Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প413 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুবেরের বিষয় আশয় – ৯

    ॥ নয় ॥

    প্রবোধিনীকে আমি চিরকালই ভালবাসিয়াছি। ঢেঁকি শাক দুই প্রকার। এক প্রকার মাটিতে হয়—অন্য প্রকার বৃক্ষশাখায়। শেষোক্ত শাকের ডগা বড় নরম। এই শাক আমাকে সবিশেষ প্রযত্নে যোগাড় করিতে হইয়াছে। প্রবোধিনীর বড় প্রিয় জিনিস। জীবনটাকে লইয়া কত প্রকারে ছানিয়াছি। ভালবাসিবার এবং ঘৃণা করিবার এতো জিনিস জীবনে আছে আগে জানতাম না। ব্রজ কোলে আসিতে প্রবোধিনী আমার কুরূপ চেহারা যেন সুরূপ হইয়াছে-এই ভঙ্গীতে দেখিতে লাগিল। বালক ব্রজ এখন আমাদের সংসারের প্রধান আকর্ষণ। বড় ইচ্ছা, সে বড় হইয়া যেন একজন মানবদরদী চিকিৎসক হয়। আজ রাইটার্স বিল্ডিংয়ে বিপ্লবীরা ঢুকিয়া সাহেবদের গুলি করিয়াছে। কলিকাতা তোলপাড়। এই ডামাডোলে বাজারে অনেক ইলিশ আসিয়াছিল। কিনিবার খরিদ্দার নাই। চওড়া পেটি দেখিয়া আমি একটি কিনিলাম। জীবন কত দ্রুত বদলাইতেছে।’

    বুলু আরও পড়তে পারতো। পেছন থেকে কুবের জড়িয়ে ধরতে চমকে উঠল, ‘দিনের বেলা এসব কি?’

    ঠোঁট ও চোখ কোঁচকালে বুলুর বয়স দশ বছর বেড়ে যায়। অনেকবার কুবের ভুরু কোঁচকাতে বারণ করেছে বুলুকে। পেঁয়াজ খেতেও নিষেধ। চুমু খাওয়ার সময় মনে হবে এঁটো কলাই বাসনের গন্ধ দিচ্ছে।

    ‘তোলার জন্যে—’

    ‘আবার শাড়ি এনেছ? নিজের একটা গরম সুট করাবে করাবে বলছ আজ কতদিন। অথচ করলে না—’

    ‘হবে’খন। পরে দ্যাখোতো—’

    ‘এখুনি?’

    ‘হ্যাঁ এখুনি—‘

    ‘পাগল।! মা রয়েছেন—সবাই কি বলবে—‘

    ‘পরে এসো। দেখব।‘

    ‘না। কত দাম নিল?’

    ‘বলোতো?’

    ‘আটান্নো ঊনষাট—‘

    ‘পঁচাশি—’

    ‘কি আরম্ভ করেছ? টাকাগুলো নয়ছয় করছ এ ভাবে-আজ অফিসে গিয়েছিলে?’

    ‘নাঃ! কি হবে গিয়ে।’ কি মনে হতে কুবের বললো, ‘কি বই পড়ছো দেখি।’

    ‘তোমার ব্রজদার বাবার আত্মজীবনী।’

    বইখানা হাতে নিল কুবের। রজনী দত্তর জীবন এ সময়। লেখক ব্রজ দত্ত।

    ‘আজই ডাকে এসেছে।’

    কয়েক লাইনের ভূমিকা।

    ‘রজনী দত্ত আমার পিতৃদেব ছিলেন। বাঁচিয়া থাকিলে না-হোক নব্বই একানব্বই বছর বয়স হইত। যতখানি দেখিয়াছি জানিয়াছি তিনি সৎ থাকিবার চেষ্টা করিতেন। আমাকে লইয়া তাঁহার অনেক আশা ছিল। কিছুই পূরণ করিতে পারি নাই। নানাভাবে শুধু সৎ হইবার চেষ্টা করিতেছি। পুত্র হিসাবে তাঁহাকে জানাইবার দায়িত্ব আমারই। এই গ্রন্থ পাঠে কাহারও কোন কাজ হইলে বুঝিব আমার পরিশ্রম সার্থক।

    ‘খাঁটি গ্রন্থকার বনে গেছে ব্ৰজদা! বিয়ালি!’

    তাকিয়ে দেখল বুলু উঠে গেছে। ব্ৰজ দত্ত এখন ফকিরের আলখাল্লা পরে। দশ বারো বছর আগেও পুরো দস্তুর সাহেব ছিল। প্রথম আলাপ কলেজে। কলেজ সোস্যালে ম্যাজিসিয়ান ব্রজ দত্ত ম্যাজিক দেখাতে এসেছিল। কালো কোট প্যান্ট পরে স্টেজে নেমেছিল, হাতে ম্যাজিক ওয়ান্ড। পায়রা ওড়ালো সবার সামনে—আবার হাওয়া করে দিল।

    সেই প্রথম দেখা। দ্বিতীয় দর্শন বই পাড়ায়। ক্লাস এইটের র‍্যাপিড রিডারের একখানা নোট বই বেরিয়েছে। নোটমেকারের নাম বি দত্ত—ব্রজ দত্ত। খুব অবাক হয়েছিল কুবের, ‘তুমি এতোও জানো ব্ৰজদা—‘

    ‘জানতে হয় রে। আমাদের একটা ট্র্যাডিশন আছে রে! আমাদের স্কুল থেকে আমাদের ব্যাচেই ম্যাট্রিকে ফার্স্ট হয়েছিল কুমুদ রায়। তার সঙ্গে সকাল সন্ধ্যে আমার ওঠাবসা ছিল। সেই থেকেই আমি স্কলার—’

    ‘কোন্ ডিভিশনে বেরিয়েছিলে?’

    ‘রয়াল অবশ্য। তাতে কি? সঙ্গ গুণ বলে কিছু আছে না?’

    কি করে লিখতে হয় জানলে, কুবের একখানা বই লিখত। বইয়ের নাম দিত ব্রজ দত্তর জীবন ও বাণী।

    পাঁচটি সন্তান ও একটি বাড়ি সমেত এক বিধবার সঙ্গে ব্রজদার প্রথম বিয়ে। মহিলার গর্ভে ব্রজ দত্তর প্রথম সন্তান জন্মাল। ছেলেটির বছর দুই বয়সের সময় কুবের ব্রজদাকে ফুটপাথ থেকে দর করে পাঁচসিকের মোজা বারো আনায় কিনতে একদা সাহায্য করেছে। তখন ব্রজ দত্তর বড় দুঃসময়। ফিল্ম লাইনে হবু ডিরেক্টর। পায়জামা, পাঞ্জাবি পরে সারাদিনের শেষে মাল খেয়ে বাড়ি ফিরতো। কুবের আর সেই মহিলা ধরাধরি করে ব্রজ দত্তকে বিছানায় নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিতো।

    সে সময় কুবের একবার বড় বিপাকে পড়েছিল। হঠাৎ সিনেমার সর্বভারতীয় চালু সাপ্তাহিকে খবর বেরোলো—মালটি মিলিয়ান রুপিজ কালার ফিল্ম ভেনচার। হিরো নিউ ফাইন্ড কুবের সাধুখাঁ—হিরোইন সবচেয়ে জ্বলজ্বলে তারকা সুরাইয়া। ডিরেক্টর ব্রজ দত্ত। জানাশোনা মহলে তোলপাড়। মুখ দেখানো যায় না। পুরো ব্যাপারটাই ব্রজ দত্তর একটা বৃহৎ গুল। নিজের ব্যানারে ছবি তোলার জন্য এমন দু’চারটে গুল প্রেস কনফারেন্স করে মারতেই হয়। নাহলে ফাইনানস্ আসবে কোত্থেকে? তখন কুবের কনফার্মড্ বেকার। মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার থেকে রেডিওর তেলুগু ট্রান্সলেটর—সব চাকুরিতেই এলোপাথাড়ি অ্যাপলিকেশন ছাড়ছে। কোনোটা লাগে না। রোগা হতে হতে ওজন প্রায় একশো পাউন্ড। এক রেসুড়ে বন্ধু তো কুবেরকে পেয়ে যেন স্বর্গ পেয়েছে এমনভাবে জড়িয়ে ধরল রাস্তায়। তার কি আদর!

    ‘তুই মাইরি আদর্শ জকি হতে পারবি। চল তোকে একজন ওনারের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেব।’ কুবেরকে নিয়ে প্রায় টানাটানি।

    বুলু চা হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকতেই একটা হর্ণ শোনা গেল। কুবের বললো, ‘ওই যাঃ। ভুলে গেছি—’

    ‘কি? আবার ট্যাক্সি দাঁড় করিয়ে রেখে এসেছ নীচে—তুমি যা হয়েছ একখানা!’

    ‘না হয়ে উপায় কি বুলু? বড় ক্লান্ত শোনাল কুবেরের গলা। এ-মাসে না হোক জনা ছয়েক জমি কিনেছে কুবেরের কাছ থেকে। কত কি বলতে হয় কুবেরের,’জায়গার আমার ত্রুটি অনেক। সুবিধে শুধু নিরিবিলি,আর দক্ষিণের হাওয়া। যে যার বাড়িটুকু করে নিলেই কোন খুঁত থাকে না আর।’

    দাম? দাম বলে কিছু আছে নাকি আর। এখন কুবেরের মুখ দিয়ে যা বেরোয়—তাই-ই প্রায় দাম। কত লোক যে জমি চায় তার ইয়ত্তা নেই। ভাবতে গেলে তার মাথা ঘুরে আসে। এক একটা প্লটের দাম তার এক বছরের মাইনের চেয়েও বেশী।

    আবার হর্ণ। ‘তাড়াতাড়ি কর। শো আরম্ভ হতে দেরি নেই।’

    ‘বলা কওয়া নেই—এখন সিনেমায় যাবো কি করে? খোকনও ফেরেনি পাক থেকে।’

    ‘মা দেখবে। চলো তো। নতুন শাড়ি পরেই চল।’

    রাস্তায় বেরিয়ে কুবের স্পষ্ট বুঝলো আরও আগে বেরোলে ভাল হতো। তার জন্যে পৃথিবী প্রায় শেষ হয়ে আসছে। সিগারেটের বিজ্ঞাপনগুলো যা হয়েছে আজকাল শুধু দপদপ করে। কি বাহার! ট্যাক্সিতে বুলু বললো, ‘এভাবে টাকা নষ্ট করো না। কদিন পরে খোকনেরও একজন খেলুড়ে জুটবে তখন অনেক টাকা লাগবে।’

    ‘আজ একটা সাপ দেখলাম বুলু। আমাকেও দেখছিল।’

    ‘শেষ রাতে তো। আমিও দেখেছি। সাপের স্বপ্নে বংশবৃদ্ধি!’

    ‘শেষ রাতে নয়। আজই বিকেলে দেখলাম-–’, হঠাৎ থেমে গিয়ে কুবের বললো, ‘দাঁত পড়ার স্বপ্ন দেখলে কি হয় জান?’

    বুলু চুপ করে ছিল। কলকাতা মাড়িয়ে ট্যাক্সি ছুটছে, ‘সন্তানশোক—’

    ‘চুপ করবে?’ তারপর বুলু বললো,’ তুমি আজকাল আর আভা বউদিদের বাড়ি যাও না?’

    ‘যাওয়ার উপায় নেই বুলু।’

    তাকিয়ে আছে দেখে ফিরে বললো কুবের, ‘আমার যেতে মন্দ লাগে না! কিন্ত কদমপুরের সবাই এমন চোখে দেখে ব্রজদাকে, কি বলব—কেউ ভাবে স্পাই, কেউ বলে লম্পট, নয়ানরা মনে করে ভগবানের নামে জায়গা দখলের তালে আছে-তাই আমি আর মিশতে পারি না। অথচ ব্রজদা খারাপ-এ কথা আমি কিছুতেই বলতে পারি না। ভাল? তাই বা বলি কি করে!

    সিনেমা শুরু হয়ে গিয়েছিল। অন্ধকারের মধ্যে জায়গা খুঁজে নিয়ে বসতে বসতে কুবেরের মনে হল, কোথায় যেন কি করা বাকি রয়েছে—কি যেন ভুল করে ফেলে এসেছে। আজকাল সব সময় মনে হয়, কোথায় যেন ভুল হয়ে যাচ্ছে। একটা বড় গিঁট পড়েছে আন্ডারঅয়ারের দড়িতে। সেটা কিছুতেই খোলা যাচ্ছে না।

    ‘মার জন্যে আমার বড় কষ্ট হয় বুলু।’

    ‘এখন সিনেমা দেখো তো। পরে শুনব।’

    কুবের দেখল, একটা উজ্জ্বল দৃশ্যের আলো পর্দা থেকে ছিটকে দর্শকদের মুখে পড়েছে। সবাইকে দেখা যাচ্ছে। বুলুর মুখ খুবই সুদৃশ্য। টিকলো নাক, টানা চোখ, ছোট কপালের ওপর ঘন বুনোটের দুই থাক কালো চুলের মাঝখান দিয়ে একটা লাল ডগডগে সিঁথে। এই মেয়েলোকটি তো তার বৌ। ইদানীং বুলুর নাক মুখ চোখ কি তৃপ্তিতে ঢলঢল করে। অথচ বুলুর সঙ্গে বিয়ের আগে আলাপের সময় হাত ধরতেই কেমন খিঁচিয়ে উঠেছিল।

    .

    এই আলোতে নিজের হাত দু’খানা মেলে ধরতেই কেমন পাথরের মত হয়ে উঠল খুব ফরসা দেখাচ্ছে। আমি কুবের সাধুখাঁ। আমাদের চার পুরুষ আগে লবণের গোলা ছিল। আমার মা ঘাড় ফেরালে চিবুকের নীচে আজও নীল নীল শিরা দেখায় যায়। আমার হাতের আঙুলে কালো কালো ছোপ পড়েছে। কনুইতেও কালো ছোপ। কুবের স্পষ্ট বুঝলো এবারে তার গা আস্তে আস্তে কালো হয়ে যাবে। বহরিডাঙ্গা রেজিস্ট্রি অফিসে সারাগায়ে এমন কালচে ছ্যাতলা পড়া একটা লোক পয়সা চেয়ে বেড়ায় সবার কাছে। গায়ে গা লেগে যাবার ভয়ে সবাই তাকে পয়সা দেয়। লোকটাও চাইবার আগে একেবারে গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। বিমল ডাক্তারকে আজকাল আর দেখা যায় না। বদলি হয়ে যায়নি তো।

    অথচ তার হাত-পায়ের আঙুলের গাঁটে কালো ছোপ পড়ার কথা নয়। সেদিন যদি সনতের সঙ্গে শেফালির ঘরে গিয়ে না বসত! সেইসব কথা মনে পড়লেই একটা ভয়ঙ্কর ওজনের পাথর কিংবা লোহার দরজা তাকে একেবারে মাটিতে চেপে ধরে। নিঃশ্বাস ফেলা যায় না।

    শেফালির ঘর থেকে ফেরার পর বেশ কিছুদিন ভয়ে ভয়ে ছিল কুবের। কেউ যদি দেখে থাকে। ক’দিন পরে এমন শরীর খারাপ হল। এমনিতেই মনে মনে কুবের মরে ছিল। বীরেন লস্কর স্যার বদলি হয়ে গেছেন। সারা স্কুল কেমন শুকনো লাগে। রাস্তাঘাট মায়া মমতাহীন। কন্ঠমণি ঠেলে উঠে একটা বেয়াড়া আওয়াজ গলা দিয়ে বের হয়।

    শেষে ডাক্তার ডাকতে হল। তখন কুবেরের পুঁজ বেরোতে শুরু করেছে। কি লজ্জা। কোথাও যাওয়া যায় না। কাউকে বলা যায় না। বিষ খাবার পর শেফালিকে বাঁচিয়েছিল হরি ডাক্তার। সেই হরি ডাক্তার এসেই দরজা বন্ধ করে দিল। তারপর মার সামনে কুবেরকে সব বলতে হল। ডাক্তার একটা লম্বা লেকচার দিল। কুবেরের কানে কিছু যায়নি। তখন পেনিসিলিন যুদ্ধের সাহেবদের জন্যেই শুধু বিলেত থেকে আসে। ভয়ঙ্কর দাম। অনেক মিকশ্চার, ইনজেকসন, ট্যাবলেট চলল। মার আদেশে কুবের রোজ ঘুম থেকে উঠে গীতার দ্বাদশ অধ্যায় পড়ে। কালীর ফটোর সামনে দম আটকে ব্লেড দিয়ে বুকের ঠিক মাঝখানটায় একটু চিরে কুবের রোজ ভোরে ফটোর ফ্রেমে খানিক রক্ত লাগাতো। লাগানোর পর আটকানো নিঃশ্বাস ছেড়ে দিত। অসুখ থেকে ওঠার পর নিয়মে থাকতে থাকতে কুবেরের গায়ে সবরি কলার ঘিয়ে রং ধরল। সব সময় ভয় হত, তার বয়সী বন্ধুদের সঙ্গে মেশার সময় মা এমনভাবে তাকাতো যেন সব সময় চোখ দিয়ে বলছে, কুবের তুমি ওদের সঙ্গে মিশছো, কিন্তু ওরা তো জানে না তুমি কি করে বসে আছ। মার চোখের সামনে একেবারে মাটিতে মিশে যেত কুবের। কাচের পিচকিরিতে গরম জলের সঙ্গে একটা হলুদ ওষুধ মিশিয়ে মা ধারা করে পুঁজের জায়গায় দিতো। একদিন সন্ধ্যেবেলা জ্যোৎস্নার মধ্যে পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে গাদি খেলছিল। মা ডেকে পাতা মোড়ানো একখানা মাসিক পত্রিকা হাতে দিল, এই লেখাটা পড়ো।’

    পত্রিকাখানা হাতে নিয়ে মাকে এত কঠিন লেগেছিল কুবেরের। একটুও পড়েনি সে। পড়ে কি হবে। ভালো হবার জন্যে অসুখ সেরে ইস্তক কত কি করে চলেছে সে। দেওয়ালে রুটিন। পড়ার বই সব বালি কাগজ দিয়ে মোড়া, টেবিলে টাইমপিস, তার পাশেই গীতা চণ্ডী—উপরন্তু ব্রাহ্মমুহূর্তে ব্যায়াম।

    মাঝখান থেকে ফল হল, তার চেহারাটা ফিরে গেল। পাড়ার মেয়েরা টালুস টুলুস তাকায়। কলেজের মেয়েদের সঙ্গে আগে ভোররাতে বকুল ফুল কুড়িয়ে মালা গাঁথতো। তাদের দু’একজন আড়ালে পেলে আদর করে গাল টেপে। আর দিনকে দিন ভালো হবার জন্যে, নির্দোষ দেখাবার জন্যে, নিষ্পাপ কুসুম হওয়ার লোভে সে অজান্তে নিজের মুখে একটা প্রশান্ত, ভাবলেশহীন ছায়া পাকাপাকি ঝুলিয়ে দিল। বিয়ের পর বুলুই বলেছিল, ‘তোমার চোখ গরুর চেয়েও শান্ত—তাকাও এমনভাবে, যেন কিছুই জানো না। ‘

    সিনেমায় এমন সময় নায়িকা দোতলার ঝুলবারান্দায় একটা আবেগের গান জুড়ে দিল। অন্তরায় তাল রাখার জন্যে দুই কলির ফাঁকে নায়িকা দু’বার বড় বড় দুটো দীর্ঘশ্বাস মিউজিক বুঝে ছাড়ল। বুলুও আবেগ দিয়ে কুবেরের দিকে তাকাল। এইসব বুলুর খুব ভাল লাগে, ‘কি ভাবছ?’

    ‘পোর্টফোলিও ব্যাগটা খাটের ওপর ফেলে এসেছি—’

    ‘টাকা ছিল?’

    ‘সাত হাজার।’

    ‘আমি আন্দাজে তোষকের নীচে গুঁজে রেখে এসেছি।’

    ‘তার মধ্যে ডায়েরিতে একটা ফোন নম্বার ছিল, মনে পড়ছে না—’

    ‘নাম মনে আছে?’

    ‘রেফ্রিজারেটর কোম্পানির ইঞ্জিনীয়ার এস কে বসু। এগারো কাঠা জায়গা নেবেন। হাজারের দর। সিনেমা থেকে বেরিয়ে গাইড দেখে ফোন করতে হবে আবার—’

    ‘হাজার-টাকা কাঠা! শেষে জানাজানি হলে ‘

    ‘জানাজানির কি আছে? জায়গার দাম এমনই হয়। এসপ্ল্যানেডে আগে কত দাম ছিল? খুব সস্তা ছিল নিশ্চয়—না হলে মোহনদাসবাবু গরুদের জল খাওয়ার জন্যে তড়াগ কাটাতে পারতেন?’

    ‘সে তো অনেক আগের দিনের কথা। হয়তো রাস্তা ছিল না, আলো ছিল না, লোক ছিল না—’

    ‘আমরাও তো আগে কিনেছি। রাস্তা বানাবো, আলো আনাবো—’

    ‘এখন সিনেমা দেখো। শুধু জায়গাজমির চিন্তা! কি হয়ে যাচ্ছো তুমি—’

    আজকাল কলকাতার রাস্তায় ফাঁকা জায়গার দেখা পাওয়া কঠিন। কলকাতার বাইরে বেরোলেই এন্তার ফাঁকা জায়গা। কোথাও কচুরিপানা হয়ে আছে, কোথাও সুপুরি নারকেলের বাগান—একটু ভেবেচিন্তে সাজিয়ে গুছিয়ে নিলে সেসব জায়গায় দিব্যি বাড়ি হয়, পাড়া হয়, সন্ধ্যে হলে শঙ্খ বাজানো যায়।

    হাত দু’খানা মুঠো করে ফেলল কুবের। বিমল ডাক্তারের কথামত ট্রপিকালে গিয়ে দরজা থেকে ফিরে এসেছে। লাইনে হরেক অসুখের মানুষ। বোধহয় তার সেসব অসুখ আর নেই। থাকলে খোকন নিশ্চয় অন্যরকম হতো। অবিশ্যি এসব অসুখে প্রথমটা সব চিহ্ন লোপ পায়। পরে আস্তে আস্তে দেখা দেয়। তখন আর সারানো যায় না। তার মেরুদণ্ডের হাড়ের ভেতর আজকাল, কুবেরের সন্দেহ, সবকিছু বুঝি শুকিয়ে যাচ্ছে। কাৎ হয়ে শুলে মটমট করে ওঠে। খোকনের ঠোঁট খুব লাল। চোখে আলো বেরোয়, হাসলে দাঁতের ঘষাঘষিতে মিছরি চিবোনের মিষ্টি গন্ধ মেশানো মুড়মুড়ে শব্দ হয়।

    অথচ সনৎ দিব্যি আজও সেসব জায়গায় যায়। এখন কুবেরের কাছে দিনকে দিন একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। বুলু, মা, খোকন, তার এবং আর পাঁচটা মানুষের শরীর কিছু মাংস, হাড়, বাতাস, রক্ত, চর্বি, ঝিল্লি, শ্লেষ্মা এসব জিনিস দিয়ে বানানো। তারই মধ্যে সব জিনিসেরই এক একটা মাত্রা আছে। এর ভেতর একটু এদিক ওদিক হলেই গণ্ডগোল। নয়তো যন্ত্রটা ভালো মেকের। কত সামান্যের জন্যে আজ বিকেলে বেঁচে গেছে কুবের। সাপটা মাথা তুলে দেখছিল তাকে। কি চাই? এখানে কেন বাবু? ভাগ্যিস থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। ভদ্রেশ্বর ডাকছে, শুনতে পেয়েছিল। কিন্তু উত্তর দেবার উপায় নেই। তার গলার আওয়াজে যদি তেড়ে আসে। দৌড়ে কূল পাবে না।

    হিরোর চেস্ট চমৎকার। আজ কুড়ি বছর এক চেহারা নিয়ে হাসছে, গাইছে, টাকা কামাচ্ছে। একই লোক দিয়ে টুথপেস্ট আর ব্লেডের বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়। ইচ্ছে করলে হোসিয়ারি কোম্পানি হিরোর গায়ের ছেলে-মার্কা ছবি দিয়ে গেঞ্জি অ্যাডভারটাইজ করতে পারে। কালো চুল দেখিয়ে তেল কোম্পানি আর স্যুট পরা ছবি দেখিয়ে ভালো পাড়ার দর্জিও খদ্দের টানতে পারে। ভোগ্য পণ্যের এমন মালটিপারপাস জ্যান্ত পুতুল তখন হিরোইনকে জড়িয়ে ধরে বিবেকের রোলে কথাবার্তা বলছে।

    বুলু বলল, ‘অমন পারবে?’

    ‘রোজই তো করি—’

    ‘উহ! তুমি তখন খারাপ খারাপ কথা বলো শুধু—’

    তা কুবেরকে বলতে হয়। শরীরটা এমন বেয়াড়া। ইদানীং না চাবকালে চলতেই চায় না। অথচ সে মোটেই বেতো ঘোড়া নয়। আসলে চাঙ্গা হওয়ার কায়দা রোজ ভুলে যাচ্ছে। গান জানে না, জানলে গাইতো। সেদিন বুলুর অ্যাকাউন্টে একটা লম্বা টাকার চেক জমা দিয়ে ফেরার পথে বার বার মনে হচ্ছিল, ব্যাংক পাড়ার এই এলাহি মনোরম সব রাস্তায়, সারি সারি ঝকঝকে বাড়ির ছায়ায় হঠাৎ মোটর থামিয়ে কুবের খুব ভাবালু একটা গান ধরবে, গাইতে গাইতে স্টিয়ারিং-এ মুখ রাখবে, তন্ময় দুপুরবেলা, গাছের ছায়া নিয়ে হাওয়া নিঃশব্দে যাতায়াত করবে—বুলু শুনতে শুনতে তাতানো পথের শুকনো বকুল তুলতে খুট করে দরজা খুলে নেমে পড়বে।

    এসব এত ফানি! এখন আর তাকে মানায় না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Our Picks

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }