Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রিয় পঁচিশ – অর্পিতা সরকার

    অর্পিতা সরকার এক পাতা গল্প407 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিলামে উঠেছি আমি – অর্পিতা সরকার

    আমি যখন মাত্র ছয় বছরের তখন আমার বাবা আমায় বিক্রি করে দিয়েছিল এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে। আমরা মোট পাঁচ ভাইবোন ছিলাম। আমার বাবা একটা গ্যারেজের মিস্ত্রি ছিল। মোটরবাইক, চারচাকা এসব সারাতো।

    মা দু-বাড়িতে রান্নার কাজ নিয়েছিল। তবুও আমরা পাঁচ ভাইবোন আধপেটা খেতাম। আমার বড় দাদার বয়েস যখন বারো তখন সে স্কুল ছেড়ে দিয়ে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ নিল। ওহ, আপনাদের তো আমার নামটাই বলা হয়নি। আমার একটা গাল ভরা নাম আছে, জানি না কেন আমার বাবা, মা এমন নাম রেখেছিল আমার? কানা ছেলের নাম পদ্মলোচনের মতোই আমার নাম, সংযুক্তা গুপ্ত। জয়চাঁদ রাজের কন্যা নই, বরং পেটের জ্বালায় অনাহারে থাকা মেয়ে আমি। না গুপ্ত সারনেমটা আমার বায়োলজিক্যাল ফাদারের নয়। ওটা আমায় যারা দত্তক নিয়েছিল তাদের। না, আমি পৃথ্বীরাজের পছন্দের নই, বা কোনো রাজকন্যা নই। নামটা শুধু মাত্র নামই। আমি হলাম সেজো বোন। আমার ওপরে এক দিদি আমার থেকে বছর দেড়েকের বড়।

    আমার ছোট দুটো ভাই, বোন ছিল। একজনের বয়েস তিন আরেকজনের দুই। সারাদিন কান্নাকাটি লেগেই থাকতো আমাদের দু-কুঠুরি বাড়িতে।

    তবুও আমরা রাতে ভাইবোনেরা একসঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে শুতাম। নিজেদের গায়ের গন্ধ পেতাম, মনে হত খুব নিরাপদে আছি।

    আমিও স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন স্কুল থেকে ফিরেছি আর আমার বাবা একজন ভদ্রলোককে নিয়ে এসে হাজির। সেই ভদ্রলোকের নাকি ছেলেমেয়ে নেই। আর আমার বাবার অনেক আছে। তাই সেই মধ্যযুগের বিনিময় প্রথার মতোই ভদ্রলোক টাকা দিয়ে একটা বাচ্চা কিনতে চান। আমার ছোট, ভাই, বোনকে নয় পছন্দ হল আমাকে। এক্ষেত্রে অবশ্য আমার সংযুক্তা নামটা সার্থক হল। অন্তত একবার সয়ম্বর সভা বসল আমার। ধুর, সয়ম্বর না বলে নিলাম বলা ভালো। কারণ আমার ইচ্ছের দাম ছিল না ওখানে। আমরা পাঁচ ভাইবোন লাইন দিয়ে দাঁড়ালাম। কাকে পছন্দ হয় দেখার জন্য। আমার সব থেকে ছোট্ট ভাইটা কেঁদেই যাচ্ছিল মায়ের কোলে। আমার দিদির ইচ্ছে ছিল, ওই গাড়িতে চাপার, তাই ও বারবার এগিয়ে যাচ্ছিল ভদ্রলোকের দিকে। দাদাও বোধহয় ভালোমন্দ খেতে পাবে বলেই, ফিসফিস করে বলল, যদি আমাকে নিয়ে যায়, তো আমি এখুনি যাব। ছোট দুটোর তখনও এত বোঝার ক্ষমতা ছিল না। একমাত্র আমিই ঘাড় গোঁজ করে নীচের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। শ্যাওলা ধরা নোনা দেওয়ালগুলো আমার বেশি পছন্দের ছিল। তেলচিটে ধরা বিছানার স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধটা আমার খুব আপন ছিল। নিজেদের বাড়ির ওপরে একটা অধিকারবোধ ছিল। মায়ের হাতের গুগলি চচ্চড়ির স্বাদ আমার কাছে অমৃতের মতো ছিল। কিন্তু ওই যে বললাম, আমার নাম সংযুক্তা। রাজকীয় একটা ব্যাপার ছিল বোধহয়। তাই নিলামে উঠে গেলাম আমি। আমার বাবা বলল, কী যে বলেন স্যার? সংযুক্তা আমার সব থেকে গুণের মেয়ে, আরেক লাখ বাড়িয়ে দিন। একটু দর কষাকষির পরে বাবার হাতে অনেক টাকা দিয়ে আমায় কিনে নিলেন ভদ্রলোক। মানে আমার নতুন বাবা। ভাইবোনরা জড়িয়ে ধরে কাঁদল, মা কাঁদল, বাবাও অশ্রুসিক্ত চোখে বলল, ভালো থাকিস। শুধু আমার চোখ দুটো ছিল মরুভূমির মতো শুকনো। এক ফোঁটা জল বেরোল না। আমার বইপত্র, জামা- যে দুখানা ছিল, কিছু নিলাম না আমি। মা দিতে চেয়েছিল গুছিয়ে, আমিই নিইনি। মাত্র ছয় বছর বয়সেই আমি প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেলাম।

    শিখে গেলাম কান্না চেপে রাখার কঠিন রহস্য। আবেগ লুকিয়ে রাখতে শিখে গেলাম ওই বয়সেই।

    আমি এসে দামি গাড়িতে চড়ে এসে হাজির হলাম একটা বড় রাজপ্রাসাদের মতো বাড়িতে। যে বাড়ির গ্যারেজটার মধ্যে আমার গোটা বাড়িটা ঢুকে যাবে।

    ভয়ে ভয়ে আমি উঠলাম সেই বিশাল বাড়িটাতে। পা পিছলে যাচ্ছিল আমার মেঝেতে। ইট বের করা খসখসে নয় সে মেঝে, ঝকঝকে সাদা, মুখ দেখার মতো। আমি যেতেই একজন মহিলা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল। পাগলের মতো চুমু খেতে শুরু করল আমার গালে। আমি থতমত খেয়ে গেলাম।

    এতদিন পর্যন্ত আমার ব্যস্ত গরিব মা আমাকে হাতে গুনে বার কয়েক চুমু খেয়েছিল। নোংরা জামা, গায়ের রং ময়লা বলে তেমন কেউ আদর করত না। যাদের গায়ের রং ফরসা, বেশ আদুরে দেখতে হয়, লোকে দেখতাম তাদের গাল ধরে খুব আদর করত। আমি ভাবতাম, অমন পুতুল পুতুল দেখতে হয় যাদের তাদের বোধহয় আদর করে লোকে। আমাকেও যে কেউ এমন করে বুকে চেপে ধরতে পারে, এটা আমি ভাবিনি কোনোদিন। অস্বস্তি হলেও আমি ওই মহিলার বুকে মুখ লুকিয়েছিলাম।

    বাড়ি থেকে আসার সময় আমার চোখ দিয়ে জল পড়েনি, কিন্তু ওই মহিলার বুকে মুখ গুঁজে প্রথম আমার চোখ ছাপিয়ে জল এসেছিল।

    ওই মহিলা বলেছিল, আমার নাম দীপালি। তুই আমায় মা বলে ডাকবি, পিঙ্কি? তোকে আমি পিঙ্কি বলে ডাকি? আমি ঘাড় নেড়েছিলাম। সেদিন থেকে দীপালিদেবী আমার মা আর প্রণববাবু আমার বাবা হয়েছিলেন। সেসব স্মৃতি এখন অতীত।

    বছর পাঁচেক পরে অত বয়েসে আবার দীপালিদেবী সন্তানসম্ভবা হয়েছিলেন। আমার একটা ফুটফুটে ভাই হয়েছিল। আমি দিনরাত ভাইকে নিয়ে মেতে ছিলাম। তখন আমি ক্লাস সিক্সের স্টুডেন্ট। বাবা রেগুলার অফিস থেকে ফিরে আমাকে পড়তে বসাত। বাবা বলত, দিনরাত ভাইকে নিয়ে থাকলে হবে? তোকে বড় ডাক্তার হতে হবে। বাবা আমাকে যেন একটু বেশিই ভালোবাসতো। মা বলত, বাপ সোহাগী পিঙ্কি। আর আমার ভাইটা ছিল একেবারে পুতুল। একমাথা কোঁকড়ানো চুল, ধবধবে ফর্সা, ঠিক যেন মোম দিয়ে গড়া। আমার মতো শ্যামলা নয়। কিন্তু ওই যে বলে না, দিদির স্নেহ, তাই কখনো আমার ভাইয়ের রঙের প্রতি হিংসা ছিল না। বরং খুব গর্ব হত অমন একটা ফুটফুটে পুচকে আমার ভাই বলে। আমি ভুলতে বসেছিলাম আমার অতীত। আমার বর্তমান বাবা, মায়ের স্নেহই ভুলিয়ে দিয়েছিল। আর আমার বায়োলজিক্যাল ফাদার বা মাদারও বোধহয় ভুলেই গিয়েছিল আমার অস্তিত্বের কথা। কারণ ওই পাঁচ বছরে তাদের কোনোদিন আমাদের বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে দেখিনি।

    দিনগুলো কাটছিল খুব সুন্দর ভাবেই। ভাইও বড় হচ্ছিল সময়ের নিয়মেই। আমি ছিলাম ভাইয়ের সব থেকে আবদারের জায়গা। আমার ভাই আমার মতো শান্ত ছিল না। ছিল ভীষণ দুরন্ত। আমাকে পাওয়ার আগে পর্যন্ত মাকে বেশ চড়া ডোজের মেডিশন নিতে হত। মায়ের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। আমাকে পাওয়ার পরে মা ধীরে ধীরে সেরে উঠেছিল। কিন্তু ভাইয়ের অত দুরন্তপনা সামলানো মায়ের কম্ম নয়। আমাদের বাড়ির দুজন পরিচারিকাও হাঁপিয়ে যেত। ভাই একমাত্র আমার কথা শুনত। আমি পড়াশোনাটা মন দিয়েই করতাম। বাবা দিনরাত বলত, তোকে বড় ডাক্তার হতে হবে। কে জানে কেন আমার মাথায় ওটা ঢুকে গিয়েছিল স্থির ভাবে। আমি ভাবতাম, ডাক্তার আমায় হতেই হবে। তাই দিনরাত পড়াশনা করতাম ছোট থেকেই। ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল ছিলাম। জয়েন্টেও একচান্সেই মেডিকেলে চান্স পেয়ে গেলাম। এদিকে আমার ভাইয়ের পড়াশোনায় একেবারেই মন ছিল না। দিনরাত শুধু ব্যাট বল নিয়ে পড়ে থাকত। বাড়ির কারোর কথা শুনত না শুধুমাত্র আমার কথাটুকু সে ফেলতে পারত না। আমার নামের সঙ্গে মিলিয়ে ওর নাম রাখা হয়েছিল সংযোগ। আমার থেকে প্রায় এগারো বছরের ছোট আমার ভাই। আর যেহেতু স্নেহ নিম্নগামী তাই বাবা, মা সকলের কাছে থেকেই আমি ভাইয়ের দোষগুলো ঢেকে রাখতাম। ওকে যেন কখনো বাবা বা মা না মারে সেই চেষ্টা করতাম। কবে থেকে যেন আমার ভাইটা বাবা, মায়ের থেকেও আমাকে বেশি ভালোবাসতে শুরু করে দিল। একমাত্র আমি বললেই সে পড়তে বসত। মা বলত, পিঙ্কির আদরে সঞ্জুটার বারোটা বাজছে। বাবা বলত, দিদি ডাক্তার আর ভাই জমাদার। বাহ, ভালোই মানাবে যাইহোক।

    আমার ভাইটা পড়াশোনাতে হয়তো অত ভালো ছিল না, কিন্তু ছবি আঁকত তুখোড়। আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছিলাম, ভাইকে আমি আর্ট কলেজে ভর্তি করব।

    ছয়টা বছর কঠিন পরিশ্রম করে আমি ডাক্তারি পাশ করলাম। আমার বাবার মুখ উজ্জ্বল করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত তখন। মা বলেছিল, যাক, আমার রোগের ট্রিটমেন্ট আর বাইরে গিয়ে করতে হবে না, আমার নিজের মেয়েই করবে। বাবা, মা, ভাই সকলের গর্বের ছিলাম আমি।

    আমি প্র্যাকটিস শুরু করলাম। আর মা আমার পাত্র দেখতে। ঠিক তখনই একদিন আমাদের বাড়ির গেটে একজন বয়স্ক লোক এসে হাজির। সংযুক্তা পালের খোঁজ করছে। আমি বেরিয়ে গিয়ে বলেছিলাম, ডক্টর সংযুক্তা গুপ্তা আমার নাম। পাল নয়। ভদ্রলোকের জামাকাপড় বেশ মলিন, চেহারাতেও দারিদ্রের ছাপ স্পষ্ট। আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, ওমা, এত বড় হয়ে গেছিস? আমায় চিনতে পারছিস না? আমি তোর বাবা রে, সুকুমার পাল। না, মনে ছিল না আমার বাবাকে। স্মৃতির পাতায় খুব আবছা একটা মুখ ছিল। দীর্ঘদিনের অদর্শনে সেটাও ভুলে যেতে বসেছিলাম।

    আমি একটু বিরক্ত হয়েই বলেছিলাম, আমার বাবার নাম প্রণব গুপ্ত। কে আপনি? বলে আমি ভ্রু কুঁচকেছিলাম। তখনই বাবার আড়াল থেকে মা বেরিয়ে এসে বলছিল, মুনি তুই আমাদের চিনতে পারছিস না? এই গলাটা ছিল আমার খুব পরিচিত। অন্ধকারে ভয় পেলে একদিন এই গলাটার স্বর শুনেই নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়তাম।

    এই মানুষটার আঁচলের গন্ধটা একবার নেব বলে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে পিছন পিছন ঘুরতাম। এই বাড়িতে এসেও লুকিয়ে লুকিয়ে বাথরুমে ঢুকে কাঁদতাম। মা বলে ডাকার সময় বারবার এই মুখটা মনে পড়ত। তারপর কবে থেকে যেন কষ্টগুলো রাগে পরিণত হয়ে জমাট বেঁধে গিয়েছিল। আর সেই ক্ষত থেকে কখনো রক্তক্ষরণ হতে দিইনি আমি। আমার এই বাড়ির বাবা, মা, ভাই আমাকে ভরিয়ে দিয়েছিল। ভাই হবার পরও বাবা, মা আমাকেই বেশি ভালোবাসতো। মা বলত, তুই না এলে আমি বাঁচতামই না। তোর মুখের মা ডাকই তো আমায় বাঁচিয়ে দিল, বন্ধ্যা নামক কষ্ট থেকে।

    কবে থেকে যেন আমি বিশ্বাস করতে শুরু করলাম, এটাই আমার বাড়ি, এরাই আমার পরিবার। স্মৃতির ধূসর পাতায় আমার গর্ভধারিণী কবেই যেন ধুলো ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। বাবার মুখটা অবশ্য আমি মনে করতে চাইনি কখনো। যে মানুষ নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দেয় তাকে আমি বাবার আসনে বসায়নি কোনোদিনই।

    ওদের সেদিন দেখে আমি বিরক্ত হয়েই বলেছিলাম, তো, এত দিন পরে কী মনে করে? বাবা কাঁদো কাঁদো হয়ে বলেছিল, তোর জন্য মনটা খুব উতলা হয়ে উঠেছিল রে। অনেক বছর তো বুকে পাথরচাপা দিয়ে রইলাম, আর পারছি না। চল ফিরে চল। আমি ছিটকে উঠে বলেছিলাম, প্রশ্নই আসে না। এটা আমার পরিবার। এখানে আমার বাবা, মা, ভাই সবাই থাকে। ওদের কথার মাঝেই আমার মা বেরিয়ে এসেছিল ঘর থেকে। দীপালিদেবীর দয়ার শরীর বলে আমি আর ভাই প্রায়ই রাগতাম মাকে। সেই দয়ার শরীর আর সরল মন নিয়েই মা বলেছিল, আহা, অভাবের তাড়নায় টাকা নিয়েছিল, মায়ের মন তো বল পিঙ্কি। তুই এভাবে ওদের তাড়িয়ে দিস না। ওরাও থাকুক আমাদের বাড়িতে।

    আমার গর্ভধারিনী মা আর বায়োলজিক্যাল ফাদার ঢুকে পড়ল গুপ্ত বাড়ির অন্দরমহলে। প্রথম প্রথম খুব সংকোচেই থাকত। আমিও খুব বেশি কথা বলতাম না। সেই টানটাই তো আর নেই। কেমন যেন হারিয়ে যাওয়া একটা সম্পর্কের নামটুকুকে জোর করে বয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। এভাবে শুধু জন্ম দেওয়ার জোরে বাবা, মা হওয়া যায় না বলেই আমার বিশ্বাস ছিল। আমার কাজের প্রেসার বাড়ছিল। একদিকে হসপিটাল, অন্য দিকে প্র্যাকটিস সব মিলিয়ে সময় কমছিল হাতে। বাড়ির সকলের সঙ্গে কথা হত ওই রাতে ডিনার টেবিলেই। আচমকা একদিন খেয়াল করলাম, আমার বায়োলজিক্যাল বাবা আর মা এ বাড়িতে বেশ সাবলীল হয়ে গেছে। নিজেই রান্নাঘরে গিয়ে খাবার আনছে, বাবা খবরের কাগজ পড়ছে, প্রথমের সেই সংকোচটা আর নেই তাদের দৃষ্টিতে। আমি এমনি কৌতূহলের বশেই জিজ্ঞেস করেছিলাম, রেবা এখন কোথায়? রেবা আমার পরের বোন ছিল। মা ফট করে বলে বসল, রেবা এখন গুজরাটে। ওকে যে কিনেছে সে অনেক বড়লোক। বাবা ইশারায় মাকে থামানোর জন্যই বলল, রেবাও তোর মতোই ভালো আছে। আমি অবাক হয়ে বলেছিলাম, দাদা, দিদি, ভাই তারা কোথায়? মা মুখ নিচু করে বলেছিল, সকলকেই একেক জায়গায় বেচে দিয়েছে বাবা। দাদা নাকি কোন হোটেলে কাজ করে। আমি বিস্মিত হয়ে তাকিয়েছিলাম আমার বায়োলজিক্যাল বাবার দিকে। ঘৃণায় গাটা রিরি করে উঠেছিল। মুখে জমেছিল অবাঞ্ছিত থুথু। সামলে নিয়ে বলেছিলাম, পাঁচজনকে বিক্রি করার পরেও তোমাদের এমন অবস্থা কেন? বাবা প্রায় কাঁদো কাঁদো গলায় বলেছিল, একটা ব্যবসা শুরু করেছিলাম, নিজের গ্যারেজ। কিন্তু ওই যে কপালে নেই। তাই টাকাপয়সা সব উড়ে গেল। ব্যবসাটা বসে গেল। আমি বিমূঢ় হয়ে বললাম, তোমরা সবাইকে বিক্রি করে দিলে? মা হাউমাউ করে বলল, আমার কথা কোনোদিনই শোনেনি তোর বাবা। আমার মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হল, মিথ্যেবাদী। চোখের সামনে ভেসে উঠল, সংযুক্তা পালের নিলামে ওঠার দিনটা। কেন বাবা সব ছেলেমেয়েদের লাইন দিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল, এতদিনে পরিষ্কার হল আমার কাছে। লজ্জায়, ঘৃণায় কুঁকড়ে গেলাম আমি। নিজের শরীরের লোহিত রক্ত কণিকার প্রতি ঘৃণা হচ্ছিল আমার। চূড়ান্ত ঘৃণা।

    আমি ছুটে গিয়ে ভাইকে জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছিলাম। সঞ্জু কিছু না বুঝেই বলেছিল, কেউ চিট করেছে তোকে দিদিভাই? তুই শুধু আমায় বল। আমি গিয়ে সেই ছেলেকে শেষ করে দেব। সঞ্জুর উত্তেজনা দেখে মা এসে বলেছিল, কী রে পিঙ্কি, কী হয়েছে তোর? তুই এমন অস্থির কেন হচ্ছিস?

    আমি রেগে গিয়েছিলাম মায়ের ওপরে। প্রায় চিৎকার করে বলেছিলাম, ওদের তাড়িয়ে দাও মা। ওরা এবাড়িতে থাকলে আমি অসুস্থ হয়ে যাব। বাবা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিল, ধুর পাগলি এমন বলতে নেই। ওরা না থাকলে তোকে কি আমরা পেতাম? ভাই আমাকে দু-হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে বলেছিল, তোর চোখে জল দেখলে আমি কিন্তু লঙ্কাকাণ্ড বাঁধিয়ে দেব এই বলে দিলাম। আমার দিদিভাইকে যে কষ্ট দেবে, তাকে আমি ছাড়ব না।

    আমি আমার পাগলা ভাইটাকে কপালে চুমু দিয়ে শান্ত করেছিলাম।

    আমার বায়োলজিক্যাল বাবা, মা এখন বেশ সচ্ছন্দেই রয়েছে এবাড়িতে। বহালতবিয়তে আছে।

    একদিন ডিনার টেবিলে আমার সন্দেহ হল ওদের ভাবভঙ্গি দেখে। সুকুমার পালকে দেখলাম একটু বেশিই অস্থির লাগছে। পুডিংয়ের একটা বাটি খুব সুচারুভাবে বদলে দিল সঞ্জুর সঙ্গে। খেতে খেতে সকলের চোখ থাকে টিভি পর্দায়। তাই কেউই খেয়াল করল না বিষয়টা। সুকমার পাল তারপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছিল টিভির খবরের নিরিখে।

    আরেকটা বিষয়ও কারোর নজরে পড়েনি। সেটা করেছিলাম আমি। ভাইয়ের পুডিংয়ের বাটিটা আমি নিজে নিয়ে ওকে নিজেরটা দিয়ে দিয়েছিলাম।

    হ্যাঁ অফিসার, কয়েক ঘণ্টা আগেই আমাকে বের করা হয়েছে আই সি ইউ থেকে। আমার শরীরে বিষক্রিয়া শুরু হবার আগেই আমাকে ভর্তি করা হয়েছিল নার্সিং হোমে। তাই হয়তো আমি এখনও বেঁচে আছি। যদিও আমি বাঁচতে চাইনি। কারণ আমার গোটা শরীরের রক্তটাই বিষাক্ত। তাই আমি মৃত্যু চেয়েছিলাম। সেদিন পুডিং বানিয়েছিল আমার গর্ভধারিনী। আর আমার ভাইকে বিষটা খাওয়াতে চেয়েছিল সুকুমার পাল, আমার বাবা। এদের সন্তানের বাঁচার কোনো অধিকার নেই অফিসার।

    ওরা গুপ্ত বাড়ির ওয়ারিশকে মেরে ফেলতে চাইছিল। যাতে সব সম্পত্তি আমি পাই, আর তারপর ওরা।

    অফিসার বললেন, ওদের অ্যারেস্ট করা হবে শুধু আপনার বয়ানের অপেক্ষায় ছিলাম। টেস্ট রিপোর্টে বিষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

    আমার মা দীপালিদেবী, আমার বাবা প্রণববাবু আর ভাই সংযোগ তিনজনের গালেই নোনতা জলের ভিজে দাগ। সঞ্জু বলল, দিদিভাই, তুই সব জেনেও কেন ওটা খেলি? আমাকে ছেড়ে তুই থাকতে পারতিস?

    মা অভিমানে মুখ ফিরিয়ে বলল, তবে কি আমার ভালোবাসায় কোনো খামতি ছিল পিঙ্কি?

    বাবা মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিল, এত সহজে প্রণব গুপ্তর মেয়ে হারে না।

    কেন কে জানে, আমার আবার বাঁচতে ইচ্ছে করছিল। ভাইয়ের সঙ্গে ব্যাটবল খেলতে, মায়ের লেগপুল করতে, বাবার আদর খেতে ইচ্ছে করছিল।

    আমি ঈশ্বরকে বললাম, আমায় আরেকবার সুযোগ দাও প্লিজ। আমি আমার পরিবারে ফিরতে চাই। ওই নোংরা রক্তের দায় আমার নয়। আমি বাঁচতে চাই।

    আমি এখন সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছি। গোটা পরিবার আমায় আগলে রেখেছে। তবুও মাঝে মাঝেই মনে হয়, কেন যে আমি আমার বায়োলজিক্যাল বাবা, মায়ের নামটা পালটে প্রণব গুপ্ত আর দীপালি গুপ্ত করতে পারলাম না, কে জানে!

    কিছু সত্যি কেন যে এত বেদনাদায়ক হয় জানি না। কিছু স্মৃতিতে যত তাড়াতাড়ি ধুলোর আস্তরণ পড়ে ততই মঙ্গল।

    কম্পাউন্ডার চেম্বারে উঁকি দিয়ে বলল, ম্যাম, একজন এসেছেন, বলছেন হার্ট পেশেন্ট, আপনার মা পাঠিয়েছেন।

    ডক্টর সৌরিক রায় স্মার্টলি আমার চেম্বারে ঢুকে বলল, ম্যাম আমি ডিরেক্ট ম্যাট্রিমনি থেকে আসছি। আপনার মা বললেন, আপনি ভীষণ ব্যস্ত। তাই চেম্বারেই চলে এলাম।

    সৌরিকের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে আমি বললাম, বয়েস? সৌরিক হেসে বলল, বয়েস ত্রিশ বছর চার মাস, হাইট পাঁচ ফিট এগারো, পেশায় ডক্টর, আপনাকে আমি প্রথম দেখেছিলাম মেডিকেল কলেজে, না, তখন সাহস করে প্রোপজ করতে পারিনি। সেই তখন থেকেই বুকের বাম দিকের যন্ত্রটা বিকল হয়ে পড়ে আছে। কদিন আগেই ম্যাট্রিমনির সাইটে আপনার ছবি দেখে আপনার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। তারপর ট্রিটমেন্ট করাতে সোজা আপনার চেম্বারে। সুস্থ করা আপনার দায়িত্ব।

    আমি হেসে বললাম, আমার মায়ের রেফারেন্সে যেহেতু এসেছেন তাই ট্রিটমেন্টের দায়িত্ব আমি নিলাম। মনে মনে বললাম, আমি সত্যি ভাগ্যবতী, নাহলে এমন বাবা, মা পাই?

    সৌরিক বলল, আপনার মা বেজায় টেনশনে আছেন, আপনি আদৌ আমার ট্রিটমেন্ট করবেন কিনা সেই নিয়ে! তাহলে ওনাকে কনফার্ম করে দিই ম্যাম? আমি মুচকি হেসে বললাম, কলেজের সেই লাজুক ছেলেটা কবে এত কথা শিখল?

    সৌরিক হেসে বলল, তোমার বায়োডাটা পড়ে ভাবলাম, এত বড় সত্যি বলার সাহস যার আছে তার সামনে কথা না বলতে পারলে জাস্ট আউট হয়ে যাব। তখন এই হৃদয়ঘটিত রোগের ট্রিটমেন্ট কে করবে? সংযুক্তা, আমি অবাক হয়েছিলাম, তুমি পরিষ্কার লিখেছ, প্রণব গুপ্ত আর দীপালি গুপ্ত তোমার বায়োলজিক্যাল পেরেন্টস নয়। তোমার বায়োলজিক্যাল পেরেন্টস তোমায় বিক্রি করে দিয়েছিল। এটা পড়ার পর খাপখোলা ঝকঝকে তরবারিটাকে আপন করতে বড্ড ইচ্ছে হল। তাই সাহসে ভর করে চলেই এলাম।

    আমি সৌরিককে বললাম, ফোন করে বলে দাও আমার মাকে, আমি তোমার হৃদযন্ত্রের দায়িত্ব নেব।

    সৌরিক একটু আস্তে বলল, ম্যাডাম বাইরে আপনার অনেক পেশেন্ট ওয়েট করছেন, আমি আজ চললাম, আপাতত শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক পড়ছে আমার।

    আমি বেলটা বাজালাম, নেক্সট….

    আমার ফোনটা বেজে উঠল, মা কলিং…

    কিছু স্বপ্ন, কিছু মেঘলা

    কিছু বই টই ধুলো লাগা,

    কিছু ইচ্ছে, সাড়া দিচ্ছে

    এ বসন্ত রাত জাগা…..

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআদিবাসী লোককথা : ১ম খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    Next Article মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    অর্পিতা সরকার

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }