Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026

    উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    August 5, 2026

    প্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম

    রশীদ করীম এক পাতা গল্প258 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রসন্ন পাষাণ – ১৩

    তেরো

    ছোট ফুপু সম্পর্কে কিছু বলতে গিয়ে আমার ভঙ্গিতে যদি বিহ্বলতা প্রকাশ পায়, সে অপরাধ আমি স্বীকার করে নেব।

    ছোট ফুপুকে আমি যতই দেখি ততই আশ্চর্য হই। যদিও তাঁর ছেলেরই বয়স আঠারো, তবু তাঁর এমন নয়ন জুড়ানো রূপ যেই দেখবে তারই দৃষ্টি ছলছল করবে। ছোট ফুপু ফর্সা এ কথা বললে কিছুই বলা হয় না, কারণ ফর্সা অনেকেই হয়। কচি কলা পাতার মতো তাঁর ত্বক। মুখের ডৌলটিতে এমন এক ভরপুর পূর্ণতা ছিল যা স্থির নীরে পূর্ণচন্দ্রের মতো চোখের সামনে ভেসে উঠত; আকাশের চাঁদের সুদূরতা তাতে ছিল না; এবং একটু আবেগেই দিঘির চাঁদের মতো সে মুখও উঠত নড়ে। তিনি যখন হাসতেন, তাঁর দুটি গালে টোল পড়ত; সে যে কি দৃশ্য যে দেখে নি বুঝবে না। তাঁর নাকের পাশে একটা ছোট কালো তিল; আমার কেবলই ইচ্ছে করত খামচে দি। কখনো তাঁর কাঁধে কখনো-বা নীবীবন্ধে চাবির গুচ্ছটি ঝুলত; চলবার সময় পদক্ষেপের সঙ্গে তার ঝনাৎ ঝনাৎ শব্দ মনের মধ্যে বাজাত বাঁশি।

    এমন মানুষকে ভালো না বেসে উপায় আছে।

    সুন্দর অনেকেই হয় কিন্তু ছোট ফুপু একজনই দেখেছি। বিশেষ করে তাঁর চলাটুকু আমার চোখের পাতার সঙ্গে মিশে আছে। চলায়, হাতের আক্ষেপে, কপালের উদ্যত একটি রেখায়, অধর কামড়ে ধরে চিন্তা করবার সেই ভঙ্গিটুকুতে এমন কিছু ছিল যাকে এক কথায় সুন্দর বললে সবটুকু বলা হয় না।

    বিশেষ করে মনে পড়ে তাঁর চলাটুকু। আগেই বলেছি, তিনি পায়ে কিছু রাখতেন না। হাঁটতেন অতি ধীরে, মাটির ওপর পায়ের স্পর্শটুকু ঝরেপড়া ফুলের পাপড়ির মতোই নম্ৰ। তার সারা শরীর ভরা জোয়ার—কানায় কানায় ভরা রূপরস কলকল ছলছল করে উছলায়। এই রূপের কল্লোল কেবলই কান পেতে শুনতে থাকি।

    সেদিন সকাল দশটা হবে, ছোট ফুপু সামনে একটি কুলো এক বোতল সর্ষের তেল কমলালেবুর খোসার একটা ছোটখাট পাহাড় এবং পেষা দাল নিয়ে রোদে বসেছেন। শিলনোড়ায় কমলালেবুর খোসাও পিষ্ট হচ্ছে। ছোট ফুপুর মাথায় ঘোমটা নেই। সকালবেলার রোদ তাঁর মাথার চুল হাতে-লাগা পেষা দাল সম্মুখের শিলনোড়া স্পর্শ করে চৌবাচ্চার পিছনের দেয়াল টপকে কোথায় ছুটে চলেছে জানি না।

    আমি তাঁর পাশে গিয়ে বসলাম।

    —এ দিয়ে কি হবে ছোট ফুপু?

    —তোকে শিখিয়ে দেব।

    —দেব না, এখুনি দাও।

    —এই নে খানিকটা হাতে ভালো করে ঘষতে থাক।

    হাতে ঘষে দেখলাম, ময়লা উঠে আসছে।

    —এ জিনিসটা কি, ছোট ফুপু!

    —আমরা একে উটটান বলি। তোরা শহরের মেয়েরা বিলিতি সাবান মাখিস। আজকে গোসলের আগে এটা সারা গায়ে একবার মেখে দেখ। তোর জন্যই বানাচ্ছি।

    —তাই বুঝি তোমার গায়ের চামড়া অমন।

    —আমার গায়ের চামড়া বুঝি ভালো নয়!

    —আহা তুমি যেন বোঝ না, আমি কি বলতে চাই।

    —বুঝেছি মা বুঝেছি। আমি মরলে আমার গায়ের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে চাস— এইতো! তা আমি লিখে দিয়ে যাব যাতে তোর ইচ্ছে পুরো হয়।

    সামনের পাঁচিলে একটি কাক এসে বসল। তার মুখে একটি মরা ইঁদুর। কনিজ কোথা থেকে ছুটে এসে ঢিল ছুঁড়ে কাকটিকে তাড়িয়ে দিল। শিলের ওপর নোড়ার ঘষা লেগে এক আওয়াজ হতে থাকে—বসে বসে তাই শুনতে থাকি। দোরগোড়ায় এক ভিখিরি এসে অনেকক্ষণ ধরে অনেক দোয়া-দরুদ পড়ল, তারপর অনেকখানি চাল পেয়ে চলে গেল। গলিতে ছেলেরা টেনিস বল দিয়ে ফুটবল খেলছে, সেটা এসে পড়ল চৌবাচ্চার পানিতে। বলের পরই ছুটে এলো দু’একটি ছেলে; কনিজ দূর দূর করে আবার তেড়ে এলো এবং বলটি ছুঁড়ে আবার পথে ফেলে দিল।

    পরক্ষণেই ছেলেরাও উধাও।

    —একটা কথা বলব ছোট ফুপু?

    —কি কথা মা!

    —তুমি যদি আমার মা হতে।

    ছোট ফুপু তাঁর সেই তেল আর নেবুর খোসা মাখা হাত তুলে আমার মাথাটি তাঁর কোলের ওপর টেনে নিলেন।

    আমাদের কারো মুখে কোনো কথা নেই।

    সেই রমজান মাসের পয়লা তারিখ থেকেই ছোট ফুপুর সঙ্গে বেশ ভাব হয়ে গিয়েছিল। এখন রীতিমতো অন্তরঙ্গতা। বয়স এবং সম্পর্কের দিক দিয়ে ছোট ফুপু আমার উপরের সোপানে; তবু আমাদের কথায়-আলাপে দুই সখির সখ্যের সুর বাজত। মাঝে মাঝে আমার মুখ দিয়ে এমন দু’একটা বেফাঁস কথা বেরিয়ে যেত যা সখিকে বলা চলে কিন্তু ফুপুকে বলা চলে না। ছোট ফুপু ঠিক যে পছন্দ করতেন তা নয়। কিন্তু গায়েও মাখতেন না। তাঁর মুখের হাসিটি অম্লান থাকত; সহনশীলতাও অনেক সময় হাস্যের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পায়।

    শীতের দুপুর। ছোট ফুপু উঠোনের এক ছায়াশীতল অংশে বসেছিলেন কেবল দুটি পা সম্মুখের রৌদ্রের দিকে প্রসারিত। শীত-দুপুরের রোদ তাঁর পায়ের ওপর আচ্ছাদনের মতো লম্বিত। আমি তাঁর পিছনে বসে তাঁর মাথায় উকুন আবিষ্কারের চেষ্টা করছিলাম।

    —ছোট ফুপু, ফুপাকে তোমার মনে পড়ে?

    –পড়ে বইকি মা।

    —মানে, আমি বলছিলাম কি। তোমার বয়স তো খুব কম। ফুপাও বছর না ঘুরতেই গেলেন মারা। বেশি কথা জমতে পারল কোথায় যে মনে পড়বে।

    —বয়স কম কেন হবে মা। এক ছেলের মা, তার বয়সের কি গাছপাথর আছে।

    —আচ্ছা। তাহলে আজ ফুপার কথাই বল। তার আগে বল তোমাদের গ্রামের কথা।

    ধান মিয়া ফুপার নাম। তাঁর দেশ শিরগাঁ; কিন্তু তিনি ফরিদপুরের একটি গ্রামের মাদ্রাসায় মৌলবী ছিলেন। বিয়ের পর ছোট ফুপু সেই গ্রামেই থাকতেন; সঙ্গে ছিলেন শাশুড়ি।

    গ্রামটা ছোট। কিন্তু কি কারণে কেউ বলতে পারবে না, সেখানে একটা রেল স্টেশন ছিল। সারা দিনে একটি আপ আর একটি ডাউন ট্রেন সেই স্টেশনে দাঁড়াত। লোক ওঠানামা করে, চেনা মুখই বেশি।

    —রাজবাড়ির হাকিমের আদালতে মালা-মোকদ্দমা-সাক্ষীসাবুদ, এইসব কাজ সেরে ফিরে আসে। মাঝে মাঝে কেরোসিন কোম্পানির সাহেবদেরকেও যাতায়াত করতে দেখা যায়। তাঁরা এজেন্সি পরিদর্শন করেন—ডিপোর তদারকি। বাড়িতে বসেই মুদির দোকানে চাবি মার্কা কেরোসিনের সাইন বোর্ড দেখা যায়। ট্রেনের যাতায়াত আর যাত্রীদের আনাগোনা একটা উৎসবের মতো মনে হয়। গ্রামে একটি ছোটখাটো হাসপাতালও আছে। আশেপাশের বহু গ্রাম থেকে আসে ম্যালেরিয়া রোগী, বেঞ্চির ওপর বসে হাঁপায়। হাতে কুইনাইন এবং কখনো-বা লাল নীল হলুদ বর্ণের মিকশ্চার নিয়ে আবার ফিরে যায়। গ্রামে একটা মাদ্রাসা আছে, একটা পাঠশালা আছে। ছেলেরা সেখানে মাথা দোলাতে দোলাতে আমপারা আর ধারাপাত মুখস্থ করে।

    গ্রামের প্রধান সড়ক দুটিও কাঁচা। সেখানে দিনের বেলা বড় বড় চাকার দাগ কেটে গরুর গাড়ি চলে। সন্ধাবেলা গরুর পাল ধুলা উড়িয়ে ঘণ্টা বাজিয়ে গোয়ালে ফিরে আসে। মাঝে মাঝে সেই সড়ক দিয়েই সকাল-সন্ধ্যায় কেরোসিন কোম্পানির সাহেবদের মোটর গাড়ি ছুটে যায়। ট্রেন আসবার কিছু আগে স্টেশন মাস্টারকেও দেখা যায়, গেঞ্জির ওপর কোট চড়াতে চড়াতে ব্যস্ত হয়ে ছুটছেন। দু’ক্রোশ দূরে একটি থানা আছে। আসামিদের কোমর বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়, তাদের পিছনে পিছনে বহুদূর পর্যন্ত কৌতূহলী ছেলেমেয়ের দল ছুটে যায়। বাড়ির মেয়েরাও দরজার কাছে এসে ভিড় করে দাঁড়ায়। ঘোষাল সকালবেলা বাঁশের দুই পাশে দড়িতে হাঁড়ি ঝুলিয়ে লাফাতে লাফাতে চলে; ছোট ফুপুরা তাকে ডেকে এনে মাঠা কিনবেন গল্প করবেন। গল্প করাটাই ছোট ফুপুর আসল উদ্দেশ্য; বিকিকিনিটা অছিলা মাত্র। ঘোষাল সহজে ছুটি পেত না। কাছাকাছি ছিল এক বাঁশবন। এখন আছে কি না বলা যায় না; সেখানে ধান ভাঙার কল বসবে কথা হচ্ছিল। সেই বাঁশবনের মাথায় বর্ষাকালে বাজ পড়ত আর গোটা বনটাই পানিতে থৈ-থৈ করত। সাপ তাড়া করত ব্যাঙকে; ব্যাঙ মারত লাফ। ছোট ছোট গাছের পাতার নিচে ফড়িং থাকত লুকিয়ে। বর্ষাকালে বাগ্দী পাড়ার ছেলেরা ডিঙি বেয়ে এই বাঁশবন পর্যন্ত আসতে পারত।

    —ফুপা থাকতেন কোথায়?

    —ঐ যে বললাম হাসপাতালের পাঁজর বের করা বেঞ্চিগুলোর কথা—সেইখানে।

    হাসি নয়, সত্যি করে বল।

    সত্যিই বলছি। উনি ছিলেন বাতের রোগী। তার ওপর ছিল হাঁপানি।

    তাঁকে সকাল-সন্ধ্যা হাসপাতালে যেতে হতো।

    তুমি কি করতে?

    আমি? বাঁশবনের কাছে একটা গাছের গুঁড়িতে চুপ করে বসে থাকতাম। পায়ের নিচ দিয়ে বর্ষার পানিতে খড়কুটা ভেসে যেত। পা দিয়ে তাই নাড়তাম।

    এইভাবেই সারা দিন কাটত?

    এইভাবেই বহু সময় কাটত। মাঝে মাঝে তোমার ফুপা সন্ধ্যাবেলা হাসপাতাল থেকে ফিরবার সময় আমাকে ঐভাবে চুপ করে বসে থাকতে দেখতেন। বলতেন : বউ বাড়ি ফিরবে না!

    ফস করে আমার মুখ দিয়ে এই প্রশ্নটি বেরিয়ে এলো : একটা সত্যি কথা বলবে? ফুপার মুখের বউ ডাক তোমার ভালো লাগত?

    ছোট ফুপু, একটু অবাক হলেন; কিন্তু আমার প্রশ্নের কোনো জবাবই দিলেন না। তাঁর পূর্ব কথারই খেই ধরে বললেন : এই স্মৃতিটুকু নিয়েই তো বেঁচে আছি।

    আবার এক অদ্ভুত প্রশ্ন করে বসলাম : সত্যি তুমি বেঁচে আছ?

    ছোট ফুপুর চোখমুখ চকিত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল।

    চৌবাচ্চার পানি একটি কোণ দিয়ে উপচে গড়িয়ে একটি ক্ষীণ ধারার মতো ছোট ফুপুর প্রসারিত পায়ের কাছ দিয়ে বয়ে নর্দমায় গিয়ে পড়ছে।

    সেই ক্ষীণ স্রোতের পথে শ্যাওলা পড়ে গেছে।

    ছোট ফুপু আর কোনো কথা বললেন না। তাঁর পায়ের একটি আঙুল দিয়ে সেই সিক্ত ধারার ওপর আঁচড় কাটতে লাগলেন।

    আমাদের এমন ধারা সভা প্রায়ই বসত। ছোট ফুপু আর ছোট ফুপা সম্পর্কেও অনেক কথা একটু একটু করে জেনে নিলাম। ছোট ফুপু আরবি আর ফার্সি পড়েছেন—ইংরেজি একেবারেই না; বাংলা তিনি ভালোই জানেন। প্রথম বয়সে যেসব বই পড়েছেন আজও সেগুলোর কথা তাঁর মনে পড়ে। মেঘনাদবধ কাব্য, বায়াজিদ বোস্তামি, হুতোম প্যাঁচার নকশা, বিষাদ সিন্ধু, আনোয়ারা, আবদুল্লা, বিষবৃক্ষ, উদ্‌ভ্রান্ত প্রেম, বিষের বাঁশি—এবং এ সব কটি গ্রন্থই নির্বিশেষে তাঁর সমান ভালো লেগেছিল।

    ছোট ফুপা ছিলেন মাদ্রাসার মৌলবী সাহেব। তাছাড়া তিনি বাড়িতে বাড়িতে মিলাদও পড়তেন। ফুপার আরবি, ফার্সির জ্ঞান, মান মর্যাদা, শ্মশ্রুগুঙ্কের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-সিন্দুকে রাখা টাকাকড়ি এবং সর্বোপরি বয়স—সবকিছুই ছোট ফুপুর প্রয়োজনের তুলনায় বড্ড বেশি ছিল।

    অবশ্য ছোট ফুপুকে তিনি সর্বপ্রযত্নে সর্বপ্রকার অভাবের ঊর্ধ্বে ধরে রাখবার চেষ্টা করেই গিয়েছেন। নতুন শাড়ি রঙবেরঙের চুড়ি, সোনাদানা সবকিছুই দিনের পর দিন আসতেই থাকে; ছোট ফুপুর মনের বস্তায় একটা একটা করে তা জমাও হতে থাকে। কখনো যে তার বেশি কিছু হয়েছে আমার মনে হয় না।

    রাত্রি যখন তার কালো ছায়া ফেলে আসত মৃত্যুর মতো অনিবার্য নিয়মে, মাটির ঘরে একটি খাটের ওপর প্রদীপের সামনে পা গুটিয়ে বসে থেকে ছোট ফুপু তখন শুধু কাঁপতে থাকতেন; প্রদীপ শিখাটির মতো কাঁপতেন, পিছনের বাঁশ ঝাড়ের মতো কাঁপতেন, কাঁপতেন অরণ্যের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া এক বালিকার মতো।

    নিত্য ঠিক সেই সময়টাতেই দরজার কাছে ফুপার লম্বা ছায়া পড়ত। ফুপা দাড়িতে নিয়মিত মেহেদি লাগাতেন। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে দাড়িতে আস্তে আস্তে হাত বুলাতে থাকতেন, আর স্থির চোখে চুপ করে বসে থাকা ছোট ফুপুর সারা শরীরের ওপর তাঁর নজর নিতেন বুলিয়ে। মুখে তাঁর এক বিচিত্র হাসি।

    খাটে ভয়ের এক কুণ্ডলীর মতো ছোট ফুপু আছেন বসে আর দরজার কাছে ফুপা স্থির হয়ে আছেন দাঁড়িয়ে—তাঁর মুখে সেই হাসি তাঁর চোখে সেই দৃষ্টি—এইভাবেই বহুক্ষণ যেত কেটে।

    তারপর এক সময় ধান মিয়া ফুঁ দিয়ে বাতি দিতেন নিভিয়ে।

    ঠিক এইভাবেই কি ছোট ফুপু তাঁর বিবাহিত জীবনের গল্প করতেন? না। তবু তাঁর শতপ্রকার সতর্কতার বেড়া সত্ত্বেও, যে ছবিটি আত্মপ্রকাশ করত তা এই। গল্প করতে করতে তাঁর মুখের ওপর একটি কালো ছায়া ঘনিয়ে আসত; তখনো-বা কপালে দেখা দিত বিন্দু ঘাম।

    তবে গ্রামের একটি অভিজ্ঞতা তাঁর খুবই ভালো লাগত। সে হচ্ছে পূর্ণিমা রাত।

    কেমন করে বড় বড় গাছের মাথার ওপর, বাড়ির ছাতে, চোখে-মুখে, পাকা ধানের মরাইয়ে তাল গাছের পাতার ফাঁকে পূর্ণিমার আলো গলিত স্বর্ণের মতো ঝরঝরঝর করে ঝরতে থাকে সে কথা বলতে গিয়ে তাঁর দুটি চোখ উদ্ভাসিত হয়ে উঠত। মাটির ঘর, পাশ দিয়েই একটা নৰ্দমা চলে গেছে। সেখানেই একটি গরু বাঁধা থাকত। নর্দমার কালো পানিতেও জ্যোৎস্না চকচক করত। সেই নোংরা পানিও যেন তখন গরুর দুটি শান্ত চোখের মতোই গভীর; গরুর চোখ দুটিতে, তার মুখের খড়েও জ্যোৎস্না সোনার মতো লেগে থেকে চিকচিক করত। গরু নিরুপদ্রব শান্তিতে দাঁড়িয়ে থাকত, শুধু মাঝে মাঝে পা ঠুকে তাকে মশা তাড়াতে হতো।

    ছোট ফুপু এবং অন্য গ্রাম্যবধূরা অনেক রাত পর্যন্ত আঙিনায় বসে গল্প করতেন। কারো মুখে রূপকথা; কেউ-বা শোনাতেন শৈশবের স্মৃতিকথা। কারো নিন্দা নয়, অমঙ্গল চিন্তা নয়; পরচর্চা নয়—সেসব দ্বিপ্রহরের প্রখর মুহূর্তগুলোর জন্য। গৃহস্বামীরা আহারের জন্য তাড়া দিতেন না। তাঁরা একটু দূরে হাত-পা ছড়িয়ে বসে থাকতেন দল বেঁধে, মুখে হুঁকো বা বিড়ি এবং মাঝে মাঝে একটি কি দুটি অলস মন্তব্যের বুদ্বুদ। মেয়েদের কানে পুরুষদের আধখানা কথা ভেসে আসত; পুরুষরাও শুনতেন চুড়ির একটুখানি শব্দ। তাঁদের মাঝখানে জ্যোৎস্নার মসৃণ আস্বচ্ছ পর্দা ঝুলতে থাকত—এবং তারই আবরণ ভেদ করে দিনের কর্মব্যস্ত ঘর্মাক্ত- কলেবর উষ্ণমেজাজ মানুষটিকে এই সময় একটু কোমল রহস্যময়, একটু কাঙ্ক্ষিতই মনে হতো। ডোমপাড়ার শূকরও চারদিক ঘুরে এসে এই নর্দমার পাশে দাঁড়াত, চুকচুক করে নর্দমার পানি খেত। এই চুকচুক শব্দটিও নিস্তব্ধ রাত্রে কানে বড় মিঠে লাগত। আমগাছের ঘন পল্লবের মধ্যে বসে হঠাৎ একটি কাক উঠত ডেকে। সুপুরি গাছটির ওপর জ্যোৎস্নার বন্যা চুইয়ে চুইয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে, লাফিয়ে লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে গিয়ে পানিতে। সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সাদা বিড়ালটিকে মনে হয় পিতলের।

    ভালো লাগে, সবকিছু ভালো লাগে।

    তবু ধান মিয়াকে ছোট ফুপুর ভালো লাগে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleলাঞ্চ বক্স – রশীদ করীম
    Next Article উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    Related Articles

    রশীদ করীম

    উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    রশীদ করীম

    লাঞ্চ বক্স – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Our Picks

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026

    উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    August 5, 2026

    প্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }