Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প1001 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঝুমুর

    গাঁথিব ফুলেরই মালা, যতনে সাজাব কালা,
    আমি ঘুচাইব মনের জ্বালা, দুঃখ যাবে দূরে৷

    (১)

    হোটেলের একতলায় ডাইনিংরুমে বসে ডিনার করছিল ইন্দ্র৷ গুনগুন আওয়াজ ভরিয়ে দিয়েছে হোটেল লবিটাকে৷ আশপাশের চেয়ারগুলোও প্রায় ভর্তি হয়ে গেছে৷ তাদের মধ্যে জনা পাঁচেক ঘুরতে-আসা ট্যুরিস্ট৷ বাকি অর্ধেক শুটিং-পার্টি৷

    দইয়ের বাটিটা হাতে তুলে নিয়ে তাতে চামচ ডুবিয়ে দেয় ইন্দ্র৷ চারপাশটা একবার চোখ তুলে দেখে নেয়৷ একদিকের গদি-আঁটা চেয়ারে বসে আছেন মিস লাবনী৷ তার দু-পাশে দাঁড়িয়ে ম্যানেজার রূপায়ণ ধর আর প্রোডিউসার দেবজ্যোতিবাবু৷ মহিলার চেহারা বেশ গোলগাল৷ ধবধবে ফর্সা চামড়া, যার বেশিরভাগটাই এখন অনাবৃত৷ ক্যাটকেটে পোশাক গায়ে৷ গলায় আর হাতে শান্তিনিকেতনি কাজের কাঠের অলংকার৷ লিপস্টিক বাঁচিয়ে সাবধানে চামচ মুখে তুলছেন৷ এই হোটেলে এসি নেই৷ ফলে মাঝে মাঝেই মুখে আর গলায় ঘামের বিন্দু ফুটে উঠছে৷ বাঁহাতে ধরা রুমাল দিয়ে দ্রুত সেগুলো মুছে ফেলছেন৷

    চোখ সরিয়ে নিল ইন্দ্র৷ এসি নয়, এই দু-দিন সব থেকে বেশি যে জিনিসটা সে মিস করছে তা হল মোবাইল ফোন৷ এখানে এসে থেকে একবারও সেটা অন করেনি৷ তার অবশ্য একটা কারণ আছে৷ তবে খাওয়ার সময় সব থেকে বেশি দরকার পড়ে জিনিসটা৷ ইন্দ্রর অনেক দিনের অভ্যাস৷ মোবাইলে ইউটিউব খুলে কিছু একটা চালিয়ে সেটা দেখতে দেখতে খায়৷ একসময় টিভি দেখতে দেখতে খাওয়ার শখ ছিল, ইদানীং আউটে শ্যুট এত বেশি হচ্ছে যে ইউটিউবই ভরসা৷

    আবার মিস লাবণির দিকে চোখ পড়ে তার৷ মহিলার বয়স চল্লিশের খানিক উপরে হলেও কিছু একটা আছে তাঁর হাবভাবে৷ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবারই চোখ চলে যায় অজান্তে৷ খাওয়া শেষ করে সিগারেটের প্যাকেট খুলে একটা সিগারেট ধরাচ্ছেন তিনি৷ হঠাৎ ইন্দ্রর চোখে চোখ পড়ে তাঁর৷ ইন্দ্র চোখ নামিয়ে নেয়৷

    ব্যাপারটা লজ্জাজনক৷ সে সামান্য একজন ফটোগ্রাফার৷ শ্যুট থাকলে এইসব সখীমার্কা রমণীদের উপর-নীচ আগে-পিছে তাগ করে ছবি তোলাই তার কাজ, কিন্তু ক্যামেরা হাতে থাকলেই একমাত্র সে ছাড়পত্র মেলে৷ অন্যসময়ে হ্যাংলার মতো তাকিয়ে থাকা৷

    ইন্দ্রর কান লাল হয়ে ওঠে৷ টেবিল থেকে উঠে পড়তে যাচ্ছিল সে, এমন সময় একটা মিহি গলা থামিয়ে দেয় তাকে, ‘ও হ্যালো৷ লিসন৷’

    মিস লাবণি ডেকেছেন ওকে৷ তবে কাছে ডাকেননি৷ ইন্দ্র দেখল মহিলা নিজেই চেয়ার থেকে উঠে এগিয়ে এসেছেন ওর টেবিলের কাছে৷ সে মাথা নীচু করে উঠে দাঁড়াল৷

    ‘এই যে তুমি, তোমাকে আমি আগে কোথায় দেখেছি বলো তো?’ একটা টাওয়েলে হাত মুছতে মুছতে জিজ্ঞেস করলেন মিস লাবণি৷ নিজেকে একটু সামলে নিয়ে মুখ তোলে ইন্দ্র, ‘আপনার আগে একটা শ্যুট ছিল পুরুলিয়ার৷ ওখানেও আমি ক্যামেরা করেছিলাম৷’

    একটু চিন্তিত দেখায় লাবণিকে, ‘ওঃ, ইয়েস৷ আমার মাথাটা আজকাল এমন প্যাকড হয়ে আছে, সেই যদুদার প্রোডাকশন ছিল৷ নাইস টু সি ইয়ু এগেইন৷’

    ইন্দ্র হাসে৷ উঠে দাঁড়ানো উচিত কি না বুঝতে পারে না৷ মিস লাবণি পেশাগত যোগ্যতা আর বয়স, দুটোতেই ওর থেকে বড়ো৷ মহিলা ফিরেই যাচ্ছিলেন, হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘ইফ ইয়ু ডোন্ট মাইন্ড, আমার একটা কাজ করে দেবে?’

    ‘হ্যাঁ, বলুন-না৷’

    ‘আমার রুমে এটাচড একটা ব্যালকনি আছে৷ ওখান থেকে ভিউ আসছে খুব সুন্দর, যদি আমার কয়েকটা ছবি…’

    ‘নিশ্চয়ই৷ চলুন-না৷ আমি ক্যামেরাটা নিয়ে আসছি৷’

    টেবিল ছেড়ে উঠে পড়ে ইন্দ্র৷ দইটা শেষ হয়নি এখনও৷ খেতে ভালোই লাগছিল, কিন্তু এখন আর উপায় নেই৷ ইন্দ্র জানে একবার খেপে গেলে তাকে এই প্রোজেক্ট থেকে বাদ দেওয়ারও ক্ষমতা রাখেন মহিলা৷

    দ্রুত রুমে ঢুকে ক্যামেরাটা নিয়ে আসে ইন্দ্র৷ লেন্সটা পরিষ্কার করে গুঁজে নেয়৷ তবে সকাল হয়েছে৷ ঝাঁ ঝাঁ রোদ পড়ে আছে বাইরে৷ বারান্দায় ছবি তুললে ফ্ল্যাশ লাগবে না৷

    বেল বাজাতে দরজা খুলে দেন মিস লাবণি৷ একটু আগের পোশাকটাই পরে আছেন তিনি, কেবল বাঁধা চুলের ঝাঁক খুলে দিয়েছেন৷ ইন্দ্রর দিকে চেয়ে একগাল হাসলেন তিনি, ‘এসো ভাই৷ শ্যুট ইয়োরসেলফ৷’ ঘরে ঢুকে বারান্দার দিকে এগোচ্ছিল ইন্দ্র৷ মিস লাবণি তার পিছু নিতে নিতে বলেন, ‘যদি কিছু মনে না করো, একটা কথা জিজ্ঞেস করি?’

    ‘হ্যাঁ করুন-না৷’

    ‘আগেরবার যতদূর মনে পড়ছে তুমি পুরো শ্যুটটায় থাকোনি৷ আগেই চলে গিয়েছিলে কী একটা কারণে…’

    মিহি হাসে ইন্দ্র, ‘একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল৷’

    ‘কার?’

    বড়ো করে একটা নিঃশ্বাস নেয় ইন্দ্র, ‘আমার তখন এক বান্ধবী ছিল৷ কালীপুজোয় মদ-টদ খেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নাচতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিল ছাদ থেকে৷’

    ‘ওহ আই সি, ওই জন্যেই মনে পড়ছিল৷ মানে গার্লফ্রেন্ডের অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে বলে শ্যুট ফেলে যাওয়া৷ তা কেটে গেল কী করে?’

    এতক্ষণে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে দু-জনে৷

    লেন্সের ক্যাপ খুলতে খুলতে ইন্দ্র বলল, ‘অ্যাকচুয়ালি আমার সঙ্গে রিলেশনটা সেভাবে ছিল না কোনওদিন৷ ওই একটা আলগা প্রেম-প্রেম ব্যাপার৷ আসলে আমিই একটু ছন্নছাড়া টাইপ৷ বিপদে-আপদে পাশে থাকতাম৷ সুখের দিন এলে ভেগে যেতাম৷ ওরও একটা ভালোলাগা ছিল আমার উপর৷ ব্যস৷’

    ‘তোমার ভালোলাগা ছিল না?’

    ইন্দ্র কাঁধ ঝাঁকায়, ‘জানি না৷ শি অলরেডি হ্যাড আ বয়ফ্রেন্ড৷ আর আমার ওই ছুঁকছুঁকানি ভালো লাগে না৷’

    মিস লাবণি বারান্দার একদিকের রেলিং ধরে দাঁড়ান৷ দূরে একটা সাঁওতাল বস্তি দেখা যাচ্ছে৷ তার লাগোয়া একটা ঝিল৷ হোটেলের চৌহদ্দি পেরিয়ে খানিকটা জঙ্গল আর ঝোপঝাড় যেন স্নান করতে গিয়েছে সেই ঝিলে৷

    ‘ওই ওয়াটারবডিটা পিছনে রেখো, বুঝলে? রেডি?’

    ক্যামেরাটা সামনে ধরে লাইভ-ভিউটা দেখে নেয় ইন্দ্র৷ তারপর চোখের সামনে ধরে, ‘ফুল এক্সপোজার আছে৷ ফ্যান্টাস্টিক!’

    ‘তা সেই বয়ফ্রেন্ডটার এখন কী হাল?’

    ‘কার বয়ফ্রেন্ড?’

    ‘তোমার সেই গার্লফ্রেন্ডের৷’

    ‘ওহঃ,’ ফোকাসটা ঠিক করতে থাকে ইন্দ্র, ‘দে আর গেটিং ম্যারেড৷’

    ‘সে কী! কবে?’

    ‘কাল৷’

    ছোটো একটা শব্দ করে ছবি তোলে ক্যামেরাটা৷ এতক্ষণে ঠোঁটের কোণে মিহি একটা হাসি মেখে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিস লাবণি৷ আওয়াজটা হয়ে যেতেই তিনি সোজা হয়ে দাঁড়ালেন, ‘এই দাঁড়াও, দাঁড়াও৷ ছবি পরে তুলবে, আজ তুমি এখানে কী করছ?’

    ‘মানে?’ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে ইন্দ্র৷

    ‘মানে তোমার এত কাছের বান্ধবীর বিয়ে কাল, আর আজ তুমি এইসব আল-বাল মিউজিক ভিডিও শ্যুট করছ!’

    ‘আমাকে ইনভাইট করেছিল, যাব না বলে দিয়েছি৷ পরশু থেকে ফোন করে চলেছে৷ ওই জন্যেই ফোনটা সুইচড অফ৷’ রেলিং ছেড়ে ইন্দ্রর দিকে সরে আসেন মিস লাবণি, ‘ইউ লাভড হার, তাই না?’

    এইমাত্র তোলা ছবিটা দেখতে থাকে ইন্দ্র, ‘যদি বেসেও থাকি সেটা আর সতেরো ঘণ্টা ভ্যালিড৷ এই সময়টুকু কাটিয়ে দিতে পারলে তারপর আর কিচ্ছু যাবে-আসবে না৷’

    মিস লাবণি আবার কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন৷ তার আগেই বারান্দার বাইরে কিছুর দিকে চোখ গেছে তার৷ অনেকগুলো কুরমালি-সাঁওতাল মেয়ে এসে জড়ো হয়েছে সেখানে৷ এরা সবাই ব্যাকআপ ডান্সার৷ মিস লাবণির মিউজিক ভিডিও শ্যুটের জন্য গ্রাম থেকেই ভাড়া করা হয়েছে এদের৷ আবলুশ কাঠের মতো গায়ের সং সবার৷ গায়ে হলদে শাড়ি, চ্যাপ্টা নাক, খোঁপায় কী একটা ফুল গাঁথা আছে৷

    নাচের মহড়া চলছে, স্পিকারে গান বাজছে, ঝুমুর গান— ‘গাঁথিব ফুলেরই মালা, যতনে সাজাব কালা, আমি ঘুচাইব মনের জ্বালা, দুঃখ যাবে দূরে৷’

    ইন্দ্র চেয়ে দেখে মিস লাবণির ঠোঁট নড়ছে৷ স্পিকারে যে গানটা বাজছে সেটাও তাঁরই গাওয়া৷ একটু আগের প্রসঙ্গটা যেন ভুলেই গেছেন তিনি৷ ইন্দ্রর দিকে না তাকিয়েই বললেন, ‘এই এরা যে হাত ধরাধরি করে নাচছে, এটাকে কী বলে জানো?’

    ‘কী?’

    ‘দাঁড়শালিয়া, একরকম ঝুমুর গান৷ আরও অনেকরকম ঝুমুর হয়৷ বাউলছোঁয়া, কীর্তনছোঁয়া, খেমটি, আড়হাইয়া, সেগুলো আবার…’ থেমে গিয়ে মিষ্টি করে হাসেন তিনি,‘তুমি বোর হচ্ছো, তাই না?’

    ‘এ-বাবা বোর হব কেন? আমার ভালোই লাগে শুনতে৷’

    ‘ধুর, আমিও যেমন খ্যাপা৷ কাল তোমার বান্ধবীর বিয়ে আর আমি তোমাকে ঝুমুর শেখাচ্ছি৷ আচ্ছা হোয়াই ডন্ট ইউ টক উইথ হার?’

    ‘কী বলব বলুন?’

    একটু ভাবলেন মিস লাবণি, ‘আচ্ছা ধরো বললে, থাক থাক প্রাণবল্লভ বাঁধা প্রেম-ডোরে/ হৃদয়-মন্দিরে রাধিকে রাখিব আদরে৷’

    হেসে ফেলে ইন্দ্র, ‘ধুর, এসব বললে আজকালকার মামনিরা বাংলা অনার্স বলে গালাগাল দিয়ে চলে যায়৷’

    ‘আরে রাখো তোমার মামনি৷ স্বয়ং শ্রী রাধিকা এসব শুনে গলে যেতেন আর এরা তো কালকের ছুঁড়ি৷ তা চুমু-টুমু খেয়েছিলে?’

    গোল-গোল চোখে তাকায় ইন্দ্র, ‘বললাম যে বান্ধবী ছিল, চুমু খেতে যাব কেন?’ ব্যঙ্গের হাসি হাসেন লাবণি, ‘শুধু ডিওপি হয়ে রয়ে গেলে হবে? একবার শো-বিজে ঢুকে দেখো, মিউজিক ডিরেক্টর থেকে শুরু করে স্পট-বয় অবধি সবার সঙ্গে কেমন চকাচক চুমু খাওয়া যায়৷ তা মেয়েটা তোমাকে রিজেক্ট করেছিল নাকি?’

    ইন্দ্র বুঝতে পারে লাবণি পছন্দের টপিক ছেড়ে সহজে বেরোতে চাইছেন না৷ সে ক্যামেরাটা আবার চোখের সামনে ধরে নীচে নৃত্যরত সাঁওতাল মেয়েগুলোর মাঝে সাবজেক্ট খোঁজে, ‘বলার কী আছে, ও একটা স্টেবল রিলেশনে ছিল৷ খামোখা এসব বলে আবার ব্যাগড়া দিতে যাব কেন?’

    ‘খালি মদ খেয়ে পড়ে পা ভাঙলে ছুটে যেতে?’

    ‘একটু মাতাল টাইপের ছিল, কী করব, আমি আগেরবার আসতেই চাইছিলাম না, ওই জোর করে পাঠাল৷’

    ঠোঁট ওলটান মিস লাবণি, ‘আমার শালা শুনে হিংসা হচ্ছে, বুঝলে? একদিকে কমিটেড বয়ফ্রেন্ড অন্যদিকে প্লেটোনিক বেস্টফ্রেন্ড, আর আমাদেরই দিন নেই, রাত নেই প্রোডিউসারের বিছানা গরম করতে হয়৷’ চাপা অস্বস্তি হয় ইন্দ্রর৷ মিস লাবণির ট্র্যাক রেকর্ড ভালো নয়৷ রেলিং-এ হাত রেখে ঝুঁকে দাঁড়িয়েছেন৷ শরীরের অনেকটা অংশ দুপুরের ঝকঝকে রোদ উন্মুক্ত করে রেখেছে৷ মহিলার গানের গলাটা সত্যি মন কেমন করানোর মতো৷ বিশেষ করে লোকগান গেয়েই নাম তাঁর৷ তবে আজকাল গানের সিডি আর ক-টা লোকেই বা কেনে৷ গান গেয়ে নাম করতে হলে অনলাইন প্ল্যাটফর্মই ভরসা৷ মহিলা বছর দশেক হল সেটাই অবলম্বন করে আসছেন৷ তবে ফোক গেয়ে আজকাল লোক-টানা দায় হয়েছে৷ ফলে, সেই গানের ভিডিয়োগ্রাফিতে গ্রাম্য মেয়ে দেখানোর অছিলায় কিছু শহুরে মেকআপ সম্বলিত ও অর্ধনগ্ন মহিলা দেখিয়ে আমজনতার মনোরঞ্জন করা ছাড়া গতি নেই৷ এই সহজ সত্যিটা আগেভাগেই বুঝেছিলেন মিস লাবণি৷

    যৌবন থাকতে থাকতে নিজের গানের ভিডিয়োগ্রাফিতে নিজেই নেমে পড়েন৷ অল্প বয়সে দেখতে শুনতে খারাপ ছিল না৷ খানিকটা নাম হয়৷ বছরখানেক পরে কোনও এক সহগায়কের সঙ্গে কীসব স্ক্যান্ডেলে জড়িয়ে পড়েন৷ তার ফলেই আর একটু ভাইরাল হয় তাঁর ভিডিয়ো৷ এরপর থেকেই মহিলার খ্যাতি আকাশছোঁয়া৷

    ইচ্ছা করেই একটু পিছিয়ে এসে আবার ক্যামেরা তাগ করে ইন্দ্র৷ মিস লাবণি একটু পিছিয়ে গিয়ে কোমর বাঁকিয়ে দাঁড়ান৷

    ‘সতেরো ঘণ্টা বাকি আছে যখন একবার বলে দেখতে পারতে৷’ মুখ প্রায় বন্ধ করেই বলেন তিনি৷

    ‘আচ্ছা সে হবে খন৷ আপনি একটু ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে দাঁড়ান তো!’

    খচখচ করে গোটা তিনেক ছবি তোলে ইন্দ্র৷ তারপর এগিয়ে গিয়ে মিস লাবণিকে দেখায় সেগুলো৷ মহিলা ক্যামেরাটা হাতে নেন৷ তারপর নিজের ছবিগুলো দেখতে দেখতে হঠাৎ করেই ব্যাক-বাটন টিপে পিছিয়ে আসেন৷ মাসখানেক আগে তোলা কয়েকটা ছবি ভেসে ওঠে স্ক্রিনে, একটা মেয়ের ছবি৷ বই হাতে দিয়ে ছাদের পাঁচিল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে সে৷ মেয়েটাকে ভালো করে লক্ষ করেন মিস লাবণি, ‘নাম কী?’

    ‘দীপাবলি৷’

    ‘বাঃ, সুন্দর নাম৷ মিষ্টি দেখতে৷’

    পরপর অনেকগুলো ছবি দেখতে থাকেন মিস লাবণি৷ মেয়েটার একার ছবি ভর্তি হয়ে আছে মেমোরি-কার্ড জুড়ে৷ কখনও হাতের ফাঁকে মুখ ঢাকা দিয়ে হাসছে সে, কখনও লালপাড় সাদা শাড়ি জড়িয়ে টিপ পরছে কপালে, আবার কখনও উসকো-খুসকো চুলে একটা ময়লা টিশার্ট জড়িয়ে দাঁত মাজছে৷

    ‘সবগুলো তোমার তোলা?’

    ‘হ্যাঁ, ও আমাকে বাড়ি ডেকে নিয়ে যেত ছবি তুলতে৷’

    ‘সতেরো ঘণ্টা পরে ডিলিট করে দেবে এগুলো?’

    উত্তর দিতে কয়েক সেকেন্ড সময় নেয় ইন্দ্র, তারপর বলে, ‘না৷ ওগুলো ছাড়া আর কিছু নেই আমার কাছে৷’

    ক্যামেরাটা ফেরত দিতে দিতে বলেন তিনি, ‘জাস্ট আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে পারবে না বলে এমন একটা জিনিস হারাতে চলেছ যেটা সারাজীবন আর কোথাও পাবে না৷ বড্ড বোকা ছেলে তো তুমি৷’

    ইন্দ্র আর কিছু বলে না৷ ক্যামেরাটা হাতে নিয়ে লেন্সের ঢাকাটা লাগাতে থাকে৷

    মিস লাবণি ঘরের দিকে এগোতে এগোতে বলেন, ‘আচ্ছা বেশ, আমি তোমার ক্ষততে একটু মলম লাগাতে পারি৷ আজ সন্ধেয় একটু টাইম হবে তোমার?’

    ‘কাল তো শ্যুট, আজ সন্ধেয় কাজ নেই৷’

    ‘ব্যস, শ্যুটিং ইউনিটের কয়েকজনকে নিয়ে একটা জায়গায় যাচ্ছি৷ তুমিও চলো তাহলে৷’

    ‘কোথায়?’

    ইন্দ্রর থুতনি ছুঁয়ে চুমু খাওয়ার মতো ভঙ্গি করেন মিস লাবণি, ‘দ্যাট মাই ডিয়ার ইজ আ সারপ্রাইজ৷’

    (২)

    গাড়ি থেকে নামতে নামতেই আওয়াজটা শুনতে পেয়েছিল ইন্দ্র৷ এখন খানিকটা এগিয়ে যেতেই সুরটা কানে এল৷ মাদল বাজছে৷

    একটা ফাঁকা মাঠের মাঝখানে ঝুমুরের আসর বসেছে৷ কয়েকটা বুড়ো লোক ডুগডুগি ঢোল আর মাদল জাতীয় কিছু যন্ত্র নিয়ে আগুন করে বাজিয়ে চলেছে একমনে৷ তাদের থেকে কয়েক গজ দূরে কিছু সাঁওতাল মেয়ে কোমর বেঁধে দুলে দুলে নাচছে৷

    ‘পিদাঁড়ে পলাশের বন, পালাবো পালাবো মন’

    এই গোটা জায়গাটাকে ঘিরে জড়ো হয়েছে ট্যুরিস্টের দল৷ পুরুলিয়ার এই জায়গাটায় সারি-গানের চল আছে বেশ৷

    গাড়ি থেকে নেমে মাঠের মধ্যেই একটা মোটামুটি ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেয় ইন্দ্র৷ এখনও অন করেনি ফোনটা৷ সেটা পকেট থেকে বের করে একবার চোখ বুলিয়ে নেয় বন্ধ স্ক্রিনের উপরে৷ পাওয়ার-বাটনের উপর হাত রেখেও সরিয়ে নেয়৷ কাল রাতের আগে কিছুতেই অন করবে না ফোনটা৷ নিজের দুর্বলতাকে কিছুতেই সুযোগ করে নিতে দেবে না৷

    ‘এই নাও, এটা তোমার জন্য৷’ চেনা গলা পেয়ে মুখ তুলে ইন্দ্র দেখে মিস লাবণি এসে দাঁড়িয়েছেন ওর পেছনে, হাতে একটা মাটির গ্লাস জাতীয় কিছু৷ মহুয়া৷

    ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে গ্লাসটা হাতে নেয় ইন্দ্র, মিস লাবণি তার কাঁধে একটা হাত রেখে বলেন, ‘তুই ব্যাটা আজ দেবদাস হলে আমি চুনিবাবু৷ আর এই হল আমাদের পাইট, ভালো কথা তুমি নাচতে পারো?’

    ‘নাচতে!’ আঁতকে ওঠে ইন্দ্র, ‘একদম না৷’

    ‘আরে ও জিনিস পেটে পড়লে শুধু নাচতে কেন উড়তেও পারবে৷ মাথাটা একটু ঝিমঝিম করবে, ঘুম পাবে৷ এদিকে নাচতে ইচ্ছা করবে, এ ভারী চমৎকার জিনিস৷’ মহুয়ায় একটা চুমুক দেন মিস লাবণি, মন দিয়ে গানটা শুনতে থাকেন,

    ‘হেই, ন্যাংটা ইন্দুরে ঢোল কাটে

    হে কাটে রে, বতরে পিরিতের ফুল ফুটে’

    ‘ভালো কথা, এই যে বলছে, ‘বতরে পিরিতের ফুল’, ‘বতর’ মানে জানো?’

    গুছিয়ে বসেন মিস লাবণি, ‘আমাদের সব কাজের একটা উপযুক্ত সময় আছে, বুঝলে? সেই সময় না আসলে ফুল ফোটে না, আবার সেই সময়টা চলে গেলেও দেরি হয়ে যায়৷ বতর মানে হল সেই উপযুক্ত সময়, আর তুমি তোমার বতরটাকে জাস্ট হেলায় হারাচ্ছ৷’

    ‘তো কী করব?’

    ‘কী করব!’ ভেংচি কাটেন মিস লাবণি, ‘আরে বাল, একটা ঘোড়া ভাড়া করবে, সাদা ঘোড়া৷ তারপর তার পিঠে চেপে বিয়ের আসরে গিয়ে ওর সামনে গিয়ে বলবে দ্যাট ইউ লাভ হার, ওই একটা মানুষের সঙ্গে থেকে রেস্ট অফ দ্য লাইফ হাসিমুখে হেজিয়ে ফেলতে চাও৷’

    ‘বটে? আর ওর বয়ফ্রেন্ডের কী হবে? সে ভালোবাসে না আপনি কী করে জানলেন?’

    ‘শোনো ভাইটি৷’ ইন্দ্রর পিঠে চাপড় মারে মিস লাবণি, ‘এই মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি আমাকে একটা জিনিস শিখিয়েছে৷ শুধু ভালো গান গাইলেই হবে না, তার সঙ্গে মার্কেটিংটাও জানা চাই৷ তেমনই একটা মেয়েকে শুধু ভালোবাসলেই সে ভালোবাসা সংসার অবধি গড়ায় না, সেখানেও একটু মার্কেটিং দরকার৷ এক বছর আগে আমার কাছ থেকে মার্কেটিংটা শিখে নিলে আজ এরকম নেংটি ইঁদুরে তোমার ঢোল কাটত না৷’

    ইন্দ্র হেসে ফেলে, ‘আচ্ছা, আপনাকে উপর থেকে যতটা মেকআপ সর্বস্ব মনে হয় আপনি ততটা নন৷’

    বড়ো করে নিঃশ্বাস ফেলেন মিস লাবণি, ‘আমার খালি মার্কেটিংটাই রয়ে গিয়েছে৷ ভালোবাসাটা কবে যেন হারিয়ে গিয়েছে৷’

    মহুয়ার গ্লাসে চুমুক দেয় ইন্দ্র৷ ঝাঁঝালো জিনিস৷ তবে এই পরিবেশে খারাপ লাগে না৷ সামনে মেয়ের দল গানের ছন্দে নেচে চলেছে৷ মিস লাবণি বলেছিলেন ঝুমুর নানারকমের হয়৷ কখনও কৃষ্ণ রাধার প্রেম নিয়ে, কখনও দেহতত্ত্ব, কখনও রসিকতা৷ তবে এখন যে গানটা এরা গাইছে, সেটা স্থানীয় উপভাষা৷

    ওরা দু-জনে মাঠের ঘাসের উপরেই বসে পড়ে৷ ইন্দ্র হাতের গ্লাসটা তুলে লোকগুলোকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘আচ্ছা এই গানটার মানে কী বলুন তো?’

    ‘কী জানি, কুঁদমালি ভাষায় গাইছে৷ আমি ও ভাষা জানি না৷’ মিস লাবণি একটা বড়োসড়ো চুমুক দেন গ্লাসে৷ ‘তাহলে শুনছেন যে!’

    একহাতে ধরে নিজের চুলগুলো পিছনে ঠেলে দেন লাবণি, ‘কারণ ভালো লাগছে৷ এই তোমার সঙ্গে গল্প করতে ভালো লাগছে এখন, কেন করছি বলো তো, তুমি আমার বয়ফ্রেন্ড না, হাজবেন্ড না, এমনকি বন্ধুও না৷ তা-ও ভালো তো লাগছে, ঝুমুর ইজ অল অ্যাবাউট দ্যাট৷ ঠিক যেটুকু ভালো লাগছে, একেবারে মনের ভিতর থেকে ইচ্ছা হচ্ছে সেটা চোখ বন্ধ করে করে যাও৷’

    ‘বলছেন?’

    ‘আলবাত বলছি৷ যে সাঁওতালরা এইসব গান তৈরি করেছিল, তারা শালা কিছুর পরোয়া করত না৷ প্রেম, বিয়ে, সংসার, যেদিন ইচ্ছা হত হারামজাদারা সব ছেড়ে বেরিয়ে যেত৷ আর…’

    ‘আর কী?’

    ‘শালাদের ফেরার ইচ্ছা হলে কী করত বলতো!’

    ‘ফিরে আসত হয়তো৷ এই তো বললেন যা ইচ্ছা হয় করত৷’

    সজোরে মাথা নাড়েন মিস লাবণি, ‘না হে, ততদিনে বউ অন্য কারও সঙ্গে ঘর বেঁধেছে, ছেলেমেয়ে অন্য কাউকে বাবা বলছে৷ কোথাও থেকে ছেড়ে যাওয়া যত সোজা, ফিরে আসা কি ততটাই?’

    ঝিমেঝিমে হাওয়ার তেজ এখন বেড়েছে, মিস লাবণির চুল মাঝে-মাঝে উড়ে আসছে ইন্দ্রর মুখের উপরে, সে চুলগুলো সরাতে সরাতে বলে, ‘আচ্ছা, এই ধরুন একটা মানুষকে না পেয়ে তাকে দূর থেকে ভালোবেসে যাওয়া, আপনার মনে হয় না এতে এক রকমের সুখ আছে?’

    ‘আছে হয়তো৷ কিন্তু কী জানো ভাই, জীবন মানুষকে দু-বার সুযোগ দেয় না৷ একবার থেকে সংসার ধর্ম করে, একবার না থেকে বিরহে কবিতা লিখে লিখে জীবন কাটানোর অভিজ্ঞতা ট্যালি করার অপশন দেয় না৷ তাই, থেকে যাওয়াই ভালো৷ নইলে কী হবে জানো তো?’

    ঘাড় নাড়ে ইন্দ্র, ‘জানি৷ সারাজীবন মনে পড়বে ওর কথা৷ জীবনে বড়ো কোনও দুঃখ পেলে বারবার ওর নম্বরটা ডায়াল করতে ইচ্ছা করবে, ওর ঘুমন্ত মুখটা দেখতে পাব না, তরকারিতে নুন বেশি হওয়া নিয়ে ঝগড়া করতে পারব না, স্নানের আগে গামছা খুঁজে দেবে না, ঘরময় ওর নূপুরের ঝিনঝিন আওয়াজ শোনা যাবে না…’

    ইন্দ্রর আরও কাছে সরে আসেন মিস লাবণি, ‘তাহলেই ভেবে দ্যাখো, দিস ইজ ইয়োর বতর, ম্যান৷’

    হঠাৎ মুখটা মুছে নিয়ে মহিলার দিকে ফিরে বসে ইন্দ্র, ‘আচ্ছা আমাকে তো জ্ঞান দিয়ে চলেছেন, আপনি নিজে কী করছেন?’

    ‘আমি কী করলাম?’

    ‘আপনার ইচ্ছা করে না এই ফালতু মার্কেটিং ছেড়ে, দেহ প্রদর্শন ছেড়ে জাস্ট গান নিয়ে থাকতে, যেটাকে ভালোবেসেছিলেন?’

    অবাক চোখে ইন্দ্রর দিকে চেয়ে থাকেন মিস লাবণি, ‘করে তো, কিন্তু এসব ছেড়ে দিলে পেট চলবে আমার? আর এই যে ফেম, একটা আধদামড়া মহিলার দিকে কচি কচি ছেলেদের হাঁ করে তাকিয়ে থাকা, এটা কোথায় পাব? আমি তো কুরমালি সাঁওতাল নই৷ এই তুমি আমার আসল নাম জানো?’

    ‘না তো!’

    ‘লাবণ্য অধিকারী৷ আমার বাবা দিয়েছিল৷ ‘‘শেষের কবিতা’’ থেকে৷’ পাশে ঘাসের উপরে গ্লাসটা নামিয়ে রাখলেন মিস লাবণি, ‘শালা আমার ভালো নামটা ভুলে গিয়েছে লোকে, এদিকে কাপ সাইজ জিজ্ঞেস করো, ঠিক বলে দেবে৷’

    ইন্দ্রর মনে হয় ধীরে ধীরে নেশাটা চড়ছে মিস লাবণির, ‘তুমি একটা গান্ডু বুঝলে, উঁচু লেভেলের গান্ডু৷’

    ইন্দ্র আর উত্তর দেয় না৷ লাবণি নিজেই বলতে থাকেন, ‘নিজের হাতে নিজের লাইফটাকে ভোগে পাঠিয়ে দিচ্ছ৷’

    ইন্দ্রর বিরক্ত লাগে, মহিলা আশ্চর্যরকম গায়ে পড়া৷ তার নিজের মন ভালো নেই তার উপর ইনি ওই প্রসঙ্গ ছেড়ে নড়তেই চাইছেন না৷

    ‘আপনার কি মনে হয় আমি দীপাবলিকে সব বললেই ও বিয়ে ভেঙে দেবে? ড্যাং ড্যাং করে আমাকে বিয়ে করে ফেলবে? ও ওর বয়ফ্রেন্ডকে যথেষ্ট ভালোবাসে, এটা আমার থেকে ভালো কেউ জানে না৷’

    ‘আরে রাখো তো ভাই ওসব বালের বয়ফ্রেন্ড৷ দেখো গিয়ে ইউটিউবে মিস লাবণি হট ভিডিয়ো সাবস্ক্রাইব করে রেখেছে৷’

    ‘রাখলেই বা আমার কী? ওর একটা নিজস্ব ওপিনিয়ন আছে৷’ ইন্দ্রর পিঠে চাপড় মারেন মিস লাবণি, ‘আজব মাকড়া তো তুমি, আমি কি ওকে তুলে আনতে বলেছি? বলছি জাস্ট গিয়ে মালটাকে বলো যে তুমি ওকে ভালোবাসো, ওকে ছাড়া বাঁচবে না৷’

    হাতটা সরিয়ে দেয় ইন্দ্র, মিস লাবণির গলা নকল করে, ‘ভালোবাসো, ওকে ছাড়া বাঁচবে না৷ যত্তসব৷’

    ইন্দ্রর নেশাও বেড়ে উঠেছে৷ মাঠের মাঝে নেচে চলা মেয়েগুলো মাঝে মাঝে কালো আকাশ আর আগুনের চাদরে হারিয়ে যাচ্ছে৷ সে স্তব্ধ হয়ে ঠায় তাকিয়ে থাকে সেইদিকে৷

    ‘এই, চলো তো৷’

    ‘কোথায়?’

    ‘আমার ভীষণ গান গাইতে ইচ্ছা করছে, ওদের মতো৷’

    ‘আপনি যান৷’

    ‘উঁহুঁ, একা যাব না, তুমিও চলো৷ যেতেই হবে৷’

    সজোরে টান দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নেয় ইন্দ্র৷ মিস লাবণি নাছোড়বান্দা হয়ে ওঠেন আরও৷ দু-জনেই নেশার ঘোরে হারিয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে৷ দিমদিম মাদলের সুর ওদের চেতনাকে অন্য কোনও জগতে বয়ে নিয়ে গেছে৷

    ‘ওরে আলতা সিন্দুরে রাঙা, বিহা ছেড়ে করবো সাঙা…’

    ‘ছাড়ুন আমার হাত৷ আমি কোথাও যাব না, কিছু ভালো লাগছে না আমার৷’

    ‘কেন যাবে না শালা, মিস লাবণিকে চেনো তুমি? তোমার বয়সের ক-টা ছেলে রাতে স্বপ্ন দেখে আমাকে নিয়ে খেয়াল আছে?’

    ‘বালের স্বপ্ন৷’ রাগের মাথায় হাত-পা ছুঁড়তে থাকে ইন্দ্র, ‘শরীর দেখিয়ে গান গাইতে হয় তার আবার বড়ো বড়ো কথা৷ আরে আপনি ভালোবাসার কী বুঝবেন? নিজের আর্টটাকেই অনেস্টলি ভালোবাসতে পারলেন না৷’

    ‘শুয়োর, শালা তুমি ভালোবাসার ঝাঁটের ডগাটাও বোঝো না৷ বুঝলে নিজের ভালোবাসাকে অন্যের বিছানায় তুলে এখানে নিশ্চিন্তে বসে লম্পট মহিলার সঙ্গে মাল খেতে না৷’

    ‘শাট আপ ইউ ফিলথি৷’

    নেশায় চুর দু-জনেই৷ মিস লাবণি ইন্দ্রর চুল খামচে ধরেন৷ ইন্দ্র তাঁর পেট লক্ষ্য করে লাথি চালায় কয়েকটা৷

    ছোটো একটা ধস্তাধস্তি শুরু হয় দু-জনের মধ্যে৷ মাঠের আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা শ্যুটিং-টিমের যে ক-জন সুস্থ অবস্থায় ছিল, তারা দৌড়ে আসে ওদের দিকে দু-জনকে আলাদা করে ফেলে তারা৷

    (৩)

    মাঝরাতে নেশাটা কেটে গিয়ে ঘুম থেকে উঠে বসে ইন্দ্র৷ ঘুমটা ভেঙেছে একটা আওয়াজে৷ দরজার উপরে দুমদুম করে বাড়ি মারছে কেউ৷ ঘরের ভিতর নিকষ অন্ধকার৷ ঘড়িতে দেড়টা বাজছে৷

    উঠে গিয়ে আলো জ্বেলে দরজা খুলে দেয় ইন্দ্র৷ মিস লাবণি দাঁড়িয়ে আছেন বাইরে৷ ব্যাপারটা খানিকটা আগে থেকেই আঁচ করেছিল সে৷ এই মুহূর্তে মহিলার গায়ে রাতের পোশাক৷ তার নীচ দিয়ে শরীরের আদল স্পষ্ট চোখে পড়ছে৷ চোখ-মুখ দেখে বোঝা যায় জ্ঞান খানিকটা ফিরলেও নেশার ঘোর পুরোপুরি কাটেনি৷

    ইন্দ্রকে দরজা খুলতে দেখেই একটা আঙুল তুললেন তিনি, ‘উঁহুঁ না৷ আমি মাঝরাতে তোমার সঙ্গে সাডেন-সেক্স করতে আসিনি৷ আমার কিছু কথা বলার আছে৷ অ্যান্ড ইউ হ্যাভ টু লিসেন টু ইট৷’

    বাইরেটা একবার উঁকি মেরে দেখে নিল ইন্দ্র৷ তারপর মহিলাকে ভিতরে ঢুকিয়ে দরজাটা ভালো করে বন্ধ করে দিল, ‘প্লিজ আপনি একটু শান্ত হোন, আমি বুঝতে পারছি আজ একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে৷ কিন্তু আপনি এভাবে…’

    ‘শাট ইট ম্যান৷ সারাদিন তোমার অনেক বকবক শুনেছি আমি, এবার আমি বলব, তুমি শুনবে৷ বাট বিফোর দ্যাট, তোমার কাছে পেনকিলার আছে?

    ‘পেনকিলার?’

    ‘ইয়েস৷ শালা এত জোরে লাথি মেরেছ আর একটু হলে নাড়িভুঁড়ি ছিঁড়ে যেত৷’

    ইন্দ্র দ্রুত উঠে গিয়ে ব্যাগ থেকে দুটো এনালজেস্টিক বের করে মহিলার হাতে ধরিয়ে দেয়, নীচু করে কাতর গলায় বলে, ‘এক্সট্রিমলি সরি ম্যাম, আমি আসলে নেশার ঘোরে থাকলে…’

    ওষুধটা গলায় ফেলে এক ঢোক জল খান মিস লাবণি, বাঁকা সুরে বলেন, ‘রাজযোটক৷ মেড ফর ইচ আদার৷ এবার নাটক-ফাটক না মেরে এখানে বসো, আমার কিছু বলার আছে৷’

    বিছানায় তাঁর পাশে বসে পড়ে ইন্দ্র, ‘বেশ, বলুন৷’

    ‘আই হ্যাভ ডিসাইডেড সামথিং৷ আমি কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷’

    ‘বলুন কী সিদ্ধান্ত?’

    ‘পরে৷ আগে বলি কেন নিয়েছি৷’ বিছানার উপর আর একটু চড়াও হয়ে বসেন মিস লাবণি, পা দুটো ছড়িয়ে দেন দুই দিকে, হাতটা এলিয়ে দেন মাথার উপরে, ‘ইউ সি আমার বাবা ভালো গান গাইতেন৷ ছোটো থেকে আমি তার কাছেই মানুষ হয়েছি, গান শিখেছি৷’

    ‘বেশ৷ তারপর?’ চোখ রগড়ে হাই তুলে ঘুমটা কাটিয়ে নেয় ইন্দ্র৷

    ‘বাবা সাঁওতাল পরগনায় কাজ করতেন একসময়৷ ওদের থেকেই গান শিখেছিলেন৷ সেসব গান আমাকে শেখাতেন৷ ছোটো থেকে খাসা গানের গলা ছিল আমার, ভেবেছিলেন লাবণ্য বড় হয়ে বিখ্যাত গায়িকা হবে৷ বাল৷ আমার বাপটা একটা বাল৷’

    ‘আপনি বাপান্ত পরে করবেন, আগে সিদ্ধান্তটা বলুন৷’

    ‘ওকে,’ মাথার চুলগুলো সরিয়ে নিয়ে বলতে থাকেন মিস লাবণি,

    ‘আমারও গানের দিকের ঝোঁক ছিল, কলেজ পাস করে মিউজিকে এম.এ করলাম৷ অ্যালবাম বের হল, সিডি লঞ্চ হল৷ আশপাশে কিছু লোকজন জড়ো হল৷ ব্যস, ওর বেশি আর কিছু এগোয় না৷ ইন্ডিভিজুয়াল আর্টিস্টের গান কে আর শুনবে বলো তো? হাজারটা লোক গান গাইছে৷’

    ‘তারপর আপনি ভিডিয়োগ্রাফিতে নেমে এলেন?’

    হাসলেন মিস লাবণি, ‘তারপর আমি গায়িকা থেকে একটা দামি বেশ্যা হয়ে গেলাম ভাই৷ তুমি যতটা তোমার জামাকাপড় খুলে দেখাতে পারবে তত ভাইরাল হবে তোমার গান৷ আই মিন প্রথম প্রথম খারাপ লাগত, ভাবতাম, একটা ফ্যান ফলোয়িং তৈরি হয়ে গেলে এসব ছেড়ে জাস্ট গান গাইব৷ কিন্তু ওসব করতে গেলেই দেখেছি লোকজন আর আগ্রহ দেখায় না৷ ওরা ল্যাংটো মিডল এজড মহিলা দেখতে চায়, আর আমি শালা সেই পারভার্শানটাকে ফ্যান-ফলোইং ভেবে ভিতরের গায়িকাটাকে…’

    ইন্দ্র বোঝে মহিলার কথাগুলোর মধ্যে একটা হালকা নেশাড়ু ভাব থাকলেও কথাগুলো আজগুবি নয়৷ এই ইন্ডাস্ট্রিটা তার নিজের ইচ্ছামতো শিল্পীকে দুমড়ে-মুচড়ে বদলে নেয়৷ মুখ তুলে সে তাকায় মিস লাবণির দিকে, কী যেন একটা চিন্তায় বিভোর হয়ে গেছেন মহিলা, ইন্দ্র জিজ্ঞেস করে, ‘তা এখন কী চাইছেন আপনি?’

    ‘আমি ভেবেছি এসব আমি ছেড়ে দেব৷’

    ইন্দ্র খুশি হয়, ‘বাঃ উত্তম প্রস্তাব৷’

    মহিলা বাধা দিয়ে ওঠেন, ‘না না, আগে বলো ইউ ডু আন্ডারস্টান্ড যে এটা আমার কাছে একটা বিগ ডিল, আমার নাম, যশ নষ্ট হয়ে যাবে৷ এখন যা টাকাপয়সা কামাই তার টেন পার্সেন্ট কামাব না৷’

    ‘হুম, তো?’

    ইন্দ্রর মুখের কাছে এগিয়ে আসেন মিস লাবণি, ‘তো ইউ হ্যাভ টু ডু দ্য সেম থিং৷’

    ‘মানে?’

    ‘মানে কাল সকালে ছ-টার সময় একটা ট্রেন আছে কলকাতার৷ এনিহাউ ওটায় করে কলকাতা ফিরবে তুমি৷ তোমার সেই বান্ধবীর বাড়ি যাবে৷ তাকে গিয়ে বলবে ইউ লাভড হার, ইউ লাভড হার ফর আ লং লং টাইম৷ যা কিছু বলার সব বলে ফেলবে, দেন লেট হার ডিসাইড৷’

    ‘আপনি?’

    ‘আপনি না, আমি৷’ একটা হাত ইন্দ্রর দিকে বাড়িয়ে দেন মিস লাবণি,

    ‘ডিল?’

    ‘মানে কী এসবের?’ বিরক্ত হয়ে বলে ইন্দ্র৷

    হাঁটুর উপরে ভর দিয়ে ইন্দ্রর কাছে চলে আসেন মিস লাবণি, দুটো হাত রাখেন তার দুই গালে, ‘মানে? ওই যে আমাদের সবার মনের ভিতর একটা গানের সুর বাজে৷ কখনও ডিস্কো, কখনও রক, কখনও ভাটিয়ালি, আজ ভেবে নাও সব কিছু ভুলে একটা রাতের জন্যে আমাদের বুকের মধ্যে ঝুমুর বাজবে৷ একটা রাতের জন্য আমরা ঠিক তাই করব যা আমাদের মন চায়৷’

    ‘আচ্ছা বেশ৷ ডিল৷’

    ইন্দ্রর কথায় নিজেই অবাক হয়ে যান মিস লাবণি৷ ছেলেটা এত সহজে রাজি হয়ে যাবে তিনি ভাবতে পারেননি৷

    ‘কাল সকালে ডুমুরতলার কাছে একটা ঝুমুরের আসর আছে জানো, পরশু আমাকে ইনভাইট করে গিয়েছিল, পয়সাকড়ি কিছু দেবে না৷ যাব না ভেবেছিলাম৷ শ্যুট ক্যানসেল করে কাল ওখানেই যাব ভেবেছি৷’

    ‘বুঝলাম৷’ আশ্চর্যরকম শান্ত দেখাচ্ছে ইন্দ্রকে৷

    ‘আর তুমি যা বলেছ মনে থাকবে তো?’

    ‘থাকবে৷’

    বিছানা থেকে উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে যান মিস লাবণি৷ যাওয়ার আগে, ইন্দ্রকে সজোরে জড়িয়ে ধরেন একবার৷

    (৪)

    ছোটো বাঁশের মাচা থেকে যখন নেমে এল লাবণ্য, তখন তার গলার কাছটা জ্বালা করছে৷ এখানে মাইকের ব্যবস্থা নেই, খালি গলাতেই চিৎকার করে গান গাইতে হয়, বহুদিনের অনভ্যাস৷ তাছাড়া আজ অনেকদিন পর পুরনো সালোয়ারটা বের করে পরেছে৷ আগের থেকে মোটা হয়েছে খানিক, সেটা গায়ে আঁটোসাঁটো হয়৷ অস্বস্তি হয়৷

    জনা পঞ্চাশেক গ্রাম্য লোক জড়ো হয়েছিল গান শুনতে৷ লাবণ্য নেমে আসতে হালকা হাততালির শব্দ পাওয়া গেল কয়েক সেকেন্ড৷ তারপর হারিয়ে গেল সেটা৷ লাবণ্যর মুখে তাতেই হাসি ফুটল৷

    ওর বদলে অন্য একটা স্থানীয় মেয়ে উঠে গান গাইতে শুরু করেছে এবার৷ ঝুমুর গান,

    ‘লদীধারে চাষে বঁধু মিছাই কর আশ

    ঝিরিহিরি বাঁকা লদি বইছে বারমাস’

    সেটা শুনতে শুনতেই দর্শক আসনের মধ্যে একটা ফাঁকা চেয়ার খুঁজে নিয়ে বসে পড়ে লাবণ্য৷ মনটা অনেক দিন পর এতটা খুশি হয়েছে তার, সকালে ইন্দ্রর ঘরে গিয়ে দেখে এসেছে ছেলেটা ঘর ছেড়ে দিয়েছে৷ কলকাতায় ফিরে কী হল জানাবে কি না কে জানে!

    হাতের ব্যাগ খুলে এক ঢোক জল খায় লাবণ্য৷ কী এক আনন্দে মনটা শান্ত হয়ে আসে ওর৷ ওই গোটাদশেক হাততালির শব্দই অন্ধকারের মধ্যে একটুকরো পুরনো মোমবাতি জ্বালিয়ে দিয়ে গিয়েছে ওর ভিতরে৷

    জল খেয়ে আড়মোড়া ভেঙে আশপাশে তাকাতেই চোখ থমকে যায়৷ ঝট করে ঘড়ির দিকে চায় ও৷ সকাল ন-টা বেজেছে৷ কলকাতায় ফেরার আর কোনও ট্রেন নেই৷

    ইন্দ্র বসে আছে একটু দূরে৷ এক মনে মেয়েটার গান শুনছে৷

    মাথাটা গরম হয়ে যায় লাবণ্যর৷ চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ে, ইন্দ্রর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে সে৷ ইন্দ্র বিরক্ত হয়, ‘এ কী, আপনি গার্ড করছেন কেন?’

    ‘কী কথা ছিল তোমার?’ ঝাঁজের সঙ্গে বলে লাবণ্য৷

    ‘আশ্চর্য! যা কথা ছিল তাই তো করছি৷’ ইন্দ্র দ্রুত উত্তর দেয়৷

    ‘কাল রাতের সব কথা ভুলে গিয়েছ? তুমি বলেছিলে, যা তোমার মন চাইছে সেটাই করবে, নিজেকে আটকে রাখবে না৷ আর আজ ট্রেন মিস করে এখানে বসে….’

    ইন্দ্রর গম্ভীর মুখে একটা হাসি ফুটে ওঠে, ‘ট্রেন মিস করিনি৷ ইন ফ্যাক্ট আমি ট্রেন ধরতেই যাইনি৷’

    ‘বেইমান কোথাকার,’

    ইন্দ্র আবার হাত নাড়ে, ‘ধ্যার বাবা, একটু সরুন তো৷ সামনে গার্ড হয়ে যাচ্ছে৷’

    ‘তোমার লজ্জা করছে না? আমি এত বড়ো স্যাক্রিফাইসটা করতে পারলাম আর তুমি…’

    আরও বিরক্ত হয়ে লাবণ্যর মুখের দিকে চায় ইন্দ্র, ‘আচ্ছা, আপনার কী মনে হয়? আমার মন সত্যি সত্যি কী চাইছে?’

    ‘চাইছে, কলকাতায় গিয়ে দীপাবলিকে…’

    ‘না, একেবারেই না৷’ লাবণ্যকে মাঝপথেই থামিয়ে দেয় ইন্দ্র, নির্লিপ্ত গলায় বলে, ‘ভালো করে শুনুন৷ আমার মন চাইছে আজ রাতে মেয়েটার বিয়ে, সকালে গিয়ে এইসব বলে ওর মানসিক কষ্ট না বাড়াতে৷ ওর ভবিষ্যতের সংসারটা যাতে সুখের হয় সেই সুযোগটা ওকে দিতে৷ আমি ওকে ভালোবাসি, তাই সত্যি সত্যি মনের একেবারে ভিতর থেকে চাই ও ভালো থাক, শান্তিতে থাক, যার সঙ্গে খুশি৷ বিশ্বাস করুন, একটুও মিথ্যে বলছি না৷ আমার মন যা চাইছে তা করেই এসেছি এখানে৷’

    ‘চিংড়ি মাছের ভিতর করা, তায় ঢালেছি ঘি

    নিজের হাতে ভাব ছেড়েছি, ভাবলে হবে কি?’

    মেয়েটা গেয়ে চলেছে এখনও৷ ইন্দ্রর পাশে বসে পড়ে লাবণ্য৷ একটা নরম হাত রাখে ওর পিঠে৷ মিহি হাসি ফুটে ওঠে তার মুখে৷

    ‘দিব্যি গাইলেন গানটা, অনেকদিন পর ঝুমুর গাইলেন, না?’ ইন্দ্র জিজ্ঞেস করে৷ লাবণ্য মাথা নাড়ে কেবল৷

    ডুমুরতলার গানের আসর আজ সকাল গড়িয়ে গভীর রাত অবধি চলবে৷ আর সারাটা দিন ঝুমুর বাজবে৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সায়ক আমান

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026
    সায়ক আমান

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Our Picks

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }