Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026

    যমুনা নদীর মুশায়রা – সেলিনা হোসেন

    August 3, 2026

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প262 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উদাসী রাজকুমার – ১.৫

    ৫

    মহারাজ মহাচূড়ামণি রানির ঘরে চুপ করে বসে রইলেন অনেকক্ষণ। তাঁর খুব মন খারাপ। কিন্তু কেন যে তাঁর মন খারাপ হয়েছে, সেটাই তাঁর মনে পড়ছে না।

    রানি তলতাদেবী নানারকম প্রশ্ন করেও কিছু জানতে পারেননি। রাজার মন ভাল করার অনেক চেষ্টা করলেন তিনি, তবু রাজার মুখে হাসি ফুটল না। তিনি রানির মুখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন শুধু।

    এক সময় রানিকে চলে যেতে হল রাজকুমারদের খাবারের ঘরে। খাওয়ার পর মায়ের কাছে দু’-একটা গল্প না শুনলে ওরা শুতে যেতেই চায় না।

    মহারাজ তবু একা বসে রইলেন পালঙ্কের ওপর। তাঁর ঘুমোতে ইচ্ছে করছে না, খেতে ইচ্ছে করছে না, কারও সঙ্গে কথা বলতেও ইচ্ছে করছে না। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে ঝমঝম করে। ঘন-ঘন বিদ্যুৎ চমকে ঘর একবার ঝলসে যাচ্ছে আলোয়, পরের মুহূর্তেই আবার অন্ধকার।

    ঝড়ের ধাক্কায় উদ্যানের কটি বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। সেই গাছে অনেক পাখির বাসা ছিল। সেই পাখিগুলি ভয় পেয়ে অসহায়ভাবে ডাকতে শুরু করেছে। মহারাজ একটুক্ষণ কান পেতে সেই পাখির ডাক শুনলেন, তারপর উঠে এলেন দরজার কাছে।

    সঙ্গে-সঙ্গে দু’জন প্রতিহারী এসে দাঁড়াল দু’পাশে। মহারাজ যখন যেদিকে যান, এরা আগে-আগে ছুটে চলে আর মহারাজের নাম ঘোষণা করে।

    এখন মহারাজ মহাচূড়ামণি বিরক্তভাবে হাত নেড়ে তাদের সরে যেতে বললেন। অমনি তারা অন্ধকারের মধ্যে মিলিয়ে গেল। মহারাজ একাই ঘুরতে ঘুরতে এক সময় এসে হাজির হলেন রাজকুমারদের শয়নকক্ষে।

    এই ঘরটিতে মহারাজ আগে কখনও আসেননি। এই রাজপ্রাসাদে যে কতগুলো ঘর আছে, তা তিনি নিজেই জানেন না।

    মস্ত বড় পালঙ্কের ওপর দুই রাজকুমার শুয়েছে দু’দিকে, মাঝখানে পা ছড়িয়ে বসে আছেন রানি তলতাদেবী। তিনি দু’হাতে দু’জনের মাথায় চাপড় দিতে দিতে তাদের দধীচি মুনির গল্প শোনাচ্ছেন।

    মহাচূড়ামণি নিজেও এই গল্পটা জানেন না। তিনি দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে শুনতে লাগলেন। দেবরাজ ইন্দ্র এসেছেন দধীচি মুনির কাছে তাঁর শরীরের হাড় চাইতে, এইটুকু বলা হতেই ঘুমিয়ে পড়ল দুই রাজকুমার, তলতাদেবীও থামিয়ে দিলেন গল্প।

    মহারাজ জিজ্ঞেস করলেন, “তারপর?”

    তলতাদেবী ফিসফিস করে বললেন, “এখন থাক। পরে আমি আপনাকে বাকিটা শোনাব। রাজকুমাররা জেগে উঠলে অনেক দুষ্টুমি করবে, তখন তাদের ঘুম পাড়ানো আরও কঠিন হবে।”

    ছেলেদের গায়ে চাদর টেনে দিয়ে তলতাদেবী নেমে এলেন পালঙ্ক থেকে। পা টিপে মহারাজের কাছে এসে নিচু গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার কী হয়েছে বলুন তো! আজ সব কিছুই অন্যরকম দেখছি। রাজকুমারদের ঘরে তো আপনাকে কখনও আসতে দেখিনি!”

    একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মহারাজ বললেন, “হ্যাঁ, আমার আজ কী যেন হয়েছে! আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।”

    রানি বললেন, “তা হলে আমি এক্ষুনি রাজবৈদ্যকে ডাকছি। তিনি এসে আপনাকে ওষুধ দেবেন।”

    মহারাজ বললেন, “না, না, ওষুধ খাবার দরকার নেই। ঘুমোলেই ঠিক হয়ে যাবে। আচ্ছা রানি, আজ আমি এই রাজকুমারদের ঘরে শুতে পারি না?”

    রানি তলতাদেবী দারুণ অবাক হয়ে বললেন, “আপনি এই ঘরে শোবেন? তাতে আপনার ঘুম হবে? আপনার একার জন্যই এর চেয়ে বড় পালঙ্ক লাগে!”

    “আজ এখানেই শুতে ইচ্ছে করছে।”

    “তা হলে রাজকুমারদের জাগিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছি আমার ঘরে।”

    “ওদের জাগাবে কেন? আমি রাজকুমারদের পাশেই শোবো ঠিক করেছি।”

    “মহারাজ, আপনার কষ্ট হবে। এই পালঙ্কে সকলের জায়গা হবে না।”

    “হোক একটু কষ্ট। রানি, আমি শুনেছি, সাধারণ প্রজারা স্ত্রী আর পুত্র-কন্যাদের নিয়ে এক ঘরে এক বিছানায় শোয়। আমি কোনওদিন আমার ছেলেদের সঙ্গে শুইনি। একদিন দেখিই না কেমন লাগে!”

    “মহারাজের যেমন ইচ্ছে! আমি তা হলে নিজের ঘরে যাই?” মহাচূড়ামণি রানিকে বাধা দিয়ে বললেন, “না, না, তুমি যাবে কেন? তোমাকেও এখানেই থাকতে হবে আজ।”

    মহারাজের যখন একটা খেয়াল চেপেছে, তখন তা মেনে নিতেই হবে। ঘুমন্ত রাজকুমারদের এক পাশে শুলেন মহাচূড়ামণি, অন্য পাশে তলতাদেবী। জায়গা এতই কম যে মহারাজকে কাত হয়ে শুতে হল। তবু তিনি বললেন, “আঃ! বেশ ভাল লাগছে।”

    রাজকুমারদের ঘুমের ব্যাঘাত হবে বলে তলতাদেবী কোনও কথা বললেন না, তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন একটু পরেই।

    কিছুক্ষণ পরেই তাঁর শরীরে একটা ঝাঁকুনি লাগল। মহাচূড়ামণি তাঁকে ঠেলে ঠেলে ডাকছেন।

    মহাচূড়ামণি বললেন, “রানি, ওঠো, ওঠো, আমার মনে পড়েছে। মনে পড়ে গেছে! তোমার সঙ্গে আমার জরুরি কথা আছে!”

    রানি তাড়াতাড়ি নেমে পড়লেন পালঙ্ক থেকে। অনুনয় করে বললেন, “মহারাজ, যদি কিছু বলতে চান, ঘরের বাইরে চলুন। রাজকুমারদের জাগাবেন না।”

    দু’জনেই একটু দূরে অন্য একটা কক্ষে চলে এলেন। এটা মহারাজের নিজস্ব অস্ত্র-কক্ষ। মহারাজ ছেলেবেলা থেকে যতরকম অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, সেইসব ঢাল-তলোয়ার-গদা-তীর-ধনুক দেওয়ালে সাজানো রয়েছে।

    বৃষ্টি এখনও থামেনি। বহুদিন অনাবৃষ্টির পর আজ আকাশ একেবারে দরাজ ভাবে বৃষ্টি ঢেলে দিচ্ছে। বাতাস এখন বেশ ঠাণ্ডা।

    জানলার ধারে এসে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন মহাচূড়ামণি।

    তলতাদেবী কাছে এসে মৃদু গলায় বললেন, “মহারাজ, আমাকে ডেকে তুললেন, কই কিছু বলছেন না তো!”

    মহাচূড়ামণি মুখ ফেরালেন। তাঁর দু’চোখে জল। শিশুর মতন অভিমান আর কান্না-ভরা গলায় বললেন, “রানি, আমি তোমাকে এত ভালবাসি; তুমি আমার পুত্রদের জননী। তবু তুমি আমাকে খুন করতে চাও?”

    রানি তলতাদেবী যেন আকাশ থেকে পড়লেন। বিস্ময়ে তাঁর সুন্দর পাখির ডানার মতন ভুরু দুটি যেন কপাল ছাড়িয়ে যেতে চাইল। হাহাকারের সুরে তিনি বললেন, “এ কী কথা বলছেন মহারাজ? এ কী সাঙ্ঘাতিক অলুক্ষণে কথা!”

    মহাচূড়ামণি চোখ মুছতে মুছতে বললেন, “আমাকে খুন করলে কি তুমি সুখী হবে? একটা বড় গাছ পড়ে গেলে কি পাখিরা সুখী হয়?”

    রানি তলতাদেবী এবার মহারাজের পায়ের কাছে বসে পড়ে আকুলভাবে বললেন, “মহারাজ, এমন পাপ-কথা আর একবারও উচ্চারণ করবেন না। আপনি শুধু বড় গাছ কেন, আপনি পর্বত। আপনি এ রাজ্যের সকলকে আশ্রয় দিয়েছেন। পর্বতকে কি কেউ কখনও সরাবার কথা চিন্তা করতে পারে? এমন অদ্ভুত চিন্তা আপনার মাথায় এল কী করে, মহারাজ?”

    মহাচূড়ামণি দু’হাত দিয়ে তলতাদেবীকে তুলে ধরে বললেন, “আমি বোকা, আমার তেমন বুদ্ধি নেই, আর তোমার খুব বুদ্ধি! আমাকে সরিয়ে দিয়ে তুমি এই রাজ্যের ভার নিতে চাও?”

    তলতাদেবী বললেন, “মহারাজ, আমি এমন কথা কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি!” মহাচূড়ামণি বললেন, “তোমার বিয়ের আগে তুমি পুরুষের মতন পোশাক পরতে। তুমি তলোয়ার চালনা শিখেছিলে। তোমার পিতা ভল্লদেব তোমাকে তাঁর সিংহাসনে বসাতে চেয়েছিলেন, তাই না? তুমি সেইভাবে তৈরি হচ্ছিলে।”

    তলতাদেবী বললেন, “আমার তখন কোনও ভাই ছিল না। সেইজন্যই আমার পিতা আমাকে তাঁর উত্তরাধিকারিণী হিসেবে তৈরি করছিলেন। তাতে আমার ইচ্ছে-অনিচ্ছের কোনও প্রশ্ন ছিল না। সে রাজ্য তো এখন আমাদেরই রাজ্যের অধীন। আমরাই সেই সিংহাসন পেয়েছি। সেজন্য তো আর কোনও ক্ষোভ থাকার কথা নয়!”

    মহাচূড়ামণি বললেন, “সিংহাসনে বসেছি আমি, তুমি তো বসোনি! তোমার সিংহাসনের ওপরে এখনও লোভ আছে।”

    হঠাৎ দেওয়াল থেকে দুটি তলোয়ার খুলে নিয়ে মহাচূড়ামণি তার একটি ছুঁড়ে দিলেন তলতাদেবীর দিকে। তাঁর চোখে এখন কান্না নেই। কঠোর স্বরে তিনি বললেন, “তুমি কেমন অস্ত্র চালনা শিখেছিলে, পরীক্ষা করে দেখি তো! আমার সঙ্গে পারবে?”

    তলতাদেবী দারুণ করুণস্বরে বললেন, “আমি তেমন কিছুই শিখিনি, মহারাজ! আপনার সঙ্গে আমি প্রতিযোগিতায় নামতে পারি? আপনি সিংহের মতন শক্তিশালী ও তেজস্বী আর আমি এক শশক!”

    “কথা শুনতে চাই না, অস্ত্র ধরো!”

    “মহারাজ, শান্ত হয়ে, দয়া করে আমার কথা শুনুন। আমি আপনার সঙ্গে লড়াই করব, এও কি সম্ভব?”

    “আমি তোমার ওপর আঘাত হানব। যদি প্রাণে বাঁচতে চাও তো…” মহাচূড়ামণি তরবারি চালিয়ে দিলেন রানি তলতাদেবীর মাথা লক্ষ্য করে। রানি নিতান্ত আত্মরক্ষার জন্যই অস্ত্র তুললেন। দুই তরবারির সংঘর্ষে ঝনাৎ করে শব্দ হল!

    মহাচূড়ামণি একটু পিছিয়ে এসে অস্ত্র টেনে নিয়ে আবার আঘাত করতে গেলেন, রানি তলতাদেবী বিদ্যুৎগতিতে এক পাশে সরে গিয়ে মহারাজের অস্ত্র নিজের অস্ত্রে চেপে ধরলেন।

    মহাচূড়ামণি বিস্ফারিত চক্ষে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইলেন রানির দিকে। তারপর চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন, “হুঁ, ভালই অস্ত্র শিক্ষা করেছ দেখছি। বড়-বড় বীরপুরুষরাও আমার আঘাত একবারের বেশি সহ্য করতে পারে না। ঠিক আছে, এবার হোক তবে জীবন-মরণ খেলা। দেখি কে হারে আর কে জেতে। তোমার যদি ক্ষমতা থাকে, এখনই আমাকে মেরে সিংহাসন দখল করে নাও!

    রানি তলতাদেবী তাঁর হাতের তলোয়ারটা দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। মহাচূড়ামণি বললেন, “এ কী?”

    রানি বললেন, “আপনি আমাকে মারুন, মহারাজ। আমি আর অস্ত্র ছোঁব না কখনও।”

    মহাচূড়ামণি তলোয়ার তুলে বললেন, “আমি তোমায় সত্যি মারব কিন্তু!”

    তলতাদেবী এক পা এগিয়ে এসে বললেন, “আমি মরতেই চাই। আপনি আমাকে মিথ্যে সন্দেহ করেছেন, এর পর আর আমার বাঁচার একটুও ইচ্ছে নেই। শুধু এইটুকু শুনে রাখুন, মহারাজ, আপনি আমার স্বামী, আমার প্রভু, আপনাকে সরিয়ে দেবার মতন পাপ চিন্তা কোনওদিন আমার মাথায় আসেনি। সিংহাসনের প্রতি কখনও আমি লোভ করিনি।”

    মহাচূড়ামণি বললেন, “কেউ অস্ত্র ত্যাগ করলে তাকে আমি মারতে পারি না। তাকে আমি বন্দী করি।”

    তলতাদেবী বললেন, “আপনি আমাকে বন্দী করুন, কিংবা শূলে দিন, যা খুশি করুন। আমি আর এক মুহূর্তও বেঁচে থাকতে চাই না!”

    মহাচূড়ামণি বললেন, “তুমি সত্যিই সিংহাসন চাওনি?”

    তলতাদেবী বললেন, “এই কথা বারবার শুনতেও আমার শরীর ঘৃণায় জর্জরিত হচ্ছে। আপনি আমাকে মারতে দ্বিধা করছেন, আমি নিজেই তবে আত্মঘাতিনী হব!”

    তলতাদেবী মাটিতে বসে পড়ে তরবারিটি তুলে নিজের গলায় কোপ মারতে গেলেন।

    এমন সময় দরজার কাছ থেকে রাজকুমার দৃঢ় ডেকে উঠল, “মা!” হঠাৎ ঘুম ভেঙে কিছু শব্দ শুনে রাজকুমার দৃঢ় উঠে এসেছে। রানি তলতাদেবীকে ওই অবস্থায় দেখে সে আর্তনাদ করে উঠল। তাতেই হাত কেঁপে উঠল তলতাদেবীর।

    রাজা মহাচূড়ামণি হা-হা করে অট্টহাস্য করে উঠলেন।

    তারপর নিজের তরবারিটি মাটিতে ফেলে দিয়ে এক লাফে এগিয়ে এসে তলতাদেবীর হাত থেকে তরবারিটি কেড়ে নিলেন।

    পুত্রের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আরে, বড়কুমারের ঘুম ভেঙে গেল! আমরা খুব চ্যাঁচামেচি করছিলাম বুঝি! আমরা আসলে খেলা করছিলাম। জানিস দৃঢ়, তোর মা তলোয়ার খেলায় আমার কাছে হেরে গেছে। তাই ওরকমভাবে আমাকে ভয় দেখাচ্ছিল! ওঠো, রানি, ওঠো!”

    দৃঢ় ছুটে এসে মাকে জড়িয়ে ধরল। তলতাদেবী কান্না সামলাতে পারছেন না। কান্নায় তাঁর শরীর কেঁপে-কেঁপে উঠছে।

    মহাচূড়ামণি হাঁক দিয়ে বললেন, “ওরে কে আছিস?”

    সঙ্গে-সঙ্গে একজন দাসী এসে দাঁড়াল দরজার সামনে। মহাচূড়ামণি তাকে আদেশ দিলেন, “যাও, বড়কুমারকে আবার বিছানায় নিয়ে যাও!”

    দাসী বড়কুমার দৃঢ়কে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যেতেই মহাচূড়ামণি এগিয়ে এসে রানি তলতাদেবীর এক হাত চেপে ধরে আবেগের সঙ্গে বললেন, “রানি, রানি, সত্যিই আমি মূর্খ! আমার মাথায় কিছুই নেই : না হলে, তোমার মতন পুণ্যবতী, গুণবতীকে আমি সন্দেহ করি! ছি ছি ছি। আত্মহত্যা করা উচিত তো আমারই।”

    মহাচূড়ামণির মুখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে তলতাদেবী কাঁপা-কাঁপা গলায় বললেন, “মহারাজ, একবার যখন সন্দেহের কাঁটা আপনার মনে বিঁধেছে, তখন তা আর কিছুতেই যাবে না। আমাকে বিদায় দিন, মহারাজ। আমি এ-রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে চাই। আপনি আমার পুত্র দুটিকে দেখবেন।”

    মহাচূড়ামণি বললেন, “আমাকে ক্ষমা করো, রানি! বিশ্বাস করো, আমি অন্তর থেকে তোমাকে সত্যিই সন্দেহ করিনি। তুমি চলে গেলে আমার এই রাজ্য চলবে কী করে? তোমার বুদ্ধিতেই তো আমি চলি! শুধু বাহুবল দিয়ে কি আর রাজ্য শাসন করা যায়!”

    তারপর তিনি মহাক্রোধে চিৎকার করে উঠলেন, “প্রতিহারী! প্রতিহারী!”

    এত রাত্রেও চোখের নিমেষে কয়েকজন প্রতিহারী এসে উপস্থিত হল। তারা আড়াল থেকে সব শুনছিল নিশ্চয়ই। মহারাজ দু’বার ডেকেছেন বলে ওদের মধ্য থেকে ঠিক দু’জন এগিয়ে এল সামনে।

    মহারাজ বললেন, ‘এক্ষুনি মহামন্ত্রী জীবককে এখানে ধরে আন। সে যে অবস্থাতেই থাকুক, তাকে তোরা সেই অবস্থায় বহন করে আনবি। একটুও বিলম্ব যেন না হয়!”

    প্রতিহারীরা ছুটে বেরিয়ে যাবার পর রানি তলতাদেবী চোখ মুছে পরিচ্ছন্ন হলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, “এত রাতে মহামন্ত্রীকে ধরে আনতে বললেন কেন, মহারাজ? তাও এই অন্তঃপুরে?”

    মহাচূড়ামণি বললেন, “ওই শয়তান জীবকটাই আমার কানে বিষ ঢেলেছে। সে-ই আমাকে বুঝিয়েছে যে সিংহাসনের প্রতি তুমি লোভী। আসল লোভটা যে কার, এবার আমি বুঝেছি!”

    তলতাদেবী বললেন, “মহামন্ত্রী এরকম একটা কথা বলতেই আপনি বিশ্বাস করে ফেললেন? আমাকে কি আপনি চেনেন না? আমার স্বভাব-চরিত্র আপনি বোঝেন না?”

    মহাচূড়ামণি বললেন, “ওই তো আমার দোষ। কোনও কিছুই বিচার-বুদ্ধি দিয়ে বোঝার ধৈর্য রাখতে পারি না! ওই জীবকটা আমাকে বলল কিনা, আমি যাদের শাস্তি দিই, তুমি আবার তাদের ক্ষমা করে দাও। তার মানে, তুমি আমার ক্ষমতা মানো না! তুমি নিজের ক্ষমতা বাড়াতে চাও!”

    তলতাদেবী বললেন, “অল্প দোষে আপনি অনেককে বেশি শাস্তি দেন, তাই আমি তাদের ক্ষমা করতে বলি। মানুষকে ক্ষমা করা কি দোষের?”

    মহাচূড়ামণি বললেন, “ও আরও বলল, রাজার থেকে রানির বেশি বুদ্ধি থাকা ভাল নয়। রানির একে তো বুদ্ধি বেশি, তার ওপর সিংহাসনের প্রতি তাঁর ছোটবেলা থেকেই লোভ!”

    তলতাদেবী বললেন, “বুদ্ধি থাকলেই বুঝি লোভ থাকতে হবে? বড়-বড় মুনি-ঋষিরা কি বুদ্ধিমান নন? আর আপনি এত বড় যোদ্ধা, আপনার বুদ্ধি কম কে বলল? বুদ্ধি না থাকলে কেউ বীর হতে পারে?”

    একটু পরেই প্রতিহারীরা মহামন্ত্রী জীবককে টানতে টানতে নিয়ে এল সেখানে। মহাচূড়ামণি প্রথমেই তাঁকে একটি পেল্লায় লাথি কষালেন।

    সেই লাথি খেয়ে চিত হয়ে পড়ে গেলেন মহামন্ত্রী।

    মহাচূড়ামণি তাঁর বুকের ওপর একটা পা রেখে বললেন, “পাষণ্ড, শয়তান! তুই মহারানির বিরুদ্ধে আমাকে লাগাবার চেষ্টা করেছিলি!”

    জীবক বলল, “রক্ষা করুন, মহারাজ। আমি তো সেরকম কথা আপনাকে কখনও বলিনি! মহারানি কত গুণবতী, কত তাঁর দয়া!”

    মহাচূড়ামণি গর্জন করে বললেন, “দুরাচার, পামর, নরকের কীট! আবার মিথ্যা কথা বলছিস! আমি অনেক কথা ভুলে যাই বলে ভেবেছিস, তোর এই শয়তানি ভুলব? কাল সকালেই তোকে প্রজাদের চোখের সামনে শূলে চড়াব! লোকে দেখবে বিশ্বাসঘাতকের কী শাস্তি দিই আমি!”

    তারপর তিনি পেছন ফিরে রানির দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমি কিছুতেই একে দয়া করার জন্য অনুরোধ করতে পারবে না! তুমি অনুরোধ করলেও এই পাষণ্ডটাকে আমি ক্ষমা করব না!”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleযমুনা নদীর মুশায়রা – সেলিনা হোসেন

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নিঃসঙ্গ-সম্রাট – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 27, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    Our Picks

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026

    যমুনা নদীর মুশায়রা – সেলিনা হোসেন

    August 3, 2026

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }