কাঞ্চন-মূল্য – ১৫
১৫
আমি প্রশ্ন করলাম…’ খেলেন বসে ন্যায়রত্ন মশাই?’
স্বরূপ বললে—‘খেলেন মানে!—পাত চাঁচা-পোঁচা হয়ে গেলো, ব্রেজঠাকরুনের গুলিও তুলতে হোল না? ফল, সন্দেশ, ক্ষীর। কথাটা বুঝলেন না? সোয়ামী না খেলে মা-ঠাকরুনের যেমন অকল্যেণ হোত, বড় বোন বিধবা—সেও যে খেলে না, উপোস করে রইল তাতে সগে সেখেনে তাঁর পুণ্যি বাড়বে? এ তো বাবাঠাকুরের ন্যায়শাস্তোরেরই কথা, একটু ভেবে দেখুন না, তাহলেই তো বুঝতে পারবেন—ব্রেজঠাকরুন খাওয়ার ওপর ওগুলিও চাপ্যে লেহ্য কাজ করলেন কি অলেহ্য।
পরিতোষ ক’রে ওনার খাওয়া শেষ হয়ে গেলে বললে—ব্যস্, এ বাড়িতে এই শেষ আমার।…কোথায় গেলি রে ছোঁড়া? একখানা ইট আনতে গিয়ে বাড়ি চাপা পড়লি নাকি? বলে দে যেমন ঘাড়ে করে আনেনি, তেমনি কাল ভোরেই বিদেয় হচ্চি, কাক কোকিল না ডাকতে। নিজের সংসার বুঝে নিক। এরপর এমারত তুলুক, নিজের মেয়েকে চাঁড়ালের হাতে তুলে দিক, কিছু বলতে আসব না। ব্রেজবামনীর কথা, নড়চড় হবার নয়।
