Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026

    যমুনা নদীর মুশায়রা – সেলিনা হোসেন

    August 3, 2026

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প262 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উদাসী রাজকুমার – ২.৮

    ৮

    এদিকে রাজকুমার দৃঢ় এখন আর রাজকুমার নেই। বছরের পর বছর সে যখন কারাগারে ছিল, তখনও সে নিজেকে রাজকুমার বলেই জানত। এখন তার কিছুই মনে পড়ে না। নিজের মায়ের কথা, নিজের রাজ্যের কথাও মনে পড়ে না।

    লিচ্ছবি রাজ্যের এক দ্বীপে, মোড়লের বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছে দৃঢ়। মোড়লের মস্ত বড় সংসার, প্রায় তিরিশ-চল্লিশজন লোক থাকে। অনেকখানি জায়গা জুড়ে পরপর দশ-বারোটা মাটির ঘর, আর প্রচুর গাছপালা।

    দৃঢ়র শরীর এখনও অসুস্থ, সারাদিন একটা মাটির ঘরে সে শুয়ে থাকে। দুটো হাত ঢাকা দিয়ে রাখে চোখের ওপর। এখনও সে আলো সহ্য করতে পারে না। দুটো হাতেও তেমন জোর নেই। মোড়লের এক মেয়ে তাকে দু’বেলা খাবার দিয়ে যায়। দৃঢ় শুধু খায় আর ঘুমোয়। এ-বাড়ির মানুষ যখন তাকে জিজ্ঞেস করে, ওগো, তুমি কে? তোমার বাড়ি কোথায়? কোন্ দেশ থেকে এসেছ? দৃঢ় চুপ করে থাকে।

    দিনের পর দিন যায়। আস্তে-আস্তে দৃঢ় সুস্থ হয়ে উঠল। হাত দুটোতে জোর ফিরে এল, চোখেও রোদ পড়লে কষ্ট হয় না। এখন আর সে সারাদিন ঘরে থাকে না, ঘুম থেকে উঠে একটা গাছতলায় গিয়ে বসে। বাচ্চা ছেলেরা দূরে দাঁড়িয়ে কৌতূহলের সঙ্গে তাকে দেখে। এই রহস্যময় মানুষটি কোনও কথা বলে না।

    শরীর সুস্থ হয়ে ওঠার সময় রাজকুমার দৃঢ় নিজেকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে লোকে তার নাম-ধাম জিজ্ঞেস করে, সে উত্তর দিতে পারে না কেন? নিশ্চয়ই তার একটা নাম ছিল, কোথাও একটা বাড়ি ছিল। কী করে সে সব ভুলে গেল? তার দুই বাহুতে দুটো সোনার বালা আছে, কিন্তু তাতে কিছু লেখা নেই।

    বেশি চিন্তা করতে গেলে তার মাথা ঝিমঝিম করে।

    মোড়লের যে-মেয়েটি তাকে খাবার দিতে আসে, তার বয়েস দশ-এগারো বছর। তার নাম লোপা। তার মাথা ভর্তি কোঁকড়া-কোঁকড়া চুল, গায়ের রং কালো, মুখখানাতে দুষ্টু-দুষ্টু ভাব। খাবার দেবার সময় রোজই সে বলে, “এই যে বোবা মানুষ, খাও!”

    একদিন রাজকুমার দৃঢ় তাকে জিজ্ঞেস করল, “তোমার নাম কী?”

    “অমনি লোপা হাততালি দিয়ে চেঁচিয়ে উঠল, “কথা বলেছে! কথা বলেছে! কথা বলেছে।” সেইরকম চ্যাঁচাতে-চ্যাঁচাতে সে চলে গেল বাড়ির মধ্যে। ডেকে আনল তার বাবাকে।

    মোড়লের গায়ের রং কালো কুচকুচে, লম্বা-চওড়া চেহারা, মাথার চুল সাদা। সে এসে বলল, “ওগো বিদেশী, তুমি কথা বলছ বলে আমরা বড় খুশি হয়েছি! তুমি কোন্ দেশের মানুষ? আমাদের এদেশে কি তোমার চেনা কেউ আছে?”

    দৃঢ় লজ্জার সঙ্গে বলল, “আমি কিছুই মনে করতে পারছি না। আমি এখানে এলাম কী করে?”

    মোড়ল বলল, “তুমি নদীতে ভাসতে ভাসতে এসেছ। তোমার মাথায় চোট লেগেছিল। কতদূর থেকে তুমি এসেছ, তাও আমরা জানি না।”

    দৃঢ় বলল, “আমিও জানি না। এটা তোমাদের বাড়ি? আমাকে এখানে থাকতে দিয়েছ কেন?”

    মোড়ল জিভ কেটে বলল, “তুমি আমাদের অতিথি! তুমি এখানে যতদিন খুশি থাকতে পারো। অতিথির সেবা করলে পুণ্য হয়।”

    দৃঢ় বলল, “কিন্তু আমি কেন থাকব? কিংবা কোথায়ই বা যাব?” মোড়ল বলল, “যদি অন্য কোথাও না যেতে চাও, তা হলে আমাদের বাড়িতেই থাকো।”

    দৃঢ় বলল, “আমি দেখি যে এ-বাড়ির সকলেই কিছু-না-কিছু কাজ করে। আমারও তো কোনও কাজ করা উচিত। কিন্তু আমি কী কাজ জানি? কিছুই তো জানি না।”

    মোড়ল বলল, “যদি কাজ করতে ইচ্ছে হয়, আস্তে-আস্তে শিখে নেবে। আমরা শিখিয়ে দেব।”

    দৃঢ় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার বুকের মধ্যে একটা কষ্ট হচ্ছে। কিছুই না-জানার কষ্ট বড় মর্মান্তিক।

    আরও কেটে গেল কয়েকটা দিন। লোপা নামে মেয়েটির সঙ্গে তার ভাব হয়েছে। দৃঢ় নিজের নামও জানে না শুনে লোপার কী হাসি! এমন মানুষ সে কখনও দেখেনি। তারপর সে নিজেই দৃঢ়র একটা নাম দিয়েছে। দৃঢ়কে সে ‘কুমার’ বলে ডাকে।

    মোড়লের এক ভাই মাটি দিয়ে মূর্তি গড়ে। দৃঢ় তার পাশে বসে-বসে দেখে। নিজেও মূর্তি গড়ার চেষ্টা করে। আস্তে-আস্তে সে শিখে গেল অনেকটা। একদিন হঠাৎ ডাকাতেরা আক্রমণ করল সেই মোড়লের বাড়ি। নৌকো করে এল ডাকাতের দল, তাদের হাতে তলোয়ার, বর্শা আর জ্বলন্ত মশাল। হইহই করে ধেয়ে এল এই বাড়ির দিকে।

    ডাকাতদের দেখে মোড়লের বাড়ির লোকজন ভয়ে পালাতে লাগল। কয়েকজন বাধা দিতে গেলেও প্রচণ্ড মার খেল ডাকাতদের হাতে।

    দৃঢ় ঘুমিয়ে ছিল, তাকে ডাকবার কথা কারুর মনে আসেনি। ঘুম ভেঙে সে দেখল, তার দরজার কাছে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে।

    দৃঢ় জিজ্ঞেস করল, “কে? কী চাই?”

    ডাকাতটা বলল, “তুই কে রে ব্যাটা? বাড়ির জামাই নাকি? তোর হাতে দেখছি সোনার বালা। দে, খুলে দে!”

    দৃঢ় বলল, “তুমি আমার বালা চাও? কেন, বালা নিয়ে কী করবে?”

    ডাকাতটা বলল, “ভাল চাস তো শিগগির দে! নইলে তোর মুণ্ডু কাটব!”

    দৃঢ় বলল, “তোমাকে আমার ভাল লাগছে না! তুমি যাও এখান থেকে। আমি এখন ঘুমোব।”

    ডাকাতটা অট্টহাস্য করে ঢুকে এল ঘরের মধ্যে। তারপর খপ্ করে দৃঢ়র মাথার চুল চেপে ধরে টেনে তুলতে গেল।

    যন্ত্রণার চোটে আ-আ শব্দ করে উঠল। তারপর তার রাগ হল। রাগের চোটে ডাকাতটাকে একটা ধাক্কা দিল সে। ডাকাতটা ছিটকে পড়ে গেল।

    পরের মুহূর্তেই ডাকাতটা তাকে হত্যা করার জন্য তলোয়ার তুলল।

    দৃঢ় সেদিকে চেয়ে বলল, “তুমি আমাকে মারতে চাও?”

    দৃঢ় যে চৌকিটায় শোয়, তার একটা পায়া ঢকঢক করে। একদিন ভেঙে পড়েছিল, আবার জোড়া লাগানো হয়েছে কোনওরকমে। চোখের নিমেষে দৃঢ় সেই খাটের পায়াটা তুলে নিয়ে বাধা দিল ডাকাতটাকে।

    নিজের নাম ভুলে গেলেও দৃঢ় যুদ্ধবিদ্যা ভোলেনি। রাজকুমাররা খুব ভাল ভাল গুরুর কাছে অস্ত্রশিক্ষা করে, সাধারণ একটা ডাকাত তার সঙ্গে পারবে কেন? একটুক্ষণের মধ্যেই ডাকাতটা কাবু হয়ে গেল, মাথায় একটা চোট লাগার ফলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল সে।

    দৃঢ় তার হাত থেকে তলোয়ারটা খুলে নিল।

    বাড়ির মধ্যে দারুণ চ্যাঁচামেচি হচ্ছে, মেয়েরা ভয় পেয়ে কাঁদছে। দৃঢ় তলোয়ারটা হাতে নিয়ে বেরিয়ে এল বাইরে।

    ডাকাতদের যে সর্দার, তার ভয়ঙ্কর চেহারা। মাথায় ঝাঁকড়া-ঝাঁকড়া চুল, কপালে মস্ত একটা সিঁদুরের টিপ, দু’ কানের ফুটোয় দুটো ফুল গোঁজা। সেই সদার লোপার হাত ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, আর লোপা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।

    দৃঢ় বলল, “এই, ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? ছেড়ে দাও!”

    ডাকাতের সর্দার বলল, “এটা আবার কে? আয়, তোকে আগে সাবাড় করি।”

    দৃঢ় কখনও কারও বাড়ির ডাকাতি দেখেইনি। ডাকাতদের ব্যাপারটাই সে জানে না। সে মনে করল, এই লোকগুলো খারাপ।

    ডাকাত সর্দারের সঙ্গে আরম্ভ হয়ে গেল দৃঢ়র দ্বন্দ্বযুদ্ধ!

    এই লোকটির সাহস আর শক্তি দুটোই প্রচণ্ড। দৃঢ় তাকে সহজে হারাতে পারল না। চলতে লাগল লড়াই। অন্য ডাকাতরা সেখানে ছুটে এলেও সর্দারকে সাহায্য করতে পারল না। লড়াইটা হচ্ছে একটা দেওয়ালের কোণ ঘেঁষে।

    এক সময় দৃঢ়র তলোয়ারের আঘাতে ডাকাতের সর্দারের হাত থেকে তলোয়ারটা ছিটকে পড়ে গেল। দৃঢ় তার অস্ত্রটা সর্দারের গলায় ঠেকিয়ে বলল, “তোমার সঙ্গীদের থামতে বলো। নইলে কিন্তু তুমি বাঁচবে না।”

    সর্দারের ওই অবস্থা দেখে বাকি ডাকাতরা ছুটে পালাল। তাড়াহুড়ো করে নৌকোয় উঠতে গিয়ে কয়েকজন পড়ে গেল জলে। এর মধ্যে গ্রামের অন্য লোকরাও তেড়ে এল। ডাকাতদের সর্দার আর তার দু’জন সঙ্গী বন্দী হল গ্রামের লোকদের কাছে।

    মোড়ল ও তার বাড়ির লোকেরা ফিরে এসে ধন্য ধন্য করতে লাগল দৃঢ়কে। তার জন্যই বেঁচে গেল সব কিছু। এর আগে ডাকাতদের বিরুদ্ধে এমন সাহসের সঙ্গে লড়াই করতে আর কাউকে দেখা যায়নি। এই বিদেশী মস্ত বড় বীর।

    দৃঢ় এইসব প্রশংসার কথা গায়েই মাখল না। তার অসময়ে ঘুম ভেঙেছিল, সে আবার ঘুমোতে চলে গেল।

    পরদিন থেকে দৃঢ়র খুব খাতির বেড়ে গেল সেই গ্রামে। সবাই তাকে নেমন্তন্ন করে খাওয়াতে চায়। মোড়ল তাকে অন্য কোনও বাড়িতে যেতে দিতে চায় না। তার ভয়, দৃঢ় তাদের বাড়ি ছেড়ে যদি চলে যায়! তার খুব ইচ্ছে, তার মেয়ের সঙ্গে দৃঢ়র বিয়ে দেওয়ার।

    কয়েকদিন পর দেশের রাজার কাছ থেকে দূত এল সেই মোড়লের কাছে। দূত তার সঙ্গে কয়েকজন সৈন্য ও একটা রথ নিয়ে এসেছে। একদল সাঙ্ঘাতিক ডাকাতকে একজন অচেনা বিদেশী লড়াই করে হারিয়ে দিয়েছে, এই খবর পৌঁছেছে রাজার কানে। তিনি এই লোকটিকে দেখতে চান।

    রাজার আদেশ অমান্য করার উপায় নেই। দৃঢ় যেতে চায় না। মোড়লদের বাড়িটা আর এখানকার লোকদের সঙ্গে তার চেনা হয়ে গেছে, এ-জায়গা ছেড়ে অন্য কোথাও যাবার ইচ্ছে নেই তার। কিন্তু মোড়ল বুঝল যে, দৃঢ় না গেলে রাজা তার ওপরেই রাগবেন। সে অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে দৃঢ়কে রাজি করাল। দৃঢ় উঠে বসল রথে।

    এ-দেশের রাজা খুব বৃদ্ধ। তাঁর চার ছেলে। এদের মধ্যে কে যে পরে সিংহাসনে বসবে তা এখনও ঠিক হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী বড় ছেলেরই যুবরাজ হওয়ার কথা, কিন্তু রাজা বেশি ভালবাসেন তাঁর ছোট ছেলেকে। রাজকুমারদের মধ্যেও ভাব নেই, তারা সব সময় ঝগড়া করে।

    দৃঢ়কে দেখে বৃদ্ধ রাজা চমকে উঠলেন।

    দৃঢ়র পোশাক-পরিচ্ছদ এখন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। মুখভর্তি জঙ্গলের মতন দাড়ি-গোঁফ, খালি পা। তাকে দেখে রাজকুমার বলে চেনার কোনও উপায় নেই। শুধু দুই বাহুতে দুটি সোনার বালা। দুই কানে দুই কুণ্ডল। তার চেহারা দেখলেই বোঝা যায়, সে সাধারণ ঘরের ছেলে নয়।

    সে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে রাজার চোখের দিকে চেয়ে রইল, সেই দাঁড়াবার ভঙ্গি দেখলেই মনে হয়, ছোটবেলা থেকে সে কারও সামনে মাথা নিচু করেনি। রাজকুমাররাই এমনভাবে দাঁড়ায়।

    রাজা জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি বিদেশী? তোমার নাম কী?”

    লোপা তাকে যে নামে ডাকে, দৃঢ় সেই নামটাই বলল। সে বলল, “আমার নাম কুমার। আমি এসেছি অনেক দূর দেশ থেকে।”

    রাজা বললেন, “আমি তোমার বীরত্বের কথা শুনেছি। গ্রামের লোক ডাকাত দেখলেই পালায়। তুমি একা রুখে দাঁড়িয়েছ। তোমাকে আমি একটা কাজ দিতে চাই। কিছুদিন আগে এ-রাজ্যের কোটাল মারা গেছে। তুমি নগর-কোটাল হবে?”

    দৃঢ় কিছু উত্তর দেবার আগেই বড় রাজকুমার বলল, “বাবা, আপনি আগেই একে কাজ দিচ্ছেন? এ-লোকটা সত্যি-সত্যি বীর কি না, তা আগে পরীক্ষা করে দেখা হবে না? ও আমাদের সামনে লড়াই করে দেখাক।”

    রাজা বললেন, “ঠিক। একবার ওর বীরত্বটা পরীক্ষা করে দেখা দরকার। কার সঙ্গে ও লড়াই করবে?”

    বড় রাজকুমার বলল, “আমাদের ছোটকুমার ভাল লড়াই শিখেছে। তার সঙ্গেই যুদ্ধ করুক। তাকে যদি হারাতে পারে, তখন না হয় আমরা দেখব!”

    ছোট রাজকুমার সঙ্গে-সঙ্গে তলোয়ার নিয়ে উঠে দাঁড়াতেই দৃঢ় শান্তভাবে বলল, “আমি কোটাল হতে চাই না। আমি সেই গ্রামে মোড়লের বাড়িতে ফিরে যেতে চাই। ওঁর সঙ্গে আমি লড়াইও করব না!”

    বড় রাজকুমার ধমক দিয়ে বলল, “চুপ করো। রাজার মুখের ওপর কথা বলতে নেই। রাজা তোমাকে লড়াই করতে বলেছেন, এখন লড়ো!”

    দৃঢ় বলল, “কেন এর সঙ্গে লড়াই করব? ইনি তো আমার কোনও ক্ষতি করেননি!”

    বড় রাজকুমারের ইচ্ছে, এই অচেনা লোকটা যদি ছোট রাজকুমারের সঙ্গে লড়াই করে তাকে মেরে ফেলে, তা হলে খুব ভাল হয়। তার পথের কাঁটা দূর হয়ে যায়!

    বড় রাজকুমার বলল, “রাজার আদেশ অগ্রাহ্য করলে কী শাস্তি হয় জানো? তার শাস্তি মৃত্যু। তুমি লড়াই না করলে তোমায় শূলে চড়ানো হবে। সেই ভাবে মরতে চাও, না লড়াই করতে চাও?”

    ছোট রাজকুমার বলল, “এ-লোকটাকে তো মনে হচ্ছে ভীতু। এ কী করে কোটালের কাজ করবে?”

    বৃদ্ধ রাজা বললেন, “ওহে বিদেশী, তলোয়ার তোলো।”

    দৃঢ় এবার তার তলোয়ারটা হাতে নিল। ছোট রাজকুমার ধেয়ে এল তার দিকে। দুই তলোয়ারে ঠোকাঠুকি হল।

    লড়াইয়ে মন দিতে পারছে না দৃঢ়। সে পিছিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। একসময় রাজা হাত তুলে বললেন, “থাক, থাক, যথেষ্ট হয়েছে। লড়াইয়ের ফলাফল দেখার দরকার নেই। কে কীরকম ভাবে অস্ত্র চালায়, তা দেখলেই বোঝা যায়, তার দক্ষতা কতখানি। এই বিদেশী যুবক ইচ্ছে করলেই যে ছোট কুমারকে হারিয়ে দিতে পারে, তা আমি বুঝেছি। আমি আজ থেকে একে কোটালের কাজে নিযুক্ত করলাম।”

    তলোয়ার নামিয়ে দৃঢ় বলল, “মহারাজ, আমাকে মাফ করুন। আমি কোটালের কাজ নিতে চাই না।”

    বড় রাজকুমার বলল, “আরে, এ-লোকটা যে দেখি মহা মূর্খ! রাজ্যের কোটালের কাজ কত সম্মানের কাজ। কত টাকাপয়সা পাবে। সে কাজ নিতে চাইছে না?”

    রাজা মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলেন, “বিদেশী কুমার, তুমি এ-কাজ নিতে চাও না কেন?”

    দৃঢ় বলল, “আমি গ্রামে ফিরে যেতে চাই। নদীর ধারের গ্রামটি আমার বড় ভাল লেগেছে।”

    রাজা বললেন, “কোটালের কাজ নিয়েও তুমি মাঝে-মাঝে সেখানে ফিরে যেতে পারবে। তুমি ডাকাতদের দমন করেছ, এই পুরস্কার তোমার প্রাপ্য। আপাতত তুমি অতিথি ভবনে থাকো। নতুন পোশাক-পরিচ্ছদ পরে কাল তুমি রাজসভায় এসো, তোমার কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”

    রাজকুমার দৃঢ়র ভাগ্যের চাকা এখানেই থামল না। পরের দিনই তার নিয়তি তাকে নিয়ে গেল অন্যদিকে।

    পরদিন স্নান করে, নতুন মূল্যবান বস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে দৃঢ় এল রাজসভায়। অতিথিশালার পরিচারকরা তাকে যত্ন করে সাজিয়ে দিয়েছে, আজ তাকে আবার দেখাচ্ছে রাজকুমারের মতন। তার নতুন নাম হয়েছে কুমার সিংহ!

    রাজার সভায় এসেছে ভোজ রাজ্যের দূত। দুই রাজবংশের মধ্যে আত্মীয়তা আছে। সেই দূত বৃদ্ধ রাজাকে এক দীর্ঘ কাহিনী শোনাল। কাহিনী যখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, তখন দৃঢ় এসে ঢুকল রাজসভায়।

    রাজা দূতকে বললেন, “সবই তো শুনলাম। বড়ই আশ্চর্যের ব্যাপার। তুমি ভোজরাজকে বলবে, আমি তাঁকে সবরকম সাহায্য করব। তুমি যাকে খুঁজতে এসেছ, তাকে খোঁজার ব্যাপারে তোমাকে সাহায্য করবে আমার কোটাল। এতদিন এই রাজ্যে কোনও কোটাল ছিল না। আজই নতুন কোটাল নিযুক্ত হয়েছে।”

    রাজা দৃঢ়র দিকে তাকিয়ে বললেন, “কুমার সিংহ, এটাই হবে তোমার প্রথম কাজ!”

    ভোজরাজের দূত রাজকুমার দৃঢ়র দিকে ফিরে যেন ভূত দেখার মতন চমকে উঠল! বেশ কয়েক মুহূর্ত অপলকভাবে চেয়ে থেকে সে বলল, “কী আশ্চর্য! কী আশ্চর্য! এই তো সেই মানুষ!”

    রাজাও সবিস্ময়ে বললেন, “এই সেই মানুষ?”

    ভোজরাজের দূত বলল, “সেই মানুষ! কোনও ভুল নেই! মহারাজ, এই যুবক আমাদের সেনাপতি বাহুককে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করেছে। তারপর রাজার নিজস্ব কালো ঘোড়ায় চেপে ঝাঁপিয়ে পড়েছে জলপ্রপাতের মধ্যে। আমাদের রাজা আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, যদি কেউ ওই ঘোড়ায় চেপে জলপ্রপাত পার হতে পারে, তবে তার সঙ্গেই তাঁর দুই রাজকন্যার বিবাহ দেবেন। এর আগে সেরকম অসম্ভব কাজ আর কেউ পারেনি! শুধুমাত্র এই রাজকুমার পেরেছেন!”

    রাজা হেসে বললেন, “রাজকুমার! আমি ঠিক ধরেছিলাম। প্রথম দেখেই বুঝেছি! এই কুমার যে দারুণ বীর, তাতেও কোনও সন্দেহ নেই। কুমার, তুমি এতবড় একটা কাণ্ড করে এসেছ, তা আমাদের বলোনি কেন?”

    রাজকুমার দৃঢ় বলল, “না, না, মহারাজ, আমি সেরকম তো কিছু করিনি! নিশ্চয়ই এই দূত ভুল করেছেন। অন্য কারও কথা ভেবেছেন।”

    দূত বলল, “আমার ভুল হতেই পারে না। অবিকল এই মুখ। দু’ বাহুতে ঠিক এইরকম সোনার বালা। আমাদের দুই রাজকন্যাই ঠিক করেছেন, এই বীর পুরুষকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়েই করবেন না।”

    রাজা বললেন, “আমার নিজের কোনও কন্যা নেই। যদি থাকত, তবে তার সঙ্গেই আমি এই বীর যুবকের বিবাহ দিতাম।”

    রাজকুমার দৃঢ়র সঙ্গে তার ছোট ভাইয়ের মুখের অনেক মিল। দুজনেরই বাহুতে একইরকম তাদের বংশের বালা। দৃঢ় বারবার বলতে লাগল, সে বাহুক নামে কোনও ব্যক্তির সঙ্গে লড়াই করেনি, কালো ঘোড়ায় চেপে কোনও খরস্রোতা নদীতেও ঝাঁপ দেয়নি। দূত সে কথা মানতেই চাইল না কিছুতে। এই লোককে খোঁজার জন্য সে অনেক রাজ্য ঘুরেছে। এখন আর সে একে ছাড়বে না!

    রাজকুমার দৃঢ় তখন ভাবল যে, আগেকার কোনও কথাই তো তার মনে নেই। তা হলে হয়তো হতেও পারে। সে চুপ করে গেল।

    বৃদ্ধ রাজা তখনই মহা সমারোহে রাজকুমার দৃঢ়কে পাঠিয়ে দিল ভোজ রাজ্যে। সেখানে একসঙ্গে দুই রাজকন্যার সঙ্গে তার বিয়ে হয়ে গেল। নিজের পিতার রাজ্যে সে কারাবন্দী হয়ে ছিল, এখন সে হয়ে গেল অন্য একটি রাজ্যের যুবরাজ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleযমুনা নদীর মুশায়রা – সেলিনা হোসেন

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নিঃসঙ্গ-সম্রাট – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 27, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    Our Picks

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026

    যমুনা নদীর মুশায়রা – সেলিনা হোসেন

    August 3, 2026

    কিতাগড় – শ্রীপারাবত

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }