Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প413 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুবেরের বিষয় আশয় – ২১

    ॥ একুশ ॥

    ব্রজর হাত ভীষণ শক্ত। আঙুলের হাড় সাঁড়াশি হয়ে তার হাতে চেপে বসেছে। আভা ছাড়াতে পারল না। অন্য হাতখানা ধরে সাহেব টানছে। ‘তখনই বলেছিলাম সাহেব আমাকে এসব খাইও না। আমার সহ্য হয় না। মুখ দিয়ে গরম হাওয়া ছোটে—তোমরা যে কী ধাতের মানুষ—’

    ব্রজ দাঁতে হাত ঘষছিল। অনেক রকমের গালাগালি এসে তার মুখ বোঝাই হয়ে গেছে। কিন্তু চেঁচাবার উপায় নেই। শিব প্রতিষ্ঠার পর এখানে সে আপনা—আপনি সেবায়েৎ—আপনা-আপনি মোহান্ত। দূর গাঁয়ের লোক আজকাল শিবতলার মোহান্ত বাবাও বলে। তার পক্ষে জ্ঞানহারা হয়ে চেঁচানো বেঠিক কাজ হবে। আশপাশের হাটুরে লোক শুনতে পেলে কি ভাববে।

    তাই বলে এই তেলখোড়ার আড্ডার একেবারে গায়ে গায়ে এসব কি বেলেল্লাপনা? একেবারে চোখের সামনে। আর একবার জোরে টান দিল আভাকে। ব্রজর হাতের মধ্যে কয়েকটা কাচের চুড়ি মুটমুট করে ভেঙে গেল শুধু।

    আভা সঙ্গে সঙ্গে চীৎকার করে কেঁদে উঠলো, ‘ভাঙলে তো শেষে।’ কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল, ‘এই সাহেব—তোমার সাধের সাহেব ছাইপাঁশ কি সব গিলিয়েছে—তখনই বারণ করলাম ওগো—কথা কি শোনে তোমার সাধের সাহেব!’ এর পর ডুকরে কেঁদে উঠলো আভা।

    এতটা হবে সাহেব ভাবতে পারেনি। তারও কিছু নেশা হয়েছিল। ব্রজর গলা ধরে বলতে যাচ্ছিল, ‘তুমি তো মোদক খাওয়াতে দাদা! আমি এই একটুখানি—’

    গলায় হাত পড়তেই ব্রজ এক ঝটকায় সাহেবকে সরিয়ে দিল। ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়েই আভার চীৎকার শুনতে পেল। ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেল সাহেব। কিছ বুঝে ওঠার আগেই দেখল, ব্রজ ফকির আভাকে মাটি আঁচড়াতে আঁচড়াতে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

    এই পর্যন্ত আভা অনেক পরে পর পর সাজিয়ে মনে করতে পেরেছিল। তখন সে নেশায় পাথর হয়ে ছিল। তার পরেরটুকু মনে করতে কোন কষ্ট হয়নি। কেননা, ততক্ষণে আভার নেশা ছুটে গিয়েছিল। ব্রজ পরিষ্কার বলেছিল, ‘এই জাগ্রত শিবের সামনে সত্যি কথা বল। মিথ্যে বললে জিভ খসে পড়বে—’

    হাত আলগা হতেই আভা সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ‘শিব কোনদিন ঘুমোয় না গো! আমি কোন্ দুঃখে শিব সাক্ষী রেখে দিব্যি গালতে যাবো?’ তারপর থেমে বলেছিল, ‘এমন তো আগেও অনেকবার গেছি—কদমপুরে থাকতেই—তখন তো একবারও বারণ করোনি?’

    এইবার ব্রজ যা করলো, তার চেয়ে আভাকে ধরে আচ্ছাসে চড় কষালে পারতো। তা না করে দিব্যি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। এজন্যে তৈরি ছিল না. আভা। নেশার বাকিটুকুও ফরসা হয়ে গেলো। আভা তখন একেবারে তিরিক্ষি, ‘এতদিন জেগে জেগে ঘুমোচ্ছিলে?’

    ‘কোন উপায় ছিল না আভা—’ এমন করেও কাঁদতে পারে ব্রজ—তা একদম জানা ছিল না আভার। তখনও খটখটে গলায় বলেছিল, ‘কিন্তু এখন যে অনেক দেরি হয়ে গেছে—’, এর চেয়ে সেদিন বলতে পারত—কিন্তু গাড়ি যে চলে গেছে ব্রজ—ফের সেই বিকেলবেলার আগে আর কোন ট্রেন নেই। কিংবা ওরকম ধাঁধা মাখানো আরও অন্য কিছু বলতে পারত আভা। কি করে যে অমন কথা বেরিয়ে এলো মুখ দিয়ে।

    বেলপাতা, চন্দনমাখানো পাথারখানা তারই দিকে তাকিয়ে ছিল। আভা সেই দিনই অল্পক্ষণের জন্যে তার ভেতরে আবছায়ায় চোখের আভাস পেয়েছিল। তবে ত্রিনেত্র নয়। মানুষেরই মতো দুটো চোখ তাকেই দেখছিল।

    আর একবার বমির ভাব আসতেই আভা জোরসে ডাঁশা পেয়ারাটা কামড়ে ধরল। দ্বীপের গাছের ফল। মেদনমল্লর বাথানের গায়ে কালই বিকেলে গাছটাকে পেয়েছে। গা গুলোনো ঝোঁকটা কিছুতেই কাটানো যাচ্ছে না। অথচ এখন বেলা মোটে ন’টা দশটা। এখানে কুবেরের টাইমপিস দেখে কাজকর্ম চলে, সূর্য ওঠে। দিঘির সামনের চত্বরে মাদুর বিছিয়ে রোদ পোহাচ্ছিল দু’জনে। কুবের পেছন ফিরে অনেকক্ষণ এক মনে কি একটা বই পড়ছিল। আভা যে তারই পাশে বসে আছে—তা একটু ভ্রুক্ষেপও নেই।

    আজ হপ্তা দুই পাখিরা চলে গেছে। মাঘ প্রায় শেষ। রোদের তাত বাড়তেই পদ্ম বোঁটাগুলো নেতিয়ে যাচ্ছে। দিঘির জল যে কতকালের! এসব কথা ভাবতে গিয়ে কারখানা গাঁয়ের সেই সন্ধ্যেবেলায় চলে গিয়েছিল আভা। ফিরেও এলো এক লহমায়।

    কুবেরের হাতের খোলা বইয়ের সামনেই অনেকগুলো ধানচারা তুলে এনে কামলারা বিছিয়ে রেখে গেছে। কুবের পড়ছে আর মাঝে মাঝে চারাগুলো দেখছে। মুখ তুলে ম্যাগানিফাইং গ্লাসটা জল-চৌকির ওপর থেকে নিতে গিয়ে দেখল, আভা খুব মন দিয়ে তারই দিকে তাকিয়ে আছে।

    ‘কি ব্যাপার?’

    ‘তোমাকেই দেখছি!’

    কুবের খুব অনেকক্ষণ এমন একজনকে চাইছিল, যাকে সে এখুনি বলতে পারে—আজ হাতের বইখানায় সে কি ভীষণ একটা জিনিস জানতে পেরেছে। ধানগাছ মানুষেরই মতো ব্যবহার করে। বসন্তে আকাশ বাতাস মানুষের মনের মধ্যে কি সব করে দেয়—তেমনি আলো, হাওয়া ধান-চারারও অনেক কিছু করে দেয়।

    মাটির রস, আলো, রোদের তাত, হাওয়ার দুলুনি—সব মিলে ধানচারাগুলো রসস্থ হয়ে ওঠে। তিন চার কলি চারা পুঁতে দিয়ে তা থেকে মাসদেড়েকে চল্লিশ পঞ্চাশটা বিয়েন ছাড়ে। একে একে বিয়েনগুলো গোল হয়ে ফুলে ওঠে। দেশী ভাষায় বলে, থোড় এসেছে। তারপর থোড় ফেটে শিষ বেরোয়। সবুজ শিষের গায়ে সাদা ফুলের ঝুরি লেগে থাকে। হাওয়ায় ধানের খোলের মুখ খুলে যায় এক সময়—আর ফুল গিয়ে তার ভেতরে পড়ে।

    ফুল পড়ে শিষগুলো ক’দিনেই ফুলে ঢোল হয়ে ওঠে। একেবারে শক্ত হয়ে ওঠার আগে টিপলে দুধ ছিটোয়। যে খোলে ফুল পড়ে না—তার নাম চিটে। আছড়ানো ধান হাওয়ার উল্টোদিকে ধরলে চিটেগুলো ফুরফুর করে উড়ে যায়। নিষ্ফলা।

    এসব চাষীও জানে।

    ‘জানো আভা, সকাল আটটার আগেই এই বিরাট কাণ্ডটা হয়ে যায়। তারপরে যেই তাত বেড়ে যায় রোদের—

    ‘কোন্ কাণ্ড?’

    ‘ভোরের দিকে ধানের খোলা—আপনা-আপনি খুলে যায়—হাওয়ায় হাওয়ায় ফুলগুলো ভেতরে ঝরে পড়ে-পড়তেই ধানের খোল বুজে যায়—’

    আভা কুবেরের মুখখানা দেখছিল। কপালে, চোখের নীচে, বাঁ কানের লতিতে কালো একটা ছোপ ছড়িয়ে পড়েছে। ‘কদমপুরে যখন প্রথম এসেছিলে তার চেয়ে কত কালো হয়ে গেছ কুবের।’

    ‘আমার কথা ছাড়ো। আমি আবার একটা মানুষ নাকি!

    ‘এতো অভিমান?’

    কুবের বুঝতে পারলো, আভা তার কথা একদম বুঝতে পারেনি। এখন আভা তার প্রেমে গড়াগড়ি যাচ্ছে। অথচ কুবের—

    অথচ কুবের কোথাও পুরোপুরি মন বসাতে পারছে না। এই ক’মাসে দ্বীপে আন্দাজে আভাকে নিয়ে কেমন একটা সংসার তৈরি হয়ে গেছে। সারা দিনরাতে খানিকক্ষণ তারা দু’জনে প্রায় স্বামী-স্ত্রী হয়ে যায়। কখনও লাভমেশিন কুবেরের দিব্যি ষোলোআনা লাভার হয়ে উঠতে হয়।

    ‘সত্যি তুমি অনেক কালো হয়ে গেছ। কি করে হলে কুবের? নোনা হাওয়ায়?’

    কুবের ভেতরে ভেতরে গুড়গুড় করে ডেকে উঠলো। ডান হাত দিয়ে বাঁ হাতখানা শক্ত করে চেপে ধরলো। প্রায় কাঁপছিলো হাতখানা। বলতে শুরু করতে পারতো, জানো আভা—আমার জীবনে খুব একটা স্যাড ঘটনা—এক্সপিরিয়েন্স বলতে পারো—

    কিছুই বলা হলো না। ক’দিনই সতেজ ধানচারাগুলোর ডগা লালচে হয়ে যাচ্ছে। কামলারা বলে, লালি ধরেছে বাবু। সে নাকি একটা রোগের নাম। লোক লাগিয়ে ব্লাইটক্স আর এনড্রিন জলে গুলে ছিটিয়ে দিয়েছে গাছে গাছে। মারাত্মক বিষে পথ ভুলো কিছু সাপ ডাঙায় উঠে ছটফট করে মরেছে। শেষে সেগুলো এক জায়গায় জড়ো করে আগুন দিতে হলো। অথচ পোকার দেখা নেই। মাজরা পোকা শিষের ভেতরে নেমে গিয়ে থোড় খেয়ে ফেলে কুরে কুরে। তখন শুধু চিটে শিষ বেরোয়। সে পোকারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এতো বিষেও তবে কোন্ পোকা টিকে থাকতে পারে?

    পাতা উল্টে উল্টে কামলারা এক ধরনের পোকা তুলে নিয়ে এলো মাঠ থেকে। ধানের পাতা লালায় মুড়ে ঘোমটা বানিয়ে তার ভেতরে গুটি পাকিয়ে পড়ে ছিল। বেশ বড়ো—প্রজাপতি হওয়ার আগেকার চেহারা পোকাগুলোর পাতার মোড়ক এমনই যে বাইরের কোন ওষুধ তাদের গায়ে লাগে না।

    একটা পোকা কুবের হাতে নিতেই পাক খুলে লম্বা হয়ে গেল। সারা গায়ে পাতার সবুজ ছোপ আলগা করে মাখানো। কুবেরের চোখে জল এসে গেলো। হয়তো এদেরই জন্যে সে পথে বসবে। এতো খরচের চাষ—ঠিক ঠিক ফলন না হলে সে ডুববে। সর্বস্ব ঢেলে বসে আছে এই ঢালাও চাষে।

    একটু আগে বইতে এই পোকার ছবি দেখেছে। নীচে লেখা আছে—কেস ওয়ার্ম। ঘোমটা দিয়ে এরা পাতার আড়ালে ঘাপটি মেরে থাকে। আসল নাম অবশ্য অন্য।

    ‘জানো আভা—এ পোকাগুলোর নাম কি?’

    ‘ফেলে দাও-হাতে নিও না। ঘেন্না করছে—‘

    ‘নিমপুলা ডিপাংটালিস। এদের তুমি এমনিতে মারতে পারবে না। পাতার ঘোমটার ভেতরে ওষুধ পৌঁছয় না—’

    আভা তাকিয়ে আছে দেখে কুবের বললো, ‘মাটি, গাছ খাবারের কায়দায় শুষে নিতে পারে এমন কোন ওষুধ ঢালা ক্ষেতময় ছড়াতে হবে। গাছগুলো সেই ওষুধ টেনে নিয়ে খাবারটুকু রেখে দেবে—আর সন্ধ্যে সন্ধ্যে বিষটুকু নিশ্বাসে নিশ্বাসে ছড়িয়ে দেবে। তখন গাছের ভেতরকার মেদমজ্জা যাই মুখে দেবে—পোকাগুলো পটাপট মরবে—তার আগে ওদের কিছু করা যাবে না।’

    আভা শুনতে শুনতে ঘোমটা তুলে দিল মাথায়, আমায় কি তোমার ওই নিমপুল না কি তাই দেখাচ্ছ! আমাকে তুমি কি দিয়ে মারবে? বল না, কোন্ বিষে ওগো! ঘোমটার মধ্যে গোটানো মুখখানা, তার পেছনে দূরে ধুধু জল চড়ায় এসে আছড়ে পড়ছে, একটানা ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, মাথার ওপরে বেলাবেলির রোদ-কুবেরের বুকের ভেতরে ধড়াস ধড়াস শব্দ হতে লাগলো। ইংরাজি র‍্যাপিড রিডার গ্রীক টেলসে পড়া নিমফ্—প্রায় জলপরীর কায়দায় ঘোমটা মোড়া আভার মাথাটুকু জলের ব্যাক গ্রাউন্ডে জেগে আছে শুধু। তখনকার মতো কুবেরের চোখে বাকি সব কিছু মুছে গেল।

    এখানে এখন নোনা হাওয়ায় ফাল্গুনের আগাম বাতাস। কুবের খুশি হয়ে উঠতে পারত। মেদনমল্লর দুর্গটা ঢাউস ছায়া ফেলে দাঁড়ানো। তার ভেতরে আভাকে পাশে বসিয়ে মনের সুখে বইয়ের পাতা খুঁটে খুঁটে মাটির স্বভাব, পোকার চরিত্র—রহস্যময় আরেক জগতে ডুবে ছিলো খানিকক্ষণ। কিন্তু গায়ের রঙ কালো হয়ে যাওয়ার কথা শুনেই মনের মধ্যে একদম দমে গেল। জিনিসটা তারও চোখ এড়ায়নি। সেই আদ্দিকালে একদিন কারখানা ফেরত কুবের ট্রেনের জানলায় বসে তারই জাতের একজন লোকের মুখে শুনেছিল, ‘আমাদের মতো লোকের সবচেয়ে বড়ো শত্রু রোদ্দুর।’ চামড়ার ভালো দানাগুলো রোদে ক্ষয়ে যায়।

    আভা। আমার অসুখ আরও বড়ো। ইদানীং আমি পরিষ্কার টের পাই—গতকালও আমার শরীরের যে জায়গা সুন্দর ছিলো, আজই সকালে তা কালো হয়ে যাচ্ছে। একদিন শুধু চোখের মণি দাঁত, হাত পায়ের আঙুলের নখ যে যার পুরনো রঙ নিয়ে কোনরকমে টিকে থাকবে। আভা। ইদানীং আমি পরিষ্কার টের পাই—আমার মেরুদণ্ডে হাড়ের চাকতির বলবেয়ারিং মজ্জা শুকিয়ে যাওয়ায় তেল-মবিলের অভাবে খচখচ করে ওঠে। আমাকে আর কিছুতেই চালু রাখতে চায় না। কেননা, একটা স্যাড ঘটনায়—এক্সপিরিয়েন্স বলতে পার–আমার মাথার ভেতরে ঘিলুর পরতে পরতে মনে করে রাখার সিঁড়িগুলো একদিন ঘচাং করে মুছে যেতে পারে। যদি মনেও পড়ে, কথা বলতে পারব না। উপায় থাকবে না কোন। থাকলেও, মনে হবে অন্যের কথা।

    ‘অমন করে তাকিয়ে আছো কেন?’

    ‘তোমাকে দেখছি—’

    ‘ও কি দেখার ছিরি! চোখ নামাও। কুবের—’, আভার গলা চিরে গেলো। তব কুবেরের চোখ নামলো না। মণি গলে গেলে বোধ হয় এমনভাবে তাকায় মানুষ। দারুণ ঘোলাটে। কুবের নিজেকে মূর্তির কায়দায় আভার কাছে তুলে নিয়ে গেল। তারপর খুব আলগোছে আভার গালে ঠোঁট ছোঁয়ালো।

    ‘তোমার কি হয়েছে কুবের?’

    দিঘির দিকে তাকিয়ে বললো, ‘জানি না।’ তারপর বললো, ‘খুব কালো হয়ে যাচ্ছি?’

    ‘কে বললো! নোনা হাওয়ায় এমন হয়ই—’, দু’হাতে আভা কুবেরকে খুব করে ধরে ফেলার চেষ্টা করল। পিঠে হাত বোলাতে গিয়ে আদর ঢেলে দিল, ‘আমার একটা মোটে কুবের!’ তারপর গদ্‌গদ হয়ে গেলো, ‘কে বললে কালো! তুমি হাজার দিকে মাথাটা খাটিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছ। কি দরকার এতো সব? যা দেখতে পারবে না—রাখতে পারবে না—তার পেছনে শুধু শুধু ছুটে কি লাভ।’

    কুবেরের চোখের সামনে যতদূর দেখা যায়—বোরো ধানের সবুজ গোছ মাথা ঠেলে উঠেছে। ক’দিনের মধ্যে সারাটা তল্লাট আরো সবুজ হয়ে কালো মেঘ হয়ে উঠবে। তাদের গায়ে গায়ে বোশেখ মাসে আকাশ চলকে এসে পড়বে। এখনই কিছু কিছু বিয়েনকাঠি বেরিয়ে পড়েছে। দু’একটা গোল হতে শুরু করেছে। একটা খুঁত থেকে যাচ্ছে। মাঠময় সবুজের মধ্যে পাতার আলগা শ্রী গায়ে মেখে ঘোমটা পোকাগুলো লুকিয়ে আছে। তাই গাছের ডগায় লালি ধরেছে।

    টিনের মধ্যে এনড্রিন কালো জল হয়ে পড়ে থাকে। খুব কড়া বিষ। জলে গুলে দিলে সাদা হয়ে যায়। তাতে গা গুলোনো গন্ধ। পয়েন্ট থ্রি, পেট্রোল ইঞ্জিন বসানো স্প্রেয়ারের ট্যাংকে ওষুধ ভরে নিয়ে কামলারা কাপড়ে নাক মুখ বেঁধে নেয়—তারপর ওষুধ ছিটোয়। ধানক্ষেতের জলে ওষুধ পড়ে। সে জল গর্তে গিয়ে সাপের বাসায় পৌঁছয়। কত সাপ যে এই করে সাবাড় হয়ে গেল।

    মাটির শরীর ভালো রাখার জন্যে ভগবান কেঁচো দিয়েছে—হরেক রকমের পোকা দিয়েছে। তারা সময় সুযোগ মতো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মাটি ওলটপালট করে। নীচের মাটি ওপরে আসে—ওপরের মাটি নীচে যায়। ভগবানের তাবৎ কেঁচো—তাবৎ পোকা এনড্রিনের বিষে ফিনিশ।

    কামলাদের রান্নাবান্নার ধুন্দুমার, রোজ রোজ গুড়ুল বাঁশের গুলি খেয়ে পাখিগুলো বোধহয় আগেভাগেই কেটে পড়েছে। এখান থেকে কুবেরকে অন্তত তিরিশ হাজার মন ধান রেল স্টেশনের লঞ্চঘাটায় নিয়ে তুলতে হবে। নইলে এ খরচ পোষানোর কোন পথ নেই। ব্যারেল ব্যারেল পেট্রোল হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। পাম্প থেমে নেই। এরই মধ্যে মাটি ফেটে চৌচির। কত জল যে আরও লাগবে তার ঠিক নেই।

    সে এখন কুবের চকদার। কিছুকাল আগেও ছিল ড্রিম মারচেন্ট কুবের সাধুখাঁ। অনেক—অনেক আগে ছিল কুবের দ্যা ভ্যাগাবন্ড। অনেক বছরের তফাতে প্রথম দেখাতেই সনৎ বলেছিল, ‘তোর সেই হ্যাগার্ড লুকিং চেহারাটা কোথায়? খুব রেসপেকটেবল হয়ে গেছিস!’

    মা, তুমি পালম বুনতে এক কাঠা জায়গা চেয়েছিলে!

    আজ কুবের চাকদারের পায়ের নীচে হাজার হাজার বিঘে জায়গা।

    ‘কি হয়েছে কুবের? আমার গায়ের ওপর সবটুকু ভর দিলে আমি পারি? হাজার হোক তুমি পুরুষমানুষ তো। তোমাদের কাঠামোই আলাদা’

    কুবের তখনও সারা শরীরের ভার আভার বুকের ওপর ছেড়ে দিয়ে একখানা মূর্তি হয়ে কাত হয়ে পড়ে ছিল, ‘আমার কি হয়েছে বলতে পারো?’

    ‘সে কথাই তো বলছি! অমন করে তাকাচ্ছ কেন? আমায় বলবে না?’

    ‘তুমি আমার কে যে বলতে হবে! এই যে বলেছিলে-কি বিষ দিয়ে মারবে গো!’

    ‘নাও ওঠো। পড়ে যাব। তোমার লোকজন মোষ চান করাতে জলে নেমেছে। ওরা উঠে এলো বলে—’

    কুবের সরে এল, ‘আমি নিজেই বিষপাথর আভা। কোথাও তিষ্ঠোতে পারি না।’ বাকিটুকু বিড়বিড় করে বললো। ডাঙায় আমার একটা বউ আছে। সৃষ্টিধর আছে। কুসুম আছে। এখানে আবাদে অন্যের বউ ভাগিয়ে নিয়ে পড়ে আছি। আমি কলবাড়ি বানাতে এসে জটের মধ্যে জড়িয়ে যাচ্ছি। চেয়েছিলাম, মা, বাবা, বড়বৌদি, নগেন, বীরেন ওরা আসবে। সব হাতের কাছে এগিয়ে দেব। ভদ্রেশ্বরও আমাকে ছেড়ে গেলো। আমি আর ডাঙায় যাবো না।

    আভা। আমি তোমার শরীরে রোজ বিষ ঢেলে দিচ্ছি। তোমার আর নিস্তার নেই। কোন্‌দিকে তুমি পা ফেলবে? সব জায়গায় আমার শরীরের রক্ত বয়ে যাচ্ছে।

    সাক্ষাৎ যমের বাহন-মোষগুলো দল বেঁধে জল থেকে উঠে আসছে। সারি দিয়ে কুবেরদের বাঁয়ে রেখে এগিয়ে গেল। ভিনদেশী কামলাদের চোখে কুবের কখনও বড়বাবু, কখনও ভগবান। তারা ঠিকই করতে পারে না—এ লোকটার কত টাকা আছে। এতগুলো লোকের হপ্তা দেয়। হালের কাজ কবে শেষ। এখন নিড়েন চলছে, জল চলছে, ওষুধ চলছে। সারও ছিটোনো হয় ক’দিন অন্তর।

    ধান কাটার আগে দুর্গের ভেতর খানিক জায়গা পরিষ্কার করে নিতে হবে। রোজকার আছড়ানো ধান সেখানে তুলে রাখা হবে। সেদিকটা গোডাউন করে নিতে ত্রিপল চাই বড়ো বড়ো। ‘ডাহুক’ সেসব জিনিস আনতে রেল স্টেশনের লঞ্চঘাটায় যাবে। আরও পেট্রোল আনতে হবে—কেরোসিনও দরকার। ভদ্রেশ্বর কতকাল আসে না।

    তাঁবুর ঘরের পেছনে পোড়া ছাইয়ের ডাঁই-সিগারেটের খালি প্যাকেট আর পাখির পালক ছড়ানো। ট্রানজিস্টারের কিছু বাতিল ব্যাটারিও পড়ে আছে। কুবের বুঝল, সবই মানিয়ে যাচ্ছে যতক্ষণ নদীর মাথা ঠাণ্ডা থাকে। জল ক্ষেপে উঠলে কি দশা হবে বলা যায় না। একটা বর্ষা এখানে কাটালে তবে বোঝা যাবে।

    ‘পেয়ারা পেলে কোত্থেকে?’

    ‘খোঁজে থাকলেই পাওয়া যায়—’, বলতে বলতে আধখাওয়া পেয়ারাটা আভা আঁচলের নীচে সরিয়ে নিল। কুবের বলতে যাচ্ছিল, পইপই করে বারণ করেছি আভা-এই অজানা জায়গার কোন ফলপাকুড় আন্দাজে মুখে দেবে না। এ জায়গার সবটা এখনও আমারই দেখা হয়নি। খুব কম জানি এই দ্বীপের কথা। কিন্তু ফলটা লুকিয়ে নেওয়া, মাথা নীচু করে আভার হাসি—এসব দেখে ভেতরটা একটা টানা সুর তুলে ঝনাৎ করে থেমে গেল। ভাবলো, তা নিশ্চয় হয়নি।

    ‘আভা। আমার দিকে তাকাও।’

    আভা মুখ তুলল না। কুবের কাঁপতে কাঁপতে বললো, ‘মাথা তোল। আমার একটা কথা আছে। ‘

    ‘বল না—শুনতে পাচ্ছি।’

    ‘যা ভাবছি—হয়েছে?’

    এবারে মুখ তুলে তাকাল। কুবের কোন মানে করতে পারে না মেয়েমানুষের। যখন পুরনো ব্যথায় ভেতরটা চুলকে ওঠে—তখনও ওরা কিছুই হয়নি ভাব দিয়ে হাসবে। ‘কি ভাবছ আমি জানব কি করে! হাত গুনতে জানি?’

    কুবের দুই হাতে আভার কাঁধ জোর দিয়ে ধরল, ‘এখন ইয়ারকির সময় না—হাসি রাখো—’, আভার দুই কাঁধের হাড় কুবেরের হাতের মধ্যে প্রায় মটমট করে উঠল।

    হাসি নিবিয়ে আভা খিঁচিয়ে উঠল, ‘আঃ! ছাড়ো বলছি। লাগে না!

    কুবের নিজেই বুঝল, তার গলার স্বর করুণ হয়ে উঠেছে, আবেদনের চেয়েও নিরুপায়, ‘লক্ষ্মীটি—নষ্ট করার সময় নেই এখন। সত্যি কথা বল। জানো আভা, আমি জেনে-শুনে আর একজনকেও এই এখানে আনতে চাই না—কিছুতেই না আভা। তুমি একটু কাইন্ড হও—ইচ্ছে করলেই পারো-আমার সবটাই ঘুণ ধরা কাঠ—গুঁড়িতে, শেকড়ে—ডালপালায় সব জায়গায় পোকাগুলো কুরে কুরে খাচ্ছে—’

    শুনতে শুনতে আভা অবাক হয়ে তাকালো। সামান্য একটা ব্যাপার। তা নিয়ে এত লেকচার। কি হয়ে যাচ্ছে মানুষটা। আস্তে কুবেরকে ধরল ‘তোমার কি হয়েছে বলতো?’

    কুবেরের কথার তোড় বন্ধ হয়ে গেলো। শেষে আস্তে বললো,—তুমি তো সব জানো আভা। বলে দিলেই পারো।’

    ‘হুঁ। তাতে এতো চিন্তা কিসের?’

    জেতা লটারির টিকিট হারিয়ে লোকে এইভাবে বসে পড়ে। কুবের কোন কথা বলতে পারলো না। কামলারা দ্বীপে আসার আগে ডাঙা থেকে অনেক জিনিস সঙ্গে এনেছিল। তার মধ্যে মোটাসোটা একটা কালো বেড়ালও ছিল। ক’দিন খায়-দায় আবার জঙ্গলে গিয়ে হারিয়ে যায়। কি খেয়াল হয় ফিরেও আসে। দিঘির ওপারে যে একটা সজনে গাছ ছিল এতদিন চোখেই পড়েনি। বসন্ত শুরু না হতেই ক’দিনের ভেতর ডালে ডালে ফুল সাজিয়ে গাছটা একটেরে পোজ দিয়ে দাঁড়িয়েছে। ফাটা ফাটা বাকলে ঢাকা গাছের গা বেয়ে বেড়ালটা ওপরে উঠতে চাইছে। এসব দেখে দিঘির এপার থেকেই কুবেরের গা শিরশির করে উঠলো—তারই গায়ে কে থাবা বসিয়ে মাথায় উঠতে চাইছে। কষে কান মোচড়ানো তার যন্ত্রের কায়দায় টাইট হয়ে বসে আছে কুবের—এক বিন্দু ধুলো পড়লেই টঙ করে বেজে উঠবে। নানান্ ধারার মাংস পার হয়ে তার শরীরের মোটা মোটা হাড় গোড়াসুদ্ধ সরু একটা ব্যথায় চুলকোতে শুরু করে দিল।

    ‘এই কুবের—

    পটাং করে উঠে দাঁড়াল মানুষটা। ভোরবেলা থেকেই এমন মানানসই সকালটা আস্তে আস্তে কোনদিকে যে যাচ্ছে—আভা কিছুতেই ধরে উঠতে পারছে না।

    ‘এ তুমি কি করলে—’

    দাঁড়ানো কুবেরের কথায় আভা কিছুই বলতে পারল না। চারিদিকের চেনা চত্বর, দিঘির ধাপ তারই বিরুদ্ধে চুপচাপ নিষ্ঠুর হয়ে পড়ে আছে। কারও কিছু বলার নেই।

    ‘সবই তোমার হাতে ছিল আভা। তুমি সব জানতে।’

    ক’মাস এমন অসম্ভব সুখের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। এদানীং আভা আরামের মাথায় বিকেলবেলায় মেঘচাপা রোদ্দুরের আলোও দেখতে পেতো। নোঙর করা ‘ডাহুক’ নয়তো ‘বড়বিলের’ ডেকে চাঁদনী রাত দেখে নিজের হাতে বিছানা সাজিয়েছে কতোদিন। সন্ধ্যে হতেই কুবেরের দ্বীপের দুধলি ফুল তুলে বিছানায় ছড়িয়ে দিতো। অমাবস্যার রাতে সাদা সাদা বুনো ফুল মাথায় গুঁজে তাঁবুর বাইরে হ্যাজাক বাতির কড়া আলোয় কারণে অকারণে এটা ওটা আনার নামে বেরিয়ে পড়েছে আভা।

    ‘সবই তোমার হাতে ছিলো আভা—’

    আভা বলতে যাচ্ছিল, কচি খোকা নও তুমি। আজকাল সে সুখের এপিঠ ওপিঠ দেখতে পায়। সুখ তার বেলায় ভীষণ পাতলা।

    ‘কোথায় চললে—‘

    কুবের কোন জবাব দিল না। হনহন করে চত্বর পার হয়ে, দিঘি পেছনে ফেলে মেদনমল্লর দুর্গের ভেতরে চলে গেলো।

    আভা তখনও ডাকছিলো, ‘কোথায় গেলে? দেখতে পাচ্ছি না যে—’

    এমন সব আরও অনেক কিছু বলছিলো আভা। খানিক দূর শুনতে পেলো কুবের। তারপর চওড়া চওড়া দেওয়াল ফুঁড়ে বাইরের পৃথিবীর কোনো কথাই ভেতরে গেল না। তখনও কুবের এগোচ্ছিলো। দিনের আলো বাইরে পড়ে থাকলো। নেহাত বেগে হেঁটে যাচ্ছিলো—না হলে কুবের এতটা যেতে পারতো না।

    এখানে এখন আলো নেই—অন্ধকারও নেই। পরিষ্কার না হলেও কুবের কিছুটা দেখতে পাচ্ছে। আর এগোলে যদি দেওয়ালে ধাক্কা খায়। অনেক উঁচুতে আলোসুদ্ধ আকাশের খানিকটা দেওয়ালের ফ্রেমে ধরা পড়েছে। মেঝে ফুঁড়ে একটা আকন্দ গাছ ডালপালা ছড়িয়ে আছে। বাতাস নেই বলে নিস্তব্ধ। মেটে আলোয় জায়গাটা স্থির হয়ে পড়ে আছে। কুবের আর এগোতে পারল না। এখানকার ধুলো, এখানকার ঘাসে—কতকাল মানুষের পা পড়েনি। অথচ হয়তো এখান থেকেই জলপথে বেরোনোর খুঁটিনাটি ঠিক হতো। খাবার জলের বড় বড় কলসি হয়তো ভরে রাখা থাকতো।

    কুবেরের সন্দেহ হলো—আর কোনদিন এই ঘরের পর ঘরের জঙ্গল ফুঁড়ে সে বাইরের আলোতে বেরোতে পারবে না। কেন যে হনহন করে ভেতরে চলে এলো। এখন কোনদিকে যাবে। বাইরে মাঠময় ধানের গোছ। শিষ বেরোলে না-জানি কেমন দেখাবে। এখনও অনেক কাজ বাকি। দ্বীপের উত্তরদিকটা জঙ্গল হাসিল করে একে একে চাষে আনতে হবে। এক বছরে হবে না। অনেক সময় এক জীবনেও হয় না। সামনে তাকালে এখন কুবেরের সামনে শুধুই ভবিষ্যৎ। জমির পর জমি। যত দূর দেখা যায়—মাঠগুলো ঢেউ তুলে পড়ে আছে। শুধু তার ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া বাকি। গেলেই দখলে এসে যাবে। পালটা দাঁড়াবার কেউ নেই। এমন কোনদিন আসবে, যখন চাঁদ থাকতে থাকতে বেরিয়েও কুবের নিজের দখলের জায়গা জমি দিনের আলো ফুরোবার আগে হেঁটে কাবার করে উঠতে পারবে না।

    অথচ এই সময় মেদনমল্লর চওড়া চওড়া দেওয়ালের গোলকধাঁধা ছাড়িয়ে যদি বাইরে বেরোতে না পারে—তাহলে কি হবে। এ আমি কোথায় পড়ে গেলাম? ‘আভা। আমি এখানে। শুনতে পাচ্ছ—এই যে আমি—’

    চেঁচিয়ে দেখল, শুধু নিজের গলাই শোনা যাচ্ছে এখনও অনেক যে বাকি। ‘আভা—আমি এখানে—’, কুবের মরীয়া হয়ে উঠল, ‘সাড়া দিচ্ছ না কেন আভা?’

    একবারও খেয়াল হলো না, সে নিজে নিজেই এই অন্ধকারে চলে এসেছে। বাইরে থেকে আর কিছু শোনারও উপায় নেই। ঠিক তখনই আরেকজন খুব সাবধানে ভেতরে আসছিল। কুবেরেরই মতো সেও কোনদিন দুর্গের এতটা ভেতরে আসেনি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Our Picks

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }