Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প1001 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভোর হবে

    জন্ম থেকে আমি নাস্তিক৷ একদম যাকে বলে গোঁড়া নাস্তিক৷ ইদানীং তো এমন হয়েছে যে কোনও আলোচনায় কী হালকা আড্ডায় ভগবানের কথা উঠলে আমি এমন ঠাট্টা তামাশা শুরু করি যে চরম ঈশ্বর বিশ্বাসীদের সাথে সেখানেই সম্পর্কে ইতি পড়ে৷ তা-ও যখন আকাশের এককোণে সময়ের ভারে বিষণ্ণ সূর্যটা রোজ ডুব মারে, পাশের আন্ডার কন্ট্রাকশন বিল্ডিংটার পাঁচতলায় ক্লান্ত রাজমিস্ত্রিটা শরীর এলিয়ে দেয় মেঝেয়, সুখটান দেয় বিড়িতে, আমি ভাবি ধুর, ভগবান টাইপের কিছু একটা থাকলে খারাপ হত না৷

    সর্বশক্তিমান, ভালো খারাপের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা৷

    এই যে এত ভাবুক হয়ে পড়েছি তার কারণ আছে৷ মানুষ হিসেবে আমি একটু নীরস, খটখটে৷ মানবিক অনুভূতির সূক্ষ্ম ব্যথা বেদনা আমাকে স্পর্শ করে না৷ তাও আজ সকাল থেকে প্রায় কোনও কাজেই মন বসছে না, কেন বসছে না সেটাই লিখতে বসেছি৷ বিকেলে বাড়িতে ক-জন অতিথি আসার কথা আছে৷ সকাল থেকে বউ তাড়া দিচ্ছে, মাংস আনো, মাংস আনো৷ আমি কেবলই গড়াচ্ছি৷ শেষ পর্যন্ত যখন বিছানা ছেড়ে উঠলাম তখন সাড়ে এগারোটা পার হয়েছে৷ এত বেলায় বাজারে গেলে কিচ্ছু পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, ভাবলাম আবার গড়িয়ে যাই, কিন্তু সাথে সাথে মনে পড়ল গুপীর কথা৷

    গুপী আমাদের এ-পাড়ার বাজারে মুরগি বেচে, ছোটবেলায় একই স্কুলে পড়তাম বলে আমার সাথে বেশ চেনাজানা আছে৷ এ অসময়ে একমাত্র তার কাছে গেলেই মাংস পাওয়া যেতে পারে৷ আমি থলে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম৷ বাজারের কাছে আসতেই তার দোকানের সাইনবোর্ডটা দেখতে পেলাম৷ ‘রাধিকা চিকেন সেন্টার৷’ কিন্তু তার সাথে আর একটা ব্যাপার চোখে পড়তেই অবাক হয়ে গেলাম৷ সাইনবোর্ডটার ঠিক নিচেই মুরগি রাখার বড় খাঁচাটা রাখা আছে, কিন্তু সেটা ফাঁকা৷ নোংরা খাঁচাটার ভিতর শুধু কয়েকটা সাদা পালক ইতস্তত উড়ে বেড়াচ্ছে৷ ব্যাপার কী? এর মধ্যেই দোকান বন্ধ করে দিল নাকি? দোকানের সাথে লাগোয়া গুপীর ছোটো এক কামরার ঘর৷ দরজা খোলাই ছিল, এগিয়ে গিয়ে ভিতরে উঁকি দিলাম, আমাকে দেখতে পেয়ে গুপীর বউ এগিয়ে এল৷ শীর্ণ হাড় বের করা চেহারা, মাথা থেকে পা পর্যন্ত অভাবের ছাপ, কিন্তু তার থেকেও বেশি কেমন যেন একটা বিষণ্ণতা গ্রাস করেছে তাকে, বয়স বেশি নয় অথচ দেখলে মনে হয় এক্ষুনি সামনে টলে পড়বে৷ জিজ্ঞেস করলাম, ‘দোকান বন্ধ নাকি?’ মেয়েটার মুখে একটা বিবর্ণ হাসি ফুটে উঠল, ‘দোকান তো আর খোলে না৷’ আমি একটু থমকে গেলাম৷ দীর্ঘদিন হল গুপীর দোকান থেকে মাংস কিনিনি৷ রাস্তাঘাটে কখনও দেখা হয়ে গেলে, ‘কেমন আছিস’ এর বেশি কথা হয় না৷ মাংসের দোকান তুলে দিয়ে সে যে অন্য কিছু করছে সেটা জানতাম না, চলে যাব ভাবছিলাম, দাঁড়িয়ে গেলাম, এতদিন পর তার বাড়ির দরজা পর্যন্ত এসেছি যখন একবার দেখা করে গেলে মন্দ হত না৷ জিজ্ঞেস করলাম, ‘গুপী বাড়ি নেই?’

    ‘হ্যাঁ আছে, চান করতে গেছে, বসুন৷’

    ‘বসুন’ কথাটা শুনে আমার কেমন যেন অস্বস্তি হল, ভিতরে তাকিয়ে বসার মতো কোনও জায়গা চোখে পড়ল না, ঘরের চারদিকে নোংরা কাঁথা ঝুলছে, দেওয়ালগুলো চোখে পড়ে না৷ মেঝের বেশিরভাগটা জুড়ে একটা তুলো বের করা লেপ পাতা আছে, ভিতরে ঢুকতেই নাকে একটা বিকট গন্ধ এসে লাগল৷ অনেকটা হসপিটালের মেটারনিটি ওয়ার্ডের মতো৷ আমি কোনওরকমে লেপের এক কোনায় বসলাম, আর বসতেই একটা ব্যাপার চোখে পড়ল, লেপের অন্যদিকের কোনায় একটা কাপড়ের পুঁটলি মতো কিছু পড়ে আছে, ভালো করে লক্ষ্য করে বুঝলাম পুঁটলির ভিতর একটা মানুষের দেহ আছে বোধহয়, ঠিক যেন স্পন্দনহীন মৃতদেহ, সম্ভবত বাচ্চা, আমি চোখ সরিয়ে নিলাম৷ দম আটকে অপেক্ষা করতে লাগলাম, গুপীর সাথে দেখা করেই বিদায় নেব৷ বাচ্চাটার কী হয়েছে কে জানে, ছোঁয়াচে কিছু নয় তো? মিনিট পাঁচেক পরে গুপী বাথরুম থেকে বেরিয়ে এল, আমাকে দেখতে পেয়েই পুরনো হাসিটা ছড়িয়ে পড়ল মুখ জুড়ে৷

    ‘আরে শান্তি যে, বিয়ে করে ভুলেই গেলি শালা, অ্যাঁ?’

    আমি হাসলাম, কী বলব বুঝতে পারলাম না৷ তার সাথে আমার সেরকম ভালো বন্ধুত্ব কোনওদিনই ছিল না, তাও অনেকদিন পর দেখা হলে এ কথাটা বলা যেন দস্তুর হয়ে উঠেছে৷

    ‘আমি… মানে মাংস নিতে এসেছিলাম, দোকান তুলে দিয়েছিস তো জানতাম না৷’ গুপী মাথা নামিয়ে নিল, তারপর যেন নিজেকেই বলছে, এমন ভাবে বলল, ‘হ্যাঁ, সেও এক কাণ্ড, আয়, বাইরে আয়, মেয়েটা ঘুমোচ্ছে৷ একটা সিগারেট খাওয়া দেখি৷’ আমি পকেট থেকে সিগারেটের বাক্স বের করে তার দিকে এগিয়ে দিলাম, সে প্যাকেটটার দিকে তাকিয়ে চোখ কপালে তুলে বলল, ‘আরিইসালা, এত দামি মাল খাওয়ার অভ্যাস নেই তো৷’

    ‘কী হয়েছে তোর মেয়ের?’ চেষ্টা করেও আমার গলা থেকে আশঙ্কাটা তাড়াতে পারলাম না৷ গুপী সেটা বুঝে নিয়েই বলল, ‘না না, ছোঁয়াচে কিছু না, হার্টে অক্সিজেন আসছে না৷’ কথাটা বলে গুপী বাইরে বেরিয়ে গেল, আমি ধীর পায়ে উঠে পুঁটলিটার দিকে আর একবার তাকালাম, এখনও সেটা আগের মতোই পড়ে আছে, একবার সন্দেহ হল, সত্যি মরে যায়নি তো? একটুও নড়ছে না৷ ‘কিরে, বাইরে আয়৷’ হাঁক শুনে আমি বাইরে বেরিয়ে এলাম৷ খোলা হাওয়ায় এসে সাহস করে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলাম৷ একটা সিগারেট ধরিয়ে ফাঁকা দোকানটারই একটা ধারে বসে পড়লাম৷ গুপী সিগারেটে টান দিতে দিতে বলল, ‘তোর বাড়ির সব খবর কী?’

    ‘ভালো৷’

    ‘কেষ্টর দোকানের পাশে একটা নতুন মাংসের দোকান হয়েছে দেখেছি, ওখানে পেয়ে যাবি এখন৷ আমিই আনিয়ে দিতে পারি, কতটা লাগবে?’

    আমি কথাটার উত্তর দিলাম না, উলটে একটা প্রশ্ন করলাম, ‘ডাক্তার দেখিয়েছিস?’

    ‘হুম৷’ সংক্ষিপ্ত উত্তর৷ সিগারেটে টান৷

    ‘কী বলেছে ডাক্তার৷’

    ‘কী আর, নানা মুনির নানা মত৷’

    ‘কীরকম?’

    ‘কেউ বলেছে বাঁচবে না৷ কেউ বলেছে বছর কয়েক বাঁচবে, কেউ…’

    ‘কী?’

    ‘শালারা বলে অপারেশন করে দেখবে কিন্তু বাঁচাতে পারবে কি না গ্যারেন্টি নেই৷’

    কথাটা বলে সে নিজেই হেসে ফেলল৷ সিগারেটের ফিল্টারের দিকটা ঘষতে লাগল ফাঁকা খাঁচাটার তারগুলোর উপরে৷ তবে কি মেয়ের অসুখ বলেই মুরগি কাটার ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে গুপী? কিন্তু তাই বা কী করে হয়? ছোটো থেকেই দেখে আসছি মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণীদেরও যে যন্ত্রণা আছে সেটা সে শেখেইনি৷ ক্লাস ফাইভ না সিক্সে ফেল করে একবার রাগের চোটে একটা আস্ত জলঢোঁড়া সাপকে পুকুর থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলছিল, সেই ডানপিটে গুপী খালি মেয়ের অসুখ বলে জীবহত্যা বন্ধ করে দেবে এটা বিশ্বাস হল না৷

    ‘তা মুরগিগুলোকে বেচলি কোথায়?’

    গুপী মাথা দুলিয়ে বলল, ‘বেচিনি, ছেড়ে দিয়েছি৷’

    এবার আমার আর অবাক লাগল না, আমাকে এতদিন পরে বাগে পেয়ে কাঁচা রসিকতা করছে গুপী, উঠে পড়লাম, মাংস নিয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হবে৷ এখনও চান হয়নি, বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে৷

    আমাকে উঠতে দেখে গুপী হাঁ হাঁ করে উঠল, ‘আরে উঠে পড়লি যে৷’

    ‘নাহ, আর বসলে চলবে না, বাড়িতে লোক আসবে৷’

    ‘কখন?’

    ‘দুপুরে৷’

    ‘ওহ, দেরি আছে, আমি ফনেকে মাংস আনতে পাঠাচ্ছি, দে ব্যাগটা দে৷’

    একটা বছর পনেরোর ছেলের হাতে ব্যাগটা দিয়ে তাকে মাংস আনতে পাঠাল গুপী৷ তারপর ধীরে সুস্থে আমার পাশে এসে বসে বলল, ‘মিনিট কুড়ি লাগবে, কাটা নেই, নতুন কেটে দেবে৷’

    আমি কিছু বললাম না, কিছুক্ষণ সব চুপচাপ৷ ভিতর থেকে গুপীর বউ এসে চা দিয়ে গেল, সেটা খেতে আমার একটুও ইচ্ছা করছে না৷ অবেলায় চা খেয়ে অম্বল হোক আর কী…

    ‘মেয়েটা বোধহয় আর বাঁচবে না৷’ চায়ে চুমুক দিয়ে গুপী বলল৷

    আমি কী বলব ঠিক বুঝতে পারলাম না৷ এমনিতে জায়গাটা নোংরা, আমার থেকে মিটার খানেক দূরে পড়ে আছে একটা প্রায় মৃত শিশু, তারপর দোকানের চারপাশ থেকে এখনও মাংসের গন্ধ পাওয়া যায়, দম বন্ধ হয়ে আসে, তবু আমার কেমন যেন মায়া লাগল, মনের কোথাও ছোট্ট একটা কৌতূহল উঁকি দিচ্ছিল, জিজ্ঞেস করলাম, ‘মুরগিগুলোকে ছেড়ে দিলি? দাম তো নেহাত কম নয়, এতগুলো টাকা… তোর কি হঠাৎ দয়ামায়া জাগল নাকি?’ আমার প্রশ্নটা শুনে সে সজোরে হা-হা করে হেসে উঠল, প্রায় মিনিট খানেক পরে হাসি থামতে বলল, ‘ভালো বলেছিস ভাই, দয়ামায়া! অ্যাঁ?

    এ জীবনে কিছু না হলেও হাজারখানেক মুরগি কেটেছি, আমার খাঁচায় মুরগি ঢোকা মানেই সে মাংস হয়ে টেবিলে পৌঁছে যাবে৷’

    ‘তবে?’

    কিছু একটা গোপন কথা বলবে, এইভাবে সে আমার দিকে সরে এল, তারপর নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল, ‘শুনবি?’

    ‘শোনা৷’ আমি উৎসাহ দেখালাম না৷

    সিগারেটে একটা শেষ টান দিয়ে সেটা দূরে ছুঁড়ে ফেলে সে বলতে আরম্ভ করল,

    ‘মাস কয়েক আগের কথা, দুপুরবেলা, আমি দোকানে বসে আছি খদ্দেরের অপেক্ষায়, বউ ভিতরে রান্না করছে, মেয়ে গেছে স্কুলে, তো হঠাৎ শুনলাম দোকানের ঠিক বাইরেই কারা যেন চেঁচামেচি করছে, বাইরে এসে দেখলাম, স্কুলের ড্রেস পরা ক-টা বাচ্চা ছেলেমেয়ে আর তাদের সাথে দু’একজন মাস্টার৷ এগিয়ে গেলাম, দেখি সবাই মিলে আমার মেয়েটাকে ধরে এনেছে, তার হুঁশ নেই, এলিয়ে পড়ে আছে, তাকে কোলে করে ঘরে নিয়ে এলাম, স্কুলে খেলতে খেলতে নাকি পড়ে যায়, তারপর আর ওঠেনি৷ ওর মা কান্নাকাটি জুড়ে দিল, আমি নাড়ি ধরে দেখলাম বেঁচে আছে, নিঃশ্বাস নিচ্ছে কিন্তু খুব আস্তে আস্তে, প্রায় বোঝাই যায় না, ডাক্তার ডাকলাম, সে এসে কিছুই ধরতে পারল না৷ বলল হসপিটালের ডাক্তার দেখাতে৷ তখন হাতে পয়সা ছিল না, ক-দিন গেল, মেয়েটা আস্তে আস্তে কেমন যেন দুর্বল হয়ে পড়ল, ভালো করে কথা বলতে পারে না, খেতে পারে না, যেন সারাক্ষণ গলাটা কেউ চেপে ধরে আছে৷ মেয়েটাকে খুব যে ভালোবাসতাম তা নয়, কিন্তু তাও চোখের সামনে একটা বছর পাঁচেকের বাচ্চা ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে, চুপ করে বসে থাকতে পারতাম না৷ কখনও মাঝরাতে কাশতে কাশতে মুখ দিয়ে রক্ত বেরত, ওর মা কাপড় দিয়ে মুছিয়ে দিত, তারপর জেগে থাকত সারারাত, আমি আর শুতে পারতাম না, বাইরে এইখানটায় এসে বসতাম৷ সেই রক্তাক্ত কাশি মাঝে মাঝে অসহ্য হয়ে উঠত৷ মনে হত সব শেষ করে দিয়ে, সবাইকে খুন করে ফেলি, ওই আধমরা নির্বাক মেয়েটাকেও, ওর মাকেও, সবাইকে, অন্তত একটা রাত নির্ভাবনায় শান্তিতে ঘুমাতে পারব, আমার সব রাগ গিয়ে পড়ল খাঁচার ভিতর মুরগিগুলোর উপর, এক-একটাকে ধরে ধরে ইচ্ছামতো কাটতে লাগলাম, আগে প্রাণে মারতাম না, যন্ত্রণায়, তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করত মুরগিগুলো, এমনকি খাঁচার ভিতর থেকে যারা দেখছে তারাও, সেই চিৎকারে মেয়েটার কাশির শব্দ, বউয়ের কান্নার আওয়াজ সব ঢাকা পড়ে যেত৷’

    কথাগুলো বলে একটু থামল গুপী, তার মুখটা থমথমে হয়ে আছে, ফাঁকা খাঁচার ঠিক সামনেই গাছের গুঁড়ি কেটে একটা ছোট টুল মতো বানানো আছে, তার উপরেই কাটা হত মুরগিগুলো৷ এতবছরের রক্তের দাগে সেটা এখনও লাল হয়ে আছে৷ কয়েকটা বড় করে নিঃশ্বাস নিল গুপী, তারপর শেষ হয়ে যাওয়া সিগারেটটা ছুঁড়ে ফেলে আবার বলতে শুরু করল৷

    ‘হাতে কিছু টাকা এসেছিল, তাই দিয়ে মেয়েকে হসপিটালে নিয়ে গেলাম, তারা পরীক্ষা করে বলল হার্ট বড় হয়ে গেছে বলে হার্টে রক্ত আসছে না, আমি শালা অত বুঝি না, জিজ্ঞেস করলাম কী করতে হবে, তো তারা বলল অন্য কারও হার্ট খুলে লাগাতে হবে৷ বাড়ি ফিরে এলাম, সেদিন মেয়েছেলের মতো কেঁদেছিলাম জানিস, এতদিন ভাবতাম ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে কিছু করতে পারবে, হাতে পয়সা এলেই নিয়ে যাব, মনে হল এই ক-দিনের মধ্যেই যদি মরে যেত তাহলেই বোধহয়…’

    বাইরে ফনে এসে দাঁড়িয়েছে, তার হাতের ব্যাগটা এখন ফুলে রয়েছে, অর্থাৎ মাংস নিয়ে ফিরেছে সে, আমি তার হাতে টাকাটা দিয়ে ব্যাগটা নিয়ে নিলাম৷ গুপী উঠে দাঁড়াল, আমার হাতের ব্যাগের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘বোনলেস দিয়েছে নাকি?’

    ‘কী জানি, কালো প্যাকেটে দিয়েছে, বোঝা যাচ্ছে না৷’ আমি ব্যাগের ভিতরে দেখে বললাম, ‘দেখে নিই, হারামিটা মহা চোর৷ না দেখলেই হাড়ে ভরে দেবে৷’

    আমার প্যাকেটটা খুলতে ইচ্ছা করল না৷ জিজ্ঞেস করলাম, ‘কিন্তু মুরগিগুলোকে ছেড়ে দিলি কেন?’

    আমার কৌতূহল দেখে তার মুখে একটা হালকা হাসি ফুটে উঠল৷ আমার থাইতে একটা চাপড় মেরে বলল, ‘সেটা শুনলে শালা হাসবি৷’

    ‘হাসলাম না হয়, তুই বল৷’

    ‘তার আগে আর একটা সিগারেট ছাড়, এত দামি চিজ আবার কবে পাব কে জানে৷’ আমি সিগারেটের বাক্সটা তার দিকে এগিয়ে দিলাম, সে একটা সিগারেট বের করে নিয়ে আগুন ধরাল, ঠিক সেই সময় ভিতর থেকে একটা চাপা কান্নার মতো আওয়াজ ভেসে এল, বোধহয় শ্বাসকষ্ট হচ্ছে মেয়েটার, গুপীর কিন্তু কোনও হেলদোল নেই, আমি ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালাম, এতক্ষণে মেয়েটা সোজা হয়ে শুয়েছে, হাত দুটো যেন নড়ে উঠল কয়েকবার, ছটফট করার শক্তিও হয়তো ফুরিয়ে গেছে৷ খুব ক্ষীণ শিসের মতো একটা আওয়াজ হচ্ছে৷

    আমি চেষ্টা করেও এগিয়ে যেতে পারলাম না, কেমন যেন অসহায় লাগল আমার৷ কিছু কি করার নেই? এখন তো ক্যান্সারেরও ট্রিটমেন্ট হয়, কত আধুনিক যন্ত্রপাতি এসে গেছে মানুষের হাতে, তবু একটা বছর দশেকের বাচ্চা মেয়েকে চোখের সামনে একটু একটু করে দম বন্ধ হয়ে মরতে দেখতে হবে?

    ‘বউটা যদি না থাকত না, কোনদিন গলা টিপেই মেরে ফেলতাম৷’ হাওয়ায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছেড়ে বলল গুপী৷

    আমার আর এক মুহূর্তও এখানে থাকতে ইচ্ছা করছে না৷ সব কিছুর মধ্যে কেমন যেন মৃত্যুর গন্ধ৷ আসন্ন মৃত্যুর আশঙ্কায় এই ঘরটা, ছেঁড়া লেপটা আর ঝুলন্ত নোংরা জামাকাপড়গুলো ভৌতিক চেহারা নিয়েছে৷

    ‘চল, তোর বাড়ি অবধি যাই, যেতে যেতেই বলব সবটা৷’

    ‘আমরা দু-জনে বাইরে বেরিয়ে এলাম৷ এতক্ষণে বেশ দুপুর হয়েছে, শূন্য রাস্তাটা খাঁ খাঁ করছে, আশপাশের কোনও বাড়ি থেকে টিভির আওয়াজ ভেসে আসছে৷ দু-জনে বেশ খানিকটা হেঁটে এলাম, আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি, গুপীও বোধহয় ভুলে গেছিল, হঠাৎ হাতের সিগারেটটা দেখেই যেন কথাটা মনে পড়ল তার, ‘ওহো, তোকে তো বলাই হল না৷’

    ‘হুম, বল৷’

    গুপী কী যেন ভেবে আবার বলতে শুরু করল, ‘খাঁচায় একটা সাদা রঙের মোরগ ছিল, জানিস, অত সাদা ধবধবে মোরগ জীবনে দেখিনি, মায়াদয়া তেমন ছিল না বটে কিন্তু ওটাকে কাটতে ইচ্ছা করত না, খাঁচায় হাত ঢুকিয়ে আগে ওটাকে সরিয়ে দিতাম, মোরগটাও বোধহয় বুঝে গেছিল ওকে আমি মারব না৷ হসপিটাল থেকে ফেরার ঠিক পরের দিন, মাঝরাতে ঘুমটা ভেঙে গেল, বউ ডাকছে, উঠে দেখলাম মেয়েটা পাথরের মতো স্থির হয়ে আছে, মুখের এককোণ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছে, তোকে কী বলব শান্তি, এক সেকেন্ডের জন্য মনটা খুশি হয়েছিল৷ বোধহয় মরেছে, শেষ হয়ে গেছে সব যন্ত্রণা৷ নাড়ি দেখলাম, নাহ, চলচে না৷ বুকটা ওঠানামা করছে না, অনেকদিন পর খুব শান্তি পেয়েছিলাম, শালা আমি বাপ হয়ে শান্তি পেয়েছিলাম মেয়ে মরে গেছে ভেবে, কিন্তু না, একটু পরে আবার শুরু হল চাপা শিসের মতো শব্দটা, তার সাথে থকথকে রক্ত মেশানো কাশি৷ মরেনি এখনও মরেনি, আরও যন্ত্রণা আরও, আরও আরও… রাগে আর কিছু হুঁশ ছিল না আমার, বিছানায় একটা লাথি মেরে বেরিয়ে এলাম বাইরে, আজ সব ক-টা মুরগিকে মারব, সামনে যাকে পাব মেরে শেষ করে ফেলব, শেষ পর্যন্ত হয়তো নিজেকেও, খাঁচা থেকে নেকড়ের মতো টেনে হিঁচড়ে বের করে আনলাম একটা মুরগিকে, হাতে নিয়ে দেখলাম সেটা মোরগ, আমার সেই সাদা মোরগটা, আজ শালা এটাকেই কাটব, জানি না কেন এখন মনে হয় মোরগটা একবারের জন্যও চিৎকার করেনি, বোধহয় তখনও ভাবেনি আমি তাকে কাটব বলেই বের করেছি, চপারটা ডান হাতে ধরে ‘দুটো পা দিয়ে তাকে চেপে ধরলাম ওই গাছের গুঁড়িটায়৷ একটা পা গলায় আর একটা পেটে, মাথার উপর তুলে ধরলাম ধারালো চপারটা, উত্তেজনায় আমার পায়ের চাপ একটু ঢিলে হয়ছিল, সেই ফাঁকেই ডেকে উঠল মোরগটা৷ মৃত্যুর আগের আর্ত চিৎকার নয়, শান্তি, ঠিক সকাল হলে যেভাবে ডাকে, সেরকম৷ শালা ওইটুকুনি প্রাণী, কসাইয়ের চপারের তলায় শুয়ে আমাকে জানিয়ে গেল যে আমার হাতে কিছুই নেই, শত চেষ্টা করলেও যেমন মেয়েটাকে বাঁচাতে পারব না, তেমনি সব কিছু অন্ধকার করে ফেলার ক্ষমতাও আমার নেই, ভোর হবে… ভোর হবে, আমি আটকে রাখতে পারব না৷ সব কিছুর মতো একসময় অন্ধকারটাও শেষ হয়ে যাবে৷ মরবার আগে সে যেন ঘোষণা করে দিয়ে গেল৷ আমারও কী হল জানি না, মনে হল আমার পায়ের নিচে আমার মেয়েটাই শুয়ে আছে, সামনে নিশ্চিত মৃত্যু, নিঃশ্বাস বন্ধ, আর আমি, আমি ভগবান, এই মোরগটার জন্ম মৃত্যু আমার হাতে৷ আমি তাকে শুধু মারতেই পারি, যন্ত্রণাই দিতে পারি, ব্যস ওইটুকুই, এই অন্ধকার রাতটাকে আমি আটকে রাখতে পারব না৷ আলো ফুটবেই৷ আমি চপার নামিয়ে নিলাম৷ ছাড়া পেয়ে এক ঝটকায় মাটিতে নেমে লাফিয়ে লাফিয়ে দৌড়াতে লাগল মোরগটা৷ আমি ভিতরে ঢুকে এলাম, মেয়েটা স্থির হয়ে শুয়ে আছে৷ মুখের উপর থেকে চাদরটা সরানো৷ তাকে দু’হাতে চেপে ধরলাম বুকে, এখনও হৃৎপিণ্ডটা চলছে তার, ধুকপুক আওয়াজটা ক্ষীণ হয়ে এসেছে৷ হয়তো ক-দিন পড়ে সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে৷ কিন্তু তাও সেদিন আমার এতটুকু কষ্ট হয়নি৷ সারারাত মেয়েটাকে বুকে নিয়ে শুয়েছিলাম৷ তার রক্তে ভিজে গেছিল আমার গলাটা৷ তারপর থেকে আর মুরগি কাটি না, অন্য কিছুর ধান্দায় আছি৷’

    গুপী থামল৷ আমিও আর কোনও কথা বললাম না৷ আগেই বলেছি আমি নাস্তিক মানুষ, কিন্তু জানি না কেন আজ মনে হল ভগবান বলে যদি কেউ থেকেও থাকে সে লোকটা ভগবান হিসেবে একটা কসাইয়ের থেকেও নিচু শ্রেণির৷

    ‘নেমন্তন্ন কর একদিন, খেয়ে যাব৷’ আমার বাড়ির সামনে এসে পড়েছি৷ গুপী হাসতে হাসতে বলল৷

    ‘এখনই আয় না৷’

    ‘নারে, আজ বেলা হয়ে গেছে৷ অন্য দিন আসব৷’

    কথাটা বলে সে ফেরার পথ ধরল৷ এমন সময় বাড়ির আশেপাশে কোথা থেকে তারস্বরে একটা মোরগ ডেকে উঠল৷ পাশের বাড়ির গুপ্তরা পুষেছে বোধহয়৷ কিন্তু এই দুপুরে মোরগের ডাক! কী জানি হতেও পারে৷ হতচ্ছাড়ারা মাঝে মাঝে অকারণেই ডেকে ওঠে…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সায়ক আমান

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026
    সায়ক আমান

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Our Picks

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }