Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প1001 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    এখানে কেউ দেবতা নয়

    সকালে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় এন্তার খিস্তির আওয়াজ কানে এল বিশাখার, এই সময়ে নবজ্যাঠা সকালের কাগজ নিয়ে বসেন, এবং খিস্তি করেন৷ মানে রোজ যেমন খবর থাকে আর কী, কখনও সরকারপক্ষ, কখনও বিরোধী পক্ষ, কখনও ডাক্তারদের, আবার কখনও সকালের ঝি না এলে মায়ের চিলচিৎকারে গলা মেলান, ‘ছাড়িয়ে দাও না মাগিকে, পয়সাকড়ি যা বাকি আছে, মুখে ফেলে দূর করে দাও… কাজের ঝি, তার আবার ট্যাঙস-ট্যাঙস কথা…’

    মোট কথা, রোজই এই খেউড় শুনতে শুনতে বাড়ি থেকে বের হয় বিশাখা, সেই সময়ে উকিলপাড়ার কতকগুলো হারামি ছেলে বাড়ির সামনে দিয়ে পড়তে যায়, কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ভেসে-আসা গালাগালি উপভোগ করে ওরা৷ গালির মাত্রা কমে এলে আবার সামনের পথে পা বাড়ায়৷ আজও ছেলেগুলোকে দেখতে পেল বিশাখা৷ অন্যদিন দেখেও দ্যাখে না, আজ মাথাটা গরম ছিল, গলা তুলে বলল, ‘কাজ নেই শালা তোদের, বুড়ো ঢোকনাটার গালাগালিতে এত রসের কী আছে কে জানে?’

    দলের মধ্যে থেকে একটা ফাজিল ছেলে ঘাড় চুলকে বলে, ‘কাল আমাদের পাড়ার কাউন্সিলরকে হারামি বলেছে, আজ ফোন নিয়ে এসেছি, রেকর্ড করব বলে, লাগিয়ে দিলে শালা হেব্বি কিচাইন হবে… হেঁ হেঁ…’

    বিশাখা আর কান দেয় না এসবে৷ আজ মাথাটা ঠান্ডা রাখা দরকার৷ চাকরির একটা ইন্টারভিউ আছে৷ তা ছাড়া সেটা হয়ে গেল আরও দু-এক জায়গায় যেতে হবে৷ এখানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সময় আর মুড দুটোরই বারোটা বাজবে৷ কলতলা ছেড়ে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে এল সে৷ বাইরে চাঁদিফাটানো রোদ, সেই তাপে সমস্ত রাস্তাটাও গরম তাওয়ার মতো তেতে রয়েছে৷ আজ বুট পরেছে বিশাখা, পায়ের তলাতে ক্রমাগত আগুনের হলকার মতো তাপ লাগছে৷ রাস্তা ধরে খানিকটা এগোনোর পর নবজ্যাঠার চিৎকারটা কমে এল৷ সেই জায়গাটা দখল করল গাড়িঘোড়া আর লোকজনের হইহল্লা৷ দুপুরের ব্যস্ত কলকাতা, নোংরা ঠ্যালাগাড়িতে ছেঁড়া-গামছা ঢাকা কলকবজা, অটো, রিকশা আর ট্যাক্সির অনবরত কানফাটানো হর্ন৷ এই শহরে প্রতিদিন লাথি-খাওয়া ফ্রাস্ট্রেটেড আম-আদমি হর্ন বাজিয়ে নিজেদের জমানো ফ্রাস্ট্রেশন বের করে, কেউ থুতু ফ্যালে, কেউ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে পেচ্ছাব করে, শিক্ষিত ছোটোলোকদের এক আজব চিড়িয়াখানা৷

    বিশাখা মোড়ের মাথায় দোকানে সিগারেট কেনে৷ গোল্ডফ্লেক, তারপর দোকান থেকে দেশলাই নিয়ে সেটা ধরিয়ে একটা বড়োসড়ো টান দেয়৷ পান কিনতে আসা একটা মাড়োয়ারি আড়চোখে ওর দিকে তাকিয়ে ফিচকে ফিচকে হাসতে থাকে৷ খানিকটা বিশাখাকে শুনিয়েই দোকানদারকে বলে, ‘ক্যা জমানা আয়া রে বাবু, লেড়কি ভি পিতি হ্যায়…’

    বিশাখা আগেও লক্ষ করেছে পান-বিড়ির দোকানদারদের কোনও পারসোনাল ওপিনিয়ন নেই৷ দোকানের কাস্টমার যা বলছে, সেটাকেই তারা তাৎক্ষণিক ওপিনিয়ন করে নেয়, তারপর মাথা দোলায়৷ এটাও ওদের ব্যবসার অঙ্গ, ওরা সহমত ব্যাচে৷ এই মুহূর্তে বিশাখা দূরে দাঁড়িয়ে আছে এবং সিগারেটের থেকে পানের দাম বেশি বলে মাথা নাড়ায় দোকানদার৷ বিশাখা ব্যাপারটা গায়ে না মেখে আরও কিছু দূর এগিয়ে বাস স্ট্যান্ডের দিকে সরে আসে৷

    অফিস টাইম, গিজগিজ করছে লোক৷ সেই সঙ্গে কয়েকটা ভিখারি৷ ভিখারিদের গো-অ্যাজ-ইউ-লাইক৷ কেউ কানা-খোঁড়া সেজেছে, কেউ সামনে ছেলের ক্যানসারের কাগজপত্র রেখেছে, আবার কেউ গলায় রুদ্রাক্ষের মালা কি তাবিজ বেঁধে ধার্মিক সেজেছে৷ এক শিড়িঙ্গে মহিলা বাঁ হাতে মা শীতলার ছবি তুলে ধরে ডান হাতটা বিশাখার দিকে বাড়িয়ে দেয়, ‘শ্যাতলা মায়ের পুজো, কিছু সাহায্য করো মা৷’

    ‘মাপ করো’ কপালে হাত ঠেকিয়ে এগিয়ে যায় বিশাখা, সঙ্গে সঙ্গে পায়ে ল্যাং খায়, একটা নোংরাটে বুড়ো লোক বিশাখার দু-পায়ের মাঝখান দিয়ে হাত গলিয়ে ল্যাং মেরেছে, মিটিমিটি চেয়ে আছে ওর মুখের দিকে, ‘আল্লা কে নাম পে…’

    ‘ধুর বালটা…’

    বিরক্ত হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসে সে৷ বাস এলে এখানেই এসে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা বেশি৷ তবে আগে থেকে গ্যারান্টি দিয়ে কিছু বলা যায় না৷ একটা সময় ছিল যখন রাস্তার যে জায়গাটায় বেশি লোক জটলা করে থাকত, সেইখানে দরজাটা রেখেই বাস দাঁড় করাত ড্রাইভার৷ এখন সে-ও ফ্রাস্ট্রেশন বের করে, জটলা থেকে খানিকটা এগিয়ে দাঁড় করায়, আর অমনি ভ্যাদভেদে মোটা বাঙালি পড়ি কি মরি করে দৌড়োতে থাকে৷ বাস ড্রাইভার দাঁত ক্যালায়৷ বিশাখা জটলা থেকে একটু এগিয়েই দাঁড়াল৷ এই সমাজে খাপ খাওয়ানোর একটা বড়ো উপায় হল নিজেকে অন্যের ফ্রাস্ট্রেশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া৷ বাপ-মা, প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, বয়ফ্রেন্ড৷ ফ্রয়েড বলেছিলেন সমাজকে চালায় সেক্স, মার্কস বলেছিলেন পয়সা, বিশাখা বুঝে নিয়েছে, সমাজের চালিকা-শক্তি হল ফ্রাস্ট্রেশন৷ যেটা জন্ম নেয় গতকালের ফ্রাস্ট্রেশন থেকে৷

    দূর থেকে একটা বাস আসতে দেখেই জনতা সতর্ক হয়ে ওঠে৷ কেউ কেউ পিঠের ব্যাগ খুলে সদ্যোজাত শিশুর মতো বুকে ঝুলিয়ে নেয়, মানিব্যাগ আর চশমা খুলে ব্যাগের ভিতরে চালান করে, বিশাখাও৷ ওর ব্যাগে মহার্ঘ কিছু নেই৷ তবে অবাঞ্ছিত হাতের থেকে বুক আড়াল করা দরকার৷ বাস এসে দাঁড়াতে আবার শুরু হল র‌্যাটরেস৷ বাসে ওঠার নিয়ম বেশ সিম্পল৷ মাঝামাঝি একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে পিঠ পেতে দাও, হাত দুটো সামনে বাড়িয়ে দাও, কী ধরছ, সেটা দেখার দরকার নেই৷ এরপর পিঠের উপরে চাপ, গুঁতো, কিল, ঠেলা, কনুইয়ের তোড়ে বাসে না উঠে থাকে কারও বাবার সাধ্য নেই৷ সোজা কথা হল, এখানে বাসে ওঠার প্রধান অস্ত্র হল পিছনের লোকের বাসে ওঠার ইচ্ছে৷ সেইভাবেই উঠে পড়ল বিশাখা৷

    বাসের ভিতরটা তেমন একটা ভিড় নেই৷ লেডিজ সিটে দুটো জায়গা ফাঁকা পেয়ে দু-জন মাঝবয়সি লোক সেগুলো আগলে বসে ছিল৷ বিশাখা সামনে গিয়ে দাঁড়াতে তারা দু-জনের চোখাচোখি করল একবার৷ কার সিট ছেড়ে দেওয়া উচিত সেই নিয়ে খানিক নীরব মুহূর্ত কাটল, তারপর যার বয়স অপেক্ষাকৃত কম, সেই উঠে দাঁড়াতে বিশাখা সেখানে গিয়ে বসে পড়ল৷ বাস ভরতি হয়ে যেতে কনডাকটর চিৎকার শুরু হল, ‘মানিকতলা, ডালহৌসি, খালি গাড়ি খালি গাড়ি…’

    রুমাল দিয়ে মুখ মুছল বিশাখা৷ এতক্ষণে খানিকটা শান্তিতে বসে থাকা যাবে৷ আশপাশে নানারকম ব্যাপার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে৷ রাজনীতি, খেলাধুলা, মানুষ সকালবেলা কষ্ট করে খবরের কাগজ পড়ে সমালোচনা করার জন্য৷ আনন্দবাজার পাঁচ টাকা৷ করবে না-ই বা কেন? এর মাঝে কেউ কেউ কানে ইয়ারফোন গুঁজে কী যেন শুনছে৷ পাশ থেকে কয়েকটা হ্যালেহেলে বুড়ো নাক সিটকাচ্ছে, ‘এখন সব হয়েছে এই কানে তার৷ এত গান শুনতে ইচ্ছা হয় তো বাড়িতে শোন৷’ এইখানে আলোচনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না৷ আবার সমালোচনা, সরকার, রাস্তাঘাট, হিন্দু-মুসলমান লেগে যা নারদ নারদ৷ দু-দিন আগে বৃষ্টি হয়েছে, রাস্তার ধারে ধারে খানিকটা জল জমেছে, সেই নিয়ে কেউ কেউ সমালোচনা শুরু করেছে, আচমকা একটা মজার ব্যাপার চোখে পড়ল বিশাখার৷ জমা জলের পাশ দিয়ে কয়েকটা ঠেলাওয়ালা কী যেন টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, তাদের খালি পা, রোদে পুড়তে পুড়তে গা পিচের মতো কালো হয়ে গিয়েছে, মাথার বাঁধা গামছা থেকে টপটপ করে ঘাম ঝরে পড়ছে৷ ব্যাপারটা দেখে বাসের কনডাকটরের দাঁতের ফাঁকে একটা সরু হাসি খেলে গেল, সে চিৎকার থামিয়ে মুখ তুলে ড্রাইভারকে বলল, ‘দিবি নাকি রে শালাদের?’

    ড্রাইভার পিছনে মুখ ঘুরিয়ে দেঁতো হাসি হেসে রাস্তার একপাশে নিয়ে এল বাসটা, তারপর সুযোগ বুঝে ঠেলাওলাদের কিছু বুঝে ওঠার আগেই জলের উপর দিয়ে সবেগে চালিয়ে দিল গাড়িটা৷ নোংরা জল প্রায় এক মানুষ সমান লাফিয়ে উঠে ভিজিয়ে দিল ঘর্মাক্ত লোকগুলোকে৷ তাদের ছাদহীন ঠেলাগাড়িগুলোকেও নোংরা করে দিল বর্ষার জল৷ লোকগুলো উঁচু গলায় কী একটা খিস্তি দিয়ে উঠল৷ কনডাকটর দরজায় ঝুলতে ঝুলতে পিছন ফিরে গলা তুলে বলল, ‘কতদিন চান করিস না শালারা, একটু ধুইয়ে দিয়ে গেলাম৷’

    মজা লাগল বিশাখার, সে অল্প হেসে মুখ ঘুরিয়ে নিল, আর সঙ্গে সঙ্গে একটা চেনা মুখ চোখে পড়তেই মনটা খিঁচিয়ে গেল বাণীমাসি ও তার হাজব্যান্ড নিলুদা৷ ছোটোবেলায় একবার নিলুদার কাছে ইংরেজি পড়তে গিয়েছিল বিশাখা৷ তখন নিলুদা বেকার, টিউশনি পড়িয়ে কোনওরকমে পড়াশোনা চালাত৷ আর সুযোগ পেলে বাচ্চা মেয়েদের সঙ্গে ইন্টুমিন্টু করত৷ বাণীমাসির সঙ্গে প্রেমটা ছিল বহুদিনের৷ বিয়ের আগে আগে জামাকাপড়ের একটা দোকান দেয় নিলুদা৷ সেটা বেশ লাভের মুখ দেখায় টিউশনিগুলো ছেড়ে দেয়৷ শোনা যায় বেশ কিছু কর্মচারীর টাকা মেরে দিয়েছে নিলুদা৷ রাস্তায় একদিন ক্যালানিও খেতে যাচ্ছিল কিন্তু পার্টি লেভেলে জানাশোনা থাকায় পার পেয়ে যায়৷ এই মুহূর্তে বিশাখার ঠিক পিছনের সিটে বসেছে দু-জনে, বাণীমাসির হাতটা বিশাখার চুলের উপরে রাখা৷ কেউ চুলে হাত দিলে মাথা গরম হয়ে যায় বিশাখার, সে মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করল৷

    ‘অপিস যাচ্চিস নাকি?’ ভুরু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল বাণীমাসি৷ বিশাখার মাথাটা একপরত বেশি গরম হল৷ এই জানোয়ারগুলো ভালো করে জানে, বিশাখা চাকরি করে না৷ চাকরির চেষ্টায় ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ায়৷ এবং জানে বলেই বারবার জিজ্ঞেস করে৷

    ‘না না৷ একটু দরকার ছিল আসলে৷’ কথাটা বলে মুখ ঘুরিয়ে নেয় বিশাখা৷ প্রসঙ্গটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে৷

    ‘তা কী করছিস এখন?’ জুতোর নীচে আটকে-যাওয়া চিউয়িংগামের মতো প্রশ্ন থেকে নড়তে চায় না বাণীমাসি৷

    ‘সেরকম কিছুই তো করছি না৷ এই দেখি কী করা যায়৷’

    বিশাখা জানে, এ উত্তরটা মধ্যবিত্ত পাশের বাড়ির কাকু-কাকিমাকে স্বর্গীয় আনন্দ দেয়৷ সেই আনন্দে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে বাণীমাসি৷ নিলুদা নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, ‘তুই তো আবার সেই কবিতা-টোবিতা লিখতিস না? পড়েছিলাম এককালে৷ বেশ ভালো লিখতিস৷’

    ‘গানও তো গাইতিস, রেওয়াজ করতে শুনেছি কত৷’

    বাইরে গনগনে রোদ আরও তীব্র হয়ে ওঠে৷ বিশাখার মাথার ভিতরে চাপা যন্ত্রণা শুরু হয়৷ ছোটোবেলার কথা মনে পড়ে যায়৷ নিলুদার কাছে কোচিং সেরে ফিরে গান নিয়ে বসত সে৷ তখন মাথার দু-পাশে দুলন্ত ঝুঁটি বাঁধা থাকত৷ বিকেলের শেষে একটু একটু করে ঠান্ডা হয়ে আসত শরীর৷ পাশের বাড়ি থেকে ভেসে আসত শাঁখের আওয়াজ, সন্ধের কাঁসর, বিশাখা হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গাইত৷ কারও কাছে শেখেনি সে৷ না নাচ, না গান, না ছবি আঁকা৷ সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন, সত্যিকারের শেখা শুধু সেইটুকুনি, যেটুকু আমরা নিজেরা শিখি৷ বিশাখার মনে গুনগুন করে একটা গান ভেসে এল৷ এই উৎকট গরমে, ভিড়ে, অফিসযাত্রীদের ঘামের গন্ধে, পিছনে নিলুদা আর বাণীমাসির কটাক্ষেও গান ভেসে এল বিশাখার মনে, ‘আ চলকে তুঝে ম্যায় লেকে চালু…’

    ব্যাগের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে ইয়ারফোনটা খুঁজে পেল না ও৷ আজ তাড়াহুড়োতে ঢোকাতে ভুলে গিয়েছে৷ হতাশ হয়ে চেন আটকে দিল৷ পিছন থেকে আবার প্রশ্ন ভেসে এল৷

    ‘তা টিকিট কাটিসনি তো?’

    বিশাখা মাথা নাড়ায়৷

    ‘বেশ, আমরা কেটে নিচ্ছি৷ কোথায় নামবি?’

    ‘আমহার্স্ট স্ট্রিট৷’

    আমহার্স্ট স্ট্রিট আসতে বাস থেকে নেমে পড়ে বিশাখা৷ এবারে সবার আগে দরকার মৈনাক এজেন্সির অফিসটা খুঁজে বের করা৷ ফোনে লোকটা বলেছিল, খুঁজে পেতে বেশি সমস্যা হবে না৷ মোড়ে নেমে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে৷ চারদিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করার মতো কাউকে দেখতে পেল না বিশাখা৷ আবার সেই একই হর্নের পোঁ পোঁ, চড়া রোদের তাপ আর অফিসযাত্রীদের দৌড়োদৌড়ি৷ ভিতরের একটা গলিতে ঢুকে হাঁটতে লাগল ও৷ গলির ভিতরে লোকজন অপেক্ষাকৃত কম৷ একপাশে লাইন দিয়ে খাবারদাবার বিক্রি হচ্ছে, কোথাও কচুরি, কোথাও শিঙাড়া, আবার কোথাও লেবুর জল৷

    একদিন নবজ্যাঠা লেবুর জলওয়ালাদের খুব খিস্তি করেছিলেন৷ সেদিন নাকি খবরে দিয়েছিল, লেবুর জলে যে বরফ দেওয়া হয়, সেটা নাকি মর্গ থেকে খুলে আনা৷ তারপর থেকে বাইরে এইসব খায় না বিশাখা৷ এমনিতেই ওর রোগাটে শুকিয়ে যাওয়া চেহারা৷ তার উপরে আরও পেটের রোগ বাঁধলে আর কিছুই থাকবে না৷ খানিক এগোতে পকেটে মোবাইলটা বেজে উঠল ওর৷ দাঁড়িয়ে সেটা পকেট থেকে বের করে বিশাখা দেখল, বাবা ফোন করেছে৷ ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরল ও, ওপাশ থেকে মায়ের গলা শোনা গেল, ‘পৌঁছে গিয়েছিস?’

    ‘না, সামনে৷’

    ‘কাউকে জিজ্ঞেস করে নে, না পেলে৷’

    ‘হ্যাঁ নেব৷’

    ‘আর কিছু খেয়ে নিস৷’

    ‘নেব৷’

    ‘হয়ে গেলে জানাস৷’

    ‘হ্যাঁ জানাব৷’

    ফোনটা রাখতে গিয়ে টাইমটা দ্যাখে নীল বিশাখা৷ এগারোটা বাজতে আর মিনিট কুড়ি বাকি৷ তার মধ্যে গিয়ে সই করতে হবে৷ না হলে ইন্টারভিউ থেকে বাদ পড়বে৷ একটা রিটন পরীক্ষা দিয়ে ইন্টারভিউতে কোয়ালিফাই করেছে৷ টাইমে পৌঁছোতে না পারলে পুরোটা বরবাদ হবে৷ চোখ থেকে চশমা খুলে নিয়ে জামায় মুছে নেয় বিশাখা৷ রুমালে মুখ মোছে৷ তারপর দ্রুত পা চালায়৷

    দু-একটা গলি হেঁটে আসতে বোর্ডটা চোখে পড়ে, মৈনাক প্যাকারস অ্যান্ড মুভারস৷ নীচে একটা ঝুলন্ত কাগজে লেখা, ‘ইন্টারভিউ অন থার্ড ফ্লোর’৷ বড়োসড়ো একটা নিঃশ্বাস নেয় বিশাখা৷ এই প্রথম খানিকটা নার্ভাস লাগে ওর৷ বাণীমাসি আর নিলুদার মুখটা মনে পড়ে যায়৷ আরও অনেকগুলো মুখ৷ চারপাশে কেউ নেই অথচ সবাই যেন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওই থার্ড ফ্লোরের দিকে৷ মনে মনে ভাবে, বাস স্ট্যান্ডে ভিখারিগুলোকে কিছু দিয়ে আসলেই হত৷ কে জানে, হয়তো ওদের আশীর্বাদ কাজে লেগে যায়৷ বেশি পয়সা নিয়ে বেরোয়নি আজ৷ সামনে পুজো, বেশি টাকা নিয়ে বেরোলেই খরচ হয়ে যাবে৷ গাড়ি ভাড়া ছাড়া আর কুড়ি টাকা আছে এক্সট্রা খরচ করার মতো৷

    সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে আসে বিশাখা৷ এবং আসতেই দ্বিতীয়বার ভয়ে ওর বুক দুরুদুরু করে ওঠে৷ চারপাশে ওর বয়সি ছেলেমেয়ের ছড়াছড়ি৷ কেউ সোফার উপরে, কেউ টুলে আবার কেউ দরজার ঠিক বাইরেটায় ওঁত পেতে রয়েছে৷ কেউ স্যুট-বুট পরে অফিসবাবুটি সেজে এসেছে, সঙ্গে টাই৷ ওদের গ্ল্যামারই আলাদা৷ মেরুদণ্ড একচিলতে বেঁকে নেই৷ এমন চেঁচেপুঁছে দাড়ি কাটা যে কোনওকালে দাড়ি গজায়নি বলে সন্দেহ হয়৷ মেয়েদের মধ্যে কয়েকজন ঢাউস সাইজের কয়েকটা খাতা খুলে কী যেন বিড়বিড় করছে৷ এরা আদৌ কিছু পড়ছে না৷ পড়তে দেখে অন্য ক্যান্ডিডেটরা যাতে নার্ভাস হয়ে পড়ে, সেই চেষ্টায় আছে৷ সব মিলিয়ে ছোটো খাঁচার মতো ঘরে কোল্ড ওয়ার শুরু হয়েছে৷ মৈনাক এজেন্সির স্বয়ংবরসভা৷

    বিশাখা লক্ষ করল, একপাশে একটা ঘেরা টেবিলের পিছনে একটা মাঝবয়সি ছেলে খাতা বাগিয়ে বসেছে৷ নতুন কেউ ঢুকলে তাদের নামধাম লিখে নিচ্ছে রেজিস্টার৷ গুটিগুটি পায়ে সেদিকে এগিয়ে গেল বিশাখা৷ সামনের জন সরে যেতে হাতের ফাইলটা নীচে নামিয়ে রাখল৷ ছেলেটাকে ভালো করে একনজরে দেখে নিল৷ ঢ্যাঙা কাঠির মতো চেহারা, থুতনিতে অল্প দাড়ি৷ গলা দিয়ে নীল ফিতে নেমে এসে পকেটে ঢুকেছে৷ সেই ফিতেয় লেখা আছে, ‘মৈনাক এজেন্সি’৷ বিশাখাকে দেখে সে চোখ তুলে বলল, ‘কল লেটার?’

    বিশাখা ব্যাগ খুলে কল লেটার এগিয়ে দিল৷ ছেলেটা সেটা খতিয়ে দেখে রেজিস্টারের খাতাটা ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘এখানে সই আর ওইখানে ঠিকানা আর মোবাইল নম্বর, টোয়েন্টি নাইন৷’

    টোকেনটা নিয়ে সোফার উপরে একটা জায়গা খুঁজে নিয়ে বসে পড়ল বিশাখা৷ ঘরের ভিতরটা এসি করা৷ একটু আগে রোদ থেকে এসে এমনিতেই মাথাটা ধরে ছিল৷ এই ফাঁকে সেটা আরও খানিকটা বেড়ে গেছে৷ বাসে যে গানটা শুনতে ইচ্ছা করছিল, সেটা এখনও ঘুরেফিরে আসছে মাথার ভিতরে৷ শরীরটা কেমন যেন ঝিমিয়ে আসছে৷ ইচ্ছা করছে, এক্ষুনি ছুটে পালায় এখান থেকে৷ হাতের ঘামে ভিজে-যাওয়া ফাইলটা একটু একটু করে খসে পড়ছে হাত থেকে৷ মুহূর্তে সোজা হয়ে বসে সে, না, হাল ছেড়ে দিলে হবে না৷

    একটা চাকরি দরকার, ইমিডিয়েটলি৷ না হলে ওই পৈশাচিক আগ্রহে তাকিয়ে-থাকা চোখগুলো কিছুতেই বন্ধ হবে না৷ অবাধ্য টলমল পায়ে বাড়ি ফিরতে মন চাইবে না৷ শিরদাঁড়াটা সোজা করে নেয় ও৷ ফাইলটা খুলে একটা ছোটো খাতা বের করে আনে৷ কী কী প্রশ্ন ইন্টারভিউয়ার করতে পারে, তার একটা লিস্ট৷ সেটা মুখের সামনে মেলে ধরে একমনে পড়তে থাকে৷

    সেভাবেই খানিকটা সময় কেটে যায়৷ একবার উঠে দাঁড়ায় বিশাখা, টেবিলের ওপারে বসে-থাকা ছেলেটাকে বাথরুম কোথায় জিজ্ঞেস করতে গিয়েও শুধরে নেয়৷ ভদ্রলোকেরা বাথরুমকে ওয়াশরুম বলে৷ সেকেলে হাগু-মুতু টাইপের ভাষা ছোটোলোকেদের জন্য, শুধু বোতল থেকে জল খেতে গিয়ে গায়ে পড়ে গেলে ‘শিট’ বলতে আপত্তি নেই৷ ফিরে আসতে বিশাখা দেখল, ভিড়টা খানিকটা পাতলা হয়েছে৷ আটাশ নম্বরে একটা টাই-পরা ছেলে হাসিমুখে দুলতে দুলতে বেরিয়ে আসতে ওর উৎসুক বাবা ঝাঁপিয়ে পড়ল ছেলের উপরে, ‘কী রে, কিছু অ্যাকনলেজ করল?’

    ‘অলমোস্ট, একজন বেশ ইম্প্রেসড মনে হল তো, বাট দি আদার ওয়াজ অ্যান অ্যাসহোল৷’

    এরা কলকাতার নতুন গজিয়ে-ওঠা বাংলা বাপের অ্যাংলো সন্তান৷ শখের খিস্তি-খেউড়, প্রেম-নিবেদন এবং মত প্রকাশ এরা ইংরেজিতে করে থাকে৷ ভৌগোলিক কারণের জন্যে ইংরেজরা সাধারণত জোরে কথা বলে না৷ কিন্তু এরা ইংরেজি বলে বেশ গলা তুলে, সঙ্গে যেগুলো রগরগে, সেগুলো আর-একটু জোরে৷ যেমন এই মুহূর্তে ‘অ্যাসহোল’ শব্দটা বেশ উঁচু গলায় বলেছে ছেলেটা৷ সেটা কানে নিয়েই দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে এল বিশাখা৷ এখানে এসি-র জোর আর-একটু বেশি৷ আগের ঘরটার তুলনায় এই ঘরটা বেশ বড়ো৷ ঘরের মাঝ বরাবর একটা লম্বা টেবিল৷ টেবিলের ওপারে দু-জন লোক বসে কাগজে কী যেন লিখছে৷ একজন বেশ বৃদ্ধ, নাকের উপরে বসানো চশমাটা প্রায় নেমে এসেছে৷ মনটা খারাপ হয়ে গেল বিশাখার, যার বয়স যত বেশি, তার তত বেশি ফ্রাস্ট্রেশনের চাপ৷

    বুড়োটাকে দেখেই বোঝা যায় লাথখোর৷ বাড়িতে ছেলে-বউয়ের কাছে লাঠি-ঝাঁটা খায় দিনরাত৷ এখানে ইন্টারভিউয়ের নাম করে লোকের উপরে চোখ রাঙায়৷ আর-একজন বছর পঞ্চাশেক৷ একবার চোখ তুলে বিশাখার দিকে দেখে নিল লোকটা, তারপর আবার মাথা নামিয়ে বলল, ‘কাম ইন৷’

    দুরুদুরু পায়ে ভিতরে ঢুকে এল বিশাখা৷ সামনের একটা চেয়ারে বসতে বসতে বলল, ‘গুড আফটারনুন স্যার৷’

    ‘কই, সিভি-টা দেখি৷’ অল্পবয়সি লোকটা হাত বাড়িয়ে দেয়৷ ফাইল খুলে সিভি-টা এগিয়ে দেয় বিশাখা, বৃদ্ধ-লোকটা সেটা নিয়ে চশমাটা ঠিক করে নিয়ে পড়তে থাকে৷ পাশের জন জিজ্ঞেস করেন, ‘তো তুমি ইকনমিক্স নিয়ে পড়েছ?’

    ‘হ্যাঁ স্যার৷’ বিশাখা মুখ তুলে জবাব দেয়৷ হাত দুটোকে কোলের উপরে ফেলে রাখে৷ এটাই নিয়ম৷ অকারণেই মাথায় সেই কিশোরকুমারের গানটা বাজতে থাকে৷

    ‘হঠাৎ এই কোম্পানিতে চাকরি করতে চাও কেন?’

    মনে মনে অল্প হাসি পায় বিশাখার৷ মানুষ চাকরি করতে চায় কেন? এই ঘরে বা ওই পাশের হলঘরে যারা বসে আছে, তাদের সবাইকে ছোটোবেলায় প্রশ্ন করা হত, ‘তুমি বড়ো হয়ে কী হতে চাও?’

    তাদের কেউই উত্তর দেয়নি, ‘আমি মৈনাক প্যাকারস অ্যান্ড মুভারস কোম্পানির অন্যতম কর্ণধার হতে চাই৷’ স্কুল আমাদের শেখায়, কী করে পয়সা রোজগার করতে হয়, ওই পান বিড়ির দোকানদারের মতো, যে তার সহমত ব্যাচে, এই বিরাট শিক্ষা নামের কারখানাটা আসলে একটা স্বপ্ন ভাঙার যন্ত্র৷ আজ কয়েকজনের ভাঙবে, ভাঙা স্বপ্নও মাসের শেষে স্যালারির বদলে বিক্রি হবে, শুধু দামটা লেখা থাকবে না৷

    বিশাখা কাঁধ শক্ত করে বলে, ‘কাজটা ইন্টারেস্টিং, তা ছাড়া এ ধরনের কাজ আমার ভালোও লাগে৷’

    ‘রাতে কাজ করতে পারবে?’

    বুড়োটা এবার মুখ খোলে, চশমার উপর দিয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ওর দিকে৷ অস্বস্তি হয় বিশাখার, কেমন যেন কুমিরের মতো দৃষ্টি লোকটার৷ কাল যদি পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেত তাহলে আজই একটা ছুরি ওই চোখে ঢুকিয়ে দিত বিশাখা৷

    ‘চেষ্টা করব স্যার, তবে এরকম তো কিছু লেখা ছিল না আপনাদের…’

    ‘সব কিছু কি লেখা যায় ওইভাবে? অনেকে তো আবার ডোনেশন চায়৷’

    বিশাখা আর কিছু বলে না, মাথা নামিয়ে নেয়৷ এই কড়া এসি-তেও ওর গরম লাগতে শুরু করেছে৷ কানের পাশ গরম হয়ে উঠেছে৷ এই চাকরিটা সম্ভবত হবে না৷ কষ্টেসৃষ্টে রিটনটা পাশ করেও লাভ হল না৷ সামনে আর কোনও ইন্টারভিউ নেই৷

    দম নিয়ে আর একবার মাথা তোলে সে৷ ভালো করে সিভি-টা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখছে বুড়োটা৷ শেষ পাতায় গিয়ে মন দিয়ে কী যেন দেখছে, বানান ভুল হয়েছে নাকি কিছু?

    আরও কয়েকটা প্রশ্ন করে লোকটা৷ বিশাখা ভেবেচিন্তে উত্তর দেয়৷ খুব একটা খুশি সে নিজেও হয় না৷ মাথার গুনগুন যন্ত্রণাটা ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে৷ কে যেন ক্রমাগত বলে চলেছে এই দরজার বাইরে যে চোখগুলো ওর হারের অপেক্ষা করে চলেছে, ওরা আজ উৎসব পালন করবে৷

    ‘হবি আছে দেখছি অনেকগুলো, বাঃ, গান জানো!’

    বুড়োটা সিভি-টা বন্ধ করে বলল৷ তার ঠোঁটের কোনায় কুমিরের হাসি ফুটে উঠেছে, বেশ মজার কিছু একটা খুঁজে পেয়েছে লোকটা৷

    ‘তা কীরকম গান? রবীন্দ্রসংগীত নাকি উচ্চাঙ্গ?’

    পাশের লোকটা এবার চেয়ারে পিঠ এলিয়ে দেয়৷

    বলে, ‘আমার মেয়েটাকেও তো ভরতি করে দিয়েছি, সকালবেলা তো ও-ই রেওয়াজ করে ঘুম ভাঙায়, বুঝলেন কানাইদা, আমার তো যন্ত্রপাতি ঠেলেই জীবন কেটে যাচ্ছে, ওকে এসবের মধ্যে আনব না৷’

    বুড়োটা এবার শ্রীচৈতন্যের মতো হাত দুটো উপরে তুলে দিয়ে রিল্যাক্স করেন, ‘আমারও তো সেই কথা, শুধু পড়াশোনা করলেই হবে না, সঙ্গে এইসব কো-কারিকুলার… আরে, তুমি গানটা শুরু করলে না… লজ্জার কিছু নেই, সিভি-তে লিখেছ যখন, এটাও একটা ডেমোনস্ট্রেশন… করো করো…’ আচমকা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় বিশাখা, মুখের সামনে এসে-পড়া চুলগুলো সরাতে সরাতে বলে, ‘এক্সকিউজ মি, আমার শরীরটা খারাপ লাগছে স্যার৷ আমার চাকরিটা লাগবে না৷’

    ‘ও, বেশ, গেট আউট অফ হিয়ার৷’

    সবেগে দরজা খুলে বেরিয়ে আসে বিশাখা৷ বাইরের ঘরে কয়েকটা উৎসুক মুখ তাকিয়েছিল ওর দিকে৷ মুখে হাসি দেখলে খানিকটা হতাশ হত ওরা৷ বিশাখার মুখের দিকে তাকিয়ে তাদের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল৷ সেই শিড়িঙ্গে ছেলেটা ওকে দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখে উঠে দাঁড়াল, ‘মিস, সাইন আউটের একটা সই…’

    একপলকের জন্যে থমকে দাঁড়াল ও, ঘুরে তাকাল ছেলেটার দিকে, ‘আপনারা বাল ছিঁড়ুন৷’ চিৎকার করে কথাটা বলেই দ্রুত বেরিয়ে এল ও৷ বাইরে বেরোতেই বিশাখার মনে হল, কে যেন তাড়া করে আসছে ওর পিছনে৷ তবে কি গালাগালি দেওয়ার জন্যেই ছুটে এসেছে কেউ? নাকি এই গোটা শহরটাই ঘিরে ধরেছে ওকে? বাসের সুযোগসন্ধানী বুড়োগুলোর মতো আড়চোখে তাকিয়ে আছে ওর বুকের দিকে, ওর খালি পকেটের দিকে, ওর রোদে পোড়া তামাটে চামড়ার দিকে? বিশাখার মনে হল, দানবের মতো বিরাট এই শহর গ্রাস করছে ওকে৷ এক্ষুনি ছুটে পালানো দরকার, কিন্তু কোথায়? শেষ সিগারেটটা ফুরিয়ে আসতে বাস থেকে নামল বিশাখা৷ আজ বাড়ির বাস ধরেনি৷ সাতটার আগে বাড়ি ফিরলেই হবে৷ এমনিতেও ফিরতে ইচ্ছা করে না ওর৷ বাস ধরে বাগবাজারে নেমেছে৷ বিকেল হয়ে এসেছে৷ একটু একটু করে মরে আসছে রোদটা৷ একটু দূরেই নিমতলা মহাশ্মশান৷ ওর পাশ দিয়ে বিকেলের ঘোলাটে জলে ভরা গঙ্গা বয়ে গেছে৷ শ্মশানের পাশের রাস্তাটায় নেমে আসে বিশাখা৷ বিডন স্ট্রিটের উপরে বেশ কয়েকটা আইসক্রিমের দোকান৷ বিকেলের দিকটা অনেক লোক এদিকটায় হাঁটতে আসে, কেউ কেউ আসে প্রেম করতে৷ রাস্তার পাশের একটা দোকান থেকে খানিকটা চিনাবাদাম কেনে সে৷ পকেটে আর মাত্র বাড়ি যাওয়ার মতো টাকা আছে৷

    হাঁটতে হাঁটতে একটা মোটামুটি নির্জন ঘাট খুঁজে নেয় বিশাখা৷ সিঁড়ির দু-পাশে দু’জন দু-জন করে মোট চারজন বসে আছে৷ ছেলেগুলোর হাত মেয়েগুলোর কাঁধে৷ মুখের উপর মুখ এনে কী যেন বলাবলি করছে ওরা৷

    নাকি চুম্মাচাটি করছে? যা-ই হোক, এদের দেখে এতক্ষণে অস্বস্তিটা কেটে যায় ওর৷ কোথা থেকে যেন একটা দাঁড়কাক ডেকে চলেছে৷ দূরে লঞ্চের শব্দ আর ঘাটের নীচে জলের ছলাত ছলাত৷

    একদম নীচের সিঁড়ি অবধি নেমে যায় বিশাখা৷ পা-টা ধুয়ে নেয়৷ তারপর আঁজলা করে তুলে জল ছিটিয়ে দেয় মুখে, ঘাড়ে, গলায়৷ ঘাড় বেয়ে সেই জল নামে পিঠে৷ বেশ আরাম লাগে বিশাখার৷ চিনাবাদামের প্যাকেট শক্ত করে ধরে দুটো সিঁড়ি উঠে এসে বসে পড়ে ও৷ শ্মশানে এতক্ষণে মরা পোড়ানো শুরু হয়েছে৷ হালকা গুঞ্জনের আওয়াজ ভেসে আসে সেখান থেকে৷ একমনে চিনাবাদামের খোসা ছাড়াতে থাকে বিশাখা৷ আচমকাই কী মনে হতে পকেট থেকে মোবাইল বের করে আনে ও৷ কাউকে ফোন করে না৷ মিউজিক প্লেয়ারে গিয়ে একটা বিশেষ গান চালিয়ে দেয়, স্পিকারে বেজে ওঠে, ‘আ চলকে তুঝে ম্যায়…’

    ফোনটা পাশে রেখে ঘাটের একদিকের দেওয়ালে মাথা এলিয়ে দেয়৷ ধীরে ধীরে কমে আসছে মাথার যন্ত্রণাটা৷ একটু একটু করে ঠান্ডা হাওয়ায় শীতল হয়ে আসছে শরীর৷ জলের ওপারে দুপুরের ক্লান্ত সূর্যটা একটু একটু করে গলতে শুরু করেছে৷ বিশাখার মনে হয়, এই শহর ওকে কিছুই দেয়নি, ওর শরীর, টাকা, যন্ত্রণা একটু একটু করে কিনে নিতে চেয়েছে সব৷ শুধু ওই লাল সূর্যটা ওর নিজের, এই গঙ্গার ঘাট ওর নিজের, পিছনে বসে-থাকা প্রেমিক-প্রেমিকা, আইসক্রিমওয়ালা, এই দিগন্তবিস্তৃত জল, ওই লঞ্চ, ওই একচিলতে রঙিন নৌকাগুলো ওর নিজের৷

    গঙ্গার জলের উপর দিয়ে ঠান্ডা হাওয়ার মতো একচিলতে শান্তির ঢেউ এসে জাপটে ধরে বিশাখাকে৷

    The best and most beautiful thing in the world cannot be seen or even touched, they must be felt with the heart.

    –Helen Keller

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সায়ক আমান

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026
    সায়ক আমান

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Our Picks

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }