Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প413 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুবেরের বিষয় আশয় – ৬

    ॥ ছয় ॥

    ‘কী হলো—’, পারলে বুলু জোরে কেঁদে উঠতো। এক একদিন মনে হয় এত চাপে বুকের পলকা হাড়গুলো মুড়মুড় করে ভেঙে যাবে। অথচ তখন খেয়াল থাকে না।

    ‘ঠিক করেছি—’, খোকনের পা বুলুর পেটের ওপর পড়ল।

    নাকে অনেকটা বাতাস ভরে বুলু অন্ধকারে শুয়ে শুয়েই হাসল। খুকখুকের বদলে একটা বড় উঁ ধরনের আওয়াজ হল। বুলুর কুবেরের ওপর খুব রাগ। বউ কষ্ট পাবে—চাই কি কাটা ছেঁড়া করতে গিয়ে মরেও যেতে পারে—সেজন্য এমন পুতুপুত হয়ে চলবে?

    ‘মনে নেই? খোকনের বেলায় মর মর হয়েছিল—’

    ‘তা বলে রোজ ফেলে দেবে?’ বুলুর মাথায় আগুন ধরে যাওয়ার যোগাড়। হিসেব মত আজ বোধহয় জোড় দিন ছিল। তারও প্রায় হয়ে এসেছিল—অথচ এমন সময়—

    অন্ধকার। আয়না থাকলেও মুখ দেখা যাবে না। মশারিতে কে আর আয়না রাখে। একটু আগে বুলুর শেকড়-বাকড় সুদ্ধ কুবের মোটা ভারি শাবল দিয়ে খুঁড়েছিল। এক এক খোঁচায় বুলু ডালপালা সমেত ওপরে ওঠে যাচ্ছিল—আবার নীচেও পড়ছিল। এসব সময় কুবেরকে তার এত নিজের—এত জোরালো, ভর দিয়ে দাঁড়ানোর মত লাগে। পিঠ, পিঠের হাড়, হাত দু’খানা ছুঁতে সবচেয়ে আরাম। এক একদিন কিন্তু সে আগে ফুরিয়ে যায়—কুবের খুঁড়ে চলে। সেসব সময় নিজেকে একটা কাঠামো মনে হয়, একেবারে কাঠের—কুবের আরও বড় কাঠামো—তখন খুঁড়লেও শরীরের ভেতরের শক্ত জিনিসপত্রে শুধু গুঁতো।

    কুবের মুখ খুললো না। এসব কথার জবাব আসে না তার। কত কাজ বাকি। ধনরাজের টাকাটা নিয়ে চটিরামের জমি বায়নার কথাই বুলু জানে। বায়নার টাকা ফেরত নেওয়ার কথা জানে না। কীভাবে বলবে। সেদিন সারা দিনের ওই টানাপোড়ানের পর এখন কিভাবে বলবে বুলুকে।

    বুলু কুবেরকে খোঁচালো না।

    কুবের মনে মনে পুজো প্যান্ডেলের ধারায় বাঁশের কাঠামোর মত পর পর তার প্ল্যান সাজিয়ে দেখল—এখনও অনেক কাজ বাকি। ন্যাড়া করণীয়গুলো মাথা ঠেলে শুধু বাইরে বেরিয়ে আছে।

    সস্তায় খানিকটা জায়গা ধরতে হবে। তারপর সে-জমিতে মাটি ফেলে উঁচু করার ব্যাপার আছে। মাটি বসতে বছর দুই—তারপর ভিত্ খোঁড়ার পালা! ভিতের আগে অবশ্য প্ল্যান—ক’তলা বাড়ি হবে তাও ভেবে-চিন্তে ঠিক করতে হবে। ধনরাজ তো বারবার দেবে না। এই অবস্থায় আবার যদি বুলুর পেট ফুলে ওঠে—সে এক দুশ্চিন্তা।

    ‘তোমার তো কোন চিন্তা নেই—হলেই হল।

    বুলু ঘুমিয়ে পড়েছিল প্রায় ফোঁস করে উঠলো, ‘তোমার জমি-জমা কবে শেষ হবে বলতে পার?

    ‘হয়ে এসেছে—’

    ‘চটিরামের জায়গাটুকু কিনে স্থির হয়ে জিরোও কিছু দিন—এই যে সারাদিন চরকির মত ঘুরে বেড়াচ্ছ—কোন্ দিন আবার রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে না পড়ে যাও।’

    একবার জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল কুবের। বছরখানেক আগে। সকালবেলা খিদের মুখে পাঁচখানা আটার রুটি গিলে বেরিয়েছিল। হজম না হয়ে শেষে কি যন্ত্রণা বুকের ভেতর। প্রায় দৌড়ে বাড়ি ফিরছিল। ট্রামবাস বোঝাই, ট্যাক্সিগুলো হাত তুললে থামে না—বড় রাস্তার মোড়ে ঘুরে পড়ে গিয়েছিল।

    অজান্তে বাঁ হাতের কড়ে আঙুলের গাঁট গায়ে ঘষে দেখলো কুবের। জায়গাটা শুধু কালোই হয়নি—কেমন খসখসে হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার দেখাতে হবে।

    ‘চটিরামের জায়গা কেনা হবে না।’ অন্ধকারে মুখ দেখা যায় না। এই সময় কঠিন কাজ খুব সোজা হয়ে যায়।

    ‘কেন?’

    কুবের সব বললো। খানিকক্ষণ কোন কথাই বলতে পারল না বুলু। সারাদিন শুধু রোদে পোড়ার ব্যাপারটা ঘুরে-ফিরে মনে পড়তে থাকলো। ঠিকই করে ফেলেছিল, রাস্তার দিকে ফুলবাগান করবে। দোতলার ছাদে জ্যোৎস্না উঠলে খোকনকে তোলা বিছানায় উপুড় করে ঘুম পাড়াবে।

    কোন সাড়া না পেয়ে কুবের বললো, ‘অন্য কয়েক জায়গা দেখেছি। দর অনেক কম—তবে স্টেশন থেকে খানিকটা দূরও বটে। দেখো, ঠিক কিনে ফেলব।’

    ‘কেনাকাটা বন্ধ করে চলো কোথাও ঘুরে আসি।’

    ‘বাঃ! এতদিন পরে একথা বলছ কেন?’ কুবের আরও জানতে চাইতে পারে। যেমন, আমিই তো সে কথা বলেছিলাম গোড়ায়। কিন্তু তুমি বলেছিলে, না, আগে জায়গা কেনো—তারপর ঠিক বাড়ি হয়ে যাবে।’

    বিয়ের পর কোথাও আমরা যাইনি কিন্তু—’

    কুবের কিছু বলতে পারল না। কোথাও যাওয়া হয়ে ওঠেনি ওদের। টাইম অফিসের রামকৃষ্ণভক্ত সাধু প্যাটার্নের অমৃতদের বাড়ি ত্রিবেণীতে একবার গিয়েছিল দু’জনে। দারুণ যত্ন-আদর হয়েছিল। তখনও খোকন হয়নি। আর একবার কেষ্টনগরে মামাশ্বশুরবাড়ি গিয়েছিল। সারাটা দুপুর ট্রেনে গরমে কাটলো। মামাশ্বশুর টাকার অভাবে কলি ফেরাতে পারেননি। ভাঙা ছাদের বিপদ জানান দেবার জন্যে কার্নিশের কোলে একটা তিন পা চেয়ার উলটে রাখা রয়েছে। খুব যত্ন পেয়েছিল কুবের—উঠোনের ইঁদারার জল খেয়ে অম্বলভাবটা কেটে গিয়েছিল কয়েক ঘণ্টায়।

    কিন্তু এসব তো কাছে পিঠের জার্নি। বুলু কতদিন বলেছে, ‘চলো না যশিডি ঘুরে আসি।’

    মধুপুরে কুবের একটা বিনে ভাড়ার বাড়িও পেয়েছিল। অথচ শেষ অব্দি যাওয়া হল না।

    ফার্স্ট ক্লাসে কতকগুলো টাকা শুধু শুধু গচ্চা। থার্ড ক্লাসে স্লিপিং বার্থ রিজার্ভ করে জানলায় পর পর দুটো সিটে বিছানা পেতে দু’জনে নাগপুর নয়তো দিল্লী যাবে—বাইরে বৃষ্টি হবে, খোকন অবেলায় ঘুমিয়ে ফুলো ফুলো মুখে উঠে বসে জানলা দিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকবে—তখন কুবেরদের মেলট্রেন ফুলস্পীডে একটা স্টেশন মাড়িয়ে চলে যাচ্ছে, অনেক কষ্টে স্টেশনের নামটা পড়া যাবে—রাজনন্দ গাঁও।

    কিন্তু এখন কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। চার-পাঁচ জায়গায় কুবের চার ফেলেছে। চিনের মোড়ে কাটাখালের মুখোমুখি একটা প্লট দেখেছে। সব ভাল—শুধ স্টেশনে পৌঁছতে হাঁটতে হবে অনেকটা।

    ‘রাজগীর যাবে? হট্ স্প্রিংয়ে চান করবে—’

    ‘কেন? আমার কি বাত হয়েছে?’

    হুঁ। হয়েছে—মাথায় হয়েছে—’, বলে কুবের অন্ধকারেই বুলুর মাথাটা ধরে ঘোরাতে গেল। রেডিওর নব নয়। ফলে ঘোরানো গেল না।

    ‘উঃ! লাগে না? ছাড়ো বলছি—’

    বুলুর গলা চিরে গেল। আজকাল কুবের রোজ এত মোটা হয়ে যাচ্ছে—ঘাড় ঘামে, হয়ত সেখানে কিছু দিন পরে খানিকটা থলথলে মাংস গজাবে।

    চলন্ত মোটর, চলন্ত ট্রেন, চলন্ত রিকশায় বুলুর পাশে বসে হাওয়া কেটে এগোতে এত ভাল লাগে।

    বুলু মাথা ঘুরিয়ে মশারি ফেলে ঘুমোনো শুরু করে এবার।

    আঙুলের খসখসে জায়গাটা অজান্তে আর একটা আঙুলে একটু ছুঁয়েই থেমে গেল কুবের। সেদিন কতদিন পরে দেখা হল সনতের সঙ্গে। এই সনতের সঙ্গে একদিন দুপুরে ক্লাস এইটে রিকশা চড়ে ঘোলাডাঙায় গিয়েছিল।

    সেদিন তখন দুপুর ছিল। লরি লরি সোলজার কুকুর-মানুষ সব চাপা দিয়ে হু হু করে চলে যেতো। ফৌজদারি উকিল জ্ঞান ঘোষ খারাপ মেয়েমানুষ পাড়ার পেছনে আমবাগানে একখানা বাড়ি ভাড়া করে থাকত। তার মেয়ে সেবার সন্ধ্যেবেলা একদিন বিষ খেল। হরি ডাক্তার শেফালিকে বমি করানোর জন্যে সেদিন রাত আটটা নাগাদ তাদের বাড়ি ডিম চাইতে এসেছিল—কাঁচা ডিম খাইয়ে দিলে এই অবস্থায় নাকি হরহর করে বমি হয়ে যায়। পরে শুনেছিল শেফালি লজ্জা ঢাকার জন্যে মরতে গিয়েছিল। জ্ঞান ঘোষের বড় ছেলে ধীরেন নাকি প্রায়ই দুপুরে শেফালিদের বাড়ি যেত। এর সামান্য কিছু জেনে আর অনেক বেশি শুনে কুবের তখন টুকরো ব্যাপারগুলো জায়গা মত সাজিয়ে গরম হয়ে উঠত। তখন সবে তার গলা ভাঙতে আরম্ভ হয়েছে। কণ্ঠমণি দিনকে-দিন চামড়ার চাদর ঠেলে জেগে উঠছিল।

    একদিন তো মফঃস্বল শহরের একেবারে দুপুরে দুই আমেরিকান সোলজার স্রেফ জাঙিয়া পরে জলে নেমে গেল। সঙ্গে ঘোলাডাঙার দুই মেয়েলোক। তাদেরও সাঁতার কাটতে হচ্ছে। পুকুরের চারপাশে শহরের ভিড় ভেঙে পড়েছে। বোমার ভয়ে সালকে ছেড়ে কুবেররা তখন ওই শহরে ভাড়া বাড়িতে থাকে।

    .

    একদিন দুপুরে শুক্রবারের দেড় ঘণ্টার টিফিনে সনতের সঙ্গে সাইকেল রিকশায় উঠে বসল। সনৎ নেড়া—সদ্য সদ্য পৈতে হয়েছে, পকেটে ব্রতভিক্ষার টাকা। কুবেরের বুক পকেটে খুচরো নোট মিলিয়ে প্রায় টাকা কুড়ি। লস্কর স্যারের ফেয়ারওয়েলের চাঁদা। ডাকবাংলোর মোড়ে স্টেশনারি দোকান থেকে ফাউন্টেনপেন কিনবে। স্যারকে দেওয়া হবে।

    ডাকবাংলোয় দোকান বন্ধ। রিকশায় বসে ফুর্তি লাগছিল। রেলের মাঠে হিন্দুস্থানী বৌ মত একজন নীচু হয়ে ছাগলের খুঁটো পুঁতছে। সনৎ রিকশাওয়ালাকে বললো, ‘স্টেশনের দিকে চল।’

    ‘ফিফথ্ পিরিয়ডে ফিরবি নে?’

    ‘অনেক দেরি—খানিকটা ঘুরে নেই চল—’

    স্টেশনে যেতে হাতকাটা রিটায়ার্ড দারোগার ‘গাঁজা ও আফিমের দোকান। তারপরই ঘোলাডাঙার ফেরিঘাট। সনৎ হঠাৎ পয়সা মিটিয়ে দিয়ে কুবেরের হাত ধরে রিকশা থেকে টেনে নামালো, ‘যাবি?’

    ‘কেউ যদি দেখে ফেলে—

    ‘এখন কেউ আসে না। চল—

    ।বেলা দেড়টা হবে। ঘরে ঘরে জানলা বন্ধ। সন্ধ্যেবেলা এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেছে কুবের। তখন হারমনিয়াম বাজে, গান হয়, পেঁয়াজি আর হিঙের গন্ধে গোটা পাড়া ম ম করে।

    মোটাসোটা একজন ঘোমটা খুলে ওদের দেখছিল। সবে ভাত খাওয়ার পর পানমুখে জিভটা অনেকখানি বের করে বোঁটা থেকে একদলা চুন মুখে টেনে নিল। টেনে, কুবেরদের দিকে ফিক্ করে হেসে ডাকল।

    সনতের সঙ্গে খানিক এগিয়ে যেতেই ঘোমটা ফেলে দিয়ে মেয়েলোকটা আবার ডাকল ‘এসোগো। এই দুপুরে?’

    এমন সহজ কথা বলছে দেখে কুবেরের হাত-পা আরও ঠাণ্ডা হয়ে গেল। ওরা দুজনে খিড়কি দিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকল-আগে আগে সনৎ।

    ঘোমটা একদম ফেলে দিয়ে মেয়েলোকটা পিচ কাটল। বেশি জলে খুব অল্প খুনখারাবি রঙ গুললে ফ্যাকাসে লাল হয়। একটা লাল শাড়ি পরা মেয়েকে বারান্দায় বসিয়ে ক’জনে মাথায় জল ঢালছে।

    সনৎ থেমে দাঁড়াল, ‘কি কুচ্ছিৎ মাইরি—’

    কুবেরের কানের ভেতর দিয়ে তখন ভিমরুল উড়ে যাচ্ছে। কেবল ‘কুচ্ছিৎ’ কথাটা শুনতে পেয়ে বললো, ‘এই মেয়েটাকে দেখ না—’

    সনৎ তাকে আঙুল দিয়ে দেখাতেই বারান্দায় দাঁড়ানো সেই মেয়েলোকটা বললো, ‘কেন? খারাপ হয়ে গেছি দাদাবাবু?’ তারপর হেসেই বললো, ‘ওর তো কাল রাত থেকেই চার ডিগ্রি জ্বর—’

    সনৎ কুবেরের হাত ধরে খিড়কিতে বেরিয়ে এসে বললো, ‘তবে আমরা চললাম।’

    ওরা তখনও পথে পড়েনি। ভেতরে বারান্দা থেকে জল ঢালার আওয়াজ—আর তার সঙ্গে অনেকজনের হাসি একসঙ্গে ওদের পেছনে ছুটে এল।

    গনগনে রোদ—বুড়ি বেশ্যারা গরম পিচের রাস্তায় সেদ্ধ ধান মেলে দিয়ে শুকোচ্ছে, মুড়ি হবে, পাড়ায় পাড়ায় ক’দিন পরেই বিকোতে বেরোবে। লম্বা লাঠি দিয়ে পায়রা তাড়াচ্ছে। টিনের খাপরার চালের ভাপানো ছায়ায় পোষা বেড়াল কোলে একজন কুবেরের চোখে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো। গানটার এক চিলতে আজও ভোলেনি কুবের—

    ‘ওরে কে কে যাবি আয়-য়-রে
    বাঁশি বাজে-এ-এ বিপিনে-এ’

    হাসতে হাসতে গানটা থামিয়েছিল বুড়ি। পরনে বিধবার থান, একটা প্রমাণ সাইজের তোবড়ানো বুনো নারকেল মুখে আঠা লাগানো পাটের কায়দায় কয়েকগাছি পাকা চুল ঝুলে।

    সে-ই আঙুল দিয়ে একটা ঝুলবারান্দা দেখিয়ে দিয়েছিল, ‘নোতন এসেছে—জেগে আছে।’

    ফিরেই যাবে ঠিক করে ফেলেছিল। দু’এক বাড়ি উঁকি দিতে এতক্ষণে যা চোখে পড়েছে তা হলঃ কেউ সায়া পরে হুমহাম করে ঘর মুছছে।—কেউ বা ভেতরের চাতালে রক্ষেকালী হয়ে কাপড় আছড়াচ্ছে—আর, সব জায়গাতেই প্রায় একই গন্ধ—দারুণ পেঁয়াজ-রসুনে বোধ হয় খুবই পচা কোন মাছ জম্পেস করে কড়ায় চাপানো হয়েছে।

    এমন সময় সাইকেলে কাকামিঞার উদয়। উঃ! ভাবলেও এখন জ্বর আসে কুবেরের। দেখতে পেলে ঠিক বাবাকে গিয়ে লাগাতো। সনৎকে হ্যাঁচকা টানে সেই ঝুলবারান্দার নীচে নিয়ে এল কুবের। তারপর দু’জনে মরা ড্রেনের ওপর সরু সিঁড়ি ধরে দেড়তলায় উঠে এল।

    কড়া নাড়তে হল না। দরজা খোলা ছিল। উঁকি দিতেই যে উঠে এলো সে ফৌজদারি উকিল জ্ঞান ঘোষের খারাপ মেয়েমানুষের মেয়ে শেফালি—কিছুদিন আগে এরই জন্যে ডাক্তার কুবেরদের বাড়ি থেকে কাঁচা ডিম চেয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

    ‘তুই?’

    কুবের বললো, ‘কাউকে বলবি নে—মেরে ফেলব তাহলে—’

    শেফালি ভয় না পেয়ে হাসল, হেসে পেছন ফিরে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে সনৎকে বললো, ‘কিছু খাবেন?’

    সনতের পেছন পেছন কুবেরও ঢুকল। শেফালি ঘরের ভেতর বড় আলোটা জ্বেলে দিয়ে আপনি আপনি করে কথা বলতে থাকল। যেমন—

    ‘দোরটা বন্ধ করে দিন—

    ‘একসঙ্গে দুজনের তো একঘরে থাকার নিয়ম নয়—পুলিস ধরবে—’

    ‘আচ্ছা উঠবেন না—এক কাজ করছি—’

    জ্যালজেলে ছাপা শাড়িটা অনেকখানি তুলে নিজেই পালঙ্কে উঠে টানানো নেটের মশারি ফেলে দিল, ফ্যাকাসে মুলোর চেয়েও ফক্ককে সাদা দু’খানা পা, বেশ রোগা, ‘আপনাদের একজন ততক্ষণ ঐ চেয়ারটায় বসুন—কেমন ঘরের ভেতর ঘর হয়ে গেল!’

    ড্রেসিং টেবিলের পাশে হাতল লাগানো সিংহাসন মার্কা চেয়ারটায় বসে কুবেরের পরিষ্কার মনে হয়েছিল, শেফালি মোটা হয়ে গেছে—ফর্সা। ফ্যানের হাওয়ায় কুবেরের শীত ধরেছিল। ঝুলবারান্দাটা দেখাতে গিয়ে বুড়ির হাত ঠিকই এই দেড়তলার ঘরের দিকে উঠেছিল, কিন্তু ঘোলা দুই চোখ তাকেই দেখছিল। অন্য সময় হলে কুবের দাঁড়িয়ে যেত—ভাব জমিয়ে বুড়ির সঙ্গে কথা বলত। বলতে বলতে বুড়ির চোখের ঘোর ভাল করে দেখে নিত। কিন্তু আর দাঁড়ালে ঠিক কাকামিঞার চোখে পড়ে যেত। পড়ে যায়নি তো?

    পুলিসের লোক কাকামিঞা। দিন নেই দুপুর নেই সাইকেলে ঘুরছে কাকামিঞা। কি খেয়াল হতে কুবের আয়না টেবিলের দেরাজ খুললো। দু’খানা ভাঁজ করা পাঁচ টাকার নোট—কিছু ছোট ছোট ছবি, দেখতেই কুবেরের চোখ ঠেলে উঠল, মুখ হাঁ হয়ে যাওয়ার যোগাড়। মশারির ঘরের দিকে পেছন ফিরে কুবের ফটোগুলো পকেটে পুরলো, নোট দু’খানাও পকেটে ভরে নিল। একটু আগে সনৎ টাকাটা শেফালিকে দিয়েছিল।

    সনৎ বেরিয়ে আসতে কুবের মশারিতে ঢুকল। ভেতরে শেফালি, বুনো চুলের গন্ধ ঝুলছে। পা-দু’খানা খানিক দূর অব্দি দেখা যায়। তারপর-ঘরের নীল আলোয় সবই প্রায় অন্ধকার। বর্ষাকালের ভিজে সুকতলার গন্ধের ভেতর নামতে গিয়ে আগেকার সেই আবিষ্কার, গরম-ভাব সব কোথায় মিলিয়ে গিয়েছিল সেদিন। এখন পর পর সাজিয়ে ভাবতে গিয়ে কুবের একটা জিনিস বুঝতে পেরে ভীষণ ভয় পায়। লোকের পাশে লোক থাকে—অথচ কি ভয়ঙ্কর সব জিনিসপত্র নিয়ে মেয়েলোক কেমন চুপচাপ থাকে সর্বদা। বেশিক্ষণ এগোতে হয়নি তাকে—প্রথমটা জ্বলে গিয়েছিল, তারপর মাথার ভেতরের ঘিলুর খানিকটা কে সুড়ৎ করে চুষে নিল—সেই ফাঁকা জায়গা দিয়ে শব্দ করে হাওয়া পাস করছে আজও।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Our Picks

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }