Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    May 14, 2026

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    May 14, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এক পাতা গল্প286 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ক্ষুব্ধ শহীদ ক্লান্ত শহীদ

    ‘ষাট দশকের লেখা গল্পগুলো’।

    জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র বই বিড়াল-এর সূচিপত্রের আগেই শহীদুর রহমান তাঁর লেখার রচনাকাল জানিয়ে দেন। শিরোনামহীন ভূমিকা পড়তে পড়তে শুনতে পাই, বত্তিচেল্লি ধরনের লম্বাটে মুখে শহীদ বিড়বিড় করে যেন কৈফিয়ত দিচ্ছেন, ঘরের কোনে পড়েই ছিল, উই, ইঁদুর তেলাপোকার খোরাক হচ্ছিল, তা আমার বৌ আবার এসব নিয়ে আস্ত একটা বই করে ফেলল।

    নিজেই বই বার করতে লেখকের এত দ্বিধা। ষাট দশকের লেখকদের প্রথম সংগঠন স্বাক্ষর কবিতাপত্রে শহীদুর রহমান নামে একজন লেখকের বিড়াল নামে একটি বই প্রকাশের ঘোষণা বেরয় ১৯৬৩ সালে, সেই বই প্রকাশিত হল ১৯৮৮-তে। মাঝখানে কেটে গেছে একটি শতাব্দীর সিকিভাগ কাল। শহীদুর রহমানের সঙ্গে যারা ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত নয়, সাল দুটো জানলে তারাও বুঝতে পারে নিজেকে গুটিয়ে রাখার জন্য রীতিমতো সক্রিয় না-হলে সময়ের ব্যবধানটা এত দীর্ঘ হতে পারে না। নিজেকে আড়ালে রাখার প্রবণতা তাঁর এতটাই প্রবল যে মাঝে মাঝে মনে হয়, তা হলে লেখার দরকারটা ছিল কেন? বইটি তিনি উৎসর্গ করে গেছেন ‘যন্ত্রণাকাতরদের উদ্দেশে’। যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়লে নিজের কষ্ট জানাবার দম পাওয়াই কঠিন, কিন্তু শহীদুর রহমানের প্রকাশের ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত ক্ষয় হয়নি; লেখার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শহীদ নিজের অনেক ভেতরে কুরে কুরে দেখতে দেখতে এক-একটি প্রতিবেদন পেশ করে গেছেন। এইসব প্রতিবেদনে অনুকূল কথা নেই, সব ব্যাপারেই তিনি অসন্তুষ্ট, মানুষের ভেতরটা যতই হাতড়ে দেখেন, তিনি ততই ক্ষুব্ধ হন। ক্ষোভ তাঁর কমে না, বরং দিনদিন আরও তীব্র হয়েছে। কিন্তু প্রকাশের স্বর উচ্চকণ্ঠ নয়, শেষ পর্যন্ত তা চড়া হয়নি। তাঁর ক্ষোভ ক্রোধের চেহারা পায় না।

    শহীদ যখন লিখতে শুরু করেন সময়টা তাঁর যৌবনের প্রথম ও প্রবল কাল। যৌবনের তীব্ৰ ধাক্কায় মানুষ যখন নিজেকে ডিঙোতে চায়, শরীর ও মনে উপচে ওঠে যৌবনের বেগ, সেটা হল তাঁর ঐ সময়।

    আমরা একসঙ্গে কলেজে ভরতি হই, আর আমাদের মধ্যে তখন তৈরি হয়েছে চারিদিকের যাবতীয় বস্তুকে বাঁকা চোখে দেখার প্রবণতা। একটি প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে এগিয়ে এই প্রবণতা থেকেই মানুষ সবকিছুকে খতিয়ে দেখতে চায়, এর পরিণতি ঘটে যৌবনের বিস্ফোরণে। কিন্তু শুরু করতে-না-করতেই আমাদের ওপর চেপে বসল আইয়ুব খান। মিলিটারি এসে গোটা দেশের মুখে লাগাম পরিয়ে অ্যায়সা টাইট করে টেনে ধরল যে, দেশবাসী দেখল কী সামাজিক, কী রাষ্ট্রীয় কোনো ব্যাপারে তাদের কিছু করার নেই। মিলিটারির কাছে রাজনীতি নিছক উপদ্রব। রাজনীতিবিদদের ‘ডিসগ্রান্টলড পলিটিশিয়ানস’ বলে খিস্তি করে শুধু রাজনীতিবিদদের নয়, বরং রাজনীতিকে, প্রতিবাদকে ও সামাজিক গতিশীলতাকে নিরর্থক উত্তেজনা বলে প্রমাণ করার জন্য আইয়ুব খানের ঘেউঘেউ মানুষকে কিছুদিনের জন্য হলেও ভোঁতা করে রেখেছিল। রাজনীতিবিদদের কামড়াকামড়ির দায় যে রাজনীতির নয়, বরং বুর্জোয়া কাঠামোর নড়বড়ে গড়নই রাষ্ট্রের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছিল এবং রাজনীতি ও আন্দোলন দিয়েই এর প্রতিকার সম্ভব—এটা ব্যাপকভাবে অনুভূত হতে কয়েকটা দিন সময় নেয়। সাম্রাজ্যবাদের ফিট করা -মাইক্রোফোনটা অফ করে দিলেই মিলিটারির ঘেউঘেউকে নেড়িকুত্তার কুঁইকুঁই বলে শনাক্ত করা যায়-এটা বুঝতে যে-সময়টা কাটে তা ছিল সদ্য কৈশোর পেরনো ও নতুন যৌবনে জ্বলে ওঠা ছেলেমেয়েদের জন্য চরম দুঃসময়। প্রতিরোধের স্পৃহাকে প্রকাশ করা নিষেধ, ঘেউঘেউয়ের হর্ষধ্বনির ভেতরকার কুঁইকুঁই শুনতে পেলেও তা জানাবার উপায় নেই। মানুষের সঙ্গে কথা বলো, আপত্তি নেই। কিন্তু যোগাযোগ করতে পারবে না। নবাবপুরের রেস্টুরেন্টগুলোতে লেখা ‘রাজনৈতিক আলাপ নিষিদ্ধ’। তার মানে অন্য আলাপও করতে হবে ওদের মর্জিমাফিক। তখন নতুন তরুণদের অবস্থা কী? আগুন ভেতরে থাকায় নিজে নিজেই পোড়ে, ছাইয়ের তলায় তা চাপা পড়ে, না-পারে দাউদাউ করে জ্বলে উঠতে, না পারে তা আলো হয়ে চারপাশকে ফুটিয়ে তুলতে। তখন ঐ তরুণদের নিজেদের গ্লানি ও অপমানকে, ছাইচাপা আগুনকে ছুঁয়ে দেখার মাধ্যম হিসাবে প্রকাশিত হয় স্বাক্ষর। এসব তরুণ নিজেদের নাড়ির স্পন্দন গুণে দেখার উদ্যোগ নিয়েছিল কবিতার গ্রাফে। উদ্যোগটি যতটা না ছন্দ মেলাবার তাগাদায় তার চেয়ে অনেক বেশি রাষ্ট্রব্যবস্থার লোমশ হাত জোর করে পেছনে টানার, মানুষের পায়ের পাতা পেছনদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার কসরতের শিকার তরুণদের অস্বস্তি জানাবার এবং নিজে জানবার তাগিদে। তাদের প্রধান লক্ষ্য তখনও পাঠক নয়, বরং নিজেরা নিজেদের ভালো করে বোঝাই তখন তাদের বড় প্রয়োজন। স্বাক্ষর-এর প্রথম সংখ্যায় অশোক সৈয়দ, রফিক আজাদ, আসাদুল ইসলাম চৌধুরী, প্রশান্ত ঘোষাল এবং শহীদুর রহমানের প্রায় স্বগতোক্তিতে নিজেদের অন্তর্লোকের পানে দৃষ্টিনিক্ষেপ ছিল সৎ ও তীক্ষ্ণ তাই তা প্রলাপ না-হয়ে ফুটে উঠেছিল কবিতা হয়ে। অশোক সৈয়দ কিছুদিনের মধ্যে নামের বৈচিত্র্য মোহ ত্যাগ করে আবদুল মান্নান সৈয়দ হয়ে ওঠেন, সাহিত্যের সবগুলো মাধ্যমে আঙ্গিকের নানারকম পরীক্ষা করতে করতে ভাষার পরতে পরতে তাঁর অনুসন্ধান ব্যাপক হতে থাকে। আসাদুল ইসলাম চৌধুরী নাম থেকে মেদ ঝেড়ে স্রেফ আসাদ চৌধুরী হয়ে রাজ্যের যাবতীয় জিনিসকে কবিতার বিষয় করে দুই চোখ ভরে দুনিয়া দেখার কর্মে নিয়োজিত হন। রফিক আজাদের নাম রফিক আজাদই রয়ে যায়, কিন্তু তাঁর কবিতায় নতুন নতুন মাত্রা যুক্ত হতে থাকে; ব্যক্তি ও সমাজের মানুষের ও রাষ্ট্রের, ধর্মের ও বিশ্বাসের, ভাষার ও ভাবনার ভেতরকার অসঙ্গতি চোখে হাত দিয়ে দেখবার জন্য তিনি হন্যে হয়ে ওঠেন। আর শহীদুর রহমান কিন্তু ষাট দশকের প্রথম দিকের ক্ষোভটিকেই ঘুরেফিরে দেখতে থাকেন। তাঁর শিল্পকর্ম নতুন আবিষ্কারের, নতুন সমবেত উল্লাসের কিংবা সমবেত বেদনার কিংবা স্রেফ শব্দের অন্তর্গত বিস্ফোরণ-সম্ভাবনার খোঁজ করে না, নিজের ভেতরটাকেই আরও তন্নতন্ন করে দেখার কাজে একনিষ্ঠ হয়। দিনবদলের সঙ্গে লক্ষ্যবস্তু আরও ভেতরে লুকোয়, তাঁর নাছোরবান্দা চোখও আরও ভেতরে ঢোকে।

    ষাটের দশকে গুণে গুণে বছর ঐ দশটিই, কিন্তু বছরগুলো চলেছে লাফিয়ে লাফিয়ে, এক এক বছরে এগিয়ে গেছে কয়েক দশক করে। ১৯৬২ সালেই পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররা মিলিটারির গতর থেকে অ্যালসেশিয়ানের চামড়াটা ফেলে দেয়। ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েদের নসিহত খয়রাত করতে এলে আক্ষরিক অর্থে থুতু দেওয়া হয় আইয়ুব খানের এক মন্ত্রী মনজুর কাদেরের মুখে। এবং এয়ারপোর্টে গিয়ে গালে থাপ্পড় খায় আইয়ুব খানের উঠতি চাকর মোনেম খান। কিন্তু এগুলো সবই অসন্তোষের প্রকাশ, প্রতিবাদ খুব স্পষ্ট, কিন্তু প্রতিশোধ নেওয়ার স্পৃহা তখনও রয়ে গেছে ভেতরে, সমস্ত দেশবাসীর সংকল্পে পরিণত হয়ে জ্বলে উঠতে আরও কয়েকটা দিন প্রতীক্ষা করতে হয়েছে। তবে ভেতরের তাপ বেশ বোঝা যাচ্ছিল। শহীদুর রহমানের কবিতায় তার ক্ষুব্ধ চেহারার ভেতরের আঁচটাও গায়ে লাগে।

    স্বাক্ষর কবিতাপত্রের প্রথম সংখ্যায় শহীদুর রহমানে ‘একটি শিয়ালের দুটি অধ্যায়’ কবিতা পড়তে শুরু করলে এটির কবিতা হওয়া নিয়ে সন্দেহ জাগে, কিন্তু পড়তে পড়তে শিয়ালের লোভ, জিভ নেড়ে ঠোঁট দিয়ে দেখা, স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি করে জিভ বাড়িয়ে রক্তের স্বাদ চাখা— পড়তে পড়তে গা শিরশির করে ওঠে। শিরশির করে; আবার ঘিনঘিনও করে। এই অস্বস্তি তৈরি করতে পারে কবিতা ছাড়া আর কী? পরের সংখ্যা স্বাক্ষর-এ ‘ক্ষণ আত্মার ভাষণ’ কবিতার নাকরণের মধ্যেই রণতাকে কবির বিলাস নয়, উদ্বেগ বলে টের পাওয়া যায়। নিজের ভেতরে থেকেও তিনি এখানে আরও অনেককে দেখতে পান, এখানে ‘আমি’ হয়ে ওঠে ‘আমরা’। ১৯৬৫ সালে তৃতীয় সংখ্যা স্বাক্ষর-এ তাঁর একটি কবিতার নাম ‘নৈঃসঙ্গ’। শহীদ এখানে ব্যক্তির ভয়াবহ নিঃসঙ্গতাকে দেখতে চাইছেন ‘খানিক আলো জ্বেলে’। এখানে ‘ধু-ধূ-ধূ মাঠ দিগন্তের এ ধারে তপ্ত মাটি মরীচিকাও যে নেই’। এই দেখায় নিরঙ্কুশ সততা নিঃসঙ্গতা তাঁর পুঁজি নয় এবং এখান থেকে মুক্তিলাভের স্বপ্ন অস্পষ্টভাবে ছায়া ফেলে।

    স্বাক্ষর-এর সংখ্যা মাত্র কয়েকটি, এর প্রতিটিতে কেউ-কেউ ঝরে যান, নতুন আসেন কয়েকজন। শেষ সংখ্যা স্বাক্ষরে শহীদুর রহমান অনুপস্থিত। মৃত্যুর পর প্রকাশিত একমাত্র কাব্যগ্রন্থ শিল্পের ফলকে যন্ত্রণায় বেশির ভাগ কবিতাই আমাদের কাছে নতুন। ষাটের দশকে লেখা কবিতা প্রায় সবকটাতেই স্বাক্ষর-এর চরিত্র স্পষ্ট। এর পরের দিকে লেখা কবিতার শহীদ বাইরে তাকাবার উদ্যোগ নিয়েছেন, এতে তাঁর সততা ও নিষ্ঠার তিলমাত্র অভাব নেই; আবেগের নানা স্তরের কম্পন শোনা যায়, বিষয়ের বৈচিত্র্যও তাঁকে আকৃষ্ট করছিল। কিন্তু তাঁর প্রথম পর্বের কবিতায় যে অস্থিরতা ও উদ্বেগ, ক্ষোভ ও বিরক্তি এবং গ্লানিবোধ পরিণত একটি রূপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যাতে ক্রোধ ও সংকল্পের ভ্রূণ লুকিয়ে ছিল, পরের লেখাগুলোতে তা হারিয়ে গেল। সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামে কোটি কোটি মানুষের মতো শহীদুর রহমানও বিক্ষুব্ধ; শুধু ক্ষুব্ধ নয়, বিক্ষুব্ধও। কবিতায় তার চেহারাটি দেখার জন্য তিনি ব্যাকুল হবেন, এ তো খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু শহীদুর রহমান এই সময় বড় বেশি অস্থির, বড় উত্তেজিত। এখানে তিনি যতটা উদ্বুদ্ধ তার চেয়ে বেশি উত্তেজিত; কাম, প্রেম, জাতীয়তাবোধ, রাজনীতি—সব জায়গায় পদচারণ কোনো কবির জন্য অনধিকারচর্চা নিশ্চয়ই নয়। প্রথম দিকের শিল্পীস্বভাবের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে যে স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে নতুন ভাবনা কবিতার উপলব্ধি হয়ে উঠত তার অভাব কাঁটার মতো বেঁধে। কবিতায় যে বিপুল সম্ভাবনা শহীদ দেখিয়েছিলেন, পরে তার সফল পরিণতি আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই প্রেম বা কাম বা দেশবোধ বা রাজনীতি এই পর্বের কবিতায় তাঁর ধাপগুলো টলোমলো। তিনি বেশিরকম উত্তেজিত, এই উত্তেজনা প্রেরণায় রূপান্তরিত হওয়ার জন্য যে-মনোযোগ ও সময় দরকার তা দেওয়ার মতো অবস্থা তাঁর ছিল না।

    শহীদুর রহমানের গল্পে এবং একজন সফল শিল্পীর ক্রমপরিণতিকে স্পষ্টভাবে অনুভব করতে পারি। তাঁর প্রথম দিককার কবিতা ও সবগুলো গল্পের মধ্যে শিল্পীর স্বভাব অভিন্ন। কবিতায় নতুন অনুভূতিকে স্পর্শ করার চেষ্টাটি মনে হয় আকস্মিক, কোথাও কোথাও এমনকী উটকো। গল্পের প্রকাশ তাঁর খুবই ধারাবাহিক। কবিতায় যা ছিল কেবল সম্ভাবনা, গল্পে তা-ই পেয়েছে পরিণতি। প্রধান গল্পগুলোতে তিনি মানুষের সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরার ব্যাপারটিকে তুলে ধরেন, এই চিড় কোথাও কোথাও ফাটলে পরিণত হয়েছে। তাঁর কবিতার শেয়াল গল্পে ঢোকে বিড়াল হয়ে, ঢুকে পড়ে মানুষের সংসারে এবং একটি পরিবার ভাঙার উপসংহার তৈরি করে ক্ষান্ত হয়। কবিতার নিঃসঙ্গ ব্যক্তির অসহায় দীর্ঘশ্বাস গল্পে এসে আর্তনাদের আওয়াজ পায়। গল্পের ব্যক্তি সাংসারিক ও সামাজিক গ্রন্থিতে বাঁধা পড়ে কিংবা বন্ধনের অভাবে তার মাথার রগ দপদপ করে জ্বলে ওঠে। শহীদুর রহমানের গল্পে আর্তনাদ হল এই রোগ থেকে রেহাই পাওয়ার পথ, এর থেকে আরোগ্যের কোনো লক্ষণ নয়।

    তাঁর সবগুলো গল্পের চরিত্র বলতে গেলে একটিই, এই লোকটি প্রায় সবসময় অসন্তুষ্ট, অস্বস্তির মধ্যে তার দিন কাটে, কিংবা দিন তার কাটেই না। তার সময় স্থির হয়ে থাকে একটি মুহূর্তে, সেটি ঘোরতর অন্ধকার; এই মুহূর্তটিকেই নানারকম আলো দিয়ে দেখার চেষ্টা করে গেছেন শহীদ। যন্ত্রণার প্রত্যেকটি ধরনকে তিনি আলাদা করে দেখতে চান। একটি গল্পে আবার কেরল একটিমাত্র ধরনকে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। এইভাবে দেখাটি কবিতার প্রকৃতিতে যতটা স্বচ্ছন্দ, গল্পের কাঠামোতে কিন্তু ততটা নয়। গত শতাব্দীতে ছোটগল্পের সূচনাপর্বে কিন্তু গল্পের জন্য এরকম শর্তই বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তখন এরকম কথা বলা হত যে ঘটনার মধ্যে দিয়ে টার্গেট করতে হবে একটিমাত্র ভাবনাকে। কিন্তু মনে রাখা চাই, ছোটগল্পের ঐ পর্বে ঘটনা ছিল একটি জরুরি ব্যাপার, সেটাও ঘুরেফিরে কিন্তু একটিই ঘটনা এবং তার রোগা ও ধারালো তনুর ভেতর দিয়ে লেখকের ভাবনা পৌঁছে যাবে গল্পের শেষ বাক্যে। বড়জোর একটি ছোট অনুচ্ছেদ তার জন্য বরাদ্দ করা যায়, সেখানে পা দিয়েই তা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেটে পড়বে পাঠকের মাথায়। কিন্তু শহীদের গল্পে ঘটনা কোনো জরুরি মনোযোগ পায় না, যে-স্পষ্ট বা আবছা ঘটনা তাঁর বাহন তাকে তিনি প্রথমেই খুলে ধরেন পাঠকের সামনে, চরিত্রটির অবসেশন বরং সমস্ত ঘটনাকে নিজের ঘোরের মধ্যে দেখে। তো একদিকে ছোটগল্পের সনাতন আইন অনুসারে একমাত্র অনুভূতির তীরটিকে গল্পে বিধে ফেলার কর্তা এবং অন্যদিকে চরিত্রের অনেক ভেতরকার অস্বস্তি ও নিঃসঙ্গতাকে বোঝার জন্য নানা মাত্রার অনুসন্ধান ও অনুসন্ধানের ফলাফল প্রকাশের জন্য বিস্তারিত প্রেক্ষাপট; প্রথমটিতে লেখকের নিয়মপালনের আনুগত্য এবং দ্বিতীয়টিতে শিল্পীর দায়িত্ববোধ, এই দুটিকে সামাল দিতে চেষ্টা করে শহীদ বারবার ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন, গল্পের লাইনে লাইনে সেই রক্তক্ষরণের ছাপ।

    ‘দূরে কাছে অনেকগুলো গল্প ঘুরছিল। কথা ঘুরছিল। এবং কথা উড়ছিল। তাদের পাখার ঝাপটানি আমি শুনতে পাচ্ছিলাম। পাহাড়ী শুনতে পাচ্ছিলো’। (মেহড়ার উত্তর)। ঐ কথাগুলোকে উড়ন্ত অবস্থাতেই দেখার জন্য তিনি ‘করুণতম’ শব্দের ‘অর্থের কুঁড়ি’ ফুটিয়ে তুলতে চান পাহাড়ীর অনুভবের ভেতর দিয়ে। এই পর্যন্ত কেবল কবিতাই থেকে যায়, মিলি হাজির হলে দুজনের একরোখা সিনিসিজমে চিড় ধরে, গল্পে বহুবচনের আমদানি ঘটে। ফলে পাহাড়ী এবং ওর বন্ধুর ঐ একমাত্রিক সিনিক উড়াল ডানা গোটায়, গল্পটি ডাঙায় নামে এবং পা রাখার জন্য একটি সামাজিক ভিত্তি পায়। প্রথম থেকে এটি ডাঙার গল্প হলে ঝামেলা হত না, সনাতন রীতিকে একটি আধুনিক গল্পে রূপ পেতে এর বেগ পেতে হত না। কিন্তু ভেতরের রহস্যকে হাওয়ায় নিয়ে তাকে নানা রঙে দেখা এবং তারপর তাকে ডাঙায় নামানোর দুরূহ কাজটি তিনি করেন বড় শিল্পীর সাহস নিয়ে।

    ‘আমার মৃত্যুর জন্যে কেউ দায়ী নয়’ গল্পটিকে তিনটি উপশিরোনামে ভাগ করা হয়েছে। এতে হয়েছে কী ধাপে ধাপে গল্পটি বেগ লাভ করেছে এবং এই বেগ প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে দারুণরকম চাপ তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত ছেলেটি আত্মহত্যা করে রেহাই পায়, কিন্তু পাঠককে রেহাই দেয় না। মনে হয়, মনোবিকারের একটি রোগী যেন হঠাৎই থেমে গেল। এই পর্যন্ত আসতে শহীদকে যে-অজস্র গলিঘুপচির ভেতর উকি দিতে হয়েছে সনাতন গল্পের আয়ত্তের তা বাইরে। ষাটের দশকের অনেক লেখকই নতুন রীতির খোঁজে বেরিয়ে, ঐসব কানাগলির এক-একটিতে হারিয়ে গেছেন, তাঁদের অনেক গল্পই পর্যবসিত হয়েছে বিলাপে। শহীদের এই গল্পটিরও ঐ পরিণতি হওয়ার ভয় তো ছিলই। কিন্তু ছেলেটির আত্মহত্যার পর কবরগাহে গর্ভবতী নারীর পায়ের ছাপ এবং তাদের চোখ থেকে ঝরে-পড়া-অশ্রুবিন্দুগুলোর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে শহীদ এমনকী স্বেচ্ছামৃত্যুর ভেতরেও মানুষের অন্তহীন সম্ভাবনার ইশারা দেন।

    তাঁর লেখায় মানুষের এই সম্ভাবনা এসেছে এতটাই ভেতর থেকে, এতটাই স্বাভাবিকভাবে যে তিনি এ নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছু ভেবেছিলেন কি না সন্দেহ। এই সম্ভাবনার প্রতি আস্থা তাঁর ইচ্ছানিরপেক্ষ। মানুষের ভেতরের গলিঘুপচিতে ঘুরে তার শব্দ ধ্বনি গন্ধকে গল্পের সনাতন নিয়মের রাজপথে টেনে আনাটা কম শক্তির, কম শ্রমের কিংবা কম রক্তক্ষরণের কাজ নয়।

    তাই গল্পের নিয়মকে নেমে চলার শর্তে অনুগত থাকলে চাইলেও তাঁকে নতুন প্রকরণের খোঁজ করতে হয়। এটা ভঙ্গি জগৎজয়ের অভিযান নয়, নিজের অনুসন্ধান ও তদন্তকে নিয়মমাফিক তুলে ধরার স্বার্থেই তাঁকে নতুন প্রকরণের খোঁজ করতে হয়। এই সম্বন্ধে শহীদ সচেতন একেবারে শুরু থেকে। তাঁর লেখাতেই এটা স্পষ্ট। তবে এই ব্যাপারে তাঁর উদ্যোগগ্রহণের খবর আমি কিছু-কিছু জানি ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের সূত্রে।

    সেই ১৬ বছর বয়সেই শহীদ চিঠি লিখেছে দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দীপেন্দ্রনাথ তখন আমাদের প্রিয় লেখক। নতুন সাহিত্য পত্রিকায় তাঁর তৃতীয় ভূবন পড়ে আমরা দুজনেই মুগ্ধ। তা শহীদের ঐ চিঠিতে তৃতীয় ভুবন নিয়ে উচ্ছ্বাসের চেয়ে অনেক জরুরি ছিল শহীদের কয়েকটি প্রশ্ন। একটি প্রশ্নের কথা বলি। শহীদ জানতে চেয়েছিল যে, গল্পে উপমা ব্যবহার করতে হলে চরিত্রের অপরিচিত কোনো প্রসঙ্গ নিয়ে আসা ঠিক কি না। এই প্রশ্ন আমারও নিশ্চয়ই ছিল। কিন্তু শহীদের ছিল সচেতন ও পরিশ্রমী প্রস্তুতি। বলতে কী এখন মনে হয় যে তখন ওর জীবনযাপনই লেখক হিসাবে তৈরি হওয়ার আয়োজন, শিল্পী হিসাবে নিজেকে গড়ে তোলার অনুশীলন। কলেজে তিনটে ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সমাজতন্ত্রের পক্ষের দলটির প্রতি ওর সমর্থন ছিল সক্রিয়। যদ্দূর মনে পড়ে, কলেজ সংসদের নির্বাচনে ঐ দলের মনোনয়ন পেয়েছিল। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে চেপে বসল আইয়ুব খান। নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হল; কলেজের দলগুলো ভেঙে গেল। রাজনীতি বন্ধ হল, মানুষের সাংস্কৃতিক বিকাশ, বিদ্যাচর্চা, মননশীলতা — এসবকে ঠেকিয়ে রাখার জন্য মিলিটারির ডাঙা ঘুরতে শুরু করল বোবোঁ করে। এই অবস্থাকে মেনে নেওয়া শিল্পীর পক্ষে সম্ভব নয়। অবরুদ্ধ ঘরে বসে ভেতরের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে তখন কারও আর উপায় থাকে না। ভেতরের রহস্যময় অন্ধকার বাইরের প্রেক্ষাপটে না দেখলে সেখানকার আগুন জ্বলে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে, অবধারিত বিস্ফোরণটি ঘটে না। স্ফুলিঙ্গটি প্রতিভাবান শিল্পীর ভেতর নানা রঙে ঝিকমিক করে, কিন্তু দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে না। শহীদের ক্ষোভ তাই শেষ পর্যন্ত ক্রোধের মহিমা পায় না। অথচ, সেই সম্ভাবনা তো শহীদ প্রথম থেকেই দেখিয়েছে। গল্পের খুঁটিনাটি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা, তা-ই নিয়ে প্রশ্ন তোলা, সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে নিজেকে জড়ানো, এসবই তো শিল্পী হিসাবে নিজেকে গড়ে তোলার উদ্যোগ। পরিবর্তিত, আরও ঠিক করে বললে, রুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই উদ্যোগ চাপা পড়ল। কোনো কোনো শিল্পীর জন্য এই রুদ্ধতাই বিস্ফোরণের আয়োজন তৈরি করে। শহীদের বেলায় তা হয়নি। তার জন্য দায়ী কবর কাকে? নিজেকে প্রস্তুত করার পাশাপাশি সক্রিয় ছিল এর অন্তর্গত অগোছালো স্বভাব।

    ম্যাট্রিকে খুব ভাল ফল করে ভরতি হয়েছিল আই.এস-সি. ক্লাসে। বিজ্ঞানের বিষয়গুলো ও বাংলায় অসাধারণ দখল ও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা দিতে দিতে ড্রপ করল। এরকম পরীক্ষায় ড্রপ-করা কয়েকজন মেধাবী ছেলের সঙ্গে কলেজের হোস্টেল ছেড়ে গিয়ে উঠল ঢাকা কলেজের উলটোদিকে, বাঁশের বেড়ার একটি ঘরে, নিজেই ঐ ঘরের নাম দিল ‘নষ্টনীড়’। ঐ বয়সের ছেলেরা নীড় পছন্দ করে না, কিন্তু শহীদ শুধু ঐটুকুতেই ক্ষান্ত নয়, তার মেজাজ নীড় নষ্ট করার দিকে। বিজ্ঞান নিয়ে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ইউনির্ভাসিটিতে ভরতি হল বাংলা নিয়ে; পড়তে-পড়তেই চাকরি করতে হয়েছে ওকে। ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে পেশা হিসাবে বেছে নিতে হয় সাংবাদিকতাকে, কিন্তু সদাক যুবকের পক্ষে ঐ পেশায় খাপ খাওয়ানো কঠিন, তাও আবার সংবাদপত্রটি সরকারের। ওখান থেকে বেরিয়ে শিক্ষকতার পেশায় এসে মর্যাদা ও স্বস্তি দুটোই পেয়েছিল। গবেষণার দিকে ঝুঁকল, পি.এইচ-ডি করতে গেল কলকাতায়। অ্যাকাডেমিক গবেষণার শৃঙ্খলায় বিরক্ত হয়ে অসমাপ্ত থিসিস ফেলে রেখে চলে এল ঢাকায়। কী শিল্পচর্চা, কী পেশা, সবক্ষেত্রেই একটি জায়গায় পৌঁছে অবধারিত সাফল্যের কাছাকাছি এসে ছেড়ে দেওয়া, একদিকে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া, অন্যদিকে প্রত্যাহার করা—শহীদের স্বভাব ও কর্ম বুঝতে হলে ওর এই প্রকৃতিটা মনে রাখা দরকার।

    কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরে বদলি হতে হল ঝিনেদায়। স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, বন্ধুবান্ধব ও নিজের তৈরি পরিবেশ ছেড়ে ঝিনেদা যাওয়া। ঝিনেদা ওর জন্মের শহর, শৈশব বাল্য কৈশোর কেটেছে ঝিনেদায়। ও কবি হয়ে উঠেছে এই শহরেই, ওর সাধ ও স্বপ্ন গড়ে ওঠে এই শহরে। কলেজে এসে আমাদের সঙ্গে ঝিনেদার কথা যে খুব বলত তা নয়। আমাদের কলেজে ওর ঝিনেদার বন্ধু আরও কেউ-কেউ ছিল। এদের একজনকে তো ওর গল্পেই পেয়েছি। আর একজন লতাফত হোসেন জোয়ারদার হাসিতে, উচ্ছ্বাসে, দুষ্টুমিতে চঞ্চল লতাফত পরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়। শহীদের ভাবনায় নিশ্চয়ই ওর সার্বক্ষণিক উপস্থিতি ছিল, ওর অলিখিত উপন্যাসে নিশ্চয়ই সে বেড়ে উঠেছিল নানাভাবে, উপন্যাসটি লেখা হলে লতাফত হয়তো ফের প্রাণ পেত।

    তো একদিকে ঝিনেদা, ঝিনেদায় শহীদ তৈরি হয়েছে, শহরটি তাকে তৈরি করে তুলেছে। আর ঢাকায় এসে সে তৈরি করে নিয়েছে নিজেকে। তার শিল্পভাবনা পরিণত হয়েছে ঢাকায়, শিল্পস্বভাব বিকশিত হয়েছে নতুন মাত্রায়। ঢাকায় এসে শহীদ অর্জন করেছে শিল্পী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। এই শহর তাকে দিয়েছে প্রেম, স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, নতুন বন্ধু, খ্যাতি, আরও খ্যাতির সম্ভাবনা, সামাজিক মর্যাদা। কিন্তু শৈশবের আদুরে হাতছানি আর স্বনির্মিত, স্বোপার্জিত জীবনকে ধরে রাখার দায়িত্ব এই দুটো তাকে ফেলে দেয় এক দোদুল্যমানতার ভেতর। পরিণত বয়সে ঝিনেদায় গিয়ে শহীদ নিশ্চয়ই ওর শৈবের কোলে মুখ লুকোবার একটি সাধ গোপনে পোষণ করত। কিন্তু কোথায় সেই ঝিনেদা? নবগঙ্গা নদীর ওপর কচুরিপানা জমে শুধু নদীর পানি নয়, ওর শৈশবকেও ঢেকে ফেলেছে। সেই শহর এখন অন্য শহর, শহীদও এখন অন্য শহীদ। মানুষের মনোজগতের অন্ধকার কোণগুলোকে তদন্ত করে পাঠকের সামনে তাই আলোকিত করে তুলতে গিয়ে আলোর আগুনে নিজেই দগ্ধ হয়েছে। পরিণত বয়সে ঝিনেদা সেই ক্ষতস্থানে প্রলেপ বুলিয়ে দিতে অক্ষম। মানুষ বড় হয়, প্রকৃতির সঙ্গে মায়ের সঙ্গে তার বিচ্ছিন্নতা বাড়ে। ঝিনেদা শহীদকে কোল দেবে কী করে? এদিকে স্ত্রীপুত্রকন্যার শীতল ছায়াটিও নেই। এই অবস্থায় শহীদের স্থিতি নেই, কোথাও মন বসাতে পারে না। কবিতায় নানারকম বিষয় আসতে থাকে, কিন্তু সবই বড় অস্থির। এদিকে কর্মস্থলে মেলা ঝামেলা, ছোটবড় ক্লিক, ছোট শহরের নোংরা ঘোঁট—এসবের ভেতরে যাওয়া তার স্বভাবের বাইরে, কিন্তু ঝিনেদার অধিবাসী বলে এবং শহরটিকে তার সমস্ত সমাজ নিয়ে অনুভব করতে চায় বলে এসবকে এড়িয়ে চলাও তার পক্ষে অসম্ভব।

    তার শিশুচরিত্র আঁকার মধ্যেও নিজের শৈশবকে উলটেপালটে দেখার ইচ্ছাটি স্পষ্ট। আবার মানুষের ভেতরকার ক্ষতবিক্ষত চেহারার ছাপও শিশুচরিত্রেও ফেলে যার লেখকের নিজের অগোচরেই। একদিকে শিল্পচর্চার জন্য আশৈশব প্রস্তুতি নেওয়া, অন্যদিকে নিজের শিল্পকর্ম প্রকাশে শোচনীয় অনীহা, একদিকে জীবনে সুখ ও মহিমা অর্পণের তাগিদে প্রেম, স্ত্রীপুত্রকন্যার জন্য গভীর ও তীব্র ভালোবাসা, অন্যদিকে প্রথম যৌবনের নষ্টনীড়-প্রবণতার গোপন ও প্রবল টান : একদিকে মরীচিকাহীন মরুভূমিতে নিঃসঙ্গ মানুষের নিশ্বাসে ঝলসানো বুক, অন্যদিকে গোরযাত্রীদের কাঁধে পুত্রবন্ধুর লাশ দেখে ছেলেকে টেনে নেওয়া মানুষের অনুসন্ধান—এইসব টানাপোড়েনে ক্ষতবিক্ষত শহীদ, চারদিকের ক্ষয়ে ক্ষুব্ধ শহীদ। ওর সারাজীবনের জীবনযাপন ও শিল্পচর্চা নিজের সঙ্গে নিজের লড়াইয়ের দাগ। এই লড়াই শহীদকে ক্লান্ত করে তোলে। ক্ষোভকে ক্রোধে জ্বালিয়ে তুলতে পারলে এই শহীদই টাটকা প্রাণে নতুন সৃষ্টিতে মগ্ন হতে পরত। তা তো হয়নি। তাই ক্ষুব্ধ ছেলেটি শেষ পর্যন্ত ক্লান্তপ্রাণ যুবক হয়ে কবিতার মধ্যে এলোমেলোভাবে নানা পথ খুঁজে বেড়ায়।

    ক্লাস্তিতে ঢুলে পড়লেও তাই পেছন হটে যায় না শহীদুর রহমান। ক্লান্ত শিল্পী যন্ত্রণায় বিদ্ধ হয়ে জেগে ওঠেন নতুন শক্তিতে। তাঁর যন্ত্রণা কোনোদিন দুঃখবিলাস ছিল না, তাকে তিনি পরিণত করতে চান কষ্ট পাওয়া মানুষের ঐক্যের সূত্রে। তাঁর একমাত্র বই তিনি উৎসর্গ করেন ‘যন্ত্রণাকাতরদের উদ্দেশে’। এইভাবে তাঁর লেখায় তিনি অনেক মানুষের জন্য একটি ঠাঁই করে দেন।

    শহীদুর রহমানের এই যে একবার প্রকাশ, আরেকবার প্রত্যাহার –এর মধ্যেও বেজে ওঠে তার পরম সাধ। সেটা হল সবার সঙ্গে যোগযোগ স্থাপনের ইচ্ছা।

    এসো আমরা কথোপকথন করি
    এসো আমরা সোনার মতোন সন্ধ্যায় কথা বলি
    আদিগন্ত মাঠকে সাক্ষী রেখে কথা বলি
    খঞ্জনার প্রাস্তর উজাড় ফসলী ক্ষেতকে সাক্ষী রেখে
    কথা বলি—

    ‘কথা বলি’।

    .

    কথা বলার সময় শহীদ সাক্ষী রাখেন নদীকে, রাখাল বালককে, গর্ভবতী গাভীকে, পাখিকে, মাছকে, ফুলকে। প্রকৃতি, প্রাণী ও মানুষকে এক জায়গায় এনে, সবার সঙ্গে সবার যোগযোগ-সাধনের ইচ্ছা জানিয়ে শহীদ বিদায় নেন। ‘নক্ষত্রলোকে কথা বলি – এই বাক্যটি বলে শহীদ চুপ করল। এখন তাঁর সঙ্গে আমরা যোগযোগ করি কী করে? তাঁর ডাকে সাড়া পায়নি বলে কি সবাইকে কথা বলার সুযোগ করে দিয়ে শহীদ একবারে চুপ হয়ে গেল?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্বর্ণমুকুট – গোপেন্দ্র বসু
    Next Article বৃশ্চিক – পিয়া সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026
    Our Picks

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    May 14, 2026

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    May 14, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }