Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভৌতিক অলৌকিক – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী এক পাতা গল্প189 Mins Read0
    ⤶

    ৩৮ বিচউড স্ট্রিট – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

    ৩৮ বিচউড স্ট্রিট

    ‘ঝুম-ঝুম-ঝুম’—শব্দটা বাগানের একটা দিক থেকে অন্য দিকে এগিয়ে গেল। ধীরে পায়ে কেউ যেন বাগানের মধ্যে হেঁটে বেড়াচ্ছে। আওয়াজটা মৃদু কিন্তু স্পষ্ট। ভিজে ঘাসের উপর কারও যেন মৃদু সতর্ক পদক্ষেপ। একই সঙ্গে একটা ধাতব শব্দ। ‘ঝুম-ঝুম-ঝুম’, কলকাতায় এরকম আওয়াজ কখনওই আলাদা করে টের পেত না অভ্র। কিন্তু এখানে? এই নিথর নীরবতায় এই আওয়াজ স্পষ্ট শোনা যায়, বোঝা যায় প্রাণহীনেরও ভাষা আছে।

    তিন সপ্তাহ হল অফিসের কাজে ওয়েলসে এসেছে অভ্র। বাড়ি ভাড়া নিয়েছে ছোট্ট পাহাড়ি শহর কার্লিয়নে। শহর না বলে গ্রাম বললেই ভালো হয়। কিন্তু এখানকার বাসিন্দারা কার্লিয়নকে শহর না বললে অপমানিত হয়। আর হবে না-ই বা কেন, দু-হাজার বছর আগে ইংল্যান্ডের বেশির ভাগ জায়গা যখন সভ্যতার স্পর্শ থেকে অনেক দূরে, তখন এই এখানে, ওয়েলস-এর ছোট্ট শহর কার্লিয়নেই আস্তানা গেড়েছিল রোমান সাম্রাজ্যের এক লিজিয়ন। প্রায় পাঁচ হাজার রোমান সেনা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে থাকত। তাই এখনও কার্লিয়নের নানান জায়গায় ছড়িয়ে আছে রোমান দুর্গ, সেনাদের থাকার জায়গা, রোমান বাথ, অ্যাম্ভিথিয়েটার।

    আবার শব্দটা ফিরে আসছে। মনটাকে আবার বর্তমানে ফিরিয়ে আনল অভ্র। খুব মনোযোগ দিয়ে ফের শোনার চেষ্টা করল। কোনও জন্তুর হাঁটার আওয়াজ কি? আশেপাশে বেশ কিছু জংলা জায়গা আছে। বাড়িটা শহরের একদম প্রান্তে। এরপরই জঙ্গল শুরু। তাই এরকম কোনও জন্তুর উপস্থিতির সম্ভাবনাটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে ঠিক রাত সাড়ে ন’টাতেই প্রায় প্রতিদিন সে-শব্দ কেন ফিরে আসে সেটা অবশ্যই একটা প্রশ্ন। আর পাঁচ মিনিট বাদে কেন যে সে-শব্দ আবার হারিয়ে যায় তারও কোনও কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

    প্রথম দুদিন এ-শব্দটা পাওয়ার পর অফিসের কোলিগ স্টিভ স্মিথকে একথাটা বলেছিল অভ্র। স্টিভ এখানকার লোক। এ ধরনের শব্দের সঙ্গে ওর পূর্ব পরিচিতি থাকতেও পারে।

    ফোনে রেকর্ডিং করা শব্দটা মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রথমবার স্টিভ বলে উঠল, ‘হেজহগ।’ অর্থাৎ শজারু।

    তারপর কী মনে হতে আবার শুনল। দ্বিতীয়বার শুনে মত পরিবর্তন করে ভুরু কুঁচকে বলে উঠল, ‘হুমম, কারও পোষা বেড়াল নয়তো? চেন বাঁধা। তবে…’

    একটু থেমে স্টিভ ফের বলে উঠল, ‘কীসের সঙ্গে শব্দটা সবথেকে বেশি মেলে বলত? কোনও ভারী কিছু বা ডেডবডি চেনে বেঁধে ঘাসের উপর দিয়ে টেনে নিয়ে গেলে যেমন শব্দ হয়, ঠিক সেইরকম।’ কথাটা শুনে অভ্র হেসেছিল, স্টিভ হাসেনি। বরং বলেছিল, ‘কার্লিয়নের বেশিরভাগ বাড়িই পুরোনো। রোমান শহরের উপর তৈরি।’ অভ্র বুঝেছিল স্টিভ মজা করছে। তবু বাড়িওয়ালা ডেভকে ফোন করেছিল। জেনেছিল বাড়িটার বয়স মাত্র দশ বছর। বাড়িটা আসলে ডেভের ছেলের। কিন্তু তৈরির পর থেকেই ডেভের ছেলে দেশের বাইরে থাকায় এখানে কেউ কখনও থাকেনি। বহুদিন পরে অভ্রই প্রথম ভাড়াটে। দশ বছর বেশ বড় সময়। তাই এই দশ বছরে বাড়ির বাগানে কোনও জন্তুর স্থায়ী আস্তানা গড়ার সম্ভাবনাটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পরের দিন সকালে বাগানটা বেশ তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখেছিল অভ্র। বেশ কিছু পাখি, মৌমাছি, ভীমরুল, আর মাকড়সার বাইরে আর কারও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    চিন্তায় বাধা এল। ডাইনিং রুমের বদ্ধ কাচের দরজার বাইরে শব্দটা থেমে গেছে। অভ্রর ষষ্ঠেন্দ্রিয় স্পষ্ট বলে উঠল কাচের উলটো দিকে নিশ্চিত কেউ আছে। বাইরে এমনিতেই ঘন কুয়াশা। তার মধ্যে বাগানের দিকে দেওয়ালে লাগানো একমাত্র আলোতে কুয়াশার উপস্থিতি ছাড়া আর কিছুই বোঝার উপায় নেই। কিছু দূরে বাগানে গার্ডেন চেয়ার-টেবিল রাখা। সে টেবিলের অর্ধেকটা পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে ডাইনিং রুমের অস্পষ্ট আলো। তারপরে প্রায় নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। দরজার কাচের গায়ে নাক ঠেকিয়ে বাইরেটা দেখার চেষ্টা করল অভ্র। নাহ, আলোকিত অংশে অন্তত কেউ নেই। জীবিত বা মৃত।

    হঠাৎ ওর মনে হল, ভয় না পেয়ে বাইরে একবার যাওয়া উচিত। রহস্যের সমাধান অবিলম্বে হওয়া দরকার। পাশের রান্নাঘর দিয়ে বাগানে যাওয়ার যে দরজাটা আছে সে দিকে এগোল অভ্র। কিন্তু দরজার কাছে এসেই শিহরন হল অভ্রর। দরজাটা আধখোলা। ঠান্ডা বাতাস হানা দিয়েছে সে-দরজা দিয়ে। কিন্তু এ-দরজা তো বন্ধই ছিল! সকালে একবার বাগানে গিয়েছিল অভ্র, আর যদ্দূর মনে পড়ে ফিরে বন্ধও করে দিয়েছিল।

    বাইরের বাগানে বেরিয়ে এল অভ্র। মেঘ যেন হঠাৎ হানা দিয়েছে বাগানে। দু-হাত দূরের জিনিসও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। মেঘে ঢাকা আকাশে তারারা-ও উধাও। তবু তার মধ্যেই অভ্র টর্চ জ্বেলে এগিয়ে গেল শব্দটাকে লক্ষ্য করে। হাত পাঁচেক এগোতেই হঠাৎ হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাবার জোগাড় অভ্রর। বাগানের মধ্যে ওর থেকে ঠিক তিন হাত দূরে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে একটা মেয়ে। বয়স বড় জোর সাত-আট হবে। ক’টা চোখ। ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। মুখটা কেমন যেন গম্ভীর। ধবধবে ফরসা রং। এতটাই ফরসা যে মনে হয় যেন রক্ত শূন্যতায় ভুগছে। কুয়াশা ভেদ করে পেনসিল ব্যাটারি টর্চের আলো মেয়েটার উপর গিয়ে পড়েছে। তার আবছা আলোতে মেয়েটার ফ্রকের রং মনে হল গোলাপি। অভ্র কিছু বলার আগেই মেয়েটা ছুট দিল। বাগানের অন্য দিকে আর তার প্রায় পর পরই বাইরে একটা গাড়ির জোরে ব্রেক কষার আওয়াজ পেল অভ্র।

    সম্বিৎ ফিরে পেয়ে বাগানের ওই একই দিকে ছুটে গেল অভ্র। আগে খেয়াল করেনি, বাগানের পিছন দিকে কাঁটাঝোঁপের বেড়ার মধ্যে একটা ছোট ফাঁক আছে। নির্ঘাত তার মধ্যে দিয়েই মেয়েটা রাস্তায় পালিয়ে গেছে। ওখান থেকে অভ্রর বেরোনোর উপায় নেই। ও বাগান থেকে ফিরে এসে বাড়ির মধ্যে দিয়ে গিয়ে সামনের দরজা খুলে রাস্তায় বেরিয়ে এল। পাশের রাস্তায় গাড়ির ব্রেক কষার আওয়াজটা নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। মেয়েটার কিছু হল না তো?

    যা ভেবেছিল তাই। বাড়ির গা দিয়ে যে-রাস্তাটা চলে গেছে তার ঠিক মাঝখানে একটা কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। তার চালক গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। ভদ্রলোকের দিকে এগিয়ে গেল অভ্র। গায়ে কালো স্যুট, অভিজাত চেহারা, লালচে সোনালি চুল। অভ্রকে দেখেই লোকটা উত্তেজিত ভাবে বলে উঠল, ‘এই এক্ষুনি একটা বাচ্চা মেয়ে হঠাৎ করে গাড়ির সামনে এসে পড়েছিল। ভাগ্যিস সময় মতো ব্রেক কষেছিলাম।’

    ‘হ্যাঁ, আমিও তাই ব্রেকের আওয়াজটা শুনেই দেখতে এলাম। কোথায় গেল মেয়েটা?’

    ‘হ্যাঁ, আমিও তাই ভাবছি। যেমন হঠাৎ করে এসেছিল, তেমনই হঠাৎ করে কোথায় আবার চলে গেল দৌড়ে।’

    এবার অভ্রর দিকে হাত বাড়িয়ে লোকটা বলে উঠল, ‘আমার নাম রব। রবার্ট ব্রাইট। এখানেই এক মাইল দূরে থাকি। তা আপনি কি এখানে নতুন? আগে দেখিনি তো!’

    ‘হ্যাঁ, আমি এখানে তিন সপ্তাহ মতো এসেছি। ইন্ডিয়া থেকে। এখন বছরখানেক থাকব।’

    ‘গুড। খুব ভালো। এটা ছোট জায়গা। আগে আমিও এখানেই থাকতাম। এখন একমাইল দূরে চলে গেছি। আজ চলি, পরে আবার কথা হবে।’

    লোকটা গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিল। হঠাৎ উলটো দিকে ফুটপাথ থেকে আসা একটা লোককে দেখে হাত তুলে চেঁচিয়ে উঠল, ‘পিটার!’

    রাস্তার উলটো দিকের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থাকা পিটারের দিকে তাকাল অভ্র। পিটারকে দেখে প্রথমেই অভ্রর যে কথাটা মাথায় এল তা হল গল্পে পড়া ভ্যাম্পায়ারের কথা। সাড়ে ছ’ফুটের মতো হাইট হবে। রোগা, মাথায় বড় একটা টুপি। খাড়া নাকটা সামনের দিকে একটু বাঁধানো। লম্বাটে মুখের উপর দুটো চোখ যেন দুটো গর্তে খোদাই করে বসানো হয়েছে। লোকটা এগিয়ে এসে রবার্টের সাথে করমর্দন করে বলে উঠল, ‘কেমন আছ রবার্ট? এত রাতে এখানে?’

    ‘আর বলো না। ফিরতে একটু রাত হয়ে গেল আজ। হঠাৎ করে একটা বছর সাতেকের মেয়ে গাড়ির সামনে চলে এসেছিল। আরেকটু হলেই—’

    ‘ও শেলী! বুঝতে পেরেছি, ভারী দুষ্টু মেয়ে। মাঝেমধ্যেই এরকম করে। মজা করে হঠাৎ হঠাৎ করে গাড়ির সামনে দিয়ে দাঁড়ায়। ভয়ডর ওর একদম নেই।’

    ‘তা তুমি চেনো নাকি?’

    ‘হ্যাঁ, চিনব না! ও তো আমাদের ওখানেই থাকে। তুমি আগে দেখোনি সেটাই আশ্চর্য লাগছে।’ রবার্টকে উদ্দেশ্য করে পিটার বলল।

    এতক্ষণে অভ্র বলে উঠল, ‘মেয়েটা মাঝে মধ্যে আমার বাড়ির বাগানেও ঢুকে পড়ে। আমি অবশ্য আজই প্রথম দেখলাম। কিন্তু আগে ওর পায়ের আওয়াজ পেয়েছি।’

    ‘তা আপনি।’ অভ্রকে যেন এতক্ষণে খেয়াল করল পিটার।

    ‘এই কয়েক সপ্তাহ হল এখানে এসেছি।’ বলে বাড়ির দিকে আঙুল তুলে দেখোল অভ্র।

    পিটার যেন একটু চমকে উঠল—

    ‘৩৮ বিচউড স্ট্রিট!’ তারপর মাথার টুপিটা খুলে হাতে নিয়ে দীর্ঘশাস ফেলে ফের বলে উঠল, ‘নিশ্চয়ই এ জায়গাটা আপনার খুব ভালো লাগছে। ভারী সুন্দর জায়গা। আমাদেরও পছন্দের।’ বলে হঠাৎ করে থেমে গেল পিটার।

    এতক্ষণে মনের কথাটা বলেই ফেলল অভ্র, ‘জানেন, এই ক’দিন রোজ এ সময়ে আমার বাড়ির বাগানে বিশেষ একটা আওয়াজ হত। ভাবতাম কীসের আওয়াজ! আজকে আওয়াজটা পেয়ে বেরিয়ে দেখি বাগানের মধ্যে মেয়েটা, মানে আপনাদের এই শেলী। কেন রোজ আমার বাগানে ঢুকত কে জানে?’

    ‘ও ওরকমই। তাছাড়া এখানেই থাকত তো!’

    ‘এখানে থাকত মানে?’

    ‘না, মানে এখানকারই মেয়ে তো। তাই মাঝে মধ্যে ঢুকে পড়ে।’

    একটু থেমে পিটার বলে উঠল, ‘তা যাই হোক। মোস্ট ওয়েলকাম টু কার্লিয়ন। ভালো থাকবেন আর ওরকম আওয়াজ টাওয়াজে ঘাবড়াবেন না। আমি আসি।’

    বলে অভ্র আর রবার্টকে বিদায় জানিয়ে যেদিকে যাচ্ছিল, তড়বড় করে সেদিকে আবার হাঁটতে শুরু করল।

    রবার্টও গাড়িতে উঠেই গাড়ি স্টার্ট করল। ওর গাড়িটা চলতে শুরু করার পর পরই প্রায় একশো মিটার দূরত্বে রাস্তার ফুটপাতের উপর আবার মেয়েটাকে দেখতে পেল অভ্র। কুয়াশাটা একটু কেটে যাওয়ায় দেখতে পাওয়া সম্ভব হয়েছে। মেঘের চাদর সরিয়ে আকাশটাও যেন একটু জেগে উঠেছে তারার চোখে চোখ রেখে।

    মেয়েটা যেন ওর জন্যই অপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু কি বলতে চায়? অভ্র ওর দিকে এগিয়ে গেল। আর একটু এগোতে মেয়েটার চেহারা স্পষ্ট দেখতে পেল অভ্র। মুখটা ভারী সুন্দর। বড় বড় চোখের পাতা। আর সে চোখের দৃষ্টি সোজা অভ্রর উপর।

    মেয়েটার কি বাবা-মা কেউ নেই? এত রাতে এভাবে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অভ্র আরেকটু কাছে যেতেই মেয়েটা হাত তুলে দূরের দিকে দেখাল। পাহাড়ি রাস্তা বাঁক বেয়ে নীচের দিকে নেমে গেছে কার্লিয়ন শহরের কেন্দ্রের দিকে। ওদিকেই ওর আঙুলের লক্ষ্য। অভ্রকে কি কিছু দেখাতে চায়?

    তারপর আর কিছু না বলে সোজা ঢাল বেয়ে নামতে শুরু করল। অভ্রও মেয়েটার পিছু পিছু এগিয়ে চলল। মেঘ আর কুয়াশার দাপট একটু কমলেও এখনও রাস্তা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে না। রাস্তার দু-ধারে লাগানো বাতিস্তম্ভের আলোগুলো এই ভারী কুয়াশার মধ্যে নিজেরাই লুকোচুরি খেলছে। তাদের হলদেটে তুলির ছোঁওয়ায় আশপাশ রঙিন হলেও দশ মিটারের বেশি কিছু দেখা যাচ্ছে না। রাস্তায় গাড়ি চলাচল প্রায় নেই বললেই চলে। কিছু রাতজাগা পাখির ডাক মাঝেমধ্যে শোনা যাচ্ছে।

    হঠাৎ অভ্র লক্ষ করল মেয়েটা একটু আগে দাঁড়িয়ে পড়েছে। একটা লোকের সঙ্গে কথা বলছে। রাস্তার ধারে পাথর বসানো একটা বসার জায়গা। সেখানে একজন বয়স্ক ভদ্রলোক বসে আছে। মাথায় হ্যাট, হাতে সাদা লাঠি। লম্বা কালো কোট। চওড়া সাদা গোঁফ, সেরকমই দেখার মতো সাদা দাড়ি। তার সঙ্গে কিছু কথা বলে অভ্র কাছে এসে পৌঁছনোর আগেই আবার হাঁটতে শুরু করল।

    অভ্র বৃদ্ধের কাছে যেতেই বৃদ্ধ খকখক করে কেশে উঠল। ঠোঁটের কোণে একটু হাসি এনে বলে উঠল, ‘৩৮ বিচউড স্ট্রিট?’

    অবাক হয়ে অভ্র বলল, ‘কী করে জানলেন যে আমি ওখানে থাকি?’ মেয়েটা বলল।

    লোকটা আবার খানিকক্ষণ খকখক করে কেশে বলে উঠল, ‘সবাই ওই বাড়ির কথা জানে। দ্যাটস দ্য বেস্ট হাউস অফ দ্য ব্লক।’ সবার পছন্দের। আমার নাম হল সাইমন ব্যানেট। এখানকার পুরোনো লোক।

    ‘সাইমন ব্যানেট! নামটা শুনেছি মনে হচ্ছে।’

    ‘হ্যাঁ, শুনবে না! আমি এখানকার মেয়র ছিলাম। এখানকার স্কুল, হাসপাতাল সবই আমার নামে। তা কার্লিয়ন কীরকম লাগছে?’

    ‘ভালো। বেশ সুন্দর জায়গা। খুব পুরোনো শহর।’

    ‘হ্যাঁ, সত্যিই খুব পুরোনো শহর। তাই এখানকার বাসিন্দারাও আমার মতোই পুরোনো। বহু বছর কেটে গেছে, কিন্তু শহরের মোহ আমরা কেউ কাটাতে পারিনি। আমরা সবাই যে যার জায়গা আঁকড়ে পড়ে থাকি।’ লোকটা এরপর অন্যমনস্ক ভাবে বিড়বিড় করে কীসব বলতে লাগল।

    অভ্র আর না দাঁড়িয়ে এগিয়ে গেল। ও খেয়াল করেছিল—মেয়েটা একটু এগিয়ে ওর জন্যই যেন অপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে আছে। অভ্রকে এগিয়ে আসতে দেখে আবার হাঁটতে শুরু করল। খানিকবাদে বড় রাস্তা ছেড়ে ডানদিকের একটা রাস্তা ধরে এগোতে থাকল। এ রাস্তাটার দু-ধারে কোনও বাড়ি নেই। ঝোপ-ঝাড়-গাছ। হাঁটার আর সাইকেলের সরু রাস্তা। অভ্র মন্ত্রমুগ্ধের মতো মেয়েটার পিছু পিছু এগোতে থাকল। খানিকবাদে ডানদিকে নীচু পাঁচিল ঘেরা একটা জায়গার সামনে এসে দাঁড়াল মেয়েটা। ভেতরে ঢোকার গেট খোলাই ছিল। চার্চ লাগোয়া বড় কবরখানা। মেয়েটা নির্ভীকভাবে তার ভেতরে ঢুকে গেল। চারদিকে কবরগুলোর উপর লাগানো কিছু ক্রস। কিছু চৌকো শেপের। কিছু কিছু খুব পুরোনো। কিছু নতুন গ্রানাইট পাথরের। অস্পষ্ট আলোতে দূর থেকে নাম পড়া যাচ্ছে না। একটা পাথরের ফলকের সামনে এগিয়ে গেল অভ্র। পাথরের উপর মৃতের নাম। সঙ্গে আছে জন্ম-মৃত্যুর তারিখ। কবরখানার মধ্যে দিয়ে সরু পা হাঁটা পথ চলে গেছে। মেয়েটা সে পথ ধরে হাঁটছে। মাঝে মধ্যে ছোট ছোট গাছ। তার মধ্যে ছড়ানোছেটানো নানান সাইজের পাথরের ফলক।

    সেইরকমই একটা ফলকের সামনে গিয়ে দাঁড়াল মেয়েটা। চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। তাতে লেখা ‘ইন দ্য মেমারি অব শেলী ভার্গিস। জন্ম ২ অক্টোবর, ১৮৭০, মৃত্যু ১৯ মার্চ, ১৮৭৭। এবার ঘুরে তাকাল অভ্রর দিকে। তারপর একগাল হেসে প্রথমবার কথা বলে উঠল, ‘আই অ্যাম শেলী। শেলী ভার্গিস। এখানেই এখন আমি থাকি। আগে থাকতাম ৩৮ বিচউড স্ট্রিটে। তোমার বাড়িতে।’ মেয়েটা হাসিতে শৈশবের উচ্ছ্বাস!

    একটু থেমে দূরের আরেকটা নতুন পাথরের ফলকের দিকে নির্দেশ করে বলে উঠল, ‘ওটা পিটারের, তার পাশেরটা রবার্টের। আর ওই, ওই যে বড় ফলকটা দেখছ না, ওটা সাইমনের। সাইমন বলে ও নাকি খুব বিখ্যাত লোক ছিল।’

    অভ্র পাথরের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। মেয়েটার দেখানো দিকে তাকাতেই শুধু পাথর নয়, তাদের পাশে দাঁড়ানো লোকগুলোকেও দেখতে পেল। এদের তিনজনের সঙ্গেই ওর খানিক আগেই আলাপ হয়েছে। পিটার, রবার্ট আর সাইমন। সাইমনের মুখটা গম্ভীর। লম্বা সাদা দাড়ি আর গোঁফ। দূর থেকেই স্পষ্ট চেনা যাচ্ছে। কিন্তু বেশিক্ষণ না, আবার সব অস্পষ্ট হয়ে গেল অভ্রর চোখের সামনে।

    পুলিশের কাছে খবরটা পেয়ে বাড়িওয়ালা ডেভ-এর খুব অবাকই লেগেছিল। এত রাতে ভাড়াটে ছেলেটা বাড়ির থেকে একমাইল দূরে কবরখানায় কী করছিল? আর তাও আবার ঠিক সেই জায়গাতে যেখানে ওই চারজনকে নতুন করে কবর দেওয়া হয়েছে! দশ বছর আগে বাড়িটা তৈরির সময় এই কবরগুলো সরানো হয়েছিল শহরের কেন্দ্রের মূল কবরখানায়, অবশ্যই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে। ঠিক ওইখানে! ছেলেটা ওদের সন্ধান পেল কী করে? কার্লিয়নে যারা থাকে তাদের হৃদয় এত দুর্বল হলে চলে না। কবরখানার মাঝখানে যেতেও হবে, আবার তারপরে ভয়ে হার্ট অ্যাটাকও হবে—এটা কি মেনে নেওয়া যায়? কোনওভাবেই না। সবাই জানে কার্লিয়ন ছেড়ে কেউই যেতে চায় না। কিন্তু তা বলে নতুন কেউ কি আর আসবে না এ শহরে? নতুন কোনও ভাড়াটে কি আর রাখা যাবে না?

    জীবনে অনেক রহস্য থাকে, অনেক প্রশ্ন থাকে। সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাওয়াটা কি এতই জরুরি? ডেভ যে বাড়িতে থাকে তা ৩৮ বিচউড স্ট্রিট থেকে দু-ব্লক দূরে। কিন্তু রাত সওয়া ন’টা বাজলেই রোজ ওর পোষা মোটা কালো বেড়ালটা বাড়ি থেকে বেরিয়ে অন্য কোথাও চলে যায়। ডেভ যদ্দূর জানে বেড়ালটা ওই সময়ে ৩৮ বিচউডেই যায়। আবার খানিক বাদে ফিরেও আসে। ডেভ কি কখনও জানতে গেছে কেন বেড়ালটা রোজ ওই সময়ে ওখানেই যায়?

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহাউ টু টক টু এ্যানিওয়ান – লেইল লোনডেস
    Next Article বিদ্বান বনাম বিদুষী – প্রীতম বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }