Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প413 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুবেরের বিষয় আশয় – ১৯

    ॥ ঊনিশ॥

    সারেঙ মেদনমল্ল দ্বীপের তীর ঘেঁষে লঞ্চ নোঙর করল। তবু ডাঙা থেকে বেশ দূরে। বলা যায় না, এই নিশুতি রাতে বেপট জায়গায় কোন কিছু ডেকে উঠে আসে যদি।

    বোরো চাষের কামলারা ছোট ছোট কুজির ভেতর এখন অঘোরে ঘুমোচ্ছে। জঙ্গল হাসিল বুনো গাছের ডালপালা জড়ো করে কারা আগুন দিয়েছিল। তার নিবু আগুনে মেদনমল্লর পোড়ো দুর্গটা ঠায় দাঁড়ানো। কেবিনে গুমন্ত কুবের এক ঝটকায় জেগে গেল। ক্লা ক্লা শব্দ তুলে একটা মাছখেগো পাখি এই ঝকঝকে জ্যোৎস্নায় বেরিয়ে পড়েছে। বুঝতে পারেনি, রাত শেষ হয়নি। অন্ধকার ঘরে কুবেরের খুব ভয় ধরে গেল। আনপড় মেয়েমানুষটা জ্যোৎস্নার গোরে পাটাতন থেকে পড়ে যায়নি তো। শীত চলে গিয়ে হপ্তাখানেক খুব হাওয়া দিচ্ছে। কপালে লেগে হাওয়াতেই প্রায় নেশা ধরে হাওয়ার যোগাড় হয় এক সময়।

    ভয়ে ভয়ে বেরিয়ে এসে ডেকে দাঁড়াল। দ্বীপের দক্ষিণ দিকে ‘বড়বিল’ নোঙর করে পড়ে আছে। ‘ডাহুকের’ সামনেই চাঁদ আকাশের কোণ বেছে নিয়ে ঝুলে পড়েছে। লঞ্চের ডগায় খানিক অন্ধকার স্তূপ হয়ে আছে। কুবর এগিয়ে গেল। তারপর সাবধানে পাঁজাকোলে তুলে ফেলল।

    কেবিনে ঢোকার মুখে আভার ঘুম ভেঙে গেল, ‘আমি কোথায়? তুলে আনলে কেন?’

    ‘না আনলে ঢুলতে ঢুলতে জলে পড়ে যেতে কোন সময়!’

    ‘গেলে যেতাম!’ তারপর বিছানায় বসে বলল, ‘দু’বার ঘুরে গেলাম—তুমি ভোঁসভোস করে ঘুমোচ্ছিলে। জাগাইনি আর। লঞ্চের গলুইতে বসে মনে হচ্ছিল—আমি বুঝি সবার আগে, তোমাকেও পেছনে ফেলে নদীর পর নদী পার হয়ে যাচ্ছি।’

    কুবের গায়ে কাঁথা টেনে দিল, ‘পা ঢেকে বস।’ কী মনে হতে বলল, ‘গলুই কখনো আগে যেতে পারে না আভা। নৌকো, লঞ্চ-কাঠকুটো, হাল, পাল, মাস্তুল সবই একদিন হারায়—ধসে যায়, পড়ে যায়, ডুবে যায়—পড়ে থাকে শুধু গলুই।’

    ‘কি রকম?’

    ‘ঝড়ঝাপটার কথা ভেবে মিস্ত্রিরা এই জায়গাটুকু লোহা দিয়ে মুড়ে দেয় একেবারে। বছর বছর রং হয়। আমাদের ওখানে পুকুর কাটতে গিয়ে সাত হাত মাটির নীচে মাছ আঁকা রুপোর পাতে মোড়া একখানা গলুই উঠেছিল। আগে নদী ছিলওখানে। দেড় দু’শো বছর আগে কারও নৌকাডুবি হয়েছিল। সব ধুয়ে মুছে গিয়ে গলুইটা পড়ে ছিল—’

    ‘ওটা কি কুবের?’ বলতে বলতে কুবেরের বুকের মধ্যে চলে এল। কুবের চমকে গিয়ে পেছনে তাকাল, ‘কই? কোথায়?’

    ‘ওই যে—’

    ‘ওটা তো মেদনমল্লর দুর্গ। পেল্লায় দিঘি আছে সামনে। দামে ঢাকা বলে এমন জ্যোৎস্নাতেও রঙ ফোটেনি। নইলে—’

    ‘চিকচিক করত?’

    কুবের নিজেকে সামলাতে পারল না। এমন পোড় খাওয়া মেয়েমানুষটা কি করে জলের সামনে, আলোর সামনে খুকিটি হয়ে যায়। আর পাঁচজন পুরুষে যা করে, কুবের তাই করল। আলিঙ্গন ওরফে জাপটানেয়, তারপর বিছানায়। প্রথম রাতটা ঘুমিয়ে কুবেরের নাক মুখ চোখে নেশাভাঙা একটা আরাম লেগেই ছিল। ভোররাতেই ফুরফুরে হাওয়ায় সবকিছু সহজ হয়ে গেল তার কাছে। আভা আজ আর বললো না, ‘শেষে এ তুমি কি করলে—‘

    বরং আভা ফরফর করে উঠল, ‘নইলে চিকচিক করত? নদীর মতন? দিঘির সামনেই দুর্গ?’

    ‘ভোর হলে দেখতে পাবে—’

    ‘আমায় যেতে দেবে ওখানে? দিঘির সামনে? নেমে দেখব?

    ‘এত ভয় কর আমায়?’

    ‘তোমার দাদা নিজে কোনদিন কিছু দেখায় নি। শুধু বলত, বিকেলের আকাশে তাকিয়ে দেখো—যা ভাববে, তেমন ছবি হয়ে মেঘ ভাসছে। বল কুবের, রোজ আকাশ দেখা যায়? শেষে আমায় সাহেব মিত্তিরের সঙ্গে জুতে দিয়েছিল। লোকটা আমার গন্ধে গন্ধে ফিরত।’

    ‘বল, ভাল লাগত। লুকোচ্ছ কেন!’

    ‘না কুবের—আমি কিছু লুকোবো না। আমার যা বয়স তাতে কোন কিছু আর লুকোনোর মানে হয় না। আমার বিচ্ছিরি লাগত। আমায় নিয়ে শ্যাল কুকুরের মত টানাটানি লেগে গেল একদিন। আমিও একটা মানুষ—আমারও ঘোর লাগত, নেশা ধরে যেত এসব দেখে, কিন্তু কুবের—’

    ‘থামলে কেন?’

    ‘শুধু আমার জন্যে কেউ বসে আছে—এটা ভাবলেই ঘোর লেগে যেত। হাজার হোক আমি মেয়েমানুষ। ‘

    চাঁদ যাওয়ার আগে খুব আলো দিচ্ছিল। কুজি থেকে লোকজন বেরিয়ে পড়েছে। মাল্লাদের একজন চা নিয়ে এল। লেপে পা ঢেকে গরম চা মুখে দিতেই কুবেরের পরিষ্কার মনে হল, আভার সঙ্গে তার পরিচয় অনেকদিনের, মানুষটা বড় আপন তার।

    রোদে বেরোতেই ‘ডাহুক’ থেকে কাঠের পাতলা স্লিপার ফেলে দিল পাড়ে। তার ওপর দুলতে দুলতে টাল সামলে কুবের আর আভা মাটিতে গিয়ে পৌঁছল। সামনেই মেদনমল্লর দুর্গ। আভা মাটিতে আটকে গেল। এতবড় একটা জিনিস এই নদীপথে কতকাল দাঁড়িয়ে আছে। তারপর কুবেরকে পেছনে ফেলে ছুটে গেল। সেই দিঘি, পরীর সারি, দামভরা পুরু আস্তরণের ওপর পাখিরা বসে। আভাকে দেখে তারা একটও নড়ল না।

    কুবের পেছনে পড়ে গিয়েছিল। চত্বরে এসে দাঁড়াতেই আভা বললো, ‘এত পরিষ্কার—কাল বিকেলেও এখানে লোক ছিল মনে হয়।’

    কথাটা কুবেরের কানে গেল না। নদী থেকে পাইপ বসিয়ে দশ ঘোড়ার পাম্পের সঙ্গে লাগানো হয়েছে। চার ইঞ্চি মোটা নল দিয়ে জল এসে পড়বে মাটিতে ভিনদেশী কামলারা হালে মোষ জুতে ফেলেছে। জমি তৈরি হচ্ছে। আবাদ হবে।

    মাথার ওপর বিনবিন আওয়াজ শুনে ওপরে তাকাল কুবের। তার সঙ্গে সঙ্গে আভাও তাকাল। উঁচু খিলান থেকে একটা বুনো গাছের শেকড় ঝুলে পড়েছে। তার আষ্টেপৃষ্ঠে বড় সাইজের একটা মৌচাক ঝুলে আছে। খানিক জায়গা তার পোড়া পোড়া। চাকের আশেপাশে মৌমাছিরা দল বেঁধে পাক খাচ্ছে।

    ‘কাল পূর্ণিমা ছিল। কামলারা হয়ত আগুন দিয়ে মধু বের করে নিয়েছে—‘বারণ করনি কেন কুবের? মৌচাক সুলক্ষণ। ভরভরাটি করে তোলে সবকিছু।’ এখনও সংসারের নেশা লেগে আছে মেয়েটার চোখে। কুবের পরিষ্কার কিছু বললো না। শুকনো চাকের চারদিকে মাছিগুলো ঘুরে মরছে। কুবের আভাকে সেখানে দাঁড়াতে দিল না, মিথ্যে মিথ্যে বললো, ‘মধু নেই—এখন দেউলে মাছিগুলো যাকে পাবে কামড়াবে―চলে এস।’

    ক্যাম্প খাটানো তাঁবুর ঘরে ঢোকার আগে আভাকে সামলানো দায় হল। ফাঁকা বিরাট চত্বর থেকে নড়তে চায় না। দুর্গের সামনের দিঘির দিকে তাকিয়ে চুপ করে বসে থাকল। বোধহয় কুবেরকে লুকিয়ে দু’বার চোখ মুছল। কুবের যতবার উঠে আসতে বলে ততবারই আস্তে আস্তে বলে, ‘এমন জায়গাও ছিল কুবের। এমন জায়গাও আছে—‘

    জায়গার কথা শুনতেই কুবের খচ করে স্টার্ট নিল। ‘জান আভা, পৃথিবীটা জায়গায় জায়গায় ভর্তি। তুমি যত চাইতে পার তার চেয়েও বেশি জায়গা আছে—’

    আভা চত্বরে দাঁড়ানো কুবের সাধুখাঁর মুখের দিকে তাকাল। চোখ লাল হয়ে উঠেছে। চুল উড়ুউড়ু। মুখটা ফুলে উঠেছে। এ কার কাছে সে বসে আছে? মুখে বললো, ‘আমাদের পোড়াতে কতটুকু জায়গা লাগে কুবের?’

    কুবের তার নিজের কথার তোড়ে বলতে যাচ্ছিল, ‘জায়গা থাকলে কি হবে? আসল হল দখলে রাখা।’

    আভার কথায় ঘাবড়ে গেল। প্রথম কোন জবাবই দিতে পারল না। শেষে বললো, ‘ভোরবেলা কিসব আজেবাজে বকছো। তাঁবুতে যাবে তো চল—’

    ‘তুমি এগোও। যাচ্ছি। আরেকটু দেখে যাই—’

    দুপুরের মধ্যে সারা তল্লাট জমজমাট হয়ে উঠল। সত্তর আশিজন কামলা চুচকো ঘাস তুলে তুলে পাহাড় করে ফেলল। জমির মধ্যেই তা আস্তে আস্তে পচে সার হয়ে যাবে। দু’ দুটো পাম্প মেশিন নদীর অফুরন্ত জল তুলে জমির উপর উগরে দিচ্ছে। খাঁড়িতে কারা লাফা বসিয়েছিল। তাতে হরেক মাছ ধরা পড়েছে। কুবের কিছুটা নজর পেল।

    ভাত খেয়ে উঠে আভা হরিতকী তলায় গিয়ে পাখিদের ঠোকরানো একটা হরিতকী পেল। ধুয়ে মুখে দিতেই মুখের ভেতরটা আজব কষে খুব সুস্বাদু লাগতে লাগল। চারদিক খোলা, জোয়ারের জল মাটির ওপর অনেকটা উঠে এসেছে, কুবের রোদে পিঠ দিয়ে একমনে মৌজা ম্যাপ দেখছিল।

    ‘চল কোথাও ঘুরে আসি—বেশ অজানা জায়গা দিয়ে—যে পথে কেউ কোনদিন যায়নি।’

    কুবেরের ওঠার ইচ্ছা ছিল না। জে.এল আর ও. অফিসে মেদনমল্ল দ্বীপের একটা সরকারী বিলি ব্যবস্থার চিঠি আদায় করতে কুবেরের কম ঘোরাঘুরি করতে হচ্ছে না। কাগজপত্র নিয়ে বসেছিল। এতবড় জায়গা কম্পাউন্ড ওয়াল দেওয়ার কথাও ওঠে না। কিন্তু একখানা সরকারী কাগজ হাতে থাকা দরকার। মালিকানার একটুখানি চিহ্ন অন্তত।

    ‘তুমি ঘুরে এস। দুর্গের ভেতরটা ঘুরে ঘুরে দেখতে পার—’

    ‘একা আমার ভয় করে। হঠাৎ যদি ভয়ঙ্কর চেনা বলে ঠেকে যায়!’

    কথাটায় কুবেরের ভেতর-অব্দি একেবারে গুড়গুড় করে ডেকে উঠল। অবাক হল। আভা জানল কি করে? এইসব জেনে ফেলে বলে পরের বউ হলেও আভা ফট করে তার নিজের মেয়েমানুষ হয়ে গেছে।

    কুবের প্রথমে উঠল না। উঠতে পারল না। মৌজা ম্যাপের ভেতর দিয়ে নদীর দিকচিহ্ন ধরে ধরে তার চোখ এই মেদনমল্ল দ্বীপ খুঁজে ফিরছিল। কোমরের নীচে, পেছনে হাড়ের ভেতর আজকাল ওঠা-বসার সময় মড়মড় করে আওয়াজ হয়। গালে, কপালে কালো কালো ছোপ ছড়িয়ে পড়েছে। ভদ্রেশ্বর বলে, ‘ওসব কিছু নয় সাধুখা মশাই। নোনা মাটির দাগ বসে যাচ্ছে গায়ে গতরে। পয়সা হলে কিছু খেসারত মা লক্ষ্মী নেবেনই।’

    কুবেরও নিজেকে বোঝাতে চেয়েছে—আমার গায়ে কোথায় কিসের দাগ-দাগালি হল, তা নিয়ে আর মাথা ঘামানোর বয়স নেই। আমার তো আর ফিরে বিয়ে হচ্ছে না। পুরুষমানুষের ওতে কি আসে যায়। তাছাড়া এই দেহটা এখন তো পাবলিকের গালাগালি, হিংসে, শীত-গ্রীষ্ম—সবই এর ওপর দিয়ে এতদিন বয়ে গেছে—আরও যাবে।

    হঠাৎ তার নিজের নাম অনেক উঁচু থেকে ভেসে আসছে শুনতে পেয়ে কুবের উঠে দাঁড়াল।

    আভা দুর্গের চওড়া দেওয়াল ধরে অনেক উঁচুতে উঠেছে। সেখান থেকে নামতে পারছে না। হাওয়ায় শাড়ির আঁচল পতপত করে অনেকখানি উড়ছে। একটা দৃশ্য বটে। কুবের স্পষ্ট দেখল দিঘির ধারের একটা পরী প্রাণ পেয়ে উঁচুতে উঠেছে I

    এইসব ছেলেমানুষি আজকাল একদম বরদাস্ত হয় না কুবেরের। কিসব ছেলেমানুষি।

    ‘নেমে এস।’

    ‘ভয় করছে।’

    ‘খুব পারবে।’

    ‘একা ভয় করছে। তুমি এস—’

    কুবের টের পেল, এখন আভা পড়ে গেলে তার খুব কিছু যাবে আসবে না। আভা যে ভোররাতে ‘ডাহুকে’ উঠে এসেছে—সেকথা কেউ জানে না। এত বড় দ্বীপের যে কোন জায়গায় মাটি চাপা দিলেও কেউ জানতে পারবে না। শুধু কুবেরের কদমপুরে গিয়ে চুপ মেরে থাকতে হবে।

    দুর্গের ভেতরে ঢুকে কুবের অনেক কষ্টে আভাকে নামালো। নেমে ফেরার পথে সেই খিলানের ভাঙাপথ, শূন্য বাগান, দিঘির দাম ফুঁড়ে সিঁড়ির ধাপ নেমে গেছে। সেই প্রাচীন শূন্যতার মধ্যে কুবের আভাকে প্রাণভরে একটু চুমো খেল, ‘বাঃ! বেশ মিষ্টি গন্ধ তো।’

    ‘হরিতকী খেয়েছিলাম একটু আগে—তোমার দ্বীপের গাছের—’

    ‘গরম জামা আনোনি কেন?’

    কুবেরের কোলের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় আঁটোসাঁটো গড়নের মেয়েমানুষটি খুব রস করে বললো, ‘নাগো। এইতো বেশ নরমে গরমে আছি—’

    কুবের ধপ করে নামিয়ে দিল। দক্ষিণ থেকে হাওয়া উঠে এই ফাঁকা ডাঙাগাঁথুনির বিশাল কাঠামোর মধ্যে পড়ে লতাপাতা, গাছগাছালির কচি ডাল ধরে সরসর করে বয়ে গেল। তখন কুবের ভীষণ জোরে আভাকে আগের চেয়েও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। বুকের মধ্যে যত দূর পারে ঠেসে ধরে কুবের বললো, ‘বিশ্বাস কর—এসব জায়গা আমার ভীষণ চেনা আভা। আমি বোধহয় এখানে ছিলাম কোনদিন। আমি সব বুঝতে পারি—’

    ‘উঃ লাগে না? ছাড়ো বলছি।’

    আভার কুঁচকে ওঠা নাক মুখ চোখ দেখে ঠিক এই সময়ে কুবের একেবারে সিধে তার নিজের নাকের ওপর একটা ধাক্কা খেল। কি বিশ্রী দেখতে হয়ে গিয়েছিল আভার মুখ।

    নিমেষে দু’জনের কাটান-ছাড়ান হয়ে গেল। বাইরে দিঘির ধার দিয়ে আভা তাঁবুতে চলে গেল, একা একা কুবের সিঁড়ির ধাপে বসে পড়ল। তার ঘাড়ে গলায় এখন অনেক মাংস। চোত-বোশেখে গিলে করা আদ্দির পাঞ্জাবি জড়িয়ে এখনও সে সন্ধ্যের ফুরফুরে হাওয়ায় কলকাতার রাস্তায় ঘুরতে পারে, প্রেম করতে পারে, এসব ভালোভাবে করার রেস্তও তার হয়েছে। অথচ কিসের মায়ায় জমি জায়গা চাষ —আবাদের পিছনে ছুটোছুটি করছে নাগাড়ে কয়েক বছর।

    হাল থেকে ছাড়া পেয়ে গোটা চারেক মোষ দিঘির ধারে নেমে এসেছে। এত ঘাস, এত পাতা এর আগে পায়নি বোধহয়। দূরে জেলেদের নৌকা ভিড়ছে। এবারে বড় বড় ছুরি দিয়ে কিম্ভূত সব সামুদ্রিক মাছের গা চিরে চিরে রোদে শুকোনোর জন্যে টানিয়ে রেখে যাবে। এদেরই দেখতে পেয়ে কুবের প্রথমদিন দুর্গের মাথার ওপর দাঁড়িয়ে চটে উঠেছিল।

    পাখিরা আর ক’দিন পরেই উড়ে যাবে। কিছু চলে গেছে। তাদের ভাঙা বাসায় নতুন নতুন পাখি এসে বসছে। এরা ওপর দিয়ে যাবার সময় কোথাকার কি জিনিস—ঠিক ঠিক বুঝতে পারে, চিনতে পারে।

    পৃথিবীর এক জায়গায় শহর, এক জায়গায় কারখানা, খানিক জুড়ে নদী, গাছপালা, জঙ্গল। আমরা যে কোন একটার ভেতরে বসে থাকি বলে অন্যগুলো ঠিক ঠিক চিনতে পারি না। ভদ্রেশ্বরের ফেলে যাওয়া সিগারেটের একটা ফাঁকা প্যাকেট মেদনমল্লর চত্বরে পড়ে আছে। এমন জায়গায় এ জিনিসটা একদম মেলে না। বুড়ো দিনের বেলায় দিঘির ধারেই কাটাত। রোজ পাখির মাংস না হলে চলত না।

    কামলাদের ঠিকেদার বলে গেল, নতুন ধানের খানিক বীজ ফেলা বাকি ছিল। ভাল অঙ্কুর বেরিয়েছে। এবারে ভিজে ধান, বস্তা বোঝাই দিয়ে মুখবন্ধ হাঁড়ির ভেতরে রাখা ছিল চারদিন। রাতে শিশির, দিনে রোদ খাইয়ে সুন্দর কলা বেরিয়েছে। কুবের তার সঙ্গে সঙ্গে গেল।

    বিঘে দেড়েক জায়গা জুড়ে পচা গোবর, নানান্ সার ফেলে মাটির হরেক কারকিত করা হয়েছে। চারদিকে জল বের করার নালা। একজন সমান তালে ধান ফেলতে লাগল। হাতের মুঠোর ভেতর থেকে ছররা হয়ে ধান ছিটিয়ে বেরিয়ে আসছে—আর নরম কাদায় পড়ে গেঁথে যাচ্ছে। লোকটার পেছন দিয়ে শুধু চষা মাটির মাঠ—যতদূর দেখা যায়—শুধু তাই—তার পরেই জল, নদী—দূরে দূরে আর অন্য কোন দ্বীপের জঙ্গল, গাছপালা।

    আভা অনেকক্ষণ কুবেরের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। গায়ে সস্তার একটা আধা—গরম কাপড়ের ব্লাউজ। কাঁধে চাদরের মত একটুখানি মোটা কাপড় পড়ে আছে।

    ‘এসব ধান হবে একদিন।’

    ‘রীতিমত ধান। একটা চারা থেকে দশ বারোটা বিয়েন বেরোবে আভা—’

    ‘বুলু জানে এসব?’

    ‘কানে নেয়নি কোনদিন। ও বলে, এসব নাকি আমার নেশা।’

    ‘মেয়েটা কিন্তু ভাল।’

    ‘তা আমার চেয়ে আর কে বেশি জানে!’

    ‘আমিই জানি! তুমি তার কতটুকু বোঝ?’

    কথায় কথা যে কোন্ দিকে যাবে, তা বলা যায় না। আভা সাবধান হয়ে গেল। কারখানা গাঁয়ে তেল খোঁজার আড্ডায় বুলুকে দেখে আভা প্রথমদিন চমকে উঠেছিল। রেলেশ্বর শিবের কাছে মানত করতে এসেছিল বুলু। রেলেশ্বর শিব নাকি ভয়ঙ্কর রকমে জাগ্রত। সেখানকার দু’টি জাগ্রত সেবক আভার নিদারুণ পরিচিত—একজন ব্রজ দত্ত, অন্যজন সাহেব মিত্তির। সেই সাহেব বুলুকে এনেছিল।

    ‘তুমি কি জান বুলুর? সত্যি করে বল। আমি সব জানতে চাই।’

    ‘রহস্যও বোঝ না। নিজের বউকে চোখে চোখে হারাও! অথচ পলকে পরের বউ কবজা করে বসে আছ!’

    আভা ফিরে যাচ্ছিল। পেছনে কুবেরকে দেখে তাঁবুর পাশ কাটিয়ে উত্তরের নীচ জলাভূমির উঁচু পাড়ে গিয়ে দাঁড়াল। সেখানে হাওয়া কিছু বেশি ঠাণ্ডা। এখন তাকে কেউ আবার কোলে তুলে নিক। আচ্ছাসে জাপটে ধরুক। এই নিশ্চিত ভাবনাহীন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে কতকালের স্বপ্নের আনন্দ, ভালবাসা, চারদিকে ছড়িয়ে আছে। কোথাকার বিশাল পৃথিবীর ঝুলকালি দিয়ে এটুকু সে কিছুতেই নষ্ট হতে দেবে না। তবু পরিষ্কার বুঝতে পারল, তার মাথার ভেতর দিয়ে ড্রিলিংয়ের পাইপ নেমে যাচ্ছে। লোহার চেন কড়কড় করে ওপরে উঠে আসছে। আর দুর্গের চাতালে দাঁড়িয়ে সাহেব মিত্তির একটা কিম্ভূত বন্দুক বাগিয়ে ঠিক তার বুকের মাঝখানে টিপ করে নিরিখ করছে। হয়তো গুলীতে বুকটা ফেটে গেলেই সেখান থেকে গলগল করে তেল বেরিয়ে পড়বে। সেই তেলের জন্য কতলোক কতকাল মাটিতে উবু হয়ে বসে আছে। তাই আভাকে সেদিন ব্রজ প্রায় নীলামে তুলেছিল।

    ‘আমি জানি আভা—তুমি রহস্য করনি। তুমি এমন কিছু জান—যা আমাকে বলতে চাইছ না। একথা বুঝতে পেরেই আমার বুকের মধ্যে তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে—হাত দিয়ে দেখ।’

    আভা হাত রাখল, ‘শার্টের বোতাম লাগাও না কতদিন?’

    ‘যতদিন এই জমি-জায়গা চাষ-আবাদের পেছনে ঘুরছি—’

    ‘পড়ে যাবে। সাবধানে দাঁড়াও—‘

    টাল সামলে নিল কুবের। বড় বড় জলের পোকা শ্যাওলা মেখে এক একবার ভেসে উঠছে—আবার ডুবে যাচ্ছে, ‘পড়ব না। তুমি বল আভা—আমি সব জানতে চাই। বিশ্বাস কর আমি ভীষণ একা। আমার কেউ নেই। আমার যা আছে সবই জঞ্জাল। তা শুধু জমে যায়। জায়গা আটকে রাখে। অথচ ভেতরে তাকাও, আমার চোখে তাকাও, সেখানে হলহল করছে—একদম ফাঁকা—’

    ‘আমায় ফেলে দেবে নাকি? পাগলের মত কোথায় উঠে এসেছ দেখ একবার! দু’জনেই নীচে পড়ে যাব একসঙ্গে—

    কুবের নেমে এল। আভাও এল।

    তখনও সেই লোকটা সমান মাত্রায় ধান ফেলছে। অঙ্কুরের জট খুলে ধানগুলো ছিটকে গিয়ে নতুন মাটিতে গেঁথে যাচ্ছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Our Picks

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }