Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তালাশ – শাহীন আখতার

    শাহীন আখতার এক পাতা গল্প418 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২২. ফেরা

    ফেরা

    রিকশা থেকে মরিয়মের একা নেমে আসাটা মনোয়ারা বেগম রান্নাঘরের দুয়ারে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। চুলার আগুনের তাপে মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করছে। হঠাৎ হাতের খুন্তিটা মাটিতে পড়ে যায়। মরিয়ম উঠানে দাঁড়িয়ে ডাইনির মতো হাসে। মা বিচলিত। সারা দিন এক হাতে চোখ মুছে আরেক হাতে রান্না করেছেন। শেষবার মেরি যখন বাড়ি আসে, সঙ্গে মন্টু ছিল। এবার নিজের নয়, পরের ছেলের আসার কথা। সে জামাই তো। তাই ভালো-মন্দ রাঁধছিলেন। সে-ও আসবে বলে এল না। ঘরের বেড়ায় ঠেস দিয়ে খুন্তিটা মাটি থেকে তুলতে তুলতে তিনি মেয়েকে শুধান, ‘জামাই কই, মরিয়ম? তুই একলা আইলি যে বড়! মেরি তৈরিই ছিল। তার বাড়ি ফেরার ছাড়পত্র মমতাজের জন্য। কিন্তু লোকটা আসেনি। আসবেও না কোনো দিন। দু’দিন আগে-পরে সবাই যা জানতে পারবে, আজ নিজের মাকেও তা বলা যায় না। রত্না-ছন্দা দুই আমন্ত্রণকারী, ছুটে এসে রিকশা থেকে সুটকেস নামায়। মরিয়ম তাদের শেষবার দেখেছে হাফ প্যান্ট পরা, খালি গায়। এখন ব্যালবটম পায়জামা, খাটো কামিজ আর চুলে ঝুঁটি বেঁধে তারা জানতে চাচ্ছে, ‘দুলাভাই কই, মেরিবু? কী ব্যাপার, গরিবের বাড়ি অপছন্দ নাকি সাহেবের?

    যমজ কিশোরীরা টেক্কা দিয়ে মরিয়মের সামনে স্মার্ট হওয়ার চেষ্টা করছে। শহর তো দূরস্থ, একটা পাকা সড়ক থেকেও তাদের বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল বিশাল এক জলাভূমি। হালের মেলবন্ধন-ভুখা মানুষের তৈরি মাটির রাস্তা। সেই সুবাদে ব্যালবটম, খাটো কামিজের চলতি ফ্যাশন। বাড়তি সাজসজ্জা মায়ের পেটের এমন এক বোনের আগমন উপলক্ষে, যে তাদের অচেনা। দেখা-সাক্ষাৎও হয়নি বিশেষ। যমজদের বুঝ হওয়ার আগেই মরিয়ম ঢাকায় নির্বাসিত। তারা বড় হয়েছে অচেনা বড় বোনের ভালোমন্দ কাহিনি শুনতে শুনতে। মা : বইনের স্বভাব পাইছ! কথায় কথায় রাগ করো! বায়না ধরো! বড় চাচি : ওড়না বুহে থায় না, ইক্কিরে মেরির স্বভাব। খেলার সঙ্গীরা : ঘর পালানির বইন, অহ, ঘর পালানির বইন। মিলিটারি তোর দুলাভাই, যাইবি কই পাকিস্তান (কোরাস)। নোয়াখালী থেকে আগত স্কুলের মৌলবি স্যার : তোর বইনের লাহান অইলি না কিল্লাই? হেতি সব কেলাসে ফার্স্ট অইতো! গ্রামের লোকজন : যমইক্কারা ঘোমটা ছাড়া ইস্কুলে যায়। বইনের লাহান দুনিয়া এক করব।

    অবশ্য মরিয়মের বিয়ের খবর রাষ্ট্র হওয়ার পর, গত ছয় মাসে গাছের পাতাও বাতাসে নড়া বন্ধ। মা থেকে থেকে শুধু বড় মেয়ের শিশুকালের গল্প বলেন। কবে দাঁত পড়ে দাঁত উঠল। গোসল করাতে নিলে দু’হাতে খালি পানি ছানত, খালি পানি ছানত। হাসলে ছোট থাকতেই গালে টোল পড়ে তার বড় মেয়ের। হায় আল্লা, শাশুড়িআম্মা তো পাগল ছিলেন! কোলে বসিয়ে ঠাট্টা করতেন–অহ্, কফি! তোর মাইয়্যার দি। হাসলে গালোত টোল পড়ে! বড় অইলে ছিনাল অইব। আব্বা হাসতেন। যমজেরা বড় বোনের রূপ-গুণের ছিটেফোঁটাও যে পায়নি, এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর দুঃখ আর ধরে না। এখন উপায়? যার জন্য এত আয়োজন-আদিখ্যেতা, সেই জামাইতো এল না!

    মরিয়ম যমজদের ছেড়ে রান্নাঘরে দৌড়ে যায়, মা, মাগো। আমি আইছি। ইশ, কত দিন পরে মা! তোমার জামাই ব্যস্ত মানুষ। খালি কাজ আর কাজ। একদম সময় পায় না। মনোয়ারা বেগমের শরীরটা যেন গাছের খোড়ল থেকে সদ্য পড়া পাখির ছানা। তিরতির করে কাঁপে। তার কম্পন থামাতে শিশুর মতো মাকে বুকে জড়িয়ে ধরে মরিয়ম।

    কফিলউদ্দিন আহমেদ দূর থেকেই দেখেছেন, সুন্দরীর জলার ওপর দিয়ে মেরি রিকশা করে আসছে। সঙ্গে জামাই নেই। তিনি কাছারিঘরের বারান্দায় আর দাঁড়িয়ে না থেকে নিঃশব্দে ঘরে এসে বিছানায় শুয়ে পড়েছেন। মা-মেয়ের টুকরা-টাকরা কথাবার্তা আর কান্নাকাটির পর মরিয়ম ঘরে ঢোকে। সব শুনেও না-শোনার ভান করে আব্বা অবেলায় শুয়ে আছেন বিছানায়। তবে তার পায়ের পাতা জোড়া লুঙ্গির বাইরে, নাঙা। মেরি পা ছুঁয়ে সালাম করতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে বসেন। মেয়ে খাটের কিনার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। পিতা পালঙ্কে আসীন। দুজনেরই চোখ জানালাপথে বাইরে–দূরে। যুদ্ধের দমকা হাওয়ায় তাদের জীবন ওলট-পালট হয়ে গেছে। কারো মুখে কথা নেই। তারা বাইরে তাকিয়ে গোধূলির ম্লান আলোয় কী যেন খোঁজে। সন্তানদের সঙ্গে কফিলউদ্দিন আহমেদের সম্পর্কটা অদ্ভুত। ভালো সময়ও কে কী নিয়ে কথা বলবে বুঝতে পারে না। রত্না হারিকেন হাতে ঘরে ঢুকতে নীরবতায় ছেদ পড়ে। ‘রাত না অইতে বাত্তি কা?’ আব্বা তেড়ে ওঠেন, নিবা নিবা! কেরোসিনের যা দাম! এরপর মাগরিবের আজান, পড়ার আগ পর্যন্ত তিনি মরিয়মের সঙ্গে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি, শেখ সাহেব যে একজন অযোগ্য শাসক এ নিয়ে কথা বলে, মাথায় টুপি চড়িয়ে মসজিদে চলে যান।

    যুদ্ধ নিয়ে পরিবারের পাঁচজন প্রাণী কেউ কথা বলে না। গাঁয়ের লোকেরা মরিয়মকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে বাড়ি চলে যায়। কয়েকজন আবার উঠানের মধ্যিখানে হাঁটু ভেঙে ঠায় বসে থাকে। মনোয়ারা বেগম বাসি বা টাটকা যে-কোনো খাবার সাধলেই নিঃশব্দে মাথা দোলায়। মরিয়মের ব্লাউজের কাট, শাড়ি পরার শহুরে ঢং, হাঁটাচলা, পরিষ্কার হাত-পা এসবই আপাতত তাদের কৌতূহলের বিষয়। কাপড়ের নিচের মিলিটারির অত্যাচার-খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে দেখেও ঠিক আন্দাজ করা যায় না। তবে কলঙ্কের খবর–যা রটে তা বটেই।

    মনোয়ারা বেগম সময়-অসময় কান্নাকাটি করেন। সবাই মনে করে, মেরিকে দেখে তার মন্টুর কথা মনে পড়ছে। কিন্তু ওই নাম এ বাড়িতে কখনো উচ্চারিত হয় না। গ্রামের টিনের দোচালা প্রাইমারি স্কুলটার নাম এখন শহিদ সাইফুদ্দিন আহমেদ ফুলতলি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মুখের জবান থেকে সরে সে জায়গা নিয়েছে এক টুকরা টিনের সাইনবোর্ডে। উপমন্ত্রী জিপে করে এসে তা উদ্বোধন করে গেছেন। সঙ্গে আসা মুজিব কোট পরা সদরের লোকগুলো মন্টুকে বাদ দিয়ে উপমন্ত্রীর নামে আসা যাওয়ার সারাটা পথ শ্লোগান দেয়। কফিলউদ্দিন আহমেদ রেগে টং। শহিদের পিতার নাম ডেকে কিছু বলতে বলা হলে মঞ্চে উঠে তিনি কাঁপতে থাকেন। সদরের অচেনা লোকগুলো ভাবে পুত্রশোক। স্বয়ং চিফ গেস্ট চেয়ার ছেড়ে উঠে আব্বাকে জড়িয়ে ধরে পাশের চেয়ারে বসিয়ে দেন। তখন খই ফোঁটার মতো কতগুলো হাততালি পড়ে। মাঝখানে শ্লোগানের যা ধুয়া ওঠে, সব উপমন্ত্রী আর বঙ্গবন্ধুর নামে। রত্না-ছন্দা হারমোনিয়াম বাজিয়ে দেশাত্মবোধক গান গায়–আমায় গেঁথে দেওনা মাগো, একটা পলাশ ফুলের মালা/ আমি জনম জনম রাখব ধরে ভাই হারানোর জ্বালা। গানটা পুরো গাওয়া হয় না। তারই শোকে কোকিল ডাকে, ফোটে বনের ফুল পর্যন্ত গেয়ে দু’বোন ওড়নায় মুখ চেপে মঞ্চ থেকে নেমে আসে। প্রতিবার রিহার্সেলেও তারা এইটুকুই গাইতে পেরেছে। স্টেজে বসে রুমালে চোখ মোছেন উপমন্ত্রী। কালো মুজিব কোট পরা পেঙ্গুইনের মতো লোকগুলো স্তম্ভিত। তারা বিলম্বে হলেও নেতার দেখাদেখি পকেট থেকে রুমাল বের করে। চোখে পানি নেই শুধু কফিলউদ্দিন আহমেদের। তিনি বাড়ি ফিরে দাদার আমলের উঁচু খাটে সটান শুয়ে পড়েন। টানা দু’দিন খাওয়াদাওয়া দূরে থাক, এক ফোঁটা পানি স্পর্শ করানো গেল না তাকে দিয়ে। মনোয়ারা বেগম চিন্তিত। কাছে গেলে স্বামী মুখ ঘুরিয়ে রাখেন। রাগ কমার পর কথা বলতে শুরু করেন থেমে থেমে। মরিয়মের মা, দেশটা রাজাকারে ছাইয়্যা গেল। মানুষ আর মানুষ নাই। সরকার যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করছে, কারে জিগাইয়্যা করছে? তোমার-আমার পারমিশন নিছিল শেখ মুজিব? মনোয়ারা বেগম ফ্যালফ্যাল করে স্বামীর মুখের দিকে তাকান। খবরের কাগজের সঙ্গে তার সম্বন্ধ নেই। ‘ইসব কী কন, কে কারে জিগ্যাইব, রাজা প্রজারে জিগায় কখনো? পাগল-ছাগলের কথাবার্তা!’ কফিলউদ্দিন আহমেদ চেতে আগুন, ‘তোমার মাথা আর আমার মুণ্ডুরে কই। অশিক্ষিত মাইয়্যা মানুষ!’

    মরিয়ম একদিন স্কুল ছুটির পর রত্না-ছন্দার সঙ্গে মন্টুর নাম লেখা সাইনবোর্ডটি দেখতে যায়। স্কুলমাঠের ঘাসে বসে যমজ দু’বোন মেরিকে বলে, ‘তাদের আব্বা স্কুলের উন্নতির জন্য এখন মাসে মাসে টাকা দেন।’ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলেন, ‘পোলাপানরে পড়ালেখা করাও গো। এইডা পুণ্যের কাজ। আখেরাতে ফল পাইবা।’ আখেরাতের চেয়ে তাদের দরকার ইহকালের সুখ-সুবিধার। বাপের সঙ্গে কামলা দিলে হাতে হাতে নগদ টাকা আসে। পরকালের ভাবনাচিন্তার সময় কোথায়। পুত্রহীন লোকটার কথা কেউ শোনে, কেউ শোনে না। আব্বার পীড়াপীড়িতে বয়স্করাও কিছু দিন খড়ের ব্যানা জ্বালিয়ে নাইট স্কুলে গেছে। আব্বা সরাসরি তদারক করতেন। নাইট স্কুলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও করেছিলেন একটা হ্যাঁজাকবাতি কিনে দিয়ে। কিন্তু ছাত্রদের পান-জর্দা খাওয়া জিব সব মোটা মোটা। মাথায়ও পড়া ঢোকে না। ঢুকলেও অদৃশ্য ছিদ্রপথে বেরিয়ে যায়। জিগ্যেস করলে মস্ত বড় হাই তোলে। কেউ কেউ হ্যাজাকের শোঁ-শোঁ গর্জনে নাক ডাকিয়ে ঘুমায়। স্যারের অবস্থা শোচনীয়। বেত নিয়ে বসেও ছাত্রদের মারতে পারেন না। সবাই তার বাবার বয়সি। স্যার ছিলেন অবৈতনিক। তিনি হাল ছেড়ে দিলেন।

    রত্না-ছন্দা, তারা যার সুনাম কি দুর্নাম কোনোটারই সমকক্ষ নয়, এমন বোনের সঙ্গে কথা বলে বলে অন্তরঙ্গ হতে চায়। মরিয়ম ধরা দেয় না। তার মনোযোগ অন্যত্র । সে খেয়াল করে, কফিলউদ্দিন আহমেদ মমতাজের চিঠির জন্য রোজ একবার করে সদরে যান। আরো ক্লান্ত আরো অবনমিত হয়ে বাড়ি ফেরেন। বাড়ির কেউ কিছু মুখ ফুটে বলার আগে মরিয়মের ঢাকা চলে যাওয়া উচিত। সেই দিনটা বেশি দূর নয়। কিন্তু ঢাকা গিয়ে উঠবে কোথায়–পুনর্বাসনকেন্দ্রে নাকি বেশ্যাপাড়ায়?

    চিন্তায় মরিয়মের রাতে ঘুম হয় না। খালি দুঃস্বপ্ন দেখে। কে যেন তার বুকের ওপর বসে হৃৎপিণ্ডটা চাপছে। লোকটার মুখ দেখা যায় না। চোখ দুটি বিড়ালের চোখের মতো জ্বলজ্বল করে। বুক থেকে গলার কাছে চলে আসে দুটি লোমশ হাত। আঙুলগুলো তামার আংটার মতো। গলা টিপে মারার চেষ্টা করছে। মরিয়ম চিৎকার করে–গলায় গরু জবাই দেওয়ার গোঁ-গোঁ আওয়াজ। কফিলউদ্দিন আহমেদ যখন কুড়াল দিয়ে দরজা ভাঙছেন, তখনো সে সমানে চিৎকার করছে। মনোয়ারা বেগম হারিকেন ধরে আছেন। রত্না-ছন্দা হুমড়ি খেয়ে পড়ে বিছানার ওপর। মরিয়মের নাক দিয়ে মুখ দিয়ে গাঁজলা বের হয়। চোখ দুটি মরা মাছের মতো ওল্টানো, মণি দেখা যায় না এমন।

    মাঝরাতে ডাক্তার ডাকাও সমস্যা। পরদিন এক কান থেকে দশ কান হবে। কফিলউদ্দিন আহমেদ নিজের ঘুমের ওষুধ মেয়েকে খেতে দেন। দিনের বেলা একই চিকিৎসা চলে। এদিকে মরিয়মের গায়ে একশ চার ডিগ্রি জ্বর। রাতের বেলা ঝাড়ফুঁক আর পানিপড়া দিতে একজন দরবেশ আসেন। বড় চাচি তহুরা বেগম নিজেও তুকতাক জানেন কিছু। দরবেশ বিদায় নিলে তিনি রোগীর শুশ্রূষায় নেমে যান। দোয়া পড়ে পড়ে রোগীর জ্বরতপ্ত শরীরে ফুঁ দিচ্ছেন। অন্যদিকে ঘন-ঘন কপালের জলপট্টি বদলাতে হচ্ছে। লোমশ দুটি হাত কুপির আলোয় কেঁপে কেঁপে গলার ওপর দিয়ে কপালে উঠে যায়। মরিয়ম খপ করে ভিজা ত্যানাসহ হাতটা ধরে ফেলে। একদিকে চাচি চিল্লাচ্ছেন, আরেক দিকে মরিয়ম। রোগীর কথা অস্পষ্ট। তবে বোঝা যায়, জীবন গেলেও সে হাত ছাড়বে না। চাচির মুখটা কাগজের মতো সাদা হয়ে গেছে। তিনি ছাড়া পাওয়া মাত্র ঘর ছেড়ে দৌড়ে পালান। রত্না-ছন্দা পেছনে মুখ টিপে হাসে–কি, শাস্তিটা কেমন হলো? বুক থেকে ওড়না সরে গেলে কিছু বলতে আসুক, তারা বড় বোনকে লেলিয়ে দেবে। মেয়ে দুটির শরীরে মায়াদয়ার বালাই নেই। বয়সটাই হয়তো এমন।

    মরিয়মের জ্বর নেমে গেছে। তখনো দুর্বলতা কাটেনি। ভোরবেলায় বাজ পড়ার শব্দে তন্দ্রা ভাঙে। সকাল থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। ওর ইচ্ছার সঙ্গে সায় দিয়ে সমস্ত দিন একনাগাড়ে বৃষ্টি পড়ে। রাতে, তারপর দিন, তারপর দিন। লাগাতার বৃষ্টি। মহাপ্লাবন আসন্ন। পৃথিবী ভেসে যাক। নুহ নবি ডিঙা নিয়ে হাজির হলেও মরিয়ম ডাঙা ছাড়বে না। সবার সঙ্গে ভেসে যাওয়ার এ সুবর্ণ সুযোগ। কফিলউদ্দিন আহমেদের সদরে যাওয়া বন্ধ। জামাইয়ের চিঠি না আসার দুঃখ নেই। পিয়নও তো রক্তমাংসের মানুষ। বৃষ্টি থামার আগ পর্যন্ত না-পাঠানো চিঠিগুলো ডাকবাক্সেই নিরাপদে থাকুক। মরিয়ম বহুদিনের অনিদ্রা আর জ্বরের পর রাতদিন ঘুমাচ্ছে। বৃষ্টি আর ঘুম। ঘুম আর বৃষ্টি। তার ঘুমন্ত চেতনায় বৃষ্টি হোসপাইপ দিয়ে আশীর্বাদ বর্ষণ করে।

    মনোয়ারা বেগমের ধাক্কাধাক্কিতে মরিয়ম একদিন সত্যি সত্যি জেগে ওঠে। মাঝখানে কত দিন কত রাত চলে গেছে হিসাব নেই। মাথার কাছের জানালা খুলে দিয়ে মা খুশিমনে মেয়েকে সুন্দরীর জলাটা দেখান। বন্যার পানিতে তা এখন সমুদুর। রাস্তার চিহ্নমাত্র নেই। ‘মরিয়ম, জামাই কেমুন বোকা মানুষ, দ্যাখ।’ মা হাসতে হাসতে বলেন, ‘খরা থাকতে আইলো না। দুনিয়া অহন ভাইস্যা যাচ্ছে, আইবো ক্যামনে?’ রত্না-ছন্দা বৃষ্টির পানিতে বই-খাতা ভিজিয়ে বাড়ি ফিরেছে। স্কুল পর্যন্ত যেতে পারেনি। তারাও খুশি, ‘মেরিবু কী মজা! দুলাভাই পানি না কমলে আসতে পারবে না। তোমারও ঢাকা যাওয়া বন্ধ। কফিলউদ্দিন আহমেদ মৃদু হেসে দলে যোগ দেন। মেরি ছাড়া বাকি সবাই এখন বিশ্বাস করে, জামাই ঢাকা থেকে আসতে পারছে না, কারণ ফুলতলি গাঁয়ে আসার সব কটা রাস্তাই জলে নিমজ্জিত। এ তাদের তৈরি বিশ্বাস। যে বিশ্বাসের জোরে মৃত্যুর বছর খানেক পরও মন্টু তাদের মাঝে বেঁচে ছিল।

    কফিলউদ্দিনের ভিটেবাড়িটা সাগরের বুকে জাহাজের মতো ভাসছে। জলের সীমাহীন বিস্তার তাই অক্লেশে দেখা যায়। আউশ ধান খোসার ভেতর দুগ্ধাবস্থায় তলিয়ে গেছে। দুর্ভিক্ষ আসন্ন। এটা ভাববার বিষয় এই পরিবারেরও। কফিলউদ্দিন আহমেদ যুদ্ধের পর ঘরে কিছু গচ্ছিত রাখা পারত পছন্দ করেন না। তাতেও তার হিসাব আছে। মানুষ সঞ্চয় করে পুত্রসন্তানের জন্য। কন্যারা আজ বাদে কাল চলে যাবে অন্যের বাড়ি। তার দান-খয়রাত তাই মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন ঘরে সম্বল বলতে মাটির এক মটকা চাল, গোবর লেপা বাঁশের ছোট ছোট ডুলিতে আগামী মৌসুমের কয়েক পদের বীজধান। মনোয়ারা বেগম বড় মেয়ের সঙ্গে উৎকণ্ঠা ভাগাভাগি করতে চান। কারণ স্বামীকে এসব বলে ফায়দা নেই। মানুষটা মন্টুর নিখোঁজ হওয়ার পর দিন-দুনিয়া থেকে আলগা হয়ে গেছে। যে জায়গাজমির ভার কফিলউদ্দিন আহমেদ আর বইতে পারছেন না, তা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যাওয়ায় তাকে খুশি খুশি দেখায়। একদিন জাহাজের ডেকের মতো বসতবাড়ির কিনারায় দাঁড়িয়ে মেরিকে তিনি তর্জনী তুলে নিজের জমিজমার সীমানা দেখান। পানির নিচের সম্পত্তির হিসাব। ব্যাপারটা পাগলামি। সে ভয়ে ভয়ে আব্বার হাতের স্খলিত চামড়ার ভাঁজ লক্ষ করে। উদ্যত অঙ্গুলি বাতের রোগীর মতো কাঁপছে। সব আমার! অপরাজেয় নাবিকের জলদগম্ভীর কণ্ঠে তিনি উচ্চারণ করেন। সাগরের ঢেউ আরো উত্তাল হয়। দীর্ঘ সামুদ্রিক ভ্রমণের পর বৃদ্ধ নাবিক জাহাজভর্তি মণিমুক্তা হারিয়ে যেন। স্বদেশে ফিরছে। সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছে মৃত্যু।

    সেই রাতে মা চুপিচুপি বিছানা ছেড়ে উঠে আসেন। ‘মরিয়ম উঠ-উঠ। কী মরার মতো ঘুম মাইয়্যার! আমার যে কেয়ামত অইয়্যা গেল মা। আমি আর পারছি না।’ মনোয়ারা বেগম মেয়ের সামনে বসে খনখনে গলায় কথা বলেন। পাশের ঘরে ছোট মেয়ে দুটি ঘুমাচ্ছে। পাতলা মশারির মতো চারপাশ আবছা অন্ধকার। মা সতর্কতার সঙ্গে এদিক-ওদিক তাকান। ‘তোর বাপ বাঁচবে না, মা।’ মায়ের গলার স্বর খাদে নামে, ‘পুত পুত করে লোকটা শেষ অইয়্যা গেল। আমি চাই–হে আবার শাদি কইর‍্যা পোলার বাপ হউক।’ মেরি চমকে উঠে বাধা দেয়, ‘না, আম্মা না, এসব কী বলেন, ঘুমাতে যান তো!’ মা থামেন না। ‘আমারে বলতে দে। কথার মাঝখানে হামলাইয়া পড়স ক্যা? আমার অ্যাম্নেও শেষ, ওমেও শেষ। বিয়া করতে চাইলে আমি হ্যাঁরে বাধা দিব না, মরিয়ম।‘’ মেঘভরা আকাশটা আরো ভারী হয়ে তাদের মাথার ওপর নেমে আসে। বজ্রনিনাদে তোলপাড় হয়।’ সব নিরানন্দ, বিস্বাদ। মা-মেয়ে মুখোমুখি। মনোয়ারা বেগমের কথা শেষ হয় না। ‘তুই না কইলে কী, আমি মা, আমি তোর কষ্ট জানি। কপাল একবার ভাঙলে মা গো, আর জোড়া লয় না। কান্দিস না, মরিয়ম। পানি নামলে পর তুই চইল্যা যা। ঢাকার বাড়ি দখল নে। তোর বাপ জাগা-জমি শ্যাষ কইর‍্যা তই কবরে যাইব।’

    সকালে মায়ের দিকে তাকিয়ে মরিয়মের মনে হয়, গত রাতের কথাগুলো ছিল তার প্রলাপ। তিনি কলাপাতা মাথায় দিয়ে তুমুল বৃষ্টিতে এঘর-ওঘর করছেন। তার হাঁকডাক বর্ষণের একঘেয়ে শব্দ ছাপিয়ে কানে বেঁধে। ভেজা পাটখড়ি আর চ্যালাকাঠ দিয়ে রান্না করেন দিনের অর্ধেক সময়। চুলায় লম্বা ফুঁ দিয়ে, মরিয়ম ভাবে, তিনি আসলে দমের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে চাচ্ছেন। এ বাড়িতে রত্না-ছন্দা ছাড়া তারা তিনজনই একপ্রকার মৃত। জীবিত মানুষের চরিত্রে জনসমক্ষে অভিনয় করছে। কিন্তু অভিনয়ই তোক আর বাস্তবই হোক বেঁচে থাকলে মানুষের খেতে হয়। বীজধানের ডুলি একে একে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। অগত্যা কামলা ছেলে দুটি বুকে কলসি বেঁধে পানির তল থেকে ধানের ছড়া তুলে আনে। মুগুর দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে শিষ থেকে ধান ছাড়ায়। মেরি আর মনোয়ারা বেগম অপুষ্ট ধান টিনের পাত্রে ছড়িয়ে দিয়ে চুলার ওপর নেড়েচেড়ে গরম করে। তারপর মুষল দিয়ে পাড় দিতে দিতে একসময় এ থেকে চাল না, খুদ বেরোয়। তাই দিয়ে থকথকে জাউভাত, সারা দিনের খাবার। প্রত্যেক বেলায়। তাতে ভাগ বসায় গলাপানি ভেঙে হেঁচোড়-পেঁচোড় করে আসা গায়ের দু-চারজন অনাহারী মানুষ। এ প্রক্রিয়ায় আহারের সংস্থান করতে চ্যালাকাঠ, পাটখড়ি ফুরিয়ে গেলে মা-মেয়ে রান্নাঘরের খুঁটি উপড়ে ফেলে, চালের ছন টেনে টেনে চুলায় দেয়। ধান ভানার বড় ঢেঁকিটাও তাদের কুঠারাঘাত থেকে রেহাই পায় না। এভাবে আগুন জ্বেলে, মাথার ওপরের ঠাই আর নিত্য ব্যবহার্য জিনিস ধ্বংস করে, বীজের ধান চাল করে ভাত রাঁধতে রাঁধতে দুজন নারী একে অন্যের খুব কাছে চলে আসে। তাদের চাওয়াগুলোও এক। বাঁচার উপায়ও অভিন্ন। যা অনিবার্য, যা রোধ করা যাবে না, তা আগলে রেখে কী লাভ। মরিয়মের মনে হয়, যুদ্ধের পর সে এই প্রথম একজন যথার্থ বন্ধু পেল। যার অবস্থা তারই মতো। দুজনের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। হাত পেতে কারো কাছে কিছু চাওয়াটাই বিড়ম্বনা, মিথ্যা আশ্বাস আরো ভয়ংকর–মা হাতে-কলমে মেয়েকে এই শিক্ষা দিচ্ছেন।

    পেছনে পলিমাটি রেখে বন্যার পানি তরতরিয়ে নেমে গেছে। সেই নরম মাটির ওপর নিঃশব্দে পা ফেলে আসে দুর্ভিক্ষ। ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ তোবড়ানো বাটি আর মাটির সানকি হাতে খিদার ঘোরে অন্ধের মতো ঘুরছে। কফিলউদ্দিনের ভিটেয় সারা দিন তাদের আনাগোনা। ভাত চাই, ফ্যান চাই কলরব। একজনের পাতে ফ্যান-ভাত দিতে-না-দিতে মানুষ আর কুকুরে কামড়াকামড়ি বেধে যায়। কফিলউদ্দিন আহমেদ বগলে ছাতা নিয়ে হয় সদরে যান খবরের কাগজ পড়তে, না হয় বাড়ি বসে স্বাধীনতার শাপান্ত করেন। তার ছেলে আস্ত একটা গাধা। এমন স্বাধীনতার জন্য কেউ জীবন দেয়! পঞ্চাশ সনের দুর্ভিক্ষের কথা ভেবে, তার চোখ দুটি জ্বালা করে। সেই বছর তার পাগল মা ছেলেকে শামুক-গুগলি তোলার জন্য অঠাই পানিতে নামিয়ে দিয়েছিলেন। মৃত্যুর সঙ্গে সেই তার প্রথম সাক্ষাৎ। ডুবতে ডুবতে খালি হাতে ভেসে উঠলে মা তীর থেকে মাথায় লাঠির বাড়ি মারতেন। এক জীবনে দু-দুটি দুর্ভিক্ষ! একটা করল ব্রিটিশ সরকার আর অন্যটা ডেকে আনল চাল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। গরিব নিরন্নের ওপর ধনী রাষ্ট্রের কী নির্মম জুলুম! এদিকে মনোয়ারা বেগমের পাগল পাগল ভাব। স্বামী-সন্তান নিয়ে খেতে বসলে কঙ্কালসার হাতগুলো জানালা-দরজায় নিঃশব্দে সানকি বাড়িয়ে দেয়। তাদের চোখ মৃত। পেটের খাঁচা ডেবে পিঠের চামড়ার সঙ্গে মিশে গেছে। মুখে রা করার শক্তি নেই। রাতের বেলায় উঠানে-বারান্দায় এমনভাবে পড়ে থাকে যে, ভয়ে পা ফেলা যায় না।

    এমন এক রাতে বাড়িভর্তি মানুষের ভেতর মনোয়ারা বেগম আবার চুপিচুপি বিছানা ছেড়ে উঠে আসেন। মেরি জেগেই ছিল। মায়ের হাতের ধাক্কায় উঠে বসে। ‘তুই এহানে আর থাকিস না মা। কালই চইল্যা যা।’

    ‘কেন মা?’

    ‘কথা বাড়াইস না মরিয়ম। নে ধর।’ মেরির দিকে এগিয়ে দেওয়া তার হাতের পুটলিটা অন্ধকারে ঝনঝনিয়ে ওঠে। ওজনে ভারী। মনোয়ারা বেগমের সব স্বর্ণালংকার এখানে। মেয়ে অবাক হওয়ারও সময় পায় না। মা প্রসঙ্গান্তরে চলে যান। ‘তোর বিয়েটা যে হাচা বিয়া না, আমি আগেই বুঝছি। এসব পাতানো খেলা। তোর বাপ। খবর শুইন্যা নাচ্ছে। আমার কথা কানে তোলে নাই। হায় রে, অভাইগ্যা মানুষ!’

    যে স্বর্ণালংকার মন্টুর স্ত্রীর প্রাপ্য ছিল, রত্না-ছন্দার বিয়ের যৌতুক হতে পারত, সেগুলো এখন মরিয়মের বেঁচে থাকার পুঁজি। মনোয়ারা বেগম পুটলিটা মেয়ের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, ‘সাবধানে খরচ করবি। ছোট দুইডারে বঞ্চিত করে আমি তোরে দিলাম। তাতে কোনো দুঃখ নাই। অরা অগো মতো বাঁচব।’

    তাদের বাঁচার সম্ভাবনা যে মোলোআনা, মায়ের মতো মেরিও তা বুঝতে পারে। মেয়ে দুটি বাঁচাল হলেও হিসেবি। মহুয়া হলে সিনেমা দেখার বদলে তারা সিনেমার কাগজ কিনে নায়ক-নায়িকার কেচ্ছা ঘরে বসে মুখস্থ করে। এদের চটকদার ছবি কেটে পড়ার ঘর সাজায়। বন্যা, দুর্ভিক্ষ, বাপের পাগলামি, মায়ের ধ্বংসযজ্ঞ, বড় বোনের দুর্ভাগ্য তাদের বিচলিত করে না। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দুজনের মুখে কোনো প্রকার বাগাড়ম্বর নেই। একমাত্র ভাই যুদ্ধে শহিদ হবে–তারা যেন আগে থেকেই জানত। বড় বোনের অতীতের পথের খোদলগুলো তারা বাঁচিয়ে চলে। যতই ভঙ্গুর হোক পথ পথই। সেই পথে অঙ্কে লেটার মার্ক পাওয়ার মাইলফলক আছে। বীজগণিতের সূত্র মুখস্থ করার জন্য জসিমুল হকের অনুপ্রেরণার তাই তাদের দরকার হবে না। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে পড়ার জন্য বিয়ে না-হওয়ার মতো কলঙ্কেরও তাদের প্রয়োজন নেই। বোন বিএ। তারা বিএ পাস করবে, এটাই স্বাভাবিক। মানুষ ভুল করলে, সেই ভুল শুধরাতে গিয়ে আরেকটা ভুল করে। তাদের জীবনে জসিমুল হক থাকছে না যখন, আবেদের মতো সুযোগসন্ধানী পুরুষও আসবে না। আর যুদ্ধ তো বছর বছর হয় না! প্রথম বিশ্বযুদ্ধ আর দ্বিতীয়টির মাঝখানে নয় নয় করেও সতেরো বছরের ফারাক ছিল।

    যমজরা কোনোভাবে বড়বোনের মুখাপেক্ষী নয়। তারা তাকে কাছে টানার মতো দূরে ঠেলে দেওয়ার আশ্চর্য ক্ষমতা রাখে। মরিয়ম চলে আসার দিন রিকশায় সুটকেস টেনে তোলা নিয়ে দু’বোনের মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা হলো না। তারা ঘরের পাল্লা ধরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকল। তত দিনে দুজনই জেনে গেছে, বড় বোন দেউলিয়া, বিয়েটা তার ভেঙে গেছে। মরিয়মের জীবনের পরবর্তী অধ্যায় কারো কাছে দৃষ্টান্ত হতে পারে না। বোনের একের পর এক ব্যর্থতা তারা মনে রাখবে, কখনো সেসব নাগালে আসতে দেবে না। রত্না-ছন্দা দূরে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে মরিয়মকে বিদায় জানায়।

    কফিলউদ্দিন আহমেদ বানের পানি নেমে যাওয়ার পর থেকে বেশিরভাগ সময় সদরে কাটান। বাজারের চায়ের দোকানগুলো তার উপুড় করা ট্র্যাকের পয়সায় এত বড় দুর্ভিক্ষ সত্ত্বেও টিকে আছে। তিনি দফায় দফায় সেখানে জমি বেচা-কেনার পার্টির সঙ্গে দরদস্তুর করতে বসেন। কাপের পর কাপ ধূমায়িত চা ওড়ে। সঙ্গে নিমকি, গরম গরম জিলিপি। মেয়ের স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে শুনে বাড়িতে সেই যে মৌব্রত নিয়েছেন, মেরি চলে আসার দিনও তা ভাঙেনি। সকাল সকাল রঙচটা কালো ছাতাখানি বগলদাবা করে তিনি আজকেও সদরে গেছেন।

    মনোয়ারা বেগম আগে থেকে কিছু জানান না দিয়ে একেবারে শেষ মুহূর্তে মরিয়মের সঙ্গী হলেন। তাতে বাড়ির আধমরা আশ্রিতরা শুধু বিপদের গন্ধ পেল। অন্নদাত্রী বাড়ি নেই তো ফ্যানও নেই। যমজ মেয়ে দুটি তামাশা দেখা ছাড়া তাদের। কোনো কাজেই লাগে না। তারা ঝটপট যার যার থালা-বাটি গুছিয়ে নেয়। মা-মেয়ের খোলা ভ্যানের পেছনে লম্বা এক ভুখা মিছিল। যেন মনোয়ারা বেগম নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর মিছিলটা যাচ্ছে রাজধানী অবরোধ করতে। তাদের পেছনে পড়ে থাকে একজোড়া। হতভম্ব মেয়ে আর তিনটা টিনের ঘর। কাঁচা ঘরগুলো ভেঙেচুরে চুলোয় দিয়ে মা-মেয়ে নিশ্চিহ্ন করেছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Our Picks

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }