Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রিয় পঁচিশ – অর্পিতা সরকার

    অর্পিতা সরকার এক পাতা গল্প407 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চলো বন্ধু হই – অর্পিতা সরকার

    চলো বন্ধু হই

    আমার নাম অরণ্য চৌধুরী, আমি একটি বহুজাতিক সংস্থায় চাকরি করি দশ বছর ধরে। আজ আপনাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবো আমার অতীতে।

    আমার বাড়িতে আমার বাবা ছাড়া আর কেউ ছিল না। এতদিন পর্যন্ত আমি মনে মনে একটু রাগ করতাম আমার বাবা অংশুমান চৌধুরীর ওপরে। বড্ড অবুঝ, বাস্তববুদ্ধি কম বলেই জানতাম মানুষটার। ভদ্রলোক ব্যাংক কর্মী ছিলেন। রিটায়ার করেছেন। আমি আমার বাবার একমাত্র সন্তান। আমার মায়ের সঙ্গে আমার বাবার ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল আমার বয়েস তখন মাত্র নয় বছর। আমি বলেছিলাম, আমি বাবার কাছে থাকতে চাই। তার ঠিক কি কারণ ছিল জানি না, তবে আমার বাবা মানুষটাকে চিরকালই বেশ নির্বিবাদী মনে হতো। ডিভোর্সের সঠিক কারণ আমি তখন জানতাম না। তবে এটুকু বুঝেছিলাম, আমার মামার বাড়ির দাদু মারাত্মক রকমের ধনী মানুষ। অল্পবয়সে বাবা-মাকে হারানো অংশুমান চৌধুরীকে মেয়ের পাত্র নির্বাচন করেছিলেন এই কারণেই যাতে আমার বাবা ঘরজামাই থাকেন। কিন্তু আমার বাবা নির্বিবাদী মানুষ হলেও এই প্রস্তাবে রাজি হননি। আমার দাদু ভেবেছিলেন, বিয়ের পর সম্পত্তি আর সুখের ঠিকানা দেখে বাবা নিশ্চয়ই রাজি হবে, সেই ভরসাতেই নিজের একমাত্র আদুরে মেয়ে নীহারিকার বিয়ে দিয়েছিলেন আমার বাবার সঙ্গে।

    যাইহোক ডিভোর্সের পরে বাবাকে অনেকেই দ্বিতীয় বিবাহের জন্য জোর করেছিল। কিন্তু আমার বাবা আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করেছিল, অরু তোর কি মত? তুই কি নতুন মা চাস? যদি তুই বলিস তবেই আমি বিয়ে করব।

    আমি তখন জোরে জোরে ঘাড় নেড়ে বলেছিলাম, না, মা চাই না। মা সম্পর্কে কেমন একটা ভয় তৈরি হয়ে গিয়েছিল আমার। রেগুলার দেখতাম, বাবা অফিস থেকে ফিরলেই মা কি পেয়েছি আর কি পাইনির হিসেব নিয়ে বসত। আমার মা ছিল খুব সুন্দরী। অত্যন্ত অবস্থাপন্ন বাড়ির মেয়ে। মায়ের বন্ধুদের কত ভালো বিয়ে হয়েছে, আর মায়ের হয়েছে ছাপোষা সরকারি কর্মচারীর সঙ্গে, এই নিয়েই হত বেশি ঝামেলা। বাবা বিরক্ত হয়ে বলত, তাহলে চলে যাও, আমার তো কিছুই করার নেই। আমি জ্ঞান হয়ে থেকে এটাই শুনে আসছি। মা নিজেও দাদুর বিজনেসের একটা অংশ দেখত। এমন টানাপোড়েন হতে হতেই আমার দাদু মারা গেলেন। দাদুর পেট্রোল পাম্প থেকে আরও কি সব বড় বড় ব্যবসা অনাথ হয়ে গেল। বাধ্য হয়ে মা চলে গেল বাপের বাড়ি। কখনো আমি যেতাম মায়ের সঙ্গে, কখনো এবাড়িতেই থেকে যেতাম শম্পাদির কাছে। শম্পাদি আমাদের সব সময়ের পরিচারিকা। গলাটা কর্কশ হলেও স্বভাবটা ছিল খুব মিষ্টি। দাদু মারা যাবার কয়েকমাস পরেই বাবার নামে মিউচ্যুয়াল ডিভোর্সের জন্য উকিলের চিঠি এলো। আমার বাবা শান্ত মানুষ, কোনো অশান্তি না করেই দিয়ে দিল ডিভোর্স। মা আমার কাস্টাডি নিয়ে একটু লড়েছিল, কিন্তু আমি বেঁকে বসেছিলাম। আমাদের ছোট দোতলা বাড়ি আর বাবাকে ছেড়ে যাব না বলে জেদ ধরেছিলাম।

    বছর খানেকের মধ্যেই মা বিয়ে করে সেটেল্ড হয়েছিল বাপের বাড়িতেই। বাবাকেও অনেকেই বিয়ের জন্য জোর করেছিল, কিন্তু ওই যে বললাম, আমার বাবা বড্ড ভালো মানুষ, তাই আমার মতো নয় বছর বয়সী বাচ্চার মতামত জানতে এসেছিল। আমি কি বুঝেছিলাম কে জানে, আবার ঝগড়া, আবার অশান্তি…এই ভেবেই তীব্র প্রতিবাদ করে বলেছিলাম, না আমার মা চাই না। বাবা হেসে বলেছিল, বেশ, তোর কথাই শেষ কথা।

    আমার বাবা অংশুমান চৌধুরী সেই ঊনচল্লিশ বছর বয়েস থেকেই সিঙ্গেল ফাদার।

    প্রথম প্রথম খুবই সমস্যা হত। আমায় স্কুলে পাঠানোর সময় কখনো মোজা পেত না, কখনো টাই…. শম্পাদি টিফিন বানাত, বাবা আমাকে রেডি করত, বাসে তুলে দিত।

    আমাকে নিজের হাতে খাইয়েও দিত তাড়াতাড়ি করে।

    মাসখানেক যুদ্ধের পরে বাবা আগেরদিন রাতেই আমার স্কুলের সব গুছিয়ে রাখত। পরের দিন সকালে হাসতে হাসতে বলত, অরু আজ আর দেরি হবে না, আমি সব ব্যবস্থা করে রেখেছি।

    প্রতিটা দিন আমার হোমওয়ার্ক খাতা চেক করত বাবা, আমার সমস্ত সুখের দিকে নজর দিত সবসময়।

    কিভাবে যেন আমাদের দুজনের একটা ছোট্ট পৃথিবী তৈরি হয়ে গেল। বাবা অফিস থেকে ফিরে একটা রান্নার বই দেখে দেখে রোজই কিছু না কিছু ডিস ট্রাই করত। আমার তার মধ্যে সব থেকে পছন্দের ছিল ক্যারামেল পুডিং। শম্পাদি রান্না খারাপ করত না, কিন্তু নতুন ডিস বানানোর কোনো ইচ্ছে ছিল না। আমার মাকে অবশ্য আমি চা আর চাউমিন ছাড়া আর কিছু রান্না করতে কখনো দেখিনি। বাবা যে সব দিন সাফল্য পেতো এমন নয়, মাঝে মাঝেই বাবার বানানো খাবার মুখে দিয়ে আমি আর বাবা নির্বাক হয়ে দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। কিছুক্ষণ পরে দুজনেই হাসতে হাসতে বলতাম, নেক্সট টাইম বেটার কিছু হবে। বাবা হেসে বলত, ওই জন্যই আজ হুলোটাও খেল না আমার বানানো চাইনিজ মাঞ্চুরিয়ান। কেমন গরগর করল রাগে।

    বাবা ছিল আমার সব থেকে কাছের বন্ধু।

    আমি আমার সব গোপন কথা বাবাকে বলতাম। আমার শরীরের সমস্ত হরমোনাল চেঞ্জের কথাও। আসলে বাবাকে আমি বন্ধু ভাবতাম। একাধিপত্য জারি করে রেখেছিলাম বাবার সবটা জুড়ে।

    আমার মাধ্যমিকের রেজাল্টের পরে বাবা আমার আড়ালেই মাকে ফোন করেছিল বোধহয়। আমি জেলার মধ্যে অষ্টম হয়েছিলাম, এই খবরটা মাকে সম্ভবত বাবাই দিয়েছিল। মা রাতের দিকে ফোন করে বলেছিল, বাবার কাছে ছিলে তো, তাই রাজ্যে এক থেকে কুড়ির মধ্যে আসতে পারলে না। অমন লক্ষ্যহীন মানুষের সংস্পর্শে থাকলে পিছিয়েই যেতে হবে। এত বছরে তোমার বাবা নিজের জীবনে একটা প্রমোশন জোগাড় করতে পারেনি সে নাকি ছেলেকে এগিয়ে দেবে, স্বপ্ন দেখতেই জানে না অংশুমান চৌধুরী। নেহাত তোমার গায়ে আমার রক্ত আছে বলেই, এটুকু করতে পেরেছ। সকাল থেকে স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব, পরিচিতদের ফোনে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শোনার পর মায়ের মুখ থেকে অমন তিরস্কার শুনে বাবার ওপরেই রাগটা গিয়ে পড়েছিল। বাবা কেন ওই মহিলাকে এখনও ফোন করে? যে মহিলা এই বাড়ি থেকে চলে যাবার পরে তার সন্তানের কোনো খোঁজটুকু পর্যন্ত নেয়নি! এমনকি জন্মদিনের উইশও করেনি। মায়ের সবটুকু রাগ পড়েছিল আমার ওপরে। যেহেতু আমি বাবার কাছে থাকতে চেয়েছিলাম তাই হয়তো। আসলে মা হেরে যাওয়া মেনে নিতে পারে না, পারে না কোনোরকম ব্যর্থতা মানতে। তাই আমার ওপরে ভালোবাসার থেকেও বাবাকে হারিয়ে আমাকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়াটাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য। সেটা পারেনি বলেই মায়ের মনে সমস্ত রাগ আর বিরক্তি উৎপাদন করেছিলাম স্বয়ং আমি।

    আগে আমাদের গোটা ড্রয়িংরুম জুড়ে ছিল মায়ের নানা ভঙ্গিমার ছবি। সেইসব ছবির দিকে আমি অপলক তাকিয়ে থাকতাম, আর ভাবতাম মা কত সুন্দর, ঠিক যেন রূপকথার গল্পের পরী। মায়ের পাশে ওই গোল্ডেন ফ্রেমের মধ্যে আমারও ইচ্ছে করত থাকতে। কিন্তু মাকে ঠিক সাহস করে বলে উঠতে পারিনি কখনো। আমি যখন জন্মেছিলাম তখন নাকি আমার দিদা-দাদু বলেছিলেন, যাঃ আমাদের মেয়ের মতো রং বা মুখ কিছুই তো হল না। এতো অংশুমানের মতো চাপা রঙের হল। এই শুনে নাকি মা আমার জন্মের পর তিনদিন আমার মুখ দেখেনি। এ কথা অবশ্য আমাকে বাবা বলেনি, গল্পের ছলে এ কথা বলেছিল আমার দিদা। বাবা তো সবসময় একটাই কথা বলত, তোর মা একটু মুডি, নাহলে মানুষটা খারাপ নয়। আসলে প্রাচুর্যের মধ্যে মানুষ তো, এই বাড়িতে এসে ঠিক মানিয়ে নিতে পারে না নীহারিকা। বাবার মুখে মায়ের নামে কখনো নিন্দে শুনিনি আমি। এমনকি ডিভোর্সের পরেও আত্মীয়স্বজনদের বাবা বলেছে, প্রতিটা মানুষ আলাদা, তাদের চিন্তাভাবনাও ভিন্ন, তাই সারাটা জীবন জোর করে একই ছাদের নীচে থাকার নাম কিন্তু জীবন নয়। নীহারিকা যা করেছে ঠিক করেছে। ও নিজে জীবনটা নিজের মতো করে এনজয় করুক। আমিও থাকি অরুকে নিয়ে। না, বাবার মুখে মায়ের ন্যূনতম নিন্দে কখনো আমি শুনিনি। তবুও বড্ড স্বার্থপর মনে হত ওই মহিলাকে।

    বাবার কাছে একদিন বলেও ফেলেছিলাম, মা কি সেলফিস? বাবা মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিল, ধুর পাগল। সেলফ সেন্টার্ড তো আমরা সকলেই। আমরা কেউ কি নিজের জায়গা ছেড়ে নড়তে চাই? তোর মা বহুবার বলেছিল, তোর মায়ের বাপের বাড়িতে গিয়ে থাকার কথা, আমি তো শুনিনি। তোর মা বলত, প্রমোশনের জন্য চেষ্টা করার কথা, আমি তো শুনিনি। নীহারিকার যা যা ইচ্ছে ছিল, সেগুলো যেহেতু কোনোটাই আমার ইচ্ছে নয়, তাই আমি সেগুলো একটাও শুনতে চাইনি। তাহলে স্বার্থপর তো আমিও হলাম। আসলে কী জানিস অরু, আমরা সব সময় দোষগুলোকে অন্যের দিকে ঠেলে দিয়ে পরম তৃপ্তি পাই। মনে হয় যেন আমি নির্দোষ। স্বার্থপর তো সবাই রে। যদি ডিভোর্সটা আমি চাইতাম তাহলে সমাজ তোর মায়ের পাশে দাঁড়াত অবহেলিতা নারী বলে। যখনই তোর মা চাইলো তখনই সমাজ আমার পাশে দাঁড়াল আমি একা বলে। তোর ছোট মাথায় এত ঢুকবে না বুঝলি! তবে একটা কথা বলি, দিনরাত অশান্তি করে, মনের বিরুদ্ধে এক ছাদের নীচে জোর করে থাকার নাম জীবন নয়। সংসার তো নয়ই। আমি তো বলবো, তোর মা একেবারে ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    বাবার দিকে অপলক তাকিয়েছিলাম আমি, কী নির্বিকারভাবে কথাগুলো বলছে বাবা। মায়ের কোনো দোষ না দিয়েই। কিছু না বলেই আমি বাবাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। বাবা জোরে একটা নিশ্বাস ফেলে বলেছিল, তুই আমার সাইড নিলি তাই সিঙ্গেল ফাদার বলে সবাই আমাকে স্যালুট করল। এই দেশে কত সিঙ্গেল মাদার আছে জানিস? কোনো হিসেব নেই। কজনের কথা আমরা জানি! আসলে এটা আমাদের মনের গঠন, সন্তান তার মায়ের কাছেই থাকবে, বাবা তো দায়িত্ব নিতে অপারগ, এটাই মানি সবাই।

    জানিস অরু, তোর মা যেদিন নার্সিং হোমে তোকে প্রথম দেখেছিল, তখন বলেছিল, ইস, ভাবতেই পারছি না, একটা জীবনের জন্ম দিলাম আমি?

    বাবা যতই মায়ের দোষ ঢাকুক, আমার তো মাকে চূড়ান্ত স্বার্থপর মনে হত।

    সেই মাকে ফোন করে আমার মাধ্যমিকের রেজাল্ট জানানোটা বড্ড বিরক্তি উৎপাদন করেছিল আমার মনের মধ্যে। আমি কাউকে না পেয়ে বাবাকেই আক্রমণ করেছিলাম। কেন তুমি ওই মহিলাকে ফোন করেছিলে? কেন আমার রেজাল্ট বলেছিলে?

    বাবা কাঁচুমাচু গলায় বলেছিল, তোর মায়েরও যে স্বপ্ন ছিল তোকে ঘিরে, তাই জানিয়েছিলাম।

    কথাটা তো নীহারিকা ভুল বলেনি রে, স্বপ্ন দেখা চোখ আমার সত্যিই নেই। তুই আমার কাছেই বড় হচ্ছিস বলে হয়তো তোর মা ধরেই নিয়েছে তুইও আমার মতোই লক্ষ্যহীন হবি।

    আমি প্রায় চিৎকার করে বলেছিলাম, তোমার কি মাকে আড়াল না করলে চলছে না? তোমায় একবার বলেছিলাম না, আমার কোনো মা চাই না?

    বাবা শান্ত স্বরে বলেছিল, তুই এত ভালো রেজাল্ট করলি এটা তো আমার জয় রে, তাই সেলিব্রেট করলাম। নিজের মানুষ তো তেমন কেউ নেই, তাই তোর মাকে জানালাম আনন্দটুকু। সেদিন বাবার স্বরে এমন কিছু ছিল যেটা আমার কান এড়ায়নি। তারপর থেকে আমি বাবার ওপরে ছোটখাটো বিরক্ত হলেও কখনো আঘাত করিনি বাবাকে। ষোলো বছরের আমি, সদ্য কিশোর পার করা আমি অনুভব করছিলাম, একাকীত্ব বড় বিষম বস্তু। বাবা অফিসে যায়, কখনোসখনো বাবার দু-চারজন বন্ধুও আসে, আমিও থাকি, তবুও মনের দিক থেকে বাবা বড্ড একা। আর ওই একাকীত্বের ঘন অন্ধকার জায়গাটায় আমার স্নেহের হাত কিছুতেই পৌঁছাতে পারে না। ধীরে ধীরে যত বড় হচ্ছিলাম বুঝতে পারছিলাম, বাবার বিয়ে হয়েছে, আমি হয়েছি, সংসার করেছে ঠিকই নিয়মমাফিক। মায়ের সঙ্গে অনুষ্ঠান বাড়িতে গেছে, বেড়াতে গেছে, মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলেছে কিন্তু দুটো বিপরীত মেরুর মানুষ যেন আপ্রাণ চেষ্টায় নিজেদের এক করার চেষ্টা করে গেছে। মা তবুও ইচ্ছে মতো চলার চেষ্টা করেছে, বাবা বেচারা দিশেহারা হয়ে নিশ্চুপ হয়ে গেছে।

    যবে থেকে আমার জ্ঞান হয়েছে আমি দেখেছি, বাবা কেমন যেন উদাসীন। মাঝে মাঝে বিরক্তি প্রকাশ ছাড়া আর কিছু বলত না মাকে। কিন্তু ওই যে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা এলোমেলো দৃষ্টির বাবাটার দিকে তাকিয়ে আমি অনুভব করতাম, মানুষটা বড্ড একলা। আকাশ দিয়ে উড়ে যাওয়া একটা পাখির থেকেও বেশি একলা। নুয়ে পড়া গাছের ডালটার থেকেও বেশি। শুকনো হয়ে যাওয়া ফুলগুলোর থেকেও আরও একটু বেশি। আমি আমার ছোট্ট বুদ্ধি আর সীমিত সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করতাম বাবাকে আগলে রাখতে, কিন্তু বাবার ওই নিরবচ্ছিন্ন শূন্যতার আকাশে তেমন আঁচড় বোধহয় কাটতে পারতাম না। যদিও বাবা কোনোদিন বলেনি সে একা। সব সময় বলতো, আমার সঙ্গে তো আমার ছেলে আছে, তাই আমি সব থেকে ধনী পুরুষ।

    এরপরে ধীরে ধীরে বদলে গিয়েছিল আমাদের জীবনযাত্রা। আমি পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। জয়েন্ট পাশ করার তাগিদ আমাকে বইমুখো করেছিল দিনের বেশিরভাগ সময়টাতেই। বাবা আরও একলা হয়ে যাচ্ছিল, আমি টের পাইনি নিজের ব্যস্ততার কারণে। নতুন ইন্সটিটিউট, নতুন কোচিং সেন্টার, অনেক বন্ধু সব মিলিয়ে জমাটি জীবন। সব থেকে বড় হল সামনের লক্ষ্য। ইঞ্জিনিয়ারিং-এ চান্স পেতে হবে। বাবা তখনও আমার স্কুল ড্রেস গুছিয়ে রাখত, ব্রেকফাস্ট টেবিলে ওয়েট করত আমার জন্য। আমি রাত পর্যন্ত পড়ে বেলায় উঠতাম, বাবা তখন অফিসে। কেমন ভাবে যেন একটু একটু করে দূরে চলে যাচ্ছিলাম আমি বাবার থেকে নিজের অজান্তেই।

    ইঞ্জিনিয়ারিং-এ চান্স পেয়ে আমি চলে গেলাম হোস্টেলে। সম্পূর্ণ নতুন একটা পরিবেশে অ্যাডজাস্ট করছিলাম। বাড়ির জন্য, বাবার জন্য মনখারাপ করত খুব। তবুও ধীরে ধীরে মন বসে গেল হোস্টেলে। অদ্ভুতভাবে হোস্টেল লাইফটাকে খুব ভালোবেসে ফেললাম। বাড়ি ফিরতেই মন চাইত না। দিন পনেরো পর পর রবিবার ডাক পড়ত গেস্টরুমে। গিয়ে দেখতাম বাবা দাঁড়িয়ে আছে, একটু অস্বস্তি নিয়েই বলত, জানি তোর পড়া আছে, বেশিক্ষণ থাকবো না, তোকে একটু দেখেই চলে যাব।

    আমার জন্য বেশ বড় একটা টিফিন কৌটোতে থাকত ক্যারামেল পুডিং। বাবা পাল্টায়নি, আমি পালটে গিয়েছিলাম, তাই আমার তখন এগুলোকে কেমন যেন আদিখ্যেতা মনে হত। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হোস্টেলে সাধারণত কারোরই বাবা-মা তেমন আসত না। আমরাই যেতাম ছুটিতে বাড়ি। তাই বাবার এই পনেরো দিন অন্তর অন্তর হোস্টেলে এসে হানা দেওয়াটা ক্রমশ বিরক্তিকর হয়ে গিয়েছিল। বাবাকে বোঝালেও বুঝতে চায়নি। বলেছিল, আচ্ছা বেশ দশ মিনিট থেকেই ফিরে যাব।

    আমি রেগে যেতাম, বন্ধুরা লেগপুল করত। একদিন হোস্টেলের বারান্দা থেকে দেখেছিলাম বাবা ঢুকছে গেটে। আমি আমার এক বন্ধুকে দিয়ে বলে পাঠিয়েছিলাম, অরণ্য কোচিংয়ে গেছে, রুমে নেই।

    বাবাকে গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখে নিশ্চিন্তে নেমেছিলাম নীচে। রাস্তায় বেরিয়েই দেখেছিলাম, গেটের বাইরের ঝাঁকড়া কদম গাছটার নীচে বাবা বসে আছে। আমি দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠেছিলাম, বাবা খুব স্বাভাবিক গলায় বলেছিল, ভাগ্যিস ওয়েট করলাম, তাই দেখা হয়ে গেল তোর সঙ্গে। সেদিন আর বেশি কথা না বলে চলে গিয়েছিল বাবা।

    পরের সপ্তাহ থেকে আর আসেনি বাবা। ফোনে খোঁজ নিয়েছে মাঝে মাঝে। ছুটিতে বাড়ি গেলেও খুব অল্প কথা হয়েছে বাবার সঙ্গে। অফিসের কাজ আর বই পড়া, গান শোনা, বাগান করা নিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছিল বাবা। আমি বেশ টের পাচ্ছিলাম, বাবা নিজের বাইরে খুব যত্ন করে একটা শক্ত আবরণ তৈরি করছে। যেখানে বাড়তি আবেগ, নরম আদর, সূক্ষ্ম কান্নাগুলো খুব সহজেই আঘাত পেয়ে ফিরে আসবে। বাবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা আমার হাতে দিয়ে বলত, বাইরে থাকিস তুই, রাখ, আমার আর কী এমন খরচ!

    আমার উচ্ছল জীবনের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকত বাবা, না কোনো প্রত্যাশা নিয়ে নয়, শুধুই আমার উন্নতি দেখবে বলে। আমি অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছিলাম। বাবারও বয়েস বাড়ছিল, এগিয়ে আসছিল অবসর নেবার দিন।

    ক্যাম্পাসিং-এ জব অফার পেয়ে চলে গেলাম ব্যাঙ্গালোর।

    নতুন শহর, চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্টের ভিড়ে ভুলেই গেলাম, একটা মানুষ একলা রয়েছে বাগানের কয়েকটা গাছকে সঙ্গী করে। ঝকঝকে শহরে নিজেকে নিয়ে মেতে উঠলাম। মা চাই না, গোটা তোমাকে চাই বলা সেই আমিটা ব্যস্ত হয়ে পড়লাম শুধুই নিজেকে নিয়ে। উইকএন্ডে একটা ফোন করতাম নিয়ম করে। বাবা ততদিনে আনন্দ, দুঃখের অনুভূতিগুলোকে লুকাতে শিখে গেছে। তাই নিরুদ্বেগ গলায় বলত, খাওয়াদাওয়া করছিস তো ঠিকমত? অফিসে খুব প্রেশার বুঝি? সাবধানে থাকিস। বেশি রাত জাগিস না। নিয়মে বাঁধা এই কটা কথা বলার পরে চুপ করে থাকতো বাবা, ফোনের এ প্রান্তে আমি শুনতে পেতাম নিশ্বাসের আওয়াজ। হয়তো দীর্ঘশ্বাস ছিল সেগুলো। ছোটবেলায় আমি আর বাবা কত কথা বলতাম, রাতে শুয়েও ঘুমাতে চাইতাম না, বকবক করেই যেতাম। বাবা বলত, তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়, সকালে স্কুল আছে, উঠতে পারবি না তো।

    ছাদ থেকে একটা এরোপ্লেন দেখলে সেটাও না যতক্ষণ বাবাকে বলতাম আমার ঘুম আসত না। বাগানে হলদে প্রজাপতি থেকে আমার স্কুলে ক্রিকেটে ছয় মারার অভিজ্ঞতাও বলতেই হতো বাবাকে। বাবাও বলতো অফিসের মহেশকাকু, প্রতাপকাকু, মালিনী আন্টির কথা। প্রতাপকাকু নাকি মালিনী আন্টির ব্যাগ থেকে চুরি করে লুচি তরকারি খেয়ে নিয়েছে, লাঞ্চ টাইমে টিফিনবক্স খুলে মালিনী আন্টি অবাক, ছয়খানা লুচি, তরকারির বদলে চানাচুর মুড়ি রয়েছে। হেসে হেসে খুন হয়েছি আমি। এমন কত কত কথা থাকতো তখন অরু আর বাবার মধ্যে। এখন যেন অরণ্য চৌধুরী আর অংশুমান চৌধুরীর মধ্যে একটা অজানা নিস্তব্ধতা এসে ভিড় করেছে। শব্দগুলো এলোমেলো হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে তবুও কিছুতেই জমাট বেঁধে সাজানো বাক্য হতে নারাজ। সারাদিন অফিসে কত কি ঘটছে, কত নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে আমার, কেন জানি না মনে হচ্ছে বাবাকে সেসব বলা অনর্থক। বাবা যেন বড্ড দূরের বাসিন্দা এখন।

    অফিসের ছুটিতে বাড়ি ফিরে বাবাকে একটা দামি স্মার্টফোন ধরালাম। ফেসবুক ওপেন করে বললাম, নাও, পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করো। আড্ডা দাও সবাই মিলে। চাইলে বেড়াতেও যেতে পারো ট্যুর এজেন্সির সঙ্গে।

    বাবা হেসে বলেছিল, যারা কাছের তারাই চিনল না, আবার ডিজিটাল মাধ্যম! ফেসবুকে কি আর মুখ চেনা যায় রে অরু? ফেসটাই যে ঢাকা থাকে। তবুও আমি বাবার একাকীত্ব কাটাতে খুলে দিলাম ফেসবুক। নিজেই খুঁজে খুঁজে বাবার কিছু কলেজ ফ্রেন্ডকে পাঠালাম রিকোয়েস্ট। সারাজীবন ব্যাংকে কাজ করা মানুষ, তাই ফেসবুক শিখতে সময় নিল না বেশি। নিস্পৃহ গলায় বলল, বেশ তো, জীবনে কম মানুষ তো দেখলাম না কাউন্টারে, এবারে না হয় ডিজিটাল মাধ্যমে দেখি পুরোনো আর নতুনদের।

    দিন পাঁচেকের জন্য মাত্র বাড়ি ফিরেছিলাম, পুরোনো বন্ধু, বান্ধব, আত্মীয়দের বাড়ি ঘুরে বাড়িতে ছিলাম খুব কম সময়ই। তবুও বাবা নিজের হাতে বানিয়ে দিয়েছিল ক্যারামেল পুডিং। কিন্তু দুঃখের বিষয় তখন আমার আর ওটা প্রিয় ছিল না। দু-চামচ খেয়ে নাড়াঘাঁটা করছি দেখে বাবা বলেছিল, আজ তেমন ভালো বানাতে পারিনি, তুই বরং অন্য কিছু খা। বোলটা বাবা-ই নিয়ে গিয়েছিল আমার সামনে থেকে, যেন অস্বস্তি থেকে বাঁচাবে বলেই।

    ছোটবেলায় বাবা বলত, তোর মনের সব কথা আমি বুঝতে পারি, আমার গর্ভে না হোস ঔরসজাত তো, রক্তের টান বুঝলি? বাবা বোধহয় সারাজীবনই আমার মুখ দেখে সবটুকুই বুঝতে পারত।

    দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল ভীষণ রকমের ব্যস্ততায়। ব্যাঙ্গালোরের ফ্ল্যাটে বসে মাঝে মাঝেই ভাবতাম, বাবা এখন ঠিক কি করছে? গোলাপি করবী ফুলের গাছটার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি ফুল গুনছে? নাকি বেগনভেলিয়ার লতাটার ঘাড় ধরে তুলে দিচ্ছে ছাদের কার্নিশে? মনটা হুহু করে উঠত। ট্রান্সফারের চেষ্টা করতে করতে পেয়েও গেলাম অবশেষে।

    বাবা এখন রিটায়ার্ড ম্যান, আমিও ট্রান্সফার নিয়ে ফিরে এসেছি কলকাতায়। আমি আঠাশের বিবাহযোগ্য ছেলে। তাই বাবা ম্যাট্রিমনি থেকে শুরু করে ঘটক সব কিছু নিয়োগ করেছে আমার বিয়ের জন্য। আমার একাকীত্ব কাটানোর জন্যই। আমাকেও বলেছে, তোরা তো এখনকার ছেলে, নিজেদের পছন্দ মতো একজনকে খুঁজে নে, আমি তোর বিয়েটা দিতে চাই।

    না, দুর্ভাগ্যবশত আমার প্রেমটা টেকেনি। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বছর খানেক প্রেম হয়েছিল সৃজনীর সঙ্গে। বিশেষ কোনো কারণে নয়, হঠাৎ করেই সৃজনীর কাছে আমি বড্ড বোরিং হয়ে যাই, মাত্র সাতমাসের সম্পর্কে যখন বোরনেস আসে তখন সাতজন্ম দূরে থাকুক সাত বছর যে কাটবে না সেটা বুঝেই হয়তো সৃজনী ব্রেকআপ করেছিল। দুদিন ডায়রির পাতায় দুটো স্যাড কবিতা লিখেছিলাম, একমাত্র আমিই সেগুলোকে কবিতা আখ্যা দিয়েছিলাম, বন্ধুরা দেখে বলেছিল, লিখিস না বস, জয় গোস্বামী এসে তোর বাড়ির সামনে ধর্না দেবে। সেই ভয়ে নয়, এক্সামের চাপেই সৃজনীর দুঃখ আর কবিতার কাব্যিক শব্দ, দুটোকেই দূরে সরিয়ে রেখেছিলাম আমি। তাই এক কথায় বলতে গেলে আমি সিঙ্গেল। বাবা চেষ্টা করে যাচ্ছিল আমার জীবনসঙ্গিনী খোঁজার। আমিও মতামত দিচ্ছিলাম। উত্তরপাড়ায় আমাদের বাড়ি, এখান থেকে আমি কলকাতা যাতায়াত করতাম। রাতে বাড়ি ফিরলেই বাবা একটা করে মেয়ের প্রোফাইল এনে হাজির করত আমার সামনে। ডিনার টেবিলে আলোচনা হত।

    কয়েকদিন আগে আমি মোবাইল ঘাঁটছিলাম, বাবা আগেই খেয়ে উঠে গিয়েছিল, শম্পাদি রাতের রান্না করে বরাবরই চলে যেত। খাওয়াদাওয়ার পরে টেবিল মোছা, টুকিটাকি রান্নাঘর পরিষ্কারের কাজ বাবাই করে নিতো। শম্পাদি এখনও আমাদের বাড়ির রাঁধুনি রয়ে গেছে, বয়েস বেড়েছে, কাজের গতি কমেছে, ক্রমশ বাড়ির লোক হয়ে গেছে অবশ্য।

    বাবা রান্নাঘরে কিছু একটা করছিল, ঠিক সেই সময় বাবার হোয়াটসআপে টিংটং আওয়াজ করে একটা মেসেজ ঢুকল, জ্বর কমেছে তোমার? নাকি এখনও আসছে রাতের দিকে? অরুকে বলেছ? আমার কৌতূহল হচ্ছিল মেসেজগুলো দেখে। উচিত নয় বুঝেও বাবার ফোনটা হাতে তুলে নিলাম টেবিল থেকে।

    ভদ্রমহিলার ডিপি দেখে চিনতে পারলাম না একেবারেই।

    তবে বয়েস বাবার মতোই হবে। ভদ্রমহিলার মুখে একটা স্নিগ্ধতা বিরাজ করছে।

    আমি স্ক্রল করতে শুরু করলাম। দেখলাম প্রচুর গল্প করেছে বাবা এই মহিলার সঙ্গে। এক জায়গায় বাবা লিখেছে, অরু যে চায়নি আর কেউ তার মা হোক, তাই একাই রয়ে গেছি। ভদ্রমহিলা লিখেছেন, সে বেশ করেছো, আমার উনি যখন মারা গেলেন তখন আমার বয়েস একচল্লিশ। বাড়িতে চেষ্টা করেছিল বিয়ের, ইচ্ছে করেনি আবার বাধা পড়তে, যদি মনের মিল না হয় তাহলে? আমারও একটাই ছেলে বিদেশে সেটেল্ড, আমিও একাই থাকি সন্ধের শুকতারা আর ভোরের সূর্যকে সঙ্গী করে।

    বাবা বলেছে, একলা লাগে না সুতনুকা? কলেজে তো তুমি সব থেকে হুল্লোড়ে মেয়ে ছিলে। যদিও আমি তোমাকে ওই দূর থেকেই দেখতাম, সাহসে কুলায়নি কথা বলার। ফেসবুকে আবার দেখে, ভয়ে ভয়েই পাঠিয়েছিলাম রিকোয়েস্ট। বললে না তো, একা লাগে না?

    সুতনুকা বলে মহিলা লিখেছেন, একেবারেই যে লাগে না তা নয়, রাতের অন্ধকারটা বড্ড বেইমানি করে। নৈরাশ্য ঘিরে ধরতে চায় যেন! নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের মধ্যে একলা আমি থাকি এই বাড়িটাতে, একটা অচেনা ভয় মাঝে মাঝে তাড়া করে বেড়ায়। মনে হয় দেখা হবে তো ভোরের লালচে সূর্যের সঙ্গে! নাকি নীলচে অন্ধকার কেড়ে নেবে আমার নিঃশ্বাস নেবার ক্ষমতাটুকুও।

    বাবা লিখেছে, অরুর বিয়েটা দিয়ে ওকে সংসারী করে দিতে পারলেই আমার ছুটি। একাকীত্ব কার নাম নিজের জীবন দিয়ে বুঝেছি, হাত বাড়ালেও কেউ ধরবে না হাতটা এই অনুভূতিটাই বড্ড নিঃস্ব করে দেয় মনকে, তাই না সুতনুকা?

    অরু যেন ওর মনের মতো জীবনসঙ্গী পায়। নাহলে অ্যাডজাস্ট করতে করতে হয়তো এক সময় আমার মতই হেরে যাবে। ওয়েভলেন্থ ম্যাচ না করলে ওর জীবনটাও আমার আর নীহারিকার মতো হয়ে যাবে।

    সুতনুকা লিখেছেন, নীহারিকা তো শুরু করেছিল, তুমি করলে না কেন?

    বাবা লিখেছে, ভেবেছিলাম অরু আছে আমার কাছে, ওকে মানুষ করতে করতেই কেটে যাবে। তখন তো বুঝিনি, অরু এত তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যাবে আর আমি একলা! সুতনুকা বলেছেন, তা অরুর বিয়ের পর কি করবে ভেবেছ কিছু?

    বাবা লিখেছে, ভেবেছি তো, ওদের সব ছেড়ে দিয়ে চলে যাব একটা জায়গায়। সে কথা সব হয়েই গেছে, শান্তিনিকেতনের কাছে একটা আশ্রমের খোঁজ পেয়েছি। আর কষ্ট হবে না। যেদিন অরু প্রথম আমায় মিথ্যে বলেছিল, সেদিন কষ্ট পেয়েছিলাম খুব। তারপর মানুষটা আমি বদলাইনি ঠিকই, কিন্তু কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতাটাকে রোজ বাড়িয়ে নিয়েছি একটু একটু করে।

    আমি জানি না কখন আমার চোখ ঝাপসা হয়ে গেছে মেসেজগুলো পড়তে পড়তে। আসলে আমি তো নীহারিকা চৌধুরিরও ছেলে, তাই সেলফসেন্টার্ড হব সেটাই বোধহয় স্বাভাবিক।

    নিজেকে তখন মারাত্মক দোষী মনে হচ্ছিল। বুকের ভিতর অসহ্য যন্ত্রণায় মনে পড়ে যাচ্ছিল হোস্টেলের বাইরে অপেক্ষারত বাবার সেই মুখটা।

    লজ্জায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম আমি। বাবা এসে মাথায় হাত রেখে বলল, খাওয়া হয়নি এখনও? দে থালাটা নামিয়ে দিই।

    আমি আচমকা প্রশ্ন করলাম, বাবা সুতনুকা আন্টির সঙ্গে শুরু করা যায় না?

    বাবা আমার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে বলল, না যায় না। অনেক দেরি হয়ে গেছে অরু। এবার তোর শুরুর পালা, আমি শেষের পথে পা বাড়িয়ে দিয়েছি, শুধু শেষ খেয়াটা আসার অপেক্ষায়। সুতনুকা আমার বন্ধু, বোবা কষ্টের সঙ্গী মাত্র। আমি জেদ ধরে বললাম, তবুও থাকো না তোমরা একসঙ্গে শেষ বয়েসটা!

    বাবা হেসে বলল, আর এখন যদি তোর বাবা শুরু করে নতুন করে, তাহলে সমাজ মানবে কেন? তোর দিকে আঙুল তুলবে যে! তখন তোর জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে অরু। তুই উঠে পড়, আমি টেবিলটা পরিষ্কার করে নিই।

    আমি অন্তর্দ্বন্দ্বে দগ্ধ হচ্ছিলাম। সেদিনও আমার জন্য বাবা সঙ্গী চাননি, আজও আমার জন্যই…

    বাবাকে একলা থাকতে বাধ্য আমিই করেছি। কিসের সমাজ? যখন আমি আর বাবা একলা লড়েছি তখন কে ছিল আমাদের পাশে? যখন বাবা একাকীত্ব ভুগছে দিনের পর দিন তখন কে ছিল বাবার পাশে? তাহলে আজ কেন সেই অর্থহীন সমাজ আমাদের দিকে আঙুল তুলবে? সেই ছোটবেলার মতো আবার অবুঝ মানুষটার ওপরে রাগ হচ্ছিল আমার। বড্ড জেদি।

    আমার পাত্রী নির্বাচন করেছে বাবা, আমিও মত দিয়েছি। রাজন্যাকে আমরাও খুব পছন্দ হয়েছে। গত দু-মাসে আমরা বেশ কয়েকবার মিট করেছি। ওর আর আমার ম্যাক্সিমাম পছন্দ এক। রাজন্যা বেশ মিশুকে মেয়ে।

    আমি ছোট থেকে আমার জীবনের সব খুঁটিনাটি ওকে বলেছি, শুনে ও শুধু একটাই কথা বলেছে, ভুল করেছ অরণ্য। এভাবে একটা মানুষকে একলা করে দিয়েছ তুমি। প্রতিটা মানুষের স্বাধীনতা আছে নিজের মতো করে বাঁচার, বাবাকে তুমি কোনো সুযোগই দাওনি, এটা ভুল অরণ্য!

    আজ আমার ফুলশয্যা। আমি বাবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সুতনুকা আন্টিকে নিমন্ত্রণ করে এসেছিলাম। আন্টি এসেছেন বিয়েতে। আমাকে আশীর্বাদ করার সময় আমি আন্টিকে আড়ালে বলেছিলাম, আন্টি আপনি আমাদের সঙ্গেই থেকে যান না প্লিজ। আন্টি মুচকি হেসে বলেছেন, তোর বাবা তাড়িয়ে দেবে যে।

    বাবা বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমস্ত মানুষকে আপ্যায়নের কোনো ত্রুটি রাখেনি। মাও এসেছিল আমার বিয়েতে, বাবাই বোধহয় নিমন্ত্রণ করেছিল। বেশিক্ষণ থাকেনি। রাজন্যার জন্য একটা গয়না দিয়ে চলে গেছে। মা সম্পর্কে আমার সত্যিই আজ আর কোনো অনুভূতি অবশিষ্ট নেই। আমি শুধু অপলক ওই মানুষটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম, যাকে লোকে সিঙ্গেল ফাদার বললেও মায়ের ঘাটতি কোনোদিন উপলব্ধি করতে দেয়নি।

    কলিগদের বিদায় জানিয়ে নিজের ফুলসাজানো ঘরে ঢুকে দেখলাম রাজন্যা নেই। ওকে ঘরের কোথাও না দেখে ড্রয়িংরুমে বেরিয়ে গিয়ে দেখলাম, রাজন্যা বাবাকে জোর করে খাইয়ে দিতে দিতে খুব বকছে, আমাকে নতুন বউ মনে কোরো না, আমি কিন্তু খুব রাগী। ভীষণ ঝগড়া করতে পারি। তুমি কেন এত রাত পর্যন্ত না খেয়ে ঘুরছিলে প্যান্ডেলে? আগে খাও, তারপর আমি তোমার ছেলের কাছে যাবো। আর শোনো, কাল সকাল থেকেই এ বাড়িতে আমার শাসন শুরু হবে। তোমাকে নিয়ম করে খেতে হবে, অকারণে রাত জাগা চলবে না। তোমার মেয়ে এসে গেছে, সুতরাং এসব অবাধ্যতা আর চলবে না।

    আমি অবাক হয়ে দেখেছিলাম, বাবা মুখে খাবার নিয়ে কাঁদছে। মুখটা হাসিতে পরিপূর্ণ। আমি কেন এভাবে আপন করে নিতে পারিনি বাবাকে?

    রাজন্যার মাথায় হাত রেখে বাবা বলল, তাহলে আমার শান্তিনিকেতনে যাওয়ার প্ল্যানটা কী হবে রে? রাজন্যা হেসে বলল, সে একদিন তোমায় গাড়ি করে কবিগুরুর আশ্রমে ঘুরিয়ে আনব খন। আর শোনো তুমি যদি এ বাড়ি ছেড়ে যাবার কথা ভুলেও ভাবো তাহলে কিন্তু আমিও চলে যাব। আমার আরেকটা আব্দার তোমায় রাখতে হবে বাবা, না বলবে না বলো?

    বাবা জলটা খেয়ে বলল, বল কী চাই?

    সুতনুকা আন্টিকে চাই, আমরা তিনজনে বকবক করব সারাদিন তোমার ওই গাছগাছালির সঙ্গে। বাবা বলল, আর তোর নাচের স্কুলের কী হবে? রাজন্যা নিশ্চিন্তে বলল, কেন আমি তো তোমায় বলেই দিলাম একতলার ডান দিকের বড় ঘরটায় আমি নাচের স্কুলটা খুলব। আমি নাচ শেখাব, তুমি আর সুতনুকা আন্টি দুজনে বসে আমার স্টুডেন্ট সামলাবে। বাবা প্লিজ, বিয়েতে এটা আমার গিফ, তুমি না করো না। বাবা একটু অস্বস্তি নিয়ে বলল, সুতনুকা কি আসবে এবাড়িতে?

    রাজন্যা বলল, সে দায়িত্ব তোমার এই মেয়ের।

    না, সুতনুকা আন্টি পার্মানেন্টলি আসেনি এই সংসারে। তবে রাজন্যার আব্দারে সপ্তাহে দিন তিনেক আসেন গাড়ি নিয়ে। বাবার সঙ্গে বাগানে বসে গল্প করেন তারপর চলে যান। বাবার মুখের সেই নিশ্চুপ যন্ত্রণা চেপে রাখার রেখাগুলো আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছিল, সেখানে ফুটে উঠছিল একটা আলো ঝলমলে নির্মল আকাশের প্রতিবিম্ব। রাজন্যা আর বাবার বন্ধুত্ব ভীষণ গাঢ়, ওরা যেন বাবা-মেয়ের মতো।

    এত বছর পরে আজ আমি সম্মুখীন হয়েছিলাম বাবার, সেদিনের মিথ্যের জন্য ক্ষমা চাইলাম। বাবা বহুদিন পরে আবার আমায় বুকে জড়িয়ে ধরল। আমি সেই ছোটবেলার মতো কেঁদে ফেললাম, ফিসফিস করে বললাম, তোমাকে শুধুই একাকীত্ব উপহার দিয়েছি আমি, আমাকে ক্ষমা করো বাবা।

    বাবা কথা না বলে আমার পিঠের ওপরে হাত রাখল নীরবে।

    আমি অরণ্য চৌধুরী, আজ আমি আপনাদের সকলের সামনে একটা কথাই বলতে চাই, একাকীত্ব বড় কষ্টের, কাউকে একা করে দেবেন না।

    আমি তাকিয়ে দেখলাম, হল ভর্তি লোকের মুখে কোনো কথা নেই, চোখে অস্বস্তি, আমি বেশ বুঝতে পারছি এখানে উপস্থিত প্রতিটা মানুষ কারোর না কারোর একা হবার কারণ। আমি হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, ‘চলো বন্ধু হই’ সংস্থার একটাই উদ্যোগ হবে মানুষ যেন একাকীত্বে না ভোগে। সম্পর্কের কোনো সংজ্ঞা হয় না, কিছু সম্পর্ক গড়ে ওঠে মনের টানে, সব সম্পর্কের নাম দিতে হবে এমন কোনো কথা নেই, বরং হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বলুন, চলো বন্ধু হই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআদিবাসী লোককথা : ১ম খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    Next Article মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    অর্পিতা সরকার

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }