Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প1001 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দোতলার ঘর

    ‘ঘরটায় কী আছে বলো তো?’

    আধখানা লুচি ছোলার ডালে মাখিয়ে মুখে তোলে বিশ্বরূপ, তারপর ভালো করে চিবোতে চিবোতে বলে, ‘আমার ছোটোবেলার একটা বিশেষ দিনের স্মৃতি, খুব একটা সুখকর নয়৷ আই মিন, এই লুচি খেতে খেতে সেসব কথা না-তোলাই ভালো৷’

    ‘মানে ছোটোবেলার ট্রমা বলতে চাইছ?’

    ‘বললাম যে, ওসব কথা না-তোলাই ভালো, আর দুটো দাও তো৷’ শেষ কথাটা কাজে দিল৷ চেয়ার ছেড়ে উঠে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল মধুরিমা৷ এই একটা বিশ্রী স্বভাব ওর৷ একবার কোনও কিছু নিয়ে মনে কৌতূহল জাগলে তার শেষ তল অবধি না গিয়ে কিছুতেই প্রশ্ন করা বন্ধ করবে না৷ তখন একমাত্র উপায় হল কোনও একটা কাজে লাগিয়ে দেওয়া ওকে৷ বিশ্বরূপের তেমন একটা খিদে আর নেই৷ ইতিমধ্যে গোটা আটেক লুচি শেষ করেছে৷

    ইদানীং তার বেশি আর খেতে পারে না, ছেলেবেলায় একটা সময়ে ষোলোখানা খাওয়ার পরেও খিদে মিটত না৷ শেষ পর্যন্ত ছেলে লোভের বশে খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়বে সেই ভয়ে মা জোর করে তুলে হাত ধুইয়ে দিত৷ বিশ্বরূপ মনে মনে ভাবত, বড়ো হয়ে রোজ অন্তত গোটা কুড়ি লুচি না খেয়ে থামবে না৷ কিন্তু বড়ো হওয়া বড়ো বালাই, মায়ের দায়িত্বটুকু সে নিজেই পালন করে৷

    যা-ই হোক, এই মুহূর্তে মধুরিমার প্রশ্নের হাত থেকে বাঁচার জন্যেই লুচি আনতে বলেছে সে৷ হাত দুটো উপরে তুলে দু-পাশে তাকায় বিশ্বরূপ৷ তিনদিকের দেওয়াল জুড়ে ছোটো-বড়ো নানা মাপের হাতে আঁকা ছবি৷ এইসব ছবিই এগজিবিশন থেকে ঘুরে এসেছে৷ কিছু কিছু আবার মোটা দামে বিক্রিও হয়েছে৷ যদিও ছবি আঁকাটা বিশ্বরূপের পেশা নয়, তা-ও মাঝেমধ্যে ছবি বেচে মোটা টাকা পকেটে ভরতে খারাপ লাগে না৷ সব থেকে বড়ো কথা, অন্য লোকের বাড়ির দেওয়ালে তার আঁকা ছবি ঝুলছে, ব্যাপারটা ভাবলেই একটা হালকা খুশিতে মন ভরে ওঠে ওর৷

    রান্নাঘর থেকে লুচির প্লেট হাতে বেরিয়ে আসে মধুরিমা৷ তারপর গোটা তিনেক লুচি বিশ্বরূপের থালার উপর রেখে বলে, ‘ফোলেনি কিন্তু৷’

    ‘অসুবিধা নেই৷ সকাল থেকে তোমারও খাটাখাটনি কম হল না, একটু বোসো বরং৷’

    আঁচলে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে মধুরিমা হাসে৷ তারপর চেয়ারে বসে পড়ে বলে, ‘এদিকটা আমি আগে আসিনি জানো, কাল সকালে খেয়েদেয়ে একটু বেড়িয়ে দেখব ভাবছি৷’

    ‘দেখার মতো আছেটাই বা কী?’ খেতে খেতে মাথা নাড়ে বিশ্বরূপ৷

    ‘ও-মা৷ তোমার কাছে কম গল্প শুনেছি নাকি? সেই যে দুটো মাথাওয়ালা নারকেল গাছ, তারপর সেই পুকুরটা, যার তলায় নাকি সাতটা লুকোনো কুয়ো আছে৷’

    ‘ধুর, ওসব গল্পকথা৷ এসব গ্রামগঞ্জের দিকে লোকে গসিপ করবে বলে মুচমুচে গল্প বানিয়ে নেয়, যাকে বলে আরবান লেজেন্ড৷’

    ‘সে যে লেজেন্ডই হোক, মাসখানেক থাকব যখন, একটু ঘুরে দেখে নেব না?’

    ‘বেশ, দেখো৷ আমি দুপুরে ঘুমোব৷ ব্যস৷’

    খুব একটা খুশি হয় না মধুরিমা৷ ওর ছোটো থেকে বড়ো হওয়া অবধি গোটা জীবনটা শহরাঞ্চলেই কেটে গেছে৷ মফসসলে থাকা বিয়ের পরে এই প্রথম৷ এখানকার আধপাকা রাস্তাঘাট, খিড়কির পুকুর, বাড়ির পাশে হালকা ঝোপঝাড়ের জঙ্গল— এইসবই ওর কাছে রহস্যময়৷ বিশেষ করে পুরোনো স্কুলবাড়ির সেই দোতলার ঘরটা৷

    মাঝে দু-একবার নিজে মুখেই ঘরটার কথা বলেছে ওকে বিশ্বরূপ৷ কী যেন একটা ঘটেছিল ওখানে… কিন্তু তারপর আর কিছু জিজ্ঞেস করতে গেলেই সে চুপ করে গিয়েছে৷ এই যেমন আজ একটু আগেই হল, কিছু একটা অছিলায় ঘুরিয়ে দিল কথাটা৷ তবে কি ভূত আছে ওখানে? কিন্তু ভূতে তো বিশ্বাস করে না বিশ্বরূপ, তাহলে?

    এতক্ষণে বিশ্বরূপের খাওয়া শেষ হয়েছে৷ বেসিনে হাত ধুয়ে নিয়ে মুখ মুছতে মুছতে সে বলে, ‘হিবিসকাস বলে ড্রয়িংটা যে এত দামে বিক্রি হবে, সত্যি বুঝতে পারিনি, জানো তো? ওটা একদিন অফিস থেকে ফিরে আচমকাই এঁকে ফেলেছিলাম৷’

    ‘হিবিসকাস আবার কোনটা?’

    ‘আরে সেই যে জবা ফুলের ছবি, লালচে-মতো দেখতে৷’

    ভালো করে মনে করার চেষ্টা করে মধুরিমা, তারপর মুখ তুলে বলে, ‘ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে৷ তোমার যা আঁকা, তাতে জবা ফুল না মানুষের কাটা মাথা, বোঝার উপায় নেই৷ সব এটা ওর ঘাড়ে এসে পড়েছে৷’

    ‘ঘাড়ে নয়, ওকে বলে অ্যাবস্ট্রাক্ট৷ সমস্ত পেন্টারের আলাদা আলাদা স্টাইল থাকে বুঝলে? পিকাসোর ছিল কিউবিজম, গগের ছিল পয়েন্টিলিজম আর আমার হল ওই অ্যাবস্ট্রাক্ট৷’

    মধুরিমা মুখ ঘুরিয়ে নেয়৷ এইসব কচকচানি শোনার মেজাজ নেই ওর, একটু আগের প্রশ্নটা ক্রমাগত খোঁচা মেরে চলেছে মনে৷ এক্ষুনি তার কিছু একটা না উত্তর পেলে কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না মনটা৷ স্কুল বিল্ডিং-এর দোতলার ঘরে কী ঘটেছিল? যদি সত্যি আশ্চর্য কিছু না ঘটে থাকে তাহলে এত লুকোচুরির দরকারই বা কী?

    ‘তুমি বেড়াতে গেলে বলো, রিকশা ডেকে দেব৷ গ্রামের দিকে হাঁটাচলার অভ্যাস নেই, তার উপরে আবার হিল-তোলা জুতো৷’

    ‘একা গিয়ে কী করব? কিছুই তো চিনি না৷’ ইচ্ছা করেই বিরক্তিটা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে না সে৷

    ‘সেইজন্যেই রিকশার ব্যবস্থা, এত খাওয়াদাওয়ার পর আমার আর বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করে না৷’

    বিছানার উপরে গড়িয়ে পড়ল বিশ্বরূপ৷ বাইরে এতক্ষণে বিকেলের আলো মরে এসেছে৷ কতকগুলো নামবিহীন অচেনা পাখি চুকচুক করে ডেকে মাঠের দিকে উড়ে যাচ্ছে৷ সেই মাঠ থেকে ছেলেপিলের দল হেঁটে বাড়ি ফেরার উপক্রম করেছে৷ কারও হাতে বাঁশ কেটে বানানো উইকেট, কেউ ঘাড়ে নিয়েছে ব্যাট৷ পুকুরের ধার থেকে হেঁটে আসছে একদল লোক৷ তাদের পরনে নোংরা লুঙ্গি৷ ঘাট ছাড়িয়ে একতলা-দোতলা বাড়ি সার দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ জানলা দিয়ে এইসব দেখতে দেখতে মনটা হালকা হয়ে যায় মধুরিমার৷ যদি অফিসের চাপ না থাকত তাহলে বেগমপুরের এই পুরোনো বাড়িতেই বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেওয়া যেত৷ এখানে দেখার মতো কিছু নেই৷ না পাহাড়, না সমুদ্র, না বরফ৷ তবে এখানকার মানুষ আর ওদের জীবনযাত্রার মধ্যে সরলতা আছে৷ গাছপালা, মাঠ, পুকুর, ফলের বাগান আর সাজানো লতাবাহারের উঠোনে আঁচলঘেরা এক টুকরো শাস্তি৷ মাসখানেক থেকে মন ভরে না৷

    ছোটোবেলাটা এখানেই মা-বাবার সঙ্গে কেটেছে বিশ্বরূপের৷ বাড়িটা ওর দাদুর আমলে কেনা৷ হাইস্কুল পাশ করে কলেজে ভরতি হতে কলকাতায় গিয়ে মেসে থাকতে শুরু করে বিশ্বরূপ৷ বাবাও বাড়িটা ভাড়া দিয়ে কলকাতায় নতুন বাড়ি কেনেন৷ বিয়ের আগেই বড়োসড়ো ছুটি পেলে পৈতৃক বাড়িতে এসে দিন তিনেক কাটিয়ে যায় বিশ্বরূপ৷ কলকাতার নামকরা আর্টিস্ট বলে একরকম জোর করেই স্কুল কমিটির সম্পাদক করে দেওয়া হয়েছে ওকে৷ ফলে না এসে উপায়ও নেই৷ হাজার হোক এখানে ওর স্কুলজীবন, বন্ধুবান্ধব আর ছেলেবেলার প্রায় সমস্তটাই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে৷

    বিয়ের পর এই প্রথম মধুরিমাকে নিয়ে বেড়াতে এসেছে এখানে৷ কোন ফাঁকে যে স্কুলবাড়ির দোতলার কথাটা বলে ফেলেছিল, সে নিজেও জানে না৷ খানিকটা সেই টানেই এই ধ্যাড়ধ্যাড়ে মফসসলে বেড়াতে আসতে রাজি হয়েছে মধুরিমা৷ আপাতত বেশ বুঝতে পারছে কথাটা খুলে না বলে উপায় নেই৷

    বিছানায় শুয়ে একটা সিগারেট ধরায় বিশ্বরূপ, তারপর সিগারেট সহ হাতটা একটা হাঁটুর উপরে রেখে বলে, ‘তোমার কী মনে হয়? কী থাকতে পারে ওখানে?’

    ‘আমি কী করে জানব?’ জানলা থেকে মুখ ফিরিয়ে ভিতরে তাকায় মধুরিমা৷

    ‘আহা, গেস তো করতে পারো… গল্পের বই-টই পড়ো তো৷’

    ‘গেস করে এসব বলা যায় নাকি? তবে এমন কিছু ছিল, যাতে তুমি ভয় পেয়েছিলে৷’

    ধীরে ধীরে মাথা নাড়ে বিশ্বরূপ, ‘হ্যাঁ তা পেয়েছিলাম বটে৷ ঘরটা তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার৷ আমিও তখন থ্রি কি ফোরে পড়ি৷’

    ‘বাবা! তারপর?’

    ‘এখন এদিকটা যা দেখছ, সেই সময়ে এর থেকে ঢের বেশি নির্জন ছিল৷ বিকেলে ঘণ্টা পড়ে ছুটি হয়ে গেলে দোতলা স্কুলটা একদম ফাঁকা হয়ে যেত৷ গলা ছেড়ে চিৎকার করলেও কেউ দেখতে আসত না৷’

    ‘তো তুমি সেখানে আটকা পড়েছিলে নাকি?’

    বিশ্বরূপের চোখ সিলিং-এ নিবদ্ধ৷ একটা ধোঁয়ার রিং ছেড়ে সে আনমনে বলে, ‘পড়িনি, আটকে দিয়েছিল৷ হাজার চেষ্টা করেও সেদিনের সেই রাতের কথা ভুলতে পারিনি আমি৷ সেই হালকা বাঁশির আওয়াজ, সেই দেওয়াল বেয়ে নেমে-আসা জলের টুপ-টুপ, ঘন অন্ধকার আর তার মাঝে…’

    ‘তার মাঝে কী?’

    বিছানার উপরে এসে এতক্ষণে বসে পড়েছে মধুরিমা৷ উৎসাহের বশে ওর মুখ দিয়ে নিজে থেকেই বেরিয়ে এসেছে প্রশ্নটা৷ ওর দিকে তাকিয়ে অল্প হাসে বিশ্বরূপ৷ বিছানার এককোণে রাখা অ্যাশট্রেতে ছাই ফেলতে ফেলতে বলে, ‘আগ্রহ মাথায় উঠেছে দেখছি৷ বেশ, শোনো তবে৷ কিন্তু একটা শর্তে৷’

    ‘কীসের শর্ত?’

    ‘এই ঘরে যে কথা হবে, সেটা যেন এর বাইরে না যায়৷’

    ‘বেশ, আমি কাউকে বলব না৷ তুমি বলো৷’

    বিছানার উপরে উঠে বসে বিশ্বরূপ৷ ওর উজ্জ্বল চোখ দুটো ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসে৷ বালিশে মাথা এলিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে বলতে শুরু করে, ‘তখন ক্লাস ফোরে পড়ি মনে হয়৷ গ্রামের দিকের স্কুল, বুঝতেই পারছ, পড়াশোনা তেমন হয় না৷ ডানপিটে ছেলেপুলে যাতে বাড়িতে দস্যিপনা না করে, অনেকটা সেই কারণেই স্কুলে পাঠিয়ে দিত বাবা-মা৷ আর স্কুলে দু-একজন স্যারও থাকত বাঘা তেঁতুলমার্কা, একটু এদিকওদিক করেছ কী, বেত আছড়ে পিঠের ছাল তুলে দেবে৷

    তো আমার এক বন্ধু ছিল, নাম জগাই৷ ভালো-নাম কিন্তু জগানন্দ কি যজ্ঞেশ্বর ছিল না, তা-ও ওকে কেন যে জগাই ডাকা হত, সে আজ আর আমার মনে নেই৷ মোট কথা, সে ছিল ভারী ডেঁপো ছেলে৷ ছেলেবেলায় মা মারা গেছিল বলে ওকে শাসন করার কেউ ছিল না৷ এমনিতে ওর মনটা ছিল সরল, কিন্তু জগাই একবার কারও উপর খেপে গেলে তার আর রক্ষা ছিল না৷ রাগের মাথায় সে করতে পারে না এমন কাজ নেই৷

    আমাদের স্কুলের দোতলার জানলার কাছে তখন একটা লিচুর গাছ ছিল৷ এমনিতে হাত বাড়ালে সেটার নাগাল পাওয়া যেত না৷ তা ছাড়া হেডস্যারের কড়া নির্দেশ ছিল, স্যারেদের না বলে লিচুতে হাত পর্যন্ত না দিতে৷ কিন্তু জগাইয়ের একদিন শখ হল, সে পেট ভরে লিচু খাবে৷ দোতলার জানলা দিয়ে খানিক কসরত করল কিন্তু লিচুর নাগাল পাওয়া গেল না৷ শেষে আমাকে এসে ধরল, গাছে উঠে লিচু পেড়ে দিতে হবে৷

    ওর নিজের চেহারাটা খানিক মোটাসোটা ছিল বলে গাছে উঠতে পারত না৷ আমি তখন সবে কী একটা কঠিন অসুখ থেকে উঠেছি, ফলে আমি রাজি হলাম না৷ জগাই প্রথমে লিচুর লোভ, পরে ভয় দেখাল, কিন্তু তাতেও আমি না টলতে আমাকে আর ঘাঁটাল না সে৷ আমিও ভাবলাম, ব্যাপারটা ভুলে গিয়েছে জগাই৷

    সে যে ভোলেনি, তার প্রমাণ পেলাম সপ্তাখানেক পরে৷ আগেই বলেছিলাম, চাপা রাগ জগাইকে পাগল করে দেয়৷ আমি ছিলাম ওর সব থেকে কাছের বন্ধু, ফলে আমার উপরে রাগটা ছিল আরও বেশি৷ সেদিন স্কুলের শেষে জগাই আমাকে বলেছিল, লিচুর ডাল নাকি দোতলার ঘরের জানলার একদম কাছে এসে গিয়েছে৷ আমি লম্বা করে হাত বাড়ালেই পেড়ে নেওয়া যাবে৷ সেদিন মা-বাবা কোনও একটা কারণে কলকাতা গিয়েছিল৷ কারণটা আজ আর মনে নেই৷ বাড়িতে আমি আর নিমাইকাকা ছিলাম৷ সন্ধের দিকে নিমাইকাকা আমাকে একা রেখে কী সব কেনাকাটা করতে গিয়েছিল৷ দেখলাম এই সুযোগ, বাইরের দরজায় তালা দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম৷ জগাইয়ের বাড়ি গিয়ে তাকে ডাকলাম৷ তারপর দু-জনে মিলে গেলাম স্কুলের দিকে৷

    সেকালের গ্রামের স্কুল, ফলে খুব একটা আঁটসাঁট করে দরজা আটকানো হত না৷ তা ছাড়া বাউন্ডারি ওয়ালের নানা জায়গায় ফাটল ছিল৷ সেই ফাটলের একটা দিয়ে আমরা ভিতরে ঢুকে এলাম৷

    সেদিন পূর্ণিমার রাত ছিল কি না খেয়াল করিনি কিন্তু আকাশে চাঁদের ঝকঝকে আলো ছিল৷ অত রাতে স্কুলে ঢুকিনি কোনওদিন, খানিকটা ভয়ই লাগল৷

    দোতলা স্কুল বিল্ডিংটা যেন একটা ঘুমন্ত রাক্ষসের মতো শুয়ে আছে৷ আমরা ধীরে ধীরে একতলার সিঁড়ির ভিতরের দিকে ঢুকে এলাম৷ আকাশে চাঁদের আশপাশে তখন বাদুড় উড়ছে৷ আমি ভয়ে ভয়ে জগার দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘ফিরে চল জগা, লিচু কাল স্কুলে এসে পাড়ব না হয়৷’

    ‘তাহলে স্যারেরা দেখে ফেলবে আর বেতের বাড়ি খাব, নে নে, অত ভয় পেলে এসব হয় না৷’

    আমি আর কথা বাড়ালাম না৷ সিঁড়ি দিয়ে উঠে এলাম দু-জনে৷ আমি আগে আগে আর জগাই আমার পিছনে পিছনে৷

    যে ঘরটার কথা বলছি, সেটা দোতলায় উঠে একদম ডানদিকে৷ আমরা গুটিগুটি পায়ে সেদিকে এগিয়ে গেলাম৷ রাতের হাওয়ায় তখন শনশন করে শব্দ উঠেছে৷ গরমকাল— অথচ আমার মনে হল হাড়-কাঁপিয়ে একটু একটু করে ঠান্ডা পড়ছে যেন৷

    বাইরে দেওয়ালের ওপারে কাঁচা রাস্তা ফাঁকা পড়ে আছে, একটা মানুষ কি সাইকেলের পর্যন্ত দেখা নেই৷ এদিকটায় রাতের দিকে কেউ আসে না৷

    ঘরের দরজা বাইরে থেকে ভেজানো ছিল৷ আমরা সেটার উপরে একটু ঠেলা দিতেই ক্যাঁচকোঁচ শব্দ করে সেটা খুলে গেল৷ জগাই আমাকে জানলার দিকে দেখিয়ে বলল, ‘ওই দেখ লিচুর ডাল, হাত বাড়ালেই পাব৷’

    চাঁদের আলোয় অমন টসটসে লিচু দেখে আমার মনের কোণে একটু একটু করে জমতে-থাকা ধুকপুকুনি ভাবটা মুহূর্তে কোথায় যেন পালিয়ে গেল৷ দু-জনে মিলে গিয়ে হাত লাগালাম, জামাটা গুটিয়ে নিলাম৷ তাড়াহুড়োতে একটা থলে নিতেও ভুলে গিয়েছি৷ যা-ই হোক, আমিই হাত চালাচ্ছিলাম বেশি৷ জগার হাত ছোটোছোটো, ফলে সামনের কয়েকটা ডাল ফাঁকা করেই ওর দৌড় শেষ হয়েছে৷

    শেষে আমার কোঁচড় ভরে যেতে আমি হাসিমুখে পিছন ফিরলাম, এবং ফিরতেই একটা ঠান্ডা বরফের স্রোত আমার শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে গেল, ঘর ফাঁকা৷ কোন ফাঁকে ঘর থেকে বেরিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে নেমে গিয়েছে জগাই৷

    আমি তড়িঘড়ি গিয়ে ঠেলা দিলাম দরজায়, খুলল না৷ বাইরে থেকে ছিটকিনি টেনে দিয়েছে জগা৷ আমার কোঁচড় থেকে লিচু একসঙ্গে ঝরে পড়ল৷ আমি চিৎকার করে ওর নাম ধরে ডাকতে লাগলাম, কানে এল শুধু প্রতিধ্বনি৷

    ঘরের ভিতরের দিকে তাকালাম আমি৷ ঘুটঘুটে অন্ধকারে ভরে আছে সমস্ত ঘরটা, শুধু কাঠের জানলার ফাঁক দিয়ে খানিকটা রুপোলি আলো এসে পড়েছে৷ সেই আলোতে ঘরের ভিতরে ঢুকে-আসা লিচু গাছের ডালটা দুলে উঠছে বারবার৷ ঠিক মানুষের হাতের আঙুলের মতো৷ গলা ছেড়ে কেঁদে উঠলাম আমি৷ নিমাইকাকা আর যেখানেই খুঁজুক, এত রাতে স্কুলে আসবে না৷

    অসহ্য ভয়ে আমার দম আটকে এল৷ বারবার মনে হতে লাগল, মেঝের উপরে হামাগুড়ি দিয়ে কেউ যেন এগিয়ে আসছে আমার দিকে৷ ঘরে যেন আমি একা নই৷

    কয়েকবার মনে হল, সিঁড়ির কাছ থেকে কার যেন পায়ের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি৷ আমি জগার নাম ধরে আবার ডাকাডাকি করলাম, থেমে গেল আওয়াজটা৷ বারবার চোখ চলে যাচ্ছে জানলার দিকে৷ মনে হচ্ছে, এক্ষুনি সেখানে কারও মুখ দেখা যাবে…

    মনে হল, এই রাতটা আর ভোর হবে না৷ কাল সকালে এই ঘরেই আমার মৃতদেহ উদ্ধার হবে৷ কাঁপা-কাঁপা পায়ে ঘরের এককোণে এসে বসে পড়লাম আমি৷ ততক্ষণে চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে৷ বাইরে অন্ধকার রাত যেন একটু একটু করে আরও ঘন হচ্ছে৷ মনে হল খানিকক্ষণ দম আটকে থাকলে নিজে থেকেই মরে যাব৷ তখন আর ভয় পেতে হবে না৷ সেইভাবেই একটা কোণে সিঁটিয়ে বসে রইলাম… আচমকা একটা জিনিস চোখে পড়তে…

    ‘কী?’ মধুরিমা এতক্ষণ প্রায় দম বন্ধ করে শুনছিল গল্প৷ বিশ্বরূপ হঠাৎ থেমে যেতে অধৈর্য হয়ে উঠল ও৷

    বিশ্বরূপ শুকনো হাসি হাসল, তারপর দেওয়ালঘড়ির দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে বলল, ‘একটা কাজ করলে কেমন হয়?’

    ‘কী কাজ?’

    ‘সেদিন রাতে যা দেখেছিলাম, আজ আবার দেখলে কেমন হয়?’ মধুরিমার মুখে এতক্ষণে উৎসাহ মুছে যায়, সে প্রবল বেগে মাথা নাড়িয়ে বলে, ‘ধুর, কী যে বলো৷ এত রাতে ওখানে যাওয়া যায় নাকি?’

    ‘কেন যাবে না? সেদিন রাতে দুটো বছর দশেকের ছেলে যেতে পারল, আর আজ দুটো অ্যাডাল্ট যেতে পারবে না!’

    ‘তুমি ইয়ার্কি করছ না তো?’ শুকনো মুখে জিজ্ঞেস করে মধুরিমা৷

    ‘এক্কেবারে না৷ দরজায় তালা লাগাও, চলো… এক্ষুনি বের হব৷’ বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে ওভারকোটটা গায়ে চাপাতে চাপাতে বলে বিশ্বরূপ৷ ‘তোমার কি মাথা খারাপ হল নাকি? মুখে বলে দিলেই তো হয়৷’

    ‘উঁহুঁ, মুখে বলে হয় না সব কিছু৷ এত আগ্রহ যখন, দেখে আসবে চলো৷’

    মধুরিমা বুঝল, একবার যখন বিশ্বরূপের মাথায় ব্যাপারটা ঢুকেছে তখন সেটা না করে ছাড়বে না৷ সত্যি বলতে ওর নিজেরও বেশ আগ্রহ হচ্ছে৷ বিয়ের পর থেকে বেশ কয়েকবার মাঝরাতে স্বপ্ন দেখে উঠে বসেছে বিশ্বরূপ৷ বিড়বিড় করে কী যেন বলেছে ঘুমের ঘোরে, এমনকি ‘জগা’ নামটা ধরেও স্বপ্নের মধ্যে ডেকে ওঠে মাঝে মাঝে৷ অর্থাৎ সেদিনের সেই রাতের স্মৃতি সত্যি ট্রমা হয়ে রয়ে গিয়েছে বিশ্বরূপের মনে৷ অদম্য কৌতূহল মধুরিমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফ্যালে৷ ও আর আপত্তি করে না৷

    ঘণ্টাখানেক পরে যখন দু-জনে স্কুল বিল্ডিং-এর সামনে এসে দাঁড়ায় তখন রাত আরও ঘন হয়েছে৷

    আগের থেকে বেশ খানিকটা পালটেছে বিল্ডিংটা৷ আশেপাশে একতলা-দোতলা কয়েকটা বাড়িও উঠেছে৷ বাইরের দরজার চাবি ছিল বিশ্বরূপের কাছে৷

    তালাতে চাবি ঢুকিয়ে একবার ঘোরাতেই খুলে যায় তালাটা৷ মধুরিমা কিছু যেন ভাবতে ভাবতে বলে, ‘আচ্ছা, তুমিও যদি সেদিনের মতো আমাকে ঘরে আটকে চলে যাও?’

    বিশ্বরূপ একটুও না হেসে বলে, ‘হুম, তা-ও হতে পারে৷ তবে তোমার কাছে তো ফোন আছে৷ পুলিশে খবর দিলে এসে উদ্ধার করবে৷’

    ‘তার দরকার নেই বাবা, কোন গাছে উঠে লিচু পাড়তে হবে বলো, চেষ্টা করব না হয়৷’

    ‘লিচু গাছটা এখনও আছে, বেরিয়ে দেখাব৷’

    দরজা খোলা রেখেই ভিতরে ঢুকে আসে দু-জনে৷ ধীরে ধীরে স্কুল বিল্ডিংটার দিকে এগিয়ে যায়৷ আশপাশের বাড়িগুলোর জানলায় আলো জ্বলছে৷ সন্ধে হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ আগে৷ তা-ও দু-একটা বাড়ি থেকে শাঁখের আওয়াজ ভেসে আসছে৷ মধুরিমার মনটা হালকা হয়ে গেল৷ সে হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞেস করল, ‘তারপর তোমাকে উদ্ধার করেছিল কে?’

    ‘স্কুলের কেয়ারটেকার, সকালে ওই ঘরের মেঝেতে আমাকে শুয়ে থাকতে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠেছিল সে৷’

    ‘আর জগাইকে কিছু বলেনি?’

    ‘বলেনি আবার? এক মাসের জন্যে সাসপেন্ড করেছিল ওকে৷ আমিও ওর সঙ্গে কথা বলিনি আর৷’

    ‘এখন আর যোগাযোগ নেই?’

    ‘নাঃ৷ মাঝে মাঝে মনে হয়, গোটা ছেলেবেলাটা এইখানেই রেখে গিয়েছি৷’

    কী যেন ভেবে গম্ভীর হয়ে যায় বিশ্বরূপ৷ মধুরিমা চারপাশটা ভালো করে দেখতে দেখতে বলে, ‘কিন্তু সারারাত তুমি কাটালে কী করে? মানে ওইটুকু বয়সে আমি হলে তো হার্টফেল করে মরে যেতাম৷’

    বিশ্বরূপ আর কিছু উত্তর দিল না৷ আচমকাই ওর মুখ থমথমে হয়ে গিয়েছে৷ একতলার সিঁড়ির সামনে একটা কোলাপসিবেল গেট আছে৷ পকেট থেকে চাবি বের করে সেটা খুলে ফেলল সে৷ তারপর সিঁড়ির দিকে হাত দেখিয়ে বলল, ‘লেডিজ ফার্স্ট…’

    মধুরিমা অল্প হেসে উঠে এল সিঁড়ি দিয়ে৷ গল্পটা এখনও বর্ণে বর্ণে মনে আছে ওর৷ দোতলায় উঠে সিঁড়ির ডানদিকের ঘরটা৷ সেই ঘরটাতেই সারারাত আটকে ছিল বিশ্বরূপ, সেইরাতের স্মৃতিই আজও দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে আসে বারবার৷

    সিঁড়ি দিয়ে উঠে ঘরটার সামনে এসে দাঁড়াল মধুরিমা৷ সেরাতের কথা ভেবে একটু যেন ছমছম করে উঠল গা-টা৷ এতক্ষণে পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে বিশ্বরূপ, সে নীচু স্বরে বলল, ‘চাবি দেওয়া নেই৷ ঠেলা দাও, খুলে যাবে৷’ হাত বাড়িয়ে দরজায় ঠেলা দিল মধুরিমা৷ হালকা শব্দ করে খুলে গেল দরজাটা৷ একরাশ জমাট-বাঁধা বদ্ধ হাওয়া ওদের দু-জনকে পাশ কাটিয়ে ঘরের ভিতরে গিয়ে ঢুকল৷ উৎসুক মুখে ভিতরে তাকাল মধুরিমা৷ হালকা আলোছায়ায় ঢেকে আছে ঘরটা৷ অল্প জ্যোৎস্না এসে পড়েছে ঘরের মেঝে আর দেওয়ালে৷ একপাশে কিছু বেঞ্চ আর টেবিল সার বেঁধে রাখা আছে, পিছন ফিরে বিশ্বরূপের দিকে তাকিয়ে সে বলল, ‘কই, কিছুই নেই তো৷’

    ‘দ্যাখো ভালো করে৷’ কথাটা বলে ঘরের ভিতরে ঢুকে আসে ও৷ ঘরের প্রায় মাঝামাঝি এসে দাঁড়ায় মধুরিমা৷ বিশ্বরূপ একটা কোণের দিকে দেখিয়ে বলে, ‘ওইখানটায় সিঁটিয়ে বসে ছিলাম আমি, আর এই হল সেই জানলা, দ্যাখো, এখনও লিচু গাছের ছায়া দেখতে পাবে৷’

    জানলার দিকে তাকিয়ে লিচু গাছটা দেখতে পেল মধুরিমা৷ সত্যি, মানুষের আঙুলের মতো পাতা নাড়ায় গাছটা৷ অন্ধকারের ফিকে চাদরটায় যেন ছায়া দিয়ে নকশা কেটেছে সে৷

    ‘কই, এখনও তো তেমন কিছুই…’ আচমকা দেওয়ালের দিকে চোখ পড়তে কথা থামিয়ে সেদিকে এগিয়ে যায় মধুরিমা৷

    জানলার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে পূর্ণিমার চাঁদের আলো এসে পড়েছে দেওয়ালে৷ সেই আলোতে দেখা যায় দেওয়ালের গায়ে কিছু সরু সরু দাগ৷ ঠিক যেন দেওয়ালের গায়ে কেউ ছবি এঁকেছে৷ দাগগুলোর উপর আঙুল রেখে পিছনে মুখ ফেরায় সে, ‘কে এঁকেছে এগুলো?’

    বিশ্বরূপের ঠোঁটের কোণে একটা মিহি হাসি খেলা করছে এখন৷ সে দেওয়ালের দিকে এগিয়ে এসে বলে, ‘সেদিন ঘরের ভিতরে কিছু ভাঙা ইট পড়ে ছিল৷ সেই ইট দিয়ে সারারাত দেওয়ালের গায়ে ছবি এঁকেছিলাম আমি৷ ঘরের কোণে বসে ভয় লাগছিল খুব৷ অন্ধকারটা ক্রমাগত ভয় দেখিয়ে যাচ্ছিল আমাকে৷

    তখনই চোখে পড়ল ব্যাপারটা৷ দেওয়ালে জানলার ছায়াটা মনে হচ্ছিল ঠিক জেলখানার গরাদের মতো৷ আর লিচু গাছের ছায়াটা মানুষের আঙুল৷ মনে হল, অনেকটা আলো যেন জানলা দিয়ে ঢুকে আমার ভয় কাটাতে চাইছে কিন্তু চেষ্টা করেও ঘরে ঢুকতে পারছে না৷ তাই বারবার নাড়িয়ে ভেঙে ফেলতে চাইছে জানলার গ্রিলগুলোকে৷

    কমলা ইট দিয়ে সেটাই দেওয়ালে এঁকেছিলাম সেদিন, আরও যা যা মনে এসেছিল… আমার ভয়, আতঙ্ক, একাকিত্ব সমস্ত কিছু দেওয়ালের উপরে বের হয়ে এসেছিল… প্রথম নিজের স্টাইল খুঁজে পেয়েছিলাম আমি, অ্যাবস্ট্রাক্ট… বিমূর্ত৷ তারপর থেকে আর মুছতে দিইনি এগুলো… এখনও এসে দেখি মাঝে মাঝে…’

    অবাক হয়ে দেওয়ালময় আঁকা ছবি দেখতে থাকে মধুরিমা৷ এখন আর সেগুলো একটার ঘাড়ে আর-একটা মনে হয় না ওর৷ প্রত্যেকটা দাগের পিছনে যেন এক-একটা গল্প আছে৷ একটা গোটা রাতের অজস্র অনুভূতি বহন করছে ছবিগুলো৷

    মানুষের শিল্পী হয়ে উঠতে গেলে খানিকটা অন্ধকার লাগে৷ খানিকটা বিশ্বাসঘাতকতা, আতঙ্ক, চিৎকার, যন্ত্রণা… তারপর ধীরে ধীরে সেই আলো আর অন্ধকার মিশে একটু একটু করে শিল্পী হয়ে ওঠে সে…

    দেওয়াল ছেড়ে জানলার কাছে এসে দাঁড়ায় মধুরিমা৷ বাইরের হাওয়াটা গাছ পেরিয়ে এখন গায়ে এসে লাগছে৷ বেশ আরাম লাগছে তাতে, এতক্ষণের চাপা উত্তেজনাটা কেটে গিয়ে একটা ফুরফুরে ভাব খেলা করে যাচ্ছে ঘরের ভিতরে৷ বিশ্বরূপ উলটোদিকে দাঁড়িয়ে নিচু গলায় বলে, ‘আসল সিক্রেটটা এখন বলছি, বুঝলে? সেদিন এই ঘরের জানলায় একটা হিবিসকাস ঝুলতে দেখেছিলাম৷’

    ‘মানে জবা ফুল?’

    ‘উঁহু’… মানুষের কাটা মুণ্ডু…’

    দু-জনেই হেসে ওঠে৷ খানিক পরে ঘরটা আগের মতো রেখেই বেরিয়ে আসে দু-জনে৷ ঘড়িতে সবে রাত আটটা বেজেছে অথচ এর মধ্যেই চারদিক ঝিমিয়ে পড়েছে৷ সিঁড়ির কাছের জমা অন্ধকার বেয়ে নীচে নামতে থাকে দু-জনে…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সায়ক আমান

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026
    সায়ক আমান

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Our Picks

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }