কাঞ্চন-মূল্য – ৬
৬
এবার আপনাকে একটু এদিককার কথা বলতে হয় দা’ঠাকুর। ছ’আনি তরফের দেবনারায়ণ রায়চৌধুরীর কথা, বিধবা-বিবাহ নিয়ে যিনি কাকা নিশিকান্ত থেকে প্রেথক হয়ে গেল না? বিধবাদের তরফে মাতব্বর তো উনিই। আলাদা হয়েই প্রেথমে এক মন্দির তোয়ের ক’রে তাতে ঘটা করে ঠাকুর যা পিতিষ্টে করলে তাইতেই গাঁয়ে এক হৈ-চৈ উঠে গেল। আর সব জায়গাতেই দেখুন, নয় যুগলমূর্তি, নয় শিবঠাকুর, নয় গৌরাঙ্গ; দেবনারাণের নতুন মন্দিরে পিতিষ্টে হোল বিভীষণ ঠাকুর, আজ্ঞে হ্যাঁ, রাবণরাজার ভাই বিভীষণ—উনি যে মন্দুদরীকে বিধবা-বিবাহ করলেন কিনা; বুঝলেন না কথাটা? ও-কাজটুকু সেরে যে বিধবা-পার্টির কাজ নিয়ে নামলেন, এক নাগাড়ে সেই গয়ারামের সাতপুরুষের কোন্ বিধবা বোনঝির বিয়ে দিয়ে তবে খালাস। লোক চাই, ট্যাকা চাই, তার জন্যে আমি আচি, তোমরা সব চালিয়ে যাও চোখকান বুজে।
বিয়েটা যে হয়ে গেল তারপর কিন্তু অনেকদিন যাবতই দেবনারাণ গাঁয়ের মধ্যে ছেল না। প্রেথমটা অনেক কথা উঠল, ওবিশ্যি সধবা পার্টির ওরাই তুললে—গতিক খারাপ দেখে সটকেচে, গাছে তুলে দিয়ে মই কেড়ে নিলে, হ্যান, ত্যান, সাত-সতরো; খুব একটা ঢিটি তুলে দিলে গাঁয়ের মধ্যে। দেবনারাণ কিন্তু সটকাবার ছেলে নয় দা’ঠাকুর; খুড়োর সঙ্গে টেক্কা দিয়ে করলে তো অত বড় একটা কাণ্ড, মরদকা বাচ্চা, সে কখনও সটকাবার পান্ডোর হয়? কথা হচ্চে, শুধু গাঁটুকু নিয়ে থাকলে তো ওনাদের মতন নোকের চলে না, তাহলে তো বিদ্যেসাগরমশাইও নিজের গাঁয়ে একটা বিধবা বিয়ে দিয়ে পায়ের ওপর পা তুলে ব’সে থাকতে পারতেন। গাঁয়ে ঐ কেরামতিটুকু দেখিয়ে, সব বিলি-ব্যবস্থা ঠিক ক’রে উনি বাইরে নেকচার দিয়ে বেড়াতে লাগল। শোনা যায় ইস্তক কলকাতারও বড় বড় আসরে দেবনারাণের নেচার পড়তে পায় না, এমনি নামডাক। এ হোল একটা কথা; আরও একটা ছেল দা’ঠাকুর। যিদিনকে বিভীষণ ঠাকুরের মন্দিরটা পিতিষ্টে হোল, সিদিন উনি আবার একটা কড়া শপথ গেলে বসলেন কিনা ঠাকুরের পা ছুঁয়ে—উনি ক’রতে চ্যালাচামুণ্ডোদেরও করতে হোল,—যে বিধবা ছাড়া বিয়েই করবে না এ জীবনে। তা গাঁয়ে তো মেয়ে নেই, একটা খুঁজে বের করতে হয় তো, তা ইদিক থেকে খানিকটে ফুরসত হ’তে বেরিয়ে পড়ল উনি। বেশির ভাগ কলকাতাতেই থাকত, খবরটা-আসটা আসত মাঝে মাঝে—কখনও শোনা যেত পাত্রী জুটেচে, এইবার ফিরবে, কখনও শোনা যেত তাকে সধবারা আবার ভাঙিয়ে নিয়েচে, এইরকম গোছের গুজব সব। মোট কথা, আসা আর হয়ে উঠছেল না ওনার, তারপর একদিন হঠাৎ শোনা গেল কাল রাত্তিরে এসে গেচে পাত্রী সমেত। পাত্রীর রূপ, গুণ, বয়েস নিয়ে নানারকম গুজব ছড়িয়ে পড়ল আবার গাঁয়ে। এবার আসল বিয়ে, মসনে আবার দেখতে দেখতে সরগরম হয়ে উঠল।
ইতিমধ্যে, উনি গ্রামে না থাকাকালীন অনেক ব্যাপার হয়ে গেচে ইদিকে। পয়লা নম্বর তো সধবা পাটিদের বাবাঠাকুরের বাড়ি চড়াও করা, আর ব্রেজোঠাকরুনের আবির্ভাব। তারপর গুজব-এবার বিধবা পাটির পুরুত ন্যায়রত্নমশাই নিজেই বিয়ে করবে—কন্যের পরচেও পেলে নোকে ক্রেমে। এ তো নোলকপরা, ঘোমটাটানা লববধূ নয়, ঢাক পিটিয়ে বেড়াতে নেগেচে। তারপর—এগুলো ওবিশ্যি বাইরে কেউ জনে না-বরের রাতারাতি অন্তধ্যান, আবার ফিরে আসা, তারপর আপনার গিয়ে ঐ যা বলছিলুম, আমার চিঠি নে যাওয়ার কথা, আর যা যা হল।
চিঠি নিয়ে যিদিন ঐ কাণ্ডটা হোল দা’ঠাকুর, তারপরের দিনের কথা। সন্দে প্রায় হয়ে এয়েচে। গরু নিয়ে যে যার ঘরে চলে গিয়েচে, দিদিমণিদের বাড়ির দিকটা তো আবার একটু নিজ্জন, আমি কৈলীকে হাঁকিয়ে একলাই আসচি, এমন সময় একটা মোড় ঘুরতেই রাস্তার ওপর খানিকটে দূরে এক ঘোড়-সওয়ার। একলাই, টুকটাক ক’রে আস্তে আস্তে নিজের মনেই এগিয়ে যাচ্ছিল, একটু ইদিক-উদিক চাইতে চাইতে, একবার পেছনে নজর পড়তে আমায় দেখে দাঁড়িয়ে পড়ল। ডাকও দিলে—‘এই ছোকরা, একটু পা চালিয়ে আয় তো।’
আমি কৈলীকে ছেড়ে তাড়াতাড়ি এগিয়ে গেলুম। বোধ হয় বারদুয়েক দেখেচি এর আগে, গাঁয়ের একেবারে উদিকে তো, তার সেকালের রাজারাজড়ারা বেরুতোও কম, এখনকার মতন আখছারই পথে-ঘাটে দেখা যেত না, তবু সন্দে হয়ে এলেও চিনতে দেরি হোল না। ছ-আনি তরফের দেবনারাণ চৌধুরী। অমন সুপুরুষ তো মসনেতে কেউ ছেল না ত্যাখন। দিয়ে একটু তফাতে সেলাম ক’রে দাঁড়িয়েচে, জিগ্যেস করলে—‘অনাদি ভচায্যিমশাইয়ের বাড়িটা কোথায় জানিস?’
অত বড় মানুষটা বাড়ি বয়ে এয়েচে, তার এ পাটির যাকে বলে লিডার, ঐ চেহারা, রাঙা টকটকে ঘোড়াটা চনমন করচে, আমার বুকটা যেন দশহাত হয়ে গেল; যতটা পারলুম বড় ক’রে বললুম—‘আজ্ঞে জানি বৈকি, আমি যে ওনাদের নফর।’
বেশ মনে আচে তো! হতভাগী কৈলীটা এগিয়ে চলে যায় তো হয়, একেবারে পাশটিতে এসে দাঁড়াল আমার। নফর তো ঐ,—গরু চরায়, তার জাবনা দেয়, গোবর কাড়ে। আর দেখেচি দা’ঠাকুর এগুনো যেন নজরও এ্যাড়ায় না কারুর। অত উঁচুতে ব’সে র’য়েচে, সন্দে, তবুও মনে হোল,
গোরুটার দিকে চেয়ে যেন অল্প একটু হাসলে —মনে হোল আমার, সত্যিমিথ্যে ভগবানই জানেন—তবে আমায় এ নিয়ে আর কিছু বললে না, বললে —‘তাহলে তো ভালোই হোল, আচেন তিনি বাড়িতে? থাকেন এ সময়?’
এ সময় কেন, প্রায় কোন সময়ই থাকে না আজকাল – ব্রেজঠাকুরুন আসার পর থেকে। তবু এত বড় লোকটাকে কি একেবারে বাড়ি টেনে না নিয়ে গেলে চলে? কালকে মাঠে যে গল্পগুনো ঝাড়ব ইরি মধ্যে তার মালমসলা জমতে আরম্ভ হয়েচে। বললুম—‘আজ্ঞে হ্যাঁ, এসময় তিনি কোথায়ও বেরোন না তো, সাক্ষাৎ করবেন?’
‘হ্যাঁ চল, দরকার আছে একটু।’
যেতে যেতে খানিকটা গল্পও হোল।
‘পণ্ডিতমশায়ের বাড়ি নাকি আগুন ধরাতে এয়েছিল সবাই?’
‘বললুম— ‘আজ্ঞে হ্যাঁ, সধবা পাটির গুণ্ডোরা।’
জো পেয়ে বেশ একটু নালিশের মতন করেই শুনিয়ে দিলুম কথাটা। আমার দিকে আবার একবার ঘুরে চাইলে। বোধ হয় সেইরকম একটু হেসেও থাকবে দা’ঠাকুর, সাঁঝের অন্ধকারে বেশ তো বুঝতে পারচি নে, জিগ্যেস করলে—‘তুই সধবা পাটি বিধবা পাটি বুঝিস?’
ঘাড়টা খুব কাৎ করে বললুম—‘আজ্ঞে হ্যাঁ। তা আর বুঝব না।’
‘তুই কোন্ পার্টিতে?’
‘বিধবা পাটিতে।’
একটু চুপ করে রইল, তারপর আবার জিগ্যেস করলে—‘বাড়িতে বিধবা কেউ আচে নাকি?’
একটা যে আচে ঠাকুমা বুড়ি সে কথাটা আর বললুম না দা’ঠাকুর, বিয়ের ভয়ে তাড়াতাড়ি বিন্দাবন পালিয়ে বলবার তো আর মুখ রাখেনি। হয়তো একটু আক্রোশের মাথায়ই বললুম- ‘ছেল, ঠাকুমা, তা তিনি ওলাউঠোয় মারা গেল এই সিদিনকে।’
একটু চুপ করেই চললুম খানিকটা; সেই পেল্লায় ঘোড়ার ওপর উনি, নিচে আমি, পাশে কৈলী। ঘোড়াটা একবার করে সেটার দিকে চোখ বেঁকিয়ে দেখচে। অবোলা জীব, ঠাট্টার কি বোঝে ওরা?—-তবু আমার যেন মাথা কাটা যাচ্চে, দা’ঠাকুর–ঐ ঘোড়ার পাশে এই গোরু! একটু পরে দেবনারায়ণমশাই আবার জিগ্যেস করলে- যিদিন ঘরে আগুন লাগাতে আসে তুই ছিলি নাকি?’
বললুম— ‘আজ্ঞে হ্যাঁ, আগাগোড়া ছিলুম।’
সঙ্গে সঙ্গে খুব জুতসই কথাটাই মনে পড়ে গেল। বললুম— ‘আমিই তো আপনার কাছে দিদিমণির চিঠিটা নিয়ে যাচ্ছিলুম—“বললে ছুট্টে যা”।’
ঘোড়াটার রাস টেনে থামিয়ে দিলে, আমার দিকে ঘুরে তাকিয়ে বললে—‘চিঠি নিয়ে গেছলি? কৈ নায়েবমশাই তো সে কথা বললেন না—আমি অবিশ্যি ছিলুম না সিদিনকে।… লোকজনকে পাঠায় নি নায়েব মশায়?’
একদিনে অত নালিশের সুযোগ তো পায় না লোকে। আদালত যেন বাড়ি বয়ে এয়েচে একেবারে। আমি যতটা পারলুম রং চড়িয়ে ছিরু ঘোষালের চিঠি কেড়ে নেওয়ার কাহিনীটা বলে গেলুম দা’ঠাকুর। চুপ করে সবটা শুনে গেল, কিছু বললে না, শুধু শেষ হ’লে’হুঁ!’ ক’রে একটা চাপা আওয়াজ করলে।
আর একটু গিয়ে বললে, ‘হ্যাঁ, ভালো কথা মনে পড়ে গেল-শুনলুম নাকি পণ্ডিত- মশায়ের কে এক শালী এয়েচে, সে-ই এসে সিদিনকার ব্যাপারটা সামলে দেয়।’
বললুম—‘আজ্ঞে হ্যাঁ, ব্রেজঠাকরুন।’
একটু চুপ করে কি যেন ভাবতে লাগল। বোধ হয় ওনার বিয়ের কথাটাই তুলত, তা আমার আর সবুর সইল না, মস্তবড় জবর একটা খবর তো, বললুম—‘উনি আবার বিধবা- বিবাহ করতে এয়েচে কিনা।’
একটু মুখটা ঘুরিয়ে জিগ্যেস করলে— ‘সত্যি নাকি? তা বয়েস কত হবে?’
এবারে তো আর ত্যাখনকার মতন ভারিক্কে ক’রে দেখাবার দরকার ছেল না, যতটা পারলুম বিয়ের যুগ্যি ক’রে বললুম—‘এই আপনার মতন।’
এবার হাসিটা একটু পষ্টই যেন দেখতে পেলুম দা’ঠাকুর, ওবিশ্যি মুখে ও-নিয়ে আর কিছু বললে না। জিগ্যেস করলে—’তা তুই আগাগোড়া যে ছিলি-ব্যাপারটা কি হয়েছিল?’
বেশ ফলাও করে আরম্ভ করতে না করতে বাড়ির কাছে এসে পড়লুম, ঐ একটিই বাড়ি তো, ও-তল্লাটে, জিগ্যেস করলে—‘এই বাড়ি?’
রাস্তা, তারপর একটা ছোট মাঠ, তারপর বাড়িটা, ইচ্ছে ছেল দাঁড় করিয়ে সবটা বলে নোব, তারপর বলব এসে গেচি; তা আর হোল না, বললুম–হ্যাঁ, ঐ যে।
‘যা, আমি দাঁড়িয়ে আচি এখেনে। কে আমি জানিস্ তো?’
বললুম—‘হ্যাঁ, ছ’আনি তরফের রায়চৌধুরী মশায়।’
‘বা।’
আমি তিন লাফে মাঠটা পেরিয়ে দোরগড়া থেকেই হাঁক দিলুম—‘ও দিদিমণি, দেখোগে কে এয়েচে।’
জানি বাবাঠাকুর নেই, তাই তানার কথাটা পরে মনে পড়ল, জিগোলাম—‘বাবাঠাকুর আচেন বাড়িতে?’
আহ্লাদের চোটে আমার গলাটা কেঁপে গেচে, হাঁপাচ্ছিও; দিদিমণি সন্দেয় শাঁক বাজাতে যাচ্ছেল, ‘কে রে স্বরূপ?’—ব’লে সেটা হাতে ক’রেই তাড়াতাড়ি নেমে এল দাওয়া থেকে। উঠোন পেরিয়ে চৌকাঠের ওপর দাঁড়িয়ে উদিক পানে চেয়ে একটু থমকে দাঁড়াল, তারপরেই দুড় দুড় ক’রে আবার উঠোন ডিঙিয়ে দাওয়া পেরিয়ে একেবারে ঘরের মধ্যে। আচমকা এমন হয়ে গেল ব্যাপারটা যে, ছ ‘আনি তরফের উনিও যেন বাকরোধ হয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইল; ইদিকে আমিও যেন থ’ মেরে গেচি, কেন এমনটা হোল, কাকে কি বলব বুঝে উঠতে পারচি নে, ছেলেমানুষই তো ত্যাখন। তারপর খেয়াল হোল, দিদিমণি নিশ্চয় ভেবেচে দারোগা, কিম্বা হয়তো গোরা সেপাই-ই-হুগলী থেকে কদিচ কখনও ছটকে এসে পড়ত তো এক-আধটা। একটু সাড় হ’তে সেই ভুলটাই ভাঙিয়ে আবার বোধ হয় ডেকেই আনতে যাচ্ছিলুম, এমন সময় রায়চৌধুরীই ডাক দিলে, পোড়ো জমিটুকু পেরিয়ে কাছে যেতে বললে—‘মনে হচ্ছে নেই পণ্ডিতমশাই।’
বললুম—‘দেখব না হয় ভেতরে গিয়ে?’
‘নেই, নৈলে বেরিয়ে আসতেন এতক্ষণ।’
তারপর একটু কি যেন ভেবে নিয়ে বললে—“না হয় দেখই, দাঁড়িয়ে আছি আমি।’
গিয়ে দেখি দিদিমণি ঘরের মধ্যেই সেইরকম শাঁকটা হাতে ক’রে একঠায় দাঁড়িয়ে আচে। কিছু জিগ্যেস করবার আগেই ধমকে উঠল—‘তুই বেরো হতভাগা, কখন কি রকম ক’রে ডাকতে হয় জানে না। অপরুদ্ধ ক’রে দেছল একেবারে!’
বললুম—‘আর কেউ নয়, রায়চৌধুরীদের ছ’আনি তরফ। বাবাঠাকুরের দিকেরই লোক – বিধবা পার্টির।’
হাতটা উঁচিয়েই উঠল, বললে— ‘বেরো তুই আগে বলচি!…বাবা নেই বাড়িতে, বলবি চলে যেতে, বাবা গিয়ে দেখা করবে’খন।
আমি চলে আসছিলুম, দাওয়া থেকে নামবার আগেই একটু এগিয়ে এসে বললে— ‘সত্যিই যেন যেতে বলিসনি তুই; নেই শুনলে আপনি চলে যাবে’খন। যা।’
বাইরে যেতে চৌধুরীমশাই জিগ্যেস করলে—‘নেই তো?’
বললুম—‘না।’
‘বলে দিস্ এসেছিলুম; আর একদিন না হয় আসব’খন।’
কেমন একটা খুঁতখুঁতুনি নেগে রইল দা’ঠাকুর দিদিমণির আচরণে। বললুম—‘আপনি আর কেন আসবেন দয়া ক’রে কষ্ট ক’রে? বাবাঠাকুর গিয়ে সাক্ষাৎ করবে’খন।’
কি ভাবলে একটু, তারপর একটু হেসে বললে—‘বেশ দয়া ক’রে আর কষ্ট ক’রে আসব না আমি, তানাকেই পাঠিয়ে দিস।’
ফিরে আসচি, আবার ডাকলে—‘এই শোন।’
এগিয়ে যেতে বললে—‘একটু সঙ্গে আয়, ইদিক’কার রাস্তাটা তেমন জানা নেই;…আর তোর সেই সিদিনকার গল্পটাও তো শেষ হয়নি।’
গল্পটা বলতে বলতে অনেকখানি পর্যন্ত গেলুম, তারপরেও রসিয়ে রসিয়ে ব্রেজঠাকরুনের কোঁদলের কথা অনেক শুনলে। গ্রামের সদরের দিকটা এসে পড়তে— ‘আচ্ছা, এবার যা। দিবি পাঠিয়ে।’—ব’লে চ’লে গেল।
