যেত।

    লোকটা ফের বলে উঠল—আপনি কি মানিক রায়চৌধুরীর কেউ হন?

    —কেন?

    —হুবহু তারই মুখ বসানো। তারই মতো সিড়িঙ্গে নাক। গোল গোল চোখ। কুকুরের মতো কান।

    বেশ বিরক্ত হল সুজিত। সবকটা বাজে উদাহরণ। ওকে মোটেও তেমন খারাপ দেখতে নয়। তবু বলে উঠল—কে মানিক রায়চৌধুরী?

    —আরে তা জানেন না? মানিক রায়চৌধুরী হলেন এখানকার জমিদার। এখানে যত রায়ত চাষি আছে—সবাই ওনার কথা শুনে চলে। উনি হলেন ওদের বাপ-মা।

    —আশ্চর্য, কখনও তো ওনার নাম শুনিনি। আর আজকাল তো জমিদারি বলে কিছু হয় না।

    —হা: হা: হা:—বলে লোকটা অট্টহাসি করে উঠল—আপনার পড়াশোনা কদ্দূর? ম্যাট্রিক পাস?

    ভারী আস্পর্দা তো লোকটার! সুজিত রেগে বলে উঠল—ইঞ্জিনিয়ার। লোকটা কী বুঝল কে জানে—বেশ বিজ্ঞের মতো বলে উঠল—এ-বাড়িটা কিসের জানেন?

    —নীলকুঠি।

    —হ্যাঁ, ড্যানিয়েল সাহেবের কুঠি এটা। ড্যানিয়েল হলেন নীলকর সাহেব। কী চেহারা মশাই! আমার থেকেও লম্বা চওড়া। হাতের গুলিগুলো কী! চাবুক নিয়ে দাঁড়ালে আমারও ভয় লেগে যায়। আর তেমন গলার আওয়াজ।

    —তা আপনার সঙ্গে ড্যানিয়েলের নিশ্চয়ই খুব আলাপ!

    —একটু ইয়ার্কি করেই বলে উঠল সুজিত। দেশ-গাঁয়ে কত ধরনের যে লোক আজও আছে!

    —নাহ, সেরকম আর হল কোথায়? সাহেবসুবো লোক। ওই একদিনেরই দেখা। সবই ভাগ্য বুঝলেন!

    ‘ভাগ্য’—কথাটা শেষ কয়েক ঘণ্টায় সুজিত বেশ কয়েকবার শুনেছে। এখানকার সব লোক দার্শনিক নাকি!

    —কিসের আবার ভাগ্য!—বিরক্ত হয়ে সুজিত বলে ওঠে।

    —হ:—লোকটা ছিটের জামাটা ঝাড়তে ঝাড়তে বলে ওঠে—দেখলেই বুঝবেন। এই যে আপনি এ-বাড়িতে এলেন। আজকেই এলেন। তারপরে আবার মানিকবাবুর মতো মুখ চোখ—ভাঙা বেড়ার মতো দাঁত। নাহ, সবই ভাগ্য।

    লোকটা যে একটু ছিটেল, তাতে সন্দেহ নেই। তবু শীতের এই পড়ন্ত বিকেলে এই বাড়িতে একজন সঙ্গী থাকলে নেহাত খারাপ হয় না।

    —তা, কী হয়েছিল নীল সাহেবের?

    —শুনেছিলাম ওনাকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। এমন অত্যাচার করতেন যে চাষিরা মিলে নীলকুঠিতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। আর তাতেই নীলসাহেব অক্কা পান। তবে সে তো প্রথম বারের কথা। তারপর তো কত বছর গেছে। শেষে কী হয়েছে কে জানে! হেসে উঠল সুজিত—তা বলে তো আর মৃত্যুর কারণটা বদলে যাবে না।

    —আজকের দিনটা মনে আছে? বাইশে ডিসেম্বর—গলা খাঁকরে একটু আস্তে আস্তে লোকটা বলে উঠল—আজকের দিনে নীল সাহেব মারা যান। সালটা কত ছিল জানি না, তবে প্রতিবছর ঠিক এই দিনে উনি আবার ফিরে আসেন। থাকুন, দেখতেই পাবেন।

    —কী অ্যাবসার্ড।—হেসে উঠল সুজিত। মানে প্রতিবছর আজকের রাতে ড্যানিয়েল ফিরে আসেন! খুব পছন্দের জায়গা ছিল বুঝি? আর তাই দেখতে আমরা সব আসি! আর ওই দিনের মতোই নীলচাষিরা এসে বাড়িতে আগুন দিয়ে দেয়, তাই তো?

    —তাহলে তো হয়েই ছিল। প্রতিবছর এখানে উনি আসেন বটে। তবে, প্রতিবছর…নাহ, সেসব কথা যাক, কাজ আছে, এগোই। আপনার মতো তো আর ট্যুরিস্ট নই। বলতে বলতে লোকটা ঘরের ভাঙা দেওয়ালটার দিকে এগিয়ে গেল। আর ফাঁক দিয়ে পাশের ঘরে গিয়ে ঢুকল।

    —শুনছেন!—সুজিত সাড়া না পেয়ে এগিয়ে যায়—শুনছেন? লোকটা যেন হঠাৎ করে ভ্যানিশ হয়ে গেছে। সুজিত পাশের ঘরে সবে ঢুকেছে, হঠাৎ একটা প্রচণ্ড আওয়াজ—আর একইসঙ্গে প্রচণ্ড জোরে কেউ যেন সুজিতের মাথায় বাড়ি মারল। জ্ঞান হারানোর আগের মুহূর্তে সুজিত বুঝতে পারল ঘরের সিলিং থেকে একটা বড় চাঙড় ভেঙে পড়েছে।

    জ্ঞান ফিরতে সুজিত একটা জিনিস খেয়াল করল। মাথার উপরের ছাদের অনেকটা অংশ ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। যে ফাঁক দিয়ে দোতলার ছাদের কড়ি বরগা দেখা যাচ্ছে। ঘরটার ভাঙা দেওয়ালের ফাঁক দিয়ে সামান্য আলো আসছে। মাথায় হাত বোলাল সুজিত। এখনও রক্ত চুঁইয়ে পড়ছে। তবে চাঙড়ের মূল বড় অংশটা হাতখানেক দূরে পড়ে আছে। ওটা মাথায় পড়লে আর দেখতে হত না। নির্ঘাত ওরই একটা ছোট টুকরো মাথায় পড়েছে। তাড়াতাড়ি বাইরে যেতে হবে।

    কোনওরকমে উঠে দাঁড়াল সুজিত। দেওয়ালে ভর দিয়ে আস্তে আস্তে বাইরে বেরিয়ে এল। রাত অনেক হয়েছে। কতক্ষণ অজ্ঞান হয়েছিল কে জানে! কাল পূর্ণিমা। চাঁদের বদান্যতায় চারদিক মোটামুটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। বেশ হাওয়া। দূরের গাছগুলো হাওয়াতে কেঁপে কেঁপে উঠছে।

    হঠাৎ সুজিতের মনে হল ও একা নেই। কাদের যেন অস্পষ্ট কথা শোনা যাচ্ছে। কাছাকাছি বাড়িঘর আছে হয়তো। কিন্তু না, সেরকম আওয়াজও নয়। কেউ যেন কানের পাশেই কথা বলছে—অথচ ভালো করে শোনা যাচ্ছে না। কথাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। আর ওগুলো কী? সামনের চাতাল জুড়ে বেশ কয়েকটা ছায়া ছায়া অবয়ব দেখা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে কেঁপে উঠে সরে যাচ্ছে। বারান্দায় জোছনার আলো। কিন্তু ছায়াগুলো কাদের? সেরকম কিছু তো আশপাশে নেই—যার ছায়া ওভাবে নড়বে।

    নাহ, এ হতে পারে না। মাথার চোটের জন্যই নিশ্চয়ই ভুল দেখছে—মনকে বোঝাল সুজিত। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখান থেকে বেরিয়ে ভালো কোনও ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। কিন্তু এত রাত! এদিকে জনবসতি না থাকলে নদী পেরোতে হবে। মানবমাঝি নিশ্চয়ই অপেক্ষা করে বসে নেই কিন্তু কাউকে জানিয়েছে কি? আর এই যে এতক্ষণ অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল—কেউ কি দেখেনি? এরকম বিপদে সুজিত আগে কখনও পড়েনি। মাথার মধ্যে সব কিছু কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।

    হঠাৎ দুটো ছায়ামূর্তি ওর দিকে এগিয়ে এল। দু-হাত ধরে যেন কে হঠাৎ টান দিল। আটকানোর ক্ষমতা ছিল না সুজিতের। সামান্য চেষ্টা করে বুঝল যে যারা টানছে, তাদের গায়ের জোর বহুগুণ বেশি। সিঁড়ি দিয়ে ওকে হেঁচড়াতে-হেঁচড়াতে উপরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। দোতলার লম্বা বারান্দা। মেঝের উপর দিয়ে টানতে টানতে সুজিতকে ওরা নিয়ে চলল। তারপর বারান্দার মাঝামাঝি এসে ওর হাতটা ছেড়ে দিল। ছিটকে গিয়ে মেঝেতে বসে পড়ল সুজিত।

    টুকরো টুকরো চাঁদের আলো বারান্দায় ছড়িয়ে। পাশের কাঁঠাল গাছটার পাতার ফাঁক দিয়ে এসে পড়েছে। তবু এই ছায়াময় বারান্দায় স্পষ্ট ও টের পেল আরেকটা দীর্ঘ ছায়া ওর দিকে এগিয়ে আসছে। আর আশপাশ থেকে অস্পষ্ট কিছু কণ্ঠস্বর—নালায়েক, দেওয়ান… মানিক…

    হঠাৎ বুকের উপর একটা ভারী বুটের আঘাত। আর্তনাদ করে উঠল সুজিত। যেন দমবন্ধ হয়ে গেল খানিকক্ষণ। কোনওমতে সামলে নিয়ে উঠে বসতে যাবে। হঠাৎ একটা চাবুকের আঘাত, ওর হাতের উপর। চামড়া কেটে যেন বসে গেল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আবার চাবুক আছড়ে পড়ল। সুজিতের চিৎকারে চারদিকে নিস্তব্ধতা কেটে গেছে। তারই মাঝে আরও কার যেন উত্তেজিত কণ্ঠস্বর স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। কয়েকটা কথার পর হারিয়ে যাচ্ছে, আবার শুরু হচ্ছে। যেন টুকরো টুকরো শব্দ নিয়ে বাতাস খেলা করছে।

    সাহেবি ভারী গলায় কে যেন বলে যাচ্ছে—আমার দাদন, সব মিছে, পাজি-নেমকহারাম-বেইমান! আমার নামে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশ! রাসকেল—আজকের মধ্যে তুই ষাট বিঘা দাদন লিখিয়া দিবি—নচেৎ এই শ্যামচাঁদ তোর মাথায় ভাঙিব। গোস্তাকি! তোর দাদনের জন্য দশখানা গ্রামের দাদন বন্ধ রহিয়াছে। দস্তুর মোতাবেক না দিলে তোর চামড়া খুলিয়া নিব।

    পাশ থেকে আরেকজনের গলা শোনা গেল—হুজুর, সব রায়তকে মানিকবাবু খেপিয়েছে, তারা কেউ নীলের দাদন নিচ্ছে না।

    আবার সাহেবের গর্জন শোনা গেল।

    হঠাৎ কথাগুলো থেমে গেল। মনে হল ছায়ামূর্তির উলটোদিক থেকে আরেকটা ছায়ামূর্তি এগিয়ে আসছে। ভারী চটির আওয়াজ। কাঁপা গলায় সাহেব যেন বলে উঠল—দেওয়ান, এ ব্যাটা তাহা হইলে কে?

    গম্ভীর গলা উলটোদিক থেকে ভেসে এল—আমি মানিক সাহেব। তুমি ভুল লোককে মানিক ভাবিয়াছ। অনেক সহিয়াছি, আর নয়। অন্য ছায়ামূর্তির হাতে ধরা একটা বন্দুক গর্জে উঠল। সাহেবের ছায়ামূর্তি মাটিতে বসে পড়েছে। আবার দু-দুটো বন্দুকের গুলির আওয়াজ। সাহেব মাটিতে শুয়ে পড়ল। স্বপ্ন যে দেখছে না সুজিত পাশের গাছের একটা পাখির ডানা ঝাপটানো তা প্রমাণ করে দিল।

    সামনেই দু-ফুট দূরে সাহেবের ছায়ামূর্তি পড়ে আছে। চাবুকাঘাত বন্ধ হয়েছে, ভারী চটির শব্দ কাছে এগিয়ে আসছে। কিন্তু উঠে দাড়াবার ক্ষমতা নেই সুজিতের। চোখের সামনে হঠাৎই সব ফের অন্ধকার। জ্ঞান হারাল সুজিত।

    —কেমন আছেন কত্তা?

    ঘোলাটে দৃষ্টিটা স্পষ্ট হতে সুজিত লক্ষ করল যে ও একটা সাধারণ হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। পাশে একটা টুলের উপর মানবমাঝি। পরনে লুঙ্গি-হাফশার্ট। ওর নিজের হাতে-পায়ে-মাথায়-ব্যান্ডেজ। স্যালাইন চলছে।

    মানবমাঝি বলতে থাকে—কী বলেছিলাম কত্তা! সবই ভাগ্য! তা না হলে আপনার মাথাতেই চাঙড় ভেঙে পড়ে আর নীলকর সাহেবও আপনাকে দেখে মানিকবাবু বলে অমন ভুল করে! তবে ভুল হবারই কথা। আমার খেয়াল হয়নি আগে। খালি ভাবছিলাম আপনাকে অমন চেনা চেনা লাগে কেন! ওই নীলকুঠিতে একটা ছবি ছিল—ঠিক তারই মতো আপনার মুখটা। তা কত্তা, এসব কথা পাঁচকান করবেন না। এই আমি দু-একটা কথা বলি বলে সবাই আমাকে পাগল বলে। আপনিই বলেন, আমি কি পাগল?

    একটু থেমে আশপাশে দেখে নিয়ে মানবমাঝি মুখটা সুজিতের কানের কাছে নিয়ে এসে বলে উঠল—তা শুনলাম সবাই এবার ভারী খুশি। আপনার জন্যই একবছরের জন্য লালমুখো বদ সাহেবটাকে জব্দ করা গেছে। নীলচাষ সব বন্ধ হয়ে গেছে। মানিকবাবু নাকি আপনার দেখা পাবার জন্য বাচ্চার মতো ছটফট করছে। যাকগে, সে না হয় আপনার হাত-পাগুলো একটু জোড়া লেগে গেলে আমিই নিয়ে যাবখন, আমার নাও ছাড়া ওখানে যাবার তো জো নেই। ভাগ্য কত্তা—সব ভাগ্য!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহাউ টু টক টু এ্যানিওয়ান – লেইল লোনডেস
    Next Article বিদ্বান বনাম বিদুষী – প্রীতম বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }