Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    May 14, 2026

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    May 14, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এক পাতা গল্প286 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অভিজিৎ সেনের হাড়তরঙ্গ

    কোরক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক আমাকে একজন অগ্রজ লেখক বিবেচনা করে অভিজিৎ সেনের সাহিত্যকীর্তির ওপর লিখতে বলায় আমি গর্ব বোধ করি, তার চেয়ে বিব্রত হ‍ই অনেক বেশি। অভিজিৎ সেনের প্রকাশিত সবগুলো বই পড়েছি, কিন্তু তাঁর সমসাময়িক পশ্চিম বাংলার অন্যান্য লেখকের, ঠিক করে বললে, ‘অন্য’ ধারার লেখকদের রচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ এখানে কম। ঢাকার বইয়ের দোকানগুলোর সারি সারি শেলফ যাঁদের বই দিয়ে ঝকমক করে তাঁরা পশ্চিম বাংলার সব জাঁদরেল লেখক। অভিজিৎ সেন কিংবা ঐ বিরল প্রজাতির লেখক পাঠকের মনোরঞ্জন করা যাঁদের কায়মনোবাক্যের সাধনা নয়-তাঁদের বই এখানে পাওয়া মুশকিল। আবার গত শতাব্দীর কোম্পানির কাগজের মতোই দামি কলকাতার সব বড় বড় ‘হৌস’-এর রংবেরঙের ঢাউস পত্রিকার তোড়ে এখানে শাহবাগ, মতিঝিল, স্টেডিয়ামের ফুটপাথে পা রাখা দায়, সেখানে কী পশ্চিম বাংলা কী বাংলাদেশের ঐসব লিটল ম্যাগাজিনের ঠাঁই কোথায়, যেখানে ব্যক্তিতে সমাজে ও ইতিহাসে ব্যাপক ও গভীর খোঁড়াখুঁড়ির কাজে নিয়োজিত লেখকদের রক্তাক্ত চেহারা দেখতে পাওয়া যায়? কলকাতার কথা জানি না, তবে ঢাকায় পশ্চিম বাংলার এসব লেখক ঘোরতরভাবে অনুপস্থিত। তো এঁদের অধিকাংশের লেখার সঙ্গে পরিচিত না হয়ে কেবল দুটো বছর আগে লিখতে শুরু করেছি বলে এঁদের বড়দার মেকআপ নেওয়ার মতো বুকের পাটা আমার নেই।

    না, অগ্রজ লেখক হিসাবে কিছুতেই নয়, অভিজিৎ সেনের লেখা নিয়ে কথা বলার ভরসা করি অন্য বিবেচনা থেকে। প্রিয় লেখকের বই পড়ে প্রতিক্রিয়া জানাবার এখতিয়ার নিশ্চয়ই যে-কোনো পাঠকের আছে।

    অভিজিৎ সেনের রহু চণ্ডালের হাড় অপ্রত্যাশিতভাবে পাই ১৯৮৭ সালে, কলকাতা থেকে আমার বন্ধু দিলীপ পাঠিয়ে দিয়েছিল। পড়তে শুরু করেই বইটি দারুণ মনোযোগ দাবি করল, পড়তে হয়েছিল আস্তে আস্তে। একটানা পড়বার মতো বই নয়, পাঠককে গ্রাহক ঠাউরে নিয়ে সেঁটে রাখার ফন্দি এখানে প্রয়োগ করা হয়নি। পড়তে পড়তে কাহিনীর সঙ্গে একাকার হয়ে যাওয়া এখানে অসম্ভব, বরং বইটিকে যত্নের সঙ্গে অনুসরণ করতে হয়। এদিকে প্রধান চরিত্রের নামও বারবার ভুলে যাচ্ছিলাম, তাকে খুঁজতে একটু কষ্টই হচ্ছিল। পরে বুঝতে পারি প্রধান চরিত্র বলতে যা বোঝায় সেরকম একজন পুরুষ বা একজন মহিলা এখানে খোজা নিরর্থক। না, নায়ক খুঁজিনি। উপন্যাস থেকে নায়ককে বহিষ্কার করা হয়েছে সে তো আজ অনেকদিন আগে। লেখকের লাই পেয়ে বাড়ি সাইজের ছিঁচকাদুনে একটি শিশু সারা বই জুড়ে প্যানপ্যান করলে তাকে জলজ্যান্ত নায়ক বলে শনাক্ত করা সাহিত্যের গোয়েন্দাবিভাগে কর্মরত সমালোচক ডেজিগনেশনধারী কর্মকর্তা ছাড়া আর কারও সাধ্যি নয়। কিন্তু এই রহু চণ্ডালের হাড় বইতে নায়ক পাওয়া গেল, চোখের জলে নাকের জলে গলে যাওয়া-মাংসপিণ্ডের প্রধান চরিত্র নয়, খটখটে হাড্ডির নায়ককে এখানে বেশ হাড়ে-হাড়ে ঠাহর করা যায়। কিন্তু এই নায়ক কোনো একজন ব্যক্তি নয, সে ব্যক্তি নয়, একবচন নয়। সে হল বহুবচন। তার নাম কী?

    — নাম বাজিকর। বাজিকর একটা গোষ্ঠী।

    –নিবাস?

    –তামাম দুনিয়া।

    ঘর নেই বলে দুনিয়া জুড়ে তার নিবাস। ঘর হারাবার পর থেকে তারা ঘর খুঁজে বেড়াচ্ছে দিনের পর দিন। কোনো এককালে তারা ছিল গোরখপুরে। ভূমিকম্পে সেখান থেকে উৎখাত হয়ে ঘুরে ঘুরে গিয়েছিল রাজমহল। সেখান থেকে মণিহারিহাট, হরিশ্চন্দ্রপুর, সামামি হয়ে মালদা। পূর্বের দিকে তাদের যাত্রা। পূর্বদিকে সূর্য ওঠে, তাদের পূর্বপুরুষ বলেছিল পূর্বেই যেন থিতু হয় তারা। তাই মালদা হয়ে রাজশাহী, তারপর পাঁচবিবি। সেখানে মার খেয়ে ফের যেতে হয় পশ্চিমের দিকে। তা ঘর তো আরও কারও কারও থাকে না। কিন্তু তাদের গন্তব্য থাকে। ইহুদিরা হাজার হাজার বছর ঘুরে বেড়িয়েছে, কিন্তু তাদের জন্য ছিল প্রতিশ্রুত দেশ, ঈশ্বর তাদের পছন্দ করেন, পছন্দের বান্দাদের জন্য তিনি খাস জায়গা রেখে দিয়েছিরেন। তাদের পয়গম্বররা সবাই ঈশ্বরের প্রতিনিধি, পয়গম্বররা জানত ইহুদিদের ঘর একদিন-না-একদিন মিলবেই। কিন্তু এই বাজিকরদের কোনো দেশ তাদের জন্য অপেক্ষা করে না, নিজেদের দেশ তাদের নিজেদেরই তৈরি করে নিতে হবে।

    —বেশ তো, নিবাস ঠিকানাহীন। তবে তাদের ধর্ম কী? কী জাতি?

    বাজিকর এবার লা-জওয়াব। নিজেদের ধর্ম যে কী তা তাদের জানা নেই। প্রচলিত ধর্মগুলোর কোনোটিকেই তারা সচেতনভাবে গ্রহণ করেনি, আবার ধর্মও তাদের রেহাই দিয়েছে, আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেনি। তারা ধার্মিক নয়, আবার এই কারণেই বকধার্মিক হওয়াও তাদের সাধ্যের বাইরে। এতে বাজিকর যে আরামে দিন কাটায় তা নয়, তার কাছে আল্লা ভগবান নামে এমন কোনো পাত্র নেই যার ভেতর তার বিবেচনা, অভিজ্ঞতা সব ঢেলে দিয়ে সে নিশ্চিত হতে পারে।

    —তা হলে তার ভাষা কী?

    এরকম একটি মূলোৎপাটিত গোষ্ঠীর ভাষার পরিচয় দেওয়া কি সোজা? তার যা আছে তাকে বড়জোর বুলি বলা যায়। তার যেখানে রাত সেখানে কাত, তেমনি যেখানে যায়, কিছুদিন থাকতে থাকতেই সেখানকার বুলি সে জিভে তুলে নেয়। পায়ের মতো জিভও তার বড় পিচ্ছিল, কোনো জায়গার বুলিই তার মুখে ভাষা হওয়ার সময় পায় না, দেখতে-না-দেখতে বাজিকর চলে যায় অন্য কোথাও, সেখানে গিয়ে সে নতুন বুলি রপ্ত করে।

    রহু চণ্ডালের হাড়-এর এই গৃহহীন, ভূমিবঞ্চিত, ধর্মযুক্ত বাজিকর গোষ্ঠী একটি স্থায়ী ঠিকানার খোজে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর, এক শতাব্দী পেরিয়ে আরেক শতাব্দী জুড়ে এবং গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়, এক নদী পেরিয়ে অন্য নদীর তীরে, পাহাড় পাড়ি দিয়ে আরেক পাহাড়ের উপত্যকায় তাঁবু গাড়ে, জমি পেলে লাঙল চষে, মাঠের জানোয়ার পোষ মানায়, গৃহস্থের পশু হাতাতেও তাদের জুড়ি নেই, সেখানকার বুলি তুলে নেয় মুখে। কিন্তু আসন পেতে বসা তাদের কপালে নেই, অভিশপ্ত পূর্বপুরুষের পাপে (?) তারা ঠিকানাবিহীন মানুষ।

    কিন্তু এই পরম অনিশ্চিত বেপরোয়া জীবনযাপন সত্ত্বেও এদের বেঁচে থাকবার সাধে এতটুকু চিড় ধরে না। এদের সংগঠিত রাখার জন্য ঢিলেঢালা আয়োজন করত এদেরই কোনো সরদার, তাদের চেহারা ও ব্যক্তিত্ব অনেকটা সেমেটিক পয়গম্বরদের মতো। দনু, পীতেম, জামির— নিজেদের লোকজন সম্বন্ধে এদের ভাবনা ও উদ্বেগ, দায়িত্ববোধ ও মনোযোগ পয়গম্বরদের চেয়ে কম কী? মাঝে মাঝে এদের মধ্যে যে-হিংস্র আচরণ দেখি কিংবা যেভাবে প্রবল হিংসার শিকার হয় তাতেও বাইবেলের কথাই মনে পড়ে বইকী! এরা বারবার মনে করে : রহ এদের সহায়, কিন্তু বহু একেবারেই মানুষ। জেহোভা কী ট্রিনিট কী আল্লার মহামহিম অলৌকিক শক্তি এদের কোথায়? সর্বশক্তিমান কোনো দেবদেবী এদের নেই। সমাজের মূলধারায় ধর্মবোধ-নিয়ন্ত্রিত নৈতিকতা কী অনৈতিকতা কিংবা রাষ্ট্র পরিচালিত শৃঙ্খলা কী বিন্যস্ত বিশৃঙ্খলা এদের গোষ্ঠীজীবনে অনুপস্থিত। দেবদেবী কী আল্লারসুলের হাতে সবকিছু ছেড়ে দেওয়ার কী সঁপে দেওয়ার সুযোগ নেই বলে নিজেদের ভালোমন্দ এদের ঠিক করতে হয় নিজেদেরই। একদিকে তাই অবাধ স্বাধীনতা, অন্যদিকে কঠিন দায়িত্ববোধ। স্থায়ী ঠিকানা পেতে হলে কঠিন কাঠামোর কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়, স্বাধীনতা তখন বিসর্জন না দিয়ে উপায় থাকে না। সমাজের মূলধারার মানুষের মতোই থিতু হবার বাসনা এদের প্রবল, অথচ গোরখপুরের ভূমিকম্পে উৎখাত হওয়ার অনেক আগেই অস্পষ্ট অতীতকালেও কিন্তু এরা ছিল কোন মরু এলাকার মানুষ, সেখানেও তো যাযাবর হয়েই জীবনযাপন করেছে। এই এত দীর্ঘকালের পদযাত্রার লক্ষ্য স্থায়ী ঠিকানা। তারা চেয়েছে গৃহস্থ হতে মোষ থাকবে, হাল লাঙল থাকবে, আর থাকবে জমি। পথে পথে দেবদেৰী জোগাড় করলেও কিন্তু তা স্থায়ী হয় না। সম্মানিত ও দাপটের দেবদেবীর কাছে আত্মসমর্পণ করেও এরা অচ্ছুৎই রয়ে যায়। এদের একটি অংশ কলেমা পড়ে ঠাঁই মাগে আল্লারসূলের দরবারে। আখেরাতে রহমানুর রহিম তাদের জন্য কী বরাদ্দ করেছে অতদূর ভাববার শক্তি তাদের নেই, তাই নিয়ে মাথাও ঘামায় না। কিন্তু কলেমা পড়লেও ভদ্দরলোক মুসলমানদের সঙ্গে তাদের ব্যবধান আগের মতোই রয়ে যায়। বৃহত্তর সমাজে মিশে যাওয়ার এই প্রচণ্ড ইচ্ছা থেকেই একদিন-না-একদিন তারা মূলধারায় বিলীন হবে, এজন্য দাম দিতে হয় খুব চড়া। নিজেদের স্বাধীনতা বিসর্জন দিতে হয়, কিন্তু মর্যাদা পায় না। বাজিকরের ব্যক্তির অভিমান ও গোষ্ঠীর পর্ব বাঁধা থাকে একই তারে, যেখানে যায় সেখান থেকেই উচ্ছেদ হবার গ্লানি এবং ঠিকানা জোগাড় করার সংকল্প প্রত্যেকটি ব্যক্তি ও এই গোষ্ঠীর মধ্যে এমনভাবে প্রবাহিত যে ব্যক্তি ও সমষ্টির আলাদা পরিচয় পাওয়া মুশকিল। প্রেম, কাম, ক্রোধ, হিংসা, বাৎসল্য, ঈর্ষা, ক্ষোভ, লোভ এবং সাধ এই উপন্যাসে এসেছে এক-একজন মানুষের ভেতর দিয়েই, কিন্তু তা কখনোই আলাদা হয়ে থাকে না, একই সঙ্গে পরিণত হয় বাজিকরের গোষ্ঠীর সাধারণ অনুভূতিতে। কিন্তু মূলধারায় লীন হলে কিংবা আরও স্পষ্ট করে বললে বিলীন হলে এই চেহারা ধ্বংস হয়ে যায়, ব্যক্তি ও সমাজের একাত্মতা সেখানে নষ্ট হতে বাধ্য।

    মূলধারার মানুষ বিচ্ছিন্ন মানুষ। ব্যক্তিস্বাধীনতার ডঙ্কা পিটিয়ে বুর্জোয়াসমাজের উদ্ভব, অন্যের শ্রমের ওপর প্রতিষ্ঠিত এই সমাজবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তির এই বহুঘোষিত স্বাধীনতা রূপ নেয় ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যে এবং পুঁজির সর্বগ্রাসী ক্ষুধার মুখে সর্বাঙ্গ ঢুকিয়ে দিয়ে আজ এর পরিণতি ঘটেছে আত্মসর্বস্বতায়, এখন ঐ ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের নাম করা যায় ব্যক্তিসর্বস্বতা। ব্যক্তি সর্বস্বতা দিয়ে চিহ্নিত সমাজও যে-শিল্প সৃষ্টি করে তা দিনদিন স্যাঁতসেঁতে হয়ে আসছে রুপূর্ণ ও রোগা এক ব্যক্তির কাতরানিতে। এই রু লোকটির ভেতরটা ফাঁকা ও ফাঁপা। অভিজিৎ সেন এই ফাঁকা ও ফাঁপা লোকের গল্প ফাঁদতে বসেননি। তিনি যে-শক্তির ইঙ্গিত দেন তা কোনো ব্যক্তির নয়, কেবল একটি গোষ্ঠীর নয়, বরং তা হল মানুষের শক্তি। মূলধারার সঙ্গে বিলীন হতে উদ্গ্রীব গোষ্ঠী সমাজের অন্তর্ভুক্ত হতে হতে শক্তি হারায়, তার স্বাধীনতা লোপ পায়। আগেই বলেছি, বাজিরকদের দীর্ঘ পদযাত্রা তাদের ঘর দিলেও দিতে পারে, কিন্তু সেই ঘরে মর্যাদা নেই, শ্রেণীবিভক্ত সমাজে ক্ষমতাবানদের কবজার ভেতর নিষ্পিষ্ট হওয়াই এদের পরিণতি। এই সমাজের যারা মালিক মানবিক বিকাশের সমস্ত পথ কিন্তু তাদের জন্যও বন্ধ, একটি মস্ত চাকার কাঁটা হয়ে তারা সমাজকে বিধতে থাকে, কিন্তু চাকা ঘোরে তাদের ইচ্ছা নিরপেক্ষভাবে, ঢাকা এগিয়ে নেওয়ার সৃজনক্ষমতা থেকে তারা বঞ্চিত অথবা সে-অধিকারও তাদের থাকে না।

    রহু চণ্ডালের হাড়-এর কাহিনী এসে ঠেকেছে এই শতাব্দীর ষাটের দশকে। দেশ তখন স্বাধীন ও বিভক্ত। প্রশাসনকে নতুনভাবে সাজাবার উদ্যোগ চলছে। কিন্তু সমাজকাঠামোর বদল না ঘটিয়ে প্রশাসনের সংস্কার শোষণব্যবস্থায় ভাঙন তো দূরের কথা, এতটুকু চিড়ও ধরাতে পারে না। কোনো ব্যক্তি কী কয়েকজন ব্যক্তির সদিচ্ছা ও সংকল্প থাকা সত্ত্বেও এই রাষ্ট্রব্যবস্থার ভেতরে থেকে শোষণব্যবস্থার ওপর কোনো আঘাত হানতে পারে না, প্রোথিত প্রতিষ্ঠানকে টলানো তার কিংবা তাদের পক্ষে অসম্ভব। এমনকী প্রশাসনের একটি অংশ হলেও পারবে না। অন্ধকারের নদী উপন্যাসে অশোক হল প্রশাসনের একটি খুঁটি, স্তপ্ত নয়, নিচের দিকের একটি খুঁটি। তবু রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে তার একটি ভূমিকা রয়েছে।

    অশোক একজন সৎ মানুষ এবং নিষ্ঠাবান প্রশাসক। রাষ্ট্রের সংবিধানের নিয়মকানুন ব্যবহার করেই সামাজিক প্রতারণা ও শঠতা থেকে মানুষকে রেহাই দেওয়ার জন্য সে উদ্যোগ নেয়। এই উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় নিয়মকানুন প্রয়োগে সে বেশ শক্ত হয়। কিন্তু এই শক্তি তো রাষ্ট্রের শক্তি। রাষ্ট্রের কাজ সামাজিক শোষণকে সুসংগঠিত পদ্ধতির ভেতর রেখে পরিচালনা করা। পদ্ধতির ভেতরে মাঝে মাঝে ঢিল দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, এর উদ্দেশ্য হল শিকারকে একটু বিচরণ করতে দিয়ে তাকে নিয়ে খেলা যাতে হঠাৎ করে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সে দড়ি ছেঁড়ার কাজে নামাতে। বহুর উত্তরপুরুষরা যে-মূলধারার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে সেই ধারাটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, সমাজের স্থিতিশীলতাকে ঠিক রাখা অর্থাৎ শোষণব্যবস্থার শরীরটিকে হৃষ্টপুষ্ট রাখার জন্য প্রণীত আয়োজনকে সুষ্ঠুভাবে রূপ দেওয়াই হল অশোকের সরকারি দায়িত্ব। এই বিশাল আয়োজনকে পণ্ড করার জন্য তো আর অশোককে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি ছোট নাটবল্টু হল আমাদের অশোক সাহেব। নাটবল্টু থাকবে নাটবল্টুর মতো, তার নড়াচড়া রাষ্ট্র সহ্য করবে কেন? করেওনি। রাষ্ট্রের কয়েকটি নিয়ম অনুসরণ করতে গিয়ে পদেপদে বাধা পায় এবং রাষ্ট্রেরই আরও সূক্ষ্ম নিয়মে তাকে শাস্তিপ্রদানের আয়োজন চলে।

    প্রশাসনে তৎপর না হয়ে নিষ্ক্রিয় থাকলে রাষ্ট্রের গায়ে ঝড়ঝাপটা লাগার সম্ভাবনা কম। তৎপর হতে গিয়ে অশোক ভুল করে। তৎপর মানুষের প্রতিক্রিয়াও চাপা থাকে না, বরং তা প্রকাশ করাও তৎপরতার প্রধান অংশ। যে যারা রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে কবজা করেছে তার পাণ্ডারা ঘটনা ঘটায়, আবার এর প্রতিকার চায় যারা, তাদের হাতেও একই ঝাণ্ডা। অশোক এই ধাপ্পাবাজির শিকার। এই ধাপ্পাবাজিতে ক্রুদ্ধ হন অভিজিৎ সেন নিজেও।

    আমার বন্ধু মাহবুবুল আলম অন্ধকারের নদীতে পড়ে একটি মন্তব্য করে; মাহবুব লেখার ব্যাপারে অলস বলে ওর কথাটা আমিই লিখি : অন্ধকারের নদীতে উনিশ শতকের বাংলা নকশাজাতীয় রচনার কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। উপন্যাসের কাহিনী রচনার চেয়ে লেখক অনেক বেশি মনোযোগী সমাজের অসঙ্গতিকে তুলে ধরার কাজে। তবে প্যারীচাঁদ মিত্র কী কালীপ্রসন্ন সিংহ নিজেদের সময়কে তুলে ধরেন অতিরঞ্জন ও হাস্যবিদ্রূপ দিয়ে, অভিজিৎ সেখানে সামাজিক অন্যায়কে প্রকাশের সময় নিজের প্রবল ক্রোধ প্রকাশ না-করে পারেন না। এই ক্রোধ তাঁর পূর্বসূরিদের শ্লেষের চেয়ে অনেক তীব্র। তবে একটু মনোযোগ দিয়ে পড়লে লেখকের কান্না লুকোবার চেষ্টা লক্ষ করা যায়।

    আমার কাছে কিন্তু অন্ধকারের নদী উপন্যাস। এর কোথাও অসামঞ্জস্য নেই, টুকরো টুকরো ঘটনা দিয়ে কাহিনী সাজাবার চেষ্টাও অভিজিৎ করেননি। তবে হ্যাঁ, বইটির আগাগোড়া ক্রোধ বড় স্পষ্ট। তাঁকে রাগ কমাতে বলা মানে নিরপেক্ষ হতে বলা। না, অভিজিৎ সেনকে নিরপেক্ষ হওয়ার জন্য মিনতি করা হচ্ছে না। এখন কোনো সৎ মানুষের পক্ষে নিরপেক্ষ থাকা সম্ভব নয়। এখন নিরপেক্ষ লেখক জ্যান না, জন্মিয়া কাজ নাই। কিন্তু অভিজিতের ক্রোধ তাঁকে উত্তেজিত করেছিল, ফলে ওই উপন্যাসের অনেক জায়গায় তিনি অস্থির। বাজিকরদের দেড়শো বছরের দীর্ঘ পর্যটন তিনি অনুসরণ করেছেন পরম ধৈর্য নিয়ে। অভিশপ্ত রহু পয়গম্বরের বংশধরদের জীবনকে তিনি এমনভাবে দেখেন যে তাদের প্রকাশ করার জন্য তারাই যথেষ্ট, অভিজিৎকে সেখানে পায়ে পড়ে আসতে হয় না। কিন্তু অন্ধকারের নদীতে উত্তেজিত অভিজিৎ এসে পড়েন নিজেই। তাই অশোককে উপচে ওঠে তার উপস্থিতি। ফলে জ্যান্ত মানুষের রক্তমাংস থেকে অশোক মাঝে মাঝে বঞ্চিত হয় বইকী। অভিজিৎ তাঁর সৃষ্ট মানুষকে স্বাধীনভাবে চলতে দেবেন তো! অশোকের চিন্তাভাবনা, তার সংকট ও সংশয়, তার সংকল্প ও তৎপরতা প্রকাশের কাজ অভিজিৎ নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। এতে অশোকের প্রতি তাঁর সহানুভূতি যতটা উদ্ভাসিত হয়, একজন আস্ত মানুষ সৃষ্টিতে মনোযোগ সেভাবে প্রকাশিত হয় না।

    তার ঊনপঞ্চাশ নৌকার সাঁইয়ের প্রতি হাঁক বরং ধামানের নিজস্ব। উপন্যাস পড়া শেষ হলেও এই ডাক কানে গমগম করে বাজে। বইটির প্রচ্ছদে গণেশ পাইনের দি কল ছবিটি উপন্যাসের শেষভাগে এসে এমন অস্থির ও সর্বগ্রাসী আহ্বানে পরিণত হয়েছে যে, অশোকের দুর্বল চেহারা আর মনে থাকে না। একই বইতে দুজন মানুষকে দুইভাবে নির্মাণের পেছনে কি অভিজিতের এই বোধ কাজ করেছে যে প্রশাসন-ব্যাপারটির মধ্যে একটি ত্বরিতগমনের ভাব থাকে এবং মানুষের মুক্তির আহ্বান সবসময় দীর্ঘ ও অচঞ্চল? কিন্তু, বিষয় যা-ই হোক কিংবা চরিত্র যে-স্বভাবের হোক, মানুষকে স্বাভাবিক গতিতে বেড়ে উঠতে না-দিলে সন্দেহ হয় যে তার সমস্যাটিকে লেখক উপযুক্ত মর্যাদা দিচ্ছেন না।

    বালুরঘাটের বিবর্ণ মুখোস পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ইন্টারভিউতে অভিজিৎ সেন তাঁর লেখার ব্যাপারে একটি কৈফিয়ত দিয়েছেন। সোচ্চারভাবে মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁর রচনার সাহিত্যিক মূল্য ক্ষুণ্ণ হচ্ছে কি না সে সম্বন্ধে একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি তাঁর রচনার ঐসব অংশ বাদ দিয়ে পড়বার পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করা উচিত। যে-কোনো লেখা পাঠকের হাতে পড়লে তার প্রতিটি বর্ণই পাঠের যোগ্য বলে বিবেচিত হওয়ার কথা। অভিজিতের রচনার কোনো অংশ বাদ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। বরং, পাঠক তাঁর কাছে যা দাবি করেন তা হল এই : ঐসব জায়গায় উপযুক্ত রক্তমাংস প্রয়োগের সুযোগ তাঁর করে নেওয়া উচিত। তা হলে চরিত্র গড়ে ওঠার স্বাধীনতা পাবে আরও বেশি। শক্তিশালী চরিত্র উপন্যাসের শরীরে রক্ত চলাচলের প্রধান ইন্ধন

    যেমন দেখি দেবাংশী উপন্যাসে লোহার সারবান। সে কিন্তু আগাগোড়া নিজের পায়েই দাঁড়িয়ে থাকে। তাকে ঠেকা দেওয়ার জন্য লেখককে এগিয়ে আসতে হয়নি। লোকটি দৈবী ক্ষমতা পেয়ে সত্যি দেবতা হয়ে উঠেছিল, লেখক একবারও তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্কতার পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেননি, তাকে দেবতা হতে কোথাও কিছুমাত্র বাধা দেননি। তারপর দিন যায়, অল্প কয়েক পৃষ্ঠাতেই দিন যায়, কিন্তু লেখক সময়কে ঠেলে দ্রুত পার করিয়ে দেন না, লোকটি খেরা খেলার কলাগাছে হেলান দিয়ে চোখ বুজে বসে থাকে, শরীরের কাঁপুনি তার আস্তে আস্তে কমে, কমতে কমতে লোপ পায়, নিজের দৈবী ক্ষমতায় তার সন্দেহ হয়, রাতে তার ঘুম হয় না। তাকে জাগিয়ে রাখার জন্য কী জাগিয়ে তোলার জন্য অভিজিৎকে গান গাইতে হয় না। ফের দেবাংশীর ঐ আসন বর্জন করার বল সে জোগাড় করে নিজে নিজেই। এই গল্পে ব্যবহৃত স্থানীয় সংস্কার আর শ্লোক আর প্রবাদ যেন হাজার বছর ধরে প্রবাহিত হয়ে দেবাংশীকে নির্মাণ করে তুলেছে। মনে হয় গল্পটি কালনিরপেক্ষ। এই গল্প হাজার বছর আগেরও হতে পারত। হিউ-এন-সাঙ যখন এসেছিলেন, পুণ্ড্রবর্ধন আর সোমপুরের বিহার নিয়ে ব্যস্ত থাকার ফাঁকে ফাঁকে আশেপাশের গ্রামগুলোতে উকি দিলে তিনি এই দৃশ্য দেখতে পেতেন। কাহ্ন পা, লুইপার আমলেও দেবাংশী ছিল। কবিকঙ্কন, কাশীরাম, কৃত্তিবাস, আলাওল, ভারতচন্দ্রের সময় দেবাংশী সশরীরে উপস্থিত। কৈবর্ত বিদ্রোহে দেবাংশীরা কী করেছিল? বল্লাল সেন এদের মানুষ বলে গণ্য করেনি, নইলে এমন বিধান একটা ছাড়ত মশামাছি-পক্তিভুক্ত হয়ে ওদের আস্তাকুঁড়ে ঠাঁই নিতে হত। কিন্তু তখন ওরা ছিল। তারপর গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্রে, তিস্তায়, করতোয়ায় কত জল গড়াল, বখতিয়ার ফিজি, হোসেন শাহ, শায়েস্তা খাঁ, আলিবর্দি, সিরাজদৌল্লা মাটির সঙ্গে মিশে গেল, দেবাংশীরা মাটির ওপরেই বিচরণ করে। সমুদ্রের ওপার থেকে সায়েরা এল, সায়েরা গেল, নতুন সায়েরা চেপে বসল, দেবাংশীদের বিনাশ নেই। বাংলা জুড়ে কতকালের শয়তানি, জোচ্চুরি আর হারামিপনা চলে আসছে, প্রতিবাদও হচ্ছে আবহমানকাল ধরে। এসবের এই সর্বকালীন চেহারাটি অভিজিৎ নিয়ে এসেছেন অসাধারণ শক্তির সাহায্যে। কাহিনীর শেষে দেখি ধিকধিক করছে ক্রুদ্ধ ও প্রতিবাদী মানুষের ভিড়। শয়তান এসে তাড়া-খাওয়া-কুত্তার মতো আশ্রয় নিয়েছে খেরা থানের গণ্ডিতে। ঐ জায়গাটা তখন পর্যন্ত ফাঁকা। এখনও ওটা ফাঁকাই রয়েছে। ঐটা দখল করার জন্য অভিজিৎ কোনো উপদেশ দেন না, জায়গাটা কেবল দেখিয়ে দিলেন।

    এর বেশি ইঙ্গিত কি কোনো শিল্পী দিতে পারেন? এরকম লেখায় অভিজিৎ যে-সংযম দেখাতে পারেন তা কিন্তু কোনো অলৌকিক শক্তি থেকে নয়, বরং দেশের, সমাজের ও ইতিহাসের ভেতরকার স্রোতটি বুঝতে পারেন বলেই এখানে বড় মাপের শিল্পী হয়ে ওঠা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছে।

    এই হাজার বছরের শোষণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিয়োজিত রাষ্ট্র এই কাজে ব্যবহার করে চলেছে সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতি। কিন্তু তাতেই কি শেষরক্ষা হয়? দেবাংশীর মতো শাশ্বত রঙ আইনশৃঙ্খলা গল্পে নেই, রাষ্ট্র এখানে সশরীরে বিদ্যমান, সাম্প্রতিক পশ্চিম বাংলায় শোষণের জন্য ব্যবহৃত আধুনিক কায়দাকানুন এই গল্পে উপস্থিত। ব্যুরোক্র্যাট-টেকনোক্র্যাটের মনকষাকষি, মন্ত্রীদের এর ওর পেছনে লাগা, এসবে গুরুত্ব যা-ই হোক, এ থেকে শৃঙ্খলা, ন্যায় ও নিয়মকানুনের পোজ মারা প্রশাসনের ভেতরটা একটু দেখা যায়। এই প্রশাসনকে কবজা করার কাজে সতত সক্রিয় রাজনীতিকেও অভিজিৎ ঠিকঠাক শনাক্ত করেন। সমাজতন্ত্রের নাম করে যে-কমরেডরা ভোটের সুড়ঙ্গপথে ক্ষমতায় আসীন হয় তাদের পূর্বসূরিদের মতো তাদেরও একমাত্র লক্ষ্য সমাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। শ্রেণীসংগ্রামের ধারণাকে জলাঞ্জলি দেওয়ার পর কংগ্রেসের ষণ্ডা পাণ্ডাদের সঙ্গে এই কমরেডদের আর পার্থক্য থাকে না। প্রশাসনের উন্নয়নের একটি ভূমিকা ইদানীং অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, এই উন্নয়নের পথে শোষণব্যবস্থায় সাম্রাজ্যবাদী নিয়ন্ত্রণ কীভাবে আসছে তার ইঙ্গিত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা গল্পে। সম্রাজ্যবাদের শোষণ স্পৃহা ও চালিয়াত রাজনীতির বাস্তবায়নের হাতিয়ার প্রশাসন, কিন্তু স্থির ও অচঞ্চল কোনো অমোঘ শক্তি নয়। এর প্রমাণ পাওয়া যায় শোষণের শিকার নিহত টুইনার বিধবা স্ত্রী কুশলী খোদ হাকিম সাহেবের ঘরে প্রসব বেদনায় কাঁপে। কুশলী তার শিশুকে জন্ম দেবে বলে হাকিম সাহেব তাঁর সমস্ত লোকলস্কর নিয়ে তাঁর এজলাস ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। রাষ্ট্রকে বাইরে ঠেলে দিয়ে কুশলী তার নিহত স্বামীর জ্যান্ত রক্তপিণ্ডকে পৃথিবীতে অবতরণের উদ্যোগ নেয়। নবজাতকের চিৎকারে রাষ্ট্রীয় তৎপরতা চালাবার ঘরের দেওয়াল ও কাচ থরথর করে কাঁপে। আমরা সবাই টের পাই যে কুশলীর ধৈর্যের সমস্ত বাঁধ ভেঙে পড়েছে। এবার চরম আঘাতের জন্য প্রতীক্ষা। চরম আঘাতে অভিজিৎ সেনের বিশ্বাস অবিচল। সত্তরের দশকে ভারতে যে-আন্দোলন সবকিছুর ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল তার ভেতর তিনি মানুষ। মহাবৃক্ষের আড়াল গল্পের অনুপমও একদিন অভিজিতের সহযাত্রী ছিল। বিস্ফোরণ ঘটানো সেই আন্দোলন এখন আড়ালে পড়ে গেছে, অনুপম চাকরি করে সেইসব প্রতিষ্ঠানের একটিতে যাদের বিরুদ্ধে একদিন তারা রুখে দাঁড়িয়েছিল সমস্ত পিছুটান ঝেড়ে ফেলে দিয়ে। সত্তরের দশক একেবারে নিভে যায়নি। ভিয়েতনাম থেকে চালান হয়ে আসা বিশাল বৃক্ষের ভেতর থেকে বেরুনো বুলেটের সিসে হাতে নিয়ে অনুপম তার ধমনীতে আবার রক্তচলাচলের সাড়া পায়। মৃত বুলেট লুপ্ত বারুদের গন্ধে তাকে ফের চঞ্চল করে তুলতেও তো পারে। পতন হওয়ার পরেও এই বৃক্ষ দুটো করাত ভেঙে ফেলেছে। এর সম্ভাবনা তা হলে বিনাশ করবে কে?

    বাজিকরদের দীর্ঘ পদযাত্রায়, ধামান সাঁইয়ের ডাকে, দেবাংশীর আহ্বানে, কুশলীর নবজাতক সন্তানের প্রবল চিৎকারে, করাতের কাছে মহাবৃক্ষের নত হতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে অভিজিৎ সেন হাজার বছরের বন্দি মানুষের স্বাধীনতার স্পৃহাকে ঘোষণা করেন। মানুষের সঙ্ঘবদ্ধ চেতনায় এই স্পৃহা সুপ্ত রয়েছে, এই মানুষের ভাষায় এর খোঁজ পাওয়া যায়, তার পানে, তার শ্লোকে, তার প্রবাদে এরই প্রকাশ। তার সংস্কার ও সংস্কার ভাঙা, তার বিশ্বাসে ও বিশ্বাস ঝেড়ে ফেলা—এসবের ভেতর যে-দ্বন্দ্ব তার মূলে মানুষের মুক্তির কামনা। অতীত থেকে, বর্তমান থেকে, ভাষা থেকে, গান থেকে, শ্লোক থেকে ও পুরাণ থেকে, বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব থেকে মানুষ অবিরাম শক্তিসঞ্চয় করে চলেছে। এই শক্তি-অনুসন্ধানের কাজে নিয়োজিত শিল্পী অভিজিৎ সেন। এই অনুসন্ধানের কাজটি সুখের নয়, পাঠককে স্বস্তি দেওয়ার পূণ্যও এখান থেকে অর্জন করা অসম্ভব। রহুর যে-হার বাজিকররা হাতে তুলে নিয়েছিল তারা তা-ই বাজিয়ে সবাইকে ডাক দিয়ে চলেছে। তাদের বহুকাল আগেকার দেশের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পবিত্র নদী ঘর্ঘরার উত্তাল ঢেউ এই বাজনার সঙ্গে সংঘাত করলেও এর আওয়াজ মিঠে নয়। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র এবং পদ্মা, মেঘনা যমুনার মতো ঘর্ঘরাও বিশাল ও প্রাচীন সব তীরভূমি ভেঙে একাকার করে ফেলে। হাড়ের বাজনায় যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় তাতে ভাঙনের নিশ্চিত আওয়াজ শোনা যায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্বর্ণমুকুট – গোপেন্দ্র বসু
    Next Article বৃশ্চিক – পিয়া সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026
    Our Picks

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    May 14, 2026

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    May 14, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }