Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রিয় পঁচিশ – অর্পিতা সরকার

    অর্পিতা সরকার এক পাতা গল্প407 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দ্য মিস্ট্রি অফ ফ্রেন্ডশিপ – অর্পিতা সরকার

    দ্য মিস্ট্রি অফ ফ্রেন্ডশিপ

    কি রে এবারেও তোকে হারিয়ে বেরিয়ে গেল পৃথা?

    স্বপ্নেশ আক্ষেপের সুরে বলল অভিষেককে।

    ক্লাস নাইনের অভিষেক সবুজ ঘাসের দিকে তাকিয়ে বলল, জানিস পৃথার বড্ড অহংকার। ক্লাস এইট পর্যন্ত আমিই ক্লাসের ফার্স্ট বয় ছিলাম। নাইনে উঠে হাফ-ইয়ারলি আর অ্যানুয়াল দুটো এক্সামেই আমাকে বিট করল। স্বপ্নেশ মুখে চিকচিক আওয়াজ করে বলল, টিউশনের মেয়েগুলো আমার লেগপুলিং করল রে। বলল, মেয়েদের কাছে হেরে গেলি!

    হ্যাঁ রে অভি তুই কি নাইনে ফাঁকি দিয়েছিলি? আমাদের ক্লাসের স্ট্যাম্প মারা ফার্স্ট বয় তুই। সেই তুই কি না এভাবে প্রায় ছয় নম্বরের ব্যবধানে সেকেন্ড হয়ে গেলি?

    অভিষেক আক্ষেপের গলায় বললো, ফাঁকি দেওয়া দূরে থাক বরং বেশি ট্রাই করেছিলাম। তবে একটা বিষয় খেয়াল করেছিস, পৃথা ক্লাসের কারোর সঙ্গে কোনো কথা বলে না। স্বপ্নেশ বলল, এটা আমিও খেয়াল করেছি। মেয়েটা কেমন অন্যদের থেকে আলাদা। বড্ড চুপচাপ স্বভাবের। কারোর সঙ্গে কথা বলে না। এমনকি টিফিন টাইমেও নিজের বই খুলে বসে থাকে। কেন রে!

    অভিষেক নরম হেসে বলল, আমার কাছেও তো রহস্য রে। এই জন্যই বয়েজ স্কুলে পড়া দরকার বুঝলি। এই টিউশনে গিয়ে শুনতে হবে মেয়ের কাছে হেরে গেলি!

    কেন রে বাবা, ছেলে বলে কি এক্সট্রা দুটো মাথা আছে? নাকি মেয়েদের ফার্স্ট হতে নেই! কে বুঝবে কার কথা। টিউশনে ঢুকলেই শুরু হবে লেগপুলিং। অবশ্য এসব বেশিদিন চলবে না। কিন্তু আমার বক্তব্য হচ্ছে এবারে তো একটু খোঁজ লাগাতে হচ্ছে রে স্বপ্নেশ পৃথা কার কাছে টিউশন পড়ে!

    অভিষেকের বাবা একটা প্রাইভেট কোম্পানির অ্যাকাউন্টসে আছে। মধ্যবিত্ত ফ্যামিলি ঠিকই কিন্তু ছেলের পড়াশোনায় কোনো কার্পণ্য ছিল না বাবার। বাবার ইচ্ছে অভিষেক বড় হয়ে শিক্ষকতা করুক। মা নেহাতই সাধাসিধে মানুষ। অভির আর ওর বাবার যাতে কিছুতেই অসুবিধা না হয় সেটা দেখাই যেন মায়ের একমাত্র লক্ষ্য। নিজের ছোট্ট সংসারটা নিয়ে বড্ড সুখী থাকে মা। অভিষেক ওর বাবা-মায়ের মধ্যে কোনোদিন মনোমালিন্য দেখেনি।

    সুখী পরিবার ওদের। অভিষেকের ধ্যানজ্ঞান পড়াশোনা করা। পড়াশোনা করতে ওর ভালো লাগে। কাউকে জোর করে বলতে হয় না পড়তে বোস।

    সেই নার্সারী থেকে ওকে কেউ সেকেন্ড করতে পারেনি। এই প্রথম ক্লাস নাইনে এসে ওর পজেশন চেঞ্জ হয়ে গেল। ও সেকেন্ড হয়ে গেল।

    অভি জানে ওর বাবা-মা ওকে এজন্য বকবে মারবে না। তবুও মনখারাপি বাতাসটা কেবল ওকে ঘিরেই ঘোরাফেরা করছে। আর মনের মধ্যে তীব্র জেদ কাজ করছে, পৃথাকে হারাতেই হবে টেস্টে।

    পৃথার মুখে হাসির রেখা দেখতে পায়নি। প্রথম হওয়ার জন্য চোখে কোনো গর্বের চিহ্নও যেন নেই। নির্লিপ্ত ভঙ্গিমায় রিপোর্ট কার্ডটা নিয়ে চুপচাপ বেরিয়ে গেলো ক্লাস থেকে। ও বেরিয়ে যাবার পরেই সবাই কানাঘুষো করছিল, বাপরে কী অহংকার পৃথার। ফার্স্ট হওয়াটা যেন কোনো ব্যাপারই নয় ওর কাছে! তাই মুখের কোনো রেখায় উচ্ছ্বাসটুকু পর্যন্ত নেই। ওদের নেতাজী ইনস্টিটিউশন থেকে যে সমস্ত স্টুডেন্টরা স্ট্যান্ড করে বেরোয় তারা একেকজন জুয়েল। এটা এ অঞ্চলের সকলে জানে। অন্য স্কুলের স্টুডেন্টরা এই স্কুলের স্টুডেন্টদের একটু সমীহর চোখেই দেখে। সেখানে পৃথার এমন নিরুত্তাপ মুখ দেখে সকলের মনেই একটাই কথা এসেছে, মেয়েটি বড্ড অহংকারী। ক্লাস ফাইভ থেকে এইট পর্যন্ত পৃথা দশের মধ্যে থাকত ঠিকই কিন্তু তাই বলে একেবারে প্রথম!

    চুপচাপ বলেই ক্লাসের কেউ ওকে সেভাবে কোনোদিন নোটিশও করেনি। ভিড়ে মিশে যাওয়া একেবারেই সাধারণ চেহারার মেয়ে ও।

    কিসের যে এত অহংকার কে জানে! কারোর সঙ্গে বন্ধুত্ব নেই, অদ্ভুত একলা থাকা স্বভাবের মেয়ে।

    অভি মনে মনে ভাবল, মেয়েটার ডিটেলস জানতে হবে। কতক্ষণ পড়ে, কোন টিউশনের কাছে পড়ে সব। তার জন্য বন্ধুত্ব করাটা খুব জরুরি।

    স্বপ্নেশকে কথা শেষ করতে না দিয়েই সাইকেলের প্যাডেলে পা দিয়ে হাওয়ার বেগে এগিয়ে গেল অভি। স্কুল গেট থেকে বেরিয়ে বাঁদিকের রাস্তাটা ধরে পৃথা। সম্ভবত সুভাষনগরের দক্ষিণ পাড়ায় থাকে ও। দক্ষিণপাড়ায় যাওয়ার ওটাই শর্ট কাট রাস্তা।

    দুপাশে রাধাচূড়া গাছের সারি। একা রাস্তার ধার দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে পৃথা। পরণে মিলিটারি পাড় সাদা শাড়ি। এটাই ওদের স্কুলের পোশাক। ক্লাস নাইন থেকে শাড়ি পরতে হয় মেয়েদের। কাঁধে একটা ঝোলা ব্যাগ। দুদিকে চুল বাঁধা।

    পৃথাকে দেখতে পেয়েই ওর এতক্ষণ জোরে প্যাডেল করা পা দুটো থমকে গেল।

    কী বলবে ও পৃথাকে? বন্ধুত্ব করতে চাই?

    যদি পৃথা মুখের ওপর দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে বলে আমি একলাই বেশ ভালো আছি.. তাহলে!

    কী করা উচিত অভিষেকের? ফিরে চলে যাওয়া উচিত? নাকি…ভাবতে ভাবতেই দায়িত্বটা মাথা থেকে মনের ওপরে অর্পণ করে দিল ও।

    মন অবলীলায় পৃথার পাশে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে বলল, হিস্ট্রিতে কত হল তোমার?

    কথাটা বলে ফেলার পরেই আবার মাথাটা কাজ করল অভির। কিন্তু ততক্ষণে মুখের কথা হাতের ঢিলের মতোই ওর কবজায় নেই।

    আনমনে রাস্তা হাঁটছিল পৃথা। আচমকা পিছন থেকে এমন প্রশ্ন শুনে থমকে দাঁড়াল পৃথা।

    ঘাড় ঘুরিয়ে অভিষেককে দেখতে পেয়ে বলল, ৮৯ হয়েছে হিস্ট্রিতে। তোমার তো ৮২ তাই না?

    পৃথাকে অন্য বন্ধু-বান্ধবীদের মত তুই করে ডাকতে পারল না অভি। নয়না, সোনালি, সঞ্জনা এদের তো তুই বলে ও। তাহলে ক্লাসমেট হিসাবে পৃথাকে কেন তুই বলে সম্বোধন করতে পারল না কে জানে!

    অভিষেক ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বলল। পৃথা হেসে বলল মন খারাপ? সেকেন্ড হয়েছ বলে?

    অভিষেক কিছু বলার আগেই পৃথা অদ্ভুত হেসে বলল, মন খারাপ করো না। ফার্স্ট সেকেন্ড তো একটা সংখ্যা মাত্র। পড়তে ভালোলাগাটাই আসল।

    বইয়ের অক্ষরে কত রহস্য লুকিয়ে আছে বলতো, সেগুলো আবিষ্কার করাটাই তো আসল মজা।

    অভিষেক বলল, তুমি কোন টিউশনে পড়? সঞ্জীব স্যার না অরুণ স্যারের কাছে?

    পৃথা আচমকা বলল, আমি আসছি, দেরি হয়ে যাচ্ছে। পরে গল্প করব।

    জোরে পা চালাল পৃথা। অভিষেক একটুক্ষণ দাঁড়িয়ে ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে মনে মনে ভাবল, এত হিংসুটে মেয়েটা!

    স্বপ্নেশ বোধহয় ঠিকই বলেছিল, পৃথা কাউকে কিছু বলবে না বলেই চুপচাপ থাকে ক্লাসে।

    ক্লাস টেনে ওঠার পরে পড়াশোনা নিয়ে সকলেই একটু বেশি তৎপর হয়ে উঠল। অভিষেক মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল এবারে পৃথাকে হারাতেই হবে।

    মেয়েটার বড্ড অহংকার।

    সেদিনও স্কুল থেকে বেরিয়ে আনমনে হাঁটছিল পৃথা। ওকে দেখে একটু জোরেই সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দিল অভিষেক। আর কোনোদিন ওই মেয়েটার সঙ্গে কথা বলবে না ও। কোনোদিন না।

    আচমকাই ওর চোখের সামনে মাটিতে ধপ করে বসে পড়ল পৃথা। সাইকেলে ব্রেক কষে দাঁড়াল অভিষেক। পৃথার সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, কি হল পড়ে গেলে কী করে?

    নিজের হাতটা বাড়িয়ে বলল, ওঠো।

    পৃথা অভিষেকের বাড়ানো হাতটা ধরতেই ও অনুভব করল মেয়েটার গায়ে প্রবল জ্বর। চোখদুটোও বেশ লাল।

    অভিষেক বলল, একি পৃথা তোমার তো জ্বর এসেছে। স্কুলে জ্বর নিয়েই বসে ছিলে তুমি?

    পৃথা আরক্ত চোখে তাকিয়ে বলল, ও কিছু না। কমে যাবে একটু পরেই। তুমি এসো। আমি চলে যাচ্ছি।

    অভিষেক চিন্তান্বিত স্বরে বলল, তাই হয় নাকি? চলো আমার সাইকেলে বসো আমি তোমায় বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসি। পৃথার দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই, সেটা ওকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে। অভিষেকের সাইকেলের রডে কোনোমতে বসে বলল, আমায় বাড়ির একটু আগে নামিয়ে দিও বেশ। বাবা দেখলে বকবে। অভিষেক হেসে বলল, তাই হবে।

    পৃথা জড়ানো গলায় বলল, তোমায় আমি কয়েকটা জিনিস চাইব দেবে?

    অভি দ্বিধা না করেই বলল, বলো না কি চাও।

    পৃথা বলল, সব সাবজেক্টের রেফারেন্স বুকসগুলো আমায় কয়েকদিনের জন্য ধার দেবে প্লিজ?

    অভি একটু ঘাবড়ে গিয়ে বলল, আমার দুটো করে পাবলিশারের রেফারেন্স বুক আছে। আমি তোমায় একটা করে দেব কয়েকদিনের জন্য।

    পৃথা ওর উষ্ণ হাতটা অভির হাতের ওপরে রেখে বলল, থ্যাংক ইউ। কেউ কখনও আমাকে এতটা বিশ্বাস করেনি।

    ওর বাড়ি কোনটা জানা হল না অভির। আচমকাই পৃথা বলল, এখানে নামিয়ে দাও প্লিজ।

    অভি একটুক্ষণ দাঁড়িয়ে পৃথার চলে যাওয়া দেখতে দেখতে ভাবল, মেয়েটা কি সত্যিই অহংকারী নাকি একটু বেশিই চুপচাপ। যে দুদিন কথা বলল, তখন তো খুব ভালো করেই কথা বলছিল। কে জানে মেয়েটা আসলে কী!

    কয়েকটা বাচ্চা জোরে ফুটবলটা ছুঁড়ল অভির দিকে। পৃথাদের পাড়ার পাশেই একটা ফুটবল খেলার মাঠ। আপাতত সেখানে কিছু পুচকে একটা ফুটবল নিয়ে ছোটাছুটি করছে। অভি সাইকেল থেকে নেমে ফুটবলটাতে জোরে শট মারল।

    ছেলেগুলো হাততালি দিয়ে উঠল।

    পিছন ফিরে দেখল, একটা গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে মুচকি হেসে পৃথাও হাততালি দিল।

    লজ্জা পেয়েই জোরে সাইকেল চালাল অভি।

    কি করে যেন গোটা ক্লাসের কারোর সঙ্গে বন্ধুত্ব না হলেও অভির সঙ্গে অদ্ভুত একটা বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে গেল পৃথার। ক্লাসে ঢুকেই পৃথার চোখদুটো অভিকে খুঁজত। বন্ধুরা অভিকে আড়ালে বলত, কী রে প্রেমে পড়েছিস নাকি!

    প্রেম, ভালোবাসার কথা জানত না অভি। শুধু বুঝত পৃথার বলা ওই নরম শব্দগুলো ওর মন জুড়ে অনুরণন করে। আলতো একটা অচেনা অনুভূতি ছুঁয়ে যায় ওকে।

    এত ভারী ব্যাগ নিয়ে হেঁটে যেতে পারবে পৃথা?

    সব রেফারেন্স বইয়ের ব্যাগটা হাতে নিয়ে পৃথা বলেছিল, না পারলে কি পৌঁছে দিয়ে আসবে?

    সেদিনও অভির সাইকেলের রডে বসে বাড়ি ফিরেছিল পৃথা। রাস্তার দুধারে রাধাচূড়া গাছের হলদে ফুল গন্ধবিহীন। তাহলে অভির নাকে এসে যে হালকা নরম গন্ধটা ঝাপটা দিচ্ছে সেটা কীসের গন্ধ?

    পৃথা কি আজ শ্যাম্পু করেছে?

    পৃথা ভূমিকা না করেই বলে বসল, বহু বহু বছর পরে যদি আমার সঙ্গে তোমার দেখা হয় কোনো ভিড় রাস্তার মোড়ে, সেদিন আমায় চিনতে পারবে অভি?

    নাকি পাশ কাটিয়ে চলে যাবে!

    মেয়েরা কি ছেলেদের থেকে একটু বেশিই বুদ্ধিমতী হয়? কে জানে! কিন্তু পৃথার বলা কথার অর্থ না বুঝতে পেরেই অভি বলল, তোমার সঙ্গে তো কালকেই দেখা হবে। আর প্রবীর স্যারের লাইফ সায়েন্স ক্লাসে আমি খুব বকা খাব দেখো। পড়া হয়নি আমার। দেখি বাড়ি ফিরে আগে পড়তে বসতে হবে।

    পৃথা আলতো হাত রাখল অভির হাতের ওপরে। শান্ত গলায় বলল, গোটা ক্লাস হয়তো ভুলে যাবে আমায় অভিষেক। কিন্তু প্লিজ তুমি মনে রেখো আমায়। মনে রেখো আমি ফার্স্ট, সেকেন্ড হওয়ার জন্য পড়ি না। শুধু কালো অক্ষরদের ভালোবেসে পড়াশোনা করি।

    বললে না তো, বহু বছর পরে যদি হঠাৎ দেখা হয় কোনো বৃষ্টি ভেজা পথের বাঁকে আমায় চিনতে পারবে অভি?

    অভি অবাক গলায় বলল, কেন চিনতে পারব না। নিশ্চয়ই পারব। ভুলে যেতে যাবই বা কেন?

    লাল-সাদা ডুড়ে সুতির ছাপা শাড়ি পরা শ্যামলা রঙের বউটা বলে উঠল, তোদের হেড মাস্টারমশাই ক্লাস নাইনে ইতিহাসে ৮২ পেয়েছিল বলে তার ভারী গোঁসা হয়েছিল জানিস তো জিনিয়া! চমকে তাকালো অভিষেক সেনগুপ্ত।

    পলাশপুরের রাজা রামমোহন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিষক সেনগুপ্ত। বছরখানেক হলো এই স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হয়ে এসেছে ও। নিজের বাড়ি সুভাষনগর থেকে মাত্র একটা স্টপেজ পরেই পলাশপুর, তাই বাড়ি থেকেই নিশ্চিন্তে যাতায়াত করতে পারে ও। নিজের ইচ্ছেতেই সন্ধের দিকে পলাশপুরের লাইব্রেরি রুমে একটা কোচিং সেন্টার খুলেছে ও। রাজা রামমোহন বিদ্যালয়ের ব্রিলিয়ান্ট ছেলেমেয়েদের বিনামূল্যে কোচিং দেবে বলে।

    ক্লাস নাইন থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিষেকের সদুদ্দেশ্য দেখে আরও জনা পাঁচেক লোকাল শিক্ষক-শিক্ষিকাও এগিয়ে এসেছেন।

    ক্লাস নাইনের ফার্স্ট গার্ল জিনিয়া রায় মুচকি হেসে বলল, তাই নাকি স্যার? সত্যি?

    অভিষেক অবাক গলায় বলল, উনি কে জিনিয়া?

    জিনিয়া মেয়েটা বেশ স্মার্ট ভঙ্গিমায় বলল, আমার মা। জানেন স্যার এতদিন পর্যন্ত আমার মা আমাকে সব পড়াত। মা খুব ভালো অঙ্ক পারে।

    অভিষেক লাইব্রেরি রুম থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়াল জিনিয়ার মায়ের সামনে।

    মুখের আদলে একটু মিল খুঁজে পেলেও চেহারা বদলেছে আমূল। কত ঝড় বয়ে গেছে যেন এই শরীরের ওপর দিয়ে। বিয়াল্লিশ বছর দেখে মনেই হচ্ছে না। মনে হচ্ছে যেন পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে এসেছে কবেই। চোখের পাতায় অনেক ঘুম জমে আছে। ঠোঁটের করুণ হাসিতে অনেকটা ক্লান্তি জমাট বেঁধেছে। অভিষেক বলল, তুমি কি পৃথা?

    পৃথা গায়ে কাপড়টা আরেকটু জড়িয়ে লজ্জা জড়ানো গলায় বলল, কথা দিয়েছিলে ভিড় রাস্তার মোড়ে দেখলেও চিনতে পারবে। পারলে কই?

    গত এক বছর ধরে রোজ নিজের বাড়ির এক চিলতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখতে পেতাম তুমি বাইক নিয়ে বেরিয়ে যেতে। দুদিন তো মুখোমুখিও হলাম আমরা। চিনতে পারলে কই অভি?

    গলাটা ধরে এল পৃথার।

    অভিষেক অভিমানী গলায় বলল, কথা তো অনেকেই অনেক কিছু দিয়েছিল পৃথা, কেউ কি রেখেছে?

    মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে গিয়ে শুনলাম সোনালির কাছে.. তুমি নাকি পরীক্ষা দিতে আসনি। প্রতিদিনই সোনালির কাছে খবর নিয়েছি, তুমি এলে না। এগজামটা দিলে না। তোমাদের পাড়ায় পরীক্ষার পরে বেশ কয়েকবার গিয়েছিলাম ভয়ে ভয়ে। বেপাড়ার ছেলে দেখে বেশ কয়েকজন মিলে খুব বকেছিল।

    এমন ভাবে নিজেকে লুকিয়ে নেবার কথা কি তুমিই দিয়েছিলে পৃথা?

    পৃথা মুচকি হেসে বলল, তুমি আমার থেকে কম পাবে জেনেই এগজাম দিইনি। বুঝলে!

    অভিষেক কথা বলার আগেই পৃথা বলল, গোঁফ রেখেছ? এই গোল্ডেন ফ্রেমের চশমাতে তোমাকে ভারী মানিয়েছে।

    আর তোমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন? সেটার কি হল পৃথা?

    পৃথা উত্তর না দিয়েই বলল, ফাঁকিবাজ স্যার বলবে তোমায় তোমার স্টুডেন্টরা। যাও ক্লাসে যাও। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল অভিষেক সন্ধে সাতটা বাজে। বেশিরভাগ স্টুডেন্ট এসে গেছে।

    ধীর পায়ে ঘরে ঢুকে এল অভিষেক। একরাশ প্রশ্নের ঝুলি মাথার মধ্যে অনবরত আঘাত করতে লাগল। জিনিয়া পৃথার মেয়ে? পৃথা কেন এভাবে হারিয়ে গিয়েছিল ওদের স্কুল থেকে!

    পৃথাকে দেখে মনে হল খুব নিম্নবিত্ত অবস্থার মধ্যে আছে।

    জিনিয়াকে কিছু প্রশ্ন করতে সাহস হল না অভিষেকের। যদি তেমন কোনো সত্যি উঠে আসে ওর সামনে! বরং থাক স্মৃতির হলদে পাতায় চুপটি করে।

    অভিষেক জিনিয়ার খাতায় দেখল, সেই পরিচিত হাতের লেখা। লালকালিতে প্রশ্ন আর নীলকালিতে উত্তর লেখা আছে। বড্ড গোছানো খাতা। এমন করেই সব শর্ট কোশ্চেনের উত্তরগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে অভিষেককে দিয়েছিল পৃথা। বলেছিল, এই নাও তোমার রেফারেন্স বুকগুলো ফেরত দিলাম। আর এই যে সব সাবজেক্টের আলাদা আলাদা খাতা। মন দিয়ে পড়বে। অভি তুমি যদি বড় হয়ে শিক্ষক হও তাহলে আমার একটা কথা রাখবে?

    তুমি গরিবদের বিনামূল্যে টিউশন দিও।

    বাড়ি এসে খাতাগুলো দেখে চমকে উঠেছিল অভি।

    সুন্দর হাতের লেখায় খুব গুছিয়ে প্রশ্ন আর উত্তর লেখা রয়েছে।

    খাতাগুলো দেখতে দেখতে বাংলা খাতার শেষ পাতায় চলে গিয়েছিল অভি।

    বার দুইয়েক অভিষেক নামটা লিখে কেটে দিয়েছে পৃথা। হয়তো আরও কিছু বলার ছিল ওর। সঙ্গে ছিল ভাঁজ করা একটা ছোট্ট চিঠি।

    খুব ভালো করে পরীক্ষা দিও। স্কুলের মুখ উজ্জ্বল করো। শেষ হয়ে যাওয়া পথের শেষে নিশ্চয়ই দেখা হবে একদিন।

    সেদিন ওই চিঠির মানে কিছুই বোঝেনি অভিষেক। শুধু বুঝেছিল অনেক যত্ন করে দিনরাত এক করে এই খাতাগুলো রেডি করেছে পৃথা ওর জন্য।

    টেস্টের পরে আর তেমন দেখা হয়নি পৃথার সঙ্গে। যে যার পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত ছিল।

    তারপর পরীক্ষা দিতে গিয়ে শুনেছিল, পৃথা পরীক্ষা দিতে আসেনি।

    অভিষেকের জীবন থেকে বড্ড আচমকা হারিয়ে গিয়েছিল পৃথা। কিন্তু ওই খাতাগুলো যত্ন করে রেখে দিয়েছিল ও।

    টুয়েলভ পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েছিল অভিষেক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পৃথা নামের মেয়েটা মুছে গিয়েছিল মন থেকে। আজ কতদিন পরে আবার দুজনে দুজনের সম্মুখীন হল। পৃথার কথা শুনে মনে হল এই যে গতকাল ওরা স্কুলের ক্লাস করে বেরিয়ে গিয়েছিল। আজ আবার দেখা হয়েছে। কোনো সংকোচ নেই ওর গলায়। কিন্তু অভিষেক কেন সহজ হতে পারছিল না ওর সামনে!

    আসলে পৃথা হারিয়ে যাবার আরও বছর খানেক পরে অভি বুঝতে পেরেছিল, পৃথা ওকে ভালোবেসেছিল। তাই খাতার পিছনে ওর নাম নিয়ে কাটাকুটি খেলা খেলেছিল।

    হয়তো একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিল অভিষেক। দিব্যেন্দু বলে ক্লাস ইলেভেনের ছেলেটা সাগ্রহে বলে উঠল, স্যার এবারে রবীন্দ্রজয়ন্তীতে কি আগেরবারের মতোই প্যান্ডেল হবে স্কুলের মাঠে?

    আর তো বেশিদিন নেই। তাই জিজ্ঞেস করলাম।

    অভিষেক ঘাড় নেড়ে বলল, হবে। আগের বারের মতোই হবে।

    নেতাজী ইন্সটিটিউশনের মাঠে প্যান্ডেল বাঁধা হয়েছিল। অভিষেকরা সেদিন পাঞ্জাবি পরে স্কুলে এসেছিল। আড়চোখে দেখেছিল মঞ্চের সামনে একমনে আল্পনা দিচ্ছিল পৃথা।

    অভিষেক আর স্বপ্নেশ এগিয়ে গিয়ে বলেছিল, হেল্প করব?

    পৃথা স্বপ্নেশকে বলেছিল, চক শেষ হয়ে এসেছে, অফিস থেকে একটু এনে দিবি?

    স্বপ্নেশ ছুটেছিল।

    অভিষেকও স্বপ্নেশের পিছু নিতেই পৃথা বলেছিল, চক কি খুব ভারি হয় নাকি? ও একাই আনতে পারবে। অভিষেক বোকার মতো দাঁড়িয়ে বলেছিল, তাহলে আমি কী করব?

    কবিগুরুর কটা লাইন বলো ….আল্পনার মাঝে লিখব।

    অভিষেক বলেছিল

    ‘কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কী পাও?

    তারি রথ নিত্য উধাও।

    জাগিছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন

    চক্রে পিষ্ট আধারের বক্ষ-ফাটা তারার ক্রন্দন।

    ওগো বন্ধু…..’

    লাইনগুলো লিখতে লিখতে সেদিন পৃথা বারবার তাকিয়েছিল অভিষেকের দিকে।

    তারপর নিজেই বলেছিল, শোনো এই দুটো লাইন কেমন লাগবে বলতো..

    ‘অমন আড়াল দিয়ে লুকিয়ে গেলে চলবে না।

    এবার হৃদয়-মাঝে লুকিয়ে বোসো, কেউ জানবে না, কেউ বলবে না।’

    অভি হেসে বলেছিল, একদিন কবিতা লড়াই হবে তোমার সঙ্গে আমার।

    পৃথা আনমনে লিখেছিল….’সময় কোথা সময় নষ্ট করবার। আমাকে নামতে হবে পরের স্টেশনেই; দূরে যাবে তুমি’…

    স্যার আবার পরশু দিন ক্লাস নেবেন?

    অভিষেক ওদের দেওয়া হোমওয়ার্কের খাতাগুলো চেক করতে করতে বলল, আগামীকাল শুভেন্দু স্যারের ক্লাস আছে। কেউ কামাই করবে না।

    ক্লাস থেকে বেরিয়েই অভিষেকের চোখ দুটো উদ্ভ্রান্তের মত খুঁজছিল পৃথাকে।

    জিনিয়া ব্যাগ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল…

    অভিষেক ডেকে বলল, জিনিয়া তুমি কি একাই ফিরবে বাড়িতে? মা আসেননি?

    জিনিয়া একটু ইতস্তত করে বলল, না মা তো আর আসবে না। মা আজ আপনার সঙ্গে আলাপ করবে বলেই এসেছিল। আমার বাড়ি এই পলাশপুরেই। খুব দূরে নয়। চলে যাব।

    অভিষেক বলল, আমার বাইকের পিছনে বোসো। আমি তোমায় বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছি।

    স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বাইকে বসতে ভয় পাচ্ছিল জিনিয়া। অভিষেক বলল, ভয় নেই, বোসো।

    জিনিয়ার বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াল অভিষেকের বাইকটা।

    পৃথাকে যতবার স্কুল থেকে ওর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে অভি কোনোদিন পৃথা ওর বাড়ির হদিস দেয়নি। এই প্রথম ওর বাড়িতে এল অভিষেক। যদিও এটা ওর পুরোনো ঠিকানা নয়। শ্বশুরবাড়ি বোধহয়। সুভাষনগরে ওদের বাড়িটা ঠিক কোথায় ছিল, আজও জানা হল না অভিষেকের। এটা ছোট্ট একতলা বাড়ি। টিনের চালের দুটো ঘর। সামনে একটুকরো উঠোন।

    জিনিয়া বলল, স্যার আসুন ভিতরে আসুন। মা ভিতরে আছে।

    অভিষেক বলল, তোমার মাকে আগে জিজ্ঞেস করে এসো, সে যদি যেতে বলে তবেই যাব।

    ওদের কথার মাঝেই পৃথা এসে সামনে দাঁড়াল। চমকে উঠে বলল, তুমি? তুমি কেন এলে এখানে?

    অভিষেক অপলক তাকিয়ে বলল, সহপাঠী ছিলাম। ভালো বন্ধু ছিলাম তবুও কেন বলে উঠতে পারলে না পৃথা? এভাবে নিজেকে বলি দেবার আগে একবার তো বলতে পারতে?

    পৃথা বলল, এসো ভিতরে এসো।

    তুমি এই পৃথাকে দেখো এটা আমি চাইনি অভি। তুমি কেন গোটা ক্লাসের কেউ জানুক সেটাই তো চাইনি।

    একটা চেয়ারে বসে অভিষেক বলল, দরিদ্রতা কি তোমার দোষ পৃথা?

    পৃথা আনমনে বলল, উঁহু, গরিবদের স্বপ্ন দেখা পাপ। স্কুলের ফার্স্ট গার্ল হওয়া পাপ। দামি টিফিন না নিয়ে স্কুলে যাওয়া পাপ। ভালো রেফারেন্স বুক, টিউশন না থাকা পাপ।

    আর সব থেকে বড় পাপ কী জানো? যার বাবা নিয়ম করে মদ খেয়ে এসে তার দুই সন্তানকে আর তাদের জন্মদাত্রীকে সারারাত পিটিয়ে হাতের সুখ করে সেটা প্রকাশ পেয়ে যাওয়া! এত বড় বড় অন্যায় থাকা সত্ত্বেও অক্ষরকে ভালোবাসা সব থেকে বড় ভুল।

    আমার বাবা লরি ড্রাইভার ছিল। রোজগার খারাপ করত না। কিন্তু নেশার টানে কিছুই টিকল না। এমনকি আমিও বিক্রি হয়ে গেলাম। যে বাড়িতে ধার নিয়েছিল, সেই বাড়িতে বাসন মাজার কাজে লাগিয়ে দিল বাবা আমাকে। তারপরেও মাধ্যমিক দেব ভেবেছিলাম জানো অভি। কিন্তু ঠিক ওইসময় বাবা জেলে গেল চুরির দায়ে। তাই আর পরীক্ষাটা দেওয়া হল না। লোকের বাড়িতে কাজ করতে করতে তারাই একদিন বিয়ের ব্যবস্থা করল।

    আমার স্বামী মানুষটা খারাপ ছিল না জানো। দিনরাত পরিশ্রম করত। আমাকেও ভালোবাসতো খুব। কিন্তু আচমকাই একটা অ্যাক্সিডেন্টে তার একখানা পা গেল। তারপর থেকে কাজ করে, কিন্তু সেভাবে পারে না। ইদানিং সেই জন্য একটুতেই রেগে যায় মানুষটা। আমিই রাখী তৈরি করি, সেলাই করি। এসব করে চলে যায়। তবে জিনিয়ার বাবা মানুষটা আমাকে বোঝে জানো।

    অভিষেক বুঝতেই পারেনি সেই স্কুলের অহংকারী তকমা দেওয়া মেয়েটা আসলে নিজের দারিদ্রতাকে ঢেকে রাখতে আপ্রাণ লড়াই চালাচ্ছিল।

    ওরা সবাই ভাবত কেন পৃথা কারোর সঙ্গে মেশে না। আসলে পৃথা নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চাইত।

    হঠাৎই বলে উঠল, অভিষেক কী বুঝছো বলো, আমার মেয়ের পড়াশোনা হবে? জিনিয়াকে আমি বলে দিয়েছি, ক্লাস নাইনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। খবরদার সেকেন্ড বয়ের প্রেমে পড়বি না। বলেই মুচকি হেসে বলল, চা খাবে? দাঁড়াও করে আনছি।

    চা খেতে খেতে অভিষক বলল, আমার স্ত্রী রেলে জব করে। কলকাতার ফ্ল্যাটে থাকে ওরা। আমার ছেলে ক্লাস সিক্সে পড়ে। ওরা কলকাতাতেই থাকে। আমি ছুটিতে যাই, ওরাও আসে।

    পৃথা বলল, তোমার স্ত্রীকে আমি দেখেছি। তোমার পাশে ভারী মানিয়েছে জানো।

    অভিষেক বলল, পৃথা আমার একটা শর্ত আছে। বন্ধু হিসাবে এটুকু দাবি আমি করতেই পারি তোমার কাছে। তোমার নোটস পড়ে মাধ্যমিকে আমি জেলার সেরা হয়েছিলাম। তাই কিছু দায়িত্ব আমারও থেকেই যায়।

    পৃথা হেসে বলল, আমি পরীক্ষাটা দিইনি তাই তুমি জেলার সেরা হতে পেরেছিলে। হিংসুটে কোথাকার। দুবার সেকেন্ড হয়ে গিয়েছিলে বলে কি রাগ!

    অভিষেক হেসে বলল, হ্যাঁ সেটাই। সব বিষয়ে তুমি আমায় হারিয়ে দিয়ে বেরিয়ে যাবে এটা তো হতে পারে না!

    তোমায় আবার পড়তে হবে পৃথা। জিনিয়া আর তুমি একই সঙ্গে পরীক্ষায় বসবে। পৃথা নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমী হাত দুটো দিয়ে মুখটা ঢেকে বলল, এটুকুই বাকি আছে। মেয়ের সঙ্গে পড়তে বসা। তুমি সত্যিই এখনও বড় হলে না। অভি, তুমি না স্কুলের প্রধান শিক্ষক। এই তোমার বুদ্ধি!

    অভিষেক অভিমানী গলায় বলল, সে আমার বুদ্ধি নাই থাকুক। সে আমি একজনের কাছে বোকাই নাহয় রয়ে গেলাম। কিন্তু আমার এ আব্দারটা তোমায় রাখতেই হবে।

    পৃথা বলল, কিন্তু পড়ার সময় পাব কখন? জিনিয়ার বাবা যদি কিছু বলে?

    অভিষেক বলল, তুমি তো ফার্স্ট সেকেন্ড হবে বলে পড়তে না পৃথা। তুমি তো পড়তে অক্ষরকে ভালোবেসে। হেরে যাওয়ার অনেক অজুহাত থাকে জানো তো। সাফল্যের কোনো অজুহাতের প্রয়োজন হয় না। সে শুধুই মাথা তুলে বলে আমি জিতেছি। জিততে চাও না পৃথা?

    পৃথার ঘরের অল্প আলোয় ওর শ্যামলা মুখটা উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। বলল, চাই। নিজের কাছে নিজেকে প্রমাণ করা বাকি রয়ে গেছে। আমি চাই অভি।

    অভিষেক বলল, আজ থেকে তোমার পড়ার সব দায়িত্ব আমার। আর সব নোটস আমি পাঠিয়ে দেব জিনিয়াকে দিয়ে। সন্ধেবেলা ফ্রি কোচিং সেন্টারে যেন তোমায় অনুপস্থিত না দেখি।

    আর তোমায় প্রাইভেটে পরীক্ষা দেবার সব ব্যবস্থা করে দেব আমি। কি রাজি তো?

    পৃথা বলল, ইয়েস স্যার। তখন তোমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা ছিল, এখন জিনিয়ার সঙ্গে করব। জিনিয়া মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, সত্যি মা…তুমি আবার পড়বে? আমার খুব আনন্দ হচ্ছে।

    পৃথা ভরাট গলায় বলল, আমি পারব তো অভি?

    অভিষেক নিশ্চিন্ত গলায় বলল, আমার বিশ্বাস নেতাজী ইন্সটিটিউশনের ফার্স্ট গার্ল সব পারবে।

    স্কুলে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করছি পৃথা। জিনিয়াকে একটা কবিতা শিখিয়ে দিও। ওই যে সেই কবিতাটা…

    পৃথা বলল, ওটা কবিতা ছিল না স্যার। ওটা ছিল প্রবন্ধ। যেটা আমি পাঠ করেছিলাম স্কুলে।

    অভিষেক বলল মনে আছে…

    ‘বন্ধুত্ব ও ভালোবাসায় অনেক তফাত আছে, কিন্তু ঝটকরিয়া সে তফাত ধরা যায় না।

    বন্ধুত্ব আটপৌরে, ভালোবাসা পোশাকি। বন্ধুত্বের আটপৌরে কাপড়ের দুই-এক জায়গায় ছেঁড়া থাকিলেও চলে, ঈষৎ ময়লা হইলেও হানি নাই, হাঁটুর নীচে না পৌঁছিলেও পরিতে বারণ নাই। গায়ে দিয়া আরাম পাইলেই হইল। কিন্তু ভালোবাসার পোশাক একটু ছেঁড়া থাকিবে না, ময়লা হইবে না, পরিপাটি হইবে। বন্ধুত্ব নাড়াচাড়া টানাছেঁড়া তোলাপাড়া সয়, কিন্তু ভালোবাসা তাহা সয় না’

    অভির বলা শেষ হতেই পৃথা বলল, অভি তুমি তখন আমার ভালোবাসা ছিলে বোধহয়। তাই তোমার কাছে নিজের দীনতা দেখাতে লজ্জা পেয়েছি। আজ আর লজ্জা নেই, সংকোচ নেই। বুঝলাম, এতদিনে তুমি আমার বন্ধু হলে।

    আশাকরি তোমার এই বন্ধুত্বের মর্যাদা আমি রাখতে পারব। আমি আবার পড়ব অভি, আবার বইয়ের গন্ধ নেব প্রাণ ভরে।

    অভি বলল, আমি জানি তুমি পারবে। মায়েরা হেরে যায় না জানো। ঠিক জিতে যায়। তুমি তো এখন জিনিয়ার মা। তাই জয় তোমারই হবে।

    পৃথা হাসিমুখে বলল, জিনিয়া আমার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার অবলম্বন।

    অভিষেক ওদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার সময় বলল, সময় কোথা সময় নষ্ট করবার….আমি থাকব তোমার পাশে, তোমাকে যেতে হবে বহুদূর।

    অভিষেক বেরিয়ে গেল বাইক নিয়ে।

    পৃথা মনে মনে বলল,

    ‘আমি ভয় করব না ভয় করব না।

    দু-বেলা মরার আগে মরব না, ভাই, মরব না

    তরীখানা বাইতে গেলে মাঝে মাঝে তুফান মেলে—

    তাই ব’লে হাল ছেড়ে দিয়ে ধরব না, কান্নাকাটি ধরব না।।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআদিবাসী লোককথা : ১ম খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    Next Article মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    অর্পিতা সরকার

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }