Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প413 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুবেরের বিষয় আশয় – ১৫

    ॥ পনের ॥

    নীচু ক্লাসে কুবের বাংলাদেশের ম্যাপ এঁকেছে। অনেকবার। সবচেয়ে সোজা ছিল সমুদ্রের দিকটার রেখাগুলো। পেন্সিল কাঁপালেই দ্বীপ, নদী, সাগর হয়ে যেত। এখন সেই সব জায়গার ভেতর দিয়েই চলেছে কুবের। পাশে ভদ্রেশ্বর গ্রেটকোটের মোড়কের মধ্যে বসে গরম গরম চিংড়িমাছ ভাজা খাচ্ছে। ভাড়া করা লঞ্চ একটার পর একটা শীতের নদী থেঁতলে দিয়ে এগোচ্ছে। সেই কোন্ ভোরে বেরিয়েছে দু’জন। কুবেরের কারখানা আমলের নাইট ডিউটির কোটটার এতখানি সদ্ব্যবহার কোন দিন হয়নি। রাক্কেশখালি, দুর্বাচটি, পাথরপ্রতিমা, চড়াবিদ্যা—মৈসিনির চর। এলোপাথাড়ি নদী আর তার মাঝে মাঝে এমন সব জায়গা।

    ভদ্রেশ্বরের সঙ্গে লাট অঞ্চলের জায়গা দেখতে বেরিয়ে কুবের সকাল থেকে অনেক কিছু দেখেছে। ভাঁটায় নদী শুকিয়ে যেতে লঞ্চ চড়ায় আটকে যাওয়ার যোগাড় হয়েছিল। অনেক কষ্টে ঊর্ধ্বশ্বাসে ফুলস্পীড দিয়ে বড় নদীর বুকে এসে ভেসে পড়তে হয়। এক চুমুকে চারদিককার জল শুষে যাচ্ছিল। তখন একবার কুবের অবাক হয়ে দেখছিল কত জায়গা-জমি জলে ঢাকা পড়ে আছে। ভাঁটায় ফাঁকা নদীর বুক হিসেবে ধরলে কত জায়গা পৃথিবীতে। কথাটা ভদ্রেশ্বরকে বললো কুবের, ‘এসব জায়গা বায়না করা যায় না?’

    লঞ্চের বটবট আওয়াজ, কচুরিপানা ভেসে যাচ্ছে, মাঝে মধ্যে চর জেগে আছে। ভদ্রেশ্বর একটু অবাক হল। সে কুবের সাধুখাঁকে একদিককার জঙ্গল হাসিল জায়গা জমি দেখাতে এনেছে। বাবু এখন কোন্ জায়গার কথা বলছে!

    ‘কোথাকার কথা বলছেন?’

    ‘নদীর বুক। ভাঁটায় কেমন গা এলিয়ে দিয়ে পড়ে আছে—’

    ‘হাসালেন বাবু। এসব জায়গা ভগবান লীলা করে তৈরি করেছেন। এসব দখলে রাখবেন কি করে? জল শুধু জল। জল শুষে নিয়ে আবার ফেরত পাঠাবেন দুনিয়াদার। আপনার আমার কম্ম নয়।’

    কুবেরের মন খারাপ হয়ে গেল। মাঠে মাঠে ধান কাটছে দেখে এসেছে কুবের। এদিককার লাট অঞ্চলেও ধান কাটা পড়ছে। বাঁকের দু’দিকে আঁটি বেঁধে দুলতে দুলতে ভেড়ি বরাবর চাষীরা চলেছে। পৃথিবীতে এত জিনিসও আছে। ভাবলে মনে হবে যে-কোন একটা ভাল করে জড়িয়ে ধরলে একেবারে মাটির ভেতরকার রস সুদ্ধ শুষে নেওয়া যাবে। অথচ কত কঠিন।

    ‘কদমপুরে যেখানে আপনি বাড়ি করলেন—সেখানেও একদিন সাগর ছিল। সে হয়ত কত পুরুষ আগে। আমাদের দেখার কথা নয়। তবে আমি বালক বয়সে নদীর সোতা দেখেছি ওখানে। আমাদের কর্তাবাবাকে ওখান থেকেই বাঘে তুলে নিয়ে গিয়েছিল—‘

    ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর—তারপরেই এই ভদ্রেশ্বর। তার নখদর্পণে পৃথিবীর ওলটপালট, জন্ম বৃত্তান্ত

    সস্তায় হাসিল জমি কিনিয়ে দেবে ভদ্রেশ্বর। তা-ই বলে কুবেরকে দিয়ে লঞ্চ ভাড়া করিয়েছে। অথচ কুবেরের আজ এখানে থাকার কথা নয়। দোতলার মেঝেতে পালিশ মিস্ত্রিরা কাজ করছে এখন। জয়পুরের পাথর জোড়ে বসিয়ে নিভাঁজ মেঝে তৈরি হয়েছে—বাথরুমেও পাথর। দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ননী বোসের ঝিল, কদমপুর রেল স্টেশন, নয়ানদের দোতলা, খড়িগোদার ধানক্ষেত সব দেখা যায়।

    গৃহপ্রবেশের দিন কুবেরের বেশ লাগছিল। বড় বউদি পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। পেছনে কুবের, তার পেছনে বুলু–কাঁকালে এক হাঁড়ি কৈ মাছ। নতুন বাড়ির চারিদিক ঘুরে মাছগুলো বুলু বাড়ির পুকুরেই ছেড়ে দিল। একটা মাছ আর যেতে চায় না। ঠাকুরমশাই বললেন, শুভচিহ্ন। চারদিকেই শুভ ব্যাপারের ছড়াছড়ি। শুধু মা আসেনি। আসতে পারেনি। বড়দার চাকরির জায়গায় গিয়ে জ্বর হয়েছে। পিওনদের ওপর দেখাশুনোর ভার দিয়ে বড়দা চলে এসেছে। কুবের জানত, এখানেই মার মন পড়ে আছে। সারাদিন খাটাখাটুনির পর বড়দা বলছিল, ‘তোদের বাড়ির কথা মা জনে জনে ডেকে বলেছে। শুনছো, আমার ছেলের বাড়ি হয়েছে—পুকুর কেটেছে সে এক পেল্লায় ব্যাপার।’

    বটবট আওয়াজ থেমে গেল। ভদ্রেশ্বর সারেঙঘর থেকে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে তরতর করে নেমে এল, ‘এসে গেছি—ওই দেখুন।’

    হঠাৎ এমন নদীনালার মাঝখানে গম্ভীরভাবে পুরনো দিনের একটা বিশাল স্ট্রাকচার দাঁড়ানো। আগেকার খিলেন গাঁথুনি। লঞ্চ আর এগোবে না। পাটাতন থেকে মাল্লারা ছোট ডিঙিখানা জলে নামাচ্ছে।

    ‘ভাল করে তাকিয়ে দেখুন। বুনো পেয়ারার ঝাড়-ফলে নুয়ে পড়েছে—পাতা দেখতে পাবেন না। ছোটবেলা থেকে এ পথে যতবার গেছি—খালি ভাবতুম এমন সরেস জায়গায় আবাদ হয় না কেন? এখানে কোন মতে ধান ছড়িয়ে দিলেই মোটা মোটা গোছা ধান মাথা নিয়ে ঠেসে উঠবে। নদীর পলি পড়ে পড়ে এক্কেবারে দলদলে মাটি। এতদিনে আপনার একটা লোক পেলাম। কিছু টাকা ঢালুন—ধান উঠতেই পাঁচ-ছ’ গুণ হয়ে ফিরে আসবে।’

    আইডিয়াটা কুবেরকে গোড়াতেই হিট করেছে। কদমপুরে ক’দিন ধরেই ভদ্রেশ্বর তাকে জপিয়েছে। এখন বাজার হল ধানের। কি মাটি আঁকড়ে পড়ে আছেন? সাহস করে ঝাঁপিয়ে পড়ুন—পয়সা রাখবার জায়গা পাবেন না। কিন্তু একেবারে সামনা—সামনি এসে কুবের ভয় পেয়ে গেল।

    আসলে বাংলাদেশের নীচের দিকটায় একটাই নদী—তার মাঝখানে বাংলাদেশ বানানোর সময় ভগবান এলোপাথাড়ি অনেকগুলো ছোট বড় মাঝারি দ্বীপ ছুঁড়ে মেরেছিল। তাই চারিদিকে গাদা গাদা নদীর মায়া। সকাল থেকে একটানা ঝকঝকে জলের দিকে তাকিয়ে কুবেরের চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল। এতক্ষণে খানিক সবুজ, খানিক পৃথিবীর মত ঘরবাড়ি দেখতে পেয়ে চোখ একটু ধাতস্থ হয়েছে। কিন্তু এ কি?

    পাঁচ-ছ’ মাইল লম্বা হবে বোধহয় —আড়েও কম নয়। ঢাউস হয়ে নদীর মাঝখানে মাটি ঠেলে উঠেছে। তার ওপর পাখিদের সঙ্গে সঙ্গে কত ফল পাকুড়ের বীজ এসে পড়েছে এই জনমানবহীন চত্বরে। অবাধে গাছপালা জন্মেছে, বেড়েছে—মরেও গেছে হয়ত। তার মাঝখান দিয়ে দাঁত বের করে দাঁড়িয়ে আছে ইটের দেওয়াল, পিলার, খানিক জায়গায় জানালা, দরজার খিলান—ছাদ নেই কোথাও। ছোট্ট ডিঙিখানা দুলে উঠল। পাড়ে ওঠাই দায়। ঢেউ সেখানে ননস্টপ আছাড় খাচ্ছে। ছলবল করে জল প্রায়ই মাটি তুলে নিচ্ছে গালে—সেই সঙ্গে দাঁতন গাছের ঝাড়ও খাবলে নিচ্ছে।

    ‘এখানে উঠবো কি করে?’

    ‘ঘাবড়াবেন না। লগি মেরে লাফিয়ে পড়তে হবে। কষ্ট না করলে—’

    কিন্তু কেষ্ট লাভ করতে গিয়ে শেষে প্রাণ না দিতে হয়। কুবেরকে জড়োসড়ো অবস্থায় দেখে ভদ্রেশ্বর হেসে উঠল। গ্রেটকোটটা খোলেনি বুড়ো। একেবারে অ্যাডমিরাল গোছের চেহারা হয়েছে। বাতাসে মাথার সাদা চুল উত্তরে কাত হয়ে পড়েছে, ‘এই করে জায়গা জমি করবেন? ভেবেছেন কি? সব আমি করে দেব!’ তারপরই সেই এক ফালি ডিঙির ওপরেই টালমাটাল হয়ে দাঁড়াল, ‘ওই যে দেখছেন—ওটা হল মেদনমল্ল গড়—প্রতাপরাজার সেনাপতি ছিল—এখানে থেকেই ভারি ভারি জাহাজে চড়ে সমুদ্দুর চষে বেড়াত।’

    বহুবার দলিলে লিখতে হয়েছে—পরগণে মেদনমল্ল।

    এই সেই মেদনমল্লর আখড়া।

    তীরভূমি থেকে মাটি আস্তে আস্তে উঁচু হয়ে দ্বীপের ভেতরে একেবারে পাহাড়প্রমাণ ঢেউ তুলে দুর্গের সিঁড়িতে এসে থেমেছে। উঠতে কষ্ট হচ্ছিল কুবেরদের। ভদ্রেশ্বর পেছপাও হবার লোক নয়। মাল্লাদের নিয়ে কুবেরকে একরকম হিঁচড়ে ওপরে নিয়ে ঠেলে তুলল। হাঁপ ধরে গেছে। সেখানে বসে পড়ে কুবের সারা তল্লাটের একটা ছবি পেল।

    তারিখের নম্বর দেওয়া ঘড়িতে চব্বিশ। আজ চব্বিশে ডিসেম্বর। ঘড়ি না থাকলে বেলা বোঝা যেত না। এখন ঠিক দুটো। কুবেরের পেছনে কত বছরের পুরনো একটা দুর্গের কঙ্কাল হাড়গোড় বের করে কোনরকমে দাঁড়িয়ে আছে। বাঁ দিকে মেদনমল্লর দিঘি। দাম জমে তাতে জলের মুখ দেখা যায় না। পদ্ম শালুকের সঙ্গে রকমারি বুনো ফুল ফুটে আছে। সেখানে বিদেশী পাখিরা ঝাঁক বেঁধে আছে। রোদ পোহাচ্ছে।

    মাল্লাদের তাড়া ছিল। বেলা চারটের মধ্যে লঞ্চ ছেড়ে দিয়ে বড় নদীতে পড়তে হবে। জায়গা খারাপ। জীবজন্তু ছাড়াও মানুষের মধ্যে কত জন্তু রয়েছে। সরু নদীতে পেলে রাতারাতি রামদায়ের কোপে টুকরো করে ফেলবে।

    ‘কোথায়? চলুন এবার—’

    এই এতখানি জায়গা—এ তো প্রায় নিজের রাজ্য। এতদিনে কেউ খোঁজ পায়নি কেন? একটু অবাক লাগল কুবেরের। এমন সুন্দর মাটি-জল আটকাবার খাঁড়ি—সবই আছে এখানে। পয়সা ঢেলে মাছ ছাড়াও চলে—আবার আবাদও হতে পারে। পয়সা ছড়ানো রয়েছে—শুধু তুলে নিলেই হয়।

    একটা ঢিবি পার হতেই ইট বাঁধানো রাস্তা পড়লো। দেখেই চমকে উঠল কুবের। তারপর সবাইকে পেছনে ফেলে কুবের দৌড়ে চলে গেল। এ তো আমার চেনা জায়গা। ভদ্রেশ্বর, এ তো আমার চেনা জায়গা। কতবার এসেছি এখানে। এই পথ ধরে কতবার ছুটে গেছি। জলের ফেনার ধারায় এরকম কত কথা কুবের সাধুখার বুক তোলপাড় করে এক লহমায় তার ভেতরকার হাড়-পাঁজরের উপর দিয়ে বয়ে গেল। তখন পেছনে গ্রেটকোট গায়ে একটা বুড়ো এলোপাথাড়ি চেঁচাচ্ছে, ‘ধরো ধরো। ধরে ফেল তোমরা-আনাড়ি লোক পড়ে গিয়ে হাত পা ভাঙবে। সাধুখাঁ মশাই! ও সাধখাঁ মশাই! কোথায় গেলেন?’

    আর সাধুখাঁ! কুবের তখন দু তিন শো বছর আগেকার সেনাপতি মেদনমল্লর বাঁধানো চত্বরে গিয়ে পড়েছে। অনেকগুলো পাখি সেখানে নিশ্চিন্তে ছোঁ মেরে এসে নামছিল আবার উড়েও যাচ্ছিল। কুবের সেখানে এসে দাঁড়াতেই তারা চলে গেল। শুধু একটা মোটা সাপের কিছু সময় লাগল। বয়স হয়েছে। বেচারি নড়েচড়ে মেদনমল্লর খাজাঞ্চিখানার দিকে চলে গেল।

    সামনেই সমুদ্র। এদিকটা কুবেররা আগে দেখতে পায়নি। কোণে দিঘির মাঝখানে বাঁধানো জলটুঙি কালের ভারে ধসে পড়েছে। তার ওপর দিয়ে জলকলমির ঝাড় লতিয়ে এগিয়ে গেছে। কুবের আর দাঁড়াতে পারল না। কোন জায়গাতেই স্থির হয়ে থাকতে পারছে না। এক-একটা ফাটল, এক একটা ভাঙন—সব কুবেরের চেনা জায়গার ওপর দিয়ে ঘটে গেছে। তার ভেতরে যা কিছু জানা চেনা ছিল—সেসব ঠেলে আরও অনেক ভেতর থেকে এই জায়গাটার ছবি আরও জোরে বুড়বুড়ি কেটে ওপরে আসতে চাইছে। কুবের সে-ঢেউ কিছুতেই ঠেলে দাবিয়ে রাখতে পারছে না।

    ভদ্রেশ্বর রীতিমত ভাবনায় পড়ে গেল। এই ছিল লোকটা। কোথায় গেল। সব জায়গায় এগোনোও যায় না। চিত্তির করা ফুল মেলে দিয়ে কতরকমের বুনো গাছ এই দুর্গের মধ্যে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। মাথার ওপরে ছাদ নেই। সেখান দিয়ে আলো পড়ে ভেতরটা লতায়-পাতায়, ভাঙা ইটে, শ্যাওলায় কারুকাজ করা ভেলভেট হয়ে পড়ে আছে।

    সাহস করে এগোতেই কুবের পেয়ে গেল।

    ‘ভদ্রেশ্বর এই আমার শোবার ঘর—’

    বলতে ইচ্ছে করছিল, চমৎকার। নিয়ে এলাম আমি আর আপনি বলে দিলেন কোন্ জিনিসটা কার? কোথাকার? ভাল!

    ‘এখানে বসে আমি কোটালের বাতাসের দিকে নজর রাখতুম—’

    ‘হয়েছে। চলুন এবারে।’ মাল্লাদের দিকে তাকিয়ে ভদ্রেশ্বর চোখ টিপতেই কুবের ছিটকে ভাঙা খিলানের ধাপ ধরে ওপরে উঠে গেল। এসব আমার ছিল। সেখান থেকে সারা তল্লাট কুবেরের চোখের নীচে ঠিকরে এসে দাঁড়াল। শ্যাওলায় পা রাখা যাচ্ছে না। এখনকার তুলনায় একেবারে পকেট সাইজের ইটের গাঁথুনি। তবে খুব চওড়া। দু’ দুটো লোক দৌড়ে যেতে পারে তার ওপর দিয়ে। চরদিকে ইটের শ্রাদ্ধ হয়েছে। ভদ্রেশ্বর নীচে দাঁড়িয়ে হাত জোড় করে বলছে, ‘আমার ঘাট হয়েছে কুবেরবাবু। আপনি ভালোয় ভালোয় নেমে আসুন। আমরা এবার লঞ্চ ছেড়ে দেব। প্রাণটা খোয়াবেন না দয়া করে। বউমাকে আমি মুখ দেখাতে পারব না। দয়া করে নেমে আসুন—’

    কুবের একচোট হেসে উঠল। সারাটা দুর্গ কাঁপিয়ে সেই হাসির আওয়াজ দিঘির চত্বরে গিয়ে আছড়ে পড়তেই পুরনো দামের ওপরের পাখির ঝাঁক একেবারে ছররা খেয়ে আচমকা দিগ্বিদিক হারিয়ে সাঁইসাঁই করে উড়তে লাগল। কাদার গাঁথুনির পরিগুলো দিঘির দু’ধারে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সে সব ঢাকা পড়ে গেল। কত পাখি ছিল তাহলে!

    ‘নেমে আসুন দয়া করে।

    ‘আমার জায়গায় ওরা কারা?’

    ‘কোথায়?’

    ‘ওই যে। দক্ষিণের তীরে গুষ্ঠির নৌকো ভিড়েছে—’

    ভদ্রেশ্বর পেছন ফিরে তাকিয়েই বুঝল, দূর দূর নদীর জেলেদের কাণ্ড। ছোটবেলায় এদিকে বিচুলির নৌকোয় চড়ে ঘুরতে এসে দেখেছে, জেলেরা সমুদ্রের অখাদ্য কুখাদ্য কিম্ভুত সব মাছ পেলে ছাল ছাড়িয়ে দ্বীপের মাটিতে ফেলে শুকোতো। কলকাতার ব্যাপারীরা সবরকম জিনিসই কেনে।

    মুখে বললো, ‘আপনি নেমে এসে বারণ করুন।’ লোকটা যে এত বড় একটা পাগল কে জানত। অথচ সব সময় কেমন ভদ্রলোক সেজে বসে থাকে। ঘাড় ঘুরিয়ে আবার জেলেদের দেখতে গিয়েই ভদ্রেশ্বরের গা ছমছম করে উঠল। দিঘির পাড়ে বাঁধানো চত্বরে বিকেলবেলার রোদ পড়ে ভুল হয়ে যায়—এসব এই বুঝি সেদিনের তৈরি। একটু আগে লোকজন দাসদাসী দিঘিতে জল সরে দুর্গের ভেতর চলে গেছে। এখন সব চুপচাপ। যে কোন মুহূর্তে সেনাপতি মেদনমল্ল এসে পড়তে পারে। আসার সময় হয়ে গেছে।

    দিঘিময় পাখির ঝাঁক এখন দুর্গের উঁচু উঁচু দেওয়ালের মাথায় সার দিয়ে বসে পড়েছে। তাদের ছুটোছুটিতে দু’ একটা পালক এখনও শূন্যে। বাতাস ফুঁড়ে কিছুতেই নীচে নামতে পারছে না।

    ‘ক?’

    ভদ্রেশ্বর সামলে নিল নিজেকে। এতক্ষণে লোকটা তাহলে নেমেছে। মাল্লা দুটো কোনদিকে গেল?

    ‘আমি।’

    ‘সে তো বুঝতেই পারছি। কি যে পাগলামি জুড়ে দিয়েছেন—’

    কুবেরের দিকে তাকানো যায় না। চোখ লাল। সাত-সকালের ঠাণ্ডা হাওয়া লেগেও হতে পারে। চুলগুলো খাড়া খাড়া হয়ে উঠেছে। হাঁটুর কাছে ধুতি ছিঁড়ে গেছে।

    ‘এসব জায়গা আমার চেনা ভদ্রেশ্বর।’

    ‘কি যে মন খারাপ করা সব কথা বলেন।’

    ‘না। আমি এখানে ছিলাম। কবে ছিলাম মনে নেই। কিন্তু ছিলাম। সব চেনা।’

    একটু শীতও লাগছিল ভদ্রেশ্বরের। লঞ্চে বসে ভালোমন্দ যা কিছু পেটে পড়েছিল—সব হজম হয়ে এখন নাড়িভুঁড়ি সুদ্ধ জ্বলছে।

    ‘ভালো কথা। চেনা জায়গায় এবারে আবাদ করুন। কিন্তু আমি আর আপনাকে নিয়ে এখানে আসছি নে।’

    ‘কেন ভদ্রেশ্বর। আমি কি করেছি?’

    ‘কি করেন নি? অমন করে এই কবরখানায় কেউ দৌড়াদৌড়ি করে?’

    ‘কবরখানা বলছ কেন? আমি এখানে ছিলাম ভদ্রেশ্বর। ওই যে আমার বৈঠকখানা। ওই ঢালু জায়গায় গরুমোষের বাথান ছিল। এখনও আমি সব চিনে চিনে বের করতে পারি।

    ‘কাজ নেই। যত্ত গা গুলানো কথা বলেন আপনি। এই করে আবাদ করবেন?’

    ভদ্রেশ্বরের কথার ঝাঁঝে কুবের ফিরে এল। ‘জায়গাটার কোনও খাজনা নেই?’

    ‘তবে বলছি কি! দশ জোড়া মোষের হাল করে কাজে নেমে পড়া শুধু। শীত থাকতে থাকতে লোকজন মালপত্র নিয়ে এখানে এসে নেমে পড়ুন। দখলে রাখুন। তারপর আষাঢ়ের পয়লা হপ্তায় জ্যাঠো রোয়া সেরে দিয়ে ফিরে যান। ধান আর দেখতে হবে না। অমর খন্দ হয় এই মাটিতে। আমি বলছি সাধুখাঁ মশাই—আমি জানি-গাছগাছালির পাতা দেখুন। ঘন, সবুজ—অমর খন্দ—’

    আর কোন কথা কুবেরের কানে যাচ্ছিল না। ধানের ভারে সারা তল্লাট নুয়ে পড়েছে। লোকজন দেখা যায় না। কুড়িটা মোষের মাথা ঢাকা পড়ে গেছে। দিঘির ধার দিয়ে পরির সারি আড়ালে চলে গেছে। কুঁজি বেঁধে বেঁধে চাষীরা সংসার করছে। ব্যাপারীদের নৌকোগুলোর গলুইতে আঁকা মাছ, মানুষের চোখ, নোঙরের আঁক—সব কিছু চিকচিক করছে। এক লহমায় কুবের সাধুখাঁ আগামী শীতের চেহারাটা দেখে ফেলল। এখনই বস্তা নব্বই বিরানব্বই টাকা। ধরে রাখতে পারলে—উঃ? ভাবা যায় না!

    পাখিগুলো দেখল, খানিকক্ষণের জন্যে যে-চারটে মানুষ তাদের এখানে এসেছিল—এখন তারা হেঁটে হেঁটে নেমে যাচ্ছে। গড়খাই পার হয়ে গেল। এখন আর দিঘিতে বসা যাবে না। দাম ফুঁড়ে ঠাণ্ডা উঠছে। দেখা যায় প্রায়।

    ভদ্রেশ্বরের পেছন পেছন কুবের সাধুখাঁ ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে ফিরছে। মাল্লাদের একজন অল্প জলে বিশ্রী দেখতে একটা মাছ ধরে ফেলেছে।

    ভদ্রেশ্বরের মুখ দিয়ে লাল গড়াচ্ছে প্রায়, ‘বাঙাস মাছ এখানে পেলি কোত্থেকে বাবারা? বড় দামি মাছ। রাঁধলে মাংস হয়ে যায়।’

    কুবেরের কানে কিছুই গেল না। সারেঙ সিটি মারার দড়িটা ধরে ঘন ঘন টান দিচ্ছে। আকাশের আধখানা জুড়ে সূর্য এবারে ঢল নেবে! রোদ এলিয়ে পড়েছে। ডিঙিতে পা দিতেই কুবেরের মাথার মধ্যে মেদনমল্লর বাগান, দিঘি, চত্বর, জলটুঙি সুদ্ধ সারাটা দুর্গ চলকে টাল খেয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Our Picks

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }