Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প413 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুবেরের বিষয় আশয় – ১৮

    ॥ আঠারো ॥

    বোরো চাষে কার সাধ্যি চাষ করে। সারাদেশ উদোম করে গরু ছেড়ে দেবে সবাই। গরু তাড়াবে না চাষ করবে? একেবারে ন্যাংটা জায়গা। তাই কদমপুরে বোরো চাষে নামার ভরসা হয়নি কুবেরের। কিন্তু ভদ্রেশ্বরের কথায় মেদনমল্লর দ্বীপে হুড়হুড় করে গুচ্ছের টাকা ঢেলে বসলে চাষবাসে। সেখানে গরু সামলানোর ঝক্কি নেই।

    ‘বড়বিল’আর ‘ডাহুক’-দু’দুটো লঞ্চ বোজাই হয়ে বস্তা সার, বীজধান—কয়েক টিন পাম্প চালানোর পেট্রোল আর পোকা মারার ওষুধ দ্বীপে চলে গেল। মোষের হাল দশটা। মাঠের পর মাঠ জমি ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। চুচকো ঘাস পাম্পের জলে মাটিতে মিশে সুন্দর পচানি হচ্ছে। মাটি দিয়ে গন্ধ উঠলেই কলা করা বীজধান ছড়িয়ে দেওয়া হবে। দুর্গের সামনে দাঁড়িয়ে সারাটা দিন কুবেরের তদারকিতে কেটে গেল। তারপর ‘ডাহুক’-এ চড়ে কুবের সন্ধ্যে সন্ধ্যে কদমপুর পাড়ি দিল। ইদানীং কুসুম তার বড় আকর্ষণ। সৃষ্টিধর ব্যস্ত-সমস্ত কুবেরকে পায় না। বুলুর হাজারো কাজকর্ম। তাকেও কাছে পায় না ছেলেটা। তাই কখনো গোয়ালে-নয়ত পুকুর ধারে একখানা লাঠি হাতে অনাথ হয়ে ঘুরছে সবসময়।

    এসবের মাঝখানে কুবেরের তাই ভীষণ ছন্নছাড়া লাগে। লোক নেই, জন নেই। পুঁচকে একটা সংসার ঘাড়ে নিয়ে ভীষণ হালকা মনে হয়। কোন ভার নেই। দুশ্চিন্তা নেই। অথচ এই চাষবাস, জমি-জায়গা, ঘর-বাড়ি, পুকুর -গাছগাছালি, গোয়াল—দোহাল, হাঁস, কুকুর, সৃষ্টিধর, বুলু, কুসুমকে নিয়ে—বাইরে থেকে দেখলে—তাকে ঘোর সংসারী বলে ভুল হবে। আরও, আরও করে আজ তিন-চার বছরে জমি-জিরেত বেড়েছে অনেক। ব্যাংকের নানান ঝকমারিও শিখে ফেলেছে। নিজের টাকা নিজে তুলবে—তাও অষ্টগণ্ডা সই চাই।

    চাষের মরসুমের জন্যে ভাড়া করা লঞ্চ। ‘ডাহুক’-এর সারেঙ ঘর থেকে ভদ্রেশ্বর তরতর করে নেমে এল, ‘সাধুখাঁ মশাই আপনি কালে কালে চকদার বনে যাবেন!

    কুবের না বুঝতে পেরে তাকিয়ে আছে দেখে ফিরে বললো, ‘কিয়ৎকালের মধ্যে আপনার মত চাষী এই ভূমণ্ডলে আর কেউ থাকবে না।’

    ভদ্রেশ্বরের ভাব এলে ভাষা সাধু হয়ে যায়। বুঝিয়ে বললো, অনেক জায়গা নিয়ে চাষ-আবাদ করলে তাকে চকদার বলে। এতখানি জায়গা নিয়ে এই দক্ষিণ দেশে কেউ নাকি চাষবাস করেনি এর আগে। কথাটা শুনে কুবেরের বুক ফুলে ওঠার কথা। কিন্তু তা হল না। রোঁয়া বাকি। সার নিড়েন, জল দিতে হবে। ফসল না ওঠা অবধি কত বিপদ। মজুরদের গুডুলবাঁশে কয়েকটা বনমুরগি মারা পড়েছিল। তার ঝলসানো মাংস খেতে খেতে কুবের দেখল হ্যাজাক বাতির আলোয় ভদ্রেশ্বর প্রায় কষের দাঁত বের করে বুড়ো মুরগিটার পোড়া দাবনা চিবোচ্ছে, চাটছে—বাগে আনতে পারছে না কিছুতেই।

    চারদিকে কুয়াশা,লঞ্চের একঘেয়ে আওয়াজ, পেছনে মেদনমল্লর দুর্গ, দ্বীপ—দুই পড়ে থাকল। কুবেরের খুব ইচ্ছে হল, দরজা জানালা আটকে দিয়ে সৃষ্টিধর, কুসুম, বুলুকে নিয়ে লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকে। কিন্তু কাল ভোরের আগে কদমপুর পৌঁছানো যাবে না।

    পরদিন খুব ভোরে ‘ডাহুক’ এসে লঞ্চঘাটায় নোঙর ফেলল। কুবের তখনও ঘুমে। ভদ্রেশ্বর ভোরের ট্রেন ধরে কদমপুর যাবে বলে কুবেরকে জাগাবার চেষ্টা করল। সুবিধে হল না। সারেঙকে বলে নেমে গেল।

    তার একটু পরেই কাউকে কিছু না বলে লঞ্চে যে -উঠল, তাকে সারেঙ চেনে না। মাল্লারাও না। যে চেনে সে ঘুমোচ্ছিল

    ধাক্কা খেয়ে কুবের চোখ খুলল। প্রথম দমকে চিনতে পানেনি। সুরমার টান দেখে এক ঝলকে চেহারাটা ফুটে উঠল। ‘তুমি?’

    ‘আজ তোমার লঞ্চ ভিড়বে জানতাম। ভোরের ট্রেনেই চলে এসেছি। মোটে তো বিশ মিনিটের পথ—’

    ‘তাই বলে একা? এই সকালে?’

    ‘চলে যাব?’

    ‘তাই বলেছি!’ এর বেশি কিছু বলতে পারল না কুবের। কিছুকাল চাষবাসের নানান ভেজালে দিনগুলো হুহু করে কাবার হয়ে যাচ্ছিল। একটু নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। তার মাঝখানে কুবের শুধু একজনের মুখ দেখতে পেয়েছে, সেই একজন শুধ একটা কথাই বলছে, ‘কি হবে এসব দিয়ে আমাদের? তুমি এবারে থামো।’ সেই একজনের নাম বুলু।

    বেলা এগারোটা নাগাদ টাটকা মাছের ঝোল, নতুন চালের ভাত পেটে পড়তেই কুবের গরম হয়ে উঠল। পাটাতনে লেপের মধ্যে বসে সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে আভাকে কাছে ডাকল। নদনদে কাদা ভেঙে দূরের চালানী নৌকোয় কুলিরা বরফের চাঙ্ তুলছে। মাছ আসবে বড় নদী থেকে। ক’দিন ধরে সব কিছু ফাঁকা লাগছিল। তার ভেতরে আভা এসে দাঁড়াতেই কি একটা ভর্তি হয়ে যাচ্ছে।

    মাল্লাদের একজন বালতি বালতি জল তুলে দিচ্ছিল নদী থেকে। আভা নিজের বাড়ির উঠানের মত করে পাটাতন মুছে দিচ্ছিল। কেবিন বলতে বড় ঘরখানা একদিন ভদ্রশ্বরের দখলে ছিল প্রায়। কুবের ডাকতেই উঠে আসেনি আভা। সেই আভা—প্রথম কদমপুরে এসে যার পায়ে খড়ম দেখেছিল কুবের গলায় ডুমো ডুমো কালো পাথরের মালা।

    ‘ওদের দিয়ে পান আনিয়েছি। নাও ধরো।’

    ভাত খাওয়ার পর পান, এই শীতে সঙ্গে সিগারেট। ফাইন। কুবের সারেঙকে দুপুর দুপুর লঞ্চ ছাড়তে বললো।

    ‘কোনদিকে যাবেন?’

    কুবের ফট করে কিছু বলতে পারল না। কোথায় যাবে, সে নিজেও জানে না। মুখে বললো, ‘ইঞ্জিন গরম হোক তো আগে—’

    আভা বললো, ‘এই লঞ্চখানা তোমার?’

    ‘নাঃ! ভাড়া নিয়েছি। আরও একখানা আছে।’

    ‘কোথায়?’

    ‘আমার দ্বীপে-’

    ‘তোমার দ্বীপে?’

    ‘ওই হল। মেদনমল্লর দ্বীপ। চর বললে ছোট করা হয়। কয়েক মাইল লম্বা হবে। চওড়া মাইল দুই। কেউ কোনদিন যায়নি সেখানে—মানে ইদানীং বিশ পঞ্চাশ বছরেও তো কেউ যায়নি—’

    ‘বুলু বলছিল তুমি সেখানে চাষ-আবাদে নেমেছ। জে এল আর ও অফিস থেকে নিজের নামে খাজনা করে নেবে পরে

    ‘বুলুর সঙ্গে দেখা হল কবে?’

    ‘বাঃ! ও তো তোমার দাদার রেলেশ্বর শিব দেখতে প্রায়ই যায়।’

    কুবের মাসখানেক বাড়ির কোন খবরই রাখে না। রাখতে ইচ্ছে করে না। বাড়ি নাকি ওটা। তার চোখের সামনে হরিরাম সাধুখাঁর ভরভরাটি পরিবারের ছায়া সব কিছুকে ঢেকে আছে। ‘তুমি আর কদমপুরে থাক না?’

    ‘কবে চলে গেছি! সেখানেই তো ছিলাম।’ থেমে গিয়ে ফিরে আভা বলল, ‘থাকা যায় না—‘

    কুবের চুপ করে থাকল। কেন থাকা যায় না? অসুবিধে কি? ব্রজ দত্ত কেমন আছে? তার ঠাকুরতলা বানানোর কদ্দুর? কোন কিছুই জানতে চাইল না কুবের। একদিন তার মাথার মধ্যে শুধু ধানের ঢিবি পাহাড় হয়ে উঠছিল। ধান ফেলা প্ৰায় সারা। চারা হলে তুলে তুলে রুয়ে দেওয়া শুধু। তারপর একদিন পাকবে। আছড়াতে হবে। বস্তা বোঝাই হয়ে চরের ফসল লঞ্চঘাটার বাজারে আসবে শেষে।

    আমি কুবের সাধুখাঁ। বয়স চল্লিশের দিকে যাচ্ছে। এই মাঝ বয়সে আমার কেউ নেই।

    ‘জানো আভা একদিন আমি তিরিশ টাকার একটা চাকরি পেয়ে খবরটা দিতে বাড়ি ফিরলাম। মা ঘুমোচ্ছিল। ঘুম ভেঙে মার কি কান্না! আনন্দাশ্রু! তখন আমি দোরে দোরে ঘুরি কাজের জন্যে! এখন!’

    কিন্তু এতটা ঝুঁকি নিলে কেন কুবের। এদিকে ফসল সবাই ঘরে তুলতে পারে না। মুছে নিয়ে যায়।’ আরও অনেক চিন্তার কথা ছিল আভার মনে। কিন্তু কুবেরের মুখ দেখে বলতে পারল না। কথাগুলো হলঃ কুবের, বাজারও তো পড়ে যেতে পারে! ডাকাতি হতে পারে। আর সবচেয়ে বড় কথা, এত সব দিয়ে কি হবে তোমার। পুরুষলোকের একটা জিনিস আভা কিছুতেই ধরতে পারে না। ব্রজর ভেতরেও এ—জিনিসটা দেখেছে। যখন আর দরকার নেই—তখনও ছুটছে। স্বস্তি কাকে বলে চেনে না, জানে না। রেলেশ্বর শিব প্রতিষ্ঠার নামে, ঠাকুরতলা বানানোর জন্যে কি না করে চলেছে। শেষকালে তাকেও প্রায় নীলামে তুলেছিল।

    ‘আর তো কোন ঝুঁকি নেই আভা। আমি তো জমির ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। এ তো সরল কারবার। খুব সরল। চাষ কর আর ফসল ঘরে তুলে নিয়ে যাও!’

    ‘কত টাকা লাগিয়েছ চাষবাসে?’

    ‘আমার সর্বস্ব! হাজার বিঘের ওপর চাষ।’ তারপর কি মনে হতে দূরে বসা আভাকে একরকম হাত ধরে কাছে টেনে নিয়ে এল এক ঝটকায়।

    অরক্ষিত মেয়েমানুষ সব সময় যে কোন পুরুষেরই প্রিয় জিনিস।

    ইঞ্জিন গরম হয়েছে অনেকক্ষণ। ‘ডাহুক’ এখন বটবট করে সামনের খুদে চরটা বাঁয়ে ফেলে বড় নদীর দিকে এগোচ্ছে।

    আর কোন আড়াল থাকল না।

    আভা কুবেরের গায়ে ঠেসান দিয়ে এক একটা নদী দেখায়-আর কুবের তার নাম বলে। প্রায় খুকিটি সেজে আভা একেবারে কলকল করে কথা বলে গেল অনেকক্ষণ। এতখানি নিশ্চিন্তির স্বাদ কতকাল পায়নি। তখনও এক একবার তার মাথার ভেতরে ড্রিলিংয়ের লোহার চেন কড়-কড়-কড়-কড় আওয়াজ তুলে গভীরে নেমে যাচ্ছিল। আর বিটকেল দেখতে একটা বন্দুক হাতে সাহেব মিত্তির তারই বুক লক্ষ্য করে এক চোখ বুজে টিপ নিচ্ছিল।

    ‘কি করে এলে এখানে?’

    ‘পরে বলব’খন। সে অনেক কথা।‘

    কুবেরেরও খুব জানার ইচ্ছে ছিল না।

    সারেঙ এসে বললো, ‘পূর্ণিমে সাহেব। একটানা চালালে মাঝ রাতেই দ্বীপে পৌছে যাব।’ কুবের মাথা নেড়ে সায় দিতে লোকটা চলে গেল। পয়সা হওয়ায় ভদ্রেশ্বর এদানী তাকে সাধুখাঁ মশাই বলে ডাকে।

    ‘পূর্ণ চাঁদের মায়ায়’–বামুন কায়েত বাড়ি অনেক মেয়ে হারমোনিয়ম খুলে বসে এসব গান গায়। নদীনালার পথে রাত-বিরেতে পূর্ণিমা যে কি জিনিস, তা একবার দেখলে ওসব গান গাইত না। একবার দ্বীপ থেকে ফেরার পথে কুবের আর ভদ্রেশ্বর পূর্ণিমার মধ্যে পড়েছিল। গা ছমছম করে। চরের গাছপালা তখন ফটফটে জ্যোৎস্নায় ডালপালা মেলে দিয়ে জেগে ওঠে। একটু হাওয়া পেলে তো কথাই নেই। সরসর আওয়াজ লেগেই থাকে।

    পূর্ণিমার নাম শুনে আভা অনেকদিন পরে কুমারী হয়ে গেল একেবারে। লঞ্চঘাট থেকে এই মেয়েলোকটি আজ সকালে যখন একটা বোঁচকা হাতে নিঃশব্দে ‘ডাহুক’—উঠে এসেছিল—তখন কে জানত এত জিনিস তার সঙ্গে ছিল।

    সূর্য ঢলে পড়তে ‘ডাহুক’ তিন তিনটি নদী কেটে বেরিয়ে গেল। আভা কুবেরের সামনেই মাথার খোঁপা ভেঙে বিনুনি বাঁধতে বসল—একদম পা ছড়িয়ে। কতকাল এমন মেয়েলোক দেখেনি কুবের।

    আভা দাঁতে বিনুনি কামড়ে চাপা গলায় বোঁচকা থেকে ব্লাউজ বের করে দিতে বললো।

    কুবের বেছে বেছে যেটা বের করে দিল, আভা দেখে নাক কুচকে আপত্তি করল।

    ‘কেন? পরো না।’

    কত পুরনো। ছিঁড়ে গেছে জায়গায় জায়গায় —

    ‘ওতেই হবে।’

    ‘বোলছো!’

    কুবের মাথা নাড়ল। সে এই জামাটা চেনে। কতকাল আগে—সেই প্রায় সত্যযুগে আভা এই লেজ লাগানো ব্লাউজ গায়ে খালপাড়ে মাছ কিনতে গিয়েছিল চাঁদের আলোয়। এখন সে জায়গার নাম কুবের রোড।

    ব্লাউজটার বোতাম পেছনে। কুবের আটকে দিল। থ্যাঁতলানো বেণীটা পিঠে পড়ে আছে। মাথা, ছোট মত চিবুক। কুবের আলগোছে হাত রাখল পিঠে।

    চিরুনির মাথা দিয়ে সিথিতে সিঁদুর ঘষে আভা ঘুরে বসল। ‘এইবার বল কেমন দেখাচ্ছে। তোমার বউর চেয়ে ভাল?’

    ‘ও কথা বললে কেন? বুলু আমার ছেলেমেয়ের মা। তাকে আমি সবসময় ভালবাসি।’

    ‘বারণ করেছে কে? যত ইচ্ছে ভালবাস।’ একটু থামল আভা, ‘তার কতখানি জান তুমি? তুমি তো জায়গা-জমি, চাষবাস নিয়ে মজে আছ।’

    ‘তোমারই বা কতটুকু জানি আভা!’

    ‘যা জেনেছ বেশ জেনেছ। নাও সরে বস—’, আভা বেশ লেপটে তোশকের ওপর বসে পড়ল। খানিক আগেও চাঁদের একখানা ছাপ আবছা হয়ে আকাশে লটকে ছিল। এখন তার ভেতর দিয়ে আলো গলে পড়ছে। সারেঙ জানে পূর্ণিমার রাতে সাধুখাঁ সাহেব লঞ্চের হেডলাইট জ্বালানো পছন্দ করেন না। আভার মনে হল, লঞ্চটা কোনদিকে না তাকিয়ে নদী দিয়ে, খাল দিয়ে শুধু চাঁদের দিকেই ছুটছে।

    কুবেরের ন্যাড়া মাথায় ভেলভেটের চেয়েও পুরু হয়ে চুল উঠেছে। তাকে কেমন দেখতে সে নিজে জানে না। অন্তত বছর তিন-চার এসব নিয়ে ভাবার ফুরসৎ হয়নি তার। তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে কাত হয়ে বসেছিল! আভা আচমকা ঘুরে বসে শব্দ করে একটা চুমো খেল তার ঠোঁটে

    ‘এসব কি হচ্ছে?’

    ‘কথা ছিল না। তাই না?’

    কুবের সোজা হয়ে বসে বললো, ‘ওই দেখ—হাত তিরিশেক হবে না এখান থেকে ওই ধবধবে জ্যোৎস্না মাখানো জঙ্গলে বাঘ আসে —‘

    ‘সত্যি!’

    ‘লঞ্চ ভিড়াতে বলব? নেমে আলাপ করে আসবে—’

    ‘দোহাই তোমার। অনেক গুণ আছে তোমার। ওসব আর দেখাতে হবে না।’ কুবের গা ঘেঁষে বসতেই একবার ইচ্ছে করল জাপটে কাছে টেনে নেয়। কিন্তু কি মনে হতে বুঝল, এসব করে লাভ কি! হয় কি তাতে। শীতকালে জড়াজড়ি মন্দ জিনিস না। কিন্তু তারপর সব তো সেই একই ব্যাপার।

    নদীটা ছোট ছিল। দু’ধারের জঙ্গল পরিষ্কার দেখা যায়।

    এসব দেখে দেখে কুবেরের চোখ পচে গেছে। আভা কিন্তু গিলছিল। বুলু আর কুবেরের মাঝখানে এখন কয়েকটা নদী, কয়েক মাইল মাঠ, গোটা কয়েক স্টেশন চাঁদের মায়ার মধ্যে পড়ে, লুটোপুটি খাচ্ছে। মা আর তার মধ্যে যে এখন কত যোজন যোজন মাঠ, বিল, নদীনালা পড়ে আছে কে বলতে পারে। এখন সে চকদার কুবের সাধুখাঁ। মুশকিল! এত সব খাবে কে? লোক কোথায়!

    তবু আজও কুবেরের ইচ্ছে হচ্ছিল, জগৎ জুড়ে যদি আবাদ করা যেত। এক একটা মাঠ কি বিরাট। কার কতখানি, আগে আগে ভাগ করা আছে। কুবের সব এক করে নিয়ে চষে ফেলতে চায়। তারপর ধান ছড়িয়ে দেবে। চারা বেরোবে। তখন বীজ ভেঙে রুয়ে দেবে শুধু।

    টাটকা মাছ যেভাবেই রান্না হোক খুব স্বাদু। কুবের আভাকে কিছুতেই চাঁদের আলোয় খেতে বসতে দিল না।

    রাগে রাগে কেবিনে গিয়ে খেতে বসল আভা। কি হয় জ্যোৎস্নায় খেতে বসলে?’ ভূতে ধরে।’

    ‘তুমি যে বসে আছ দিব্যি। নিজের ছায়ার মধ্যে বসে খাচ্ছ?’

    ‘আমার ভূত ভবিষ্যৎ কিচ্ছু নেই। আমি আগে ছিলাম লাভ-মেশিন,এখন মানি—মেশিন—আই মিন্ট মানি—‘

    জ্যোৎস্নার নিরালায় যেসব হাওয়া উঠে গাছপালা, নদীর জল সবই কিছুটা নেড়ে দিয়ে যায়—তারই খানিকটা উঠল। যথারীতি গাছপালাও হাওয়ায় ঢলে পড়ে সায় দিল। সরসর আওয়াজ। সঙ্গে লঞ্চের একটানা বটবট। আভা কিছুই শুনতে পেল না, ‘কি বলছো?’

    ‘ও তুমি বুঝবে না—’

    ‘তোমরা সব পুরুষই ওই এক কথা শিখেছো।’

    ‘খেয়ে নাও।’

    ‘নুন কোথায় তোমার?’

    কুবের এগিয়ে দিল।

    ‘আমি কিন্তু খেয়ে-দেয়ে আবার পাটাতনে গিয়ে বসব।’

    ‘যত ইচ্ছে বোসো। আমি গিয়ে ঘুমোবো।’

    কুবের জিভে কামড় খেল। খেতে খেতে কথা বললে এই দশা।

    ‘বুলু বোধ হয় তোমার কথা বলছে এখন। দূরের মানুষ মনে করলে অমন হয়।’

    কুবের খাওয়া থামিয়ে সোজা আভার দিকে তাকাল, ‘আর কি কি জান তুমি?

    আভা একটুও অপ্রতিভ হল না। সোজাসুজি বললো, ‘আসলে আমি দেশগাঁয়ের মেয়ে। কিছুকাল শহর ঘেঁষে আছি। তখনই তোমার দাদার সঙ্গে বিয়ে। তেল পড়লে টাকা আসে, পা চুলকোলে ভ্রমণ লেখা আছে কপালে—এসব ছোটবেলা থেকেই শিখেছি কুবের।’ দম নিয়ে বললো, ‘বুলুর কথা বললেই অমন গম্ভীর হয়ে চোখ গোল করো কেন? আমি তোমার বিয়ে করা বউ নই—সে আমি জানি।’

    এখন আভা ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদতে পারলে সিনটা কমপ্লিট হত। কিন্তু জ্যোৎস্নার আলোয় বিদেশী জায়গার ভেতর দিয়ে লঞ্চটা যাদের পাটাতনে বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল—তাদের কেউই আনকোরা নয়। অনেকদিন আগে থেকেই এরা শোলার মালা হয়ে জলে ভাসছে। ভাসানের দিনক্ষণ কারোরই মনে নেই।

    কুবের আবার জানতে চাইল, ‘আর কি কি জান তুমি?’

    ‘তুমি একট পয়লা নম্বরের ভীরু। ষোল আনা ইচ্ছে থাকলেও ক্ষমতা নেই বলে তাই—’

    তাই কি আভা—থামলে কেন? বলে যাও।’

    ‘খেয়ে উঠে বাকিটা বলব।’ খাওয়া আর হল না আভার। তোলা জলে আঁচিয়ে নিয়ে লঞ্চের সরু মাথায় ইস্পাতমোড়া নোঙর বাঁধার জায়গায় গিয়ে আভা ধপ করে বসে পড়ল।

    কুবের ঘাঁটালো না। ড্রিম মারচেন্ট সাধুখাঁ সাহেব এখন কুরের চকদার। ভীত লোক স্বপ্না দেখে না। খুব জোর হিস্টিরিয়ায় ভুগতে পারে। ভীতু লোক চাষবাসে নামে না! এত বড় বদনাম দিয়ে দিল আভা।

    ‘বুলুর কি জান তুমি?’

    ‘কি জানি না কুবের? আমায় ঘাঁটিয়ো না—’ ধমকে উঠল আভা। এতক্ষণে এই রগচটা ভঙ্গীটা কুবেরকে আকর্ষণ করল। আন্দাজ নিচ্ছিল, ওখান তেকে পঁজাকোলে তুলে কেবিনে পৌঁছতে ক’ সেকেন্ড লাগবে। কিন্তু একটা জিনিস সে কিছুতেই সুবিধে করে উঠতে পারে না কোনকালে। কথায়বলে মেয়েমানুষের মন। সে জানে না, এখন আভা কতখানি মেজাজে আছে। দিব্যি ঠান্ডায় পোজ দিয়ে বসেছে লঞ্চের ডগায়। হালে মেয়েমানুষ নিয়ে নাড়া-চাড়া করা একরকম ভুলে গেছে। ভুলভাবে হয়ে যায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Our Picks

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }