Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প413 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুবেরের বিষয় আশয় – ১২

    ॥ বারো ॥

    বড় বৌদির কি আনন্দ। তার বিয়েতে কুবের ছিল নিতবর। সেই কুবেরের আজ ভিত্ পুজো। বড়দা আসতে পারেনি। কদমপুরের জানাশুনোর মধ্যে নয়ানের বাবা কান্তবাবু এসেছেন। কিন্তু ব্রজদা বা আভা বৌদি কাউকেই বলা যায়নি। এখানকার সবাই ব্রজদাকে এমন সন্দেহের চোখে দেখে। আসলে লোকটার কোন মানে করতে না-পেরে এই অবস্থা।

    বিয়ে হয়ে এসে ইস্তক মা সালকের ওই বাড়িতেই একটানা দীর্ঘদিন রয়েছে। কলকাতার বাইরে এসে খাল, খোলা মাঠ, গাছপালা সবকিছু দেখে ভীষণ খুশি। বুলুকে নিয়ে পুজোর গর্তের চারদিকে ঘুরে কুবের একখানা ইট বসিয়েছিল ভেতরে। এখানে কুবেরের বাড়ি হবে। বুলু আস্তে ঘুরছিল। অল্পদিন পরেই বাচ্চা হওয়ার তারিখ। এই ‘হবে’ কথাটায় কতখানি সুখ। ভিত্ পুজোর পর সবাই সালকে ফিরে চলল। বহুকাল পরে দেবেন্দ্রলাল কিছু কথা বলে ফেলল অল্প সময়ে।

    যেমন—’ইলেকট্রিক ট্রেনে বেশি সময় তো লাগল না। কদ্দিন চালু হয়েছে এ-লাইনে?’

    কুবের বললো, ‘মাস দুই। আগের চেয়ে এখন প্রায় অর্ধেক সময় লাগে।’

    ‘সালকের ওই বাড়িতে আমার জন্ম। তোমাদের জন্ম। ওপাড়া ছেড়ে আসতে পারবে তো? ভেবে দেখো বাবা। শেষে ঝোঁকের মাথায় ঘরবাড়ি বানিয়ে টাকাগুলো মাঠের মধ্যে ফেলে রেখে ফিরে এসো না।’

    বাবা অল্প বয়স থেকে ভীষণ সামলে চলতে শিখেছে। বাবার তো ভীতু হওয়ার কোন দরকার নেই আর। থাকার একটা পৈতৃক আস্তানা আছে—ছেলেরা চাকরিতে। তবু কুবের এই মানুষটার কাছে নিশ্চিত একটা ছবি তুলে ধরার জন্যে বললো, ‘যায় যাবে—আবার নুতন টাকা আসবে।’

    অফিসটাইমের পরের ট্রেন। লোক বলতে নেই। ফার্স্ট ক্লাসের ভেতরটায় মন—ভোলানো রঙ। মাঠে ধান কাটছে। এসব স্লিপ করে ট্রেনটা যেভাবে যাচ্ছে, মনে হবে পাতালের রাস্তা। একটুও আটকাচ্ছে না কোথাও।

    দেবেন্দ্রলাল জানতে চাইল, শান্ত গলায়, ‘তোমার কত টাকা?’

    ‘কত হতে পারে?’

    ‘আমার কোন আন্দাজ নেই। আমি জীবনে টাকার মুখ বেশি দেখিনি। তোমাদের গর্ভধারিণীর সেজন্য দুঃখ ছিল অনেক দিন—’

    কোণের জানলায় মা, বড় বৌদি, বুলু কেউ কারও কথা শুনছে না। সবাই একসঙ্গে বকবকম করে সুখের কথা, স্বপ্নের কথা বলে যাচ্ছে। কুবেরকে দেখেই মা বলে উঠল, ‘এক কাঠা জায়গা দিবি আমাকে। পালম বুনবো—’

    মুখে বললো, ‘বেশ তো। তোমার যেখানে ইচ্ছে—যতখানি ইচ্ছে জায়গায় পালম, ঢেঁড়শ যা ইচ্ছে হয় কর।’ মনে মনে খুব হাসি পেল। আমি কুবের সাধুখাঁ। ওয়ানটাইম ভ্যাগান্ড। এখন আমি ড্রিম মারচেন্ট। এবেলা ওবেলা স্বপ্ন বিক্রি করি। স্বপ্ন ছাড়া কি। পাঁচ কাঠায় বিরাট বাড়ি হয়েও অনেকটা খোলামেলা থাকে! একটা ঘেরা বারান্দা করবেন দক্ষিণমুখো। দিনে বসবেন, রাতে শোয়া যাবে। এমন কত কি বলতে হয়। কলকাতার এত কাছে কেউ এই দামে জায়গা দিতে পারবে না। ভেতরে দেখুন ষোল ফুট চওড়া রাস্তা রাখতে গিয়ে কতটা জায়গা ছাড়তে হয়েছে। এখানে একদিন লোকালিটি হলে বেশ ছিমছাম একটা পাড়া গজিয়ে উঠবে।

    মা হয়ে তুমি মাত্র এককাঠা জায়গা চাও। হরিরাম সাধুখা বাড়ির বৌ তুমি। এসবই তো তোমার মা। এত অল্পে খুশি হবে জানলে আমি আরও কত কি ব্যবস্থা করতে পারি তা তুমি জান না মা। আমার পাঞ্জাবির ইনসাইড পকেটে এখন আটত্রিশ হাজার টাকার একখানা চেক আছে। জমা দেওয়ার দেরি শুধু। দু’দিনের মধ্যে আমার নামেই টাকাটা ক্যাশ হয়ে যাবে।

    কুবের দেবেন্দ্রলালকে বললো, ‘আমারও কোন আন্দাজ ছিল না বাবা। বড়দার পরে তুমি আর কোন ছেলের কুষ্ঠি করাওনি। তাহলে জানতে পারতাম কোন্ রাশি কোন্ নক্ষত্রে আমার জন্ম। যে-গণৎকারকেই হাত দেখাতে চাই—সেই বলে কি রাশি কি নক্ষত্র? কিছুই জানি নে। অথচ দেখ কেমন আন্দাজে টাকা আসে—আসতেই থাকে—আসার কোন মানে বুঝিনে—’

    দেবেন্দ্রলালের মনে হল, কুবেরের মনের মধ্যে কোথায় একটা কষ্ট আছে।

    ‘এক এক সময় এমন বিপদে পড়ি-ঝুঁকি নিয়ে এমন সব জায়গা কিনে ফেলি, বিক্রি না হলে ডুবে গেলাম। ঠিক বিক্রি হয়ে যায় বাবা। যখন চেষ্টা করি—তখন হয় না। যখন হাত পা ছেড়ে দিয়ে বসে থাকি তখন সেধে: বাড়ি এসে লোকে টাকা দিয়ে কিনে নেয়। ভাল জিনিস সেধে দিলে —নেবে না। খারাপ জিনিস নিয়ে গুমোর করে বসে থাক—পড়িমরি করে সবাই কিনতে ছুটে আসবে।’

    সরু পিয়াসলে ছাড়তেই দেবেন্দ্রলাল জানতে চাইল, ‘তোমার কিসের দুঃখ কুবের—‘

    সোজা বাবার দিকে তাকাল। কুবেরের এই শরীর এই মানুষটার দান। গুরুগম্ভীর শান্ত প্রলেপে মাখানো মুখ নিয়ে দেবেন্দ্রলালও তাকে দেখছে।

    দুঃখের কথা অনেক। কটা বলা যায়।

    কারখানায় ঢুকেছিল নব্বই টাকায়। ঘষাঘষিতে বাড়তে বাড়তে সেটা প্ৰায় ভদ চেহারা পেতে পেতে কুবেরের অনেক জিনিসে স্বাদ কমে গেছে।

    এই যে এখন টাকা আসে, এসে পুরনো হয়ে যায়, আবার নতুন টাকা আসে—বেশ লাগে। কিন্তু কত অল্প টাকাতেই লোক কেমন গরীবের মত করুণ আভা ছড়িয়ে হাসে। তখন এত কষ্ট হয়। দুঃখ হয়। ছাপ মারা এইসব কাগজের টুকরো কতদূর আর দেবে! আমরা তো এসব চাইনি।

    ‘তুমি কতদিন কারখানায় যাও না। সেখানকার কাজ আছে না গেছে—তা একবার দেখ। থাকলে ভাল। তাহলে এত ঝুঁকি নিয়ে ঝামেলায় না জড়িয়ে ঝরঝরে জীবন কাটাও। খুব বড়লোক হওয়ার দরকার কি!’

    কুবের হাসল। আর পিছোনোর উপায় নেই। প্ল্যান হয়ে গেছে—এবারে গেঁথে তুলতে হবে বাড়িটা। নতুন নতুন জায়গার খবর আসছে। সস্তায় পুকুর। ভদ্রেশ্বর বলেছিল, ‘হোমড়াপলতার ওদিকে জায়গা রাখবেন? বিঘেতে কাহন কাহন ধান হয়। কোন রকমে চষে চারা গুঁজে দিলেই মোটা মোটা গোছ বসে যায়।’ ব্যাপারটা মন্দ না। মাথা গোঁজার জন্যে একেবারে নিজের একটা বাড়ি সম্বচ্ছরের ধান—সে যে প্রায় ষোল আনা নিশ্চিন্তি।

    যেসব লোক প্রায়ই দেশপ্রেম, ইতিহাস, বিজ্ঞান নিয়ে পটাপট কথা বলে যায়—কিংবা টাকা আছে বলে মুখখানা তেলোহাঁড়ি করে বসে থাকে—তাদের সবাইকে কুবেরের একটা প্রশ্নই করতে ইচ্ছে করে, তা হল, ‘মশাইর দাম কত? মানে আপনি, আপনার বক্, টাকা পয়সা, বিদ্যেবুদ্ধি, সম্পত্তি সমেত আপনার বাজার দর কত? আপনি যে দাম বলবেন, তাতেই আমি রাজি। তবে দাম মিটিয়ে দেওয়ার পর জামাকাপড় খুলে সব কিছু রেখে দিয়ে নিঃশব্দে ভবসাগরে মিশে যেতে হবে আপনাকে।’

    আত্মীয়স্বজনের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে। বাড়িটা হয়ে গেলে তাদের কয়েকজনকে ডেকে এনে দেখাতে হবে।

    মা বললো, ‘বড় দুঃখ ছিল—আমাদের কারও একেবারে নিজের একখানা ঘর নেই—একটু যে বসব, একা একা থাকব তার উপায় নেই—তুই একটা ভাল বসার ঘর করিস-’, কি মনে হতে মা বললো, ‘পাঁজা করে ইঁট পোড়ালে বংশ লোপ পায়। আর বাড়ি করে মাটি কামড়ালে মা বসুন্ধরা এক কামড়ে কাউকে না কাউকে তুলে নেয়। সাবধানে থাকিস। আমার বাবার দালান সঞ্চারের সময় নতুন পুকুরে আমাদের এক বোন ডুবে মারা গেল। সে পঞ্চাশ বছর আগের কথা—’

    বুলু ইলেকট্রিক ট্রেনের ঝাঁকুনিতে সাবধানে বসল। এবারের বাচ্চায় কুবেরের খুব ইচ্ছে ছিল না। লক্ষ্মীপুজোর কোজাগরির রাতে ডিউটি থেকে আচমকা এসে পড়েছিল কুবের। নিশুনি রাত। ঘুমন্ত বুলু। ছেলের জন্যে ও একটা খেলুড়ে চায়। সেজন্য পেটে ধরতেও আপত্তি নেই। বরং ভীষণ ঝোঁক। কুবের অনেকবার এড়িয়ে গেছে। সময় মত অঙ্ক কষে সরে এসেছে।

    কয়েকদিন বহরিডাঙা রেজিস্ট্রি অফিসে কেটেছে। রাতে ফার্নেসের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দূর গাঁয়ে লক্ষ্মীপুজোর শঙ্খ শুনছে। কোথাও নিজেকে একেবারে ছেড়ে দেওয়ার জন্যে মাঝরাতে কুবের এলিয়ে পড়েছিল। সেই সময় এই কাণ্ডটি ঘটে।

    ‘আমি আর কারখানায় যাব না বাবা।’

    ‘চাকরি নেই?’

    ‘তা নয়। খুব আছে। সেজন্যেই যাব না।’ আর বলতে পারল না কুবের। কারখানা জিনিসটা তার বড় কাঁচা লাগে। পাড়ায় স্টেজ বেঁধে থিয়েটারের মত। কিছুকাল পরে উঠে যাবেই। অথচ জায়গা জমি জায়গারটা জায়গায় থাকে। লোকজন আসে যায়—আবার মরে হেজেও যায। অথচ সেই জায়গা আগের মতই ধান দেয়, মাটি দেয়—কত বিশ্বাসী। এখন এক টুকরো বেচলেই কুবেরের এক বছরের মাইনে।

    ‘এতদিনের কাজ ছেড়ে দেবে?’

    দেবেন্দ্রলাল ঝুঁকি নিতে বড় ভয় পায়। কুবেরের বড় ভাই অনেককাল চাকরি করে। সময়ে অফিস যেতে খুব ভালবাসে। ডিসিপ্লিন, পাংচুয়ালিটি—এসব কথা তার কাছে বাংলা হয়ে গেছে।

    ‘আমার ভাল লাগে না বাবা। আমি আর পারি না।’

    ‘কি পার না?’

    সব বুঝিয়ে বলা যায় না। কত যায়গার জিনিসপত্র একসঙ্গে জ্বাল দিয়ে ইস্পাত তৈরি হয়, ইস্পাত জল হয়ে ফোটে। অথচ যারা তৈরি করে—তারা শুধু ইনক্রিমেন্ট, অ্যালাউন্স নয়ত বোনাসের হিসেব করে মরে। চাকরিতে এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে উঠতে কত লোকের বুকের ভেতর আশা-নিরাশার ঢেউ উঠতে দেখেছে কুবের। বৃষ্টি, আলো, মাটির নীচের রাঙালু ইত্যাদি ভগবানের জিনিস—ভগবানের দান। আন্দাজে তাই মনে হয় কুবেরের। কেউ প্রোমোশন পেয়ে ঠিক সেরকম পাওয়ার ভাব করলে কুবেরের ঘেন্না লাগে। সবই তো সেই টাকা। অল্প টাকা, বেশি টাকা, আরও বেশি টাকা।

    এই যে লোকটি তার সামনে বসে—নাম দেবেন্দ্রলাল সাধুখাঁ—একদা ইনি কত সুন্দর ছিলেন। কেমন একটা ভাব মেশানো মুখ। হাতে টাকা থাকলে, বেশি টাকা থাকলে দেবেন্দ্রলালকে স্টিমারঘাটার কাজ নিতে হত না। বিশ্রাম, নিরুদ্বেগ জীবন হলে ওই সব দাগ পড়ত না কপালে।

    ‘অত অল্প টাকায় আমি আর পারি না বাবা—‘

    ‘হাত বড় হয়ে গেছে। কিন্তু যেদিন আর টাকা আসবে না কুবের—তখন? তখন তুমি কি করবে?’

    ‘সেজন্যেই তো লোকে বিষয়-আশয় করে—খারাপ সময়ে বিষয় থাকলে আশ্রয়ের চিন্তা থাকে না। বিষয় মানুষকে দেখে—আশ্রয় দেয়।

    ‘আমাদের বংশের হরিরাম সুধুখাঁ তো কম করে যাননি। আমাদের বুড়ো ঠাকুরদাদের একজন শেষ বয়সে রাস্তায় মরেন। বিষয় তাঁর বিষ হয়েছিল।’

    ‘বয়সকালে সাবধান হলে বিপদ নেই।’

    ‘তুমি তো সাবধান নও কুবের—’

    ‘এখন কেন সাবধান হব বাবা! সময় হলেই কসাস হয়ে যাব—’

    ‘তা কেউ হতে পারে না কুবের। কখন যে টাকা আসা বন্ধ হয়ে যাবে টেরও পাবে না। তখনও তুমি ভাবছো—এই বুঝি আসে, ওই এল। মাথা খুঁড়ে যাচ্ছ—তবু আর আসে না। যা সব করবে বলে ফেলে রেখেছিলে, তার সবটাই তখন বাকি। তখন টাকা না থাকলে মাথা দুলে ওঠে।’

    ‘তুমি এসব জানলে কোত্থেকে?’

    ‘তোমাদের বয়সে কাজে ঢুকে এক আরমেনি সাহেব দেখেছিলাম। আজ বাজ কিনছে, কাল লঞ্চ কিনছে, পরশু রিভাররুটে পারমিট বের করছে—সেই সস্তার আমলেও ছোকরার টাকা রাখবার জায়গায় টান পড়ত। মাঠে ঘাটে পয়সা উড়িয়ে বেড়াত। শেষে যেদিন টান পড়ল—অগস্ত্য চুমুকে সমুদ্র শেষ। অনেকদিন বেঁচে ছিল। খুব ঝষ্ট পেয়ে মারা যায় শেষ অব্দি।’

    কুবের বুঝিয়ে বলতে পারত। বুলু, মা, বড় বউদি, বীরেন ওদের বউরা কিংবা বাবা—কেউ বোঝে না কি করে কুবেরের টাকা আসে। বড়দা কুবেরের জন্যে চিন্তা করে। পাছে এই সুসময়ে তার কেউ ক্ষতি করে দেয়। নগেন ভাবে, তার দাদা কুবের না কোনদিন বিপদে জড়িয়ে পড়ে। এদের বোঝায় কি করে—ছ’ হাজার ফুট ফ্রনটেজ কিনে তার পেছনে অন্তত তিনশো বিঘে জায়গায় যাওয়ার রাস্তা তার হাতের মুঠোয়। গুপ্তরায় মশায় মাপামাপি করে ম্যাপ বানিয়েছেন। এখন খদ্দের এলেই ম্যাপ মেলে দিয়ে বসে কুবের কথা বলে। এই যে দেখছেন সোজা লাইন গেছে-এটা হল ওই খাল। এই হল খালপাড়। আমাদের মেইন রোড। জিনিসের দাম কমে না, লোক কমে না। যে আসবে তাকেই জায়গা দিতে পারবে কুবের। খালপাড়ে দাঁড়িয়ে এখন বলতে পারে—কোন্ জায়গাটা চাই আপনার? পুব-দক্ষিণে? ওই শিমুল গাছটার পাশে? ওখানে দর একটু চড়া—আপনার কিছু বেশি পড়বে। তবে সারাজীবন পুবে রোদ দক্ষিণের হাওয়া পাবেন। কেউ আটকাতে পারবে না।

    দেবেন্দ্রলাল বললো, ‘ইদানীং জায়গা জমি বাড়ি ঘর করাও বিপদ। চারদিকে হায় হায় নেই নেই। এর মধ্যে এসবে কেমন অস্বস্তি লাগে—

    ‘আমারও লাগে বাবা। কিন্তু—‘

    খানিক পরেই শেয়ালদা। লাইনের দু’ পাশে কত ঘরবাড়ি উঠছে।

    ‘কিন্তু কি কুবের?’

    ‘তাই বলে কি লোকে জায়গা জমি ঘরবাড়ি করবে না?’ নয়ানের বাবা কান্তবাব বলেন—দাপটে না থাকলে বিষয়-আশয় থাকে না। বিষয়-আশয়ের জন্যে আমি? না, আমার জন্যে বিষয়-আশয়? কতরকম ফেরে পড়া যায় রে বাবা! ভবেশ শী তো বিষয়-সম্পত্তির আড়ৎ।

    ‘নিশ্চয় করবে। একশোবার করবে। তুমি আমার ছেলে কুবের। তোমাকে একটা কথা বলি। খুব বড়লোক আমাদের হওয়ার দরকার কি? এই তো বেশ আছি। যা এমনি এসে যায় তাতেই খুশি থাক।’

    কুবের তো তাই থাকতে চেযেছিল। কিন্তু হরিরাম সাধুখাঁর সালকের ভদ্রাসনে ভাগাভাগি করে যেটুকু দেবেন্দ্রলালের ভাগে পড়েছে, তাতে এতজন একসঙ্গে থাকলে চলাফেরা করাই মুশকিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে পিঠ ব্যথা করত। এক কাতে ঠাসাঠাসির মধ্যে সারারাত পড়ে থাকলে গা ব্যথা হবেই। আজ মা কতখানি আনন্দ করে কুবেরের জায়গার ওপর চলেফিরে বেড়াচ্ছিল। মা সবকিছুতে গলা ডুবিয়ে ভাবতে ভালবাসে না। সে জানে ছেলের ব্যবসায় সব হচ্ছে।

    শেয়ালদায় নেমে বড় বউদি, মা, বুলু দরদাম করে হরেক জিনিস কিনে ফেলল। দেবেন্দ্রলাল একখানা দা কিনতে বললো কুবেরকে। কয়লা ভাঙতে গিয়ে হাত দা—খানা অনেকদিন ভোঁতা হাতুড়ির চেহারা নিয়েছে। ডাব কাটতে হলে বড় অসুবিধে হয়। অতএব একখানা দা কিনল কুবের।

    ট্যাকসিতে ওঠার সময় বুলুকে নানা অঙ্গভঙ্গী করে ভেতরে ঢুকতে হল। আর কিছুদিন পরেই হাসপাতালে যেতে হবে। বড় বউদির সুখ ধরে না। পরিষ্কার জানতে চাইল, ‘এসব করলি কি করে কুবের?

    কুবের নিজের কপালে টোকা দিয়ে দেখাল।

    বুলু ফোঁস করে উঠল, ‘আমি কিছু নই না? তখন পইপই করে বলেছিলাম বলেই তো তুমি লেগে পড়ে থাকলে। নয়ত কবে সব টাকা ফুটিয়ে বসে থাকতে~~’

    বউর জন্যে কুবেরের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কিন্তু ইদানীং বুলুর দিকে তাকালে কুবেরের বার বার মনে হয়—বুলু মূর্তিমতী প্রতিবন্ধক। বড় সাইজের কোন ঝুঁকি নিতে গেলে ভয় হয়। ভরাডুবি হলে এই মেয়েলোকটি ভাসবে। কোথায় তাকে

    খানিকটা রিলিফ দিয়ে ইচ্ছে মত কাজ কারবারে এগোতে দেবে—তা নয়, ঠিক এই সময় ফিরে মা হয়ে বসল।

    কোম্পানির পুরনো ভেড়ি বরাবর চরভরাটি একশো বিঘে জায়গা এক লপ্তে—বন্দোবস্ত পেয়েছিল। কপাল ঠুকে চাষবাসে নামলে ধানের মত ধান করা যেত। বস্তা যাচ্ছে নব্বই টাকা। এক মরসুমেই তিরিশ চল্লিশ হাজার টাকা উঠে আসতো। বুল সেসবে যেতে দেবে না। চরের জায়গায় ধান যেমন, লাঠালাঠিও তেমন। তার ওপর ধানের লোভ বড় লোভ। কে কোথায় চোরাগোপ্তা মেরে দেবে। বুলুর সবটাতেই ভয়। কুবের আঁচলে থাকার প্রদীপ নয়। এই জিনিসটা বুলু বোঝে না।

    ‘তোর জন্যে কত চিন্তা ছিল। মা, আপনি তো সবসময় এই ছেলের জন্যে সিন্নি চড়িয়েই বসে থাকতেন। এখন দেখুন।!’

    বড় বউদির কথায় মা খুব খানিক হাসল। কুবেরের কোন কিছুই সহজে হয় না। খুব ঘষতে হয়। কদমপুরেই তাকে কতবার আসতে হয়েছে। এখন এ-তল্লাট সব তার জানা হয়ে গেছে। হোমড়াপলতায় ডিস্ট্যান্ট সিগন্যালের ধার দিয়ে বিধবার সম্পত্তি কিছু পাওয়া গেছে। বয়সকালে আবাদে যেন কার বউ ছিল। তখন হোমড়াপলতায় শক্তসমর্থ একজনের রাখনি হয়ে চলে এসেছিল। লোকটা খুব ভালবাসতো। এই ভাগানো আবাদে বউকে মরার আগে সব লিখে দিয়ে গিয়েছিল লোকটা। এখন তার আগের পক্ষের নাতিরা কোর্ট কাছারি করছে। তাদের কথা-এই বিধবা তাদের দাদুর বিয়ে করা বউ নয়। মাগী অন্যের বিধবা। উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। অতএব হটাও। এ সম্পত্তির হক্ তাদেরই! কিন্তু দলিল তা বলে না। কাগজ বিধবার দিকেই। পরচা, দাখিলা সব এখন কুবেরের কাছে। জায়গাটা জলের দরে হাতে আসবে ঠিকই। কিন্তু দখল নিতে কিছু ঝক্কি পোয়াতে হবে। কুবের সাদুখার চোখে সারা দুনিয়াটা এখন একটা মৌজা মাত্ৰ।

    হাতের আঙুল ছাড়িয়ে এখন সেই কালো মরচেগুলো কব্জিতে গেড়ে বসেছে। সারা গায়ের রঙ আগের চেয়ে অনেক কালো হয়ে গেছে। তবু কুবের খুব নিষ্পাপ চোখে, এই মাত্র ফুটে ওঠা ফুলের কায়দায় বুলুর দিকে তাকালো। কদমপুরে শুনেছে, শিষ বেরোনার আগে ধানগাছে থোড় আসে। নয়ান বলছিল, গর্ভ হয়। তখন ঘন সবুজ ধানের মাঠ কালো মেঘ করে আসে। বুলুও তেমন ভরে আছে মাসখানেক। কুবেরের শিরদাঁড়া অব্দি কি এক কাঁপুনিতে শিরশির করে উঠল। সনতের সঙ্গে সেবারে ঘোলাডাঙায় যদি না যেত। শরীরের ভেতরে কোথায় যে কি হয়ে আছে। ভাল করে দেখাতেও ভয় হয়। কি বেরিয়ে পড়বে শেষে কে জানে। হরি ডাক্তারের চিকিৎসার সময় এত ওষুধপত্রই ছিল না। কোথায় গোঁজামিল দিয়ে রেখেছে কে জানে। কিছুদিন হল চলে ফিরে বেড়ানোর সময় কুবেরের শিরদাঁড়ার ভেতর দিয়ে বাতাস যাতায়াত করে—মজ্জা নেই কোন সেখানে, শুকিয়ে গেছে—দৌড়লে তাই ভেতরকার হাড়ের চাকতিগুলো তেলের অভাবে খটখট্ করে আওয়াজ করে ওঠে। এমন একটা গভীর সন্দেহ কুবেরের মনের মধ্যে অনেককাল ধরে পাক খাচ্ছে।

    ঠিক এই সময় আর একটি বাচ্চা। বুলু শুধু খুব নরম গলায় বলল, ‘তুমি কি বলবে বলেছিলে—কি একটা এক্সপিরিয়েন্স-খুব স্যাভ্—’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Our Picks

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }