Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রিয় পঁচিশ – অর্পিতা সরকার

    অর্পিতা সরকার এক পাতা গল্প407 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিজয়িনী – অর্পিতা সরকার

    বিজয়িনী

    কী ব্যাপার অনন্যা, এবারেও কী ফার্স্ট প্রাইজটা ”কলাকুশলীর” হাত থেকে বেরিয়ে গেল নাকি? আর ”ক” বিভাগের কী খবর? সুতপা কী করল?

    অনন্যা বলল, স্যার আমি সর্বসাধারণের গ্রুপে দ্বিতীয় হয়েছি। ধৈর্যচ্যুত হয়ে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন, সুবর্ণ চক্রবর্তী। পেশায় স্কুল শিক্ষক ছিলেন। এখন অবসরপ্রাপ্ত। এতদিন ধরে বিভিন্ন কবিতার অনুষ্ঠানে জাজ থেকেছেন। ওনার লেখা কবিতা প্রকাশিতও হয়েছে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। অবসরের পরে নেশাটাকেই পেশায় পরিণত করেছেন। অবসর জীবনের কুঁড়েমি ওনার ভারী অপছন্দের। তাই বাড়ির দক্ষিণের বারান্দা সংলগ্ন ঘরেই খুলে বসেছেন কবিতা আবৃত্তি, শ্রুতি নাটক শিক্ষার স্কুল। হেমাতপুর অঞ্চলের মান্যগন্য মানুষ বলেই হয়তো, এক সপ্তাহেই ওনার কবিতা আবৃত্তির স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বেশি ঈর্ষণীয়। মাত্র এক সপ্তাহেই অনেক অভিভাবকই তার সন্তানকে স্টেজ ফ্রি আর সঠিক উচ্চারণ শেখানোর উদ্দেশ্যেই হয়তো নিয়ে এসেছেন কলাকুশলীতে। সুবর্ণ চক্রবর্তী মনপ্রাণ ঢেলে ছাত্রছাত্রীদের শেখাচ্ছেন, দেখো কবিতা একটা অনুভূতির নাম। এর প্রতিটা কালো অক্ষরকে আগে উপলব্ধি করতে হবে। তারপর তাকে আত্মস্থ করতে হবে। যদি কবিতার অর্থই না পরিষ্কার হয়, যদি এই শব্দগুচ্ছের সঙ্গে একাত্মই না হতে পার, তাহলে কবিতা মুখস্ত বলাই সার হবে। কবিতা আবৃত্তির পদে উন্নীত হবে না সেটা। তাই আমি প্রথমের যে কোনো কবিতার প্রতিটা শব্দের মানে বোঝাবো, তারপর শেখাবো বলার টেকনিক।

    বাংলার শিক্ষকের অবসর জীবনেও কর্মব্যস্ততা। আবারও সেই ক্লাস নেওয়ার তাগিদ। আবারও সেই বাংলা শব্দের অলিগলিতে ভ্রমণ, নতুন করে মেতে উঠেছেন সুবর্ণ চক্রবর্তী। কলাকুশলীর বয়েস দেখতে দেখতে বর্ষপূর্তির দিকে এগিয়ে চলেছে। সপ্তাহে পাঁচদিন ক্লাস নিতে হয় এখন সুবর্ণ বাবুকে। এ চত্বর ছাড়িয়ে আশেপাশেও ছড়িয়ে পড়েছে কলাকুশলীর নাম। সুবর্ণবাবু এখন আর কবিতা কম্পিটিশনে জাজমেন্ট করেন না। কারণ ওনার স্কুলের ছাত্রীছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। তাই বিচার যেন ত্রুটিপূর্ণ না হয় বলেই উনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনকী কোনো প্রোগ্রামেই উনি উপস্থিত থাকতেন না। ওনার ছাত্র-ছাত্রীরা স্যারকে দেখে ভয় পাবে বা নার্ভাস ফিল করবে বলেই উনি এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

    এই কয়েকমাস ধরে সমস্ত ক্লাবের রবীন্দ্র-নজরুল কবিতা কম্পিটিশন হোক বা যুব উৎসবে সুকান্তের কবিতাবৃত্তি হোক সবেতেই কলাকুশলীর স্টুডেন্টরা এগিয়ে। লোকজনের মুখে মুখে ছড়িয়ে গেছে এই সংস্থার নাম। লোকজন আড়ালে আলোচনা করে— সুবর্ণ চক্রবর্তীর স্টুডেন্টরা প্রতিযোগিতাতে নাম দিলে অন্যদের নাম কাটিয়ে দেওয়াই ভালো। কারণ জিতবে তো সেই সুবর্ণ চক্রবর্তীর স্টুডেন্টরাই। এই কয়েকমাসেই জিততে জিততে প্রায় অভ্যেস দাঁড়িয়ে গিয়েছিল সুবর্ণবাবুর। দৃঢ় ধারণা ছিল, কলাকুশলীর ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত থাকলে অন্য কেউ প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করতে পারবে না এ যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এই নিয়ে বার তিনেক এর ব্যতিক্রম ঘটল। সর্বসাধারণের গ্রুপে এবং ছোটদের ”ক” বিভাগের প্রথম পুরস্কার দুটো হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। কোনো এক স্বয়ংসিদ্ধা বালন নাকি প্রথম স্থান নিয়ে নিচ্ছে সর্বসাধারণ বিভাগের।

    সুবর্ণবাবু নিজের থুতনিতে হাত দিয়ে একটু ভেবেই বললেন, একজন ননবেঙ্গলি মেয়ে রবীন্দ্র কবিতা আবৃত্তি করে আমার স্টুডেন্টদের হারিয়ে দিচ্ছে?

    ভাবতে কষ্ট হচ্ছে অনন্যা। ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। সেই কলেজ লাইফ থেকে কবিতা লিখছি, রিসাইট করছি, বলতে গেলে কবিতা আমার ধমনীতে প্রবাহিত হয়। সেই নেশাই আমি তোদের মধ্যে সঞ্চারিত করেছি, এরপরেও অন্য কেউ কী ভাবে প্রথম হয়? এই নিয়ে বার তিনেক হল, কলাকুশলীর স্টুডেন্টরা হেরে গেল। আর প্রতিবারেই এই স্বয়ংসিদ্ধা বালনের নাম উঠে এসেছে তোদের মুখে।

    আবার সেই পুরোনো রাগটা বুজবুজি কাটছে মাথার মধ্যে। এই রাগটাকে সুবর্ণ নিজেই বড্ড ভয় পান। এ রাগের কারণ একটাই, হার মেনে নিতে পারেন না উনি। তবে বড্ড ভয়ংকর আকার নেয় এই রাগ। ভদ্র সমাজে বসবাস করার হেতু এ উগ্র রাগকে উনি ধীরে ধীরে বশে এনেছেন। উনি চান না, ওনার ওই মুখোশবিহীন হিংস্র রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে যাক স্টুডেন্টদের সামনে। নিজের ধীর-স্থির, শান্ত-মার্জিত যে রূপটা এতদিন ধরে অতি যত্নে লালিত করে আসছেন ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে সেই রূপের ওপরের পালিশটা খসে পড়ুক এটা উনি চান না। তাই শান্ত স্বরে বললেন, ঠিক আছে। একটা প্রতিযোগিতাই তো মাপকাঠি নয় আমার শিক্ষার। সামনে ডিস্ট্রিক্ট কম্পিটিশন আছে, সকলে তার জন্য রেডি হও। আজকে এসো সবাই। কলাকুশলী ফাঁকা হয়ে গেলো আস্তে আস্তে। স্যারকে প্রণাম জানিয়ে বিদায় নিল স্টুডেন্টরা।

    আস্তে আস্তে দক্ষিণের ঘরে তালা দিয়ে বাড়ির ভিতরে পা দিলেন সুবর্ণবাবু।

    অর্চনা ওর ব্যালকনির টবগুলোয় জল দিচ্ছে, আর গুনগুন করে বলেছে…

    ‘এখন থেকে সময়ের হিসাব করে বেরোই—

    সে হিসাব আমার কাজের সঙ্গে ঠিকটি মেলে না, প্রায় ঠিক মেলে ওদের বেরোবার সময়ের সঙ্গে,

    প্রায়ই হয় দেখা।

    মনে মনে ভাবি, আর-কোনো সম্বন্ধ না থাক

    ও তো আমার সহযাত্রিণী।

    নির্মল বুদ্ধির চেহারা

    ঝকঝক করছে যেন।’

    স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন সুবর্ণবাবু। কবিগুরুর ক্যামেলিয়ার লাইন না?

    অর্চনার এখনও মুখস্থ আছে? লাস্ট কবে কবিতা বলেছিল, অর্চনা? বিয়ের আগেই বোধহয়।

    আচমকা ভয়ে সিঁটিয়ে গেলেন সুবর্ণ। অর্চনা যদি ঘুরে দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করে সুবর্ণকে, আমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটাকে তুমি খুন কেন করলে সুবর্ণ? কী উত্তর দেবে তখন ও? ভেবেই কেঁপে উঠল অন্তরাত্মা।

    যদি কখনো সামনে দাঁড়িয়ে বলে, সুবর্ণ চক্রবর্তী তুমি কবে থেকে কবি হলে? কবে থেকে তুমি আবৃত্তির শিক্ষক হলে? কী উত্তর দেবে সুবর্ণ?

    বাহারি ঝাউ গাছটার দুটো অপ্রয়োজনীয় পাতা কাঁচি দিয়ে কুটকুট করে কেটে দিল অর্চনা। ঠিক যেমনভাবে বিয়ের পরে যৌথ পরিবারের দোহাই দিয়ে অর্চনার চাকরি আর কবিতার নেশাটাকে তার থেকে আলাদা করে দিয়েছিল ঠিক সেই ভাবেই কেটে দিল পাতাটা। আজ হঠাৎ এত বছর আগের সব কথা কেন ফিরে এসে পথ রোধ করে দাঁড়াচ্ছে সুবর্ণর? তবে কী কলাকুশলীর পরাজয়ই ওকে জোর করে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে অতীতের এক পরাজয়ের দিনে? তা প্রায় আটত্রিশ বছর আগের বিকেলে এসে থমকে দাঁড়াল সুবর্ণ।

    বছর তেইশের তরতাজা যুবক। ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট। বাংলা নিয়ে মাস্টার্স করছিল ও তখন। ফাইনাল ইয়ারের স্টুডেন্টের ওপরেই সেবারে দায়িত্ব পড়েছিল নবীন বরণ উৎসবের। অবসরে দু-চার লাইন কবিতা লেখার দৌলতেই হয়তো অনেকেই সুবর্ণকে নব্য কবি বলে লেগপুল করত। কবি হবার সুপ্ত বাসনাটা অবশ্য কয়লার ধিকধিকে আগুনের মতোই জিইয়ে রেখেছিল ও নিজের মধ্যে। সাজপোশাকেও অতিআধুনিকতাকে প্রবেশ করতে না দিয়ে পাঞ্জাবিতে নিজেকে অভ্যস্ত করছিল সুবর্ণ। একটু উসকোখুসকো চুল, পরনে হালকা রঙের পাঞ্জাবি, কাঁধে একটা সুতির ঝোলা ব্যাগ নিয়ে সাজগোজে নিজেকে প্রায় হাফ কবি বানিয়েই ফেলেছিল ও। এবারে শুধু বাকি আছে ওর কবিতা লেখা। বন্ধুরা উৎসাহ দিয়ে বলেছিল, কবিতা যবে লিখবি তবে লিখবি, ফার্স্ট ইয়ারের মেয়েদের যদি কাবু করতে হয় তো সিনিয়র হিসাবে একটা কবিতা পাঠ তো করতেই পারিস নবীন বরণ উৎসবে।

    নিজেকে এক সপ্তাহ ধরে ঘষে মেজে তৈরি করেছিল সুবর্ণ। ক্যাসেটে দিনরাত শুনেছিল বিখ্যাত আবৃত্তিকারদের কবিতা।

    নবীন বরণের দিনে মঞ্চে উঠতেই পা কেঁপেছিল ওর। তবুও সাহসে ভর করে বলেছিল, কবিগুরুর ”ক্যামেলিয়া” কবিতাটা। হাততালি পড়েছিল শ্রোতামহলে। সুবর্ণ নিজেও বুঝেছিল যথেষ্ট ভালো আবৃত্তি করতে পেরেছে ও। কিন্তু পরক্ষণেই ওর ধারণা ভুলে পরিণত হয়েছিল। কারণ ওর পরেই মঞ্চে উঠেছিল এম.এ ফার্স্ট ইয়ারের অর্চনা ভট্টাচার্য। আবৃত্তি করেছিল, ক্যামেলিয়া কবিতাটিই। প্রতিটা উচ্চারণ, প্রতিটা শব্দ যেন অনুভূতির আকারে ঝরে পড়ছিল। শ্রোতারা একাত্ম হয়ে গিয়েছিল। সুবর্ণ নিজে লজ্জিত হয়েছিল। ছি ছি ওর কবিতা আবৃত্তিটা আদৌ আবৃত্তিই হয়নি। অর্চনা নেমে আসতেই আসতেই হন্তদন্ত হয়ে ওর সামনে দাঁড়িয়েছিল সুবর্ণ। হাত জোড় করে বলেছিল, অপরাধ মার্জনা করবে। তোমার আগে কবিতাবৃত্তি করার ধৃষ্টতার জন্য। অর্চনা গম্ভীর মুখে বলেছিল— সব সইতে পারি, শুধু কবিগুরুর কবিতার অপমান নয়। নীরব শান্ত অপমানে কান লাল হয়ে গিয়েছিল সুবর্ণর। তাও আবার এক ইয়ারের জুনিয়ার মেয়ের কাছ থেকে। তবুও শান্ত ছিল ও। ধীর গলায় বলেছিল, আর যদি প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই তাহলে সুযোগ কী এই অধমকে দেওয়া হবে?

    কৌতূহলী চোখে তাকিয়েছিল অর্চনা। সুবর্ণ তড়িঘড়ি বলেছিল, তুমি যে শিক্ষকের কাছে কবিতাবৃত্তি শেখো সেখানে আমায় যদি একটু সুযোগ করে দাও তো বাধিত থাকব।

    অর্চনা মুচকি হেসে বলেছিল, আমি এক কড়া শিক্ষকের কাছে কবিতা শিখি। তিনি এই শিক্ষাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন। তোমার মতো অমনোযোগী ছাত্র পেলে বৃদ্ধ বয়সে তিনি খুনের দায়ে জেলে যাবেন হয়তো। সুবর্ণ মজা করে বলেছিল, সুযোগ দিয়ে দেখতে পার একবার। যদি মরুভূমিতে ধানের চাষ করাতে পারেন তিনি তবে নিজেই সব থেকে খুশি হবেন। ছাত্রের সাফল্যে গর্বিত গুরুজিরাই হন।

    অর্চনা রাজি হয়েছিল সুবর্ণকে নিয়ে যেতে ওর শিক্ষকের কাছে। সুবর্ণ দিন গুনছিল।

    আচমকাই একদিন অর্চনা এসে বলেছিল, চলো আজ নিয়ে যাব।

    একটু ভয় ভয়েই একটা দোতলা বাড়ির সামনে এসে থেমেছিল ওরা। অর্চনা বলেছিল, কী হল, দাঁড়িয়ে গেলে কেন এসো?

    সুবর্ণ ওর দেখানো পথ ধরে পৌঁছেছিল একটা দারুণ সাজানো গোছানো বাড়ির ড্রয়িংরুমে। দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও সুকান্তের ছবি। বইয়ের শেলফেও প্রচুর বই রাখা। এক ভদ্রলোক মন দিয়ে বই পড়ছিলেন। অর্চনা ইশারায় বলেছিল, ওই যে ওনার কাছেই আমি কবিতা শিখি ছোট থেকে। যাও গিয়ে প্রণাম কর।

    সুবর্ণর তখন রীতিমতো ভয় করছিল। ভদ্রলোকের ব্যক্তিত্ব দেখে পিছু হঠতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু নিরুপায় হয়েই ভদ্রলোকের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে বলেছিল, আমি সুবর্ণ চক্রবর্তী। অর্চনার বন্ধু। ভদ্রলোক চোখ তুলে তাকিয়ে বলেছিলেন, ওহ তোমার কথাই অর্চনা বলেছিল। তুমি রবীন্দ্র কবিতায় জীবনানন্দের ভাব আনতে চেয়েছিলে?

    সুবর্ণ কাঁচুমাচু করে বলেছিল, আপনি যদি আমায় একটু শেখান তাহলে আমি কৃতার্থ হই।

    ভদ্রলোক বলেছিলেন, অর্চনা ওকে বসতে দে। মাকে বল জলখাবারের ব্যবস্থা করতে তারপরে আমি ওর পরীক্ষা নেব। অর্চনা সাবলীল ভঙ্গিমায় বলেছিল, আচ্ছা বাবা, আমি বলছি।

    চমকে উঠেছিল সুবর্ণ। ইনি অর্চনার বাবা! অর্চনা ওর মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসেছিল। সেই সূত্রপাত ওদের ভালোলাগার। কতযুগ আগের কথা।

    প্রায় বছর তিনেক ওরা এক সঙ্গেই কবিতা শিখেছিল অর্চনার বাবার কাছে। অজিতবাবুর ব্যারিটন ভয়েসটা খুব যত্নে গড়ে দিয়েছিলেন বিশ্বকর্মা। বাবার রক্ত ছিল বলেই হয়তো একই শিক্ষকের কাছে একই সঙ্গে শিখেও প্রতিটা প্রতিযোগিতায় অর্চনা পুরস্কার পেলেও সুবর্ণ জয়ী হত না সবেতে। তবুও ওদের প্রেমটা ব্যর্থ হয়নি। দুজনেই চাকরি পাওয়ার পরে দুই বাড়ির সম্মতিক্রমেই বিয়েটা করেছিল ওরা। অর্চনাও স্কুল শিক্ষিকা হিসাবে জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে।

    সমস্যা হয়েছিল, অর্চনার মা হবার পরে। সুবর্ণদের যৌথ পরিবারের কেউই রাজি ছিল না বাড়িতে সদ্যজাতকে ফেলে অর্চনার চাকরি করতে যাওয়ার সিদ্ধান্তে। সত্যি বলতে কী সুবর্ণ নিজেও রাজি ছিল না। অর্চনা চাকরি ছেড়ে দিল। সন্তানকে মানুষ করায় মন দিল।

    এক কলি কবিতার লাইনও মুখফুটে উচ্চারণ করেনি কোনোদিন। সুবর্ণর কবিতা তখন বিভিন্ন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলার শিক্ষক ও কবি বলেই বহু অনুষ্ঠানে ডাক পাচ্ছিল সুবর্ণ বিচারক হয়ে বসার। অর্চনা কখনো প্রশ্ন করেনি। কোনোদিন চোখে চোখ রেখে বলেনি, কেন করলে সুবর্ণ আমার সঙ্গে এমন?

    বলেনি বলেই সুবর্ণ ভিতরে ভিতরে ভয় পায়। কবে ওর সম্মুখে এসে উপস্থিত হবে এই প্রশ্নটা। এমনকী কবিতা আবৃত্তি শিক্ষার স্কুল খোলার সময়েও কোনো প্রশ্ন করেনি অর্চনা। ওরা অবশ্য যৌথ বাড়ি ছেড়ে নিজেরা বাড়ি করে উঠে এসেছে। এটা সুবর্ণর নিজের তৈরি বাড়ি। এখানে আসার পরেও অর্চনার হাতে কখনও ওর সব থেকে প্রিয় সঞ্চয়িতা বা সূর্যাবর্ত দেখেনি। মেয়ের স্কুল, পড়াশোনা, গাছের নেশা এভাবেই কাটিয়ে দিল বাকি জীবনটা। সুবর্ণর দেখে কখনো মনে হয়নি অর্চনা অখুশি আছে।

    এত বছর পরে আবার সেই ইউনিভার্সিটিতে আবৃত্তি করা কবিতাটা কেন বলছে অর্চনা? কী করেই বা এই দীর্ঘ বছর অনভ্যাসের পরেও এমন নিখুঁত বলছে অর্চনা!

    স্খলিত পায়ে ঘরে ঢুকল সুবর্ণ। মনটা আজ বড়ই বিষণ্ণ হয়ে আছে। কলাকুশলীর ছাত্রছাত্রীরা দুটো বিভাগেই প্রথম হতে পারেনি। আনমনে টিভির রিমোটে প্রেস করল। অন্যমনস্ক হয়েই নিউজ চ্যানেলের দিকে তাকিয়ে আছে সুবর্ণ। কদিন পরেই জেলা কম্পিটিশন। এখানে ফার্স্ট হলে তবেই রাজ্য স্তরে যেতে পারবে কেউ। দ্বিতীয়র কোনো জায়গা নেই এখানে। শুধু ফার্স্টদেরই নিয়ে যাবে রাজ্য প্রতিযোগিতায়। না, এবারে যেতে হবে সুবর্ণকে। জানতে হবে কে এই স্বয়ংসিদ্ধা! বার বার কে হারিয়ে দিচ্ছে কলাকুশলীকে?

    ছেলেমেয়েদের এ কদিন কড়া শাসনে আবৃত্তি প্র্যাকটিস করালেন সুবর্ণ চক্রবর্তী। এবারে যেন কিছুতেই কোনো বিভাগের প্রথম পুরস্কার হাত ছাড়া না হয়। কাউকেই জানালেন না উনি যাবেন আজকের প্রতিযোগিতা দেখতে। আসলে চিনতে যাবেন স্বয়ংসিদ্ধা বালনকে।

    যথারীতি সুকান্ত হলের একেবারে পিছনের সিটে গিয়ে বসলেন সুবর্নবাবু। বুকের ভিতর ধুকপুক করছে। কেমন যেন একটা নার্ভাসনেস কাজ করছে। ঠিক যেমন করেছিল সেই ইউনিভার্সিটির নবীন বরণ উৎসবের দিনে।

    কলাকুশলীর ছাত্র-ছাত্রীরা যথেষ্ট ভালো আবৃত্তি করছে। আস্তে আস্তে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ছে যেন।

    ঠিক তখনই বিভাগ ”ক” এ একটি বছর সাতেকের ছেলে উঠল। শুদ্ধ উচ্চারণে আবৃত্তি করল ছেলেটি। সিদ্ধার্থ বালন। মুগ্ধ হয়ে শুনেছিল সুবর্ণ। কী অদ্ভুত বাচন ভঙ্গিমা। বালন তো অবাঙালি বলেই জানেন সুবর্ণবাবু। অথচ এমন সুন্দর বাংলা উচ্চারণ! এমন সুন্দর কবিতাবৃত্তি! উনি নিজে জাজ থাকলেও এই ছেলেটিকেই ফার্স্ট করতেন।

    সর্বসাধারণের গ্রুপে অবশেষে উঠল স্বয়ংসিদ্ধা। মেয়েটাকে দেখে স্থবির হয়ে বসে রইল সুবর্ণ চক্রবর্তী। সুচিস্মিতা নিজের নাম বদলেছে কবে? কবে শিখল এমন কবিতাবৃত্তি? কে শেখাল ওকে?

    চোখ বন্ধ করে মুগ্ধ হয়ে শুনছে সুবর্ণ।

    ‘যদি থাকি কাছাকাছি,

    দেখিতে না পাও ছায়ার মতন আছি না আছি—

    তবু মনে রেখো।

    যদি জল আসে আঁখিপাতে,

    এক দিন যদি খেলা থেমে যায় মধুরাতে,

    তবু মনে রেখো।

    এক দিন যদি বাধা পড়ে কাজে শারদ প্রাতে— মনে রেখো।

    যদি পড়িয়া মনে

    ছলোছলো জল নাই দেখা দেয় নয়নকোণে—

    তবু মনে রেখো।’

    কবিতা শেষ হয়েছে স্বয়ংসিদ্ধা বালনের। মঞ্চ থেকে নেমে আসতেই জড়িয়ে ধরলো অর্চনা।

    যথারীতি দুটো বিভাগেরই প্রথম পুরস্কার জিতে নিলো স্বয়ংসিদ্ধা এবং তার ছেলে সিদ্ধার্থ।

    অর্চনা নাতিকে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছে। মেয়ের গর্বে গর্বিত মা। একমাত্র বঞ্চিত সুবর্ণ। এত বছরের বিজয়ীর মুকুটটা কবে যে অর্চনা নিঃশব্দে কেড়ে নিয়েছে বুঝতেই পারেনি সুবর্ণ। একমাত্র সন্তান সুচিস্মিতা যখন প্রসূন বালন নামের ননবেঙ্গলি ছেলেটাকে বিয়ে করে এসে দাঁড়িয়েছিল, তখনই তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল সুবর্ণ। কোনোরকম যোগাযোগ রাখেনি ওদের সঙ্গে। অর্চনাও কখনো মেয়ের কথা বলেনি ওর সামনে। অর্চনার সঙ্গে তারমানে রীতিমতো যোগাযোগ ছিল সূচীর। নাতিও তো দিদাকে ভালোই চেনে দেখা যাচ্ছে। প্রসূনও দাঁড়িয়ে আছে অর্চনার গা ঘেঁষে।

    সূচীকে তারমানে অর্চনাই কবিতাবৃত্তি শিখিয়েছে। মায়ের রক্ত, মামাবাড়ির দাদুর রক্ত পেয়েছে বলেই সুচিস্মিতা এত সুন্দর কবিতা বলে। ওর কাছে কলাকুশলীর ছাত্র-ছাত্রীরা নেহাত ম্রিয়মাণ। সিদ্ধার্থের মুখটা দেখে খুব ইচ্ছে করছিল, ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে। কিন্তু আর হারতে রাজি নয় সুবর্ণ। এতদিন পরে এসে অর্চনা যে এভাবে ওকে পরাজিত করবে ভাবতেই পারেনি সুবর্ণ। তাও ওরই একমাত্র সন্তানকে হাতিয়ার করে। সুচিস্মিতা নামটা সুবর্ণর নিজের দেওয়া। মেয়ে হয়েছে বলে সেকি আনন্দ হয়েছিল ওর। সূচীও বাবা অন্ত প্রাণ ছিল। সে যে বাবার অমতে ওভাবে বিয়ে করতে পারে কল্পনা করেনি সুবর্ণ। অভিমান এতটাই দৃঢ় ছিল যে গত দশ বছরে ওদের কোনো খোঁজ খবরই নেয়নি। বরং সকলকে বলেছে আমার মেয়ে মৃত।

    অর্চনা কবে যে সেই শূন্যস্থান দিয়ে ঢুকে পড়েছে টের ও পায়নি সুবর্ণ।

    প্রসূনের গাড়িতে চেপে বেরিয়ে গেল ওরা। গোটা দাবার ছকটা ওকে দেখে বিদ্রুপ করছে যেন। একটা চালের ভুলে এভাবে হেরে গেল সুবর্ণ। অর্চনার রক্তে বাস করে কবিতার কালো অক্ষররা। হাজার চেষ্টা করেও সুবর্ণ পারেনি অর্চনার জায়গায় পৌঁছাতে। ধীরে ধীরে অবসন্ন শরীরের ভার বহন করে বাড়ি ফিরল সুবর্ণ।

    আগামীকাল নোটিশ টাঙিয়ে দেবে কলাকুশলীর দরজার সামনে। বন্ধ করে দেবে এ প্রহসন। আর শেখাবে না ও কবিতা। অর্চনা যেন ভ্রুকুটি করে হাসছে, ওর বাবা যেন আকাশ থেকে বলছেন, বুঝলি অর্চনা, সুবর্ণর দ্বারা আর যাইহোক কবিতাবৃত্তি হবে না।

    অর্চনা বাড়ি ফিরে এসেছে। পোশাক বদলে ডিনার টেবিল সাজাচ্ছে। মুখে তৃপ্তির হাসি। বিজয়িনীর হাসি।

    পরাজিত কবি সুবর্ণ চক্রবর্তীর দম্ভকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে অর্চনার মুখের ওই নিঃশব্দ হাসি। অর্চনা টেবিলে প্লেট সাজাতে সাজাতেই নরম স্বরে বললো, ‘কিছু মনে কোরো না,

    সময় কোথা সময় নষ্ট করবার।’

    সুবর্ণ সাহসে ভর করে বলল, অর্চনা আমায় কিছু বললে?

    অর্চনা ঘাড় নেড়ে বলল,

    ‘সবাই নেমে গেল পরের স্টেশনে;

    আমি চললেম একা।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআদিবাসী লোককথা : ১ম খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    Next Article মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    অর্পিতা সরকার

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }