Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রিয় পঁচিশ – অর্পিতা সরকার

    অর্পিতা সরকার এক পাতা গল্প407 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লোকে পাগল বলে ডাকে – অর্পিতা সরকার

    লোকে পাগল বলে ডাকে

    স্কুটিটা দাঁড় করিয়ে জিন্সের পকেট থেকে কুড়ি টাকার নোটটা নিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষটার হাতে দিয়ে বলল, খবরদার বিড়ি, সিগারেট খাবে না বলে দিলাম। আমার কাছে খবর আছে, তুমি ইদানীং ওসব খাচ্ছ। পাগলাটা জিভ বের করে হাসল। স্কুটিতে আবার স্পিড তুলল অস্মিতা। না সমাজসেবী ও নয়। বরং নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে যথেষ্ট পরিমাণে সচেতন। এই চত্বরে যারাই সকাল দশটার মধ্যে যাতায়াত করে তারাই তারানাথ পাগলকে চেনে। ধূলি ধুসরিত জামাকাপড়, মাথার চুলে বহুদিন চিরুনি পড়েনি। আর পাঁচজন বাহ্য জ্ঞানশূন্য মানুষের মতোই এলোমেলো হয়ে পড়ে থাকে সবজি বাজারের এক কোণে। তারানাথের সঙ্গে অন্য পাগলদের একটা পার্থক্য আছে। অস্মিতা ওর তেইশ-চব্বিশের বছরের জীবনে কখনো তারানাথকে রাস্তার জিনিস কুড়াতে দেখেনি। বরং আরেকটা অদ্ভুত বিষয় দেখেছে, তারানাথ ঘষাঘষ করে ইংরেজিতে দরখাস্ত লিখে দেয় শিক্ষিত, অশিক্ষিত লোকেদের। আর চোখটা শিবনেত্রর মতো উলটে উঁচু ক্লাসের অংক কষতে থাকে নির্দ্বিধায়। বাজারের লোকজন গরম কচুড়িতে কামড় দিয়ে বলে, তারানাথ নাকি কুসুমপুরের ভট্টাচার্য বাড়ির ছেলে। ভট্টাচার্যদের বাড়িতে দুর্গাপুজোর সময় অনেকেই তারানাথকে পাটের কাপড় পরে পুজোর উপাচার সংগ্রহ করতে দেখেছে কিছু বছর আগে। তখন নাকি তারানাথ তরতাজা ছাব্বিশের যুবক।

    আবার এমনও শোনা যায়, তারানাথ নাকি কোন কলেজের অঙ্কের লেকচারার ছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গন্ডগোল করে বেরিয়ে এসেছিল।

    আবার কেউ বলে তারানাথের নাকি ভরা সংসার ছিল কুসুমপুরে, অল্প বয়সে বউ আর এক সন্তান দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল বলেই নাকি তারানাথ পাগল হয়ে যায়। তারানাথ যে কি করে পঞ্চাশ কিমি দূরের বর্ধিষু� গ্রাম কুসুমপুর থেকে এই বেলেঘাটায় এল, সেটার হদিস অবশ্য বাজারের কারোর কাছে নেই।

    চণ্ডীময়রার দোকানের সামনে একজন বছর চল্লিশ-বিয়াল্লিশের লোককে শুয়ে থাকতে দেখে দোকান বউনির সময় চণ্ডী ময়রা সরে বসতে বলেছিল, তাতে নাকি সেই পাগল ইংরেজিতে খুব ডায়লগ ঝেড়েছিলো। চণ্ডী তার বিন্দুবিসর্গ না বুঝেই বলেছিল, এ আমার বাপ-ঠাকুরদার ব্যবসা, তখন থেকেই এই ঘর আমার। কোনো সরকারেও পারবে না এই ঘর থেকে আমায় বিদেয় করতে। তুমি যদি চৌধুরীদের ছেলে হও তাহলে বলি, আমি কিন্তু ন্যায্য ভাড়া পাঠাই চৌধুরীদের সেজো কর্তাকে। তারানাথ কিসব কাগজপত্র বের করায় চণ্ডী ভয়েই বলেছিল, বেশ বেশ এ যেহেতু তোমার বাপ-ঠাকুরদার সম্পত্তি, তাই সকালের টিফিনটুকু আমার কাছেই খেও, আর আমার দোকানের ওই চাতালেই থেকো। কথিত আছে চৌধুরীদের কোন ছেলে নাকি ছোটবেলায় হারিয়ে গিয়েছিল দূরপাল্লার ট্রেন যাত্রার সময়। অনেকেই বলে, সে ছেলে ফিরে এসে ঠিক নিজের ভাগ বুঝে নেবে। আদৌ তারানাথ কে সেটা না জেনেই ওকে ঠাঁই দিয়েছিল ধর্মভীরু চণ্ডী ময়রা। সেই থেকেই তারানাথের ঘর-বাড়ি এই মিষ্টির দোকানের চাতাল। চণ্ডীময়রার চাতালে তারানাথ আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে নাকি কুড়ি কিলো ছানার কাজ বেড়ে গেছে ওর। তাই পাগলাকে পয়া ভাবে চণ্ডী। আসলে বাসস্ট্যান্ড জায়গা পরিবর্তন করে সবজি বাজারের গা ঘেঁষে হয়েছে। তাই এই চত্বরের সব দোকানেরই বিক্রি বেড়ে তিনগুন হয়েছে। তারানাথ ভিক্ষে চায় না। তবুও অনেকে ওর হাতে পাউরুটি বা দশ-বিশ টাকা গুঁজে দেয়। যারা গুঁজে দেয় তারাও অনেকের মতোই উপকার পেয়েছে তারানাথের কাছ থেকে।

    অস্মিতার সঙ্গে তারানাথের প্রথম পরিচয় হয়েছিল ও যখন ক্লাস ইলেভেনে পড়ে। মাধ্যমিকে অঙ্কে লেটারমার্ক নিয়ে পাশ করে সায়েন্স নিয়েছিল অস্মিতা। কিন্তু ইলেভেনে উঠে সৌরেন্দ্রনাথ দে আর কেসি নাগ দেখে মহাসমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছিল।

    তারানাথকে তার আগেও বহুবার দেখেছে চণ্ডীময়রার দোকানের চাতালে। পথচলতি মস্তিকবিকৃত মানুষদের দলে ভেবেই আলাদা করে আগ্রহ প্রকাশ করেনি কখনো। শুধু দেখতো লোকটা মোটা খাতা নিয়ে কী যেন করছে।

    সেদিন স্কুলের ক্লাসে ম্যাথ স্যার খুব অপমান করেছিল অস্মিতাকে। পরের পিরিয়ডে টিফিন ছিল। অস্মিতা স্কুল ব্যাগ পিঠে নিয়ে স্কুল থেকে বেরিয়ে পাশের বড় মাঠটার পুকুরের ধারে বসে কাঁদছিল।

    নতুন স্কুলে, নতুন বন্ধুদের সামনে অপমানিত হয়ে খুব কষ্ট হচ্ছিল ওর। অঙ্কের টিউশন ক্লাসেও সবাই হাসছিল লেটারমার্ক পাওয়া মেয়ের পরিণতি দেখে। স্যারেরা যাই বোঝাচ্ছিল সবটাই অস্মিতার মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। পুকুরের দিকে তাকিয়ে ছিল স্থির চোখে। বুকের মধ্যে অপমানের জ্বালাটা উষ্ণতা তৈরি করেছিল। ভাবছিল সায়েন্স ছেড়ে আর্টস নিয়ে ভর্তি হয়ে যাই, কিন্তু কেমিস্ট্রি ওর বড্ড পছন্দের সাবজেক্ট, তাই তাকে ছেড়ে যেতেও পারছিল না। আচমকা তারানাথ সামনে এসে দাঁড়িয়ে বেশ বকুনির ভঙ্গিমায় বলেছিল, এই মেয়ে, ফাঁকিবাজ মেয়ে…স্কুলের ড্রেস পরে ক্লাস কেটে বাইরে বসে আছো? ফাঁকিবাজ কোথাকারের! অন্য সময় হলে অস্মিতা রেগে গিয়ে বলত, তাতে তোমার কী? কিন্তু কে জানে কেন তখনও অস্মিতার মনের ভিতরের কষ্টগুলো তরল হয়ে গড়িয়ে পড়ছিল। তাই স্বভাববিরুদ্ধ ভাবেই বলেছিল, অঙ্ক এত শক্ত কেন? আমি পারি না কেন? কিছুতেই মাথায় ঢোকে না।

    তারানাথ নিজের গোঁফ দাঁড়ির মধ্যে দিয়ে রহস্যময় ভাবে হেসে বলেছিল, সব চেয়ে মজার সাবজেক্ট হল অঙ্ক। যে অঙ্ক পারে না সে বোকা! অস্মিতা রেগে গিয়ে বলেছিল, বেশ আমি বোকা, তুমি চালাক তাই তো? দেখাও দেখি এই অঙ্কটা করে। স্কুল ব্যাগ থেকে বই-খাতা আর পেন বের করে ধরেছিল তারানাথের সামনে।

    তখনও অবশ্য তারানাথের নাম জানত না অস্মিতা। কী বলে সম্বোধন করবে বুঝতে না পেরে পাগল মানুষটাকে কাকু বলেছিল অস্মিতা। তারানাথ চোখ বড় বড় করে বলেছিল, খবরদার, কাকু বলবি না আমায়। আমার নাম তারানাথ ভট্টাচার্য। আমায় টি.ভিও বলবি না, আমায় তারানাথ বলে ডাকবি। ভয়ে ভয়ে অস্মিতা বলেছিল বেশ তাই ডাকব।

    তারানাথ নিশ্চিন্তের হাসি হেসে বলেছিল, দে অঙ্ক দে। চোখের জলের সঙ্গে মুচকি হেসে বইটা খুলে ধরেছিল অস্মিতা। যে চ্যাপ্টারটা সব থেকে শক্ত, ওর মাথায় কিছুই ঢোকেনি, যেটার জন্য ও আজ টিফিন টাইমে বেরিয়ে এসেছে স্কুল থেকে সেই লেসনটা খুলে বলল, করো দেখি তারানাথবাবু।

    তারানাথ মিটিমিটি হেসে করে যেতে লাগল একের পর অঙ্ক। অস্মিতা উত্তর মিলিয়ে দেখছিল সব ঠিক হচ্ছে। হঠাৎ ওর কাছ থেকে বইটা কেড়ে নিয়ে তারানাথ বলল, এই মেয়ে তুই অঙ্ক শিখবি না উত্তর মেলাবি? অঙ্ক করার পরে জানবি অবশ্যই ঠিক হবে, কেউ ঠেকাতে পারবে না। তাই উত্তর মেলানোর কোনো দরকার নেই। অস্মিতা বিস্মিত হয়ে দেখছিল ঝড়ের গতিতে পুরো চ্যাপ্টারের বত্রিশটা অঙ্ক শেষ করে ফেলল তারানাথ।

    অস্মিতা দুঃখ করে বলেছিল, তুমি এত ভালো অঙ্ক পারো তাও তুমি পাগলের মতো কেন ঘোরো? তুমি একটা কোচিং সেন্টার জয়েন করতে পারো তো? তারানাথ রেগে গিয়ে বলেছিল, এই পাকা মেয়ে, আমায় নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। তুই বরং ভাব, তুই কি করে শিখবি অঙ্ক?

    প্রতিটা অঙ্ক ধরে ধরে জলের মত করে বুঝিয়ে দিচ্ছিল তারানাথ। তারপরেই বলছিল, এবারে কষে দেখা শিগগির।

    অস্মিতা কষে দেখিয়েছিল নির্ভুলভাবে। অস্মিতা তারানাথের ধুলো মাখা হাতটা জড়িয়ে ধরে বলেছিল, আমায় অঙ্ক শেখাবে তারানাথ? তারানাথ বলেছিল শেখাব, কিন্তু আমার একটা কাজ করে দিতে হবে তোকে। অস্মিতা বলেছিল কী কাজ? তারানাথ পুকুরের সবজে জলের দিকে তাকিয়ে বলেছিল সে বলব পরে। শোন, ফাঁকিবাজি করলে আমি চণ্ডাল। রোজ যতগুলো অঙ্ক করাব সবগুলো অন্তত তিনবার করে প্র্যাকটিস করা চাই। না হলে রইলো তোর অঙ্ক। তুই ফেলুরাম হয়ে থাকিস। চলে যেতে উদ্যত হয়েছিল তারানাথ। অস্মিতা ওর শার্টের বোতাম ছেঁড়া হাতটা জড়িয়ে ধরে বলেছিল, প্লিজ তারানাথ, যেও না। আমি করব প্র্যাকটিস। সেই শুরু হয়েছিল ওদের অঙ্ক শেখা। অস্মিতা তারানাথকে নিজেদের বাড়ি নিয়ে যেতে চেয়েছিল, চেয়েছিল মাইনে দিতে কিন্তু সে কোনোটাই শুনবে না। এই পুকুর পাড়েই স্কুলের পরে সে অঙ্ক শেখাবে ওকে। শিখলে ভালো, নাহলে ভাগ।

    অস্মিতার বাবা শুনে বলেছিল, ম্যাথের আরেকজন টিচার বাড়িয়ে দিচ্ছি, কিন্তু এসব পাগলকে বিশ্বাস নেই। তাছাড়া তারানাথ মানুষটা কেমন সেটা এই চত্বরের কেউ বুঝতেই পারলো না এত বছরে! পাগল অথচ ব্যবহার করে যেন কত বিজ্ঞ! এর কাছে আমার মেয়ে বিনামূল্যে অঙ্ক শিখছে জানলে পাড়ায় মানসম্মান বলে কিছু থাকবে না আমার। অস্মিতার মাও ভয়ে ভয়ে বলেছিল যদি কামড়ে দেয়! অস্মিতা রেগে গিয়ে বলেছিল হয় আর্টস নিয়ে পড়বে নাহলে তারানাথের কাছেই অঙ্ক করবে ও। বাবা-মা আর কথা বাড়ায়নি। মেয়ের জেদের সঙ্গে তারা বেশ পরিচিত ছিল। মা ভয়ে ভয়ে বলেছিল ওই পুকুর ধারে না পড়ে যদি আমাদের বাগানে বসে পড়তিস, তাহলে কিন্তু মন্দ হতো না। লোক জানাজানিও কম হত। অস্মিতা হেসে বলেছিল, মা পাগল হলেও সকলেরই একটা নিজস্ব মতামত আছে। তারানাথ কারোর বাড়িতে আসবে না।

    সেই শুরু হয়েছিল অস্মিতার সঙ্গে তারানাথের অসম বন্ধুত্ব। প্রায় বছরখানেক পরে অস্মিতা বুঝেছিল অঙ্ক ওকে ভয় খাচ্ছে। স্কুলের অনেকেই ততদিনে জেনে গেছে অস্মিতার মাথাটা পুরো খারাপ হয়ে গেছে, তাই ও স্কুলের ম্যাথটিচার রণজিৎ স্যারের কাছে টিউশন ছেড়ে দিয়ে ওই পাগলাটার কাছে ম্যাথ শিখছে। রণজিৎ স্যার ইলেভেনের এক্সামের সময় ওই জন্যই হয়তো অস্মিতাকে অঙ্কে ৯৯ দিয়ে রেখেছিল আর ওনার ছাত্রী বিদীপ্তা পেয়েছিল ১০০। সে নিয়ে অস্মিতার কোনো আক্ষেপ ছিল না। কিন্তু তারানাথ রেজাল্ট দেখে বলেছিল, ওই এক নম্বর লুকিয়ে রাখে, সবাই হিংসে করে, ষড়যন্ত্র করে। গভীর ষড়যন্ত্র। বাবা-মা মেয়ের অঙ্কের নম্বর দেখেই বুঝেছিল কতটা ইম্প্রুভ করেছে ও। বাবা নতুন শার্ট-প্যান্ট পাঠিয়েছিল তারানাথের জন্য। মাও দুরকম রান্না করে পাঠিয়েছিল। তারানাথ নতুন জামা-প্যান্ট পেয়ে খুব খুশি হয়ে বলেছিল, তুই হলি মা দুর্গা। তুই এলি তাই আমি নতুন জামা পরলাম। অস্মিতাকে সামনে বসিয়ে গড়গড় করে দুর্গামন্ত্র আউড়ে গিয়েছিল তারানাথ। ক্লাসের অনেকেরই আগ্রহ ছিল অস্মিতা ম্যাথে কত পাবে জানার জন্য। নম্বর দেখেই গুটিগুটি পায়ে তারা এসেছিল তারানাথের কাছে। দূর থেকে ভয়ে ভয়ে বলেছিল তারাও অঙ্ক শিখতে চায়। যা মাইনে নেবে তাই দেবে। তারানাথ থান ইট নিয়ে তাড়া করেছিল। মর্জির ওপরে চলা তারানাথকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে কিছু করানো যে সম্ভব নয় সে অস্মিতা ভালোই বুঝেছে এই এক বছরে।

    তারানাথ দুর্দান্ত ইংরেজি বলে, লেখে। অস্মিতাকে অঙ্কের সঙ্গে সঙ্গে ইংরাজিও শেখায় তারানাথ।

    অস্মিতা ভালো অঙ্ক পারলে তারানাথ নির্দ্বিধায় অস্মিতাকে বুকে টেনে নেয়। আঠেরোর সদ্য যৌবনা অস্মিতা এই ছোঁয়ার অর্থ বোঝে। তারানাথের স্পর্শে ও নিজের বাবার অনুভূতি পায়। বাবা যখন ওকে আদর করে, ঠিক যেমন অনুভূতি হয় ওর তারানাথ যখন ওকে বুকে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় তখন ও বেশ বুঝতে পারে সে ছোঁয়ায় কোনো কালিমা নেই, আছে সকালের সূর্যের মতো স্বচ্ছতা।

    অস্মিতাও কম শাসন করে না তারানাথকে। ও পরিষ্কার বলে দিয়েছে, রোজ সাবান দিয়ে স্নান না করলে ও কিছুতেই পড়বে না তারানাথের কাছে। তাই তারানাথ এখন রোজ স্নান করে, আগের মতো গায়ে ধুলো লেগে থাকে না।

    বাবা মায়ের খুব ইচ্ছে ছিল অস্মিতা জয়েন্টে বসুক। কিন্তু অস্মিতা ওদের সে ইচ্ছেতে জল ঢেলে দিয়ে অঙ্ক নিয়ে পড়তে শুরু করেছে। তারানাথ ওকে এমন মজা পাইয়ে দিয়েছে এই সাবজেক্টে যে সাবজেক্টটাকেই ও ভালোবাসে এখন।

    তারানাথকে হাজার বলেও চণ্ডীময়রার চাতাল ছাড়িয়ে নিজের বাড়িতে আনতে পারেনি অস্মিতা। তারানাথ বিজবিজ করে বলে, বাড়ি, ঘর, সংসার এ আমার জন্য নয়। আমার যোগ্যতা নেই। আমি শুধু সংখ্যায় বাঁচি।

    বেশিরভাগ সময় অন্যমনস্ক থাকত তারানাথ, অস্মিতার সঙ্গে কথা খুব কম বলত কখনো কখনো। কখনো আবার শুধুই পাতার পর পাতা অঙ্ক করে যেত। কখনো পাগলের মতো অনেকগুলো পেপার নিয়ে কিসব ভাবত। অস্মিতা বলেছিল, তারানাথ তোমার পেন আর খাতার খরচ আমার। তারানাথ খসখস করে ইংরেজিতে অ্যাপ্লিকেশন লিখে দিতে পারত এখবর কিছুদিনের মধ্যেই বেলেঘাটায় ছড়িয়ে পড়ায় পাড়ার নেতা থেকে কলেজ স্টুডেন্টরা এসে ধর্না দিত তারানাথের সামনে। তারানাথের মন হলে লিখে দিত একসঙ্গে পাঁচজনকে। আবার ইচ্ছে না হলে চেঁচিয়ে ভাগিয়ে দিত।

    অস্মিতা কলেজ থেকে ফিরে প্রায় দিনই যেত তারানাথের কাছে। তারানাথ অস্মিতার সমস্যাগুলো মন দিয়ে দেখে বলত, তোকে পারতে হবে। ইউনিভার্সিটি টপার হতে হবে তোকে!

    অস্মিতা দেখত তারানাথের ঘোলাটে চোখে দপ করে জ্বলে উঠত আশার স্বপ্ন। মুহূর্তেই নিষ্প্রভ হয়ে যেত সেই চোখ দুটো। আবার বিজবিজ করে বলত, যা খুশি কর, বেরো এখান থেকে। অস্মিতার বাবা বলেছিল, মনোবিদের কাছে নিয়ে গেলে হয় না? অস্মিতা অন্যমনস্কভাবে বলেছিল, কী দরকার বাবা, দু-একজন যদি মানসিক ভারসাম্যহীন হয় তাহলে দোষ কোথায়? মানসিকভাবে সুস্থ মানুষগুলোকে তো দেখলাম, রাস্তাঘাটে ইভটিজিং, নয়তো আড়ালে সমালোচনা, মুখোশের আড়ালে আরেকটা রূপ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের তুলনায় তারানাথের মত নির্বিবাদী মানুষ, যারা অন্যের কোনো ক্ষতি করে না, তারা অনেক বেশি সেফ বাবা। ওকে ওর মতো থাকতে দাও। কী দরকার টানাহেঁচড়া করার। তাছাড়া ডাক্তার, ওষুধ এসব ওর ধাতে নেই। ওকে জোর করলে হয়তো পালাবে বেলেঘাটা ছেড়ে।

    অস্মিতার রেজাল্টটা হাতে নিয়ে কেঁদে ফেলেছিল তারানাথ। আমার স্টুডেন্ট ইউনিভার্সিটি টপার। এবারে বলুক সবাই তারানাথ চোর, তারানাথ মিথ্যুক!

    অস্মিতাকে বুকে জড়িয়ে ধরে তারানাথ তার হলদে দাঁত বের করে চওড়া করে হেসে বলেছিল, এবারে আমার একটা কাজ তোকে করে দিতে হবে। এই নে এই পেপারগুলো তুই নে। সব কমপ্লিট হয়ে আছে। তুই তোর নামে জমা দিবি সব। এম এসসি কমপ্লিট হলেই জমা দিবি। অস্মিতা দেখেছিল, অ্যাপ্লায়েড ম্যাথের ওপরে থিসিস পেপার। গবেষণার গভীরতা দেখে চমকে গিয়েছিল অস্মিতা। বিস্মিত হয়ে ও বলেছিল, এগুলো কার তারানাথ? তারানাথ ফিসফিস করে বলেছিল এগুলো আমার! সব পুড়িয়ে দিয়েছিল ওরা, আমি আবার সব তৈরি করেছি। সব রেডি করেছি আমি। কিন্তু এগুলো তুই জমা দিবি ইউনিভার্সিটিতে। তারানাথ মরে গেছে। তাই অস্মিতার গবেষণার ফল এগুলো। অস্মিতা ভয়ে ভয়ে বলেছিল, কিন্তু তারানাথ এগুলো তো অন্যায়! তারানাথ ফুঁসে উঠে বলেছিল, কীসের অন্যায়! আমি কোনো খুন করিনি, কোনো অন্যায় করিনি। তাও আমায় শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সব পুড়িয়ে দিয়েছে। অস্মিতা ওর ওলটপালট কথার মানে বুঝতে পারেনি। অস্মিতা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর পড়াশনার অতিরিক্ত সময় তারানাথের রিসার্চ পেপার নিয়ে বসে থেকেছে। একটু একটু করে বুঝেছে এর গভীরতা। মধ্যরাতে ডুবে থেকেছে তারানাথের তৈরি রিসার্চ পেপার নিয়ে। বুঝতে পেরেছে তারানাথ তার নিজস্ব ঘরানাতে নিরস সংখ্যাদের গায়ে পরিয়েছে রহস্যের জামা। অস্মিতা আপ্রাণ চেষ্টা করে সে পেপারের শেষটুকু শেষ করেছে। কারণ অদ্ভুতভাবে তারানাথ আগ্রহ হারিয়েছিল পেপারগুলোর প্রতি। অস্মিতার হাতে সমর্পণ করার পর থেকে বুকে জড়িয়ে রাখা কাগজের দিস্তাটার প্রতি মোহমুক্তি ঘটেছে যেন।

    তারানাথ এখন ভীষণ রকমের চুপচাপ। ফ্যালফ্যাল করে হাসে একটু। অস্মিতা বকলে বলে, চলে যাব এবারে। অনেক দূরে চলে যাব। অস্মিতা আজও মানুষটাকে জোর করে নিজের বাড়িতে অবধি নিয়ে যেতে পারেনি। ইদানীং তার একটাই দাবি সিগারেট খাবে, তাই খুচরো টাকা চাই। অস্মিতা দেখেছে, তারানাথ সিগারেট খায় যত না তার থেকে বেশি তাকিয়ে থাকে জ্বলন্ত আগুনটার দিকে। ধোঁয়া উড়ে যায় ঠোঁটের সামনে, কুণ্ডুলি পাকিয়ে ঢেকে দেয় তারানাথের ঠোঁটের কোণের অব্যক্ত কষ্টটুকু। অস্মিতার কাছে ওই একটাই আবদার করে তারানাথ, কিছু খুচরো টাকার।

    অস্মিতা এখন ভীষণরকমের ব্যস্ত। এম এসসি কমপ্লিট। তারানাথ আর ওকে গাইড করে না। কেমন যেন হয়ে গেছে। গোছা গোছা খাতা দিয়ে এসেছিল অস্মিতা। দু-সপ্তাহ পরে গিয়ে দেখেছে সেই খাতা একইরকম ভাবে পড়ে আছে। মাথার লালচে চুলগুলো সাদা রং ধরেছে। তারানাথ তোমার বয়েস কত? জিজ্ঞেস করলে বলে, ছেলের বিয়ের বয়স হয়ে গেল। লোকে হেসে বলে, পাগলে কী না বলে! অস্মিতা লক্ষ্য করেছে, তারানাথ আর অঙ্ক করে না, দরখাস্ত লেখে না, শুধু সিগারেটের আগুনের দিকে তাকিয়ে থাকে।

    অদ্ভুত সে দৃষ্টি। উদাসীনতা আর কষ্টের মিশেল।

    থিসিসের কাজ যেটুকু বাকি ছিল মোটামুটি কমপ্লিট করে ফেলেছে অস্মিতা। জমাও দিয়ে দিয়েছে সময় মতো। এখন শুধু রেজাল্টের অপেক্ষা।

    ফেরার পথেও দেখল, তারানাথ একইভাবে বসে আছে চণ্ডীময়রার চাতালে।

    অস্মিতা হাসি মুখে এগিয়ে গিয়ে বলল, তোমার পেপার জমা পড়ে গেছে। অ্যাপ্রূভাল পেলেই জানাব তোমায়। তারানাথ ঠোঁটে আঙুল ছুঁইয়ে বলল, খবরদার, আমার পেপার নয়। তারানাথ ভট্টাচার্য মারা গেছে। ওটা অস্মিতার রিসার্চ পেপার।

    তারানাথ ফিসফিস করে বলল, প্রফেসর হবি তুই।

    অস্মিতা ওর হাতদুটো ধরে বলেছিল, চলো না আজকে আমাদের বাড়িতে, তোমাকে অনেক কিছু খাওয়াব। তারানাথ নিজের পেটে হাত বুলিয়ে বলেছিল, সয় না যে। অস্মিতা হাল ছেড়ে দিয়ে উঠে যাচ্ছিল। তারানাথ বলল, তোকে একটা জিনিস দেব, তুই নিবি? অস্মিতা হেসে বলেছিল, আমাকে আর কত দেবে? তারানাথ করুণ হেসে বলেছিল, তোকেই দেব। কাউকে বলবি না কিন্তু। অস্মিতার ফোনটা বাজছিল। মা ফোন করেছিল।

    বাড়ি ফিরেই খাওয়া দাওয়া করে মেল চেক করতে গিয়ে দেখল, তারানাথের থিসিস পেপার ইউনিভার্সিটিতে রীতিমত সাড়া ফেলে দিয়েছে। অস্মিতাকে ওর প্রফেসর ফোন করে বললেন, ব্রিলিয়ান্ট পেপার!

    অস্মিতার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। খবরটা কাল সকালে গিয়ে তারানাথকে দিতে হবে আগে। এটা তো ওরই কৃতিত্ব, ওরই পরিশ্রমের ফসল। অস্মিতা তো শুধু একটু পালিশ করেছে মাত্র।

    সকাল দশটায় একেবারে রেডি হয়ে বেরুলো, ইউনিভার্সিটি যেতে হবে, তার আগে তারানাথের সঙ্গে দেখা করতে হবে। বাজারে ঢুকেই দেখলো বেশ ভিড় জমেছে। চণ্ডীময়রার দুয়ারের সামনে লোকের ভিড়। তাদের কাটিয়ে ভিতরে উঁকি মারতেই আকস্মিক আঘাতে হতভম্ব হয়ে গেল অস্মিতা। তারানাথ বসে আছে স্থির হয়ে, চোখ দুটো লাল। বিজবিজ করে বলছে, আমি চোর নই, চুরি করিনি। লোকজন দাঁড়িয়ে মজা দেখছে। তারানাথ তো বেশি টাকা দিলেই ফেরত দিয়ে দেয়, সে হঠাৎ চুরি কেন করবে? তারপর বুঝল, আপনমনে বলে চলেছে তারানাথ। সম্বিৎ নেই যেন। অস্মিতা ওর গায়ে হাত দিয়ে দেখল, ওর গায়ে বেশ জ্বর।

    পরিচিত দু-একজনের সাহায্যে তারানাথকে লোকাল হসপিটালে ভর্তি করল ও। তারানাথ ফিসফিস করে বলল, ওই ব্যাগটা তুই নিবি।

    অস্মিতা বলল, গবেষণা পত্রগুলো সাড়া ফেলে দিয়েছে তারানাথ। তুমি কিছু বলবে না? তারানাথ বলল, জানতাম, আমি চোর নই, জানতাম। দুটো চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। কাঁচা পাকা দাঁড়ির মধ্যে মিশে গেল উত্তপ্ত জলের ফোঁটাগুলো।

    অস্মিতা বলল, ঠিক হয়ে যাবে তুমি। আবার সুস্থ হয়ে যাবে। এবারে আমি ডক্টরেট হয়ে যাব, তোমায় অঙ্ক শেখাব ওই পুকুরের পাড়ে। গোঁফের ফাঁক দিয়ে মুচকি হাসল তারানাথ। আমি মরে গেলে আমায় চন্দন কাঠে পোড়াবি? ভটচায বাড়ির সকলকে চন্দন কাঠে পোড়ায়।

    হসপিটালের বাইরের ওয়েটিং রুমে বসে ব্যাগটার চেন খুলল অস্মিতা। মিলিটারি রঙের ডায়রিটা খুলল প্রথম। এই ডায়রিটা কোনোদিন ছুঁতেও দেয়নি তারানাথ। উচ্চমাধ্যমিকের আগে একদিন ভুল করে এই ডায়রিটাতে হাত দিয়ে ফেলেছিল অস্মিতা। তারানাথ দাঁত মুখ খিঁচিয়ে তেড়ে এসেছিল। তারপর ভয়ে আর ওদিকে তাকায়নি অস্মিতা।

    ডায়রির প্রথম পাতায় লেখা আছে তারানাথ ভট্টাচার্য। কুসুমগ্রাম। ফোন নম্বর লেখা আছে একটা। ল্যান্ড নম্বর। বাড়ির অ্যাড্রেস দেওয়া আছে।

    লিখতে শুরু করেছে তারানাথ।

    সেদিন বৃষ্টি পড়ছিল, কলেজে যেতে বারণ করেছিল কস্তুরী। টিপাই খেলা করছিল বাইরের বারান্দায়। সেও বেরোনোর আগে বলেছিল, বাবা আমার আজ ছুটি, তুমি আজ ছুটি নাও না! কস্তুরীর চোখেও ছিল আকুতি। সেও বলল, আমার স্কুলেও আজ রেনিডে। তারানাথ হেসে বলেছিল, ও তোমাদের প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের দুদিন বৃষ্টিতে ভিজে খিচুড়ি খেলেই মজা। আমার কি সে উপায় আছে? আজ কলেজ যেতেই হবে। একদিন আগেই সেমিস্টারের রেজাল্ট বেরিয়েছে, বেশ কয়েকজন খুব খারাপ নম্বর পেয়েছে। কার কিসে সমস্যা হচ্ছে আগে জানতে হবে তো।

    কলেজে ঢুকে ভেবেছিল আজ না এলেই হত। বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রী আসেনি। তবুও যে জনা দশেক ছিল তাদের নিয়েই ক্লাস শুরু করেছিল তারানাথ। উত্তেজনায় ফুটছিল তখন ও। গত দু-বছরের পরিশ্রম জমা দেবার তারিখ আজকে। কলেজের ক্লাস সামলে, সংসার সামলে রিসার্চ করা মুখের কথা নয়। দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়েছে ওকে। শান্তিনিকেতনী ব্যাগের মধ্যে ছিল ওর রিসার্চ পেপার। মনের আনন্দে স্টুডেন্টদের পড়াতে শুরু করেছিল ও। তারানাথকে ভালো স্টুডেন্টরা পছন্দ করলেও মিডিয়ামেরা কোনদিনই পছন্দ করত না।

    তারানাথ একটু কড়া ধাঁচের। পরিশ্রম না করে নম্বর নেবে, সেটি হচ্ছে না।

    পিছন ফিরে বোর্ডে অঙ্ক লিখছিল তারানাথ, হঠাৎ দেখল টেবিলের ওপর থেকে ওর ব্যাগটা নেই।

    তাকিয়ে দেখল, রুমে দশজন নেই। দুটো মেয়ে আর একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটা বলল, স্যার আপনি আমাদের সেকেন্ড পেপারটাতে বড্ড কম নম্বর দিয়েছেন। রীতিমতো ফেল করিয়ে দিয়েছেন স্যার। ওই নম্বরটা একটু বাড়িয়ে দিতে হবে স্যার। মাত্র ছয়জনের নম্বর বাড়ালেই হবে। তারানাথ তীক্ষ্ন স্বরে বলেছিল, এসবের মানে কী? মেয়েগুলো হাসতে হাসতে বলেছিল, তবে কি স্যার আপনার নামে কোনো মিথ্যে বদনাম দেব?

    একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিল তারানাথ, কিন্তু তারপরেও রাগত গলায় বলেছিল, তোমাদের যা ইচ্ছে করো, আমি একটা নম্বরও বাড়িয়ে দেব না তোমাদের।

    চোখের সামনে জ্বলছিল ওর দু-বছরের রিসার্চ পেপার। একজন ক্লাসের বাইরে সিগারেটের আগুন দিয়ে ধরিয়ে দিল পেপারগুলো। জ্বলে গিয়েছিল ওর স্বপ্ন।

    বাড়ি ফিরে এসেছিল তারানাথ। দুদিন কারোর সঙ্গে কোনো কথা বলেনি। আচমকা দুদিন পরে কস্তুরী বলেছিল, বেরিয়ে যাও তুমি এই বাড়ি থেকে। এ বাড়িতে দুর্গাপুজো হয়, এ বাড়ির ছোটছেলে চোর, মিথ্যেবাদী? কিছু বুঝতে পারেনি বিধস্ত তারানাথ। কস্তুরী দেখিয়েছিল খবরের কাগজে বেরিয়েছে, এক প্রফেসরের রিসার্চ পেপার চুরি করে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় তারানাথ ভট্টাচার্য। তারপর প্রমাণ লোপাট করতে নিজেই আগুন জ্বালিয়ে দেয় সেই পেপারে। যে প্রফেসরের পেপার সে নাকি আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল। পুলিশ খতিয়ে দেখবে ব্যাপারটা।

    সেই ছবিও ছাপা হয়েছে কাগজে। তারানাথ দাঁড়িয়ে আছে ক্লাসরুমের বাইরে, ওর সামনে জ্বলছে পেপারগুলো। ওর স্টুডেন্টরা হয়তো আটঘাট বেঁধেই নেমেছিল। কিন্তু ওরা যেটা জানে না সেটা হল, ওই আগুনে সত্যিই পুড়ে গেল তারানাথের রিসার্চ পেপার। ওরা হয়তো স্যারের ব্যাগের কতগুলো কাগজ জ্বালিয়ে ছবি তুলতে চেয়েছিল, নাম দিত রিসার্চ পেপারের। কিন্তু ওগুলো ছিল তারানাথের হৃৎপিণ্ড। কস্তুরীর ভর্ৎসনার পরে ভট্টাচার্য বাড়ি থেকে চলে এসেছিল তারানাথ। তারপর ওর চোখের সামনে অঙ্ক ছাড়া আর কিছুই ছিল না। রাস্তাঘাট সব এক লাগত। আর কিছু লেখেনি তারানাথ। বাকি ডায়রির সব পাতায় শুধু লেখা আমি খুনি নই, চোর নই। বাড়ি থেকে পালিয়ে কোথায় কোথায় গিয়েছিল সম্ভবত আর তারানাথের মনে নেই। এই ডায়রিটাতে যে তারিখ দেওয়া আছে সেটা প্রায় বছর বারোর আগেকার। তারমানে বারো বছর আগে তারানাথ বাড়ি ছেড়েছে। নাকি আরও আগে? হয়তো এটা লিখেছে আরও পরে। ধীরে ধীরে ওর স্মৃতি থেকে সব লোপ পেয়েছে, পড়ে আছে শুধু সংখ্যাতত্ত্বের জটিল হিসেবনিকেশ।

    অস্মিতা আর দেরি না করেই তারানাথের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল। ল্যান্ডনম্বরে ফোন করে দেখল ভ্যালিড নেই নম্বরটা। কুসুমপুরে পৌঁছে শুনল, ভট্টাচার্য বাড়ি আছে, কস্তুরী আর টিপাই নেই সেই বাড়িতে। বাড়ির বেশিরভাগ মেম্বার নাকি কলকাতাতে বাড়ি কিনে আছে। এবাড়িতে ওই পুজোর সময় আসে। এখন খুড়তুতো জেঠতুতোরা রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। তারানাথের কথা বলতেই দুজন নাক কুঁচকে বলল, ওর জন্যই তো এই বাড়ির বদনাম হয়েছিল। শুনেছি পাগলা হয়ে কোথায় ঘুরে বেড়ায়। তার বউ কস্তুরী কলকাতায় বাস করে, বিয়ে করেছে। তারানাথ তো চুরি করে কলেজ থেকে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে গিয়েছিল। তাই বাড়ি ছেড়েও পালিয়েছে। বেঁচে আছে কিনা কে জানে!

    অস্মিতা আনমনে ভাবছিল, একটা মিথ্যে বদনাম কীভাবে শেষ করে দিল তারানাথের গোছানো সংসারটাকে। মানুষটা নিজের অস্তিত্ব ভুলে গেল, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলল ক্রমাগত আঘাতে।

    হসপিটালে পা দিতে ডক্টর বললেন, আপনার পেশেন্ট ঠিক আছে, নিয়ে যান। তবে মানসিকভাবে কিন্তু উনি অসুস্থ। অস্মিতা হেসে বলল, সে বেশ ভালো। ওনার ভাগ্যিস সব মনে নেই তাই এতদিন বেঁচে আছেন, নাহলে হয়তো নিজেকে শেষ করে দিতেন। প্রতারিত হয়েছেন যে বড্ড!

    তারানাথকে দেখে প্রথমে চিনতে পারছিল না অস্মিতা। দাঁড়ি, চুল কেটে একেবারে অন্য মানুষ যেন। অস্মিতাকে দেখে হেসে বলল, কি রে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলিস? ভেবেছিলিস তো তারানাথ মরে গেলে কে তোকে অঙ্ক শেখাবে? স্কুলে খুব মার খাবি তাই না? অস্মিতা বুঝলো, মানুষটা আবার অনেক কিছু ভুলে গেছে।

    এমনিতে খুব শান্ত ভাবে কথা বলছে, কিন্তু বাকি সব ভ্যানিশ স্মৃতি থেকে। তাই অস্মিতা নিজের বাড়িতে নিয়ে আসায় আর কোনো আপত্তি করেনি। বাবা বলেছিল, ওনাকে নিয়ে কী করবি কিছু ভাবলি? যদি বলিস তো আমি ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করি কোনো মানসিক হাসপাতালে।

    অস্মিতা হেসে বলেছিল, তারানাথের অঙ্কের ম্যাজিক নামে একটা কোচিং খুলব। তুমি শুধু দেখবে, ম্যাজিকের মতো করে তারানাথ অঙ্ক শেখাবে সবাইকে।

    তারানাথ এখন ভীষণ শান্ত। কালো বোর্ডে অঙ্ক কষতে কষতে বলল, ম্যাজিক। এই অঙ্কটার তিনটে উত্তর বেরোবে, তিনটেই ঠিক।

    অস্মিতা দেখল, ওদের বাইরের ঘরে বেশ জমিয়ে বসেছে তারানাথের অঙ্কের ম্যাজিক ক্লাস। স্টুডেন্ট বেশ ভালোই হচ্ছে।

    অস্মিতা কানে কানে বলল, এবারে একটা বই লেখো তারানাথ। সহজে অঙ্ক শেখার উপায়।

    তারানাথ যেন স্মৃতির পর্দা সরিয়ে বলল, লিখেছি তো, একটা বই লিখেছি আমি। আমার ব্যাগ কোথায়?

    অস্মিতার মা বলল, ওই নোংরা ব্যাগটা তো সিঁড়ির তলায় আছে। অস্মিতা ব্যাগটা বের করে এনে দেখল, একটা মোটা বইয়ের পাণ্ডুলিপি।

    কতরকম প্রসেসে অঙ্ক করা যায় তার উপায় শিখিয়েছে তারানাথ।

    বইটা এখন কলেজ স্ট্রিটের অনেক দোকানেই পাওয়া যায়। পরিচিত স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের প্রফেসর অস্মিতা বসু প্রায়ই সাজেস্ট করেন এই বইটা কেনার জন্য।

    তারানাথ কালো বোর্ডে এখনও এঁকে চলে সংখ্যাতত্ত্বের জাদু। ওর ঠোঁটে লেগে থাকে দুনিয়া জয় করার খুশি।

    অস্মিতা ওর দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবে, কিছু মানুষ থাকুক মানসিক ভারসাম্যহীন নামেই। তবুও সরলতা আছে ওর মধ্যে। এই জটিল পৃথিবীতে এটুকুই থাকুক একেবারে আদিম, চূড়ান্ত বন্য।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআদিবাসী লোককথা : ১ম খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    Next Article মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    অর্পিতা সরকার

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }