Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প413 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুবেরের বিষয় আশয় – ১৭

    ॥ সতের ॥

    একা একা কদমপুরে হবিষ্যি করা যায় না। দুটো ছেলেমেয়ে, একটা বউ, বাড়ির পুকুরে জল টলটল করছে, বাঁধানো পুকুরের চাতালে একটুও ময়লা নেই—সবকিছ এত ফাঁকা, এত কম—দম ফেলা যায় না। কুবের কিছুতেই এখানে হবিষ্যি করতে পারবে না। সাধুখাঁদের পৈতৃক বাড়িতে বড়দা, নগেন, বীরেনের সঙ্গে এক ঘরে বসে হবিষ্যির অন্ন মুখে দিয়ে মনে হচ্ছিল মা বেঁচে আছে। এখুনি রান্নাঘর থেকে সেদ্ধ ডাল হাতায় নিয়ে এসে থালায় ঢেলে দেবে। অথচ সে নেই বলে কত কাণ্ড! মা নেই বলে সব ভাই মিলে হবিষ্যির নামে ক’দিন যেন পিকনিক করছিল।

    ঠিক ছিল শ্রাদ্ধশান্তি হয়ে গেলেই নগেন বীরেন কদমপুরে উঠে আসবে। অথচ শ্রাদ্ধশান্তির ক’দিন আগেই কুবেরের এতদিনকার সাজানো স্বপ্নটা দুম করে ফেটে গেল। নগেন আসবে না। বীরেন আসবে না।

    মা যে তার কতখানি ছিল—এই এতদিনকার জীবনে কুবের একবারের জন্যেও টের পায়নি। তাকে ঘিরে অল্পদিন হল কিছু ডালপালা বেরিয়েছে। তাদের নাম বুলু, সৃষ্টিধর, কুসুম। অথচ সে নিজে অন্য গাছের ফল। সে গাছের নাম দেবেন্দ্রলাল। সেই গাছের কোন পাতা, কোন ফল আর নেই এ বাড়িতে। ফলে কুবের তার নিজের কষ্ট কাউকে বলতে পারল না। বলব কাকে? বললে কে বুঝবে? ফাঁকা বাড়ি দেখে একবার চিৎকার করে কাঁদতে চেষ্টা করল কুবের। মা দেখে যাও তুমি—আমি সব সাজিয়ে তুলেছিলাম। কিন্তু কেউ এল না! কেউ গন্ধ নিল না। আমি নতুন বাড়িতে নতুন লোকজন নিয়ে বাড়ির কর্তা হয়ে ওঠার মহলা দিচ্ছি। সেই ছোটবেলার পর অনেককাল কান্নাকাটির অভ্যেস নেই। চোখে জল আসতেই দেরি হয়ে গেল। ঠোঁট কাঁপছে দেখে কুবেরের নিজের ছেলেই তাকে পাকড়াও করল, ‘কি হয়েছে বাবা? অমন করছ কেন?’

    কুবের অবুঝ জীবটির দিকে তাকিয়ে থাকল শুধু। এই ছেলেটা লোক হয়ে উঠলে কুবের বুড়ো হয়ে যাবে। কুবেরের বিষয়-আশয়ের ওয়ারিশান। এককালে সেটেলমেন্ট পরচায় নাম উঠবে। পাশে লেখা থাকবে পিতা কুবের সাধুখাঁ। ব্যাটা বাঁচলে হয়। চাদ্দিকে যা সব কাণ্ড হচ্ছে! ক’দিন আগে সরু পিয়াসলে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের গায়ে রেল পুকুরে ঘুনি তুলে মাছ দেখতে গিয়ে ইয়া তাগড়াই এক জোয়ান সাপের চুমু খেয়ে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ল। যত কষ্ট তত দাপাদাপি। লোক ভিড় করে দেখল—তবু হাসপাতালে নিয়ে গেল না ট্রেনে করে। মরল তবে পাড়ে টেনে নিয়ে এল।

    ঘাটলায় বসেই পুব-দক্ষিণ কোণের ঢোল-কলমির জঙ্গলে তাকাল কুবের। প্রথমে জায়গা মাপতে এসে একটা সাপের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। যতক্ষণ মাপামাপি ততক্ষণ মাথা তুলে তুলে ঘুরে ঘুরে জায়গা বদলে কুবেরকেই দেখছিল। আরও কয়েকবার তার সঙ্গে দেখা হয়েছে কুবেরের। ভদ্রেশ্বরের সঙ্গে প্রথম আলাপের দিন চেনা পড়শীর পোজে তাকে পাশ কাটিয়ে সাপটা ওই ঢোলকলমির জঙ্গলে তার বাসায় চলে গিয়েছিল। ইদানীং দেখা হলে কুবেরের মনে হয়, সাপটা তাকে ফনা তুলে নমস্কার করে জানতে চায়, কেমন আছেন বাবু? জায়গাটা কেমন? মন টিকছে তো? সাহস করে তাকে কিছু বলা হয়নি কুবেরের। এগিয়ে যেতে পারেনি। হাজার হোক সাপ তো। মানুষের সংস্কার কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

    বড় বড় ফোঁটা দিয়ে বৃষ্টি আসতেই কুবের বারান্দায় উঠে এল। চাদর জড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে গুরুদশার ধড়া হাতে ঠেকালো—তখনই বুঝতে পারল আমরা কি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। সেই সময় আকাশ দিয়ে ফাঁপানো কিছু মেঘ দিক পালটাচ্ছিল।

    ক’দিন পরেই সোনা-কার্তিকের ঘাটে বড়দা, নগেন, বীরেনের সঙ্গে পাশাপাশি বসে নেড়া হল। পরামানিকের নাম—গয়া। ঘাট-কামানো পেশায় নেমে লোকটার আসল নাম আদিগঙ্গার জলে অনেকদিন ধুয়ে সাফ হয়ে গেছে। তাই নিয়ে খানিক রসিকতা হল। কুবের সবার সঙ্গে মিশে হাসল। হেসে বুঝল, তারই মত বড়দা, নগেন, বীরেন—কিছু হয়নি ভাবটা ফোটাতে শুধু শুধু হাসছে। ব্যাপারটা বুঝে নগেন, বীরেনের জন্যে কুবেরের কষ্ট হল। এ-ক’দিন ওদের ওপর রাগ করে কদমপুরে একা একা হবিষ্যি করার সময় যেসব কঠিন প্রতিজ্ঞা করেছিল—তার সবই সেই মুহূর্তে কুবেরের মন থেকে ধুয়ে গেল। ইস্কুলে থাকতে কুবেররা ঠিক এইভাবে গোল হয়ে বসে রবিবার দুপুরে চুল কাটত।

    হরিরাম সাধুখাঁর ভদ্রাসনের খোপে খোপে শরিকানি সংসার। দেবেন্দ্রলালের স্ত্রী বিয়োগে অনেকেরই অশৌচ হল ঠিকই। কিন্তু শ্রাদ্ধ করার মত জায়গা হল না। জিনিসপত্তর নিয়ে কে কোথায় যাবে? পাশ ফেরার বারান্দাগুলোও এক পুরুষে খুদে খুদে সংসারের আস্তানা হয়ে গেছে। কদমপুর বড় দূর। অতএব এই সোনা-কার্তিকের ঘাট। দশমীর দিন নাকি এখানে কোন্ রাজার বাড়ি থেকে শোভাযাত্রা করে সোনার কার্তিক আনা হয়। জায়গাটাই বিশ্বাস করবার জায়গা। পুথি, সিঁদুর মাখানো কড়ি, পঞ্জিকা, বটের ঝুরির নীচে মাটির পুতুলে রোহিতাশ্ব-শৈব্যা, স্বামী কোলে বেহুলা–নানান জিনিসে গঙ্গার ঘাটটুকু ঠাসা, তার মধ্যে বিশ্বাস করে ফেলার হাওয়া বইছে সবসময়।

    দানের জিনিসে জায়গাটা থইথই করছে। হোমের জন্যে অনেক কিছুর পাশে বাটিতে বাটিতে মায়ের পছন্দসই জিনিসগুলো সাজানো। ইলিশ মাছের কোল, রুই মাছের পেটি, আমসত্ত্ব—কুবের সেদিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিল।

    পুরুত মশাইদের লিডার বীরেনকে মন্ত্র পড়াচ্ছে। সংস্কৃত বলে দু’এক জায়গা খট করে গিয়ে মনে লাগে। বীরেন সংস্কৃত বলছে, মা আমার গায়ে যত লোম আছে তুমি তত বছর স্বর্গে গিয়ে বাস কর। বৃর্ষোৎসর্গের ষাঁড়টি একেবারেই কচি। স্যাঁতসেঁতে শ্যাওলা-ধরা অন্ধকর পুজো-আর্চার জায়গায় দাঁড়িয়ে লাফাতে শুরু করেছে। তখনও তিলোৎসর্গের সময়কার একটা মন্ত্রের গোড়ার দিকে পুরুতমশাইর গলাঝাড়া দেওয়া সংস্কৃত মনে আসছিল কুবেরের-কৃষ্ণা তিথৌ। মা কি অমাবস্যায় মারা গিয়েছিল? মনে করতে পারল না কুবের। তিথি কি করে তিথৌ হয়।

    শশ্মশানে নিয়ে যাবার আগে মাকে শুয়ে থাকতে দেখে ধক করে উঠেছিল কুবেরের বুকের মধ্যে। তাহলে মানুষটা নেই। আর কোনদিন কথা বলা যাবে না। কিন্তু হরিধ্বনি, নামগান, চিতাসাজানো, গঙ্গামাটি মাখিয়ে নাইকুগুলি জলে ফেলে দেওয়া—তারপর গলায় ধড়া পরে বাড়ি ফিরে এসে মনে হচ্ছিল—মা শেষ হয়ে যায়নি। হোম যজ্ঞ, মন্ত্রপাঠ—নানান হইচইয়ের মধ্যে মা ফুরিয়েও ফুরোচ্ছিল না।

    কুবের আর নগেনের ওপর গঙ্গার ঘাটে বৃষকাঠ বসিয়ে দেওয়ার ভার পড়ল। সেইটাই এত ক্রিয়াকাণ্ডের শেষ কাণ্ড। শোনামাত্র মন খারাপ হয়ে গেল কুবেরের। বড় গঙ্গায় ভাঁটা। তাই আদিগঙ্গায় শুধু কাদার ময়দা। পা দেবে যায়। ঘাটে দাঁড়িয়ে পুরুতমশাই বারে বারে সাবধান করে দিচ্ছে—’নরম মাটিতে জোর করে ধরে চেপে বসিয়ে দিন। তারপর ওদিকে না তাকিয়ে তিনবার জল দিয়ে ওপরে উঠে আসুন। খবরদার পেছনে তাকাবেন না। জোয়ার এলেই ভেসে যাবে।’

    ওপরে উঠে আসার সময় কুবের না তাকিয়ে পারল না। বৃষকাঠে খোদাই অস্পষ্ট মুখের ভেতরকার চোখ তার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। পলক পড়ছে না। চোখ ফেরাতে নগেনের সঙ্গে চোখাচোখি হয়ে গেল। কেউ কথা বলল না। এবারের মত এই শেষ। আবার বছর ঘুরলে কিছু লোক খাওয়াতে হবে। তখন কুবের দেখল নগেনের ওপর তার একটুও রাগ বা অভিমান নেই। যা আছে, তা ওর জন্য কষ্ট। নগেনের চোখ লাল হয়ে উঠেছে। যে কোন মুহূর্তে এখন বৃষকাঠ দেখার জন্যে ঘুরে দাঁড়িয়ে পড়তে পারে। কুবের বললো, ‘চল ট্যাক্সিতে যাই—এখনও অনেককে নেমন্তন্ন করা বাকি।‘

    সারারাত যাত্রা দেখে ভোরে বাড়ি ফেরার পথে আলোর মধ্যে গতরাতের সম্রাট, সেনাপতি, মঞ্চ, নর্তকী—কোন কিছুই মন থেকে একেবারে মুছে যেতে চায় না। সময় নেয়। কিন্তু কুবেরের জন্য কাজের চাপ, কেনাবেচার খুঁটিনাটি, ঢালাও চাষবাসের শতেক কুটকচালি একেবারে ওৎ পেতে বসেছিল।

    হোমড়াপলতা আর চড়াবিদ্যার আবাদে ধান ফেলতে হবে। চারা তৈরি করে আষাঢ়ের পয়লা হপ্তায় জ্যাঠো রুয়ে দিতে পারলে বিঘে প্রতি এক পণের বেশি বীজ লাগবে না। মনে মনে কতকগুলো অঙ্ক কষে কুবেরের মাথার মধ্যে ধাঁ ধাঁ করে আগুন ধরে গেল। পাঁচসের ধান ফেললে বিঘেটাক জায়গা রোয়া যায়। কারকিত করে চাষ করলে এক বিঘে জায়গা নতুন ধরনের বীজে পনের মণ ধান হামেশা দিচ্ছে। ধানের মণ ষাট টাকা। অতএব—

    শ্রাদ্ধশান্তির পর সালকে থেকে কদমপুর ফেরার পথে রেললাইনের দু’ধারে যত জায়গা দেখেছে—সবটাই যদি চষে রুয়ে দেওয়া যায়। বাব্বা!

    ইদানীং ভোরে উঠে তার নিত্যকার কাজ হল একবার কুকুরের ঘরে গিয়ে বকনা দুটোর গায়ে হাত বোলানো—তারপর গোয়ালে ঢুকে দোহালের সঙ্গে বসে গরুগুলোর স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করা।

    রবিবার ছিল। জেলে এসে বড় দিঘিতে জাল ফেলে মাছগুলোকে নাড়াচাড়া দিয়ে স্যাদলা কাটিয়ে দিল-তারপর আবার জলের মাছ জলে। নিজের হাতে কুবের মহুয়ার খোল ছিটিয়ে দিল। ঝাঁক বেঁধে মাছের সারি ঘুরে বেড়াচ্ছে। বড় মুলতানিটা গাভিন হয়েছে। রোদ পেয়ে ঘাড় ভেঙে নিয়ে চোখ বুজলো গরুটা। বুলু তখনও ঘুম থেকে ওঠেনি। সকালে উঠোনের সামনে গোলার কাছাকাছি গোটা পাঁচেক ঘুঘু পাখি নেমে এসেছে। ধান ছিটিয়ে পড়লেই ওরা ঠিক খবর পায়। বাচ্চারা তখনও বিছানায়। রাখাল খড় কাটার ইলেকট্রিক মেশিনে খড়ের তড়পা এগিয়ে ধরেছে আর কুচি কুচি হয়ে বেরিয়ে আসছে। মুগচুনি আর গুড়ের গন্ধ পেয়ে ডাঁই পিঁপড়ে সারি দিয়ে গোয়ালের দিকে চলেছে। কুবের সাধুখাঁ বুঝতে পারল, সে খুব একা পড়ে গেছে। এই পৃথিবীতে নিজেই সে এমন একটা পথ বেছে নিয়েছে, যেখানে কোন বন্ধু নেই, বন্ধু হয় না। চারদিকে শুধু প্রয়োজনের পাহাড়। তার মাঝখানে একটাই ডিউটি কুবের সাধুখাঁর। টাকা যোগাড় কর। টাকা যুগিয়ে যাও। যতগুলো গর্ত আছে—সব টাকা দিয়ে ভরাট করে যাও। আর কোন কাজ নেই তোমার। তোমার গালের মাংস ঝুলে পড়ুক, মাথা ঝিমঝিম করুক—তাতে কিছু আসে যায় না। ডিউটি ফার্স্ট-ডিউটি লাস্ট

    কদমপুরের খাল পাড়ে এই নতুন পাড়ায় এখন পাঁচখানা নতুন বাড়ি উঠেছে। কুবের রোডের উপর ইট সাজানো সারা। রোডরোলার খোয়ার উপর দিয়ে শক্ত করে এগোচ্ছে। সন্ধ্যেবেলা কুবের রোডের এক ধারে এখন ইলেকট্রিক আলো জ্বলে—অন্য ধারে সেই আলো কুবেরের বসানো নানান ফলের কিশোর সব চারার পাতায় পড়ে জায়গাটা অন্যরকম করে দেয়। অথচ এখানে তার নিজের লোকজন নেই। কুকুররা কুবেরকে ভালবাসে। গরুরা কুবেরকে ভালবাসে। সৃষ্টিধর কুবেরের গলা জড়িয়ে শোয়। কুসুম ইদানীং কুবেরকে দেখলে লাল মাড়ি বের করে হাসে। বুলু হাজারো জিনিস মারকেটিং করে ফেরার পথে কুবেরের পছন্দ লবঙ্গ নিয়ে আসে পাঁচ ছ’আনার। কুবের পানের সঙ্গে লবঙ্গ খেতে ভালবাসে।

    ভদ্রেশ্বর এসে হাজির। মেদনমল্লর দুর্গ বরাবর চরভরাটি পায়োস্তি জমির দখল কুবের নেবে কি না জানতে এসেছে। একেবারে দলদলে মাটি। নানান সুখ্যাতি করল ভদ্রেশ্বর। বাঁধ বেঁধে নদীর জল ঢুকিয়ে দিয়ে ভেড়ি হতে পারে। কোটি কোটি মাছের ডিম নাকি জলে লুকিয়ে থাকে। কিংবা চাষও করা যায়। অমর খন্দ হবে।

    সব শুনে কুবের বললো, ‘কার জন্যে করব?’

    ভদ্রেশ্বরের বাড়িতে এবেলা ওবেলা নিয়ে কুড়িজনের পাত পড়ে। কুবেরবাবুর মত লোকজন তার সংসার চালায়। জায়গা জমির খতিয়ান, দলিল, সার্চ—সব ভদ্রেশ্বর মাথায় তুলে নেয়। জায়গা কেনার সময় বহরিডাঙ্গা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের বটতলায় বসে কুবের একশো টাকার নোটের গোছা ভদ্রেশ্বরের হাতে গুনে তুলে দেয়। দিয়ে বাসে করে চলে আসে। তখন শরিকদের ভাগের টাকা বুঝিয়ে দিয়ে দু’একখানা নোট নিজের জন্যেও রাখে।

    এই ভোরবেলা এমন জবাব পাবে আশা করেনি ভদ্রেশ্বর। বিষয় বিষ—সেকথা ঠিক। ভদ্রেশ্বর তা নিজেই বলে। কিন্তু এই বয়সে কারও কাছে বিষয় বিষ ঠেকলে তাতো ভাববার কথা। খেয়াদার হাটের চক্কোত্তিদের বড় ছেলে গদিতে বসেই ক্যাশবাক্স খুলে, সিন্দুক হাতড়ে টাকা পয়সা তেজারতির কাগজপত্র সব বিলিয়ে দিয়েছিল, ফিরিয়ে দিয়েছিল। সে তো অনেককালের কথা। জোয়ান বয়সে অমন ভুল কালেভদ্রে এক আধজন করে থাকে। সেই লোক এখনও নাকি কলকাতা করপোরেশনের টিকে দিয়ে বেড়ায়। পেটের জ্বালা বড় জ্বালা। কোন কবে দানছত্র খুলে দিয়েছিল। আজও অন্নের জন্য চক্কোত্তি বংশের সেই মানুষটা পথে পথে ঘুরে বেড়ায়।

    ‘ওসব ভেবে কি কেউ বিষয় করে সাধুখা মশাই?’ একটু দম নিয়ে ভদ্রেশ্বর বললো, ‘গতবার কারও চাষ হয়নি। দোবারা বুড়ো গিয়ে জমি-জায়গা বিলকুল ভেসে গিয়েছে। খড়ের কাহন এখন পঞ্চাশ বাহান্ন। দম ঠুকে নেমে পড় ন। লক্ষ্মী চাইলে রাজা হয়ে যাবেন।

    ‘আমি প্রজা থাকতে চাই। কার জন্যে রাজা হব?’

    ‘আপনার জন্যে রাজা হবেন। সবাই নিজের জন্য হয়।’

    ‘আমার যা আছে খাবে কে?’

    ‘আপনারা খাবেন। বংশধররা খাবে—’

    ‘ছাই। চোখ বুজলে চেল্লাচিল্লি শুরু হয়ে যাবে। ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে হুলস্থুল পড়ে যাবে।’

    বুলুর স্বপ্ন কিন্তু অনেক। খালপাড়ের উল্টোদিকের খানাখন্দ ডোবাডাঙ্গা কিনে ফেল। স্টেডিয়াম হোক। এখানে ভালো খেলার মাঠ নেই। ক’দিন আগে মাথার পাকা চুল খুঁজতে খুঁজতে বলেছিল, ‘কতকাল আর জায়গা জমির হাত বদলে টাকা আসবে। আমাদেরও বয়স হবে। তুমি একটা প্রতিষ্ঠান তৈরি কর। সেখান থেকে নিশ্চিন্ত মাসে-মাইনের মত টাকা আসবে। ছেলেমেয়েরা বড় হলে টাকা লাগবে। চিরকাল তোমার টাকার ভাবনা ভাবতে হবে না।’

    কুবের বলেছিল, ‘কি রকম?’

    ‘এই যেমন ধরো গিয়ে এটা সিনেমা হল—কিংবা অন্য কিছু। আমি ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারছি না। নিয়মিত টাকা আসবে।’

    টাকা আসবে—কথাটা শুনলেই কুবের সব সময় ঝক করে স্টার্ট নেয়। বিছানায় উঠে বসেছিল। দেবেন্দ্রলাল একদিন ট্রেনে এমন বলেছিল—একদিন টাকা আসা যদি বন্ধ হয়ে যায়। বলেছিল, তোমার কত টাকা কুবের? ও জিনিসের মুখ আমি বিশেষ দেখিনি কুবের। সেজন্যে তোমাদের গর্ভধারিণীর দুঃখের অন্ত ছিল না।

    মা এসব দেখে যায়নি। পালাম বুনবে বলে এক কাঠা জায়গা চেয়েছিল। আপনি থেকেই হেসে ফেলল কুবের। ভদ্রেশ্বর ঘাবড়ে গেল। ড্রিম মারচেন্ট কুবের সাধুখার গর্ভধারিণী এক কাঠা জায়গা চেয়েছিল। মা তুমি কি মানা ক্যাম্পের উদ্বাস্তু? চাষের জায়গা চেয়েছিলে যে বড়! থাকলে না কেন আর কিছুদিন।

    ভদ্রেশ্বর আজ সকালে মাথা বোঝাই করে আরও অনেক কিছুই খবর এনেছিল। সোঁদালিয়ায় তেল খোঁড়ার জায়গা ফেলে মাইল দুয়েক কদমপুরের দিকে এগিয়ে এসে অনেকেই টাকা ফেলে জায়গা ধরে রাখছে। গত বছর চাষ হয়নি। এবার হালগরু ঘটিবাটি, জায়গা-জমি মবলক বন্ধক রাখবে অনেকেই। কলকাতার বাবুরা গাড়ি থেকে নেমে জায়গা দেখে বলে, কি সুন্দর—হাউ নাইস—গাছপালার রূপ দেখে দেখে মরে যায়। ভদ্রেশ্বরও মনে মনে ক্ষেপে ওঠে তাদের ভাবভাঙ্গী দেখে। বাবু তালগাছ আর নারকেল গাছের কি এমন রূপ পেলেন? কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারে না। মক্কেল। তারা যা ইচ্ছে দামে জায়গা কেনে। কিন্তু কুবেরের জন্যে সস্তায় জমি বন্ধক রাখার খবর এনেছিল আজ। সময়ের কড়ায় করে দরকার মত টাকা দিতে পারলে এক বন্ধে আট বিঘের একটা দাগ সতেরো শ’ টাকায় এসে যাবে। সঙ্গে সঙ্গে ভদ্রেশ্বরেরও কিছু আসবে।

    ‘মেদনমল্লর জায়গা আপনি দখল নিন। যা টাকা ঢালবেন লোকজনে, চাষবাসে—তার চৌগুণ উঠে আসবে ফসলে। বুক ঠুকে নেমে পড়ুন।’

    ‘জোর পাই না ভদ্রেশ্বর—’

    ‘বুড়ো হয়ে গেলেন!’

    ‘হইনি। হয়ে যাব বোধহয়।’ এখানকার সমবয়সীরা কুবেরের সঙ্গে মেশে না। কুবেরও মিশতে পারে না। কান্তবাবুর মেজভাই গাঁয়ের ভেতরে থাকেন। তার বড় ছেলে শশীর কুড়িয়ে বাড়িয়ে সাতটি ছেলেমেয়ে। পঞ্চাশ বছর বয়স হয়েছে। সেও আজকাল কুবেরকে দাদা ডাকে। কুবের তাকে সাংসারিক পরামর্শ দেয়।

    ‘হলধরের নাম শুনেছেন?’

    ‘কোন হলধর?’

    ‘মহাভারতের—’

    কুবের ঠিক চিনতে পারল না। রামায়ণেও থাকতে পারে-মহাভারতেও পারে। মুখে বলল, ‘খুব চিনি। সে আর বলতে-’

    ‘দেখুন সাধুখাঁ মশাই—যুধিষ্ঠির ফৌত, অর্জুন ফৌত—সংসার করতে এসে সবাই কত দুঃখ পেলেন। যুদ্ধ কান্নাকাটিতে মহাভারতখানা গরম। দেখুন টিকে থাকলেন শুধু হলঘর। তিনি চাষবাস করতেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধও তাঁকে ছুঁতে পারেনি।’

    ‘কি বলতে চাও ভদ্রেশ্বর—‘

    ‘আপনি দুর্গের দিঘি থেকে নদীর গা অবধি দখল নিন। চাষ করুন। ফসল ঘরে তুলে বলবেন—নাঃ! ভদ্রেশ্বর একটা বুদ্ধি দিয়েছিল বটে।’

    ‘তাহলে চাষে নামব?’

    ‘নামুন। দ্বিধা করে কম্বল জড়িয়ে বসে থাকবেন না।’ বুলু রাখালের হাতে কফির পট ট্রে সাজিয়ে দিয়ে নিজে আসছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Our Picks

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }