Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প299 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাঞ্চন-মূল্য – ১১

    ১১

    আমি কৌতুহলী হ’য়ে প্রশ্ন করবার আগেই স্বরূপ বললে—‘আজ্ঞে হ্যাঁ, যা আন্দাজ করেচেন তাই, কলকাতা থেকে একেবারে সায়েব ডাক্তার সঙ্গে করে ছুটে এয়েচে দয়াল চাটুজ্জে; অনাচারী মানুষ, সামনে আসত না, তবে পিথিমিতে এক ঐ মাকেই তো চিনত।

    সবাই বোঝালে, দয়াল চাটুজ্জের মায়ের অন্তর্জলী, গাঁ তো ভেঙে পড়েছে, সবাই বোঝালে—‘অমন অনথ কোরো না দয়াল, শ্মশান-বাসের রুগী বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে নেই, ছিষ্টির আদি থেকে এমন অনাচার কেউ করেনি-তাও আবার ফিরিঙ্গী ডাক্তার ডেকে- ঠাকরুনের ভোগ শেষ হ’য়েচে—সগ্‌গে তাঁর নিজের স্থানে যাচ্চেন-উপযুক্ত জ্যেষ্ঠ সন্তান, যাতে সুচরংকুলে যেতে পারেন তার ব্যবস্থা করো, পথ আগলে দাঁড়িও না এমন ক’রে…’

    যা মাথাটি চিবিয়ে খেয়েচে ন্যায় শাস্তোরে, শুনচে কে কার কথা? বললে- ‘মায়ের সগগের কথা ভেবে আমি এখন তো নিজের সগো নষ্ট করতে পারি নে, ধ’রেছেল কেন এমন কু-সন্তান পেটে?’

    শেষে আস্ফালন, সব রকম লোক ছিল তো।

    —শ্মশানঘাট, সে হোল শিবের আড্ডা-ফিরিঙ্গীকে নামতে দেব না আমরা কোভি নেহি।’

    গুলতনি যখন খুব বেড়ে উঠেচে, দয়াল চাটুজ্জে ঘুরে সায়েবের সঙ্গে কি কথা কইলে ইঞ্জিরিতে। কথাটা কি হোল ওনারাই জানে, তবে দয়াল চাটুজ্জে ঘুরে বললে- ‘সায়েব বলচে, শিবের ভূতপ্রেতদের নাম নিকে নিয়ে উনি জেলার মার্চিস্টরের কাচে দাখিল করবে, পুলিশে কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাবে আদালতে সরকারি রোজার কাচে।’

    এই সময় সায়েবও পকেট থেকে একটা ছোট্ট খাতা আর একটা পেন্সিল টেনে বের ক’রে বাগিয়ে দাঁড়াল। দেখতে দেখতে শ্মশানঘাট পস্কের হয়ে গেল।

    অমন যে মসনে, গমগম করচে, যেন রথের কোলাহল পড়ে গেচে, এক্কেবারে ঝিমিয়ে গেল।

    প্রশ্ন করলাম—‘বেঁচে উঠলেন দয়াল চাটুজ্জের মা?’

    ‘উঠলেন না? তবে আর আপনাকে বললুম কি? ফিরে এসে আবার দশটি বছর রাজ্যসুখ ভোগ করলেন। গেলেন য্যাখন, ত্যাখন যারা হা-পিত্যেশ ক’রে ব’সেছিল তাদের অনেকেই গতায়ু।’

    দিদিমণি মুখটুকু চুন ক’রে বললে—‘আহা, বেঁচে ফিরে এলেন, ভালোই হোল, নারে স্বরূপ?’

    আমি চুপ ক’রেই রইলুম। কতটুকুই বা বয়েস ত্যাখন আমার বলুন দা’ঠাকুর, যে পেটে ‘না’ রয়েচে আর মুখে বলব ‘হ্যাঁ? তারপর দিন কৈলীকে বের ক’রে মাঠে নিয়ে যাব এইবার, ব্রেজঠাকরুন গনগনিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। বলে—‘মুয়ে আগুন অমন আহিংকের। চারকুড়ি বয়েস-নজ্জা করল না আবার ঘাট থেকে বাড়িতে ফিরে আসতে?’

    বলছিলুম না?—একেবারে বেড়া আগুনে ঘিরে ফেলেচে দিদিমণিদের। এই একটা বিপদ–কি আশা করে ছেল, আর কি হয়ে পড়ল, তার ওপর পিঠোপিটি দোসরা এক বিপদ এসে উপস্থিত-আজ্ঞে সে আবার যা তার তুলনায় দয়াল চাটুজ্জের মায় পুনজ্জন্ম হ’য়ে ঘাট থেকে ফিরে আসা ঢের ভালো …রাজীব ঘোষাল আর ছাপাছাপি রাখলে না, বাবাঠাকুরকে সোজাসুজি জানিয়ে দিলে, মেয়েটিকে দিতে হবে পুত্রবধু ক’রে, নৈলে ভদ্রাসনটির মায়া ছাড়তে হবে, তিনি আর ওপিক্ষ্যে করতে পারবেন না।

    কথাটা আমি স্বকন্নে শুনে এলুম দা’ঠাকুর। যদি জিগ্যেস করেন কেমন ক’রে তো গোড়া থেকে সবটুকু শুনতে হয়।

    লখনা আমায় এসে ‘ওরে স্বরূপ, দয়ালঠাকুরের মা যেমন বাদ সাধলে তেমনি ইদিকে বোধহয় একটু মুখ তুলে চাইলেন মা কালী; ঘোষালমশাই অসুখে পড়েছে।’

    জিগোলুম—‘টেসে যাবে?’

    বললে—‘অত কিপটে, ওরা পাক্যে পাক্যে চিমড়ে হ’য়ে যায় তো, ট্যাসবেনি, তবে বিছেনা নিয়েচে, পেয়ারা গাছটা আর সেরকম করে আগলাতে পারে না। নুট হয়ে যাচ্চে; একবারটি যাস না, আমি সকালে গেছলুম।’

    আর দেরি করতে আচে? বিকেলের কথা, আমি লখ্‌নার হাতে কৈলীটাকে ছেড়ে বেরিয়ে পড়লুম।

    একটা খবরের মতন খবর তো, যেতে যেতেই মনে হোল একবার উদিক ঘুরে দিদিমণিকেও খবরটা দিয়ে আসি। চৌকাঠ থেকেই হাঁক দিলুম—‘ও দিদিমণি শোনসে – জবর – খবর, ঘোষালমশাই বুঝি টাসলো এবার।’

    একটু বাড়িয়ে ওর নামে কি মুখরোচক ক’রেই বললুম দা’ঠাকুর, দিদিমণি রান্নাঘরে কি করছিল, বেরিয়ে এসে আমায় চুপ করতে ইশারা করে বড় ঘরটার দিকে আঙুল দেখালে। তারপর এগিয়ে এসে চাপা গলায় বললে— ‘বাবা র’য়েচে ঘরে শুয়ে, শরীরটে ভালো নয় তেমন। …কি হয়েচে একাদশী ঘোষালের র‍্যা?’

    একটু ভরসা দিয়েই বললুম—‘শক্ত অসুখ, বোধহয় টেসে যাবে। আমি পেয়ারা তুলতে যাচ্ছি।’

    দিদিমণি নাকটা সিঁটকে বললে—নেঃ, সবাই টাসচে অমনি, ঢের দেখলুম—তা কেপ্পনের গাছের পেয়ারা, খেলে পরমায়ু বেড়ে যায়, দুটো আনবি আমার জন্যেও।

    তারপর উঠোনের মাঝখানে গিয়ে যাতে বেশ ভালো ক’রে আওয়াজটা ঘরের ভেতর বাবাঠাকুরের কানে যায় সেইভাবে বললে- ‘একটা বুড়ো মানুষ অসুখে পড়েছেন-এ নাকি ভালো খবর—ছিঃ, এরকম মনের ভাব রাখতে নেই স্বরূপ।…আহা, ভালো হয়ে উঠুন, হরির লুট দোব।’

    —সঙ্গে সঙ্গে বাঁ হাঁতের পাঁচটা আঙুল মটমট ক’রে মটকে, মুখটা সিঁটকে চাইলে আমাব দিকে—মানে মলেই হরির লুট দেবে আর কি। তারপর চারটে পেয়ারা আনবার ইশারা ক’রে আবার ঘরে চলে গেল।

    আমায় একটু আড়ালে ওপিক্ষ্যে করতে হোল দা’ঠাকুর। গিয়ে দেখি ঘোষালমশাই হুঁকো হাতে ক’রে বাইরেই রয়েছে ব’সে। তবে কাহিল শরীর তো, একটু পরেই আটহাতী কাপড়টুকু সামলে সুমলে একবার গলা বাড়িয়ে দেখে নিয়ে ঠুকঠুক ক’রে ভেতরে চলে গেল।

    আর একটু নিশ্চিন্ত হয়ে নিয়ে আমিও চুপিসাড়ে গিয়ে গাছে উঠলুম।

    ঠেসে খেয়ে বেশ বেছে বেছে দিদিমণির জন্যে কোঁচড় ভরচি, ইদিকে একটু বেশ গা ঢাকার মতনও হয়ে এসেচে, এমন সময় হঠাৎ নজর পড়ল বাবাঠাকুর খানিকটা দূরে ঠুকঠুক করে চলে আসচে; আমি তাড়াতাড়ি মগডালের দিকে একটু ঝোপ দেখে উঠে নুকিয়ে পড়লুম। ইদিকেই আসছেল বাবাঠাকুর, মাথাটা হেট ক’রে ক’রে চারিদিকে চাইতে চাইতে। পেয়ারাতলাটায় এসে একবার দাঁড়িয়ে পড়ল। আমার বুকটা টিপটিপ করচে, গুরুবল, ওপর দিকে আর চাইলে না, চারিদিকটা একবার দেখে নিয়ে তারপর বেশ পা চালিয়ে এগিয়ে গিয়ে সদর দরজায় ঘা দিয়ে ডাকলে— ‘রাজু আচ?’

    ‘কে?’

    না, ‘আমি অনাদি, দোরটা খোলো একবার।’

    ওরা ভেতরে গিয়ে কপাট দিয়েচে, আমিও আস্তে আস্তে নেমে বাইরের রক দিয়ে গিয়ে ঘোষালমশাইয়ের ঘরের পেছনটিতে দাঁড়ালুম। ঘোষালমশাই বললে,—‘বোস ভাই, রও, জানলাটা দিয়ে দিই, সন্দে হয়ে এল। দেহটা ক’দিন থেকে ভালো যাচ্ছে না।

    সুবিধেই হোল, আমি আরও এগিয়ে গিয়ে বন্ধ জানলার কাছটিতে কান পেতে দাঁড়ালুম। বাবাঠাকুর বললেন—‘তাই তো শুনে ছুটে এলুম। নিজের দেহও ভালো নয়। রাখাল ছোঁড়াটা মুখ শুকিয়ে এসে বললে—শুনলুম ঘোষালমশাইয়ের শরীরটা ভালো নয়। নেত্য বললে—তাহলে একবার দেখে আসবে বাবা?—সবারই একটা টান আচে তো তোমার ওপর। আমি বললুম—তুই বলবি তবে যাব?…তা আচ কেমন আজ?’

    ‘ভালো নয় ভাই। আর আমাদের থাকাথাকি, ডাক পড়েছে, এখন গেলেই হয়। তাই মনে করছিলুম একবার ডেকে পাঠাব তোমায়, তা এলে, ভালোই হোল।’

    বাবাঠাকুর বললে—‘আসব না? সে কি কথা? আসব আসবই করছিলুম ক’দিন থেকে, তবে সে হোল…’

    ঘোষালমশাই বললে—‘ থেমে গেলে যে হঠাৎ? কিছু দরকার ছেল?’

    ‘এই দেখ।…দরকার—অভাবের সংসার আর বন্ধু বলতে এক তোমাতেই গিয়ে ঠেকেচে—রিদয়ের কাণ্ডটা তো দেখচই। তা সে কথা পরে হবে’খন, আগে সেরে ওঠ তুমি।’

    খানিকক্ষণ আর কোন কথা নেই। জানলার ফাঁক আচে, তবে ঘোষালমশাইয়ের ঘরে আলো তো পহর রাত্তির বাদ দিয়ে জ্বলে, মুখ দেখতে পাচ্ছি না কারুর, শুধু হুঁকোর ভুড়ুক ভুড়ুক শব্দ হচ্চে। তারপর ঘোষালমশাই হুঁকোটা বাড়িয়ে দিয়ে বললে- ‘ন্যাও, ধরো। মানুষকে বাঁচতে বাঁচতেও কাজ করে খেতে হবে অনাদি, আবার মরতে মরতেও কাজ ক’রে খেতে হবে। গীতায় ভগবান সেই কথাই বলচেন তো। কবে সেরে উঠব তার ভরসায় তোমার কাজ আটকে রাখলে চলবে না তো। প্রেয়োজনটা ছেল কি ধরনের?”

    চুপচাপই গেল আবার, বাবাঠাকুরের হুঁকোর শব্দটা আরও ঘন ঘন হয়ে উঠল।

    আমি কান খাড়া ক’রে রয়েচি দাঁড়িয়ে।

    আজ্ঞে না, বাবাঠাকুর বের করতেই পারলে না কথাটা মুখ দিয়ে। শেষে ঘোষালমশাই বললে—‘তাহলে আমিই বলি? দেখো, তোমার ভাবনা তুমি মনে করো একাই ভাবচ। বলি, এদিককার দিনকে দিনের খরচটা না হয় চলে যাচ্চে, কিন্তু তার মধ্যে আবার একটা দমকা খরচ এসে পড়লে সেটা সামলাতে পারা যায় কি? কেউই পারে না, তা তোমার তো সত্যিই টানাটানির সংসার। কেমন, এর মধ্যে গিন্নির বাচ্ছরিক ছেরাদ্দটা এসে যেতে পড়ে যাওনি একটু আতান্তরে?’

    আপনি ভাবচেন, ভেলকি; কিন্তু ভেল্কির কিছু নেই এর মধ্যে দা’ঠাকুর। আজকাল আপনাদের কবে ঝড়, কবে বিষ্টি সব ঐ রেডিও না কি তাইতে ব’লে দিচ্চে না, পথ দিয়ে যেতে যেতে কখনও কখনও শুনি তো—তা সেইরকম গ্রামের কোথায় কি হচ্চে, কার কবে ট্যাকার দরকার হবে, কতো ট্যাকার—সে সমস্ত রাজু ঘোষালের নখদপ্পনে থাকত। ভেলকির কিচ্ছু নেই এতে।’

    হুঁকোর ভড়ভড়ানিটা বন্ধ হয়ে গেচে, মনে হোল বাবাঠাকুর যেন উঠে এগিয়ে এসে এক হাতে ঘোষালমশাইয়ের একটা হাত চেপে ধরলে, কাতর স্বরে বললে —‘সব তো জানই ভাই, আর লজ্জা দ্যাও কেন? একটা ওবিশ্যি করণীয় কাজ, কিন্তু কী আতান্তরে যে পড়েচি। কোথায় যাব, কে বুঝবে অবস্থাটা? জিগ্যেস করবে তোমার কাছেই আসি নি কেন? আর এসে দাঁড়াবার মুখ নেই ভাই, বিস্তর জমে গেচে, একটি পয়সা দিতে পারি নি এখনও…’

    ঘোষালমশাই যেন মুখিয়েই ছেল, কি ক’রে তোলে কথাটা, বললে—‘কথা রেখে কথা বলি—ঐ জমবার কথাটায় মনে পড়ে গেল কিনা—নোকে একটা বদনাম দেয়ই তো ট্যাকা জমিয়ে যাচ্চি। তুমিও নিশ্চয় ভাবো রাজু ছেলেবেলাকার বন্ধু, আমার জমচে ঋণ—তাও আবার উরিই কাছে, আর ও দিব্যি পায়ের ওপর পা দিয়ে আসল জমিয়ে যাচ্চে। জমিয়েচি দু’পয়সা, তোমার কাছে অস্বীকার করতে গেলুম কেন—যদিও পায়ের ওপর পা দিয়ে নয়—পেটে না খেয়ে এই আটহাতী কাপড় প’রে…’

    বাবাঠাকুর বললে—‘খরচ নেই জমিয়ে যাচ্চ এ কথা কি আমি ভাবতে পারি ভাই! লোকের কথায় কান দেও কেন?’

    ‘না, খরচ আমি টেনে করি বই কি। তবে তুমি মিষ্টি ক’রে বলচ, তার কারণ কেন করি তার হেতুটা তুমি য্যাত জান আর কেউ তো তেমন ক’রে জানে না। তাই অন্যের যেমন গা করকর করে-ঘোষাল একটির ওপর একটি ট্যাকা রেখে জমিয়ে যাচ্ছে, তোমার তেমন করবার কথা নয় তো। ও ট্যাকা যেমন আমি গেলে আমার ছেলের, তেমনি আবার তোমার…’

    বুকটা আমার ধড়াস ধড়াস করচে দা’ঠাকুর, কিন্তু কথাটা না শেষ ক’রেই ঘোষালমশাই ব’লে উঠল— ‘ও কি, উঠে পড়লে যে!”

    ঘরে অন্ধকার বেশ জমে উঠেচে, তার মধ্যেই জানলার ছেঁদা দিয়ে দেখলুম একটা ছায়ার মতন বাবাঠাকুর হঠাৎ দাঁড়িয়ে উঠেছে। মুখটা দেখতে পাচ্চি না, তবে কথা তো শুনচি, আমতা আমতা করে বললে—‘উঠচি—মানে—দেহটা হঠাৎ যেন—শরীরটের তো জুত নেই ক’দিন থেকে…’

    এর পর থেকেই কথার মধ্যে সেই গলাগলির ভাবটা গেল তো। ঘোষালমশাই বললে- ‘না, বোস, অনাদি; বসলেই শরীর ঠিক হয়ে যাবে, ওটা কিছু নয়।’

    গলার আওয়াজটাও বেশ ভারী, কতকটা হুকুমের টোনেই ঘোষালমশাই বললে কথাটা। বুঝলুম বসেই পড়ল বাবাঠাকুর।

    এর পরে যে চুপচাপ তা যেন আর শেষ হ’তে চায় না। শুধু ভুড়ুক ভুড়ুক শব্দ, বাবাঠাকুর নিশ্চয় ওঠবার সময় হুঁকোটা ঘোষালমশাইয়ের দিকেই বাড়িয়ে ধরেছেল, তিনিই টেনে যাচ্চে। আমি পেয়ারা চিবানো বন্ধ ক’রে দাঁড়িয়ে আচি।

    শেষকালে আবার উনিই আরম্ভ করলে, বললে- ‘কথাটা মুখ দিয়ে বেরুবার আগেই তুমি উঠে পড়লে অনাদি, তবে বুঝেচ নিশ্চয়। আর টালমাটাল নয়, এবার তোমায় একটা ঠিক ক’রে ফেলতে হবে।’

    ইদিকে কোন কথা নেই। ঘোষালমশাই বলেই চলল—‘দিতে চাও মেয়ের বিয়ে-হ্যাঁ ছিরুর সঙ্গেই—তাও ব’লে দাও, না দিতে চাও তাও ব’লে দাও পষ্ট করে। আমার শরীর ঠিক নেই-এবার ধাক্কাটা বেশ দিয়েচে—আমি আর ছেলের বিয়েটা না দিয়ে পাচ্ছি না। ছেলে যে আমার হীরের টুকরো এ কথা বলচি নে, তবে বয়েসকাল, আমার ঐ এক ছেলে, একটু আস্কারা পাচ্চেই, এ-সময়টা একটু অমন হবেই; আবার একটা বাঁধন হোক, ঐ ছেলেই অন্য রকম হয়ে যাবে। না, তুমি একেবারে তোয়ের হীরের টুকরোই পাও কোথাও, বেশ তো আমায় বলে দাও পষ্ট ক’রে, নিজের পথ দেখি…’

    বাবাঠাকুর বললে—‘দুটো দিন আরও সময় দাও; এদিকে একেবারে মাথার ঠিক নেই ভাই।’

    ‘সময় আর দিতে পারব না অনাদি; দেখচো তো আমার নিজের সময় ফুরিয়ে এয়েচে। আরও একটা কথা আচে অনাদি, না বলে পারছি না। বৌ ক’রে যদি আনতেই হয় তো আর আমি ঐ বেপরদা বাড়িতে ফেলে রাখতে পারব না। কথা উঠতে আরম্ভ হয়েচে এরই মধ্যে…’

    বাবাঠাকুর যেন কাতর হয়ে বলে উঠল—‘রাজু—এ কী বলচ।’

    ‘বেশ; বলব না। বিষয়ী লোক আমরা—মিষ্টি তেঁতো সব রকম কথাই মুখ দে বের করতে হয় প্রয়োজন মত। তা বলব না। তবে মনস্থির করে ফেলতে হবে তোমায়, হ্যাঁ-না যা হয় একটা কথা পষ্ট ক’রে ব’লে যেতে হবে আজ।’

    আবার চুপচাপ, শুধু ভুড়ুক ভুডুক শব্দ, তারপর আবার উনিই বললে—‘আরও মনস্থির ক’রে ফেলতে বলচি -পাত্রী আমার এই সময় একটি হাতে আচে, নীরদার মেয়েটি। ভালোই, তবে নীরো বিধবা মানুষ, পয়সা চায়। কথাটা নুকুনো, তবু তোমায় বললুম। তা পয়সা চায়, দোব। তবে ঘর থেকে বের করে তো দোব না, সেই জন্যে তোমায় ডেকে পাঠাব মনে করেছিলুম—তা অধম্ম তো করি নি কারুর সঙ্গে, ভগবান নিজেই তোমায় পাঠিয়ে দিলেন। একটু বলো মন খোলসা করে।’

    কথা না ক’য়ে উপায় তো আর নেই, বাবাঠাকুর আবার সেইরকম কাতরে বললে- ‘আর দু’টো দিন সময় দাও আমায় রাজু।’

    ‘পারব না ভাই, একটা দিনও নয়, ঐ তো বললুম-আমার নিজের সময়ই আর নেই। তা বেশ, তুমি ভেঙেই দাও না সম্বন্ধটা, চুকে যাক ল্যাঠা। তাহলে কিন্তু ঐ যা বললুম—ঘর থেকে ট্যাকা বের ক’রে আমি মেয়ে কিনে নিয়ে আসতে পারব না—মানে, যেখেনে যেখেনে ট্যাকা প’ড়ে আচে, বিশেষ ক’রে যেখানে ডোববার ভয় আচে সেখান থেকে ট্যাকা তুলে নিয়ে আমায় কাজটুকু সারতে হবে। তোমায় দোমনা দেখচি, তুমি না হয় ট্যাকাই শোধ ক’রে দ্যাও, তারপর কী করে নিজের মেয়ের বিয়ে দেবে, কবে দেবে সে-ভাবনা তো আর আমার রইল না।—থাকতে দিচ্চ না তো তুমি।’

    বাবাঠাকুরের গলা যেন শুকিয়ে এয়েচে, খসখসে একটা আওয়াজ হোল —‘রাজু —ভাই। একটা দিন।’

    ‘একটা কেন, দুটো দিনই দিচ্চি তোমায়। কিন্তু সে ঐ ট্যাকাটা দিয়ে যাবার; সুদে আসলে কত হোল এক্ষুণি বলে দিচ্চি খাতাটা দেখে।’

    ‘ট্যাকা কোথা থেকে দোব? এত শিগগির? ভদ্রাসনটুকু বেচাবে ভাই, পথে বসাবে?’

    ‘মাথায় তুলে রাখতে চাইচি তো অনাদি, তুমি শুনবে না, করি কি? শক্ত ক’রে তুললে তো তুমিই—হয়তো আদালতেই দেবে ঠেলে…দু’দিন পরেও যদি দেখি গা করচ না…

    বাবাঠাকুরের সেই খসখসে আওয়াজ ‘ঘরটা বড় গুমোট—একটু বাইরে থেকে হয়ে এসেই বলচি রাজু—এই তোমার রক থেকেই—বিশ্বাস না করো, দাঁড়াও এসে বাইরে বরং…’

    জীবন-মরণের সমিস্যে, না বলে উপায় নেই—কথাগুনোক যেন জোর ক’রে ঠেলে ঠেলে বের ক’রে দিলে বাবাঠাকুর। বললে বটে, কিন্তু উঠল না; খানিকটা গুম্ হয়ে ব’সে থাকার পর মোক্ষম কথাটুকুই ব’লে দিলে—‘কোন্ চুলোয় আর শান্তি পাব? বেশ, দিলুম কথা।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026
    Our Picks

    কাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    April 23, 2026

    শূন্য পথের মল্লিকা – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    April 23, 2026

    মরণের আগে ও পরে – ইমাম গাজ্জালী (অনুবাদ : মাওলানা শাহ ওয়ালীউল্লাহ)

    April 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }