Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026

    উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    August 5, 2026

    প্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম

    রশীদ করীম এক পাতা গল্প258 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রসন্ন পাষাণ – ৫

    পাঁচ

    আমার এই কাহিনী অত্যন্ত বিলম্বিত লয়ে বাদ্যি বাজাচ্ছে। প্রথমত স্মৃতির নকশি কাঁথা তৈরি করা সহজ কর্ম নয়; তদুপরি আমার সমস্যা এই যে, গুছিয়ে নিটোল করে একটা কাহিনী উপস্থিত করব সে বিদ্যা বা অনুশীলন কোনোটাই আমার নেই। বিগত জীবনের ঘটনাবলির বৃত্তটির সূত্র খুলতে বসে দেখতে পাই, যতদূর চোখ যায় কেবলই ছোট বড় ঘটনার ছোট বড় তরঙ্গ। কতটা বলতে হবে, এবং কতটা না বললেও চলে—বরং বলাটাই চলে না—সেটাও আমি ঠিকমতো বুঝতে পারি না।

    তাছাড়া আরো একটা অসুবিধা আছে। সংসারের বিভিন্ন কাজের অবসরে অত্যন্ত নিভৃতে এবং অতিশয় সঙ্গোপনে আমাকে এই সাহিত্য সাধনা করতে হচ্ছে; অবশ্য সাহিত্য সাধনার মতো একটা কঠিন নাম যদি এই অধ্যবসায়কে দেয়া যায়। একজন বিখ্যাত মহিলা লেখিকার একটি বই পড়েছিলাম : এ রুম অফ ওয়ান্‌স ওউন। বিশ্বের ইতিহাসে মহিলাদের ভূমিকা আরো বিশিষ্ট কেন হয় নি লেখিকা বিস্তৃতভাবে তারই আলোচনা করেছেন। অবশ্য সেই একই জিকির তোলা এই আখ্যায়িকার উদ্দেশ্য নয়! তবু অতিশয় বিনয়ের সঙ্গে কতিপয় অসুবিধার কথা উল্লেখ করব—যদিচ ছেলেবেলা থেকেই আমার নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র কক্ষ নির্দিষ্ট ছিল, একান্ত আপনার এক জগৎ।

    আমার এক পরমাত্মীয়কে আমার এই শিল্পকর্মে উৎসাহিত করতে চেষ্টা করেছিলাম। বড় আশা ছিল, তিনি আমার এই দিগ্বিদিকহীন কাহিনীটিকে নির্দিষ্ট বন্দরে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবেন। রাত্রিবেলা। বন্ধুর সঙ্গে সন্ধ্যার শো’তে সিনেমা দেখে একটু আগেই তিনি ফিরেছেন। এইমাত্র আহার সেরে মুখে একটি পান পুরে সেদিনের খবরের কাগজটি চোখের সামনে মেলে ধরে তিনি বিছানায় আশ্রয় নিয়েছেন। এমন সময় আমার ভীরু দুটি হাত এই পাণ্ডুলিপির কিয়দংশ তাঁর দিকে এগিয়ে দিল। হস্তস্থিতের তুলনায় হস্তের প্রতি তাঁর যে রকম নিষ্ঠা দেখলাম তাতে আমার রাগ হতে পারত, তবে কিনা হস্তটিও তো আমারই। তাই তাঁর দৃষ্টির এই লক্ষ্যভ্রম আমাকে সেভাবে দংশন করতে পারল না। পাণ্ডুলিপিটা কিছুকাল নাড়াচাড়া করে আমার হাতে ফিরিয়ে দিলেন। বাঃ বেশ হচ্ছে, এই বলে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লেন।

    দিনেরবেলা লিখতে বসা আরো অসম্ভব; কারণ আমি জানি আমার এই কাজটিকে কেউ সুনজরে দেখবেন না। এমনকি আমার নিজেও এ ব্যাপারে এক অদ্ভুত অপরাধবোধ ছিল। নাটক-উপন্যাসের মতো এমন অনাবশ্যক—এমনকি অবাঞ্ছিত বস্তুর জন্য সংসারের ময়দা পেশা ও ডালে বাঘার দেওয়ার মতো অপরিহার্য কর্তব্যগুলোতে শিথিলতা দেখা দিলে সে ত্রুটি কেউ ক্ষমা করবেন না। সবচাইতে মজার কথা, আমি নিজেও করব না। তাই অন্যসব প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে এই অপ্রয়োজনের দায় সারতে বসি। কিন্তু এইভাবে বসবার সময়টুকু অফুরন্ত নয়। তাই একদিন লিখতে বসবার পর বেশ কিছুদিনের ফাঁকের মধ্যে মনটি হারিয়ে যায়। যে মন নিয়ে আজ লেখা শেষ করে উঠলাম, পরের বার লিখতে বসে সেই মনটিকে আর খুঁজে পাই না। বিগত দিনের লেখনীতে বাঁশরির যে সুর বেজেছিল, পরবর্তী দিনের রচনায় তার রেশটুকু আর লাগে না। ঘটনাগুলোকে যেন কেমন নির্লিপ্ত, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যে স্বতন্ত্র মনে হয়, একটি থেকে আর একটি যেন মুখ ফিরিয়ে থাকে, ঘটনাগুলো যেন বিভিন্ন দিক থেকে একে অপরকে ঠেলা দিচ্ছে—সবগুলো মিলে ঐকতানের ঐক্য বাজে না।

    সুতরাং আর অধিক অগ্রসর হতে কোনো পাঠক যদি অনিচ্ছুক হন, তাঁকে দোষ দেব না। এ উপন্যাস তাঁর না পড়লেও চলবে; কিন্তু এ কাহিনী না লিখলে আমার চলবে না।

    ভাবতে অবাক লাগে, এই আমাদের মেয়ের মন, কি যে চায় আর না চায়। কি যে চায় তা কি ছাই জানে। আমিই-বা কি চেয়েছিলাম? রাঙা টুকটুকে বর? ফুটফুটে ঘর? সচ্ছল সংসার? প্ৰেম?

    ঠিকমতো কিছুই বলতে পারব না। মানুষের চাওয়ার কি শেষ আছে। প্রত্যাশার সমগ্র চেহারাটাই কি সে দেখতে পায়। কোনো মানুষের পক্ষেই কি আত্মহারার মতো সুখী হওয়া সম্ভব। কোনো একটা বেদনা, যার রূপ নেই, ঠিকানা নেই সর্বক্ষণই মনের মধ্যে পাখির পায়ের শিকলের মতো বাজতেই থাকে। তাছাড়া চিরটাকাল কি মানুষ একই জিনিস চায়। কাম্যবস্তুরও তো পরিবর্তন-সংশোধন আছে।

    একদিনের কথা বেশ মনে পড়ে। তখন আমার বেশ বয়স হয়েছে। কোনো একটি মফস্বল টাউনে তখন থাকি। এখন এর বেশি কিছু বলা কাহিনীর স্বার্থে ঠিক হবে না।

    আকাশে মেঘ করে এসেছে। রাতও বেশ গভীর। শীত শীত করছিল, গায়ে চাদরটি ভালো করে জড়িয়ে নিয়েছি। পথিপার্শ্বের দোকানগুলো ঝাঁপি বন্ধ করছে। কাঁচা সড়কে লোক চলাচল বিরল। ঝিঁঝির অবিশ্রান্ত ডাকে নিশীথের অন্ধকার আকম্পিত। ক্বচিৎ অতি দূর থেকে দুই পথিকের কণ্ঠস্বর ভেসে আসে। তাদের খণ্ড আলাপের শব্দ এই পরিবেশে সর্বাঙ্গে জীবনের এক আশ্চর্য উষ্ণতা মেখে দিয়ে যায়। এমন সময় বারান্দায় একটি ইজিচেয়ারে অন্ধকারে শুয়ে থেকে দেখতে পাই, একটি গরুর গাড়ি, একটিমাত্র গরুর গাড়ি, চাকার ক্যাচারম্যাচর শব্দ তুলে এগিয়ে যাচ্ছে। চাকার একটু উপরেই একটি লণ্ঠন বাঁধা; চালকের আপাদমস্তক একটা সাদা কাঁথায় ঢাকা, তার কণ্ঠে একটি বাউল গান। গরু চলছে আপন মনে, চালকও আপন মনে গাইছে। লণ্ঠনটি ঝাঁকানিতে দুলছে, শিখাটি বাতাসে কাঁপছে। দু’পাশের ঝোপঝাড় থেকে ব্যাঙের ডাক ভেসে আসছে।

    হঠাৎ আমার সর্বশরীরে এক কাঁপুনি থরথর করতে লাগল। সেই লণ্ঠনের শিখার মতো সুন্দর দৃশ্য আমি যেন আর দেখি নি। অমন মর্মস্পর্শী গানও যেন আর কখনো শুনি নি। গরুর গাড়ির চাকার আওয়াজ তাও কানে মধুর লাগে। এমনকি কাদার বুকে বড় বড় চাকার দাগ দেখেও আবেগে মন ভরে যায়।

    মনে হলো গরুর গাড়ির চালকের মতো সুখী উদার নিস্পৃহ নিষ্কাম নির্লোভ ব্যক্তি যেন সারা দুনিয়ায় আর নেই। এবং সেই মুহূর্তে এক অসহ্য সুখে আমার সারা শরীর যেন অবশ হয়ে এলো। মনে হলো, সেই মুহূর্তে বিশ্ববিধাতা যেন আমার সম্মুখে এসে দাঁড়ালেন।

    সেই রাত্রের মতো সুখানুভূতির অভিজ্ঞতা আমার জীবনে কমই হয়েছে। তাই বলছিলাম, মানুষের মন কি যে চায় সে কি নিজেই তা জানে। অন্তত আমার নিজের মন কি যে চায় তার সমগ্র চেহারাটা আমি জানি না।

    সংসারের সুখ-দুঃখ বেদনার কারণগুলো সবসময় আমাকে তেমনভাবে স্পর্শ করে না। ফুল ফোটে, পাতা ঝরে, পাখি গান গায়, আত্মীয় বিয়োগের সংবাদ আসে কিন্তু আমার মনে হয় এসব কিছুই আমার সত্তার বাহিরের এক রঙ্গমঞ্চের লীলাখেলা, আমার সঙ্গে সম্পর্কহীন। আমি খাই দাই ঘুরে বেড়াই, আর মাঝে মাঝে অনুভব করি আমার মনটি এক জায়গায় স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে—তার যেন ঠিকমতো পরিণতি হচ্ছে না। মনটি যেন কি সব স্বপ্ন নিয়ে পুতুল খেলা খেলছে, মনটিও অসম্বত, স্বপ্নগুলোও নিরাকার। তা বলে আমি খামখেয়ালি নই, হৃদয়হীনও নই। আমাকে আত্মকেন্দ্রিক বললেও অবিচার করা হবে। তবু কিছুই আমাকে নিবিড়ভাবে স্পর্শ করতে পারে না। যা চোখের সামনে ঘটছে তা অল্পক্ষণের জন্য হাসিয়ে আর কাঁদিয়ে ফুলঝুরির মতো শেষ হয়ে যাবে। এসবে আমার প্রয়োজন নেই।

    আবার ছোট ছোট নিতান্তই তাৎপর্যহীন ঘটনায় আমার মনটা এমন প্রবলভাবে নাড়া খেয়ে উন্মুখ হয়ে ওঠে যে তাও এক আশ্চর্য ব্যাপার।

    তরীর পাল দেখে, বাঁশবনের ঝাড় দেখে, গ্রাম্যবধূর মাথার ঘোমটা দেখে, আকাশে একখণ্ড মেঘ দেখে আমি মাঝে মাঝে এমন দিশেহারা হয়ে যাই যে তাও অবিশ্বাস্য মনে হবে।

    তোমরা মনে করো না নিজকে অসামান্যরূপে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য আমি এই কথার সাজি সাজিয়ে এনেছি। আমার মতো সামান্যা দুটি মিলবে না। কিন্তু কেমন করে যেন আমার মনটির ব্যবহার সৃষ্টিছাড়া হয়ে যায়। এবং তখুনি আমাকে নিয়ে হয় বিপদ।

    কামিল কতদিন ধরে আমাদের এখানেই আছে, তবু তাকে আমার চোখেই পড়ে নি। সে স্কুল যায়, ফিরে আসে, হাত-পা ধুয়ে নাশতা করে নেয়—তারপর বেরিয়ে পড়ে। আবার পায়ে ধুলাবালি মেখে ফিরে আসে, আর একবার হাত-মুখ ধোয়া, তারপর সেই যে তাদের ঘরে প্রবেশ করে পরদিন সকালের আগে আর তাকে দেখাই যায় না। সে যে দেখতে ভালো তা কোনোদিন মনে হয় নি, তাকে যে দু’চোখে তুলে একবার দেখা চলে তাও কখনো মনে হয় নি। কতদিন তো হলো তারা এসেছে। তার মা-র প্রতি একটা দুর্নিবার আকর্ষণ বরং বারবার আমাকে তাদের ঘরের দোরগোড়া পর্যন্ত টেনে এনেছে; কিন্তু কামিলকে কোনোদিনই আমার চোখে পড়ে নি। অর্থাৎ আমার মনের চোখে।

    কোনো কোনো লোক আছে যাদের একটি বিশেষ পটভূমি বা পরিবেশের পরিপ্রেক্ষিতে না দেখলে তাদের সত্যকার দেখাই হয় না। তাদের রূপই বল, ব্যক্তিত্বই বল, মানসিক ঐশ্বর্যই বল, তাদের মনের স্বরূপই বল, সেই বিশেষ পটভূমিতে না দেখলে দেখাই হয় না। এই পরিবেশটুকুর অভাবে ব্যক্তির স্বরূপ তার নিজের ও পরের কাছে অনাবিষ্কৃত থেকে যায়।

    সেদিন অনেক রাত হয়ে গেছে। বাড়ির সকলেই খাওয়াদাওয়া সেরে শয্যা নিয়েছেন। এমনকি ছোট চাচাও ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমিও বাতি নিভিয়ে খাটে এসে শুয়ে পড়েছি। এমন সময় একটা মিহি মিঠে আওয়াজ এলো কানে। কণ্ঠটি পরিচিত মনে হলো; কিন্তু চেনা মুখ দেখেও যেমন অনেক সময় কিছুতেই মনে পড়ে না, কোথায় দেখেছি, তেমনি আওয়াজটি যে কোথায় শুনেছি তাও ঠাহর করতে পারছিলাম না। কণ্ঠটি দরাজ নয়, কেমন যেন ভীরু সলজ্জ, প্রদীপ শিখার মতো অনিশ্চিত কম্প্র।

    আমি বিছানা ছেড়ে উঠে পড়লাম। অন্ধকারেই পা টিপে টিপে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেবে এলাম। মিঠে আওয়াজটি যেন ত্রস্ত হরিণী, পদশব্দে যার পলায়ন নিশ্চিত।

    সিঁড়ির নিচে অন্ধকার কোণটিতে এসে দাঁড়ালাম।

    ছোট ফুপুর ঘরের একটি কবাট খোলা। ভিতরে লণ্ঠন জ্বলছে।

    তিনি পড়ছেন :

    শুলশন মে নহি ও’হ গুলে রানা কাঈ দিন সে
    বেচইনিমে হ্যয় বুলবুলে শায়দা কাঈ দিন সে
    রানজিদে নজর আতে হঁয় মওলা কাঈ দিন সে
    কিয়া কহরে হায় আল্লা হো তালা কাঈ দিন সে

    ছোট ফুপু তাঁর কণ্ঠের মর্মস্পর্শী আবেদন দিয়ে রাত্রির অন্ধকারের দুয়ার খুলতে চান— আলোক দেখবার আশায়। তাঁর স্বরে এক বেদনাবিদ্ধ আকুলতা ছিল। নিস্তব্ধ প্রহরের অবকাশে তিনি তাঁর আল্লাহকে তাঁর মওলানাকে স্মরণ করছেন, না কি তাঁর হৃদয়ের অন্তঃস্থিত কোনো ফরিয়াদ আছে যা তিনি খোদাতায়ালার দরবারে পৌঁছে দিতে চান? বড় ইচ্ছে করতে লাগল, তাঁর কোলের কাছে বসে পড়ে আমিও তাঁর ধর্মাচরণের অংশ নিই। কিন্তু দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারলাম না। দরজার আড়ালে তাঁদের দৃষ্টির অন্তরালে দাঁড়িয়েই থাকলাম। কামিল তাঁর কোল ঘেঁষে মাদুরের ওপর শুয়েছিল। তার চোখে-মুখে দিনের অস্থিরতা নেই। চঞ্চলতার ছোট ছোট বুদ্বুদগুলো তার চোখমুখের অভিব্যক্তিকে এখন আর আকীর্ণ করে নেই, সেখানে এখন গভীর দিঘির স্তব্ধতা। লণ্ঠনের আলো সরাসরিভাবে তার চোখের ওপর এসে পড়েছে, সেখানে কিসের যেন তন্ময়তা। কামিলের নিস্তরঙ্গ দেহটিকে ভাস্করের এক মূর্তির মতো মনে হচ্ছিল। তাকে আমি সেই প্রথম দেখলাম।

    এমনও হতে পারে আমার নিজের মনটাই তখন এক বিশেষ তারে বাঁধা ছিল। আমি হয়তো আমার হৃদয়ের বর্ণ দিয়েই কক্ষটিকে রাঙিয়ে তুলেছিলাম। তবু সেই কক্ষটির পরিবেশ বড়ই লোভনীয় মনে হলো।

    তেমনি নিঃশব্দেই আবার ওপরে উঠে এলাম। দেখলাম ছোট চাচাও অন্ধকারে রেলিং ধরে সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। সেই মুহূর্তেই হঠাৎ ফুপুজানের ঘরের দরজাও খুলল। ছোট চাচা একটি কথাও বললেন না, তাঁর ঘরে গিয়ে প্রবেশ করলেন। ফুপুজানও আবার তাঁর ঘরের দরজা বন্ধ করলেন; কিন্তু বেশ একটু শব্দ তুলে। শব্দটিতে কিসের যেন প্রতিবাদ ছিল।

    বিছানায় পড়ে থাকলাম। চোখে ঘুম নেই। এক সময় শুনতে পেলাম, কোথায় ঢংঢংঢং করে বারোটা বাজল।

    নির্জন পথ দিয়ে একটি রিকশাও চলে গেল ঠুং ঠুং করে। নিস্তব্ধ প্রহরে এইসব ছোট্ট ছোট্ট শব্দের বুদ্বুদ মানুষের মনকে সঙ্গ দেয়। হঠাৎ সংবিৎ ফিরে আসে যে বেঁচে আছি, জীবলোকের মধ্যে, জীবিত লোকের মধ্যেই আছি।

    তোমরা বলবে, সেদিন রাত্রিবেলা এক ভদ্রমহিলা ধর্মচর্চা করছিলেন, এই কর্মের মধ্যে তুমি নতুন কি জিনিস আবিষ্কার করলে যে তাই তোমার জীবনের এক গভীর অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল? এমন তো কতই দেখা যায়, কিন্তু ক’জন মনে রাখে, আর ক’দিনই-বা মনে রাখে?

    তা ঠিক। কিন্তু একই ঘটনা বিভিন্ন মুহূর্তে বিভিন্ন পরিবেশে মানব হৃদয়ের এক বিশেষ গ্রহণশীল অবস্থায় এক বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে। আমার মন হয়তো তখন গ্রহণ করবার জন্যই উন্মুখ হয়ে ছিল, তাই হৃদয়ের তারে সঠিক সুরটি বেজে উঠল।

    তাছাড়া ছোট ফুপুর আবৃত্তি শব্দগুলোর মধ্যে যে বক্তব্য ছিল তার মধ্যকার বেদনাবোধ ছাড়াও, তাঁর কণ্ঠে এমন কিছু ছিল যা তাঁর উচ্চারিত বাণীতে এক শব্দাতীত ব্যঞ্জনাদান করতে সমর্থ হয়েছিল। ছোট ফুপুর মনের মধ্যে কি ছিল জানি না, হয়তো তিনি নিজেও জানতেন না; কিন্তু মনের এমন অনেক আকুতি আছে ভাষায় যার প্রতিরূপ ঠিকমতো আসে না। মনের কথা মুখের ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। কেবল কণ্ঠের ব্যঞ্জনায় চোখের চাউনিতে হাতের একটি আক্ষেপে অথবা হয়তো মুখের একটি রেখায় সেইভাবই বাঙময় হয়ে ওঠে। ছোট ফুপুর আবৃত্তি আমার বুকে এক প্রচণ্ড ধাক্কা মারল এই কারণে যে আমি সেদিন এক ভাষাতীত ভাষা শুনলাম বা শুনলাম বলে কল্পনা করলাম, যা হঠাৎ আমার মনের দিগন্তকে সূর্যালোকের মতোই উদ্‌ভাসিত করে তুলল। শিল্পী তার পটে এমন এক বর্ণের প্রলেপ দিতে চায় যে বর্ণের কোনো অস্তিত্বই নেই, আছে কেবল তার মানসলোকে। তেমনি অনেক ভাব আছে যার কোনো ভাষা নেই। তখন ইঙ্গিত আর সঙ্গীতই একমাত্র আশ্রয়।

    সেই রাত্রে সেই সঙ্গীত আমার হৃদয়কে স্পর্শ করে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleলাঞ্চ বক্স – রশীদ করীম
    Next Article উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    Related Articles

    রশীদ করীম

    উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    রশীদ করীম

    লাঞ্চ বক্স – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Our Picks

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026

    উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    August 5, 2026

    প্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }