Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প1001 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ইশারায়

    ইশারাতেই কথা হয় মেয়েটার সঙ্গে৷ আমি রোজ অফিসে বেরোবার সময় ও দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাত নাড়ায়৷ আমিও একটু থমকে দাঁড়িয়ে হাসি৷ হাত তুলে ওকে টা টা করি৷ ও না হেসেই হাত নামিয়ে নেয়৷ কোনও কোনও দিন হাত না নাড়িয়ে শুধু মাথা নাড়ায়৷ দিন দুয়েক হল দেখছি বিশেষ কিছু অঙ্গভঙ্গি করা শুরু করেছে ও৷ সেটাও দেখতে বেশ মজা লাগে আমার৷ মেয়েটার বয়স বছর আটেকের বেশি হবে না৷ বেশির ভাগ দিনই একটা নীল রঙের ফ্রক পরে দাঁড়িয়ে থাকে৷

    আজ বাড়ি থেকে বেরোনোর আগেই আটকে দিল সুমনা, ‘টেস্টগুলো করাতে ভুলো না৷’

    ‘কীসের টেস্ট?’ আমি মৌরি চিবোতে চিবোতে জিজ্ঞেস করলাম৷ কটমট করে আমার দিকে একবার তাকিয়ে সে জবাব দিল, ‘মাথাটা, আগে মাথারটাই করিও না হয়৷ তারপর সেটা উতরে গেলে ইউএসজি-টা করিও৷’

    ‘হ্যাঁ ইউএসজি৷ ভালো কথা মনে করিয়েছ৷ খালি ভুলে যাই,’ আমি জিব কাটলাম৷

    ‘আর বেশি ব্যথা হলে ফোন কোরো৷’

    ‘কাকে?’

    কটমটে ভাবটা সুমনার মুখ থেকে মুছতে গিয়েও মুছল না, ‘দমকলে৷ নম্বর জানো তো?’

    আমি ব্রিফকেসটা বগলদাবা করতে করতে বললাম, ‘হ্যাঁ তা থাকবে না কেন? তোমার মাথা গরম হলে কখন দরকারে লেগে যায়৷’

    ‘যাও তো৷ দূর হও৷’

    প্রায় মুখের উপরেই দরজাটা বন্ধ করে দিল সুমনা৷ আমি আবার মৌরিতে মন দিয়ে সিঁড়ি ধরে নীচে নেমে এলাম৷ তিনতলা থেকে নামতে আজকাল হাঁপিয়ে যাই৷ কবে থেকে অরুণবাবুকে বলছি একটা লিফটের ব্যবস্থা করতে তা কে শুনেছে কার কথা৷ ফ্ল্যাটের চাবি দিয়েই উধাও হয়েছেন ভদ্রলোক৷ মেনটেনেন্সের কথা বলতে গেলে ভাওয়াল রাজার মতো মুখ করে বলেন, ‘আপনাদেরই তো জিনিস, নিজেরাই বুঝেশুনে নিন৷’

    হাঁপাতে হাঁপাতে নীচে নামতেই পাশের ফ্ল্যাটের বারান্দাটা চোখে পড়ল৷ আজও দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা৷ রোজকার মতো রেলিং-এ দুটো হাত রেখে৷ সকালের ঝকঝকে রোদ তার ফোলা-ফোলা কচি মুখে এসে পড়েছে৷ নাকের ছায়া একদিকের গাল ঢেকে রেখেছে৷ মৃদু হাওয়ায় নীল ফ্রকের নীচের দিকটা একটু একটু উড়ছে৷ আমি রোজকার মতো হাত তুলে ওকে টা টা করলাম৷ ও কিন্তু করল না, উলটে একটা হাত প্রথমে কপালের কাছে এনে তালুর উলটোদিকটা কপালে ঠেকিয়ে আবার কোমরের কাছে নিয়ে গেল হাতটা৷ তারপর আচমকাই বাঁ হাতের একটা আঙুল উলটোদিকের ফ্ল্যাটের ছাদের উপর দিয়ে আকাশের দিকে দেখিয়ে দিল৷ কপালে হাত ঠেকানোর মানে না বুঝলেও মনে হল, আকাশের গায়ে আমাকে কিছু দেখাতে চাইছে সে৷ আঙুল লক্ষ্য করে সেদিকে তাকিয়ে আমি অবাক হয়ে গেলাম৷ একটা ভাঙা অ্যাডভার্টাইজমেন্ট বোর্ডের ফাঁক দিয়ে অনেকখানি আকাশ ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না সেখানে৷ খামোখা খোলা আকাশ দেখাচ্ছে কেন আমাকে? আমি খুব একটা গা করলাম না৷ বাচ্চা মানুষের নানারকম আজগুবি খেয়াল হতেই পারে৷ অত মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই৷ ওর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে আমি আবার একবার হাত তুলে টা টা করে সামনের পথ ধরলাম৷

    মোড়ের মাথাতেই জগন্নাথের ম্যাগাজিনের স্টল৷ রোজই অফিস যাবার সময় ওর দোকানে ঢুঁ দিই একবার৷ আজও পাশ ফিরে বিছানো ম্যাগাজিনের স্তূপে উঁকি দিয়ে বললাম, ‘কিছু বেরোল নাকি রে জগা?’

    জগন্নাথ এতক্ষণ আনন্দবাজারের আড়ালে মুখ ঢেকে ছিল৷ এবার সেটা রেখে একটা ইংরেজি কাগজ খুলতে খুলতে বলল, ‘ও আর বেরোবে না৷’

    ‘বেরোবে না কী করে? কষ্ট করে কলম পিষে লিখলুম আর ছাপার বেলা বেমালুম মেরে দেবে?’

    ‘ওরকম অনেকে লেখে, সবার কি আর বের হয়?’

    আমার মৌরি এতক্ষণে শেষ হয়ে এসেছে৷ মুখের আনাচকানাচে দু-এক টুকরো জিব দিয়ে খুঁজতে খুঁজতে বললাম, ‘ক্লাস এইটে আড়াই বার ফেল করা ছেলে যদি ইংরেজি কাগজ পড়তে পারে তাহলে আমার লেখাও ম্যাগাজিনে ছাপা হতে পারে৷’

    জগন্নাথ আড়াইবার ফেল করেছিল, সে কথা এ পাড়ায় সবাই জানে৷ দু-বার ডাহা, আর একবার ইংরেজিতে গাড্ডা-খাওয়া সত্ত্বেও স্রেফ আপদ বিদায় করতে পাশ করিয়ে দিয়েছিলেন হেডস্যার৷ সে কাগজটা পাশে রেখে বলল, ‘খেলার ছবিগুলো বড়ো ভালো দেয়৷ যা-ই বলো৷’

    আমি মোক্ষম একটা জবাব দিতে যাচ্ছিলাম কিন্তু মনে পড়ল জগুকে আমার দরকার৷ ছেলেবেলায় লেখালেখির শখ ছিল আমার৷ কিন্তু পড়াশোনার চাপে আর সেসব নিয়ে বেশি দূর এগোনো হয়নি৷ এখন অফিস থেকে ফিরে একটু খাতা-কলম নিয়ে বসি৷ ভালো কিছু লিখতে পারলে ম্যাগাজিনে দেগেও দিই৷ তবে এখনও অবধি ছাপা হয়নি একখানাও৷ জগু পাহারায় আছে৷ ছাপা হলেই আমাকে জানাবার কথা৷ সঙ্গে একখানা গোটা চিকেন রোলও পাওনা হয় ওর৷ বলা বাহুল্য, আমার মন আর ওর পেট কোনওটাই ভরে ওঠেনি আজ অবধি৷ জগুর দোকান ছেড়ে একটু এগোতেই কেন জানি না বাচ্চা মেয়েটার কথা মনে পড়ে গেল আমার৷ ভারী অদ্ভুত মেয়েটা৷ রোজ শুধু ওই একটা সময়েই বারান্দায় এসে দাঁড়ায় ও৷

    ফ্ল্যাটখানা এতদিন ফাঁকাই পড়ে ছিল৷ মাসখানেক হল নতুন ভাড়াটে এসেছে৷ তাদেরই মেয়ে হয়তো৷ এক মাস যাবৎ আমাকে দেখলে শুধু হাতই নাড়িয়ে এসেছে ও৷ ইদানীং অন্যকিছুও যেন বোঝাতে চায়৷ আকাশের দিকে আঙুল তোলে কেন কে জানে?

    ভাবতে ভাবতে আমি রাস্তার প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছিলাম৷ আচমকা তীব্র গাড়ির হর্নে পিছিয়ে এলাম৷ একটা দ্রুতগামী বাইক আমার পেট ছুঁয়ে বেরিয়ে গেল৷ আর-একটু হলে ধাক্কা লেগেছিল আর কী৷ ব্রিফকেসটা বাগিয়ে ধরে বাস স্ট্যান্ডের দিকে হাঁটতে লাগলাম আমি৷

    আমার অফিসটা একেবারেই ছোটোখাটো৷ গাড়ি সারাইয়ের অফিস৷ আমার অবশ্য কালিঝুলির কাজ নেই৷ সারাদিন ডেস্কে বসে চিঠি-চাপাটি লেখা, ক্লায়েন্ট অর্ডার নেওয়া, সেগুলো জায়গামতো পাঠিয়ে দেওয়া, এইসব নিয়েই ব্যস্ত থাকি৷ কাজকর্ম বেশি না থাকলেও মাথাব্যথার অন্ত নেই৷ তার উপর আজ একগাদা ক্লায়েন্ট ভিড় করেছে৷ তাদের কাজ মিটতে মিটতে বিকেল গড়িয়ে গেল৷ আমিও ঝাঁপ বন্ধ করে বাড়ির পথ ধরলাম৷ ফেরার পথে তিনতলার বারান্দাটা আবার চোখে পড়ল৷ এখন সেটা খালি, লাগোয়া দরজাটা বন্ধ৷ জানলা দিয়ে একফালি আলো রেলিং-এর উপর এসে পড়েছে৷

    সন্ধের অন্ধকারের মাঝে সেই অল্প আলোর রেখা বিষণ্ণতায় ঘিরে রেখেছে বারান্দাটাকে৷ মনটা কেমন যেন খারাপ হয়ে গেল আমার৷ মাথা নামিয়ে একটু এগিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠে এলাম৷ দরজায় বেল বাজাতে বিনতা দরজা খুলে দিল৷ হাতে ন্যাতা দেখে বুঝলাম, এতক্ষণ ঘর মুছছিল ও৷ চারপাশে তাকিয়ে সুমনাকে দেখতে পেলাম না৷ ঘরে ঢুকে হাতের ব্রিফকেসটা টেবিলের উপরে রেখে জিজ্ঞেস করলাম, ‘মাদময়জেল কোথায়?’

    ‘কোথায় যেন বেরোলেন৷’ বিনতা বালতিতে ফিনাইল ঢালতে ঢালতে বলল৷

    আমি বিছানার উপর বসে মোজা খুলতে লাগলাম, ‘তাই ভাবি পাড়াটা এত চুপচাপ লাগছে কেন…’

    সে আর কিছু উত্তর দিল না৷ ডান পায়েরটা খুলে বাঁ পায়েরটা রোল করতে করতে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আচ্ছা, একটা কথা বলো তো?’

    ‘কী?’

    ‘পাশের ফ্ল্যাটের তিনতলায় নতুন ভাড়াটে এসেছে?’

    ‘দত্তরা?’

    ‘তা জানি না৷ তবে ছোটো একটা মেয়ে আছে৷’

    বিনতা উপরে-নীচে অল্প মাথা নাড়িয়ে বলল, ‘হ্যাঁ ওরাই৷ স্বামী-স্ত্রী আর ওই একটা বাচ্চা মেয়ে৷ মেয়েটা ভারী অদ্ভুত৷’

    ‘অদ্ভুত কেন?’ আমি ওর দিকে ঘুরে বসে জিজ্ঞেস করি৷

    ‘ওইটুকুনি বয়স অথচ সারাদিন একটা আওয়াজ করে না৷ লোকজনের সামনেও আসতে চায় না৷’

    ‘বলিস কী রে? লুকিয়ে থাকে? স্কুল পাঠশাল?’

    ‘কী যে বলো, বাড়ি থেকেই বের হয় না তো স্কুল৷’

    কেমন যেন সন্দেহ হল আমার৷ একটু ভেবে নিয়ে বললাম, ‘হ্যাঁ রে, বাচ্চাটাকে কিডন্যাপ করে আনেনি তো?’

    বিনতা কিছু উত্তর দিতে যাচ্ছিল৷ দরজার কাছে পায়ের শব্দ শুনে থেমে গেল৷ হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে সুমনা বলল, ‘অ্যাঁ? তুমি আবার কাকে কিডন্যাপ করবে?’

    আমি বিছানা ছেড়ে উঠতে উঠতে বললাম, ‘পাশের ফ্ল্যাটের নতুন ভাড়াটেদের কথা বলছি৷’

    ‘ওঃ৷ তা কিডন্যাপ করবে কেন? মেয়েটা বোবা৷’

    ‘বোবা! দেখে কিন্তু মনে হয় না৷’ আমি অবিশ্বাসের সুরে বললাম৷

    ‘তোমাকে দেখে মনে হয়, মাথায় ছিট আছে?’ সবজির থলে হাতে রান্নাঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলে সুমনা৷ তারপর উঁচু গলায় বলে, ‘তবে কথা বললে বুঝতে পারে; ঠোঁট দেখে৷’

    ‘লিপরিডিং,’ আমি মনে মনে বললাম৷

    সে চায়ের ছাঁকনি হাতে রান্নাঘর থেকে মুখ বাড়িয়ে বলল, ‘কিন্তু তোমার এত আগ্রহ কেন বলো তো?’

    ‘তেমন কিছু না৷ রোজ বারান্দা থেকে হাত নাড়াত আমাকে দেখে৷ ইদানীং মনে হয় ইশারায় কিছু বলতে চায়৷’

    ‘কী বলতে চায়?’ মেঝের উপর ন্যাতা বোলাতে বোলাতে জিজ্ঞেস করে বিনতা৷

    ‘সেটাই তো বুঝতে পারছি না৷’

    মেয়েটার কথা মাথা থেকে সরিয়ে স্নান করে জামাকাপড় পালটে আমি লেখার টেবিলে গিয়ে বসি৷ মাঝে মাঝে নিজের খাতাপত্রের দিকে তাকিয়ে নিজেরই করুণা হয় আমার৷ পাতার পর পাতা লিখে চলেছি অথচ ছাপা আর হয় না৷

    বেগার খাটাটাই সার৷ অফিসের ঘানি টেনেই হয়তো কাটিয়ে দিতে হবে জীবনটা৷ একচিলতে ঘরের গতানুগতিক জীবনে আছেটাই বা কী?

    ‘টেস্ট করিয়েছ?’ সুমনা কখন দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে, বুঝতেই পারিনি৷ চমকে সেদিকে তাকিয়ে দেখলাম, চায়ের কাপ হাতে দাঁড়িয়ে আছে ও৷

    ‘হ্যাঁ৷’

    ‘কী বলল?’

    ‘কী আবার বলবে? পরশু রিপোর্ট দেবে বলেছে৷’

    ‘ও৷’

    কাপটা টেবিলের উপর রেখে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল ও৷ আমি চায়ে বড়োসড়ো একটা চুমুক দিয়ে কলম বাগিয়ে ধরে লেখার খাতাটা টেনে নিলাম৷

    পরদিন একটু আগেভাগেই বাড়ি থেকে বেরোলাম৷ কাল সারারাত থেকে থেকে মেয়েটার কথা মনে পড়েছে আমার৷ হাতের ইশারায় আকাশের দিকে কী দেখাতে চায় ও? এক-একবার ভেবেছি, হয়তো গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে কিছু জানাতে চায়৷ কিন্তু বছর আটেকের মেয়ে লোক ডেকে অ্যাষ্ট্রোনমি বোঝাতে চাইবে, সেটাও বিশ্বাস করা যায় না৷

    বেরোতেই দোতলাটার বারান্দায় চোখ রাখলাম আমি৷ অথচ মেয়েটাকে চোখে পড়ল না৷ থমকে দাঁড়িয়ে পড়লাম আমি৷ এই ক-দিন হাত নাড়ানোটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে৷ খানিকটা দুশ্চিন্তাই হল আমার৷ মেয়েটার কি শরীর খারাপ হল? রোজ এই সময় বারান্দায় এসে দাঁড়ায়৷ আজ আসেনি কেন? সাত-পাঁচ ভেবে আমি মনস্থির করে নিলাম৷ দু-পা এগোলেই ফ্ল্যাটের দরজা৷ হাতেও বেশ সময় আছে আজ৷ ফ্ল্যাটের সিঁড়ি দিয়ে তিনতলায় উঠে এলাম আমি৷ দরজার উপর নেমপ্লেটে দুটো নাম খোদাই করা আছে৷ শচীকান্ত দত্ত, অরুণিমা দত্ত৷ লোকগুলো কেমন আমি জানি না৷ অকারণে বেল বাজিয়ে মেয়ের কথা জিজ্ঞেস করলে যদি বিরক্ত হয়? একটু ইতস্তত করে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে গেলাম আমি৷ দরজার পাশের বেলটায় চাপ দিতেই ভিতর থেকে হিন্দি ফিল্মের গান বেজে উঠল, মিনিট দুয়েক পরে দরজা খুলে গেল৷ ইনি সম্ভবত অরুণিমা দত্ত৷ আঁচল দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, ‘বলুন৷’

    আমি একটু হেসে বললাম, ‘আসলে আমি এই পাশের ফ্ল্যাটে থাকি৷’ এবার মহিলার মুখে অমায়িক হাসি ফুটে উঠল, ‘আরে হ্যাঁ হ্যাঁ… আপনার ফ্ল্যাটেও তো গিয়েছি আমি৷’

    ‘তা-ই নাকি! কবে?’ আমি অবাক হয়ে গেলাম৷

    ‘সুমনাই তো ডেকে নিয়ে গেল৷ আপনি মনে হয় অফিসে ছিলেন৷’

    ঘরের ভিতরে উঁকি দিয়ে কাউকে দেখতে পেলাম না৷ অবশ্য মেয়েটা ভিতরের ঘরেও থাকতে পারে৷ লোকজনের সামনে যে ও বেরোতে চায় না, সে কথা তো আগেই শুনেছি৷

    ‘আপনার মেয়ে রোজ আমাকে দেখে হাত নাড়ায়৷ আজ দেখতে পেলাম না, শরীর ঠিক আছে তো?’

    ‘কে রিমি?’ দরজা থেকে সরে দাঁড়ালেন অরুণিমা দত্ত, ‘সকাল থেকেই একটু জ্বর-জ্বর এসছে৷ শুয়ে আছে ভিতরের ঘরে৷ আপনি ভিতরে আসুন-না৷’

    আমি ধীরপায়ে ভিতরে ঢুকে এলাম৷ ঘরটা ছোটো হলেও সাজানো-গোছানো৷ একদিকের দেওয়ালে তিনজনের পুরোনো একটা ছবি ঝুলছে৷ টেবিলের উপরে ফুলদানি রাখা৷ সদ্য-ফোটা দুটো লাল গোলাপ রাখা হয়েছে তাতে৷ পাশের চেয়ারটাতেই বসে পড়লাম আমি৷ কাল ভদ্রমহিলাকে কিডন্যাপার ভেবেছিলাম বলে খারাপই লাগল খানিকটা৷

    ‘আমার মেয়ে বড্ড খামখেয়ালি, জানেন তো? লোকজনের সঙ্গে খুব একটা মিশতে চায় না৷ তা-ও আপনাকে দেখে হাত নাড়িয়েছে৷’ ভিতরের ঘরের দরজা বন্ধ৷ আমি সেদিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে বললাম, ‘এইটুকু মেয়ে সারাক্ষণ একা একা থাকে?’

    মিসেস দত্তকে এবার বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত দেখল৷ মাথা নাড়িয়ে তিনি বললেন, ‘সেইজন্যেই চিন্তা হয়৷ আসলে শরীরটা তো ভালো নয় ওর৷ সবার সঙ্গে মিশতে দিতেও ভয় লাগে৷’

    ‘শরীর ভালো নয় বলতে?’

    ‘নার্ভের রোগ ছোট থেকে৷ এই তো পরশুই একটা অপারেশন হওয়ার কথা আছে৷ এর মধ্যে আবার জ্বর বাঁধিয়ে বসেছে৷’

    ‘কীসের অপারেশন?’ আমি মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলাম৷

    ‘ওই নার্ভের৷’ আমার সামনের চেয়ারে বসে পড়লেন মহিলা৷

    ‘এইটুকু মেয়ের ব্রেন সার্জারি৷ সাংঘাতিক ব্যাপার৷’ আমি আঁতকে উঠলাম৷

    ‘স্পাইনাল কর্ডে একটা টিউমার ধরা পড়েছে৷ মারাত্মক কিছু না; তবে ফেলে রাখলে মুশকিল বলে আমরা আর রিস্ক নিতে চাইনি৷’

    আমি আর কিছু বললাম না৷ মনটা ভারী খারাপ লাগছে৷ কে জানে, হয়তো মাসখানেক বারান্দায় এসে দাঁড়াতে পারবে না ও৷ আমি উঠতে যাচ্ছিলাম, মিসেস দত্ত থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এসেছেন যখন, একবার দেখাই করে যান রিমির সঙ্গে৷ জেগে আছে মনে হয়৷ এ ঘরে আসুন৷’

    তার পিছন পিছন আমি দরজার দিকে এগিয়ে গেলাম৷ এখনও মিনিট দশেক সময় আছে হাতে৷ সত্যি কথা বলতে কী, রিমিকে সামনে থেকে দেখার ইচ্ছা আমারও অনেকক্ষণ থেকে হচ্ছিল৷

    মিসেস দত্ত দরজাটা একটু খুলে আমাকে ভিতরে ডাকলেন৷ আমি দরজার ফাঁক দিয়ে ভিতরে ঢুকে এলাম৷ ছোটোখাটো একটা বিছানায় আড় হয়ে শুয়ে আছে মেয়েটা৷ আমাদের ভিতরে ঢুকতে দেখে মাথা তুলে বসল৷

    ‘থাক থাক, উঠতে হবে না৷’ রিমির পায়ের উপর একটা হাত রেখে বললেন মিসেস দত্ত, ‘এঁকে চিনিস তো?’

    আমার দিকে একবার তাকিয়ে আবার মাথা নামিয়ে হ্যাঁ জানাল রিমি৷ শুয়ে পড়ল না কিন্তু৷ মেয়েটার মুখখানা বেশ গোলগাল৷ সকালে চুল আঁচড়ানো হয়নি বলে অবিন্যস্ত চুল মুখের উপর ছড়িয়ে আছে৷ তার ফাঁক দিয়ে বড়োসড়ো ক্লান্ত চোখ দু-খানা উঁকি দিচ্ছে৷ আমি ঝুঁকে পড়ে দু-আঙুলে ওর নাকটা ধরে একটু নাড়িয়ে দিয়ে বললাম, ‘কী? আজ বারান্দায় যাওনি কেন?’

    সে মাথা নাড়িয়ে আমার আঙুলের মাঝখান থেকে নাকটা সরিয়ে নিল৷ মিসেস দত্ত একটু হেসে বললেন, ‘মুখে হাত দেওয়া ও একদম পছন্দ করে না৷’

    সোজা হয়ে দাঁড়াতে গিয়ে একটা জিনিস চোখে পড়তে আমি আটকে গেলাম৷ মেয়েটার মাথার পাশেই একটা রংচঙে বই পড়ে আছে৷ নামটা লক্ষ করলাম, ‘Unmute a handbook of sign language.

    ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে যাচ্ছিলাম৷ মিসেস দত্ত রিমির মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বললেন, ‘রোজ যে টা টা করো ওঁকে, আজ করলে না তো৷’

    মনে মনে ভেবেছিলাম, মায়ের কথা শুনে রোজকার মতো হাত নাড়াবে রিমি৷ কিন্তু সেসব কিছুই করল না সে৷ উলটে দুটো হাত জড়ো করে আমার দিকে সেকেন্ডকয়েকের জন্য তুলে ধরে আবার নামিয়ে নিল৷ আমি অবাক হয়ে নিজেও হাত জড়ো করে বললাম, ‘বাবা! নমস্কার করছ যে৷’

    আমার কথাটা সে বুঝতে পেরেছে কি না বুঝলাম না৷ ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে মিসেস দত্ত বললেন, ‘কিছু মনে করবেন না৷ আমার মেয়ে অতটা সাবলীল না৷’

    ‘আরে না না, এইটুকু বয়সে ও যে এত ঝড়ঝাপটা সামলাচ্ছে, সেটাই বড়ো কথা৷’

    ‘না সামলে আর উপায় কী বলুন?’

    আমি বাইরের দরজার দিকে এগোতে এগোতে বললাম, ‘সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের বই পড়ছে দেখলাম৷ আপনারা বোঝেন?’

    ‘চেষ্টা করছি আর কী, সময় পেলে চোখ বুলোই৷’

    ভেবেছিলাম, কপালে হাত ঠেকানো আর আকাশের দিকে দেখানোর অর্থ জিজ্ঞেস করব৷ কিন্তু কেন জানি না মন সায় দিল না৷ আমি জুতো পরতে পরতে বললাম, ‘অপারেশনের পর আমি আর সুমনা না হয় দেখে আসব একবার৷’

    ‘নিশ্চয়ই৷ আবার আসবেন৷’

    আমি নমস্কার করে নীচে নেমে এলাম৷ হাঁটতে হাঁটতে মনটা ক্রমাগত খচখচ করতে লাগল৷ কিছু যেন বলতে চাইছে মেয়েটা অথচ বলতে পারছে না৷ ওর ক্লান্ত অবসন্ন চোখ দুটো বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে৷ খানিক ভাবতে মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল৷ জগুর দোকানের সামনে এসে ভালো করে ম্যাগাজিনগুলো দেখতে দেখতে বললাম, ‘তুই খালি এইসবই বেচিস না বইপত্রও থাকে?’

    জগু রোজকার মতো আজও আনন্দবাজার মুখে দিয়ে বসে ছিল৷ সেটা না সরিয়েই বলল, ‘দোকানে নেই৷ বললে কাল এনে দিতে পারি৷’

    ‘যে-কোনও বই?’

    ‘বলেই দ্যাখো না৷ খালি ডিসকাউন্ট দিতে পারব না, আগে থেকে বলে দিলাম৷’

    আমি পুরোনো কাগজ থেকে একটা ফাঁকা জায়গা ছিঁড়ে নিয়ে তার উপর ইংরেজিতে বইয়ের নাম লিখে জিব কেটে বললাম, ‘যাঃ, ইংরেজিতে লিখে ফেললাম৷ তুই তো আবার…’

    সে প্রায় টান মেরে আমার হাত থেকে কাগজটা ছিনিয়ে নিয়ে বলল, ‘ভেবেছিলাম, টেন পারসেন্ট ডিসকাউন্ট দেব৷’ তারপর বইয়ের নামের দিকে চোখ বুলিয়ে নিয়ে বলল, ‘বাংলা লিখে তো লাভ হচ্ছে না, এবার সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে লিখে দ্যাখো বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে কি না৷’ কথাটা বলে মুখের উপর সগর্বে টেলিগ্রাফ খুলে ধরল জগু৷ আমি ওর দিকে একবার হিংস্র বাঘের মতো দৃষ্টি হেনে অফিসের পথ ধরলাম৷

    সারাটা দিন আমার কাজে মন বসল না৷ রিমির চোখ দুটো বারবার ভেসে উঠছে৷ মিসেস দত্তর মধ্যেও তো অস্বাভাবিক কিছু দেখলাম না৷ কাল জগা যদি সত্যি বইটা জোগাড় করে আনতে পারে তাহলে হয়তো সুবিধা হবে খানিকটা৷ দুপুরে লাঞ্চ করে এসে দেখলাম বেশ কয়েকবার ফোন করেছে সুমনা৷ সাইলেন্ট ছিল বলে দেখতে পাইনি৷ ডেস্কে বসে পড়ে রিংব্যাক করলাম৷ বার তিনেক রিং হবার পরে ওপাশ থেকে ওর গলা শোনা গেল…. ‘তুমি নাকি দত্তদের ফ্ল্যাটে গিয়েছিলে৷’

    ‘হ্যাঁ৷ কে বলল?’

    ‘মিসেস দত্ত৷ এইমাত্র এসেছিল৷’

    ‘ও৷’

    ‘তোমার কী হয়েছে বলোতো? এত সামাজিক হলে কবে থেকে?’ আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম, ‘ঠিক জানি না সুমো, তবে আমার মনে হচ্ছে এর পিছনে কিছু একটা গন্ডগোল আছে৷’

    ‘আরে বাবা, কাল বললাম তো ওরা কিডন্যাপার নয়৷’

    ‘সে না হোক৷ অন্য কিছু একটা৷ এতদিন রোজ আমাকে টা টা করত মেয়েটা৷ অথচ এখন আর করে না৷ যা-ই হোক, তুমি কি এই কারণে ফোন করেছিলে?’

    ‘না না৷’ একটা অচেনা খুশির রেশ ফুটে উঠল সুমনার গলায়৷

    ‘তাহলে?’

    ‘জগন্নাথ এসেছিল৷ তোমার নম্বর চাইছিল৷’

    ‘কেন?’

    ‘তা জানি না৷ তবে বলে গেল যে তোমার নাকি ওকে চিকেন রোল খাওয়ানোর কথা৷’

    ‘চিকেন রোল… কিন্তু আমি…’

    ‘তুমি কী?’

    ‘কিছু না৷ রাখছি৷’

    ফোনটা রেখে আমি চেয়ারে ধপাস করে বসে পড়লাম৷ মনের ভিতরে চাপা উত্তেজনার ঢেউ ঝাঁপিয়ে পড়ছে৷ আনন্দের চোটে ভুলেই গিয়েছিলাম রিমির কথা৷ অফিস থেকে বেরোনোর পথে সিগারেট কিনতে গিয়ে চকোলেট চোখে পড়তেই মনে পড়ল৷ কালই হসপিটালে চলে যাবে মেয়েটা৷ তার আগে কিছু একটা দেওয়া উচিত ওকে৷ ফাঁকা হাতেই দেখা করতে গিয়েছিলাম আজ৷ তার উপর নাক নাড়িয়ে দেওয়াটা একেবারেই পছন্দ হয়নি ওর৷ বড়ো দেখে একখানা ডেয়ারি মিল্ক সিল্ক কিনে নিলাম৷ ফ্রুট অ্যান্ড নাট৷ বাচ্চারা এটা পছন্দ করে কি না কে জানে৷ চকোলেটটা ব্যাগে ঢুকিয়ে আমি বাড়ির পথ ধরলাম৷

    বাড়ির দরজায় পৌঁছোলাম, তখন রাত প্রায় ন-টা বেজেছে৷ রাস্তায় জ্যাম ছিল বলে বেশ দেরি হয়েছে আজ৷ এতক্ষণে ঘরের কাজ সেরে চলে গেছে বিনতা৷ সুমনাই দরজা খুলে দিল, আমাকে দেখে একগাল হেসে বলল, ‘মিষ্টি আনলে না যে৷’

    ‘তোমার মায়ের শুগার ছিল, মনে নেই? মিষ্টির কথা বলো কোন মুখে?’

    সে ভুরু কুঁচকে বলল, ‘মায়ের ছিল বলে আমার হবে, তার কী মানে আছে?’

    ‘এই ধরনের রোগ জেনেটিক৷’

    ‘তা বটে, তোমার বাবা কিপটে ছিল, তুমিও কিপটে৷’

    আমি ওর কথায় কান না দিয়ে ঘরের কয়েকটা জায়গায় উঁকি দিয়ে বললাম,

    ‘ম্যাগাজিনটা রেখে যায়নি?’

    ‘নাঃ, বলেছে চিকেন রোল না-খাওয়া অবধি দেবে না৷’

    ‘যাঃ, ফাঁকা হাতে এসেছিল৷’ আমি হতাশ হয়ে চেয়ারে বসে পড়লাম৷

    ‘না, ফাঁকা হাতে না, কী একটা বই দিয়ে গেল যেন৷’

    ‘বই!’ আমি সোজা হয়ে বসলাম৷

    সুমনা টেবিলের ড্রয়ার খুলে বইটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘এইটা৷’

    ‘Unmute a handbook of sign language’, সকালে যে বইটা মেয়েটার মাথার কাছে দেখেছিলাম, সেটাই৷ তবে সকালে যতটা মনে হয়েছিল, তার থেকে বেশ মোটাসোটা বইটা৷ সেটা উলটে-পালটে দেখে আবার টেবিলের উপরে রেখে বাথরুমে ঢুকে গেলাম আমি৷

    রাতে শুতে শুতে দেরি হয়ে গেল৷ আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম, বইটা পড়ব৷ কিন্তু বারোটা বাজতেই সারাদিনের পরিশ্রম আর উত্তেজনা চেপে ধরল আমাকে৷ ধীরে ধীরে বইয়ের ছবিগুলো কুয়াশার মতো অস্পষ্ট হয়ে এল৷ একসময় হতাশ হয়ে বইটা রেখে দিলাম আমি৷ কাল সকালেই মন দিয়ে পড়া যাবে না হয়৷ আলো নিবিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম৷

    সকালে ঘুম থেকে উঠে আর মনেই ছিল না বইটার কথা৷ মনে যখন পড়ল তখন স্নানের জল গরম হয়ে গেছে৷ সুমনাও তাড়া লাগাতে শুরু করেছে৷ ব্যাগের ভিতর টিফিন ঢোকাতে গিয়েই চকোলেটটা চোখে পড়ল এবং সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ল রিমির কথা৷ আজই দুপুরে হসপিটালে চলে যাবে ও৷ চকোলেটটা ফ্রিজের ভিতর ঢুকিয়ে আমি শোবার ঘরে এসে বিছানায় বসে পড়লাম৷ বালিশের পাশ থেকে বইটা নিয়ে মেলে ধরলাম চোখের সামনে৷ ছবি দিয়ে হাজার পাঁচেক সংকেত বোঝানো আছে সেখানে৷ তার মাঝখানে রিমি আমাকে যেগুলো দেখিয়েছে, সেগুলো খুঁজে বের করা কঠিন না হলেও সময়সাপেক্ষ৷ দ্রুত চোখ বুলিয়ে খুঁজতে লাগলাম৷

    ‘তুমি কি যাবে না অফিস? চানের জল যে ঠান্ডা হয়ে গেল৷’ আমার সামনে দাঁড়িয়ে তাড়া দিল সুমনা৷

    আমি পাতা ওলটাতে ওলটাতে বললাম, ‘আসলে এটা থেকে একটা জিনিস খোঁজার ছিল৷’

    ‘কী জিনিস?’

    আমি ওর মুখের দিকে একবার তাকিয়ে আবার মুখ নামিয়ে নিয়ে বললাম, ‘তুমি আর কী করে জানবে? পাঁচ মিনিট দাঁড়াও৷ আজ না হয় ঠান্ডা জলেই চান করব৷’

    ‘কিছু জানার থাকলে আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারো৷ আমি পড়েছি বইটা৷’

    ‘তুমি পড়েছ!’ আমি অবাক হয়ে গেলাম, ‘কখন?’

    ‘কাল দুপুরে৷ কাজ ছিল না, কী করব?’

    আমি বইটা পাশে রেখে বললাম, ‘আমি যদি হাতের তালুর উলটোদিকটা এইভাবে কপালে ঠেকাই তাহলে মানে কী দাঁড়ায়?’

    সুমনা একটু ভেবে নিয়ে বলল, ‘দুর্ঘটনা৷’

    ‘দুর্ঘটনা… কিন্তু হঠাৎ…’ মনে মনে ব্যাপারটা ভাবতে গিয়েও আমি থমকে গেলাম৷ সেদিন রাস্তা পার হবার সময় আর-একটু হলে বাইকে ধাক্কা খাচ্ছিলাম৷ কিন্তু সে তো রিমির সঙ্গে দেখা হবার পরে৷ একটা অসম্ভব ভাবনা আমার মাথায় উঁকি দিচ্ছিল৷ উঠে দাঁড়িয়ে বললাম, ‘বই কীভাবে দেখায়?’

    ‘বই…’ আবার ভাবনায় ডুবে গেল সুমনা৷ একটু পরেই তার মুখে চওড়া হাসি ফুটে উঠল, ‘বইটা ভারী মজার৷ এইভাবে নমস্কার করার মতো হাত জড়ো করে…’

    বিছানার উপরে বসে পড়লাম আমি৷ এসব ঘটনা যে আমার জীবনে ঘটবে তা রিমির পক্ষে আগে থেকে জানা সম্ভব নয়৷ অন্তত কোনও স্বাভাবিক উপায়ে তো নয়৷ তাহলে?

    দু-হাতে মাথা চেপে ধরলাম আমি৷ রিমি কথা বলতে পারে না, মিশতে পারে না কারও সঙ্গে, কিন্তু অমানুষিক এক ক্ষমতার অধিকারিণী সে৷ ওর ক্লান্ত, রুগন চোখ দিয়ে সে অনাগত সময়কে দেখতে পায়৷

    ‘আমি আবার জল বসাচ্ছি, এবার দেরি কোরো না অন্তত৷’ কথাটা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল সুমনা৷ আর সঙ্গে সঙ্গে আমার চোখ পড়ল বইয়ের পাতায়৷ প্রত্যেকটা সংকেতের পাশে ছবি দিয়ে সংকেতের অর্থ বোঝানো আছে৷ একটা বিশেষ সংকেতে চোখ আটকে গেল আমার৷ মুষ্টিবদ্ধ একটা ডান হাত৷ শুধু তর্জনীটা আকাশের দিকে নির্দেশ করছে৷ পাশের শব্দটায় চোখ রাখতেই আমার মাথা থেকে পা অবধি একটা ঠান্ডা স্রোত খেলে গেল৷ বইটা ছুঁড়ে ফেলে দিলাম আমি৷

    দৌড়ে গিয়ে টেবিলের উপর থেকে তুলে নিলাম মোবাইলটা৷ কাঁপা-কাঁপা হাতে একটা নাম্বার ডায়াল করতেই ওপাশে রিং-এর শব্দ শোনা গেল৷

    ‘হ্যালো৷ গুডউইল ক্লিনিক৷’

    ‘আমি সপ্তর্ষি গুপ্ত বলছি৷ আজ একটা ইউএসজি রিপোর্ট আসার কথা ছিল৷’

    ‘হ্যাঁ এসে গিয়েছে তো৷’

    ‘একটু বলতে পারবেন?’

    ‘শিয়োর৷ হোল্ড করুন৷’

    মনে হল আমার হাত থেকে খসে পড়ে যাবে ফোনটা৷ মৃত্যু আমার দরজায় টোকা দিচ্ছে৷ সারা শরীর জুড়ে উত্তপ্ত ঘাম যেন পুড়িয়ে মারতে চাইছে আমাকে৷

    ‘মিস্টার গুপ্ত, মাইনর কিছু সিস্ট আছে আপনার, তবে ক্ষতিকর কিছু না৷ আজকাল রাস্তাঘাটে থার্টি পারসেন্ট লোক এই নিয়ে ঘুরে বেড়ায়৷

    ‘বিপদ কিছু নেই?’

    ‘নট আ চান্স৷ নিশ্চিন্তে রিপোর্ট নিয়ে যান৷’

    ফোনটা রেখে কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়িয়ে থাকলাম আমি৷ সব কিছু কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে৷ আকাশের দিকে তর্জনী দেখানোর সাংকেতিক অর্থ মৃত্যু৷ তাহলে কি রিমির মিলে যাওয়া সংকেতগুলো কোইনসিডেন্স? নাকি…

    আচমকা একটা ভয়ানক আশঙ্কা এসে চেপে ধরল আমাকে৷ মৃত্যুর সংকেত কি তবে নিজের জন্য দেখিয়েছিল রিমি? আজই হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হবে তাকে৷

    কথাটা মাথায় আসতেই ফ্রিজ থেকে চকোলেটটা বের করে জামাটা গায়ে গলিয়ে আমি বাইরে বেরিয়ে এলাম৷ কোনওদিকে না তাকিয়ে দ্রুত পাশের ফ্ল্যাটের সিঁড়ি দিয়ে উঠে এলাম৷ মিসেস দত্তর ফ্ল্যাটের দরজা খোলাই ছিল, আমি প্রায় দৌড়ে ভিতরে ঢুকে এলাম৷

    সোফার উপর শুয়ে ছিল রিমি৷ আমাকে দেখে ভাবলেশহীন মুখে একবার তাকিয়ে আবার মাথা ঘুরিয়ে নিল ও৷ আমাকে দৌড়ে ঢুকতে দেখে বেশ খানিকটা অবাক হয়েছিলেন অরুণিমা দত্ত৷ উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘কী ব্যাপার বলুন তো, এভাবে…’

    ‘ওকে নিয়ে যাবেন না৷’ আমি হাঁপাতে হাঁপাতে বললাম৷

    ‘কোথায় নিয়ে যাব না?’ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন মিসেস দত্ত৷

    ‘হসপিটালে৷’

    ‘নিয়ে যাব না মানে? সব ঠিক হয়ে আছে৷ ওর বাবা গাড়ি নিয়ে আসতে গিয়েছে৷’

    আমি ধীরে ধীরে গিয়ে দাঁড়ালাম রিমির সামনে৷ সে ফিরেও তাকাল না আমার দিকে৷ অসহ্য যন্ত্রণার ঢেউ আমার বুকের কাছে এসে আটকে গেছে৷ ভবিষ্যৎকে পলাটানো যায় না৷ হসপিটালে না নিয়ে গেলেও যে সে বেঁচে যাবে, সে নিশ্চয়তা আমি দিতে পারব না৷ হাঁটু মুড়ে বসে পড়লাম আমি৷ দুটো চোখের কোনা ভিজে উঠেছিল জলে৷ সেটা মুছে নিয়ে চকোলেটটা এগিয়ে দিলাম রিমির দিকে৷ সে মাথা নাড়িয়ে না বলল৷

    ‘ওই ফ্লেভারটা খায় না ও৷’

    চকোলেটটা টেবিলের উপর রেখে আমি ধরা গলায় বললাম, ‘আমি তো জানতাম না৷ হসপিটাল থেকে ফিরলে অন্য ফ্লেভার এনে দেব তাহলে৷’

    ‘কী যেন নাম৷ আমারও মনে পড়ছে না৷ ওটা ছাড়া খেতে চায় না৷’

    ‘আচ্ছা, পরে বললেও চলবে৷’

    কথাটা বলে আমি উঠে পড়লাম৷ রিমিকে একবার ভালো করে দেখে নিয়ে দরজার দিকে দিকে পা বাড়াতে যাচ্ছিলাম, এমন সময় বারান্দার দিকের দরজাটায় চোখ পড়ল৷ খোলা দরজা৷ অল্প অল্প হাওয়া এসে পর্দাটাকে উড়িয়ে দিচ্ছে বারবার৷ তার ফাঁক দিয়ে কিছু একটা উঁকি দিচ্ছে যেন৷ ধীর পায়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম আমি৷

    এতদিন এখানে দাঁড়িয়েই আঙুল তুলে আকাশের দিকটা দেখাত রিমি৷ আজ কিন্তু সেদিকে তাকাতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম৷ এতদিন অ্যাডভার্টাইজমেন্ট বোর্ডটা ফাঁকা ছিল বলে আকাশ দেখা যেত৷ এখন আর ফাঁকা নেই সেটা৷ কাল রাতেই হয়তো নতুন অ্যাড লাগানো হয়েছে সেখানে৷ সেটা ভালো করে লক্ষ করতেই আমার হাত কেঁপে উঠল, ডেয়ারি মিল্ক সিল্ক, অরেঞ্জ পিল৷

    পিছন ঘুরে আবার ঘরে ফিরে এলাম আমি৷ এখনও রিমি আগের মতোই শুয়ে আছে৷ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে মিসেস দত্ত বললেন, ‘আমরাও রীতিমতো টেনশনে আছি৷ এইটুকু মেয়ে…’

    আমি রিমির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ওর মাথায় একটা হাত রেখে বললাম, ‘টেনশনের কিছু নেই৷ কিচ্ছু হবে না রিমির৷’

    রিমি ওর উজ্জ্বল চোখে একবার আমার মুখের দিকে তাকাল৷ ধীরে ধীরে ডান হাতটা উঠে এল৷ দুটো আঙুলে আমার নাকটা ধরে আলতো করে নাড়িয়ে দিল ও…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সায়ক আমান

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026
    সায়ক আমান

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Our Picks

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }