Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026

    উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    August 5, 2026

    প্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম

    রশীদ করীম এক পাতা গল্প258 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রসন্ন পাষাণ – ৩০

    ৩০

    বৃষ্টি আর বৃষ্টি আর বৃষ্টি। বিছানা, মেঝে, আসবাব সব ভিজে গেল। তবু আমি চুপ করে বসেই আছি। আমার চোখমুখ, শাড়ি-ব্লাউজ, সব ভিজে গেল, তবু আমার হুঁশ নেই। কেবল একটানা ঝমঝমঝম শব্দ শুনতে পাই, আর কিছুই চোখে পড়তে চায় না। পথঘাট জনশূন্য। ল্যাম্পপোস্ট দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিজছে, পাঠশালার ছেলে যেভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মার খায়। কুকুরটি সামনের বাড়ির রাস্তার দিকে বারান্দার ওপর উঠে লেজ গুটিয়ে বসে আছে। দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যেন হঠাৎ গেছে স্থগিত হয়ে। সমস্ত সংসারটাই হাত গুটিয়ে আছে বসে। এ যেন বহির্বিশ্বের কোনো এক শত্রুর অতর্কিত আক্রমণ—কবে তার তাণ্ড বলীলা শেষ হবে কে জানে।

    কিন্তু এ এমন এক আক্রমণ যা ভালো লাগে। সবকিছু হাতের কাজ ফেলে রেখে চুপটি করে বসে থেকে এই ঝমঝমঝম শব্দ শুনতে ইচ্ছে করে। মনে হয় সংসারের কাজের মতো অমন অকাজ আর কিছুই নেই। কেবল চলা আর চলা আর ছুটে বেড়ানো। এই ব্যস্ততার মধ্যে বৃষ্টির স্বপ্নাবেশ চুপ করে বসে থাকার একটা দ্বীপ সৃষ্টি করে। বেগে ছোটে হাওয়া, জোরে তালগাছের মাথা দোলে, ফটাফট শব্দে দরজা-জানালা আছাড় খায়, আঙিনায় একটা ছোটখাটো প্লাবন আসে, কনিজ হাঁটু পর্যন্ত কাপড় তুলে মাথায় ছাতা নিয়ে এদিকওদিক ছুটোছুটি করে।

    আমিই কেবল চুপটি করে থাকি বসে।

    এমন সময় দেখি একটা ফিটন গাড়ি এসে দরজার কাছে থামল। অবিশ্রান্ত বর্ষণের কুয়াশা ভেদ করে সহিসের কালো ছাতাটা একটা ছোট তাঁবুর মতো চোখে পড়ে। সহিসের খাকি জামাটার খানিকটা পিঠ শুধু দেখা যায়। ঘোড়াটি স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া লোকোমোটিভের মতোই একরকম আওয়াজ করতে থাকে, যার মধ্যে তার সমস্ত অসন্তোষ প্রকাশ পায়। এবং সবকিছুর ওপর বৃষ্টি তার লম্বা লম্বা সরু সরু পা মেলে দিয়ে নেবে আসে।

    কে এলো তাতে আমার কি প্রয়োজন? আমি তেমনি চুপ করে বসেই থাকলাম। সকালবেলা; ক্রমে ক্রমে বেলা বাড়বে, আলো ফুটবে; কিন্তু তাতো নয়, আজ যতই বেলা বাড়তে লাগল, চারদিকে আঁধারও ততই ঘনিয়ে আসে। দমকা ঝোড়ো হাওয়া দু’হাত দিয়ে আমাকে জানালার কাছ থেকে ফেলে দিতে চায়। একটুখানি যদি বৃষ্টির বেগ কমে আসে তো তারপরই আরো জোরে ঝেপে আসে।

    কতক্ষণ যে সেইভাবে কাটল জানি না।

    একতলা থেকে এক প্রকার অস্পষ্ট গোলমাল কানে এলো। অনেকে মিলে কি যেন বলাবলি করছে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার আওয়াজও শুনতে পাই। একরকম অস্থিরতা আর চঞ্চলতা।

    আমি দরজা খুলে চৌকাঠের ওপর এসে দাঁড়ালাম।

    জাফর, কনিজ আর ছোট ফুপু মিলে ছোট চাচাকে ধরাধরি করে ওপরে নিয়ে আসছেন। জাফর ছোট চাচার মাথা আর দুটি হাত ধরে আছে, ছোট ফুপু দুটি পা, এবং কনিজ এক হাত দিয়ে ছোট ফুপুকে এবং অন্য হাত দিয়ে জাফরকে সাহায্য করছে। আমি একেবারে বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়েই থাকলাম। ছোট চাচার হয়েছে কি? আমার দৃষ্টিতে ছোট ফুপু এই প্রশ্নটি পড়লেন কিন্তু কোনো জবাব দিলেন না। দৃষ্টি নাবিয়ে নিলেন।

    ছোট চাচার ধবধবে পাঞ্জাবি-পাজামা স্থানে স্থানে কাদামাখা, যেন কাদা দিয়ে কে খাবলে দিয়েছে। পাঞ্জাবি হাতের কাছে ছিঁড়ে গেছে। কপালের কাছে গেছে কেটে, সেখানেই রক্তের একটা ধারা পুরু হয়ে আছে। তাঁর চোখ দুটি বন্ধ। একটি পায়ে কালো পামশু ঝুলছে, মনে হয় এখুনি পড়ে যাবে। অন্য পা-টি খালি।

    এত সকালে ছোট চাচা গিয়েছিলেন কোথায়। তারপর এক অসহচিন্তা বাজের মতো আমার মাথার ওপর ভেঙে পড়ল। ছোট চাচা কি সারারাত বাইরে ছিলেন? কিছুদিন থেকে ছোট চাচার সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎ হচ্ছে কম। কতদিন এমন হয়েছে আমি খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি, তারপর বহুরাতে ছোট চাচা ঘরে ফিরছেন। আমার সঙ্গে দেখাই হয় নি। কিন্তু সারারাত বাইরে এমন কখনো হয় নি।

    ছোট ফুপু তাড়াতাড়ি দু’হাত দিয়ে ছোট চাচার বিছানা পরিষ্কার করে দিলেন। পরিষ্কার করবার দরকারই ছিল না। কারণ রাত্রে সে বিছানায় কেউ শোয় নি। তারপর সবাই মিলে ছোট চাচাকে বিছানায় শুইয়ে দিল।

    ছোট ফুপু মাথার ওপর ঘোমটা টেনে দিলেন। এখন তাঁকে দেখে মনে হয়, তাঁর চোখমুখ কে যেন পাথর দিয়ে গড়ে দিয়েছে। এক মুহূর্ত ইতস্তত করলেন। তারপর সেখানেই বসে পড়লেন।

    আমি অবাক হয়ে তাঁকে দেখতেই থাকলাম। আমি বেরিয়ে যাব কি না ভাবছি এমন সময় ছোট ফুপু ইশারা করে কাছে ডাকলেন।

    —মা, একটা ন্যাকড়া, চায়ের পেয়ালায় পরিষ্কার পানি, আর আয়োডিনের শিশিটা নিয়ে এসতো। একটু জলদি।

    আমি বেরিয়ে গেলাম। ফিরে এসে দেখি, ছোট ফুপুর দুটি কাতর চোখ স্থির হয়ে আছে ছোট চাচার মুখের ওপর।

    ন্যাকড়া ভিজিয়ে, আয়োডিন মাখিয়ে তিনি ধীরে ধীরে ছোট চাচার ফাটা কপালের রক্ত দিলেন মুছে।

    আঁচলের ভিতর থেকে মৃণালের মতো তাঁর দুটি হাত বেরিয়ে এসে ছোট চাচার কপালের ওপর স্থির হলো। ও দুটি হাত যে এত আশ্চর্য সুন্দর কোনোদিন তা মনে হয় নি।

    কিছুটা সময় আমি পালংয়ের খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে থাকলাম। তারপর তেমনি নীরবে সেখান থেকে সরে এসে দরজার কাছে ফিরে এলাম। এক পলক আমাকে দেখে ছোট ফুপু যেন মানা করতে চাইলেন—কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বাধা দিলেন না।

    দরজার কাছ থেকেই বললাম : জ্ঞান হলে আমাকে খবর দিও।

    ছোট ফুপু মুখে কিছুই বললেন না। ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানালেন।

    বাইরে এসে আমি দরজাটা বন্ধ করে দিলাম। কিন্তু একটু পরই ফিরে এসে আবার দরজা খুলে দিলাম। কেবল পর্দা ভালো করে টেনে দিলাম।

    কামিল বাড়ি নেই। সে কোন সকালে বেরিয়ে গেছে। ক’দিন থেকে রোজই এমন যায়। সবই তো বুঝলাম, কিন্তু এরপর? অজ্ঞান কি কেবল ছোট চাচাই হয়েছেন, ছোট ফুপুই কি সজ্ঞানে আছেন।

    বিচিত্র এই সংসারের লীলাখেলা। চিরটাকাল অপেক্ষা করলেও যে বাধা যে ব্যবধান কোনোদিন ঘুচত না, আজ সকালের এক দুর্ঘটনায় তা নিমেষেই নিশ্চিহ্ন হলো। অগ্র-পশ্চাৎ‍ ভেবে দেখবার পরিণাম চিন্তা করবার অবসরটুকু পর্যন্ত যখন পাওয়া যায় না, হয়তো তখনই মানুষ তার স্বভাবের ডাকে পুরাপুরি সাড়া দেয়।

    কিন্তু পরিণামের কথা মানুষ ভুলে গেলেও, পরিণাম মানুষকে ভোলে না। সেও তার অদৃশ্য আর অনিবার্য পদক্ষেপে মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়। তখন ছোট ফুপু কি করবেন?

    এই যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম, দেখলাম কনিজ আর জাফর রান্নাঘরে ফিসফিস করে আলাপ করছে। আমাকে দেখেই কনিজের দুটি চোখে কৌতূহল নেচে উঠল। জাফরই কি একটা তির্যক হাসি গোপন করল না?

    একদিন এই ফিসফিস আলাপ মুখর হবে। তির্যক হাসিটুকু কেউ আর গোপন করতেও চেষ্টা করবে না। সেদিন ছোট ফুপু কি করবেন?

    আর কামিলকেও তো এখন একটু একটু করে চিনতে শিখেছি। সেই-বা কি করবে? আর কিছু যদি বলেই তাকেই-বা দোষ দেব কেমন করে?

    আর সবকিছুর ক্ষমা আছে। কিন্তু একতলা থেকে দোতলায় উঠবার বাইশটা সিঁড়ি পেরিয়ে আসবেন—ছোট ফুপুর এই অপরাধের কোনো ক্ষমাই নেই। ছোট ফুপুই কি নিজেকে ক্ষমা করবেন? কি বলে তিনি তার আচরণের কৈফিয়ত দেবেন—নিজের কাছেই? আর ছোট চাচা? তাঁকে তো আমি চিনি। আমি কি আর জানি না, কেন তিনি দিনের পর দিন আমাকে না দেখলেও আর কাছে ডাকেন না। সকালবেলা আমার হাতের তৈরি চা না হলে তাঁর কোনোদিনই চলত না—এখন তাও কেন দিব্যি চলে যায় সেও কি আমি জানি না? আমার কোনো কোনো আচরণ অনুমোদন না করলেও কোন অপরাধের লজ্জা তাঁর গলা টিপে ধরে তাও আমি জানি। সত্যিই যেটাকে অন্যায় মনে করবেন শেষ পর্যন্ত সেই অন্যায়বোধ ছোট চাচাকে একেবারে নিঃস্ব করে ফুরিয়ে দেবে, সকলের সান্নিধ্য থেকে দূরে সরিয়ে এক দুঃসহ একাকিত্বের গহব্বরের মধ্যে তাঁকে ঠেলে দেবে, এসবই আমি জানি। তাই ভাবছিলাম—এরপর?

    ন্যায়-অন্যায়-দোষগুণ এসব বিচার না হয় নাই করলাম, কিন্তু মুহূর্তের ভুল তো আর মুহূর্তেই ফুরিয়ে যাবে না। সারা জীবন ধরে তার জের টানতে হবে।

    বৃষ্টি গেছে থেমে। কিন্তু আকাশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয় নি। কালো মেঘের দু’একটি খোলা জানালা দিয়ে সূর্যের হলুদ কিরণ ধরণীর দিকে তার শাণিত দৃষ্টি মেলে ধরেছে। পিচের রাস্তা একটা লম্বা স্লেটের মতো পড়ে আছে, তারই ওপর দিয়ে বিভিন্ন গাড়ি-ঘোড়া পথের দুই বিপরীত দিক দিয়েই ছুটে এসে তাদের পদচিহ্ন এঁকে দেয়—যুগপৎ জোয়ার ও ভাটার মতো পথস্রোতকে স্ফীত করে তোলে।

    পথে তো বেরিয়ে পড়লাম, কিন্তু যাব কোথায় কিছুই ঠিক করি নি। বাড়িতে বসে থাকতে ভালো লাগছিল না। ছোট চাচার জন্য আপাতত চিন্তা ছিল না, জানি তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। আমার করবারই-বা কি আছে? ছোট ফুপুর চাইতে ভালো সেবা কি আর আমি করতে পারব?

    ছোট চাচার জীবনের কক্ষপথ থেকে আমি ছিটকে দূরে সরে আছি; সেইখানে আগেকার সেই আসনটি কি আর কোনোদিন ফিরে পাব? ছোট ফুপুর পাশে যে স্থানটুকুর ওপর লোভ ছিল তাও কায়েম হতে পারল না। চারদিকে তাকিয়ে দেখি, কোথাও বসবার ঠাঁই নেই। হঠাৎ এভাবে একেবারে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়লাম। যে কটি অবলম্বন নিয়ে জীবনটা গড়ে উঠছিল, আজ দেখি তার সবকটিই সরে গেছে।

    ফ্লুরিতে এসে এক পট হট চকোলেটের ফরমায়েশ দিয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম। বেয়ারা গোটা কয়েক পেস্ট্রিও দিয়ে গেল। একেবারে শার্সির কাছে বসে পথের লোক আর যান চলাচল দেখতে লাগলাম, এবং অন্যমনস্কভাবে নখ দিয়ে পেস্ট্রি ভেঙে খেলা করতে লাগলাম! সম্মুখের দৈত্যের মতো বিরাট অট্টালিকার কোনো একটি ফ্ল্যাটে পিয়ানো বাজছে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে এক সুসজ্জিত মেম সাহেব বারবার চঞ্চল দৃষ্টিতে পথের দিকে তাকিয়ে দেখছে, বোধ করি কারো অপেক্ষায়। মিডিলটন রোর লরেটোর মেয়েরা ফুটপাত দিয়ে এগিয়ে চলেছে, তাদেরই পিছনে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের ছাত্রও চোখে পড়ে। মোটর হর্ন বাজিয়ে মনটিকে চকিত করে দিয়ে ছুটে পালায়। সবাই ব্যস্ত, কারো এতটুকু অবসর নেই।

    কেবল আমার অবসরই অশেষ।

    আমার জীবননাট্যের এক একটি দৃশ্য শেষ হয়, আবার পর্দা ওঠে। কিন্তু আজ পর্যন্ত স্থান ও পাত্র মোটামুটি একই গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে। আজ এইভাবে বসে থেকে মনে হতে লাগল, এবারকার পরিবর্তনটা কিছু ব্যাপকই হবে। কেবল কালেরই পরিবর্তন নয়। এবার মঞ্চ আর পাত্র, এমনকি নাট্যেরও বুঝি পরিবর্তন আসন্ন।

    একটি পনের-ষোলো বছরের তরুণী দরজা ঠেলে ঢুকে পড়ল; কাচের দরজাটা কয়েকবার সামনে-পিছনে নড়তে নড়তে স্থির হয়ে গেল। এক পাউন্ড চকোলেট কিনে তরুণী তেমনি দ্রুত বেরিয়ে চলে গেল।

    একটা অদৃশ্য আর নিঃশব্দ হাসি আমার মনের মধ্যে ফুলের কুচিকুচি পাপড়ির মতো ছড়িয়ে পড়ল। চকোলেট দেখলেই শৈশবের কথা মনে পড়ে। এবং অনিবার্যভাবে আলীমের কথা। ছায়া কি কায়ার কাছ থেকে পালিয়ে যেতে পারে?

    ফুপুজান কি হয়রানটাই-না হতেন। এবং আলীমটাও ছিল এমন নাছোড়বান্দা।

    আজকের আলীমকে দেখে কি সেই কিশোরটিকে কল্পনা করতে পারবে? আজকের আলীম এক শীর্ণ চঞ্চল নদীর শেষে এক স্তব্ধ সমুদ্র।

    আরো মনে পড়ল সেই দিনকার কথা—সেই মুরগি কাটার দৃশ্য। আলীমের সেই হাহ হাহ হাহ হাসি। সেই হাসি বুঝি শেষ হতে চায় না। আশ্চর্য লাগে ভাবতে, এক একটি ঘটনা কিভাবে মানুষের মনের চিরস্মরণীয়াগারে আবর্জনার মতো জমে থাকে। এবং অনেক সময় সারাটা জীবনই সেই তাৎপর্যহীন ঘটনাটিকেই ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে এবং চোখে সেই ঘটনাটিরই চশমা পরে সেই লোকটিকে দেখতে থাকি।

    আরও অনেক কথাই এখানে বসে মনে পড়তে থাকে। এইমাত্র একটি এরোপ্লেন উড়ে চলে গেল। ছেলেবেলায় কতবার ভেবেছি, আহা, আমার চোখের সামনেই যদি একটি এরোপ্লেন কোনো বাড়ির দেয়ালে ধাক্কা লেগে টুকরো টুকরো হয়ে যেত, কি মজাটাই-না হতো। আমি বসে বসে দেখতে পারতাম মানুষগুলো কিভাবে ছটফট করে। এমন কথাও মনে হয়েছে, মোড়ের বাড়িটা আগুন লেগে পুড়ে যাক, আমি দূর থেকে বসে তাই দেখি। ছেলেবেলায় এরোপ্লেনে আগুন লাগার দৃশ্য কল্পনা করে আমি কতবার মনে মনে আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠেছি। এমনকি এখনো—কিন্তু থাক সে কথা, আমার সম্পর্কে তোমাদের ধারণা যতটা খারাপ হয়েছে তার চাইতে আরো পতিত হতে চাই না।

    একটা কথা মনে করে আজ বড় লজ্জা পাই। রোজ স্কুলে যেতে ভালো লাগত না। একদিন আমার এক প্রিয় সহপাঠী স্কুলে এলো না। শুনলাম তার বাবা মারা গেছেন। এ মৃত্যুতে আমরা কেউ শোক পাই নি। দুঃখ পাই নি, অথচ শোকের মুখোশ পরে ঘুরে বেড়াব, ছেলেবেলায় এইটেরও কোনো প্রয়োজন ছিল না। বরং আমার মনে হয়েছিল, ফুপুজান যদি মারা যান তো বেশ হয়। আমাকেও একদিন তাহলে স্কুলে যেতে হবে না।

    এ ধরনের কত চিন্তাই যে আসত মাথায়। খোদা আমাকে মাপ করুন।

    মানুষ যদি অন্য মানুষের মনের সব কথা জানতে পারে, তাহলে সমাজ-সংসার কিছুই কি টিকবে? স্বামী যদি জানতে পারে স্ত্রীর মনের সব কথা, এবং স্ত্রী স্বামীর—আত্মীয়স্বজন, বন্ধু- বান্ধব পরস্পরের কথা? ভেবে দেখেছ, মুখের স্মিত হাসিটুকু, আচরণের সুদৃশ্য সৌজন্যটুকু, তাহলে থাকত কোথায়?

    এখানে যে এইভাবে বসে সাতপাঁচ ভাবছি, তারও এক নেশা আছে। কিছুতেই আর উঠতে ইচ্ছে করছিল না। আর এখান থেকে উঠে যাবই-বা কোথায়? সেই বাড়িতো! আপাতত বাড়ি ফিরতেই ইচ্ছে করছে না।

    একটা ফিটন এসে ফ্লুরিরই দরজায় থামল। দেখলাম, ফিটনের দুটি সিটেই সওদা বোঝাই। সেই গোলগাল ফর্সা ভদ্রমহিলা—এবার আর চিনতে ভুল হলো না—গাড়ি থেকে নাবলেন। আর সেই ছেলেটি, যাকে চন্দ্রিমা ডিগনিফাইড বলেছিল।

    আমি এবার তাড়াতাড়ি বিল চুকিয়ে উঠে পড়লাম। কিন্তু দেখলাম, একেবারে সামনেই তাঁরা। এবার আমিই প্রথম হাত তুলে সালাম করলাম। পাশ কাটিয়ে চলে যাব—খপ করে ভদ্রমহিলা আমার হাত ধরে ফেললেন। সে স্পর্শ অবশ্য কোমল, কোথাও জবরদস্তি নেই।

    —মা, একটু বসবে না! এটি আমার ছেলে, আলমগীর। কুষ্টিয়ার এস ডি ও হয়ে বদলি হয়েছে। আর এই মেয়েটিই তিশনা ইয়াসমিন।

    সালাম বিনিময় হলো।

    আমি বললাম : মাপ করবেন। আমাকে এখুনি যেতে হবে। বাড়িতে দু’চারজন বন্ধু আসবে।

    এই বলেই ভদ্রভাবে আমি হাতটা ছাড়িয়ে নিলাম।

    ভদ্রমহিলা বললেন : তাহলে মা তোমাকে আর ধরে রাখব না। তবে তোমার ঠিকানা আছে আমার কাছে। একদিন এসে হাজির হব, এই বলে রাখলাম।

    পথে নেবে পড়লাম। ‘এই মেয়েটিই তিশনা।’ কবে থেকে এমন বিশ্ববিখ্যাত হয়ে পড়লাম, যে পরিচয়ের জন্য নাম ছাড়া আর কিছু বলবার প্রয়োজন হয় না? তাছাড়া ঐ যে বললেন : ঠিকানা আছে সঙ্গে। একদিন এসে উপস্থিত হব! ভদ্রমহিলার এই কথাটি এমন শোনালো যেন আমার নামের ওয়ারেন্ট আছে তাঁর কাছে। তারই জোরে আসবেন আমাকে গ্রেফতার করতে!

    আলীমকে এখন আর বাড়ি পাব না। এবং তার আপিসটা যে কোথায় তা পর্যন্ত জানি না। তবু আলীমদের বাড়ি যেতে হবে। মরিয়ম চাচিকে বলে আসি, আলীম আপিস থেকে এসেই যেন আমাদের এখানে চলে আসে।

    ছেলেটি কিন্তু বাস্তবিকই ডিগনিফাইড। সবচাইতে আকর্ষণ করে তার কণ্ঠস্বর। একটি মাত্র শব্দ : আদাব। কিন্তু এমন মন্দ্র যে কান পেতে শুনতে ইচ্ছে করে; তার কণ্ঠস্বরেই যেন নিহিত আছে তার ব্যক্তিত্বের মূল সূত্র। তার পদক্ষেপ আর নেত্রপাতের মতোই তা অচঞ্চল গম্ভীর।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleলাঞ্চ বক্স – রশীদ করীম
    Next Article উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    Related Articles

    রশীদ করীম

    উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    রশীদ করীম

    লাঞ্চ বক্স – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Our Picks

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026

    উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    August 5, 2026

    প্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }