Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প1001 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাঠের ঘোড়া

    —‘খিদে পেয়েছে, না তোর?’

    মানুষটার হাতে ধরা মাংসের হাড়টার দিকে তাকিয়ে সজোরে ল্যাজ নাড়াতে থাকে কুকুরটা৷ পিছনের দিকের একটা পা নেই তার৷ বাসের চাকায় কাটা পড়েছে৷ কোনওরকমে তিন পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে চলতে হয়৷ খাবারও জোটে না গায়ে জোর নেই বলে৷ দু-দিন হল ডাস্টবিন উলটে ফেলেও এক টুকরো এঁটোকাঁটার দেখা মেলেনি৷

    এখন চোখের সামনে ঝুলন্ত খাবার দেখে চাপাস্বরে কুঁইকুঁই করে ওঠে৷ সজল চোখে তাকায় ঈশ্বরের মতো এসে দাঁড়ানো মানুষটার দিকে৷ দু-এক পা এগিয়ে আসে৷

    —‘আয়, খাবি আয়…’

    হাড়টা ডান হাতের মুঠোতে বন্ধ করে হাত এগিয়ে দেয় মানুষটা৷ কুকুরটা সেই মুঠো একবার শোঁকে৷ আবার চাপা স্বরে যেন খুলতে অনুরোধ করে মুঠো৷ ল্যাজটা আরও জোরে নড়তে থাকে৷

    —‘আয় জবাই হবি আজ…’

    মানুষটার মুখে একটা হাসি ফোটে৷ ডান হাতের বদলে বাঁ হাতটা এগিয়ে আসে কুকুরটার গলার কাছে৷

    (দুই)

    আজ দরজা খুলে বেরোতেই ল্যান্ডিং-এর বারান্দা দিয়ে চোখে পড়ল দৃশ্যটা৷ কর্পোরেশনের লোক এসে রাস্তার উপর থেকে বস্তাবন্দি করে কিছু একটা টেনে নিয়ে যাচ্ছে৷ ফ্ল্যাটের বারান্দার সামনে দিয়েই যাচ্ছিল তারা৷ আগ্রহ হতে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী হয়েছে বলুন তো? কী আছে বস্তায়?’

    —‘কুকুর…’ বাহকদের মধ্যে একজন উত্তর দিল৷

    —‘কুকুর! আবার মরেছে!’

    —‘ধড়-মুড়ো আলাদা করে দিয়েছে৷ কী যে ফ্যাচাং হল…’

    আমি একটু অবাক হলাম৷ গত সাত দিনে এই নিয়ে প্রায় চারটে কুকুর মরল এ পাড়ায়৷ এমনি মরলে তা-ও হত, কিন্তু এ যাকে বলে একবারে সিরিয়াল কিলিং৷ ছুরি দিয়ে বারবার গলায় কোপ মেরে খুন করা হচ্ছে৷ খুনের আগে একটা রাবারের ব্যান্ড জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে গলায়, ফলে প্রাণীগুলোর আর্তনাদ কারও কানে যাচ্ছে না৷

    এমনিতে এ পাড়ার কুকুরগুলো তেমন উৎপাত করে না৷ নিজেদের নিয়েই থাকে৷ কোনওদিন কাউকে কামড়েছে বলে তো শুনিনি৷ তা-ও কার যে হঠাৎ কুকুরের উপরে এমন রাগ জন্মাল, কে জানে৷

    পাশের ফ্ল্যাটের দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলাম, নবদা আর তার ছেলে রন্টু বেরিয়ে এসেছে৷ রন্টুর বয়স কম৷ সে ভয়-ভয় চোখে রক্তের ছোপ-লাগা বস্তাটা দেখতে থাকে৷

    —‘কী শুরু হল, বলুন দেখি…’ আমার দিকে চেয়ে ব্যাজার মুখে বলেন নবদা, ‘রোজ অফিসে বেরোনোর সময় রক্ত দেখতে হচ্ছে৷ অলুক্ষুনে ব্যাপার যতসব৷’

    আমি মাথা নাড়ালাম, ‘এটা সেই ল্যাংড়া কুকুরটা মনে হচ্ছে৷ পাঁজরা বেরিয়ে গিয়েছিল, টিকে ছিল কোনওমতে৷ কে করছে বলুন তো?’

    নবদা ঠোঁট উল্টালেন, ‘সে জানলে তো হয়েই যেত৷ কাল রাতে কী সব এনজিও-টেনজিও থেকে লোক এসে হম্বিতম্বি করছিল পাড়ায়… যে এইসব করছে, তাকে হাতে পেলে নাকি গণধোলাই দেবে ওরা…’

    —‘হেঃ…’ আমি একটা বাঁকা হাসি হাসলাম, ‘ঢাল নেই, তরোয়াল নেই, এদিকে নিধিরাম সর্দার৷ দেশে খোলা বাজারে খুন হচ্ছে, দাঙ্গাহাঙ্গামা হচ্ছে, কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারি করে লোকে ভেগে যাচ্ছে, তাদের কিছু হচ্ছে না৷ আর সামান্য ক-টা কুকুর খুনের আবার সাজা৷ আপনিও হাসালেন মশাই!’ একটু থেমে বললাম, ‘সাজা পরের কথা… আমি ভাবছি, খুনগুলো হচ্ছে কেন৷ কুকুরগুলো তো ক্ষতি করেনি কারও…’

    —‘আমার ছেলেটা তো রোজ খেতে দিত ওদের…’ রন্টুর দিকে ফিরে তাকালেন নবদা, ‘কাল রাতেও তো দিয়েছিলি, নারে?’

    রন্টু কিছু একটা বলে৷ আমি পরিষ্কার শুনতে পাই না৷ অন্য একটা শব্দ এসে ঢেকে দিয়েছে কথাগুলো৷ রাস্তাটার একেবারে উলটোদিকে চাটাই পেতে একটা লোক বসেছে৷ সে-ই আমাদের লক্ষ করে ডেকে উঠেছে, ‘কাঠের পুতুল নেবেন? ভালো ভালো পুতুল আছে… হেঁ হেঁ…’

    আমরা তিনজনেই ফিরে তাকিয়েছি তার সামনে রাখা চাটাইটার উপরে৷

    সেটার উপর আপাতত সাজিয়ে রাখা আছে অন্তত গোটা পঞ্চাশেক কাঠের পুতুল৷ পুতুলগুলোর দিকে একবার তাকালেই পছন্দ হয়ে যায়৷ নিখুঁত হাতের কাজ৷ তবে সব ক-টা পুতুলই জন্তুর৷ কোনওটা বাঘ, কোনওটা জিরাফ আবার কোনওটা ডাইনোসর৷ তাদের আবার নানারকম সাইজ৷ উপরে চকচকে পালিশ করা৷ সূর্যের আলো লেগে সাদাটে ঝলকানি একপাশ থেকে আর-একপাশে সরে যাচ্ছে৷

    আমিই সিঁড়ি দিয়ে একতলায় একটু এগিয়ে গেলাম৷ পুতুল-টুতুলের শখ আমার কোনওদিনই ছিল না৷ তবে পরশু সুস্মিতা বাড়ি ফিরছে৷ তার বাপের বাড়িতে একসময় এমন কিছু পুতুল ছিল বলে শুনেছি৷ বিয়ের পর থেকে ওগুলোকেই নাকি সব থেকে বেশি মিস করত৷

    ‘কত করে?’ চাটাইয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম৷ লোকটা আমার দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে ফোকলা দাঁতে একবার হেসে বলল, ‘দেবেন, যা ইচ্ছা… কোনটা লাগবে বলুন-না…’

    লোকটার কাছাকাছি যেতেই খইনি আর চুনের গন্ধ নাকে আসে আমার৷ জামাকাপড় নোংরাটে, গায়ের রংটাও ঠিক কাঠের মতোই৷ তবে মুখটা গোলগাল৷ মনে হয় লোকটা গরিব৷ খ্যাপাটে গোছের৷ তবে জাতশিল্পী মানেই মাথায় একটু ছিট থাকে শুনেছি৷

    মনোযোগ দিয়ে পুতুলগুলো দেখতে লাগলাম৷ বাঘ নেব? উঁহু, কমন৷ একটা শিয়ালও আছে৷ তবে মেয়েরা বোধহয় শিয়াল পছন্দ করে না৷ হাতিটা চলবে?

    মনে পড়ল, বিয়ের আগে আমার ওজন খানিক বেড়ে যাওয়ায় সুস্মিতা আমাকে হাতি বলে ভেঙাত মাঝেমধ্যে৷ নাঃ, হাতি নৈব নৈব চ… চাটাইয়ের একেবারে কোণের দিকে চাইতেই চোখ আটকে গেল আমার৷ অন্তত গোটা আটেক ঘোড়া দাঁড়িয়ে আছে সেখানে৷ কোনওটা মাথা নামিয়ে ঘাস খাওয়ার ভঙ্গিতে, কোনওটা যেন রেসের মাঠে চার পা হাওয়ায় মেলে দিয়ে উড়ে চলেছে৷ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম আমি৷ একটা আঙুল তুলে সেদিকে দেখিয়ে বললাম, ‘এগুলো তুমি বানিয়েছ?’

    লোকটা মনে হয়, লজ্জা পেল একটু৷ উপরে নীচে মাথা দোলাল৷ বাবু হয়ে বসেছে সে৷ কিন্তু ডান পা-টা কেঁপে চলেছে ক্রমাগত৷ গুনগুন করে কিছু একটা দেশোয়ালি সুর ভাঁজছে৷

    —‘বাবা! কাঠের উপরে তোমার হাত তো ফুটবলের উপর মারাদোনার পায়ের মতো চলে হে…’

    —‘হেঁ হেঁ… আসলে ওগুলো একটু বেশি যত্ন নিয়ে বানিয়েছি স্যার…’ লাজুক গলাতেই বলে লোকটা, ‘অন্য পুতুলগুলো পয়সা রোজগারের জন্য বানানো, শুধু ওই ঘোড়াগুলো আমার মন থেকে আসে…’

    —‘মিউজ! তা রেসের মাঠে-টাঠে যাও নাকি?’

    —‘কী যে বলেন কত্তা…’ রাস্তায় একটা লোক হেঁটে যাচ্ছিল৷ তার দিকে উদ্দেশ্য করে লোকটা চেঁচিয়ে ওঠে, ‘দেখে যান, দেখে যান বাবু৷ কাঠের পুতুল… হাতি আছে, গন্ডার আছে, কুমির আছে… একদম আসলি চিজ!’ আমি একটা ঘোড়া হাতে তুলে নিয়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখতে থাকি৷ ঘোড়ার কোথাও একটাও ছেনির দাগও নেই৷ যেন কাঠ নয়, চামড়া৷

    —‘এইটা কত পড়বে বলো তো?’ ঘাস-খাওয়া ঘোড়াটাকেই তুলে নিই আমি৷

    লোকটা এবার জিভ কাটে, ‘আজ্ঞে না স্যার৷ ঘোড়াগুলো বিক্রি নেই৷ ওগুলো শুধু বিজ্ঞাপন… হেঁ হেঁ…’

    —‘সে কী!’ আমি একটু হতাশ হলাম৷ এর আগেও দেখেছি বড় শিল্পীরা সাধারণত তাদের সেরা কাজটা বেচতে চায় না৷ তা-ও আমি একবার শেষ চেষ্টা চালালাম, ‘পাঁচশো টাকা দেব কিন্তু, ভেবে দ্যাখো৷’

    —‘বিক্রি হবে না স্যার… আপনি বরঞ্চ মিসেসের জন্য এইটা নিয়ে দেখুন…’ লোকটা চাটাইয়ের মাঝখান থেকে একটা নাদুসনুদুস চেহারার শুঁড় চাগিয়ে-রাখা ঐরাবত তুলে দেয় আমার হাতে৷

    —‘ধুর মশাই! হাতি চলবে না৷’

    —‘আপনি নিয়ে যান-না৷ পছন্দ হলে পয়সা দিয়ে যাবেন৷ আমি এখানে কাল অবধি বসব৷’ গুনগুন করে আবার সেই সুরটা ভাঁজে লোকটা৷

    মনে মনে হাসলাম৷ লোকটা কাঠের সঙ্গে ব্যবসাটাও ভালোই বোঝে৷ পয়সা দিতে এলে আবার অন্য কিছু গছিয়ে দেবে আমাকে৷ বললাম, ‘তার দরকার হবে না৷ দাম কত এটার?’

    কালো প্যাকেট হাতে নিয়ে ফ্ল্যাটে ফেরার সময়ে আবার নবদার সঙ্গে দেখা হতে তিনি প্যাকেটের দিকে ইশারা করলেন, ‘কিনলেন নাকি?’

    —‘আজ্ঞে হ্যাঁ৷ মরা হাতি শুনেছিলাম লাখ টাকা৷ কাঠের হাতি কিন্তু সস্তায় পেলাম মশাই৷’

    —‘তুমি রাইস আদমি বলে কথা, বাড়িতে একটা হাতি পোষা কি চাট্টিখানি কথা রে ভায়া?’

    দু-জনেই হেসে উঠলাম৷ নবদা সিঁড়ির দিকে এগোচ্ছিলেন৷ তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, ‘আচ্ছা, লোকটা কবে থেকে বসছে এখানে?’

    —‘এই ধরো দিন সাতেক৷’

    —‘হুম! রোজই বসে?’

    —‘হ্যাঁ, রোজই তো অফিস বেরোনোর সময় দেখি, চাটাই নিয়ে বসেছেন৷ রন্টু বলছিল বিকেলের দিকে কাস্টমার কমে এলে ফাঁকা সময়টায় একটা অদ্ভুত যন্ত্র বাজায়৷ অনেকটা হারমোনিকার মতো, তবে কাঠের৷ মনে হয় ওঁর নিজেরই তৈরি৷ ভারী সুন্দর সুর তোলে৷ তা ছাড়া সব সময় হাসিমুখ৷ আমার জীবনে দেখেছি, যেসব লোক অকারণেই সারাক্ষণ হাসে, তারা মোটেই সুবিধের নয়, একটু সামলে ভায়া…’

    নবদা নীচে নেমে যেতে আমি নিজের ঘরে চলে এলাম৷ দরজাটা ভিতর থেকে লক করে দিয়ে প্যাকেট থেকে হাতিটা বের করে ডাইনিং টেবিলের উপরে বসিয়ে রাখলাম৷

    এ ফ্ল্যাটটা আমি আর সুস্মিতা মিলে বিয়ের আগেই কিনেছিলাম৷ তবে এসে থাকতে শুরু করেছি সপ্তাহ দুয়েক হল৷ ফ্ল্যাটবাড়িতে পাড়াপড়শি বলে তেমন কিছু থাকে না৷ আমাদেরও এখানে কারও সঙ্গেই তেমন আলাপ হয়নি৷ ওই নবকিশোরবাবু ছাড়া৷ ভদ্রলোক আগে নৈহাটিতে থাকতেন৷ সেখানের বাড়ি বেচে মাসখানেক আগে ফ্যামিলি নিয়ে এসে উঠেছেন এই ফ্ল্যাটে৷ মানুষটা মিশুকে হলেও তাঁর ছেলে আর বউয়ের সঙ্গে তেমন আলাপ হয়নি আমার৷ দু-দিন আগে অফিসের কাজে বাইরে গিয়েছে সুস্মিতা৷ জায়গাটা একটু গ্রামের দিকে বলে সবসময় যোগাযোগ করা যাচ্ছে না৷ পরশু ফেরার কথা আছে৷ টেবিলের পাশের চেয়ারে বসে মন দিয়ে গজরাজকে দেখতে দেখতে ভারী অদ্ভুত একটা খেয়াল এসে চেপে ধরল আমাকে৷ মনে হল, ঠিক এইরকম হাতি আমি আগেও দেখেছি৷ অবিকল এই ভঙ্গিমা৷ কাঠের উপরে ঠিক একই রকম হাতের কাজ৷ পুতুলটা যত দেখছি তত মনের ভিতরে বদ্ধমূল হচ্ছে ধারণাটা৷ আশ্চর্য!

    অফিসে ছুটি চলছে৷ সাতসকালে করার কিছু নেই৷ ফলে এই উটকো ভাবনাটাই আমার মনটাকে ছেলেধরার মতো ব্যাগে ভরে ফেলল৷ কী মনে হতে আলমারি খুলে তার ভিতর থেকে পুরোনো ছবির অ্যালবাম বের করে আনলাম৷

    ক-দিন আগেই সুস্মিতা বাপের বাড়ি থেকে কপি করিয়ে নিয়ে এসেছে এগুলো৷ বেশির ভাগই তার নিজের ছেলেবেলার ছবি৷

    ছবিগুলো উলটে-পালটে দেখতে লাগলাম৷ অন্যসময় হলে আমার মুখে আলগা একটা হাসি ফুটত ছবিগুলো দেখে৷ তবে এখন কিছু খুঁজে চলেছে আমার চোখ৷ একটা পাতায় এসে আটকে গেলাম৷ সুস্মিতার বছর দশেকের একটা ছবি৷ একটা শোকেসের গায়ে হাত রেখে দাঁড়িয়ে সে হাসছে৷

    শোকেসের ভিতরে রাখা আছে কয়েকটা কাঠের পুতুল৷ কোনওটা বাঘ, কোনওটা জিরাফ আবার কোনওটা হাতি৷ ছবিটা চোখের কাছে এনে দেখলাম৷ একই হাতের কাজ, একই রকম নিখুঁত ফিনিশিং, একই রকম ল্যাজের গঠন… আমি শিল্পবিশারদ না হলেও নিঃসন্দেহে বলতে পারি আমার সামনে রাখা কাঠের পুতুল আর ওই শোকেসের জন্তুগুলোর কারিগর কোনওমতেই আলাদা লোক নয়…

    বাইরে রাস্তার উপর থেকে একটা সুরেলা শব্দ ভেসে আসছে৷ ভারী করুণ একটা সুর তুলেছে মানুষটা৷ একটু আগে এই সুরটাই গুনগুন করছিল মনে হয়৷ বুকের ভিতর অবধি যেন নিস্তব্ধ করে দিচ্ছে সেই আওয়াজ৷ মাথার ভিতরে ঝিমঝিমে একটা অনুভূতি খেলা করে চলেছে৷

    (তিন)

    রাত সাড়ে আটটা নাগাদ কল রিসিভ করল সুস্মিতা৷ সারাদিনে আমি অন্তত বার তিনেক কল করেছি৷ ফোন নট রিচেবল৷ এগারো নম্বর বারে ওপাশ থেকে তার অবসন্ন গলা শোনা গেল, ‘হ্যাঁ বলো৷ আজ সারাদিন যা ধকল গিয়েছে, কী বলব…’

    —‘তোমার সেই কাঠের পুতুলগুলোর কথা মনে আছে?’

    আচমকা প্রশ্নটা শুনে অবাক হয়েছে সুস্মিতা৷ থতমত খেয়ে বলল, ‘অ্যাঁ? পুতুল! সে মনে থাকবে না কেন? কিন্তু ওসব কথা…’

    —‘কোথা থেকে কিনেছিলে ওগুলো?’

    এবারে একটু রাগত গলা শোনা যায়, ‘সারাদিন পরে একবার ফোনে নেটওয়ার্ক এল আর তুমি পুতুল পুতুল করছ!’

    —‘ব্যাপারটা ইম্পর্ট্যান্ট, প্লিজ একটু ভাবার চেষ্টা করো৷ কোথা থেকে কিনেছিলে ওগুলো?’

    —‘আমি কিনব কী করে? যদ্দুর, মনে পড়ছে কেউ গিফট করেছিল৷ প্লাস্টিকের খেলনা নাকি হার্মফুল তাই কাঠের খেলনা…’

    —‘কে গিফট করেছিল মনে নেই?’

    সুস্মিতা এবার ভাবার চেষ্টা করে, ‘তোমাকে তো রাঙামাসির কথা বলেছি৷ উনি মনে হয় দিয়েছিলেন৷’

    —‘ওঁর নম্বরটা পাঠাও তো আমাকে৷’

    —‘আরে, সে তো মারা গেছে তিন বছর আগে৷ তবে… রাঙামেসো বেঁচে আছে৷’

    —‘বেশ, সেটাই পাঠাও৷’

    কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করতে আমার ফোনে একটা মেসেজ ঢোকে৷ সেটা চেক করতে করতে বলি, ‘আচ্ছা বেশ৷ পরে কল করছি৷’

    —‘তোমার কী হয়েছে বলোতো?’

    —‘না না! কী হবে আবার… রাখলাম, হ্যাঁ?’

    ফোনটা প্রায় মুখের উপরেই কেটে দিয়ে আমি নম্বরটা ডায়াল করলাম৷ কিছুক্ষণ রিং হবার পর একটা বয়স্ক ভারী কণ্ঠ শোনা গেল৷ আজেবাজে কথায় কিছুটা সময় নষ্ট হল৷ খানিক খেজুরে আলাপ করে আমি আসল প্রসঙ্গে গেলাম, ‘আচ্ছা পুতুলগুলো কোথা থেকে কিনেছিলেন বলুন তো?’

    উত্তর দেওয়ার আগে খানিক স্মৃতি হাতড়ালেন ভদ্রলোক৷ তারপর টানাটানা স্বরে বললেন, ‘সে তো আজ প্রায় পনেরো বছর আগের কথা রে ভাই৷ আর কিনেওছিলেন তোমার মাসিমা…’

    —‘আপনাকে বলেননি?’

    ব্যঙ্গের হাসি মিশে যায় লোকটার কথায়, ‘তা মেয়েরা তো কতরকম কথা বলতে থাকে সারাদিন৷ সেসব কি আমি মন দিয়ে শুনেছি না তুমি মন দিয়ে শোনো?’

    —‘মানে আর জানা যাবে না?’ আমি হতাশ গলায় বললাম৷

    একটুক্ষণ পরে আবার কথা ভেসে আসে ওপাশ থেকে, ‘তোমার গলা শুনে মনে হচ্ছে ব্যাপারটা আর্জেন্ট৷ তোমাদের মাসিমা তো ডায়েরি লিখতেন৷ পুতুলগুলো কেনার কথাও তাতে লেখা থাকতে পারে৷ তবে তাতে একটু খুঁজতে হবে যে…’

    —‘প্লিজ একটু দেখুন যদি থাকে৷’

    —‘আচ্ছা বেশ৷ আমি রাতের মধ্যে জানাই তোমাকে, কেমন?’

    ফোনটা রেখে কিছুক্ষণ পায়চারি করলাম৷ জানি না কেন, এত ছোট একটা ব্যাপারে মনটা অস্থির হয়ে উঠছে বারবার৷ মনে হয় হাতে আর কোনও কাজ নেই বলেই৷ মাথার ভিতরে সেই খইনিখোর পুতুলওয়ালাটার মুখ ভেসে উঠছে বারবার৷ সুস্মিতার বাড়িতে তার তৈরি করা পুতুল থাকাটা মোটেই আশ্চর্যের কিছু না… তা-ও… জানি না কেন মনটাকে শান্ত করতে পারছি না কিছুতেই৷

    অস্থির ভাবটা কাটাতেই নবদাকে ফোন করে নিমন্ত্রণ করলাম বাড়িতে৷ বললাম অফিস থেকে ফিরে সত্বর আমার অ্যাপার্টমেন্টে চলে আসতে৷ রাতের খাওয়া এখানেই সেরে নেওয়া যাবে৷ ভদ্রলোক মনে হয়, একটু অবাকও হয়েছেন৷

    তিনি যখন দরজায় কলিং বেল বাজালেন, ততক্ষণে আমার রান্নাবান্নার পাট চুকে গিয়েছে৷ সুস্মিতার অ্যালবামের ছবিগুলো আরও ভালো করে খুঁটিয়ে দেখছিলাম এতক্ষণে৷ নবদা আসতেই তার সামনে এগিয়ে দিলাম সেগুলো, বললাম, ‘দেখুন তো, মনে হচ্ছে না একই শিল্পীর কাজ?’

    ভদ্রলোক আমার হাবভাব দেখেই হয়তো কথার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন৷ ছবিগুলো মিনিটখানেক সরেজমিন করে বললেন, ‘সিমিলারিটি একটা আছে সন্দেহ নেই৷ কিন্তু আমি একটা ব্যাপার বুঝছি না ভায়া…’ ছবি নামিয়ে রেখে আমার দিকে চেয়ে তিনি বললেন, ‘ধরে নিলাম তোমার ছবির পুতুলগুলোও ওই লোকটারই বানানো৷ আজ থেকে পনেরো বছর আগে, মানে লোকটার তখন বয়স ছিল তিরিশের কাছাকাছি৷ তো ওই বয়সে একটা লোক যদি কাঠের পুতুল বিক্রি করে, তাতে আশ্চর্যের কী আছে? ছবিটা কাল সকালে না হয় দেখিও লোকটাকে…’

    —‘আপনি বুঝতে পারছেন না, নবদা…’ আমি হাতের উপরে একটা ঘুসি মেরে বললাম, ‘লোকটা কতদিন আগে এখানে এসেছে বলেছিলেন?’

    —‘সাত দিন হবে…’

    —‘কুকুর মরা কবে থেকে শুরু হয়েছে?’

    একটু থমকে উত্তর দিলেন নবদা, ‘ওর সঙ্গে সঙ্গেই মনে হয়৷ মানে তুমি বলতে চাইছ, লোকটাই খুন করছে কুকুরগুলোকে? কিন্তু কেন?’ আমি মাথা দোলালাম, ‘তা জানি না৷ কিন্তু আমার স্থির বিশ্বাস, লোকটার পুতুল বেচা ছাড়াও অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে৷’

    —‘কীরকম উদ্দেশ্য?’

    —‘তা বলতে পারব না৷ তবে কাজটা সে রাতে করতে চায়৷ কুকুররা রাতে পাড়া পাহারা দেয়৷ ফলে সব ক-টা কুকুরকে খতম করে দিলে ওঁর কাজটা নির্বিঘ্নে হতে পারে…’

    —‘আঃ৷ ভারী অ্যাবসার্ড কথা বলছ হে তুমি৷ গত এক সপ্তাহে এ পাড়ায় কারও বাড়ি চুরি হয়নি৷’ নবদা প্রতিবাদ করে ওঠেন৷

    —‘হয়নি৷ হতে চলেছে৷ এবং আমার মনে হয় কাজটা সাধারণ চুরিজাতীয় কিছু নয়… এত আটঘাট বেঁধে কেউ চুরি করে না৷’

    আমি নবদার পাশটায় এসে বসে পড়ি৷ দুটো হাতের মধ্যে মাথা রেখে মাটির দিকে চেয়ে থাকি৷ তিনি একটা হাত রাখেন আমার পিঠে৷ খানিক নরম গলায় বলেন, ‘সত্যি করে বলো তো কী হয়েছে… সাধারণ একটা চুরির আশঙ্কায় তুমি এতটা ভেঙে পড়েছ বলে মনে হচ্ছে না…’

    ধীরে ধীরে মাথা তুলি আমি, ‘জানি না কেন আমার বার-বার মনে হচ্ছে, এই লোকটার কাজের সঙ্গে সুস্মিতার কিছু একটা যোগ আছে৷’

    —‘সুস্মিতার!’

    —‘হ্যাঁ৷ ও এখন পাড়ায় নেই৷ তাই হয়তো অপেক্ষা করছে লোকটা৷ এ বাড়িতে এলেই কোনওভাবে আক্রমণ করতে চায়…’

    —‘বেশ, তো তুমি ওকে আপাতত আসতে বারণ করো৷’

    —‘কী বলে বারণ করব? যে একটা পুতুলওয়ালাকে ভয় পাচ্ছি?’

    নবদা কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন৷ এমন সময় আমার মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল৷ অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসছে৷ আমি রিসিভ করে লাউডস্পিকারটা অন করে দিলাম, ‘ডায়েরিটা পেয়েছি, বুঝলে? আর গুড নিউজ হল, এতে তোমার পুতুলগুলোর কথাও লেখা আছে৷’

    —‘কী লেখা আছে?’

    —‘জন্মাষ্টমীতে আমাদের এখানে একটা মেলা হত৷ সেখানেই একটা অল্পবয়সি ছেলের থেকে কিনেছিল পুতুলগুলো৷’

    ‘অল্পবয়সি ছেলে? মানে বছর কুড়ির?’

    ‘না না, আর-একটু বেশি৷ তবে বয়স কম হলে কী হবে? ছেলের কাজ ছিল ভারী চৌকশ৷ তোমার মাসিমার এত পছন্দ হয়েছিল যে একসঙ্গে সব পুতুল কিনে নিয়েছিলেন৷ কেবল ঘোড়াগুলো সে বেচতে চায়নি৷’ ফোনের উপর আমার হাতের আগল আলগা হয়ে এসেছিল৷ তাকিয়ে দেখলাম, নবদার ভুরুও কুঁচকে গিয়েছে৷ বৃদ্ধ ভদ্রলোক ওদিক থেকে অপ্রয়োজনীয় কিছু কথা বলেই চলেছেন, ‘ছেলেটা তোমার মাসিমাকে বলেছিল, কিনতে চাইলে সে পরের দিন আরও কাঠের পুতুল নিয়ে আসবে, কিন্তু ওঁর আর পরের দিন যাওয়া হয়নি…’

    —‘যাওয়া হয়নি কেন?’

    কয়েক সেকেন্ড পরে উত্তর ভেসে আসে, ‘এখানে লেখা আছে, ওঁর পোষা কুকুরটা সেদিনই মরে গিয়েছিল, বুঝলে? ডাক্তার বলেছিল বিষক্রিয়া… ওদের আশপাশে নাকি বেশ কয়েকটা বাড়িতে… যাক গে৷ পরের বছর মেলায় গিয়ে তোমার মাসিমা আর দেখতে পায়নি ছেলেটাকে৷ এগুলো পড়তে পড়তে কত পুরোনো কথা…’

    ফোনটা কেটে দিলাম আমি৷ ধপ করে বসে পড়লাম চেয়ারের উপরে৷ নবদা আমার কাঁধে দুটো হাত রাখলেন, ‘ব্যাপারটা আর অতটা স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না কিন্তু…’

    —‘একটাই উপায় আছে আমাদের কাছে…’ আমি মুখ থেকে হাত সরিয়ে বললাম৷

    —‘কী উপায়?’

    —‘লোকটা সাত দিনে চারটে কুকুরের গলা কেটেছে৷ এ পাড়ায় আরও দু-চারটে কুকুর ঘুরে বেড়ায়৷ হয়তো আজ রাতেও অভিযান চালাবে সে৷ আপনি আর আমি যদি আজ রাতটা একটু সতর্ক থাকি…’

    নবদা মাথা নাড়ালেন, ‘পরশু সুস্মিতা ফিরছে৷ তার আগেই কিছু একটা করা দরকার৷ কিন্তু… লোকটার হাতে ছুরি থাকে নিশ্চিত…’

    —‘আমাদের হাতেও থাকবে…’ আমি ডাইনিং টেবিলের উপর পড়ে থাকা ধারালো ছুরিটা হাতে তুলে নিই, ‘কাঠের উপরে না-হোক, মানুষের মাংসে নির্ঘাত চালাতে পারব৷’

    (চার)

    ঝিঁঝি ডেকে চলেছে একটানা৷ সেই সঙ্গে শনশন করে হাওয়া দিচ্ছে ছাদ জুড়ে৷ ছাদের দুটো প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি আমরা দু-জন৷ আমাদের ফ্ল্যাট এ পাড়ায় সব থেকে উঁচু৷ ফলে দু-প্রান্তে দু-জন দাঁড়ালে গোটা পাড়াটাই চোখে পড়ে৷ আজ ভরা চাঁদের আলো আছে আকাশে৷ সে আলোয় ফাঁকা পড়ে থাকা রাস্তা আর তার পাশে অন্ধকার ঝোপঝাড় মায়াবী জ্যোৎস্নায় ভরে উঠেছে৷

    গত এক ঘণ্টায় দু-দিকের কোনও রাস্তাতেই মানুষের চিহ্ন দেখা যায়নি৷ কেবল কয়েকটা কুকুর-বিড়াল হেঁটে গিয়েছে৷ একপ্রান্ত থেকে হেঁটে এসে কোনও বাড়ির পাশ দিয়ে মিলিয়ে গেছে৷ ঘুম যাতে না আসে সেজন্য গান চালিয়ে রেখেছি আমি৷ মাঝে মাঝে অকারণেই প্রশ্ন করছি নবদাকে লক্ষ্য করে৷ ভদ্রলোক যাতে ঘুমিয়ে না পড়েন৷

    —‘আপনাকে জাগিয়ে রাখা অন্যায় হচ্ছে, জানি৷ সারাদিন অফিস করে…’

    —‘আরে, এ আর কী? পরের মাসে ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপ শুরু হচ্ছে তো৷ তারই একটু প্যাকটিস হচ্ছে আর কী…’

    ছাদের পাঁচিল ঘেঁষে দাঁড়িয়েছি দু-জনে৷ ফলে নীচ থেকে আমাদের দেখতে পাবার কথা নয়৷ আমি রাস্তার দিকে দৃষ্টি রেখেই বললাম, ‘ভারী তাজ্জব ব্যাপার, না? আজ যদি রাস্তায় একটা জেল-পালানো খুনি, কিংবা মব বস গলা কেটে পড়ে থাকত তাহলে মিডিয়া-পুলিশের মেলা লেগে যেত… অথচ ক-টা নিষ্পাপ কুকুর খুন হচ্ছে বলে কারও হেলদোল নেই তেমন… খুনিকে ধরার চেষ্টাও করছে না কেউ…’

    ওপাশ থেকে উত্তর এল না৷ ভদ্রলোক হয়তো ভেবেছিলেন, বিশ্বকাপের ব্যাপারটা নিয়েই কিছু বলব আমি৷ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম, ‘একটা ব্যাপারে খটকা লাগছে, জানেন?’

    —‘কী?’

    —‘কুকুরজাতীয় প্রাণীর কগনিটিভ প্রিমোনিশন বলে একটা ক্ষমতা থাকে৷ খারাপ কিছুর সম্ভাবনা তারা আঁচ করতে পারে৷ ধরুন, যে পাঁঠা কোনওদিন কসাইখানা দেখেনি, সে-ও সহজে কসাইখানায় ঢুকতে চায় না৷ টানাটানি করে ঢোকাতে হয়৷ কুকুরগুলো কি লোকটাকে দেখে বুঝতে পারে না লোকটার উদ্দেশ্য ভালো নয়?’

    —‘সে বুঝলেই বা, আদতে তো হ্যাংলা প্রাণী৷ হাতে খাবার দেখেই গলে যায় হয়তো…’

    —‘সেখানেও একটা সমস্যা আছে… কুকুর রাতবিরেতে সাধারণত দল বেঁধে বড় কোনও রাস্তায় শুয়ে থাকে৷ ঝুন্ডের মাঝে একটা কুকুরকে খাবার দেখালে সবাই দেখতে পাবে৷ সবাই মিলে ছুটে এলে খুন করে পালানো সম্ভব নয়…’

    —‘তাহলে?’

    —‘আমার মনে হয় দিনের বেলা লোকটা একটা কুকুরকে টার্গেট করে নেয়৷ তাকে একাকী কোথাও ডেকে নিয়ে গিয়ে খেতে দেয়৷ সকালে কুকুর দল বেঁধে থাকে না৷ ফলে কাজটায় অসুবিধে হয় না৷ রাতে সে হাতে খাবার নিয়ে আসে বটে, কিন্তু প্রথমেই সেটা দেখায় না৷ দলের পাশ দিয়ে আওয়াজ করে হেঁটে চলে যায়৷ যে কুকুরটা সকালে খেতে পেয়েছিল সে-ই আবার খেতে পাবার আশায় পিছন পিছন যায়৷ বাকিরা আগের

    মতোই শুয়ে থাকে….আর তারপরেই…’

    —‘ওই… ওই যে…’ আমার কথার মাঝেই চাপা চিৎকার করে ওঠেন নবদা৷ আমি ফিরে তাকিয়ে দেখি, ওঁর সমস্ত শরীর স্থির হয়ে গেছে৷ যেন কান পেতে কিছু শোনার চেষ্টা করছেন৷ আমার দিকে না তাকিয়েই বললেন, ‘একটা আওয়াজ আসছে৷ শুনতে পাচ্ছ?’

    শনশন হাওয়ার শব্দ কানে আসছে বটে, কিন্তু তার সঙ্গে অন্য কিছু মিশে আছে কি? আমি কান খাড়া করে শুনতেই আওয়াজটা চিনতে পারলাম৷ আবার সেই যন্ত্রটা বাজছে৷ আবার সেই চেনা সুর৷ খুব ক্ষীণ, তা-ও সুরের উৎস লক্ষ্য করে অন্ধকারের বুকে কিছু খোঁজার চেষ্টা করলাম৷ তার আগেই নবদার একটা আঙুল উঠে এসে দূরে কিছু দেখানোর চেষ্টা করে আমাকে, ‘ওই একটা নড়ছে৷ ওই… রাস্তার উপরে দেখতে পাচ্ছ?’ নবদা উত্তেজিত গলায় বলেন৷

    জিনিসটা আমারও চোখে পড়েছে৷ রাস্তাটা আমাদের থেকে একশো মিটারের বেশি দূরে না৷ বিড়বিড় করে বলি, ‘হাতে কিছু আছে মনে হচ্ছে৷ বস্তা জাতীয় কিছু…’

    আমি আর অপেক্ষা করি না৷ ছাদ পেরিয়ে বেরিয়ে এসে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে থাকি৷ লোকটা বড় রাস্তার উপরেই আছে৷ তাড়াতাড়ি পা চালাতে পারলে ওকে এক্ষুনি ধরতে পারব৷

    এতরাতে লিফট বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ আমি হাঁপাতে হাঁপাতে কোনওরকমে একতলায় নেমে আসি৷ উপরের তলায় পায়ের আওয়াজ শুনে বুঝতে পারি, নবদাও আসছেন আমার পিছন পিছন৷ তাঁর হাতে একটা লাঠি আছে৷ আমি ডান হাতে ছুরিটাকে শক্ত করে ধরে ছুটতে থাকি বড় রাস্তার দিকে৷ লোকটা যে-ই হোক, তাকে কিছুতেই পালাতে দেওয়া যাবে না৷

    পিছনে তাকিয়ে দেখি, নবদাও আমার ঠিক পিছনেই দৌড়ে আসছেন৷ ভদ্রলোকের বয়স পঁয়তাল্লিশের কাছাকাছি৷ এই বয়সেও তাঁর পায়ে বেশ জোর আছে৷ গলা তুলে বললেন, ‘মনে হয়, বস্তা নিয়ে এদিকেই আসছে৷ একবার ধরতে পারলে জানোয়ারটাকে…’

    আমাদের পাড়ার রাস্তাটা যেখানে মেন রোডে মিশেছে ঠিক সেখানে এসে দাঁড়িয়ে পড়লাম আমরা৷ এখান থেকে সোজা সামনে তাকালে দেখা যায়, রাস্তার একেবারে শেষ প্রান্তে একটা কালচে শরীর পা ছড়িয়ে বসে আছে৷ তার থেকে একটু দূরে একটা বড় সাইজের বস্তা৷ এতক্ষণ রাস্তার উপরে ঘষে ঘষে সেটাকে টেনে এনেছে সে৷

    আমরা দু’জনে রাস্তার ধারের পাঁচিল ঘেঁষে দাঁড়ালাম৷ ক-দিন হল পাড়ার ল্যাম্পপোস্টগুলো কারা যেন ভেঙে দিয়ে গিয়েছে৷ এখন অবশ্য সে উত্তর জানতে বাকি নেই আমাদের৷

    সেই চেনা সুরটা এখন স্পষ্ট কানে আসছে৷ মনে হয়, বস্তাটা এত দূর টেনে এনে হাঁপিয়ে গেছে মানুষটা৷ দু-হাতে মুখের কাছে কিছু একটা যন্ত্র ধরে সুরটা বাজিয়ে চলেছে সে৷ যন্ত্রটা হাতে ঢাকা পড়ে গেছে বলে ঠিক দেখা যায় না৷ তাও মনে হল, শিঙে আর হারমোনিকা মিলিয়ে যেন তৈরি হয়েছে যন্ত্রটা৷ চাপাস্বরে বাজাচ্ছে লোকটা৷ যেন যন্ত্রের নলের ভিতর থেকেই বুকের ভিতর দম টেনে নিচ্ছে৷ এই রূপালি জ্যোৎস্নায় খোলা রাস্তা আর ঘুমস্ত বাড়িঘরগুলোকে যেন ঘুম পাড়াতে চায় সুরটা৷

    —‘এ তো পুরো সাইকো৷ খুন করে বডির সামনে বসে হারমোনিকা বাজায়!’ নবদা ফিসফিস করে বলে৷

    আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে রইলাম৷ শক্ত করে ধরে রইলাম ছুরিটা৷ লোকটা পালানোর চেষ্টা করবে না হয়তো৷ কুকুর খুনের জন্য তেমন বড় সাজা তার হবে না…

    খানিক পরে যন্ত্রটা পকেটে ঢুকিয়ে আবার উঠে দাঁড়ায় লোকটা৷ একবার দু-হাতে চোখ মোছে৷ বস্তাটাকে হাতে ধরে এগিয়ে আসতে থাকে আমাদের দিকে৷ তার ক্লান্ত নিশ্বাসের শব্দ এখান অবধি শোনা যাচ্ছে৷ সে শব্দের মধ্যে মনে হল, মৃদু কান্না মিশে আছে৷

    খইনির গন্ধ পাচ্ছি কি? নাকি মনের ভুল?

    আবার সামনে এগোতে শুরু করেছে লোকটা৷ দশ মিটার… পাঁচ মিটার… এবার একেবারে আমাদের হাতখানেকের মধ্যে এসে পড়েছে৷

    আমার পাশ থেকে একটা শরীর বিদ্যুতের মতো ছিটকে গেল তার দিকে, লোকটা আচমকা আক্রমণের জন্য তৈরি ছিল না৷ মুখ দিয়ে ক্ষীণ আর্তনাদ করে ছিটকে পড়ল রাস্তার একধারে৷ বস্তাটা রাস্তার মাঝখানেই পড়ে রইল৷ নবদা হাঁপাতে হাঁপাতে উঠে দাঁড়িয়ে আবার ছিটকে গেল মাটিতে পড়ে-থাকা লোকটার দিকে, ‘হারামজাদা, একটুও নড়েছিস কি পা একেবারে গুঁড়ো করে দেব…’

    পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে ফ্ল্যাশলাইট জ্বেলে সামনে তুলে ধরলাম৷ লোকটার মুখের উপরে আলো গিয়ে পড়তেই একটা হাত দিয়ে আলোটা আটকানোর চেষ্টা করল সে৷

    তিনটে প্রাণীর ক্লান্ত নিঃশ্বাসের শব্দে ভরে উঠল ফাঁকা রাস্তাটা৷ আলোটা একবার বস্তার উপর ফেলে দেখে নিলাম৷ চুঁইয়ে চুঁইয়ে কালচে লাল রক্ত পড়ছে সেটা থেকে৷

    —‘নিরীহ অবলা প্রাণীগুলোকে খুন করতে হাত কাঁপে না শালা তোর?’ আমি ছুরিটা নিয়ে এগিয়ে গেলাম তার দিকে৷

    নবদা লোকটার হাঁটুতে সজোরে একটা আঘাত করল লাঠি দিয়ে৷

    —‘ওরে ওরে… মারিস না রে… আমি চলতে না পারলে…’ লোকটা একবার ককিয়ে উঠে হাঁটু চেপে ধরল৷ সঙ্গে সঙ্গে অন্য হাঁটুতে নেমে এল লাঠি৷ লোকটা গড়িয়ে পড়ল মাটিতে৷ যেভাবে লেগেছে, তাতে মালাইচাকি সরে গেছে হয়তো৷

    —‘কেন খুন করিস কুকুরগুলোকে?’ লোকটার পেটের উপরে একটা পা রাখলাম৷

    সে কোনও উত্তর দিল না৷ হাঁটুর যন্ত্রণায় কুকুরের মতো কুঁইকুঁই শব্দ করে চলেছে ক্রমাগত৷ নবদা আবার মারতে যাচ্ছিল৷ আমি বাধা দিলাম, ‘থাক, আবার পুলিশের হুজ্জুতি হবে৷ কাল সকালে একে পুলিশে দিয়ে দেব৷ ওরাই যা করার করবে…’

    এতক্ষণ লোকটার মুখের দিকে চেয়ে ছিলাম৷ এবার জামার দিকে নজর যেতেই আমার গা শিউরে উঠল৷ গোটা পাঞ্জাবি জুড়ে কালচে শুকনো রক্তের ছিট-ছিট দাগ৷ সম্ভবত এই পাঞ্জাবিটা পরেই রাতে খুন করে সে৷ তার গালে সজোরে একটা চড় মারলাম আমি৷ আবার কঁকিয়ে উঠল লোকটা৷

    —‘কাল সকালে এ মক্কেল তো হাওয়া হয়ে যাবে… অবশ্য পায়ে যা ডোজ দিয়েছি বেশি দূর যেতে পারবে না…’

    —‘উঠে দাঁড়া৷’ আমি লোকটার দিকে চেয়ে বললাম৷ সে একবার দাঁড়ানোর চেষ্টা করে কাদার মতো লুটিয়ে পড়ল মাটিতে৷

    —‘বেশ৷ বসেই বসেই স্বীকারোক্তি দে…’

    আমি ফোনের ভিডিয়ো রেকর্ডিং-এর বাটানটা চালিয়ে দিলাম, ‘বল শালা, কেন খুন করিস কুকুরগুলোকে?’

    লোকটাকে চুপ করে থাকতে দেখে আবার লাঠির বাড়ি মারতে যাচ্ছিল নবদা৷ তার আগেই হাত দিয়ে সেটা আটকানোর চেষ্টা করে সে, ‘বলছি বলছি… কুকুর… কুকুর আমি সহ্য করতে পারি না… ওদের দেখলেই আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়…’

    লোকটার গলায় কোনও অনুশোচনা নেই৷ যেন গায়ের ঝাল মেটাতেই কথাগুলো বলছে সে৷

    —‘এ পাড়ায় যতগুলো কুকুর খুন হয়েছে, তাদের কে মেরেছে?’

    —‘আমি…’

    রক্তের দাগ-লাগা বস্তাটার দিকে ক্যামেরাটা একবার ঘোরালাম আমি৷ তারপর বন্ধ করে দিলাম রেকর্ডিংটা৷

    —‘যা, ভাগ হারামজাদা৷ কাল সকালে হয় পুলিশের লোক তোর বাড়ি যাবে, না হয় পাগলাগারদের…’

    লোকটার উঠে পালানোর ক্ষমতা নেই৷ তার বুকের উপরে একদলা থুতু ফেলে নবদা বাড়ির রাস্তা ধরল৷ আমিও তার পিছু নিলাম৷

    এতটা দৌড়াদৌড়ি আর উত্তেজনার পরে শরীর ঝিমিয়ে আসছিল৷ পায়ে জোর পাচ্ছি না তেমন৷ তা-ও, মনের ভিতরে একটা গর্বের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছিল বারবার৷

    নবদা মুখ দিয়ে চকচক করে একটা আওয়াজ করল, ‘আরও দু-ঘা দিয়ে এলে হত৷ কুকুর মারার জন্য পুলিশ আর কীই বা করবে… দু-তিনদিন কড়কানি খেয়ে আউট হয়ে যাবে…’

    —‘ভাবছি, ভিডিয়োটা কাল সোশ্যাল মিডিয়ায় দেব৷ ভবিষ্যতে যদি এসব করার চেষ্টা করে…’

    পাশে তাকিয়ে দেখি, নবদার ভুরুটা কুঁচকে আছে৷ আমি একটু ঠেলা দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী ব্যাপার বলুন তো?’

    —‘একটা ব্যাপার ভারী অদ্ভুত, বুঝলে?’

    —‘কী?’

    —‘লোকটা খুন করে ফিরছিল, কিন্তু কোনও ছুরি ছিল না কাছে৷ আমি তো ওর গায়ের উপরে গিয়ে পড়েছিলাম৷ গায়ের কোথাও ছুরি আছে বলে তো মনে হল না…’

    আমি উত্তর দিতে গিয়েও দিলাম না৷ জানি না কেন মনে হল, লোকটা চাইলে অস্বীকার করতে পারত দোষটা৷ তাকে আমরা বস্তাটা টেনে আনতে দেখেছি৷ খুন করতে দেখিনি৷ যেন ইচ্ছা করেই দোষ স্বীকার করে নিল সে৷ তা ছাড়া আর-একটা ব্যাপার আজ রাত থেকেই মনের ভিতর খোঁচা দিচ্ছে৷ সুস্মিতার বাড়িতে কুকুরটাকে বিষ খাইয়ে খুন করা হয়েছিল, কিন্তু এ পাড়ারগুলোকে গলা কেটে মারা হয়৷ তাহলে কি এই পনেরো বছরে এমন কিছু ঘটেছে, যাতে কুকুরদের উপরে তার রাগ বেড়ে গেছে? নাকি দুটো লোক আলাদা? কিন্তু তা কী করে….

    পিছন ফিরে দেখলাম কোনওরকমে মাটি থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে সে৷ যন্ত্রণাময় দেহটা টেনে নিয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে দূরের দিকে…

    (পাঁচ)

    কাল বাড়ি ফিরে শুতে শুতেই চারটে বেজেছিল৷ সাড়ে তিনটে নাগাদ আমার ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন নবদা৷ তার আগে অবধি লোকটাকে নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে৷ শেষে ভোরের ঘুম চোখে এসে লাগাতে তিনি উঠে গিয়েছেন৷ আমি আর ওঁকে এগিয়ে দিতে যাইনি৷

    আজ ভেবেছিলাম, দেরি করে ঘুম থেকে উঠব৷ কিন্তু সকালের দিকেই দরজায় টোকা পড়ছে জোরে জোরে৷ কোনওরকমে ঘুম কাটিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে দেখি, নবদার স্ত্রী দাঁড়িয়ে আছেন৷ মুখটা দেখে মনে হচ্ছে, কোনও বিপদে পড়ে এসেছেন৷

    —‘আমার নাম রেবতী… আপনার পাশের ফ্ল্যাটে…’

    —‘হ্যাঁ… হ্যাঁ… চিনি আমি৷ কী ব্যাপার বলুন তো? এত সকালে…’

    —‘আপনি একটু আমার ঘরে আসবেন?’

    অনুরোধটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না৷ আপত্তিও করা যায় না৷ বললাম, ‘একটু ফ্রেশ হয়ে নিয়ে যাই?’

    মহিলা আর কিছু না বলে মাথা নেড়ে ফিরে গেলেন৷ কিছু একটা ঘটেছে নিশ্চয়ই৷ রেবতীদেবী সচরাচর নিজে এসে আমার সঙ্গে কথা বলেন না৷ খানিকটা দুশ্চিন্তা নিয়েই কলিং বেল বাজালাম৷ রন্টু দরজা খুলে দিল৷ আমাকে সোফাটা দেখিয়ে বলল, ‘মা আপনাকে বসতে বলেছে৷’

    আমি বসতে সে নিজের ঘরে ঢুকে গেল৷ ওপাশ থেকে তার পড়ার শব্দ শুনে বুঝলাম, সে ইংরেজি পড়ছে৷

    সুস্মিতার নম্বরটা ডায়াল করতে রিং হল৷ সে ফোন ধরেই বলল, ‘কাল কী হয়েছিল বলোতো তোমার? হুট করে কেটে দিলে ফোনটা…’

    —‘তোমার জন্য একটা জিনিস কিনছিলাম৷ যদিও পছন্দ হবে না…’

    —‘পছন্দ হবে না! কী জিনিস?’

    —‘একটা হাতি৷ তবে জ্যান্ত নয়৷ কাঠের৷’

    —‘বাঃ, ভালো তো৷ পছন্দ হবে না কেন?’

    —‘হাতি তোমার পছন্দ নয়, তাই৷ আমি মোটা ছিলাম যখন, আমাকে হাতি বলে খ্যাপাতে না?’

    —‘ও! তো বিয়েটা কাকে করেছি?’

    মনটা নরম হয়ে এল আমার৷ লোকটা বলেছিল সুস্মিতার পছন্দ হলেই পয়সা দিতে৷ এতটা ভদ্র অথচ কী নৃশংস মানুষটা!

    মিনিট তিনেক পরে হাতে একটা ফোটো নিয়ে ঘরে ঢুকে এলেন রেবতী দেবী৷ একটু ইতস্তত করে ছবিটা আমার হাতে দিয়ে বললেন, ‘দেখুন, আপনি আমার ভাইয়ের মতো৷ এ এলাকায় সাহায্য পাবার মতো আর কাউকে চিনিও না আমি৷ এসব কথা আর কাউকে আপনি বলবেন না, সেই বিশ্বাসেই আপনাকে বলছি…’

    কথা বলার ভঙ্গিতে একটু থতমত খেলাম আমি৷ ছবিটা হাতে নিয়ে দেখলাম একটা ফ্যামিলি পোট্রেট৷ চারটে মানুষ৷ এর মধ্যে তিনজনকে আমি চিনি৷ নবদা, রেবতী দেবী নিজে আর রন্টু… চতুর্থজন রন্টুরই বয়সি একটা ছেলে৷

    —‘রন্টু আমাদের দ্বিতীয় সন্তান৷ এই আমার প্রথম ছেলে টিটো৷ মারা গিয়েছে আজ ছ-মাস হল৷’

    —‘ওঃ৷’ মনটা খারাপ হয়ে গেল৷ কথাটা এতদিন চেপে রেখেছিলেন নবদা৷

    —‘একটা গাড়ির ধাক্কায় ও মারা যায়৷ স্পট-ডেড৷ স্কুল থেকে ফিরছিল, এমন সময় একটা কুকুর তাড়া করে ওকে…’

    —‘কুকুর!’

    —‘হ্যাঁ… ও ভয় পেয়ে পালাতে গিয়েই গাড়ির তলায়… ওর বাবা খুব বড় শক পায়৷ মাথাটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল তখন থেকেই৷ নানারকম ডিলিউশনে ভুগতেন৷ আর ওই কুকুর একেবারে সহ্য করতে পারতেন না৷ এই পাড়ার সমস্ত কুকুরকে উনিই…’

    চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম আমি, ‘কী যা-তা বলছেন৷ এ কী করে সম্ভব?’

    মহিলা শান্ত গলায় বলতে থাকেন, ‘সাধারণত কাজটা রাতে করতেন৷ আমি ঘুম থেকে উঠে দেখতাম উনি বিছানায় নেই৷ কাল অফিস থেকে ফেরার সময়ই ওঁর জামায় রক্তের দাগ দেখে বুঝি, ফেরার সময়েই খুন করেছেন৷’ আমার মাথার ভিতরে সব কিছু গুলিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে৷ তা কী করে হয়? নবদাই যদি কুকুরগুলোকে খুন করে থাকেন তাহলে লোকটা দোষ স্বীকার করল কেন? মহিলা নিশ্চয়ই মিথ্যে বলছেন৷ মাথার ব্যামো তাঁর নিজেরই আছে৷

    —‘উনি কোথায় এখন?’ আমি কঠিন গলায় প্রশ্ন করলাম৷ মহিলা এই প্রথম মুখ তুললেন, ‘কাল রাতে উনি বাড়ি ফেরেননি৷ আজ সকালেও ফেরেননি৷ আমার খুব টেনশন হচ্ছে ভাই… তুমি যদি একবার বাইরে বেরিয়ে…’

    অসহায়ের মতো আমার দুটো হাত চেপে ধরলেন তিনি৷ অস্বস্তি হল আমার৷ কাল রাতে নবদা বাড়ি ফেরেননি কেন, আমি জানি৷ কিন্তু আজ ভোরেও ফিরবেন না কেন? মন বলল ভোরের আগেই হয়তো উৎসাহে পুলিশে খবর করতে চলে গিয়েছেন৷

    —‘আপনি শান্ত হোন, আমি দেখছি৷’

    কথাটা বলে ঘরের বাইরের দিকে পা বাড়াতে যাচ্ছিলাম৷ একটা জিনিসে চোখ পড়তে থমকে গেলাম৷ রন্টু যে ঘরে পড়ছে, সে ঘরের শোকেসে একটা কাঠের পুতুল রাখা আছে৷ একটা সিংহ৷ শিল্পী কে, সেটা আর বলে দিতে হল না৷

    কৌতূহল হতে ঘরের ভিতরে ঢুকে এলাম আমি৷ রন্টু এখনও ইংরেজি পড়ে চলেছে৷ আমি সিংহটা হাতে নিয়ে তার দিকে দেখিয়ে বললাম, ‘এটা তোমার বাবা কিনেছে?’

    রন্টু উপরে নীচে মাথা নাড়ল, ‘আমার সিংহ খুব ভালো লাগে৷’

    আমি হাসলাম, ‘তা-ই? তাহলে এই কাঠের সিংহকে ইংরেজিতে কী বলবে বলোতো?’

    রন্টু একটু ভেবে উত্তর দিল, ‘উড লায়ন৷’

    —‘উঁহুঁ… হল না৷’ আমি তার কাছে গিয়ে গাল টিপে দিলাম, ‘উড না৷ উডেন, কাঠের সিংহ হল উডেন লায়ন৷ কাঠের হাতি উডেন এলিফ্যান্ট, আর কাঠের ঘোড়া হল উডেন…’

    বাকি কথা আমার গলাতেই মরে গেল৷ মাথার ভিতরটা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল এক মুহূর্তে৷ মাথা চেপে ধরে মাটির উপরেই বসে পড়লাম৷

    ‘উডেন হর্স’ মানে কাঠের ঘোড়া৷ কিন্তু আমেরিকার সিভিল ওয়ারের সময় ওই শব্দ দুটো একসঙ্গে বসলে তার অন্য একটা মানে হত৷

    উডেন হর্স পৃথিবীর ইতিহাসে সব থেকে ভয়ংকর এক টর্চার ডিভাইস৷ আজ এত বছর পরে এর বর্ণনা শুনলেও মানুষের বুক শিউরে ওঠে৷

    ঘোড়ার পিঠে যেমন স্যাডল থাকে, ঠিক তেমন আকারের একটা সরু কাঠের প্লাটফর্ম তৈরি করা হত৷ ঠিক যেন একটা ছোট পিরামিডকে দু-পাশ থেকে টেনে কেউ চওড়া করে দিয়েছে৷ উপরের দিকের সরু ধারটায় জেগে থাকত একটা লম্বা ধারালো ব্লেড৷ যাকে শাস্তি দেওয়া হবে, তার দু-পায়ে চেন দিয়ে ভারী কিছু বেঁধে দেওয়া হত৷ তারপর ঘোড়ার উপর অশ্বারোহী যেভাবে বসে, সেভাবে বসিয়ে দেওয়া হত ওই ব্লেডের উপরে৷ পায়ে বাঁধা ভারের টানে অপরাধীর শরীর ধীরে ধীরে মাঝখান থেকে চিরে দু-ফাঁক হয়ে যেত৷

    চকিতে মাটি থেকে উঠে পড়লাম৷ কোনওদিকে না চেয়ে দ্রুত নেমে এলাম একতলায়৷ রাস্তায় এসে পড়তেই দেখলাম, লোকটা খোঁড়া পায়েই আজ আবার চাটাই পেতে বসেছে৷ আগের মতোই তার সামনে সাজিয়ে রাখা আছে কাঠের জন্তু-জানোয়ারগুলো৷

    ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম তার দিকে৷ স্পষ্ট মনে আছে, কাল ঘোড়ার সংখ্যা ছিল আট৷ আজ ন-টা ঘোড়া দাঁড়িয়ে আছে চাটাইয়ের একপাশে৷ আমি সেদিকে তাকাতে আমার নজর লক্ষ করে একগাল হাসল লোকটা, ‘হেঁ হেঁ… সুপ্রভাত৷ আজ সকালে এইটা বানিয়েছি স্যার৷ ভারী সুন্দর হয়েছে, না?’

    —‘তুমি… তুমি কাল রাতে…’

    লোকটার মুখ থেকে হাসি মিলিয়ে এল৷ আমার দিকে স্থির-দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে সে বলল, ‘যারা নিরীহ অবলা প্রাণীদের উপর অত্যাচার করে, তাদের উপর ভীষণ রাগ হয় আমার, খুব রাগ হয়, খুব৷ মনে হয়, আমার ভিতরে একটা ঘুণপোকা সব কুরে কুরে খেয়ে নিচ্ছে৷ যতক্ষণ না লোকগুলোকে শাস্তি দিচ্ছি, ততক্ষণ পোকাগুলো খেয়েই যায় আমাকে৷ কী করব বলুন স্যার? রাগ কমাতে আমি ওদের ধরে এনে ঘোড়ায় চড়াই৷ কাঠের ঘোড়া৷

    কাল রাতে আপনার বন্ধু চড়েছে৷ ওই লোকগুলোকে ঘোড়ায় চড়তে দেখে আমার রাগ কমে, পোকাগুলো শান্ত হয়৷ ভারী শান্তি আসে মনে৷ ওদের ঘোড়ায় চড়তে দেখে প্রেরণা পেয়েই তো এই ঘোড়াগুলো বানাই আমি… নইলে এমন ভালো কাজ কি আর এমনিতে হয়… এই দেখুন-না…’

    লোকটা একটা কাঠের ঘোড়া তুলে ধরে আমার দিকে, ‘এটা আমার বানানো নয় নম্বর ঘোড়া স্যার৷ যতদিন বেঁচে আছি, ততদিনে আরও বানাব৷ অন্য কোথাও…’

    লোকটা উদাস হয়ে যায়৷ যেন স্মৃতির অতলে হারিয়ে যায় সে৷

    —‘কাল রাতে তাহলে…’

    —‘আমি কাল রাতে বাড়ি ফিরছিলাম, স্যার৷ কুকুরগুলোকে রোজ রাতে আমি খেতে দিই৷ ওদের সুর বাজিয়ে শোনাই৷ কাল শোনাতে গিয়ে দেখলাম একটা কুকুর নেই৷ বুঝলাম, কোথাও তার গলাকাটা দেহটা পড়ে আছে৷ আমি একটা ঝোপের ভিতর ওকে খুঁজে পেয়ে বডিটা চাপা দেব বলে টেনে আনছিলাম, এমন সময়…’

    —‘আর তোমার পাঞ্জাবিতে যে শুকনো রক্তের দাগ…’

    খলখল করে হেসে ওঠে লোকটা, ‘ওটা কুকুরের রক্ত নয় স্যার…’ আমার গা-টা গুলিয়ে ওঠে একবার, ‘কিন্তু তুমি যখন জানতে, নবদা খুনগুলো করছে তখন সবাইকে জানিয়ে দিলেই তো…’

    দাঁতের ফাঁকে হাসে মানুষটা, ‘কুকুর-বিড়াল মারলে কত টাকা জরিমানা হয়, স্যার? ওর থেকে বেশি টাকায় তো আপনি আমার একটা ঘোড়া কিনতে চেয়েছিলেন…’

    আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করি না, সে নিজেই বলতে থাকে, ‘এই যে আপনি যেমন বেঁচে আছেন, আমি যেমন বেঁচে আছি, তেমন ওই অবলা অসহায় জন্তুগুলোরও বেঁচে থাকতে ইচ্ছা করে, স্যার… হেঁ হেঁ৷ ওদেরও মরতে ব্যথা লাগে৷ যারা ওদের ব্যথা দেয় তাদেরও একই ব্যথা পাওনা হয়৷ এই যে আপনি কাঠের পুতুল কিনলে আমার যেমন পাওনা হয়…’

    —‘আপনার বন্ধু গত রাতে যে কুকুরটাকে মেরেছিল, তার একটা পা ছিল না, জানেন৷ কত কষ্ট করে হাঁটত কুকুরটা৷ খেতে পেত না৷ গলা চুলকোতে পারত না৷ ধুঁকত, কষ্ট পেত, কিন্তু অবিশ্বাস করেনি, বলুন? খাবার দেখিয়ে ডাকতেই খুশি হয়ে কাছে গিয়েছে৷ খাবারের বদলে গলায় ছুরি চলছে কেন, বুঝতেই পারেনি কুকুরটা… হেঁ হেঁ…’

    লোকটা এবার হাতের ঘোড়াটা তুলে ধরে আর-একটু উপরে, মুগ্ধ হয়ে যায় তার চোখ দুটো, ‘এইটা আমার সেরা কাজ হয়েছে, স্যার৷ আজ অবধি যত করেছি, তার মধ্যে একেবারে সেরা৷’

    তার চোখের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলাম৷ ঠিক যেন কোনও আর্মি অফিসার তার সদ্য পাওয়া মেডেলের দিকে মুগ্ধ হয়ে চেয়ে আছে৷ আমি ফিরে যাচ্ছিলাম৷ সে পিছু ডেকে থামিয়ে দিল আমাকে, ‘ও দাদা, শুনছেন… শুনুন-না…’

    আমি ফিরে তাকাতে সে খুশি মুখে ঘোড়াটা এগিয়ে দিল আমার দিকে, ‘এতদিন এ কাজ করছি, কেউ ধরতে পারেনি৷ আপনি পারলেন৷ নিন, এটা আমি আপনাকে দিলাম… পয়সা লাগবে না৷ এমনিই দিলাম…’

    কথা না বাড়িয়ে হাতে তুলে নিলাম ঘোড়াটা৷ চকচকে মসৃণ পালিশের উপরে হাত পিছলে যায় যেন৷

    —‘কাল থেকে আর এখানে বসব না আমি…’ সে বিড়বিড় করে বলে আমার দিকে চেয়ে হাত নেড়ে দিল৷ মুখটা খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে ওর৷

    আমার হাতে কাঠের ঘোড়াটাও জীবন্ত হয়ে উঠতে চাইছে৷ শিল্পীর দক্ষ হাতের টান আর প্রেরণা ছাড়া কাঠের ঘোড়ায় এমন প্রাণ ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয় হয়তো…

    পিছন থেকে শুনতে পেলাম, সেই কাষ্ঠল যন্ত্রের করুণ সুর আবার বাজতে শুরু করেছে৷ মনে হল, আমার ঠিক পিছনে চাটাইটাকে ঘিরে একে একে জমা হচ্ছে কিছু অদৃশ্য চতুষ্পদ৷

    স্থির, মুগ্ধ নয়নে তারা চেয়ে আছে বাঁশুরিয়ার দিকে…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সায়ক আমান

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026
    সায়ক আমান

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Our Picks

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }