Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    May 14, 2026

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    May 14, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এক পাতা গল্প286 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উপন্যাস ও সমাজবাস্তবতা

    কথাসাহিত্যচর্চার সূত্রপাত মানুষ যখন ব্যক্তি হয়ে উঠছে এবং আর দশজনের মধ্যে বসবাস করেও ব্যক্তি যখন নিজেকে ‘একজন’ বলে চিনতে পারছে তখন থেকে। স্ফীতকায় ধর্মকে কাটছাট করে তাকে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছিল মানুষের ঘরে, সঙ্গে সঙ্গে পরকালও সরে যাচ্ছিল সমাজের আড়ালে, ধর্মের ভয় দেখিয়ে কাউকে বাগ মানানো যাচ্ছিল না। রাজা থাকলেও রাজ্যের প্রধান শক্তি বলে তিনি আর বিবেচিত হচ্ছিলেন না, তাঁকে ছাড়িয়ে মাথাচাড়া দিচ্ছিল নতুন নতুন রাষ্ট্রযন্ত্র। রাষ্ট্রই তখন সংগঠিত শক্তি, সমাজের গহিন ভেতরটাও চলে আসছিল তার হাতের নাগালে। এই হাত যে দরাজ তা বলা চলে না, তবে সামন্ত দরজার জগদ্দল পাথরের ছিটকিনি খোলার জন্য তার আঙুলগুলো বেশ শক্ত। সামন্ত দরজা ভেঙে পড়ায় সমাজের ক্ষমতা ও দায়িত্বের সঙ্গে তার অধিকারের সীমানা ক্রমে ছোট হয়ে আসছে। ধর্ম বা রাজাকে ডিঙিয়ে ব্যক্তি তখন নিজের বিকাশ ঘটাবার মহা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    কবিতায় তখন থেকে ব্যক্তি চাইল নিজেকে শনাক্ত করতে। কিন্তু পুরনো আয়নায় যে-চেহারা আসে সেখানে নিজের মুখ আলাদা করে ঠাহর করা মুশকিল। ফ্রানচেস্কো পেত্রার্কা তাই নতুন একটা কাব্য-প্রকরণের অনুসন্ধান করেন যা প্রকৃতপক্ষে সামন্ত আমলের সুনির্ধারিত ও কঠিনভাবে শাসিত ফর্ম থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা। নিজেকে জানান দেওয়ার জন্য এই ফর্ম ভাঙার ফর্মের আশ্রয়। এই নতুন প্রকরণটিও আঁটোসাঁটো; নির্দিষ্টসংখ্যক পক্তি, অষ্টক ষষ্ঠক, উপস্থাপন ও বিশ্লেষণের জন্য এলাকা ভাগ প্রভৃতি নিয়মকানুনের শাসন সেখানেও রয়েছে। এর কারণ হল এই যে, শিল্পের জগতে রাতারাতি পরিবর্তন আসে না। এই আপাতবন্ধন সত্ত্বেও সামস্তবোধ-শাসিত মানুষের চেয়ে ব্যক্তির ডানা ঝাপটাবার সুযোগ এখানে অনেক বেশি। নির্দিষ্ট নিয়মকানুনের ভেতর বাঁধা থাকলেও ব্যক্তি এখানে নিজের মতো করে নিশ্বাস ফেলবার সুযোগ পেল।

    কথাসাহিত্য ব্যক্তির মুক্তিপ্রয়াসের আর-একটি উদ্যোগ—আরও ব্যাপক, আরও সংগঠিত এবং আরও দায়িত্বশীল। দায়িত্বশীল বলতে এখানে কর্তব্যপরায়ণতার কথা বলা হচ্ছে না, দায়িত্বশীল মানে এর ঘাড়ে কাজ আরও বেশি, কবিতার চেয়ে এ-পরিধি আরও বিস্তৃত। এক প্রকরণ ছাড়া কবিতার প্রায় যাবতীয় লক্ষণ আত্মসাৎ করেও প্রাথমিক কথাসাহিত্যকে আরও অতিরিক্ত ভার বহন করতে হয়।

    প্রতিভার উর্দির ভেতর বসে কবি নিরাপদে কখনো জ্বলে ওঠেন বন্ধের মতো, কখনো ঘৃণায় বিস্ফোরিত হন, কখনো-বা প্রেমে নুয়ে পড়েন, কখনো-বা বাৎসল্যে স্নিগ্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁর অনুভূতি বা উপলব্ধিকে কবি সম্পূর্ণ নিজের মতো করে প্রকাশ করতে পারেন, তাঁর নিজের স্বভাব ও রুচির পথ ধরে তাঁর অনুসন্ধান চলে। ব্যক্তির প্রবলরকম উত্থানের পর কবির স্বতঃস্ফূর্ততা অনেক বেড়েছে। যে-কোনো শিল্পীর মতো তিনিও স্বেচ্ছাচারী হতে পারেন না, কিন্তু নতুন প্রকরণ তাঁকে এতটা স্বাধীনতা দিয়েছে যে তিনি নিজের জগৎকে গড়ে তুলতে পারেন নিজের রুচিমতো।

    কথাসাহিত্যিক যে কারও অধীনে কাজ করেন তা নয়। শুরু থেকে তিনিও তৎপর ব্যক্তির স্বরূপসন্ধানে। কিন্তু তাঁকে এই কাজটি করতে হয় চারপাশের প্রেক্ষিতকে গুরুত্ব দিয়ে। পেত্রার্কার মতো তাঁরই সমসাময়িক আরেক শিল্পী বোকাচ্চোকেও আত্মপ্রকাশ করতে হয়েছে সামস্ত বরফ গলিয়ে। পেত্রার্কার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব কাকতালীয় নয়, দুজনকে একই ধরনের যন্ত্রণা অনুভব করতে হয়েছে, দুজনের প্রতিবন্ধকতা ছিল একই সামন্ত-দেওয়াল। কিন্তু পেত্রার্কা যেখানে নতুন প্রকরণে নিজের চেতনাকেই প্রাধান্য দিয়ে ব্যক্তির উন্মোচন করার কবোষ্ণ কাজে মগ্ন থাকেন, বোকাচ্চো সেখানে ব্যক্তিকে দেখেন আরও সব মানুষের অবস্থান এবং সমস্ত পরিবেশের ভেতর। তখন লেখক আর কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারেন না, সত্যকে জ্ঞাপন করার জন্য তাঁকে নানা ধরনের মানুষকে তুলে ধরতে হয় যা হয়তো তাঁর রুচি কিংবা তাঁর স্বভাবের সঙ্গে খাপ খায় না। কবির মতো কথাসাহিত্যিকও সত্য-অনুসন্ধানে ব্যাপৃত, কিন্তু কবির দায়িত্ব তার সারাৎসারটি প্রকাশ করা, কিন্তু এই সত্যটি জ্ঞাপন করার জন্য কথাসাহিত্যিককে পরিভ্রমণ করতে হয় বড় দীর্ঘ ও কখনো কখনো অস্বস্তিকর পথ। যে-প্রেক্ষিতে তিনি ব্যক্তির ভেতরটাকে উন্মোচন করেন, বেশির ভাগ সময়েই তা আর যাই হোক রুচিকর নয়; শিল্পীর মার্জিত রুচি বলে যা পরিচিত তাতে তাঁর সায় নেই। কিন্তু কবির মতো এককথায় তিনি কিছু নাকচ বা ঘোষণা করতে পারেন না। ডব্লু. এইচ. অডেনের কবিতায় ঔপন্যাসিককে তাই শ্রদ্ধা অর্পণ করা হয়েছে এইভাবে :

    For to achieve his lightiest wish he must
    Become the whole of boredom; subject to
    Vulgar complaints like love; among the just
    Be just; among the filthy filthy too;
    And in his own weak person, if he can,
    Must suffer dully all the wrongs of man.

    একজন কবি অভিনন্দিত হন ভিন্নভাবে, তাঁকে মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে একটু দূর থেকে পাঠকের কাছে কবি প্রায় ঋষিতুল্য ব্যক্তি, তিনি সর্বজ্ঞ, সত্য উপলব্ধির নির্যাস দিয়ে তিনি জীবন সম্বন্ধে গভীর সত্যটিকে পাইয়ে দেন সবাইকে। কথাসাহিত্যিকের কাজও তাঁর সত্যটিকে প্রকাশ করা। কিন্তু মানুষের জীবনযাপন সেখানে খুব জরুরি, বলতে গেলে সবচেয়ে জরুরি বিষয়। এই জীবনযাপন বেশির ভাগ সময়েই একঘেয়ে, ক্লান্তিকর। এর ভেতরকার স্পন্দনটিকে তাঁকে বার করতে হয়। কান টানলে যেমন মাথা আসে, ব্যক্তির জীবন বলতে গেলে চলে আসে সমাজ। সমাজের বাস্তব চেহারা তাঁকে তুলে ধরতে হয় এবং শুধু স্থিরচিত্র নয়, তার ভেতরকার স্পন্দনটিই বুঝতে পারা কথাসাহিত্যিকের প্রধান লক্ষ্য।

    পেত্রার্কার সনেটে ব্যক্তির যে ক্ষোভ প্রকাশিত হয়েছে তার কারণ রয়ে গেছে সামাজিক কাঠামোর ভেতর, তা কিন্তু আড়ালেই থাকে, সে সম্বন্ধে সরাসরি না-জানলেও পাঠকের চলে। কিন্তু এই ক্ষোভটি গদ্যে জানাবার জন্য জিওবান্নি বোকাচ্চোকে বয়ান করতে হয় সামন্ত-প্রভু ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গ এবং ধর্মগুরু ও তাদের শিষ্যযজমানদের লাম্পট্য ও অনাচারের বিবরণ। ‘আরব্য রজনী তে যা ছিল ব্যাপক কামুকতা, বোকাচ্চিওর হাতে তা-ই হয়ে ওঠে সুবিধাভোগী ও ক্ষমতাবান মানুষের ব্যভিচার। কিছু-কিছু সংস্কারকে ধর্মীয় মূল্যবোধের মর্যাদা দিয়ে দিয়ে অমানবিক প্রথাকে ঐশ্বরিক বিধান বলে ঘোষণা করে কয়েকশো বছর ধরে যারা ব্যক্তির ও সমাজের স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশকে বাধা দিয়ে আসছিল সেই সামন্ত-প্রভু ও পুরোহিত মশাইদের অন্তঃপুরে ব্যাপক তদন্ত চালান তিনি। এই তদন্তের ফল হল ডেকামেরন। একটু রুগ্‌ণতার লক্ষণ থাকলেও কথাসাহিত্যচর্চার এই প্রথম উদ্যোগে সমাজবাস্তবতা অনুভব করা যায়।

    চার শতাব্দীর পর এই তরঙ্গ ওঠে বাংলা ভাষায়। বাংলা সাহিত্যে এই ধরনের কাজ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন কারা? কালীপ্রসন্ন সিংহ, প্যারীচাঁদ মিত্র, দীনবন্ধু মিত্র ও মধুসূদন দত্ত—নতুন কলকাতা শহরের উঠতি ভদ্রলোক ও সামন্ত-প্রভুদের কীর্তিকলাপ মেলে ধরার ব্যাপারে এঁদের কারও প্রচেষ্টাকেই খাটো করে দেখা যায় না। নির্মীয়মান নতুন সমাজ সম্বন্ধে এঁদের মূল্যায়ন যা-ই হোক, এই ব্যাপারে এঁদের সচেতনতা ও মনোযোগ ছিল নিরঙ্কুশ। সমাজের বিকাশ সব সময় এঁদের সকলের সমর্থন পায়নি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এঁদের কারও কারও রক্ষণশীলতা আমাদের ধিক্কারের বিষয়। প্যারীচাঁদ মিত্র বিধবাবিবাহ আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন, এমনকী সতীদাহ নিবারণী আইনে তাঁর সায় ছিল না। নীলদর্পণ-এর উৎসর্গপত্রে ইংরেজ শাসকদের প্রতি দীনবন্ধু মিত্রের ভক্তি দেখে গা শিরশির করে। কিন্তু সমাজের বাস্তবতাকে এঁরা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন এবং সামাজিক পরিবর্তন বা সংস্কারে এঁদের সক্রিয় সমর্থন বা বিরোধিতার কথা তো অস্বীকার করা যায় না। ডেকামেরন লেখার সঙ্গে বোকাচ্চো লেখেন দাস্তের জীবনী; একদিকে ফাঁস করেন সামন্ত-প্রভুদের কাণ্ডকারখানা, আবার ইতালির নতুন প্রাণসঞ্চারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন নিজের হাতে। কালীপ্রসন্ন সিংহ নির্মীয়মান বাঙলা গদ্যে খিস্তিখেউড়ের মণিমাণিক্য গেঁথে কলকাতার সমকালীন বাস্তবতাকে তুলে ধরার সঙ্গে মহাভারতের অনুবাদ করার কাজটিকেও কর্তব্য বলে বিবেচনা করেছিলেন। দেবদেবীর মূর্তিভাঙার যজ্ঞ সম্পন্ন করেন যে-মধুসূদন, সেই মধুসূদনই আবার বুড়ো হাবড়া সমান্ত-পাণ্ডাদের নষ্টামি ও ইতরামোর কথা ফাঁস করেন। এঁদের সবার প্রতিভা একস্তরের নয়, শিল্পকীর্তির মাপও আলাদা। তবু এক নিশ্বাসে নামগুলো বলা হল এইজন্য যে, বাংলা কথাসাহিত্যে সমাজবাস্তবতা তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাটি এঁরাই পালন করেছিলেন এবং প্রায় একসঙ্গে।

    এই তৎপরতা শুরু হতে-না-হতে মুখ থুবড়ে পড়ল। বোকাচ্চোর পর নতুন সমাজবাস্তবতার প্রতিফলন কিন্তু ইউরোপে অব্যাহত ছিল। পরবর্তী লেখকদের হাতে এর রূপ আরও পরিণত, আরও সংহত ও আরও সম্পূর্ণ হতে থাকে। ডেকামেরন-এর আড়াইশো বছর পর লেখা হয় দন কিহোতের মতো খুব উঁচু মাপের উপন্যাস। সামন্ত আমলের পরম শ্রদ্ধেয় গুণ নাইটদের বীরত্বকে এমনভাবে ঠাট্টা করা হয় যে তা হয়ে ওঠে বীরত্বপনা, তার অন্তঃসারশূন্যতা একেবারে অনাবৃত হয়। হাড়জিরজিরে ঘোড়ার আরোহী দন কিহোতে, সাঞ্চো পাঞ্জা হল সেই বীরত্বপনায় অভিভূত সাধারণ মানুষ।

    ট্র্যাজেডির নায়ক রাজা বা রাজপুত্র মানেই যে অবিচল অটল ও স্থিরসংকল্প কোনো ব্যক্তিত্ব নয় সেই কথা জানিয়ে দেন দন কিহোতের সমসাময়িক এক রাজপুত্র। ডেনমার্কের যুবরাজের দ্বিধা, সিদ্ধান্তহীনতা ও দোদুল্যমান চিত্ত কিন্তু কোনো উদ্ভট বা উটকো বিষয় নয়। একিলিস কী হেক্টর কী অডিসিয়ুসের স্বভাবে টলায়মানতা কল্পনা করা যায় না। এই দ্বিধা কিন্তু যতটা হ্যামলেটের তার চেয়েও বেশি ডেনমার্কের যুবরাজের। তাঁর সংলাপে সামন্তসমাজের প্রধান প্রভুদের পাথরের প্রাসাদের চিড় ধরার আওয়াজ। প্রাসাদের ভিত কাঁপিয়ে ঐ সংলাপ ব্যক্তির দিকে আমাদের মনোযোগী করে তোলে। কথাসাহিত্যে সমাজবাস্তবতা এইভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। সমাজ কুঁড়ে ব্যক্তি আসে, সমাজব্যবস্থা তাই রক্তমাংস নিয়ে উপস্থিত হয়। মার্চেন্ট অভ ভেনিস-এ নরনারীর প্রেম আসে সমকালীন বণিকদের দাপট এবং একই সঙ্গে ইউরোপের ইহুদি-বিদ্বেষকে প্রকাশিত করার ভেতর দিয়ে। শেকসপিয়রের নাটকগুলো ছন্দে লেখা, কাব্যগুণ তাদের অসাধারণ, কিন্তু উপস্থাপনা ও বিকাশে উপন্যাসের লক্ষণাক্রান্ত বলে উপন্যাসের আলোচনায় তাদের ঢুকে পড়তে বাধা নেই।

    দন কিহোতে, গালিভার’স ট্রাভেলস, এ টেল অভ টু সিটিজ, ওয়ার অ্যান্ড পিস, ব্রাদার্স কারামোজভ এবং পরবর্তীকালে ফ্যাটিসাইড, নসিয়া বা রাবেলে ব্যক্তির যে-বিকাশ ও পরিণতি তার প্রেক্ষিত সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতি। সমাজবাস্তবতা বলতে লেখকের বক্তব্য কী মতবাদের প্রয়োগ বোঝায় না। একজন রাজভক্ত লেখকের উপন্যাসেও সমাজবাস্তবতা থাকে। শুনেছি, শেকসপিয়র নাকি ম্যাকবেথ লিখেছিলেন স্কটল্যান্ডের রাজা জেমসকে খুশি করার জন্য। প্রতিক্রিয়াশীল বা প্রগতি-বিরোধী লেখকের উপন্যাসেও সমাজ থাকে, সামাজিক বিবর্তন তাঁরা পছন্দ করুন আর না-ই করুন সমাজবাস্তবতাকে এড়িয়ে উপন্যাস লেখা তাঁদের পক্ষেও সম্ভব নয়। একটি সমাজব্যবস্থা ভেঙে যখন আরেকটি ব্যবস্থার নির্মাণ চলছে, উপন্যাস লিখিত হতে শুরু করে তখন থেকে। ঐ ভাঙন ও গঠনের প্রক্রিয়ার ভেতরেই উপন্যাসের জন্মের কারণ রয়েছে বলে ঐ চরিত্র বাদ দিয়ে উপন্যাস কখনো সম্পূর্ণ চরিত্র পায় না।

    কিন্তু আমাদের দেখি আলালের ঘরের দুলাল, হুতোম প্যাঁচার নকশা, সধবার একাদশী কী বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, হাঁটি হাঁটি পা পা করার পর উপন্যাস জোর কদমে চলতে শুরু করতে-না-করতেই ঐ পা দিয়ে সমাজকে সে প্রায় ঠেলে ফেলতে উদ্যত হয়েছে। বাংলা ভাষায় প্রথম সফল উপন্যাস লেখেন বঙ্কিমচন্দ্র এবং যে-লেখাতে তিনি আসর মাত করে দিয়েছিলেন, সেটার ঘটনা তাঁর সময় থেকে তিনশো বছর আগেকার। নিজের সমকালের বাইরে যেতে পারবে না এরকম শর্ত ঔপন্যাসিককে মানতে বাধ্য করা যায় না; একশো বছর আগেকার নেপোলিয়ানের আক্রমণ তা হলে তলস্তয়কে আকর্ষণ করে কেন? সেই প্রেক্ষিত তাঁর সমকালীন সমাজের অবস্থান ও বিকাশকে বুঝতে আরও সাহায্য করে বলে সমকাল ও ভবিষ্যতের সঙ্গে তা যোগাযোগ ঘটাতে সক্ষম। এই ভূমিকাটি পালন করতে না-পারলে পুরনো সময়ের পটভূমি পাঠককে জমকালো কাহিনী ছাড়া আর কী দিতে পারে? দুর্গেশনন্দিনী লেখার উৎস সম্বন্ধে বঙ্কিমচন্দ্রের তাই পূর্ণচন্দ্র যে তথ্য দেন তা থেকে জানতে পারি যে, ছেলেবেলায় তাঁরা তাঁদের খুরপিতামহের কাছে মুসলমান রাজত্ব আমলের গল্প শুনতেন। উপন্যাসটি পড়ে মনে হয় বঙ্কিমচন্দ্র শুধু কেচ্ছার প্রতিই আকৃষ্ট হয়েছিলেন, কাহিনীকে চলমান সমাজজীবনের দলিলে পরিণত করার আকাঙ্ক্ষা তাঁর হয়নি।

    অথচ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর সমকালে তো বটেই, চিরকালের বাঙালিদের মধ্যে একজন বিশিষ্ট সমাজসচেতন মানুষ। ইউরোপীয় ও ভারতীয় দর্শন ও রাষ্ট্রনীতিতে বিশেষভাবে আগ্রহী এবং নিজের দেশ ও সমাজ সম্বন্ধে তিনি একজন স্পর্শকাতর বুদ্ধিজীবী। কৃষককে শোষণ করার জন্য ইংরেজদের প্রবর্তিত বন্দোবস্ত সমর্থন করা সত্ত্বেও বাগুলার কৃষক সম্বন্ধে তাঁর লেখা প্রবন্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমজীবী মানুষের ওপর নির্যাতন ও শোষণের অসামান্য পর্যবেক্ষণের পরিচয় মেলে। ‘সাম্য’ অথবা বঙ্গদর্শন-এর কোনো কোনো সম্পাদকীয়তে সমাজ সম্বন্ধে তাঁর যে-গভীর মনোযোগ ও উদ্বেগ প্রকাশিত হয় তাতে তাঁকে আধুনিক বুর্জোয়া মানুষ বলেই মনে হয়। কিন্তু উপন্যাসে তাঁর এই পরিচয় অনুপস্থিত। উপন্যাসে তিনি প্রধানত কাহিনীকার। রাষ্ট্রীয় সংঘাত দেখাতে হলে চলে যান কমপক্ষে একশো বছর পেছনে এবং সেই সময়কার সমাজবাস্তবতাও সেখানে নেই বললেই চলে। আশ্চর্য আশ্চর্য সব বীরত্বপনা এবং অবিশ্বাস্য প্রেমের ভিয়েন চড়িয়ে তিনি যা প্রস্তুত করেন বাংলা ভাষায় মহা মহা পণ্ডিত সমালোচকরা ভক্তিগদগদ গলায় তাতেই তাঁকে বলনা করেন ‘ঋষি’ বলে। পরে সমকালীন বা প্রায় সমকালীন প্রেক্ষিতে যেসব উপন্যাস লেখেন সমালোচকরা আদর করে সেসবকে বলেন সামাজিক উপন্যাস। কিন্তু সমাজের যে-কোনো ধরনের বিবর্তন তিনি সহ্য করতে পারেন না। বিধবার প্রেম তাঁর দুই চোখের বিষ, দরিদ্র ও অসহায় পুত্রবধূকে বিনা অপরাধে ঘর থেকে দূর করে দেওয়া সত্ত্বেও হৃদয়হীন বিবেকে প্রতিবাদ করার ক্ষমতা না থাকাকে তিনি রায় দেন পিতৃভক্তি ও আদবকায়দার পরাকাষ্ঠা বলে। একটি সম্প্রদায়ের অসহায় মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া দেখে তিনি নির্লজ্জের মতো হাসেন। মহিলাদের সম্মান করতে জানেন না তিনি। মহিলাদের ভাগ করেন তিনি মোটা দুই দাগে : ১ নম্বর ভালো এবং মহা ভালো, ২ নম্বর খারাপ এবং ভীষণ খারাপ। ১ নম্বরে পড়ে তারা যাদের জীবন নিবেদিত পতিদেবতার সেবায়। প্রশ্নের মতো মেয়ে, ভবানন্দ যাকে মনে করেন ইস্পাত, যার ঋজু ও নিঃশঙ্ক স্বভাব যাকে পরিণত করে দেবী চৌধুরাণীতে, যার ব্যক্তিত্বে উদ্দীপ্ত হয় বিপুলসংখ্যক মানুষ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার প্রেরণা পায়, তার জীবন চরম সাফল্য লাভ করে কিসে? –না, কাপুরুষ ও অপদার্থ স্বামীর কাছে আত্মসমর্পণে এবং বদমাইশ, নিষ্ঠুর, অবিবেচক এবং শয়তান শ্বশুরের সেবায়। যারা নিজেদের মনোজগৎ ও আবেগের আহ্বানে সাড়া দেয় তারা হয় খারাপ মেয়েছেলে, তাদের স্বাভাবিক ও বিশ্বাসযোগ্য পরিণতিকে জোর করে ঠেলে রেখে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করেন, শিল্পসৃষ্টির ক্ষমতার তিনি অপব্যবহার করেন তাদের স্বাভাবিক বিকাশকে গলা টিপে ধরার কাজে। সামাজিক বিকাশও তাই তাঁর অনুমোদন পায় না। কিংবা সামাজিক চলমানতাকে এড়িয়ে চলেন বলেই ব্যক্তির বিকাশ তাঁর হাতে বাধা পায়। পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বঙ্কিমচন্দ্র তাই আগাগোড়া কাহিনীকেই প্রধান বিষয় বলে বিবেচনা করেন। তাঁর উপন্যাসগুলো এক-একটি নিটোল সমাপ্তি পায়। সমাপ্তি, মানে একেবারে সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাওয়া সত্তা রূপকথায় ও রহস্য-উপন্যাসে। মানুষের জীবন-প্রবাহকে তুলে ধরা উপন্যাসের কাজ, সেখানে একটি নতুন ইঙ্গিত দিয়ে পরবর্তী সম্ভাবনার ইতিবাচক নেতিবাচক যা-ই হোক না কেন—কথা বলা হয়। এই কারণেই সমাজ, সমাজের চলিষ্ণু চেহারাটি উঠে আসে। মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে যে শেষ হয়ে যায় না, সামাজিক সংগ্রাম ও কর্ম, দ্বন্দ্ব ও বিশ্বাসের ভেতর তার অস্তিত্বের ধারাবাহিকতা রয়ে যায়। সমাজবাস্তববোধের অভাবে বঙ্কিমচন্দ্র ব্যক্তির এই ধারাবাহিকতাকে রক্ষা করতে পারেননি। ঔপন্যাসিকের ইচ্ছাপূরণে সহায়ক এমন নিটোল পরিণতি বঙ্কিমচন্দ্রের বেশির ভাগ উপন্যাসকে বাক্সবন্দি কাহিনীতে পরিণত করেছে। অথচ শ্রেষ্ঠ শিল্পসৃষ্টি সব সময়ই পাঠককে একটি বড় রকমের প্রশ্ন বা কমপক্ষে অস্বস্তির মধ্যে দাঁড় করিয়ে দেয় : পাঠক নিজের ভেতর নতুন করে তাকান। বঙ্কিমচন্দ্রের ব্যতিক্রমী উপন্যাস হল কপালকুণ্ডলা। এখানে তিনি চরিত্র ও ঘটনার স্বাভাবিক গতিকে বাধা দেননি। কপালকুণ্ডলা ও নবকুমারের পরিণতি পাঠককে একটি ভোঁতা তৃপ্তি দেয় না কিংবা বঙ্কিমচন্দ্রের পশ্চাৎপদ ও মানববিকাশবিরোধী কোনো মতামত আরোপ করার চেষ্টাও এখানে অনুপস্থিত।

    কিন্তু অন্যান্য উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র মানুষের বিকাশে এরকম বাধা দেন কেন? সমাজের স্পন্দন ও গতিকে মেনে নিতে না পারলেও তার উপস্থিতি তো অস্বীকার করার কথা তাঁর নয়। ‘বঙ্গদেশের কৃষক’ প্রবন্ধের লেখক কোন সীমাবদ্ধতায় আটকে পড়ে বাংলা উপন্যাসের শ্বাসরুদ্ধ করার আয়োজন গ্রহণ করেন? মনে হয়, কোনো সামন্ত প্রাসাদের মতো শিল্পী বঙ্কিমচন্দ্রের দুই মহল। একটি তাঁর ‘অন্দরমহল’, সেখানে তাঁর উপন্যাসের বাস। স্বচ্ছ ও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবনার প্রকাশ ঘটলে সেখানে ঘোরতর অনাচার সৃষ্টি হবে ভেবে তিনি তটস্থ। অন্যটি তাঁর ‘বহির্বাটি’। সেখানে সামাজিক বঙ্কিমচন্দ্রের আড্ডাখানা। সেখানে একটু এদিক-ওদিক হলে কিছু এসে যায় না।

    ইউরোপীয় উপন্যাসে ব্যক্তির যে-পরিচয় পরতের পর পরত উন্মোচিত হয়েছে এর কারণ হল, স্পন্দনশীল সমাজ সেখানে প্রেক্ষিত। এবং যে সামস্ত ব্যবহারে ক্ষয় ঐ সমাজবিকাশের প্রধান শক্তি সেই ব্যবস্থাটির উৎপত্তি সেখানে হয়েছিল নিজের গতিতে। কেউ অনুগ্রহ করে সামন্ত-প্রভুদের প্রজাদের ওপর চাপিয়ে দেয়নি। তারা প্রজাকে শোষণ ও নির্যাতন করেছে, তেমনি নিজেদের প্রতিষ্ঠার জন্য কখনো রাজার সঙ্গেও দ্বন্দ্বে নামতে ইতস্তত করেনি। ধর্মীয় বিধিনিষেধের কালো পর্দাও তাদের প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছে। আবার তাদের অবক্ষয় ও বিকাশও ঘটেছে সামাজিক নিয়মেই। এই অবক্ষয় মানেই নতুন শক্তি বুর্জোয়াদের উত্থান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছিল বুর্জোয়দের হাতে, ফলে বুর্জোয়ারাও কারও অনুগ্রহের ওপর নির্ভর করেনি। বুর্জোয়াদের অভ্যুত্থানে যে দারুণরকম তোলপাড় ওঠে তাতে সমাজের এই বাস্তবতাই প্রতিফলিত।

    ইউরোপের সেই তরঙ্গ এখানে ধাক্কা খায়, কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবে তা হয়ে রইল ঢাল ও তলোয়ারবিহীন শ্রীযুক্ত নিধিরাম সর্দার ন্যায়রত্ন তর্কবাগীশ মহাশয়। নিধিরামবাবু একটু পা-ঝাড়া দিতে শুরু করেছিলেন, সংস্কারশাসিত সমাজের বিবর্তনটি একটু দেখতে চাইছিলেন; কিছুকাল পর হয়তো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ঢাল তলোয়ার তিনি অর্জন করতে পারতেন, কিন্তু তার আগেই তাঁর ওপর চাপানো হল চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বোঝা। নতুন সামন্ত-প্রভু তৈরি করা হল, সামন্তব্যবস্থা এখানে ইতিহাসের নিয়মে বিকশিত হল না। এই কৃত্রিম ও যান্ত্রিক সামন্তব্যবস্থার প্রবর্তনে যাঁরা লাভবান হলেন, নতুন বিত্ত ও সম্ভ্রমের মালিক হলেন, উপন্যাসের মতো বুর্জোয়া প্রকরণটি জুটল তাঁদেরই হাতে। প্রকরণটি নতুন বুর্জোয়া সমাজব্যবস্থার প্রত্যক্ষ ফসল, কিন্তু নতুন সুবিধাপ্রাপ্ত এলিটরা নিজেদের ভাবতে লাগলেন একেকজন সামন্ত-প্রভু বলে। নিজেদের তাঁরা মনে করতে লাগলেন অভিজাতদের বংশধর বলে। এখন সমস্যা হল, সেরকম অভিজাতদের উপযুক্ত কীর্তিমান প্রতিষ্ঠিত ও ক্ষমতাবান পূর্বপুরুষ তাঁদের কোথায়? অতএব শরণ চাইতে হল অগতির গতি দেবদেবীর পায়ে। ভারতীয় প্রাচীন বিশ্বাস ও মূল্যবোধগুলোকে পুনরুত্থিত করার প্রচেষ্টায় তাঁরা সক্রিয় হলেন। কিন্তু সমাজ তো পেছন দিকে চলে না, এমনকী থেমেও থাকে না। তাই সমাজের গতিকে প্রথমদিকের বাংলা উপন্যাস অনুভব করতে পারল না।

    বাংলা কথাসাহিত্যে ব্যক্তিকে বিকাশের প্রথম সুযোগ দেন রবীন্দ্রনাথ। বঙ্কিমচন্দ্রের চরিত্রের মানসিক বিবর্তন প্রায় নেই বললেই চলে। তারা উপন্যাসের শুরুতে যা, শেষেও তাই, এমনকী মাঝখানেও তাদের চেহারা পালটায় না। মাঝে মাঝে একেকটি দ্বন্দ্বের বিপাকে পড়লেও তাদের সম্বন্ধে প্রথমে যা জানি শেষ পর্যন্ত তারই স্ফীতকায় চেহারা পাই। রবীন্দ্রনাথই জীবন ও মানুষ তৈরি করেন যাদের পড়ে ওঠা আছে, যাদের জীবনে বিকাশ আছে এবং যারা সমস্যায় পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেডিমেড সমাধান খুঁজে পায় না। গোরার আবরণ ও ব্যবহার প্রকৃতপক্ষে তার স্বরূপ অনুসন্ধান। যে যতই বলিষ্ঠচিত্ত হয়, তার সংকট ততই তীক্ষ্ণ হতে থাকে। স্বদেশের পরিচয় লাভের জন্য তার ব্যাকুলতা একদিকে তাকে যেমন গৌরব দেয়, অন্যদিকে তার অসহায়ত্ব প্রকট করে তোলে। সামন্তব্যবস্থার আসন্ন ক্ষয় ও নতুন বণিকসমাজের উত্থান হল যোগাযোগ-এর পটভূমি। নতুন সমাজের প্রতি রবীন্দ্রনাথ সশ্রদ্ধ নন, কিন্তু মধুসূদনকে বেড়ে উঠতে দিতে তিনি বাধা দেননি। বঙ্কিমচন্দ্র হলে দিতেন। চোখের বালির মনস্তাত্ত্বিক সংকট জীবন্ত ব্যক্তিকে নির্মাণ করে। বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্বাস ও তৎপরতা নিয়ে লেখা ঘরে বাইরে বাংলা সাহিত্যে প্রথম রাজনৈতিক উপন্যাস।

    কিন্তু, তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তির বিকাশ বারবার বাধা পায়, তাদের সীমাবদ্ধতা প্রায়ই স্পষ্ট। ব্যক্তির বিকাশে রবীন্দ্রনাথের উৎসাহ ও সমর্থন থাকা সত্ত্বেও এরকম হয়। এর কারণ এই যে, ব্যক্তি তার উপযুক্ত প্রেক্ষিত পায় না। যে-সমাজবাস্তবতার পরিচয় তাদের সমস্যা ও দ্বন্দ্বকে এবং সংকট ও পরিণতিকে তাৎপর্য দেবে তা প্রায়ই ঝাপসা এবং তার পরিসরও খুব সীমিত। সমাজ তার রক্তমাংস নিয়ে হাজির হয় না বলে ব্যক্তি অসম্পূর্ণ থাকে।

    এখানে আর-একটি কথা উল্লেখ করতে চাই। রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গানের আধ্যাত্মিক প্রশ্ন ও উত্তেজনা তাঁর উপন্যাসে অনুপস্থিত। সীমা ও অসীমের যে বায়বীয় সমস্যা তাঁর কবিতাকে জর্জরিত করে, উপন্যাসে তার আভাস মেলে না। রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসে আধ্যাত্মিক সংকট প্রায় নেই; কোনো কোনো জায়গায় যেটুকু নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে তাও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা বলেই চিহ্নিত করা যায়। সেই সীমা ও অসীমের যন্ত্রণায় তারা কেউ কাতর নয়। এর কারণও ঐ একটিই। সমাজবাস্তবতার প্রেক্ষিতে স্থাপন না-করলে অন্যান্য বিষয়ের মতো আধ্যাত্মিক ভাবনাও কোনো শিল্পমাধ্যমে শেকড় গাড়তে পারে না। তখন কবিতায় যে-সমস্যা এক শিল্পীর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায় উপন্যাসে তার ঘোরতর অনুপস্থিতি দেখে সেই সমস্যার স্বতঃস্ফূর্ততা ও বিশুদ্ধতা নিয়ে সন্দেহ করতে বাধ্য হই। দস্তয়েভস্কি, কাজানজাকিস্ ও হারমান হেসের চরিত্রের আধ্যাত্মিক সংকট তীক্ষ্ণ ও গভীর হয়েছে উপন্যাসের সুপরিসর সামাজিক প্রেক্ষিতের জন্য।

    সমাজের ছবি বেশ ছড়ানো রয়েছে শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসে। বাংলার গ্রামে বর্ণহিন্দুসমাজের অনেক খুঁটিনাটি তাঁর লেখায় বেশ উজ্জ্বল রেখায় উঠে এসেছে। তাদের ছোটলোকামি, তাদের কোন্দল, তাদের রেষারেষি শরৎচন্দ্রের আগে বাংলা উপন্যাসে অনুপস্থিত। কিন্তু এ-সমাজ অনড় ও অচল, এর মধ্যে কলহ আছে কিন্তু গতি নেই, এই সমাজ কোলাহলময় কিন্তু স্পন্দনহীন। শরৎচন্দ্রের প্রেক্ষিত তাই গ্রামবাংলার স্থিরচিত্র। শরত্চন্দ্র আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে একটির পর একটি চরিত্র সৃষ্টি করেন, সমাজের স্থিরচিত্রে সেইসব চরিত্র সমাজের ভেতরকার স্রোতধারাকে নিয়ে আসতে পারে না। একথা খুবই সত্যি যে, তাঁর গল্পে নির্যাতিত চাষির সশ্রম পদার্পণ ঘটেছে, কিন্তু তাঁর বিপুল শিল্পসৃষ্টিতে কী শিল্পমানে কী পরিমাণে তাদের উপস্থিতি গুরুত্বহীন। যেসব সংস্কার এই সমাজে বিশ্বাসের অনুচিত মর্যাদা বলে গৃহীত সেগুলোর অন্তঃসারশূন্যতা ধরতে পারেন না তিনি। বরং তাদের প্রতি তাঁর অনুমোদন রয়েছে। মনু যেসব বিধান দিয়ে গেছেন, বল্লাল সেন যেসব বালাই বাধিয়ে দিয়ে গেছেন তারই মর্যাদা আরও প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন শরৎচন্দ্র। কিন্তু মনু তো চিরস্থায়ী নন, বল্লাল সেনের রাজত্বের অবসান ঘটেছে অনেক আগে। সমাজ কি ঐ আমলেই থাকবে? না আছে? সেইসব বিধান ও সেইসব বালাইকে গৌরব দিতে দিয়ে শরৎচন্দ্র তাঁর চরিত্রকে খাটো করে ফেলেন। বস্তুনিষ্ঠ থাকা আর সম্ভব হয় না। তাই সমাজবাস্তবতা যাকে বলি তা তাঁর ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেল।

    সমাজবাস্তবতার এই অপরিহার্য প্রেক্ষিতের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত। গ্রামের ক্ষয়িষ্ণু সামন্ত-প্রভু থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী চাষা পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত। সমাজের পরিবর্তন ও বিবর্তনের আওয়াজ সেখানে পাওয়া যায়। সমাজের যে চলমান চেহারা তাকে তিনি শনাক্ত করতে পেরেছিলেন বলে ছোট-বড় যে-কোনো উপন্যাসের জন্য বড় পটভূমি নির্বাচন করতে তাঁর দ্বিধা ছিল না। গ্রামের যে-ছবি তিনি আঁকেন তা কিন্তু কখনোই স্থিরচিত্র নয়, রক্তমাংসের মানুষকে নিজের নিজের স্বভাব অনুসারে বেড়ে উঠতে দেন তিনি এবং গ্রামের প্রেক্ষিত তাদের বিশেষ তাৎপর্য দেয়। তাঁর উপন্যাস এইভাবে একই সঙ্গে দুই ধরনের মানুষকে চিনতে আমাদের সাহায্য করে। মাঝারি বা ছোটখাটো ক্ষয়িষ্ণু সামস্ত পরিবারের লোকজন এবং নিম্নবিত্ত কৃষক তাদের ক্ষোভ ও বঞ্চনা নিয়েই উঠে এসেছে। সমাজের গতিময়তায় তারাশঙ্করের সায় ছিল না। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কল্যাণে রাতারাতি যারা ভূস্বামী হয়ে গিয়েছিল এবং অনেকদিন ধরে পরম বশংবদ হিসাবে ইংরেজ শাসকদের সেবা করে এসেছে, এই শতাব্দীর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দশক থেকে তাদের অর্থনৈতিক অবক্ষয় শুরু হয়। সামন্তব্যবস্থায় অর্জিত বিত্ত এই অবক্ষয়রোধে যথেষ্ট না-হওয়ায় এবং ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে উপার্জনের অন্যান্য পথে নানারকম প্রতিবন্ধকতা থাকায় এই শ্রেণীর অনেকেই মধ্যবিত্ত সমাজের সংকটে পড়েন। এঁদের একটি অংশ ঝুঁকে পড়েন কংগ্রেসের আপোসমূলক রাজনীতির দিকে। তারাশঙ্করের পক্ষপাতিত্ব এঁদের প্রতি এবং তিনিও কংগ্রেসের সক্রিয় সমর্থক। এদিকে এঁদেরই প্রত্যক্ষ সহায়তায় ধারাবাহিক শোষণ ও নির্যাতনে নিম্নবিত্ত শ্রমজীবীর অসন্তোষ আরও অনেক আগে থেকেই ফেটে পড়ার জন্য উন্মুক্ত হয়েছিল। নিজেদের অবক্ষয় ও অনিবার্য ধ্বংস থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে মধ্যবিত্ত ও ক্ষয়িষ্ণু সামন্ত এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী পুঁজিবাদীরা নিজেদের গা বাঁচিয়ে অহিংস পদ্ধতিতে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করেন এবং নিম্নবিত্তের অসন্তোষকে ব্যবহার করেন নিজেদের স্বার্থে। তারাশঙ্করের রচনায় এই আন্দোলনও গৌরবান্বিত হয়েছে। শিল্পীর বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে তিনি বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষকে জীবন্ত উপস্থাপিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বাংলার, বিশেষভাবে রাঢ় এলাকার, কৃষকের পরিচয় জানার জন্য তাঁর উপন্যাস পাঠ করা জরুরি। কৃষক সম্বন্ধে তাঁর অভিজ্ঞতা বেশ অন্তরঙ্গ এবং তার প্রকাশও সার্থক। গতিশীল সমাজবাস্তবতা তাঁর উপন্যাসের প্রেক্ষিত, কিন্তু নিজের শ্রেণীর প্রতি সহানুভূতি প্রায়ই পক্ষপাতিত্বে পরিণত হয়েছে বলে সামাজিক বিবর্তনের প্রকৃত কারণ সেখানে অনুপস্থিত।

    ইংরেজশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় ও ইংরেজিশিক্ষার কল্যাণে আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ে যে-পঙ্গু ব্যক্তির সৃষ্টি, তার ক্ষয় শুরু হয় এই শতাব্দীর তৃতীয় ও চতুর্থ দশকে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগে-আগে এই অবক্ষয় প্রায় চরমে ওঠে। এই অবক্ষয়কে কথাসাহিত্যে সফলভাবে তুলে ধরেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। আরও কয়েকজন বিশিষ্ট লেখকের রচনায় এর পরিচয় পাই, কিন্তু তাঁদের কাছে বিষয়টি ছিল শৌখিন ও বিলাসিতা। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এঁদের থেকে স্বতন্ত্র এইজন্য যে, সাহিত্যচর্চার শুরুতেই তিনি ব্যক্তির ক্ষয়কে একটি দূরারোগ্য রোগ বলে শনাক্ত করতে পেরেছিলেন। সমাজের অবক্ষয় ও ব্যক্তির অবক্ষয়

    কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যাপার নয়। তবে এর ফলে ব্যক্তি ও সমাজ দ্রুত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ব্যক্তির অবক্ষয় তাকে ছিঁড়ে ফেলে সমাজ থেকে এবং অসহনীয় নিঃসঙ্গতা তাকে ঠেলে দেয় বিনাশের দিকে। পুতুলনাচের ইতিকথা-র শশী নিজের গ্রামে নিজেকে উপযুক্ত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না। তার মানবিক বোধসমূহ সংকটে পড়লে নিজের অস্তিত্বের তাৎপর্য খুঁজে পাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। পদ্মানদীর মাঝি কুবের বেঁচে থাকার সংগ্রামে রক্তাক্ত হয়েও এই বিচ্ছিন্নতার শিকার। যে-শ্রমজীবী সম্প্রদায়ের মানুষ সে, যাদের প্রতিদিনকার জীবনযাপনের সে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাকেও কিনা পালিয়ে যেতে হয় অপরিচিত ও অনিশ্চিত ময়নাদ্বীপের উদ্দেশে। এদের সংকট ও সমস্যা সবই কিন্তু উপস্থিত হয়েছে সমাজবাস্তবতার প্রেক্ষিতে। একথা ঠিক যে গ্রামের সমাজের খুঁটিনাটি ছবি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আঁকেননি। তারাশঙ্করের উপন্যাসের চরিত্রের মতো তাঁর চরিত্র জীবনযাপনের সমগ্রতা নিয়ে আসে না। সম্প্রতি একটি প্রবন্ধে বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক কায়েস আহমেদ মন্তব্য করেছেন যে পুতুল নাচের ইতিকথায় গাওদিয়া গ্রামের সমাজ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এখানে বলা চলে, সমাজপ্রেক্ষিত তুলে ধরার রীতি সব লেখকের যে একই রকম হতে হবে এর কোনো মানে নেই। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসের যে-প্রকরণ তাতে যে-কোনো মানুষ বা সমাজকে চিত্রিত করার জন্য সাজেশন ব্যবহৃত হয় অনেক বেশি। সমাজপ্রেক্ষিত কেউ নিয়ে আসতে পারেন সামাজিক জীবন বা ব্যক্তির জীবনযাপনের ডিটেলসসুদ্ধ, আবার এই জীবন বা জীবনযাপনের কথা ইঙ্গিতেও বলা সম্ভব। শশীর পরাজয় বা কুবেরের পলায়নের যে-পটভূমি পাওয়া যায় তাতেই গাওদিয়া বা পদ্মানদীর তীরের সমাজের পরিচয় উপস্থিত। তাঁর রচনায়, বিশেষ করে যেসব লেখায় ব্যক্তির ক্ষয় ও গ্লানি প্রকাশিত হয়েছে তার কোথাও এসবকে সমাজনিরপেক্ষ বলে উপস্থিত করার জো নেই। এই সমাজবাস্তবতা না-থাকলে কোনো লেখকের পক্ষে এই নির্বিকার ও নির্লিপ্ত মানসিকতা অর্জন করা অসম্ভব।

    সমাজবাস্তবতাবোধ প্রথম থেকে ছিল বলে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তীকালে মার্কসবাদকে সামাজিক ও ব্যক্তিরোগের সমাধান বলে উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর সমকালীন অনেক লেখকের মতো রোগবিলাস-রোগে আক্রান্ত হননি বলে অবক্ষয়ের প্রতিষেধক খোজার জন্য তিনি প্রথম থেকেই তৎপর ছিলেন। মার্কসবাদকে তিনি উপযুক্ত সমাজপদ্ধতি বলে বিবেচনা করে তার পর্যবেক্ষণে এই দর্শনের সাহায্য গ্রহণ করেন। মার্কসবাদী হওয়া মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনে কোনো আকস্মিক ব্যাপার নয়। ব্যক্তির ক্ষয় ও রুপূর্ণতা যখন তাঁর প্রধান মনোযোগের বিষয় ছিল তখনও সমাজ কাঠামোর ওপর তাঁর নিদারুণ বিতৃষ্ণা-প্রকাশিত হয়েছে। প্রেম, বাৎসল্য, ভক্তি, শ্রদ্ধা প্রভৃতি ইতিবাচকতা, জীবনযাপনের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক সব অনুভূতি যে স্বার্থপরতা ও মানসিক বৈকল্যের চাপে কোনো সচেতন বা অবচেতন ভানে পরিণত হয়েছে—এই সত্যটি তিনি প্রকাশ করেন কোন্ পটভূমিতে? যার ভেতর থেকে মানুষ এইসব ভান নিয়ে মাতামাতি করে বা মাতামাতি করারও ভান করে সেই সমাজব্যবস্থাকে গভীরভাবে প্রত্যাখ্যান না-করলে ওঁর শিল্পসৃষ্টিতে এরকম নির্লিপ্ত ও নির্বিকার থাকা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সম্ভব হতো না। গভীরভাবে বিজ্ঞানমনস্ক ছিলেন বলে প্রকৃতির নিয়ম ও সমাজের নিয়মের এই বিকৃতিতে বিরক্ত হলেও ভেঙে পড়েননি। তাই উপন্যাস বা গল্পের বুনোট কখনো শিথিল হয়নি কিংবা নিজেকে অনুচিতভাবে কাহিনীর মাঝখানে হাজির করেননি। চরিত্রকে মানুষ হবার সুযোগ দিয়েছেন এবং স্রষ্টা হিসাবে নিজেকে তার ওপর চাপিয়ে দিয়ে তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বিঘ্নিত করেননি। এমনকী যে-চরিত্র এসেছে একেবারেই কল্পনা থেকে সেই হোসেন মিয়া তার কাজে কামে আশায় আকাঙ্ক্ষায়, সাথে আহ্লাদে, সাহসে দুঃসাহসে ও ফন্দিতে ফিকিরে এমনভাবে পরিণতির দিকে এগোয় যে ঘুণাক্ষরেও তাকে অপরিচিত মনে হয় না। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে জন্ম বলেই হোসেন মিয়া কাল্পনিক মানুষ হলেও অবাস্তব হয়ে যায় না। আমরা বুঝতে পারি, একটি ঔপনিবেশিক সমাজে বহু মানুষের মধ্যে হোসেন মিয়া থাকে, আস্ত গতরটা নিয়ে না-থাকলেও টুকরো টুকরো হয়ে বিরাজ করে।

    এইরকম বিজ্ঞানমনস্ক শিল্পীর পক্ষে মার্কসবাদী হওয়া কোনো বিচিত্র ঘটনা নয়, বরং তাঁর ঐ অবস্থার পরিণতিতে সমাজবাদী দর্শনের দিকে ঝুঁকে পড়াটাই বেশি স্বাভাবিক। তবে এই পরিণতিলাভের জন্য তাঁকে যে-পথ বেছে নিতে হয় তা কিন্তু মোটেই মসৃণ নয়। প্রাক-মার্কসবাদী চরিত্র ও মানবিকতা নিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় যদি লেখা অব্যাহত রাখতেন তা হলেও বাংলা ভাষার একজন শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসাবে চিরস্থায়ী আসন বজায় রাখতে তাঁকে বেগ পেতে হতো না। নিজস্ব প্রকরণ তিনি অর্জন করেছিলেন, ভাষার বুনোট, চরিত্রসৃষ্টি, মনোবিশ্লেষণ, মানুষের মধ্যে বিভিন্ন সম্পর্ক যাচাই করা, সমাজের সঙ্গে ব্যক্তি ও ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্ক সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রভৃতি বিষয়ে তাঁর উৎকর্ষ যে-গুরে পৌঁছেছিল তার সাহায্যে একজন শিল্পী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠা পেতে পারেন। ঐ অবস্থায় থাকলে লেখক হিসাবে রক্তপাত পরিশ্রম তিনি এড়াতে পারতেন এবং খ্যাতির নিরাপত্তার জন্য কোনো ঝুঁকি নিতে হতো না।

    কিন্তু মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল মনোবিকলনের সফল রূপকার নন। মানুষের ভান ও সমাজব্যবস্থাকে ধিক্কার দিয়েই তিনি দায়িত্ব পালনের তৃপ্তি অনুভব করেন না। যে-কোনো মাপে বড় শিল্পী বলে তিনি মানুষের ও সমাজের প্রকৃত বিশ্লেষণের কর্তব্য স্বেচ্ছায় নিজের ঘাড়ে তুলে নেন এবং আর-একটু এগিয়ে এই অসহনীয় অবস্থাটি পালটে দেওয়ার অঙ্গীকার গ্রহণ করেন। তাঁর এই পর্বের রচনায় শিল্পসফলতা নিয়ে নানারকম সন্দেহ ওঠে, মনে করা হয় যে নতুন মোড় নেওয়া তাঁর পক্ষে ঠিক হয়নি। তাঁর রচনায় সংহতি নষ্ট হয়েছিল, কারও কারও মতে তাঁর আগেকার প্রকরণ ও ভঙ্গি অক্ষুণ্ণ রাখলে বরং তাঁর নতুন মত প্রকাশে আরও সফল হতেন।

    কিন্তু মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছিলেন যে উপন্যাসের চিরাচরিত প্রকরণ নতুন সমাজভাবনা-প্রকাশের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই তিনি নতুন প্রকরণ অনুসন্ধানে মনোযোগী হন। প্রথম পর্যায়ের উপন্যসগুলোর প্রকরণেও অনেক পার্থক্য রয়েছে। বলতে গেলে প্রতিটি উপন্যাসেই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন ভঙ্গি গ্রহণ করেছেন। কিন্তু মোটা দাগে ভাগ করলে দেখা যায়, মার্কসবাদী হওয়ার আগে ও পরে লেখা রচনার মধ্যে বেশ বড় রকমের পার্থক্য রয়েছে। অনেক কথা সরাসরি বলার ফলে বাক্যে সেই সংহতি ছিল না, কাহিনীর বুনোটে সেই জমজমাট চেহারা অনেকটা রোগা হয়ে এসেছিল। কিন্তু একথাও তো সত্যি যে এইসব লেখা তাঁর অনেক তীক্ষ্ণ হয়েছে এবং ভাষায় একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। উপন্যাসের প্রচলিত ঠাসবুনুনি-কাঠামো তাঁর নতুন দর্শনপ্রকাশে কতটা উপযোগী এ নিয়ে তাঁর ঘোরতর সন্দেহ ছিল এবং এ-সন্দেহ অমূলক নয়। সম্পূর্ণ নতুন প্রকরণ গঠনের চেষ্টায় তিনি আত্মনিয়োগ করেছিলেন এবং এর পরিণত চেহারা আমরা শেষ পর্যন্ত দেখতে পাইনি। এর একটি কারণ এই যে, মানুষ ও সমাজের মার্কসবাদী বিশ্লেষণের চেষ্টা উপন্যাসে তিনিই প্রথম করেন এবং বুর্জোয়া শিল্পরীতির দীর্ঘ ও সফল প্রয়োগের ফলে উপন্যাস যে-কাঠামো পেয়েছে সেখানে ঐ বিশ্লেষণ একেবারেই বেখাপ্পা। তবু অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্বীকার করতে হয়, বাংলা কথাসাহিত্যে সমাজবাদী বিশ্লেষণ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে সবচেয়ে সফল হয়েছে।

    তিনি কি পুরনো ও অভ্যস্ত ও নিরাপদ এবং পাঠকদেরও খুব পরিচিত প্রকরণে নতুন জীবনবোধ দিয়ে মানুষের বিশ্লেষণ করার কাজ অব্যাহত রাখতে পারতেন না? না, পারতেন না। নতুন সমাজবাদী ভাবনা যদি লেখকের গভীর ভেতরে সাড়া জাগাতে পারে তা হলে পুরনো রীতি তার প্রকাশের উপযুক্ত মাধ্যম হতে পারে না। এখানে একটু পুনরুক্তি করতে হলেও সামন্তযুগের অবসান ও পুঁজিবাদী বুর্জোয়াসমাজের বিকাশকালে শিল্পসাহিত্যের কথাটি উল্লেখ করতে হয়। সেই সময় কিন্তু নতুন প্রকরণ অনুসন্ধানে সবাই অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। মহাকাব্যের পাথুরে বাঁধন থেকে বেরিয়ে এসে ব্যক্তি খুঁজছিলেন নতুন রীতির কবিতা। সনেট হল এই মুক্তি অন্বেষণের প্রথম স্বর। কিন্তু সনেটে ব্যক্তির স্বাধীনতার স্পৃহা তৃপ্ত হয়নি, নানান প্রকরণে কবিরা ব্যক্তির মুক্তিপথের অনুসন্ধান চালান। কথাসাহিত্যের সূত্রপাতই হল ব্যক্তির মুক্তি স্পৃহাকে প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে। সামস্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের পরোয়া না-করে সমাজের ও মানুষের, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যক্তির বিকাশসাধনই ছিল উপন্যাসের কাজ।

    কয়েকশো বছর পরে হলেও মধ্যযুগীয় সামন্তব্যবস্থা অবসানের লক্ষণ আমাদের দেশে দেখা যায়। এমনকী পুঁজিবাদের বিকাশের সম্ভাবনাও একটু একটু অনুভব করা গেছে। উপনিবেশিক শাসনের ষড়যন্ত্রে সেই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়। তবে বুর্জোয়া শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তিত হওয়ায় বিদেশি বুর্জোয়া শাসকদের তৈরি মধ্যবিত্তসমাজে পঙ্গু শরীর নিয়েও ব্যক্তি গড়ে উঠেছে এবং স্বাভাবিক পথে না-হলেও এই ব্যক্তির বিকাশও ঘটেছে। বাংলা সাহিত্যে এই ব্যক্তি প্রবেশ করে মধুসূদন দত্তের হাত ধরে। ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলা কবিতার সনাতন রূপ মধুসূদন উপযুক্ত মনে করেননি। আধুনিক সাহিত্যের সৃষ্টি ও ভোগ সবই প্রধানত শহরবাসী বা শহুরে মধ্যবিত্তের ব্যাপার। সাহিত্যের উৎকর্ষ তাই নির্ভর করে মধ্যবিত্ত ব্যক্তিটিকে সফল রূপায়ণের ওপর।

    বেশ কয়েক দশক আগে, এই শতাব্দীর গোড়ায় এই ব্যক্তিপ্রবর রুপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং বিশেষ করে জন্মভূমি পাশ্চাত্যেই তার দারণরকম অবক্ষয় শুরু হয়। আমাদের এখানেও ব্যক্তির অবস্থা খুব কাহিল। যে-পুঁজিবাদ ও বুর্জোয়াব্যবস্থা তার জন্মদাতা এবং তার পালনকর্তা তার শরীরেই আজ মোটারকম ফাটল ধরেছে এবং এই ফাটল জোড়া দেওয়ার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।

    প্রাচীনকালে সামন্তযুগে সভ্যতার একটি বড় ভিত্তি ছিল দাসপ্রথা। আজ সবচেয়ে বদমাইশ মানুষটিও দাসপ্রথা সমর্থন করতে সাহস পায় না; কিন্তু দাসদের শ্রমের বিনিময়ে যাদের জীবন প্রচুর অবকাশে ভরা ছিল তাঁদের হাতে সাহিত্য-শিল্প-দর্শনের উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। দাসপ্রথা এখন অমানবিক, ঘৃণ্য ও অরুচিকর ব্যবস্থা, কিন্তু প্রভুদের সাহিত্য-শিল্প-দর্শন আমরা প্রত্যাখ্যান করতে পারিনি। পারবও না, করলে তা হবে আত্মবিনাশী অঘটন। তার সামস্ত মূল্যবোধগুলোকে অস্বীকার করা হয়েছে বুর্জোর ব্যবস্থা প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে। ধর্মের মহিমা, রাজার গৌরব, সামন্ত-প্রভুদের বীরত্ব—একটি বুর্জোয়া সমাজে এসব বড়জোর হাসিঠাট্টার বিষয়।

    একথা মানতেই হবে যে সামন্তব্যবস্থার কবরের ওপর গড়ে ওঠা বুর্জোয়াব্যবস্থা সভ্যতার ইতিহাসে বড়রকমের অবদান রেখেছে। নতুন প্রকররণ ও নতুন ভাবনার সৃষ্টি বুর্জোয়া শিল্পসাহিত্যকে অস্বীকার করা মানে মানুষকে বড় অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। কিন্তু বুর্জোয়া মূল্যবোধ যে দারুণরকম ধ্বংসের সামনে দাঁড়িয়েছে এই সত্যটি অস্বীকার করার ক্ষমতা কোনো বুর্জোয়ারও হবে না। শ্রমিকের প্রাণপাত পরিশ্রমের বিনিময়ে যে-প্রতিষ্ঠাসমূহের ওপর বুর্জোয়াব্যবস্থা দিব্যি কয়েকশো বছর কাটিয়ে দিয়েছে তাদের অবস্থা এখন কী? বুর্জোয়াদের একটি প্রধান অবলম্বন সংসদীয় গণতন্ত্র আজ ধুকধুক করে মৃত্যুর দিন গুণছে। রাষ্ট্রনায়ক সংসদকে কিছুমাত্র আমল না দিয়ে রাষ্ট্রীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যে-কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও সম্ভব, ভারতেও সম্ভব, আর এখানে সংসদ মানে রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের গৃহভৃত্যের প্রমোদভবন। সংসদের সার্বভৌমত্ব কোথাও নেই, সংসদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাভক্তি একেবারেই বিলুপ্ত। স্বাধীন আদালত স্বাধীন সংবাদপত্র, স্বাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান – বুর্জোয়াদের এইসব আইডিয়া আজ ধূলায় গড়াগড়ি যাচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি তাঁর কাপুরুষসুলভ আচরণ, সেবাদাসসুলভ মনোভাব ও উৎকোচ গ্রহণের প্রবণতার জন্য মানুষের ঘৃণার পাত্র। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আজ কারও বিবেচ্য বিষয় নয়, বেতনবৃদ্ধি ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো দাবি নেই। শিক্ষাদানের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানগুলো মারণাস্ত্র তৈরির কারখানা এবং অস্ত্রপ্রয়োগের প্রশস্ত ক্ষেত্র। শিক্ষকদের সমান এই সমাজে প্রায় নেই বললেই চলে, শিক্ষকগণও সম্মানলাভ কোনো জরুরি বিষয় বরে মনে করেন না। বুর্জোয়া রাজনীতি আজ সশস্ত্রবাহিনীর লেজুড়বৃত্তিতে ব্যস্ত। বিভিন্ন দেশে বুর্জোয়া প্রতিষ্ঠানসমূহ একেবারে ভেঙে পড়েছে বলে পৃথিবীর প্রধান শক্তি সেইসব দেশের সেনাবাহিনী লেলিয়ে দিয়ে পুঁজিপতিদের টিকিয়ে রাখার জন্য অন্তিম চেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ বুর্জোয়া ব্যবস্থায় সেনাবাহিনী কখনোই দেশশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে না।

    এ থেকে বোঝা যায় যে কেউ চাক আর না-ই চাক বুর্জোয়াব্যবস্থার ধ্বংস একেবারে অনিবার্য। বুর্জোয়া সাহিত্যের প্রধান বিষয় ব্যক্তিও আজ এতটা রগণ যে তার মৃত্যু আসন্ন।

    এখন নতুন সমাজব্যবস্থার জন্য মানুষের সংকল্পে শরিক হওয়া শিল্পীর প্রধান কর্তব্য। সমাজবাস্তবতা উপন্যাসের প্রেক্ষিত বলে ঔপন্যাসিক এখানে বড় দায়িত্বপালন করতে সক্ষম। মানুষকে ব্যক্তি-খোলসের ভেতর থেকে বার করে এনে তাকে প্রকৃত মানুষ করে তোলা দরকার। ব্যক্তি এখন মানুষ হয়ে উঠবে। যে-শ্রমজীবীর রক্ত ও যাদের বিনিময়ে বুর্জোয়াব্যবস্থার বিকাশ ঘটেছিল সেই সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় আজ অসন্তুষ্ট ও বিক্ষুব্ধ। তাদের অসস্তোষ ও ক্ষোভ থেকে ঔপন্যাসিক নতুন করে লেখার ইন্ধন পাবেন। যদি না-পান তো তাঁর লেখা ব্যর্থ হতে বাধ্য। সময়ের যে প্রবলরকম পরিবর্তন ঘটছে তাতে লেখক যদি সচেতন না হন তো তিনি তাৎপর্যপূর্ণ কোনো ভূমিকা পালন করতে পারবেন না। বুর্জোয়াসভ্যতার উত্থানের সময় যাঁরা সামস্ত মূল্যবোধকে ঝেড়ে ফেলতে পারেননি শিল্পসাহিত্যে তাঁরা কোনো অবদান রাখতে পারেননি। সেই সময়ের ভাবনাকে ধারণ করাবার জন্য তারা নতুন আঙ্গিক অনুসন্ধান করে সফল হয়েছিলেন।

    আজ আবার বুর্জোয়াব্যবস্থার বিনাশকালে যে-ঔপন্যাসিক উপন্যাসের সেই একই বিষয় ও প্রকরণকে আঁকড়ে ধরে রাখবেন পুনরাবৃত্তি করা ছাড়া তাঁর আর কিছুই করার থাকবে না। পূর্ববর্তী পুরুষদের পুনরাবৃত্তি করে কোনো সময়ের কোনো শিল্পীই মানুষের মধ্যে কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে পারে না।

    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তাঁর সমমানের না হলেও খুব অল্প কয়েকজন সফল বাঙালি ঔপন্যাসিকের আবির্ভাব ঘটেছে। কিন্তু এঁদের প্রায় সবাই বুর্জোয়াব্যবস্থার সৃষ্টি ব্যক্তির রণতা, নিঃসঙ্গতা, অবক্ষয়কেই বিশ্লেষণ করেছেন এবং তাও স্যাঁতসেঁতে সহানুভূতি দিয়ে। যাঁরা নতুন সমাজবাদী চেতনাকে অবলম্বন করে বিশ্লেষণের কাজ করেছেন তাঁরা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেননি। এর কারণ হল, উপন্যাসের পুরনো প্রকরণটি তাঁদের সমাজবাদী চেতনাপ্রকাশের জন্য মোটেই উপযুক্ত নয়। শুধু প্রকরণগত পরিবর্তন উপন্যাসের প্রাণসঞ্চার করতে পারে না। নতুন ভাবনা থাকলেই নতুন প্রকরণ-গঠনের অধিকার পাওয়া যায়। যাঁরা নিজেদের সমাজবাদী বলে বিবেচনা করেন ও পুরনো ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার উদ্যোগে সক্রিয় সংকল্পে শরিক হন তাঁরা এই অধিকারটি প্রয়োগ করবেন। উপন্যাস গঠিত হবে সেইভাবে যাতে করে নতুন ভাবনাকে ঠিকমতো ধারণ করা যায়। নইলে এই সময়ের মানুষের বেদনা ও বিক্ষোভ, সংকট ও সংকল্পের তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিবেদন দেওয়া উপন্যাসের সাধ্যের বাইরেই থেকে যাবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্বর্ণমুকুট – গোপেন্দ্র বসু
    Next Article বৃশ্চিক – পিয়া সরকার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026
    Our Picks

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 14, 2026

    বৃশ্চিক – পিয়া সরকার

    May 14, 2026

    সংস্কৃতির ভাঙা সেতু – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    May 14, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }