Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    May 14, 2026

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    May 14, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এক পাতা গল্প286 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বুলবুল চৌধুরী

    গ্রিস দেশের একজন লোকের কথা শুনেছি হাজার বছরের আয়ু পেলেও সম্পূর্ণ বাঁচা যার সম্পন্ন হয় না। না, লোকটি গ্রিক পুরাণের কোনো দেবতা বা অনিন্দ্যকান্তি কোনো পুরুষ নয়; ভূমধ্যসাগর বা ঈজিয়ান উপসাগরের দ্বীপ-উপদ্বীপের কোনো কাব্যে তার নাম পাওয়া যায় না। সে একেবারেই একালের মানুষ, তার জন্ম ও বৃদ্ধি একটি উপন্যাসের মধ্যে। নাম জোবরা, ‘জোরবা দি গ্রিক বললে অনেকেই চিনবে। আধুনিক গ্রিক কথাশিল্পী নিকোস কাজানজাকিসের শক্তসমর্থ আঙুলের পেষায় লোকটি এমন সাংঘাতিক মজবুত হয়ে গড়ে উঠেছে যে, মনে হয় তার পূর্বপুরুষ প্রমিথিউস কী একিলিসের সঙ্গে শতাব্দীর পর শতাব্দী হেসেখেলে কাটিয়ে দিলেও তার শরীরে এতটুকু চিড় ধরবে না।

    খুব বিচিত্রভাবে ও তীব্রভাবে জীবনযাপন করা ছিল তার স্বভাব। নানারকম পেশায় নিয়োজিত ছিল : কখনো খনিতে কাজ করেছে, কখনো মালপত্র ফেরি করে বেড়িয়েছে; আবার কামারের কাজ করতে করতে হাপরের টানে নিজেই জ্বলে উঠেছে আগুনের শিখা হয়ে; সমুদ্রের নাবিক হয়ে ঢেউয়ের কণায় চড়ে সমুদ্রকে গেঁথে নিয়েছে বুকের সঙ্গে; জোবরা কখনো প্রেমিক ছিল, কখনো ছিল বিপ্লবী। প্রতিটি পরতকে সে উপভোগ করেছে, প্রতিটি মুহূর্তকে অনুভব করেছে তীব্রভাবে। উপভোগ ও অনুভব করার ক্ষমতা তার স্বভাবের অন্তর্গত। তার স্বভাবে আর কী ছিল? তার সমস্ত অনুভূতিকে জোরবা তুলে ধরতে চাইত মানুষের কাছে। কথা বলায় তার ক্লান্তি নেই, আবার বলার জন্য কথারও তার শেষ নেই। কিন্তু কথা দিয়ে তার অনুভূতির কতটা বোঝাবে? তার বিশাল আনন্দ, তার গভীর বেদনা ও উপলব্ধি বোঝাবার জন্য ভাষা যখন কুলাত না জোরবা তখন কী করত? জোরবার পা জোড়ায় তখন ডানা গজাত, কেবল জিভ ও কণ্ঠের ওপর ভরসা না-করে সমস্ত দেহপট সে তুলে ধরত বন্ধুর সামনে। জোরবা তখন নাচত। বাক্যকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে জোরবা তখন হাত পাতত নিজের শরীরের কাছে। নাচ তার কাছে কেবল প্রকাশের একটি মাধ্যমমাত্র নয়, তীব্র ও গভীর মুহূর্তগুলো অসহনীয় হয়ে উঠলে নিজের ভেতরকার প্রবল কম্পন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য নাচই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়। তিন বছর বয়সের ছেলে মারা গেলে স্তম্ভিত হয়ে বসে ছিল জোরবা। মাথার ভেতর শোক যখন কেবলি ভারী থেকে আরও ভারী হয়ে নামল, পুত্রের মৃতদেহের সামনে সে তখন নাচতে শুরু করল। নাচতে না পারলে তার মগঞ্জ তখন ফেটে চৌচির হয়ে যেত, পাগল হওয়া ছাড়া তার তখন আর গত্যন্তর ছিল না। আমাদের যেমন হাসি কী কান্না, কারও কারও যেমন সঙ্গীত কী কবিতা, কারও কারও যেমন ছবি কী অভিনয়, জোরবার তেমনি ছিল নাচ।

    এই জোরবা একজন মহৎ শিল্পীর বিরল সৃষ্টি। বুলবুল চৌধুরীর সঙ্গে তার পার্থক্য এই যে বুলবুল চৌধুরী নিজেই নিজের সৃষ্টি, তিনি নিজেই শিল্পী, শিল্পও তিনি। তিনিই জোরবা, কাজানজাকিসও তিনি নিজে। মানুষের অস্তিত্বের মূল সত্যটির অনুসন্ধান ও তার প্রকাশ-এই দুটোই ছিল তাঁর জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অস্তিত্বের সারাৎসারের জন্য অনুসন্ধান তাঁর সমস্ত জীবনব্যাপী, একদিনের জন্যও থেমে থাকেনি। প্রকাশের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত মাধ্যম ভাষাকেও তিনি ব্যবহার করেছেন, একটি উপন্যাস ও কয়েকটি গল্প লেখা ছাড়াও নাটক লেখার উদ্যোগও তিনি নিয়েছিলেন। নাট্যমঞ্চে অনেকবার এসেছেন, একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। কিন্তু জোরবার মতো তাঁকে সবসময় ও শেষ পর্যন্ত ধরনা দিতে হয়েছে নৃত্যের পরম মাধ্যমটির কাছে। বাংলার মুসলমান সম্প্রদায়ে তাঁর জন্ম, এই শতাব্দীর তিরিশের দশকে গান গাইলেও সেখানে পাপ। আর নাচ? শরীরকে যেভাবে পারো অস্বীকার করো— মুসলমান ভদ্দরলোকদের প্রধান ব্যায়াম তখন এই। সেই সম্প্রদায়ের মানুষ হয়ে রশীদ আহমদ চৌধুরী নিজের সত্য-অনুসন্ধান ও উপলব্ধি-জ্ঞাপনের জন্য বেছে নেন শরীরের বেহায়া প্রদর্শনী। এতে তাঁর অসাধারণ সাহসের পরিচয় পাওয়া যায়—এতে সকলেই নিশ্চয়ই একমত। কিন্তু এই সাহসের কাজটি বুলবুল চৌধুরীর কোনো সচেতন উদ্যোগের পরিণতি নয়। মুসলমানসমাজের ধর্মান্ধ গোঁড়ামিকে আঘাত করার জন্য তিনি নৃত্যচর্চা শুরু করেন— এরকম সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর অনুসন্ধান ও অনুভূতি এবং শরীরকে তিনি একটি অখণ্ড সত্তায় সংহতি দিয়েছিলেন, কিংবা আরও সোজা করে বলা যায় যে, তাঁর গভীর ভাবনাবোধ থেকেই চেতনা ও শরীর একাত্মতা লাভ করেছিল। আফ্রিকায় কোথাও কোথাও সাপের পূজার প্রচলন রয়েছে—পূজারিরা মনে করে যে যাবতীয় পশুপাখি মাটিকে স্পর্শ করে কেবল পা দিয়ে, আর সর্বাঙ্গে অনুভব করে বলে সাপ নাকি পৃথিবীকে অনেক ঘনিষ্ঠভাবে চেনে। জীবন ও অস্তিত্বের মূল সত্যটিকে স্পর্শ করার জন্য বুলবুল চৌধুরী যেমন নিবিড় অনুসন্ধান চালান এবং যেভাবে তাকে অনুবর করেন তার প্রকাশের জন্য ভাষা বা নাট্যমঞ্চ বা পর্দা তাঁর কাছে যথেষ্ট বিবেচিত হয়নি। অনুসন্ধান-জ্ঞাপনের জন্য তাঁর দরকার পড়ে গোটা শরীরের, অন্য কোনো মাধ্যম সেখানে অল্প ও অসম্পূর্ণ।

    তাই পশ্চাৎপদ ও ধর্মান্ধ সমাজের পটভূমিতে এরকম অমিত সাহসকে বিশেষভাবে প্রশংসা করার দরকার নেই। যিনি নিজের সমস্ত দেহকে ব্যবহার করেন নিজের জিজ্ঞাসাকে জ্ঞাপন করার জন্য তাঁর রক্তে এই সাহস হচ্ছে একটি মৌল উপাদান। এজন্য তাঁর আলাদা কোনো প্রস্তুতির দরকার পড়েনি। আদ্যোপান্ত শিল্পস্বভাব হলেও বুলবুল চৌধুরী স্বভাব-শিল্পী নন। প্রকৃতি ও জীবনে অবিরাম গতি সঞ্চার করে চলেছে যে তরঙ্গ নৃত্যে তারই সংহত রূপ দেখা যায়। সংহত তরঙ্গের সাহায্যেই নৃত্যশিল্পী মানুষের মধ্যে রসসঞ্চারের চেষ্টা করেন। রসসৃষ্টির মধ্যে নৃত্যকে সীমাবদ্ধ না রেখে বুলবুল চৌধুরী এর সাহায্যে জীবন সম্পর্কে নিজের জিজ্ঞাসা ও উপলব্ধি-প্রকাশের আয়োজন করেন। আনুষ্ঠানিক নৃত্যশিক্ষার সুযোগ তিনি পাননি। তাতে শাপে বর হয়েছে এই যে, মুদ্রার কসরত প্রদর্শনীকে তিনি নৃত্যশিল্পের চরম লক্ষ্য বলে বিবেচনা করেননি। বরং মানুষের আনন্দ-বেদনার অনুসন্ধানকে স্পষ্ট রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেন।

    কলকাতায় তাঁর প্রথম নৃত্যপ্রদর্শনী বেকার হোস্টেলের একটি অনুষ্ঠানে। প্রেসিডেন্সি কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্র, তখন তাঁকে পরিপূর্ণ যুবক বলাও মুশকিল, সেই নৃত্যে একজন ব্যাধের পাখিশিকারের প্রচেষ্টা ও তার সফলতা এবং ব্যর্থতার মধ্যে বুলবুল চৌধুরী নিজের অজ্ঞাতেই জীবনের একটি অতিপরিচিত সত্যকেই নতুনভাবে তুলে ধরেন। হাফিজের স্বপ্ন কী ইরানের এক পান্থশালা কী ব্রজবিলাস প্রকৃতপক্ষে মানুষের স্বপ্নময়তার সঙ্গে বাস্তবের সংঘাতকেই জানাবার একেকটি সফল প্রচেষ্টা। এইসব নৃত্যে বিক্ষুব্ধ ও ক্লান্ত চিত্তকে সর্বাঙ্গে জ্ঞাপন করার জন্য তিনি বড় বেশি উদ্গ্রীব। এখানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তিনি ব্যবহার করেন ধ্রুপদরীতি, প্রচলিত মুদ্রা ও আঙ্গিকেই তাঁর রোমান্টিক চেতনা তাৎপর্যময় হয়ে ওঠে। তাঁর প্রতিটি কাজে উপমহাদেশের ধ্রুপদ নৃত্যকলা কেবল আমেজসৃষ্টির পর্যায়কে অতিক্রম করে যায়, দর্শক সেখানে নিজের গভীর ভেতরটিতে বড় উদ্বেলিত বোধ করে।

    কেবল এই রোমান্টিক তৎপরতার মধ্যে নিয়োজিত থাকলেও বুলবুল চৌধুরী বড় শিল্পী বলে বিবেচিত হতেন। কিন্তু অস্তিত্বের গভীরে মহৎ খোঁড়াখুঁড়ি থেকে তিনি দেখতে পান যে মানুষের আনন্দ-বেদনা বা দুঃখ-ক্ষোভের অনেক ভেতরে রয়ে গেছে সমাজব্যবস্থার অবাঞ্ছিত কাঠামো। কাঠামোটি নির্মিত হয়েছে কিছু বদমাইশ ও শয়তান মানুষের কারসাজির ফলে। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, মহামারি প্রভৃতি উপসর্গ এরই উৎপাদন। এই উপলব্ধিকে রূপ দেওয়ার তাগিদে রচিত হয় মহাবুভুক্ষা বা ব্ল্যাক আউট। এখানেও কিন্তু ভারতীয় ধ্রুপদ নৃত্যের কলা ও আঙ্গিক অনুসরণ করা হয়েছে। কিন্তু ধ্রুপদ নৃত্য রস সঞ্চারের সাহায্যে মানুষের মধ্যে আমেজ সৃষ্টি করে। বুলবুল চৌধুরী তাকেই তরঙ্গায়িত করলেন মানুষের মধ্যে সাড়া জাগাবার জন্য। তাঁর শিল্পকর্ম তাই কেবল কোমল ও পেলব প্রবৃত্তির অনুরণনের মধ্যে শেষ হয়ে যায় না। বরং, অনেক ভেতরে ঢুকে মানুষকে তিনি হাত ধরে নিয়ে গেছেন এমন একটি খাড়া জায়গায় যেখান থেকে সে তার নিজের অবস্থান সম্পর্কে বিচলিত বোধ করে এবং ভাবনায় উদ্বেলিত হয়। মানুষের নিদারুণ অপমান ও গ্লানি এবং এরই মধ্যে বাঁচবার জন্য মানুষের নিরন্তর সংগ্রামের দিকে চোখ না মেলে মানুষের তখন আর কোনো উপায় থাকে না।

    সুকুমার প্রবৃত্তির কোমল আন্দোলন ও সামাজিক পটভূমিতে মানুষকে দেখার প্রচেষ্টা— উভয়ক্ষেত্রে ভারতীয় নৃত্যের ধ্রুপদরীতিকে তিনি স্পষ্ট আকার দিতে সক্ষম হন। নৈপুণ্য ও কসরতের সাহায্যে আমেজ ধরিয়ে যাঁর বিলুপ্তি ঘটত তাঁর শরীরে এসে তা-ই হয়ে উঠল মহৎ শিল্পীর উপলব্ধি প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম।

    ব্যক্তি ও সমাজের আনন্দ-বেদনা-সংকটের মূল ভিত্তিটির খোঁজে বেরিয়েছিলেন বলে বুলবুল চৌধুরীর পক্ষে কেবল ধ্রুপদরীতির ওপর নির্ভর করে বসে থাকা সম্ভব হয়নি। সংস্কৃতির নানা স্তরে তাঁকে অভিযানে বেরুতে হয়। পাশ্চাত্য নৃত্যকলার ভিত্তিতে সেখানকার লোকনৃত্যের প্রভাবে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু তার আগেই তাঁর দৃষ্টি পড়ে নিজেদের লোকসংস্কৃতির দিকে। আমাদের দেশের শ্রমজীবী মানুষ নিজের নিজের পেশায় কাজ করার সময় সেখানে সৌন্দর্য ও রসসঞ্চার করে আসছেন। ভদ্রলোকদের সংস্কৃতিচর্চা হল মনোরঞ্জনের উপায়, আর শ্রমজীবীর সৌন্দর্যসৃষ্টি তাঁর পেশার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাঁদের গান কী কথা বলবার ভঙ্গি কী কাজের ভেতরকার ছল কোনোটাই পেশার সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো উটকো ব্যাপার নয়। লোকসংস্কৃতি তাই যে কেবল শ্রমজীবীদের জীবনযাপনের অংশ তা-ই নয়, তা তাঁদের জীবনধারণেরও একটি উপাদান। পেশার সঙ্গে সংস্কৃতির এই অবিচ্ছিন্নতার কারণেই হাজার বছরের লুণ্ঠন ও শোষণ সত্ত্বেও নিম্নবিত্ত শ্রমজীবীর মধ্যে সংস্কৃতিচর্চা আজও অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের জীবনযাপনের মান আগেও কোনোদিন ভালো ছিল না, যতই দিন যাচ্ছে ততই তা আরও নিচে নামছে। তাঁদের সংস্কৃতিচর্চাও একই পর্যায়ে রয়ে গেছে, এতে নতুন ধারা সংযোজিত হয় না। কিন্তু প্রতিভাবান শিল্পীর হাতে লোকসংস্কৃতি নমুন মাত্রা পায়, নতুন ব্যঞ্জনায় তা উদ্ভাসিত হয় এবং এইভাবে সংস্কৃতি উন্নীত হয় শিল্পকর্মে। আমাদের দেশে আদিবাসী সম্প্রদায়সমূহ ছাড়া লোকনৃত্যের তেমন প্রচলন নেই। কিন্তু বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত শ্রমজীবী মানুষের কাজের মধ্যেই নৃত্যের তরঙ্গ বার করতে বুলবুল চৌধুরীকে বেগ পেতে হয়নি। জেলের জাল ফেলবার ভঙ্গি, চাষির লাঙল চষা কী মই দেওয়া, নৌকা-বাইবার সময় মাঝির হাতের ব্যবহার—এ-সবের ভেতরকার ছন্দ একজন শিল্পীর হাতে অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে। এমনকী ক্ষমতার গুণে শিল্পী এর সাহায্যে তাঁর বক্তব্যও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।

    অস্বীকার করা যায় না যে লোকসংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ শিক্ষিত মানুষের মধ্যে দিনদিন বাড়ছে। এঁরা প্রায় সবাই লোকসংস্কৃতির ব্যাপক প্রদর্শনীতে আগ্রহী। ব্যাপক প্রদর্শনীতে লোকসংস্কৃতি খুব পরিচিতি পায়। এটা হল সংরক্ষণের কাজ। কিন্তু কেবল সংরক্ষণের দিকে মনোযোগ দিলে সংস্কৃতির বিকাশ ও বিবর্তন ঘটে না, তা হয়ে পড়ে প্রাণহীন, নির্জীব স্থিরচিত্রের মতো, তা হয়ে থাকে জাদুঘরের সামগ্রী। লোকসংস্কৃতির অবিকল সংরক্ষণ করার কাজটিকে সৃজনশীল শিল্পী তেমন গুরুত্ব দেন না, অন্তত এই কাজের ভার তিনি গ্রহণ করেন না। একে তিনি ব্যবহার করেন, নতুন মাত্রা দিয়ে একে গতিশীল ও প্রাণবন্ত করে তোলাই তাঁর দায়িত্ব। চট্টগ্রামের চাকমা নাচ কী ময়মনসিংহের গারো নাচ, এমনকী অনেক পরিণত মণিপুরী নৃত্য ঢাকার মহাবোদ্ধা ও বিজ্ঞ দর্শকদের সামনে প্রদর্শন করার মধ্যে সৃজনশীলতার পরিচয় নেই, এই তৎপরতাকে সংস্কৃতিচর্চার অতিরিক্ত মূল্য দেওয়াটা বাড়াবাড়ি। মানুষের সুকুমার প্রবৃত্তির আবেগময় প্রকাশের জন্য ভারতীয় ও ইরানি পুরাণ ও গাধা ব্যবহার করে বুলবুল চৌধুরী তাকে শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত করেন। আর, লোকসংস্কৃতি তাঁর কাছে লাভ করে নতুন মাত্রা; তিনি একে গতিশীল করেন এবং শিক্ষিত ভদ্রলোকের চোখে যা ছিল কেবল কয়েকটির অভ্যাস তার সাহায্যেই তিনি সামাজিক কাঠামোর অনাচারগুলো তুলে ধরেন। এই ক্ষেত্রে তাঁর কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই বুলবুল চৌধুরীর মৃত্যু হয়, কিন্তু নৃত্যকলায় লোকসংস্কৃতির এরকম ব্যাপ্তি এই উপমহাদেশে আর কেউ দিতে পেরেছেন বলে মনে হয় না।

    আমাদের শিল্পসৃষ্টির সমগ্র ক্ষেত্রটি আজ একঘেয়ে ও প্রাণহীন। আমাদের কবিতার একটি মান তৈরি হয়েছে—এতে কোনো সন্দেহ নেই। আজকাল মোটামুটি পাঠযোগ্য কবিতার সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ছল, শব্দ, বাক্য, প্রতীক, উপমা, রূপক প্রভৃতি এমনভাবে তৈরি হয়ে আছে যে কলমের একটু ব্যায়াম করতে পারলে একটি কবিতা মোটামুটি দাঁড় করানো চলে। প্রেম, ভালোবাসা, এমনকী প্রতিবাদের ভাষা পর্যন্ত প্রস্তুত। কেউ যদি এসবের মধ্যে নিজেকে ফিট করিয়ে নিতে পারেন তা ভাবনার কিছু নেই, কবিতা আপনা-আপনি বেরিয়ে আসে। ফলে বাংলা কবিতা এখন শিল্পের আনন্দ ও কম্পন, বেদনা ও ভার এবং সংশয় ও সংকল্প থেকে বঞ্চিত। নৃত্যকলা, সংগীত, নাটক, উপন্যাস ও চিত্রকলা সম্বন্ধেও এই কথা প্রযোজ্য। বহুপ্রচলিত গান কী ছড়ার মতো, মিনাবাজারে প্রদর্শিত এমব্রয়ডারির মতো, ড্রয়িংরুমে ঝোলানো পাটের শিকা কী রঙ-করা-কুলার মতো কিংবা সায়েবসুবোর বৌ-ঝিদের চাইনিজ-রান্নার মতো শিল্পচর্চা আজ শৌখিন সংস্কৃতিচর্চায় পর্যবসিত হতে চলেছে।

    বুলবুল চৌধুরী, হ্যাঁ, এখনও পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, কেবল বুলবুল চৌধুরীই এই অবস্থা থেকে আমাদের শিল্পচর্চাকে উদ্ধার করতে পারতেন। ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানের বাংলাভাষীদের মধ্যে শিল্পচর্চার যথার্থ সৃজনশীলতাকে উজ্জীবিত করার ক্ষমতা ছিল কেবল তাঁরই। সেই সময় আমাদের এখানে প্রজ্ঞাসম্পন্ন মানুষ যে ছিলেন না, তা নয়। দেশের শিল্পসংস্কৃতির যথার্থ ঐতিহ্য ও অবস্থান সম্বন্ধে তাঁদের রচনা ও উক্তি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত হতে মধ্যবিত্তসমাজকে সাহায্য করেছে। আবেগকে সম্বল করে মানুষের জীবনযাপন ও আনন্দ-বেদনাকে রূপ দেওয়ার জন্য অনেকেই তৎপর হয়েছে। কিন্তু সমাজ, মানুষ ও ব্যক্তিকে গভীরভাবে জানবার জন্য সামগ্রিক ও স্বচ্ছ দৃষ্টি ছিল কেবল বুলবুল চৌধুরীর। কোনো তত্ত্ব প্রয়োগ না করে, কিংবা তরল ও শিথিল আবেগের দ্বারা তাড়িত না-হয়ে জীবনের প্রতি সশ্রদ্ধ ও সতর্ক পর্যবেক্ষণের দ্বারা তিনি এই দৃষ্টি অর্জন করেছিলেন। সমাজসংস্কারের প্রবণতা তাঁর মধ্যে কম, বোধহয় নেই বললেই চলে; বরং তাঁর শিল্পসৃষ্টির যে-বিবর্তন দেখা যাচ্ছিল তাতে বোঝা যায় যে তাঁর নিরঙ্কুশ আস্থা ছিল কেবল বিপ্লবেই। এর ফলে আঙ্গিক ও বিষয় তাঁর কাছে বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, ধ্রুপদরীতির ব্যবহারের সময় সামন্ত আমেজকে পাত্তা দেননি। নিজের উপলব্ধির যাতে জলাঞ্জলি না ঘটে সেদিকে প্রখর দৃষ্টি রেখেছেন। শিল্পের সবগুলো মাধ্যম তাঁর চোখে অবিচ্ছিন্ন। তিনি জানেন : সবকিছুর উৎস মানুষের চেতনা। লোকসংস্কৃতির নমুনা গ্রাম থেকে শহরে বহন করে আনার সংগ্রাহকের কাজ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বরং, শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাপনের মধ্যে যে-ছন্দ, তাদের কাজকর্মের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন যে-সংস্কৃতি – নিজের জিজ্ঞাসাজ্ঞাপনের জন্য তার প্রয়োগের মধ্যে তাকে শিল্পের মহিমা অর্পণ করেছেন। আবেগ ও বিশ্লেষণ, অনুভূতি ও প্রজ্ঞাকে বুলবুল চৌধুরী নিজের অনিন্দ্যকান্তি দেহে স্রোতস্বিনী করে তুলেছিলেন। তাই বিশ্বাস করি : আমাদের শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে বরফ গলাবার তাপ তিনিই দিতে পারতেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্বর্ণমুকুট – গোপেন্দ্র বসু
    Next Article বৃশ্চিক – পিয়া সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026
    Our Picks

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    May 14, 2026

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    May 14, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }