Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রিয় পঁচিশ – অর্পিতা সরকার

    অর্পিতা সরকার এক পাতা গল্প407 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রেড স্কুটি এবং.. – অর্পিতা সরকার

    রেড স্কুটি এবং..

    অদ্ভুত টাইপের মানুষ তো তুমি, একটা রাস্তার পাগলিকে বাড়িতে তুলে নিয়ে চলে এলে?

    আরে মেয়েটার বাড়ি কোথায়? কী হল চুপ করে আছ কেন?

    বিশ্বনাথবাবু গম্ভীর স্বরে বললেন, আমি ওর বাড়ি জানি না। মেট্রো স্টেশনের বাইরে দাঁড়িয়েছিল। কাউকে যেন খুঁজছিল। আমায় দেখে এগিয়ে এসে বলল, আমায় নাকি চেনে। তারপর আমার পিছু পিছু এল। মুখটা দেখে মায়া লাগল তাই নিয়ে এলাম বাড়িতে। সম্ভবত ওর কেউ নেই বুঝলে! পোশাক বা চেহারা কিন্তু বেশ সম্ভ্রান্ত বাড়ির মতোই। তাই না?

    মৃন্ময়ী অসহ্য রাগে গর্জে উঠলেন, তোমার কি আর কখনো বুদ্ধি হবে না গো?

    বিশ্বনাথ তরফদারের বুদ্ধিসুদ্ধি একটু কম এটা অবশ্য ফুলশয্যার পরের দিন থেকেই বলতে শুরু করেছিলেন ওর নতুন স্ত্রী মৃন্ময়ী। তাই বিশ্বনাথবাবুও এত বছর ধরে এই কথায় বিশ্বাস করে আসছেন। মানে পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরের মতোই ধ্রুবসত্য বিশ্বনাথবাবুর সাংসারিক বুদ্ধি একেবারেই নেই। নেহাত মৃন্ময়ীর মতো শক্তপোক্ত গিন্নী মেয়ের হাতে পড়েছিলেন বলেই গরম ভাতের ওপরে ঘি দিয়ে ভাত খেয়ে অফিস দৌড়াতে পারেন।

    সেই কম বয়সে মা মারা গিয়েছিল বিশ্বনাথের। তাই বিয়ে-থা যে হবে এমন কোনো আশাও ছিল না। নেহাত মৃন্ময়ীর এক পাড়াতুতো দাদা বিশ্বনাথের অফিসে চাকরি করে বলেই, ভবঘুরে বিশ্বনাথ এ যাত্রায় সংসারী হতে পারল।

    আর তো মাত্র বছর পাঁচেক চাকরি জীবন বাকি আছে। এত বছর রেলের কেরানিগিরি করে, এত খাতা পিষেও এক ফোঁটা বুদ্ধি বাড়ল না বিশ্বনাথের। এ আক্ষেপ মৃন্ময়ীর সর্বক্ষণের সঙ্গী।

    পঞ্চান্ন বছরের বিশ্বনাথ তরফদার নিজের ডিপার্টমেন্টে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও গুণী মানুষ বলেই পরিচিত। কিন্তু তার স্ত্রীর কাছে নিতান্ত বোকা, হাড় জ্বালানে টাইপ মানুষ রয়ে গেলেন।

    মৃন্ময়ী আবার চেঁচিয়ে বললেন, আরে আশ্চর্য মানুষ তো, একটা অপরিচিত মেয়েকে একেবারে ঘরে এনে তুললে কেন সেটাই তো জিজ্ঞেস করছি?

    এত যখন দয়ামায়া শরীরে তখন হাতে টাকা বা খাবার ধরিয়ে আসতে পারতে! একেবারে স্কুটিতে চাপিয়ে সঙ্গে করে অন্দরে ঢোকাতে হল?

    বিশ্বনাথবাবু বরাবরই মৃন্ময়ীর জেরার মুখে পড়লে তোতলান। আজও আমতা আমতা করেই বললেন, আসলে আমাদের মনির বয়সি মেয়ে, এমন করে বলল তাই আর…

    মৃন্ময়ী একটুও না থেমে বললেন, মনির বয়সি মেয়ে তো এ দেশে কম নেই গো। তাই বলে সকলকে এ বাড়িতে এনে ঢোকাবে? চোর-ডাকাত কিনা কে জানে! দিনরাত যে খবরের কাগজ মুখস্থ করছ তাতে কী দেখো? দেখো না, কত মায়াবী চোখের অধিকারিণী রীতিমতো খুনি। লাদেনের চোখ দেখে কী মনে হয়? স্বর্গ থেকে দেবদূত নেমে এসেছিলেন। তাহলে?

    স্বামীকে আর প্রশ্ন করে বেশি লাভ নেই দেখে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে মৃন্ময়ী বললেন, তোমার নাম কী গো মেয়ে?

    মেয়েটা কথা না বলে ফ্যালফ্যাল করে স্কুটিটার দিকে তাকিয়ে আছে। মৃন্ময়ী ফিসফিস করে বললেন, নির্ঘাত বাইক চোর। এখন তো আবার চোরের প্রকারভেদ আছে। মনি বলছিল, সেদিন নাকি একটা মেয়ে ট্রেনের জানালার ধারে বসে হেডফোনে গান শুনছিল। আচমকা স্টেশন ছাড়ার মুখে জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে তার ফোনটা কেড়ে নিয়ে পালিয়েছে একটা চোর। মনি বলছিলো, এরা নাকি স্মার্টফোন চুরি করায় পারদর্শী।

    আর এই তো দুদিন আগেই টিভির খবরে বলছিলো, একটা ফ্ল্যাট বাড়িতে দুজন বয়স্ক মানুষ থাকতেন। একটা কমবয়সি মেয়ে তাদের দেখাশোনা করত। সে নাকি ওদের খুন করে সব হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে। বিশ্বনাথবাবু অপলক তাকিয়ে ছিলেন তার এত বছরের পরিচিত জীবনসঙ্গীর দিকে। মৃন্ময়ীকে দেখলে বোঝাই যায় না সে দেশের এত খোঁজখবর রাখে। এসব শুনে বিশ্বনাথবাবু একটু ফ্যাসাদে পড়েই বললেন, তাহলে এখন কী করা উচিত? এমন ভর সন্ধেবেলা মেয়েটাকে তাড়িয়ে দেব?

    ওদের কথা শেষ হবার আগেই বাড়িতে পা রাখল মনিদীপা। ঢুকেই বলল, জানো মা আমাদের গোটা পাড়া নিস্তব্ধ। কোনো কোনো বাড়ি থেকে সিরিয়ালের আওয়াজ ভেসে আসছে আবছা। শুধু আমাদের বাড়ি থেকেই তোমার চিৎকার শোনা যাচ্ছে ওই মোড়ের পিন্টুর দোকান থেকে।

    কেন জানতে পারি মা?

    মৃন্ময়ী ভ্রু কুঁচকে বললেন, কী করব মনি? এ পাড়ার সকলে তো আর এমন অপরিনামদর্শী মানুষ নিয়ে ঘর করে না। তাই তাদের গলা দিয়ে সর্বদা মধু বেরোয়। কেউ তো ভর সন্ধেবেলা অফিস থেকে ফিরে বাজারে বেরিয়ে একজন অপরিচিত মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে ঢোকে না তাই তাদের গলাও কেউ শুনতে পায় না।

    মনিদীপা সাইকোলজি নিয়ে পড়ছে। মাস্টার্সের ফাইনাল ইয়ারের স্টুডেন্ট। সাইকোলজি নিয়ে পড়ার দৌলতেই হয়তো ওর বয়সি ছেলে-মেয়েদের থেকে ও একটু বেশিই গভীরতা ধরে ওর চিন্তাভাবনায়।

    মায়ের কথা শুনেই আঁচ করলো, বাড়িতে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। এটা অন্যদিনের মতো পালংশাকের বদলে কলমি শাক আনার মতো ছোট্ট ভুল নয়। বাবার মুখচোখ দেখেও মনে হল বেশ অস্বস্তিতে আছে। তারপরেই চোখে পড়ল, ওরই সমবয়েসি বা ওর থেকে একটু ছোট একটা মেয়ে বারান্দার অন্য কোনটাতে বসে আছে কাঁচুমাচু করে।

    মনিদীপা বাবাকে ধীর গলায় জিজ্ঞেস করলো, ওকে তুমি চেন?

    বিশ্বনাথবাবু ঘাড় নেড়ে বললেন, না রে চিনি না। কিন্তু ও বলল, ও নাকি আমায় চেনে। ওর কেউ নেই শুনে আমি বাড়িতে নিয়ে এলাম।

    মনিদীপা এতক্ষণে মায়ের চেঁচামেচির কারণটা বুঝতে পারল। বাবার এমন কাজে মনি খুব একটা অবাক হয়নি। বিশ্বনাথ তরফদার এত হিসেব করে জীবন চালায়নি কোনোদিনই। ছোট থেকেই মনি দেখে এসেছে কারণে অকারণে বাবা বকা খায় মায়ের কাছে। বাবার নাকি সাংসারিক বুদ্ধি নেই একেবারেই। আপাত নিরীহ বাবার মধ্যে কিন্তু একটা সাহসী মানুষকে লুকিয়ে থাকতে দেখেছে মনি নিজে। এই সাহসী বিশ্বনাথ তরফদারকে হয়তো আদৌ কেউ চেনে না। কিন্তু মনি চেনে। যদিও ওই সাহসী মানুষটার প্রকাশ খুব কম। দেখা যায় সাদা চোখে। বেশিরভাগ সময়ই বিতর্কে না গিয়ে চুপ করে যায় বাবা। তবে মনি যখন ক্লাস সিক্সের স্টুডেন্ট তখন বাবার স্কুটারে করে স্কুলে যাচ্ছিল একদিন।

    তখন দেখেছিল, অত্যন্ত আধুনিক পোশাক পরিহিতা এক ভদ্রমহিলা এক রিকশাওয়ালাকে জোরে থাপ্পড় মেরেছিলো। কারণটা তেমন কিছুই নয়, বৃষ্টির পরে রিকশা নিয়ে বেরিয়েছিল লোকটা। বসার সিটটা মুছে নিলেও জল থেকে গিয়েছিল হয়তো স্পঞ্জের ভিতরে। ভদ্রমহিলার দামি শাড়িটা ভিজে গিয়েছিল অল্প। তাই রিক্সা থেকে নেমেই লোকটিকে চড় মেরেছিল সে। বাবা স্কুটার দাঁড় করিয়ে মনিকে বলেছিল, একটু দাঁড়া তো। ওর ভীতু, বুদ্ধি কম বাবাটা এগিয়ে গিয়েছিল মহিলার সামনে। গিয়ে বলেছিল, রিকশাওয়ালার কাছে ক্ষমা চান এখুনি। মহিলা হকচকিয়ে বলেছিল, আপনি কে?

    বাবা হাসিমুখে বলেছিল, মানুষের বিবেক। আমার কাজ যখন সেটা অহংকারে অন্ধ হয়ে যায় তখন তাকে জাগিয়ে তোলা। একজন বাবার বয়সি রিকশাওয়ালাকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাপ্পড় মারতে লজ্জা করল না? নাকি মনে করেন সম্মান শব্দের ওপরে আপনার একচেটিয়া অধিকার আছে?

    ওরও একটা সম্মান আছে। আপনি এভাবে কারোর গায়ে হাত তুলতে পারেন না। আপনি যদি ক্ষমা চান ভালো। নাহলে আমি ওদের কমিটিতে গিয়ে জানাব। ভদ্রমহিলা হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়েছিলেন। বাবা রিক্সাচালকের পিঠে হাত বুলিয়ে বলেছিল, এসব কথা মনে রাখবেন না। রাস্তাঘাটে এমন ভদ্র পোশাকের অশিক্ষিত মানুষ অনেক পাবেন।

    স্কুটারে উঠেই বাবা বলেছিল, মনি বাড়ি ফিরে মাকে আজকের ঘটনার কথা কিছু বলার দরকার নেই।

    এমন অনেক প্রতিবাদের ঘটনা মনি জানলেও আর কেউ বিশেষ জানে না। তাই বাবা যখন মেয়েটিকে বাড়িতে নিয়ে এসেছে নিশ্চয়ই কিছু একটা ব্যাপার আছেই।

    মনি বলল, ঠিক আছে মা। এত চেঁচামেচি করে তো লাভ নেই। ওই মেয়েটাকে একটু খেতে দাও। আমি ওর সঙ্গে পরে কথা বলছি। বুঝলে কালকে থানায় দিয়ে আসব। বা ওর ঠিকানা বের করতে পারলে বাড়িতে কল করে দেব।

    মৃন্ময়ী বললেন, কিন্তু যদি চোর-ডাকাত হয়ে তখন কী করবি?

    মনিদীপা বলল, বললাম তো আমি দেখছি বিষয়টা।

    মৃন্ময়ী নরম গলায় বললেন, হ্যাঁ রে সূর্যর সঙ্গে তোর কাল দেখা হবে? আমি কাল পায়েশ বানাব তাহলে ওকে একটু দিতিস।

    মায়ের মুখে সূর্যর নামটা শুনেই অকারণে মনিদীপার গালে এক মুঠো আবির ছড়িয়ে গেল। হোয়াটসআপে জ্বলজ্বল করছে সূর্যর মেসেজটা।

    সূর্যর সঙ্গে মনির আলাপ খুব অল্প দিনের। কিন্তু মাকে কোনো কথাই লুকিয়ে যায় না মনি। তাই সূর্যর সঙ্গে পরিচয়টাও বলেছিল। মায়ের দৃঢ় ধারণা সূর্য মনিকে পছন্দ করে। মনিও যে ওকে অপছন্দ করে এমন নয়। তবে সূর্যর সঙ্গে ওর বেশ কিছু চিন্তাভাবনায় বড্ড অমিল।

    সূর্য বিশাল বড়লোকের ছেলে। বাবার বড় ব্যবসা আছে। সূর্য নিজে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করেও বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করতে চায় না। এই নিয়ে ওদের ফ্যামিলিতে বেশ অশান্তি চলছে। সূর্য যে চাকরি করতে চায় তাও নয়। একটু যেন কেমন অদ্ভুত টাইপ।

    মনিদীপা আবার বড্ড গোছানো টাইপের মেয়ে। নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে স্থির। তাই এমন এলোমেলো স্বভাবের ছেলেকে ভালো লাগলেও সম্পর্কে সিরিয়াস হতে চাইছে না এখনই। তাছাড়া মাত্র মাস তিনেকের পরিচয় ওদের। তবুও কেন কে জানে সূর্যর মেসেজ বা ফোন পেলে একটু হলেও বেসামাল হয়ে পড়ে মনিদীপা। আগামীকাল সূর্যর সঙ্গে ওর দেখা হওয়ার কথা আছে। মনিদীপা যে স্কুলে গান শেখায় তার ঠিক পাশের বাড়িটা সূর্যর।

    উজ্জয়নীর গানের স্কুল ওটা। উজ্জয়নী আর মনি একই সঙ্গে গান শিখেছিল সেই ছোট্ট থেকে। উজ্জয়নী হঠাৎই গ্রাজুয়েশনের পরে গানের স্কুল করে বসল। উদ্বোধনের দিন মনি নিজেও উপস্থিত ছিল ওর স্কুলে। বড্ড যত্ন করে সাজিয়েছিল উজ্জয়নী স্কুলটা। মেয়েটা বরাবরই বড্ড মুডি। মাস চারেক আগে মনির বাড়িতে হাজির। সঙ্গে বিয়ের কার্ড। মনি, আমি বিয়ে করছি রে। মনিদীপা জিজ্ঞেস করেছিল, কাকে বিয়ে করছিস এমন আচমকা। উজ্জয়িনী হেসে বলেছিল, সেও গান গাইতে পারে জানিস। আমরা দুজনে গানের ভেলায় ভেসে যাব। মনি বলেছিল, আর তোর শখের স্কুল?

    সংগীত বাসরের কী হবে?

    উজ্জয়িনী বলেছিল, আপাতত মাস পাঁচেক বন্ধ রাখব ভেবেছি তারপর নাহয়…পরক্ষণেই লাফিয়ে বলেছিল, এই মনি প্লিজ তুই আমার স্কুলটার দায়িত্ব নিবি। তুই তো দুর্দান্ত গান করিস। এখনও চর্চায় আছিস। তুই পারবি।

    মনিদীপা হকচকিয়ে বলেছিল, আমি মাস্টার্স করছি, পড়াশোনার চাপ আছে রে। আমি কি পারব? উজ্জয়নী উত্তেজিত হয়ে বলেছিল, আলবাত পারবি। আর সপ্তাহে মাত্র একদিন তো। শনিবার বিকেলে দু ঘণ্টার ক্লাস। পনেরো জন ছাত্রী-ছাত্রী আছে আমার স্কুলে। প্লিজ চালিয়ে দে কটা মাস। কিছুটা জোর করেই মনির ওপরে দায়িত্বটা চাপিয়ে দিয়েছিল উজ্জয়িনী। অবশ্যই এই পাঁচমাসের স্কুলের ইনকাম মনির। একটা টাকাও নেবে না উজ্জয়িনী।

    মনিদীপা একটু ভয়ে ভয়েই শুরু করেছিল। কিন্তু সপ্তাহ দুয়েক যাওয়ার পরেই উজ্জয়িনীর সংগীত বাসরকে আপন করে নিয়েছিল।

    সংগীত বাসরের ঠিক গায়েই তিনতলা সাদা আর ধূসর রঙের বাড়িটা সূর্যদের।

    মনিদীপা খেয়াল করেছিল, ও যখন তানপুরায় সুর তোলে তখন রোজই দোতলার একটা নির্দিষ্ট ঘরের জানালা খুলে যায়। একটা মুখ জানালার গ্রিলে থুতনি ঠেকিয়ে অপলক তাকিয়ে থাকে ওর দিকে।

    একদিন সংগীত বাসরের ক্লাস শেষে সমস্ত স্টুডেন্ট চলে যাওয়ার পরে দরজায় তালা ঝোলাবার জন্য রেডি হচ্ছিল মনিদীপা তখন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিল, আসতে পারি?

    সেই প্রথম জানালায় দেখা মুখটা স্পষ্ট চোখের সামনে দেখেছিল মনিদীপা। যাকে বলে সুপুরুষ। ওর দিকে তাকিয়ে বলেছিল, আমার নাম সূর্য। আপনার? আগে তো এটা অন্য একজনের স্কুল ছিল, আপনি বুঝি নতুন?

    মনিদীপা হেসে বলেছিল, ওহ তাকে দেখতে না পেয়েই বুঝি উতলা হয়ে উঠেছেন? কিন্তু স্যার তার তো বিয়ে হয়ে গেছে। সূর্য মুচকি হেসে বলেছিল, না ম্যাডাম উজ্জয়িনীর সঙ্গে আমার আলাপ ছিল মৌখিক। তাকে দেখার জন্য আমি জানালায় দাঁড়াতাম না নিয়ম করে। যেটা এখন করি।

    মনিদীপা লজ্জা পেয়ে বলেছিল, উজ্জয়িনী আমায় দায়িত্ব দিয়েছে মাস পাঁচেকের। ও আমার বান্ধবী।

    সূর্য বলেছিল, উজ্জয়িনী ম্যাডামের গান ভালো ছিল। কিন্তু আমাকে এভাবে আকৃষ্ট করতে পারেনি। যেটা মিস…

    মনিদীপা বলেছিল, আমার নাম মনিদীপা তরফদার। সূর্য আলগোছে বলেছিল, মনিদীপা আপনার গলায় ম্যাজিক আছে, বিলিভ মি। অদ্ভুতভাবে জাদু করেছেন আমায়। এভাবেই আচমকা পরিচয় হয়েছিল সূর্যর সঙ্গে। তারপর ফোনে কথা বা হোয়াটসআপ চ্যাটেও কথা হয় রোজই।

    একদিন গানের স্কুলে গিয়ে ওর স্কুটি বিগড়ে গিয়েছিল। সেদিন সূর্য ওকে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছিল নিজের বাইকে করে।

    সূর্যর যে মনিকে পছন্দ সেটা মাও বুঝে গেছে। অথচ মনিদীপার মনে এখনো দ্বন্দ্ব। হিউম্যান সাইকোলজি নিয়ে পড়ার জন্যই নাকি এমন সন্দেহবাতিক মন ওর, এটাই বলে মা মনিকে।

    হোয়াটসআপ ওপেন করতেই চোখে পড়ল মেসেজটা, আমি মুহূর্ত গুনছি। আগামীকাল বিকেলের জন্য।

    মনি কি উত্তর দেবে বুঝতে না পেরে একটা হাসির ইমোজি পাঠিয়ে দিল।

    নিজে পোশাক বদলে মেয়েটার জন্য একটা সালোয়ার নিয়ে বাইরে বেরোল।

    মেয়েটার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, কি নাম তোমার?

    মেয়েটা ভীতু গলায় বলল, সুপর্ণা। আমি চোর নই। চুরি করব বলে আসিনি।

    মনিদীপা বলল, বেশ বুঝলাম। এখন ওয়াশরুমে গিয়ে পোশাক বদলে ফ্রেস হয়ে নাও। আমার বাবা মানুষ চিনতে ভুল করে না। তাই তুমি আজকের রাতটা এখানেই থাক।

    মৃন্ময়ী চূড়ান্ত বিরক্ত হয়েই বললেন, বাবা-মেয়ে শুধু শুধু বাড়িতে না থেকে একটা আশ্রম খুলতে পার। আমার মতন পাপী-তাপি মানুষের একটু পুণ্য হয় তোমাদের সংস্পর্শে এসে।

    খাওয়ার পরেই মনি সুপর্ণাকে ডেকে নিল নিজের ঘরে। মেয়েটার চোখেমুখে আতঙ্ক। সবসময়ই একটু অন্যমনস্ক যেন! না সে চোর নয়। সম্ভবত মানসিক রোগী।

    মনিদীপা বলল, সুপর্ণা তুমি গান শুনতে ভালোবাসো? ফেভারিট সিঙ্গার কে তোমার?

    সুপর্ণা হয়তো এমন প্রশ্ন আশা করেনি। তাই একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েই বলল, আমার অরিজিৎ সিংকে ভালো লাগে। শ্রেয়া ঘোষাল শুনতে ভালো লাগে। আমি তো গান চালিয়ে আয়নার সামনে নাচতাম। মনিদীপা হেসে বলল, আজ নাচবে? চলো দুজনে মিলে নাচি। সুপর্ণা উচ্ছ্বসিত হতে গিয়েও থমকে গিয়ে বলল, আজ থাক।

    মনিদীপা হেসে বলল তবে থাক। তুমি কোন সাবজেক্ট নিয়ে পড়ছ সুপর্ণা? আমি সাইকোলজিতে মাস্টার্স করছি।

    সুপর্ণা বলল, আমি ইংরাজি নিয়ে পড়ছি। আমার বিএ ফাইনাল ইয়ার। আমার দিদি মাস্টার্স করছে জিওগ্রাফি নিয়ে। আমরা দুই বোন।

    মনিদীপা বলল, তার মানে তুমি সাহিত্য প্রেমী তাই তো! সুপর্ণা লজ্জিতভাবে বলল, ইংরাজি পড়তে আমার ভালো লাগে।

    মনিদীপার সঙ্গে গল্পে মেতে উঠেছে সুপর্ণা। এটাই মনির উদ্দেশ্য ছিল। কোথায় বাড়ি? কেন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে উদ্দেশ্যবিহীনভাবে এসব জিজ্ঞেস করলে মেয়েটা যে বলবে না এটা মনি জানে। মানুষ আরও সচেতন হয়ে যায় তখন। হিউম্যান সাইকোলজি নিয়ে পড়ার দৌলতে মানুষের মন বুঝতে একটু সুবিধাই হয়।

    মনিদীপা ফিসফিস করে মজার ঢঙে বলল, আর ক্রাশ? প্রেম করো নাকি?

    সুপর্ণা লজ্জিত গলায় বলল, ক্রাশ আছে কিন্তু প্রেম করি না। আমাদের পাড়ার অভিজিৎদাকে ভালো লাগে সেই ছোট থেকে। কিন্তু বলা হয়নি কখনো। এখন তো অভিজিৎদা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে চাকরিও পেয়ে গেল।

    মনিদীপা বলল, সেকি এখনও প্রোপজ করে উঠতে পারনি? সুপর্ণা হেসে বলল, ধুর ওকে দেখলেই আমার লজ্জা করে।

    মনিদীপা বলল, তোমাদের একই পাড়ায় বাড়ি? এবারে সুযোগ বুঝে টুক করে বলে ফেল।

    সুপর্ণা অন্যমনস্ক স্বরে বলল তা আর বোধহয় হয় না দিদিভাই। সুপর্ণার মুখে দিদিভাই শব্দটা বড্ড মিষ্টি লাগল। না বিশ্বনাথ তরফদার মানুষ চিনতে ভুল করে না। এ মেয়েটা অন্তত চোর নয়। তবে এর একটা লুকানো ইতিহাস আছে। সেটার সন্ধান পেতে হবে মনিকে। খুব ধীরে ধীরে পৌঁছাতে হবে ওর মনের অন্দরমহলে। ওর কষ্ট যন্ত্রণাগুলোকে রক্তাক্ত না করে ধীর পায়ে এগোতে হবে।

    কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ। সামনে টিভিতে কোনো একটা হিন্দি সিরিয়াল চলছে।

    সুপর্ণা আচমকা বলে বসল, তোমার কোনো ভাই নেই?

    মনি হেসে বলল, না রে ভাই নেই। আমি একাই। কেন? মনিদীপা সুপর্ণাকে কখন যে তুই বলে ডেকেছে ওর খেয়াল নেই। মেয়েটার চোখদুটো বড্ড মায়া জড়ানো।

    সুপর্ণা সামলে নিয়ে বলল, এমনি। আচ্ছা দিদিভাই প্রতিবাদ মানে কী?

    মনি চুলটা আলগা খোঁপা করতে করতেই বলল, যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোকে প্রতিবাদ বলে।

    সুপর্ণা বলল, প্রতিবাদ যে করে সে বুঝি খুব খারাপ মেয়ে হয়ে যায়! অন্যায় যে করে সে তাহলে ভালো কী করে হয়!

    মনিদীপা একটু ভেবে বলল, আসলে কি জানিস আমাদের সমাজের অদ্ভুত নিয়ম আছে। যে অন্যায় করছে তাকেই সবাই আড়াল করতে চায়। তাই প্রতিবাদী চেহারাটা সকলের সম্মুখে চলে আসে। তখন সে হয়ে যায় বিতর্কিত চরিত্র।

    সুপর্ণা বলল, কিন্তু অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে যে আরেকটা অন্যায় ঘটবে সেটা কেন কেউ বোঝে না? মনিদীপা বেশ বুঝতে পারছিল মেয়েটার মনের মধ্যে একটা ঝড় চলছে। কিন্তু ও কিছুতেই প্রকাশ করতে পারছে না। সংকোচ এসে পথরোধ করে দাঁড়াচ্ছে ওর।

    সুপর্ণার ঠোঁটটা কেঁপে উঠল। কিছু বলতে গিয়েও পারল না। মনিদীপা বলল, তবে কী জানিস আমার বাবা বলে অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করবি। নাহলে বুঝবো তুইও ওই অন্যায়কারীর মতোই অপরাধী। আমার বাবা ছোট থেকে কোনো অন্যায় দেখলেই এগিয়ে যেত।

    সুপর্ণা মনির হাত ধরে টেনে বাইরে নিয়ে গেল। ওর চেরী রেড স্কুটিটার দিকে আঙুল তুলে বলল, এটা কি তোমারই স্কুটি? নাকি সেকেন্ড হ্যান্ড কিনেছ কারোর কাছ থেকে?

    মনি একটু হকচকিয়ে বলল, না শোরুম থেকে কিনে এনেছি। কেন রে?

    মৃন্ময়ী কথাটা শুনতে পেয়েই বললেন, কেন গো মেয়ে স্কুটিতে তোমার কী দরকার? সেই বাড়িতে ঢুকে থেকে দেখছি স্কুটির দিকে নজর তোমার। কেন বলবে?

    মনি মাকে থামিয়ে বলল, উফ মা তুমি থামবে। আমি তো কথা বলছি ওর সঙ্গে। মৃন্ময়ী বিরক্ত হয়ে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ালেন।

    সুপর্ণা বলল, বিশ্বাস করবে আমায়? বলো বিশ্বাস করবে?

    মনি ওর হাতটা নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বলল, তুই নির্দ্বিধায় বল।

    আমি মাত্র মাসখানেক আগে রেপড হতে হতে বেঁচে যাই। খুব কপালের জোরে একটা গাড়ির আলো এসে ছেলেটার মুখে পড়েছিল আর ছেলেটা পালিয়েছিল। আমি শুধু তখন দেখেছিলাম স্কুটির নম্বরটা। ঝড়ের গতিতে মনির স্কুটির নম্বরটা বলে দিল সুপর্ণা। বাড়িতেও বলেছিলাম এ ঘটনার কথা। কিন্তু বাবা-মা সবাই আমায় মুখ বন্ধ করে রাখতে বলেছে। সমাজে নাকি ওদের সম্মানহানি হবে। লোকে বলবে ছি ছি ওদের মেয়ের এভাবে সম্মানহানি হয়েছে? তার মানে মেয়েটা খারাপ। আমার নাকি বিয়ে হবে না, আমার দিদিকেও কেউ বিয়ে করতে চাইবে না, তাই আমি মুখ বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হই।

    কিন্তু তারপর থেকে একটা রাতও আমি ঘুমাতে পারিনি বিশ্বাস করো। ছেলেটা স্কুটিটা নিয়ে মেট্রো স্টেশনের দিকে পালিয়ে গিয়েছিল। নিয়ম করে এই একমাস আমি রোজ বিকেলে মেট্রোর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকি। আজকে দেখলাম এই নম্বরের স্কুটিটা চালিয়ে আসছে এক বয়স্ক ভদ্রলোক। বুঝতে পারলাম এই ভদ্রলোকের ছেলেই হয়তো…তাই তোমার বাবার পিছু পিছু তোমাদের বাড়িতে উপস্থিত হই। এসে দেখলাম আমার ভাবনা ভুল। এ বাড়িতে কোনো ছেলে নেই। কিন্তু বিশ্বাস করো ছেলেটা এই স্কুটিটা চেপেই এসেছিল। নম্বরের প্রতিটা ডিজিট দিবারাত্র ভাসছে চোখের সামনে।

    মনিদীপা অবাক হয়ে বলল, তোর ভুল হচ্ছে সুপর্ণা। এ স্কুটি আমি আর বাবা ছাড়া আর কেউ কখনো চালায়নি রে। ওই অবস্থায় তুই হয়তো ঠিক মনে রাখতে পরিসনি। কিন্তু তুই থানায় যাসনি কেন?

    সুপর্ণা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, এই যে তুমি যেমন বিশ্বাস করলে না তেমন কোনো প্রমাণ ছাড়া থানাও যে বিশ্বাস করত না। তাছাড়া বাবা-মা বারণ করে দিয়েছিল। আমি যেন কাউকে না বলি। কিন্তু সারারাত আমি পাগলের মতো জেগে থাকি। সেই মুখটা ভাসে চোখের সামনে। আর এই স্কুটির নম্বরগুলো।

    মনিদীপা বলল, তোর কোথাও ভুল হচ্ছে রে। আমার স্কুটির নম্বরের সঙ্গে তুই হয়তো সেই স্কুটির নম্বরগুলো ঘেঁটে ফেলেছিস! চল মা খেতে ডাকছে খেয়ে আসবি। তোর বাবা মা তো চিন্তা করবে তাদের একটা ফোন করে অন্তত বলে দে তুই বন্ধুর বাড়িতে আছিস।

    নিজের পার্স থেকে ফোনটা বের করে বাড়িতে কল করল সুপর্ণা। মনিদীপা বলল, চল খেয়ে আসবি চল। কালকে সকালে আমি নিজে তোকে বাড়িতে পৌঁছে দেব। সুপর্ণা বাইরে বেরিয়েও আড়চোখে আরেকবার তাকালো উঠোনে রাখা রেড স্কুটিটার দিকে।

    রাতে খাওয়ার টেবিলেও মা চুপচাপ ছিল। বিরক্তি স্পষ্ট মায়ের চোখেমুখে। বাবা শান্তভাবে খেয়ে যাচ্ছে, বিরাট ভুল কাজ করে ফেলার গ্লানি নেই মুখের শিরা-উপশিরায়। শুধু মায়ের সঙ্গে চোখাচোখি হতে একটু অস্বস্তি রয়েছে। সুপর্ণা মনির পাশের চেয়ারেই বসেছে। সেভাবে খেতে পারছে না। আড়ষ্ট হয়ে রয়েছে। থমথমে পরিবেশটাকে হালকা করতেই মনি বলল, কালকে আমি নিজে গিয়ে সুপর্ণাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসব। মায়ের ঠোঁটের কোণে বিরক্তি। কেন ও নিজে চিনে বাড়ি যেতে পারবে না নাকি? অন্যের বাড়ি চিনে চলে আসতে পারছে। অপরিচিত লোককে রাস্তায় চেনা লাগছে আর নিজের বাড়ির রাস্তা ভুলে গেছে?

    সুপর্ণা ঘাড়টা নিচু করে নিল। মনিদীপা বলল, ভুলবে কেন ওই তো আমায় চিনিয়ে নিয়ে যাবে।

    রাতে সুপর্ণা মনির পাশেই শুয়ে পড়ল। আর একটাও কথা বলল না। মনিও জোর করল না।

    ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা,

    মম শূন্যগগনবিহারী।

    আমি আমার মনের মাধুরী মিশায়ে তোমারে করেছি রচনা—

    তুমি আমারি, তুমি আমারি,

    মম অসীমগগনবিহারী’

    গানটা তোমার জানা মনিদীপা? তাহলে কাল সন্ধেতে এই গানটা দিয়েই আমায় ডেকো প্লিজ।

    সূর্যর মেসেজটা পড়তে পড়তে বারংবার লজ্জা পাচ্ছিল মনি। সূর্য লিখল, শুধু টাইপিং দেখাচ্ছে অথচ মেসেজ এসে পৌঁছাচ্ছে না আমার দুয়ারে।

    তুমি কি শেষপর্যন্ত আমার প্রেমে পড়ে গেলে? তাই কি এত সংশয়?

    মনিদীপা বলল, জানি না। কাল দেখা হচ্ছে। সত্যিই কী তবে মনিদীপা সূর্যের প্রেমে পড়ে গেল?

    সকালে উঠেই নিজের চুড়িদারটা পরে রেডি হয়ে বসে আছে সুপর্ণা। একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে স্কুটির নম্বর প্লেটের দিকে।

    মনিও রেডি হচ্ছে। ওকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে টিউশন সেরে সংগীত বাসরে যাবে। মা দুটো টিফিন কৌটো ধরিয়ে দিয়ে বলল, একটাতে পায়েস আছে। আর আরেকটাতে লুচি তরকারি। তোর বাবার আজ জন্মদিন তাই পায়েস বানালাম।

    তোরা ফিরে এলে রাতে ভালো করে রান্না করব।

    মনি বলল, তাহলে আমি ফেরার পথে একটা কেক আনব মা। বাবা কাটবে আজ। মা মুচকি হেসে বলল, আনিস। ও মানুষ তো কোনোদিন মুখফুটে নিজের ইচ্ছের কথা জানতেও পারবে না।

    মনিদীপা ব্যাগটা গুছিয়ে নিয়ে বললো, হ্যাঁ রে সুপর্ণা ওই ঘটনাটা যখন ঘটেছিল তখন রাস্তায় লোকজন ছিল না?

    সুপর্ণা ভয়ে ভয়ে বলল, আমি গলির রাস্তা ধরে যাচ্ছিলাম। তখন ঝড়ের পরে লোডশেডিং ছিল। গলির মুখটাতেই ছেলেটা এসে জোরে আমার বুকটা খামচে দিয়েছিল। আমি পড়ে গিয়েছিলাম রাস্তার ধারে। ছেলেটা আমার হাত ধরে টেনেছিল। তারপর জড়িয়ে ধরে বুকে মুখ রেখেছিল। জামাটা ছিঁড়ে দিয়েছিল কিছুটা। আমি ভয়ে থরথর করে কাঁপছিলাম। তখনই একটা গাড়ির আলো পড়েছিল ছেলেটার মুখে। ছেলেটা আমায় ছেড়ে দিয়েছিল। ওই গাড়ির আলোতেই দেখেছিলাম…থেমে গেল সুপর্ণা।

    মনিদীপা বলল, চল তোকে পৌঁছে দিয়ে আসি তোর বাড়িতে।

    সুপর্ণার বাড়ি খুব বেশি দূরে নয়। স্কুটিতে মিনিট দশেকের রাস্তা। স্কুটি থেকে নেমে সুপর্ণা বললো, তুমি বুঝি অ্যাভেঞ্জারের ভক্ত?

    মনিদীপা হেসে বলল, একেবারেই নয়। বরং উলটো। আমার ওসব মাথাধরা মুভি মোটেই পছন্দ নয়। সুপর্ণা হেসে বলল, তাহলে তোমার স্কুটিতে অ্যাভেঞ্জারের স্টিকার কেন লাগিয়েছো?

    চমকে উঠল মনিদীপা। স্কুটিটা দুদিন পড়েছিল সূর্যর কাছে। ও সারিয়ে দেবে বলেছিল। ফেরত দেবার সময় বলেছিল, আমার ফেভারিট মুভির স্টিকার লাগিয়ে দিলাম তোমার স্কুটিতে।

    চকিতে ঘটনাটা মনে পড়ে গেল মনিদীপার। সূর্যর হোয়াটসআপ ডিপিটা সুপর্ণার সামনে কাঁপা হাতে ধরল মনিদীপা। ঈশ্বরকে স্মরণ করে নিল, ভগবান যেন সুপর্ণা বলে এই ছেলেটা নয় দিদিভাই।

    সকালে স্নান করতে করতেও সূর্যর প্রিয় গানটা বার দুয়েক গুনগুন করে নিয়েছে মনি। আজ এই গান শুনেই ওর ঘরের জানালা খুলবে সূর্য।

    সুপর্ণা কেঁপে উঠল। ঠোঁটটা থরথর করে কাঁপছে। একটা আঙুল তুলে বলল, এটা কে হয় দিদিভাই তোমার? তুমি একে চেনো?

    মনি অধৈর্য হয়ে বলল, তুই চিনিস?

    সুপর্ণা ডুকরে কেঁদে উঠে বললো, দিদিভাই এই ছেলেটা। এই মুখটা দুঃস্বপ্নের মতো এসে দাঁড়ায় আমার সামনে আজ প্রায় একমাস ধরে। একে ভুলতে পারিনি এক মুহূর্তের জন্যও।

    ব্যাগে সূর্যর জন্য মায়ের দেওয়া খাবার। ওর মনে ছিল তুমি সন্ধ্যার মেঘমালার সুর। সব ছাপিয়ে গিয়ে কঁকিয়ে উঠল সুপর্ণার গলাটা— ‘দিদিভাই এই ছেলেটা’।

    মনিদীপা বলল, চল আমার সঙ্গে।

    সংগীত বাসরের পাশের সাদা আর ধূসর বাড়িটার সামনে স্কুটিটা থামাল মনিদীপা।

    বাড়ির নীচেই একজন পরিচারিকাকে দেখে মনিদীপা বলল, এই যে শুনছেন..এ বাড়ির ছেলে সূর্য আছে?

    পরিচারিকা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে বলল, সূর্য, সেটা আবার কে? এ বাড়ির কোনো ছেলে নেই। দুই বয়স্ক মানুষের বাড়ি এটা। এদের ছেলে-মেয়েরা বাইরে থাকে। আমিই এদের দেখাশোনা করি।

    আরও বিস্মিত হয়ে মনিদীপা বলল, কি বাজে বকছেন? সূর্য এ বাড়ির একমাত্র সন্তান। বিজনেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করেছে, বাবার বিজনেসে বসতে নারাজ…আপনি ওর বাবাকে ডেকে দিন প্লিজ।

    ভিতর থেকে একজন সত্তর বছরের বয়স্ক ভদ্রলোক বাইরে বেরিয়ে এসে বললেন, শিউলি ওনাদের বলো এ বাড়িতে আর ভাড়া দেবার ঘর ফাঁকা নেই।

    মনিদীপা এগিয়ে গিয়ে বলল, সূর্য কী আপনার ছেলে? ভদ্রলোক হেসে বললেন, আমার ছেলের নাম প্রকাশ। সূর্য বলে তো কাউকে চিনি না।

    মনিদীপা বাধ্য হয়ে ছবিটা দেখিয়ে বললো, একে চেনেন?

    ভদ্রলোক হেসে বললেন, ওহ অরুণ? তাই বলো। ও তো আমার ভাড়াটে। আমার তো দোতলা আর তিনতলায় ভাড়া থাকে অনেকে। এটা অরুণের ছবি। ওপরের ঘরে যাও ও রয়েছে এখনও।

    মাথাটা কেমন টলছিল মনিদীপার। সূর্য ওকে নিজে বলেছিল, এটাই ওর বাড়ি। ওর বাবা, মা, কাকা, ভাই, বোন মিলে থাকে এই বাড়িতে। এত মিথ্যে কেন?

    দরজায় টোকা দিতেই দরজা খুলল সূর্য। ওকে দেখে ভূত দেখার মতো চমক উঠে বলল, একি তুমি বাড়িতে? বাবা-মা কেউ দেখেনি তো?

    মনিদীপা ওর সামনেই নিজের বাবাকে ফোন করে বলল, বাবা থানায় একটা রিপোর্ট লেখাতে হবে, এখুনি। নাহলে হয়তো হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে বিশ্বপ্রেমিকটি।

    সুপর্ণাকে সামনে দাঁড় করিয়ে মনিদীপা বলল, চিনতে পারো নাকি অরুণ একে? ঝড়ের পরে লোডশেডিং-এর রাতে একে কোথাও দেখেছ নাকি তুমি?

    অরুণ থতমত খেয়ে বলল, মনে পড়ছে না। সুপর্ণা ওর গালে ঠাস করে থাপ্পড় মেরে বলল, তোর ঘাড়ের কাছে ট্যাটুতে ”A” লেখা আছে। তাই না রে? রাস্তাঘাটে অন্ধকারে মেয়েদের সঙ্গে নোংরামি করাটা তোর স্বভাব। আর দিনের আলোয় অত্যন্ত ভদ্র প্রেমিক হয়ে মেয়েদের ফাঁসানোটা নেশা তাই না? মনিদীপা অরুণের জামার কলারটা সরাতেই চোখে পড়ল ”A” লেখা ট্যাটুটা।

    অরুণকে পুলিশ অ্যারেস্ট করেছে। ওর নামে নাকি ফ্রড কেসের ডায়েরিও আছে।

    শনিবারের ক্লাস করছে মনিদীপা। গলাটা একটু কেঁপে উঠল যেন। সুর কাটল বার দুয়েক।

    বার দুয়েক চোখ চলে গেল ওই বন্ধ জানালাটার দিকে। সুপর্ণা ওর নতুন স্টুডেন্ট। সেও বসে আছে বাকি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে।

    মনিদীপা কী তাহলে ওই মিথ্যুকটার প্রেমে পড়ে গিয়েছিল? তাই কী বুকের ডান দিকটা চিনচিন করছে?

    সুপর্ণা বলল, দিদিভাই আমার এখন নিশ্চিন্তে ঘুম হয়। আর ওই মুখটা আমার সামনে আসে না জানো। তুমি আমায় বাঁচালে।

    মৃন্ময়ী এসব জানার পরে একটু বেশিই চুপ হয়ে গেছেন। বিশ্বনাথ তরফদার তার স্বভাবগত ঠান্ডা স্বরে বলেছেন, মনি সময়কে একটু সময় দে, দেখিস সে সব ভুলিয়ে দেবে। মানুষটা খাঁটি হওয়া বড্ড জরুরি মনি। ভালোবাসা তো একটা অনুভূতি মাত্র। খাঁটি মানুষ পেলে ও অনুভূতি তৈরি হতে সময় লাগবে না। তুই শুধু সময়কে একটু সময় দিস।

    বাবাকে জড়িয়ে ধরে মনি বলেছে, বাবা তুমি আমার সুপারম্যান। লম্ফঝম্ফ না করেই কি সুন্দরভাবে আমার সামনে সত্যিটার প্রকাশ ঘটালে সুপর্ণাকে আমার কাছে এনে দিয়ে।

    বিশ্বনাথবাবু হেসে বললেন, তোর মায়ের বকুনি খেয়ে একটু যা মানুষ হয়েছি। নির্মল হাসি বাবার মুখে। সেদিকে তাকিয়ে মনিদীপা মনে মনে বলল, শক্তি দাও আমায়, স্মৃতিগুলোকে ঝাপসা করে ফেলার জন্য।

    মনিদীপা গুনগুন করে উঠল…

    ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে।
    এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে
    আমার এই দেহখানি তুলে ধরো,
    তোমার ওই দেবালয়ের প্রদীপ করো—’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআদিবাসী লোককথা : ১ম খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    Next Article মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    অর্পিতা সরকার

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }