Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    May 14, 2026

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    May 14, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এক পাতা গল্প286 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    একুশে ফেব্রুয়ারির উত্তাপ ও গতি

    বাংলাকে পাকিস্তানে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে পাকিস্তান হওয়ার আগেই এবং এই দাবি যারা তোলেন তাঁরা পাকিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত কিংবা সমর্থক ছিলেন। প্রতিষ্ঠার পরপরই দাবিটি একটি আন্দোলনের চেহারা পায়। ইংরেজিকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে অব্যাহত রাখার কথা ঘোষণা করলে প্রতিক্রিয়া এরকম আস্ত ও তীব্র হত কি না সন্দেহ। কারণ, শিক্ষিত বাঙালিমাত্রই ঐ ভাষায় তখন কমবেশি স্বচ্ছন্দ। ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্ৰামে ইংরেজির সাহায্য নিতে তাদের কিছুমাত্র অসুবিধা হয়নি। কিন্তু পাকিস্তানের বাঙালির কাছে তামিল বা পুশতুর মতো একেবারে গ্রীক না-হলেও উর্দু একটি প্রায়-অপরিচিত ভাষা। শহর এলাকায় এই ভাষার মৌখিক ব্যবহারে অনেকে একটুআধটু অভ্যস্ত হলেও এর মাধ্যমে লেখাপড়া করা বা চাকরির প্রতিযোগিতায় নামা ছিল তাদের সাধ্যের বাইরে। খানদানি মুসলমান হিসাবে আত্মপ্রতিষ্ঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষায় উর্দুকে যারা মাতৃভাষা বলে গণ্য করতে চাইত তাদের আভিজাত্যের মতো উর্দুতে তাদের দখলও ছিল একেবারেই ঠুনকো, দুটোরই কোনো ভিত্তি ছিল না। ওদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রভাবশালী প্রদেশ পাঞ্জাবে শিক্ষিত মুসলমান মাত্রই উর্দুর চর্চা করত এবং নিজেদের মাতৃভাষার তোয়াক্কা না-করে সাহিত্যচর্চা করত উর্দুতে। উর্দু ভাষার এবং উপমহাদেশের দুজন বিশিষ্ট কবি মোহাম্মদ ইকবাল ও ফয়েজ আহমদ ফয়েজের মাতৃভাষা পাঞ্জাবি। পাকিস্তানে পূর্ব বাংলার পর পাঞ্জাবেই মধ্যবিত্তের বিকাশ ঘটেছিল সবচেয়ে বেশি, উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার বিরুদ্ধে আন্দোলনে পাঞ্জাবিরাও অংশ নিতে পারত। কিন্তু উর্দুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে পাঞ্জাবি মধ্যবিত্ত বরং পাকিস্তান সরকারের রাষ্ট্রভাষানীতির সমর্থক হিসাবে সক্রিয় হয়। পাকিস্তান আন্দোলনের সময় ভারতীয় মুসলমানদের একটি অবিচ্ছিন্ন সংস্কৃতির কথা জোরেসোরে বলা হত, সেই অদৃশ্য এবং অনুপস্থিত সংস্কৃতি বিকাশের জন্য উর্দুকে উপযুক্ত মাধ্যম হিসাবে বিবেচনা করা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। ঐ উদ্ভট সংস্কৃতির কথা বলা হত ভারতের বিভিন্ন এলাকার মুসলমানের আত্মীয়তা-প্রকাশের জন্য যত-না, তার চেয়ে অনেক বেশি হিন্দুদের সঙ্গে তাদের পার্থক্য প্রচার করার উদ্দেশ্যে। আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে এই প্রচারের প্রভাব লোপ পাওয়াই স্বাভাবিক। তা ছাড়া, সংস্কৃতিচর্চা মধ্যবিত্তের যথাযথ বিকাশের একটি শর্ত হলেও কেবল সেই ভিন্ন সংস্কৃতিচর্চার, আরও ঠিক করে বললে, সেই সংস্কৃতিসৃষ্টির তাগিদেই মুসলমান মধ্যবিত্ত পাকিস্তান আন্দোলনে নিয়োজিত হয়নি। মধ্যবিত্তের সামগ্রিক বিকাশই ছিল সেখানে প্রধান আকাঙ্ক্ষা। উর্দুকে মেনে নিলে এই বিকাশের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায় বলে পূর্ব বাংলায় মধ্যবিত্তের প্রায় সিংহভাগ মানুষ ভাষা আন্দোলনে অনুকূল সাড়া দিয়েছিল। অপেক্ষাকৃত প্রগতিশীল বলে পরিচিত রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীরা এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ঠিকই, কিন্তু ধর্মান্ধ রাজনীতিতে বিশ্বাসী, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রচারক, এমনকী বাংলার মুসলমানের সংস্কৃতিতে ইসলাম ধর্মের প্রভাবকে যাঁরা প্রধান উপাদান বলে গণ্য করেন কিংবা / এবং প্রধান উপাদানে পরিণত করার জন্য নানারকম ফন্দিফিকিরে লিপ্ত তাঁদেরও প্রায় সবাই রাষ্ট্রভাষা হিসাবে কেবল উর্দুর দাবির বিরোধিতা করেছেন। বিশিষ্ট বাঙালিদের মধ্যে গোলাম মোস্তাফা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না যিনি রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ব্যক্তিত্বহীন, অযোগ্য ও আত্মমর্যাদাবোধশূন্য খাজা নাজিমুদ্দিন, ফজলুর রহমান বা সৈয়দ সেলিমকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পর্যায়ে রাখার মানে হয় না। পূর্ব বাংলায় যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন তাঁদের বেশিরভাগ নেতা মনেপ্রাণে বাংলাকেই চাইতেন। কিন্তু বদরুদ্দীন উমরকে অনুসরণ করে বলা যায় যে, গদিপ্রেমের কাছে তাঁরা ভাষাপ্রেম বিসর্জন দিয়েছিলেন। তাঁদের দলের অনেক ঘোরতর প্রতিক্রিয়াশীল নেতা ও সংবাদপত্রকেও ঐ সময় বাংলা ভাষাকে সমর্থন করতে দেখি। এই পর্যায়ে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সমর্থক প্রায় গোটা মধ্যবিত্ত শ্রেণী, এর নেতৃত্ব সম্পূর্ণভাবে মধ্যবিত্ত মানসিকতার রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবীদের হাতে, এর কর্মী সবাই ছাত্র।

    ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে ঢাকায় হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলনের মূল স্বভাবে খুব বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন ঘটল। এর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশ করে পূর্ব বাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হলে আন্দোলন স্তিমিত হয়ে আসত। নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারের ঘোরতর অন্যায়কে প্রতিহত করার জন্য আইনমাফিক আন্দোলন কোনো কার্যকর পদ্ধতি নয়—২১ ফেব্রুয়ারি এই সত্যটিকে প্রতিষ্ঠা করল। ২১ ফেব্রুয়ারি হয়ে দাঁড়াল নির্যাতন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংঘাতের প্রতীক। এর আগে আমাদের দেশে এরকম হত্যাকাণ্ড আরও ঘটেছে। বাঙালির শোষিত ও নির্যাতিত হওয়ার ইতিহাস এবং এর প্রতিরোধে রুখে দাঁড়াবার ঐতিহ্যও হাজার বছরের। কৈবর্ত বিদ্রোহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে নানা কৃষক বিদ্রোহ, তাঁতিদের বিদ্রোহ, সাঁওতাল বিদ্রোহ, চাকয়া বিদ্ৰোহ, হাজং বিদ্রোহ— শাসকরা এসব দমন করেছে অহিংসার পুণ্য বাণী ছেড়ে নয়, গানের সুরে নয়, ধর্মের অজুহাত দিয়েও নয়, সরাসরি তোপের মুখে। এসব আন্দোলন হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে, আর ২১ ফেব্রুয়ারি গোটা জনগোষ্ঠীকে উদ্বুদ্ধ করল একটি অবিচ্ছিন্ন সংগ্রামের দিকে, ঐক্যবদ্ধ জনগোষ্ঠী নিজেদের অনুভব করতে লাগল একটি জাতি হিসাবে কিংবা জাতি হিসাবে নিজেদের পরিচয়-অনুসন্ধানে নিয়োজিত হল। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল প্রতিরোধ, হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আপোস করে সম্ভব নয়। ২১ ফেব্রুয়ারি যে প্রতিরোধের স্পৃহার জন্ম দিল, দিনে-দিনে ঐ দিনটি উদযাপনের সঙ্গে তাই তীব্র থেকে তীব্রতর হতে লাগল। ১৯৫৪ সালে ভাষা আন্দোলনের শত্রু বলে বিবেচিত রাজনৈতিক সংগঠন এই দেশ থেকে চিরকালের মতো উচ্ছেদ হয়ে গেল। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রে বাংলা পাকিস্তানের একটি রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করল। তখন পরম তৃপ্তির হাসি মুখে নিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারির সুখের মরণ বরণ করতে কোনো ব্যথা ছিল না। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলা ভাষা আদায়ের দাবি জানাবার দিন নয়, মানুষের প্রতিবাদকে প্রকাশ করার, প্রতিরোধকে ভাষা দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি। ঢাকার ঐ হত্যাকাণ্ডের মুহূর্ত থেকে মাতৃভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ২১ ফেব্রুয়ারির একমাত্র লক্ষ্য নয়; দেশবাসীর আত্মপরিচয় অনুসন্ধানের সঙ্গে সামাজিক বিপ্লব ঘোষণা এবং তা সংঘটিত করা হয়ে দাঁড়ায় এর অঙ্গীকার। তাই দেখি, ১৯৫২ সালের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দাবি মানুষের কণ্ঠে ভাষা পেয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে, দাবি আদায়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এখানেই। সেই দাবি আদায় হবার আগেই কিংবা হতে-না-হতে পরের ২১ ফেব্রুয়ারি উদ্যাপিত হয়েছে নতুন দাবি উত্থাপনের মধ্যে, ঘোষিত হয়েছে নতুন অঙ্গীকার।

    ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে যারা ছিল শিশু ও বালক, যাদের জন্ম ২১ ফেব্রুয়ারির পর, যাদের জন্ম ২১ ফেব্রুয়ারির অনেক পরে, ২১ ফেব্রুয়ারি তাদের কাছেও কেবল ইতিহাস নয়। একুশে ফেব্রুয়ারির স্মৃতিচারণ তাদের যত আকর্ষণ করে তার চেয়ে তারা বেশি শিহরিত হয় এর শক্তি দেখে। এটা তাদের কাছে নিজেদের যৌবনের মতো, এখানে তারা নিজেদের শক্তি অনুভব করার শক্তি অর্জন করে। ২১ ফেব্রুয়ারি তাদের কাছে কেবল একটি দিনমাত্র নয়, এটা একটা ঋতু যার শুরু কখনো কেউ বুঝতেও পারে না এবং শেষ এ-পর্যন্ত দেখা যায়নি। তাই, বিভিন্ন সময়ে সামাজিক বিবর্তনের চাহিদা, রাজনৈতিক দাবি ও সাংস্কৃতিক জিজ্ঞাসা ঘোষণা করার শ্রেষ্ঠ সময় এবং শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হল একুশে ফেব্রুয়ারি। একুশে ফেব্রুয়ারির বিবর্তন দেখলেই ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়।

    পাকিস্তানের প্রথম পর্যায়ে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার মধ্যে যে কেবল স্বৈরাচার ছিল তা নয়, স্বৈরাচার বাংলা-প্রেমিকদেরও কিছুমাত্র কম নয় তা আমরা গত বিশ বছর থেকে অহরহই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি, উর্দু চাপানো ছিল একটি সামন্ত মনোভাবের প্রকাশ। উর্দু অবশ্যই সামন্তদের ভাষা বলে পরিচিত হতে পারে না, এই ভাষায় কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষ কথা বলে। উর্দুতে প্রগতিশীল সাহিত্যের চর্চা এবং মেহনতি মজদুরের উপর জুলুম এবং তার প্রতিরোধ লড়াইয়ের বাণী বাংলার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নেই। পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশে বসবাসকারী উর্দুভাষীদের মধ্যে নিম্নবিত্ত শ্রমজীবীর বেদনা ও বঞ্চনা বাঙালি শ্রমজীবীর বেদনা ও বঞ্চনার তুলনায় এতটুকু কম নয়। বাঙালি শ্রমজীবী বাঙালি সুবিধাভোগী মানুষের চেয়ে অনেক বেশি আত্মীয়তা বোধ করেন অন্যভাষী শ্রমজীবীর সঙ্গে। কিন্তু, পাকিস্তানের অধিবাসীদের প্রবল পরিচয় তাদের ধর্ম দিয়ে এবং ঐ পরিচয়কে প্রতিষ্ঠিত করতে উর্দু ছাড়া আর গতি নেই—এই সামন্ত মনোভাবটিই ছিল উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করার প্রধান যুক্তি। উর্দুকে ঘৃণা করে নয়, বরং ঐ মানসিকতার শাসকদের উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার ইচ্ছাকে মেনে নিতে অস্বীকার করে বাঙালিরা সামস্ত সংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাসকে ঝেড়ে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে যা ছিল একটি ভাষাগোষ্ঠী মধ্যবিত্তের আত্মবিকাশের আকাঙ্ক্ষা ২১ ফেব্রুয়ারিতে এসে তাই ব্যাপ্তি পেল সামন্ত ধারণাকে ছুড়ে ফেলার সংকরে। উর্দু ভাষার প্রতি আগ্রহ এবং এই ভাষার সাহিত্যে অনুরাগ হল মানবিক প্রবৃত্তি। আর উর্দুর প্রতি আনুগত্য হল সামন্ত-সংস্কার। ২১ ফেব্রুয়ারি এই সংস্কার ও দাসত্বকে প্রত্যাখ্যান করার প্রেরণা। ধর্মের দড়িতে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ঐক্যবদ্ধ করার পশ্চাৎপদ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন সামন্ত তৎপরতাই হল পাকিস্তান রাষ্ট্রের দার্শনিক ভিত্তি। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি এই রাষ্ট্রের দর্শন আর ব্যবস্থার ওপর মানুষের আনুগত্যকে পরিণত করেছে সন্দেহে, সন্দেহ পরিণত হয়েছে অবিশ্বাসে, অবিশ্বাস পরিণত হয়েছে সম্পূর্ণ অনাস্থায় এবং এই অনাস্থাকে ২১ ফেব্রুয়ারি রূপ দিয়েছে ঘৃণায় ও ক্রোধে। তাই দেখা গেছে, ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত অনেকেই ২১ ফেব্রুয়ারির মূল স্রোতধারা থেকে ছিটকে পড়েছেন। ২১ ফেব্রুয়ারির গতির সঙ্গে পা ফেলে অনেকে চলতে পারেননি। এর তাপ সহ্য করতে না-পেরে অনেকেই আড়ালে পড়ে গেছেন। আজকাল কাউকে কাউকে আক্ষেপ করতে দেখা যায় যে কারাবরণ থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলনে অনেক তৎপরতা থাকা সত্ত্বেও এই আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁরা উপেক্ষিত। তাঁদের উল্লেখ অবশ্যই থাকবে, কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারির গতি ও তাপের সঙ্গে তাঁরা সামঞ্জস্য রাখতে পারেননি বলে ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁদের রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। ইতিহাস থেকে তাঁরা গড়িয়ে পড়েছেন ঘটনাপঞ্জির স্তূপে। কোনো এককালে আন্দোলনের মস্ত বড় নেতা হলেও এই অবস্থা থেকে তাঁরা উদ্ধার পেতে পারেন না।

    ২১ ফেব্রুয়ারি ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায় যতটা তার চেয়ে তার অনেক বড় গৌরব-ইতিহাস নির্মাণে। ১৯৫২ সালে এই ইতিহাস নির্মাণের সূত্রপাত এবং আজ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত তা ইতিহাস-নির্মাণ এবং সৃষ্টি করেই চলেছে।

    ইতিহাসের সৃষ্টির এই গতিধারায় কোনো আপোসকে ২১ ফেব্রুয়ারি সহ্য করে না। বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ কখনোই এর চরম লক্ষ্য ছিল না। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাকিস্তান আমলেই পাওয়া গিয়েছিল.। পশ্চিম বাংলার অনেক লেখকের ধারণা পাকিস্তানে বাংলা ভাষাকে লুপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। এই ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। বাংলাদেশ সৃষ্টির আগে পাকিস্তান ছিল পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে রাষ্ট্রভাষা ছিল বাংলা। পশ্চিম বাংলায় হিন্দির যে দাপট এখন লক্ষ করা যায় পাকিস্তানে কোনো সময়েই’ পূর্ব বাংলায় উর্দু তার কাছাকাছি অবস্থান লাভ করতে পারেনি। এজন্য ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল অতন্ত্র প্রহরী। কিন্তু আবার বলি, ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করে ২১ ফেব্রুয়ারি ফুরিয়ে যায়নি। পরে পাকিস্তান যখন একটি আধুনিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া অবলম্বন করছিল, এই পুঁজিবাদীকে রক্ষার জন্য সাম্রাজ্যবাদের লেলিয়ে দেওয়া ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী যখন রাষ্ট্র কর্তৃত্ব কবজা করেছিল তখন তার বিরুদ্ধে প্রধান প্রেরণা এসেছে ২১ ফেব্রুয়ারির কাছ থেকেই। ১৯৫৮ সালের পর রাজনীতি যখন বন্ধ, প্রতিরোধের সমস্ত পথ রুদ্ধ করার আয়োজন চলছে একটির পর একটি, তখনও প্রতিবাদী মানুষ নীরবে হাজির হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারির জমায়েতে : ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের মধ্যেই প্রতিরোধের সংকল্প ঘোষিত হয়েছে। অনেকে মনে করেন যে, পাকিস্তানে সামরিক শাসন না-হলে এবং সংসদীয় রীতির শাসনব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে দেশটা টিকে যেত। না, টিকত না। ১৯৫২ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি যতবার এসেছে দেশবাসী ততবার নিজেদের আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধানে আরও গভীরভাবে নিয়োজিত হয়েছে, এই গভীর আত্মানুসন্ধান কোনোরকম রাষ্ট্রীয় গোঁজামিল সহ্য করতে পারে না। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফা মেনে নেওয়া হলে একটি শিথিল কেন্দ্র পাকিস্তানের আয়ু হয়তো আরও কয়েক বছর বাড়লেও বাড়তে পারত। কিন্তু, কিছু বাঙালি রাজনীতিবিদদের ক্ষমতালাভ, বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক আমলাদের পদোন্নতি, কয়েকজন বাঙালি ব্যবসায়ীর বড় শিল্পপতিতে রূপান্তর, এমনকী কিছু বুদ্ধিজীবীর তৃপ্ত প্রতিষ্ঠার পরও ২১ ফেব্রুয়ারির অনুসন্ধানবৃত্তিকে ধ্বংস করা যেত না। বুর্জোয়া শোষণকে প্রতিরোধ করার জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি স্ফুলিঙ্গের চেহারা গ্রহণ করত। ১৯৬৯ সালকে তখন হয়তো দুই-এক বছর ঠেকিয়ে রাখাও সম্ভব হত, কিন্তু পাকিস্তানের নতুন প্রভুদের বিরুদ্ধে মানুষের রুখে দাঁড়ানো আটকাবার সাধ্যি কারও হত না।

    এর প্রমাণ পাওয়া যায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরও ২১ ফেব্রুয়ারির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে দেখে। যে বিপুল সম্ভাবনা ও স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের জন্ম, জন্মের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তার নিদারুণ বিনাশে মানুষ যখন হতাশ ও বিচলিত, ২১ ফেব্রুয়ারির স্ফুলিঙ্গই তখন তাকে ফের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার শক্তি দেয়। ২১ ফেব্রুয়ারি বরাবরই ঘোরতরভাবে প্রতিষ্ঠানিকতা-বিরোধী। পাকিস্তান আমলেই দেখেছি যে, রাষ্ট্র কখনো কখনো ছোঁৎ ছোঁৎ করে এগিয়ে এসেছে তাকে নিজেদের গতরের অংশ করে নেওয়ায় লালসায়। একটি প্রাদেশিক সরকারের উদ্যোগে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়, একটি সামরিক সরকারের আমলে তার খানিকটা সম্প্রসারণ ঘটে। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ এর সবটাই কবজা করে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে, আজও তারা সেই চেষ্টায় ক্ষান্ত দেয়নি। এতে একুশে ফেব্রুয়ারির তেজ ও শক্তি কিছুক্ষণের জন্য চাপা পড়লেও তার স্বভাবের প্রবণতা অনুসারেই সে আবার ঠিক স্বমূর্তিতে প্রকাশিত হয়। মানুষকে আবার নতুন সংগ্রামে উদ্দীপ্ত করার ভার সে নিজেই হাতে তুলে নেয়।

    একুশে ফেব্রুয়ারি আজ চল্লিশে পা দিল। প্রৌঢ়ত্বের ছাপ তাকে এতটুকু স্পর্শ করেনি। প্রথমদিকে তার সঙ্গে ছিল এমন অনেকে আজ আড়ালে চলে গেছে, একুশে ফেব্রুয়ারি এখন নতুন প্রজন্মের প্রেরণা। চল্লিশ বছর পরও ২১ ফেব্রুয়ারির দায়িত্ব এখনও কিছুমাত্র লাঘব হয়নি। শোষণ ও নির্যাতন, ভক্তি ও আনুগত্য এবং কুসংস্কার ও পশ্চাৎমুখীনতার বিরুদ্ধে যে-প্রতিরোধস্পৃহা একদিন সে জ্বালিয়ে তুলেছিল আজ আবার সেইসব কালো উপসর্গ একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়ছে। মানুষের সভ্যতাকে, মানুষের ইতিহাসকে এবং মানুষের অগ্রগতিকে রুদ্ধ করে তাকে পেছনপানে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত আজ পৃথিবীতে সবচেয়ে তৎপর। মানুষের সামাজিক অগ্রগতির একটি পর্যায় সমাজতন্ত্রকে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্য শুধু মানুষের গতিকে রুদ্ধ করা নয়, সভ্যতার প্রাণস্পন্দনকেও স্তব্ধ করে দেওয়া। ঘড়ির কাঁটার মতো সমাজবিবর্তনকে বিপরীত দিকে নেওয়ার পরিণতি ঘড়ির অবস্থার মতোই হতে বাধ্য, গতির মতো স্তব্ধ হবে তার স্পন্দন এবং মানবিক বৃত্তির বিকাশ চিরকালের জন্য ঘুরপাক খাবে একটি আলোহাওয়াহীন বৃত্তের ভেতর। এই অবস্থায় যারা উল্লাস বোধ করে তারা হয় মানববিরোধী সাম্রাজ্যবাদের অনুগত গোলাম, নয়তো মানুষের বিবর্তনের সংগ্রাম থেকে অবসর নিয়ে নিরাপদ সুখে বসবাসের জন্য লালায়িত পঙ্গু মানুষ। একই সঙ্গে পৃথিবী জুড়ে মৌলবাদের মচ্ছব কিন্তু কোনো কাকতালীয় ব্যাপার নয়। মৌলবাদ হল ইতিহাসের গতি রুদ্ধ করার এবং সভ্যতার স্পন্দন স্তব্ধ করার ঐ চক্রান্তের ফসল। আমাদের এই ২১ ফেব্রুয়ারির দেশেও এর ধাক্কা এসে লাগে বইকী! কুসংস্কার ও পশ্চাৎমুখীনতাকে রক্ষার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নামে সংগঠিত জানোয়ারদের দ্বারা সংঘটিত নরহত্যা, নারীধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের কীর্তির রেশ কাটাবার পর আমির-ওমরা সেজে ফের বাইরে আসার পাঁয়তারা কষছে। এদের প্রতিহত করার ডাক আমরা জানি ২১ ফেব্রুয়ারির কাছ থেকেই আসছে। দিন যায়, ২১ ফেব্রুয়ারির গতি তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। দিন যায়, ২১ ফেব্রুয়ারির তাপ বাড়তেই থাকে। অনেকে অনেকদূর পর্যন্ত এসেও পেছনে চলে গেছে, অনেকে এই তাপ সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ঝরে পড়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি যৌবনের তেে উদ্দীপ্ত, তার গতিতে সাড়া দেয় নতুন প্রজন্মের মানুষ, তারা তার তাপকে শুধু সহ্যই করে না, বরং এই তাপে জ্বলে ওঠার জন্য উদ্গ্রীব।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্বর্ণমুকুট – গোপেন্দ্র বসু
    Next Article বৃশ্চিক – পিয়া সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026
    Our Picks

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    May 14, 2026

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    May 14, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }